Wednesday, August 31, 2016

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশকেও সঙ্গে নেওয়া

নয়াদিল্লিতে বৈঠকের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের করমর্দন। রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, নিজ ভূখণ্ডে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্য দেশকেও শামিল করা উচিত পাকিস্তানের। নিউইয়র্কে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় আলোচনার কারণে নিজেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ ভাবার কোনো কারণ নেই ইসলামাবাদের। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলা ও গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবে বিমানঘাঁটিতে হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের মাটিতে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের বিচার হওয়া উচিত। আমরা কখনোই সন্ত্রাসের মধ্যে ভালো-খারাপের বিভেদ করব না।’ কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তান আলোচনা আবারও শুরু করার আহ্বান জানান জন কেরি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আজ বুধবার সাক্ষাতের সময়ও এ আহ্বান জানাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মোদির সঙ্গে তাঁর আলোচনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান প্রসঙ্গও উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় কৌশলগত ও বাণিজ্য সংলাপে (এস অ্যান্ড সিডি) ‘পাকিস্তান থেকে সৃষ্ট’ সন্ত্রাসবাদ এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাস দমনে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে দুই দিনের ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি প্রিজকার এবং ভারতের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন অংশ নেন। উভয় পক্ষ জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা করে। জন কেরির এটি চতুর্থবারের মতো ভারত সফর। আলোচনার শুরুতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে করণীয় নিয়ে কথা হয়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ‘প্রত্যাশা ও আগ্রহের’ দিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান সুষমা স্বরাজ।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি সরবরাহ গোষ্ঠী (এনএসজি) এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় ভারত। জন কেরি বলেন, দুই দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক খাতে ভারতের সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা করতে চায়। ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চুল্লি স্থাপনেও সহযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তির এক দিন পরই নয়াদিল্লিতে গতকালের এই আলোচনা হলো। বৈঠক শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দুটি দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

ট্রাম্পের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছারপোকা!

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আফ্রিকান-আমেরিকান অর্থাৎ কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিন বংশোদ্ভূত হিস্পানিকদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন ছারপোকা, প্লেগ ও মশার চেয়েও কম! পাবলিক পলিসি পোলিং নামের একটি জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ অভিনব তথ্য দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত এই জরিপ অনুসারে ৯৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ট্রাম্পের বিপক্ষে। বাকি ৩ শতাংশ তাঁর ব্যাপারে এখনো মনস্থির করে ওঠেনি। আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের মন জয়ের জন্য ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এসে কিছু জোরালো চেষ্টা চালিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ওই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কার্যত এখনো শূন্য। ২৬-২৮ আগস্টের মধ্যে চালানো এই জরিপে ছারপোকা বা মশার তুলনায় ট্রাম্পের সমর্থনের সঠিক অনুপাত কী,
তা অবশ্য জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, পাবলিক পলিসি পোলিংকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক বলে ভাবা হয়ে থাকে। এক সপ্তাহ ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূলত শ্বেতাঙ্গ-অধ্যুষিত শ্রোতা-দর্শকদের সামনে এই প্রচারণা চলছে। সর্বত্রই ট্রাম্পের যুক্তি, ওবামা প্রশাসনের সাত-আট বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে একটা সুযোগ দেওয়া হোক। আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাছে ট্রাম্পের প্রশ্ন, ‘আমাকে ভোট দিয়ে আপনাদের হারানোর কী আছে?’ পাবলিক পলিসি পোলিংয়ের জনমত জরিপ থেকে স্পষ্ট, এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ওই বক্তব্য আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি।

তৃতীয় দফা ভোটেও শীর্ষে পর্তুগালের গুতিরেস

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের লক্ষ্যে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটেও প্রথম হয়েছেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার আন্তোনিও গুতিরেস। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিরোস্লাভ লাইচাক। আর যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন ইউনেসকোর চলতি মহাপরিচালক বুলগেরিয়ার ইরিনা বুকোভা ও সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিচ। স্ট্র পোল নামে পরিচিত এই অনানুষ্ঠানিক ভোটে অংশগ্রহণ করে শুধু নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ জন সদস্য। এই ভোটের লক্ষ্য মহাসচিব হতে আগ্রহী প্রার্থীদের সংখ্যা দুই বা তিনে কমিয়ে আনা। ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম স্ট্র পোলে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সবচেয়ে কম ভোট পেয়ে ইতিমধ্যে ক্রোয়েশিয়ার ভেসনা পুসিচ ও মন্টিনেগ্রোর ইগর লুকসিচ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুধু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেরই ভোটের ফল জানতে পারার কথা।
কিন্তু এদের কেউ কেউ গণমাধ্যমের কাছে ফলাফল প্রকাশ করে দেওয়ায় বিভিন্ন প্রার্থীর ক্রমিক অবস্থান ফাঁস হয়ে পড়ে। জাতিসংঘে প্রচলিত ‘পর্যায়ক্রমিকতার’ নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী মহাসচিব পূর্ব ইউরোপের কোনো দেশ থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা। কিন্তু এবার সে নিয়ম পুরোপুরি রক্ষিত হচ্ছে না। অনেকে আশা করেছিলেন, এবার প্রথমবারের মতো একজন নারী এই পদে নির্বাচিত হবেন। অথচ তিনটি ভোটের প্রতিটিতেই শীর্ষস্থান দখল করেছেন একজন পুরুষ। অন্যতম প্রার্থী আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুসানা মালকোরা সমালোচনা করে বলেছেন, পুরুষ প্রতিনিধিরা একজন পুরুষ মহাসচিব নির্বাচনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনো কোনো কূটনীতিক ইঙ্গিত করেছেন, রাশিয়া কোনো নারী মহাসচিবের পক্ষে নয়। জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিনকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একজন নারী মহাসচিব অবশ্যই হওয়া উচিত এবং এক দিন সে নির্বাচনের সময় আসবে। সেই সময় এখন এসেছে কি না, সে বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান চুরকিন। এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর চলতি মহাসচিব বান কি মুনের দায়িত্ব শেষের আগেই বিশ্ব সংস্থার পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার কথা।

লিবীয় উপকূল থেকে সাড়ে ছয় হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার

লিবিয়ার উপকূলীয় সাগর থেকে ইউরোপে অভিবাসন-প্রত্যাশী প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইতালীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, এটি ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসন-প্রত্যাশীদের উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনা। লিবিয়ার শহর সাবরাথার ২০ কিলোমিটার দূরের সাগরে ৪০টি সমন্বিত উদ্ধারকারী দল এ অভিযান পরিচালনা করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিবাসন-প্রত্যাশীরা উদ্ধারকারী জাহাজ দেখে আনন্দে চিৎকার করছে। কয়েকজন জাহাজগুলোর দিকে সাঁতার কেটে এগিয়ে যায়। ছোট একটি নৌকায় থাকা কয়েকজন মানুষের কোলে বাচ্চাও ছিল। এসব অভিবাসন-প্রত্যাশীর অধিকাংশই আফ্রিকার ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গত সোমবারের ওই অভিযানে ইতালি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রনটেক্স ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) প্রোঅ্যাকটিভা ওপেন আর্মস এবং দাতব্য সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রতিয়েখের (এমএসএফ) জাহাজ অংশ নিয়েছে।
রোববার একই এলাকা থেকে ১১ শতাধিক অভিবাসন-প্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই অভিবাসীদের নৌকাগুলো ছিল সাগর পাড়ি দেওয়ার অনুপযুক্ত। এ ছাড়া তাতে ছিল ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশটিকে মানব পাচারের ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। গত বছর ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছেছে। এদের অনেকেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অতিরিক্ত এই অভিবাসন-প্রত্যাশীর চাপে ইউরোপের দেশগুলোতে সংকট তৈরি হয়েছে। এদের পুনর্বাসন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, এ বছর প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার মানুষ ইতালিতে প্রবেশ করেছে। নৌপথে আসার সময়ই মারা গেছে ২ হাজার ৭২৬ জন। আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ অভিবাসন-প্রত্যাশী ইউরোপে ঢোকার জন্য এখন লিবিয়ায় অবস্থান করছে।

ভারতে গঙ্গায় নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধি

ভারতে এবারের বন্যায় গঙ্গা নদীর পানি এতটাই বেড়েছে যে তা আগেকার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের চারটি স্থানে বন্যার পানি বেড়ে নজিরবিহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় গঙ্গার পানি বেড়ে ৫০ দশমিক ৫২ মিটারে (১৬৬ ফুট) ওঠে। এর আগে ১৯৯৪ সালে সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ২৭ মিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের প্রধান জি এস ঝা বলেন, বিহার রাজ্যের ভাগলপুর ও উত্তর প্রদেশের বাল্লিয়াতে বন্যার পানি বেড়ে নজিরবিহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।
এসব স্থানে পানি বৃদ্ধির রেকর্ড এবার ভেঙে গেছে। বিহারে এবার বন্যার কারণে দেড় শর বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ পানিবন্দী মানুষকে। গঙ্গার পানি বৃদ্ধি উত্তর প্রদেশ রাজ্যকেও বন্যাকবলিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বন্যার জন্য দায়ী করছেন গঙ্গা নদীতে জমে ওঠা পলিকে। নদী বিশেষজ্ঞ দেব নারায়ণ যাদব বলেন, গঙ্গায় পলি জমে পাশের গ্রামগুলোর তুলনায় নদীর খাতের স্তরকে বেশি উঁচু করে ফেলেছে। বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে বিহার রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধ তুলে দেওয়া হোক।

‘২০১৯ সালে গোর্খাল্যান্ড হবে’

বিমল গুরুং
২০১৯ সালে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের চুক্তি করার আশা প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনমুক্তি মোর্চার চেয়ারম্যান বিমল গুরুং। গতকাল মঙ্গলবার নেপালি ভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে যখন জনমুক্তি মোর্চা গঠন করা হয়, তখন নেপালি সাহিত্যিক গুমান সিং চামলিং আমাকে একটি টুপি উপহার দিয়েছিলেন।
২০১৯ সালে যখন গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার চুক্তি করতে যাব, তখন ওই টুপি পরেই সই করব।’ প্রধানমন্ত্রীকে দাবির কথা জানিয়ে চিঠি লিখবেন বলেও জানান বিমল। গোর্খা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবিতে সম্প্রতি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে

দেশে ঝটিকা সফর করে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সফরটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যার একটি দিক হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা। তাঁর সফরে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। ইএমকে সেন্টারে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে। বাংলাদেশ সব সময় বলে আসছে, এখানকার সন্ত্রাসীরা হোম গ্রোন বা দেশে বেড়ে ওঠা। তবে জন কেরি বলেছেন, দেশে বেড়ে ওঠা জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসের যোগাযোগ আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি অনেক বড়। কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ তো নিজের মতো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই জঙ্গিরা কারা, কোথাকার, সেটা বড় বিষয় নয়। এখানে আদর্শটাই বড় কথা। সিরিয়ার আইএস ও বাংলাদেশের নব্য জেএমবি বা আনসার আল-ইসলামের আদর্শ কিন্তু একই। আজকের যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের কল্যাণে এই আদর্শ আজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এটার আর শুদ্ধ দেশজ চরিত্র নেই। সন্ত্রাসবাদ যেমন আঞ্চলিক, তেমনি আন্তর্জাতিক চরিত্রও আছে। এ ব্যাপারটা আমাদের বোঝা দরকার। আমরা না হয় নিজ দেশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সে খবর পাচ্ছি। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কী হচ্ছে, সে খবর আমরা কোত্থেকে পাব।
নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বিভিন্ন পর্যায়ে সাহায্য করছে। ফলে এখন আমরা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য নিতেই পারি। যেমন, ইন্টারনেটের মাধ্যমেই যেহেতু এই আদর্শ বিস্তৃত হচ্ছে, সে কারণে আমাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথ্যপ্রযুক্তিতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ফলে আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে তার সহযোগিতা নেওয়া যেতেই পারে। আমি মনে করি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রশ্নে আমাদের একদম ধরাবাঁধা অবস্থান না নিয়ে উন্মুক্ত হওয়া দরকার। বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখে যখন যা করা দরকার, তখন সেটাই করা উচিত। যেটা আমরা করতে পারব না, সেটার জন্য তার দ্বারস্থ হওয়াই যায়। তবে এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেওয়া যায়।   সন্ত্রাসী হামলার কিছুটা দৃশ্যমান, আর কিছুটা অদৃশ্য। আমরা কিছুটা জানি, আবার কিছুটা জানি না। কেন তরুণেরা সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকছেন, তার অবশ্যই সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। মূলত হতাশা থেকেই তাঁরা এ দিকে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁদের এই হতাশা দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই হতাশা দূর করতে সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সুশাসন মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করে। এটা থাকলে অনেক কিছুই মোকাবিলা করা যায়। সে কারণে এখন রাজনৈতিক গবেষকেরা সুশাসনের ওপর জোর দিয়ে থাকেন।
আইনের শাসন না থাকলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নয়। একটা সমাজে এগুলো না থাকার অর্থ হলো, সেই সমাজে মানুষের সমতার অভাব রয়েছে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে গণতন্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। সেটা হলে বঞ্চিত মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। যে হতাশা মানুষকে অন্ধকার পথে নিয়ে যেতে পারে। তাই গণতন্ত্র খুব জরুরি বিষয়। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে সন্ত্রাস দমনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে, তার সঙ্গে দ্বিমত করার কিছু নেই। জন কেরির সফরে রাজনৈতিক পর্যায়ে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে তার ইতিবাচক দিক রয়েছে। কারণ, একটা বিষয় খেয়াল করার মতো, জন কেরি দেশে খুব অল্প সময়ের জন্য থাকলেও প্রায় সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেছেন। তিনি যেমন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, তেমনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আবার তিনি নাগরিক সমাজ, তরুণ ও সাংবাদিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছেন। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কথা শুনেছেন। সামগ্রিকভাবে দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছেন, যেটা আমাদেরও করা উচিত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছর জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জন কেরিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সুযোগ পেলেই আসবেন। তিনি এলেনও। ফলে এই সফরটি খুবই ইতিবাচক। আর  সরকার সার্বিকভাবে এই সফরের সফলতা দাবি করতেই পারে।
এম হুমায়ুন কবির: সাবেক রাষ্ট্রদূত।

জন কেরির ঝটিকা সফর by জিয়াউদ্দিন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁর নয় ঘণ্টার ঝটিকা সফর শেষ করে গেলেন সোমবার। সফরটি যে বহুদিনের পরিকল্পিত ছিল, এটি ভাববার কোনো কারণ নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো দেশে সফর করার অনেক আগে থেকে দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলে, অনেক দিন আগে থেকে সফরের এজেন্ডা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে তা হয়েছে এমন কথা খুব একটা শোনা যায়নি। তবে এটা হঠাৎ করেও যে হয়েছে, তা-ও নয়। কারণ, এ সফরের বেশ কিছুদিন আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সংবাদ সম্মেলনে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর মোকাবিলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ়সংকল্পের কথা বলতে গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী পৃথিবীর যেসব দেশে প্রসার লাভ করেছে, তাতে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। তিনি এ-ও বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। সুতরাং এটা খুবই পরিষ্কার যে জন কেরির হঠাৎ বাংলাদেশ সফরের একটা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, যা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে বৈদেশিক যোগাযোগের বিষয় সম্পর্কে আলোচনা এবং এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করা (যা তঁার সফর শেষে মন্তব্যে উঠে এসেছে)। এ আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় আরও জরুরি হয়ে পড়ে যখন বাংলাদেশের সরকারি মহল থেকে প্রায়ই সব সন্ত্রাসী কাজকে বিরোধী দল-অনুপ্রাণিত বা গৃহজাত জঙ্গি দ্বারা সংঘটিত বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল। সফর শেষে জন কেরি তাঁর সফরকে সফল বলে মন্তব্য করে বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রধানমন্ত্রী এবং আরও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা সার্থক হয়েছে।
তিনি তাঁর আলোচনায় অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বললেও তাঁর মন্তব্যে সন্ত্রাস দমনের ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। এ ধরনের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সফরকে বিদেশি সফরকারীরা সাধারণত সফল বলে থাকেন, বিশেষভাবে সফরকারী যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার সারাংশ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং দুই দেশ এ ব্যাপারে তাদের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাজের সমন্বয় করতে আগ্রহী। কেরির মন্তব্য আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তিনটি কারণে। প্রথমত, সরকারি উচ্চমহলে এবং বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতার কথা সন্ত্রাস দমনে সরকারের দৃঢ়তা ও স্থির প্রতিজ্ঞার পরিচায়ক; দ্বিতীয়ত, এটি পরোক্ষভাবে দেশে সাম্প্রতিক এবং অতীতে সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে বৈদেশিক যোগাযোগের সম্ভাবনা স্বীকার, তৃতীয়ত, সন্ত্রাস দমনে বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার অনুভব। তবে আমরা শুধু কেরির আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের ওপর ভরসা করেই থাকতে পারি না। কেরির সফর সফল হবে যদি আমাদের সরকার শুধু কেরির সন্তুষ্টির জন্য নয়, আমাদের দেশের মঙ্গলের জন্যও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস ঠেকাতে সরকারি কাজকর্মে এ ধরনের প্রত্যয় ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করে। আমার এ সংশয়ের কারণ ওই একই দিনে দেওয়া আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একই পুরোনো মন্তব্য যে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠী-অনুপ্রাণিত শক্তি নেই, যা আছে তা গৃহজাত। সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিদেশিদের নয়,
দেশের জনসাধারণ এবং সর্বোপরি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বিভ্রান্ত করবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যা আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে শুধু একক ব্যক্তিত্ব বা একক গোষ্ঠীর দ্বারা নয়, অন্তত আটটি গোষ্ঠী কাজ করছে বিভিন্ন দেশে। গোষ্ঠীগুলো পুরোপুরি সমন্বিত না হলেও তারা মোটামুটি একই আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং তারা চায়, তাদের অনুসারী বৃদ্ধি পাক। আজ বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা যদি তাদের অনুপ্রেরণা ও আদর্শ কোনো বিদেশি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে পায় বা তাদের কাছ থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বরং আমরা আশ্চর্য হই এ দেখে যে বাংলাদেশে আইএস-অনুপ্রাণিত কার্যকলাপের বহুল প্রমাণাদির পরও আমাদের কারও কারও কাছে দেশে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসীর হাত আছে বলে মনে হয় না। তাঁরা অনবরত তাঁদের একপেশে দৃষ্টি দিয়ে দেশের সন্ত্রাসী তৎপরতাকে রাজনৈতিক কুকর্ম বলে আখ্যায়িত করছেন। দেশে যখন একের পর এক সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, যখন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিদেশি জঙ্গিশক্তির সম্পৃক্ততার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য শুধু জনসাধারণকেই কুয়াশাচ্ছন্ন করে না, বিদেশে বাংলাদেশকে বিব্রত করছে। ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জন কেরিকে যখন ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে বিদেশি সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব বা তাদের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে মাথা গুঁজে বসে আছে কি না, তিনি উত্তরে বলেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং এতে বিদেশি সম্পৃক্ততা সম্পর্কে খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস, কেরি এ আশ্বাস পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি ওপর মহল থেকে।
আমি এ-ও আশা করছি যে সত্যিই আমাদের সরকার সন্ত্রাস এবং এতে বিদেশি প্রভাবের ব্যাপারে মাথা গুঁজে বসে নেই। সন্ত্রাস বা জঙ্গি কর্মকাণ্ড দমন করতে যেসব প্রক্রিয়ার দরকার, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে জঙ্গিবাদের উৎপত্তির কারণ এবং এর ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা। পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে প্রধান হচ্ছে জঙ্গিবাদকে একটি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কুকর্ম মনে না করে দেশের স্থায়িত্বের প্রতি হুমকি বলে গণ্য করা। তবে এ ব্যাপারে আরও দরকার একটি মানসিকতার, যে মানসিকতা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকে দেশের ও দশের স্বার্থে। আর এ হুমকি ঠেকাতে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সংঘবদ্ধ করা। আজ বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ চলছে, তাকে শুধু দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখলে চলবে না। এটা দেখতে হবে চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি আর অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে। এটা দমন করতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন। যেমন প্রয়োজন জঙ্গি দমনে নতুন প্রযুক্তি এবং এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও তাদের প্রজ্ঞা। জানি না জন কেরি শেষ কথা কী বলে গেছেন। তবে আমি আশা করি, তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছেন। সহযোগিতা শুধু কথায় নয়, কাজেও হতে হবে। এটা হতে পারে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে নতুন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে, যা যুক্তরাষ্ট্র দিতে পারে। আমি আশা করব, আমরা এ সুযোগ নেব।
জিয়াউদ্দিন চৌধুরী: রাজনৈতিক ভাষ্যকার।

