Tuesday, August 4, 2026

ট্রাম্প থেকে আল-সাইয়েদ: মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের ভোটের মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে গাজা যুদ্ধ

আল–জাজিরাঃ ইয়েমেনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী সামরা লোকমান ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই।

লোকমান বলেন, যুদ্ধপন্থী অবস্থান এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে ট্রাম্প মিশিগানের আরব-আমেরিকানদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তবে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা চলার সময় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে (২০২৪) ডেমোক্র্যাটদের আবারও ভোট দেওয়াটা তাঁদের কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয়নি।

আল-জাজিরাকে সামরা লোকমান বলেন, ‘গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হতো। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা নিয়ে আমাদের কোনো আফসোস নেই।’

লোকমান আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি বলেছিলাম, প্রয়োজনে ট্রাম্পকে আরও চার বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে আমি প্রস্তুত। আমরা জানতাম, আমাদের অনেক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান খারাপ হবে। তবু ডেমোক্রেটিক দলকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি ছিলাম।’

সামরা লোকমান একা নন।

ট্রাম্পের কট্টর ইসরায়েলপন্থী নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সত্ত্বেও আরব-আমেরিকানদের অনেকে মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করার কোনো সুযোগই ছিল না। তাঁদের বিশ্বাস, ডেমোক্রেটিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি করার সিদ্ধান্তই ছিল আরব-আমেরিকানদের জন্য সঠিক পদক্ষেপ।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ওই এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘নিজের বিবেকের কাছে সৎ থেকে আমি কাউকেই কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিতে বলতে পারতাম না।’

দাবাজেহ আরও বলেন, দুই খারাপ বিকল্পের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপটিকে বেছে নেওয়ার যুক্তি এখন আর আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারছে না।

জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন বিগত ডেমোক্রেটিক সরকার গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চাপ দেওয়ার দাবি উপেক্ষা করেছিল। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে গিয়েছিল তারা। এ কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে যায়।

তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।

এসব নীতির কারণে বহু আরব-আমেরিকান ভোটার দলটি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে আরব-আমেরিকানরা ডেমোক্রেটিক দলের নির্ভরযোগ্য ভোটার ছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার দল আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের নেতা ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের নীতি

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম ইমামকে মঞ্চে তুলে আনেন এবং আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রশংসা করেন।

নির্বাচনের আগে তিনি ডেট্রয়েটের উপকণ্ঠে ডিয়ারবর্ন এলাকাও সফর করেন। সেখানে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মিশিগানে জয়ী হন। এর অন্যতম কারণ ছিল ডিয়ারবর্ন এলাকার অনেক আরব ভোটার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের কেউ ট্রাম্পকে ভোট দেন, কেউ তৃতীয় কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন করেন, কেউ প্রেসিডেন্ট পদের ঘর ফাঁকা রেখে ব্যালট জমা দেন, আবার কেউ ভোটই দেননি।

ওই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে আল-জাজিরা। এতে দেখা যায়, পূর্ব ডিয়ারবর্নের আরব-অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পান ট্রাম্প, ২৯ শতাংশ ভোট যায় গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইনের বক্সে এবং ১৬ শতাংশ ভোট পান কমলা হ্যারিস।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা ও লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। দেশের ভেতরেও তিনি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেন। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আন্দোলনে নামা বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচিও বাতিল করেন। এতে ইয়েমেনের নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই কমিউনিটির অনেক নেতাই তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

বর্তমানে আরব-আমেরিকানরা ট্রাম্পকে নিয়ে কী ধরনের মনোভাব পোষণ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হুসেইন দাবাজেহ বলেন, ‘তাঁরা তাঁকে ঘৃণা করেন। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার আর কোনো উপায় নেই। আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের যাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমি এমন একজনকেও চিনি না, যিনি ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে খুশি।’

‘গণহত্যার ঘটনা আমাদের পরিণত করেছে’

অনেক আরব-আমেরিকানই জোর দিয়ে বলছেন, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে এই নয়, ট্রাম্পের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা বা সমর্থন ছিল।

ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহর বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির ভয়াবহতা আমাদের চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না। ২০১৭ সালে তাঁর নীতির প্রথম শিকার ছিলাম আমরাই।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

জাহর আরও বলেন, ‘ট্রাম্প কতটা ক্ষতি করতে পারেন, সে সম্পর্কে আমাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। কিন্তু গাজায় গণহত্যার ঘটনা আমাদের এতটা পরিণত করে তুলেছে যে শেষ পর্যন্ত আমরা রাজনীতিকদের “না” বলতে পেরেছি।’

