Showing posts with label তারেক মাহমুদ. Show all posts
Showing posts with label তারেক মাহমুদ. Show all posts

Sunday, September 22, 2024

সাকিবের চোট নিয়ে কেন তামিমের সন্দেহ by তারেক মাহমুদ

সাকিব আল হাসান কি তবে চোট লুকিয়ে খেলছেন? এর আগে বিভিন্ন সময়ে যে ক্রিকেটার অন্যদের চোট লুকিয়ে খেলা বা চোট নিয়ে খেলার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, এখন নাকি তিনিই সেই কাজ করছেন! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ রকম অভিযোগের তিরই ছোড়া হচ্ছে সাকিবের দিকে।

এমন আলোচনার সূত্রপাত আসলে আজ চেন্নাইয়ে, বাংলাদেশ–ভারত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে। যদিও সত্যিটা হলো, সাকিব চোট লুকিয়ে খেলছেন না, সম্প্রতি তাঁর কোনো অস্ত্রোপচারও হয়নি, তিনি এই মুহূর্তে চোট আক্রান্তও নন। প্রথম ইনিংসে তাঁর বোলিংয়ে দেরিতে আসার কারণও আঙুলের সমস্যা নয়। তাহলে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে কীভাবে ছড়াল কথাটা?

যাঁরা আজ টেলিভিশনে খেলা দেখেছেন, তাঁদের তা অজানা থাকার কথা নয়। যাঁরা খেলা দেখেননি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অলনাইন মিডিয়ার সূত্রে তাঁদেরও বিষয়টা জেনে যাওয়ার কথা। আজ শনিবার তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতে ধারাভাষ্যকার মুরালি কার্তিক মাঠে নেমে কথা বলেছেন সাকিবের সঙ্গে। ধারাভাষ্য কক্ষে ফিরে ভারতের সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার সে কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘তাকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী কারণে সে কম বোলিং করছে...সে আমাকে যা বলেছে, তা একজন স্পিনার হিসেবে আমিও বুঝতে পারছি।’

মুরালি কার্তিক এরপর বলেন, ‘তার (সাকিবের) বাঁ হাতের স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা অস্ত্রোপচার হয়েছে। জায়গাটা এখন ফুলে গেছে, শক্ত হয়ে আছে। ওই আঙুলে সে বলের অনুভূতিটাও পাচ্ছে না। স্পিনার হিসেবে বলের অনুভূতিটা দরকার। এ ছাড়া তার কাঁধেও অস্বস্তি আছে।’

পরে নিজের পালায় ধারাভাষ্য দিতে এসে মুরালির কথার প্রসঙ্গ টেনেছেন এই সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মুরালি কার্তিক বলে গেছেন, আঙুলের সমস্যার কারণে সাকিব বল গ্রিপ করতে পারছে না। যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশ চারজন ফ্রন্টলাইন বোলার নিয়ে খেলছে। টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্যই জানানো উচিত, তারা এই ইনজুরির কথাটা আগে থেকেই জানত কি না।’

তামিমের কথার মধ্যে সাকিবের প্রতি সন্দেহটা পরিষ্কার—তিনি চোট লুকিয়ে খেলছেন না তো! এমনকি সাকিবকে যেন এই টেস্টে বোলার হিসেবেই ধরতে চাইলেন না তামিম। মূলত তাঁর এই মন্তব্যই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডালপালা মেলে আরও ভাসমান হয়েছে। যদিও দলের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে, মুরালির সঙ্গে ‘আনঅফিশিয়াল’ আলোচনায় সাকিব বলেননি যে তিনি বর্তমানে চোটে ভুগছেন। সাকিব এমনও বলেননি যে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আঙুলে কোনো অস্ত্রোপচার হয়েছে। সেটা হলে অবশ্য পাকিস্তান সিরিজের পর কাউন্টি ক্রিকেটে গিয়েও অত দাপটের সঙ্গে বোলিং করে আসতে পারতেন না তিনি। দলের সূত্রের তাই দাবি, সাকিবকে নিয়ে তামিমের সন্দেহটি ‘অমূলক’।

সাকিবের আঙুলে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকে চোট নিয়ে ফেরার পর। ২০২৩ বিশ্বকাপেও তিনি চোট পেয়েছিলেন আঙুলে, বাঁ হাতের তর্জনীতে সূক্ষ্ম ফাটলও ধরেছিল। তবে তার জন্য তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়নি। প্রথম আলোকে বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীও।

তাহলে মুরালিকে সকালে সাকিব এমন কী বলেছিলেন, যা এভাবে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দিল?

চেন্নাই থেকে বাংলাদেশ দলের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, মুরালির সঙ্গে আলোচনায় সাকিব কোনো সাল উল্লেখ না করেই বোঝাতে চেয়েছেন, ২০১৮ সালের ওই অস্ত্রোপচারের পর থেকে মাঝেমধ্যে তাঁর বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়। তবে সে জন্যই চেন্নাই টেস্টে বোলিং কম করছেন, এমন কিছু তিনি বলেননি। মুরালি নিজেই হয়তো আলোচনার অনুবাদটা সেভাবে করে নিয়েছিলেন।

মুরালির কৌতূহলের কারণটা পরিষ্কার। একে তো তিনিও বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন, তার ওপর এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাকিব বোলিংয়ে আসেন ৫৩তম ওভারে। ৮ ওভারে ৫০ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। পরের ইনিংসে আজ তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৭৯ রান দিয়েছেন, উইকেট পাননি এখনো। এই ইনিংসে যদিও বোলিংয়ে এসেছেন দশম ওভারে।

চেন্নাই থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সাকিবকে প্রথম ইনিংসে দেরিতে বোলিংয়ে আনার কারণ তাঁর আঙুলের সমস্যা নয়। সাকিবও অধিনায়ককে বলেননি যে তিনি বোলিং করতে চান না বা দেরিতে বোলিং করতে চান। সাকিবকে দেরিতে বোলিংয়ে আনার মূল কারণ, ওই সময় দলে পেস বোলারদের সঙ্গে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও ভালো বোলিং করছিলেন। অফ স্পিনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার কারণে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের মনে হয়েছিল, তখনই বাঁহাতি স্পিনার সাকিবকে বোলিংয়ে আনার প্রয়োজন নেই। মূলত অধিনায়ক প্রয়োজন মনে করেননি বলেই প্রথম ইনিংসে অত দেরিতে (৫৩তম ওভার) সাকিবের বল হাতে নেওয়া বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

অবশ্য এটাও ঠিক যে বাঁ হাতের আঙুলে ২০১৮ সালের ওই অস্ত্রোপচারের পর থেকে চোট পাওয়া আঙুলটা মাঝেমধ্যে সমস্যায় ফেলে সাকিবকে। সিরিজ চলছে বলে দলের কেউ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও দল–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, সাকিবের নতুন কোনো অস্ত্রোপচার হয়নি। তবে ২০১৮ সালের অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি আঙুলের সমস্যা ‘ম্যানেজ’ করেই খেলছেন। যা টিম ম্যানেজমেন্টের অজানা নয়। তামিম দলে থাকার সময় তাঁরও তা অজানা থাকার কথা নয়। আর সব ক্রিকেটারকেই এ রকম ছোটখাটো কিছু চোটের সমস্যা ‘ম্যানেজ’ করে খেলতে হয়। ক্রিকেটে এটা নতুন কোনো আবিষ্কার নয়।

সাকিবের আঙুলের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সেবার দলের ফিজিওর উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকায় ফিরে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করানোর পরও সংক্রমণ জটিলতায় বেশ ভুগতে হয় তাঁকে।

অস্ত্রোপচারের দিন নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হাসপাতালে শুয়ে থাকার একটি ছবি দিয়ে সাকিব লিখেছিলেন, ‘হাতের ব্যথায় যখন দল ছেড়ে দেশে ফিরছি, তখনো বুঝতে পারিনি এত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। দেশে আসার পর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব ও হাত অস্বাভাবিক রকম ফুলে যাওয়ায় দ্রুত হসপিটালে অ্যাডমিট হয়ে একটি সার্জারি করাতে হয়েছে। আঙুলের ভেতর ইনফেকশনের ফলে ৬০-৭০ সেন্টিমিটার পুঁজ বের করতে হয়েছে। আপনাদের দোয়ায় খুব অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছি, তবে দ্রুতই আরও একটি সার্জারি করাতে হবে। আপনাদের সবার দোয়া প্রার্থনা করছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় দ্রুত সুস্থ হয়ে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। ধন্যবাদ..।’

তবে সংক্রমণ জটিলতায় পরের মাসেই চিকিৎসার জন্য সাকিবকে যেতে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রেগ হয়ের কাছে। মেলবোর্নের হাসপাতালে সাকিবকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসক। এরপর জানা যায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সাকিব তত দিনে এটাও জেনে গিয়েছিলেন যে তাঁর ওই আঙুলটা আগের অবস্থায় না–ও ফিরতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে খেলা চালিয়ে যেতে হবে ‘ম্যানেজ’ করে।

২০১৮ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে নভেম্বরেই সাকিব মাঠে নামেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সমস্যাটা ‘ম্যানেজ’ করেই খেলে যাচ্ছেন, যেটা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ দলে সাকিবের সতীর্থরাও।

তবে ভুল–বোঝাবুঝির সূত্রপাত মুরালি কার্তিকের ওই কথাটা থেকেই। আরও ভেঙে বললে সাকিবের কথা বুঝতে তাঁর ভুল করা।

সাকিবের চোট নিয়ে ধারাভাষ্যে কথা বলেন তামিম
সাকিবের চোট নিয়ে ধারাভাষ্যে কথা বলেন তামিমফাইল ছবি: প্রথম আলো

Monday, July 8, 2019

খ্যাপা ষাঁড়ের শহরে by তারেক মাহমুদ

এই যে এত দিন ইংল্যান্ডে আছেন, এতগুলো শহর ঘুরলেন, কোন শহরটা বেশি ভালো লাগল?
বিশ্বকাপ-যাযাবর হয়ে যাঁরা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের এ শহর থেকে ও শহর চষে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের সবাইকেই কখনো না কখনো প্রশ্নটা শুনতে হচ্ছে। যাঁর ব্যস্ততা ভালো লাগে, নীরবতা পছন্দ নয়, তিনি হয়তো বলছেন লন্ডন, নটিংহামের কথা। যাঁর কোলাহল পছন্দ নয়, ভিড়ভাট্টা ভালো লাগে না, তিনি বলবেন টন্টন বা কার্ডিফ। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, ‘আমার কোনো শহরই ভালো লাগে না।’
বার্মিংহামে এসে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে সে জন্যই হয়তো স্ত্রী-পরিবার নিয়ে স্নোডন নামের এক ছোট্ট শহরে ঘুরতে চলে গেছেন মাশরাফি। দেখে এসেছেন ইংল্যান্ডের গ্রাম, পাহাড়ি ঝরনা। ইংল্যান্ডের গ্রাম কেমন হয়, সেটি দেখার খুব শখ ছিল মাশরাফি ও তাঁর স্ত্রীর। বাড়ির সামনে নরম রোদে বসে কোনো বুড়ো-বুড়ি দম্পতি চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে গল্প করছেন—এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য নাকি তাঁদের চোখে আর কিছুই হয় না।
মাশরাফির এ রকম মনে হওয়াই স্বাভাবিক। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির ব্যস্ততা যোগ হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন অবসরের আর সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে এসে তো চারদিকে আরও লোকে লোকারণ্য। সাংবাদিকদের ভিড়। সেলফি–শিকারিদের ভিড়। ভক্তদের নানা রকম আবদার। আইসিসির নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারা। কোলাহল থেকে সরে পরিবার নিয়ে একটু অবসর কাটানো বিদেশেও তাই বড় পাওয়া মাশরাফির জন্য।
বার্মিংহামে ভারত এবং পাকিস্তানের মানুষ বেশি। বাংলাদেশিও কম নয়। ২ জুলাই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে গ্যালারিতে কোন দেশের সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি হবে, এ নিয়ে নাকি এখানকার বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মধ্যে জোর প্রতিযোগিতা চলছে। মাশরাফির কাছে খবর আছে, ভারতীয় দর্শকদের মাঠে যাওয়া ঠেকাতে দারুণ এক ফন্দি এঁটেছেন বাংলাদেশিরা। তাঁরা নাকি দেড়-দুই গুণ দামের লোভ দেখিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে যত পারা যায় টিকিট কিনে বাংলাদেশের লোকদের দিচ্ছেন। এভাবে যদি গ্যালারি দখলের যুদ্ধে ভারতকে হারানো যায়!
খেলায়ও ভারতকে হারাতে পারলে ভবিষ্যতে বার্মিংহামও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের প্রিয় ভেন্যু। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের যেসব খেলোয়াড়-সাংবাদিক এখানে এসেছেন, তাঁদের অনেকেরই এখন পর্যন্ত শহরটা পছন্দ হয়নি। ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহরের তুলনায় সাজানো-গোছানো ভাবটা কম মনে হচ্ছে এখানে। যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর হলে কী হবে, বার্মিংহাম কেমন কাঠখোট্টা। কাজ ছাড়া এই শহরের মানুষ আর কিছু বোঝে না।
বার্মিংহামে বাংলাদেশ দল আছে হায়াৎ রিজেন্সিতে। হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সরু খাল। খালের পাড় ধরে এগিয়ে একটা টানেলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া যায় সিটি সেন্টারে। মূলত বুলরিং শপিং সেন্টার আর গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল শপিং মল মিলিয়েই বার্মিংহাম সিটি সেন্টার। তবে গত দুই দিন সিটি সেন্টার এলাকা ঘুরে মনে হলো, কেনাকাটা যা–ই হোক না কেন, ওখানে এলে একবার খ্যাপা ষাঁড়ের সামনে মানুষ দাঁড়াবেই।
৬ টন ওজনের ব্রোঞ্জ দিয়ে বানানো একটা ষাঁড় দাঁড়িয়ে আছে সিটি সেন্টারের ঠিক মাঝখানে। সামনের এক পা তোলা, ঘাড়টা রাগতভাবে ঘোরানো, চোখে আক্রমণের হিংস্রতা। আকৃতিতে সত্যিকারের ষাঁড়ের দ্বিগুণ এই ষাঁড়ের কাগুজে নাম ‘দ্য গার্ডিয়ান’। সিটি সেন্টারে এসে খ্যাপা ষাঁড়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা রীতিমতো প্রথা হয়ে গেছে। কেউ কেউ আবার ছবি তুলতে এর পিঠেও চড়ে বসছেন। ইন্টারনেটে ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর খোঁজ করে জানা গেল, যুক্তরাজ্যের যেসব স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ছবি তোলে, এটি তার মধ্যে তৃতীয়। এর আগে আছে শুধু পার্লামেন্ট হাউস এবং লন্ডন আই।
সিটি সেন্টারে খ্যাপা ষাঁড় কেন, সেটি ব্রোঞ্জের ওই ষাঁড়-মূর্তি দেখার পর থেকেই মনে উঁকি দিচ্ছিল। ইন্টারনেটে ঘেঁটে আর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে যা বোঝা গেল তার সারমর্ম, সিটি সেন্টার এলাকাটি বহু বছর আগে ছিল ভুট্টার বাজার। এর ঠিক মাঝখানের ময়দানে হতো ষাঁড়ের লড়াই। খেপিয়ে তোলা ষাঁড়ের নাকে একপর্যায়ে লোহার রিং পরিয়ে বশে এনে সেটাকে জবাই করা হতো। সে ইতিহাসকে ধরে রাখতেই ২০০৩ সালে ওখানে বসানো হয় বিশালাকৃতির ব্রোঞ্জের ষাঁড়, যেটি এখন বার্মিংহামেরই ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে। বুলরিং শপিং মল নামকরণও সে কারণেই।
খ্যাপা ষাঁড়ের শহরে যখন এসেই পড়েছেন, ব্যবসা নগরী বার্মিংহামের কোলাহল থেকে দূরে গিয়েও নিশ্চয়ই লড়াইয়ের ঘ্রাণ নাকে লেগেছে মাশরাফির। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটা তো শুধু বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পথ পরিষ্কারেরই উপলক্ষ নয়, গত কয়েক বছরে হয়ে ওঠা উপমহাদেশের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ক্রিকেটযুদ্ধও।
বাংলাদেশ, ভারত কে কার নাকে রিং পরিয়ে প্রতিপক্ষকে মাটিতে নামায়, আপাতত সেটি দেখারই রোমাঞ্চকর অপেক্ষায় আছে খ্যাপা ষাঁড়ের শহর বার্মিংহাম।
বার্মিংহামে টিম হোটেলের বাইরে ঘুরে বেরোনোর এক ফাঁকে মাশরাফি। ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, July 2, 2019