Tuesday, August 30, 2016

সম্পর্কে গতি আনতে ভারতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আনতে গতকাল সোমবার দুই দিনের ভারত সফরে গেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে কিউ এই সফর করছেন। গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর এটিই প্রথম বিদেশ সফর। সফরে কিউয়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী দো সু সু লুইন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে থিন ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে কিউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইটার বার্তায় বলা হয়, ‘মিয়ানমার আমাদের জন্য বিশেষ একটি দেশ। ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।’ বার্তায় বলা হয়, ‘দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্থায়ী ভিত্তি গড়তে সহযোগিতা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
যোগাযোগ, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নানা খাতে আমাদের কাজের সুযোগ রয়েছে।’ মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটারের স্থলসীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার রাজ্যের সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের সীমান্ত। এই অঞ্চলে সক্রিয় বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী বেশ আগে থেকেই মিয়ানমারের স্থলসীমা ব্যবহার করে। এই সফরে দুই দেশের সীমান্তে অস্ত্র-মাদক-বন্য প্রাণী চোরাচালান বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হবে। মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কর্মী এবং বন্য প্রাণী চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বাহিনীর প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের যোগাযোগ এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সব যোগাযোগ বিষয়েও এ সফরে ইতিবাচক আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভারত সহযোগিতা করতে চায়। ইতিমধ্যে ভারত মিয়ানমারের ২০ জন এমপিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আইএসবিরোধী অভিযানে যাচ্ছে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তা করতে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডেয়ারিং পাঠানো হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেছেন, আগামী শুক্রবার জাহাজটি নৌঘাঁটি পোর্টসমাউথ ত্যাগ করবে। মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান আক্রমণ পরিচালনা করছে। যুক্তরাজ্যের এই যুদ্ধজাহাজ সেখানে থাকা মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজকে সহায়তা দেবে। মার্কিন রণতরি থেকেই বিমানগুলো ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে আক্রমণ চালায়। এর আগে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের জাহাজ এইচএমএস ডিফেন্ডারকে গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরত আনা হয়। একই ধরনের দ্য টাইপ ৪৫ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডেয়ারিংয়ের ক্রুর সংখ্যা ১৯০। এই জাহাজ ব্যস্ত নৌপথেও নজরদারি করবে। সেখান থেকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে তথ্য সহায়তা দেবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেন, আইএসকে পরাজিত করতে নৌ, বিমান ও পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বোমা হামলা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ইরাকি বাহিনীকে বিস্ফোরক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
আর নৌবাহিনী আইএসবিরোধী জোটের বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেবে। এইচএমএস ডেয়ারিং যুদ্ধজাহাজ সি ভাইপার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী। পুরো নৌবহরকে বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ৭৫ মাইল দূর থেকে এটি হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। টাইপ ৪৫ ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ হলেও এ বছরের শুরুতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ নৌবহরের এ ধরনের জাহাজে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করতে হবে। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল স্যার ফিলিপ জোনস গত জুলাইয়ে হাউস অব কমন্স কমিটিকে বলেন, উপসাগরের অত্যন্ত উষ্ণ পানিতে ভেসে এর গ্যাসচালিত ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ নৌবাহিনী মনে করছে, এ ধরনের জাহাজ ‘সব জায়গায় বছরের সব সময় থাকতে সক্ষম নয়।’ এর আগে পাঠানো এইচএমএস ডিফেন্ডারের মতোই ভূমিকা পালন করবে এবার পাঠানো এইচএমএস ডেয়ারিং। এইচএমএস ডিফেন্ডার নয় মাস মধ্যপ্রাচ্যে ছিল। সেখানে তারা আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ফরাসি বিমান হামলায় সহায়তা দেয়। গত জুন মাসে মাদক ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় এইচএমএস ডিফেন্ডার ওমানের দক্ষিণ উপকূলে একটি সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌযান আটক করে।

অভিশংসন প্রশ্নে আত্মপক্ষ সমর্থন

দিলমা রুসেফ
রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ গতকাল সোমবার সিনেটে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। রুসেফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচনের আগে জনসমর্থন হারানোর ভয়ে কারসাজি করে বাজেট ঘাটতির তথ্য গোপন করেছিলেন এবং প্রবৃদ্ধির হিসাব বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছিলেন। রুসেফের বক্তব্য রেকর্ড করার পর চলতি সপ্তাহের শেষে সিনেট সদস্যরা তাঁকে অভিশংসন করা হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট দেবেন। সিনেট সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিলে ব্রাজিলে ১৩ বছরে বামপন্থী শাসনের অবসান হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রুসেফ বিদায় হলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মাইকেল টেমার ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবিসি

কমানো হোক জ্বালানি তেলের দাম

সর্বমহল থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি থাকলেও সরকার বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে ২০১৩ সাল অবধি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছিল। সেই সময়ে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হলেও গত তিন বছরে সুদে-আসলে তা উঠে গেছে। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চলতি আগস্ট মাস পর্যন্ত গত ৪০ বছরের মধ্যে ২০ বছর লোকসান দিয়েছে এবং বাকি ২০ বছরে যে লাভ করেছে, তা লোকসানের প্রায় দ্বিগুণ। বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গত ২৫ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষ খুব একটা সুফল পায়নি। বিশেষ করে পরিবহন খাতের ভাড়া এক পয়সাও কমেনি। তখন বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠা-নামার পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাস অন্তর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেই।
অথচ গত দুই মাসে ভারত তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমানো হলে মূল্যস্ফীতি কমবে ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং উৎপাদন বাড়ার কারণে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে। গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলেছে, জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ১০ শতাংশ কমানো হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। জ্বালানি তেলের বেশি দাম রেখে সরকার যে মুনাফা করছে সেই তুলনায় দাম কমালে সার্বিক অর্থনীতিতে তার যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটা দেশের জন্য বেশি লাভজনক। তেলের দাম কমালে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ও হ্রাস পাবে আশা করা যায়। গত মে-জুন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৩০ ডলার থেকে কিছুটা বাড়লেও ফের এখন কমতির দিকে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম না কমানোর কোনো যুক্তি নেই।

সুরাইয়ার করুণ মৃত্যু

বখাটে যুবকের হাতে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসার মৃত্যু আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এ দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সমস্যা রয়েছে। বখাটে ওই যুবক রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় একটি পদচারী-সেতুতে প্রকাশ্য দিবালোকে অনেক লোকের সামনে রিসাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। মাস ছয়েক আগে স্কুলের ড্রেস বানাতে রিসা মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল একটি টেইলার্সে। সেই টেইলার্সের কর্মচারী ওই বখাটে যুবক ফোন নম্বর পেয়ে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে রিসাকে, পিছু নেয় তার। সেই মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাতেই হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ওই যুবক। এরই জেরে এই হত্যাকাণ্ড। এটা বিস্ময়কর যে খুন বিষয়টি এখন কতটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে! তা না হলে এ ঘটনার জের ধরে একটি খুনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে! কাকরাইলের মতো জনবহুল একটি এলাকায় এভাবে একটি মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্রকেই তুলে ধরে।
কেউ মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ওই পদচারী-সেতুর সামনে ও পেছনের মোড়ে পুলিশ ছিল, তারা কেন কিছু করতে পারল না, সেটাও এক বড় প্রশ্ন। আমাদের দেশে বখাটেদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। বখাটেদের অত্যাচার সইতে না পেরে অনেক মেয়ে আত্মহত্যাও করেছে। এসবের কি কোনো বিহিত নেই? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়টি এখানে সবচেয়ে বেশি। সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতার বিষয়টিও রয়েছে। বখাটেদের কারণে আর কোনো মেয়ের করুণ মৃত্যু আমরা দেখতে চাই না। আর কোনো বাবার হাহাকার, মায়ের আহাজারি আমরা শুনতে চাই না। এই বয়সের একটি মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা কোন পরিস্থিতির মধ্যে সময় পার করছেন, তা আমাদের ধারণার বাইরে। রিসার পরিবারের প্রতি রইল আমাদের শোক ও সমবেদনা। রিসার খুনি দ্রুত ধরা পড়ুক, যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হোক।

Monday, August 29, 2016

৪১ বছর পর তাঁরা জানলেন

লিওন সোয়ানসন ,ডেভিড টেইট জুনিয়র
দুজন একে অপরকে চিনতেন দীর্ঘদিন থেকে। বসবাসও একই শহরে। কিন্তু ঘুণাক্ষরে টের পাননি তাঁরা একে অপরের পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ৪১ বছর আগে জন্মের পর হাসপাতাল থেকে অদলবদল হয়ে ভুল পরিবারে চলে যান লিওন সোয়ানসন ও ডেভিড টেইট জুনিয়র। ঘটনাক্রমে জানতে পারেন, তাঁরা দুজন একে অপরের বাবা-মায়ের কাছে লালিতপালিত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষাতেও তা প্রমাণিত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কানাডার মানিটোবা প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেখানে আদিবাসী ক্রি জনগোষ্ঠীর বসবাস। ১৯৭৫ সালে সরকারি নরওয়ে হাউস হাসপাতালে ডেভিড ও লিওনের জন্ম।
বয়সে একে অন্যের চেয়ে তিন দিনের ছোট-বড়। তাঁরা যে ছোট শহরে বেড়ে উঠেছেন, সেখানকার অধিবাসী মাত্র পাঁচ হাজার। ফলে তাঁরা একে অপরকে চিনতেন এবং এক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি ডেভিড ও লিওন জানতে পারেন এক নির্মম সত্য। হাসপাতালের ভুলে তাঁদের বাবা-মা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ ডেভিড টেইট যে পরিবারে মানুষ হয়েছেন, সেটি আসলে বন্ধু সোয়ানসনের পরিবার। আর সোয়ানসন যে পরিবারে মানুষ হয়েছেন, সেটি ডেভিডের পরিবার। এক সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড টেইট বলেন, এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট জবাব চাই। তবে যারা আমাকে লালন-পালন করেছেন তাঁরা বরাবরই আমার বাবা-মা থাকবেন।

অবৈধদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া ঘোষণা

ডোনাল্ড ট্রাম্প
অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিগবাজি খেয়েই যাচ্ছেন। আজ এক কথা বলছেন তো কাল আরেক কথা। তিনি প্রচারণার প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন যে প্রেসিডেন্ট হলে সব অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে। গত সপ্তাহে তিনি ফক্স নিউজের উদ্যোগে এক টাউন হল মিটিংয়ে সুর নরম করে বললেন, সবাইকে নয়, অবৈধদের মধ্যে যাঁরা কোনো না কোনো অপরাধ করেছেন, শুধু তাঁদেরই বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু এই বক্তব্য দেওয়ার পর এক সপ্তাহ না যেতেই আবার আগের কড়া অবস্থানে চলে এসেছেন তিনি। আইওয়ায় শনিবার এক প্রচার সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য তিনি অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার একটি পদ্ধতি চালু করবেন। তাঁর ভাষায় ‘এক্সিট-এন্ট্রি ট্র্যাকিং সিস্টেম’ নামের এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া অভিবাসীদের সহজেই চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া যাবে। ওই বক্তৃতায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে প্রতিবেশী মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল তোলার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের কল্যাণভাতা দেওয়া বন্ধ করবেন বলেও ঘোষণা দেন।
নির্বাচনের আর মাত্র ৭১ দিন বাকি। কিন্তু এখনো অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ট্রাম্প যেভাবে ডিগবাজি খাচ্ছেন, তা দেখে রিপাবলিকান পার্টি ও তাঁর সমর্থকদের শিরঃপীড়া শুরু হয়েছে। বাছাইপর্বে ট্রাম্প বাঘা বাঘা ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডিঙিয়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন মূলত অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কারণে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলবেন এবং ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে দেশছাড়া করবেন—এই ছিল তাঁর প্রতিশ্রুতি। এ পরিকল্পনা অবাস্তব ও বর্ণবাদী—নিজ দলের নেতাদের কাছ থেকেই ট্রাম্পকে এমন সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর প্রাথমিক সাফল্যের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতকায়রা তাদের আধিপত্য হারাচ্ছে এবং আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে এটি একটি অ-শ্বেতকায়প্রধান দেশে পরিণত হবে—এই উদ্বেগকে তিনি সফলভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হন। কিন্তু বাছাইপর্ব আর সাধারণ নির্বাচন এক কথা নয়। কয়েক দিন আগে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যে সবাই মনে করেছিল, কিঞ্চিৎ বিলম্বে হলেও এ কথাটা তিনি বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু শনিবার আবার ডিগবাজি খাওয়ায় অনেকেই অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। এই প্রশ্নে তাঁর আসল অবস্থান কোনটি, তা ঠাহর করা সহজ হচ্ছে না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ফক্স নিউজের সঙ্গে এক টাউন হল মিটিংয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের ব্যাপারে তিনি ‘কিছুটা নরম’ হতে প্রস্তুত। অনেকেই তাঁকে বলেছে, এ দেশে ১০-১৫ বছর ধরে আছে এমন মানুষদের বের করে দেওয়াটা বড় অমানবিক হবে। তার চেয়ে বরং এরা যদি বকেয়া আয়কর মিটিয়ে দেয়, তাহলে বৈধভাবে থাকতে দেওয়া যায়। কিন্তু তাই বলে ঢালাও কোনো ‘অ্যামনেস্টি’ দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থানের কথা প্রকাশ হতে না হতেই চতুর্দিক থেকে আক্রমণ শুরু হয়। অভিবাসন প্রশ্নে ঠিক এ রকম একটি প্রস্তাব রাখা ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ টিপ্পনী কেটে বলেছেন, ‘কী! বলেছিলাম না, এই লোক মত বদলাবে!’ টেড ক্রুজ, ট্রাম্পের আরেক পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী, তিনিও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। আলাস্কার সাবেক গভর্নর সারাহ পেলিন তখন বলেন, ট্রাম্প তাঁর এত দিনের অভিবাসননীতি থেকে সরে গেলে তাঁকে ‘গভীর অনুশোচনার’ মুখোমুখি হতে হবে। এসব সমালোচনার পরই নতুন ডিগবাজি খেলেন ট্রাম্প। অধিকাংশ পর্যবেক্ষক একমত, আসলে ট্রাম্প অভিবাসন প্রশ্নটি তেমন ভালোভাবে জানেনই না, জানার চেষ্টাও করেননি। এখন চাপের মুখে পড়ে একবার এ কথা বলছেন, আরেকবার অন্য কথা। পরামর্শদাতাদের চাপে অথবা নতুন ভোটের সন্ধানে, যে কারণেই অবস্থান বদল করুন না কেন, এতে তাঁর কট্টর সমর্থকদেরও অনেকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা আছে।

কাশ্মীরের তরুণদের ‘উসকানিদাতাদের’ মোদির হুঁশিয়ারি

নরেন্দ্র মোদি
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যারা তরুণদের ‘সহিংসতায় উসকে দিচ্ছে’, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেতারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মাসের অনুষ্ঠান মন কি বাত-এ গতকাল রোববার ওই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। মোদি বলেন, এসব উসকানিদাতাকে তরুণদের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে। মন কি বাত-এ নরেন্দ্র মোদি বলেন, কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দল এখন ঐক্যবদ্ধ। তারা বিশ্ব ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই এক হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তারা কাশ্মীরের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের চলতি দফা সহিংস বিক্ষোভের জন্য ভারতীয় নেতারা ইতিমধ্যে পাকিস্তানের ‘প্ররোচনাকে’ দায়ী করেছেন। গত ৮ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তরুণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর থেকে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলছে। রাজ্যটিজুড়ে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন নিহত ও ৫ হাজার আহত হয়েছেন। বেতারে মোদি আরও বলেন, ‘একতা ও ভালোবাসা—এই দুই মন্ত্রই হবে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের পথ। কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে আমি এ কথাই বুঝেছি।
..কাশ্মীরে একটি প্রাণহানি হলেও তা আমাদেরই ক্ষতি।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ গত শনিবার কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ‘বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য’ ২২ জন আইনপ্রণেতাকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। এই নিয়োগের এক দিন পরেই এল মোদির হুঁশিয়ারি। শনিবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বলেন, কাশ্মীর দ্বিপক্ষীয় সমস্যা। একে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরিণত করতে পারবে না কখনোই। শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও কাশ্মীরের সহিংসতায় পাকিস্তানের ইন্ধনের অভিযোগ করেন। তবে বরাবরের মতো এবারও পাকিস্তান কাশ্মীরে সহিংসতায় উসকানির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেহবুবা মুফতি কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকর সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে-ই সন্ত্রাস ছেড়ে শান্তির পথে আসবে, সরকারের উচিত তার সঙ্গে সংলাপ করা। অন্য পক্ষের সঙ্গে সংলাপে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মেহবুবা।

জেলা পরিষদ নিয়ে কিছু সুপারিশ

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করা যায় ২০১৬ সালের মধ্যে দেশের সমতলভূমির ৬১টি জেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিতে পারবেন। সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করলে দেশের স্থানীয় সরকারের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে। জেলা পরিষদ উপমহাদেশের স্থানীয় শাসন ও উন্নয়নের ইতিহাসে ১৩০ বছরের উত্তরাধিকার বহন করে। জেলা প্রশাসন সৃষ্টির (১৭৭২) ১১০ বছর পর ১৮৮২ সালে লর্ড রিপনের ঐতিহাসিক রেজল্যুশনের মাধ্যমে তিন স্তরের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়। তাতে স্থানীয় ‘জেলা বোর্ড’ অত্যন্ত শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের প্রথম দশক পর্যন্ত ওই পদ্ধতি বজায় ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জেলা পরিষদের সুরম্য ভবন, জনবল, প্রচুর নিজস্ব সম্পদ ও জাতীয় বাজেটের নিয়মিত বরাদ্দ সত্ত্বেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি রহস্যজনক কারণে আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৭৫ সালে জেলায় ‘গভর্নর’ নিয়োগ করে জেলা প্রশাসকসহ জেলার সামগ্রিক প্রশাসনকে তার অধীন করে একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার চিন্তা করা হয়। পরে বিএনপির শাসনামলে ‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয়ক’ নামে একটি পদ সৃষ্টি করে প্রতিটি জেলায় রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরশাদ আমলে পদটি বাতিল হয়; ১৯৮৮ সালের একটি নতুন আইনবলে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৯০-এর পরে তা বাতিল হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের সরকার গঠিত হওয়ার পর ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন পাস করা হয়। কিন্তু পাস হওয়ার ১১ বছর পরও ওই আইন কার্যকর করা হয়নি। পরে ২০১১ সাল আইনের ৮২(১) ধারার অধীনে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ওই আইন কার্যকর হয়। কথা ছিল প্রশাসক নিয়োগের ছয় মাসের মধ্যেই আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে, তা হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে ধারণা, সরকার ২০১৬ সালের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন দিতে যাচ্ছে এবং স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠিত হতে যাচ্ছে। এ প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও তার ফলাফল কীরূপ হবে সে সম্পর্কে কোনো আগাম মন্তব্য না করেও বলতে চাই, জেলা পরিষদ নানা অনিশ্চয়তার স্তর পার হয়ে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পেতে যাচ্ছে এ নির্বাচনের মাধ্যমে। তাই ব্যবস্থাটি আরও টেকসই ও গণতান্ত্রিক হোক, এ লক্ষ্যে ওই আইনের কিছু সংশোধনী সুপারিশ করা সংগত মনে করি। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে প্রথম আলোয় (২৮-১১-২০১১ এবং ৪-০১-২০১২) আমার দুটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এই লেখায় নতুন কিছু সুপারিশ যুক্ত করা হলো। প্রথমত, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আইন ও বিধিসমূহের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা দরকার এবং যে পটভূমিতে ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন তৈরি হয় তার প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং বিশেষত, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মধারার আলোকে জেলা পরিষদেও অনুরূপ বিষয়ের সংযোজন প্রয়োজন। পরিকল্পনা, বাজেট এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের বিধানসমূহের আরও স্পষ্টকরণ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, জেলা পর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসন, রেগুলেটরি ও উন্নয়ন বিভাগসমূহের সঙ্গে পরিষদের সম্পর্কের বিষয়ে আইনে বিস্তারিত কিছু দেখা যায় না। সংবিধান অনুযায়ী উন্নয়ন ও সেবার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের দায়িত্ব ও ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য।
তৃতীয়ত, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৩০ বলে জেলার সব জাতীয় সংসদ সদস্যগণ ‘জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হইবেন এবং তাঁহারা পরিষদকে উহার কার্যাবলি সম্পাদনে পরামর্শ প্রদান করিবেন’ মর্মে যে ধারাটি আছে, তা উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের অভিজ্ঞতার আলোকে পুনরায় বিচার-বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। চতুর্থত, জেলা পরিষদ আইনের ১৪ থেকে ১৮—এ পাঁচটি ধারা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নাগরিকেরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন। কিন্তু জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বিশেষ ‘নির্বাচকমণ্ডলীর’ পরিবর্তে জেলার জনসংখ্যা, আকার ও ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে জেলায় জেলায় জেলা পরিষদের নির্বাচনী ওয়ার্ড সৃষ্টি করে জনগণের সরাসরি ভোটে জেলা পরিষদের সদস্যগণ নির্বাচিত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাদের মধ্য থেকে পরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা একটি ‘নির্বাহী কাউন্সিল’ গঠিত হতে পারে। বাকি সদস্যরা নির্বাহী দায়িত্বের বাইরে বিধানিক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ভারতে অন্তত এভাবে জেলা পরিষদসমূহ পরিচালিত হয়। বিরাজিত আইন (জেলা পরিষদ আইন, ২০০০) সংবিধান ও দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তা ছাড়া, জেলা পরিষদকে ঘিরে জনমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরিভাবে এ আইনে প্রতিফলিত হয়নি। তাই জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে এ আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশের অতীতের জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ড, বর্তমান জেলার প্রশাসন ও উন্নয়নের সমস্যাসমূহের সবিস্তারে আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন। তা ছাড়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় প্রভৃতি রাজ্যের জেলা পরিষদসমূহ কীভাবে কাজ করছে, তাও সঙ্গে সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। এ সবকিছু বিবেচনা করে আইনের যথাযথ সংশোধনের পর নির্বাচন অনুষ্ঠান করাই সংগত। আশা করব, সরকার আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতা-নেত্রী, অন্যান্য দল এবং নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণ করে জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ।
tofail101@gmail.com