মিশিগানে আবারও নির্বাচনের মৌসুম শুরু হওয়ায় আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।

মিশিগানে আবারও একটি নির্বাচনের মৌসুম শুরু হয়েছে। সে নির্বাচনে আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।

মিশিগানে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের একটা বড় অংশ ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষে একজোট হচ্ছেন। যদিও তিনি এর আগে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। অনেক ভোটার এখনো নিজেদের রাজনৈতিক বিকল্প খোলা রাখছেন।

ইয়েমেনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী সামরা লোকমান বলেন, তিনি মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক বলে পরিচিত সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে ভোট দেবেন।

সামরা লোকমানের মতে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা যদি প্রগতিশীলপ্রার্থীদের সমর্থন করেন, তাহলে আরব ভোটারদের কাছে ডেমোক্রেটিক দল আবারও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

মার্কিন রাজনীতিতে, বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে—এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন। তবে আরব-আমেরিকানদের কাছে এর উত্তর স্পষ্ট।

আরব-আমেরিকান কমিউনিটির নেতারা বলছেন, যখন তাঁদের স্বজনেরা নিহত হচ্ছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের জন্মভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ নীতির প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই গৌণ হয়ে পড়ে।

সামরা লোকমান বলেন, ‘গাজা, ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়গুলো এখন সবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আর আমার কমিউনিটির জন্য এটি এখন একটি অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।’

লোকমান আরও বলেন, ‘আপনি রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট যা-ই হোন না কেন, যদি আপনি আইপ্যাকের বিরোধিতা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করেন, তাহলে আপনি যে দলেই থাকুন না কেন, আমাদের ভোট পাবেন।’

সামরা লোকমান এখানে আইপ্যাক বলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সংক্ষেপে আইপ্যাকের কথা বলেছেন।

ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহরও একই ধরনের কথা বলেছেন।

জাহর বলেন, ‘অনেকে চান আমরা যেন একটি মাত্র ইস্যুকে ভিত্তি করে ভোট না দিই। অর্থাৎ তাঁরা চান, শুধু ট্রাম্প খারাপ হওয়ার কারণে আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি উপেক্ষা করি, এর জন্য ক্ষতির শিকার হই, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মরতে দেখি, আর সবকিছু মেনে নিই। কিন্তু আমরা বলেছি, “না”। গাজার শিশুদের রক্তের মূল্য আছে।’

জাহর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরব-আমেরিকানরা একা নন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এবার প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থী বহু জনপ্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন।

আল-জাজিরাকে জাহর বলেন, ‘এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে কেউ যদি বলে, “হাসপাতালে বোমা হামলা বন্ধ করুন”, সবাই বুঝে যায় সে ইসরায়েলের কথাই বলছে। এটা আমাদের কারণে হয়নি; এটা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে হয়েছে।’

জাহর আরও বলেন, ‘মানুষ এখন সত্যটা বুঝতে শুরু করেছে। যখন আপনি সত্য জানতে পারেন, তখন বুঝতে পারেন, এত দিন আপনাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আর তখন ক্ষোভ জন্মায়। এই ন্যায়সংগত ক্ষোভই অনেক মানুষকে এভাবে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।’

রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ বলেন, অন্য সব মার্কিনের মতোই আরব-আমেরিকান ভোটারদের কাছেও অর্থনীতি, জীবনযাত্রার খরচ এবং অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েল-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তারা উপেক্ষা করতে পারেন না।

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ

২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা গাজা-সংক্রান্ত নীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে আরব ও মুসলিম ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিক আবারও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এই কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচার শুরু করেছেন।

নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প কংগ্রেস নির্বাচনের জন্য ফ্লোরিডার রাজনীতিক র‍্যান্ডি ফাইনকে সমর্থন দেন। মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ফাইনের। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘সব মুসলমানকে ধ্বংস করে দেওয়ার’ আহ্বান জানান।

এদিকে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নররা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

মিশিগানের গভর্নর পদপ্রার্থী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জন জেমস সিএআইআরকে কালো তালিকাভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন।

সামরা লোকমান বলেন, ওই ঘোষণা দেওয়ার আগে জন জেমস কমিউনিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং ডিয়ারবর্নের ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সামরা লোকমান আরও বলেন, রিপাবলিকান পার্টির সামনে তখন রাজনৈতিক সমীকরণকে স্থায়ীভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার বড় একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ হারিয়েছে। সত্যিই তারা একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নোভিতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর নির্বাচনী সমাবেশে মঞ্চে উঠে তাঁকে সমর্থন জানানো স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নোভিতে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর নির্বাচনী সমাবেশে মঞ্চে উঠে তাঁকে সমর্থন জানানো স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ

ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের অত্যন্ত নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র। তাদের মতে, এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)। দুটি সূত্রের দাবি, এই দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুত ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কতটা কমে গেছে, সে তথ্য আগে প্রকাশ্যে আসেনি। দূর থেকে নিরাপদ অবস্থানে থেকে নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতার কারণে এই অস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যার মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, পিআরএসএম নতুন প্রজন্মের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, যা ধীরে ধীরে এটিএসিএমএসের জায়গা নিচ্ছে এবং এর পাল্লাও বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি এবং চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে এসব অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো কিছু জানায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। সে সময় তিনি যুদ্ধ স্বল্প সময়েই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন।

কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায়, বিষয়টি জানা তিনটি সূত্রের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা সীমিত হতে পারে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের হাতে থাকা প্রায় সব স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেললেও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক মজুত থেকে নতুন সরবরাহ পেয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সব সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মজুতসংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনের তুলনায়ও অনেক বেশি

ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে কারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতাও রেকর্ড হারে বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা একমত যে, আর্টিলারি শেল ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বর্তমানে রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। তবে তাদের সতর্কবার্তা, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর জন্য এই উৎপাদন যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এটিএসিএমএস, পিআরএসএম এবং টিএইচএএডি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা লকহিড মার্টিন ট্রাম্পের বক্তব্য বা অস্ত্রের মজুত নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর নির্মাতা রেথিয়নও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রয়টার্সের অনুরোধে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্ট যেখানেই ও যখনই প্রয়োজন মনে করবেন, অভিযান পরিচালনার জন্য যা দরকার সবই আমাদের রয়েছে। আমরা একাধিক কমব্যাট কমান্ড এলাকায় সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং একই সঙ্গে দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় অস্ত্রভাণ্ডারও ধরে রেখেছি।

সূত্রগুলোর দাবি, গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে একাধিক বৈঠকে এই মজুতসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে, অস্ত্রের মজুত এতটা কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্র আর কতদিন ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে পারবে, কারণ এতে বিশ্বের অন্য কোথাও সংকট দেখা দিলে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

একটি সূত্রের মতে, এটিএসিএমএস ও পিআরএসএমের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত, যাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় পাইলটচালিত যুদ্ধবিমান ব্যবহার না করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর বেশি নির্ভর করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা কোনো প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে এই অস্ত্রগুলো অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। মার্চে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলায়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, পিআরএসএম তুলনামূলক নতুন হওয়ায় শুরু থেকেই এর মজুত সীমিত ছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিপুলসংখ্যক পিআরএসএমের অর্ডার দিয়েছে। একই সঙ্গে এটিএসিএমএস ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নতুন পিআরএসএম উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।

দুটি সূত্রের দাবি, সামরিক কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আসছিলেন যে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক উপদেষ্টাদের এমন সতর্কবার্তার কারণেই ট্রাম্প ইরানে আরেকটি বড় ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণেই ট্রাম্প নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত সিএসআইএসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে টিএইচএএডি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুত যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। প্যাট্রিয়ট ও টিএইচএএডি; দুটি ব্যবস্থাই আগত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম।

রয়টার্স এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে দুটি সূত্র জানিয়েছে, সিএসআইএসের দেওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উপাত্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একটি সূত্র আরও দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেকের কিছু কম ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত যুদ্ধজাহাজ থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

টমাহক যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতা। ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র পাইলটের ঝুঁকি ছাড়াই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে আরটিএক্স জানিয়েছে, পেন্টাগনের সঙ্গে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বহু-বছর মেয়াদি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে তারা। একই সঙ্গে অন্যান্য গোলাবারুদের উৎপাদনও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স 

হিমার্স লঞ্চার থেকে একটি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
হিমার্স লঞ্চার থেকে একটি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে ইরানের নতুন কৌশল

রয়টার্সের বিশ্লেষণঃ যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিকভাবে পরাজিত করার বদলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যপথ, সমুদ্রপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল ব্যবহার করছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তাদের ও বিশ্লেষকদের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু না করেই ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়িয়ে সংঘাতকে বিস্তৃত করার কৌশল অনুসরণ করছে তেহরান। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বোঝানো যে সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখার খরচ ইরানের দাবি মেনে নেওয়ার চেয়েও বেশি।