এবার কি তবে সাকিব? by তারেক মাহমুদ

অনুশীলন মাঠের নেট থেকে উঠে সাকিব আল হাসান চললেন মূল স্টেডিয়ামের দিকে। আরও কিছুক্ষণ নক করবেন সেখানে। সাকিবকে যেতে দেখেই দৌড়ে তাঁর পিছু নিল ভারতীয় টিভি মিডিয়ার একাংশ। সাকিবের ফুটেজ যদি আরও কাছ থেকে পাওয়া যায়।
আইপিএলের সুবাদে বাংলাদেশ দলের সাকিব ‘হট কেক’ ভারতীয় মিডিয়ার কাছে। তাঁর সাক্ষাৎকারের জন্য মিডিয়া ম্যানেজারের মুঠোফোনে অনুরোধের স্তূপ। হবে না-ইবা কেন! বিশ্বকাপটা সাকিব খেলছেনও তো দুর্দান্ত! দুই অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ হয়তো রানে এখন এগিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁরা খেলেছেন আটটি করে ম্যাচ। সাকিব ছয় ম্যাচেই ৪৭৬ রান করে আছেন তৃতীয় স্থানে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে গত ম্যাচে জ্বলে উঠেছেন বোলিংয়েও।
এজবাস্টনের অনুশীলন মাঠে এসে সঞ্জয় মাঞ্জরেকার কাল অন্তত চারটি জটলার মুখোমুখি হলেন। একেক জটলায় কথাবার্তার বিষয়বস্তু একেক রকম। বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জটলায় বিষয়বস্তু সেই সাকিব। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যানের কথার সারমর্ম, সাকিবের মতো অলরাউন্ড পারফরমার নিকট অতীতে দেখেনি বিশ্ব ক্রিকেট। আইপিএলে যে সাকিব প্রায়ই আপন আলোয় ফুটে উঠতে পারেন না, সেটিরও যুক্তিসংগত কারণ দেখছেন ধারাভাষ্যকার মাঞ্জরেকার। আইপিএলে একজন বোলার বল করেন মাত্র ৪ ওভার। সাকিব সেখানে কিছু দেখাতে না পারলেও সেটিকে তাঁর ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাবে না। মাঞ্জরেকার দেখতে বললেন টেস্টের সাকিবকে, যেখানে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পাওয়ার সাফল্য আছে তাঁর ১৮ বার। টেস্টের এই পারফরম্যান্স বিবেচনায় মাঞ্জরেকারের বিশ্লেষণ, টি-টোয়েন্টির তুলনায় সাকিবের বোলিংটা ওয়ানডের জন্যই বেশি কার্যকর।
কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে যে কখনোই খুঁজে পাওয়া যায় না আসল সাকিবকে! প্রতিপক্ষ ভারত হলে সবার আগে মনে আসে মাশরাফি বিন মুর্তজার নাম। ২০০৪ সালে ঢাকায়, এরপর পোর্ট অব স্পেনে ২০০৭ বিশ্বকাপেও ভারতকে হারানো ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ তিনি। আসে মোস্তাফিজুর রহমানের নামও। ২০১৫ সালে অভিষেক ওয়ানডেতেই ভারতের বিপক্ষে নিয়েছেন ৫ উইকেট, পরের ম্যাচে ৬ উইকেট। ভারতকে হারানো এই দুই ম্যাচেরই ম্যাচসেরা ছিলেন বাঁহাতি পেসার। তামিম ইকবালের কথাই-বা বাদ থাকবে কেন! ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হলেই এখনো স্মৃতিতে ভেসে ওঠে ২০০৭ বিশ্বকাপে তাঁর সেই তেড়েফুঁড়ে করা ব্যাটিংয়ের কথা।
এমন নয় যে ভারতের বিপক্ষে সাকিব বলার মতো কিছুই করেননি। সর্বশেষ জয়েই আছে অপরাজিত ফিফটি। মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমানের সঙ্গে ম্যাচ জেতানো দুটি জুটি। ২০১৫ সালের হোম সিরিজে তার আগের ম্যাচেও করেছিলেন ৫২ রান। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সাকিব যেমন আপন আলোয় উদ্ভাসিত, বাংলাদেশের অনেক জয়েই যেমন তাঁর একক অবদান; সে রকম কিছু নেই ভারতের বিপক্ষে। নেই সেঞ্চুরি, নেই ৫ উইকেট। সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৫ রানের, সেরা বোলিং ২৭ রানে ৩ উইকেট। ভারতের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচে সাকিবের সাত ফিফটি ও ১৮টি উইকেটও তাই তেমনভাবে চোখে পড়ে না।
এবার কি ভারত অন্য সাকিবকে দেখবে? আশাটা করাই যায়, কারণ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল পরিণত তাঁর ‘ওয়ান ম্যান শো’তে। টুর্নামেন্টে নিজেদের সাতটি ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরও যে বাংলাদেশ এখনো সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে, সেটি তো সাকিবের হাত ধরেই! আর ভারতের বিপক্ষে সাকিবেরও বড় কিছু করে দেখানোর দায় আছে। মাঞ্জরেকার যতই তাঁর আইপিএলের বোলিংয়ের পক্ষে যুক্তি দিন, সেটি সাকিবের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদই মানে কি না সন্দেহ। নইলে সর্বশেষ আইপিএলে ম্যাচের পর ম্যাচ তাঁকে এভাবে বসিয়ে রাখে! পেশাদার ক্রিকেটে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটার হয়তো জায়গা নেই। কিন্তু খেলোয়াড়দের ভেতরের জেদটা সব সময় পেশার নিয়ম মেনে হয় না। সেখানে ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশও থাকে। সাকিব পারেন আজ সেটিও মিটিয়ে নিতে।
লড়াইটা সাকিবের ব্যক্তিগত কিছু হিসাব মেলানোরও। ছবি: শামসুল হক

Saturday, April 20, 2019

বাংলাদেশই সবচেয়ে অভিজ্ঞ এ বিশ্বকাপে by তারেক মাহমুদ

এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা চার ক্রিকেটার আছেন শুধু বাংলাদেশ দলেই। এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটার। তবে আগে বিশ্বকাপ না-খেলা খেলোয়াড় এর চেয়ে কম নেই কোনো দলেই।
চিন্তাটা দুইভাবে করা যায়। অনেকটা অর্ধেক গ্লাস ভরা না অর্ধেক গ্লাস খালির মতো। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন বাংলাদেশের চার ক্রিকেটার। নিশ্চয়ই দলটা অভিজ্ঞতায় অনেক ভারী হবে। কিন্তু এই দলেই যে আবার সাত ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেননি! এখন সাতের ওজন বেশি না চারের ওজন? দলটা অভিজ্ঞ হলো নাকি অনভিজ্ঞ?
২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে কাল পর্যন্ত ঘোষিত আট দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখলে এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে এবার বাংলাদেশই সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তান কাল পর্যন্ত দল ঘোষণা করেনি। আফগানিস্তান এবার খেলবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের চেয়ে তাদের অভিজ্ঞ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ক্রিস গেইল থাকলে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানের সেটি হবে পঞ্চম বিশ্বকাপ। চোটের কারণে ২০১১ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপটা মিস না করলে গেইলের মতো এবার পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও।
মাশরাফি প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছেন ২০০৩ সালে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ-সঙ্গী। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনের এটি হবে তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপের দলেও থাকায় সাব্বির রহমান এবং সৌম্য সরকারের এবারেরটিসহ বিশ্বকাপ খেলা হবে দুটি। দলের সাত ক্রিকেটার লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও আবু জায়েদ বিশ্বকাপ খেলবেন এই প্রথম।
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা অন্যদের চেয়ে তাতেও খুব একটা কমছে না বাংলাদেশের। কারণ সবচেয়ে বেশি তিন বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার যেমন বাংলাদেশ দলেই আছে, তেমনি আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, এমন ক্রিকেটারও সাতজনের কম নেই কোনো দলে।
বাংলাদেশের চারজন বাদ দিলে কাল পর্যন্ত ঘোষিত সব দল মিলিয়েই এবার তিন বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার আছেন মাত্র তিনজন। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, নিউজিল্যান্ডের রস টেলর ও শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের এর আগে সর্বোচ্চ দুটি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তা-ও শুধু স্টিভেন স্মিথের। তাঁদের ১৫ জনের দলের ৯ জনেরই বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা এবার প্রথম হবে। একটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে পাঁচজনের।
স্বাগতিক ইংল্যান্ডের হয়েও এর আগে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র একজন, অধিনায়ক এউইন মরগান। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিষেক হবে আটজনের। বাকি ছয়জনের জন্য এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। এর মধ্যে লিয়াম প্লাঙ্কেট আবার বিশ্বকাপ দলে ফিরেছেন ২০০৭-এর পর।
ভারতীয় দলে ধোনির পর অভিজ্ঞতম ‘বিশ্বকাপার’ বিরাট কোহলি। এ নিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলবেন ভারত অধিনায়ক। বাকিদের মধ্যে সাতজন এই প্রথম গায়ে মাখবেন রোমাঞ্চটা। ছয়জনের জন্য এটি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ দলে নাম লেখানো। এর মধ্যে দিনেশ কার্তিক ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি।
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের ভারসাম্যে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের কাছাকাছি ধরা যায়। তাঁদের ৯ জনের জন্য এটি যেমন প্রথম বিশ্বকাপ, তেমনি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে ছয়জনের। তিন বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন টেলরের সঙ্গে আছেন দুটি করে বিশ্বকাপ খেলা কেন উইলিয়ামসন, টিম সাউদি ও মার্টিন গাপটিল। ম্যাট হেনরি আর ট্রেন্ট বোল্ট খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপে।
১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক পাকিস্তানের। এরপর এবারই সম্ভবত সবচেয়ে অনভিজ্ঞ দল খেলাবে তারা। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ দলের সবার জন্যই ছিল বিশ্বমঞ্চে প্রথম খেলার অভিজ্ঞতা। আর এবার বিশ্বকাপে প্রথম খেলবেন ১৫ জনের ১১ জনই। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। অবশ্য দলে থাকলেও হাফিজের বিশ্বকাপ খেলা নির্ভর করছে তাঁর হাতের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠার ওপর। দলে থাকা শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ ও হারিস সোহেলের এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন দল ঘোষণার দিনই জানিয়েছেন অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা। সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদও কাল আস্থা রাখলেন অভিজ্ঞদের ওপরই, ‘আমরা ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছি। এবারও একই কন্ডিশনে খেলা হচ্ছে। সেটা যদি খেলোয়াড়েরা মনে রাখে এবং সিনিয়ররা ভালো খেলে, তাহলে এবার আমাদের ভালো কিছু করার সম্ভাবনা আছে।’
বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলের কাছে এটুকু প্রত্যাশা তো করা যায়ই।