নেপথ্যের শক্তিকে শনাক্ত করা দরকার

২৫ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিল নামের এক বাড়িতে পুলিশি অভিযান চালিয়ে নয় সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হত্যা করার পর ২৭ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি বাড়িতে একই রকমের অভিযানে আরও তিন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হত্যার ঘটনায় এটা পরিষ্কার যে, জঙ্গি দমনে সরকার জোরালোভাবে তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের তৎপরতা ফলপ্রসূ হচ্ছে। হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পর জনমনে যে ভীতি-আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, একের পর এক পুলিশি অভিযানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মারা পড়ার ফলে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জে নিহত তিনজনের মধ্যে আছেন তামিম চৌধুরী, যাঁকে হলি আর্টিজান হত্যাযজ্ঞের মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে বর্ণনা করে আসছিল পুলিশ। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন যখন তাঁর নিহত হওয়ার খবর পুলিশ জানাল,
তখন এটা জঙ্গিবিরোধী তৎপরতার একটা বড় সাফল্য বলে বিবেচিত হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, জঙ্গি হামলায় সশরীরে অংশগ্রহণকারী মাঠপর্যায়ের জঙ্গিদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের নেপথ্যের নেতারা, যাঁরা কিশোর-তরুণদের কচি মনকে বিভ্রান্ত করে এই ভয়ংকর বিভীষিকার পথে নিয়ে যান, হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়ন করতে তাদেরকেই পাঠান। যে প্রক্রিয়ায় জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা চলছে, তা অনেক ক্ষেত্রে জনমনে স্বস্তি দিলেও যে প্রশ্নটি উঠছে তা হচ্ছে, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের কেন জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না? এর সঙ্গে বিচার ও আইনের শাসনের সম্পর্ক রয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে পুলিশ ও র্যা বের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন অপরাধীদের নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। জঙ্গিবিরোধী অভিযানগুলোর ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ ও বক্তব্য যেন একই রকমের সংশয়-সন্দেহ না জাগায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক, জঙ্গিদের হাতে আর একটি প্রাণও ঝরবে না—এটা নিশ্চিত করা হোক।

Sunday, August 28, 2016

প্রেসিডেন্ট হলেও ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজ চলবে

হিলারি ক্লিনটন
পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ফাউন্ডেশনের দাতব্য কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। এনবিসির ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে তাঁর ফাউন্ডেশন, ই-মেইল বা অন্য কিছু নিয়ে আর বিতর্ক হবে না। ট্রাম্প ও অন্যান্য সমালোচকের কথা, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন পরিচালনার কারণে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ সৃষ্টি হবে। তবে হিলারি সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। সাক্ষাৎকারে হিলারি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা ‘পূর্ব ধারণা ও মস্তিষ্ক বিকৃতির’ ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তাঁর প্রচারণা খোদ রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বিরোধের জন্ম দিয়েছে। ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিলারির প্রতি প্রশ্ন ছিল: ই-মেইল বা ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, তা তাঁর নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কি না। উত্তরে হিলারি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে করবে না।’ তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের কাজ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা আছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ফাউন্ডেশনের কাজের সঙ্গে যাতে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ তৈরি না হয়, সেদিকে সচেষ্ট থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন। হিলারি বলেন, ‘জনগণ যে উদ্বেগের কথা বলেছে, তার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জিতি, তবে দ্বন্দ্ব এড়াতে আমি বাড়তি ব্যবস্থা নেব।’ হিলারি বলেন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতব্য কাজ ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মূল্যবোধের’ সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এটি অবশ্যই চলবে। অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলে এর কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৪, পালিত হলো রাষ্ট্রীয় শোক

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহত স্বজনের কফিনের পাশে বসে
অশ্রুপাত করছেন এক নারী। দেশটির আরকুয়াতা শহরে
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের গতকাল রাষ্ট্রীয়ভাবে আসকোলি
পিচ্যানো শহরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এএফপি
ইতালির ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে দেশটি। এ দিন দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমাত্রিচে শহর গতকাল সকালে পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট সেরজো মাত্তারেল্লা। পরে আরকুয়াতা শহরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আসকোলি পিচ্যানো শহরে। এদিকে, গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শেষ ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরাঘাতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। গত বুধবারের মূল ভূমিকম্পের পর গতকাল সকাল পর্যন্ত অনেক পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পরাঘাতে আমাত্রিচের মূল সেতু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপগ্রহের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে ইতালির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অপর এলাকা আক্কুমোলি গ্রাম ২০ সেন্টিমিটার (৮ ইঞ্চি) দেবে গেছে।

