Showing posts with label নিত্যপণ্য. Show all posts
Showing posts with label নিত্যপণ্য. Show all posts

Friday, December 13, 2024

চাপে জেরবার জীবন, স্বস্তি আসবে কবে?

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসঙ্গতি মিলাতে পারছেন না মানুষ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিত্যপণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে- এমনটা আশা করেছিলেন। তবে এ পর্যন্ত খুব একটা স্বস্তি মিলেনি। নিত্যপণ্যের দাম সহসা কমে আসবে- এমন ভরসাও মিলছে না। উল্টো দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের কারও কারও কথায় হতাশ ক্রেতারা। সরকারি হিসাবেই এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। গতকাল এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আসতে আরও বছর খানেক সময় অপেক্ষা করতে হবে। আসছে জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সর্বশেষ ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর আগের কয়েক দিন আগে থেকে বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় বোতলজাত ভোজ্য তেল। খোলা তেল বিক্রি হয় বাড়তি দামে। নতুন আলু বাজারে আসা শুরু হলেও এখনও বাজারে ৮০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ।

বিগত সরকারের সময়ে বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে যে লুটপাট করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমন কিছু থাকবে না বলেও মানুষ মনে করছে। কিন্তু বাস্তবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছেই এখনো জিম্মি বাজার।

চাল, ডাল, চিনিসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বছরজুড়েই ভুগিয়েছে ক্রেতাদের। নতুন সরকার আসার পর এসব পণ্যের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। দাম কমাতে সরকারের তরফে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। কমানো হয় কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক। শুল্ক কমালেও এসব পণ্যের আমদানি বাড়েনি। কমেনি দামও।

সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। দাম বাড়ানোর পরেই বাজারে স্বাভাবিক হতে শুরু করে সয়াবিনের সরবরাহ। সমানতালে মিলছে নতুন ও পুরাতন বোতলজাত তেল। এত দ্রুত কীভাবে স্বাভাবিক হলো- তা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই ক্রেতাদের। তাদের মতে, পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করতে পারলেও ক্রেতারা পড়ছেন বিপদে।

ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন অবশ্য বলেছেন, বাস্তবতা মেনে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দাম বাড়ানোর আগে বাজার থেকে তেল উধাও হওয়া এবং পরে তা ফিরে আসার বিষয়ে আসলে কারও কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা মিলেনি।
এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের উপদেষ্টাদের কথার মধ্যেও কোনো আশার ইঙ্গিত পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় হতাশ তারা।

রাজধানীর মিরপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন আকিল উদ্দিন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে একই বেতন পাচ্ছি। কিন্তু এই সময়ে খরচ বেড়েছে অন্তত ৫০ শতাংশ। এখন প্রয়োজনীয় অনেক কিছু বাদ দিয়ে চলতে হচ্ছে। ছয় মাস আগে বাসা বদল করেছি ভাড়া কমানোর জন্য। নিত্যপণ্যের দামের কারণে পরিবারের সবার সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
মো. ফুরকান কচু ক্ষেতের একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন। তিনি বলেন, বেতনের সঙ্গে খরচের হিসাব মিলছে না। যে হারে বেতন বাড়ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ খরচ বাড়ছে। এতে জীবন-যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে স্ত্রী সন্তানকে গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে এখন একটি মেসে থেকে চাকরি করেন।

বুধবার সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে আলুর দাম বাড়লেও, অন্য জিনিস সাশ্রয়ী হয়েছে। দাম বাড়ার বিষয়টি সবাই বলে, কিন্তু দাম কমারটা বলে না। বাজারে প্রত্যেকটার দাম কমানো সম্ভব না। বাজার এমন একটা জিনিস একটার দাম কমবে, একটার দাম বাড়বে। সরকার তাড়াতাড়ি প্রসেস করে, যৌক্তিক যে জিনিসগুলো ক্রয় করা প্রয়োজন সেগুলো অনুমোদন দিচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃত সংকট তৈরি করে ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তারা প্রথমে সংকট তৈরি করলো। এরপর বাণিজ্য উপদেষ্টার উপস্থিতিতে দাম বাড়ানো হলো। স্বাভাবিক হলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার। ক্রেতাদের জিম্মি করে এ ধরনের অদ্ভুত পরিস্থিতি বলে দেয় বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন দরের পাশাপাশি মিলছে পুরনো দামের তেলও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেট যে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই। ডিলারদের দাবি, দাম বাড়ার পর বাড়ছে সরবরাহ।

সরকার যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রভাব যে একেবারে নাই তা নয়। আপনারা খালি দেখেন আলুর দাম বেড়ে গেছে, অন্যগুলোতো সাশ্রয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রভাব পড়ছে এখন। তবে, সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমানো সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো সরবরাহ ও ঘাটতির বিপরীতে যে জোগান দরকার, সেটা ঠিক রাখা। যে কারণে সম্প্র্রতি আমরা সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছি। তবে সেটা সাধারণ ক্রেতার জন্য কষ্টসাধ্য হলেও বাস্তবতার জন্য দরকার ছিল। এটা না করলে বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হতো, ঘাটতি বেড়ে যেতো। এখন আমরা অন্য কোনো পণ্যের দাম কমিয়ে সেটা সমন্বয়ের চিন্তা করছি। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এখনো বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে কথা হচ্ছে। তেল-চিনির সর্ববৃহৎ সরবরাহকারী দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা বাজারের একটা বৃহৎ অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। পালিয়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহে ঘাটতি হয়েছে।

বাজারে পণ্যের ঘাটতি পুরনো সরকার আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। কমানো হয়েছিল শুল্ক ও কর। তবে আমদানি খুব একটা বাড়েনি। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির অনুমতি দেয়া ও শুল্ককর কমানোর কারণে বাজার স্থিতিশীল আছে। নতুন করে কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে না। তবে দাম কমছে না কেন এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কারও কাছ থেকে। সরকার শুল্ককর তুলে নিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু আমদানি হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টন চাল।

সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে দুই দফায় শুল্ককর কমানো হয়েছে। প্রথম দফায় ১৭ই অক্টোবর ও দ্বিতীয় দফায় ১৯শে নভেম্বর শুল্ককর কমিয়ে তা নামানো হয়েছে ৫ শতাংশে। তাতে প্রতি কেজি অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলে শুল্ককর ১৮ টাকা থেকে কমে ৭ টাকায় নেমেছে। কিন্তু দাম কমেনি।  চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে এক লাখ টন ভোজ্য তেল এসেছে। সাধারণত দেশে মাসে দুই লাখ টন তেলের চাহিদা রয়েছে। একইভাবে আলু, পিয়াজের আমদানি শুল্ক কমালেও দাম কমেনি। 

mzamin

Tuesday, December 10, 2024

জিম্মি করে বাড়ানো হলো ভোজ্য তেলের দাম

পণ্যের দাম বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুরনো কৌশল অবলম্বন করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সরকারকে চাপে ফেলে তারা ভোজ্য তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়িয়ে নিয়েছেন। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে ভোজ্য তেলের বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট চলছে, যা সম্প্রতি আরও তীব্র হয়েছে। অনেক দোকানে সয়াবিন তেলের বোতল মিললেও তা থেকে মূল্য ঘষে ফেলা হয়েছে। বেশি দামে বিক্রি নিয়ে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতা বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। সরজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা হায়দার।

তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম হবে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৫৭ টাকা দরে। আগে বোতলজাত এই তেলের দাম ১৬৭ টাকা এবং খোলা তেল ১৪৯ টাকা ছিল। মোস্তফা হায়দার বলেন, এক্স বন্ড, ইন বন্ড ভ্যালু এবং গত এক মাসে যে এলসি খোলা হয়েছে, তার ভ্যালু- এই তিনটা ভেল্যু যোগ ও গড় করে একটা দাম ঠিক করতে হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ খরচ, বোতলজাতকরণ খরচ যোগ করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে এই পদ্ধতি চর্চা হয়ে আসছে। এখন থেকে প্রতি মাসে সরকারের সঙ্গে বসে তেলের দাম ঠিক করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভোজ্য তেলের দাম প্রতি টন ১২০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে।

এদিকে বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে বাস্তবভিত্তিকভাবে বোতলজাত সয়াবিনের একটি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে অনুমাণের ওপর ভিত্তি করে মজুতদারি আজ থেকে বন্ধ হবে।
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো এতদিন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় ডিলাররা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য সম্পর্কে সার্বিকভাবে অবহিত থাকেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই দামটা সমন্বয় হতে পারে। এ কারণে হয়তো অনেকে সরবরাহে বিলম্ব ঘটিয়েছেন, তাতে বোতলজাত সয়াবিনের কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, তেলের সরবরাহ-সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা ট্যারিফ কমিশনের সহায়তায় জিনিসটাকে বিন্যাস করে দেখেছি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের বাজারে সর্বশেষ বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। তখন প্রতি লিটারে দাম বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা করা হয়। এপ্রিল মাসের পরে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে। এ কারণে সবার মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করছিল যে বাজারে তেলের দামে পরিবর্তন আসবে। দেশে সয়াবিন তেলের বিদ্যমান যে মজুত আছে, সেটাকে সন্তোষজনক উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি মজুতে কোনো ঘাটতি নেই।

এদিকে ভোজ্য তেলের সংকটের কথা বলা হলেও দাম বাড়ার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে পণ্যটির। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এতে পূর্বে কম দামে কেনা তেল বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নিবে ব্যবসায়ীরা। গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছিলাম না। সোমবার থেকে এই তেলের আর কোনো সংকট নেই।

mzamin

Sunday, December 8, 2024

আলু, পেঁয়াজ, চালে বাংলাদেশ ভারতের ওপর কতটা নির্ভরশীল? by সৌমিত্র শুভ্র -বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ভারতীয় পণ্য বর্জনে ব্যাপক প্রচারণা দেখা গিয়েছিলো। এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপণ্য বিশেষ করে চাল, পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি 'বন্ধ' করে দেয়ার হুমকি দিয়ে সেদেশের এক রাজনীতিবিদ বক্তব্য দেয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বা স্থলবন্দর বন্ধ থাকার মতো কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ বা হ্রাস পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়।

তবে, এবারের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য নয় বরং রাজনৈতিক আলোচনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

গত সোমবার পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কাছে 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন' বন্ধ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এতে আগে থেকেই আলোচনায় থাকা এ ইস্যুটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও তর্ক-বিতর্ক বাড়ে।

এদিকে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন "তাদের (ভারতের) রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক, তাদের ব‍্যবসায়ীদের স্বার্থও দেখতে হবে।"

যে কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন মি. আহমেদ।

ভারত থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার, তথ্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। বাংলাদেশে রপ্তানিকারকদের তালিকায় চীনের পরেই দেশটির অবস্থান।

কিন্তু, উল্লেখিত তিন পণ্য - আলু, পেঁয়াজ ও চালের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আদতে কতটুকু নির্ভরশীল বাংলাদেশ?

আলু

বাংলাদেশে ২০২৩ সালের আগে কখনো আলু আমদানিই করা হয়নি। দেশটি বরং আলু রপ্তানি করতো।

দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ওই বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মত আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের আলু আমদানি হয় বাংলাদেশে।

ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল এক কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ছয় লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তবে, দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম নয়।

"আলু যেহেতু কোল্ডস্টোরেজে রাখা যায়, এই সুযোগটা ব্যবসায়ীরা কাজে লাগায়, মজুদ করে রাখে।" বলছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হাসনীন জাহান।

এর ফলে দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। যে কারণে আমদানির দিকে যায় সরকার।

"আলু যদি সরাসরি বাজারে দিয়ে দিতে পারতো কৃষক, অর্থাৎ, সরবরাহ যদি স্বাভাবিক থাকতো আমদানি নির্ভরশীলতা কমানো যেতো," বলেন অধ্যাপক জাহান।

পেঁয়াজ

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৩৭ লাখ মেট্রিক টন লাখ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সেই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৩৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এ বছর।

কিন্তু, এ বছরও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পেঁয়াজ-রসুন জাতীয় পণ্যের রপ্তানির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে তারা।

বাংলাদেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছিলেন মসলা গবেষণা কেন্দ্রের তৎকালীন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

মি. মজুমদারের মতে, এর পুরোটাই দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব।

তবু কেন আমদানি করতে হয়?

