Thursday, November 23, 2017

স্বপ্ন দেখাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নতুন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে। আর তাই পরিবেশবান্ধব এই বিদ্যুতের এ উৎস আস্তে আস্তে বিদ্যুতের মূল লাইনে যোগ হচ্ছে। দেশে আগামী তিন বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালে  মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ চাহিদা পূরণে প্রথম পর্যায়ে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এ উৎস থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি’স) অর্জনের উদ্যোগ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) স্থাপন করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেডের (আইসিডসিওএল) কার্যক্রমের অধীনে ইতিমধ্যে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়নের বেশি এসএইচএস স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে অর্থায়ন এবং জ্বালানি দক্ষ প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ১৩ মিলিয়ন সুবিধাভোগী এসএইচএস থেকে সৌরবিদ্যুৎ পাচ্ছে। টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসআরইডিএ) সরকারি ও বেসরকারি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে ৫০০ মেগাওয়াটসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। সরকার গ্রিন এনার্জি প্লান্ট স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সমপ্রতি সৌর প্লান্ট থেকে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এতে ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি এবং বেসরকারি অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। দীর্ঘমিয়াদি পরিকল্পনায় সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২০ বছরে ২৫৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪টি সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করবে। এতে ব্যয় হবে ৯,১৫৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) দুটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সাংগু এবং মাতামুহুরি দুটি এলাকা নির্ধারণ করেছে। এই দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৪০ মেগাওয়াটা ও ৭৫ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জৈব জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমান সময়ে একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি ভবিষ্যতের সমাধান। এটা মাথায় রেখেই সরকার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের শতকরা ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে, যার বেশির ভাগ আসবে সৌরশক্তি থেকে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের একটি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে যাচ্ছে তিস্তা সোলার। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২০ বছর এ প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট ১৫ সেন্ট দরে ক্রয় করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সমপ্রতি এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ২০২০ সালে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ চাহিদা পূরণে আমরা প্রথম পর্যায়ে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এই প্রথম দেশীয় কোম্পানি ২০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে। এর আগেও ২০০ মেগাওয়াটের বিদেশি একটি কোম্পানি সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছিল। সেটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মুখ দেখেনি। আগামীর বিশ্বে বাংলাদেশ হবে পরিবেশবান্ধব জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের ছাদ ব্যবহারের কথা ভাবছি। আরো সামনে সূর্যগ্রাম প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সোলারের ওপর নির্ভরশীল হতে যাচ্ছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারে ঝুঁকছে। বাংলাদেশকেও এদিকে যেতে হবে। আমরা চাইবো যত কম পারা যায় কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমাতে। এজন্য প্রচুর নবায়নযোগ্য এনার্জি দরকার।
এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, আমরা ২০২০ সালে অবশ্যই টার্গেটে পৌঁছে যাবো। তিনি জানান, আশা করছি নির্ধারিত সময়ে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে। বর্তমানে উৎপাদনে আছে ৫শ’ মেগাওয়াট। আরো বাস্তবায়নাধীন আছে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগে না। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন পূরণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

৬৯ মাসে তদন্ত প্রতিবেদন পেছালো ৫২ বার

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার তারিখ ফের পিছিয়েছে। গত মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৬শে ডিসেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন। আর এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ৬৯ মাসে তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ ৫২ বার পেছালো। এতে করে নিহতের  পরিবারের সদস্যরা অনেকটা নিরাশায় আছেন।
তারা বলছেন- দিনের পর দিন যাচ্ছে। দুই মাস পর ৬ বছরে পড়বে। কিন্তু এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম আর শেষ হয় না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব সদর দপ্তরের সহকারী কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যদি আগামী ২৬শে ডিসেম্বরের আগে সেই প্রতিবেদন আমাদের কাছে চলে আসে তবে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া যাবে। এছাড়া অন্যান্য তদন্তও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মুনির। নিজের একমাত্র ছেলেকে হত্যার সাড়ে ৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। এখনো চোখ দিয়ে জল পড়ে অঝোর ধারায়। সাগরের মা সালেহা মুনির মানবজমিনকে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার বিচার আর এই দেশে হবে না। কিন্তু এই আসমান জমিন যতদিন থাকবে, আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিনই সাগর হত্যার বিচার চাইবো। আমি শুধু জানতে চাই, আমার ছেলের কি অপরাধ ছিল। কেন আমার একমাত্র সন্তানকে হত্যা করে আমার বুক খালি করা হলো। সাগর-রুনি হত্যা মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে এখন আর আমার যোগাযোগ হয় না। কারণ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে একেক জন একেক ধরনের কথা বলে। তারা আদৌ এই মামলার তদন্ত করছে কিনা বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, তদন্তে গাফিলতির কারণে বারবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে এই মামলার আজ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতিই দেখলাম না। আদৌ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে কিনা জানি না।
২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। সাগর-রুনি খুন হওয়ার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৮ই এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাব তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাগর-রুনির মরদেহ কবর থেকে তোলার আবেদন জানায়। পরে ২০১২ সালের ২৬শে এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির মরদেহ তোলা হয়। তাতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে কোনো নেশাজাতীয় খাবার পানীয় দেয়া হয়নি এবং কোনো বিষও পাওয়া যায়নি।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ৮ মাস পর ২০১২ সালের ১০ই অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ৫ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়। ওইদিনই রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল এবং পরবর্তীতে অন্য দারোয়ান এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। পলাশ রুদ্র পাল ও তানভীর রহমান এখন জামিনে আছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাগর-রুনির বাসার পলাতক দারোয়ান এনামুল হক ওরফে হুমায়ূনকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলে যাবে। এ জন্য এনামুলকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও খোলেনি রহস্যজট। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর দুই দফায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে। আলামতের তালিকায় ছিল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি, ছুরির বাঁট, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, সাগরের হাত-পা যে কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট প্রথম দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এসব আলামত থেকে দুজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। পরে এ দুই ব্যক্তির প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নিহত সাংবাদিক দম্পতির পারিবারিক বন্ধু তানভীর, দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল ওরফে হুমায়ূন কবীর এবং পাঁচ ডাকাত রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুনের চুল ও লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। সে সময় বলা হয়েছিল, এ আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্তে নতুন মোড় নেবে। রহস্য উদঘাটনে সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে। সেই পরীক্ষার একটি প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা। কিন্তু সেই ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে কারও ডিএনএ ম্যাচ করেনি। ফলে অধরাই থেকে গেছে খুনিরা।

বিয়ে করলেন জহির খান

বলিউড অভিনেত্রী সাগরিকা ঘাটগেকে চিরদিনের মতো জীবনসঙ্গিনী করলেন ভারতীয় ক্রিকেটার জহির খান। সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে কোর্টে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা।

জহির খানের প্রোস্পোর্ট ফিটনেস স্টুডিওর হেড অব বিজনেস এবং ব্র্যান্ড মার্কেটিং অঞ্জন শর্মা ইনস্টাগ্রামে নব দম্পতির বিয়ের ছবি শেয়ার করে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

জহির খান ও সাগরিকার বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠান হবে আগামী ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ের তাজমহল প্যালেসে। এতে ভারতীয় ক্রিকেট, বলিউডসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকার উপস্থিত হওয়ার কথা।

গেলো ২৪ মে হয় জহির খান-সাগরিকার বাগদান। এতে ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং ও হ্যাজেল কিচ দম্পতি উপস্থিত ছিলেন।

সাগরিকার বলিউডে অভিষেক ঘটে ২০০৭ সালে। বলিউড কিং শাহরুখ খান অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘চাক দে ইন্ডিয়া’র অভিনেত্রী ছিলেন এ লাস্যময়ী।

এ সিনেমার অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেন সাগরিকার বান্ধবী ভিদায় মালভাদে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে জহির-সাগরিকার বিয়ের কার্ডের ছবি পোস্ট করেন তিনি।

ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার জহির খান। দেশটির জার্সিতে তিনি ২২ গজ মাতিয়েছেন ১৪ বছর। টিম ইন্ডিয়ার অসংখ্য জয়ের সাক্ষী তিনি। ভারতের সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে অসামান্য অবদান রাখেন এ বাঁহাতি পেসার।

বলিউড ছাড়াও মারাঠি ও পাঞ্জাবি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সাগরিকা। তার আসন্ন সিনেমা হাদসা শিগগির মুক্তি পাবে।

বিদ্যুতের দাম ফের বাড়লো

বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি। গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ইউনিট প্রতি ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে এই দর কার্যকর হবে।
 
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানায়।

২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ বছরে খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৭ বার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম।

মাঝে দুই বছর বিরতি দিয়ে আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর নিট বিদ্যুৎ বিতরণ খরচ বৃদ্ধি বিবেচনায় সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার ৩৫ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এ বৃদ্ধির হার গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে শুনানির আয়োজন করে। সেখানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।

এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহক পর্যায়ে ৬.২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬.৩৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০.৩৬ শতাংশ, আরইবি ১০.৭৫ শতাংশ এবং পিডিবি ১৪.৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

বিইআরসির আইন অনুযায়ী গণশুনানি করার পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে আজকের সিদ্ধান্তে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব শ্রেণির গ্রাহকের স্বার্থ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক প্রভাব, বিত্তহীন ও নিম্নবিত্তহীনসহ সব গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ হ্রাস- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সচিব মুহ. মাহবুবর রহমান বলেন, বিদ্যুতের ন্যূনতম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ৩০ লাখ লাইফ লাইন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে। এছাড়া বাপবিবো’র ৬০ লাখ লাইফ লাইন গ্রাহকের জন্য খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যহার অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে সারাদেশে মোট গ্রাহকের প্রায় ৩৮ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বৃ্দ্ধি পাবে না।

প্রাথমিক সমাপনীর প্রশ্নে ভুল: বরখাস্ত হলেন নেপথ্যের কর্মকর্তা

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নে ভুলের ঘটনায় এক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। ওই কর্মকর্তার নাম আব্দুল মান্নান। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামানের সই করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশে বলা হয়েছে, গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুরের সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৩ নভেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।

ওই আদেশে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক ‘সাময়িক ভাতা’ পাবেন আব্দুল মান্নান।

চলমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি ভার্সনের বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অন্তত অর্ধ শতাধিক ভুল ধরা পড়ে।

ওই প্রশ্নপত্রে ৪০টি প্রশ্নে ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণগত ভুল ছিল। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রণালয়।

কে এই ‘সুন্দরী’ পুলিশ?