হিলারির জন্য কী অপেক্ষা করছে? by আলী রীয়াজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সব সময়ই সারা পৃথিবীর মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। ২০১৬ তা থেকে ব্যতিক্রম নয়। তবে এবার অতিরিক্ত মনোযোগ আকর্ষণের কারণ দুই প্রধান প্রার্থী। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কের সূচনা করে আসছেন তাঁর দেওয়া বক্তব্যে। অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ, নারী, ইসলাম ধর্মাবলম্বী থেকে শুরু করে সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপারে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান এবং রিপাবলিকান দলের নেতৃত্বের বড় একটি অংশের আপত্তির পরও তিনি দলের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। কেননা, দলের তৃণমূলের এক বড় অংশের সমর্থন তিনি লাভ করেছেন। দেশের প্রধান প্রধান নীতিনির্ধারণী বিষয়ে ট্রাম্পের অজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে। অনেক বিষয়েই তাঁর অবস্থান যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনি সেসব বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনশীলও—সুবিধা অনুযায়ী তা বদলে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন যতটা সহজে পাওয়ার আশা করেছিলেন, ততটা সহজে পাননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করা এবং সে বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে ভুল স্বীকার না করার কারণে তাঁর বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের, এমনকি দলের পুরোনো অনেক সমর্থকের মধ্যেও আছে প্রশ্ন। দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রেই পছন্দের পরিমাপ যেমন করা হচ্ছে, তেমনি তাঁদের প্রতি অপছন্দের মাত্রাও এখন প্রতিদিনের জরিপের বিষয়। কয়েক দিন ধরে হিলারি ক্লিনটনকে যেসব প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হচ্ছে,
তার উৎস বিল ক্লিনটনের নেতৃত্বাধীন ক্লিনটন ফাউন্ডেশন। অভিযোগ উঠেছে যে হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে দান করেছেন এমন অনেকে হিলারির সঙ্গে সহজেই দেখা করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ (যেগুলো রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীলেরা ব্যাপকভাবে প্রচার করছেন) দেশের কোনো আইন ভঙ্গের ইঙ্গিত দেয় না; তারপরও অনেকের আশঙ্কা, এগুলো হিলারি ক্লিনটনের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাঁকে এই বিষয়গুলোতে যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা তো সহজেই দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান দলের সম্মেলনের আগে এবং অব্যবহিত পরে দলের ভেতরে বিভিন্ন রকম সমালোচনা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প জনমত জরিপে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন যে হিলারির জন্য নির্বাচনটি কঠিনই হবে। কিন্তু ডেমোক্র্যাট দলের সম্মেলনের সময় থেকে হিলারি ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন বাড়তে শুরু করে। দলের সম্মেলনের পরপর দলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি বা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। সেই সমর্থন হিলারি ধরে রাখতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে হিলারির পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপগুলোতে, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি এখন এগিয়ে আছেন। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এক অর্থে জাতীয় নির্বাচন নয়। কেননা, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রার্থীদের সারা দেশে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। প্রার্থীদের জিততে হয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে। দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য জনসংখ্যার অনুপাতে বরাদ্দ করা আছে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ ভোট, যার মোট সংখ্যা ৫৩৮।
দুটি ছাড়া বাকি সব অঙ্গরাজ্যে প্রাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রার্থীরা সেই ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বিজয়ী হন, আর তাঁর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট অর্থাৎ ২৭০টি পেলেই একজন প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেন। যেহেতু জনসংখ্যার অনুপাতে এই ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যা নির্ধারিত হয়, সেহেতু বড় অঙ্গরাজ্যগুলোতে বেশি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। ফলে এক অর্থে যদিও সাধারণভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন ছাড়া বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, তথাপি সেটা একেবারে অসম্ভব নয়। এ রকম ঘটনা ঘটেছে খুব কম; যেমন ১৮২৪, ১৮৭৬ ও ১৮৮৮ সালে এ ঘটনাই ঘটেছিল। সাম্প্রতিককালে আমরা সেই ঘটনার সাক্ষী হয়েছি ২০০০ সালে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আল গোর রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জ বুশের চেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। এই ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কাগজে-কলমে চারটি বড় অঙ্গরাজ্যের গুরুত্ব বেশি। এগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে এর মধ্যে তিনটির ফলাফল আমরা ভোটের অনেক আগেই বলে দিতে পারি। নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি আর টেক্সাস রিপাবলিকানদের। বাকি অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডা কোন দলকে ভোট দেবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। গত ১০টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল দেখলেই অবস্থাটা বোঝা যায়। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছেন চারবার আর রিপাবলিকানরা জিতেছেন পাঁচবার; ২০০০ সালে কার্যত দুই প্রার্থীই সমান ভোট পেয়েছিলেন। আর কখনো কখনো ফল নির্ধারিত হয়েছে খুব সামান্য ব্যবধানে।
যেমন ২০১২ সালে বারাক ওবামা জিতেছেন ১ শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে। একবার এদিকে একবার ওদিকে ভোট দিয়েছে এমন অঙ্গরাজ্য যেমন ফ্লোরিডা একমাত্র নয়, তেমনি বাকি তিন অঙ্গরাজ্যই কেবল এক দল বা অন্য দলের পক্ষে স্থির হয়ে থেকেছে তা–ও নয়। গত দুই দশকের ভোটের বিবেচনায় রিপাবলিকানদের পক্ষে উপর্যুপরিভাবে ভোট দিয়েছে এমন অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা ১৩টি, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৯টি। শুধু তা-ই নয়, ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যে অঙ্গরাজ্যগুলো ভোট দিয়েছে, সেগুলোতে তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যা বেশি; ফলে তাদের কাছে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যাও বেশি। স্থায়ীভাবে রিপাবলিকান সমর্থক অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে গড়ে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৮টি, ডেমোক্র্যাট সমর্থক অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে গড়ে ভোট ১৩টি। ফলে এই হিসেবে যেকোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিপাবলিকান দলের প্রার্থীর চেয়ে খানিকটা বেশি সুবিধা নিয়েই যাত্রা শুরু করেন। এসব অঙ্গরাজ্য যদি তাদের অতীত ইতিহাস ধরে রাখে, তবে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ইতিমধ্যে ২৪২টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের আশা করতে পারেন, অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করতে পারেন ১০২টি ভোটের। এই একই বিবেচনায় নির্বাচনের কথা উঠলেই শোনা যায় ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটের কথা, অর্থাৎ যেগুলো কোন দিকে ভোট দেবে, আমরা তা ইতিহাস থেকে বলতে পারি না। এ রকম অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা সব নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এক নয় এটা ঠিক; কিন্তু কিছু অঙ্গরাজ্য এ জন্যই পরিচিত, যার মধ্যে ফ্লোরিডার কথা আগেই উল্লেখ করেছি,
আর রয়েছে ওহাইও। ওহাইওর আরেক গুরুত্ব হচ্ছে তাঁর ইতিহাস—গত ১০টি নির্বাচনে পাঁচবার ডেমোক্র্যাট এবং পাঁচবার রিপাবলিকান প্রার্থী জিতেছেন; কিন্তু প্রতিবার ওহাইওর ভোটাররা যার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। একইভাবে ফ্লোরিডা ও নেভাডা নয়বার বিজয়ীর পক্ষে গেছে, কলোরাডো ও নিউ হ্যাম্পশায়ার গেছে আটবার করে। আমরা জানি যে নির্বাচন মানেই অনিশ্চয়তা, অতীতে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা দিয়ে সব নির্ধারিত হয় না। তা ছাড়া যেসব অঙ্গরাজ্যে গত নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ বা তার কম ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হয়েছে, সেগুলোকে নির্বাচনের পর্যবেক্ষকেরা ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ বলেই ধরে নেন। ফলে প্রতিটি নির্বাচনেই আমরা নতুন তালিকা দেখতে পাই। সে হিসেবে ২০১৬ সালের নির্বাচনের প্রচারণার গোড়াতে ১১টি অঙ্গরাজ্যকে এ রকম সুয়িং স্টেট বা ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: কলোরাডো অঙ্গরাজ্য, ফ্লোরিডা, আইওয়া, নেভাডা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য। এসব অঙ্গরাজ্যে মোট ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১৪৬। ফলে এর একটা বড় অংশ যাঁর পক্ষে যাবে, তাঁর বিজয়ের পথ হবে সুগম। এসব অঙ্গরাজ্যের সাম্প্রতিক যে জনমত জরিপগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আপাতত কোনো সুখবর নেই। এর প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই ট্রাম্প পিছিয়ে আছেন। শুধু তা–ই নয়, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন এতটাই বেশি যে কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে বড় ও নাটকীয় ধরনের ঘটনা না ঘটলে এগুলো ইতিমধ্যে ট্রাম্পের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভার্জিনিয়া, কলোরাডো,
উইসকনসিন, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও পেনসিলভানিয়া। শুধু তা-ই নয়, এত দিন ধরে যেসব অঙ্গরাজ্যকে রিপাবলিকান পার্টির শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচনা করা হতো, সে ধরনের দুটি অঙ্গরাজ্যে হিলারির প্রতি সমর্থনের মাত্রা রিপাবলিকানদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; সেগুলো হচ্ছে অ্যারিজোনা ও জর্জিয়া। অ্যারিজোনা গত ৪০ বছরে মাত্র একবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে জয়ী করেছে। এ থেকেই বোঝা যায় যে এই অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকানদের কোন রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলা করতে হবে তা কখনোই ভাবা হয়নি। কিন্তু গত কয়েক দিনের যেসব জরিপ, তাতে মনে হচ্ছে এগুলো এখন আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর ধরাছোঁয়ার বাইরে নেই। এসব জনমত জরিপের ফলাফল এবং গত কয়েক সপ্তাহের প্রবণতা সত্ত্বেও বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নেই যে নির্বাচনের বাকি ১১ সপ্তাহ। বলা হয়ে থাকে, রাজনীতিতে এক দিন এক মাসের চেয়েও বেশি সময়; সেখানে ১১ সপ্তাহ যে কত দীর্ঘ সময় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নির্বাচনের সময় একটি ঘটনাতেই সবকিছু বদলে যেতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ‘অক্টোবর সারপ্রাইজ’ বলে একটা কথা চালু আছে, যা সাধারণত এগিয়ে থাকা প্রার্থীর জন্যই বিপদ ঘটায়। তেমন কিছু হিলারি ক্লিনটনের জন্য অপেক্ষা করছে কি না, তা বলা মুশকিল; তবে গত কয়েক সপ্তাহের ধারা অব্যাহত থাকলে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামনের দিনগুলো খুব আশাব্যঞ্জক নয়।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের তাগিদ প্রয়োজন

অস্বাভাবিক মাত্রায় জনঘনত্বের এই দেশে যখন প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমেই বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন যদি দেখা যায় যে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ সংরক্ষণের আইন ও নিয়মকানুনগুলো মেনে চলছে না, তখন বেশ উদ্বিগ্ন হতে হয়। কারণ, পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার কতটা আন্তরিক, তা ফুটে ওঠে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের আচরণে। তাদের আচরণে যদি পরিবেশের প্রতি অসংবেদনশীলতাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাহলে নাগরিক পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলার তাগিদ থাকে না। শনিবারের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক সচিত্র প্রতিবেদনে বর্ণিত হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কয়েকটি শিল্পকারখানা কীভাবে ও কী মাত্রায় পরিবেশের দূষণ ঘটাচ্ছে। বিসিআইসির ১৪টি শিল্পকারখানার ১০টিতেই পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ করে চলেছে। অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা চালু করারই কোনো সুযোগ নেই।
সাতটি কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নেই। অথচ আইন অনুযায়ী, ইটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার পরেই কেবল কারখানা স্থাপনের অনুমোদন পাওয়ার কথা। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা, কারাদণ্ড দেওয়া ও জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব বিধান কখনো প্রয়োগ করার দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরকে হঠাৎ হঠাৎ তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। গত বছর তারা পরিবেশদূষণের অপরাধে ৩০০ বেসরকারি শিল্পকারখানাকে জরিমানা করেছিল। কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষার ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে, তাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাগিদ দেওয়া প্রয়োজন। পরিষ্কারভাবে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন যে সরকার পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

Saturday, August 27, 2016

বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত
সৈকতে পরিধেয় মেয়েদের পুরো শরীর ঢেকে রাখার পোশাক বুরকিনির ওপর ফ্রান্সের একটি শহরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত এক রায়ে বলেছেন, ভিলেনাভ-লুবেত শহর কর্তৃপক্ষের ওই নিষেধাজ্ঞা মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মারাত্মক ও স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ রায় এখন অন্য ৩০টি শহরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ওপরও প্রযোজ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে দেবেন। বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জনমত জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্সের অধিকাংশ মানুষ ওই নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে। পর্যটন শহর নিসে ট্রাক নিয়ে সম্প্রতি প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার পর উপকূলীয় শহরগুলোর মেয়ররা জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফরাসি সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের যুক্তি দেখিয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে ফরাসি সরকারের মধ্যে দৃশ্যত এ নিয়ে বিভক্তি রয়েছে।

বলিভিয়ায় মন্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করলেন খনি শ্রমিকেরা

বলিভিয়ার পানদুরো এলাকায় রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়ে
বিক্ষোভ করছেন খনি শ্রমিকেরা। খনি আইন নিয়ে সেখানে
শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে। এএফপি
বলিভিয়ার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোদোলফো ইলানেসকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা করেছেন বিক্ষোভরত খনিশ্রমিকেরা। খনি আইন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যস্থতা করতে গেলে মন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেইমি ফেরেইরার উদ্ধৃতি দিয়ে লা রাহন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে,
উপমন্ত্রী রোদোলফো ইলানেস বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী লাপাজের ১৬০ কিলোমিটার দূরে পানদুরো থেকে দেহরক্ষীসহ অপহৃত হন। তিনি সেখানে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস রোমেরো বলেছেন, ‘সব তথ্যপ্রমাণে’ বোঝা যাচ্ছে, তাঁকে সেদিন সন্ধ্যায় পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘুষের বিনিময়ে তালিকাভুক্ত!

