Sunday, July 7, 2019

ধর্ষণের শিকার হয়েছিল আত্মহননকারী সেই বর্ষা

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আত্মহননকারী স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষা ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ডাক্তারি পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পরীক্ষায় বর্ষাকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। রামেক থেকে এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ তা আদালতে দাখিল করেছে।
গত ১৬ মে সন্ধ্যায় মোহনপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে বাকশিমইল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষার লাশ উদ্ধার করা হয়। বর্ষা নিজ রুমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার আগে একটি চিরকুটে যৌন নিপীড়নের বিচার না পাওয়ার কথা লিখে যায় সে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ হোসেন বলেন, ‘রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মিশু রাণী সাহা স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদন (ফরেনসিক রিপোর্ট) পুলিশকে দেওয়া হয় ২৫ জুন। ২৭ জুন ওই প্রতিবেদন রাজশাহীর আমলি আদালতে (মোহানপুর) দাখিল করে পুলিশ। প্রতিবেদনে চিকিৎসক তার মন্তব্যের একাংশে বলেছেন, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষাকে অপহরণ ও আত্মহত্যার ঘটনায় দুইটি মামলা হয়। কিন্তু কোনোটিতেই ধর্ষণের অভিযোগ নেই। শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে আসায় অভিযোগপত্র দাখিলের সময় মামলায় ধর্ষণের নতুন ধারা যুক্ত হবে।’
বর্ষা মোহনপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে। বর্ষার আত্মহননের পর তার পরিবার অভিযোগ করে, সোনিয়া নামের এক মেয়ের সহযোগিতায় প্রতিবেশী মুকুল বর্ষাকে অপহরণ করে। এরপর শারীরিক নির্যাতনের পর অচেতন অবস্থায় ফেলে যায়। ওই ঘটনার পর বর্ষাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তার শারীরিক পরীক্ষা হয়।
বর্ষাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করতে গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করেন মোহনপুর থানার তৎকালীন ওসি আবুল হোসেন। ওই সময় বর্ষার বাবাকে হুমকিও দেন ওসি। এরপর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে সত্যতা পেয়ে ঘটনার চারদিন পর থানায় মামলা করতে সক্ষম হন বর্ষার বাবা। কিন্তু এরপরও ওসি আবুল হোসেন এজাহার থেকে ধর্ষণের অভিযোগ বাদ দিয়ে শুধু অপহরণের অভিযোগ রাখেন। বর্ষার এই অপহরণ ও আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে ওসি আবুল হোসেনকে প্রত্যাহারও করা হয়।
এদিকে, এই ঘটনায় মুকুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু প্রতিবেশী আসামির পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছনা ও অপবাদ সইতে না পেরে ১৬ মে একটি চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা।
আত্মহত্যার আগে চিরকুটে যা লিখেছিল বর্ষা
‘প্রিয় মা-বাবা
প্রথমেই তোমাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি তোমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, অনেক আদর অনেক ভালোবাসা। কিন্তু একটা মেয়ের কাছে তার মান-সম্মানটাই সবচেয়ে বড়।
আমি আমার লজ্জার কথা সবাইকে বলতে বলতে নিজের কাছে অনেক ছোট হয়ে গেছি।
প্রতিদিন পরপুরুষের কাছে এসব বলতে বলতে। আমি আর পারছি না। অপরাধীকে শাস্তি দিলেই তো আমার মান-সম্মান ফেরত পাবো না। আমাকে ক্ষমা করো।’
বর্ষার পরিবার ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের আবদুল মান্নান চাঁদের মেয়ে বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সুমাইয়া আক্তার বর্ষা। সহপাঠী সোনিয়ার সঙ্গে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া-আসার পথে এলাকার কাজলের ছেলে মুকুল (১৮) তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এতে রাজি না হওয়ায় সে বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট শেষে বর্ষাকে নিয়ে খানপুর বাগবাজার এলাকায় যায় বান্ধবী সোনিয়া। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে বর্ষা। তখন লোকজন তাকে উদ্ধার করে। তবে মুকুল লোকজনের কাছ থেকে বর্ষাকে শহরে নিয়ে যেতে চায়। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন বর্ষাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে খানপুর বাগবাজার এলাকায় কেন বা কীভাবে বর্ষা অচেতন হয় তা জানা যায়নি।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ২৪ এপ্রিল মুকুলকে আটক করে। তবে ওইদিন রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই দিন আটক করা হয় মুকুলের সহযোগী শিবপুর গ্রামের শফিকের ছেলে নাঈমকে। তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিচার না পেয়ে ও থানায় মামলা করতে না পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা। সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ। বর্ষাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করায় অভিযুক্ত মুকুল, সোনিয়া ও নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (১৭ মে) বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে করাগারে পাঠানো হয়।
বর্ষার বাবা আবদুল মান্নান জানান, তার মেয়েকে সোনিয়ার মাধ্যমে অপহরণ করে শহরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে মুকুল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। আপসের কথা বলে আসামিদের আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে। এতেই ক্ষোভে-অভিমানে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বর্ষাকে আজ মরতে হতো না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেয়েটি অসুস্থ থাকায় তাকে আমি নিজেই রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম আগে সে সুস্থ হোক পরে মামলার বিষয় দেখা যাবে।’
ওসি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মামলার পর তিন জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্ষার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বোঝা যাবে বর্ষা ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা। আপাতত আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই তিন জনের নামে মামলা হয়েছে।’
>>>by দুলাল আব্দুল্লাহ

রুবেলের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেক তরুণী by রুদ্র মিজান

গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, উন্নয়ন কর্মকর্তা এরকম নানা পরিচয়ে পরিচিত তিনি। শুধু তাই নয়, দক্ষ অভিনেতার মতোই বিভিন্ন চরিত্রের গভীরে ঢুকে যান। বুঝার উপায় থাকে না পরিচয়টি মিথ্যা। এভাবেই মিথ্যা পরিচয় দিয়ে একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছেন তিনি। বিয়েও করেছেন। চুরমার করে দিয়েছেন সম্ভাবনাময় অনেক জীবন। এমন একজন প্লে বয়ের নাম শেখ রুবেল। অগণিত মেয়ের প্রেম- ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।
মিথ্যা পরিচয়ে কেড়ে নিয়েছেন সর্বস্ব। অত্যন্ত কৌশলে এই অপকর্মটি করতেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামে-বেনামে অনেক আইডি তার। এমনকি মেয়ে সেজেও অনেক আইডি চালাতেন তিনি। সর্বশেষ ধরা খেয়েছেন মেডিক্যালে কর্মরত এক তরুণীর কাছে। নির্যাতিতা ওই তরুণীর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন শেখ রুবেল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ব্যক্তি জীবনে অসুখি থাকার কারণেই একের পর এক মেয়েদের টার্গেট করে ভালোবাসার অভিনয় করতেন তিনি। বন্ধুতা দিয়ে শুরু করে সঙ্গী করতেন বিছানা পর্যন্ত। এসব দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
শেখ রুবেলের প্রতারণার শিকার এক তরুণী জানান, গত বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারিতে তার ফেসবুক আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান রুবেল। রিকোয়েস্ট কনফার্ম করার পরই ইনবক্সে হানা দিতে থাকেন তিনি। নিজেকে বিশেষ একটি বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তরুণীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। কারণে-অকারণে কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কি করছেন এসব প্রশ্ন করতে থাকেন তরুণীকে। বিরক্ত হয়েই মাঝে-মধ্যে রিপ্লে দিতেন তরুণী। এরমধ্যে ইউনিফর্ম পড়া বেশ কয়েক ছবি পাঠান তরুণীকে। এভাবে চলে বেশ ক’দিন। দু’জনের মধ্যে একটা বন্ধুতা গড়ে উঠে।
দিনে-রাতে যখন তখন চ্যাট হতো তাদের। এরমধ্যেই ফোন নম্বরও আদান প্রদান হয়। কথা হয় ফোনে। মাঝে-মধ্যে ভিডিও কলেও কথা হতো। কথা হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। গভীর রাতে শুরু হলে শেষ হতো ভোরের আলোয়। ততদিনে বন্ধুতা থেকে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। দেখা হয় দুজনের টঙ্গীতে। দিনভর ঘুরে বেড়ান। একসঙ্গে খাবার খান। সেদিন চুটিয়ে প্রেম করেন তারা।
এরমধ্যেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রস্তাব দেন রুবেল নিজেই। রুবেলের কথামতো গত বছরের ১৩ই এপ্রিল বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে যান গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট বাজারে। সেখান থেকে গাড়িতে তরুণীকে টঙ্গিতে একটি কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করেন রুবেল। শুরু হয় নতুন সংসার। দু’চোখে তখন রঙিন স্বপ্ন। প্রজাপতির মতো উঁড়ে বেড়াচ্ছিলো তরুণীর মন। কারণে-অকারণেই দুজনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি, ভিডিও চিত্র ধারণ করতেন রুবেল। এসবই যেন সুখের অংশ- মনে করতেন তরুণী।
কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন সয়নি। বুঝতে পারেন তার স্বামী শেখ রুবেল কোনো বাহিনীতে চাকরি করেন না। মূলত গাজীপুরের একটি পোষাক কারখানায় চাকরি করেন। বুঝতে পারেন ভুল পথে পা দিয়েছেন তিনি। নিরবে কান্না করেন। এদিকে রুবেলের প্রতি পদক্ষেপেই তখন সন্দেহ বাড়তে থাকে তার। রুবেলের মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে হতভম্ভ হয়ে যান। অসংখ্য নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ চ্যাট। ছবি।
তরুণী জানান, অনেক নারীর সঙ্গেই তার প্রেমের সম্পর্ক। নামে-বেনামে আইডি থেকে চ্যাট করেন তাদের সঙ্গে। ওই তরুণীর ধারণা শুরু থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক নারীর সান্নিধ্য পেয়েছেন রুবেল। এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য প্রমাণও পেয়েছেন তিনি। তখন থেকেই কলহ সৃষ্টি হয় দুজনের মধ্যে। গত বছরের নভেম্বরে ঘটে আরেক ঘটনা। কর্মক্ষেত্রে পরিচয় হয় স্বামী রুবেলের এক ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে। তখনই কঠিন সত্যটি ফাঁস হয়ে যায়। জানতে পারেন, তার আগেও তিনটি বিয়ে করেছেন রুবেল। ১০-১২ বছর বয়সের দুই বাচ্চাও আছে তার। জানার সঙ্গে সঙ্গে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তারপর কাটে আরও কিছু দিন। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন যা হওয়ার হয়েছে রুবেলকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে বাঁচতে হবে। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি রুবেলকে ডিভোর্স দেন তিনি। ডিভোর্সের পর ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে অন্তত তিন-চারটি আইডি থেকে শুরু হয় অশ্লীল প্রচারণা। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধারণ করা ছবি, ভিডিও চিত্র ওই তরুণী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠাতে থাকেন। একের পর এক ঘটতে থাকে ঘটনাগুলো। বাধ্য হয়েই ১লা জুন ঢাকা মেট্টোপলিটনের শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন ওই তরুণী। ৪ঠা জুন সিটিটিসি’র সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন শেখ রুবেলকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানান, প্রেম করেছেন অনেক নারীর সঙ্গে।
এরমধ্যে বিয়ে করেছেন চার জনকে। তিন জনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। মিথ্যা পরিচয়ে প্রেম, বিয়ে করার পর এর আগেও জেল খেটেছেন তিনি। ২০১৬ সালের কথা। গোপালগঞ্জের এক তরুণীকে ফেসবুকে একই কায়দায় আকৃষ্ট করে প্রেম ও বিয়ে করেন। তারপর তরুণী যখন সত্য জানতে পারেন রুবেলকে ডিভোর্স দেন। ঠিক তখনই তার সঙ্গে ধারণকৃত ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেন রুবেল। এ নিয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হলে জেল খাটেন তিনি। জিজ্ঞাসবাদে রুবেল জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলেও দুজনই আলাদা থাকেন। এই সংসারে দু’সন্তান আছে তার। এসব বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজমুল নিশাত বলেন, রুবেল মূলত প্লে বয়। একের পর এক নারীদের সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে প্রেমের নামে শারীরিক সম্পর্ক করা তার স্বভাব। ফেসবুকে নামে-বেনামে তার বিভিন্ন আইডি রয়েছে। বিভিন্ন পোশাকের ছবি এডিট করে এতে নিজের মুখ বসিয়ে দেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর দোষ স্বীকার করে গত ২৮শে জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন রুবেল। তার কাছ থেকে ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার খারুয়া বড়াইল গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের পুত্র শেখ রুবেল।

শিশু সায়মা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

৭ বছর বয়সী সামিয়া আফরিন সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে হারুনর রশীদ। এরপর আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় সায়মাকে। সেখানে নবনির্মিত নবম তলার ফ্ল্যাটে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে। ধর্ষণের পর নিস্তেজ দেহ পড়ে থাকে। মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি দিয়ে টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায় হারুন।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামের স্কুলছাত্রী ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় তিনি আরো বলেন, এ ধরণের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক। মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর যখন ভাবে এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না। তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়।
এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটিয়েছে ঘাতক হারুন।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন মাকে বলে শিশু সায়মা আট তলায় যায়। সেখানে ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলা করতে। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত পাশবিকভাবে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নাঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে পালিয়ে যায় হারুন। হারুন পারভেজের খালাতো ভাই। পারভেজের বাসায় দুই মাস ধরে থেকে তার রঙের দোকানে কাজ করে আসছিল।
আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জেরে সোনারগাঁও থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আব্দুল বাতেন আরও বলেন, হারুনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজই আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিলেন না তার পরিবার। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভবনটির নয়তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মার মৃত দেহ খুঁজে পান তারা। সায়মার গলা রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখ ছিলো রক্তাক্ত। এরপর রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ভবনের ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত সে।
আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই- সায়মার মা
নির্মম। বর্বর। নিষ্ঠুর। অমানবিক। অমানষিক। কোন শব্দ দিয়েই যেন এই ঘটনার ধিক্কার জানানো সম্ভব নয়। ৭ বয়সী মেয়ে সামিয়া আফরিন সায়মা। এই শিশুটি আর নেই।
নির্মমভাবে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। মৃতদেহে মেলে রক্তের দাগ। ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় মুখ চেপে ধরে ধর্ষক হারুনর রশীদ। এরপর গলায় রশি পেচিয়ে টেনে নিয়ে যায় সায়মাকে।
সন্তান হারানোর কষ্টে কাতর মা সানজিদা আক্তার। তার আহাজারিতে কেপে উঠছে চারপাশ। আহাজারির মাঝে একটাই চাওয়া বিচার চান সন্তান হত্যার।
গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিলেন না তার পরিবার। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভবনটির নয়তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মার মৃত দেহ খুঁজে পান তারা। সায়মার গলা রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখ ছিলো রক্তাক্ত। এরপর রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ভবনের ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত সে।
৭ বছর বয়সী সামিয়া আফরিন সায়মাকে ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে হারুনর রশীদ। এরপর আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় সায়মাকে। সেখানে নবনির্মিত নবম তলার ফ্ল্যাটে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে। ধর্ষণের পর নিস্তেজ দেহ পড়ে থাকে। মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি দিয়ে টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায় হারুন।
ফ্ল্যাট মালিক পারভেজের একটি বাচ্চা আছে তার সঙ্গে খেলা করতে। সেখানে গেলে পারভেজের স্ত্রী জানায় তার মেয়ে ঘুমাচ্ছে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার উদ্দেশে লিফটে ওঠে সায়মা। লিফটেই সায়মার সঙ্গে দেখা হয় পারভেজের খালাতো ভাই হারুনের। হারুন সায়মাকে লিফট থেকে ছাদ দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত পাশবিকভাবে সায়মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সায়মা চিৎকার করলে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। সায়মাকে নিস্তেজ দেখে গলায় রশি লাগিয়ে টেনে নিয়ে যায় রান্নাঘরে। সেখানে সিঙ্কের নিচে রাখে। এরপর পারভেজের বাসায় না ফিরে পালিয়ে যায় হারুন। হারুন পারভেজের খালাতো ভাই। পারভেজের বাসায় দুই মাস ধরে থেকে তার রঙের দোকানে কাজ করে আসছিল।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
সায়মার 'মা' সানজিদা আক্তার