কৃষি অর্থনীতিবিদ হাসনীন জাহান বলেন, পেঁয়াজের বেলায় প্রজেকশন (পূর্বাভাস) ঠিকমতো করা হয় না।

"কৃষক হয়তো এক বছর দাম পাচ্ছে না, ফলে পরের বছর কম চাষ করে। কিংবা একবছর দাম বেশি পেলে পরেরবার চাষের পরিমাণ বাড়ে," ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তথ্যের ঘাটতি না থাকলে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থায় তদারকি ঠিকমতো করা গেলে আমদানি এড়ানো যেতো বলে মনে করেন তিনি।

চাল

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশকে ধান-চালের নিরিখে 'খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ' বলে দাবি করা হতো। কিন্তু, তারপরও চাল আমদানি থেমে থাকেনি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে চাল আমদানির তথ্যে বছর ভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।

একেক বছরে আমদানির পরিমাণ একেক রকম।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দেড় কোটি ডলারের চাল রপ্তানি করা হয়েছিল বাংলাদেশে।

তবে এর আগের অর্থ বছরে ৩১ কোটি ডলারের চাল বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়।

সর্বশেষ অর্থবছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার কোটি ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় চার কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন।

জাতিসংঘের বাণিজ্য বিষয়ক ডেটাবেইজ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আট কোটি ডলারের বেশি চাল রপ্তানি করেছে ভারত। পরিমাণের দিক থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার টন প্রায়।

ভারত ছাড়াও ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ড থেকে চাল আনে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) থেকে গত এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস করা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের চাল আমদানি শুন্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

চলতি বছর বোরোর ভালো ফলন এবং আউশ-আমনের পরবর্তী মৌসুমের কথা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে পারে দেশটি।

বোরোর ভালো উৎপাদনের কথা উল্লেখ করে কৃষি অর্থনীতিবিদ হাসনীন জাহান বলেন, সমস্যাটা হয় ডিস্ট্রিবিউশন (বন্টন) পর্যায়ে।

মজুদদারি ঠেকিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করা গেলে চালের মূল্যবৃদ্ধি বা যোগান সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মন্তব্য তার।

পেঁয়াজের আড়ত

Friday, December 6, 2024

কম দামের পণ্য শেষ হয়ে যায়, লাইন শেষ হয় না by সুদীপ অধিকারী ও আরিফুল ইসলাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাজারে হাঁসফাঁস অবস্থা। কাঁচা সবজি থেকে মাছ, মাংস, চাল, ডাল, তেল- এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই যা কিনতে ঘাম ঝরছে না সাধারণ মানুষের। তাই একটু স্বস্তিতে পণ্য কিনতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাক সেল ও ওএমএস ট্রাক সেল সেন্টারে ছুটছে সাধারণ মানুষ। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন অনেকে। টিসিবি-ওএমএস-এর ট্রাকে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন- লাইন শেষ হওয়ার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যায়।

সরজমিন দেখা যায়, মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকার র‌্যাব ক্যাম্পের ঠিক উল্টো পাশে টিসিবি ট্রাক সেল কার্যক্রম চলছে। ট্রাক সেলের ব্যানারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল, ৬০টাকা কেজি মশুর ডাল ও ১০০ টাকা লিটার তেল বিক্রি করার কথা উল্লেখ থাকলেও চাল পাননি অনেকে। চালের বদলে টিসিবি’র ট্রাকে দেয়া হচ্ছে আলু। আর টিসিবি’র এসব পণ্য নিতেই প্রখর রোদের মধ্যেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্তত এক থেকে দেড়শ’ মানুষ। যাদের বেশির ভাগই নারী। কেউ এসেছেন কোলে বাচ্চা নিয়ে, কেউ আবার ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি আছেন মধ্যবিত্ত পরিবারেরও অনেক সদস্য। অনেকে মুখে মাস্ক লাগিয়ে দাঁড়ান লাইনে।

তাদের একজন রাবেয়া বেগম। কোলে তিন মাসের শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন টিসিবি’র লাইনে। রোদ থেকে শিশুকে রক্ষার জন্য বার বার তার মাথায় কাপড় জড়িয়ে দিচ্ছিলেন। রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী আগে ছোটখাটো একটা ব্যবসা করতেন। এখন তার ব্যবসাটা ভালো চলে না। এরপর বাজারে পণ্যের যে দাম কিছু কেনা যায় না। এক কেজি ভালো চাল বর্তমানে ৭৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। মাছ, মাংস, সবজি এমন কিছু নেই যে, যার দাম বাড়েনি। তাই এখানে এসেছি একটু কম দামে পণ্য কিনবো বলে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের খালি হাতে ফিরতে হয়। সবাই পণ্য পাই না। আমার এই ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে লাইনে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি, তারপরও পণ্য পাবো কিনা জানি না। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকায় হাজার হাজার লোক। কিন্তু এখানে টিসিবি’র গাড়ি আসে সপ্তাহে এক থেকে সর্বোচ্চ দুইবার। আর যা নিয়ে আসে কয়েকজনকে দেয়ার পরই পণ্য শেষ। রাবেয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পেছন দিক থেকে ছুটে আসেন তৈয়বা খানম নামে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি গত সপ্তাহে ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু পাইনি। সপ্তাহ জুড়ে অনেক কষ্ট করেছি। আজকে আবার এসেছি। ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে আছি কোনো খবর নেই। তিনি বলেন, আমার স্বামী প্যারালাইজড। কোনো কাজ করতে পারে না। আমি এদিক ওদিক কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে সংসার চালাই। অসুস্থ স্বামীকে বাসায় রেখে এসেছি। কতোবার এদের বললাম-আমি বৃদ্ধ মানুষ। আমাকে বাসায় যেতে হবে, আমাকে একটু আগে দিয়ে দেন। কিন্তু কেউ কথা শোনে না। আজকেও যদি লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু না জোটে তাহলে না খেয়েই থাকতে হবে আমাদের দুই বুড়ো-বুড়িকে। রাবেয়া ও তৈয়বার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছে এই প্রতিবেদকের তখন মুখে মাস্ক পরে লাইনে দাঁড়িয়ে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বার বার মুখ ঢাকছিলেন মধ্য বয়সী এক পুরুষ। তিনি বলেন, আসলে আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এই স্বল্প আয়ের টাকা দিয়ে পুরো সংসারের খরচ চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই একটু খরচ পোষাতে এই টিসিবি’র লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি।

নাসরিন আক্তার নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, টিসিবি’র গাড়ি আসার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কখনো ১২টায় আসে, কখনো আবার ২টায়। আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও মাল পাইনি। তাই আজকে আবার এসেছি। এখানে একজন ২  কেজি ডাল, ২ লিটার তেল আর ৫ কেজি চাল কিনতে পারে। কিন্তু এখন আর টিসিবি’র গাড়িতে চাল পাওয়া যায় না। চালের বদলে আলু দেয়া হচ্ছে। তারও মান ভালো না। এরপর এরা পণ্য অনেক কম আনে। মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা লাইন দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে এত মানুষ দাঁড়িয়ে। সামনে যারা আছে তারাই শুধু পাবে। বাকিদের খালি হাতে ফিরে যেতে হবে।

এসব বিষয়ে টিসিবি’র ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা মো. মামুন ও পরিচালনার কাজে থাকা মো. স্বপন বলেন, শুক্রবার বাদে আমরা সপ্তাহে প্রতিদিনই এই টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করি। একেক দিন একেক স্পটে। আজকে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, আজকের এই স্পটের ৪শ’ লোকের জন্য ৮শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ৮শ’ কেজি মশুর ডাল ও চাল নিয়ে এসেছি। কিন্তু তারপরও অর্ধেকের বেশি মানুষ পণ্য পাবে না। কারণ এর চাহিদার কোনো শেষ নেই। রাত বারোটা পর্যন্তও যদি আমরা বিক্রি করি তখনো পণ্য নিতে আসবে মানুষ। কারণ এখানে যেই দামে পণ্য পাবে তা বাজারে পাবে না। কিন্তু জোগান সীমিত হওয়ায় আমাদের কিছু করার থাকে না। যতটুকু পাই ততটুকুই মানুষের মাঝে সুলভ মূল্যে বিতরণ করি। যতক্ষণ আমাদের মাল থাকবে ততক্ষণ আমরা বিতরণ করবো।

এদিকে একই দিনে মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী এলাকায় ওএমএস-এর ট্রাক সেলের আওতায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কম দামে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। সেখানে গিয়েও দেখা যায় চাহিদার তুলনায় ক্রেতা বেশি। ১৫০ টাকায় ৫ কেজি চাল ও ১৩০ টাকায় ৫ কেজি আটা নিতে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ। আটা-চাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকারা। ওএমএস-এর লাইনে দাঁড়ানো আঁখি আক্তার নামে বুদ্ধিজীবী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ৩৮০ টাকা প্যাকেজে এখানে আমরা একেক জন সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা এবং ৫ কেজি চাল কিনতে পারি। বাজার থেকে অনেক কমে পাওয়া যায়- তাই এখানে আসা। কিন্তু যত মানুষ এখানে আসে তারচেয়ে পণ্য খুব কম থাকে। আজকে কিছু না পেলে আবার তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই চেষ্টা করছি- যেভাবেই হোক না কেন ৫ কেজি চাল নিতেই হবে। তা না হলে না খেয়ে থাকতে হবে।

এলাকাটির ওএমএস-এর ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক মো. নান্নু মিয়া বলেন, এই এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। তাই আমরা এখানে সপ্তাহে তিন দিন আসি। আজকে রায়েরবাজার বধ্যভূমির সামনে ১ টন চাল ও ২ টন আটা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পণ্যের জোগানের তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাই সকলকে পণ্য দেয়া সম্ভব হয় না। যতক্ষণ আমাদের মাল থাকে ততক্ষণ আমাদের লোক দিতে থাকবে। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর, আদাবর, তেজগাঁও এলাকা মিলে মোট ২৩টি স্থানে ওএমএস-এর পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে তেজগাঁও রেলগেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক থেকে টিসিবি’র পণ্য নিতে আসা শিল্পী বেগম বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গত দুই/তিন দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য নিতে পারিনি। যারা নিয়েছেন অনেকে তিন চারবার করে এসে নিয়ে গেছেন। সাফিয়া বেগম নামে ৭০ বছর বয়সী এক নারী এসেছেন টিসিবি’র পণ্য নিতে। তিনি বলেন, গত দুই দিন আমি এসে কিছুই পাইনি। সকাল থেকে বসে থেকে সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরে গিয়েছি। আগে অন্যজন দিতেন তিনি বেশির ভাগ সময়েই তার পরিচিত মানুষদের দেখে দেখে দিতেন বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে নাই। একা মানুষ আমি। কম দাম হওয়ায় এগুলো নিতে আসি কষ্ট করে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, তাই হাতে সিরিয়াল নাম্বার লিখে দিচ্ছেন। পাশে বসে রয়েছি, সিরিয়াল কখন আসবে জানি না। হাতে সিরিয়াল লিখে দেয়ার বিষয়ে টিসিবি পণ্য বিতরণকারী ওয়ালিদ বলেন, লাইনে দাঁড় করিয়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় এজন্য সিরিয়াল নাম্বার হাতের উপরে লিখে দিয়েছি।

এসব বিষয়ে টিসিবি’র মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রিতে নানা রকম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার কথা আমরাও শুনেছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আমরা চেষ্টা করছি। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে চাল সরবরাহ না করায়, আমরা চাল দিতে পারছি না বলেও জানান তিনি। 

mzamin

Saturday, November 16, 2024

সংকোচ নিয়ে টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তারা by মো. আল-আমিন

নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। শুল্ক কমানোর পরও চাল, তেল, আলু, পিয়াজ ও চিনির দাম আকাশচুম্বী। নাগালের বাইরে সবজির  দামও। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে কিছুটা কম টাকায় পণ্য কিনতে নিম্নবিত্তরা তো বটেই, সংকোচ নিয়ে টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও। এ ছাড়া লজ্জায় লাইনে দাঁড়াতে না পেরে কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে নিম্নবিত্তদের মাধ্যমে পণ্য কিনছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

দুপুর ২টা। আগারগাঁও বাংলাদেশ বেতারের বিপরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা টিসিবি’র ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের সামনে দীর্ঘ লাইন। সেখানে কয়েকজন নারীকে দেখা গেল ভদ্রোচিত পোশাকে। এ সময় কথা হয় মুখ ঢেকে টিসিবি’র লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আসমা খাতুনের সঙ্গে। তার স্বামী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। নিত্যপণ্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোয় বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন আসমা।

তিনি বলেন, প্রতিটি জিনিসের দাম অনেক বেড়েছে। এমনকি ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিও কেনা যাচ্ছে না। এক আঁটি লাল শাকের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে আমার স্বামীর আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আর পেরে উঠছি না। এজন্য লজ্জা লাগলেও টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

পারুল খাতুন। বয়স ৬৫ বছর। বৃদ্ধ এই নারীকে টিসিবি’র লাইনে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না ডিলারের সহকারী। কারণ হিসেবে সহকারী জানান, উনি কিছুক্ষণ আগেই একবার পণ্য কিনেছেন। আবারো পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। একজনকে দুইবার করে পণ্য দিতে গেলে অনেকে পণ্য না পেয়ে ফিরে যাবেন। কিছু মানুষ দুইবার করে পণ্য নিয়ে বেশি দামে দোকানে বিক্রি করে দেয় বলেও জানান তিনি।

পারুল খাতুন বলেন, একজন মহিলা লজ্জায় লাইনে দাঁড়াতে পারছিলেন না। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে তাকে জিনিস কিনে দিয়েছি। এজন্য উনি আমাকে ২০ টাকা দিয়েছেন। এখন নিজের জন্য পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াতে গেলে তারা দাঁড়াতে দিচ্ছে না। আমি গরিব মানুষ। কম টাকায় পণ্য কিনতে না পারলে তো না খেয়ে থাকা লাগবে।

টিসিবি’র এই ট্রাকসেলে পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন সরকারি এক চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ছোট পদে সরকারি চাকরি করি। জিনিসের দাম বাড়ার কারণে বেতনের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এজন্য মাঝে মাঝেই টিসিবি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনি। তিনি বলেন, টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াতে অনেকে সংকোচ বোধ করে। এজন্য বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী কিছু দোকানে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা উচিত। বেসরকারি একটি আইটি ফার্মে কর্মরত আশিকুর রহমান বলেন, লাইনে দাঁড়াতে লজ্জা লাগে। টিসিবি থেকে অনেক কম পরিমাণ পণ্য দেয়া হয়। আরেকটু বেশি পণ্য দেয়া হলে ভালো হতো। বারবার লাইনে দাঁড়ানো লাগতো না।
এদিকে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। পণ্যের দাম কিছুটা কমাতে বা স্থিতিশীল রাখতে বেশ কয়েকটি পণ্যের উপর শুল্ক ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু শুল্ক ছাড়ের সেই সুবিধা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং দাম উল্টো বাড়ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৬৬ শতাংশে। এতে চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে নিম্ন আয়ের ১ কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করছে সরকার। পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার কাছে ঢাকা মহানগরীতে ৫০ ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি ট্রাকের মাধ্যমে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ২ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

mzamin

Tuesday, October 29, 2024

দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন: জনমানুষের তিন চাওয়া

সরকার পরিবর্তনের তিন মাস হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে খাত ভিত্তিক সংস্কারের। সরকারের কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানার চেষ্টা করেছে মানবজমিন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে নানা বিষয়। তবে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের বিষয় আলোচনায় এনেছেন বেশি। সরকারের মেয়াদ নিয়েও কথা বলেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে সরকার সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছে। অনেকের মধ্যে তাড়াহুড়ো দেখা যাচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সরকারকে একটু সময় দেয়া দরকার। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বন্যাসহ নানা কারণে পণ্যমূল্য বেড়েছে এটা আমলে নিচ্ছেন অনেকে। আবার এও বলছেন, শুরু থেকে সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারতো। গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে সরকার জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে এমনটাও আশা করেন অনেকে। প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেছেন-মো. আল-আমিন, নাজমুল হুদা, ফাহিমা আক্তার সুমি ও নাইম হাসান