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বরিশালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (বিএলপি) সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উৎকোচ নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিএলপি প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করেছেন বলে বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। বিএলপি প্রকল্পে পাঁচটি উপজেলায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রমের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় ৩০০ কেন্দ্র স্থাপন করে ছয় মাস ধরে পাঠদান করা হবে। এর অধীনে ১৮ হাজার দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে। যেসব বেসরকারি সংস্থাকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি সেগুলোর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিএলপি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় এনজিওর মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বানপত্র (আরএফপি) দেওয়ার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগ্রহপত্র আহ্বান করে।
এতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্র জমা দেয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাই করে ১৬টি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিএলপি প্রকল্পের সহকারী পরিচালক সুবিমল চন্দ্র হালদার উৎকোচ নিয়ে অযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করেছেন। কোনো দিন উপানুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেয়নি ও অফিস নেই, এমন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সুবিমল চন্দ্র হালদার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমাদের দেশে সরকারি কাজে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বিএলপি প্রকল্পের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগ সত্যি হলে ঘুষ গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিএলপি প্রকল্পে যেন যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হয়, সে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সৌদি আরবে মানবেতর জীবন

যখন সৌদি আরবে নতুন করে জনশক্তি পাঠানোর কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে, তখন সেই দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবেতর জীবনের খবর আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি ওজার নামের একটি বড় কোম্পানিতে প্রায় আট মাস ধরে ১ হাজার ৬০০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় তাঁদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাদ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪২ বাংলাদেশি শ্রমিক চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। তেলের দাম কমে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরেই সৌদি আরবে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ফলে অনেক কোম্পানি শ্রমিক ছাঁটাই করছে; অনেক কোম্পানি নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। এই সব প্রবাসী শ্রমিক খুবই কম বেতন পান এবং তাঁদের উপার্জনের ওপর দেশে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনেরা নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে কেবল প্রবাসী শ্রমিকেরা নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় পড়েছেন।
এ অবস্থায় শ্রমিকেরা বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসের সহায়তা আশা করেন। কিন্তু পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বকেয়া বেতন আদায়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চাপ দিলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেছেন, সাময়িক অসুবিধা দূর করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি আরবে ৫৩ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। যে দেশে শ্রমিকেরা কাজ করছেন, তাঁদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যাপারে সেই দেশটির দায়িত্ব আছে। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সরকার সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হয়ে পড়লে, কিংবা আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা সেসব কোম্পানির কাজ হারালে, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। সৌদি আরব যেখানে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার কথা বলছে, সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা মানবেতর জীবনযাপন করবেন, এটি মেনে নেওয়া যায় না।

Friday, August 26, 2016

ইতালিতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবন শুরু করার চেষ্টা

ভূমিকম্প আঘাত হানার পর একদিকে স্বজন হারানোর
শোক; অন্যদিকে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। এই নিয়ে এই
দুই ইতালীয় নারীর মতো অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন
একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। গতকালের ছবি। রয়টার্স
ইতালির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০-এ গিয়ে ঠেকেছে। ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যাওয়া পাহাড়ি গ্রামগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আরও মৃতদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন উদ্ধারকারীরা। ভূমিকম্পের পর গৃহহারা হাজার হাজার মানুষ তাঁবুতে এমনকি নিজেদের গাড়িতে রাত কাটিয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে কাছের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবারের ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার পরাঘাত অনুভূত হয় বিভিন্ন জায়গায়।
ইতালির সরকারি সিভিল প্রটেকশন নেটওয়ার্ক বলছে, গতকাল পর্যন্ত গুরুতর অবস্থায় ২৬৪ জন মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জীবিত আর কাউকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অনেকেই ২০০৯ সালের ভূমিকম্পের সময়ের কথা স্মরণ করেন। সেবার ৭২ ঘণ্টা পরও মানুষকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছোট এক মেয়েশিশুকে। ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গতকাল বৃহস্পতিবার পেসকারা দেল ত্রন্তো গ্রাম থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটির বয়স ১০-এর কম হবে। উদ্ধারকারীদের একজন বলেন, তিনি ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে শুনতে পান মৃদু শব্দ। সেখানে কিছু ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে দেখতে পান ছোট দুটি পা।
প্রবল ভূমিকম্প প্রত্যন্ত অনেক গ্রামে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। পরিণত করেছে ভুতুড়ে গ্রামে। এমনই একটি জায়গা আরকুয়েতা। এর মেয়র আলেন্দ্রো পেত্রুসি বলেন, ‘আমরা যদি কোনো সহায়তা না পাই তবে আরকুয়েতা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ শুধু এ গ্রাম থেকেই ৫৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরকুয়েতার ১৫টি এলাকায় ঠিক কত মানুষ বসবাস করত, তার হিসাব আসলে নেই। শীতকালে এসব গ্রাম একেবারে জনশূন্য হয়ে যায়।’ এই ধ্বংস, মৃত্যু, ভীতির মধ্যেও ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদগুলো নতুন করে গড়ে তোলার কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি গতকাল এক জরুরি বৈঠকের পর বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখন সবকিছু গড়ে তোলা। নতুন করে শুরু করা।’

শুধুই টাকার খেলা!

হিলারি ক্লিনটন,ডোনাল্ড ট্রাম্প
এ বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট খরচ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে। দুই প্রধান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যত না ছুটছেন ভোটের পেছনে, তার চেয়ে বেশি অর্থের পেছনে। আপাতত এই খেলায় এগিয়ে আছেন হিলারি ক্লিনটন। জুলাই মাসে হিলারি ক্লিনটন চাঁদা তুলেছেন প্রায় ৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে ট্রাম্প তুলেছেন প্রায় ৮ কোটি। আগস্ট মাসের হিসাব এখনো মেলেনি, তবে হিলারি যে হারে ‘ফান্ড রেইজিং ডিনারের’ আয়োজন করছেন, তা থেকে স্পষ্ট, তিনি বেশ কয়েক কদম এগিয়ে। হিলারি দাবি করেছেন, তাঁর তোলা অর্থের প্রায় অর্ধেকই এসেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, যারা গড়ে ২০০ ডলার করে চাঁদা পাঠিয়েছে। তবে জুলাই মাসের হিসাব থেকে দেখা যায়, এই পরিমাণ গড় চাঁদা দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও কম। তুলনায় ‘সমাজতন্ত্রী’ বার্নি স্যান্ডার্স বাছাই পর্বের নির্বাচনে যে ২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার তুলেছিলেন, তার সিংহভাগই এসেছিল গড়ে ২৭ ডলার চাঁদা থেকে।
সাধারণ মানুষের কথা বললেও হিলারি ও ট্রাম্প উভয়েই এখন ছুটছেন মোটা টাকার পেছনে। গত সপ্তাহে হিলারির সমর্থনে হলিউডে যে তারকাখচিত ডিনারের আয়োজন করা হয়, তাতে প্রতি প্লেটের জন্য দাম ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪০০ ডলার। এতে ‘হোস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর, তিনি আসতে না পারায় সে ভূমিকা গ্রহণ করেন পপ গায়ক জাস্টিন টিম্বারলেক ও অভিনেত্রী জেসিকা বিল। দুই সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডায় হিলারির সমর্থনে একাধিক ফান্ড-রেইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়, এর মধ্যে মায়ামি বিচ শহরে আয়োজিত এক ডিনারে মাথাপিছু প্লেটের দাম ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার ডলার। তবে এই ডিনারে হোস্টের হিসাবে দায়িত্ব পালনের সম্মান অর্জনের জন্য তাদের কমপক্ষে ১ লাখ ডলার চাঁদা দিতে হয়। খুবই ব্যক্তিগত পার্টি, ফলে কোনো সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে লোকমুখে যে খবর বেরিয়েছে, তাতে দেখা যায়, হিলারি সেখানে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসমতার কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে মিশিগানেও ফান্ড-রেইজিং ডিনারে অংশ নেন হিলারি। প্লেটপ্রতি ২৫ হাজার ডলার চাঁদার এমন একটি ডিনারে অতিথিদের গান গেয়ে শোনান বিখ্যাত গায়িকা আরিথা ফ্রাঙ্কলিন। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেখানে মোট অতিথির সংখ্যা ছিল ৭০। হিলারি ও ট্রাম্প উভয়েই তাঁদের শতকোটিপতি বন্ধুদের কাছে অর্থের আবেদন করেছেন। অধিকাংশ রিপাবলিকান ধনকুবের এবার ট্রাম্পকে এড়িয়ে চলছেন। হিলারির সেই সমস্যা নেই। জর্জ সরোস, ওয়ারেন বাফেটসহ প্রায় দুই ডজন শীর্ষ ধনকুবের পকেট খুলে তাঁকে চাঁদা দিয়ে সাহায্য করছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো প্রায় তিন মাস বাকি। যে হারে এই দুই প্রার্থী চাঁদা তুলছেন, তাতে অনেকের বিশ্বাস, এ বছর শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন খাতে যুক্তরাষ্ট্রে কম করে হলেও ৫০০ কোটি ডলার খরচ হবে।

কড়া পদক্ষেপ নিন, রোগীদের হয়রানি দূর করুন

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে এখন দালালদের দৌরাত্ম্য। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা দালালদের হাতে নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখনো কড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কিছু দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে নিজেদের হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভর্তি, শয্যা পেতে এবং রোগ পরীক্ষাসহ নানা কাজে সহযোগিতার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা। অনেক সময় বকশিশ নিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানিও করেন তাঁরা। কম দামে ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আর ফিরে আসেন না অনেক দালাল। হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও চলছে ১০০ শয্যার অবকাঠামো ও সরঞ্জামাদি নিয়ে। অথচ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন।
বোঝা যায় দুর্বল অবকাঠামো ও জনবলসংকটে দালালেরা রোগীদের হয়রানি করার সুযোগ পাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা পদক্ষেপ নিয়েও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা যাচ্ছে না। একটি সরকারি হাসপাতালের এমন চিত্র মেনে নেওয়া যায় না। দালালেরা প্রকাশ্যে তাঁদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণটি বোধগম্য নয়। গত শনিবার দালালবিরোধী এক অভিযানে মাত্র দুজন দালালকে আটক করে পুলিশ। নিয়মিত নজরদারি থাকলে দালালদের ঠেকানো কঠিন হওয়ার কথা নয়। এ ছাড়া হাসপাতালে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ জরুরি। হাসপাতালের লোকজনের সঙ্গে দালালদের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা আশা করব, হাসপাতালটিকে দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত করাসহ হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ ও রোগীদের দুর্ভোগ দূর করার সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরোনো প্রতিবেশী, নতুন সম্পর্ক