এখন মেইড ইন বাংলাদেশ যুগ

এখন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ যুগ। মেইড ইন চায়না যুগের ইতি ঘটেছে। ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনা বিনিয়োগে বাধা রয়েছে। এক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগকে অধিকহারে স্বাগত জানাচ্ছে ঢাকা। সাউথ চায়না  মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ২২ বছর আগের বাংলাদেশ এখন কীভাবে পাল্টে গেছে। এখন চীনা বিনিয়োগকারীরা, বিশেষ করে গার্মেন্ট খাতে চীনারা বেশি বেশি বিনিয়োগ করছেন। এমনই একজন চীনা ব্যবসায়ী লিও ঝুয়াং লিফেং।
ওভারসিস চাইনিজ এসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি বর্তমানে। ২২ বছর আগে তিনি ঢাকায় এসেছেন। তখন ঢাকার বিমানবন্দরে মাত্র দুটি লাগেজ কনভেয়ার বেল্ট সক্রিয় ছিল। লাইটিংও যথাযথ ছিল না।
লিও ঝুয়াং লিফেং-এর বয়স এখন ৫১ বছর। তিনি গার্মেন্ট ব্যবসা করার জন্য ঢাকায় অবতরণ করেন ১৯৯৭ সালে। তার ধারণা, এখানকার শ্রম খরচ কম ও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়ায় ভালো ব্যবসা করতে পারবেন। তিনি বর্তমানে এলডিসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বলেন, ওই সময় ঢাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব ছিল। এমন কি ইন্ট্যান্ট নুডলস কেনাটাও এতো সহজ ছিল না। তার এলডিসি গ্রুপে বর্তমানে কাজ করেন প্রায় ২০০০০ শ্রমিক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রভূত পরিবর্তন হয়েছে। তবে চীন যে পরিবর্তন করেছে তার সঙ্গে অবশ্যই বাংলাদেশকে তুলনা করা চলে না। লিও ঝুয়াং লিফেং-এর কারখানা এখন বড় এক একটি গ্রামের মতো। সেখানে রয়েছে স্টাফ ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনা পয়সায় মেডিকেল সেবা দেয়ার সেন্টার। আছে তাদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার।
এমন পরিবেশ বাংলাদেশের অনেক স্থানেই রয়েছে। ফলে চীনা ও অন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে আসা অব্যাহত রেখেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিনিয়োগ এখন এই দেশটিকে উৎপাদনের ‘পাওয়ার হাউজে’ পরিণত করেছে। এখানে ৩৫ লাখ শ্রমিক স্থানীয় ও ইউনিকলো, এইচঅ্যান্ডএমের মতো আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের পোশাক তৈরি করছেন। মাইকেল কোরসের মতো বিলাসবহুল ব্রান্ডের পোশাকও এখন তৈরি হয় বাংলাদেশে। চীনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পোশাক প্রস্তুতকারক ‘মেইড ইন চায়না’র পরিবর্তে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
লিও ঝুয়াং লিফেং-এর হিসাবে ২২ বছর আগে তিনি যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন মাত্র ২০ থেকে ৩০টি চীনা কোম্পানি এদেশে কাজ করতো। তার হিসাবে তা এখন বেড়ে ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া চীনা ঋণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ৬ ভাগ। কিন্তু এ বছর তা ৮.১৩ ভাগ অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি এটা হয়, তাহলে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হবে অন্যতম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের এই সক্ষমতা। এতে অনেকেরই ভ্রু উত্থিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, অর্থনীতি শক্তিশালী থাকার কারণে এই ঋণ মোকাবিলা করতে সক্ষম প্রশাসন। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। বাংলাদেশের উন্নয়নে সমর্থন দিতে চায়, এমন যেকোনো দেশের সঙ্গে প্রশাসন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে থাকবে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চমৎকার এক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশকে কয়েক শত কোটি ডলারের ঋণ দিয়েছে ভারত- এদিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি। বলেছেন, আপনার প্রশ্ন হতে পারে চীনের এই ঋণ কি বাংলাদেশ শোধ করতে পারবে। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো উদ্বেগ নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, তথাকথিত চীনা ঋণের ফাঁদ এড়িয়ে চলতে পেরেছে বাংলাদেশ।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট আরো লিখেছে, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও জাকার্তা, ম্যানিলা ও নমপেন থেকে অনেকটা পার্থক্য ঢাকার। এখানে মহাসড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে রয়েছে সংকট। ব্যস্ততম সময়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্রাফিক জ্যাম লেগে থাকে। ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে লেগে যায় হতাশাজনক তিন ঘণ্টা। তা সত্ত্বেও এখানে অনেক বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। তার মধ্যে হংকংয়ের এভারগ্রিন প্রোডাক্টস গ্রুপের চেয়ারম্যান ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং অন্যতম। বিশ্বে সবচেয়ে বৃহৎ পরচুল উৎপাদনের অন্যতম বৃহৎ কারখানা এটি। তিনি চীন থেকে কারখানা বাংলাদেশে সরিয়ে আনার পর এখন তার কর্মীসংখ্যা ১৮০০০। উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় তার কারখানায় উৎপাদন হয় মাসে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পরচুলা। এর পাশাপাশি হংকংয়ের ৬টিসহ বিদেশি ২০টি কোম্পানি তাদের কারখানা স্থাপন করেছে ২১৩ একর জায়গার ওই জোনে। বাংলাদেশে রয়েছে এমন আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন। এসব কারখানা কাঁচামাল আমদানিতে কম অথবা শূন্য শুল্কহারের সুবিধা পায়।
চীনে শ্রম খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে ১০ বছর আগে নিজের দেশ চীন ছেড়ে বাংলাদেশে এসে কারখানা স্থাপন করেন ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং। তার মতো আরো অনেকে একই কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমাকে এশিয়ার যেকোনো স্থানে কারখানা সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এটা শুধু বেতনের কারণে নয়, আমাদের দেশে শ্রমিকদের যে সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা দেয়ার কথা তার মূল্য অনেক বেড়ে যাচ্ছিল।
এক দশক আগে চীনের শেনঝেন, গুয়াংঝৌউ এবং কুনমিংয়ের মতো শহরে কারখানা ছিল ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং-এর। তিনি গুয়াংঝৌউয়ের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। চীনে অন্য যেসব কারখানা আছে তা নাটকীয়ভাবে সীমিত করেছেন। বর্তমানে তার কোম্পানিতে যে পরিমাণ পরচুলা উৎপাদন হয় তার শতকরা ৯৩ ভাগই বাংলাদেশি। তিনি কারখানা সরিয়ে আনার আগে মাসে চীনা কর্মীদের বেতন দিতে হতো ২০০০ ইউয়েন। কিন্তু তা সরিয়ে আনার পর তাকে স্থানীয় শ্রমিকদের মাসে মাত্র ১৭০ ইউয়েন বেতন দিতে পারেন। যা ২৫ ডলারের মতো।
বাংলাদেশে বর্তমানে সর্বনিম্ন মজুরি হলো মাসে ৯৫ ডলার, যা এখনো এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কম। কম্বোডিয়ায় প্রতি মাসে এই বেতন ১৮২ ডলার। হ্যানয় এবং হো চি মিন সিটিতে ১৮০ ডলার। মিয়ানমারে এই বেতন প্রতিদিন ৩.৬০ ডলার। বাংলাদেশে কম মজুরি থাকায় দেশটিতে ৩০০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাকের কারখানা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রপ্তানির শতকরা ৮০ ভাগ এই শিল্প। তবে এখানে মজুরি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় শ্রমিকরা। জানুয়ারিতে হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। নিহত হন একজন।
এলডিসি গ্রুপের ঝুয়াং বলেন, কম্বোডিয়ায় কারখানা স্থাপনে কিছু সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, সেখানে রয়েছে শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন। এ ছাড়া সেটা হলো মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের একটি ছোট্ট দেশ। সেই তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি। তিনি ভিয়েতনামের পক্ষে নন। কারণ, সেখানে উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝুয়াং বলেন, কম্বোডিয়ায় দুর্নীতি একটি সাধারণ বিষয়। জনসংখ্যা কম। শ্রমিক ইউনিয়ন শক্তিশালী।
ঝুয়াং ২২ বছর আগে বাংলাদেশে আসার পর এখানে চীনা কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাদের যে পরিমাণ উপস্থিতি সে তুলনায় বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি খুবই কম। ওই দেশগুলোতে খুব সহজেই রাস্তায় দেখা মেলে চীনা শ্রমিক বা ব্যবসায়ীর। ফলে চীনাদের এই ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে ওই দেশগুলোতে অস্বস্তি ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কিন্তু এখন অবধি বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নি।
অর্থনীতিতে চীনা মডেল ব্যবহার করছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক চীনা বিনিয়োগকারী ও কর্মী রয়েছেন। স্থানীয়দের জন্য তারা প্রচুর সংযোগ সৃষ্টি করছেন। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। আমরা খুশি। তারা এ দেশের অর্থনীতিকে সাহায্য করছেন। বাংলাদেশে চীনাদের বিনিয়োগ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় সেন্ট্রাল ওমেন্স ইউনিভার্সিটির আইনের লেকচারার ফারহান হক। চীনা বিনিয়োগ ও কর্মীদের বিষয়ে সমর্থন করেন বাংলাদেশিরা ও রাজনীতিকরা। তাদের অন্যতম বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিজনকে স্বাগত জানাই। এরই মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন চীনা নাগরিকরা। যদি আপনি আমাদের মার্কেট, শপিং মল পরিদর্শন করেন তাহলে বিপুল পণ্যের সমাহার দেখতে পাবেন, যা চীনে তৈরি। চীনা বিনিয়োগ আমাদের দেশকে সহায়তা করছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে তারা এসব কথা বলেছেন।
এ নিয়ে দীর্ঘ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। এতে বাংলাদেশে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাত ছিল অনুন্নত। এভারগ্রিন প্রোডাক্টসের চ্যাং এক দশক আগে প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন ছিল বর্ষা মৌসুম। এ সম্পর্কে চ্যাং বলেন, মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল। তাতে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছিল ঢাকা। আমার গাড়ির চাকা পানিতে তলিয়ে যেত পুরোপুরি। বিদ্যুতের অবস্থা ছিল নাজুক। যখনই ঢাকা আসতাম, প্রতিবারই দেখতাম বিদ্যুতের ঘাটতি। বিদ্যুৎহীন থাকতে হতো প্রতিবার চার ঘণ্টা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের সেই অবস্থা নেই। রাস্তাগুলো চওড়া করা হয়েছে। মহাসড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশাল কন্টেইনারবাহী জাহাজে পণ্য বাংলাদেশে পৌঁছাতে চার থেকে ৫ সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে চীন থেকে কম্বোডিয়ায় সময় লাগে মাত্র ১০ দিন। এজন্য চ্যাংয়ের এক বন্ধু তার কারখানা খুলেছেন কম্বোডিয়ায়। তবে বাংলাদেশে ব্যবসা করার সুবিধা একটিই। তা হলো- এখানে শ্রম খরচ কম। আর বাজে দিক হলো, শিপিংয়ে সময় লাগে অনেক বেশি। এর ফলে উৎপাদিত পণ্য কারখানায়ই জমা থাকে বেশি।
একই রকম কথা বলেছেন হংকংয়ের ডেভিড লাম মিং-হিউং। তিনি চশমা প্রস্তুতকারক একটি কারখানার জেনারেল ম্যানেজার। তার মতে, চীন থেকে পণ্যের চালান বাংলাদেশে শিপিং খাতে সময় লাগে এক মাসের মতো। যদি এক্ষেত্রে বার্থের সংকট থাকে তাহলে আরো এক সপ্তাহ সময় বেশি লাগবে। তার মতে, ১৯৭০ এর দশকে প্রথম যখন চীন উন্মুক্ত নীতি গ্রহণ করেছিল, ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেই চীনের মতো। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য চীনা মডেল ব্যবহার করছে বাংলাদেশ।  
২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। ওই সময় দুই দেশ ২৭টি বিনিয়োগ ও ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। যার পরিমাণ ২৪০০ কোটি ডলার। সি জিনপিংয়ের ওই সফরের পর চীন থেকে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের একটি পত্রিকার হিসাব মতে, ২০১৭/১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৬/১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
ওদিকে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণের ফাঁদে আটকে ফেলা নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তাকে ভুল বোঝাবুঝি, পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপ-প্রধান চেন ওয়েই। তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ শুধু চীনের সহায়তার ওপরই নির্ভর করে না। একই সঙ্গে তার অর্থনীতিতে গতি আনার জন্য নির্ভর করে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর। এসব দেশের বিনিয়োগ ও সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখতে চায়। এক্ষেত্রে কোনো একক পক্ষকে তারা বেছে নেয় নি।
ওদিকে নয়া দিল্লির সেন্টার অব পলিসি রিচার্সের প্রফেসর ব্রাহ্ম চ্যালানির হিসাব মতে, বাংলাদেশে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণ হলো জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা প্রায় ১৪ ভাগের সমতুল্য। এই ঋণ সহনীয়। বাংলাদেশ এটা নিশ্চিত করতে চায় যে, তার এই ঋণের মাত্রা ম্যানেজযোগ্য। ‘বাংলাদেশ: পলিটিক্স, ইকোনমি অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি’ বইয়ের লেখক ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর ডেভিড লুইস বলেন, কার্যকর রপ্তানি কৌশলের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী। এসব রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম খাত হলো গার্মেন্ট। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে এই খাত।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক। এ বছর বাংলাদেশ ৩৯০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করার আশা করছে। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার এই অঙ্ক ৫০০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায়।

গ্যাসের দামে নাখোশ সবাই: বাম জোটের হরতাল আজ

আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। গৃহসংযোগে চুলা প্রতি ১৭৫ টাকা বর্ধিত দাম প্রতি গ্রাহককে চলতি মাস থেকেই দিতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সংযোগে গড়ে ৩২ দশমিক ৮ ভাগ মূল্য বেড়েছে। ব্যবসা ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দাম বাড়ানোয়  উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এই খরচ যোগ হবে পন্যের দামে। এতে প্রকারান্তরে বর্ধিত দামের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরেই আসবে। এ অবস্থায় বর্ধিত মূল্য নিয়ে নাখোশ সব পক্ষই। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতেও দাম বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি উঠেছিল বিভিন্ন পক্ষ থেকে।
এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোয় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে আধাবেলা হরতাল পালন করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ভোর ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এ হরতাল পালিত হবে। বাম জোটের এই হরতালে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ আরও কয়েকটি দল নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। হরতালের সমর্থন বাম জোটের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন প্রচারণাও চালিয়েছে। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুর্নবিবেচনা করার আহবান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্য শরিকরা।
গত মার্চে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে শিল্পোদ্যোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গ্যাসের দাম বাড়ালে কারখানার বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। গণশুনানিতে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনগুলোর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিরোধিতা করে। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে পন্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া এতে ব্যবসার খরচও বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
এ দফায় ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার বর্তমান ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়িয়ে গৃহস্থালির ক্ষেত্রে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৯ টাকা ১০ পয়সা। এক চুলায় প্রতিমাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২৫ টাকা। যা  আগে ছিল ৭৫০ টাকা। দুই চুলায় ৯৭৫ টাকা,  যা আগে ছিল ৮০০টাকা। সিএনজির ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ টাকা। যা আগে ছিল ৩৮ টাকা। হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে ২৩ টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ?্যক খাতেও গ?্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়, যার দাম পড়ছে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৩০ টাকা। এ দর দেশীয় গ্যাসের চার গুণের বেশি। এলএনজির কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। গণশুনানি করে বিইআরসি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়িয়েছিল। অবশ্য ভোটের আগে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় গ্যাসের বাড়তি দাম বাড়ানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ বার।
হরতাল সফল করতে বাম জোটের আহ্বান: জনস্বার্থ উপেক্ষা করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ৮টি বাম দল নিয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোটে’র নেতারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, গণশুনানিতে আমাদের বক্তব্য অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অযৌক্তিভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সিএনজির দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় শিল্প পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্প পণ্যসহ, কৃষি সেচে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এইভাবে ব্যয় বৃদ্ধির ফাঁদে জনগণ নিপতিত হবে। সমাবেশে অনান্যের মধ্যে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিন বছরেও হয়নি চার্জশিট কাঁদছে মিতুর আত্মা by ইব্রাহিম খলিল

তিন বছর হলো তবুও চার্জশিট হয়নি। চট্টগ্রামের আলোচিত হত্যাকাণ্ড সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার। গত বছর থেকে চার্জশিট এই দিচ্ছি, মনোভাবের কথা বহুবার বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু না, দাখিল হয়নি এখনো। গত ৫ই জুন মিতু হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পূর্ণ হলো। অথচ কাঁদছেন মিতুর বাবা-মাও। যন্ত্রণা পোহাচ্ছেন বাবুল আক্তারও। তাদের সকলের দাবি দ্রুত চার্জশিট দেয়া হোক এ মামলার।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবর রহমান এ প্রসঙ্গ বলেন, তদন্তের কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে, কিছুটা যাচাই-বাছাই শেষে চার্জশিট দেয়া হবে। আমরা এ মামলার একটি উপসংহার টানছি এখন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তা একেবারেই শেষ পর্যায়ে। চার্জশিট জমা দেয়া হলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে কবে চার্জশিট দেওয়া হবে সেটা এখন বলতে পারছি না।
নগর পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা না পাওয়ায় আদালতে জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে তদন্তে গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের জবানবন্দিতে নির্দেশদাতা হিসেবে ওঠে আসা মুসা শিকদারের হদিসও পায়নি ডিবি।
মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, মিতু খুন হওয়ার পরপরই বন্দর থানার কাটগড় এলাকা থেকে পুলিশ তার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। এর পর কোন হদিস দিচ্ছে না পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, মুসাকে গ্রেপ্তারের প্রশ্নই উঠে না। তদন্তে মুসাই নির্দেশদাতা হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এ খুনের মাস্টারমাইন্ড কে তা চিহ্নিত হতো।
এদিকে, এ বছরের মার্চ মাসে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিএমপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মিতু হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশও বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। সব মিলিয়ে এ হত্যামামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সন্দিহান মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকে বলে আসছি যে বা যারা মিতুকে হত্যা করে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দিতে। কিন্তু পুলিশ এখনও জানাতেই পারেনি কার নির্দেশে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি বের করে আনতে এতো সময় লাগার কথা নয়। তিনি বলেন, কোনো এক রহস্যজনক কারণে পুলিশ নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করতে পারেনি। চার্জশিটও দিচ্ছে না। আমি দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তারা অনেক সময় এ খুনের পিছনে মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারের সমপৃক্তারও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, মূল আসামিকে বাঁচাতে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে এ মামলার তদন্ত। তারা এ হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকেই ইঙ্গিত করছেন। যদিও তদন্তকারী সংস্থা নগর গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছে না। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জামাতার পক্ষে কথা বললেও পরে তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের পেছনে জামাতার পরকীয়া সমপর্কের সন্দেহের ইঙ্গিত করে তদন্তের দাবি জানান। বাবুল আক্তারের সঙ্গে উন্নয়নকর্মী গায়ত্রী সিং ও রাজধানীর বনানীর বিনতে বসির বর্ণি নামে দুই নারীর সমপর্কের কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন তিনি। তবে উল্টো শ্বশুরপক্ষ তাকে ঘায়েল করতে চাচ্ছেন অভিযোগ করে সঠিক তদন্তেই হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে দাবি করেন বাবুল আক্তার।
তিনি বলেন, আমিও চাই এ মামলার চার্জশিট দ্রুত দেয়া হোক। কয়েক দিন আগেও আমার সঙ্গে আইওর কথা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া হবে। আমি মিতু হত্যা মামলার বিচার চাই। শ্বশুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় আমি ওনাদের খুব প্রিয় ছিলাম। তাদের কথা না শোনায় গত দুই বছর থেকে খারাপ হয়ে গেলাম। আসলে উনি কী বলে নিজেও জানে না। এসব নিয়ে আমি কথা বলতেও আগ্রহী না।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানের জন্য আলোচিত বাবুল আক্তার সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি থেকে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দেন। এর কয়েক দিনের মাথায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় ২০১৬ সালের ৫ই জুন সকালে চট্টগ্রামের ওআর নিজাম রোডের বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে নগরীর জিইসি মোড়ে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন সেখানে ছেলের সামনে তাকে প্রথমে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিন বছরে অধরা মূল অভিযুক্ত নির্দেশদাতা মুসা। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন, আনোয়ার, ওয়াসিম, এহতেশামুল হক ভোলা, সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু, শাহজাহান, আবু নাসের গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিন। এর মধ্যে আবু নাসের গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিনের এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে সমপৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। অপর চারজনের মধ্যে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তিনিই সরবরাহ করেছেন তার বড় ভাই মুসা সিকদার ওরফে আবু মুসাকে। মুসা এ মোটরসাইকেল চালিয়েই মিতু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়। অপর তিনজনের মধ্যে এহতেশামুল হক ভোলা মিতু হত্যাকান্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী। শাহজাহান, ওয়াসিম ও আনোয়ার হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল। এ ছাড়া মিতু হত্যায় সন্দেহভাজনদের মধ্যে রাশেদ ও নবী নামে দুজন রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
বর্তমানে পলাতক আছে মুসা সিকদার ও কালু নামে দুজন। ওই সময়ে পলাতক মুসাকে ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে সিএমপি। তবে এরপরও সে ধরা পড়েনি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মুসার পরিকল্পনায় তারা মিতুকে খুন করেছে। এদিকে চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বাবুল আক্তারের সমপৃক্ততাও মিতু হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে অল্পদিনেই সে ধারণা থেকে সরে আসেন তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে ওই বছরে ২৪শে জুন রাতে ঢাকার বনশ্রীতে শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়ার খবর ছড়ালেও সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলছিলেন না। তার ২০ দিন পর ২০১৬ সালের ১৪ই আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, বাবুলের অব্যাহতির আবেদন তার কাছে রয়েছে। আরও ২২ দিন পর ৬ই সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে চুপ থাকা বাবুল আক্তার হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর ফেসবুকে স্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আবার আলোচনায় আসেন। মিতু হত্যার পর থেকে বাবুল ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও নতুন চাকরিতে (বেসরকারি) যোগ দেয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার মগবাজারে আলাদা বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করেন।

যারা তাবরেজ আনসারীকে হত্যা করেছে তারা সন্ত্রাসী: ওয়াইসি

ভারতের মজিলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, যারা তাবরেজ আনসারীকে হত্যা করেছে তারা সন্ত্রাসী। গণপিটুনিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় মুসলিম যুবকরা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে গত শুক্রবার হায়দ্রাবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডে চোর সন্দেহে তাবরেজ আনসারী (২৪) নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতা। তারা তাবরেজ আনসারীকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করে। ওই ঘটনায় দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় দেশের  বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ হচ্ছে।
শুক্রবার হায়দ্রাবাদের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ‘মিম’ প্রধান ওয়াইসি বলেন, ‘এসব জালিমদের থেকে ভয় পাবেন না। ওরা কাপুরুষের ফৌজ (বাহিনী) যারা ২৫/৩০ জন একসঙ্গে এক নিরপরাধকে হত্যা করছে।ওরা কাপুরুষ!’  উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে ওয়াইসি বলেন, ‘যারা তাবরেজ আনসারিকে হত্যা করেছে তারা ‘গডসে’র অবৈধ সন্তান।যারা তাবরেজ আনসারীকে হত্যা করেছে তারা ভারতের ‘গাদ্দার’ (বিশ্বাসঘাতক), যারা তাবরেজ আনসারীকে হত্যা করেছে তারা সন্ত্রাসী। ওদের এবং আইএসআইএসের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।’
এ ব্যাপারে শনিবার মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন -এর পশ্চিমবঙ্গের আহ্বায়ক জামিরুল হাসান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘যিনি আইন ভাঙছেন, দেশের আইন ভাঙা মানে দেশের ‘গাদ্দার’। এই যে সম্প্রতি মাঝখানে যেরকম করছে, তাতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেশের মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। ওই ঘটনার (গণপিটুনি) বিরুদ্ধে চারদিকে আন্দোলন হচ্ছে। উনি (ওয়াইসি) যেটা বলেছেন একশ’ শতাংশ সঠিক কথা বলেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘উজিরে আজমের দায়িত্ব হল, প্রত্যেক  ভারতবাসীকে রক্ষা করা। কারণ, উনি প্রত্যেক ভারতবাসীর উজিরে আজম।’
এদিকে, গণপিটুনির ঘটনার প্রতিবাদে গুজরাটের সুরাটে বিক্ষোভ-মিছিল হয়। এসময় নানপুরা এলাকায় পুলিশ ওই মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে জনতা মারমুখী হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এসময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৪/৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
তাবরেজ আনসারীকে হত্যার প্রতিবাদে একইদিনে ঝাড়খণ্ডে কয়েক হাজার মুসলিম এদিন সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে এক সমাবেশ থেকে বক্তারা গণপিটুনির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে দেশে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
ঝাড়খণ্ড ‘জন অধিকার মোর্চা’র এক রিপোর্টে প্রকাশ, রাজ্যটিতে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে কমপক্ষে ১২ জন লোক গণপিটুনিতে মারা গেছে। এদের মধ্যে ১০ জনই মুসলিম। অন্য দু’জন আদিবাসী। অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশই হল বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও তাদের সহায়ক সংগঠনের সদস্য।