Sunday, January 17, 2016

দুই ভাই এবং একটি মোটরসাইকেলের গল্প by তারেক মাহমুদ

ভাই মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে মুস্তাফিজ।
বাংলাদেশি এই পেসারের জীবনের গল্পে
ভাই আর মোটরসাইকেল—দুইয়ের ভূমিকাই
খুব গুরুত্বপূর্ণ l ছবি: শামসুল হক
রাত ১২টায় ফোন। পরদিন মুস্তাফিজকে যে করেই হোক ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশে এসেছে। তাদের নেটে বল করবে মুস্তাফিজ। হ্যাঁ, মুস্তাফিজ...মুস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাঁহাতি পেস বোলিং বিস্ময়।
ওই ফোনটা করেছিলেন মুস্তাফিজের একসময়ের কোচ শেখ সালাউদ্দিন। অতটুকু ছেলে অত রাতে এমন ফোন পেয়ে কী করবে বুঝতে পারছিল না। সেজো ভাই মোখলেছুর রহমানকে (পল্টু) কথাটা বলতেই অভয় দিলেন, ‘চিন্তা করিস না। আমি নিয়ে যাব।’ পরদিন ছিল হরতাল। তবু দমেননি পল্টু। ভোরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে মোটর-সাইকেলে করে ছোট ভাইকে নিয়ে আসেন খুলনার চুকনগরে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঢাকা। মুস্তাফিজের সেই প্রথম ঢাকায় বল করতে যাওয়া। তবে ওটাই প্রথম মোটরসাইকেলে চড়া নয়।
ক্রিকেটাররা বড় হয়ে তাঁদের খেলোয়াড় হওয়ার পেছনের গল্পে অনেককেই টানেন। মুস্তাফিজের গল্পে আছে সাতক্ষীরার গণজাগরণ সংঘের কোচ আলতাফ বা আরেক কোচ তপুর কথা। প্রয়াত কোচ সালাউদ্দিনের কথাও ভোলার নয়। তবে এই গল্পে ভাই পল্টু ও একটি বাজাজ ডিসকভারি মোটরসাইকেলও আছে প্রবলভাবে।
এর আগে গল্প আছে আরও। মুস্তাফিজের বয়স তখন ১৪ কি ১৫ বছর। তেঁতুলিয়া গ্রামের মাঠে মাঠে খুব জনপ্রিয় টেনিস বলের ক্রিকেট। বড় ভাই মাহফুজুর রহমান গ্রামীণফোনে চাকরি পেয়ে খুলনায় আসার পর আর না খেললেও মুস্তাফিজসহ বাকি তিন ভাই ছিলেন সেসব টুর্নামেন্টের নিয়মিত মুখ। তাঁদের দলের নাম ছিল রাজাপুর আরপি সংঘ। তো এক ম্যাচে প্রতিপক্ষের এক ব্যাটসম্যানের হাতে তুলোধোনা হচ্ছিল তাঁদের সব বোলার। তাঁকে ফেরানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে অধিনায়ক পল্টু মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন। মেজো ভাই জাকির হোসেনের অস্বস্তি হচ্ছিল। অতটুকু ছেলে কি পারবে ঠিকভাবে বল করতে! মুস্তাফিজ পারলেন। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথম বল হাতে নিয়েই দেখালেন জাদু।
কাল দুপুরে খুলনার সোনাডাঙা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কে বড় ভাইয়ের বাসায় বসে পল্টু বলছিলেন, ‘উইকেটকিপারকে সরিয়ে আমি নিজে কিপিংয়ে গিয়ে মুস্তাফিজকে বল দিই। প্রথম দুই বলেই পরাস্ত ব্যাটসম্যান। তৃতীয় বলে বোল্ড এবং ওটা কাটারই ছিল। বলটা ব্যাটসম্যানের পায়ের পেছন দিক দিয়ে ঘুরে এসে স্টাম্পে লাগে। অবশ্য টেনিস বল তো, কাটার এমনিতেই হয়ে যায়।’
ওই একটা বলই বদলে দেয় মুস্তাফিজের জীবন। তাঁকে দিয়ে নিয়মিত বল করানো শুরু হয় তেঁতুলিয়ার টুর্নামেন্টে। দলগুলো অনেক সময় তেঁতুলিয়ার বাইরে থেকেও ভাড়ায় খেলোয়াড় আনত। একজন খেলোয়াড়কে প্রতি ম্যাচ দিতে হতো চার-পাঁচ শ টাকা। ভাইয়েরা চিন্তা করলেন, টাকা দিয়ে বাইরে থেকে খেলোয়াড় না এনে মুস্তাফিজকেই গড়েপিটে নেবেন। কয়েকটি ম্যাচ খেলার পর ছোট ভাইয়ের প্রতিভা আরও স্পষ্টভাবে ধরা দিল তাঁদের কাছে। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হলো, মুস্তাফিজকে ক্রিকেট বলে অনুশীলন করার সুযোগ করে দিতে হবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। গণজাগরণ সংঘের হয়ে ফুটবল খেলার সুবাদে ওই ক্লাবের ক্রিকেট কোচ আলতাফ হোসেনের সঙ্গে পরিচয় ছিল পল্টুর। তাঁর কাছে মুস্তাফিজকে নিয়ে যেতেই একটা শর্ত দিয়ে দিলেন কোচ-ভালো খেলোয়াড় হতে হলে টেনিস বলের খেলা ছাড়তে হবে। খেলতে হবে শুধু ক্রিকেট বলে। এরপর থেকে মুস্তাফিজ আর টেনিস বলে বল করেননি। তেঁতুলিয়ায় ক্রিকেট বলে অনুশীলন করার জায়গা না থাকায় বাড়ির পেছনেই ম্যাট বিছিয়ে ক্রিকেট বলের উইকেট বানিয়ে দেন ভাইয়েরা। আর পল্টুর কথা শুনে তো মনে হলো, টেনিস বলে বল করাটা এখন পারিবারিকভাবেই নিষিদ্ধ মুস্তাফিজের জন্য, ‘টেনিস বলে অনেক জোর দিয়ে বল করতে হয়। তাতে চোটের সম্ভ্রাবনা থাকে। আমরা চাই না ওর আমাদের দলে খেলার জন্য দেশের ক্ষতি হোক।’
টেনিস বলের মুস্তাফিজ যেদিন থেকে ক্রিকেট বলের মুস্তাফিজ হয়ে গেলেন, সেদিন থেকেই তাঁর ক্যারিয়ারে ঢুকে গেল একটা বাজাজ ডিসকভারি মোটরসাইকেল। মুস্তাফিজদের বাড়ি সাতক্ষীরা থেকে ৪০ কিমি দূরে। এই পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন ভোরে পল্টুর ওই মোটরসাইকেলের পেছনে চড়েই আসতেন গণজাগরণ সংঘের অনুশীলনে। জোরে চালালে ৪৫ মিনিটের মতো সময় লাগত। কিন্তু ছোট ভাইকে পেছনে বসিয়ে অত জোরে বাইক ছোটাতেন না পল্টু। তেঁতুলিয়া-সাতক্ষীরা-তেঁতুলিয়া যাওয়া-আসাতেই তাই সময় লেগে যেত ঘণ্টা দুয়েক। সাতক্ষীরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ডাক পাওয়ার পরও রুটিন বদলায়নি। ফজরের আজানের পরপরই বের হওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যেতেন পল্টু। শুরুর দিকে মুস্তাফিজের ঘুম ভাঙাতে অবশ্য বেশ কষ্টই হতো, ‘ছোট ছিল তো, অত ভোরে ঘুম থেকে উঠতে চাইত না। শীতকালে বেশি কষ্ট হতো। জোর করে তুলে নিয়ে আসতাম। পরে একটা সময়ে অভ্যস্ত হয়ে গেল।’
মুস্তাফিজকে শুধু গণজাগরণ সংঘ আর খুলনার চুকনগরেই পৌঁছে দেয়নি সেই মোটরসাইকেল, এটা এখন সবারই জানা যে, আজকের মুস্তাফিজুর রহমান হওয়ার পথটাকেও সেটা কমিয়ে দিয়েছিল অনেক। হরতাল আর শীতের সকালের মতো বাধা সে পথেও ছিল। তবু গতি হারাননি মুস্তাফিজ, ছন্দ হারায়নি তাঁর বোলিং। ছিপ ফেলেই নাকি পানি থেকে মাছ তুলে আনতে পারেন মুস্তাফিজ। উইকেট পাওয়াটাও এখন পানির মতো সহজ তাঁর কাছে।
সাতক্ষীরায় অনূর্ধ্ব-১৬ জেলা দলের ক্যাম্প হবে। কোচ আলতাফের পরার্মশে ছোট ভাইকে সেখানে নিয়ে যান পল্টু। প্রথম দিন গিয়ে দেখেন ১৪ জনের দলে ঢুকতে শ তিনেক ক্রিকেটার হাজির। এত ক্রিকেটার দেখে পল্টু কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও মুস্তাফিজকে বুঝতে তা দেননি। তিন শ জন থেকে যে মাত্র ১৪ জন নেবে, সেটাও বলেননি। উল্টো সাহস দিয়েছেন, ‘তোকে যদি একবার বল করতে দেয় তাহলে আর বাদ দিতে পারবে না। দোয়া কর যেন বল না করিয়েই বাদ দিয়ে না দেয়।’
প্রথম কয়েকটা বল এলোমেলো হয়। পল্টু বুঝে ফেললেন, ক্রিকেট বলে বোলিংয়ের অনভ্যস্ততার কারণেই এ রকম হচ্ছে। ভাইকে ডেকে বললেন, ‘এটা তো টেনিস বল না! ক্রিকেট বলে বল আরও ওপর থেকে ছাড়তে হবে। তখন জায়গামতো পড়বে। তুই টেনিস বলে খেলেছিস বলে নিচ থেকে ছাড়ছিস। এভাবে হবে না। ওপর থেকে বল ছাড়। চার-পাঁচটা বল করার পর বলে জোর দিস।’
মুস্তাফিজ সুযোগ পেয়ে গেলেন সাতক্ষীরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। এরপর তো শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। বাগেরহাটে মেহেরপুরের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট! চুয়াডাঙ্গার বিপক্ষে পরের ম্যাচের আগে বড় ভাইয়ের হয়ে মুস্তাফিজের কাছে পুরস্কারের ‘ঘোষণা’ নিয়ে গেলেন পল্টু, ‘এই ম্যাচেও ৩ উইকেট পেলে তোকে স্পাইক কেডস কিনে দেব।’ প্রথমে বিশ্বাস হয়নি মুস্তাফিজের। কিন্তু ভাইয়ের স্নেহমাখা হাসি কি আর মিথ্যা বলবে! ওই ম্যাচেও ৩ উইকেট নিয়ে একসঙ্গে পেয়ে গেলেন দুই জোড়া স্পাইক কেডস। ছোট একটা বিপত্তি অবশ্য বেধেছিল। ‘খুলনায় ওর পায়ের মাপের কেডসই পাইনি আমরা। পরে সাতক্ষীরার টাউন স্পোটর্স নামে একটা দোকানে গিয়ে বললাম, এই মাপের কেডস এনে দিতে। তারাই পরে ব্যবস্থা করে দিল’-হাসতে হাসতে বলছিলেন পল্টু।
বল হাতে নতুন কিছু করার মন্ত্রও মুস্তাফিজের কানে প্রথম পড়ে দিয়েছিলেন তাঁর ওই সেজো ভাই-ই, ‘বলের গতি ওর শুরু থেকেই ভালো। ন্যাচারাল সুইংও হতো। কিন্তু আমি বলেছিলাম শুধু এগুলো দিয়ে হবে না। নতুন কিছু লাগবে।’ সেই ‘নতুন কিছু’র কিছু উদাহরণও তুলে ধরেছিলেন ছোট ভাইয়ের সামনে, ‘মালিঙ্গা যেমন আস্তে, জোরে দুই রকম ইয়র্কারই দিতে পারতেন। দুটি ঠিক একই জায়গায় গিয়ে পড়ত। ওয়াসিম আকরাম আউটসুইং যেমন দিতেন, আবার রিভার্স সুইংও করাতে পারতেন। তোরও সে রকম একটা কিছু লাগবে।’ এরপর তো জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান এনামুল হকের পরার্মশে আবিষ্কৃত কাটার বিশ্ববিখ্যাতই হয়ে গেল। যেটা ক্রিস গেইল-শহীদ আফ্রিদিদের জন্যও এখনো দুর্বোধ্য। বিপিএলে গেইলের আউটের প্রসঙ্গ তুলতেই চকচক করে উঠল পল্টুর চোখ, ‘আমি শুরু থেকেই বলছিলাম, মুস্তাফিজ গেইলকে চারটা বলও যদি করে গেইল আউট হবে। আগের দিন ফোনেও আমি ওকে বলেছি, গেইলের উইকেট তোকেই নিতে হবে।’ মুস্তাফিজের উত্তর কি ছিল জানেন? ‘সামনে যদি পাই, তাহলে তো নেবই।’
এই আত্মবিশ্বাস, বল হাতে ঠান্ডা মাথার এই ‘খুনি’ স্বভাব মুস্তাফিজের ছোটবেলা থেকেই। স্নায়ুচাপ শব্দটাই যেন তাঁর অজানা! সেটি থাকলই বা। একজন মানুষকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুই জানতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। মুস্তাফিজ শুধু পেস বোলিং আর কাটারটাকেই আরও ভালো করে জানুন। ও হ্যাঁ, সেই মোটরসাইকেলটার কথাও ভুলে যাওয়া যাবে না কিন্তু।

Tuesday, July 28, 2015

চট্টগ্রাম মানেই প্রাপ্তি! by তারেক মাহমুদ

চট্টগ্রাম মানেই প্রাপ্তি! জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম মানেই কিছু না কিছু নিয়ে ফেরা! দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্রয়ে বৃষ্টির অবদান বেশি থাকলেও পরিসংখ্যান তা-ই বলে। গত চার বছরে সাগরপাড়ের এই মাঠে কোনো টেস্ট হারেনি বাংলাদেশ দল।
চট্টগ্রামে সর্বশেষ টেস্ট হার ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বেশ লজ্জাজনকই ছিল সে পরাজয়, ব্যবধানটা ছিল ইনিংস ও ১৮৪ রানের। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এরপর হয়েছে আরও চারটি টেস্ট। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড, ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে এবং এবার খেলল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এর মধ্যে তিনটাই ড্র। জয় একটা। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের দল জিতেছে ১৮৬ রানে। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ওটাই বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়।
বলতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবারের টেস্টে তো শেষ দুই দিন খেলাই হলো না। এই ড্রয়ে কৃতিত্বের কী আছে? আসলে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হওয়া ১৪টি টেস্টের যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ ড্র করেছে, এবারেরটিসহ তার তিনটিতেই ছিল বৃষ্টির বাগড়া। তবে গত তিন বছরের তিন ড্রয়ের মধ্যে বৃষ্টির ভূমিকা থাকল কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবারের টেস্টেই।
কিন্তু বাংলাদেশ দল কি এমন ড্র চেয়েছিল? ম্যাচের প্রথম তিন দিনের স্কোরকার্ডই বলে দেবে এর উত্তর। তিন দিন শেষেও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা পিছিয়ে ছিল ১৭ রানে। চট্টগ্রাম টেস্টের দিগন্তে মুশফিকুর রহিমের দলও ভালো কিছুর সম্ভাবনাই দেখতে পাচ্ছিল। কিন্তু সেটা আর হলো না। বৃষ্টি তাই এবার আর আশীর্বাদ হয়ে আসেনি বাংলাদেশের জন্য, এসেছে অভিশাপ হয়ে।
টেস্ট বাদ দিয়ে ওয়ানডের দিকে তাকান। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সাফল্যের ডালা সাজিয়ে রেখেছে সেখানেও। মোট ১৬টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছে এ মাঠে বাংলাদেশ, জয় এসেছে ১০টিতেই। এর মধ্যে আটটি জয় সর্বশেষ ১০ ম্যাচে। এসব জয়ও সব সময় যেনতেন দলের বিপক্ষে নয়। এবার তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়টা এখানে সিরিজ জয়ের উৎসবই নিয়ে এসেছে। বড় দলের বিপক্ষে জয় ছিল এর আগেও। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ২ উইকেটের জয় কিংবা ওই বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে পাওয়া ৮ উইকেটের জয়ের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি এত দিনেও।
টেস্ট, ওয়ানডের তুলনায় চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টির সাফল্য কমই বাংলাদেশের। চার ম্যাচ খেলে শুধু নেপালের বিপক্ষে একটা জয়। অবশ্য এটাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের সার্বিক পারফরম্যান্সের প্রতীকও বলা যায়। মোট ৪৪ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছেই মাত্র ১২টি।
চট্টগ্রামে পাওয়া বেশির ভাগ সাফল্য জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এলেও এর শুরুটা কিন্তু কাজির দেউড়ি এলাকার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। সেটাকে টেস্ট ক্রিকেটেই বাংলাদেশের সাফল্যের শুরু বলতে পারেন। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতে বাংলাদেশ এবং প্রথম টেস্টটা সেবার হয়েছিল চট্টগ্রামের এম আজিজ স্টেডিয়ামে। ২২৬ রানের বিশাল জয়ে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস হাবিবুল বাশারের দল নিয়ে ফিরেছিল এখান থেকেই।
১০ বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করে এখনো রোমাঞ্চিত বর্তমানে নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা হাবিবুল, ‘মনে আছে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার সময় দুই রকম অনুভূতি সঙ্গী হয়েছিল আমার। এক হলো, অবশেষে টেস্ট ম্যাচ জিতলাম। অভিষেকের পাঁচ বছর হয়ে গেলেও আমরা এর আগে কোনো টেস্ট ম্যাচ জিতিনি। আরেকটা হলো সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস। ঢাকায় গিয়ে সিরিজ জিততে হবে, এটাই মনে হচ্ছিল বারবার।’
ওই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে চট্টগ্রামে প্রথম ওয়ানডে জয়টাও বাংলাদেশ এম এ আজিজ স্টেডিয়ামেই পেয়েছিল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম পয়মন্ত চট্টগ্রামের সেই ব্যাটনটা ধরে রেখেছে আজও।
এবারও চট্টগ্রামে সাফল্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়, প্রথম টেস্ট ড্র। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দর্শকদের বারবার এমনই আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন টাইগাররা। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস l শামসুল হক