তেহরানের বার্তা স্পষ্ট, ওয়াশিংটন যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বড় ধরনের ভূমিকা স্বীকার না করে, তাহলে সংঘাত উপসাগরের বাইরে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় ইরান।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেন, শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্রুত উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে ইরান। এজন্য তারা প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন চাপের উপায় সামনে আনছে কখনো নতুন ভৌগোলিক এলাকা, কখনো নতুন ধরনের অস্ত্র, আবার কখনো নতুন লক্ষ্যবস্তু।

তিনি বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ক্ষতি করা নয়। তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সক্ষমতা।

বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ একসময় যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, সেখানে চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখানোর পর ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথই তাদের আওতার বাইরে নয়।

লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য রক্ষার ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সহনশীলতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

একজন উপসাগরীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারদের বিশ্বাস, তারা আরও বেশি কিছু আদায় করতে সক্ষম।

তাদের ধারণা, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের গভীরে জড়াতে চাইবেন না।

ওই সূত্র বলেন, ইরানিরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে এবং চাপ বাড়িয়ে তারা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারবে। ট্রাম্প মনে করেন, তিনি ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করে আলোচনার টেবিলে আনবেন। কিন্তু ইরান নতি স্বীকার করবে না।

এই হিসাব-নিকাশই তেহরানের আলোচনার কৌশলের ভিত্তি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তির আশায় ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, তেহরানের নেতৃত্বের মূল্যায়ন হলো, অতীতে নমনীয়তা দেখানোর ফল হিসেবে তারা কেবল আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে। তাই অর্থবহ আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।

ওই সূত্রের দাবি, তেহরানের বিশ্বাস ট্রাম্প ছাড়কে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন এবং কেবল চাপের ভাষাই বোঝেন।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল সিং বলেন, ইরান মনে করছে এখনো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন কতদূর পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান এখন নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌম কর্তৃত্ব এবং বেছে বেছে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইয়ার বলেন, তেহরানের কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিতে এবং সামরিক হামলা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তারা চায় না যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পরিস্থিতির গতি নির্ধারণ করুক।

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, ওমান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে হরমুজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছে। এতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ব্যবহার ফি আদায়ের বিষয়ও রয়েছে।

কিন্তু তেহরান প্রণালির প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জাহাজ থেকে সেবা বাবদ ফি আদায়ের ক্ষমতা চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করে বলছে, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে হবে।

ইরানের এই কৌশলের একটি দৃশ্যমান প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজের বাইরে হুমকি ছড়িয়ে পড়ার পর আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের ওপর নতুন চাপ বাড়ানোর বদলে বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সামুদ্রিক জোটকে এই পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। উপসাগরীয় সূত্রগুলোর মতে, এই জোটের মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমুদ্রপথ রক্ষা করা; ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো নয়।

মাইকেল নাইটস এ উদ্যোগকে লোহিত সাগরে ইউরোপের ‘অ্যাসপিডিস’ মিশনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ওই মিশনের উদ্দেশ্যও ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করা, সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়া নয়।

তেহরানের দৃষ্টিতে এটিই তাদের কৌশলের একটি সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দিতে না পারলেও বিভিন্ন সরকার ও নৌবাহিনীকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করে ইরান তাদের ওপর ব্যয় চাপিয়ে দিতে পারছে।

হরমুজ, বাব আল-মান্দেব বা অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে হুমকি তৈরি হওয়ার অর্থ, বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে আরও বেশি সম্পদ ব্যয় করতে হবে।

ইরানের নেতারা বিশ্বাস করেন, তারা অর্থনৈতিক চাপ যতদিন সহ্য করতে পারবেন, তার চেয়ে কম সময় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বারবার বিঘ্ন ঘটার পরিস্থিতি মেনে নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট। একই সঙ্গে এই কৌশলের কূটনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে।

প্রয়োজনে সংকটের পরিধি বাড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার শর্ত নিজেদের পক্ষে নির্ধারণ করতে চায় তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপদেষ্টা এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক রে তাকেয়েহ বলেন, যদি কোনো আলোচনা হয়, তাহলে তার শর্ত নির্ধারণ করতে চায় ইরান। উভয় পক্ষই এখন উত্তেজনার জবাবে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পিছু হটার ইঙ্গিত দেয়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ধৈর্য ও অবস্থান পরীক্ষা করতে থাকায়, আলোচনায় সুবিধা আদায়ের জন্য তৈরি এই কৌশল শেষ পর্যন্ত এমন এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা কোনো পক্ষেরই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। 

তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার। ছবি : সংগৃহীত
তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার। ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের নতুন উদ্বেগ, দেশ ছাড়ছে লাখো মানুষ

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের কারণে ইসরাইল থেকে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে।

২০২৫ সাল পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক ইসরাইলি নাগরিক দেশ ছেড়েছে বলে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরাইলি নাগরিক অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রবণতা ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য ইসরাইল ছেড়েছেন ৮৬ হাজার ৫০৯ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৪৯৯। ২০২৫ সালে দেশ ছেড়েছে আরো ৯০ হাজার ৯২২ জন।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫—এই তিন বছরে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরাইল ছেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ। অর্থাৎ, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছে।

তবে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইল ছাড়ার বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ৬০ হাজার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন দেশ ছেড়েছিল। সাম্প্রতিক তিন বছরের তুলনায় সেই সংখ্যাও কম।

ইয়েদিওথ আহরোনোথের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক, পিএইচডিধারী, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের ইসরাইল ছাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পত্রিকাটি বলেছে, ইসরাইলের অর্থনীতি বড় অংশে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি খাত ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পে দক্ষ কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দক্ষ জনশক্তির দেশত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এ গবেষণা এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ চলছে। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানেও ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৬৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি।

ইসরাইলের নতুন উদ্বেগ, দেশ ছাড়ছে লাখো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধের সেই গল্প এবার দেখা যাবে ঘরে বসেই

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ দুই বছরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে ১৬ তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও। এ ঘটনায় পাঁচজন আত্মহত্যা করে। পুরো ঘটনাই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভিডিওগুলো। এর পেছনে কি বড় একটি চক্র রয়েছে? কী চায় তারা? এমন গল্প নিয়ে মিঠু খানের সিনেমা ‘নীলচক্র’ চলতি বছরের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমাটি এসেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে। আজ বেলা তিনটা থেকে আইস্ক্রিনে স্ট্রিমিং হচ্ছে ‘নীলচক্র’।

এর আগে ‘নীলচক্র’ সিনেমার একটি টিজার প্রকাশ করে আইস্ক্রিন। প্রায় পৌনে এক মিনিটের টিজারটি প্রকাশ করে আইস্ক্রিন লিখেছিল, সাইবার ক্রাইমের আড়ালে লুকানো প্রতারণা ও অন্ধকার সত্য—এক তদন্তকারীর হাত ধরে রহস্য উন্মোচনের সিনেমা ‘নীলচক্র’।

‘নীলচক্র’ শব্দের ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে এক নীল বিষণ্নতা, এক অজানা নরক। পরিচালক মিঠু খান ওটিটি মুক্তি নিয়ে বলেন, ‘আমরা গল্প বলেছি রহস্য আর অন্ধকারকে সঙ্গী করে। একদিকে সাসপেন্স, অন্যদিকে বাস্তব সমাজে ঘটে চলা এক নিষিদ্ধ অথচ অস্বীকারযোগ্য নয় এমন এক বিপজ্জনক বাস্তবতা। বাংলা সিনেমায় এমন বিষয়বস্তু নিয়ে এর আগে কাজ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।’

মিঠু আরও বলেন, ‘ব্লু ফিল্ম র‍্যাকেট, যেটা আমাদের সমাজে আড়ালে ঘটে চলা এক অপরাধজগৎ, তার ছায়া পড়েছে এবার বড় পর্দায়। তুলনামূলক নতুন এই প্লট একদিকে যেমন সাহসী, তেমনি সময়োপযোগীও।’ ‘নীলচক্র’ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তী। তাঁদের সঙ্গে আরও আছেন ফজলুর রহমান বাবু, শিরীন আলম, খালেদা আক্তার কল্পনা, শাহেদ আলী, প্রিয়ন্তী উর্বী, মাসুম রেজওয়ান প্রমুখ।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-06-13%2Fgoq6rb1l%2FNilchokro.jpg?rect=194%2C0%2C1152%2C768&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
‘নীলচক্র’ সিনেমার গানের দৃশ্যে মন্দিরা ও শুভ। নির্মাতার সৌজন্যে

জয়ার সিনেমা, ওটিটিতে আরও যা দেখবেন

প্রকাশ ১৫ নভেম্বর ২০২৫ঃ প্রতি সপ্তাহে ওটিটিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন কনটেন্ট। চলতি সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া নতুন ওয়েব সিরিজ, সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র ও রিয়েলিটি শোর খবর নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন।