ভারতের পাঞ্জাব পুলিশের সুন্দরী কর্মকর্তা। কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তরুণীর ছবি বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ খুঁজে বেড়াচ্ছেন পাঞ্জাব পুলিশে কে এই সুন্দরী তরুণী?

জানা গেছে, অভিনেত্রী কায়নাত অরোরা তার ‘জগ্গা জিউনদাই’ ছবিতে পাঞ্জাব পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেখানে তার চরিত্রে নাম ‘হরলীন মান’। ইতোমধ্যে শুটিংয়ের সেই ছবিই ভাইরাল হয়েছে অনলাইন দুনিয়ায়।

কেউ কেউ এই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্যাপশন লিখছেন, এই সুন্দরী পুলিশ কর্মকর্তার হাতে গ্রেপ্তার হতে চান। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী কায়নাতের ছবি বেশ আলোচনা ছড়িয়েছে।

বিষয়টি নিযে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন অভিনেত্রী কায়নাত। তিনি বলেন, ছবিগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। অনেকেই নানা রকম ক্যাপশনে ফেসবুকে ঝড় তুলছেন। আবার কেউ কেউ আজেবাজে মন্তব্য করছেন। বিষয়টি উপভোগ করছি, আবার বিব্রতও হচ্ছি।

জানা গেছে, শুটিংয়ের কিছু ছবি কায়নাত নিজেই ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। সেখান থেকেই অনলাইনে ভাইরাল হয় ছবিগুলো।

তবে সিনেমা মুক্তির আগেই সবার এই আগ্রহ দেখে পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অবশ্য দারুণ খুশি। তারা মনে করছেন কায়নাতকে দেখতে হলমুখী হবেন দর্শক। সব কিছু ঠিকমতো এগুলে আগামী এপ্রিলে সিনেমা হলে মুক্তি পাবে ছবিটি।

অভিনেত্রী কায়নাত অরোরা বলেন, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার এই লুক পছন্দ করছেন। তারা নিশ্চয় সিনেমা দেখতে হলে যাবেন। এটা আমার বিশ্বাস।

ঢাকায় ৬০ দেশের ১৭০ চলচ্চিত্র

শুরু হতে যাচ্ছে ‘১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘উত্তম ছবি, উত্তম দর্শক ও উত্তম সমাজ’। আগামী ১২ থেকে ২০ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন।

উৎসব পরিচালক ও রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহমেদ মুজতবা জামাল জানান,  ঢাকার ৫টি মিলনায়তনে বিশ্বের ৬০ দেশের ১৭০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসব চলবে ৯ দিনব্যাপী। বাংলাদেশ থেকে জুরি থাকবেন মোরশেদুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ, নুরুল আলম আতিক ও বিপাশা হায়াৎ।

এবারের উৎসবে এশিয়ান চলচ্চিত্র, রেট্রোসপেকটিভ, বাংলাদেশ প্যানারমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, শিশুতোষ ছবি, নারী নির্মাতা, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র এবং স্পিরিচুয়াল সিনেমা বিভাগে ছবিগুলো দেখানো হবে।

জুরি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন আট দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, সমালোচক, লেখক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।  এর মধ্যে রয়েছেন নরওয়ের এজ হফার্ট, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারি স্প্রিঞ্জার, সিডনি লেভাইন, ভারতের গিরীশ কাসারাভাল্লি, ইরানের মোহাম্মদ হাসান আমির ইয়োসেফি, ইতালির অ্যানা কোচিয়ারেলা, আন্ড্রেয়া মর্গহেন, নেপালের অরুণ দেও জোশি, রাশিয়ার লিয়া গিলমাতদিনোভা, ফিনল্যান্ডের মেরজা রিতোলা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার চলচ্চিত্র সমালোচকদের সম্মেলন। আগামী ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি আয়োজকদের সঙ্গে যৌথভাবে এশিয়ার চলচ্চিত্র সমালোচকদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ডে লা প্রেস সিনেমাটোগ্রাফিক (ফিপরেসকি)।

এছাড়া থাকবে ‘ফোর্থ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ওমেন ইন সিনেমা ২০১৮’ এবং নতুন নির্মাতাদের নিয়ে কর্মশালা। উল্লেখ্য ১৯৯২ সাল থেকে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি আয়োজন করছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’।

রবার্ট মুগাবে: বিপ্লবী থেকে স্বৈরাচার, অতঃপর... by মাহমুদ ফেরদৌস

রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে একবার বলেছিলেন তিনি শতবর্ষী হওয়া অবধি জিম্বাবুয়ের শাসক থাকবেন। কিন্তু ৯৩ বছর বয়সে এসে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। গদিও হারিয়েছেন তিনি। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন মুগাবে। এ খবরে রাজধানী হারারে এদিন রাতে ঘুমায়নি।
সব শ্রেণি, পেশার মানুষ নেমে পড়েন রাস্তায়। তারা ‘মুক্তি’ উদযাপন করতে থাকেন। এক অভূতপূর্ব  দৃশ্যের অবতারণা হয় রাজপথে। সুদীর্ঘ এক নায়কতন্ত্রের অবসান হওয়ার স্বস্তিতে উল্লাসে মাতোয়ারা জনগণের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। নেচে গেয়ে তারা মাতিয়ে রাখেন নগরের অলিগলি। মুগাবে শাসনের অবসান হওয়ায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে আসে সবাই। ওদিকে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবর বলা হয়েছে, শুক্রবার ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন বরখাস্ত করা ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনাংগাগওয়া। সেনাবাহিনী বলছে, মুগাবে নয়, তার আশপাশের লোকদের বিরুদ্ধেই তাদের অবস্থান। গৃহবন্দি অবস্থায় মুগাবে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। কিন্তু পরিস্থিতি তার অনুকূলে নেই ছিল না। বয়স তার ৯৩। স্ত্রী গ্রেস মুগাবে অভ্যুত্থানের খবর পেয়েই পালিয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনাংগাগওয়াকে বহিষ্কারের পরই সেনারা বিদ্রোহ করে।
বিশ্বে এ মুহূর্তে যত রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান আছেন, তাদের মধ্যে সম্ভবত মুগাবের চেহারাই পৃথিবীবাসী সবচেয়ে বেশি চেনেন। ৩৭ বছর ধরে ছিলেন ক্ষমতায়। তাই ব্যাপক ঘটনাবহুল তার জীবন।
প্রথম দিকে মুগাবেকে বলা হতো ‘মুক্তিদাতা’, যিনি সাবেক বৃটিশ উপনিবেশ রোডেশিয়াকে শ্বেতাঙ্গ শাসনমুক্ত করেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার খুব অল্প সময় পরই মুগাবে হয়ে যান স্বৈরাচার। তিনি রাজনৈতিক ভিন্ন মতালম্বীদের পিষে ফেলেছেন। বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন জাতীয় অর্থনীতির।
সত্তরের দশকের শেষ নাগাদ সহিংস বিদ্রোহ ও তীব্র অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে রোডেশিয়ার শ্বেতাঙ্গ সরকার আলোচনার টেবিলে আসে। ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসেন রাজনৈতিক বন্দি থেকে গেরিলা নেতা বনে যাওয়া মুগাবে।
ক্ষমতায় আসার পর তিনি শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ মেলবন্ধনের নীতি ঘোষণা করেন। সংখ্যাগুরু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য উন্নততর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেন। এসব উদ্যোগের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ব্যাপক প্রশংসাও পেয়েছিলেন। কিন্তু তার এই দ্যুতি দ্রুতই মিইয়ে যেতে থাকে।
১৯৭৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান মুগাবে। তখন শ্বেতাঙ্গ শাসকদের বিরুদ্ধে গেরিলা সংগ্রাম চালাচ্ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের দুটি গ্রুপ। এর মধ্যে একটি ছিল জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন (জেডএএনইউ)। মুক্তি পেয়ে মুগাবে দলটির রাজনৈতিক ও সশস্ত্র শাখার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
শাসকবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে তার অপর অংশীদার ছিলেন জোসুয়া এনকোমো। তিনি ছিলেন জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান পিপল’স ইউনিয়নের (জেডএপিইউ) নেতা। ক্ষমতায় আসার পর ভিন্নমতালম্বীদের বিরুদ্ধে মুগাবে যে দমনপীড়ন শুরু করেন, তার প্রথম দিককার শিকার ছিলেন এনকোমা।
এনকোমাকে প্রথমে ঐক্যমতের সরকার থেকে বিদায় করা হয়। তিনি ছিলেন ওই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৮২ সালে তার দলের শক্ত ঘাঁটি মাতাবেলেল্যান্ড প্রদেশে অস্ত্রের বিরাট চালান আবিষ্কারের পর তাকে বহিষ্কার করা হয়।
মূলত, মুগাবের ক্ষমতার উৎস ছিল সংখ্যাগুরু শোনা সম্প্রদায়। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল ফিফথ ব্রিগেড নামে এক কুখ্যাত বিশেষ বাহিনী। উত্তর কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ পেয়েছিল তারা। নিজের একসময়কার মিত্র এনকোমোকে মন্ত্রিসভা থেকে হঠানোর পর তার এনদেবেলে জনগোষ্ঠীর ওপর ফিফথ ব্রিগেডকে লেলিয়ে দেন মুগাবে। এই হত্যাযজ্ঞ গুকুরাহুন্দি নামে পরিচিত। এতে নিহত হয়েছিলেন আনুমানিক ২০ হাজার সন্দেহভাজন ভিন্নমতালম্বী।
দুই দশক পর শ্বেতাঙ্গ-মালিকানাধীন কৃষি খামার দখলে নেওয়ার পর, পশ্চিমাদের প্রিয়ভাজন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার ষোলকলা পূরণ করেন মুগাবে। কিন্তু এখনও আফ্রিকার বহু জায়গায় তাকে মুক্তির নায়ক হিসেবেই স্মরণ করা হয়।
শ্বেতাঙ্গদের খামার দখলে নিতে তিনি প্রণয়ন করেছিলেন ভূমি সংস্কার নীতি। ওই সময় সাবেক অনেক স্বাধীনতাযোদ্ধা তার শাসন নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের সন্তুষ্ট করতেই শ্বেতাঙ্গদের জমি দখলে নিয়ে তাদের দেয়া হয়। এভাবে ধ্বংস হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিখাত। পালিয়ে যায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এক অর্থনৈতিক দুর্বিপাকে পড়ে দেশ। এই যখন অবস্থা, তখন মানুষের মানবাধিকার হরণ করে আর নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন মুগাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্যাডর‌্যাক গুট্টো বলেন, ‘তিনি ছিলেন এক মহান নেতা। কিন্তু তার নেতৃত্বকে তিনি এমন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন যে জিম্বাবুয়েকে তিনি নিঃস্ব করে ফেলেছেন।’
বৃটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ক্যারিংটন আবার মুগাবেকে বেশ ভালো করে জানতেন। তিনিই বিখ্যাত ল্যাঙ্ক্যাস্টার হাউজ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেন। শ্বেতাঙ্গ সরকার ও কৃষ্ণাঙ্গ গেরিলাদের মধ্যে এই আলোচনার মাধ্যমেই জিম্বাবুয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।
মুগাবেকে নিয়ে একটি আলোচিত বই লিখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ নারী সাংবাদিক হেইদি হল্যান্ড। ‘ডিনার উইথ মুগাবে’ নামে সেই বইয়ে পিটার ক্যারিংটনের একটি আলোচিত মন্তব্য আছে মুগাবেকে নিয়ে। ক্যারিংটন বলেন, ‘মুগাবে আসলে মানুষই ছিল না। তার মধ্যে সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণীদের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। আপনি তার দক্ষতা আর মেধার তারিফ করতে পারেন। কিন্তু লোকটা বড্ড পিচ্ছিল।’
নিজের শাসনের শেষ দশকে এসে, মুগাবে পশ্চিমা-বিরোধী ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হন। নিজ দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য পশ্চিমা অবরোধকে দায়ী করতে তিনি খুব কঠোর শব্দ ও বাক্য চয়ন করতেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে, পশ্চিমাদের অবরোধ মুগাবে আর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ওপর আরোপ করা, জিম্বাবুয়ের অর্থনীতির ওপর নয়।
২০০৩ সালে এক প্রামাণ্যচিত্রে মুগাবেকে তার স্বৈরাচারী শাসন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন মানুষ বলে যে আপনি একজন স্বৈরশাসক, আমি এটা পাত্তা দিই না। জানি যে, তারা এসব বলছে কেবল আমার মর্যাদা খাটো করার জন্য।’
তার দীর্ঘ শাসনামলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এই আলোচনা ছিল অনেকটা নিষিদ্ধ। কিন্তু ২০১৪ সালে তার বয়স যখন ৯০ হয়, তখন তিনি দৃশ্যত বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। আর তখনই তার দলীয় নেতাদের মধ্যে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, এ নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বহু বছর ধরে গুজব আছে যে, তার প্রোস্টেট ক্যানসার আছে। কিন্তু সরকারিভাবে তা স্বীকার করা হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ঘন ঘন সিঙ্গাপুরে যান চোখের ছানির চিকিৎসা করাতে।
মুগাবের দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেস একবার গর্ব করে বলেছিলেন আশি বছর বয়সেও মুগাবে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে হাঁটাহাঁটি করেন। গ্রেস ছিলেন মুগাবের এক সময়কার সেক্রেটারি। বয়সে ৪১ বছরের ছোট। কিন্তু তাকেই ভাবা হতো মুগাবের উত্তরাধিকারী।
২০১৬ সালে মুগাবে যখন বিদেশে তখন একবার গুজব উঠে তিনি মরে গেছেন। বিদেশ সফর থেকে ফিরে এসে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এটা সত্য যে আমি মরেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি আবার পুনর্জন্ম লাভ করেছি। প্রতিবার আমি দেশে ফিরলেই পুনর্জন্ম লাভ করি।’
কিন্তু পরের কয়েক বছরে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তার দিন ঘনিয়ে এসেছে। একাধিকবার তিনি পড়ে গেছেন মাটিতে। ২০১৬ সালে একবার পার্লামেন্টের সূচনাকালে ভুল বক্তব্য দিয়ে ফেলেছিলেন।
১৯২৪ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে হারারের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে এক ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম হয় মুগাবের। তার বিভিন্ন জীবনীমূলক বইতে উঠে এসেছে যে, ছোটবেলায় তিনি ছিলেন একাকী ও পড়ুয়া ছেলে। গবাদিপশু চরাতে গিয়েও তিনি সঙ্গে বই রাখতেন। তার বয়স যখন দশ, হঠাৎ করে তার ছুতারমিস্ত্রি পিতা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু তখন মুগাবে নিজের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোনিবেশ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি স্কুলশিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
তার বুদ্ধিবৃত্তিক দিক বেশ প্রখর ছিল। মার্ক্সবাদ লালন করতেন প্রথম দিকে। যৌবনে ভর্তি হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বহু হবু কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী নেতার সঙ্গে তার উঠাবসা। ঘানায় শিক্ষকতাকালে তিনি দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট কোয়াম এনক্রুমাহর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ঘানা থেকে দেশে (তখন রোডেশিয়া) ফেরার পর কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ১৯৬৪ সালে তাকে আটক করা হয়। তার জীবনের পরের ১০ বছর অতিবাহিত হয় বন্দিশিবির বা কারাগারে। কারাগারে থেকেই তিনি তিনটি ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু এই বন্দিজীবন ব্যাপক প্রভাব ফেলে তার ওপর।
তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন ঘানার বাসিন্দা। স্যালি ফ্রান্সেস্কা হেফ্রনের গর্ভে জন্ম নেওয়া তার চার বয়সী সন্তান যখন মারা যায়, তখনও তিনি ছিলেন কারান্তরীণ। নিজের ছেলের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও তাকে অংশগ্রহণ করতে দেননি রোডেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়ান স্মিথ। পরে অবশ্য কয়েক বছর পর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেসের গর্ভে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে হয়।
কয়েক দশক ধরে ক্ষমতার ওপর বজ্রমুষ্ঠি ছিল মুগাবের। তিনি যখন দুর্বল হলেন শারীরিকভাবে তখন আস্তে আস্তে আলোচনা হতে থাকে কে হবেন তার উত্তরাধিকারী। ফার্স্টলেডি গ্রেসকে ভাবা হতো স্বামী মুগাবের উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এখন সময় বড্ড বেয়ারা।
মুগাবের অন্যতম জীবনীকার মার্টিন মেরেডিথের ভাষায়, ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়েও মুগাবে ক্ষমতা নিয়ে মোহাচ্ছন্ন ছিলেন বেশি। বছরের পর বছর ধরে মুগাবে নিজের ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন সহিংসতা ও নির্যাতনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করা, আদালতকে লঙ্ঘন করা, সম্পত্তি অধিকার চূর্ণবিচূর্ণ করা, স্বাধীন গণমাধ্যমকে দমন ও নির্বাচনে কারচুপি করাই ছিল তার ক্ষমতায় থাকার কৌশল।’
(এএফপি অবলম্বনে)

সিঙ্গাপুরে চলবে চালকবিহীন বাস

২০২২ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের গণপরিবহনে যুক্ত হবে চালকবিহীন বাস। দেশটির সরকার জানিয়েছে, চালবিহীন বাসের জন্য শুরুতে পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এরপর প্রকল্পের ফল দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে ১০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় যানবাহন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২২ সালের মধ্যেই সেখানে চালকবিহীন বাস চলার কথা রয়েছে।
চালকবিহীন এসব বাস শুরুর দিকে তুলনামূলক ফাঁকা রাস্তায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এগুলো মূলত যাত্রী সম্প্রদায়ের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া অল্প দূরত্বের বাস এবং ট্রেন স্টেশনে যেতেও কাজ করবে স্বয়ংক্রিয় বাসগুলো


সিঙ্গাপুর মনে করছে, চালকবিহীন প্রযুক্তি তাদের জন্য বেশ সহায়ক হবে। বিশেষ করে দেশটির লোকবলের অভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা হবে খুবই কার্যকর। এ সম্পর্কে সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী খাও বুন ওয়ান বলেন, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন আমাদের পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় সিঙ্গাপুরে যানজটের পরিমাণ অনেকটাই কম। রাস্তার ধরন এবং বিভিন্ন নীতিমালার কারণে এ সমস্যাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সমর্থ হয়েছে তারা। চালকবিহীন বাস চালু হলে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যানজট আরও কমানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন খাও বুন ওয়ান।

সূত্র: বিবিসি

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ওমিয়ানমারকে অবশ্যই বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন করতে হবে। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সাভারে মিলিটারি পুলিশের সিএমপি সেন্টার ও স্কুলকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে গিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের পথে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে আন্তঃদেশীয় রেল নেটওয়ার্কের মতো বড় দাগের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে শক্তিশালী অর্থনীতিতে উন্নত জীবনমান পাবে দেশবাসী।

কারো কাছে হাত না পেতে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার সতর্কার সাথে এগুচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে স্থানান্তর হয়ে সাভারে স্থায়ী ঠিকানা হলো মিলিটারি পুলিশিং প্রশিক্ষণের সূতিকাগার কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলের। দেশি-বিদেশি সামরিক সদস্য থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিয়ে সাভার সেনানিবাসে ১৫ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক জাতীয় পতাকা প্রদানের আনুষ্ঠানিকতায় সাভারে সিএমপি প্যারেড গ্রাউন্ডের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সশস্ত্র সালামে তাকে স্বাগত জানায় মিলিটারি পুলিশ। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সিএমপি স্কুলকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক সই

রাখাইনে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এই স্মারক সই হয়।

এর আগে বুধবার নেইপিদোতে এই সমঝোতার খসড়া নিয়ে দিনভর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নেইপিদোতে সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ভালো আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) সমঝোতা স্মারক সই হবে আশা করি।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর দপ্তরের মন্ত্রী কিয়াও তিন্ত সোয়ে’র সঙ্গে গতকাল দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। চুক্তির বিস্তারিত জানা না গেলেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার প্রস্তাব দিয়েছে বলে সূত্র জানায়। চুক্তির আওতায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। এই ওয়ার্কিং গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মিয়ানমারের কার্যত সরকার প্রধান, স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৃহস্পতিবার নেপিদো’তে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর আগে ১৯৭৮ সালে দুই দেশ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির অধীনে দুই লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ছয় মাসের মধ্যে ফেরত যায়। পরে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়, যার অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: নৌ-মন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সন্তুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপারে বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে দেশটি, যা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করবে। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে তার দফতরে গিয়ে দেখা করেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

শাজাহান খান আগামী ১ ডিসেম্বর লন্ডনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা আইএমও’র ‘বি’ ক্যাটাগরির কাউন্সিল সদস্য নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের প্রশংসা করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুস সামাদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন কোস্টগার্ড পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করে। তারা আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থা (আইএমও)-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করে আসছে। ২০১৫ সালে এবং এ বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কোস্টগার্ডের একটি দল চট্টগ্রাম বন্দর সফর করে নিরাপত্তার উন্নতির বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কাজ করে যাচ্ছে।

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে নৌমন্ত্রীর ভাইয়ের মামলা

ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরের আদালতে ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন নৌমন্ত্রীর চাচাতো ভাই মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক খান। 
চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর নিয়োগের ঘটনা নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আসিফ নজরুল ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।


মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া জানান, বিবাদী নজরুল ইসলাম ওরফে আসিফ নজরুল তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন যে, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষায় ৯২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৯০ জন নৌপরিবহন মন্ত্রীর এলাকা মাদারীপুরের বাসিন্দা। অথচ উনি চাইলে ৯২ জনই উনার এলাকার লোক হতে পারতো। ২ জন ভিন্ন এলাকার লোক নিয়োগ দিয়ে উনি সততার যে দৃষ্টান্ত দেখালেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’ এতে নৌমন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক খান তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

গোলাম কিবরিয়া আরও জানান, মাদারীপুর আদালতে দায়েরকৃত মামলা নং ৪০০/২০১৭। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সমন জারি করেছেন।

এর আগে, এই ঘটনায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়েরের জন্য গত মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করা হলেও আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি। পরে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে বন্দরে নিয়োগের ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সংসদকে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে ৯২ জন নয় চাকরি দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। চাকরির বিধান অনুযায়ী এবং কোটা অনুসরণ করে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ২৩ জন, কক্সবাজারের ৪ জন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ২ জন। এ ছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ চাকরি পেয়েছেন। যদি জেলা কোটার কথা যদি আসে, তবে আগামী ৩০ বছরের মধ্যেও চট্টগ্রামের কোনও কোটায় চাকরি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও বন্দর যেহেতু চট্টগ্রামে, তাই চট্টগ্রামের বিষয়টি জেলা কোটায় ফেলা হয় না।

অসামান্য অবদানে সেবা পদক পেলেন জয়নুল আবেদিন

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীগণকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে অসমান্য অবদান রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব লোহাগাড়ার কৃতিসন্তান মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম পিএসসিকে “অসমান্য সেবা পদক” র‌্যাংক ব্যাচ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, সামরিক সচিব এবং ডিজিএফসহ ২৬ জনকে “অসামান্য সেবা পদক”  র‌্যাংক  ব্যাচ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনারা যখন ক্ষমতা নেয়, গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে by পিটার জোনস

জিম্বাবুয়ে চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। যতদিন বা যতক্ষণ তারা দেশ নিয়ন্ত্রণ করবে ততদিন কার্যকর গণতন্ত্র টিকে থাকার কোনো আশাই করা যায় না, যদিও ৩৭ বছর পরে বিদায় দেয়া হয়েছে অত্যাচারী রবার্ট মুগাবেকে। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আছে। তা হলো, জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী দৃশ্যত ঐক্যবদ্ধ আছে।
যখন সম্পদশালীরা প্রাইভেট আর্মির সমর্থনে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের আকাঙ্খাকে আরোপ করেছিল তখন রোমান প্রজাতন্ত্রের পতন দৃষ্টিগোচর হয়। এ প্রক্রিয়ায় ৮৭ খিস্ট্র পূর্বাব্দে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে রোম আক্রমণ করেছিলেন সুলা।
তারপর ৮৩ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে নিজেকে স্বৈরাচারে পরিণত করেন। একবার যখন এই নজির স্থাপন হয়ে গেল তখন তা অন্যদের চেষ্টা করার জন্য ক্ষেত্রে উন্মুক্ত করে দিলো। ইতিহাসের নির্মম সত্য যে, সুলা’র গুন্ডাবাহিনীর হাতে ‘গুম’ হয়েছিলেন এমন একজন মানুষ হলেন জুলিয়াস সিজার। ওই সময়ে সুলা সতর্ক করেছিলেন যে, জুলিয়াস সিজার তার জন্য বড় একটি সমস্যার কারণ হতে পারেন। ৪৯ খিষ্ট্র পূর্বাব্দে গৃহযুদ্ধে পম্পেইকে পরাজিত করেন সিজার এবং নিজেকে স্বৈরাচারে পরিণত হরেন। এর পরিণাম হিসেবে ৪৪ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে হত্যা করা হয় জুলিয়াস সিজারকে। আরো গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। উত্থান ঘটে সিজারের উত্তরাধিকারী অক্টাভিয়ানের। তিনি প্রথম রোমান স¤্রাট অগাস্টাস (২৭ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ)।
অগাস্টাস ক্ষমতায় এসে যেসব কাজে হাত দেন তার মধ্যে প্রথম চোখ পড়ে সেনাবাহিনীর দিকে। তিনি শৃংখলা ফেরানোর চেষ্টা করেন। সেনাবাহিনীতে পেশাদারিত্ব আনার চেষ্টা করেন তার নিজস্ব কমান্ডের অধীনে। সেনাদেরকে যথাযথ ক্যারিয়ার তৈরি করাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়েছিল কি? উত্তর হলো ‘না’। তাহলে অগাস্টাস যখন মারা যাবেন তখন কি ঘটবে? ক্ষমতায় তার উত্তরাধিকারীকে কি মেনে নেবে সেনাবাহিনী?
দেশটির উত্তরাঞ্চলের সেনাদের একটি অংশ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিদ্রোহ করে বসে। তবে তাদেরকে দমন করা হয়। সতর্ক সংকেতটা কিন্তু এখানেই। যখন মানসিক বিকারগ্রস্ত ক্যালিগুলা’কে হত্যা করা হলো তখন ক্ষমতার কোনো উত্তরাধিকারি ছিল না। সিনেটে অস্বস্তি দেখা দিল। তার প্রাইটোরিয়ান গার্ড কোনো জটিলতায় না গিয়ে ক্লাউডিয়াসকে নিয়োগ করলো। এতে কেউই আপত্তি তুললো না।
এরপরেই আসতে থাকে প্রতিকূলতা। ৬৮ খিস্ট্রাব্দে আত্মহত্যা করেন নিরো। এবার তিনিও কোনো উত্তরসূরি রেখে যান নি। ফলে ক্ষমতার চেয়ারে চোখ পড়ে রোমান আর্মির। তাদের কমান্ডিং জেনারেলরা দেখতে পেল তাদের সামনে সুযোগ এসেছে।
৬৯ খ্রিস্টাব্দে সিরিজ গৃহযুদ্ধ চলতে লাগলো। এ সময়ে রোমানরা তিনজন স¤্রাট সিংহাসনে বসালো। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর পরই তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হলো। এরপর ক্ষমতা নেয়া হলো ভেসপাসিয়ানকে।
যখন সিংহাসনের আড়ালে ক্ষমতা থাকে সেনাবাহিনীর হাতে, তখন কোনো একটি শাসনযন্ত্র সব সময়ই এমন সমস্যায় পড়তে থাকে। সম্ভবত মুগাবে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন এ কারণে যে, তিনি চাইছিলেন সেনাবাহিনী বিভক্ত হয়ে পড়–ক এবং দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হোক।
কেন তিনি তা চাইবেন না? তিনি তো অত্যাচারী। আফ্রিকার বাকি অঞ্চলগুলোর দিকে তাকান। এক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে ও প্রাচীন রোমের মধ্যে এক ধরণের সমতা রয়েছে।
(বৃটেনের অনলাইন দ্য স্পেক্ট্রা’য় প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

সিআইইউ-এইচআরএম সোসাইটির উদ্বোধন

চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) এর উদ্যোগে “সিআইইউ-এইচআরএম সোসাইটি” এর উদ্বোধন করেছেন  উপাচার্য অধ্যাপক মাহফুজুল হক চৌধুরী ।

গত ২২ নভেম্বর এ উপলক্ষে মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান মোসলেহ উদ্দীন খালেদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক মাহফুজুল হক চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নুরুল আবসার নাহিদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তার মানব সম্পদ ও এর সুষ্ঠু পরিচালনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিআইইউ-এইচআরএম সোসাইটি শিক্ষাথীদেরকে শ্রম মর্যাদা, এইচআর এর মৌলিক ধারণা প্রদান করবে এবং এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ বহুদ্রূ এগিয়ে যাবে।

উপাচার্য বলেন, উন্নয়নশীল অনেক রাষ্ট্র জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করতে পেরেছে বলে আজ তারা উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে। এ প্রসংগে ভারত, শ্রীলংকা ও কোরিয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশ দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আমাদেরকেও এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।

ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নুরুল আবসার নাহিদ বলেন, এইচআরএম সোসাইটির উদ্বোধনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা জরুরী। এইচআরএম সোসাইটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গুণাবলী বিকাশে ভুমিকা রাখবে ।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি এ সোসাইটির মাধ্যমে সিআইইউ দীর্ঘমেয়াদে মানব সম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখবে সক্ষম হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান মোসলেহ উদ্দীন খালেদ বলেন, সিআইইউ-এইচআরএম সোসাইটি সহ-পাঠক্রম সম্পুরক হিসাবে বিশেষ অবদান রাখবে। বখতিয়া কাকি’র পবিত্র কোরান তেলওয়াত ও আদিবা সাইফের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে গঠিত ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এরপর উপাচার্য উপস্থিত সকলকে সাথে নিয়ে কেক কেটে “সিআইইউ-এইচআরএম সোসাইটি” এর শুভ সূচনা করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ব্যবসায় অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমন কল্যাণ চৌধুরী, রোবাকা শমশের, নুসরাত জাহান ও তারানা করিম এবং লেকচারার সাঈদ হাসান এবং গ্রন্থাগারিক ড. জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বেপরোয়া শ্রীদেবী কন্যা

শ্রীদেবী কন্যা জানভী কাপুর এরই মধ্যে তার প্রথম ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ‘ধাদাক’ শীর্ষক এ ছবিটি প্রযোজনা করছেন করণ জোহর। আর ছবিটি পরিচালনা করছেন শশাংক খাতান। কয়েকদিন আগেই এ ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ হয়েছে। ছবিটি নতুন বছরের জুলাইতে মুক্তি পাবে। তবে তার আগেই খবরের শিরোনামে বার বার আসছেন জানভী কাপুর।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় তিনি। পাশাপাশি খোলামেলা ছবি প্রকাশের মাধ্যমেও সব সময় আলোচনায় থাকেন। তবে সম্প্রতি নগ্ন ছবি তিনি প্রকাশ করেছেন ইন্সটাগ্রামে। ছবিতে কেবল হাত দিয়ে নিজের গোপন অঙ্গ ঢেকেছেন তিনি। আর এর মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন জানভী। অনেকেই ছবির নিচে জানভীকে বেপরোয়া বলে উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে বলছেন ছবি শুরুর আগে আলোচনায় আসতেই এমন ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। আবার অনেকে শ্রীদেবীকে টেনেও নানা ধরনের সমালোচনা করছেন। তবে এসব সমালোচনায় একদমই পাত্তা দেননি জানভী। বরংচ নিজের মতো করেই ছবি পোস্ট করে গেছেন। সমালোচনার কোন জবাবও দেননি।

৮৩ শতাংশ সিজারিয়ান প্রসব হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে

দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রসবের হার ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশই সিজারিয়ান প্রসব হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ-২০১৬ এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর রেডিসনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। জরিপে বলা হয়, দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি  পেয়েছে। ২০১০ সালে এ হার ছিল ১২ শতাংশ, ২০১৬-তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশে।
এর মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ৮৩ শতাংশ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৫ শতাংশ এবং এনজিও’র হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ৩৯ শতাংশ মা সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশের মোট সিরাজিয়ান প্রসবের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখার উচিত। তবে জরিপে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে এ হার দিগুণেরও বেশি। প্রায় ৩১ শতাংশ। দেশে বছরে ১০ লাখ সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে। ল্যাটিন আমেরিকার এক গবেষণার বরাত দিয়ে জরিপে বলা হয়, সিজারিয়ান প্রসব বৃদ্ধির ফলে মাতৃত্ব জনিত অসুস্থতা এবং মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও সিজারিয়ানের পর রক্তক্ষরণ ও অ্যানেসথেশিয়া জনিত জটিলতার কারণে স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে মৃত্যু হার ৩ গুণ বেশি। চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) ও এসডিজি-এর বেইজ লাইন নির্ধারণ এবং মাতৃসেবা ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য আহরণের উদ্দেশে মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ (বিএমএমএস)-২০১৬ পরিচালিত হয়। জরিপে মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৪ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ প্যান্ড ট্রেনিং (এনআইপিওআরটি) এর মহাপরিচালক রওনক জাহান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং মেডিকেল অ্যাডুকেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার বিভাগের সচিব ফাইজ আহমেদ, ইউএসএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর ক্যারল ভেসকুয়েজ, এনআইপিওআরটি এর পরিচালক (রিসার্চ) মো. রাফিউল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন।

অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যু- আসামে মাদানির মন্তব্যে আলোড়ন

কর্ণাটকের বিধান সভায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিধায়করা কর্ণাটক থেকে তাদের দাবি অনুযায়ী অবৈধভাবে বসবাসরত চার লাখ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে বিতাড়নের দাবি তুলেছে। গতকাল হিন্দু বিজনেস অনলাইন  এ খবর দিয়েছে। এর আগে ইন্ডিয়া টাইমসে কুনাল আনন্দের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন প্রায় ৩০ লাখ বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের বিতারণের পরিকল্পনা করছেন তখন আসাম তার রাজ্যে অবস্থানরত কথিত ২০ লাখ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক করার পরিকল্পনা করছে। গত দু’বছর ধরে চলা ওই কর্মসূচির নাম ‘ডিটেক্ট ডিপোর্ট ডিলেট’। ওই ২০ লাখ লোককে বহিষ্কারের কাজ নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে শুরু করা হবে।
এদিকে জমিয়ত-ই উলেমা হিন্দ প্রধান মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আসামের রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। তিনি সম্প্রতি এন আর সির নিবন্ধ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আসামের পরিস্থিতি মিয়ানমারের মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।’ তার এই মন্তব্যকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে আসামে তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, দিল্লিভিত্তিক  দেওবন্দ তরিকার এই সংগঠনটির ভারতে প্রায় ১০ লাখ সদস্য রয়েছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তারা অহিংস কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গড়েছে। গত ১৬ই নভেম্বরের নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক রিপোর্ট মতে মাওলানা মাদানি বলেছেন, ‘‘যদি পঞ্চায়েতদের ইস্যু করা নাগরিকত্ব বিষয়ক সনদ বৈধ হিসেবে গণ্য না করা হয় তাহলে আসামের লাখ লাখ নারী নাগরিকত্ব হারাবেন। আর ভারতকে তা আরেক মিয়ানমারে পরিণত করবে।’ আসামে গত কয়েকদিন ধরে এনিয়ে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল বলেছেন, যারাই বর্তমান এনআরসি প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে চাইবে তাদেরকে রাজ্যের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।
১৪ই নভেম্বরের আসাম ট্রিবিউনের এক রিপোর্ট অনুযায়ী,  দি অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং আসাম গণপরিষদ মি. মাদানির মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। তাদের মতে আসাম চুক্তি অনুযায়ী নিবন্ধন চলবে। রাজ্য যখন একটি ত্রুটিমুক্ত এনআরসি করার দিকে যাচ্ছে তখন মাদানির মতো লোকেরা এই প্রক্রিয়া নস্যাতের চেষ্টা করছে। আসাম গণপরিষদের মুখপাত্র মনোজ সাইকিয়া বলেন, কংগ্রেস এবং মাদানির মতো লোকদের জন্যই আসাম আজ অবৈধ বাংলাদেশিদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নিবন্ধন থেকে বাদ পড়তে পারেন, এই আশংকায় আসামের বিভিন্ন গ্রুপ প্রতিবাদে সরব রয়েছে। দিল্লি অ্যাকশন কমিটি ফর আসাম (ডাকা) গত সপ্তাহে দিল্লিতে ‘আসামের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা, এআরসি হালনাগাদকরণ ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন শীর্ষক একটি সেমিনার হয়েছে। দিল্লির ওই সেমিনারে অন্যদের মধ্যে জমিয়ত প্রধান মাদানি ছাড়াও অসমীয় বুদ্ধিজীবী হিরেন গোহান, বিশিষ্ট সাংবাদিক হায়দার হোসেন, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মান্নান, নর্থ সেন্ট হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অপূর্ব কুমার বড়ুয়া বক্তৃতা করেন।
এদিকে আসামের কংগ্রেস পার্টি মাদানির সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, এক শ্রেণির মিডিয়ায় মাদানির বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেছে, মাওলানা মাদানির ভাষণ আমরা শুনেছি, উর্দুতে দেয়া তার বক্তৃতা ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।  
তবে ঢাকার পর্যবেক্ষকরা বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, এটা উদ্বেজনক যে, আসাম থেকে ২০ লাখ তথাকথিত বাংলাদেশি বিতাড়নের ওই পরিকল্পনার পরে এখন কর্ণাটক থেকে প্রায় ৪ লাখ কথিত বাংলাদেশি বিতাড়নের শোর তোলা হলো। গত বছরের নভেম্বরে আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্বশর্মা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন, আসামে মুসলমানদের তুলনায় হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে।
আসামে এখন দ্রুতগতিতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স (এনআরসি)-এর কাজ চলছে। গত ১০ই নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দেয়া হলফনামায় আসাম সরকার জানিয়েছে যে, ১ কোটি ২৩ লাখ আবেদনকারীর তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালের মার্চে ওই খসড়া রেজিস্ট্রার প্রকাশ করা হবে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে। এর আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সানোয়াল বলেছিলেন, প্রথম খসড়া আগামী ডিসেম্বরে বের করা হবে। গত ১০ই নভেম্বর টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে বলা হয়, এনআরসি প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ মধ্যরাতের পরে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করা।
 উল্লেখ্য যে, কর্ণাটকের বিধায়করা ওই দাবি তুলেছেন এমন একটি প্রেক্ষাপটে যখন কর্নাটক রাজ্যের কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকার গত মে মাসে ৮ হাজারের কিছু বেশি বাংলাদেশীর আইনগত মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।
গত ১৮ মে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কর্ণাটকে বসবাসরত ওই বাংলাদেশী অভিবাসী যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তাদের মুখে হাসি ফোটার কারণ তৈরি হয়েছে। কারণ কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রাজ্যের তিনটি এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সিডিউলড কাস্ট বা তফসিলি সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণ করেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে বিশ্বজনমত গঠিত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কী পেলাম কী পেলাম না, সেই হিসাব মেলাতে আসিনি। কে আমাকে রিকগনাইজ করল কি করল না, সেই হিসাব আমার নেই। আমার একটাই হিসাব, এই বাংলাদেশের মানুষ। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কতটুক কাজ করতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে বড়। গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম সম্প্রতি পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা রিপোর্ট সংসদে তুলে ধরে বলেন, ওই রিপোর্টে সৎ সরকার প্রধান হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
আর সারা পৃথিবীর মধ্যে কর্মঠ সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, তাদের দেশে জনসংখ্যা কত? আর আমার দেশের জনসংখ্যা কত? এইটা যদি তারা একটু তুলনা করতেন, তাহলে হয়তো অন্য হিসাবটা আসতো। দ্বিতীয় কথা, আমাদের এই ছোট্ট ভূখণ্ড ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে ১৬ কোটির ওপর মানুষ বসবাস করে। তার ওপর আবার জরিপে ১, ২, ৩, ৪  নম্বরে যারা আছেন তাদের কিন্তু জীবনে বাবা-মা, ভাই-বোন আপনজনকে হারাতে হয়নি। বা অত্যাচারিত নির্যাতিতও হতে হয়নি। জেলের ভাতও খেতে হয়নি, মিথ্যা মামলায়ও জর্জরিত হতে হয়নি। আমাদের দেশের পরিবেশটা একটু আলাদা। আমরা যত ভালোই কাজ করি না কেন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, মিথ্যা প্রবাদ দেয়ার চেষ্টা করা। জেল-জুলুম, অত্যাচার সহ্য করা, এমনকি বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। এখানে একজনও কিন্তু গ্রেনেড হামলার শিকার হয়নি। ৭৬ কেজি বোমা দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়নি। বারবার আমার জীবনের ওপর যে আঘাত এসেছে; এরকম যদি একবারও হতো তাহলে অনেকেই ঘরে বসে যেতেন। কিন্তু আমি মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবনকে বাজি রেখে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে নিজের জীবনে অর্থ-সম্পদ, টাকাপয়সা কি আছে না আছে, ও নিয়ে আমি কখনো চিন্তাও করি না। ওটা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আল্লাহ জীবন দিয়েছে জীবন তো চলেই যবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে কিন্তু বাবা-মা, ভাই-বোনকে হারিয়ে বিদেশে রিফুইজি হয়ে থাকতে হয়েছে। যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাদের এ অভিজ্ঞতা  নেই। যারা এই জরিপ করেছেন, তারা যদি এই বিষয়গুলো একটু বিবেচনা করতেন হয়তো রেজাল্ট অন্য রকমও হতে পারতো। এটাও ঠিক, আমাদের যে প্রতিকূল অবস্থা, এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যদিয়ে তাদের চলতে হয়নি। আমাদের দেশে কখনো ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল না। প্রতিবারই বাধা এসেছে। আবার আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। আন্দোলন করতে হয়েছে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। সেই গণতন্ত্র চর্চার মধ্যদিয়েই কিন্তু আজকে দেশের উন্নতি। নিজের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ ঘণ্টা ১৪ বা ১২ ঘণ্টার হিসাব নেই। অনেক সময় এমনও দিন যায় রাতে ৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। তাও পারি কি না সন্দেহ। যখনই কাজ আসে সেটা করে যাই। কেন করি? মনের টানে কাজ করি। তিনি বলেন, আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে গেছেন। তার একটা স্বপ্ন ছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেজন্য তিনি স্বাধীন দেশের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আমার একটাই চ্যালেঞ্জ, যে কাজটা আমার বাবা করে যেতে পারেননি, সেই অধরা কাজটা আমি সম্পন্ন করে যেতে চাই। দেশকে  ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবুও বলবো, যারা হিসাব-নিকাশ করেছেন, তারা তাদের মতো করেছেন। এজন্য ধন্যবাদ। সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেদেশে মিলিটারি ডিক্টরশিপ চলে, যে দেশে গণতন্ত্রের অভাব থাকে, যে দেশে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাব থাকে- সেই দেশে দুর্নীতিটা শেকড় গেঁড়ে যায়। সেই শিকড় উপড়ে ফেলা কঠিন হয়ে যায়। ’৭৫ পর থেকে ২১টা বছর এই অবস্থাই বিরাজমান ছিল। এরপর আবার ২০০১-২০০৮ পর্যন্ত এই অবস্থা। তো ওই রকম একটা অবস্থা আমার লিগেসিটা কী, আমি উত্তরাধিকার সূত্রে কী পেলাম। পেয়েছি মিলিটারি ডিক্টেটর মিলিটারি রুলস অনিয়ম অবিচার অত্যাচার, সেগুলো যার কারণে এই দুর্নামের এখনো ভাগিদার হতে হচ্ছে। তবে হ্যাঁ আমি নিজে সততার সঙ্গে দেশ চালাতে চেষ্টা করছি। আর একটা কথা মনে রাখবেন, মাথায় পচন ধরলে সারা শরীরেই ধরে। যেহেতু মাথায় পচন নেই শরীরের কোথাও যদি একটু ঘাটা থাকে, ওগুলো আমরা সেরে ফেলতে পারবো। সেটা পারবো। ওই রকম যদি দুর্নীতি হতো তাহলে দেশের জিডিপি ৭.২৮ ভাগে উন্নীত হতো না। ওই রকম দুর্নীতি যদি হতো মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হতো  না। এত রাস্তাঘাট, এত বড় বড় জিনিস আমরা তৈরি করেছি। এত অল্প সময়ের মধ্যে সেটা করতে পারতাম না। এই দুর্নীতিকে চ্যালেঞ্জ করেই পদ্মা সেতু তৈরি করছি, সেই চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সততাই শক্তি, সততাই জোর সেটা প্রমাণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধন সম্পদ চিরদিন থাকে না। মানুষকে মরতে হয়। সব রেখে চলে যেতে হয়। তবু মানুষ অবুঝ। সম্পদের লোভে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে। এটা মানুষের একটা প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তিটা যদি কেউ নিয়ন্ত্রণে রাখতো তবে সেই পারে দেশকে কিছু দিতে। জনগণকে কিছু দিতে। আমরা এখানে দিতে এসেছি। রক্ত দিয়েছি বাবা-মা, ভাই-বোন সব দিয়েছি। কিন্তু নিজের জীবনটাও বাজি রেখেছি শুধু একটাই কারণে, বাংলাদেশটা যেন স্বাধীন দেশ হিসেবে উন্নত সমৃদ্ধ হয়। বিশ্বদরবারে যেন মর্যাদার সঙ্গে চলে। রিপোর্টটা যাই দিক আমার মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মর্যাদাটা তো উন্নত হয়েছে এটা আমার কাছে বড় পাওয়া।
মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞসহ সব কর্মকাণ্ড পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম। মিয়ানমারে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে আমাদের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন ও তাদের অধিকারের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে। এ সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় মিয়ানমারকেই এ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে নিরাপদে ও সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী জানান, অসহনীয় নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার এবং নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালানোর ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে আজ বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আজ সকলের দাবি। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও সকল রাষ্ট্র কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পক্ষে মত প্রদান করেছে এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও আলোচনায় পক্ষপাতহীন সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সকলের প্রত্যাশার অংশ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুপক্ষেই প্রত্যাবাসন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং নভেম্বরের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনে সম্মত হয়েছে।

অসহনীয় শব্দ দূষণে বেহাল নগরবাসী by সুদীপ অধিকারী

নীরব ঘাতক শব্দ দূষণের কবলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণ শক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ প্রতিদিনই রাজধানী শহর ঢাকায় ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধি বিধান থাকলেও তার তেমন কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না কোথাও।
খান জান্নাতুল ফেরদৌসি এ্যালিছ বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর গ্রীণ রোড এলাকায়। ব্যস্ত এ ঢাকা শহরে পাখির ডাকে ভোরে তার ঘুম ভাঙবে, এরকম প্রত্যাশা তিনি কখনো করেন না।
কিন্তু যানবাহনের বিকট শব্দে ঘুম ভাঙার বিষয়টিকেও তিনি মেনে নিতে পারেন না। কান ঝালাপালা করা এই শব্দের কারণে তিনি অনিদ্রা ও মাথাব্যথার মতো অস্বস্তিকর সমস্যায় ভুগছেন। নাফিজা রহমান মৌ একজন চাকরিজীবী। থাকেন ধানমন্ডি এলাকায়। তার বাসার পাশের খালি জায়গায় উঠছে নতুন একটি ভবন। প্রতিদিন সকাল হতে না হতেই নির্মাণকাজের বিকট শব্দ তাদের দারুণ বিরক্তি তৈরি করে। সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ এ শব্দ দূষণ চলতেই থাকে একটানা। সেখানে অসংখ্য রড কাটাসহ ইট-পাথর ভাঙার কাজ হয়। হয় মেশিনের শব্দ। মৌ সকালে উঠে প্রহর গোনেন যে কখন বাসা ছেড়ে অফিসে চলে যাবেন এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি দুশ্চিন্তাতেও থাকেন এই ভেবে যে, তার আদরের সন্তানটিকে স্কুল থেকে ফিরে সারাদিন এই শব্দ দূষণের মধ্যেই কাটাতে হবে। এভাবেই পুরো রাজধানীতে কোথাও না কোথাও শব্দের অস্বাভাবিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে সবাইকে। প্রতিদিন রাজধানীবাসীর ঘুম ভাঙে ইটপাথর ভাঙার মেশিনের বিকট শব্দ কিংবা যানবাহনের অযাচিত হর্নে। কাউকে বলারও কোনো সুযোগ নেই। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে রয়েছে বেশ কিছু আইন ও নীতিমালা। কিন্তু নাগরিকদের অসচেতনতা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এসবের প্রয়োগ হচ্ছে না। শব্দ দূষণের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শহরকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, শিল্প এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা। এসব এলাকায় দিন ও রাত ভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবেল, নীরব এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক এলাকায় ৬০ ডেসিবেল, রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। আইনানুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারের নির্ধারিত ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকার মধ্যে মোটরগাড়ির হর্ন বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর দেশে প্রণয়ন করা হয় ২০০২ ও ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ নীতিমালা। এই নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ শব্দসীমা হলো ৫৫ ডেসিবেল এবং রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবেল। একইভাবে নীরব এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত অনুপাতের চেয়ে অধিক শব্দ সৃষ্টি করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় বলা আছে, আবাসিক এলাকার সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজের ইট বা পাথর ভাঙার যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। যানবাহনে অপ্রয়োজনে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যাবে না। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যবে না। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের চতুর্দিকে ১০০ গজের ভেতরে কোনো প্রকার হর্ন বাজানো যাবে না। কিন্তু কর্তৃপক্ষের যথাযথ আইনের প্রয়োগ না করা ও সাধারণ মানুষের এই বিষয়ে জ্ঞান না থাকায় প্রয়োজন ছাড়াই যার যেমন খুশি করছে শব্দ দূষণ। সরজমিনে, গতকাল রাজধানীর এ্যালিফ্যন্ট রোড এলাকায় গেলে দেখা যায়, ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু যানবহন। সিগন্যাল ছাড়ার পরই শুরু হয় একে অন্যের থেকে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার জন্যে কিছুটা প্রয়োজন ছাড়াই হর্ন দিচ্ছে চালকরা। অন্য সকলের চেয়ে কিছুটা বেশিই ব্যস্ত ছিল গাড়ি চালক আরিফ। এ জন্যে অন্য সকল গাড়ির চালকের থেকে একটু বেশিই গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছিল সে। হর্নে বিকট শব্দে কিছু সময়ের মধ্যেই এলাকাটিতে নেমে এলো বিশৃঙ্খলা। সাধারণ পথচারীরা অসহনীয় এই হর্নে শব্দে চলছিল, কানে হাত চেপে। বেশি হর্ন  বাজানোর প্রশ্নের জবাবে আরিফ মানবজমিনকে বলেন, হর্ন না দিলে কেউই সাইড দিতে চায় না। এর লাইগাতো এতো হর্ন বাজাইতে হয়।’ রাজধানীর কাওরান বাজারের প্রধান সড়কেও দেখা মেলে একই চিত্র। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে ট্রাক চালক পর্যন্ত,  যে যেমন খুশি হর্ন দিচ্ছে।  বাচ্চাকে প্রতিদিন সকালে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও নিয়ে আসার পথে এমনই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় বাসাবোর মাহিমের আম্মু সাদিয়া ইসলামকে। সাদিয়া বলেন, ‘ত্রিশটা তিন এই গাড়ি চালকরা কারণে অকারণে এমনভাবে হর্ন বাজায় যা অসহ্য হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে। অফিস টাইমে ব্যস্তভাবে আগে যাওয়ার জন্যে প্রতিদিনই শুরু করে হর্ন দেয়া। এই হর্নের জন্যে আমাদেরতো ক্ষতি হচ্ছেই, বাচ্চাদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।’ এ ব্যাপারে একজন পুলিশ সার্জেন্ট বলেন, গাড়িতে বা বাইকে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার সম্পূর্ণ্য নিষিদ্ধ। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করলে দুইশ টাকা জরিমানা করার বিধান আছে। তিনি বলেন, সার্জেন্ট বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে শব্দের মাত্রা পরিমাপের কোনো যন্ত্র না থাকায় তারা এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন না। তবে মাঝেমধ্যে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয় এবং যথাযথ শাস্তি দেয়া হয়।
পরিবেশ সংগঠন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান বলেন, হর্নের  প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আগে চালক ও ঢাকাবাসীর ধারণার পরিবর্তন প্রয়োজন। কোনো যানবাহনের রাস্তা সাইড দেয়া বা নেয়ার জন্য হর্ন ব্যবহার মোটেও ঠিক নয়। বহির্বিশ্বে হর্ন বাজানো মানে সামনের চালকের কোনো গুরুতর ভুল তাকে ধরিয়ে দেয়া বোঝায়। এর দ্বারা মূলত ওই গাড়ির চালককে অপমান করা হয়। সেখানে আমাদের দেশে বিনা প্রয়োজনেই যত্রতত্র বাজানো হচ্ছে হর্ন। এ ব্যাপারে সুন্দর জীবন সংস্থার সভাপতি এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বহু আন্দোলন আর প্রতীক্ষার পর সরকার ২০০৬ সালের নভেম্বরে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করেছে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের গাড়িতেও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার হচ্ছে। হর্ন বাজানো যেখানে সম্পূর্ণ নিষেধ সেখানে আমরা দেখতে পাই গাড়ি সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকলে বা যানজটে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক চালক অহেতুক হর্ন বাজাচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশ ইচ্ছা করলেই এটা কমাতে পারে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশকে আরো বেশি সক্রিয় ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিশিষ্টজনদের মতে, শব্দ দূষণের কুফল সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার গুরুদায়িত্ব মিডিয়াকে নিতে হবে। তবেই সময়ের ব্যবধানে সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর হবে।

সাবধান- ‘স্প্রে পার্টি’ সিলেটে by ওয়েছ খছরু

সাবধান- ‘স্প্রে পার্টি’ সিলেটে। রাতে ঘুমিয়ে আছেন নিজের বাসায়। স্প্রে পার্টি এসে জানালা কিংবা ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে স্প্রে করে দেবে ঘরে। এরপর বাসার সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লে গ্রিল কেটে সবকিছু লুট করে নিয়ে যাবে। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে সিলেট নগরীর বিলপাড়ে। বাইরে থেকে দেয়া স্প্রেতে আক্রান্ত হয়ে ঘরের ৬ সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন।
পরে হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসা গ্রহণের পর তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে সিলেটে টহল বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরকম ঘটনা সিলেটে নতুন। এর আগে কখনো এরকম অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেনি। সিলেটের জকিগঞ্জের আবদুল মতিন চৌধুরী পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ৬ বছর ধরে নগরীর বিলপাড়ের এক প্রবাসীর বাসায় বসবাস করেন। তিন তলা ১৩ নম্বর বাসার নিচ তলায় তিনি বসবাস করেন। ঘটনা গত শনিবার রাতের। ওই দিন রাত ১১টার দিকে বাসার সব সদস্য এক সঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর যে যার রুমে চলে যান। রাত ১২টার দিকে ঘুমানোর ঠিক আগ মূহূর্তে বাসার কর্তা আবদুল মতিন চৌধুরী বাথরুমে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ হওয়ার পরও তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছিলেন না। ভেতর থেকে লক করা বাথরুমের টেপ দিয়ে অবিরত পানি ঝরছিলো। বিষয়টি নজরে আসে তার ছেলে জুয়েল আহমদ চৌধুরীর। তিনি প্রথমে দরজার বাইরে থেকে তার পিতাকে ডাক দেন। কিন্তু কোনো সাড়া মিলেনি। এরপর জুয়েল বাইরে থেকে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন- তার পিতা পড়ে আছেন। কোনো জ্ঞান নেই । মাথা কমেডের কাছে আর দেহ বাইরে। তিনি চিৎকার দিলে তার মা ও বোন গিয়ে ধরাধরি করে রুমে নিয়ে আসেন। জুয়েল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তার পিতাকে ধরাধরি করে রুমে নিয়ে আসার পর অনুভব করেন তার মাথাও ঝিনঝিন করছে। এ সময় তিনি তার ভাইকেও ডাক দেন। কিন্তু কোনো সাড়া মিলেনি। উঁকি দিয়ে দেখেন ভাই ও ভাবী অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। জুয়েল তার রুমে গিয়ে দেখেন স্ত্রীও অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। এ সময় জুয়েল দৌড়ে দরজা খুলে বাইরে চলে এসে অনুভব করেন কিছুটা স্বস্তি লাগছে। তাৎক্ষণিক তিনি মোবাইল ফোনে কাছে থাকা আত্মীয়দের বিষয়টি জানান। এরপর জুয়েল ঘরের ভেতরে ঢুকে ড্রইং রুমে আসামাত্র তিনিও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এদিকে- এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ও জুয়েলদের নিকট আত্মীয়রা এম্বুলেন্সে করে তাদের সিলেটের সুবহানীঘাটের ওয়েসিস হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত ২টার সময় ৬ জনকে অজ্ঞান অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর রোববার জুয়েলসহ তিন জনের জ্ঞান ফিরে। ধীরে ধীরে সবার জ্ঞান ফিরেছে এবং তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এদিকে- এ ঘটনার পর তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি জানান- বিষয়টি প্রথমে বেশি লোক জানতো না। যখন সবাই জানলো তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর সবাই সতর্ক হয়েছেন। এদিকে- ঘটনার দিন রাতে বিলপাড়ের পার্শ্ববর্তী কয়েস মিয়ার বাসায় গ্রিল কেটে তিন চোর প্রবেশের চেষ্টা চালায়। রাতে বাসার লোকজন ধাওয়া করে এক চোরকে আটক করেন। এরপর তাকে মারধর করে সকালে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়নি। স্থানীয়রা ধারণা করেন- যারা কয়েস মিয়ার বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল তারাই স্প্রে পার্টির সদস্য। এদিকে- এ ঘটনা রোববার রাতে জানতে পারে পুলিশ। সিলেটের লামাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ রাতেই ওই বাসা পরিদর্শন করে। তারা এলাকাবাসীর মুখ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে রোববার রাতে ওই এলাকাসহ ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রিত আশপাশ এলাকায় টহল জোরদার করেন। রাতে মাঠে ছিলেন লামাবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন- পুলিশ খবর পাওয়ার পর ফাঁড়ির সব এলাকায় টহল বাড়িয়েছে। আর যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সিলেটের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক জানিয়েছেন- এ ঘটনার পর এলাকার মানুষও সতর্ক রয়েছে। আতঙ্ক কাটাতে পুলিশও তৎপর বলে জানান তিনি।

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

সুস্থ্য গণতন্ত্রের জন্যে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনিবার্য। একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া হতে পারে না। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কি না তা কেবল সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছেন  ড. বদিউল আলম মজুমদার। আজ বুধবার বিকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউথ লিডারশীপ হাঙ্গার অনুষ্ঠানের অংশগ্রাহণ শেষে সাংবাদিকের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি যে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠ ও গ্রহণ যোগ্য হবে। যেখানে জনগণের আশা আকাঙ্খা প্রতিফলিত হবে।  যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য তারা ভোটার হবে এবং নির্বিঘ্নে-কোন রকম চাপ ও ঝুঁকি ছাড়াই ভোটাধীকার প্রয়োগ করতে পারবে।
যারা প্রার্থী হতে চায় তারা হবে কিন্তু সেখানে টাকা ও পেশী শক্তির কোন প্রভাব থাকবে না। আগমী নির্বাচন গ্রহণ যোগ্য করতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতোটা সক্ষম? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সময়ের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য কিন্তু যথেষ্ট নয়। সরকরের সদাচারণ প্রয়োজন। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা পালন করতে হবে।  অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় সরকার যদি সদাচারণ ও নিরপেক্ষ আচারণ করে তবেই কেবল স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোন সমাধান দিতে পারবে না যদি তাদের সদিচ্ছা না থাকে। আমি আশা করি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সদিচ্ছা প্রদর্শন করে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং আমাদের সমস্যা সমাধান করবে। যাতে সকলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে পারে।

দ্য প্যাট্রিয়ট ও রবার্ট মুগাবে by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

‘দাজ আই এন্টারড অ্যান্ড দাজ আই গো’ ইংলিশ সাহিত্যিক রবার্ট ব্রাউনের ‘দ্য প্যাট্রিয়ট’ কবিতার এই লাইনটি সম্ভবত রবার্ট মুগাবের মতো শাসকদের জন্যই প্রযোজ্য। এসব রাজনীতিক ক্ষমতায় আসেন ফুলের মালা নিয়ে। বিদায় নেন ‘শহরবাসীর কঙ্কর নিক্ষেপের’ মধ্য দিয়ে, অবহেলা, অনাদর আর ঘৃণার মধ্য দিয়ে। দেশপ্রেমিকের স্বরূপ উন্মোচনে কালজয়ী এই কবিতাটি লিখেছেন রবার্ট ব্রাউনিং। রবার্ট মুগাবের মতো একজন বিপ্লবী, রাষ্ট্রনায়ক যখন ক্ষমতায় আসেন তখন তার পথে বিছানো থাকে ফুল। প্রজাদের হৃদয় নিংড়ানো থাকে ভালোবাসা।
তারা দলবেঁধে নেমে পড়েন রাজপথে তাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে। বিনিময়ে তারা কি চান? দেশবাসী যেমন তাকে ভালোবাসা দেন, বিনিময়ে তেমনটাই ফেরত চান তারা। কিন্তু ক্ষমতার তখতে বসে যদি শাসকের চেহারা পাল্টে যায়, তিনি ক্ষমতাকে নিজস্ব সম্পত্তি বলে ভেবে বসেন, তাহলেই পরিস্থিতি উল্টে যেতে শুরু করে। যারা তাকে সম্মান দিয়েছিল, শ্রদ্ধা জানিয়েছিল, ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছিল- তারাই সময়ে দূরে সরে যান। রাষ্ট্রনায়ক নিঃসঙ্গ পড়ে থাকেন। তখন তার ভুল ধরা পড়ে। রাষ্ট্রনায়ক তখন ‘বৃষ্টির ভিতর হাঁটতে থাকেন’। প্রতীকী অর্থে এখানে কবি রবার্ট ব্রাউনিং রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদাহানী অর্থে ব্যবহার করেছেন। একদা তিনি ছিলেন পরিষ্কার, নির্ভেজাল মানুষ। কিন্তু দুর্নীতি, অবিচার, অন্যায়, ক্ষমতার লোভ তার সেই নির্ভেজাল ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে রাষ্ট্রনায়ক অনুভব করতে থাকেন প্রথমবারের মতো ‘পশ্চাতে নিয়ে হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে কেটে যাচ্ছে হাতের কব্জি’। তিনি তখন বুঝতে পারেন ‘সেই জনগণই তখন ভুলের জন্য আমার দিকে পাথর ছুড়ে মারছে’। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক নিজে মনে করতে থাকেন তিনিই সঠিক। একদিন সৃষ্টিকর্তা সঠিক বিচার করবেন। তার ঠাঁই হবে স্বর্গে। কিন্তু পৃথিবীর মানুষের চোখে তিনি অপরাধী হয়ে থাকেন। যেমনটা সময়ের চাকার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গিয়েছে মুগাবের জন্য। তিনি ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগাওয়াকে বরখাস্ত করেছিলেন। রাজনীতিতে কোনো অভিজ্ঞতাই নেই নিজের ৪১ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেসি মুগাবের। তবে তার অভিজ্ঞতা একটি আছে বৈকি। জিম্বাবুয়ের মানুষ যখন দুর্বিপাকে, অভাবে নিমজ্জিত তখন তিনি বিমানে করে বিদেশে গিয়েছেন শপিং করতে। এজন্য তাকে নাম দেয়া হয়েছে ‘গুচি গ্রেসি’। তাকেই ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসনোর ছক এঁকেছিলেন মুগাবে। কিন্তু এতে হস্তক্ষেপ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা ক্ষমতা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। আফ্রিকান ইউনিয়ন একে সামরিক অভ্যুত্থান বললেও সেনাবাহিনী তাতে দ্বিমত পোষণ করে। তারা জানিয়ে দেয়, তারা ক্ষমতা দখলের জন্য সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়নি। তারা শুধু দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। তাই তাদের এ হস্তক্ষেপ কোনো অর্থেই সামরিক অভ্যুত্থান নয়। এমনকি নিজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে রবার্ট মুগাবের ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ। তারা তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ করে রাজধানী হারারের রাজপথে। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পদত্যাগে বাধ্য হন রবার্ট মুগাবে। তার অধ্যায় বন্ধ হয়ে যায়। নতুন অধ্যায় শুরু হয় এমারসন মনাঙ্গাগাওয়ার। দীর্ঘ ৩৭ বছর দেশ শাসন করে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন মুগাবে তিনি নিজের কৃতকর্মের কারণে সেই জনপ্রিয়তাকে পরিণত করেছেন জনশত্রুতায়। তিনি দেশবাসীর অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়েছেন। ফলে তাকে নেয়া হচ্ছে রবার্ট ব্রাউনিংয়ের প্রতীকী অর্থের সেই ‘ফাঁসি কাষ্ঠের’ দিকে। তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন সেদিকে। আর জনতা মঙ্গলবার রাতভর হারারের, বেলাওয়েসহ সব শহরে সে দৃশ্যে উল্লাস করছে। এটা মুগাবের জন্য সেই জনতার কঙ্কর নিক্ষেপের মতো বলে বিবেচনা করা যায়। মুগাবে মঙ্গলবার রাতে যখন হারারের রাস্তায় তাকিয়েছেন তিনি দেখেছেন ভিন্ন দৃশ্য। যাদের বলে বলীয়ান হয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারাই এখন তাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দিচ্ছে। এর চেয়ে কঠিন বাস্তবতা আর কি হতে পারে একজন রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্যে!