নিচে সাধারণের দেয়া প্রতিক্রিয়া হুবহু তুলে ধরা হলো-
রুবেল মোড়ল, চাকরিজীবী: ১৭ বছর একটা ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিলো। তারা অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে রেখেছে, সীমাহীন লুটপাট করেছে। এখন সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে এই সরকারের পক্ষে দ্রব্যমূল্য রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাদের একটা সময় দেয়া উচিত।
হারুনুর রশিদ, রিকশাচালক: আমাদের আয় কম। বাজারে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। কিছু কিছু পণ্যের দাম কমছে এটি আরও কমা উচিত। যে আয় হয় সেটি দিয়ে বাঁচা যায় না। নির্বাচনী সরকার না আসা পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দাবি নিয়ে দুইদিন পরপর মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিলে এত সমস্যা সে কীভাবে সমাধান করবে।

হুমায়ূন কবির, ব্যবসায়ী: নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বাড়তি। ১০০ টাকার জিনিসে ১৫ টাকা ভ্যাট যাচ্ছে। ভ্যাট কমালে দামটাও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতো। ৫০০ টাকার জিনিসে ৮৫ টাকা বেশি। ১০০ টাকার জিনিসে ৫ টাকা হলে ঠিক আছে কিন্তু ১৫ টাকা নিলে সেটি তো অতিরিক্ত হয়ে যায়। আমরা চাই দ্রব্যমূল্য কমে আসুক।

মুন কাদির, বেসরকারি চাকরিজীবী: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পরে দেশে কিন্তু কয়েকটি অঞ্চল বন্যায় তলিয়ে গেছে। এই সরকারকে সময় দিতে হবে। কৃষকের দিকে সুদৃষ্টি দিতে হবে। কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষকের ঋণ নেয়ার কথা থাকলেও কৃষকরা কিন্তু সেটি পাচ্ছে না। একটি গোষ্ঠী সেটি নিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেছে। ১৬ বছর ধরে একদল ক্ষমতায় থেকে কিছু করতে পারেনি সেখানে দু’দিনে কীভাবে সম্ভব।

জুলহাস, টেইলার্স ব্যবসায়ী: বিগত আওয়ামী সরকার দেশের যে পরিমাণ ক্ষতি করে গেছে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো এ ক্ষতির সমাধান দ্রুত করতে পারবে না, তাকে তো সময় দিতে হবে। নতুন স্থায়ী সরকার যেই আসুক তাকে আগে জনগণের কথা ভাবতে হবে, তারা কি চায় এটা বুঝতে হবে। এই সরকারের কড়া হাতে সবদিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত, অপরাধ দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর হওয়া উচিত। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক।
জুবায়দুল, রিকশাচালক: সব জিনিসের দাম বেশি। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা গরিব, আমরা তো চাই সবাই ভালো থাকুক, সব জিনিসের দাম কমুক। আমাদের গরিবের এতটুকু চাওয়া।
পাটোয়ারী খান, ব্যবসায়ী: নতুন সরকারকে সিন্ডিকেটের দিকে নজর দিতে হবে। মানুষ মানুষকে মারছে। এদেশে জনগণের কোনো দাম নেই।

আরিফুল হক, শিক্ষক-বুয়েট:  কিছু পণ্যের দাম গত ২ সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম লাগছে। কিন্তু এখনো পত্রিকা কিংবা ফেসবুকে যেরকম দেখি তেমনটা কমেনি। আসলে বড় দু’টো বন্যা গেল। এই সময়টায় সবজির ক্রাইসিস হয়। গতকাল ৩০ পিস ডিম ৩৭৫ টাকায় কিনলাম, যেটা প্রায় ৪৩০ টাকা হয়ে গেছিল। সবগুলো বিবেচনায় দামটা বেড়ে গেছিল, এখন মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে আমাদের নিজেদেরও সমস্যা রয়েছে। যেটার দাম বেড়ে যায় ওইটা আমরা বয়কট না করে আরও বেশি করে কিনে মজুত করি। সরকারকে এই সিন্ডিকেটটা ভেঙে দিতে হবে।
আবু সাঈদ, গাড়িচালক: সাধারণ মানুষের কোনোরকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, ভালো কিছু খাওয়ার কোনো উপায় নাই। ১০০ টাকার নিচে কোনো তরকারি নেই। সবজির বদলে শুঁটকি কিনেছি। মানুষ স্বস্তিতে থাকলে অপরাধও কমে যাবে।
জিয়াউর রহমান, ব্যবসায়ী: বাজার নিয়ন্ত্রণে এই সরকার কঠোরও হতে পারছে না। এজন্য দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। দেড় বছরের মধ্যে নির্বাচন হলে ভালো হবে। নির্বাচিত সরকারের পক্ষে সিন্ডিকেটের ওপর যেভাবে কঠোর হওয়া যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সেটি সম্ভব না।   
মো. রাজু, শিক্ষক-ঢাবি: গত কয়েক মাসের তুলনায় দ্রব্যমূল্য একটু বেশি। সবজির বাজারও চড়া। সিন্ডিকেট তো সবসময় থাকে। তবে চাহিদা তো অনেক বেশি, যোগানের উৎসগুলো আমাদের বাড়াতে হবে। আমার মনে হয়, এই সরকারের খাদ্যদ্রব্যের ওপরে নজর দেয়া উচিত। অন্য বিষয়গুলো মানুষ কম গুরুত্ব দেয়।
সামিউল আলম শাওন, মেডিকেল শিক্ষার্থী: বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাজার করাটা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা এখন ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারের জন্য বের হলে দুইবারের খাবার যোগাড় করতে পারি। যারা ৫ থেকে ৬ সদস্যের পরিবার, ঢাকা শহরে যিনি ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেন তাদের চলাটা আরও বেশি কষ্টসাধ্য। সরকার যেন এটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে- এটাই আমাদের চাওয়া।
লুৎফর রহমান, ড্রাইভার: বাজারে এখন কাঁচামরিচ ও সবজির দাম গেল সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য চলাটা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নূর উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: দাম নাকি কমছে, তারপরও ৮০ টাকা কেজিতে তরকারি বিক্রি হচ্ছে। আমরা অবসর নিয়েছি, কোনো ধরনের আয় নাই। আগে যা ভাতা পেতাম, তাই পাচ্ছি। যে বন্যা হয়েছে এতে বাজারে একটু প্রভাব পড়বেই। আমার মনে হয়, সারা দুনিয়ায় এতো দামে কোথাও চিনি নাই। আটার দাম এতো হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। বাংলাদেশের যে ৫টা বড় কোম্পানি আছে, তারাই শুধু সিন্ডিকেট করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই।
নাহিদা আক্তার, সরকারি কর্মকর্তা: মধ্যবিত্তদের ক্রয়সীমার মধ্যে প্রতিটি জিনিসের মূল্য তালিকা করা প্রয়োজন। এখন কোনো কিছু ক্রয়সীমার মধ্যে নাই। শাক-সবজির বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নাই। দোকানদার বলে- বন্যার জন্য দামের ঊর্ধ্বগতি। এটা কি বন্যা নাকি সিন্ডিকেট সেটা তো ক্রেতাদের জানার কথা না। আমরা চাই, প্রত্যেকটা জিনিসের যেন সুষ্ঠু বণ্টন ও বাজার তদারকি করা হয়।
আব্দুল খালেক, বেসরকারি চাকরিজীবী: আগের তুলনায় দাম এখন একটু কম। মহল্লার তুলনায় কাওরান বাজারে দাম কিছুটা কম পাওয়া যায়। এখান থেকে মহল্লায় সবজি ঢুকলে দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ইব্রাহিম আহমেদ তালহা, ঠিকাদার: আগে দাম যেটা ছিল তার তুলনায় এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে। পিয়াজের দাম চড়া, আলুর দাম আগের মতোই আছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। আগে যে সিস্টেমে দেশ চলতো, সেটা এখনো চলে। শুধু মানুষ পরিবর্তন হয়েছে। আগে চাঁদাবাজি হতো, এখনো হচ্ছে। শুধু হাতটা পরিবর্তন হয়েছে।
মো. রহমত উল্ল্যাহ, চাকরিজীবী: বাজারে সবকিছুর দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। ডিমের দামটা কিছুটা কমলেও পিয়াজ, আলুর দামে কোনো কমতি নেই। আমরা সাধারণ মানুষ খেয়ে বেঁচে চলতে পারলেই হয়। সরকার যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য একটু সীমার মধ্যে রাখতো তাহলে আমরা বলতে পারতাম এই সরকার সফল।
আতাউর রহমান, বেসরকারি চাকরিজীবী: মাসে সর্বসাকুল্যে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাই। বেতনের টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তি ছিল। এখন আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের টিকে থাকতেই কষ্ট হচ্ছে।
ইয়াসিন আহমেদ, শিক্ষার্থী: সরকার বলে বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু এর কোনো ধরনের প্রভাব বাজারে দেখছি না। আরও কঠোর হতে হবে। তবে মানুষ আস্থা পাবে।
আবু তাহের, চাকরিজীবী: দামটা গত সপ্তাহের তুলনায় কম, তবে আশানুরূপ কমেনি। বন্যার পানি কমেছে, এখন যদি উৎপাদন ঠিকভাবে হয় তাহলে সামনের সপ্তাহ থেকে দামটা আরও কমার সম্ভাবনা আছে। আমাদের সাধারণ মানুষের চলতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিজয় কৃষ্ণ মণ্ডল, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী: আমার কাছে দামটা আজকে একটু কম মনে হলো। দেশের অর্থনীতির এমন বেহাল অবস্থায় আমাদেরও কষ্ট করে দিন কাটছে। সামনে ভালো হবে- এই আশায় আছি।
শামসুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: আমি চাই অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছর থাকুক। এই সময়ের মধ্যে আইন-কানুন সংস্কার করতে হবে। আর বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রেশমা খাতুন, গৃহিণী: সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামে এখনো বিক্রি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারও সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না। তবে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনো সময় দিতে চাই। কারণ আমরা সব সরকারকেই তো দেখেছি। কোনো সরকারই জনগণের জন্য কাজ করে না। তবে দুই বছরের মধ্যে একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।
নিশান আলী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী: ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকার কঠোর হতে পারছেন না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর ভূমিকা দেখতে চায় মানুষ। যেই সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে আমরা তাদেরকে দেখতে চাই।
কে এম হক ফয়সাল, আইনজীবী: এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য ১৯৫৪ সাল থেকে সব সময় আমাদের লড়তে হয়েছে। চাপিয়ে দেয়া কিংবা অনির্বাচিত শাসনের জন্য লড়াই হয়নি। জনগণের শাসনের জন্য লড়াই করেছি। এখনো আমরা চাই নির্বাচিত সরকার। এজন্য এই সরকারের উচিত যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়া। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর হওয়া উচিত। ফৌজদারি অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। সে যেই দল কিংবা মতের হোক। এ ছাড়া এখন রাস্তায় কোনো শৃঙ্খলা নেই। রাস্তায় যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। রাস্তায় যানজট নিরসন করতে হবে।
রাজু মিয়া, সিএনজি চালক: আইনশৃঙ্খলা আগের মতো নেই। ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে না। সড়কে যানজট লেগে থাকে। জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। প্রতিদিন আমরা যা আয় করি বাজার করার পর আর কোনো টাকা থাকে না। এই সরকারের উচিত যারা নির্বাচনে অংশ নিবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় মতো একটা নির্বাচন দেয়ার। তাহলে ভালো হয়। যদি ঐকমত্য করে দ্রুত নির্বাচন দেয় তাহলে ভালো হয়।
সৈয়দ মুনজেল মোরশেদ আল মাসুম, ব্যবসায়ী: এই সরকার চাপের মধ্যে চলছে। দেশ-বিদেশের চাপ আছে। আগের সরকারের সমর্থকদের চাপ আছে। আগের সরকার দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। দ্রবমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আছে। এই সরকারের নির্দিষ্ট লক্ষ্য খোলাসা করে কাজ করা উচিত। সব সংস্কারের পর নির্বাচন করা ভালো।
মো. ফেরদৌস হাসান ইউসুফ, চাকরিজীবী: বাংলাদেশে এতদিন আমরা ভোট দিতে পারিনি। ভোটের কোনো অধিকার ছিল না। এখন আমরা চাই ভোট দিতে। আবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। সাধারণ জনগণের মূল চাওয়া যাতে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে থাকে।
মো. সালাম, সবজি বিক্রেতা: এখন বাজার পরিস্থিতি ভালো না। সবকিছুর দাম বেশি। এতে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। যার দরকার ছিল এক কেজি সে নেয় একপোয়া। ক্রেতারা বলে, এখন দাম বেশি। আগের সরকার থাকতে সবজির দাম আরও কম ছিল। বর্তমানে আগের চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু সবজির দামে তো সরকারের কোনো হাত নেই। এটা যত সরবরাহ বেশি থাকবে ততই দাম কমবে। শীতের সবজি আসছে। বাজারের সবজির দাম কমে যাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে।
কামাল পাশা, ব্যবসায়ী: এই সরকারের ভালো-মন্দ বুঝতে হলে তাদের সময় দিতে হবে। তারা চাইলেও রাতারাতি কিছু করতে পারবে না।
আব্দুস সালাম, রিকশাচালক: বর্তমানে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে বাজার করা কঠিন। রাস্তায় অবৈধ ব্যাটারি রিকশা চলছে। ট্রাফিক ঠিকমতো কাজ করে না। গাড়ি ধরে না। ধরলেও ছেড়ে দেয়। বিশ্বরোডের মধ্যে ব্যাটারি গাড়ি চলছে। তাদের জন্য ভাড়া কম পাওয়া যায়। আমাদের আয়ও কমে গেছে।

mzamin

Tuesday, October 22, 2024

পথের চাঁদা কমেছে বাজারে আগের মতোই by সুদীপ অধিকারী

আওয়ামী লীগ শাসনামলে কাঁচামাল পরিবহনের যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় ছিল স্বাভাবিক বিষয়। শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজনৈতিক নেতা, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, তল্লাশিসহ নামে-বেনামে রসিদ ছাপিয়ে প্রতিদিন চাঁদা নেয়া হতো এসব গাড়ি থেকে। চাঁদা ছাড়া কোনো গাড়িই চলাচল করতে পারতো না। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসা কাঁচামালের ট্রাক থেকে নেয়া চাঁদা আপাতত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পার্কিং, লেবার, মহাজনের খরচের নামে আড়তগুলোর অবস্থা সেই আগের মতোই আছে। কমেনি গাড়ি ভাড়াও। যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারের ওপর। ভোক্তাকে আগের মতোই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