Thursday, July 23, 2015

সরল-বিধ্বংসী মুস্তাফিজ by তারেক মাহমুদ

মুস্তাফিজুর রহমানের হাততালি এখন রীতিমতো আলোচনার বিষয়। উইকেট পেলে কখনো শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন, কখনো উদ্বাহু হয়ে শরীর ঝাঁকান। তা উদ্যাপন যেভাবেই হোক, শেষটা করেন দুটো হাততালি দিয়ে। সহজ-সরল এই উদ্যাপনে কতজন কত কিছু যে খুঁজে পাচ্ছেন!
কেউ বলেন, ও নতুন। উইকেট পাওয়ার আনন্দ কীভাবে উদ্যাপন করতে হয় এখনো বুঝে ওঠেনি। একটু সময় দিতে হবে।
কেউ খুঁজছেন সারল্য। একটা ছেলে কতটা সহজ-সরল হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেও উইকেট পাওয়ার উদ্যাপনটাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে পারেনি!
আরও কত কিছু! তবে সব ধারণার মধ্যেই ‘কমন’ একটা ব্যাপার থাকছে। মুস্তাফিজের সারল্য। কে কী ভাবছে সেটা না ভেবে মনের আনন্দে উল্লাসে মাতার বেখেয়াল। সতীর্থদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে, ড্রেসিংরুমেও মুস্তাফিজ যথেষ্টই সপ্রতিভ। অথচ সেই মুস্তাফিজ সংবাদ সম্মেলনে কী যে আড়ষ্ট! উল্টো দিকে থাকা টেলিভিশন ক্যামেরাগুলো যেন একেকটা বন্দুকের নল! সাংবাদিকেরা নল তাক করে তাঁর কাছ থেকে কথা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
এই চিত্র জাতীয় দলে আসার পর তাঁর প্রথম দুই সংবাদ সম্মেলনের। কালকের সংবাদ সম্মেলন সেসবের সঙ্গে পুরোপুরি মিলল না। অনেক সাংবাদিকের মতে ব্যবধানটা ‘আকাশ-পাতাল।’ এই পরিবর্তনের একটা প্রেক্ষাপট আছে। দিনের খেলা শেষে প্রথমে হলো দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একমাত্র ফিফটি করা টেম্বা বাভুমার সংবাদ সম্মেলন। ওই সময় মাঠে বসে মুস্তাফিজকে বেশ খানিকক্ষণ পরামর্শ দিলেন বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম। কান পেতে যা শোনা গেল, তাতে মূল বার্তা একটাই—অনেক সময় কিছু প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে হয়। তবে আজ (গতকাল) ভালো খেলেছ। এমন দিনে প্রাণ খুলে কথা বলবে।
ওই টোটকাই হয়তো একটু বদলে দিল মুস্তাফিজকে। যেখানে ‘আজ কি একটু বেশি জোরে বল করতে চাইলেন’ প্রশ্নে সাবলীল উত্তর, ‘আরে, শরীর ভালো থাকলে সবই ভালো হয়।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে যে তিনি আসলেই ‘আকাশ-পাতাল’ বদলে গেছেন, তা নয়। আগে যে কথা এক লাইনে সেরেছেন, সেটা কাল দুই-তিন বাক্যে বলেছেন, এই আরকি। উদাহরণ দিলে আরও পরিষ্কার হবে—
ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। টেস্ট অভিষেকে পেলেন চার উইকেট। কোনটাকে এগিয়ে রাখছেন?
মুস্তাফিজ: ওয়ানডে এক রকম, টেস্ট এক রকম। এগিয়ে থাকার দিক দিয়ে টেস্টটাই...। ওয়ানডেতে যা-ই করি না কেন, সবাই রান করার চেষ্টা করে। টেস্টে সহজে উইকেট পাওয়া যায় না।
চার উইকেটের মধ্যে কোনটা পেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? হ্যাটট্রিক না পাওয়ায় আফসোস আছে নিশ্চয়ই...
মুস্তাফিজ: হাশিম আমলার প্রথম উইকেটটা। হ্যাটট্রিকের চেষ্টা ছিল। যেভাবে বল করতে চেয়েছিলাম, সেটাই হয়েছে। কিন্তু হ্যাটট্রিক হয়নি।
টেস্ট না ওয়ানডে, কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং?
মুস্তাফিজ: টেস্টটাই বেশি কষ্ট।
তবে মুস্তাফিজ মাঝে মাঝে কম কথায় আসল বক্তব্যটা দিতে পারছেন, এটাও বড় পরিবর্তন। অভিষেক টেস্টে নতুন বলে অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গী পাননি। ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা মোহাম্মদ শহীদের সঙ্গে জুটি সম্পর্কে বললেন, ‘পরিকল্পনা ছিল ডট বল বেশি করা। ডট বল বেশি হলে ওরা একটা পর্যায়ে রান নেওয়ার চেষ্টা করবে। তখন উইকেটও আসবে।’
এমন কোনো মহাকাশবিজ্ঞান নয়। তবে প্রথম টেস্টেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাফল্যকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তা ছাড়া ওয়ানডেতে বিস্ময় ছড়ানো অফ কাটার কমিয়ে এনে যেভাবে অন্য অস্ত্রগুলো ব্যবহার করলেন, শুরুতেই অনেক কিছু বুঝে ফেলার প্রমাণ তাতেও। অভিষেক টেস্টের প্রথম স্পেলটা (৫-০-২০-০) অবশ্য মনমতো হয়নি মুস্তাফিজের। ভয়ংকর হয়ে উঠলেন ৪ ওভারের তৃতীয় স্পেলে। ৬ রান দিয়ে দুই মেডেনসহ ৩ উইকেট, সেটাও হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে মাত্র চার বলের মধ্যে! হঠাৎ বিধ্বংসী হয়ে ওঠার রহস্য ফাঁস করলেন নিজেই, ‘লাঞ্চের সময় কোচ আমাকে ডেকে প্রথম স্পেলের বোলিং দেখালেন।’ স্বল্পভাষী মুস্তাফিজ আর কিছু না বললেও সাংবাদিকেরা বুঝে নিলেন, ভুলগুলো শুধরে নিয়েছিলেন তখনই।
কিন্তু এভাবে বুঝে নেওয়া আর কত! সংবাদ সম্মেলন শেষে মাঠ পাড়ি দিয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথেও তাই মুস্তাফিজের পিছু পিছু সাংবাদিকদের দল। খোলা আকাশের নিচে যদি আরেকটু প্রাণখোলা হন! হলেন এবং তাতে বেরিয়ে এল মাঠের মুস্তাফিজও—
—উইকেটগুলো কি খুব সহজে পেয়ে যাচ্ছেন?
মুস্তাফিজ: ওপরওলা দিচ্ছেন, তাই সহজ হয়ে যাচ্ছে।
—তৃতীয় উইকেটটা পাওয়ার পর কেমন লাগছিল?
মুস্তাফিজ: তা কি আর বলা লাগে...!
কথা শেষ না হতেই হঠাৎ সেই হাততালি। সারল্যের মধ্যেই ফুটে উঠল বিধ্বংসী মুস্তাফিজের চেহারা।
উইকেট পাওয়ার পর সতীর্থদের আনন্দের মধ্যমণি হবেন—মুস্তাফিজুরের জন্য গত কিছুদিনে এটি নিয়মিত অভিজ্ঞতাই। এই ছবিটি ডিআরএসে ডুমিনির আউট নিশ্চিত হওয়ার পর। আগের বলটিতেই হাশিম আমলাকে কটবিহাইন্ড বানিয়ে টেস্টে প্রথম উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার l প্রথম আলো

Tuesday, July 21, 2015

যেভাবে এল তিন সিরিজ জয় by তারেক মাহমুদ

ক্রিকেটাঙ্গনে এখন ‘কমন’ রসিকতা—আর কোনো দল তো বাংলাদেশে খেলতে আসবে না। এখানে এলেই যে সবাই হারে! নিশ্চয়ই এখন সব দল বাংলাদেশকে নিজেদের দেশে ডেকে নিয়ে খেলতে চাইবে।
রসিকতাকে রসিকতার মধ্যে রাখাই ভালো। তবে বাস্তবতাও কি এর চেয়ে খুব বেশি ভিন্ন? পাকিস্তান, ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে বাংলাদেশ তো আসলেই নিজেদের মাঠে হুংকার ছাড়ল! কী এমন জাদুমন্ত্র লুকিয়ে আছে এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে? বাংলাদেশে এসে কেন সবাইকেই বিদায় নিতে হচ্ছে লেজ গুটিয়ে? তিন সিরিজে বাংলাদেশ দলকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে সেটাই খুঁজে বের করতে চেয়েছেন তারেক মাহমুদ

পাকিস্তান: লক্ষ্যই ছিল সিরিজ জয়
বিশ্বকাপের পর পরই হলো পাকিস্তান সিরিজ। একে তো দেশের মাটিতে খেলা, তার ওপর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে আসার আত্মবিশ্বাসও তখন সঙ্গী। বড় কিছুর স্বপ্ন তাই চলেই আসছিল। স্বপ্নের পরিধি বাড়িয়ে দিল পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ দল। কাউকে বাদ দেওয়া হলো, কেউ নিলেন অবসর। বাংলাদেশের সামনে খুলে গেল সম্ভাবনার দরজা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাষায়, ‘বিশ্বাস ছিল, পাকিস্তানকে অন্তত দুটি ওয়ানডেতে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
দুটি নয়, একে একে তিনটি ওয়ানডেই জিতে গেল বাংলাদেশ! কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার মন্ত্র যেন দলের শিরায় বইয়ে দিল আত্মবিশ্বাসের তাজা স্রোত। একেক দলের বিপক্ষে ‘রণকৌশল’ একেক রকম হতেই পারে। তবে পাকিস্তান সিরিজের সাফল্যে একটা বিশেষ প্রতিজ্ঞা ভর করল দলের মধ্যে, খেলতে হবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ‘এই একটা জায়গায় আমরা কোনো সিরিজেই আপস করিনি। অনেক সমালোচনার পরও আট ব্যাটসম্যান খেলানোর পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেছি সেটাই করেছি’—বলেছেন অধিনায়ক
ভারত: এগিয়ে দিল প্রথম জয়টাই
ভারতকে অনভিজ্ঞ পাকিস্তানের মতো সহজ ভাবার কারণ ছিল না। তবু জয়ের ধারা থেকে এই সিরিজেও সরতে চায়নি বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল অন্তত একটি হলেও ম্যাচ জেতার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের সিরিজেও জয়ের অভ্যাসটা সঙ্গী থাকে তাহলে। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতেই সেই কাঙ্ক্ষিত জয় এসে যাবে, তা কে ভেবেছিল! ওই এক জয় পুরো সিরিজের চিত্রনাট্যই বদলে দিল।
ভারত সিরিজে চমক ছিলেন তরুণ বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। অধিনায়ক মাশরাফির দৃষ্টিতে যিনি একাই গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান, ‘মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই মনে হচ্ছিল আমরা কিছু একটা করতে পারব।’
সেই ‘কিছু একটা’ শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামল সিরিজ জয়ে। কিন্তু শেষ ম্যাচে এ কোন বাংলাদেশ? টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই হোক, কিংবা আত্মতৃপ্তি বা অন্য কিছু; জয়ের ধারাবাহিকতা শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ধরে রাখা গেল না। সিরিজ শেষে মাশরাফি অবশ্য বলেছেন, ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার যে প্রত্যাশা ভর করেছিল দলের ওপর, কাল হয়েছে সেটাই। ভয়ডরহীন ক্রিকেটের পাশাপাশি ‘নির্ভার ক্রিকেট’ খেলার স্লোগানও উচ্চারিত হয় এই সিরিজের পর।
দ. আফ্রিকা : সবচেয়ে বড় সাফল্য
পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে এক মাসের মধ্যে দুটি সিরিজ জয় প্রত্যাশার সীমায় নিয়ে আসে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। প্রথমে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সিরিজের শুরু অস্বস্তি দিয়ে। তারপরও ভারত সিরিজের মতো প্রথম ম্যাচটিকেই পাখির চোখ করে বাংলাদেশ। যেভাবেই হোক জিততে হবে এই ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে জিতলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সিরিজে থাকা যায়।
তবে এবার হলো না। হার দিয়ে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। সেই হার উসকে দেয় সমালোচনার বিষবাষ্প। তাহলে কি পুরোনো দিনে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট? শেষ হয়ে গেল সাফল্যের মধুচন্দ্রিমা!
না, আহত বাঘ শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে। মাশরাফির দলও পিছু হটল না। ঢাকায় পরের ম্যাচেই সমতা এনে চট্টগ্রামে হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ের উৎসব করল বাংলাদেশ। মাশরাফির দৃষ্টিতে তো তিন সিরিজ জয়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে এগিয়ে, ‘আমরা আমাদের আসল চেহারাটা দেখিয়েছি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ওদের মতো দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ হেরেও ২-১-এ সিরিজ জয় বিরাট সাফল্য। আমাদের ক্রিকেটের জন্যই অন্য রকম পাওয়া এটা।’
সিরিজ জয়ের ঝা-চকচকে সব ট্রফিতে ভরে উঠেছে বিসিবির শোকেস। তবে ট্রফি নয়, তিন সিরিজে তিন রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও শেষ হাসি হাসতে পারাটাই বোধ হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের। প্রথম সিরিজে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পরও ভারতের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের চাপ নিতে না পারা আরেকবার তাদের সামর্থ্যকে দাঁড় করিয়েছিল আত্মোপলব্ধির আয়নার সামনে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে আসল কাজটা, যা এত দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলের কাছেই দেখেছে সবাই। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেশাদার দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হেরেও ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক মাইলফলক।
মাশরাফির দৃষ্টিতে অবশ্য এটাই পেশাদারি। বড় দল হয়ে ওঠার লক্ষণ, ‘আপনি যখন সব সময় জিততে থাকবেন তখন জেতাটা সহজ হয়ে যায়। যেকোনো দলের বিপক্ষেই তখন ছন্দে থাকবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়টা এখানেই আলাদা।’ তাঁর হিসাবে, তিন সিরিজেই ৯০ শতাংশ পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পেরেছে বাংলাদেশ। সাফল্যের আসল রহস্য লুকিয়ে এখানেই।