অং সান সু চির চীন সফরের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মিয়ানমার সফর করলেন। মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম ভারতের কোনো নেতার উচ্চপর্যায়ের মিয়ানমার সফর। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমার এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তবে জান্তা আমলের আইন অনুসারে সু চি প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও সরকারের ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। জান্তার আইন অনুসারে, যাঁর স্বামী বা সন্তানের বিদেশি নাগরিকত্ব আছে, তিনি দেশের নির্বাহী পদে আসীন হতে পারবেন না। আর সু চির ছেলেদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে। সুষমা স্বরাজের এই সফরের আগে ভারতের সেনারা মিয়ানমারের সীমানায় ঢুকে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে বোঝা যায়, এই দেশ দুটির মধ্যে সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহ মোকাবিলায় ঐকমত্য রয়েছে। স্বরাজের এই সফরে মিয়ানমার নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে: সে তার ভূমি ভারতবিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে দেবে না। আর স্বরাজ সু চিকে আশ্বস্ত করেছেন, ভারত তাদের ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা’ করবে।
সব পরাশক্তিই এখন মিয়ানমারের দ্বারস্থ হচ্ছে, ফলে ভারতীয় কূটনীতির সামনে কঠিন সময়। ওদিকে সু চির চীন সফরের সময় চীন ও মিয়ানমার ‘রক্তের ভাই’ হিসেবে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে চীনের উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে, ৩৬০ কোটি ডলারের মিতসোন বাঁধ প্রকল্প। পরিবেশবাদীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এই বাঁধের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। যদিও সু চি তখন এর নির্মাণকাজ স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন, এবার তিনি বেইজিংকে আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুতই এর ফয়সালা করা হবে। কারণ, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের চীন সীমান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কাজ করছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য চীনের সহায়তা জরুরি। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নতুন সরকারের ওপর সেনা প্রভাব ও রোহিঙ্গাসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে মিয়ানমারের অবস্থানের কারণে উদ্বিগ্ন, তারা মিয়ানমারের ওপর থেকে প্রায় তিন দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওবামা প্রশাসন মিয়ানমারের এই গণতান্ত্রিক উত্তরণকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে মনে করে। এদিকে ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ভারত মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ব্যাপক সমালোচনা করেছে। ভারতের ক্ষমতাশালীরা অং সান সু চির স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রশংসাও করেছেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকের মধ্য ভাগে ভারত ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করায় সে জান্তার সমালোচনা করা ছেড়ে দেয়। সু চির প্রতি মৌখিক সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভারতের গণতন্ত্রপ্রীতির কারণে মিয়ানমার একসময় চীনের দিকে ঘেঁষে যায়। ভারত দ্রুতই বুঝে যায়, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সহযোগিতা বেড়ে গেছে। চীন অস্ত্র থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য সবই মিয়ানমারের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। চীনা কোম্পানিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিয়ানমারের গ্যাস ব্লকের ইজারা পেতে শুরু করে। তার কারণ হচ্ছে, চীন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার-বিষয়ক পদক্ষেপের বিরোধিতা করায় তারা এই পুরস্কার পায়। ভারত বুঝে যায়, মিয়ানমারে চীনের নৌশক্তির উপস্থিতি বাড়তে থাকলে ভারত মহাসাগরে তার শক্তি প্রদর্শন করা কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে ভারত পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার-বিষয়ক তার বহু পুরোনো নীতি বদলে ফেলা ছাড়া ভারতের আর তেমন কিছু করার ছিল না। জান্তাকে একঘরে করার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে সে তার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হয়। তা ছাড়া, ভারতের কৌশলগত স্বার্থের জন্য মিয়ানমারকে কিছুটা গণতন্ত্রমুখী করা দরকার ছিল। ২০০৮ সালে নার্গিস সাইক্লোনের পর ভারত মিয়ানমারকে সহায়তা করলে সে দেশটির অভিজাত ক্ষমতাচক্রের আস্থা লাভ করে।
সে যে এটা হারাতে চায়নি, তা ঠিকই আছে। ফলে ভারত যে মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কয়েক বছরের আলোচনার পর ভারত ২০০৮ সালে সিতওয়ে বন্দর নির্মাণে রাজি হয়, যেটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন পথের সন্ধান দেয়, যাতে আর বাংলাদেশ হয়ে যেতে না হয়। এ ছাড়া থানলিন রিফাইনারির সংস্কারের জন্য ভারত মিয়ানমারকে দুই কোটি ডলারের ঋণ দেয়। ২০০১ সালে নির্মিত ১৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভারত-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক ছাড়াও ভারত দ্বিতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ করছে, সাগর সমৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। আর পশ্চিম মিয়ানমারের শিউ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পেও কাজ করছে সে। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে মিয়ানমার নাগা বিদ্রোহীদের দমনে ভারতকে সহযোগিতা করেছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়ায় ভারতের কৌশলগত কারিগরি সহায়তা করার সুযোগ আরও বেড়েছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র বলতে আসলে কী বোঝায়, তা বুঝতে হবে ভারতকে দেখে।’ সুষমা স্বরাজের সফরের সময় তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, অতীতের মতো এখনো ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক শুধু গণতন্ত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে না।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, দ্য হিন্দু থেকে নেওয়া।
হর্শ ভি পান্ট: লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক।

Thursday, August 25, 2016

খাটের তলায় ফেলে রাখা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুক্তা!

৩৪​ কিলোগ্রাম ওজনের মুক্তাটি
ফিলিপাইনের একজন জেলের কুটিরে ‘বিশ্বের বৃহত্তম’ মুক্তার খোঁজ মিলেছে। এক দশক ধরে খাটের নিচে এটি ফেলে রেখেছিলেন তিনি। তবে এর আর্থিক মূল্যমান জানা যায়নি। ফিলিপাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ খবর জানিয়েছে। পুয়ের্তো প্রিন্সেসা শহরের পর্যটন বিভাগের প্রধান সিনথিয়া আমুরাও বলেন, মুক্তাটির ওজন ৩৪ কিলোগ্রাম (৭৫ পাউন্ড। এক অতিকায় সামুদ্রিক ঝিনুক থেকে এটি পাওয়া গেছে। ১০ বছর আগে এক দিন মাছ ধরার সময় সমুদ্রে ঝড় উঠলে ওই জেলের বইঠায় ঝিনুকটি আটকে যায়। এ জেলে সম্পর্কে নিজের ভাগনে বলে এই কর্মকর্তা জানান। আমুরাও বলেন, মুক্তাটির দাম জানা না গেলেও অন্তত কোটি ডলার হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। ১২ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি আয়তনের মুক্তাটি তাঁর ভাগনে ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ পালাবনে নিজের কুঁড়েঘরের খাটের নিচে সৌভাগ্যের কবচ মনে করে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এ বছরের জুলাইয়ে বাসা পাল্টানোর সময় তিনি মুক্তাটি তাঁর কাছে এনে লুকিয়ে রাখতে বলেন।
এএফপিকে এই পর্যটন কর্মকর্তা বলেন, ‘খাবার টেবিলের ওপর মুক্তাটি রাখার পর তা দেখে আমি বিস্মিত হয়ে যাই। আমি তাঁকে বলেছি, এর দাম না জানায় এটি লুকিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। বরং জনসমক্ষে এটি প্রদর্শন করা হোক।’ এরপর ভাগনের সম্মতিক্রমে পুয়ের্তো প্রিন্সেসা শহরের সিটি মিলনায়তনে গত সোমবার মুক্তাটি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। সরকারি ফেসবুকেও এটির ছবি ছাড়া হয়েছে। মুক্তাটির মান ও দাম যাচাইয়ে রত্নবিশারদেরা এ শহরে আসবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে গত শতকের ৩০-এর দশকে ফিলিপাইনের পালাবন দ্বীপের সৈকতে ১৪ কিলোগ্রাম ওজনের মুক্তা ‘পার্ল অব আল্লাহ’র সন্ধান পাওয়া যায়। সেটিকেই এখন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তা বলে ধরা হয়ে থাকে। রত্নবিশারদেরা এর দাম নির্ধারণ করেছেন এক কোটি ডলার। পুয়ের্তো প্রিন্সেসা শহরের তথ্য কর্মকর্তা রিচার্ড লিগাড সাম্প্রতিকতম এই মুক্তার সন্ধান পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, মুক্তার মালিক মুক্তাটি সরকারি কোষাগারে দান করার ব্যাপারে কোনো চুক্তি করেননি। তাই এখন পর্যন্ত এটি তাঁর সম্পত্তি হিসেবেই রয়েছে।

বুরকিনি নিষিদ্ধের পর বিক্রি বেড়েছে ২০০ শতাংশ

পোশাক ডিজাইনার আহেদা জানিত্তি
সমুদ্রসৈকতে পরিধেয় মেয়েদের পুরো শরীর ঢেকে রাখার পোশাক বুরকিনির ওপর ফ্রান্সের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পর সারা বিশ্বেই এর বিক্রি বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পোশাক ডিজাইনার আহেদা জানিত্তি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার পর অনলাইনে বুরকিনির বিক্রি ২০০ শতাংশ বেড়েছে। আহেদা জানিত্তি বলেন, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ২৩টি শহরে বুরকিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এর প্রতি লোকজনের আগ্রহ বেড়েছে। এর সম্ভাব্য ক্রেতাদের বেশির ভাগই অমুসলিম।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ত্বকের ক্যানসারের রোগী এবং সৈকতে পুরো শরীর ঢেকে রাখতে আগ্রহী নারীরা। তিনি বলেন, ‘গত রোববারই অনলাইনে ৬০টি বুরকিনির অর্ডার পেয়েছি, যারা সবাই অমুসলিম।’ তিনি বলেন, এর আগে ছুটির দিনে তাঁরা সাধারণত ১০-১২টির মতো অর্ডার পেতেন। এই ডিজাইনার আরও বলেন, তিনি ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৭ লাখ বুরকিনি বিক্রি করেছেন। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পর তাঁর ডিজাইন করা পোশাককে সমর্থন করে প্রচুর লোক তাঁকে ই-মেইলও করেছেন।