সরজমিন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজি বোঝাই করে একের পর এক ট্রাক এসে থামছে কাওরান বাজারের ওয়াসা, জনতা টাওয়ার, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন, ইত্তেফাক ভবনসহ বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু গাড়ি আবার প্রধান সড়কে পার্কিং করে সেখান থেকে ভ্যানে করে আড়তগুলোতে পণ্য নিয়ে আসছে। এমনই এক গাড়ির চালক মো. সাগর। তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সবজি বোঝাই করে কাওরান বাজারের আড়তে নিয়ে এসেছেন। সাগর বলেন, ৫ই আগস্টের আগে আমার এই ট্রাকটি কাওরান বাজার আসতে পাগলাপীর বাজার, বালাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশ তল্লাশি চৌকি, সৈয়দপুর উপজেলা শহর, রংপুর নার্সিং কলেজ এলাকা, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের শঠিবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, মোকামতলা, বগুড়ার প্রথম বাইপাস, মাটিডালি, চারমাথা, ভবেরবাজার, হাটিকুমরুল, টাঙ্গাইল, এলেঙ্গা, মীরেরবাজারসহ অন্তত ১৪ স্থানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হতো। কিছু কিছু স্পটে মাসিক চুক্তি ছিল। নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মাসে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা দেয়া লাগতো। পুলিশ থেকে রাজনৈতিক নেতা সকলে ওই টাকার ভাগ পেতো। তবে এখন আর পথে আগের মতো চাঁদা দেয়া লাগছে না। সাগরের মতোই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে সবজির ট্রাক নিয়ে এসেছেন রায়হান। সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পথে গাড়িতে কোনো চাঁদা দেয়া লাগে না। আগে যার কাছ থেকে যেমন পারতো চাঁদা নিতো। গাড়ি আটকালেই চাঁদা দেয়া লাগতো। একটা ট্রিপ নিয়ে ঢাকায় আসতে আগে ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেয়া লাগতো। হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। চাঁদা না দিলেই গাড়ির গ্লাস ভেঙে দিতো। ২-৩শ’ টাকার জন্য ৮-১০ হাজার টাকার গ্লাস ভেঙে দেবে বলে কেউ কিছু বলতো না। এ ছাড়া পুলিশের উৎপাত তো ছিলই। যেই জেলা পার করতাম সেসব হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নামে চাঁদা নেয়া হতো। রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামেও টাকা আদায় করা হতো প্রতি গাড়ি থেকে। এখন এসব বন্ধ হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আছে, তবে আগের মতো না। তিনি বলেন, মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবারো কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের গাড়ি পার্কিংয়ের নামে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এই টাকা না দিলে কেউ কাওরান বাজারে গাড়ি ঢোকাতে পারে না। সুমন নামে আরেক ট্রাকচালক বগুড়া থেকে সবজি নিয়ে নিয়মিত আসেন ঢাকাতে। সড়কের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে পুলিশের নামে, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে, মালিক সমিতির নামে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার নামে, এই টোল, ওই টোল বিভিন্ন বাহানায় চাঁদা নেয়া হতো। রাতে রাস্তায় মাঝে মধ্যে পুলিশের লোক আমাদের চোখে টর্চলাইট, লেজার লাইট মেরে সিগন্যাল দিতো। কোথাও কোথাও লাল পতাকা বাঁধা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো। মালবাহী ট্রাক দেখলেই ডাউন দিতো, দৌড়ে চলে আসতো। তাদেরকে টাকা না দিয়ে কেউ গাড়ি নিয়ে যেতে পারতো না। তিনি বলেন, ঢাকায় ঢোকার পরও শ্যামবাজারে মাল নামিয়ে কাওরান বাজারে আসতে আসতে এই সাত কিলোমিটার রাস্তায় তিনটি স্থানে চাঁদা দেয়া লাগতো। তবে পট পরিবর্তনের পর থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে চাঁদা নেয়া বেশির ভাগই বন্ধ আছে। তবে এখনো যাত্রাবাড়ী ও কাওরান বাজারে সিটি করপোরেশনের নামে স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়া হয়। সড়কের চাঁদা নেয়া বন্ধ ও তেলের দাম কম হওয়ায় ট্রাক ভাড়া কমেছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ট্রাক ভাড়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেন ট্রাকের মালিকরা। আর তেলের দাম কমেছে সীমিত। তাই পণ্য পরিবহনে ভাড়া আগের মতোই আছে।  সাগর, রায়হান, সুমনের মতো সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত কাওরান বাজারে সবজি নিয়ে আসেন ইসরাফিল হোসেন। তিনি বলেন, আগে সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা পর্যন্ত কয়েকটি স্পটে রাস্তায় চাঁদা দেয়া লাগতো। পুলিশও টাকা নিতো। তিনি বলেন, কেউ যদি রাতে সবজির ট্রাকে ঢাকায় আসতো সে বুঝতো কোথায় কোথায় চালকদের টাকা দেয়া লাগতো। আর ওসব চাঁদাবাজের যে কি খারাপ ব্যবহার তা শুধু আমরাই জানি। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রহমতে এখন আপাতত তেমন একটা চাঁদা দেয়া লাগছে না। পুলিশেরও ঝামেলা নেই। তবে এমন কতো দিন থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে মিরাজ সহ কাওরান বাজারের একাধিক আড়তদার বলেন- রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানভর্তি আলু, পিয়াজ, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, মুখিকচু, ফুলকপি, মরিচ, গাজর, বেগুন, ধনেপাতা, শসা, করলা, লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজি আমাদের বাজারে আসে। এ ছাড়াও  পাহাড়ি এলাকা থেকে আনারস, কলা সহ বিভিন্ন ফলমূল আসে আমাদের আড়তে। যারা নিয়মিত আড়তে মাল নিয়ে আসেন তারা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহের আগে আড়তদারদের ফোন দিয়ে জেনে নেন বাজারদর। তারপর পণ্য ট্রাকে করে রাতে কাওরান বাজারে নিয়ে আসেন। এখানে আসার পর প্রথমে ট্রাকপ্রতি পার্কিং বাবদ ২-৩ শ’ টাকা দেয়া লাগে। এরপর ট্রাক থেকে মাল নামাতে গাড়ি প্রতি ২৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা লেবার খরচ দিতে হয়। আর ভ্যানে মাল নামলে সেই খরচ আলাদা। এরপর যেই আড়তের মাধ্যমে মাল নামাবে সেই আড়তের মালিককে লাখে ১০ হাজার অর্থাৎ একশ’ টাকার মাল নিয়ে আসলে আড়তদারকে ১০ টাকা খরচ দিতে হবে। লাভ-লসের হিসাব পড়ে। এই খরচগুলো দেয়ার পর মাল বিক্রি করে যা বাঁচবে সেটাই পাবে ব্যাপারী। মাল বিক্রি হোক আর না হোক সবজির ট্রাক ঢুকলে এই খরচগুলো দেয়াই লাগবে। আর কেউ যদি সম্পূর্ণ মাল একবারে আড়তদারের কাছে বিক্রি করে দেয় তাকেও এই খরচ দেয়া লাগে। আবার হাতে কেটে অর্থাৎ নিজের মাল নিজে বিক্রি করবে তাকেও এই খরচ দিতে হয়। কারণ আড়তদারের বাইরে কেউ কাওরান বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে না। বিশ বছর আগে যেই নিয়ম ছিল এখনো তাই আছে। সবই আগের মতোই চলছে।

mzamin

Wednesday, October 16, 2024

ডিম নিয়ে কেন এত আলোচনা

অতিমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পাত থেকে অনেকটাই উঠে গেছে মাছ ও মাংস। সবজির দামও অসহনীয়। এমন প্রেক্ষাপটে বাড়তি চাপ পড়েছে ডিমের বাজারে। এর সুযোগও নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি  হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া পাইকারি ডিমের বাজার বন্ধ থাকায় মহল্লার দোকানগুলোতে ডিমের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানেই মিলছে না ডিম। এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

গতকাল ঢাকার আগারগাঁও, তালতলা ও শ্যামলী এলাকার বাজার ও মুদি দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ডিমের দাম আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া সংকটের কারণে অনেক দোকানে ডিম বিক্রি হচ্ছে না। তালতলা ও পশ্চিম কাফরুলের ভূঁইয়া জেনারেল স্টোর, আল-আমিন স্টোর, তপন স্টোর, বিসমিল্লাহ্‌ স্টোর ও চাঁদপুর স্টোর ঘুরে দেখা যায়, এসব দোকানে ডিম বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বন্ধের কারণ জানতে চাইলে এসব দোকানের স্বত্বাধিকারীরা জানান, পাইকারি বিক্রেতারা গত তিন থেকে চার দিন ধরে তাদেরকে ডিম দিয়ে যাচ্ছে না। এজন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছেন তারা। আল-আমিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মানবজমিনকে বলেন, ৫ দিন আগে আমার ডিম শেষ হয়ে  গেছে। এর মধ্যে পাইকারি বিক্রেতারা আমার দোকানে ডিম দিয়ে যায়নি। এজন্য ডিম বিক্রি করতে পারছি না। ডিম না পেয়ে অনেকে ঘুরে চলে যাচ্ছেন। এ ছাড়া পাইকারি বিক্রেতারা নির্ধারিত রেট না দেয়ার ফলে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। ক্রেতারা অনেক ঝামেলা করে। এজন্য আমরাও ডিম বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী না।

অন্যদিকে ডিমের দাম বাড়ার তথ্য দিচ্ছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সংস্থাটি রাজধানীর বাজারগুলোতে ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৫৫টি পণ্যের মূল্য মনিটরিং করে থাকে। টিসিবি’র হিসেবে গেল এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বর্তমান বাজারে খুচরা পর্যায়ের ডিমের দাম প্রতি হালি ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি ডজনের দাম হওয়ার কথা ১৭৪ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে ডিমের দাম অত্যধিক বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভোক্তারা। তালতলার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, বাজারে সব পণ্যের দাম অনেক বাড়তি। এর মধ্যে যাও একটু ডিমের দাম কম থাকবে, সেখানে আজকে দাম শুনে এক প্রকার অবাক। ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। প্রতিদিন এভাবে ডিমের দাম বাড়লে খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যান্য জিনিসের দামও তো অনেক বেশি। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন বুঝতে পারছি না। আরেক ক্রেতা রিবন আহমেদ বলেন, আমি বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা করছি। আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ডিম থাকে। কিন্তু এখন খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসহনীয় দামের কারণে মাছ ও মাংস তো খেতে পারি না। এমন অবস্থায় ডিমের দামও যদি সহনীয় না থাকে তাহলে আমাদের তো অপুষ্টিতে ভুগতে হবে।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরিবের আমিষ খ্যাত ডিম।  বেশি দামের কারণে যারা মাছ- মাংস কিনতে পারেন না তারা মূলত ডিমের উপর নির্ভর করতেন। এই শ্রেণির ক্রেতারা এখন বিপাকে পড়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি না করলে জরিমানা করছে এই টিম। এজন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার আড়তদাররা। আড়তদাররা জানান, সরকারি দামে ডিম কিনতে পারছেন না তারা। দেড় মাস ধরে তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। তবে সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে আরও কম। ফলে লোকসান গুনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ওপর প্রশাসনের অভিযানের কারণে আরও লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই তারা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজধানীতে ডিম বিক্রির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হচ্ছে তেজগাঁও আড়ত। দেশের বিভিন্ন স্থানের খামার থেকে ট্রাকে করে এখানে ডিম আসে। এরপর তেজগাঁও থেকে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার ও পাড়া-মহল্লায় ডিম সরবরাহ হয়। ফলে তেজগাঁওয়ে ডিম বিক্রি বন্ধ রাখলে সাধারণত খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে। এই আড়তের মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার হাজী রবিউল আলম বলেন, সরকার আমাদের ১১.১ টাকায় ডিম বিক্রি করতে বলছেন। এই দামে তো আমরাও ডিম কিনতে পারছি না। প্রতিটি ডিম কিনতে খরচ পড়ছে ১৩ টাকা। এজন্য ডিম আনা বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে আমরা প্রতিদিন প্রায় এক গাড়ি ডিম আনতাম। এখন সেটা আনতে পারছি না। ডিমের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম পাচ্ছি না। এ ছাড়া কয়েক দফায় হাত বদলের কারণে ডিমের দাম বৃদ্ধি পায় বলেও জানান ডিমের এই আড়তদার। অন্যদিকে চট্টগ্রামে ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর লিটন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া দামে ডিম ক্রয় ও বিক্রি করা যাচ্ছে না। বলা হয়েছে উৎপাদন পর্যায় থেকে ১০ টাকা ৫৮ পয়সায় ডিম কেনা যাবে। কিন্তু বাস্তবে কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকার বেশি দামে। এখন আমরা কীভাবে ১১ টাকায় ডিম বিক্রি করবো?