‘নীলচক্র’
ধরন: সিনেমা
স্ট্রিমিং: আইস্ক্রিন
দিনক্ষণ: চলমান
দুই বছরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে ১৬ তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও। এ ঘটনায় পাঁচজন আত্মহত্যা করে। পুরো ঘটনাই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভিডিওগুলো।

এর পেছনে কি বড় একটি চক্র রয়েছে? কী চায় তারা? এমন গল্প নিয়ে মিঠু খানের সিনেমাটি চলতি বছরের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমাটি এবার এসেছে ওটিটি। এতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, মন্দিরা চক্রবর্তী, ফজলুর রহমান বাবু, প্রিয়ন্তী উর্বী।

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’
ধরন: সিনেমা
স্ট্রিমিং: হইচই
দিনক্ষণ: চলমান
পশ্চিমবঙ্গে গত আগস্টে মুক্তি পায় ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি সিনেমাটি এবার ওটিটিতে এসেছে।

এতে প্রধান দুই চরিত্র কুসুম ও শশী হয়েছেন যথাক্রমে জয়া আহসান ও আবীর চট্টোপাধ্যায়। অন্যান্য ভূমিকায় আছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সুমন মুখোপাধ্যায়।

‘দিল্লি ক্রাইম ৩’
ধরন: সিরিজ
স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স
দিনক্ষণ: চলমান
২০১৯ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর আলোচনার জন্ম দেয় ‘দিল্লি ক্রাইম’। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ক্রাইম ড্রামা সিরিজটি জিতে নেয় আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডস। দ্বিতীয় মৌসুমও পায় দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা।

এবার এসেছে তৃতীয় কিস্তি। মানব পাচার, নিখোঁজ মানুষ আর এক অপরাধ সাম্রাজ্যকে ঘিরে এবারের গল্প। একের পর এক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সূত্র ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক মানব পাচার চক্রের হদিস খুঁজতে মাঠে নামেন ডিআইজি ভার্তিকা চতুর্বেদী (শেফালি শাহ)। সব সূত্র একটা নামের দিকেই নির্দেশ করে—‘বড়ি দিদি’ (হুমা কুরেশি)। যিনি সব সময় পুলিশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। তৈরি হয় দুই নারীর মধ্যে মানসিক ও কৌশলগত এক রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষ। গল্প এবার দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ দেশটির নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে।

‘নিশানচি’
ধরন: সিনেমা
স্ট্রিমিং: অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও
দিনক্ষণ: চলমান
কানপুরের দুই যমজ ভাই ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে, কিন্তু অনেক কিছুই পরিকল্পনামতো হয় না। অপরাধ, লোভ আর ভালোবাসা টানাপোড়েনে এগিয়ে যায় গল্প। অনুরাগ কাশ্যপের নতুন সিনেমাটি তৈরি হয়েছে ২০০৬ সালের প্রেক্ষাপটে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঐশ্বর্য ঠাকরে, বেদিকা পিন্টো, কুমুদ মিশ্র, মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব।

‘কাম সি মি ইন দ্য গুড নাইট’
ধরন: তথ্যচিত্র
স্ট্রিমিং: অ্যাপল টিভি প্লাস
দিনক্ষণ: চলমান
মার্কিন কবি ও আন্দোলনকর্মী অ্যানড্রেয়া গিবসনকে গিয়ে তথ্যচিত্রটি বানিয়েছেন রায়ান হোয়াইট। চলতি বছর সানডান্স উৎসবে প্রদর্শনের পর পুরস্কারও জেতে এটি। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর গিবসনের লড়াই, যেখানে ভেঙে না পড়ে তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন।

‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’
ধরন: সিনেমা
স্ট্রিমিং: জিও হটস্টার
দিনক্ষণ: চলমান
১৯৯৩ সালে জুরাসিক পার্ক মুক্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা। এযাবৎ পর্দায় এসেছে এই সিরিজের সাতটি সিনেমা। সব কটিই দর্শকমহলে কমবেশি আলোড়ন তুলেছে। গত জুলাইয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সপ্তম কিস্তি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’। গ্যারেথ এডওয়ার্ডসের সিনেমাটি ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ডোমিনিয়ন’-এর স্বতন্ত্র সিকুয়েল। ছবির প্রধান চরিত্রে আছেন স্কারলেট জোহানসন। তাঁর সঙ্গে আরও আছেন মাহেরশালা আলী ও জোনাথন বেইলি।

‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি