Friday, November 27, 2015
৩ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা
![]() |
| দাফনের সময় নিহতের স্বজনদের আহাজারি |
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সেনারা পশ্চিমতীরের রামাল্লার কাটানি গ্রামে অভিযান চালায়। ইসরাইলি সেনাদের দাবি, এসময় বাসিন্দারা তাদের লক্ষ্য করে ইট ও পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। এসময় তারা গুলি চালালে ২১ বছরের এক যুবক মারা যান।
অপর ঘটনাটি ঘটে নাবলুসের কাছ এক সেনা চৌকিতে। সেখানে ইসরাইলের আধাসামরিক বাহিনী এক মধ্য বয়স্ক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতের বয়স ৫১ বছর বলে জানায় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
ইসরাইলি পুলিশ দাবি করে, ওই ব্যক্তি তাদের উপর ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিল।
তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে হেবরনের কাছে আল-আরৌব শরণার্থী ক্যাম্পে। সেখানে সংঘর্ষের সময় ২০ বছরের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্টাফদের পরিবারকে দেশে ফেরার পরামর্শ
বাংলাদেশে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন আইএসের দায় স্বীকারের খবরের মধ্যে আজ শুক্রবার এদেশে থাকা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য হলনাগাদ করা সতর্কবার্তায় এ কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ বগুড়ায় শিবগঞ্জের হরিপুরে একটি শিয়া মসজিদে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় হতাহতের ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে খবর প্রকাশের পর এই সতর্কতা হালনাগাদ করা হল।
তবে বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রায় পরিবর্তন না এনে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য দেয়া বার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি ও অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে দুটি টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তা স্থগিত করে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। তারপর বিদেশীদের ওপর আক্রমণসহ বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর জন্য আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের সময় কিচক ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আল মোস্তফা মসজিদে অজ্ঞাত তিন বন্দুকধারী হামলা চালায়। এতে মসজিদের মুয়াজ্জিন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।
মসজিদে হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত ব্রিটিশ হাইকমিশনার : বগুড়ার কাছে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের ওপর আক্রমণে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন।
আজ দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চার সময় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। ঘটনায় হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ধারাবাহিক সহিংস চরমপন্থার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। প্যারিস, মালি ও বৈরুতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে কোনো দেশই এ ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষিত নয় এবং আসন্ন হুমকী মোকাবেলা ও সহিংস চরমপন্থার মূল কারণ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সামরিকায়ন ও মুসলিমবিরোধী নীতি by বেন নর্টন
নাইন-ইলেভেনের পর যখনই বেসামরিক কোনো হামলা হয়েছে, জননেতারা সাথে সাথে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন মুসলমানদের। তাদের হাতে তেমন কোনো প্রমাণ থাকে না, কিন্তু মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামির স্থূলবুদ্ধিকেই তারা ব্যবহার করেন তাদের অভিযোগকে জোরদার করতে। অথচ সত্যিকারের প্রমাণ অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যেসব সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, তার দুই শতাংশেরও কম ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০১৩ সালে ১৫২টি সন্ত্রাসী হামলার মাত্র ১ শতাংশ ছিল ওই প্রকৃতির, ২০১২ সালে ২১৯টি সন্ত্রাসী হামলার ৩ শতাংশেরও কম ছিল ধর্মীয়ভাবে উদ্দীপ্ত।
বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসী হামলাগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। ২০১৩ সালের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৫৫ শতাংশ ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী, ২০১২ সালে তিন-চতুর্থাংশ (৭৬ শতাংশ) সন্ত্রাসী হামলা ছিল জাতিগত-জাতীয়তাবাদ কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রণোদিত। কিন্তু এসব তথ্য পূর্বধারণায় বশীভূত পণ্ডিতদের তাদের নিজস্ব মতবাদে অনড় থাকা থেকে নড়াতে পারছে না।
গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে জঙ্গিদের কয়েকটি জঘন্য হামলায় অন্তত ১৩০ জনের মতো নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনার ব্যাপারে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ায় কয়েকটি স্তরের ভণ্ডামি রয়েছে। এসব নৃশংস হামলা সৃষ্টির বৃহত্তর প্রোপট বোঝা এবং চূড়ান্তভাবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের হামলা আর না হয়, সে জন্য এই ভণ্ডামিগুলোকে নিখুঁতভাবে শ্রেণিবিন্যস্ত করতে হবে।
চরমপন্থার সুযোগ গ্রহণ
হামলাগুলোর খবর প্রকাশের সাথে সাথে, যখন কোনো প্রমাণ ছিল না এবং হামলাকারীদের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তথ্য ছিল না, তখন ডানপন্থী মহা মহা পণ্ডিতেরা সাথে সাথে মুসলমানদের এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা উদ্বাস্তুদের ভয়ঙ্কর হিসেবে তুলে ধরতে এই সহিংসতাকে তাদের সাথে জড়িয়ে ফেলার সুযোগটি লুফে নিলেন।
হতাহতের শিকারদের চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নেতারা একযোগে চিৎকার করে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে এবং এমনকি সেগুলো অস্বীকার পর্যন্ত করার জন্য নৃশংস হামলার সুযোগটি কাজে লাগাতে মেতে ওঠেন। তারা সোজাসুজি মৌলিক নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ কর্মী, ন্যূনতম মজুরি দাবিকারী ফাস্টফুড শ্রমিক এবং ঋণের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা অবস্থা থেকে মুক্তি কামনাকারী শ্রমিক ইউনিয়ন ও ছাত্রদের বলে বসেন, তোমাদের সমস্যাগুলো খুবই তুচ্ছ। কারণ তোমরা বন্দুকের মুখে পণবন্দী নও।
আরো গুরুতর ব্যাপার হলো, যখন প্রমাণ পাওয়া যেতে শুরু করল যে, এই হামলার জন্য চরমপন্থীরা দায়ী এবং যখন আইএসআইএস দায় স্বীকার করল, তখন নেতারা বলে বসলেন, ১৬০ কোটি মানুষের ধর্ম ইসলামের ওপর সব দোষ বর্তাবে এবং মুসলিম উদ্বাস্তুরা (তাদের বেশির ভাগ মুসলমান হলেও সবাই নয়) প্রধানত এ ধরনের হামলা চালানোর জন্যই পাশ্চাত্যে প্রবেশ করছে।
মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের পীড়ন
যখনই ইসলামি চরমপন্থীরা কোনো হামলা চালায়, তখনই ১৬০ কোটি মুসলমানের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে মা প্রত্যাশা করা হয়, এই পর্যায়ে এটা জমাট বাঁধা ধারণায় পরিণত হয়ে গেছে।
মুসলমান ও উদ্বাস্তুদের ওপর পীড়ন চালিয়ে কারা উপকৃত হচ্ছে? এতে উপকৃত হয় প্রধানত দুটি গ্র“প : এক. খোদ চরমপন্থী গ্র“পগুলো। তাদের মতে, দমন-পীড়ন এটাই ‘প্রমাণ’ করে যে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই। দুই. ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থীরা। তাদের মতে, হামলা এটাই ‘প্রমাণ’ করে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সেকুলার পাশ্চাত্যে দৃশ্যত মুসলমানদের কোনো স্থান নেই।
তারা যদিও পরস্পরের শত্র“, কিন্তু উভয় গ্র“পের মধ্যে এ ব্যাপারে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। উগ্র ডানপন্থীরা চায় মুসলমান এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর উদ্বাস্তুরা (এমনকি যদি তারা মুসলমান না-ও হয়) পাশ্চাত্য ত্যাগ করুক। তাদের মতে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস সন্ত্রাসী। ইসলামি চরমপন্থীরা চায় মুসলিম উদ্বাস্তুরা চলে যাক, যাতে তারা চরমভাবাপন্ন হয়ে তাদের খিলাফতে যোগ দেয়।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, জোর গলায় বলে দেয়া যায় যে, মুসলিম ও উদ্বাস্তুদের ওপর দমন-পীড়নে ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন লাভবান হতে থাকবে এবং মুসলিমবিদ্বেষী ও উদ্বাস্তুবিরোধী প্রপাগান্ডার মাধ্যম নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা অব্যাহত রাখবে।
আইএসআইএস প্রকাশ্যেই বলেছে, তাদের ল্য হলো তাদের কথিত ‘গ্রে-জোন’-এর (বলা যেতে পারে পাশ্চাত্যে মুসলমানদের গ্রহণ করা) বিলুপ্তিসাধন। আইএসআইএসের নিজস্ব প্রকাশনায় বলা হয়েছে, গ্রে-জোন বিলুপ্তির ভয়ঙ্কর কাজ শুরু হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বরের ‘বরকতময়’ অভিযানের মাধ্যমে। এসব অভিযান পৃথিবীর মানুষের কাছে দু’টি শিবিরকে তুলে ধরেছে : একটি হলো ইসলামের শিবির, অপরটি হলো কুফরের শিবির (ক্রুসেডার জোট)।’
পাশ্চাত্যের উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামি চরমপন্থীদের স্বার্থ একাকার হয়ে গেছে। আইএসআইএস সুস্পষ্টভাবেই যে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, তাতে কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশএবং তার একগুঁয়ে শত্র“ আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মনের কথাই বলা হয়েছে। আইএসআইএস লিখেছে : “শায়খ ওসামা বিন্ লাদেন যেভাবে বলেছেন, ‘বিশ্ব আজ দুই শিবিরে বিভক্ত;’ বুশ যখন বলেন, তোমরা আমাদের সাথে কিংবা তোমরা সন্ত্রাসীদের সাথে’ তখন তিনি সত্য কথাই বলেন।’ অর্থাৎ হয় তুমি ক্রুসেডারের সাথে কিংবা ইসলামের সাথে।”
আইএসআইএসকে ভাইরাস হিসেবে চলার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে আমরা স্রেফ তাদের ধর্ষকামী ল্যগুলো পূরণ করতে সহায়তা করছি।
এ দিকে ফরাসি উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছে। জনৈক নব্য নাৎসির গঠিত দলটিকে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার বিচ্ছেদপ্রাপ্তা মেয়ে ম্যারিন লি পেন। তিনি মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন; ভণ্ডামির সাথে তাদের নাৎসি দখলদার হিসেবে অভিহিত করছেন। ন্যাশনাল ফ্রন্টকে ‘ফ্যাসিবাদী’ দল বলা যুক্তিসম্মত বলে ২০১৪ সালে প্যারিসের একটি আদালত রায় দিয়েছিল।
প্যারিস হামলার আগে লি পেনের উগ্র ডানপন্থী আন্দোলন ছিল ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। এখন তারা হয়তো প্রথম দলে পরিণত হয়ে গেছে।
যে গণহত্যাগুলো উপো করা হয়
ইউরোপে প্রতি বছর শত শত হামলা হয়ে থাকে। তবে কেবল সেগুলোই প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যেগুলো মুসলমানেরা ঘটায়, যেগুলো জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডান চরমপন্থীরা চালায় সেগুলো নজরে আসে না, যদিও সেগুলোই অনেক বেশি ঘটে থাকে।
অবশ্য কেবল ডানপন্থী পণ্ডিত আর মিডিয়াই প্যারিস হামলার মতো ঘটনাগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয় না, রাষ্ট্রপ্রধানেরাও তা করেন। প্যারিস হামলার কয়েক মিনিট পরই প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ আর প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্বের সামনে বক্তব্য রাখেন, প্রকাশ্যে ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাকে ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর মাত্র এক দিন আগে আরেকটি নৃশংস হামলা হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে ঘিরে সরকারি নীরবতা ছিল লণীয়। ১২ নভেম্বর শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত বৈরুতে আইএসআইএসের আত্মঘাতী বোমারুরা অন্তত ৪৩ জনকে হত্যা এবং অন্তত ২৩০ জনকে আহত করেছিল। প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্ববাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেননি এবং কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওই বোমা হামলার নিন্দা করেননি।
বস্তুত, বিপরীতটাই ঘটেছে। মার্কিন মিডিয়ায় আইএসআইএস হামলার শিকার যারা, তাদের হিজবুল্লাহর মানব ঢাল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দুর্ভাগ্যজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তাই এ জন্য তারাই দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ডানপন্থী পণ্ডিত এই হামলা যৌক্তিক বলে অভিহিত করে বলেছেন, হামলাটি সম্ভবত হয়েছিল হিজবুল্লাহকে ল্য করে।
গত অক্টোবরে তুরস্কে কুর্দিপন্থী একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলায় ১২৮ জনের নিহত এবং ৫০০ লোকের আহত হওয়ার খবরেও হোয়াইট হাউজ বিচলিত হয়নি।
আরো অবাক ব্যাপার হলো, রাষ্ট্রপ্রধানেরা তখন কোথায় ছিলেন যখন কোয়ালিশন বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জন নারীসহ ১৩১ জন নিরীহ লোককে হত্যা করল? ওই হত্যাকাণ্ডের খবর তেমন প্রচারিত হয়নি, ওবামা ও ওলাঁদ মা চাননি।
ফরাসিদের জীবন কি লেবাননি, তুর্কি, কুর্দি ও ইয়েমেনিদের চেয়ে বেশি দামি? এসব হামলা কেন ‘জঘন্য, শয়তানি ও ইতরামিপূর্ণ কাজ’ হবে না?
অদ্ভুত মিল
আমরা এসব আগেও দেখেছি, এগুলোর মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারির নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল অনুমিত। গৎবাঁধা ইসলামভীতির বুলি কপচিয়ে ওই মর্মান্তিক হামলার আসল কারণ চেপে যাওয়া হয়েছে। শার্লি এবদোতে কার্টুন আঁকার জন্য নয়, ওই হামলা হয়েছিল ইরাকে ভয়ঙ্কর মার্কিন আক্রমণ এবং আবু গারিব কারাগারে নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে। ইরাকের ঘটনাই বন্দুকধারীদের প্তি করে তুলেছিল। আরেকটি সত্য চেপে যাওয়া হয়েছে, তা হলোÑ চরমপন্থী হামলাকারীরা ছিল আলজেরিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান। ওই দেশটি কয়েক দশক ধরে জঘন্য ফরাসি উপনিবেশে ছিল। লাখ লাখ আলজেরিয়ানের রক্তের বিনিময়েই কেবল দেশটি স্বাধীনতা পেয়েছিল।
জানুয়ারির প্যারিস হামলার পর সারা বিশ্বের নেতারা সতর্কভাবে পরিকল্পিত একটি ফটোসেশনে যোগ দিতে প্যারিসে সমবেত হয়েছিলেন। আর এসব হামলার জন্য মুসলমানদের কেবল পাইকারিভাবে দায়ীই করা হয় না, তাদের পাইকারিভাবে প্রত্যাঘাতও সহ্য করতে হয়।
জানুয়ারি হামলার মাত্র ছয় দিন পর ন্যাশনাল অবজারভেটরি অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া ফ্রান্সে ইসলাম অনুসারীদের ওপর ৬০টি আক্রমণ ও হুমকি নথিভুক্ত করেছে। মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদী হামলা পর্যবেণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘টেলমামা’ও ৫০-৬০টি হুমকির খবর দিয়েছে।
আরেকটি কথা, জানুয়ারির প্যারিস হামলার মাত্র কয়েক দিন পর বিশ্ব সম্প্রদায় আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা অনেকাংশেই চেপে গিয়েছিল : বোকো হারাম নাইজেরিয়ায় দুই হাজারের বেশি লোককে গলা কেটে হত্যা করে। আফ্রিকান নিহতরা রাষ্ট্রনায়কদের সমাবেশ পায়নি, কেবল ইসলামি চরমপন্থীদের পাশ্চাত্যের শিকারদের জন্য তা নির্ধারিত।
পাশ্চাত্যের অপরাধ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি অতি সামান্যভাবে আলোচিত হয় তা হলো, ইসলামি চরমপন্থীদের শিকারদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই হলো মুসলমানেরা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতেই বাস করে। ২০১২ সালে মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার খবর প্রকাশ করে, গত পাঁচ বছরে ধর্মীয় প্রণোদনায় চালিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ৮২ থেকে ৯৭ শতাংশের শিকার হয়েছে মুসলমানেরা। অথচ পাশ্চাত্য এমনভাবে খবর প্রকাশ করে, যেন তারাই প্রধান শিকার; অথচ বিপরীতটাই সত্য।
কেউ কি কখনো প্রশ্ন তুলেছে, কেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে এত উদ্বাস্তু পালিয়ে আসছে? এমন নয় যে, কোটি কোটি লোক তাদের বাড়িঘর ও পরিবার ফেলে আসতে চায়, আসলে তারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায়, আর ওইসব সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলার কারণ প্রায় সব েেত্রই পাশ্চাত্যের সামরিক হস্তপে।
পাশ্চাত্যের দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যভাবে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ইয়েমেনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী, এ কারণেই কোটি কোটি উদ্বাস্তু পালাচ্ছে।
ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অবৈধ হামলায় অন্তত ১০ লাখ লোক মারা গেছে এবং পুরো অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট চরম পরিস্থিতিতে আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গ্র“পগুলো দাবানলের মতো গজিয়ে উঠেছে। সেগুলোই অবশেষে আইএসআইএসের উত্থান ঘটিয়েছে।
আফগানিস্তানে চলমান মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের কারণে (ওবামা প্রশাসন যেটাকে দ্বিতীয়বারের মতো দীর্ঘায়িত করেছে) আড়াই লাখ লোকের মৃত্যু ঘটেছে, কোটি কোটি আফগান উদ্বাস্তু হয়েছে।
লিবিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হস্তেেপ দেশটির সরকার ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটি চরমপন্থীদের উর্বর েেত্র পরিণত হয়েছে। উত্তর আফ্রিকায় আইএসআইএসের মতো জঙ্গি গ্র“পগুলোর কার্যক্রম চালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার লিবীয় নিহত হয়েছে, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের জাতিগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গরিব দেশটির বেসামরিক এলাকায় নিষিদ্ধ গুচ্ছবোমা ফেলতে, অবকাঠামো ধ্বংস করতে। এখানেও একই কাহিনী : হাজার হাজার লোক নিহত, লাখ লাখ লোক উদ্বাস্তু।
সিরিয়া পরিস্থিতি আরেকটু জটিল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিক্ত যুদ্ধে বিধ্বস্ত, দেশটির অনেক উদ্বাস্তু আসাদ সরকারের নির্মম পীড়ন থেকে রা পেতে পালাচ্ছে। অবশ্য এ জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররাও দায়ী। সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো আল-নুসরা ধরনের মিত্ররা এই সঙ্ঘাত অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলছে।
বলা বাহুল্য, প্যারিসে আইএসআইএস যে হামলা চালিয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেই একই ধরনের সন্ত্রাস থেকে রা পেতেই লাখ লাখ সিরিয়ান উদ্বাস্তু ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছে। চরমপন্থী গ্র“পগুলোর নির্মম সহিংসতা থেকে রা পেলেও পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ান ও ইরাকি উদ্বাস্তুদের ফ্রান্স ও অন্যান্য পাশ্চাত্য দেশ আরো করুণ অবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।
দোষ স্খলন
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন ইয়েমেন ও আফগানিস্তানে বিয়ে অনুষ্ঠান ও হাসপাতালে বোমা ফেলে শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে, ‘আমেরিকানরা’ তখন টুইটারে বিশ্বব্যাপী সেটা ছড়িয়ে দেয় না। কিন্তু যখন কথিত ইসলামি চরমপন্থীরা প্যারিসবাসীকে হত্যা করে, তখন ‘মুসলমানেরা’ করে।
সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য সব সময় দোষ অন্যের ঘাড়ে সরিয়ে দেয়। এটা সব সময় বিদেশী, অ-পাশ্চাত্য এবং অন্যদের দোষ, এটা কখনো আলোকিত পাশ্চাত্যের দোষ নয়।
ইসলাম হলো নতুন ‘বলির পাঁঠা’। পুরো জাতির ওপর প্রতিশোধ নেয়া, নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের টিকিয়ে রাখা, চরমপন্থী গ্র“পগুলোকে সমর্থন দেয়ার পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের নীতির কথা সহজেই ভুলে যাওয়া হয়।
পাশ্চাত্য তার নিজস্ব সাম্রাজ্যবাদী সহিংসতার সমাধান দিতে অক্ষম। এর বদলে সে তার রক্তরঞ্জিত আঙুল বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের দিকে তাক করে তাদের বলে, তারা জন্মগতভাবেই সহিংস।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্যারিসে আমরা যেসব মর্মান্তিক ঘটনা দেখছি, সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নৈমিত্তিক ঘটনা। আর এসবই ঘটছে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশের সরকারি নীতির কারণে।
এর মানে এই নয় যে, আমরা প্যারিস হামলার জন্য শোক প্রকাশ করব না। এসব ঘটনা অবশ্যই জঘন্য। আমাদের শোক প্রকাশ করতেই হবে। তবে আমাদের সরকারের অপরাধগুলোর জন্যও আমাদের একইভাবে শোক প্রকাশ করা দরকার।
আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, সব জীবন সমান মূল্যবান; আমরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করি, ফরাসিদের জীবন অন্যদের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়; তবে অবশ্যই আমাদের প্রতিটি জীবনের জন্যই শোক প্রকাশ করতে হবে।
অভ্যাসের বিপদ
আমরা জানি, হামলার প্রতিক্রিয়া এমন। এই পন্থায় চলতে থাকলে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করবে।
সরকারগুলো মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি পাশ্চাত্য সামরিক হস্তপে করতে যাচ্ছে; আরো বেশি বোমা ফেলবে; আরো বেশি বন্দুক পাঠাবে। কট্টর ডানপন্থী সিনেটর টেড ক্রুজ সাথে সাথেই ‘বেসামরিক লোকদের জন্য, আরো সহিষ্ণুতার জন্য’ বিমান হামলার দাবি জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই কোনো ব্যক্তিবিশেষের সন্ত্রাসের জবাব দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের মাধ্যমে।
দেশে আমরা আরো বেশি বেড়া, আরো বেশি পুলিশ, আরো বেশি তদারকির আহ্বান জানাব। প্যারিস হামলার সাথে সাথে ফ্রান্স তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। হামলার খবর পাওয়ামাত্র যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ সেখানকার কোনো কোনো অংশকে সামরিকায়ন করতে শুরু করে দিয়েছে।
প্রাধান্য বিস্তারসূচক ‘সমাধানে’ সব সময়ই দেশে ও বিদেশে আরো বেশি সামরিকায়ন হয়ে থাকে। অথচ বাস্তবতা হলো, সমস্যার কারণ হচ্ছে এর উৎপত্তিস্থলে সামরিকায়ন।
নৃশংস ৯/১১ হামলার সময় আলকায়েদা ছিল তুলনামূলক ছোট ও বিচ্ছিন্ন গ্রুপ। ইরাক দখল করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সৃষ্ট চরম সহিংসতাপূর্ণ অবস্থা, হতাশা, সম্প্রদায়গত সঙ্ঘাত বিশ্বজুড়ে আলকায়েদাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সামরিকবাদের প্রতি আসক্ত পাশ্চাত্য চরমপন্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে চলেছে। আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি, পচা আসক্তি নিয়ে আসছে পচা ফল : আইএসআইএস হলো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের ফ্রাঙ্কেনস্টেইনের দৈত্য।
আমাদের সরকারগুলো যদি একনায়কদের কাছে অস্ত্র বিক্রির কৌশল চালিয়ে যায়, তবে প্যারিসের মতো হামলা কেবল চলতেই থাকবে না, আরো বেশি বেশি হবে; ডানপন্থীরা বাড়তেই থাকবে। আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক নব্য নাৎসিবাদীরা তাদের শক্তি আরো বাড়িয়ে নেবে। লোকজন চরম ভাবাপন্ন হয়ে পড়বে।
জাতিগত-জাতীয়তাবাদী বা উগ্র ডানপন্থীদের হামলার ঘটনা ইতোমধ্যেই ইউরোপ ও আমেরিকায় সন্ত্রাসের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এটা আরো বাড়তেও পারে। পণ্ডিতেরা মুসলিমবিদ্বেষী গোঁড়ামি আরো চাঙ্গা করবেন, উদ্বাস্তুবিরোধী উত্তেজনা আরো বাড়াবেন। আর সেটা করতে গিয়ে তারা পরিস্থিতির কেবল অবনতিই ঘটাবেন।
আমাদের সরকারগুলো দেশে ও বিদেশে কী করছে, সেটা গভীরভাবে ভাবতে ভয়াবহ প্যারিস হামলাটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করার অবকাশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা যদি গভীরভাবে চিন্তা না করি, যদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিই, সহিংসতার রাস্তা ধরি, তবে ত আরো বাড়বেই। রক্তপাত শেষ পর্যন্ত আরো বেগবান হবে।
সংেেপ বলা যায়, প্যারিস হামলার প্রতিক্রিয়ায় যারা সামরিকায়ন এবং মুসলিমবিরোধী ও উদ্বাস্তুবিরোধী নীতি অব্যাহত রাখতে চায়, তারা আসলে সহিংসতা আর ঘৃণাকেই কেবল আরো উসকে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বৃত্তের যদি পরিবর্তন না হয়, তবে সহিংসতার বৃত্তও চলতে থাকবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাই’ -এরশাদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে চলছে : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
গণসংহতি আন্দোলনের তিন দিনব্যাপী তৃতীয় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একথা বলেন।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, সর্বাত্মক সংগ্রামের ভেতর দিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান হতে পারে, যেমনভাবে সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল ’৫২ সালে, ’৬৯ সালে বা ’৭১ সালে।
আজ শুক্রবার সাড়ে ৩টায় গণসংহতি আন্দোলনের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পতাকা ও সংগ্রামের প্রতীক লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গনে। জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনের পরে ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা।
এতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমেদ কামাল বলেন, সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পরিবর্তনের সংগ্রাম সহজ নয়, শত সহস্র বাধা বিপত্তিকে মোকাবেলা করেই আগাতে হবে। সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, একটি নির্বাচনহীন অগণতান্ত্রিক সরকার দেশের জনগণের মাথার ওপর চেপে বসে আছে। তাদের বৈধ্যতার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ধারণ করেছে মুক্তিযুদ্ধকে। মুক্তিযুদ্ধকে তারা বেচাকেনার পণ্যে পরিণত করেছে। এদেশের মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসকে তারা দখল করে রেখেছে। জনতার সংগ্রামই পারে তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের ইতিহাস রচনা করতে।
অপরদিকে জোনায়েদ সাকি সভাপতির ভাষণে বলেন, দেশে আজ চলছে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র। এদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই লুণ্ঠন ও স্বেচ্ছাচারি শাসনকে বৈধতা দেয়ার জন্য সংবিধানকে বারবার পুনর্সজ্জিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ হেঁটেছে মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষার উল্টো পথে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাতরোগের চিকিৎসায় সার্জারি by ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
প্রশ্ন : বাতরোগে কোন ধরনের সার্জারি করা হয়?
উত্তর : বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করা হতে পারে, যেমন- অস্থিসন্ধিতে সাইনোভিয়াল টিস্যু কেটে ফেলা, জয়েন্ট ক্যাপসুলের মৃত টিস্যু দূর করা, অমসৃণ কার্টিলেজকে মসৃণ করা ইত্যাদি। এতে হাঁটুর নড়াচড়ার উন্নতি ঘটে, অস্থিসন্ধিগুলো স্থিত হয়। অবর্ণনীয় ব্যথা কমাতে ও অকার্যকর অস্থিসন্ধির জন্য অস্থিসন্ধির প্রতিস্থাপন করা হতে পারে।
প্রশ্ন : অস্থিসন্ধির কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে কিংবা উপসর্গগুলো দূরীভূত করতে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রোগী কতদিন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাবে?
উত্তর : এই প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। এটা এক রোগী থেকে আরেক রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। আপনাকে জানতে হবে যে, যেকোনো ধরনের আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় সার্জারিকে খুব কম ক্ষেত্রেই প্রথম সারির চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই বলে এটি যে একেবারে চিকিৎসার সর্বশেষ ধাপ সেটা ভাবারও কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপারেশনে যাওয়ার আগে আপনি ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে কিংবা আক্রান্ত অস্থিসন্ধিতে স্টেরয়েড ইনজেকশন প্রয়োগ করে বেশ কিছু দিন দেখতে পারেন।
কিছু কিছু সার্জারি অস্থিসন্ধির আয়ু বাড়ায় বটে, তবে আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে সার্জারির প্রয়োজন নাও হতে পারে।
একজন বিশেষজ্ঞই নির্ধারণ করবেন আপনার কোন ধরনের সার্জারি প্রয়োজন।
প্রশ্ন : সার্জারি করলে লাভ হবে কি না তা আমি বুঝব কী করে?
উত্তর : যদি আপনার অস্থিসন্ধির ব্যথা দীর্ঘ দিন নন সার্জিক্যাল চিকিৎসায় যেমন ওষুধ, বিশ্রাম, স্পিন্টিং কিংবা স্টেরয়েড ইনজেকশনে ভালো না হয়, তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে একজন অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে রেফার করবেন। অর্থোপেডিক সার্জনকে মাঝে মাঝে কেউ কেউ অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন।
এক্স-রে বা অন্য কোনো ইমেজিং টেকনিকের দ্বারা আপনার অস্থিসন্ধিতে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা পাওয়া গেলে সার্জারি করালে অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ আপনার সাইনোভিয়াম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেলে, বাঁকা হাঁটু থাকলে কিংবা অন্য কোনো অস্থিসন্ধির স্থিতিগত সমস্যা থাকলে, হাঁটুর এক দিকে কার্টিলেজ থাকলে বা হাঁটুতে কিছু দিন পরপর ব্যথা হলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে সার্জারি করার জন্য একজন অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে রেফার করতে পারেন।
প্রশ্ন : অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ কী করবেন?
উত্তর : অর্থোপেডিক সার্জন আপনার অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়া পরীক্ষা করে দেখবেন, আপনাকে এক্স-রে করাবেন এবং আরো কিছু পরীক্ষাও করাতে পারেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন কোন ধরনের সার্জারি করলে আপনি উপকৃত হবেন।
প্রশ্ন : কীভাবে নিশ্চিত হবো যে, আমি সবচেয়ে ভালো সার্জনের কাছে অপারেশন করাচ্ছি এবং সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি?
উত্তর : যেকোনো সময় আপনাকে ছুরি-কাঁচির নিচে যাওয়া লাগতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আপনাকে অ্যানেস্থেশিয়া দেয়া হতে পারে। আপনি ইচ্ছা করলেই অনেক অভিজ্ঞ ও দক্ষ সার্জন এবং অ্যানেস্থেশিস্ট পেতে পারেন। জয়েন্ট সার্জারি, বিশেষ করে টোটাল রিপ্লেসমেন্ট হলো খুব উচ্চ ধরনের বিশেষ অপারেশন। শুধু সার্জনের জন্য নয়, সমগ্র সার্জিক্যাল টিমের জন্যও বটে, অ্যানেস্থেশিস্টসহ। তার মানে হচ্ছে আপনার অপারেশনের জন্য সবচেয়ে ভালো স্থান হলো সেই হাসপাতাল যে হাসপাতালে এ ধরনের অপারেশন সচরাচর হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে ভালো সার্জন হলেন তিনি, যিনি এ অপারেশন সপ্তাহে কয়েকটি করে থাকেন। আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলতে পারেন, যেখানে আপনি অপারেশন করাতে চান। আপনার সার্জিক্যাল টিমের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করতে কোনো ধরনের লজ্জা করবেন না।
প্রশ্ন : আর্থ্রাইটিসের রোগীর সাধারণত কী ধরনের অপারেশন করা হয়?
উত্তর : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের রোগীর সচরাচর যে অপারেশনটি বেশি করা হয় তার নাম সাইনোভেকটমি। এ ক্ষেত্রে সাইনোভিয়ামের কিছু অংশ কেটে বাদ দেয়া হয়। সাইনোভিয়াম হলো অস্থিসন্ধির চার দিকের তরল পদার্থপূর্ণ ক্যাপসুলের আবরণ। স্বাভাবিক সাইনোভিয়াম পাতলা কাগজের মতো পুরু। কিন্তু রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস দ্বারা অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হলে সাইনোভিয়ামে প্রদাহ হয় এবং সাইনোভিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়, জয়েন্ট ক্যাপসুলকে আক্রমণ করে। ফলে কার্টিলেজ ও হাড় ক্ষয় হয়।
সাইনোভেকটমি করা হয়ে থাকে হাঁটু, কব্জি ও আঙুলগুলোতে, এটি হিপে করা হয় না।
প্রশ্ন : জয়েন্ট ক্যাপসুলের ভেতরে সার্জন কিভাবে কাজ করেন? পুরো অস্থিসন্ধিটাই কি কেটে খোলা হয়?
উত্তর : একটি অপরিহার্য নয়। হাঁটুর অস্থিসন্ধির ক্ষেত্রে আর্থ্রোস্কপিক সার্জারি করা যেতে পারে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ । চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন: ০১৬৮৬৭২২৫৭৭
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নদী, জলাশয় বা পাড় ইজারা হয় না : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন
নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে দখল ও দূষণমুক্ত নদী : আমাদের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জসমূহ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো: আতাহারুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
কমিশনের চেয়ারম্যান মো: আতাহারুল ইসলাম আরো জানান, নদী দখলদারদের তালিকা হচ্ছে। তালিকা করে তাদের নাম ওয়েব সাইটে দিয়ে দেয়া হবে। এতে করে দখলদার অন্তত লজ্জা পাবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। আর তালিকায় যাদের নাম উঠবে তাদেরকে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মান করবে না বলেও তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে তাদেরকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করবে না বলে তিনি আশা করেন।
আলোচনা সভায় সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নদীর রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। নদী দখল, দূষণ থেকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ নদী দখল বা দূষণ সাধারণ মানুষের কাজ নয়। সব সময় শাসকগোষ্ঠী বা তাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকজনই এটা করে থাকে। এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে নদী দূষণকারী ও দখলদারদেরকে নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার আহবান জানান।
এতে অন্যদের মধ্যে উত্তরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান এ এইচ এম সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাছিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, প্রকৌশলী জাবের আহমেদ কাপাসিয়া নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি কামরুন নাহার রীনা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো: আনোয়ার সাদত।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি, কঠোর আইন প্রণয়ণ ও তার প্রয়োগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর যথাযথ হিস্যা আদায়ে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর জোর দেন। বক্তারা নদী ইস্যুতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ২৬ ডিসেম্বর তুরাগের ৭১ কি.মি তীরে ১৫টি স্পটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহজ প্রেমের গল্প by নাসরীন জাহান
‘আমি তোর প্রেমে পড়লাম কবে যে ওকে ঈর্ষা করব?’
‘আমার এই খালি ঘর পেয়ে তোরা কী সব অসভ্যতা করিস...সুযোগ তো আমিই করে দিই, না?’
বৃষ্টির ছাট জানালার শার্সি কাঁপাচ্ছে। কালই মুনার বিয়ে। মেয়ে আজ এসে আজাইরা বকবক করছে। মিহিরের সঙ্গে কত পথ হেঁটেছে মুনা। কী চৌকস তার দেহ ভঙ্গিমা। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কত মেয়ে প্রেমে পড়েছিল মিহিরের। ছেলেটি সামনে এসে দাঁড়ালে ফলসা পাতার মতো কাঁপত মুনা। মিহির সবাইকে বাদ দিয়ে...। ভাবলেই মুনা অদ্ভুত রোমান্সের নৌকায় ভাসতে থাকে। নিজ চিত্তের আদলে মুনাকে বিন্দু বিন্দু করে গড়ে নিয়েছে মিহির। মিহিরকে মুনা প্রায়ই বলে, ‘বিজনটা জংলি। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ভাগা দিয়েছে। দিনরাত নিজ আলস্যে কার্পেটে গড়ায়। ওর বাবা-মা ওকে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন।’ সেদিন বিজনের ঘরে ছিল আলো-ছায়ার সঙ্গম। মিহিরের সঙ্গে শরীরের প্রায় শেষ ধাপে গিয়ে যৌনজ্বরে কাতর মুনা যখন চাদরের মতো নিজেকে বিছিয়ে দিয়েছে, ছটফট করতে করতে নিজেকে টেনে তোলে মিহির, ‘এখন নয়। এসব বিয়ের পর হবে।’ এতে করে মুনার হৃদয়ের কানকোর সঙ্গে এমন সুন্দরভাবে গেঁথে গেছে মিহির, অবিরাম ওর গল্প করার জন্য বিজনের মতো ভালো শ্রোতা সে আর পায় না।
‘তুই ইন্টার পাসই থাকবি?’
‘তোর প্রবলেম কী?’ রিমোট হাতে টিভির স্ক্রিন পাল্টাতে থাকা বিজন বলে। তার ঝাঁকড়া চুলে কদিন চিরুনি পড়েনি সেই হিসাব নেই। মাঝেমধ্যেই পাহাড়-জঙ্গলে উধাও হয়ে যায় সে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে টাকা ফুরোলে তারপর চলে আসে আবার। একটানা বিজন না থাকার সময়টা বড় শূন্য লাগে মুনার। মিহিরের সান্নিধ্যও তাকে পূর্ণতা দেয় না। ওর সাহচর্য সাধনের চেয়েও অনেক তীব্র এই গল্পগুলো রঙিন সুতোয় বুনে বুনে বিজনকে শোনানো।
‘তুই মানুষ না হয়ে অন্য কিছু হওয়ার কথা ছিল।’
মুনার এ কথায় হা হা করে হাসে বিজন, ‘এদ্দিনে বুঝলি?
শুধু কি মিহিরের গল্প? মিহির যখন তার জীবনে আসেনি, নিজের জীবনের প্রতিটি টুকরো গল্পকে রীতিমতো রূপকথা বানিয়ে মুনা বিজনের কাছে প্রকাশ করেছে। শৈশব থেকেই মুনা অনুভব করে, একটা ছায়া ঘোরে তার সঙ্গে যার কোনো অবয়ব নেই, রূপ নেই। যখন সে একা থাকে তখন ফিসফিস করে সেই ছায়ার সঙ্গে ভরা পূর্ণিমার চাঁদে যাওয়ার কথা বলে। কুয়াশা-ভোরে অনন্তে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে মাছকুমারী হয়ে মুনাকে সমুদ্রে সাঁতার কাটার গল্প বলে সেই ছায়া। ভয়ে হাত-পা হিম হয়ে আসে বলে কখনো একা ঘরে ঘুমায় না মুনা। শৈশবে এসব কথা বললে সবাই হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। একমাত্র বিজন বিশ্বাস করে বলেছে, ‘তোর ছায়ার সঙ্গে আমার দোস্তি হয়ে গেছে, সে এখন আমার সঙ্গে ওসব গল্প করে।’ মুনা জানে, পড়াশোনা-বিচ্ছিন্ন বাউণ্ডুলে বিজনকে মিহির পছন্দ করে না। কিন্তু মুনার এ জায়গাটাতেই হাত একেবারে দেয় না মিহির। আহ্লাদে কাত হয়ে যখন বিজনকে কথাটি বলেছিল, সে কী হাসি বিজনের, ‘তুই একটা বোকা। আমার ঘরটা মিহিরের কত কাজে আসে। আমাকে অপছন্দ করে তার সাধ্য কই ওর?’
বিজনকে সেদিন ছোটলোক মনে হয়েছিল। মিহির বিজনকে ঠিক পছন্দ না করলেও মুনার শৈশবের বন্ধু বলে তাকে খানিকটা পাত্তা দেয়, এটা মুনা বোঝে। নিউইয়র্কে পড়াশোনা করা বিজনের প্রেমিকার সঙ্গে মুনার দুর্দান্ত বন্ধুত্ব। বাংলা ভালো বলতে পারে না মেয়েটি। কিন্তু কই, তার সম্পর্কে তো মুনা কোনো দিন নেতিবাচক কিছু বলে না। মিহিরকে কেন অপছন্দ বিজনের?
‘ও তোকে ডমিনেট করে, তোর নিজস্ব সত্তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’ বিজন বলে, ‘আশ্চর্য! এটা তুই বুঝতেই পারিস না।’ তীব্র মহুয়ার ঘ্রাণে আচ্ছন্ন যেন এক ভুতুড়ে ছায়াচ্ছন্নতায় পাক খায় মুনা। কিছুতেই বুঝতে পারে না, মিহির তাকে সমৃদ্ধ করছে, এটা কেন বোঝে না বিজন?
‘ও নিজে জঙ্গুলে তো...।’ মনে মনে উত্তর খুঁজে পেয়ে হাঁফ ছাড়ে মুনা। হামাগুড়ি দিয়ে অনন্ত নামছে। বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষণ। ঘরের মধ্যে যেন-বা ভর করেছে বন্য নৈঃশব্দ্য। আজ রাতের ফ্লাইটে নিউইয়র্ক ওর প্রেমিকার কাছে চলে যাবে বিজন। কাল তার বিয়েতেও থাকতে পারবে না। মুনা তাই নড়তে পারছে না। আবার এ নিয়ে কেউ কোনো কথাও বলছে না। বর্ষার বিষণ্নতা গিলে মুনা বলে, ‘একটা ছবি ছাড় দেখি।’ বিজন আচমকা ঘুরে দাঁড়ায়। এরপর মুখর হয়ে বলে, ‘নিশ্চুপতা কি আমাদের দুজনকে মানায়?’
আবারও নৈঃশব্দ্য। কার্পেটের ওপর বসে নানান রকম ম্যাগাজিন দেখছে বিজন। পাশে ওর ডায়েরিও, ডায়েরিটি যেন ঝরাপাতা। ‘আমার কী ইচ্ছা করে জানিস?’, কার্পেটে পা ছড়িয়ে ম্যাগাজিন থেকে ছবি কাটতে কাটতে বিজন বলে, ‘একটা ছবি বানাই। কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো ছায়া ছেঁকে ধরা তোর চোখ। দেহটা ছায়ার কাছে দিয়ে। আলো-ছায়ার ফোকাস ফেলব তোর চোখে। কী দুর্দান্ত হবে ভেবে দেখ তো। পুরো স্ক্রিনে ভেসে উঠবে শুধু দুটি চোখ। একসময় তা বাতাসে কাঁপতে শুরু করবে। কাঁপতে কাঁপতে বিষপিঁপড়ে হয়ে বাতাসে মিলিয়েও যাবে।’ হাসতে থাকে মুনা, ‘না, এ নিছক কাব্য হয়ে গেল।’ বিজন সিরিয়াস, ‘এটাকে আমি কবিতা হতে দেব না। যেই-না চোখ যুগল বাতাসে উড়েছে, অমনি এক চক্কর খেয়ে দুটি বিষপিঁপড়া একটি নেকড়েতে পরিণত হলো। যার দুই মাথা, এক লেজ। নেকড়ে তো বাতাসে উড়তে পারে না। কী হবে?’
‘ওদের ডানা পরিয়ে দে।’ ‘না না, ডানা নয়, ধর ধারালো এক অস্ত্র দিয়ে নেকড়েটার মুণ্ডু বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর...।’ ‘এক থাপড় দেব।’ গাল পেতে রাখা বিজন বলে, ‘জানি তুই হরর গল্প পছন্দ করিস না, তা এতক্ষণ শুনে গেলি কেন? চলে যাব এ জন্য?’ ঘোর ছায়ায় বেদনার মর্মস্বরের মধ্য দিয়ে এতক্ষণ বিদায়ধ্বনি প্রকট হলো। ‘আজ আমাদের কাবিন...।’ কম্পিত স্বরে মুনা বলে, ‘দু-ঘণ্টা আগেই যেটা হওয়ার কথা। আমি ফোনের রিঙ্গার অফ করে তোর কাছে এসে বসে আছি।’‘বলিস কী?’ লাফিয়ে ওঠে বিজন, ‘তুই এত কথা শেয়ার করিস, এটা আমাকে বললি না? চল চল, তোকে দিয়ে আসি।’ ভেতরের নোনাজল গিলে খায় বুভুক্ষু আত্মা। সন্ধ্যার প্রগাঢ় বর্ষা-তিরোহিত কক্ষে অদ্ভুত এক ভৈরব ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। পুরো জীবনটাই উল্টে মাটিসহ আসমানে গিয়ে ঠেকে। যে বিজনকে স্পর্শ করলে ডাল-ভাত অনুভূতি হতো, আচমকা তাকেই আমূল আঁকড়ে মুনা অনুভব করে রোমাঞ্চ—জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে গা। প্রবল আকুলতায় ওর কাঁধে মাথা রেখে অস্ফুট স্বরে কাঁদতে থাকে মুনা, ‘আমি স্বর্গের হুরপরি, তুই আমার যোগ্য না, এই লিখেছিস ডায়েরিতে? আমি সব পড়েছি, সব জানি, কেবল নিজের আত্মার শব্দই এত দিন শুনতে পাইনি। তুই তোর মতো জঙ্গুলে বুনোই থাক। আমি তোকে বদলাতে চাই না। মিহির, চৌকস...এই বাহুল্য...এইসব আমার না, এর মধ্যে আমি আর তলিয়ে যেতে চাই না। আমার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে—যা বুনো, যা জঙ্গুলে—তা একান্ত আমার। আমি একমাত্র এখানেই নিশ্বাস নিতে চাই...তোকে আমি কোত্থাও যেতে দেব না...। প্রগাঢ় রাত্রি নেমেছে ভূমণ্ডলে। দুটি দীর্ঘ অচেনা দীর্ঘশ্বাস আমূল এক হয়ে একটি কক্ষে ছায়ার মতো নৃত্য করতে থাকে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আহ্বান
ওদিকে, পার্লামেন্টে যে প্রস্তাবটি (জঈ-ই৮-১২৫৭/২০১৫) উত্থাপিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক, সুশীলসমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা যাতে নিরাপদে মত প্রকাশ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। এতে নতুন মিডিয়া আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যে নীতির অধীনে দেশের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে নতুন মিডিয়া নীতি পর্যালোচনার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, রাজিব হায়দার, অভিজিত রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়, ফরসাল আরেফিন দীপনসহ এ বছরে ব্লগার, মানবাধিকার কর্মী, প্রকাশকদের ওপর ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু হামলায় অনেকে আহত হয়ে বেঁচে আছেন। আরও অনেক লেখক ও প্রকাশককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ বছরেই ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা, জাপানি কুনিও হোশিসহ বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন কট্টরপন্থিদের হাতে। ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হয়েছেন শিয়া মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। ২৪শে অক্টোবর বোমা হামলা হয়েছে শিয়াদের একটি র্যালিতে। এতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ বছর ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অপরাধে জড়িত ইসলামপন্থি নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের বিচার হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা দেয় সহিংসতা। হাজার হাজার মানুষ ওইসব ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন সুসম্পর্ক রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। এর মধ্যে রয়েছে অংশীদারি ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা চুক্তি। বিদেশী কিছু গোয়েন্দা বিষয়ক এজেন্সি বলেছে বাংলাদেশে সক্রিয় ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা। এ ছাড়া এখানে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থিদের সমস্যা। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচন বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ নির্বাচনে বিএনপির হরতাল ও তার ফলে সহিংসতা ছায়া ফেলেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার জনঅধিকার সীমিত করার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে সরকার একটি আইন প্রস্তাব করে। এর নাম ফরেন ডোনেশনস (ভলান্টারি এক্টিভিটিজ) রেগুলেশন অ্যাক্ট। এর ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আগস্টে বাংলাদেশ সরকার নতুন মিডিয়া নীতি প্রয়োগ করা শুরু করে। এতে মিডিয়ার স্বাধীনতা সীমিত করার নীতি আরোপ করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায় এমন বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়। জাতীয় আদর্শের বিরুদ্ধে যায় তাও নিষিদ্ধ করা হয়। নৈরাজ্য, বিদ্রোহ অথবা সহিংসতার ওপর রিপোর্টিং করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে বেশ কিছু সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এসব হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সুপারিশে বলা হয়, বহু মতের পক্ষে, ইসলামপন্থিদের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, জিহাদি গ্রুপের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এতে সব রাজনৈতিক দল, তাদের নেতাদের ঐকবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে আহ্বান জানানো হয়। আহ্বান জানানো হয় মুক্তমত প্রকাশকে সমর্থন দিতে। দোষীদের বিচারের আওতায় এনে আরও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। লেখক, প্রকাশক ও অন্য যাদের হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। পুলিশ বাহিনী ও অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে শক্তিশালী করায় সাধুবাদ জানানো হয়েছে। লেখক, অনলাইন ব্লগারদের ওপর হামলা ও হত্যার তদন্তে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। এরই মধ্যে অভিজিত রায় হত্যায় জড়িত থাকায় আটক করা হয়েছে আট জনকে। ওয়াশিকুর বাবুকে হত্যায় দুজনকে, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হত্যায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাংবাদিক, সুশীলসমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তমত প্রকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেকটা অগ্রগতি করেছে। এতে লাখ লাখ মানুষের বাস্তব জীবন উন্নত হয়েছে। স্বীকার করে নিতে হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ জটিল পরিস্থিতিতে এ উন্নয়ন হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, নতুন মিডিয়া আইন নিয়ে নিরপেক্ষ গ্রুপগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করতে এবং নিশ্চিত করতে যে, যদি এটা গৃহীত হয় তাহলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখবে, যেসব অধিকার সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৫ বাস্তবায়িত হলে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদি এটা বাস্তবায়িত হয় তাহলে বিকল্প দৃষ্টিভক্তির ওপর কর্তৃত্বপরায়ণ শক্তি কঠোর হবে। ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা ও জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বাংলাদেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজনকে। এখনও অনুসন্ধান চলছে। জাতিগত ও ধর্মীয় উদ্দেশে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন, তাদের নেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে পুনর্জাগরণের। এসব সহিংসতায় যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে সরকারকে। শিয়া মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সহ অন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন : আমরা কি আবার হোঁচট খাবো? by সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
![]() |
| সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল |
১৯৭৩ সালের সে নির্বাচনের ব্যাপারে তৎকালীন ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ ভট্টাচার্য ৯ মার্চ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন : কমপক্ষে ৭০টি আসনে ন্যাপ ও অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত ছিল। সেই আসনসমূহে শাসক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করত অস্ত্রের ঝনঝনানি-ভয়ভীতি-সন্ত্রাস প্রয়োগ-গুণ্ডাবাহিনী ব্যবহার-ভুয়া ভোট-পোলিং বুথ দখল-পোলিং এজেন্ট অপহরণ-বিদেশী সাহায্য সংস্থা- রেডক্রস-জাতিসঙ্ঘ সরকারি গাড়ির অপব্যবহার প্রভৃতি চরম অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে এবং বিরোধী দলের প্রার্থীদের জোরপূর্বক পরাজিত করেছে। জাতীয় সংসদ আসন ২৯৪ চট্টগ্রাম-১৪ এ সংবাদপত্র-বাংলাদেশ বেতার-বাংলাদেশ টলিভিশন-ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিদেশী পত্রপত্রিকা ন্যাপপ্রার্থী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করা সত্ত্বেও তাকে পরাজিত করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃত্বের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমেদ লিখেছিলেন : ৩১৫ (সংরক্ষিত ১৫ মহিলা আসনসহ) সদস্যের পার্লামেন্ট-এ জনা পঁচিশেক অপজিশন মেম্বার থাকিলে সরকারি দলের কোনোই অসুবিধা হইতো না। আর এসব শুভ পরিণামের সমস্ত প্রশংসা পাইতেন শেখ মুজিব। কিন্তু দেশের দুর্ভাগ্য এই যে, শেখ মুজিব এই উদারতার পথে না গিয়া উল্টা পথ ধরিলেন। অনেক প্রবীণ ও দক্ষ পার্লামেন্টেরিয়ানকে পার্লামেন্টে ঢুকিতে না দিবার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করিলেন।
আমি দেখিয়া খুবই আতঙ্কিত ও চিন্তাযুক্ত হইলাম যে, নির্বাচন চলাকালে আওয়ামী নেতৃত্ব অপজিশনের প্রতি যে মনোভাব অবলম্বন করিয়াছিলেনÑ সেটা সাময়িক অ-বিবেচনাপ্রসূত ভুল ছিল না। তারা যেন নীতি হিসেবেই এই পন্থা গ্রহণ করিয়াছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের মন্তব্য ছিল : ইতিহাসে শেখ সাহেবের স্টেটসম্যান হইবার একটা সুযোগ ছিল। তিনি সেইটা কাজে লাগাইবার পারলেন না।
মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম বি. মাইলাম এর পর্যবেক্ষণ ছিলো ’৭৩-এর মার্চ মাসের নির্বাচন হলো “শেষ যাত্রার শুরু”। বিপুলভাবে নির্বাচনে জিতেছিলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতারা ভোট নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এবং জালিয়াতি থেকে নিজেদের নিবৃত্ত করতে পারেনি।
’৭৩-এর ৯ মার্চ জাসদ সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রব সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বিবৃতিতে বলেনÑ বিরোধীদলের প্রার্থীদের পরাজিত হতে বাধ্য করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে জাসদ সভাপতি-মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব:) এম এ জলিল বলেনÑ তার দলকে পোলিং এজেন্ট দিতে দেয়া হয়নি। জাল ভোট দেয়া হয়েছেÑ সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণায় ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। ১৯৭৫ এর আগস্ট-নভেম্বর পর্যন্ত বহু ঘটনা-দুর্ঘটনার পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদার গণতান্ত্রিক মনোভাবের সুযোগে ‘বাকশাল’- পরিত্যাগ করে মরহুম শেখ মুজিবের অনুসারীদের বড় অংশ আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করলেন। জেনারেল ওসমানীকে জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিপক্ষে প্রার্থী করে আওয়ামী জোট প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিলো। ফলাফল সকলেরই জানা। পরে অংশ নিলো ১৯৭৯ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ৩৯ আসন নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলঙ্কৃত করলেন আওয়ামী লীগ নেতা জনাব আসাদুজ্জামান। তিন বছরের মাথায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান শাহাদতবরণ করেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিপক্ষে আওয়ামী জোট প্রার্থী দিলো ড. কামাল হোসেনকে। বিজিত হলেন ড. কামাল হোসেন। দৃশ্যপটে এলেন বিশ্বনিন্দিত কূটনায়ক লে.জে. এরশাদ। এলো স্বৈরশাসন। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোটবদ্ধ এবং যুগপৎ আন্দোলন শুরু হলো। বহু প্রাণ ঝরে গেল রাজপথে।
রাতের কালো পর্দার আবরণে সমঝোতা করে আচমকা ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে অজস্র মানুষের প্রত্যাশাকে পদদলিত করে অংশ নিলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। জনগণকে বোকা বানানোর এবং ধোঁকা খাওয়ানোর সেই নির্বাচন বৈধতা পেল না। সংসদ ভেঙে গেল দুই বছরের মাথায়। যদিও একটা একতরফা নির্বাচন করলেন এরশাদ সাহেব ১৯৮৮-এ। সেই সংসদ ভেঙে গেল জনতার তীব্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধে। নতুন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার প্রশ্নে যুগান্তকরী গণ প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে ‘নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হলো শুধু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরপ্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্য এবং অ-বিতর্কিত করতে। ১৯৯১-এ অনুষ্ঠিত সে নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনাকারী দলের ক্যাপ্টেনসি পেলেন, হলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পার করল তৎকালীন সরকার। অশান্তির আগুনে সারা দেশ জ্বালিয়ে- পুড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আন্দোলন করলেন। মেয়াদ শেষের পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণে শর্ত জুড়ে দিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। বারবার বললেন ‘বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।’ মেয়াদ শেষ হওয়ার ১১ মাস আগে জাতীয় সংসদ থেকে জাতীয় পার্টি-জামায়াত এবং আওয়ামী লীগ একযোগে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করার সংসদীয় প্রক্রিয়াকে অসম্ভব করে দিলো। বিএনপি সে সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না বলে তত্ত্বাবধায়ক বিধানকে সাংবিধানিক রূপ দিতে অপরাগ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করল বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশন। নবগঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন বিল। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নতুন নির্বাচন হলো একই বছর জুন মাসে। অংশ নিলো আওয়ামী লীগ এবং বিজয়ী হয়ে সরকার ও গঠন করল। ক্যাপ্টেনসি নিলেন শেখ হাসিনা। বিএনপি ১১৬ আসন পেল। বিরোধী দলের নেত্রী হলেন বিএনপি নেত্রী সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
১৯৯৬-২০০১ সরকার এবং সংসদীয় মেয়াদের পর সঙ্গত কারণে আবার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি উঠল। বিএনপি তার মিত্রদের নিয়ে আন্দোলনে নামল। অনেক জুলুম-অত্যাচার-কারা ভোগের যন্ত্রণা এলো বিএনপির ভাগ্যে, যার মধ্যে সবচেয়ে নির্মম হিংস্রতা হলো ঢাকার মালিবাগ মোড়ে। ২০০১-এর ১৩ ফেব্রুয়ারি ড. ইকবাল এমপির কমান্ডে মালীবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে প্রকাশ্য দিবালোকে মির্জা আব্বাস নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। মিছিলে তার পাশে ছিলাম আমি, খায়রুল কবির খোকনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পেছন দিক থেকে হঠাৎ অবিরাম গুলিবর্ষণে নিহত হলো যুবদল কর্মী জসিম ও একজন মহিলা নেত্রীসহ চারজন। আহত শতাধিক। যে আঘাতের স্পিøন্টার এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি আমি। মেরুদণ্ডের ৪ ও ৫ নম্বর হাড় দুই দিকে সরে গিয়েছিল। সাড়ে চার ঘণ্টা অপারেশনে কিছু স্পিøন্টার শরীর থেকে বের করা হলো এবং মেরুদণ্ডের হাড় যথাস্থানে প্রতিস্থাপিত হলো। বাকি ৪০টির বেশি ছোট ছোট গুলি মাথার পেছন থেকে কোমর হয়ে পা পর্যন্ত চিরস্থায়ী হয়ে রইল। আল্লাহর রহমতে চিরতরে পঙ্গু হওয়া থেকে বেঁচে গেছি। দুঃখ হলো শেষ পর্যন্তও তখনকার প্রধানমন্ত্রী বলেই চললেন, ‘যখন নির্বাচন দিলে আমরা জয়ী হতে পারবো তখনই দেবো।’ (প্রথম আলো ২৭ মে ১৯৯৯)। যদিও সরকারের মেয়াদ শেষে পুনরায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ২০০১ এর ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলো। বিএনপি জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। আওয়ামী লীগ প্রধান সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী হলেন। সে নির্বাচনে বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) আসন থেকে আমি নির্বাচিত হলাম ২য়বারের মতো। (মূলত ৩য়বার) প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন : আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, ওয়ার্কার্স পার্টি প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) প্রার্থী গোলাম ফারুক অভি, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং অন্যরা।
বিএনপি জোটের সরকার গঠনের পর পরই আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিলো সংসদে শপথ নেবে না। পরে নিলো। ২০০১-০৬ মেয়াদের শেষ দিকে এসে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বিচারপতি কে.এম. হাসানকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করে আবারও সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও শুরু করলো। গান-পাউডার দিয়ে বাসে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, লগি-বৈঠা দিয়ে ধীরেসুস্থে পিটিয়ে জীবন্ত মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নেচে নেচে উল্লাস প্রকাশের পশুত্ব দেখল দেশের মানুষ। শুরু হলো আবার আঁধারের অপ-রাজনীতির খেলা। বিএনপির দুধে-ঘিয়ে পরিপুষ্ট জেনারেল এরশাদÑ জেনারেল নাসিমের মতো একই পথে এগুলেন জেনারেল মইন-জেনারেল মাসুদ, ব্রিঃ জেনারেল আমিন গং। সহযাত্রী হলো ডঃ ফকরুদ্দীন এবং আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা বললেন ‘এ সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল’। নির্বাচন হলো নাÑ জরুরি অবস্থা জারি হলো। এরপর বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনার কারাবাস। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও ব্যবসায়ীরা আটক হলেন। ছাত্র-আন্দোলন হলো।
দু’বছর পর ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলো। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ জোট ক্ষমতায় এলো। ২ যুগব্যাপী আওয়ামী লীগের ধ্বংস প্রচেষ্টাকারীরা মন্ত্রী হলেনÑ এমপি হলেন। বিএনপি জোট সংসদে এবং রাজপথে জোর দাবি তুলল ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর অধীনে একই ধারাবাহিকতায় মেয়াদ শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। থোড়াই কেয়ার করে আওয়ামী লীগ এবং আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বাতিল করল সংসদে। ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং সংসদে এমপিরা নিজ নিজ পদে বহাল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেসে-খেলে জিতলেন। ১৫৪ জন এর সৌভাগ্যবানদের নির্বাচন নামে কষ্টটা করতেই হলো না। কী আনন্দ ঘরে ঘরে। একই সময় প্রত্যেক এলাকায় দু’জন করে এমপি থাকল। প্রধানমন্ত্রী তার পদে বহাল থাকলেন। অন্তবর্তী একটি রূপরেখা বাস্তবায়ন করে সোনার পাথরবাটির মতো দেশ পরিচালিত হলো; বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ নিলো না। ক্ষমতায় পুনরায় কাঁঠালের আমসত্ত্ব তৈরি হলো। সে আমসত্ত্ব খাইয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন হলো। বিএনপি জোট অংশ নিয়ে বিশাল জয় পেল। দ্বিতীয় ধাপে ভীত হয়ে শাসক দল আবার ভোট ছিনতাই করল। হতাশ-বিতৃষ্ণ মানুষ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করতে শুরু করল। যেটার উল্টোপিঠে আরো জোরালো কারণ হচ্ছে সিটি করপোরেশন-উপজেলা-পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদের সকল স্তরে বিএনপি জামায়াত এবং জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নামে পরিকল্পিত মামলা দায়ের এবং এর দোহাই দিয়ে একের পর এক বরখাস্ত করা। সিটি করপোরেশনগুলোয় মেয়রদের মধ্যে একমাত্র বাকি রয়েছে হারাধনের একটি ছেলে বরিশালের কামাল। আর সচেতন বাংলাদেশীদের মনেতো আছেই শাসকদলের প্রধান শেখ হাসিনার অমিয় বাণীÑ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। অচিরেই সব দলের অংশগ্রহণে পরবর্তী অংশীদারিত্বভিত্তিক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কোথায় দিগন্ত? আজ কোথাও কাউকে সহ্য করা হচ্ছে না। কথা বললেই নানামুখী হেনস্তা। বিদগ্ধ অরাজনৈতিক ব্যক্তি ড. ইউনূস, আব্দুল্লাহ আবু সায়িদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদসহ অনেক মানুষ অপমানিত পদে পদে। বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রকাশ্য ঘোষণা এবং আইনগত একতরফা প্রস্তুতি সম্পন্ন। এ দলের নেতাকর্মী প্রকারভেদে প্রায় ৫০ হাজার মামলায় পাঁচ লাখ আসামি। কারাগারে প্রায় ৩০ হাজার। সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রতিদিনই বাড়ছে। এ অবস্থায় ছা-পোষা নির্বাচন কমিশন দিয়ে শূন্য মাঠে গোল দেয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতি জোর কদমে এগিয়ে চলছে। জামায়াতকে অযোগ্য করে স্ব-নামে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে।
হায় আওয়ামী লীগ! ১৯৭০-এর নির্বাচনের আওয়ামী লীগ হারিয়ে গেছে ১৯৭৩-এ। ১৯৭৮-৭৯-৮১ তে ঠিকানা খুঁজে পেয়েছিল। আবার চোরাগলিতে হারিয়ে গেল ১৯৮৬তে, ফিরে এলো ১৯৯১-এ। নিজ ঠিকানায় থাকল ১৯৯৬, ২০০১-এ। ২০০৮-এ ঠিকানা মোটামুটি স্থায়ী হলো। আবার হোঁচট খেলো ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারিতে। উদগ্রীব হয়েছে এখন ১৯৭৫-এর বাকশাল এ ঠিকানা স্থায়ী করতে। তফাৎ শুধু পুরনো ঠিকানার রি-মডেলিং। মিত্র নতুন চেহারার পুরনো মানুষেরা। কিন্তু প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কি ভুলে গেছে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম মনের খোরাক হচ্ছে রাজনীতি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’-এর জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের ৩৩টি দেশের মধ্যে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে। এখানে ৬৫ শতাংশ মানুষ উচ্চমাত্রায় রাজনীতি করে।
আমাদের রাজনীতিকে শাসক দলের মারমুখো তৎপরতায় সঙ্ঘাতমুখর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এ উচ্চমাত্রার প্ররোচনা এবং পৃষ্ঠপোষণকারী শাসক দল দেশের পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না সেটা ভাবার সময় কিন্তু হাতে বেশি নেই। নিকট এবং দূর-অতীতে সে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের হয়েছে। এ জন্য সমঝোতা সহিষ্ণুতা বড় বেশি প্রয়োজন এখন। না হলে ১৯৭৩ তে জাতীয় নির্বাচনের পর মার্কিন কূটনীতিকের সেই পর্যবেক্ষণ : ৭৩-এর মার্চের নির্বাচন ছিল ‘শেষ যাত্রার শুরু’ বাস্তবায়ন হলে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রম হারানো মা-বোনের জীবিত অভিশাপ এবং আত্মার অভিসম্পাত আমাদের বহন করতে হবে না তো? মনে রাখা দরকার, সব বিজয়ই কিন্তু গৌরবের নয়। মীরজাফরের বাহিনী যুদ্ধে পরোক্ষভাবে জয়লাভ করেছিল, সিংহাসনও পেয়েছিল। লেন্দুপ দর্জি স্বাধীন সিকিমের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু পরিণতি সবারই জানা। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহানায়ক উইনস্টন চার্চিল কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী ব্রিটেনের নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। পেরেছিলেন গোটা বিশ্বের মানুষের মনজয় করতে।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুতিনের কড়া সমালোচনায় এরদোগান
আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এরদোগান আরো বলেন, ইসলামিক স্টেট ইসলাম ও মুসলিমদের ভীষণ ক্ষতি করেছে। তিনি সিরীয় স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সাংগঠনিক সন্ত্রাস আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের’ মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আসাদ সিরিয়াকে একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করলেও তাকে রক্ষায় সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।
তুরস্ক আইএসের কাছ থেকে তেল কিনছে বলে রাশিয়া ও ইরান যে অভিযোগ করছে তা নাকচ করে দিয়েছেন এরদোগান। তিনি বলেন, আসাদই আইএসের কাছ থেকে তেল কিনছে। তুরস্ক যে সব দেশের কাছ থেকে তেল কিনে থাকে (ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইজান) তা সবার জানা বলে মন্তব্য করেন এরদোগান।
এরদোগান বলেন, ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। যারা দাবি করে যে আমরা দায়েশের (আইএস) কাছ থেকে তেল কিনি তা প্রমাণ করার দায়িত্বও তাদেরই। তা যদি তোমরা না পার তবে আপনারা নিন্দুক। আইএসআইএল যে তেল তোলে তা আসাদের কাছে বিক্রি করে। আপনারা আসাদের সাথে কথা বলুন, যাকে আপনারা সমর্থন দিচ্ছেন।’
মঙ্গলবার রাশিয়ার জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার পর আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে বাকযুদ্ধ চলার মধ্যেই এরদোগান এ সব কথা বলেন। এরদোগান বলেন, রাশিয়ার সাথে তুরস্কের সম্পর্ক বহুমুখী এবং অত্যন্ত মজবুত। কাজেই সীমান্ত লঙ্ঘিত না হলে বিমানটি ভূপাতিত করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে আবার সীমান্ত লঙ্ঘন করা হলে তুরস্ক তারও জবাব দিতে বাধ্য।
রাশিয়া বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা ক্ষমাপ্রার্থনার আহ্বান জানালেও তুরস্ক তা নাকচ করে দিয়েছে এবং বলেছে, ‘যে ঘটনায় আমরা সঠিক’ তাতে ক্ষমা প্রার্থনার কিছু নেই।
তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু তার রাশিয়ান কাউন্টারপার্ট সার্গেই ল্যাভরভকে টেলিফোন করে এ ঘটনায় ‘সরি’ বলেছেন বলে জানিয়েছেন।
এরদোগান বলেন, শুরু থেকেই তুরস্ক আইএসের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
তিনি রাশিয়ার সমালোচনা করে বলেন, আইএস দমনের নামে তারা সিরিয়ার মধ্যপন্থী বিরোধী দলের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং সিরিয়ার লাটকিয়ায় তুর্কি বংশোদ্ভূত তুর্কিম্যানদের হত্যা করছে।
সূত্র : আলজাজিরা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় বিমান হামলার বিপক্ষে ব্রিটিশ লেবার দলের নেতা
ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে আইএস জঙ্গিদের ওপর হামলা চালানো উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের যে দাবি, তার সঙ্গেও একমত নন করবিন।
পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে মি করবিন প্রশ্ন তোলেন, এ পরিকল্পনা আদৌ ব্রিটেনের নিরাপত্তা বাড়াবে কি-না? তিনি বলছেন, কোন সন্দেহ নেই আইএস জঙ্গিরা ইরাক, সিরিয়া এবং লিবিয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে ত্রাসের সঞ্চার করেছে। সন্দেহ নেই আমাদের নাগরিকদের জীবনের হুমকি রয়েছে। প্যারিস হামলার পর সেই প্রশ্ন আরো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইএস এর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে সেই হুমকি কি আমরা নির্মূল করতে পারব? নাকি আরো বাড়িয়ে তুলব?
তবে, তাঁর এই অবস্থান নিয়ে তাঁর নিজের দলই দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের প্রভাবশালী একটি অংশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের প্রস্তাবনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ছায়া মন্ত্রীসভার একজন সদস্য জানিয়েছেন, এ নিয়ে দলের মধ্যে নানা সমালোচনা চলছে। এমনকি করবিন যদি লেবার দলের ছায়া মন্ত্রীসভার সদস্যদের ওপর নিজের মতামত চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেন, তাহলে অনেকেই পদত্যাগ করবেন বলে ওই সদস্য জানিয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বললে গর্দান যায় তো যাক : মমতা
বৃহস্পতিবার কোলকাতায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে এ সব কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টানের সম্প্রীতির কথা বলতে গিয়ে যদি কেউ মনে করে আমার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই লাগাবে, লাগাক। আমাকে জেলে নিয়ে যাবে যাক, মানুষের জেলে থাকব। কী আছে, ভালোই তো হবে। ক’দিন বিশ্রাম পাব।’
তিনি বলেন, ‘আমির খান ভুল বলেছে- কী ঠিক বলেছে এটা তার নিজস্ব অধিকার। একটা কথার পরিপ্রেক্ষিতে সে একটা কথা বলেছে। এটা তার ডেমোক্র্যাটিক রাইট। সে বলতেই পারে। বলা হচ্ছে তুমি দেশ থেকে চলে যাও। যেন মনে হচ্ছে দেশটা ওদের, আমাদের আর নয়। দেশটা সকলের। এটা আমাদের সবার কর্মভূমি, ধর্মভূমি, পিতৃভূমি, মাতৃভূমি। কারো অধিকার নেই কাউকে বলার যে তুমি পাকিস্তানে চলে যাও। তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও।’
বিজেপি এবং অন্যান্য হিন্দুত্ববাদীদের নাম উল্লেখ না করে তদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘তোমরা ঠিক করে দেবে কি করব না করব? কি খাব না খাব?’
কথায় কথায় সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সাহস থাকা ভাল, তবে অনৈতিক কারণে দুঃসাহস থাকা ভাল নয়।’
মমতা উপস্থিত সংখ্যালঘু মুসলিম জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ভাববেন না আপনারা বঞ্চিত, ভাববেন না আপনারা লাঞ্ছিত, ভাববেন না আপনাদের দেখার কেউ নেই, আপনাদের কথা বলার কেউ নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সবাইকে সমান প্রোটেকশন দেব, নিরাপত্তা দেব, জীবন সমর্পিত করব। এটা তাদের বাঁচার অধিকার। একবার নয়, হাজার বার, লাখো বার বলব।’
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো জাত হয় না। সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসীই। হিন্দু সন্ত্রাসবাদী হতে পারে, মুসলিম সন্ত্রাসবাদী হতে পারে, এদের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’
আজ জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর রাজ্যের প্রধান নেতা মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে আগামী ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তাকে সমর্থন করার ঘোষণা দেন। আজ কোলকাতার জনসভায় মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ ছাড়াও সংগঠনটির বহু বিশিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিসিকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে by ডেভিড হার্স্ট
আলেক্সান্দ্রিয়ায়ও স্পষ্টত বৈদেশিক হস্তক্ষেপ কাজ করেছে। মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিতে প্রচুর ভারী বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যার কারণে ১৭ জনের প্রাণহানি ও ২৮ জন লোক আহত হলেÑ এর জন্য দায়ী হিসেবে সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের ১৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে। অথচ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে প্রায়ই এ ধরনের সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে থাকে। ব্রাদারহুড সদস্যদেরকে পয়ঃপ্রণালীর পাইপ বন্ধ করে দেয়ার জন্য দায়ী করা হয়। বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ধ্বংসের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়। অথচ রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য অন্য বলির পাঁঠা রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি কৌঁসুলি মিসরের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং তার ছেলে সালাহ এবং তওফিক দায়াবকে তিন রাত আটক রাখার পর ছয় হাজার ৩৮৫ ডলারের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি দিয়েছে। এর আগে একটি ফৌজদারি আদালত দিয়্যাব, মোহাম্মদ আল গামাল এবং অন্য ১৬ জনের আর্থিক সম্পদ আটক করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। কেবল নিউ লিজা হাউজিং কম্পাউন্ড প্রজেক্টের সম্পদ এখনো আটক করে রাখা হয়েছে। জনাব দিয়্যাবকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবৈধভাবে দখলের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ তারা হচ্ছেন মিসরের অত্যন্ত ধনী লোক এবং তারা ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানের সমর্থক। দিয়্যাব মিসরের বৃহত্তম বেসরকারি মালিকানাধীন দৈনিক সংবাদপত্র আল মাশরি আল ইউমেব সহপ্রতিষ্ঠাতা। তার সহযোগী হিসাম কাশেম বলেন, আমি মনে করি পত্রিকার কাভারেজের জন্যই দিয়্যাবকে গ্রেফাতর করা হয়েছে। মোবারক আমলের ১৬ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করাটা সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা। সিসিপন্থী ড্রিম টিভির সাংবাদিক ওয়াহেল আল ইবরাশিকে টিভি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
বাদশাহ ফারুকের সময় থেকে মিসরের পাউন্ডের মান দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে সুদের হার বাড়িয়ে এবং ব্যাংকের ডলারকে অনুপ্রাণিত করে পাউন্ডের প্রতি সমর্থন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা নেয়ার পরও অবমূল্যায়ন বা মুদ্রাস্ফীতি থামানো যাচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা আরো মুদ্রাস্ফীতি অবশ্যম্ভাবী বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে মাত্র ১০ মাসে মিসরীয় পাউন্ড ১৪ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। মোহাম্মদ আয়েশ আল কুদস আল আরবিতে লিখেছেন, মুদ্রার পতন ও মূল্য হ্রাসের তিনটি কারণ রয়েছে। রাস্তায় সেনাবাহিনীকে মোতায়েন রাখার ব্যয়, পর্যটনের পতন যেটি মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১ শতাংশ জোগান দেয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের পঞ্চম উৎস, সর্বশেষ হচ্ছে দুর্নীতি। মিসরকে অর্থ দিয়ে (যেখানে অর্থনীতির ৪০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী) আক্ষরিক অর্থে ওই অর্থ একটি কালো গর্তে ফেলানো হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রা বর্তমানে প্রতি মাসে ১০০ কোটি ডলার করে কমে যাচ্ছে। মিসরের মুদ্রা সঙ্কটকে অবশ্য আর্থিক ব্যবস্থাপনার ব্যতিক্রমধর্মী অনিয়মের জন্য চিহ্নিত করতে হবে। মাত্র দুই বছর আগে আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতা দখল করার সময়ও উপসাগরীয় এলাকার সবচেয়ে ধনী দু’টি দেশের সমর্থন পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং তেল ও গ্যাসের অধিকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন। একপর্যায়ে সিসি তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে যে কথাবার্তা বলেছেন তার নির্ভরযোগ্য টেপ ফাঁস হয়ে যায়। তাতে জানা যায়, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত মিসরকে নগদ তিন হাজার ৯৫০ কোটি ডলার দিয়েছে। (৯.৫ বিলিয়ন ডলার) ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানের সময় তারা এই অর্থ প্রদান করে।
২০১৪ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও তারা অর্থ প্রদান করে। তখন থেকে কেউ কেউ হিসাব করেছেন এই অর্থের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। এত অর্থ কোথায় গেল? এখন একটা বিষয় নিশ্চিত মিসরে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আর কোনো অর্থ সহায়তা যাবে না। বর্তমানে আপনি মিসরের যে দিকেই তাকান সে দিকেই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দেখতে পাবেন। এর জন্য এক ব্যক্তি সিসি এবং একটি প্রতিষ্ঠান মিসরের সেনাবাহিনীর প্রতিই সবাই অঙ্গুলি নির্দেশ করছে। সিসি এবং সেনাবাহিনীÑ কোনো বিদেশী হাত দেশটির অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী নয়।
স্বৈরশাসকেরা রক্তপাত ঘটাতে পারে। তারা কোনো যুবককে গুলি করে হত্যা করতে কোনো দ্বিধা করে না। পিতা-মাতার দুঃখ কান্না তাদের দ্বিধাগ্রস্ত করতে পারে না। রাবা এবং তিয়ানানমেন স্কোয়ার বা আন্দিজানের মতো গণহত্যার মধ্যে তাদের কাছে কোনো পার্থক্য নেই। আটক বা জেলহাজতে মৃত্যু কারাগারে নির্যাতন, ক্যাঙারু আদালতের বিচার, গণহারে মৃত্যুদণ্ড প্রদান মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্টের ব্যাপারে কোনো ছোট লাইব্রেরি এবং তাদের বিবৃতি বা বক্তব্যের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণের মতো অপরাধের প্রমাণ যে রয়েছে তার তালিকা প্রস্তুত করলে দেখা যাবে এগুলো সবই সিসি অতিক্রম করেছেন।
সিসি ক্ষমতা দখলের পর থেকে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দোর্দণ্ড শাসক হয়েও এখন দুর্বল অবস্থায় পড়েছেন। তিনি সত্যিকার অর্থে এখন অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। রাষ্ট্র নিজেই এখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। এ ধরনের অবস্থায় উদগ্রীব হয়ে তিনি লন্ডন সফর করেন। তিনি অনেক আশা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন যাতে সেটি তার প্রেসিডেন্সিতে টার্নিং পয়েন্ট প্রমাণিত হতে পারে। তিনিই চুক্তির প্রধান বাস্তবায়নকারী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারিপার্শি¦ক অবস্থার কারণে সেটি তিনি বাতিল করে দেন। সিসি সিনাই ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) সন্ত্রাসী গ্রুপ তার নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়ে সপ্তাহব্যাপী লন্ডনে অবস্থান করেন। কম্পার্টমেন্টে বোমা স্থাপন করে রুশ বিমানকে ভূপাতিত করার বিষয়টি তিনি নিছক প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেকে দৃঢ় অবস্থানে প্রমাণ করে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুবিধা আদায় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শারম আল শেখে বিমান যোগাযোগ বাতিল করে দিয়ে ক্যামেরুন তার আশাবাদকে নিরাশায় পরিণত করে। পরে ডাচ, জার্মানি, আইরিশ ও রাশিয়া তাদের বিমান যোগাযোগ বাতিল করে দেয়। সিসি দেখতে পেলেন তার গোয়েন্দাদের বুদ্ধির রশি ছিঁড়ে গেছে। এটি কেবল সিনাইর ক্ষেত্রে নয় লিবিয়া ও সিরিয়ার ক্ষেত্রেও। আমেরিকান, ব্রিটিশ ও রুশরা একে অপরের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছেÑ সিসির সাথে নয়। ব্রিটিশ-মিসর নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য একটি সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। মিসরের বৃহত্তম বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য এবং বাণিজ্যচুক্তি করার লক্ষ্যে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু মিসরের পর্যটন শিল্পে গোয়েন্দা বিপর্যয়ের পর সিসির পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
টিকে থাকার যুদ্ধের অনেকগুলো ফ্রন্টে সিসি হেরে যাচ্ছেন। সর্বপ্রথম তিনি সিনাইয়ে হেরে গেছেন। ওয়ালিয়াত সিনাই নামে পরিচিত সিনাই প্রদেশে আইএস বিদ্রোহীরা ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে। ২০১২ এবং ২০১৫ এর মধ্যে তারা এবং তাদের পূর্বসূরিরা ৪০০-এর বেশি হামলা চালিয়ে মিসরের সাত শতাধিক সামরিক অফিসার ও সৈন্যকে হত্যা করেছে। এটা ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত গোটা দেশে বিদ্রোহের যত নিহত হয়েছিল তার চেয়েও বেশি। চলতি বছরের জুলাই মাসে সিনাই প্রদেশে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ হামলা চালানো হয়। ওই সময় ১৫টি সামরিক ও নিরাপত্তা চৌকিকে টার্গেট করে দু’টিকে ধ্বংস করা হয়।
তিন শতাধিক লোক এই অভিযানে অংশ নেয়। তারা মিসরের সেনাবাহিনীতে আমেরিকার সরবরাহকৃত এপাসিকে ভূপাতিত করার জন্য বিমানবিধ্বংসী ইগলা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এই অপারেশন ২০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সিনাইয়ের বিদ্রোহ সামরিক অভ্যুত্থানের নজির সৃষ্টি করে। কিন্তু অভ্যুত্থান তার চরিত্র ও গুণাগুণ পরিবর্তন করেছে। তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসি যে সংখ্যার কথা বলেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের জুন মাসের আগে ২৩ মাসে ৭৮ বার হামলা চালানো হয়। গড়ে প্রতি মাসে ৩ দশমিক চারবার হামলা। অভ্যুত্থানের পর একই সময়ে ১২২৩ বার হামলা বা প্রতি মাসে ৫৩ দশমিক ২ বার হামলা করা হয়। অর্থাৎ হামলা ১৪৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিসি সব কিছুর জন্য উত্তর সিনাইয়ের জনসংখ্যার ওপর দোষ দিচ্ছেন। তিনি ১৩৪৭ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ১১ হাজার ৯০৬ জনকে ডিটেনশন এবং ২২ হাজার ৯৯২ জনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। কমপক্ষে ৩,২৫৫টি ভবনকে ধ্বংস করেছেন। তার ইসরাইলি সমর্থকেরা এখন স্বীকার করছেন, সিসি বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে পদে পদে ভুল করেছেন। তিনি সিনাইকে দক্ষিণ সুদানে পরিণত করেছেন। অথচ তিনি মুরসির অধীনে কাজ করার সময় নিজেই সেনাকর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন।
শারীরিকভাবে যুদ্ধ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধ করা। সিসি যেমন তার সমর্থকদের ব্যাপারে যতœবান নন তেমনি সাধারণভাবে মিসরের ব্যাপারেও সতর্ক নন। সিসি পোলিং বুথগুলোকে খালি করে দিয়েছেন। কথিত এই নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এই পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দিন ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩ শতাংশ। এ ব্যাপারে ইজিপশিয়ান ক্লাব ফর জাজেস-এর প্রধান আবদুল্লাহ ফাতি বলেন, ‘কোনো ভুল হয়নি, কোনো অনিয়ম হয়নি, কোনো হইচই বা চিৎকারের ঘটনা ঘটেনি এবং এমনকি কোনো ভোটারও ছিল না।’ এ কথা বলার পর তিনি হাসেন।
লায়লা সুয়েক এবং তার ছেলে ব্লগার ও সেকুলার বামদের হিরো আলা আবদ আল ফাত্তাহ উভয়ে সেনাবাহিনীকে রাবা এবং আন নাহদায় অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দিতে উৎসাহিত করেছিলেন। লায়লা বলেন, ‘বিশেষভাবে আন নাহদার প্রতিবাদ পুলিশ দিয়ে অবিলম্বে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া উচিত।’ অন্য দিকে আলা বলেন, ‘এটি হচ্ছে সশস্ত্র প্রতিবাদ। এটির কোনো রাজনৈতিক সমাধান নেই। এটির নিরাপত্তা সমাধান প্রয়োজন। ‘বর্তমানে আলা জেলে আছেন। এখন ৪১ হাজার রাজবন্দী কারাগারে আটক আছেন। লায়লা কারাগারে অনশন ধর্মঘট পালন করছেন।
লায়লা বলেন, ‘আমার বয়স এখন
প্রায় ৬০ বছর। মিসরে আমার জীবনে সিসির মতো অত্যাচারী ও অপরাধী শাসক আর
দেখিনি।’ তার কথাই সঠিক। মিসরের আধুনিক ইতিহাসে সিসিই হচ্ছে সবচেয়ে
অত্যাচারী শাসক। তাকে যেতে হবে। যদি তিনি ক্ষমতা ছেড়ে না দেন তাহলে মিসর
বিপর্যয়ের পথে ধাবিত হবে। এই বিপর্যয়ে পড়ে রাষ্ট্রটি খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যেতে
পারে এবং ইউরোপের পথে গণ-অভিবাসন শুরু হবে। ওই ধরনের ঘটনা ঘটার আগে কাউকে
না কাউকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। হয়তো অন্য কোনো সেনাকর্মকর্তা এই
পদক্ষেপ নিতে পারেন। লেখক : ডেভিড হার্স্ট মিডল ইস্ট আইয়ের প্রধান
সম্পাদক ও গার্ডিয়ানের ফরেইন লিডার রাইটার। লেখাটির ভাষান্তর করেছেন
মুহাম্মদ খায়রুল বাশারAbout: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হত্যার বিচার চান না মিলনের মা
সম্প্রতি মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে শহীদ ডা. মিলনের মা সেলিনা আখতার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য প্রাণপাত করেছেন, তারাই এখন গণতন্ত্রবিরোধীদের নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। কিন্তু এ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমার মতো আরও যারা সন্তান হারিয়েছেন তাদের কথা কেউ একবারও চিন্তা করলেন না। কি যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে একপ্রকার জীবমৃত অবস্থায় আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু এখন আর স্বপ্ন দেখি না। ছেলে হত্যার বিচারও আর চাই না। আমি বুঝে গেছি এ সরকার এ রাষ্ট্র আমার সন্তান হত্যার বিচার করবে না। তিনি বলেন, দেশের যা পরিস্থিতি সেখানে কার কাছে বিচার চাইব? একে একে ব্লগার ও মুক্তমনাদের হত্যা করা হচ্ছে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। মনে হচ্ছে একাত্তরের ভয়াবহতা আবারও ফিরে এসেছে। কিন্তু এখন তো একাত্তর নয়। দেশে সরকার আছে। আইন, আদালত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। কিন্তু তার পরও কেন খুনিদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না। কেন তারা বারবার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনাদের ওপর হামলে পড়ছে। মিলনরা রক্তের বিনিময়ে কি এ দেশ চেয়েছিল?
সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের দিকে ইঙ্গিত করে সেলিনা আখতার বলেন, তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তার দল এখন তথাকথিত বিরোধী দলে। তিনি এখন গণতন্ত্রের কথা বলেন। যখন বলেন তখন আমার আর কিছুই বলার থাকে না। আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। ছেলে হারানোর শোক ভুলে থাকতে চেষ্টা করি। কিন্তু তার কথা শুনলেই সেই শোক আরও বাড়ে। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই একনায়ক ও স্বৈরশাসকরা একসময় হয় নির্বাসনে গিয়েছেন, কারাগারে থেকেছেন নয়তো অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। বিশ্বের এমন কোথাও নজির নেই, একজন হত্যাকারী, পতিত, স্বৈরশাসক আবার সদর্পে ফিরে এসে রাজনীতি করেছে। পবিত্র সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদে আসীন হয়েছে। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নও দেখছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে? কি দুর্ভাগ্য এ দেশের!
১৯৫৭ সালের ২১শে আগস্ট জন্ম নেয়া ডা. শামসুল আলম খান মিলনের পরিবার ও স্বজনরা জানান, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও এ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী শামসুল হক মিলন জাসদ ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি (ব্যাচ কে-৩৪) অর্জন করেই জড়িয়ে পড়েন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। সরকার ঘোষিত গণবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদনির্ভর স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে বিএমএ পরিচালিত আন্দোলনে অন্যতম প্রধান সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন তিনি। এ অপরাধে অন্যায়ভাবে তাকে রংপুরের রৌমারীতে বদলি করা হয়। তখনকার সরকারের কেউ কেউ তাকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন। আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ২৭শে ডিসেম্বর পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতাল) বিএমএর সভায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সকালে আজিমপুরের বাসা থেকে বের হন মিলন। পথিমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সতীর্থ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে রিকশায় করে পিজি হাসপাতালে আসার সময় টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ডা. শামসুল হক মিলন।
সেই দিনের স্মৃতি হাতড়ে মিলনের মা সেলিনা আখতার বলেন, ইডেন মহিলা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষিকা হিসেবে আজিমপুর কোয়ার্টারে আমার সঙ্গেই থাকতো মিলন, তার স্ত্রী মাহমুদা শিকদার ও একমাত্র কন্যা শামা বিজয়া আলম। সকালে খিচুরি খেয়ে সংগঠনের জরুরি কাজ আছে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এর পরই খবর পাই গুলিতে নিহত হয়েছে আমার আদরের সন্তান। মৃত্যুর আগে মিলন বলেছিল জাতীয় পার্টি তখনকার একজন প্রভাবশালী নেতা তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। খুনিদেরও বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছিল। কিন্তু আজও জানতে পারলা মনা কি অপরাধ ছিল ওর। কেনই বা সেই সময়ের সরকার মিলনকে খুন করে আমার বুক খালি করেছে।
তিনি জানান, মিলনের স্ত্রী মাহমুদা শিকদার বিচারের আশায় ছিলেন বহুদিন। একসময় একরাশ হতাশা নিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। বর্তমানে তিনি থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। মিলনের একমাত্র কন্যা শামা বিজয়া আলম থাকেন ওয়াইহোতে। সেখানে চিকিৎসা বিষয়ে পড়ছেন তিনি। মিলনের মা সেলিনা আখতার জানান, মিলন মারা যাওয়ার সময় শামার বয়স ছিল মাত্র ২ বছর। তাই বাবার স্মৃতি তার কিছুই মনে নেই। বাবার স্নেহ, আদর থেকেও বঞ্চিত হয়েছে সে। বাবার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময়ের কিছুই তার মনে নেই। মাঝে মাঝে দেশে আসে শামা। বাবার স্মৃতি হাতড়ে বেড়ায়। নীরবে চোখের জল ফেলে। আমার কাছে তার পিতার বীরত্বের কথা জানতে চায়। কারা কেন তার বাবাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাও জানতে চায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সেও পিতা হত্যার বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছে।
মিলন হত্যার মামলার বাদী ছিলেন তার সহযাত্রী ডা. মোস্তাক হোসেন। মানবজমিনকে তিনি বলেন, মামলার পর ঢাকার একটি আদালত রায় ঘোষণা করেন। সম্ভবত সেটা ১৯৯৩ সালে। কিন্তু রায়ে তখনকার দুজন ডাকসাইটে ছাত্রনেতাসহ কয়েকজনকে মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি মর্মে তাদের খালাশ দেয়া হয়। এরপর মলিনের মায়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট শামসুল হক চৌধুরী নামে একজন আইনজীবী হত্যা মামলাটি তদন্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এরপর আর কি হয়েছে আমার জানা নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 27
(18)
- ৩ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা
- অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্টাফদের পরিবারকে দেশে ফেরার প...
- সামরিকায়ন ও মুসলিমবিরোধী নীতি by বেন নর্টন
- ‘রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চাই’ -এরশাদ
- দেশ ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে চলছে : সিরাজুল...
- বাতরোগের চিকিৎসায় সার্জারি by ডা. মিজানুর রহমান কল...
- নদী, জলাশয় বা পাড় ইজারা হয় না : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন
- সহজ প্রেমের গল্প by নাসরীন জাহান
- মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে...
- নির্বাচন : আমরা কি আবার হোঁচট খাবো? by সৈয়দ মোয়াজ...
- পুতিনের কড়া সমালোচনায় এরদোগান
- সিরিয়ায় বিমান হামলার বিপক্ষে ব্রিটিশ লেবার দলের নেতা
- ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বললে গর্দান যায় তো যাক : মমতা
- সিসিকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে by ডেভিড হার্স্ট
- হত্যার বিচার চান না মিলনের মা
- ক্লাস শেষে ছাত্রদের সঙ্গে যৌনতা, ধৃত শিক্ষিকা
- ‘খাওন চাইলে খুন্তি গরম কইরা ছেঁকা দিত’
- ৪ ঘণ্টা বন্দি ছিলেন ওয়াসফিয়া
-
▼
Nov 27
(18)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