Sunday, July 12, 2015

আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে: মিরপুরে হঠাৎ ‘আতঙ্ক’ by তারেক মাহ্‌মুদ

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ম্যাচের আগের দিনগুলো কি তাহলে এভাবেই যাবে?
প্রথম ওয়ানডের আগের দিনটা জবুথবু থাকল বৃষ্টিতে। মাঠ সারা দিনই থাকল অবগুণ্ঠনের নিচে। বাংলাদেশ দল ইনডোরে গিয়ে কোনোরকমে অনুশীলন করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দল মিরপুরে যায়ইনি।
আজ সেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। না, এবার আর খেলার আগের দিন ঝড়বৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশ দলকে এলোমেলো করে দিতে সেসবের প্রয়োজনও পড়ল না। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর প্রথম ওয়ানডেতেও মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে হারতে দেখে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানই সপারিষদ কেমন জানি হয়ে গেলেন!
শুরু থেকেই বলা যাক। কথা ছিল দুপুর আড়াইটায় দলের প্রতিনিধি হয়ে বাংলাদেশের কোনো একজন খেলোয়াড় সংবাদ সম্মেলনে আসবেন। সেই অনুযায়ী বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষের দিকে আসছিলেন নাসির হোসেন। কিন্তু কাছাকাছি আসার পর কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ডাক শুনে আবার ফিরে গেলেন ড্রেসিংরুমের দিকে।
নাটকের সেই শুরু। প্রথমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সারলেন কোচ। এরপর সবাই মিলে চলে গেলেন দোতলায় বিসিবির অফিসের বোর্ডরুমে। সভাপতি নাজমুল হাসান নাকি বসতে চেয়েছেন তাদের সঙ্গে। অবশ্য দলের সঙ্গে বসার আগে তিনি কথা বলেছেন টেকনিক্যাল কমিটির চার সদস্যের সঙ্গেও। এসব করে তিনটার অনুশীলন বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত শুরু করেতে পেরেছে বিকেল সোয়া চারটার দিকে। বৃষ্টি হয়নি, তবু প্রথম ওয়ানডের আগের দিনের মতোই এলোমেলো হয়ে গেল দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিনটাও।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুই টি-টোয়েন্টি আর এক ওয়ানডের হারে কী এমন মহাপ্রলয় ঘটে গেল, তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না। জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত সিরিজে বাংলাদেশ দল সাফল্যের ভেলায় ভেসেছে। তার মানে কি এই—দলটা আর কোনো দিনই হারবে না? দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেশাদার ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ দাপুটে জয়ে জিততে থাকবে, কেউ এমন ভেবে থাকলে সেটা তার ক্রিকেটীয় চিন্তার সমস্যা। ক্রিকেটারদের নয়।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে এই সিরিজে একটা জয় খুবই প্রয়োজন বাংলাদেশ দলের। কিন্তু হাশিম আমলা-জেপি ডুমিনিদের বিপক্ষে যে কাজটা খুব সহজ নয়, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও তা বোঝেন। আর বোঝেন বলেই মাশরাফি-সাকিবদের ওপর প্রত্যাশার বোঝা তাঁরাও চাপাচ্ছেন না। অথচ বিসিবির অবস্থা দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হতে হচ্ছে। ম্যাচের আগের দিন কোচ-খেলোয়াড়দের ডেকে সভা, টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ নেওয়া এবং সবশেষে সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে একাদশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানিয়ে দেওয়া, খেলোয়াড়দের কিছু কিছু ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করার তথ্য প্রকাশ করা—এসব যে উল্টো দলটাকে চাপেই ফেলে দিচ্ছে, সেটা কি বুঝতে পারছেন তাঁরা?
গত তিনটি হারে বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন কোনো খাদে পড়ে যায়নি যে অনুশীলন বিলম্বিত করে জরুরি সভায় বসতে হবে। যে টেকনিক্যাল কমিটির এত দিন কেউ খোঁজই নেয়নি, হঠাৎ তাদের ডেকে হারের ময়নাতদন্ত আর পরের ম্যাচের রূপরেখা নিতে হবে। এমনকি আজকের ম্যাচের একাদশ নির্বাচনে পর্যন্ত নাক গলানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। সাত-আট মাস ধরে যে কোচ-খেলোয়াড়-নির্বাচকেরা মিলে একটার পর একটা সাফল্যের পাপড়ি যোগ করলেন, হঠাৎ তাঁদের ওপর থেকে সব আস্থা উধাও! কেন?
বিসিবি কর্মকর্তাদের যা অবস্থা, ভবিষ্যতে কোচ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সভাগুলো হয়তো বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থাও করা হবে। তবে কাল থেকেই সেটি শুরু হয়নি বলে আপাতত বিসিবি কর্মকর্তা, টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য আর খেলোয়াড়দের কথার ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। খেলোয়াড়েরা অবশ্য এ নিয়ে ‘স্পিকটি নট’। সংবাদ সম্মেলনে নাসির হোসেনই যা একটু কথা বলেছেন। সেটাও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মতো। ‘সভাপতি সাহেব আমাদের সব সময় সাহস দেন’, ‘খারাপ খেললে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে। তবে উনি আমাদের সে রকম কিছু বলেননি’ ইত্যাদি।
এর চেয়ে বোর্ড সভাপতি নিজেই বেশি জানালেন সভা সম্পর্কে। কী বলেছেন তিনি ক্রিকেটারদের? উত্তরটা তাঁর মুখ থেকেই শুনুন— ‘আসলে ওদেরকে এই কথাগুলোই বলা...ভয়ের কোনো কারণ নেই। বলেছি, তোমরা ভালোই খেলো, এ মুহূর্তে হয়তো হচ্ছে না। মুশফিককে বললাম, থিতু হওয়ার পর তুমি ওই শটটা আরেকটু পরেও খেললে পারতা। মনে রেখো, তোমার ওপর দায়িত্ব অনেক বেশি। সৌম্য সরকারকে বলেছি, সেট হয়ে গেলে একজন ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব অনেক বেশি থাকে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
ম্যাচের আগের দিন হঠাৎ এমন একটা সভা ডাকা কতটুকু ঠিক হলো, সেটা সরাসরিই জানতে চাওয়া হলো সভাপতির কাছে। এবার তাঁর ভাষাটা একটু ভিন্ন, ‘কিছু কিছু জায়গায় ওদের সতর্কও করে দিতে হয়, আমি সেখানটায় সতর্ক করে দিয়েছি। কিছু জায়গায় অলসতা আছে বা অন্যদিকে মনোযোগ সরে যাওয়ার ব্যাপার আছে। ওগুলো আমি নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছি।’
কোথাও সমস্যা দেখলে ক্রিকেটের প্রধান অভিভাবক হিসেবে বিসিবি সভাপতির অবশ্যই অধিকার আছে সেটা নিয়ে বার্তা দেওয়া। কিন্তু সেই বার্তাটা বোধ হয় অন্যভাবেও দেওয়া যায়। সেটা অবশ্যই সিরিজের মধ্যে একটা ম্যাচের আগের দিন আতঙ্ক তৈরি করে নয়।
আশার কথা, বিসিবির উদ্ভট কর্মকাণ্ডকে মোটেও আমলে নিচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। গত কয়েকটি ম্যাচে খারাপ খেলা ছাড়া নিজেদের মধ্যে আর কোনো সমস্যা দেখছেন না কেউ। সবার বিশ্বাস, এই খারাপ সময়টাও শেষ হয়ে যাবে অচিরেই। তখন আবার সবাই বাংলাদেশকে ‘আমাদের দল’ বলা শুরু করবে।

Monday, July 6, 2015

পারলেন না ব্যাটসম্যানরা by তারেক মাহমুদ

এ কী, ফ্যাফ ডু প্লেসির ব্যাট কই? শট খেলার সময়
হাত ফসকে ফ্যাফ ডু প্লেসির ব্যাট উড়ে গেছে আকাশে।
ম্যাচের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিটি তাঁর, ৭৯ রান করে
অপরাজিত থেকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক,
হয়েছেন ম্যাচসেরাও l ছবি: শামসুল হক
স্পিন দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের বশে আনার পরিকল্পনা কিছুটা হলেও সফল হলো। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকারও যে পাল্টা স্পিন আছে! আছে ক্ষুরধার পেস বোলিং। উইকেটের গতিমন্থরতাও যাদের গতির ঝড় তোলায় বাধা হতে পারে না। পেস-স্পিনের সেই যুগল আক্রমণের সামনেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান আর ভারত সিরিজটাও স্বপ্নের মতো কাটানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর টি-টোয়েন্টি যেন মাটিতে নেমে আসা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও জয় দিয়ে সিরিজ শুরু হবে, ফ্যাফ ডু প্লেসি-জেপি ডুমিনিরা মাশরাফি-সাকিবদের সামনে কাঁপতে থাকবেন—এমন আশা বাংলাদেশ শিবিরেও ছিল না। বরং সিরিজ-পূর্ব কথাবার্তায় বারবারই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শক্তিমত্তায় প্রোটিয়ারা কতটা এগিয়ে। ডু প্লেসির দল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এই উইকেটে ১৪৮-ই যে অনেক বড় স্কোর, ৭ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের ৯৬ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায়ও সেটিরই প্রমাণ।
অথচ শুরুতে কী চমকটাই না দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা! সেই চমকে চমকিত এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ফিরে যেতে হলো ইনিংসের প্রথম ওভারেই। ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কোচ-অধিনায়কের কথা শুনে ডি ভিলিয়ার্স ভেবে থাকতে পারেন, বাংলাদেশ শিবিরে আসলেই তাঁর জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। ব্যাট তাঁর পরাক্রমশালী, অপ্রতিরোধ্য। ডি ভিলিয়ার্সকে আটকানোর সাধ্য কই বাংলাদেশের! ভুলটা ভাঙল মাঠে। টিকলেন মাত্র ৬ বল, তাতে ‘ভয়’ ছড়াতে ব্যর্থ ডি ভিলিয়ার্স।
চমকটা বাংলাদেশ অধিনায়ক দিয়েছেন নতুন বলে আরাফাত সানি আর নাসির হোসেনকে এনে। নাসিরকে অবশ্য পেলেন না ডি ভিলিয়ার্স। সানির করা ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে কাভারে ক্যাচ হয়ে গেলেন মাশরাফির, অর্ধেক ভরা গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তুলে ফিরলেন ড্রেসিংরুমে। আউট হওয়ার আগের বলে ২ রান নিলেও শুরুর চার বলেই বোঝা যাচ্ছিল তাঁর অস্বস্তি। সানি-নাসির মিলে ৪ ওভার করার পর সাকিব আল হাসান এলেন ইনিংসের পঞ্চম ওভারে। ততক্ষণে ৩১ রানে ২ উইকেট নেই।
তবে বাংলাদেশে যে দলটা শুধু ডি ভিলিয়ার্সের ওপর নির্ভর করে আসেনি, সেটা জানিয়ে দিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ডু প্লেসি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করেছেন। জোহানেসবার্গ থেকে সেই ফর্মটা ঢাকায় নিয়ে এসে কাল অপরাজিত ৭৯। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১১ বাউন্ডারির ৮টিই তাঁর ব্যাট থেকে। ৯০ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ৫৮ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিতে অধিনায়কের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সংগত করে গেছেন রাইলি রুশো (৩১)। ইনিংসের তিন ছক্কার দুটিই তাঁর। প্রথমটি নাসিরকে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে, মুস্তাফিজুরের বলে পরেরটি উড়ে গেল লং অনের ওপর দিয়ে।
বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্য বলতে সানির ১৯ রানে ২ উইকেট। মন্থর উইকেটে তাঁর বলই যা একটু সমস্যায় ফেলেছে প্রোটিয়াদের। সাকিবকেও মনে হয়েছে সাবলীল। কিন্তু প্রায় এক বছর পর জাতীয় দলে ফেরা অফ স্পিনার সোহাগ গাজীকে সম্ভবত নতুন অ্যাকশনে আরেকটু ধাতস্থ হতে হবে। ২ ওভার বল করে ‘ডট’ মাত্র দুটি, রান দিয়েছেন ১৬।
সীমিত ওভারের ক্রিকেট ইদানীং যে রকম ধুমধাড়াক্কা হয়ে উঠেছে, তাতে ১৪৮ রান কমই মনে হতে পারে। কিন্তু শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে কাল এই রান টপকে জেতাও কঠিন ছিল। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে রুশো জানালেন, ১৪৮ রান করে নিজেদের নিরাপদই ভাবছিলেন তাঁরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত সে ধারণাটাকেই সত্যি প্রমাণ করল। এলোমেলো শট খেলে আউট হওয়ার শুরুটা করলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। বাকিরাও যে প্রায় একই রকম ভুলে উইকেট বিসর্জন দিয়েছেন, সেটা বোঝা যাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের আউটের ধরনেই। ১০ জনের মধ্যে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন আটজনই। সাকিব আর লিটনের লড়াইয়েও তাই রানটা এক শ পার হলো না। বাংলাদেশের স্পিনের বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ছিল পেস-স্পিনের যুগলবন্দী। দুই স্পিনার অ্যারন ফাঙ্গিসো ও জেপি ডুমিনি নিয়েছেন তিন উইকেট। বাকি সাত ব্যাটসম্যানের ছয়জনই আউট হয়েছেন পেসারদের বলে।
হারের কারণটা তো বোঝাই যাচ্ছে। ম্যাচ শেষে সেটাকে আরও পরিষ্কার করে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি, ‘ওরা আমাদের স্পিনারদের যেভাবে সামলেছে, আমরা সেটা পারিনি।’
দেখা যাক, এই শিক্ষা আগামীকাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে কাজে আসে কি না!
দ. আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৪৮/৪
বাংলাদেশ: ১৮.৫ ওভারে ৯৬
ফল: দ. আফ্রিকা ৫২ রানে জয়ী

Sunday, June 21, 2015

আজই সিরিজ জয়ের উৎসব? by তারেক মাহমুদ

মুস্তাফিজ যদি প্রথম ওয়ানডের নায়ক হন, তাসকিনকে
দিতে হবে পার্শ্বনায়কের মর্যাদা। আজ কি আবারও
জ্বলে উঠতে পারবেন তাঁরা? l শামসুল হক
মুখ ফুটে কেউ কথাটা বলছেন না। তবে মনের ভেতর রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চ। আশার উথালপাথাল ঢেউ। স্বপ্নের ঝিকিমিকি আলো। এই কি সেই ম্যাচ, যাতে লেখা হবে আরেকটি ইতিহাস? বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়ার সিঁড়িটা কি আজই খুঁজে পাওয়া যাবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে?
বাংলাদেশ ১: ভারত ০—প্রথম ম্যাচের পর এখানে দাঁড়িয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। আজ বাংলাদেশ জিতে গেলে ২-০ হয়ে যাবে, মানে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয়ের উৎসবে ভাসবে দেশ। আর ভারত জিতলেও শেষ ম্যাচে আরও একটা সম্ভাবনা থেকে যাবে বাংলাদেশের। কিন্তু এমন মাহেন্দ্রক্ষণে অপেক্ষার যন্ত্রণা কে বাড়াতে চায়! যা করার দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই করে ফেলতে হবে, এই হলো বাংলাদেশ শিবিরের পণ।
কাল মিরপুরের অনুশীলন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সিরিজ জয় নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যা বললেন, তাতেও এই আকাঙ্ক্ষাটাই স্পষ্ট। কোচের চোখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরের (আজকের) ম্যাচটাতে মনোযোগী হওয়া এবং সেটা জেতার চেষ্টা করা। সিরিজের ফলাফল তখন আপন গতিতেই এগিয়ে যাবে। হাথুরুসিংহের কথাগুলোর সারমর্ম করলে একটা অর্থই তো দাঁড়ায়—সিরিজের মীমাংসাটা আজই করে ফেলতে চায় বাংলাদেশ। অবশ্য দলের জন্য সতর্কবাণী হিসেবে বলে রেখেছেন, ‘বিশ্ব র্যা ঙ্কিংয়ে ভারত দ্বিতীয় স্থানে আছে। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে অনেক ভালো খেলতে হবে। আমাদের জন্য এটা অনেক কঠিন সিরিজ।’
কঠিন, তবে সিরিজ জয়টা একেবারে অসম্ভব নয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ফর্মই এমন স্বপ্ন দেখার সাহস বাড়িয়েই দিচ্ছে। সর্বশেষ ১৫ ওয়ানডের ১২টিতেই জয়। এই সময়ে ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে ‘বাংলাওয়াশ’ করার স্বাদও পাওয়া গেছে দুবার। ভারত সিরিজ দুরন্ত এক জয়ে শুরু করার পর বড় কিছু চাওয়াই তাই স্বাভাবিক মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের জন্য। পরশুর টিম মিটিংয়ে খেলোয়াড়দের কানে কোচ এই মন্ত্রটাই পড়ে দিয়েছেন বলে খবর। ভারতের বিপক্ষে গর্জে ওঠার সামর্থ্য প্রথম ওয়ানডেতে প্রমাণিত। সেই গর্জনটাকে এবার আরও বড় হুংকারে পরিণত করার পালা। সে জন্য প্রথম ওয়ানডের দলটাই রেখে দেওয়া হচ্ছে আজও। যার অর্থ, আজও চার পেসার নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে এর আগেও। সর্বশেষ সিরিজেই যেমন হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তানকে। নিউজিল্যান্ডকেও হোয়াইটওয়াশ করেছে দু-দুবার। তারপরও ভারতের বিপক্ষে জেতা গেলে সেটার আনন্দ হবে আগের যেকোনো সিরিজ জয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। ক্রিকেটে ভারত নামটাই এমন যে, তাদের বিপক্ষে যেকোনো সাফল্য বাংলাদেশের মতো দলকে নিয়ে যায় নতুন উচ্চতায়। এবারের সিরিজের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কথায় তাই ফুটে উঠেছিল একটাই লক্ষ্য—ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলতে হবে। কারণ ভারতের বিপক্ষে ভালো খেললে তা ক্রিকেট বিশ্বের আলাদা মনোযোগ পায়।
কিন্তু সদ্য সাতে উত্তীর্ণ বাংলাদেশ দল এ রকম জয়ের সব পরিকল্পনা করে ফেলবে আর র্যা ঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল চুপচাপ বসে তা দেখবে, সেটা তো আর হয় না। কাল বরং রোহিত শর্মার কথায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞাই খুঁজে পাওয়া গেল। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো আমরা জানি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাই অন্য এক ভারতকেই দেখবে সবাই।’ সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে মাঠে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ উইকেট দেখলেন রোহিত। কথা বললেন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে। রোহিতের কাছে আজকের ম্যাচের উইকেট নাকি অনেকটা প্রথম ম্যাচের উইকেটের মতোই মনে হয়েছে। অবশ্য উপমহাদেশের উইকেটগুলো সাধারণত একই রকম হয় বলে এ নিয়ে বেশি চিন্তা নেই তাঁর। ভারতীয় ওপেনারের চিন্তা বরং অন্য ‘উইকেট’ নিয়ে, ‘শুরুতে উইকেট নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে আমরা এটা পারিনি। আমাদের বোলাররা কেবল রানই দিয়ে গেছে। পরের ম্যাচে শুরুতেই উইকেট নিতে হবে।’
মুস্তাফিজুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রশ্নবিদ্ধ মহেন্দ্র সিং ধোনির খেলোয়াড়ি চেতনা। শুধু ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা দিয়েই রেহাই মিলছে না। খোদ ভারতীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। ভারত অধিনায়ককে যখন মাঠ আর মাঠের বাইরের এত চাপ সামলাতে হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ভাসছেন প্রশংসার বসন্ত হাওয়ায়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের চেহারা যে এতটা বদলে গেল, পরশু তার প্রায় পুরো কৃতিত্বই অধিনায়ক মাশরাফিকে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। কাল কোচ হাথুরুসিংহেও বললেন, ‘দলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ও। সবার খেয়াল রাখে, ড্রেসিংরুমে তার কথাকে সবাই সম্মান দেখায়। আর মাঠে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপার তো আছেই।’
ওয়ানডের বাংলাদেশ দল তাই এখন ‘মাশরাফির বাংলাদেশ’। আজ মাশরাফির হাত দিয়েই খুলে যাক ওপরে ওঠার আরেকটি সিঁড়ির দরজা।

Friday, June 19, 2015

মুস্তাফিজ নামের বিস্ময় by তারেক মাহমুদ

ভারতের ক্রিকেটার অশ্বীনকে আউট করার পর
এভাবেই আনন্দপ্রকাশ করেন মুস্তাফিজুর।
ছবিটি গতকাল মিরপুরের শের ই বাংলা
স্টেডিয়াম থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
সেজো ভাই মোখলেছুর রহমানের কথা খুব মনে পড়ছিল। শীতের ভোরে এই ভাই-ই তো মোটরসাইকেলে চড়িয়ে বাড়ি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের সাতক্ষীরা শহরে দিয়ে আসতেন তাঁকে অনুশীলনের জন্য! ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট, সে সুবাদে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও উঠে গেল হাতে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এমন আলো ঝলমলে রাতে সেই ভাইকে কীভাবে ভুলে থাকেন ১৯ বছর বয়সী মুস্তাফিজুর রহমান!
মুস্তাফিজের মনে পড়ল পরিবারের অন্য সদস্যদের কথাও, যাদের অকৃত্রিম সহযোগিতায় তিনি আজ ক্রিকেটার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম নবীন তারকা। মনে পড়ল বরেয়া মিলনি স্কুল আর সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের কথা, যেখানে একসময় ফাইভ স্টার বলে ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরু তাঁর ক্রিকেটার জীবনের। অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেটারদের ক্যাম্পে অংশ নিয়ে প্রথম ঢাকার ক্রিকেট দেখা সেই মুস্তাফিজ বাংলাদেশ দলের আরেকটি ভারত-বধের নায়ক। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের কেন্দ্রীয় চরিত্রও।
কাছের মানুষদের কাছে মুস্তাফিজ মোটেও লাজুক ছেলে নন। আবার খুব যে হইচই করা ছেলে, তাও না। সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ আর দশটা ছেলের মতোই তাঁর জীবন, চরিত্র। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের মুস্তাফিজকে দেখে কে বলবে সে কথা? যে রাতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অমন নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়লেন, সেই রাতেই কত নিচু তাঁর স্বর! মাইক্রোফোনের সামনে বসেও শ্রোতাদের শোনাতে পারছিলেন না সব কথা। কখনো বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম, কখনোবা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা মাইক্রোফোন টেনে উত্তর দিয়ে দিচ্ছিলেন তাঁর হয়ে।
পাঁচ উইকেট পাওয়া নিয়ে মুস্তাফিজের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছি, তাও ভারতের বিপক্ষে...সে জন্য খুব খুশি লাগছে।’ তা এর মধ্যে কোন উইকেটটা পেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? এবার উত্তরটা আরও সংক্ষিপ্ত, ‘সব উইকেট পেয়েই ভালো লেগেছে।’ এক ম্যাচেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া তাঁর স্টক বল ‘কাটার’ নিয়েও অনেক কৌতূহল দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের। মুস্তাফিজ সেটা মেটালেন এভাবে, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকা অবস্থায়, এরপর জাতীয় দলের অনুশীলনেও এটা অনেক প্র্যাকটিস করেছি।’ এই প্রশ্নে বাড়তি একটা গল্পও শোনালেন তিনি, ‘প্র্যাকটিসে বিজয় (এনামুল) ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন এই বলটা করে দেখতে। করার পর দেখলাম উনি নিজেও এটা খেলতে পারছেন না।’
প্রথম ওয়ানডের একাদশে চার পেসার নেওয়ার মতোই বিস্ময় হয়ে এসেছিল নতুন বলে মুস্তাফিজের প্রথম ওভার করা। রোহিত শর্মা-শিখর ধাওয়ানদের বিপক্ষে এমন গুরুদায়িত্ব পেয়ে ভীষণই রোমাঞ্চিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সে জন্য ধন্যবাদ দিলেন অধিনায়ক মাশরাফিকেও। গল্পের বাকিটা বললেন মাশরাফি, ‘আমি অনেক আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম ওকে দিয়ে প্রথম ওভার করাব। কারণ ও একদমই নতুন বোলার, তার কাটারটা খেলা খুব কঠিন। স্পিনারদের বলের চেয়েও বেশি টার্ন করে ওটা। এ ধরনের উইকেটে এই বল খেলা যায় না।’
বাঁহাতি এই পেসারের দলে আসার পেছনেও কাজ করেছে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্য। ‘আরাফাত সানির সাম্প্রতিক যা পারফরম্যান্স, ওকে আসলে বাদ দেওয়া যায় না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল মুস্তাফিজ এখানে সফল হবেই। ওকে বাদ দিলে আমাদের কী ধরনের ক্ষতি হবে, দল নির্বাচনের সময় আমরা বরং সে আলোচনাই বেশি করেছি’—বলছিলেন মাশরাফি। ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও পঞ্চমুখ হয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আবিষ্কৃত এই তরুণ পেসারের, ‘ওর বোলিং বৈচিত্র্য অনেক ভালো। সেটা কাজে লাগিয়েই সফল হয়েছে সে।’
আর তাতেই বিধ্বস্ত পরাক্রমশালী ভারতীয় ব্যাটিং! জেগে উঠছে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্নও। বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য একটা ম্যাচ জিতেই আকাশে উড়তে চাইছেন না। এগোতে চান ম্যাচ ধরে ধরেই। তার মানে আপাতত তাদের চোখ ২১ জুনের দ্বিতীয় ওয়ানডের ওপর। কিন্তু ওটা জিতলেই যে জেতা হয়ে যায় সিরিজও! প্রথম ম্যাচে জেতার পর সিরিজে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্যটার কথা কি আর বলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

Saturday, November 22, 2014

সাকিবের ম্যাচে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে by তারেক মাহমুদ

(দলের সাময়িক বিপর্যয়ে সাকিব উইকেটে আসতেই আন্দোলিত হয়েছিল গ্যালারি। সেই সাকিবই সেঞ্চুরি করে উদ্যাপন তরঙ্গ ছড়িয়ে দিলেন দর্শকমনে। কাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে l ছবিঃ শামসুল হক) এলটন চিগুম্বুরার বলটা কাভারে ঠেলে দিয়েই ১ রান। পূর্ণ হয়ে গেল ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসানের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। কিন্তু অন্য প্রান্তে থাকা মুশফিকুর রহিম অর্ধেক ক্রিজ দৌড়েই যেভাবে ব্যাট উঁচিয়ে লাফ দিলেন, মনে হলো সেঞ্চুরিটা বুঝি তিনিই করেছেন!
বর্তমান বাংলাদেশ দলেরই প্রতীকী ছবি যেন দৃশ্যটা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই দল হয়ে ওঠার লক্ষণটা পরিষ্কার হয়ে ফুটছিল। কাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেটি স্পষ্ট হলো আরও। দল হয়ে ওঠার, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মানসিকতা পুরোপুরিই ফিরে এসেছে সবার মধ্যে। সাকিবের সেঞ্চুরিতে আগেই উৎসব শুরু করে মুশফিক কি সেটাই জানিয়ে দিলেন না?
তো মাথা উঁচু করে জেগে ওঠা দলটার কাছে কাল জিম্বাবুয়ের হার শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানে। ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর ফতুল্লায় নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর গত এক বছরে ওয়ানডেতে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। কালকের জয়টিই এ বছরের প্রথম, যা আসলে সাকিবময়। সেঞ্চুরি তো করেছেনই, মুশফিকের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৪৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশের হয়ে গড়েছেন নতুন রেকর্ড। এই জুটিতে ১১৯ রানের আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, রকিবুল হাসানের সঙ্গে সেই রেকর্ডেও ছিলেন সাকিব। ওই ম্যাচে ৮ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও কাল তিনি বল হাতেও সফল। এক বলের ব্যবধানে ওপেনার সিকান্দার রাজা ও ভুসি সিবান্দার উইকেট দুটি তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে প্রথম ধাক্কাটা তো দিয়েছিলেন সাকিবই। এরপর আরও দুটি উইকেট নিয়ে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার গৌরবে ভাসার, এর আগে গৌরব সিক্ত হয়েছেন মাত্র দুজন। শেষ দিকে চরম আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েও সেই মাইলফলকটা ছুঁতে পারেননি সাকিব। তবে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি ও চার উইকেট নেওয়া ক্রিকেটারদের ক্লাবের ১২তম সদস্য হিসেবে নাম তুলে দিতে পেরেছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।
এই সিরিজে শিশিরকে ধরা হচ্ছে বড় একটা প্রভাবক। ম্যাচ জয়ের জন্য টস জেতাটা তাই গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছে। যদিও কালকের ম্যাচে এর প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টসে হারার পরও। সত্যি বলতে কী, পরে বল করলেও বাংলাদেশি বোলারদের ওপর শিশিরের প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়নি। নিয়মিত বিরতিতে জিম্বাবুয়ের উইকেট নেওয়া, বড় জুটি হতে না দেওয়া—সবকিছুতেই সফল তারা। তবে একেবারেই যে সমস্যা হয়নি, তাও না। মাহমুদউল্লাহর বলে ব্রেন্ডন টেলরের ক্যাচটা যে ডিপ ফাইন লেগে আরাফাত সানির হাতে পড়েও বেরিয়ে গেল, সেটার পেছনে শিশিরভেজা বল একটা কারণ হতে পারে। ৫১ রানে জীবন ফিরে পেলেও টেলর অবশ্য সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি। আর ৩ রান করেই কট বিহাইন্ড হয়েছেন মাশরাফির বলে।
সাকিব-মুশফিক জুটির সৌজন্যে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৮১ রান পেলেও শুরুর ছবিটা ইঙ্গিত দিয়েছিল খারাপ কিছুরই। ৫ ওভার পর পর স্কোরগুলোয় রানের পাশে যোগ হচ্ছিল একটি করে উইকেট—৫ ওভার শেষে ৮/১, ১০ ওভার শেষে ২৭/২, ১৫ ওভার শেষে ৪৪/৩, ২০ ওভার শেষে ৭০/৪। কিন্তু ৭০ রানে ৪ উইকেট পড়ার পরই সাকিব-মুশফিকই দাঁড়িয়ে যান দেয়াল হয়ে।
৫৭ বলে ফিফটির পর সাকিবের সেঞ্চুরি আসে ৯৫ বলে, যাতে বাউন্ডারি ১০টি। ব্যাটিংয়ের মতোই দারুণ ছিল সাকিবের সেঞ্চুরি উদ্যাপন। খুলনা টেস্টে সেঞ্চুরি করে স্ত্রীকে বাতাসে হৃদয় এঁকে দেখিয়েছিলেন। কাল লক্ষ্য ছিল গ্যালারির দর্শক। মুশফিকের সঙ্গে আলিঙ্গনের পর ব্যাট-হেলমেট মাটিতে রেখে নাচের ভঙ্গিতে দর্শকদের উদ্দেশে হাত দিয়ে ব্যাটিং শ্যাডো করলেন। এরপর ড্রেসিংরুমে থাকা সতীর্থদের উদ্দেশেও ওঠালেন ব্যাট আর হেলমেট। অবশ্য সেঞ্চুরির পর আর ১ রান যোগ করেই কামুনগোজির বলে লং অনে পানিয়াঙ্গারার ক্যাচ হয়ে ফিরে গেছেন সাকিব। গ্যালারিতে তখনো ‘সাকিব, সাকিব’ ধ্বনি। বাংলাদেশের রান ৪৪ ওভারেই ২১৮-তে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব যে তাঁরই!
মুশফিকের অবদানও কম নয়। ৭২ বলে ৬৫ রান করেছেন ২ চার আর স্লগ সুইপে সিকান্দার রাজা ও কামুনগোজিকে মারা ২ ছক্কায়। তবে এই ইনিংসটার জন্য মুশফিক ‘কৃতিত্ব’ দিতে পারেন জিম্বাবুয়ের বোলার-ফিল্ডারদের। ব্যক্তিগত ১৬ আর ৬০ রানের সময় তাঁকে জীবন দিয়েছে এলটন চিগুম্বুরা ও ব্রেন্ডন টেলরের পিচ্ছিল হাত। ৫৬ রানে থাকতে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ হয়েছিলেন সলোমন মায়ারের। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লে তাঁকে বাঁচিয়ে দেয় এবারও। চিগুম্বুরার ওই বলটা ছিল ‘নো’।
সাকিব-মুশফিক ছিলেন না, তারপরও শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশ করেছে ৫২ রান। এর প্রায় পুরো কৃতিত্ব এ ম্যাচেই অভিষিক্ত সাব্বির রহমানের। ৭ নম্বরে নেমে মাত্র ২৫ বলে করেছেন ৪৪ রান, যাতে তিন বাউন্ডারির সঙ্গে চাতারা ও পানিয়াঙ্গারার বলে মেরেছেন তিন ছক্কা। যার দুটিই পানিয়াঙ্গারার করা শেষ ওভারের শেষ দুই বলে। শেষ ওভার থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৮ রান, দুই ছক্কা আর এক চারে যার ১৭-ই নিয়েছেন সাব্বির।
শুরুর বিপর্যয় সামলে পথ দেখালেন অভিজ্ঞ সাকিব-মুশফিক। ব্যাট হাতে তুলির শেষ আঁচড়টা দিলেন নবাগত সাব্বির। বিষাদময় একটি বছর কাটিয়ে আবারও দলীয় সংহতির জয়গান গাইতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮১/৭
জিম্বাবুয়ে: ৪২.১ ওভারে ১৯৪
ফল: বাংলাদেশ ৮৭ রানে জয়ী

Friday, November 7, 2014

শেষ দিনের নাটকের অপেক্ষা by তারেক মাহমুদ

তিনটি কঠিন শর্ত দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে দুটি শর্ত মোটামুটি ভালোভাবেই পূরণ করা গেছে। বাকি শুধু ইনিংস ঘোষণা করে জিম্বাবুয়ের ১০ উইকেট নেওয়া। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এই কঠিন কাজটাও আজ করে ফেলতে চায় বাংলাদেশ দল। পরশু দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছিলেন, জিততে হলে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসটাকে অল্প রানে শেষ করে দিতে হবে এবং পারলে সেটা চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো একটা সংগ্রহ জমা করতে হবে স্কোরবোর্ডে। সব শেষে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করতে হবে দ্বিতীয় ইনিংসেও। সাকিব বলেছেন বলেই নয়, খুলনা টেস্টে জিম্বাবুয়েকে হারাতে হলে আসলে এর বিকল্প কোনো সমীকরণ নেই বাংলাদেশ দলের সামনে। কাল চতুর্থ দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত সে সমীকরণ মোটামুটি ভালোভাবেই মেলানো গেছে। প্রথম ঘণ্টায় না হলেও লাঞ্চের আগেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। আগের দিনের ৫ উইকেটে করা ৩৩১ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৩৭ রান যোগ করতে পেরেছে তারা। লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২০১। অর্থাৎ লিডটা এর মধ্যেই ২৬৬ রানের। আজ আরও ৫০-৬০ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ের সামনে ৩১০-৩২০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের। এর পরই সামনে আসবে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করার শেষ চ্যালেঞ্জটা। লক্ষ্য যখন জয়, রোমাঞ্চে মোড়া শেষ চ্যালেঞ্জটাও তো জিততে হবে মুশফিকের দলকে! তার আগে অবশ্য লিডটাকে দ্রুত বাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে নিরাপদ লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও আছে। সে চ্যালেঞ্জে কতটা সফল হতে পারবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কাল দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন থাকা মাহমুদউল্লাহ-শুভাগত হোম চৌধুরীর ষষ্ঠ উইকেট জুটির ওপর। ১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর তাঁরা অবিচ্ছিন্ন ছিলেন ৫৬ রানে।
জিম্বাবুয়ের সামনে দ্রুত বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে গিয়েই কিনা বাংলাদেশ উইকেটও হারাতে লাগল দ্রুত। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে মন্থরতম সেঞ্চুরি করা তামিম শুরুতেই চড়াও হতে চেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের ওপর। ২৫ বলে ২০ রানের ইনিংসেই চারটি চার। কিন্তু দলের ২৮ রানের সময় তিনাশে পানিয়াঙ্গারার স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন তাঁরই হাতে। তামিমের বিদায়ের পর ১১৭ রানের মধ্যে নেই আরও চার উইকেট এবং চারটাই জিম্বাবুয়ের অনিয়মিত অফ স্পিনার ম্যালকম ওয়ালারের দখলে। একবার তো সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকেরও। ওপেনার শামসুর রহমান ছাড়াও এই চার উইকেটের মধ্যে আছে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান (৬), অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (০) এবং কালই বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে দ্রুততম এক হাজার রান করা মুমিনুলের (৫৪) উইকেট। এর মধ্যে সাকিব এলবিডব্লুটা এড়াতে পারেননি রিভিউ চেয়েও। তবে টেলিভিশন রিপ্লে যেমনটা দেখিয়েছে, তাতে মনে হলো আম্পায়ার আউটটা না দিলেও পারতেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সফল না হলেও শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কালও ছিল ‘সাকিব সাকিব’ রব। থাকবেই তো, এবার যে বল হাতেও নায়ক তিনি! প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর কাল ৮০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পেলেন সাকিব। এর আগে ২০১১-এর ডিসেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন সেঞ্চুরি (১৪৪), বল হাতে নিয়েছিলেন ৮২ রানে ৬ উইকেট।
জিম্বাবুয়েকে লাঞ্চের আগেই অলআউট করে দেওয়ায় সাকিবেরই বড় ভূমিকা। আগের দিন ১৫৪ রান করে অপরাজিত থাকা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে বোল্ড করে দিয়েছেন দিনের পঞ্চম ওভারেই। জিম্বাবুয়ে ইনিংসটা খেই হারিয়ে ফেলে এর পরই। কালই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করা রেজিস চাকাভাকে অবশ্য এলবিডব্লু করেছেন তিন উইকেট নেওয়া আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। কৃতিত্ব দিতে হবে টেন্ডাই চাতারা আর নাতশাই মুশাঙ্গুয়েকে একই ওভারে ড্রেসিংরুমে পাঠানো পেসার রুবেল হোসেনকেও। এর মধ্যে নিজের বলে চাতারার ক্যাচটাও নিয়েছেন তিনি দুর্দান্ত।
বোলারদের সাফল্যে একটু আড়ালেই পড়ে যাচ্ছে ফিল্ডিং ব্যর্থতাগুলো। কাল এক ওয়ালারের ক্যাচই পড়েছে দুবার। রানের খাতা খোলার আগেই সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন স্কয়ার লেগে। বেঁচে যান শাহাদাতের ‘পিচ্ছিল’ হাতের সৌজন্যে। ১ রানের সময় রুবেলের বলে ওয়ালার ক্যাচ দেন আবারও। এবার গালিতে, ক্যাচ নিতে ব্যর্থ ফিল্ডারের নাম শুভাগত।
ফিল্ডিংয়ের যা অবস্থা, দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে কালও সাকিব আসলে হয়তো খুলনা টেস্ট জয়ের জন্য নতুন একটা শর্তই জুড়ে দিতেন,‘জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সময় আমাদের ফিল্ডিংটাও হতে হবে খুব ভালো।’ প্রথম ইনিংসের অভিজ্ঞতাও সেটাই বলে। যাদের সেঞ্চুরির সৌজন্যে বাংলাদেশের লিডটা মাত্র ৬৫ রানে নামিয়ে আনল জিম্বাবুয়ে, সেই মাসাকাদজা আর চাকাভাকে যে বারবারই নতুন জীবন দিয়েছেন ফিল্ডাররা!

চতুর্থ দিন শেষে
বাংলাদেশ: ৪৩৩ ও ২০১/৫
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৩৬৮

Monday, October 27, 2014

মিরপুরে অদ্ভুত সব রানআউট by তারেক মাহমুদ

তিনটি খামখেয়ালি রানআউট। তিনটি সুন্দর সম্ভাবনার অপমৃত্যু। একটা ইনিংসকে শেষ করে দিতে এরপর আর কী লাগে! ২২৬ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তো মনে হচ্ছিল ২৪০ করেও লিড পেয়ে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৪ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশই। কিন্তু সেটা যে রকম ক্রিকেট খেলে, তা মানা যায় না কোনোভাবেই।
রানআউট ১: টেন্ডাই চাতারার বলটা কাভারে ঠেলে দিয়েই রানের জন্য ছুটলেন মুমিনুল হক। রানটা হয়ে যাওয়ারই কথা। কিন্তু মুমিনুল ক্রিজের কাছে পৌঁছেও কী কারণে যেন ব্যাট মাটিতে ছোঁয়ালেন না। থার্ড আম্পায়ারের সাহায্য চাওয়ার পর দেখা গেল, তাঁর ব্যাট ক্রিজের ভেতর পৌঁছে গেলেও মাটিতে লাগেনি। সিকান্দার রাজার সরাসরি থ্রো ততক্ষণে ভেঙে দিয়েছে স্টাম্প। শেষ মুহূর্তে তাঁকে আলসেমিতে পেয়ে বসেছিল কি না সেটা মুমিনুলই ভালো বলতে পারবেন। বড় ইনিংসের আশা জাগিয়েও থেমে গেলেন ৫৩-তেই।

>>খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনিংসটা খুব বড় করতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। তবু অধিনায়কের ৬৪-ই হয়ে রইল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান l ছবি: শামসুল হক
রানআউট ২: এবারও বোলার চাতারা, ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। মিড অফে বল ঠেলে দিয়ে রানের কল করেও পরে না করে দিয়েছেন নন-স্ট্রাইকে থাকা সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু ততক্ষণে সাকিব বেরিয়ে এসেছেন ক্রিজ থেকে। মাহমুদউল্লাহর ‘নো’ শুনে ফিরে গেলেও হঠাৎ যেন থমকে গেলেন তিনি। পরে আবার দৌড় দিলেও ফিল্ডারের করা থ্রোটাকে চাতারা ডাইভ দিয়ে স্টাম্পে লাগানো পর্যন্তও ক্রিজে পৌঁছাতে পারলেন না সাকিব। ভুল ‘কলে’র দায় ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু হঠাৎ থমকে দাঁড়ানোর কী ব্যাখ্যা দেবেন সাকিব?
রানআউট ৩: ২২৬ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জিম্বাবুয়ের ২৪০-এর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা তখন বাংলাদেশ শিবিরে। শাহাদাত হোসেনের খামখেয়ালিতে হওয়া আরেকটা রানআউট শঙ্কাটা বাড়িয়ে দিল। তিনাশে পানিয়াঙ্গারার বলটা শর্ট লেগে পাঠিয়ে রানের জন্য ক্রিজ ছাড়লেও ফিল্ডার ক্রেইগ আরভিন বলটা ধরে ফেলেন, আবার ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করেন শাহাদাত। যে সময়টা পেয়েছিলেন তাতে খুব ভালোভাবেই ক্রিজে পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু একটু এগিয়ে ক্রিজের বাইরের দাগে ব্যাট ছুঁইয়েই দায়িত্ব শেষ করলেন তিনি। যেন জানেনই না রানআউটের নিয়মে দাগের ওপর ব্যাট থাকা মানে আউট। ব্যাট থাকতে হবে দাগের ভেতরে।
সাকিব করেছেন ৫, শাহাদাত কোনো রান না করেই আউট। মুমিনুলের মতো তাঁদের আউটে তাই সুন্দর কোনো সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটেনি। তবে উইকেটে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে না পারার দায় মুমিনুলের সঙ্গে নিতে হবে মাহমুদউল্লাহ আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকেও।
পঞ্চম উইকেটে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়লেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক। কিন্তু সেটা ৬৪-তেই শেষ হয়ে যাবে কেন? মাঝে ছন্দ হারিয়ে ফেলা মাহমুদউল্লাহ নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেন গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই। কিন্তু ভালো ভিত গড়েও পারছেন না ইনিংসগুলোকে বড় করতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পর পর দুই টেস্টের দুই ইনিংসে ফিফটির পর কালও ৬৩-তেই থেমে গেল ইনিংস। সিকান্দার রাজাকে সুইপ করতে গিয়ে প্যাডে বল লাগালেন। জোরালো আপিলের পরও আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ চাইল জিম্বাবুয়ে। মাহমুদউল্লাহর এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মাটিতে টেস্টে প্রথম সাফল্য পেল রিভিউ পদ্ধতি।
৬৪ রানের ইনিংসে অধিনায়ক মুশফিকও সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বড় কিছুর। কিন্তু ওই সম্ভাবনা পর্যন্তই। পানিয়াঙ্গারার অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাওয়া শর্ট বলটা ছেড়ে দিলেই পারতেন। অথচ মুশফিক সেটাকেই টেনে এনে পুল করতে গেলেন! স্কয়ার লেগে ফিল্ডার আরভিনের ক্যাচটা নিতে কোনো সমস্যাই হলো না। পানিয়াঙ্গারার ৫ উইকেটের তৃতীয় শিকার মুশফিক, পরে তাইজুল ও আল আমিনকে আউট করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস মুড়ে দিয়েছেন তিনিই।
জিম্বাবুয়ের ২৪০ রানে অলআউট হওয়ার একটা ব্যাখ্যা তবু খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল পরশু। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট স্বভাববিরুদ্ধ আচরণ করছে, উঁচু সিমের এসজি টেস্ট বলও হয়তো একটা কারণ ছিল। কিন্তু কাল তো বল সেভাবে ওঠেনি! পরশু সন্ধ্যায় বৃষ্টি হয়েছে, কালও দিনভর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কিন্তু কন্ডিশনের কোনো সুবিধা জিম্বাবুয়ের বোলাররা আদায় করতে পেরেছেন বলেও মনে হয়নি। বাংলাদেশ দলের বেশির ভাগ আউটই ছিল অতিথি দলকে দেওয়া ‘উপহার’। তাতে ৫ উইকেটে ১৮৯ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ ২৫৪ রানে অলআউট দিন শেষ হওয়ার আগেই।
শেষ বিকেলে ২ ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৫ রান জিম্বাবুয়ের। দ্বিতীয় দিনেই টেস্টের তৃতীয় ইনিংস শুরু হয়ে যাওয়ায় একটা ব্যাপার পরিষ্কার, বৃষ্টি বাধা না হলে ফলাফল দেখবে ঢাকা টেস্ট। তবে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং-ব্যর্থতার কারণে এখন আর আশা নিয়ে বলা যাচ্ছে না, সেই ফলটা বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে হাসবে।
দ্বিতীয় দিন শেষে
জিম্বাবুয়ে: ২৪০ ও ৫/০
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৫৪

Saturday, October 4, 2014

তবু ফিরতে হচ্ছে আফসোস নিয়ে by তারেক মাহমুদ

সবখানে বিদায়ের সুর। করুণ রাগিণী। আজ সমাপনী অনুষ্ঠান দিয়ে পর্দা নামবে ১৭তম ইনচন এশিয়ান গেমসের। আর এর মধ্যেই এল ‘গেচ্ছন জন্নাল’। স্থানীয় ভাষায় গেচ্ছন জন্নালই বলা হয় কোরিয়ার জন্মদিনকে। কাল ছিল সেই জন্মদিন, যে দিনে পাঁচ হাজার বছর বয়স পূর্ণ করল কোরিয়ানরা। এই জন্মদিনের সঙ্গে আবার স্বাধীনতার ব্যাপার-স্যাপার মেলাবেন না। এই দিনে কোরিয়ার মানুষ জন্মদিনটা পালন করে প্রাচীন সংস্কৃতির একটা রীতি মেনে।
গেচ্ছন জন্নালের সৃষ্টি নিয়ে বিরাট গল্প আছে। সেদিকে আপাতত না গিয়ে জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের ছবিটাই দেখুন। জন্মদিন উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাল ছিল সরকারি ছুটি এবং তার প্রভাব পড়ল গেমসেও। ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষ সপরিবারে এলেন ইনচনের মূল স্টেডিয়াম এলাকায়। উৎসবের আবহ গায়ে মেখে ঘুরে বেড়ালেন স্টেডিয়াম চত্বরে বসা ফুড ফেয়ার আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে। তাদের উৎসবের সঙ্গে একটা উৎসব মিলে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেরও। কোরিয়ানদের গেচ্ছন জন্নালের দিনেই যে তৃতীয় স্থাননির্ধারণী ম্যাচে হংকংকে ২৭ রানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশ! এবারের গেমসে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় পদক, যার দুটিই এসেছে ক্রিকেট থেকে। অন্যটি পেয়েছে মহিলা কাবাডি দল।

বলতে পারেন সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়ে আবার কিসের উৎসব! আসলে বাংলাদেশ দল যে সোনা জয়ের লড়াইটা লড়তে পারল না, সেটা তো নিতান্তই দুর্ভাগ্যের কারণে। টস নামক নিয়তিই ছিটকে দিয়েছে তাদের সেই দৌড় থেকে। তার চেয়ে বরং হংকংয়ের বিপক্ষে যে বাংলাদেশ দল বাংলাদেশ দলের মতোই খেলে ব্রোঞ্জ জিতল, ব্যর্থতার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে একটু আশার আলো দেখাল, সেটাই বা কম কী! ব্যর্থতার ক্লান্তিময় পথ পেরিয়ে হয়তো এখান থেকেই আবার শুরু হবে নতুন পথচলা।
এশিয়ান গেমসে কাল প্রথমবারের মতো টসে জিতলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগে ব্যাটিং নিয়ে হংকংয়ের সামনে লক্ষ্য দিলেন ১৬৩ রানের। জবাবে হংকং একেবারে খারাপ করেনি। ৭ উইকেটে ১৩৫ রান তাদের জন্য ভালোই সান্ত্বনা হতে পারে। অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটা যেহেতু হংকংই জিতেছিল, থাকতে পারে আরেকটি অঘটন ঘটাতে না পারার মৃদু আফসোসও।
কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ১১ ওভার ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ, সাকিব আল হাসান আউট হয়ে গিয়েছিলেন তাতেও। বহিষ্কারাদেশ থেকে খেলায় ফেরা এই অলরাউন্ডার অপেক্ষায় ছিলেন ফর্মে ফেরার। কাল ব্যাট হাতে দুই ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৬ রান আর বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে সাকিব যেন ফিরে আসারই ঘোষণা দিলেন। দুই ছক্কা আর এক বাউন্ডারিতে ২১ বলে ৩৫ রান করে মাহমুদউল্লাহও ধরে রেখেছেন সদ্য ফিরে পাওয়া ফর্মটা।
হংকংয়ের ব্যাটিং দেখে কখনোই মনে হয়নি তারা বাংলাদেশের ১৬২ রান তাড়া করে জেতার জন্য খেলছে। বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের খেলতে কষ্টই হচ্ছিল তাদের। সাকিবের ২ উইকেটের পাশে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন আরাফাত সানিও।
তা সোনা ধরে রাখতে এসে ব্রোঞ্জ জিতে কেমন লাগল খেলোয়াড়দের? ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা মাহমুদউল্লাহ জানালেন, ‘মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। ভালো লাগছে কারণ আজ (গতকাল) আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। পদক পেয়েছি। আবার আফসোসও আছে, কারণ আমরা সোনা জয়ের জন্য এসেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। টস তো যেকোনো দিকেই যেতে পারে। সে জন্য আফসোসটাই বেশি।’ তবে মাহমুদউল্লাহ এর মধ্যেও খুঁজে নিতে চান ভালো কিছু, ‘আজ (গতকাল) ভালো ক্রিকেট খেলতে পারাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। সবাই সেটা করতে পারায় আমরা খুশি।’
কালই হওয়া ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৬৮ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রাপ্তির খাতায় একটা ব্রোঞ্জ পদকের সঙ্গে থাকবে গেমসে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও। দলের কারও কারও সে অভিজ্ঞতা আগেই হয়েছে, যদিও মাহমুদউল্লাহসহ বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের জন্য তা নতুন। মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, ‘শামসুর-সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন এর আগেও এশিয়ান গেমসে খেলেছে। তবে আমার এবং মাশরাফি, সাকিব, তামিমসহ অনেকেরই এটা প্রথম অভিজ্ঞতা। গেমস নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। এবার আমারও অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতা হলো। সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে।’
গত গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে খেলা সাব্বির অবশ্য ইনচন এশিয়ান গেমসের তুলনায় এগিয়ে রাখলেন প্রথম অভিজ্ঞতাকেই, ‘চীনের এশিয়ান গেমসটাই ভালো হয়েছিল। সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি ছিল সেবার।’
ইনচনের চেয়ে গুয়াংজুকে এগিয়ে রাখার আরেকটা কারণও আছে। গুয়াংজু থেকে বাংলাদেশ দল দেশে ফিরেছিল গলায় সোনার পদক পরে। অথচ গতবারের তুলনায় শক্তিশালী দল নিয়ে এসেও ভাগ্যের ফেরে আজ বাংলাদেশ দল দেশের বিমানে উঠবে ব্রোঞ্জ নিয়ে। সোনা জয়ের সুখস্মৃতি আছে যাঁদের, ব্রোঞ্জ গলায় ঝোলাতে নিশ্চয়ই তাঁদের খারাপ লাগবে?
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬২/৬ (তামিম ২২, এনামুল ১১, শামসুর ২৬, সাকিব ৪৬, সাব্বির ১১, মাহমুদউল্লাহ ৩৫*, শুভাগত ১, মাশরাফি ২*; আদিল ০/২০, ইরফান ০/৩৯, নাদিম ৩/৩৬, নিজাকাত ১/৩০, আইজাজ ১/২৫, ওয়াকাস ০/১২)। হংকং: ২০ ওভারে ১৩৫/৭ (ইরফান ৩১, ওয়াকাস ০, অ্যাটকিনসন ৭, নিজাকাত ০, চ্যাপম্যান ৩৮, শাখাওয়াত ১১, আইজাজ ২৬*, ল্যামস্যাম ৩, নাদিম ১০*; মাশরাফি ০/২৬, আরাফাত ৩/২২, রুবেল ১/৩৫, সাকিব ২/২৩, তাসকিন ০/১১, শুভাগত ০/১৩)। ফল: বাংলাদেশ ২৭ রানে জয়ী।

Saturday, June 1, 2013

বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্ধকার জগৎ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না বিসিবি by তারেক মাহমুদ ।

তদন্তাধীন বিষয়ে কথা বলতে হলে সাধারণত ‘এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না’ জাতীয় মন্তব্য করার নিয়ম। কাল সন্ধ্যায় দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের লিখিত বিবৃতির সারমর্মও তা-ই।

Monday, February 4, 2013

চিত্রনাট্যের ম্যাচ বলেই মাশরাফি বাদ! by তারেক মাহমুদ

ডাগ-আউটে বসে কী নিয়ে যেন কথা বলছিলেন সাকিব আল হাসান আর মাশরাফি বিন মুর্তজা। টেলিভিশনের পর্দায় দৃশ্যটা ভেসে উঠতেই ধারাভাষ্যকার আফসোস করে উঠলেন। আহা রে, চোটে পড়ে খেলতে পারছেন না ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের সবচেয়ে বড় দুই ভরসা!

Wednesday, January 23, 2013

খুলনাতেও সেই দর্শক-খরা by তারেক মাহমুদ

টিকিটের দাম কমিয়েও লাভ হচ্ছে না। দর্শক টানতে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ব্যর্থ দ্বিতীয় বিপিএল। ব্যর্থতা আরও প্রকটভাবে ধরা পড়ল খুলনা পর্বে। ঢাকার বাইরে ক্রিকেট হলেই দর্শক উপচে পড়ে।

Wednesday, December 26, 2012

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর-বিতর্ক- প্রতিশ্রুতি বনাম নিরাপত্তা by তারেক মাহমুদ

প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো শহরে তালেবানের বোমা হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা, স্কুলবাসে উঠে মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো ছোট্ট কিশোরীকে গুলি করা, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রকেট হামলা, আত্মঘাতী হামলা করে মন্ত্রীকে হত্যা—দুনিয়ার সামনে এই হলো সর্বসাম্প্রতিক পাকিস্তান।