মোটরসাইকেল দেখলেই প্রশ্ন ‘যাবেন নাকি?’ by রাফসান জানি

রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল বা চলার পথে মোটরসাইকেল চালকদের নিয়মিত যে প্রশ্ন শুনতে হয় তা হলো−‘যাবেন নাকি?’ রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ব্যবহার করে যেসব চালক যাত্রী পরিবহন করেন, তাদের কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও অন্য চালকদের জন্য এ ধরনের প্রশ্ন বিরক্তিকর বলে জানিয়েছেন তারা। শুধু যাত্রীরা নয়, মোটরসাইকেল চালকরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ডেকে গাড়িতে তুলছেন বলে জানা গেছে।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ব্যবহারকারী ও সাধারণ চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর থেকে এই সমস্যা শুরু হয়েছে। যাত্রী ও চালক দুই পক্ষই এর জন্য দায়ী। অ্যাপসের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আয় করে আসা মোটরসাইকেল চালকরা হঠাৎই চুক্তিতে যাত্রীসেবা দিতে শুরু করেন। এর ফলে যাত্রীর কাছ থেকে পাওয়া ভাড়ার একাংশ অ্যাপস নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানকে দিতে হচ্ছে না। পুরো টাকাটাই থেকে যাচ্ছে চালকের। অতিরিক্ত আয়ের আশায় চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছেন তারা। তাদের এই চুক্তিভিত্তিক চলাচলের সুবিধা নিচ্ছেন যাত্রীরাও। অ্যাপসে আসা ভাড়ার তুলনায় কম ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে যাতায়াত করছেন তারা। এ কারণে চলার পথে ফাঁকা মোটরসাইকেল দেখে ডেকে থামান অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা, জিজ্ঞেস করেন−যাবেন নাকি?
উত্তরা থেকে ধানমন্ডি, নিজের মোটরসাইকেলে নিয়মিত যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, 'প্রতিটি সিগন্যালে থামার পর ফুটপাত থেকে একটা কমন প্রশ্ন শোনা যায়, যাবেন নাকি? অমুক জায়গায়? না করার পরও উল্টো জিজ্ঞেস করে, কেন যাবেন না? তখন বলতে হয়, আমি পাঠাও বা উবার চালাই না। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডাও হয়। এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এটা খুবই বিরক্তিকর।’
সাধারণ যাত্রীরা জানান, অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় অ্যাপসের মাধ্যমে গাড়ি পাওয়া যায় না। আবার কাউকে পাওয়া গেলেও দেখা যায়, অনেক দূরে আছেন, আসতে সময় লাগবে বা পথ চেনেন না। এ ধরনের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া মোবাইলে ডাটা না থাকলে বা স্মার্ট ফোন না থাকলে অ্যাপসে রাইডার কল করা যায় না।
এসব ঝামেলা এড়াতে চুক্তিতে যাতায়াত করেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরিফ আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘অফিস টাইমে রাইডার পেতে সমস্যা হয়। অনেক সময় অ্যাপসে পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু চুক্তিতে যেতে চাইলে আমি মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে গেলেই ফাঁকা মোটরসাইকেল পাই। এগুলোর চালকরা চুক্তিতে চলাচল করেন। এতে অ্যাপসে আসা ভাড়ার তুলনায় কিছু কমে যাওয়া যায়।’
সেক্ষেত্রে কীভাবে বুঝতে পারেন, একজন মোটরসাইকেল চালক চুক্তিতে যাবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেখেই বুঝার উপায় নেই। তবে চালক ও যাত্রীর চোখাচোখি হলে বুঝা যায় উনি যাবেন। কারণ চালকরা যাত্রীর অপেক্ষায় থাকেন। অপেক্ষমাণ কাউকে না পাওয়া গেলে ডেকে জিজ্ঞেস করতে হয়, যাবেন নাকি?’
চুক্তিতে চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকদের একজন ফরহাদ হোসেন। তিনি পাঠাও, সহজ ও উবার-এর অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করেন। যখন যেটা ব্যবহার করে যাত্রী পাওয়া যায়, সেটাই ব্যবহার করেন। এর বাইরে বিভিন্ন স্টপেজ থেকে চুক্তিতেও যাত্রী পরিবহন করেন তিনি।
চুক্তিতে চলাচলের কারণ হিসেবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘একটু বেশি ইনকাম হয়, এটা সত্য। তবে যাত্রীদের অনেকে অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের জন্য বাধ্য হয়ে চুক্তিতে যেতে হয়।’
অ্যাপস ব্যবহার না করে চুক্তিতে চলাচল করলে যাত্রী ও চালক দু’জনেরই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই সতর্ক হওয়া এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘চুক্তিতে গেলে যাত্রী যেমন হয়রানি বা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন, তেমনি চালকও মোটরসাইকেল ছিনতাইসহ নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ফলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’
এই সমস্যা সমাধানে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছে অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, চালক ও যাত্রী দু’জনই স্বাধীন। তারা যদি অ্যাপস ব্যবহার না করে চলাচল করেন, তাহলে কিছুই করার নেই। কারণ তারা ফ্রিল্যান্সার।
অ্যাপসভিত্তিক সার্ভিস পাঠাও-এর মার্কেটিং ম্যানেজার নাবিলা মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাপস ব্যবহার না করে কেউ যদি রাইড নেয়, তাহলে তেমন কিছুই করার নেই। কেউ যদি আমাদের অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড নেয়, তখন আমাদের রুলস রেগুলেশন অ্যাপ্লাই করার সুযোগ থাকে। যিনি আমার অ্যাপস ব্যবহার করছেন না, তার ক্ষেত্রে আমাদের রুলস প্রযোজ্য নয়।’
চালক যাতে চুক্তিতে না চলেন সেজন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান পাঠাও-এর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা রাইডার ও ইউজার দুই পক্ষকেই বলে থাকি, আপনারা অ্যাপস ছাড়া চলাচল করবেন না। কারণ এতে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। চুরি-ডাকাতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চুক্তিতে গেলে একটা ঘটনার পর চালক বা যাত্রীকে ওইভাবে ট্রেস করার সুযোগ থাকে না। মিটারে সিএনজি যাবে নাকি চুক্তিতে যাবে অনেকটা এমন অবস্থা। কারণ না রাইডার আমাদের নিজস্ব, না মোটরসাইকেল। এখানে সবাই ফ্রিল্যান্সার।'
সহজ-এর পরিচালক (বিপণন) শেজামি খলিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে একজন যাত্রী একজন ড্রাইভারের মৌলিক ব্যক্তিগত তথ্য জানতে পারে। অন্যান্য যাত্রীর প্রতি তার আচরণ কেমন (রেটিং-এর মাধ্যমে) জানতে পারে। একইভাবে, একজন রাইডার সেবা দেওয়ার আগে যাত্রীর প্রোফাইল জানতে পারে। তাছাড়া, রাইড শেয়ারিং কোম্পানি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের জন্য রাইডার্স এবং যাত্রীদের যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহায়তা দেয়। আর্থিক উদ্দীপনা ও সুস্পষ্ট সুরক্ষার দিকগুলো বিবেচনা করে আমরা বিশ্বাস করি, রাইডাররা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে যাত্রী বহন করবেন।’ যাত্রী ও রাইডার উভয়ের নিরাপত্তার ব্যাপারে ‘সহজ’ সচেতন রয়েছে বলে জানান তিনি।
শেজামি খলিল বলেন, ‘সড়কে যাত্রী বা রাইডারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন কোনও আচরণ হচ্ছে কিনা, আমরা তা মনিটর করে থাকি। আমাদের রাইডারদের নজরদারির সিস্টেম রয়েছে। ব্যত্যয় ঘটালে ড্রাইভারকে সতর্ক করা হয়। অস্থায়ীভাবে তার জন্য আমাদের অ্যাপস ব্যবহার স্থগিত রাখা হয় বা প্রয়োজনে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়ে থাকে।’
উল্লেখ্য, যানজট এড়িয়ে সহজে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালে চালু হয় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং। যাত্রীসেবা ও আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ২০১৭ সালে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে ১০টিরও বেশি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিশ্বের অর্ধেক দেশ বাংলাদেশের পেছনে

পরের উপকার করার সূচকে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশের মানুষকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশের জনগণ৷ আর এশিয়ায় আছে নবম অবস্থানে৷ সূচকটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা চ্যারিটি এইড ফাউন্ডেশন৷
জরিপের আওতায় থাকা বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মধ্যে ৭৪ নম্বরে বাংলাদেশের অবস্থান৷ আর এশিয়ায় নবম অবস্থানে৷ তিনটি বিষয়ের ওপর তথ্য নিয়ে একটি দেশের স্কোর নির্ধারণ করা হয়৷ সেখানে বাংলাদেশের গড় স্কোর ৩১। ২০১৭ সূচকের চেয়ে ২০১৮ সূচকে সবচেয়ে উন্নতি করা প্রথম তিনটি দেশের একটি বাংলাদেশ৷ এক ও দুই নম্বরে আছে কঙ্গো ও প্যারাগুয়ে৷

কী এই পরহিতৈষী সূচক?
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ‘গ্যালাপ'-এর ডেটা বিশ্লেষণ করে মূলত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘চ্যারিটি এইড ফাউন্ডেশন' নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সংস্থা৷ গ্যালাপের তথ্য নিয়ে বিশ্বের কয়েকটি সংস্থা বেশ জনপ্রিয় কিছু জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা করে৷ এর মধ্যে রয়েছে হ্যাপিনেস ইনডেক্স ও ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ইনডেক্সের মতো গবেষণা৷ ২০১৭ সাল জুড়ে বিশ্বের ১৪৬টি দেশের গ্রাম ও শহরের নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের কাছে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়৷ সেখানে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে ছিল-
‘আপনি গত মাসে এই তিনটি কাজের কোনোটি করেছেন?
- চেনেন না এমন কাউকে সাহায্য করেছেন?
- কোনো চ্যারিটিতে দান করেছেন?
- কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন?'
একটি দেশের নমুনা জনসংখ্যার এসব উত্তরের ভিত্তিতে সারাদেশের জন্য একটি ফলাফল প্রাক্কলন করে ‘গিভিং ইনডেক্স' বা ‘পরহিতৈষী সূচক' তৈরি করা হয়৷

বাংলাদেশ ও এশিয়া
পরহিতৈষী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৭৪ হলেও, সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি অচেনা মানুষকে উপকার করার সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি ৭ম৷ তবে শতকরা হারের হিসেবে অচেনা মানুষকে উপকার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৪৷ দান খয়রাত করার ক্ষেত্রে ৭৯তম অবস্থানে, আর স্বেচ্ছাশ্রম দেবার ব্যাপারে ১১০ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ৷
তবে বিশ্ব সূচকে শীর্ষ অবস্থানে নেই কোনো ধনী দেশ৷ এক নম্বরে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া৷ সিঙ্গাপুর ৭ ও মিয়ানমার ৯ নম্বরে রয়েছে৷ ২০১৭ সালে মিয়ানমার এক নম্বরে থাকলেও এবার ৯ ধাপ পিছিয়েছে৷
এশিয়ার শীর্ষ দশে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও সিঙ্গাপুর ছাড়া রয়েছে, শ্রীলঙ্কা, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন্স৷

চ্যারিটি এইড ফাউন্ডেশন তাদের রিপোর্টে বলেছে যে, এই জরিপসহ তাদের এ সংক্রান্ত কাজগুলো গত ৯০ বছর ধরে দাতা সংস্থাগুলোকে আরো গভীরভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করছে৷

আদালতের মামলার মধ্য দিয়ে নির্বাসিত তিব্বতীদের অন্তর্কোন্দল উঠে আসলো by রাজীব শর্মা

গত জুন মাসের শুরুর দিকে, তিব্বতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যেটা তেমন নজরে পড়েনি কারো। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দালাই লামার সাবেক প্রতিনিধি পেনপা শেরিং গত বছরের মে মাসে সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশানের (সিটিএ) সুপ্রিম জাস্টিস কমিশনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ এনে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাকে পদ থেকে বহিস্কারের জন্য সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশানের (সিটিএ) মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে তিনি এই মামলা দায়ের করেন। ৬ জুন এই মামলার শুনানি ছিল।
পেনপার প্রতিপক্ষ অন্য কেউ নন, খোদ সিটিএ প্রেসিডেন্ট লোবসাং সাঙ্গে। এটা কোন সাধারণ মামলা নয় কারণ এই মামলায় দুই পক্ষ মূলত লোবসাং সাঙ্গে বনাম স্বয়ং দালাই লামা।
শুনানিতে সাঙ্গের আইনজীবী মামলাটি ডিসমিস করে দেয়ার চেষ্টা করেন এই যুক্তিতে যে এখানে দালাই লামার নাম যুক্ত। কিন্তু বিচারপতি আবেদনের বিপক্ষে মত দিয়ে বলেন, এখানে দালাই লামার নাম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয় কারণ ২০১০ সালে তিনি নিজেই সিটিএ’র কাছে ক্ষমতা তুলে দেন।
সাঙ্গের যুক্তিতর্কের মধ্যে এটা ফুটে উঠেছে যে, আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি ছাড়লেও এখনও ক্ষমতা রাখেন দালাই লামা। তিব্বতের রাজনীতিতে তিনি এখনও একজন সম্রাট। এতে বোঝা গেছে যে, কিভাবে দালাই লামা আইনের উর্ধ্বে এবং নির্বাসিত কমিউনিটির উপর তার পুরো কর্তৃত্ব রয়েছে, যদিও এটার ঠিক বিপরীত দাবিও রয়েছে।
অন্যভাবে বললে, দালাই লামার নাম যদি দুজন তিব্বতীর মধ্যে কোন দ্বন্দ্বে বা মামলায় উঠে আসে (পেনপার মামলার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে), তাহলে এটার ভিত্তিতে মামলা বাতিল হতে পারে।
দর্জি শুগদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা
এই পয়েন্টটির সাথে তিব্বতের নির্বাসিত কমিউনিটির পরিস্থিতির মূল পরিস্থিতির একটা যোগ রয়েছে এবং এটা প্রমাণ করেছে যে দর্জি শুগদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে একটা মেকানিজম কাজ করেছে।
দালাই লামা সব সময় দাবি করেছেন যে, তিনি শুধু উপদেশ দেন, এবং তিনি কোন কিছু নিষিদ্ধ করেননি কারণ তার কোন কিছু নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু দর্জি শুগদানের উপর নিষেধাজ্ঞা থেকে বোঝা গেছে যে, দালাই লামার কথা এই সম্প্রদায়ের জন্য আইন।
মামলায় আরো যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটা হলো দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে দালাই লামা জড়িত ছিলেন।
নিজের যুক্তিতর্কে দাকপা পেনপা শেরিংকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং ইঙ্গিত দেন যে তাকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে দালাই লামার একটা ভূমিকা ছিল। তিনি মন্ত্রী কার্মা গেলেককে উদ্ধৃত করেন, যিনি বলেছেন যে, যেভাবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, সেভাবেই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা মনে করা হয় যে, দালাই লামার পরামর্শেই পেনপা শেরিংকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
এটা স্বাভাবিক মনে হবে কারণ এটাই যৌক্তিক যে দালাই লামা নিজের প্রতিনিধিকে নিজেই নিয়োগ দিবেন। কিন্তু, যে পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেটা একটা সরকারি পদ। যে ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তিব্বতীদের অফিসের দায়িত্বে থাকেন, যেটা মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক পদ। তিনি কার্যত অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তিব্বতীদের দূত। তার নিয়োগের ব্যাপারে দালাই লামার ‘পরামর্শ’ দেয়ার অর্থ হলো দালাই লামা এখনও ক্ষমতায় আছেন।
দালাই লামার অনুসারী এবং তিব্বতী সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষেরা একই রকম। এরা সবাই দালাই লামার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে ছোট করে দেখেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে দালাই লামা শুধু ‘উপদেশ’ দিয়েছিলেন, আবার যখন তিনি পেনপা শেরিংকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন, তারা বলেছে এটা ছিল একটা ‘পরামর্শ’।
এভাবে, দালাই লামা – যিনি সব রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এবং শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতা হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করেন, কিন্তু তিনিই আবার একটা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন যেটা নির্বাসিত সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে। সরকারি পদের জন্যও তিনি ব্যক্তি বাছাই করেন।
তিব্বতের নির্বাসিত সম্প্রদায়ের মধ্যে ২০১৬ সালেন নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোট থেকে তিনি একজন প্রার্থীকে বাদ দেন। এই নির্বাচনে হঠাৎ করেই অনেকটা নিরবে নিয়ম কানুন বদলে ফেলা হয়।
২০১৬ সালের নির্বাচনের একজন প্রার্থী ছিলেন লুকার জাম আতসোক যিনি দালাই লামার কিছু নীতি নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছিলেন, বিশেষ করে দর্জি শুগদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে। যখন চূড়ান্ত তিনজন প্রার্থী বাছাই করা হয়, দালাই লামা তখন নিয়ম বদলে দেন যাতে শেষ পর্যন্ত দুইজন চূড়ান্ত ভোটে অংশ নিতে পারেন। এতে লুকার জাম আতসোক স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়ে যান, কারণ তার অবস্থান ছিল তিন নম্বরে!
চূড়ান্ত দুজন প্রার্থী ছিলেন লোবসাং সাঙ্গে এবং পেনপা শেরিং। এরা দুজনেই ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব তিব্বতের সমর্থিত প্রার্থী। এই দলটি দালাই লামা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তিনি এটাকে মূলত চালিয়ে নিচ্ছেন এবং অর্থায়ন করছেন।
এটার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যাতে তিব্বতিদের নিয়ন্ত্রণ দালাই লামার কাছেই থাকে যদিও তাকে রাজনীতির উর্ধ্বে বিবেচনা করা হয়!
এর একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো কোন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানই দালাই লামার প্রজ্ঞাকে সন্দেহ করার সাহস করেন না।
বিচারের মধ্য দিয়ে এটা বেরিয়ে এসেছে যে, তিব্বতীদের রাজনীতিতে বিভাজন দেখা দিতে শুরু করেছে, যেখানে দালাই লামা রয়েছেন এক পক্ষে আর অন্য পক্ষে আছেন লোবসাং সাঙ্গে।
সাঙ্গের আইনজীবী কেন তিন মাস বিলম্ব করার আবেদন করেছেন? এর কারণ কি এই যে, এই সময়ের মধ্যে দালাই লামা কার্মাপাকে তার উত্তরসূরীর নাম জানাবেন এবং একই সাথে চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বতে তার তীর্থযাত্রার ঘোষণা দিবেন?
এই সময়ের মধ্যে দালাই লামার ঘনিষ্ঠজনরা কি পেনপা শেরিংয়ের জন্য বিকল্প আয়োজনের সময় পেয়ে যাবে না? হয়তো তাকে অর্থ দেয়া হবে বা অন্য কোথাও নিয়োগ দেয়া হবে।
আর এই তিন মাসে লোবসাং সাঙ্গে নির্বাসিত সম্প্রদায়ের উপর নিজের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে পারবেন এবং নিজেকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, যিনি কি না তিব্বতে দালাই লামার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দর কষাকষি করেছেন, সে দালাই লামার সেখানে ফেরার মতো শারীরিক অবস্থা থাক বা না থাক।
(লেখক একজন স্বাধীন সাংবাদিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক)

মাদক কেনাবেচা কমছেই না

দেশে মাদকদ্রব্যের সেবন ও কেনাবেচা কমছে না। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নথিপত্রে দেখা গেছে, মাদকের উদ্ধার, গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আসা রোগীর সংখ্যাও বিগত ছয় বছরের মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামালউদ্দীন এ কথা মানতে চাননি। তিনি বলছেন, বেশি উদ্ধার হওয়ার কারণেই এটা মনে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ মে ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশও। শুধু গত এক বছরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৩৮৯ জন, আত্মসমর্পণ করেন শীর্ষস্থানীয় ১০২ মাদক কারবারি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাগজপত্র অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ২০১৪ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫১ হাজার ৮০১টি মামলা করেছে, গ্রেপ্তার করেছে ৬২ হাজার ৮০ জনকে। ওই বছর উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ছিল ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৮৬৯টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৮ সালে মামলা করেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ জন। ওই বছর ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮টি।
হেরোইনের অপব্যবহার বেড়েছে, আছে অন্য মাদকও
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ধারণা, মাদকাসক্তের মোট সংখ্যা বাড়লেও আনুপাতিক হারে কমছে। ২০১৪ সালের মোট জনসংখ্যার যতজন মাদকাসক্ত ছিল, সেই তুলনায় এখন মাদকাসক্তের সংখ্যা কম। তবে এ নিয়ে কোনো গবেষণা বা জরিপ হয়নি বলেও জানান তিনি।
দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে ইয়াবা উদ্ধারের সংখ্যা ৮ গুণ বেড়েছে, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা মাদকাসক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৪ সালে সরকারি-বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন ১৬ হাজার ৯২৭ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার ৩৫ জন।
মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর ৩৯১ দিনে নিহত ৩৮৯ জন।
আত্মসমর্পণ করেন শীর্ষস্থানীয় ১০২ মাদক কারবারি।
অধিদপ্তরের নথি বলছে, মাদকের অপব্যবহার বেড়েছে।

কাগজপত্র বলছে, ইয়াবার পাশাপাশি হেরোইনের অপব্যবহারও দেশে বেড়ে গেছে। ২০১৪ সালে হেরোইন উদ্ধার হয় ৭৮ কেজির কিছু বেশি, গত বছর এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫২ কেজি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, ফেনসিডিলের পরিমাণ ২০১৫–১৬ সালের দিকে কমেছিল, ২০১৭ সালে তা বাড়ে। এখন পর্যন্ত এর অপব্যবহার কমেনি। তবে গাঁজা ও শিরায় মাদক ব্যবহারের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বেজলাইন স্টাডি অন ড্রাগ এডিকশন ইন বাংলাদেশের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে সম্প্রতি। এতে দেখা গেছে, মাদকসেবীদের ৫০ শতাংশ ফেনসিডিলও সেবন করছেন। এই মাদকও নিষিদ্ধ হয় ১৯৮২ সালে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন মাদকসেবী একাধিক মাদক গ্রহণ করছেন। সাক্ষাৎকার যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ইয়াবা সেবন করে ১৩১ জন, গাঁজা ১২২ জন, ফেনসিডিল ৭৩ জন ও হেরোইন ৫৪ জন। এর বাইরে মাদকাসক্তরা দেশি ও বিদেশি মদ, রেক্টিফাইড স্পিরিট ও স্নিফিং গ্লু সেবন করে থাকেন।
ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ স্বাস্থ্য কর্মসূচির দেখভাল করেন। গতকাল তিনি বলেন, চলমান অভিযানের কোনো প্রভাব তাঁদের চোখে পড়েনি।
পুলিশের দাবি ফলপ্রসূ, বিজিবির না
পুলিশের দাবি, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান ফলপ্রসূ হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের সার্বিক মাদক পরিস্থিতির ‘বেশ উন্নতি’ হয়েছে। মাদকের বিস্তার কমেছে, জনসচেতনতা বেড়েছে।
টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হাসান খান গতকাল বলেন, সীমান্তে কড়াকড়ির পরও ইয়াবার চালান টেকনাফে ঢুকছে। ইয়াবার পাচার কমেনি। চলতি মাসেই বিজিবি ১৭ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে।

বেগুনি ধানের বীজে বিপুল আগ্রহ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আগামী বোরো মৌসুমে বেগুনি রঙের ধান চাষ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধানের বীজ সংগ্রহ করতে কৃষকেরা ১ কেজি বীজ ১০০ টাকায় কিনছেন। আগামী মৌসুমে বেগুনি রঙের ধান চাষ উপজেলায় ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ ধান কিনতে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক শাহিনুর আলমের সঙ্গে কৃষকেরা যোগাযোগ করছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পার্সেল করে এই বীজ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও কৃষকদের মাধ্যমে জানা গেছে, নালিতাবাড়ীর সন্তান ব্যাংকার সারোয়ার আলম কুমিল্লায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুবাদে কুমিল্লার আদর্শ সদরের মনাগ্রামের কৃষক মনজুর হোসেনের সঙ্গে পরিচিত হন। সে সুবাদে কৃষক মনজুরের বেগুনি রঙের ধানখেত দেখে সারোয়ার ধানের বীজ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিজের এলাকায় বেগুনি রঙের এই ধানের বিস্তার ঘটাতে মনজুরের কাছ থেকে ৫ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করেন। পরে সেই বীজ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে জমা দেন। কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল আগ্রহ নিয়ে উপজেলার ভেদিকুড়া গ্রামের কৃষক শাহিনুর আলমের ৫ শতাংশ জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে এই ধান লাগিয়েছিলেন। শুরুতেই সবুজের মধ্যে ধূসর রঙের ধানখেত দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন খেতটি অযত্নে মরে যাচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানগাছের পাতা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে। সবুজের সমারোহের মাঠে ৫ শতাংশ বেগুনি খেত সবার দৃষ্টি কাড়ে।
৫ শতাংশ জমিতে বেগুনি রঙের ধান শুকিয়ে ১৩ মণ ধান পেয়েছেন কৃষক। হিসাব অনুযায়ী, একরে ধান হয়েছে ৫২ মণ। ১৩ মণ ধানই বীজ হিসেবে কৃষক শাহিনুর সংগ্রহ করেছেন। ইতিমধ্যে ৩ মণ ধান ১০০ টাকা কেজি হিসেবে বাড়িতে বসেই বিক্রি করেছেন।
কৃষক শাহিনুর বলেন, ব্যাংকার সারোয়ার ও কৃষি কর্মকর্তা শরিফের প্রচেষ্টায় তিনিই প্রথম এই উপজেলায় বেগুনি রঙের ধান চাষ করতে পেরেছেন। ৫ শতাংশ জমিতে ধান কাটাই-মাড়াই করে ১৩ মণ ধান পেয়েছেন। সারা বছর কৃষি কাজ করে যা পাননি। কিন্তু ৫ শতাংশ জমিতে বেগুনি রঙের ধান চাষ করে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বীজ নিতে তাঁকে ফোন করেন। এলাকায় বীজ ধানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, বেগুনি রঙের ধানের বীজ পেতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গণমাধ্যমে এই ধানের প্রচার পাওয়ায় আগামী মৌসুমে কৃষকেরা এই ধান চাষ করতে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে কৃষক শাহিনুরের কাছ থেকে ৩ মণ বীজ বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিদিন বীজ নিতে অনেকেই ফোন করেন। আশা করছেন, আগামী বোরো মৌসুমে উপজেলায় বেগুনি রঙের ধানের আবাদে বিস্তার ঘটবে।

সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ালো তুরস্ক ও পাকিস্তান

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি তুরস্ক ও পাকিস্তানকে আরও গভীর মিত্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমরাস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে আঙ্কারা। একই সাথে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিময়ের কথাও ভাবছে দুই দেশ। আম্মান-ভিত্তিক আল বাওয়াবা নিউজে গত জুন ২৩ রোববার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রায় ৬০টি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং ২০০৩ সালে গঠিত তাদের সামরিক কনসালটেশান গ্রুপকে উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা কাউন্সিলে উন্নীত করা হয়েছে। চীনের পর তুরস্ক পাকিস্তানের দ্বিতীয়  বৃহত্তম সমরাস্ত্র সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। বৃহৎ বেশ কিছু উন্নয়ন অগ্রগতির ফলেই দুই দেশের সম্পর্কের এই উন্নতি হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সাবিনা সিদ্দিকী আল বাওয়াবাতে লিখেছেন, “আঞ্চলিক ভূ রাজনৈতিক চেহারার অবনতি হচ্ছে ক্রমাগত এবং সিরিয়ান গৃহযুদ্ধ এবং আরব বিশ্বে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে সঙ্ঘাতের কারণে সীমান্তে নতুন ঝুঁকির মোকাবেলা করতে হচ্ছে তুরস্ককে। দ্বিতীয়ত, বিগত কয়েক বছর ধরে তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মোটেই ভালো যাচ্ছে না”।
সিদ্দিকীর মতে, সিরিয়া এবং তুরস্কের সম্ভাব্য এস-৪০০ চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে আঙ্কারার মতভেদ তৈরি হয়েছে। আর আফগানিস্তানে অস্থিতিশীল যুদ্ধের কারণে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া আসন্ন তুরস্ক-পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্মেলনে আফগানিস্তানের সমস্যা সমাধানে আঙ্কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। তাছাড়া তুরস্কের সাথে ইউরোপিয় ইউনিয়নের সমস্যাসঙ্কুল সম্পর্কের কারণে বাইরে বন্ধুর সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে আঙ্কারা।
সিদ্দিকী বলেছেন, “কোন পক্ষ না নিয়ে এক ধরনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার মাধ্যমে আঙ্কারা তাদের পররাষ্ট্র নীতির মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষা করেছে এবং পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে এশিয়াতে তাদের শক্তি বাড়বে, বিশেষ করে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) যখন নতুন পথে চলার কথা ভাবছে”।
সিদ্দিকীর মতে, তুরস্ক নিজেকে ইসলামাবাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে। পাকিস্তান যখন নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে যোগ দেয়ার চেষ্টা করে বা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশান টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) যখন পাকিস্তানকে গ্রে লিস্টভুক্ত করেছিল, তখন একমাত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয় তুরস্ক।
সিদ্দিকী লিখেছেন, তুরস্কের সামরিক বাহিনী তাদের তিন বাহিনী থেকে আঙ্কারার পাকিস্তানী দূতাবাসে অ্যাটামে নিযুক্ত করেছে। তুরস্ক পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর এফ-১৬ জঙ্গি বিমান আপগ্রেড করার ব্যাপারেও সহায়তা করেছে।
২০১৮ সালে ইসলামাবাদ আঙ্কারার কাছ থেকে চারটি মিলজেম আদা কর্ভেট এবং ৩০টি তুর্কী এটিএকে হেলিকপ্টার কিনে। কর্ভেট বিক্রির বিষয়টি তুরস্কের সামরিক বিক্রির ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহত্তম রফতানি।
বিশ্লেষক ও পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর সাবেক পাইলট কায়সার তুফায়েল গত বছর বলেছিলেন যে, তুরস্ক ও পাকিস্তান শিগগিরই একসাথে মিলে যৌথভাবে নিজস্ব জেএফ-১৭ জঙ্গি বিমান তৈরি করতে পারে। এর পর তারা স্টেলথ ফাইটার বিমান তৈরির দিকে যেতে পারে।
সিদ্দিকী বলেন, ড্রোন তৈরির ব্যাপারে দুই দেশ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে এপ্রিলে তুরস্ক ও পাকিস্তানী সেনারা উজবেকিস্তানে উজবেক বাহিনীর সাথে যৌথ সন্ত্রাস বিরোধী মহড়ায় অংশ নেয়। গত এক দশকে পাকিস্তানের প্রায় ১৫০০ সামরিক কর্মকর্তা তুরস্কে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে পাচ্ছেন সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, “গত বছর এপ্রিলে ইস্তাম্বুল-তেহরান-ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য করিডোরের উদ্বোধন করা হয়। এই রুটটি ইরান, মধ্য এশিয়া, তুরস্ক ও ইউরোপকে যুক্ত করবে, যেটার বাণিজ্য সম্ভাবনা অপরিসীম”।

নারীদেহের ফাঁদ!