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন বলেন, ডিমের দাম বাড়ানোর বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য নিয়ে আগে ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করছে আর এখন আমলারাও এর সঙ্গে জড়িত হয়েছে। যখন সরকার বলছে এগুলো তদারকি করা হবে তখন এক দল পাইকারি বিক্রেতা ও করপোরেট গ্রুপগুলো বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়। তারা বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে যায়। আমি মনে করি যারা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারাই মূলত সিন্ডিকেটকারী।

ডিমের নতুন দাম নির্ধারণ: এদিকে উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মুরগির ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আজ থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। গতকাল ডিম উৎপাদক এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আলীম আখতার খান নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা ও খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ডজন কিনতে খরচ হবে ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা। ভোক্তার ডিজি বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে যাতে বেশি মূল্যে ডিম বিক্রি না করা হয় সেজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। তারপরেও বেশি দামে ডিম বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ উৎপাদন ও ক্রেতার মাঝে বহু স্তর বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংশ্লিষ্টতা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে উৎপাদনকারী, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা পর্যায় বাদে অন্যান্য স্তরগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ আলীম আখতার খান।

১৩০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করছে সরকার:
সরকারি উদ্যোগে ১৩০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি করছে সরকার। গতকাল থেকে রাজধানীর ২০টি স্পটে এই মূল্যে ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানগুলো হচ্ছে সচিবালয় এলাকার খাদ্য ভবন, মানিক মিয়া এভিনিউ, মিরপুর-১০, বাসাবো, বছিলা, রায়ের বাজার, রাজারবাগ, মুগদা উত্তর, মুগদা দক্ষিণ, পলাশী মোড়, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, বেগুনবাড়ী, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, কামরাঙ্গীরচর, রামপুরা ও জিগাতলা।

এদিকে ডিমের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে ডিমের চাহিদা সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। ডিম তো আর আমি মেশিন দিয়ে তৈরি করতে পারবো না। বাজারে সরবরাহ নেই, তাই দাম বেড়েছে।

তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, ডিমের দাম বাড়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। ৭০ শতাংশ দাম ফিডের খরচের ওপর নির্ভর করছে। এই ফিডের দাম তো এই সময়ে বাড়েনি। তাহলে দামটা বাড়লো কেন? বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে। এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত।  উপদেষ্টা বলেন, পত্রিকায় খবর এসেছে, আমদানির কারণে ডিমের দাম কমে গেল। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, এখানে একটা কারসাজি আছে। এখানে কোনো একটা পক্ষ সক্রিয়, যারা ডিমের দাম বাড়িয়েছে। তা না হলে কমে কী করে?

mzamin

Friday, October 11, 2024

নিত্যপণ্যে নাভিশ্বাস দাম কমবে কবে? by মো. আল-আমিন

চাল, তেল, চিনি, ডিম, আলু, মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে স্বস্তি দেয়ার উপায় হিসেবে কয়েকটি পণ্যের শুল্ক ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক মাস পর গত ৫ই সেপ্টেম্বর প্রথমে আলু ও পিয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পণ্য দু’টির শুল্ক ছাড় দেয় সরকার। আলু আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে পিয়াজের ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়। অথচ সেপ্টেম্বরে এসব পণ্যের দাম না কমে উল্টো আরও বেড়ে যায়। ৫ই সেপ্টেম্বরের আগে বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম ছিল ১০৫ থেকে ১২০ টাকা। শুল্ক কমানোর পর পিয়াজের দাম হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অন্যদিকে শুল্ক ছাড়ের পর আলুর দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে সরকার শুল্ক কমালেও তার সুফল ভোক্তার ভাগ্যে না জুটলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল তুলে নিয়েছে।

এদিকে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ ক্রেতার। সম্প্রতি কাঁচা পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বাজারে মানুষের ভোগান্তি নতুন করে বাড়িয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাতে শাক-সবজির দাম বেড়েছে অনেক। এ ছাড়া ডিমের বাজারেও চলছে তুঘলকি কারবার। এখন আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমদানি শুল্ক কমানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ওদিকে চিনির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে আমদানি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অর্ধেক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকার চিনি আমদানির ওপর বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তাই এবার প্রশ্ন উঠেছে, শুল্ক কমানোর সুফল ভোক্তার ভাগ্যে জুটবে কি-না। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকে তাহলে এর সুফল ভোক্তারা এবারো পাবেন না। এজন্য বাজার তদারকি করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা না করা গেলে এবারো ব্যবসায়ীরাই সুফল তুলে নেবে।  

এর আগেও শুল্ক কমার সুফল পায়নি ভোক্তারা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিনি, চাল, তেল ও খেজুরের শুল্ক কমিয়েছিল সরকার। কিন্তু তখন বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। উল্টো দফায় দফায় এসব পণ্যের দাম বাড়তে দেখা গেছে। শুল্ক কমানোর পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আর খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এ ছাড়া সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছিল ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে শুল্ক কমানোর আগে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম একই ছিল। তবে কম ছিল চিনির দাম। শুল্ক কমার আগে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। আর প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুরের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এদিকে গত বছরের অক্টোবরেও অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করেছিল সরকার। আর পরিশোধিত চিনির শুল্ক ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করেছিল। সরকার তখন প্রতি কেজি খোলা চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ১৩০ টাকা, আর প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা। অথচ শুল্ক কমানোর পর তখন কেজি প্রতি চিনির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে যায়। এর আগে সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলেরও শুল্ক কমানো হয়। আগের বছর সয়াবিন ও পাম অয়েল স্থানীয় উৎপাদন পর্যায় এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করেছিল সরকার। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। সব মিলিয়ে ভোজ্য তেলে ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানো হয়েছিল। ফলে ভোক্তার মনে আশা জেগেছিল ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমবে। কিন্তু ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পরও লিটারে সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয় মাত্র ৮ টাকা। ফলে শুল্ক কমানোর সুফল কখনোই পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

এবার কী বাজারে শুল্ক ছাড়ের প্রভাব পড়বে: এবারো শুল্ক ছাড়ের সুবিধা ভোক্তারা পাবেন না বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আমলারা তাদের জায়গায় ঠিকই বসে আছেন। তারা আগের সরকারের আমলেও নানাভাবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়েছেন এবং নিজেরাও সুবিধা নিয়েছেন। ভোক্তাদের কথা তারা কখনোই চিন্তা করে না। ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে গত মাসে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেশি করে নির্ধারণ করা হয় বলেও জানান বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করেই বসে থাকে তাহলে এর সুফল ভোক্তারা এবারো পাবে না। প্রতিবারের মতো ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবে। ২৯টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার প্রভাব বাজারে দেখতে পারছি না। তিনি বলেন, শুল্ক কমার সুফল ভোক্তারা তখনই পাবেন, যখন সরকার মনে করবে তাদের দায়িত্ব শুধু শুল্ক কমানো আর দাম নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। তাদের দায়িত্ব নিয়মিত বাজার তদারকি করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা। এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আগে থেকে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে আসা আমলারা এখনো রয়ে গেছে। তারাও ব্যবসায়ীদের থেকে অনেক সুবিধা নিয়ে আসছে। সেহেতু আমলারা আগের জায়গা থেকে সরে আসতে পারছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করে জিনিসের দাম বাড়িয়ে থাকে। প্রতিযোগিতা কমিশন নামে থাকলেও কাজে নেই। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না। এজন্য আগের মতোই নিয়ন্ত্রণহীন বাজার। 

mzamin

Wednesday, October 9, 2024

সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি

বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে সম্প্রতি ডিমের দাম অনেক বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ৭টি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে ডিমের দাম কমাতে ডিম আমদানির ওপরে থাকা শুল্ককর সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ডিম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লেখা এক চিঠিতে ডিম আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ককর প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে ট্যারিফ কমিশন।

এনবিআরের কাছে পাঠানো চিঠিতে ট্যারিফ কমিশন বলেছে, সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে ডিমের সরবরাহে ঘাটতির কারণে এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ডিমের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পণ্যটি আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ককর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ট্যারিফ কমিশন জানায়, সম্প্রতি বাজারে ডিম ছাড়াও পিয়াজ, আলুসহ বেশকিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়ে। এ অবস্থায় গত ২১শে আগস্ট পিয়াজ, আলু ও ডিম আমদানিতে শুল্ককর কমানোর বিষয়ে এনবিআরকে একটি প্রতিবেদন পাঠায় ট্যারিফ কমিশন। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত ৪ই সেপ্টেম্বর আলু ও পিয়াজ আমদানিতে শুল্ক কমায় এনবিআর। এর ফলে স্থানীয় বাজারে এই দুটো পণ্যের দাম কিছুটা কমে স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। তবে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ডিম আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে এনবিআর থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করে ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি জানায়, শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য পণ্য হওয়ায় সরকারের অনুমতি ছাড়া ডিম আমদানি করা যায় না।

এখানে দেশের পোল্ট্র্রি শিল্পের সুরক্ষার বিবেচনা কাজ করে। তবে সুনির্দিষ্ট মেয়াদে ডিম আমদানিতে শুল্কছাড় দেয়া হলে তাতে পোল্ট্র্রি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদে শুল্ককর ছাড়ের ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিরও আশঙ্কা নেই। বর্তমান ডিম আমদানিতে মোট ৩৩ শতাংশ শুল্ককর রয়েছে বলে জানায় ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি মনে করছে, এই শুল্ককর অব্যাহত রাখলে আমদানি করা ডিম স্থানীয় বাজারে দামের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব রাখবে না। ট্যারিফ কমিশন চিঠিতে বলেছে, এজন্য আমদানি পর্যায়ে ডিমের ওপরে থাকা শুল্ককর স্বল্প সময়ের জন্য প্রত্যাহার করা হলে সাধারণ জনগণ স্বস্তির জায়গা খুঁজে পাবে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত ডিমের ওপর সুনির্দিষ্ট মেয়াদে শুল্ককর প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানায় ট্যারিফ কমিশন।

এদিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সাময়িকভাবে ও সীমিত সময়ের জন্য সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান মোট সাড়ে চার কোটি ডিম আমদানি করতে পারবে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন পাঁচ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকার মিম এন্টারপ্রাইজ, হিমালয় ও যশোরের তাওসিন ট্রেডার্স এক কোটি করে ডিম আমদানি করতে পারবে। এ ছাড়া ঢাকার প্রাইম কেয়ার বাংলাদেশ ও জামান ট্রেডার্স ৫০ লাখ, রংপুরের আলিফ ট্রেডার্স ৩০ লাখ এবং সাতক্ষীরার সুমন ট্রেডার্স ২০ লাখ ডিম আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও একদফায় ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।

এ দফায় ডিম আমদানি করার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দেয়া হয়েছে। এর প্রথমটি হলো এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু-মুক্ত দেশ থেকে ডিম আমদানি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দেয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে। তৃতীয়ত, ডিম আমদানির প্রতিটি চালানের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। চতুর্থত, আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরে সাতদিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

mzamin

Sunday, October 6, 2024

নিয়ন্ত্রণহীন বাজার নেপথ্যে কী by মো. আল-আমিন

এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম হালিপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। খোলা পামঅয়েল ও সুপার তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। সাধারণের নাগালের বাইরে রয়েছে পিয়াজ ও রসুনের দাম। শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া সরকার থেকে কয়েকটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও তার চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে যৌক্তিক কোনো কারণ দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অসৎ ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের কারসাজির জন্যই মূলত পণ্যমূল্য বাড়ছে। পণ্যের দাম বাড়ার অন্য কোনো কারণ নেই। এটা নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

তারা বলছেন, সরকার বদলালেও বাজারের দৃশ্যপট বদলায়নি। এখনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কব্জায় রয়েছে বাজার। আমরা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের কষ্ট কমেনি।
গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে পামঅয়েল সুপারের দাম লিটারে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিলিটার পামঅয়েলের দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল সরকার থেকে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। আর খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের পাশাপাশি আটার দামও বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। খোলা ময়দার দাম ৬০ টাকা। আর দুই কেজির প্যাকেট আটার দাম ১১০ টাকা। আর গত মাসে আটার কেজি ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা। যদিও এই সময় বিশ্ববাজারে গমের দাম ছিল নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংকের পিঙ্কশিটের তথ্যমতে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গমের টনপ্রতি দাম উঠে যায় ৩৮১ ডলারে। পরে তা কমতে থাকে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি গমের দাম ছিল ২৯৮ ডলার। আর চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে টনপ্রতি দাম কমে দাঁড়ায় ২৩৭ ডলার। জুলাইয়ে আরও ১৯ ডলার কমে হয় ২১৮। আর আগস্টে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি গমের দাম ছিল ২০৫ ডলারের কিছু বেশি। অর্থাৎ গমের দাম ক্রমাগত কমেছে। দেশে আমদানি করা গম আসতে গড়ে দুই মাস সময় লাগে। সে হিসাবে আগস্টে বিশ্ববাজারে হ্রাস পাওয়া দামের প্রভাব অক্টোবরের শুরুতে বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এদিকে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ডিমের বাজারে। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে পণ্যটির দাম। বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। এক মাস আগে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায়। যদিও সরকার ব্রয়লার মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা। অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে সব ধরনের সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম আগের মতোই চড়া। সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়- শিম, ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, ঢেঁড়স, বেগুন, পটোল, ঝিঙা, করলা, টমেটো, শসা, গাজরসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজিই মিলছে না। এ ছাড়া পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি আদা ৫০০ টাকা, দেশি রসুন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

ডিমের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে: ডিমের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে বহুজাতিক কোম্পানি এবং রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেছেন, সারা দেশে ডিমের বাজারে অস্থিরতা চলছে। যার প্রেক্ষিতে ডিম-মুরগির দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কোনো প্রান্তিক খামারিকে ডিম-মুরগির দাম নির্ধারণের ওয়ার্কিং গ্রুপ কমিটিতে রাখেনি। তারা শুধু কর্পোরেট গ্রুপদের পরামর্শে দাম নির্ধারণ করেছে। যার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার এর জন্য ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদনকারী কোম্পানি, তাদের এসোসিয়েশন এবং তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতিসহ আরও অনেকের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। তিনি বলেন, ডিম আর মুরগির বাজারে স্বস্তি রাখতে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভেঙে ডিম-মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে শিগগিরই বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

বাজার বিশ্লেষকরা যা বলছেন: নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অসৎ ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের কারসাজির জন্যই মূলত পণ্যমূল্য বাড়ছে। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তার প্রভাব নেই। বরং উল্টো জিনিসের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কথায় পরিবহন চাঁদাবাজি কমেছে। তাহলে সেই প্রভাব বাজারে নেই কেন? এ ছাড়া ২৯টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার প্রভাবও বাজারে দেখা যাচ্ছে না। আগের কারবার এখনো চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করে জিনিসের দাম বাড়িয়ে থাকে। প্রতিযোগিতা কমিশন নামে থাকলেও কামে নেই। এ ছাড়া পুলিশ প্রটেকশন না পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না। এজন্য আগের মতোই নিয়ন্ত্রণহীন বাজার। ভোক্তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো যা বলছেন: তবে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দাবি পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে তারা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন পণ্যের কেনাবেচায় সুস্থ প্রতিযোগিতা উৎসাহিত করতে ও অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে আমাদের কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পানির দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুদিন আগেই আমরা একটি মামলা করেছি। এর প্রভাব বাজারে দেখা গিয়েছে। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আমাদের টিমও বাজারে কাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে পণ্যের মূল্য বাড়াতে হলে তার যৌক্তিক কারণ অবহিত করার নিয়ম রয়েছে ট্যারিফ কমিশনকে। কোম্পানির পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি সঠিক মনে না হলে কোনো কোম্পানি তার পণ্যের দাম বাড়াতে পারে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ট্যারিফ কমিশনকে অবহিত না করে বাড়ানো হচ্ছে নানা প্রকার আমদানি পণ্যের দাম। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান মানবজমিনকে বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকার আমাদের থেকে পরামর্শ নিয়েছেন। কাজ চলছে। দ্রুতই আপনারা এর প্রতিফলন দেখতে পারবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজার তদারকি সংস্থা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ায়। এবার জিনিসের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বন্যার অজুহাত দেখিয়েছে। তিনি বলেন, পরিবহন খাতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি। তবে কিছুটা কমেছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা জিনিসের সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

mzamin


Saturday, October 5, 2024

কার্যকর হয়নি সরকারের বেঁধে দেয়া দাম

বাজারে স্বস্তি ফেরাতে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর খুচরা, পাইকারি ও উৎপাদক পর্যায়ে ডিম, মুরগির দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ১৯ দিন পেরোলেও বাজারে কার্যকর হয়নি সরকারের বেঁধে দেয়া দাম। আগের সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার-সোনালি মুরগি। সরকারি দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশিতে ব্রয়লার আর ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম ১৭০ টাকা উঠেছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশি। আর পাড়া-মহল্লায় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। এতে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে এই কম দামের পুষ্টি। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্রই দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের চেয়ে আরও বেড়েছে সবজির দাম। চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। আর পিয়াজের দাম সামান্য কমতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের দাম একদম অস্থিতিশীল। দুই-তিন সপ্তাহ ধরেই ডিম কিনতে কষ্ট হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের। এখন ডিমের দাম শুনে অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। বাজারে খুচরায় প্রতিটি ডিম ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত ১৫ই সেপ্টেম্বর এক আদেশে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়। সে হিসেবে ডিমের হালি খুচরা পর্যায়ে ৪৭ টাকা ৪৮ পয়সায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ এখন প্রতি হালি কিনতে হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। হালিতে ১১ থেকে ১২ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে গ্রাহককে।
এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। আর সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায়। পাশাপাশি লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩১০ টাকা, কক কেজি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। দেশি মুরগি আগের মতো ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও শুধু ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। বাকিগুলোর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও তা বাজারে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারণ করে দেয়া দামের চেয়ে ১০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। একইভাবে সোনালি মুরগির প্রতি কেজির দাম ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৯০ টাকা, যা নির্ধারণ করে দেয়া দামের চেয়ে কেজিতে ২০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

ওদিকে বেশ কয়েক মাস ধরে চড়া রয়েছে আলু ও পিয়াজের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারত পিয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমানোর পর দেশের পিয়াজের দাম অল্প কিছুটা কমেছে। আগে যেটি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, সে পিয়াজ এখন ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশকিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমেছে। অনেক সবজি ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া এখন গ্রীষ্মের মৌসুমের সবজিগুলো সরবরাহ শেষ দিকে, আর শীত মৌসুমের আগাম সবজির সরবরাহ কম। দুই মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এখন দাম বাড়ছে।

সবজি বিক্রেতা মো. আলী বলেন, গ্রীষ্মের মৌসুম শেষে, শীতের মৌসুম শুরুর আগের এই সময়টি প্রতি বছর সবজির দাম একটু বেশিই থাকে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পেঁপে ছাড়া বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ৬০ থেকে ৭০ টাকায় শুধু পটোল মিলছে। ঢেঁড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কচুরমুখী বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, কাঁকরোল, করলা, বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা দরে। প্রতি পিস ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

mzamin

Thursday, September 5, 2024

কেজিপ্রতি ৬ টাকা বেড়েছে চালের দাম

কোনো সংকট না থাকলেও আবারও বাড়ল চালের দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এরমধ্যে বন্যায় ত্রাণ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। একইসঙ্গে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের মোকামগুলোতে ধান ও চালের মজুত গড়ে তুলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় বেশকিছু ধানের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকদিন পর ধান ঘরে তোলার কথা ছিল কৃষকদের, কিন্তু আউশ ধান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর তাতে দাম বেড়েছে ধানের। এর প্রভাব পড়েছে চালেও। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে আউশ ধান খুব বেশি চাষ হয় না, তাও আউশ ধান ঘরে তোলার কথা মাস খানেক পর, তাই এখনই ধান নষ্টের প্রভাব চালের দামে পড়ার কথা না।

ভোক্তাদের দাবি, চট্টগ্রাম ও আশপাশে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে বিতরণের কারণে মোটা চালের চাহিদা বেড়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোটা চালসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে চার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর চাক্তাই চালপট্টি ও পাহাড়তলীতে পাইকারি চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রামে চালের কোনো মোকাম না থাকলেও নগরীর পাহাড়তলী বাজারের ২০০ গুদামে প্রতিদিন ১০০ ট্রাকবোঝাই দেড় হাজার টন এবং চাক্তাই বাজারের ১০০ গুদামে ১ হাজার ৩০০ টন চাল আসছে।

দেশে বন্যা দেখা দেওয়ার আগে, অর্থাৎ গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাজারে সাধারণ মানের মোটা সিদ্ধ ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা দরে। কিন্তু এখন সেই চালের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। একইভাবে ২ হাজার ২০০ টাকার গুটি স্বর্ণা ২ হাজার ৬০০ টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকার নূরজাহান স্বর্ণা ২ হাজার ৮০০ এবং ৩ হাজার ২৫০ টাকার ঝিরাশাইল ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, সিদ্ধ চালের মতো অবস্থা আতপ চালের বাজারেও। ১ হাজার ৯০০ টাকার ইরি আতপ ২ হাজার ৪০০ টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকার বেথি ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩ হাজার ২০০ টাকার কাটারী ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম পাহাড়তলী ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মো. জাফর আলম বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে এলসি খুলে রাখা যেতে পারে। এতে করে দেশে চালের সংকট দেখা দিলে বা দাম বেড়ে গেলে বাইরে থেকে সহজেই চাল আমদানি করা যাবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে মনিটরিং। তা না হলে লাগামহীন হয়ে পড়তে পারে চালের বাজার।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর মেসার্স আজমীর স্টোরের মালিক এস এম নিজাম উদ্দিন জানান, বন্যার কারণে আড়তগুলোতে চাল আমদানি কম হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চাল মজুদ করায় দাম বাড়ছে।

তবে এখনই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ধানের প্রভাব বাজারে পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুচ ছোবহান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে আউশ-আমন মিলে বীজতলাসহ রোপা ধান ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ১৫ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ১৫ হাজার ৫১৮ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আউশ ধান দেশে বেশি চাষ হয় না। আর আমন ধান ঘরে আসার কথা ডিসেম্বরে। ধানের ক্ষতির প্রভাব এখনই বাজারে পড়ার সম্ভাবনা নেই। আর যেসব কৃষকের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সমন্বয় করে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করছি।

Friday, August 16, 2024

কাঁচামরিচের ঝাঁজে পুড়ছে বাজার, মাছ-মাংস-সবজির দাম স্থিতিশীল

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। কিছুটা সহনীয় হয়েছে সবজির বাজার, তবে মাছ, মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পাইকারি সবজি বাজার শ্যামবাজার, নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবুবাজার, কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল বাজার ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতিতে এক মাস ধরে জিনিসপত্রের দাম বেশ ওঠানামা করছিল। এখন অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে দাম অনেকটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। তবে শুক্রবার সে দাম ২৬০-৩০০ টাকা। তবে বাজারগুলোতে স্থিতিশীল আছে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজার।

নয়াবাজারের সবজি ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ছাত্র আন্দোলন, কারফিউ ও সরকার পতনের অস্থিরতার মধ্যে এক মাস ধরে বাজার ছিল অস্থিতিশীল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তাই অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল। কিন্তু হঠাৎ করে আজ বাজারে বেড়ে গেছে কাঁচামরিচের দাম। এর কারণ চাহিদার তুলনায় জোগান কম।

রায়সাহেব বাজারে আসা মানিক বণিক বলেন, এখন তুলনামূলক বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। কিন্তু সবজি, মাছ-মাংসের দাম আরও কম হওয়া উচিত। তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ একটু শান্তিতে বাচঁতে পারত।

এদিন ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৭০, ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা, পটল, ধুন্দল, পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পাকা টমেটোর কেজি প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ এবং গাজরের কেজি ২০০ টাকা। লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কলার হালি ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

বয়লার মুরগির প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ডিম ডজনপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে গরুর মাংসের কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, ছাগলের মাংসের কেজিপ্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়, আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমে প্রতি কেজি পাঙাশ সাইজভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন বলেন মাছের দাম তুলনামূলক কমেছে। গত এক মাস ধরে বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে রাজধানীতে বেড়েছিল মাছের দাম। কিন্তু বাজার এখন স্বাভাবিক। হাতিরপুল বাজারে বাজার করতে আসা কর্মজীবী নারী মালিহা বেগম বলেন, গত এক মাসের চেয়ে আজকের বাজারে সবজি, মাছ-মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। তবে আজ মরিচের দাম বেড়েছে। সবজি ও মাছের দাম সহনশীল হলেও আগের মতো উচ্চ দরেই বিক্রি হচ্ছে চাল, আলু ও পেঁয়াজ।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মিনিকেট ৭২ টাকা, আটাশ চাল ৫৮ টাকা, মোটা চাল ৫২ টাকা, লাল বোরোধানের চাল ৯০ টাকা, সুগন্ধী চিনিগুড়া পোলাওর চাল ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ ও আলু। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ১১০-১২০ টাকা ও আলু ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Saturday, October 5, 2019

দুপুরের আগেই টিসিবি’র পিয়াজ শেষ

ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় পিয়াজের দাম। এর প্রেক্ষিতে পণ্যটির দাম কমাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে খোলা বাজারে পিয়াজ বিক্রি শুরু করে সরকার। কিন্তু দাম কম ও চাহিদা খুব বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যায় টিসিবির গাড়িতে থাকা পিয়াজ। গাড়িতে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম রাখা হচ্ছে মাত্র ৪৫ টাকা। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই কেজি পিয়াজ কিনতে পারেন।
সরজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর ৩৫টি স্থানে টিসিবির মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রি হলেও লাইনে দাঁড়িয়েও পিয়াজ পাননি না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এছাড়া সরবরাহ কম থাকা, সঠিক সময়ে পিয়াজের ট্রাক না আসাসহ বেশকিছু অভিযোগ করেন ক্রেতারা।
গতকাল রাজধানীর সচিবালয় গেটে গিয়ে দেখা যায়, বেলা না গড়াতেই ফুরিয়ে গেছে পিয়াজ।
অন্যান্য পণ্য থাকলেও পিয়াজ শেষ। এদিকে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পিয়াজ না পেয়ে ফেরত যেতে হয়েছে অনেককেই।
এক ক্রেতা বলেন, সকাল ১০টার দিকে এসে দেখি টিসিবির গাড়ি এখনও আসেনি। তাই নিজের কাজ শেষ করে এসে দেখছি পিয়াজ শেষ। তারেক নামে এক ক্রেতা পিয়াজ কেনার পর পলিথিন খুলে দেখান তার মধ্যে বেশ কিছু পচা পিয়াজ। আর রয়েছে অতিরিক্ত আবর্জনা। আর পিয়াজের সাইজও তুলনামূলক অনেক ছোট। তিনি বলেন, দাম কম বলেই এই পিয়াজ কিনছি, তা না হলে কিনতাম না।
টিসিবি’র এক পিয়াজ বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ৪০০ কেজি করে পিয়াজ পাই। আজ (গতকাল) পিয়াজের ক্রেতা একটু বেশি, তাই দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। টিসিবির প্রতিটি গাড়িতে ১ হাজার কেজি পিয়াজ দেয়ার কথা থাকলেও তারা ৪০০ কেজি করে প্রতি গাড়িতে পিয়াজ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমাউন কবির বলেন, এতদিন প্রতি ট্রাকে ৪০০ কেজি পিয়াজ দেয়া হয়েছে। শনিবার থেকে ১ হাজার কেজি করে পিয়াজ দেয়া হবে। তখন পিয়াজ না পাওয়ার ভোগান্তি থাকবে না। তিনি বলেন, পিয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পিয়াজ আসছে। ফলে ২/১ দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম কমে যাবে বলে আশা করছি। বর্তমানে রাজধানীর ৩৫টি স্থানে পিয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তা আরো বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, কোরবানি ঈদের পর থেকেই পিয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। এরপর হঠাৎ করেই ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় এক লাফে দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকায়। তবে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া পিয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তে গত দুই দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য খুচরা বাজারে ততটা প্রভাব পড়েনি। শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ঢাকার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পিয়াজ কেজিপ্রতি ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে, আগের চেয়ে দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকার মতো কমেছে। অবশ্য কোথাও কোথাও সেরা মানের দেশি পিয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় উঠেছিল, যা এখন ১১০ টাকায় নেমেছে।
ভারত রপ্তানি বন্ধের আগে শ্যামবাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পিয়াজ ৫৫-৫৬ এবং দেশি পিয়াজ ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হতো। খুচরা বাজারে বাছাই করা দেশি পিয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, সাধারণ দেশি পিয়াজ ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতেন বিক্রেতারা। ফলে দেখা যাচ্ছে, পাইকারিতে দাম আগের দরের কাছাকাছি চলে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবারের কেনা দেশি পিয়াজ ১১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে বৃহস্পতিবার কেনা প্রতি কেজি পিয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তারা বলছেন, দু’একদিনের মধ্যে দাম আরো কমবে। শান্তিনগরের পিয়াজ ব্যবসায়ী বলেন, ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার ফলে হঠাৎ করে দাম বেড়েছে। তবে মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পিয়াজ আমদানি করায়, বিদ্যমান সংকট কমে আসছে। এ কারণে পিয়াজের দাম কমছে।
বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম ৮০ টাকায় নামবে। এরই মধ্যে মিয়ানমার থেকে ৪৮৩ টন পিয়াজ আনা হয়েছে। আরো ৫০০ টন পিয়াজ দেশে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিনই পিয়াজ কম বেশি আমদানি করা হচ্ছে। কেজি প্রতি পিয়াজের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকা। পাইকারি মূল্য, যাতায়াত মূল্য, সব মিলিয়ে ৫০ কিংবা ৬০ টাকা কেজি হওয়া উচিৎ। পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে ১০টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুদামকে জরিমানা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রতিবছর দেশে পিয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন হয়েছে ২৩.৭৬ লাখ টন। এছাড়া এই সময়ে আমদানি ১০ থেকে ১১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে। ফলে, দেশে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুত থাকার পরেও দাম বেড়েই চলেছে।
যে ৩৫টি স্থানে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে: সচিবালয়ের গেট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বক চত্বর, ভিক্টোরিয়া পার্ক, কাপ্তান বাজার, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, রামপুরা বনশ্রী, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার। এছাড়া সায়েন্সল্যাব মোড়, নিউ মার্কেট/নীলক্ষেত মোড়, ঝিগাতলা মোড়, পলাশী মোড়, শ্যামলী/কল্যাণপুর, খামারবাড়ি ফার্মগেট, রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট, কলমীলতা মোড়, কচুক্ষেত, আগারগাঁও তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস। অন্যদিকে, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, আশকোনা হাজি ক্যাম্প, মহাখালী কাঁচাবাজার, মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, শেওড়াপাড়া বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচাবাজার, দিলকুশা, মাদারটেক নন্দীপাড়া কৃষি ব্যাংকের সামনে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে, পিয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর জেরে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পিয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ও নেপালের। এই তিন দেশে কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও বা তিনগুণ বেড়ে গেছে পিয়াজের দাম। কলম্বোতে এখন পিয়াজের দাম শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ (ভারতীয় মুদ্রায় ১২০ থেকে ১৩০ টাকা)। শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যেই চীন এবং মিশর থেকে আমদানির অর্ডার দিয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর এক সবজির বাজারে গৃহিণী সীমা পোখারেল রয়টার্সকে বলেন, পিয়াজের এবারের মূল্যবৃদ্ধি রীতিমতো ভয়ংকর। গত মাসের তুলনায় এবার দামটা দ্বিগুণ।

Tuesday, May 14, 2019

যে কারণে বাড়লো কলার দাম by মো.নজরুল ইসলাম

চলছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। ইফতারে আলাদা মাত্রা যোগ করা কলার জুড়ি নেই। সেই কলার দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে। গত এক সপ্তাহ আগেও ব্যবসায়ীরা কলা বিক্রি করেছে প্রতি হালি ১৬ থেকে ২০ টাকা। আর কেজি প্রতি বিক্রি করছে ২০ টাকা। অথচ রোজার প্রথম দিন থেকে এক লাফে হালি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি করছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এভাবেই রোজার দিন থেকে প্রতি পিস কলা ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে হাট-বাজার ও দোকানগুলোতে।
ভোক্তারা বলছেন, এমন চড়া দামে কলা বিক্রি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অভিযোগ করে বলছে, দিনের বেলা বাজার থেকে দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে কলা। অর্থাৎ কলা নিয়ে কারসাজিতে মেতে উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবাসায়ী।
প্রতিদিন সকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত টাঙ্গাইলের মধুপুরসহ জেলার অন্যান্য বাজারগুলোতে পাওয়া কলা পাওয়া গেলেও দাম তুলনামূলক অনেক বেশী । দিনের শুরুতে হাট-বাজারে কেনাকাটা করতে এসে বাজারে কলা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ইফতারের ২ ঘণ্টা আগে বাজারে আসছে কলা। আর সেই সময়ে হুমড়ি খেয়ে ক্রেতারা চড়া দামেই কিনছেন কলা। এসময় অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন কলা।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ভোক্তাদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত শনিবার ও রোববার উপজেলার পৌরবাজার, চাপড়ি বাজার, শালিকা বাজার, জয়নাতলী ও আশ্রা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কলা ব্যবসায়ীদের এমন কারসাজি করতে দেখা যায়। যার কারণে দরিদ্র ও নিম্ন দায়ের মানুষ তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে।
চাপড়ি হাটের কলা ব্যবসায়ী মো. আ: সালাম জানান, এবার কলা চাষ কম হয়েছে। অন্য দিকে খরচও ব্যাপক। যার জন্য দামও বেশী। মধুপুর থেকে গোবিন্দাসী হাটে আসা পাইকারি বিক্রেতা মো. জয়নাল শেখ জানান, কলা বাগানের মালিকদের কাছ থেকে চড়া দামে কলা কিনতে হয়। জলছত্র বাজারে দালাল, খাজনা ও পরিবহন খরচও বাড়তি। যার কারণে চড়া দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হই।
মসজিদে ইফতারের জন্য গারোহাটে কলা কিনতে আসা মো.আবুল হোসেন জানান, রোজার আগে কলার দাম ছিল ১২ থেকে ২০ টাকা হালি। এখন রোজাকে কেন্দ্র করে তা বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ। প্রশাসনের হাট-বাজারগুলো মনিটরিং না করায় সুযোগ নেয় অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা। সুজনের জন্য সুনাগরিক এর সভাপতি ও অধ্যাপক মির্জা মহিউদ্দিন বলেন- পবিত্র মাহে রমজান মাস কে কেন্দ্র করে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা অতিমুনাফা লাভের আশায় তারা কলার দাম দ্বিগুণ বেশী নিচ্ছে। রমজান মাসে প্রশাসন যদি নিয়মিত মনিটরিং করত তাহলে ভোক্তাদের ভোগান্তি কম হতো।
ভোগ্য পণ্য মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা আহম্মেদ পলি জানান, রমজান মাসজুড়ে সাধারণ মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Friday, January 4, 2019

সরবরাহ খরায় বেড়েছে সবজির দাম

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে পরিবহন সংকটে রাজধানীতে বেড়েছে সবজির দাম। দুই দিনের ব্যবধানে একাধিক সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। অথচ এখন শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম। ফলে বিপাকে পড়েছে ভোক্তারা। তবে চাল, ডাল, তেল ও মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত আছে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পরিবহন সংকট থাকায় রাজধানীতে পর্যাপ্ত সবজি আসেনি। এর প্রভাবে সব ধরনের সবজির দাম সামান্য বেড়েছে।
তবে এটা সাময়িক। এখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ক্রেতাদের অভিযোগ বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, নতুন আলু ৪০ টাকা। অথচ দুই দিন আগে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা, শিম আকার ও মান ভেদে ৩০-৪০ টাকা, নতুন আলু ২৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে কাঁচামরিচ কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি গাজর ৪০-৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৫০ টাকা, করলা ৪০-৬০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৪৫-৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর বাজারে প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হয় ৩০-৪০ টাকায়, লাউ ৪০-৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা।
সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা পিয়াজের দাম বেড়েছে। আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পিয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, নির্বাচনের কারণে সারা দেশে গাড়ি চলেনি। যার কারণে রাজধানীর পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। যে কারণে চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। যার প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারে।
বাজার করতে আসা কবির বলেন, নির্বাচনের কারণে বাজারে সবজি কম। যে কারণে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করছে। কিন্তু বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ বেশি। তবুও বিক্রেতারা কেজিতে একাধিক সবজিতে ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে, যা কখনোই কাম্য না। এজন্য বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।
এদিকে বাজারে মাছ ও মাংসের বাজার দর স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহে  কিছুটা বাড়লেও এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ ও মাংসের দাম। বাজারে মাঝারি সাইজের প্রতিকেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, বড় সাইজের ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ ছোট সাইজের ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও বড় সাইজের ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পাবদা মাছ প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ইলিশ মাছ ১ কেজি ওজনের বাজার ভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৪৭০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকা। এবং খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় নতুন বছরের জানুয়ারিতে কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে আবার কিছু পণ্যের দাম বেড়েছ। টিসিবির হিসেবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি বছর সরু চালের দাম ৭.৯৪ শতাংশ, মাঝারি মানের চাল ৭.৬৯ শতাংশ, মোটা চাল ১১.১১ শতাংশ, ভোজ্য তেলের দাম ৬.৩৬ শতাংশ, মসুর ডাল ১৬.৬৭ শতাংশ, মুগ ডাল ১৬ শতাংশ, আলু ১৪ শতাংশ, পিয়াজ ৬২.৫০ শতাংশ, চিনি ৪.০৪ শতাংশ কমেছে। তবে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ময়দা, রুই, ইলিশ মাছ ও দেশি মুরগি। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় পণ্যগুলো যথাক্রমে ৩.৮০ শতাংশ, ২৪ শতাংশ, ২১.৪৩ শতাংশ ও ১২.৩৩ শতাংশ বেড়েছে।

Saturday, May 26, 2018

কাঁচাবাজারের তেজিভাব কমে এসেছে

রমজান শুরুর এক সপ্তাহ পর রাজধানীর সবজিসহ ভোগ্যপণ্য বাজারের তেজিভাব কমে এসেছে। বেগুনের উত্তাপ কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকায়। রোজা শুরুর আগে  বেগুন কিনতে ভোক্তাকে ৮০-১০০ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। বেগুনের পাশাপাশি গেল সপ্তাহে দাম কমেছে শসা, গাজার, টমেটো, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব সবজির। এছাড়া খেজুর, ছোলা, মুড়ি, চিনি, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম বাড়েনি। তবে সব ধরনের মাছ ও মাংসের দাম চড়া। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রোজার শুরুতেই পিয়াজের দাম একটু বাড়লেও এখন স্থিতিশীল রয়েছে। জাত ও মানভেদে ৩৫-৫০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পিয়াজ বাজার ও মান ভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা (ভারতীয়) পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পিয়াজের কেজি ছিল ৫০-৬০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজের দাম ছিল ৩৫-৪৫ টাকা কেজি।
কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, বাজারে এখন পিয়াজের দাম অনেক কম। আমদানি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় আপাতত পিয়াজের দাম আর বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে পিয়াজের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেছে সবজির দামও। রোজার শুরুতে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শসা ও গাজা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেগুন, চিচিংগা, করলা, পটোল, ঢেঁড়স, বরবটিসহ প্রায় সকল সবজি। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চিচিংগার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। বেগুনের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। ৮০ টাকায় ওঠে যাওয়া পেঁপের দামও কমে এসেছে। বাজার ভেদে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পটোল, বরবটি, ঢেঁড়সে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁকরল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। রোজার প্রথম দিকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বাড়লেও তা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে ১৫-২০ টাকা পোয়ায় (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম এখন ১০-১৫ টাকা।
টিসিবির তথ্যমতে, প্রতিকেজি ছোলা ৬৫-৮০, অ্যাংকর ডাল ৪৫-৫৫, মুগডাল ৯০-১৫০, ডাল নেপালি ১০০-১১০, ডাল দেশি ৯০-১০০, ডাল তুরস্ক কানাডা মোটা দানা ৫৫-৬৫, ডাল তুরস্ক-কানাডা মাঝারি মানের ৭০-৮০, ভোজ্য তেল খোলা প্রতিলিটার ৮৫-৮৮, বোতল পাঁচ লিটার ৪৮৫-৫২৫, পামওয়েল লুজ ৭০-৭২, পামওয়েল সুপার ৭৩-৭৫ টাকা ও চিনি ৫৮-৬২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বাজারে বর্তমানে চীনা রসুন ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে যা ১০৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সে হিসেবে পণ্যটির দাম কমেছে অন্তত ৪০ টাকা। আর দেশি রসুন মান ভেদে ৪৪, ৫০ ও ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে দাম কম ছিলো ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির। বর্তমানে ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ছোলার দাম কমেছে অন্তত ৫ টাকা। বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, তীরের এক বস্তার ছোলার দাম এখন ৩ হাজার ২৫০ টাকা। আগে যা ৩ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, খুচরা বাজারে এই ছোলা এখন ৭০ থেকে ৭২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েকদিন আগেও ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মায়ের দোয়া স্টোরের কর্মচারী বাবলু বলেন, ২টাকা কমে চিনি এখন ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুরের ডাল ৫ টাকা কমে ৮৫ টাকা ও ভারতীয় মসুরের ডাল ৫৫ টাকা কেজিতে বেচাকেনা হচ্ছে।
কাপ্তান বাজারের জামশেদ স্টোরের কর্মকর্তা আবদুল গনি মিয়া বলেন, রোজা শুরুর আগে যেসব ছোলা, খেজুর, ডাল ও চিনি আনা হয়েছে তা এখনও বিক্রি করা হচ্ছে। রোজার শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব পণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এরপর চাহিদা কমতে থাকে। বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুদ থাকায় ছোলা, চিনি, খেজুর, ভোজ্য তেল ও ডালের দাম বাড়ার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে রমজান উপলক্ষে সিটি করপোরেশন থেকে গরু ও মহিষের মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা মানছেন না রাজধানীর অধিকাংশ মাংস ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে আগের মতই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন তারা। রমজান উপলক্ষে এ বছর সিটি করপোরেশন থেকে দেশি গরুর মাংস ৪৫০ টাকা, বিদেশি গরুর মাংস ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪২০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতিকেজি ৭২০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তবে মাংস ব্যবসায়ীরা রোজার শুরু থেকেই সিটি করপোরেশনের এ নির্ধারিত মূল্য তালিকা মানছেন না।
বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি করছেন ৪৫০ টাকায়। এছাড়া গরুর কলিজা বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা কেজি। আবার কেউ কেউ গরুর মাংস বিক্রি করেছেন ৪৮০ টাকায়। অথচ দোকানে গরুর মাংসের দাম ৪৫০ টাকা লেখা রয়েছে। প্রতিকেজি খাসি ৭৫০-৮০০ এবং প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। এ ছাড়া পাকিস্তানি ও ককটেল মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিজোড়া ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হয়েছে সিন্ডিকেট করে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজা সামনে রেখে আগেই আস্ত গরু ও খাসির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করা যাচ্ছে না। তবে গাবতলীর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ ও হাসিল ধার্যের হার কমানো হলে মাংসের দাম কমে আসবে।
রোজা শুরুর আগে থেকে চড়া মাছের বাজার। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের দেশি ও সামুদ্রিক মাছ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে মাছের দাম। প্রতিকেজি রুই মাছ ২৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। আকার ও সাইজভেদে প্রতিকেজি চিংড়ি ৬০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের একটি ইলিশ কিনতে ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ১২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা।

Saturday, May 19, 2018

ইফতার পণ্যের দাম বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ

রমজান মাসে সাধারণত ইফতারের তালিকায় থাকে খেজুর, পিয়াজু, বেগুনি, ছোলা, মুড়ি, হালিম, জিলাপি ও বুন্দিয়া। এছাড়াও থাকে বিভিন্ন ধরনের ফল, চিঁড়া ও মুড়ি।
কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের বাজার বেশ উত্তপ্ত। দাম বেড়েছে হু হু করে। গত একবছরে দাম বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ। গতবার যে মূল্য ছিল এবার সেগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে শতভাগ। তবে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে ইফতারির খণ্ডকালীন দোকানগুলোতে ইফতারির দাম হোটেল রেস্তরাঁর চেয়ে কম। অবশ্য এখানেও দাম আগের চেয়ে একটু বেশি। আবার দাম ঠিক থাকলেও আকারে ছোট হয়েছে গতবারের চেয়ে। দাম বেড়ে যাওয়ায় দোকানিদের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। এ নিয়ে বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ পণ্যেরই দাম বেড়ে গেছে। বাজার মনিটরিং ও পণ্যমূল্য তদারকির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজার টালমাটাল হচ্ছে বলে মনে করেন দোকানদাররা। তাদের মতে, স্বাভাবিক সময়ের বাজারের চেয়ে রমজান ঘিরে ক্ষেত্র বিশেষে ইফতার সামগ্রীর দাম ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া খেজুর, ফলসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে।
রমজান মাসে সাধারণত বেশির ভাগ এলাকাতেই ইফতারের সময় খেজুর মুখে দিয়ে রোজা ভাঙেন রোজাদাররা। সেই খেজুরের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাজারে ১০ কেজির খেজুরের কার্টনে ২০০ টাকা করে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। খেজুর বিভিন্ন ক্যাটাগরির আছে। সর্বনিম্ন ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কেজি রয়েছে। তবে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরের খেজুরই বেশি কিনছেন ক্রেতারা।
কাওরান বাজারের খেজুর বিক্রেতা রহিম বলেন, ফরিদা খেজুরের কেজি ২৬০ টাকা। সৌদি আরবের মরিয়ম খেজুর ৪০০ টাকা। বরই খেজুর ১৪০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন খেজুরের দাম বিভিন্ন রকম। একেক দোকানদার একেক রকম বিক্রি করেন। যার কাছ থেকে যেমন নেয়া যায়। খেজুর কিনতে আসেন আবেদ খান বলেন, খেজুর ছাড়া ইফতার করি না। কিন্তু বাজার যে গরম। এসবে সরকারের নজর দেয়া উচিত।
ফলের দামও বেড়েছে। ১৮ কেজির আপেলের কার্টনে বেড়েছে ৩০০ টাকা করে। ১৪ কেজি মাল্টার কার্টন আগে ছিল ১ হাজার ৫৫০ টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। আপেল ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। তবে বেদানা ও আঙ্গুর আগের দামেই আছে।
কাওরান বাজার ফল বিক্রেতা আতিক বলেন, আফ্রিকান আপেল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। নাশপাতি ফল ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। এছাড়া প্রায় সব ফলের দাম টুকটাক বেড়েছে।
কাওরান বাজারের কয়েকটি মুড়ি ও চিড়ার দোকান ঘুরে দেখা যায়, কেজি প্রতি মুড়ি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চিড়া বিক্রি হতে দেখা যায়, ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। তারা জানান, মুড়ি গত কয়েক দিনে ১০ টাকা কেজি দরে বেড়েছে। আর যে চিড়া ৬৮ টাকা করে ছিল সেই চিড়া এখন ৭৫ টাকা দরে কিনতে হয়েছে তাদের।
সরজমিন দেখা গেছে, ইফতারির দোকানগুলোয় এলাকা ভেদে বেগুনি, পিয়াজু, সমুচা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা পিস হিসেবে। অবশ্য এবার আইটেমগুলো আকারে কিছুটা ছোট হিসেবে দেখা গেছে। এছাড়া ডিমের চপ ১৫ থেকে ২০ টাকা, জালি কাবাব ২০ থেকে ২৫ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা, জিলাপি প্রতিকেজি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দইবড়া প্রতি কেজি ২৭৫ থেকে ৩০০ টাকা, হালিম ৫০ থেকে ৬০০, টানা পরোটা ৪০, কিমা পরোটা ৫০, চিকেন ললি ৬০-৭০, বিফ মিনি কাবাব ৫০-৬০, চিকেন সিংগার স্টিক ৪০, ছোলা প্রতিকেজি ২৫০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চিকেন স্টিক পিস ৭০ থেকে ৯০ টাকা, জালি কাবাব ২০ থেকে ৪৫ টাকা, বিফ স্টিক ৪০ থেকে ৬০ টাকা, হালিম (বাটির আকারভেদে) ৬০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাবারের মধ্যে খাসির কাবাব প্রতি কেজি ৮০০, গরুর কাবাবের কেজি ৬০০ টাকা। খাসির রানের রোস্ট প্রতি পিস ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি ছোট মুরগি রোস্ট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কবুতরের রোস্ট ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব আইটেম গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এবার।
বিক্রেতারা জানান, রমজানে ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর, পেয়াজ, বেগুন ও ভোজ্যতেলসহ অন্য পণ্যেও মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মূলত ইফতারির আইটেমগুলোর দাম বেড়েছে। এসব পণ্য আমরা যদি কম দামে কিনতে পারতাম তাহলে আমরাও কমে দিতে পারতাম। পণ্যভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তারা।
রাজধানীর অভিজাত শ্রেণির মানুষের ইফতারির বাজার হিসেবে খ্যাত বেইলি রোড। মন্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা, ব্যাংকার, বিভিন্ন সরকারি আমলা ও কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরাই মূলত এখানকার ক্রেতা। তবে সাধারণ মানুষ আসে। এখানে রয়েছে বিখ্যাত ফখরুদ্দিনের ইফতার। এছাড়া রয়েছে স্কাইলার্ক, গোল্ডেন ফুড, আমেরিকান বার্গার, ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, রেডকোর্ট, বুমার্স, মিস্টার বেকারস, কেএফসি, পিৎজা হাটসহ সব লোভনীয় সব ফাস্টফুডের দোকান। এসব বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলোয় ইফতার সামগ্রী গতবারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা। তারা জানান, মূলত সুন্দর পরিবেশ ও বাড়তি স্বাদের কারণে বেইলি রোডের ইফতারি কেনেন তারা।
বেইলি রোডে দোকান ভেদে রয়েছে দামের তারতম্য। এখানে দইবড়া প্রতিকেজি ২৭৫ থেকে ৩০০ টাকা, জিলাপি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, হালিম ২০০ থেকে ১০০০ টাকা, আলু চপ প্রতিপিস ৫-২০, বেগুনি ও পিয়াজু ১০-২০, ছোলা প্রতিকেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাছাই করে কেনার সময় নেই যাদের, তাদের জন্য রয়েছে ইফতার প্যাকেজ। ১২ পদের ইফতার প্যাকেজের দাম পড়বে ৩৫০ টাকা। রেস্তরাঁয় বসে দুই ধরনের সেট মেন্যু দিয়ে ইফতার করা যাবে। আম্রপালির জুস, শামি কাবাব, হালিম ও ফিরনিসহ ১৭ পদের সেট মেন্যুর দাম পড়বে ভ্যাট ছাড়া জনপ্রতি ৫৫০ টাকা। এসবের দাম বেড়েছে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ।

Thursday, May 17, 2018

রোজা এলেই সক্রিয় সিন্ডিকেট

রমজান এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। অন্যদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়েও শঙ্কায় থাকেন ক্রেতারা। এ মাসটি সামনে রেখে বিশেষ করে ছয়টি পণ্য টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠে ভোগ্যপণ্যের এই চক্রটি। এ ছাড়া বৃষ্টি ও বিভিন্ন মহলের চাঁদাবাজির কারণে পিয়াজ-চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে- সরকারের এমন হুঁশিয়ারির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
রমজানকে সামনে রেখে একচেটিয়া ব্যবসা করতে ছোলা, চিনি, পিয়াজ, ডাল, খেজুর ও ভোজ্য তেল পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করেছে ব্যবসায়ীরা। এরপর এসব পণ্য গুদামজাত করে বাজার অস্থির করছে এই সিন্ডিকেট। ইতিমধ্যেই রাজধানীর বাজারে রোজার আঁচ লেগেছে। সব পণ্যের দাম প্রায় ঊর্ধ্বমুখী।
ওদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এবার রমজানে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। চিনি, খেজুর, ডালসহ ভোগ্যপণ্য যা যা চাহিদা, তার চেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে। সেবার মনোভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার পরামর্শ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। এদিকে রমজানকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পিয়াজ আমদানি বেড়েছে। আমদানির সঙ্গে বেড়ে চলেছে পণ্যটির দামও। আমদানি পর্যায়ে যে দাম নেয়া হচ্ছে, রাজধানীতে এসে তা হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।
জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরে আমদানি পিয়াজ প্রকারভেদে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা। সে হিসেবে আমদানি মূল্য বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, সমপ্রতি বর্ষার কারণে ভারতের পিয়াজের বাজারে কিছুটা দাম বেড়েছে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছেন এবার মজুদ পর্যাপ্ত আছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তাহলে হঠাৎ করে চিনি, পিয়াজের দাম কেন বাড়ছে। এর মূল কারণ সিন্ডিকেট। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থির করছে। এদিকে প্রতি বছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের চেয়ে ভোক্তারাই বেশি দায়ী বলে মনে করেন বিক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রমজানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য কেনায় বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়। যার সুযোগ নেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। তাই ক্যাব সভাপতি বলছেন, রমজানে পণ্য কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের আরো সহনশীল হওয়া জরুরি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পিয়াজ বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি পিয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এদিকে টিসিবি’র তথ্য মতে, পিয়াজের দাম কমেছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, দেশি পিয়াজ প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এদিকে গত কিছুদিন আগে বাড়া চিনির এখনও বাড়তিতেই আছে। ৫ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। অথচ সারা বছর চিনি বিক্রি হয়েছে ৫২-৫৫ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবেবরাত ও রোজা সামনে রেখে এসব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। টিসিবি হিসাবে বর্তমানে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তথ্যমতে, রমজানে ভোজ্য তেলের চাহিদা থাকে ২.৫ লাখ টন, চিনি ৩ লাখ টন, ছোলা ৮০ হাজার টন, খেজুর ১৮ হাজার টন এবং পিয়াজ ৪ লাখ টন। এর বিপরীতে প্রতিটি পণ্যই কয়েকগুণ বেশি ইতিমধ্যে আমদানি করে মজুদ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গতবারের চেয়ে এবার মসুর ডালের দাম ২১.৪৩ শতাংশ, ছোলা ১৪.২৯ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৪৫.৫ শতাংশ, রসুন (দেশি) ৩৯ শতাংশ, চিনির দাম ১৬ শতাংশ কমেছে। তবে পিয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছিল তার থেকে এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে। পিয়াজের যে চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকে তা পূরণ হয় না। তাই ভারত থেকে পিয়াজ আনতে হয়। এতে সময় বেশি লাগলে পিয়াজ পচে যায়, নষ্ট হয়। বিশ্ববাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় রমজানে এবার এর দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।
ঢাকার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ হাজী মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, রোজায় কারসাজি না হলে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে রোজা এলেই মিল মালিকরা মিলগুলো সংস্কারের নামে চিনি সরবরাহ বন্ধ করে দেন। প্রতিবছর তাই হয়ে আসছে। সংস্কারের নামে যাতে মিলগুলো বন্ধ রাখা না হয় সে ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে মনিটরিং করা প্রয়োজন। প্রতিবছর মিল সংস্কারের নামে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানো হয়। আর এর খেসারত দিতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।