হানি ট্রাফ বা নারীদেহের ফাঁদ।  আর্জেন্টিনার বুয়েন্স এয়ারসের দুই যুবতী জিমেনা সোলাঙ্গে (২১) ও তারই বোন মাকারেনা অগাস্টিনা (২৩) এমনই ফাঁদ পেতেছিলেন। তাদের ফাঁদে ধরা পড়েছেন অনেক নারীলোভী পুরুষ। ফলে তাদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে ওই ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে হয়েছে। এমনই করে তারা কামিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার পাউন্ড। 
নিজেদের শরীরকে পুঁজি করে এমনই ফাঁদ পেতেছিলেন তারা। দলে সদস্য সংখ্যা মোট আট। এর মধ্যে বাকি ৬ জন পুরুষ। এদের মধ্যে আছে জিমেনার বয়ফ্রেন্ড টোপো ওজেদা।
দুই বোনের কাজ হলো পুরুষদের শিকার করে বিপথে পরিচালিত করা, তাদেরকে কোনো নিঃসঙ্গ স্থানে নিয়ে যাওয়া। বাকি কাজ ওই গ্যাংয়ের। তারাই চারপাশে ঘিরে থাকতো। শিকার তাদের ফাঁদে পা দিলেই অর্থদ- দিতে বাধ্য করতো তারা। এ জন্য তারা শিকার করা পুরুষকে অপহরণ করতো। মুক্তিপণ আদায় করতো। এই গ্রুপটি পাসো ডেল রে, মারলো, ইসিদ্রো কাসানোভা, লংচ্যাম্পস এবং ভিলা আলবার্তিনাতে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করতো। পুলিশ খবর পেয়ে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স এয়ারসের ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে পিনামার সমুদ্র সৈকতে একজন পুরুষকে শিকারে পরিণত করেছিলেন ওই দুই যুবতীর একজন। এরপর পরই তারা একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ বছরের মার্চে তারা ইতুজাইঙ্গোতে একটি বার-এ সাক্ষাত করতে রাজি হন। এতে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়, ওই যুবতীর বোন ও ওই পুরুষ ব্যবসায়ীর একজন বন্ধুর। তবে তাদের কারো নাম প্রকাশ করা হয় নি। ওই বার-এ তারা নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হন। প্রায় দুই ঘন্টা কেটে যায়। এক পর্যায়ে দুই বোনের মধ্যে একজন বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন।

বারে যোগ দেয়া পুরুষদের একটি গাড়িতে করে তারা যাত্রা করেন ওই যুবতীর বাসায়। বাসার কাছে গিয়ে একজন যুবতী সঙ্গের পুরুষদের একজনকে নেমে আসতে বলেন, যেন তিনি তাকে বিদায়ী চুমু দিতে পারেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র কয়েকজন পুরুষ তাদেরকে ঘিরে ফেলে এবং ওই পুরুষকে তাদের গাড়িতে আটকে ফেলে। তার কাছে দাবি করা হয় ২০ লাখ আর্জেন্টাইন পেসো বা ৩৬,৭৮০ পাউন্ড। নারীদেহের ফাঁদে পড়া ওই দুই পুরুষ জানান, তাদের কাছে অতো অর্থ নেই। তবে তাদের কাছে স্থানীয় মুদ্রায় অতো অর্থ নেই। তবে তাদের কাছে ছিল ৬০ হাজার ডলার। এ কথা শোনার পর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় পুয়ের্তো মাদেরোতে একটি ফ্লাটে। সশস্ত্র প্রহরা বসানো হয়। তাদের কাছ থেকে ওই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরই ওই দুই পুরুষকে মুক্তি দেয়া হয়। তাদের গাড়িটি পর্যন্ত নিয়ে যায় ওই গ্যাং। সঙ্গে নিয়ে যায় তাদের মোবাইল ফোনও।

এ ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা পুলিশে অভিযোগ করেন। ফলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এ অবস্থায় ওই গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে এমন ১০টি বাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দেন প্রসিকিউটর লিয়ানদ্রো ভেনট্রিসেলি। সেই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ওই ৬ পুরুষ ও দুই যুবতীকে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অপহরণ সহ আরো বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।

বালাকোটে একটিও ক্রিস্টাল মাজ ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়তে পারেনি ভারতের মিরেজ ২০০০ by সেনহেস এলেক্স ফিলিপস

পাকিস্তানের বালাকোটে হামলার সময় ইসরাইলের তৈরি এয়ার-টু-সারফেস ক্রিস্টাল মাস মিসাইলের একটিও ছুড়তে পারেনি ভারতের ছয়টি মিরেজ ২০০০ জঙ্গিবিমানের পাইলটরা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষেপনাস্ত্রগুলো ছোঁড়ার মতো কোন প্রটোকলই তৈরি করা হয়নি।
পুরো ঘটনা নিয়ে নিজস্ব এক তদন্তের পর ভারতীয় বিমান বাহিনী এখন ক্রিস্টাল মাজ ব্যবহারের জন্য ফায়ারিং প্রসিডিওর পরিবর্তন করতে যাচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে বালাকোট-ধরনের অপারেশন চালানো হলে কোন সমস্যা দেখা না দেয়।
বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন যে, স্পাইস-২০০০ বোমার সঙ্গে যদি ক্রিস্টাল মাজ ছোঁড়া যেতো তাহলে বোমাগুলো টার্গেটে আঘাত করার পর সেখান থেকে তারা লাইভ ভিডিও ফিড পেতেন।
কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের ছয়টি মিরেজ ২০০০ এয়ারক্রাফট নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘন করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ১৫-২০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে।
মিশন, আবহাওয়ার অবস্থা ও অন্যান্য প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম ফায়ারিং প্রসিডিওর রয়েছে। ভারতীয় বিমানগুলো যে পরিস্থিতিতে বালাকোটে হামলা করে সেখানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রসিডিওর ক্রিস্টাল মাজ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে প্রতিরক্ষা মহলের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
একটি সূত্র বলে, তাই মিসাইল ও বোমা হামলার প্রসিডিওর পরিবর্তন করা হচ্ছে যেন ভবিষ্যতে বালাকোট ধরনের বা অন্য কোন অপারেশনের সময় পাইলটরা এগুলো ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।
পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে ধ্বংস সাধনের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ হাজির করতে না পারা ভারতীয় বিমানবাহিনী জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দেয়। কারণ হামলায় কথিত জয়শে মোহাম্মদের যেসব অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে ভারত দাবি করেছিলো সেগুলো অক্ষত অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে।

জিসান হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: আজও সন্তানের অপেক্ষায় থাকেন মা by রুদ্র মিজান

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই পথ চেয়ে থাকেন মা বিবি হাজেরা। নিজ চোখে ছেলের নিথর দেহ দেখেছেন। দাফন করা হয়েছে তার বড় সন্তানকে। তারপরও প্রতীক্ষার শেষ নেই। খাওয়া-দাওয়ার দিকে খেয়াল নেই। মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে ‘জিসান জিসান, বাবা আমার’.. বলে শব্দ করে উঠেন তিনি। স্ত্রীর এই অবস্থা দেখে নীরবে কাঁদেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নিহত জিসানের পিতা সাব্বির হোসেন শহীদ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর এক নারীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে হত্যাকারীদের একজন। লোমহর্ষক সেই বর্ণনা।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন জিসান। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করতেন। এতেই দুর্বৃত্তদের নজরে পড়নে জিসান। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার লাল রঙের হাং মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করতে পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা অনুসারেই এতে অংশ নেয় তিন সন্ত্রাসী। শ্যামলী থেকে গাজীপুর যাওয়ার কথা বলে জিসানের মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে হাসিবুর রহমান। সেদিন ছিলো ১২ই মে। গাজীপুরের কামারজুরি পৌঁছার পর প্রায় সন্ধ্যা। জিসান তখন হাসিবুরের ভাড়া বাড়িতে। ওই বাড়িতে তার স্ত্রী সজনী ও আট বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। জিসনাকে সেখানে ইফতার করার প্রস্তাব দেয় হাসিবুর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে গিয়ে হাসিবুর জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুসারে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় হাসিবুরের স্ত্রী সজনী। ইফতার করার পর ক্লান্ত জিসান ঘুমিয়ে পড়ে। তারপরই ওই বাড়িতে উপস্থিত হয় হাসিবুরের বন্ধু শাওন ও নোমান।
বাসায় বসেই আড্ডা জমায় তারা। জিসানকে ছেড়ে দিলে বিপদ বাড়তে পারে। জিসানেরও বাড়িও গাজীপুরেই। তাই পরিকল্পনা করা হয় হত্যার। লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে তারা। ততক্ষণে ইয়াবা সেবন করে হাসিবুর, শাওন ও নোমান। এভাবে রাত প্রায় ১২টা। তারপরই শুরু করে কিলিং মিশন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই দড়ি দিয়ে জিসানের হাত, পা বাঁধা হয়। তারপর গলায় দড়ি প্যাঁচিয়ে টান দেয় হাসিবুর ও শাওন। পা ধরে রাখে নোমান। তখন চোখ মেলে তাকিয়েছিলো জিসান। মাথা তোলতে চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু তাকে আর কোনো চেষ্টার সময় দেয়া হয়নি। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ছয়টি ইট বস্তাতে ভরে দড়ি দিয়ে বেঁধে তা জিসানের কোমড়ে বাঁধা হয়। হত্যার পর হাসিবুরের ভাড়া বাসার সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয় লাশ। তারপর ট্যাংকটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এভাবেই জিসানকে হত্যা করা হয়।
ওদিকে ১২ই মে নিখোঁজ হন জিসান। বিভিন্নস্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না। এ ঘটনায় ১৬ই মে ডিএমপির শেরেবাংলানগর থানায় একটা সাধারণ ডায়রি করেন জিসানের পিতা। এতে তিনি উল্লেখ করেন ১২ই মে বিকাল ৪টার পর থেকেই জিসানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবাহর ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জিসানের মোবাইলফোনের অবস্থান নির্ণয় করে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে যায়। ২৩শে মে কামারজুরি এলাকা থেকে হাসিবুর রহমানকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে থেকে নিখোঁজ জিসানের মটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে একই দিনে সেপটিক ট্যাংক থেকে জিসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসিবুরের দেয়া তথ্যানসুারে গ্রেপ্তার করা হয় তার স্ত্রী সজনী, হাসিবুরের বন্ধু শাওন ও নোমানকে।
উল্লেখ্য, ইসমাইল হোসেন জিসান ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যয়ণরত ছিলেন। তিনি শ্যামলীর দুই নম্বর সড়কের ১৬/ডি বাসায় বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন। জিসান গাজীপুরের গাছা থানার কাথোরা গ্রামের সাব্বির হোসেন শহীদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বড়। তার মা বিবি হাজেরা ভাতের হোটেলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বাবা সাব্বির ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করেন। জিসানের পিতা সাব্বির বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো। সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে ওরা। আমি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যাতে আরও কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।

নীলফামারীতে বাড়ছে সবজি ও পাট চাষ, আগ্রহ কম ধানে

উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম ধান চাষ করে হতাশ কৃষকরা।বাম্পার ফলনের পরও  চলতি মৌসুমে নীলফামারীর ছয় উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ধানের বদলের জেলার কৃষকরা পাট ও সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
জেলায় চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান ওঠার সময় বিআর-২৮ ধানের দাম ছিল মণ প্রতি ৪৫০-৫০০ টাকা। বর্তমানে দাম একটু বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকায়। তবে এই লাভ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বোরো আবাদ করে ঘরে তোলার সময় ঋণ পরিশোধ, সার,বীজ ও সেচের টাকা ধান বিক্রি করে পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন কৃষকরা। এতে প্রতি বিঘায় তারা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লোকসান গুনছেন।
গত কয়েক বছর ধরে ধান আবাদে লোকসান হওয়ায় কৃষক পাটসহ সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। যে কারণে  গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৭৪৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ  হয়েছে। এ মৌসুমে জেলা কৃষি বিভাগের ১০ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হাড়োয়া শিমুলবাড়ী গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলামের জমিতে চাষ করেছেন  শসা, লাউ, করলা, চিচিঙ্গা, কাকরোল, জালি কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়াসহ নানা জাতের সবজি।
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে আমি ৪০-৪৫ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শসা, লাউ, করলা, কাকরোল, চিচিঙ্গা ও জালি কুমড়া আবাদ করি।ওই বছর সার, বীজ, সেচ, পরিচর্যা ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে আয়  হয় প্রায় ৭০-৭৫ হাজার টাকা। এবছর প্রায় ১২ বিঘা জমিতে সবজির চাষ করি। বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।  এক মৌসুমে ৬-৭ বার সবজি তোলা যায়। এবার দুই দফায় সবজি তুলে প্রায় তিন লাখ টাকা বিক্রি করেছি।’
কৃষকরা জানান, বর্তমানে বাজার দর অনুযায়ী ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠানো সম্ভব নয়। ধানের এই দর প্রভাব ফেলেছে আমন উৎপাদনের ওপর। যে কারণে  কৃষকরা ধান চাষে উৎসাহ হারিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা সবজি ও পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
জলঢাকার কৃষক হামের উল্লা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ধান চাষ করে তাদের লোকসান হচ্ছে।
একই এলাকার ভুবেন্দ্র নাথ রায় বলেন, প্রতি বছরেই লোকসানের মাত্রা বাড়ছে। বীজতলা থেকে শুরু করে, ধান রোপণ, নিড়ানী, সার, কীটনাশক ও সেচসহ ধান উৎপাদনে যে টাকা খরচ হয়েছে, সে তুলনায় দাম পাচ্ছি না। প্রতি বছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও আশানরূপ বাজার মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে কৃষককে প্রত্যেক মৌসুমেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
নীলফামারী সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শীতার পাঠ এলাকার খোকন মিয়া বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার মজুরিও বেড়েছে। এরপরে ধান মাড়াইয়ের খরচ তো রয়েছে। এত টাকা খরচের পরও ধানে লোকসান। তাহলে ধান লাগাবো কেন? পাট ও সবজি চাষ অনেক ভালো।
সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমানে সবজি ও পাট চাষ খুবই লাভজনক। ধান চাষ করে লাভ করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এলাকায় মাঠে মাঠে এখন পাট আর হরেক রকমের সবজি ক্ষেতের সমাহার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের  উপপরিচালক আবুল কালাম আযাদ বলেন, কৃষক ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এটা সঠিক নয়। প্রতি বছর ধানের দাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথা হলেও সময়মতো তারা ধান চাষের সব প্রস্ততি নেয়। এর একমাত্র কারণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধান আবাদ থেকে বিরত থাকতে পারে না কেউ। পাট কাটার পর ওই জমিতে কৃষক ঠিকই আমন চাষ করবেন। এ ব্যাপারে চিন্তার কারণ নেই।

কাশ্মিরে নাবালক আর বৃদ্ধদের আটকে রাখা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে দায়মুক্তি দিয়ে by উমর মনজুর শাহ

জম্মু ও কাশ্মিরে কঠোর পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (পিএসএ)-এর আওতায় আটক শত শত লোকের মধ্যে রয়েছেন ৭৫ বয়স্ক মোহাম্মদ সোবহান ওয়ানি ও ১৪ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম দার।
কাশ্মিরবিষয়ক গ্রন্থ লেখক ও ইতিহাসবিদ আশিক হোসাইন ভাট সাউথ এশিয়ান মনিটরকে বলেন, পিএসএ প্রবর্তন করেছিলেন ওই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবদুল্লাহ, ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিলে।
ভাট বলেন, ‘পাক-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ’ প্রতিরোধের নামে বিরোধীদের দমনের জন্য অ্যাক্টটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই অ্যাক্টের বলে সরকার কোনো কারণ না দেখিয়েই যেকোনো ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। আটকের মেয়াদ আবার দুই বছরের বেশিও বাড়ানো সম্ভব।
১৯৯০ সালে কাশ্মিরকে মুক্তির জন্য জঙ্গিরা আন্দোলন শুরুর পর থেকে সরকার পিএসএ’র ব্যাপক ব্যবহার করছে।
কেবল ২০১৮ সালেই এই আইনের আওতায় ৫ শতাধিক লোককে আটক করা হয়। ২০১৭ সালে সংখ্যাটি ছিল ৪১০, আর আধুনিক ইতিহাসে কাশ্মিরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বেসামরিক উত্তেজনার বছর ২০১৬ সালে কারাগারে পাঠানো হয় ২৩০ জনকে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে জঙ্গি নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর ২০১৬ সালের জুলাই মাসে কাশ্মিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এরপরের ছয় মাসের আন্দোলনে যায় ৯০টি প্রাণ, আহত হয় ১১ হাজার।
একই সময় সরকারি বাহিনী আপেল বাগান আর ধান ক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত উত্তর কাশ্মিরের সপোরে যায় ৭৫ বছর বয়স্ক মোহাম্মদ সোবহান ওয়ানির জন্য।
সাবেক সরকারি কর্মী ওয়ানি স্বাধীনতাকামী একটি সংগঠনের সাথে জড়িত। তার সংগঠন কাশ্মিরের পাকিস্তানের সাথে একীভূত চায়।
বৃদ্ধ বয়সের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ওয়ানিকে কয়েক দিন স্থানীয় থানায় আটকে রাখার পর জম্মুর কুথুয়া জেলায় নিক্ষেপ করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালে এখানকার তাপমাত্র ৫০ ডিগ্রি হয়ে যায়।
পরের বছরের মে মাসে ওই বৃদ্ধ লোকটি কারাগারে এক তরুণ সঙ্গী পান। তার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম দার। ওই অ্যাক্টের বলে আটক বালকটির বয়স তখন ছিল ১৪ বছর। তার বিরুদ্ধে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছিল। শিশু হিসেবে তার মুক্তির জন্য তার মা-বাবার বারংবারের অনুরোধ সত্ত্বেও পুলিশ তাকে আটকে রেখেছে, তারা তার বয়স ২২ বলে রেকর্ড করেছে। তার প্রকৃত বয়স হিসেবে স্কুল থেকে যে সার্টিফিকেট দিয়েছিল, পুলিশ তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
আটকের পর থেকে ওয়ানির ওপর পিএসএ আরোপ করা হয়েছে চারবার। তার ছেলে ফারুক আহমদ ওয়ানির মতে, আদালত তার বাবাকে তিনবার মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তার বিরুদ্ধে আরেকটি পিএসএ মামলা দায়ের করে আটকাদেশ অব্যাহত রাখা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০১১ সালে পিএসএকে ‘আইনহীন আইন’ হিসেবে অভিহিত করে। কার্যত এটি জম্মু ও কাশ্মিরের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার পরিপূরক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
চলতি বছর আরেকটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানায় যে জম্মু ও কাশ্মিরের কর্তৃপক্ষ পিএসএকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহার করছে। দায়মুক্তি দিয়ে শিশুদের আটক রাখা হচ্ছে। যথাযথ অবস্থা ও সুরক্ষা ছাড়াই পিএসএ নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই আইনের ফলে বন্দীরা জামিনে মুক্তিলাভ করতে পারে না। ফলে এই আইন ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে।
অ্যামনেস্টি জানায়, বন্দীদের প্রায়ই তাদের আটক-সংক্রান্ত সামগ্রী দেয়া হয় না, উপদেষ্টা বোর্ডের মধ্যে লুকোচুরি থাকে। অন্যায় আটকাদেশ ও নির্যাতন এবং খারাপ আচরণও অব্যাহত থাকে।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের হাই কোর্ট নিয়মিতভাবে আটকাদেশ বাতিল করে। কিন্তু নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যে দায়মুক্তি সুবিধা ভোগ করে, তাতে আদালতের করার আছে সামান্যই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করেছে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রয়োজন আস্থা পুনঃগঠনে।
শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট পারভেজ ইমরোজ বলেন, আঞ্চলিক আদালতগুলো নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে প্রকাশ করতে পারছে না। পুলিশও বিচারিক নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে নেয় না।
আইনজীবী ইমরোজের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আমার একটি মামলার কথাও জানা নেই, যেখানে আটককারী কর্তৃপক্ষকে অবৈধ নির্দেশের জন্য প্রশ্ন করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নাবালক, অক্ষম বা সহিংসতার সাথে বলতে গেলে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তিদেরও আটক করা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে অনেক মামলা গেলেও আটকের জন্য জরিমানার একটি ঘটনাও ঘটেনি।
ইমরোজ আরো বলেন, জবাবদিহিতা না থাকায় আটককারী কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়াগত রক্ষাকবচগুলো লঙ্ঘন করে থাকে। এখানে কেবল সশস্ত্র বাহিনীই দায়মুক্তি পায় না, বরং আমলারাও পেয়ে থাকে। আদালতগুলো পুরোপুরি চোখ বন্ধ করে রাখে।
ভারত বলে আসছে যে কাশ্মির হলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ১৯৭১ সালের পর ভারত এমনকি জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষকদেরও কাশ্মিরে প্রবেশ করার সুযোগ দিচ্ছে না।
কাশ্মির নিয়ে সঙ্ঘাতের সূচনা ১৯৪৭ সালে। এই সময় ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়। উভয় দেশই কাশ্মিরকে পূর্ণভাবে দাবি করে আসছে, তারা এ নিয়ে তিনটি বড় ধরনের যুদ্ধ ও অনেক ছোটখাট সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
তিন দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা ও সামরিক দমনের ফলে জঙ্গি, নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মিলিয়ে এক লাখ লোকের জীবন গেছে।

গণ্ডারের জুটি যখন ভেড়া by মোরশেদ মুকুল

গণ্ডারের জুটি যখন ভেড়া
ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার একটি খাঁচা। সেখানে বাস এক গণ্ডারের। এমনিতে এখানে অস্বাভাবিক কিছু মনে হবে না। অন্যান্য প্রাণীর মতোই আছে গণ্ডারটি। অবশ্য একাকী সে। তবে এটাও বিরল কিছু নয়। অনেক খাঁচাতেই এমনটি দেখা যায়। একটি বা দুটি প্রাণি বাস করে অনেক খাঁচায়। জুটির অভাবে অনেক প্রাণিই থাকে নিঃসঙ্গ। তবে গণ্ডারের খাঁচার সামনে গেলে চক্ষু ছানা বড়া হওয়ার মতো কান্ড। গণ্ডারের সঙ্গী করে দেয়া হয়েছে একটি ভেড়া। মিলমিশ ও ভাববিনিময়ও খারাপ নয়। গণ্ডার ঘাস চিবুচ্ছে, পাশে শুয়ে আছে ভেড়া। কোনো রকম হাঁক ডাক নেই। দুটি প্রাণী সবসময় থাকছে পাশাপাশি। এত দিনে ভাব আদান প্রদানও হচ্ছে তাদের মধ্যে। দর্শণার্থীদের কেউ পাশের লোককে জিজ্ঞেস করছেন আবার কেউ কোনো একটি মন্তব্য করে চলে যাচ্ছেন।
হাসিব বিল্লাহ নামের একজন দর্শনার্থী জানান, কর্তৃপক্ষ চাইলে একটি গণ্ডারের ব্যবস্থা করতে পারত। একই খাঁচায় ভেড়া আর গণ্ডার রাখায় দেখতে যেমন বেখাপ্পা লাগছে। আর নানাজনও বাজে সব মন্তব্য করার সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম জানান, গণ্ডারটি ২০১১ সাল থেকে একাকী। তার সঙ্গী মারা যাওয়ার শুরুতে নিঃসঙ্গতা দূর করতে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তার সাথে একই প্রজাতীর তৃণভোজী ভেড়া রাখা হয়েছে। গণ্ডার ব্যয়বহুল হওয়াতে জুটি ব্যবস্থা করারও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে আমরা ভারত থেকে গণ্ডার আনার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।
এরআগে ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি গণ্ডার আনা হয়। যার মালিক ছিলেন মেনেস নামের এক ব্যক্তি। ২০১৩ সালে অসুস্থ হয়ে মারা যান পুরুষ সঙ্গীটি। তাতে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দেয় স্ত্রী গণ্ডার কাঞ্চি। কোনো যত্ম আর সেবাই কাজ হচ্ছিল না। গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। কাঞ্চির প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে কাজের কাজ কিছুই হলো। পরে যোগাযোগ করা হলো মেনেসের সাথে। মেনেস জানান, তিনি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এলে চিড়িয়া খানায়ও ঘুরে আসবেন। যেই কথা সেই কাজ। মেনেস দেশে এলে সোজা দেখতে আসেন কাঞ্চিকে। বুঝতে পারেন কাঞ্চি একাকিত্বে ভুগছে। দীর্ঘ সময় দেখাশুনার পর সংশ্লিষ্টদের পরমার্শ দেন কাঞ্চির খাচায় যেন একটি তৃণভোজী কোনো প্রাণী দেয়া হয়। না হলে সে এভাবেই মারা যাবে।
তার পরামর্শে কাঞ্চির খাচায় একটি স্ত্রী গাড়ল ভেড়া দেয়া হলো। তাতে নিঃসঙ্গতার অবসান হলো কাঞ্চির। চলাফেরা শুরু হলো, খেতে লাগল আবার।
এখন তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে সখ্যতা। দুজন পাশাপাশিই থাকে সব সময়। ঘুমও পাশাপাশি। এখন তারা একে অপরের সুখ দুঃখের সাথী। জুটি অসম হলেও গড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে প্রেম।

এবারও চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা by এম ইদ্রিস আলী

চায়ের উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত এবং চমৎকার আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করায় আশাতীত উৎপাদন চা শিল্পে সাফল্য ধরা দিয়েছে। চা বান্ধব আবহাওয়ায় খুশি সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃষ্টিপাতও শাপে-বর হয়েছে চা শিল্পে। চলমান উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণের চা উৎপাদনের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে দেশের চা-শিল্প। এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই চায়ের জন্য অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক অবস্থা বিরাজ করছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকলে এবার চায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি পরিমাণ চা উৎপন্ন হবে।
বিটিআরআই সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে চা উৎপাদন মৌসুমে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৮২ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি। তবে বাংলাদেশ চা বোর্ড ২০১৮ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৭২ দশমিক ৩ মিলিয়ন কেজি। এর দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে দেশের চা শিল্পের ১৬২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল ৮৫ দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন কেজি।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমানে চা চাষ হচ্ছে দেশের ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে। চায়ের উৎপাদন বাড়াতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করায় গত তিন বছরে গড়ে ১২ হাজার মিলিয়ন কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে।
বাংলাদেশের চা-সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান জিএম শিবলী বলেন, খরার শঙ্কা নেই। প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতে চা বাগানগুলোতে প্রাণ ফিরেছে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে চা উৎপাদনে সাফল্য অক্ষুণ্ন থাকবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের (পিডিইউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক বলেন, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন কেজি। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার চা উৎপাদন ৯০ মিলিয়ন কেজি অতিক্রম করবে। আমরা আশা করছি, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকলে অতীতের চা উৎপাদনের সব ধরনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এক পরিসংখ্যান টেনে ড. একেএম রফিকুল হক বলেন, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন কেজি। অথচ চলতি মৌসুমের এই এপ্রিল মাসেই চা উৎপাদন হয়েছে ৮ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি হয়েছে। অর্থাৎ গতবারের থেকে শতকরা ৫৯ ভাগ বেশি।
এর কারণ জানতে চাইলে ড. একেএম রফিকুল হক বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ছাড়াও চা আবাদযোগ্য জমির আড়াই পার্সেন্ট হারে বাধ্যতামূলক প্রায় প্রতিটি বাগানে চা সমপ্রসারণ, চা চাষের সমপ্রসারণে বাগানগুলোর প্রতি ব্যাপক মনিটরিং, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদির পর্যাপ্ততা, সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রাপ্তি, ক্লোন চা গাছের ব্যবহার বৃদ্ধি, রপ্তানি যাওয়া এবং সর্বোপরি চা বোর্ডের যথাযথ নজরদারির কারণে এবার দেশে এই চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে অতীতে চা উৎপাদন ছিল অনেক বেশি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। যেকোনো পেশার মানুষের আপ্যায়নের প্রথম পছন্দে স্থান পায় চা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ব্যাপক হারে চায়ের চাহিদা। আগের তুলনায় উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না দেশে উৎপাদিত চা।

মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত নিরাপত্তা পরিষদের by পরম-প্রীত সিং

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২৬ জুন ঘোষণা করেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দু’দফা সহিংসতার সময় যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা তদন্তের জন্য এই আদালতের বিচারকদের কাছে অনুরোধ করবেন প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা। আইসিসির সদস্য নয় মিয়ানমার। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও তাদের বিরুদ্ধে বিচার করা যাবে বলে গত বছরে এই আদালত নিশ্চিত করেছে। কারণ, যেসব ঘটনা ঘটেছে তার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ এবং ২০১০ সালের জুন থেকে আইসিসির সদস্য বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের সব অপরাধের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। নির্যাতনের এসব তথ্যপ্রমাণ ভবিষ্যত বিচারে ব্যবহার করা হবে। জাতিসংঘের ওই কমিটি গঠনের পরে রাখাইনে নির্যাতনের শিকার, বেঁচে থাকা মানুষ ও তাদের পরিবারের পক্ষে প্রসিকিউটরের উদ্যোগ ন্যায়বিচারের পক্ষে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া। নির্যাতিত এসব মানুষ ও পরিবারের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।
এখন পর্যন্ত মিয়ানমার ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে যে প্রহসনমুলক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ দুটি উদ্যোগই তা থেকে দ্রুত স্বস্তি দেবে। মিয়ানমার নৃশংসতার অভিযোগ তদন্তে নামমাত্র কমিশন গঠন করেছিল। ডিসেম্বরে সেই কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পায় নি কমিশন।  ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের নারী অধিকার বিষয়ক কমিটিতে মিয়ানমার বলেছে, ২০১৭ সালে অপারেশন চালানোর সময় সেনাবাহিনী নৃশংস ও ব্যাপক যৌন সহিংসতা চালিয়েছিল বলে যে ‘উদ্ভট অভিযোগ’ আছে তার পক্ষে কোনোই তথ্যপ্রমাণ নেই। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ নিজেরাই তদন্ত করে সেনাবাহিনীর নিজেদের সৃষ্ট সামরিক আদালত। তারাও তদন্ত করে একই রকম রিপোর্ট দেয়। এতে জবাবদিহিতা না থাকার যে রেকর্ড আছে মিয়ানমারে, সেখান থেকে তারা তাদের বিচার করে।
কিন্তু মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার যে দীর্ঘ তালিকা আছে তার প্রেক্ষিতে আরো বড় পদক্ষেপ দাবি করা যেতে পারে। জাতিসংঘ নিয়োজিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডাররা গত আগস্টে তাদের রিপোর্টে বলে যে, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে গণহত্যা এবং রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং সহ শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার করা উচিত। যদি আইসিসির প্রসিকিউটরের প্রস্তাবিত তদন্ত সামনে অগ্রসর হয় তাহলে তিনি এসব অপরাধের বেশিরভাগের নাগাল পাবেন না। কারণ, এগুলো সংঘটিত হয়েছে মিয়ানমারের ভিতরে।
যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারের এই পুরো বিষয়কে আইসিসিতে পাঠানো, তবু ঠিক এই মুহূর্তে তা একেবারেই ঘটবে না বলে মনে হয়। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের উল্লেখযোগ্য সদস্য চীন ও রাশিয়ার এতে বিরোধিতা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সহ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারকে আইসিসিতে পাঠানোর জন্য অব্যাহতভাবে আহ্বান জানানো। এটা করে মনোযোগ রাখতে হবে তাদের ওপর, যারা একই মতের সঙ্গে রয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উচ্চমূল্য দিতে হবে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের অকার্যকারিতার কারণে নিয়মের তোয়াক্কা করে না এমন ব্যক্তি বা রাষ্ট্রকে ফ্রি পাস দেয়া যাবে না। মিয়ানমারে সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধের দায়মুক্তি দেয়া থেকে নিরাপত্তা পরিষদকে
দায়মুক্তি দেয়া যেতে পারে না।
(পরম-প্রীত সিং, অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস প্রোগ্রাম। তার এ লেখাটি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মূল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত)

বাহা’ই সম্প্রদায়: বাংলাদেশে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ by শফিক রহমান

বাংলাদেশে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে হেফাজতে ইসলামসহ দেশের আলেম সমাজ যখন আবারো মাঠে নেমেছেন তখন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাহা’ই ধর্মালম্বীদের যে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে জানাতে বলেছে দেশটির জাতীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি বাহা’ইদের নেতৃস্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাহা’ইরা নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে নেই। তারপরও যে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে জানালে নিরাপত্তা দেয়া হবে।
বাহা’ইদেরও বিশ্বাস- নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে নেই তারা। তা তাদের ধর্মের বাণী প্রচার, অনুষ্ঠান আয়োজন কিংবা অবাধে চলাচল কোনটাতেই নয়। তারপরও সরকারের এ ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসে অনেকটাই নিশ্চিন্ত বাংলাদেশের ক্ষুদ্র সম্প্রদায়।
এদিকে গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের স্টেডিয়াম মাঠে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফী কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের সভাপতিত্বে সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ আহমেদ শফী বলেন, ‘তারা মুসলমান নয়, তারা অমুসলিম। তাদের যারা অমুসলিম মনে করে না তারাও অমুসলিম। আহমদিয়ারা আমাদের শেষ নবীকে মানে না, সুতরাং তারা কাফির। যারা তাদের কাফির মানে না তারাও কাফির। আহমদিয়া ছেলেদের সঙ্গে মুসলমানদের কোনও মেয়েকে বিয়ে দেবেন না, আহমদিয়া মেয়েদেরও কোনও মুসলমান ছেলে বিয়ে করবেন না। আল্লামা শফীর পক্ষে লিখিত ওই বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে আনাস মাদানী।
গোলাম আহমদ কাদিয়ানির অনুসারিরা স্থানীয়ভাবে ‘আহমদিয়া’ বা ‘কাদিয়ানি’ নামে পরিচত। মুসলমান প্রধান বাংলাদেশে এই কাদিয়ানিদের মতো বাহা’ইরাও আরেক সংখ্যালঘু ধর্মবিশ্বাসী। এর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে- ‘তারা নিভৃতচারীও’। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মুসলমানদের প্রায় কাছাকাছি। নামাজ আছে (বিশেষ পদ্ধতিতে), রোজা আছে, রোজার শেষে ঈদের মতো অনুষ্ঠানও আছে। কিন্তু সব আচার অনুষ্ঠান পালন ও আয়োজন সবই হয় নিভৃতে।
বাংলাদেশ অংশের প্রথম যারা এই বাহা’ই ধর্মের বাণী ধারন করেন তারাও ছিলেন মুসলমান। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন স্থানীয় হিন্দু, উপজাতিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির মানুষ। বর্তমানে বাংলাদেশে বাহা’ইদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।
ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮৪৪ সালে ইরানের বা’ব এবং বাহা’উল্লাহ নিজেদেরকে ঈশ্বরীয় অবতার ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা ইরান সরকার, ধর্মীয় নেতৃবর্গ ও জনগণকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। ১৮৫০ সালে তাদের হাতে নিহত হন বা’ব। ১৮৬৩ সালে বাহা’উল্লাহ ইরাকের বাগদাদের রিজওয়ান উদ্যানে ঘোষণা করেন- তিনিই সকল যুগের ‘প্রতিশ্রুত মহাপুরুষ’, যার জন্য শত শত বছর ধরে মানুষ অপেক্ষা করছে।
পরে বাহা’উল্লাহ তার বাণী প্রচারের জন্য সুলেমান খান-তুনুকাবানিকে (জামাল এফেন্দী) ভারতে পাঠান। ১৮৭৬ সালে জামাল এফেন্দী বোম্বে পৌঁছান এবং ভারতীয় উপমহাদেশে তার মাধ্যমে বাহা’ই হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ মুস্তফা রুমি। যার জন্ম কারবালায়। কিন্তু তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে ভারতে আসেন এবং মাদ্রাজে কাশ্মীরী উল ও শাল ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে জড়িত করেন। পরে তিন বার্মায় নিযুক্ত হন বাহা’ই ধর্ম প্রচারে। ওখানেই তার হাত ধরে বাহা’ই ধর্মের বাণী ধারন করেন বাংলাদেশ অংশের বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে শুরুর দিকে অর্থাৎ বিংশ শতাব্দির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে যারা দীক্ষা নেন তারা হলেন, মোহাম্মদ ইসহাক, শেখ আলিমুদ্দিন মিস্ত্রি, মৌলভী সুলতান গাজী, আমিরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, কামাল মিঞা সওদাগর, আব্দুল আলিম, সফদার আহমেদ, সাফিউল ইসলাম খান এবং শাহ আলম চৌধুরী। এদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ ইসহাকের বাড়ি ছিল ময়মনসিংহে। বাকিরা চট্টগ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন বার্মায়।
বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে বাহা’ইর জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ। এছাড়া বরিশাল, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে রয়েছে ছয়টি আঞ্চলিক আধ্যাত্মিক পরিষদ। এর মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে অধিক সংখ্যক বাহা’ইদের বসবাস।
সম্প্রতি কথা হচ্ছিল বাহা’ইর জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদের সদস্য টিউলিপ চৌধুরীর সঙ্গে। যিনি রংপুরের বাসিন্দা এবং ১৯৯২ সালে হিন্দু ধর্ম থেকে বাহা’ই ধর্মের দীক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামগুলোতেও বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছেন বাহা’ইর অনুসারিরা। টিউলিপ চৌধুরী জানান, পাঁচ ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি এবং তার ছোট ভাই বাহা’ইর দিক্ষা নিয়েছেন, বাকিরা সবাই হিন্দু ধর্মই পালন করছেন। কিন্তু পরিবার কিংবা সমাজ বা গ্রাম কোন দিক থেকেই তারা বাধার সম্মুখীন হননি। এমনকি নিজের দুই সন্তানের কে কোন ধর্মের বিশ্বাসী হবেন সে বিষয়েও তার কোন কড়াকড়ি নেই। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম প্রগতশীল। যুগে যুগে আসবে। আমরা আমাদের যুগে বাহা’ই ধর্মের বাণী প্রার্থনায় বিশ্বাস এনেছি।”
টিউলিপ চৌধুরী আরও জানান, তিনি যখন বাহা’ই ধর্মে বিশ্বাস আনেন তখন তিনি মাধ্যমিক স্তর শেষ করে মাত্র কলেজে যাচ্ছেন। ওই সময়ই একদিন তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন রাজশাহীর একজন এবং বিদেশি কয়েকজন ট্রাভেল টিচার (ভ্রাম্যমান ধর্ম প্রচারক)। তাদের কথায় মুগ্ধ হয়ে তিনিসহ আশপাশের কয়েকজন বিশ্বাস আনেন।
কিন্তু বর্তমানে বাহা’ইর বাণী প্রচার শ্লথগতিতে চলছে। আশি বা নব্বইয়ের দশকের মতো আসছেন না ট্রাভেল টিচাররা। কার্যক্রমও অনেকটা সীমিত ঘরোয়া কেন্দ্রীক শিশুক্লাস, কিশোর ক্লাস ও প্রাপ্তবয়স্কদের অধ্যায়ন চক্রের মধ্যে। যদিও একসময়ে বাংলাদেশে এসেছেন ইরাক, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, মৌরিশাস, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ইটালি ও ভারত থেকে। সবচেয়ে বেশি এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেকে।
এদের মধ্যে ইয়েমেনের বাহমান মোগাদ্দাস ইরানী ট্রাভেল টিচার হিসেবে ১৯৬৯ সালে ঢাকায় আসেন। ওই সময় ঢাকায় কোন বাহা’ই কেন্দ্র ছিল না। কয়েকজন ইরানী তরুণ বাহা’ইয়ের বাসভবনই বাহা’ই কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হতো এবং ঢাকাস্থ বাহা’ইদের বসবাস ছিল মূলত মিরপুর ও শান্তি নগরে। ১৯৭১ সালে বাহমান মোগাদ্দাস করাচি গিয়ে সিমিন নামের একজনকে বিয়ে করে ফিরে আসেন এবং ওই সময়ই শান্তিনগরের সার্কিট হাউজ রোডের বর্তমানের জাতীয় বাহাই কেন্দ্রটি কেনা হয়। ১৯৭২ সালে গঠিত হয় জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের আক্কায় বাহা’উল্লাহর কবরকে ভিত্তি ধরে বাহা’ইদের কেবলা ঠিক করা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের বাহা’ইদের কেবলা উত্তর-পশ্চিম কোন বরাবর। তিন পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে প্রার্থনা। যে কোন বাহা’ই যে কোন একটি পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন। আর মাস গুনছেন ১৯ দিনে। তাতে ৩৬১ দিনে ও ১৯ মাসে বছর। বাড়তি চার দিনকে ইন্টার ক্যালারি ডে হিসেবে পালন করা হয়। বাহা’ই ক্যালেন্ডারের বছর শুরু ২১ মার্চ। প্রতি বছর ২ মার্চ থেকে ২০ মার্চ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করে। ২১ মার্চ ঈদ ও নববর্ষ। যাকে বলা হচ্ছে ‘নওরোজ’। ওই দিন ৩টা থেকে ৩.১৫টার মধ্যে ঈদের ও নওরোজের প্রার্থনা করা হয়।
মাশরিকুল আযকার বা বাহা’ই উপাসনালয়
বর্তমানে উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান, বার্মাসহ প্রায় সব দেশেই বাহা’ই অনুসারিরা রয়েছেন। তবে মাত্র ভারতে রয়েছে তাদের উপাসনালয়। যাকে তারা বলছেন ‘মাশরিকুল আযকার’। ১৯৮৬ সালে দেশটির নয়া দিল্লির কাছে বাহাপুরে উপাসনালয়টি নির্মিত হয়। যদিও ১৯৮৩/৮৪ সালের দিকে ঢাকার অদূরে সাভারের কলমা এলাকায় ৮১ শতাংশ জমি কেনা হয়। পরিকল্পনা ছিল ওর আশপাশের সব মিলিয়ে ২০ একর জমি কিনে সেখানে নির্মাণ করা হবে মাশরিকুল আযকার। কিন্তু জমির স্বল্পতার কারণে সেই সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে ক্যাম্বোডিয়ায় এবং সর্ব শেষ ২০১৮ সালে কলাম্বিয়াতে নির্মিত হয়েছে বাহা’ইদের উপাসনালয় মাশরিকুল আযকার।
গুলিস্তান’ই যাভেদ বা কবরস্থান
পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত সেদিনের খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদের সম্মেলনে শাহ আহমেদ শফী আহমদিয়াদের কোনও প্রকার সাহায্য না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আহমদিয়াদের মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না।’ তবে এ সমস্যা বাহা’ইদের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে, বিশেষ করে ঢাকায় যারা বসবাস করছেন। জানা গেছে, তারা আজিমপুর কবরস্থান ব্যবহার করছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে হয়। এছাড়া সাভারের কমলাতে উপাসনালয়ের জন্য নির্ধারিত জমির পাশেই ৩১ শতাংশ জমি কেনা আছে কবরস্থানর জন্য। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে মোহাম্মদপুরে নবনির্মিত কবরস্থানের পাশে এক খণ্ড জমি চাওয়া হয়েছে বলে জানান টিউলিপ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
এ ধরনের ছোট খাটো নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বাংলাদেশের বাহা’ইরা নিরাপদ ও নিশ্চিন্তেই তাদের আচার অনুষ্ঠানগুলো পালন করে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো।