Monday, March 3, 2025
বিবিসি বাংলাকে ড. ইউনূস: একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আনসেটেল করার জন্য
‘একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে (দেশটাকে) আনসেটেল (অস্থিতিশীল) করার জন্য’-এই মন্তব্য অধ্যাপক ইউনূসের।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রায় সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও নির্বচন, ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল গঠনসহ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির প্রশ্নেও। প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির।
পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-
বিবিসি বাংলা: সর্বশেষ যখন আপনার সাথে আমার কথা হচ্ছিলো ঠিক এক বছর আগে, এরমধ্যে একটা বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে বাংলাদেশে। আপনি তখন একটা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন, আপনি বলছিলেন গ্রেপ্তার আতঙ্কের কথা। সেখান থেকে আপনি প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন, যার ছয় মাস পার হয়ে গেছে। এই ছয় মাসকে আপনি কীভাবে দেখেন? আপনি যা করতে চেয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাতে কতটা সফল হয়েছেন?
প্রধান উপদেষ্টা: প্রথমেই একটা সংশোধনী বলি, প্রেপ্তার আতঙ্ক – আমার কাছে কোনো আতঙ্ক ছিল না। একটা সম্ভাবনা ছিল যে আমাকে নিয়ে যাবে। আই ওয়াজ টেকিং ইট ইজি যে নিলে নেবে, আমারতো করার কিছু নাই। যেহেতু আইন-কানুন নাই দেশে, কাজেই তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। ওরমধ্যে দিয়ে জীবন চলছিলো আমার। সরকার যখন গঠন হলো, আমার কোনো চিন্তা ছিল না, ভাবনা ছিল না যে আমি হঠাৎ করে একটা সরকারের প্রধান হবো, দায়িত্ব পাবো। এবং সেই দেশ এমন দেশ, যেখানে সব তছনছ হয়ে গেছে। কোনো জিনিস আর ঠিকমতো কাজ করছে না। যা কিছু আছে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হবে।
কাজেই আমার প্রথম চেষ্টা ছিল সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা। মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে আনা। সেই চেষ্টাটার মধ্যে ছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে ভবিষ্যতটা কী হবে, সেটার জন্য চিন্তা করা – কোনদিকে আমরা অগ্রসর হবো।
প্রথম চিন্তা আসলো যে একটা সংস্কার দরকার আমাদের। কারণ যে কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, ফ্যাসিবাদী সরকার চলতে পেরেছে। ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে, আমরা কিছুই করতে পারি নাই। তিন-তিনটা নির্বাচন হয়ে গেলো, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকমের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা, মিসরুল ইত্যাদি – সেখান থেকে আমরা কীভাবে টেনে বের করে আনবো। টেনে বের করে আনতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে। সেজন্য প্রথমে আমরা ঠিক করলাম...
বিবিসি বাংলা: কতটা টেনে বের করে আনতে পেরেছেন বলে মনে হয় আপনার কাছে?
প্রধান উপদেষ্টা: সংস্কারের বিষয়ে? সংস্কারতো এখনও শুরু করিনি...
বিবিসি বাংলা: না, যে বিষয়ে আপনি বলছিলেন যে যখন প্রধান উপদেষ্টা হলাম তখন এক ধরনের পরিস্থিতি ছিল...
প্রধান উপদেষ্টা: অনেক পরিবর্তন...
বিবিসি বাংলা: কতটা পরিবর্তন? আপনার চোখে কী মনে হয়?
প্রধান উপদেষ্টা: বহু পরিবর্তন। এটা আমি বলবো, যে ধ্বংসাবশেষ থেকে এসেছিলাম, তার নতুন চেহারা আসছে। ভেসে উঠছে যে, আমরা অর্থনীতি সহজ করেছি। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করেছি। এটাতো পরিষ্কার- সারা দুনিয়ায় আমরা আস্থা স্থাপন করতে পেরেছি। এটা কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না যে আমি অমুক দেশের আস্থা অর্জন করতে পারিনি। যে দেশেই বলুন, তারা আমাদের উপর আস্থা স্থাপন করেছে। শুধু আস্থা স্থাপন করেছে না, বিপুলভাবে করেছে। তারা বলছে আমরা অতীতে যা করি নাই তারচেয়ে বেশি করবো এখন, যেহেতু আমরা দেখছি যে সুন্দরভাবে সরকার চলছে এখন। সেইজন্য তারা বলছে। কাজেই এটা একটাতো বড় প্রমাণ। যখনই আপনি দেশের সারিগুলো দেখবেন- প্রত্যেকটা দেশ নিজে এসে বলেছে, আমরা তোমাদের সমর্থন করছি। তোমাদের যা দরকার আমরা দেবো। অবিশ্বাস্য রকমের সহায়তা দিয়েছে তারা।
বিবিসি বাংলা: বিদেশে আপনি আস্থা এবং সমর্থনের কথা বলছেন, আমি যদি দেশের প্রসঙ্গে আসি- আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আসি। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কিন্তু অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এবং আমি যদি পুলিশের এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান দেখি, অপরাধ কিন্তু বেশ কিছুটা বেড়েছে। তো এটা আপনারা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?
প্রধান উপদেষ্টা: আস্থার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, আস্থার কথাতেই ফিরে যাই, দেশ-বিদেশের আস্থা। দেশের মানুষের আস্থা আছে কিনা আমদের উপর এটাইতো বড় কথা।
আমার মনে হয়, দেশের মানুষের আস্থা আমাদের উপর আছে। বিপুল পরিমাণে আছে। কাজেই সেটা হলো বড় প্রমাণ। আমরা কী করছি না করছি- এগুলো খুচরো বিষয় আছে। আমাদের খুচরো বিষয় এটাতে ভালো, ওটাতে মন্দ- কিছু ভালো, কিছু মন্দ, হতে থাকবে। এটা একটা অপরিচিত জগৎ, আমরা এসেছি। আমরা কোনো এক্সপার্ট এখানে এসে বসি নাই। আমরা এসেছি যার যার জগৎ থেকে এসেছি, নিজের মতো করে চেষ্টা করছি কীভাবে করতে পারি। তারমধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিছু ভালো করেছে, কিছু ভালো করতে পারেনি। এটা হতে পারে। এটা আমিতো অস্বীকার করছি না।
বিবিসি বাংলা: ভালো হয়নি কোনটা আপনার চোখে?
প্রধান উপদেষ্টা: কোনোটাই ভালো হয়নি সে অর্থে। যত ইচ্ছা আমদের –আমাদের ইচ্ছাতো অনেক। রাতারাতি দেশ পরিবর্তন করতে চাই। সেটাতো আমরা পারি নাই। সময় লাগবে।
আমরা চেয়েছিলাম যে এখনই আমরা সংলাপটা শুরু করবো। এটাও পারি নাই। সংলাপ শুরু হতে হতেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। এগুলা আর কি। যেগুলো সময়মতো আমরা করতে চেয়েছি, ওই সময়ে করতে পারিনি।
আমরা অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করেছি। আমাদেরকে ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের রিপোর্ট দেয়ার কথা। তারা দিতে পারে নাই। আমি অভিযোগ করছি না। কারণ বিশাল একটা কাজ। আরেকটু সময় চেয়েছে- এক মাস, দুই মাস। ওইটুকু একটু পিছিয়ে গেছে। এগুলো আর কী। কাজ করতে গেলে যা হয়।
‘অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি’
বিবিসি বাংলা: সংস্কারের কথা বলছিলেন, আমরা যদি আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ফিরে আসি, পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, অনেকেই বলছেন যে তারা নানা রকম ভয়ে আছেন, আতঙ্কে আছেন – যেহেতু অপরাধটা তারা দেখছেন, রাস্তাঘাটে যেটা হচ্ছে। এটা আপনারা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?
প্রধান উপদেষ্টা: অবনতিটা কোন পয়েন্ট থেকে হয়েছে? এটা বলতে হবেতো আমাকে। আপনি বলছেন অবনতি হয়েছে। কোন রেফারেন্স পয়েন্ট থেকে অবনতিটা হয়েছে? সেটা না দিলেতো আমরা বুঝতে পারবো না।
বিবিসি বাংলা: আমি যদি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের কথা বলি, গত বছর এই সময় থেকে অপরাধের পরিমাণ রাস্তাঘাটে যেমন...
প্রধান উপদেষ্টা: আমিতো হিসাব নিচ্ছি। অপরাধের পরিমাণ মোটেই বাড়েনি। আগের মতোই হয়েছে।
বিবিসি বাংলা: আমি যদি একটা পরিসংখ্যান আপনাকে দেই, গত ছয় মাসে ...
প্রধান উপদেষ্টা: একটা দিয়েতো আর বিচার হবে না; সমস্ত কিছু নিয়ে আসতে হবে।
বিবিসি বাংলা: ছয় মাসে ডাকাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এটা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী। সেটা আমি বলছি। হয়তো পরিসংখ্যান বিভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এটা আছে এবং হচ্ছে সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে?
প্রধান উপদেষ্টা: চেষ্টা করছি আমরা। সমস্যা আপনিও জানেন, আমিও জানি। প্রথম দিকে সমস্যা ছিল যে পুলিশ বাহিনী যাকে দিয়ে আমরা কাজ করাচ্ছিলাম, তারা ভয়ে রাস্তায় নামছিল না। দুইদিন আগে তারা এদেরকে গুলি করেছে। কাজেই মানুষ দেখলেই সে ভয় পায়। কাজেই তাকে ঠিক করতে করতেই আমাদের কয়েক মাস চলে গেছে। এখন মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। এখন আবার নিয়মশৃঙ্খলার দিকে আমরা রওনা হয়েছি। কাজ করতে থাকবো।
বিবিসি বাংলা: সেই অপরাধের পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, যেটাকে মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বলা হচ্ছে। যেমন গণপিটুনির একটা বিষয় দেখা গেছে। কিছুদিন আগের কথা যদি বলি, ধানমন্ডি ৩২সহ সারা দেশে অনেক ভবনে ভাঙচুর হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এগুলো চললেও সরকারের কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন ভূমিকা দেখা যায়নি। তখন কেন তেমন ভূমিকা দেখা গেল না? আপনি পরে এটা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন কেন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি?
প্রধান উপদেষ্টা: সময় নিচ্ছে। তারা প্রস্তুত হয়ে নিয়ে তাদের মানসিকতা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি। এটা একটা জিনিস হতে পারে। আরেকটা হলো যে আমরা তাদের বলেছি, যেকোনো পুলিশ স্টেশনে তারা যেকোনো রিপোর্ট করতে পারে। আইনের আশ্রয় নিতে পারে এবং সেটাকে আমরা সহজ করেছি এখন। বলছি তোমরা ইন্টারনেটে দিয়ে দিতে পারো, অনলাইন পেইজ করতে পারো। যাতে মামলা করতে গিয়ে, হয়রানি হয় – বরাবরই বাংলাদেশের যে ঐতিহ্য, থানাতে গেলে যে সমস্ত হয়রানি হয়, সেটা থেকে বাঁচার জন্য যেন অনলাইন করে। সেই অনলাইনের ব্যবস্থা করছে। যা যা আমাদের মনে হয়েছে যে মানুষকে সহজ করা যাবে, তাদের তথ্য আদানপ্রদান সহজ করা যাবে এবং মামলা করা সহজ করা যাবে, ইত্যাদি।
বিবিসি বাংলা: অনলাইনে তারা করতে পারছেন, সেটা আপনারা সহজ করেছেন কিন্তু আসল কাজটাতো পুলিশকে করতে হবে। আপনি যে বলছেন পুলিশ সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি, তারা নিজেরা আস্থা পাচ্ছে না বা তারা সেভাবে সক্রিয় হচ্ছে না। প্রায় সাত মাস হয়ে গেছে, এখনও তাদের আস্থার সংকটটা দূর করা গেল না?
প্রধান উপদেষ্টা: এখনও সম্ভব হয়নি। বাট চেষ্টা করছি। অনেক ইম্প্রুভ হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয় নাই।
ঐক্যের মধ্যে ফাটল?
বিবিসি বাংলা: আপনার দায়িত্ব গ্রহণর প্রসঙ্গে আসি। আপনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তার আগে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে তিনটি পক্ষকে সক্রিয় দেখা গিয়েছিল। একটি হচ্ছে সেই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা, রাজনৈতিক দলগুলো এবং তৃতীয় হচ্ছে সেনাবাহিনী। এই তিন পক্ষের সবাই আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তখন আপনাদের অন্তর্বর্তী সরকারের যে সম্পর্কটা ছিল, এখনও কি সেটা আছে? নাকি এখন সেই অবস্থা আর নেই?
প্রধান উপদেষ্টা: আমারতো অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। কেউ আমাকে অসমর্থন করছে, এরকম কোনো খবরতো আমি পাই নাই এখনও। সবাই সমর্থন করছে, সবাই চাচ্ছে যে সুন্দরভাবে দেশ চলুক, তাদের সবার মধ্যে ঐক্য আছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এরকম কোনো ঘটনা ঘটে নাই।
বিবিসি বাংলা: আমি যদি একজনের কথা বলি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি বক্তব্যে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা: জনমনে... ওনার মনে সন্দেহ হয়েছে কিনা এটা হলো কথা।
বিবিসি বাংলা: তাদের মনে কেন সন্দেহ তৈরি হবে?
প্রধান উপদেষ্টা: সে করেনি তো। সে কথাই বলছি। আমরা যখন বসি, কেউতো বলে নাই যে সন্দেহ হচ্ছে। সে বলছে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
বিবিসি বাংলা: মানে আপনাদের সামনে ভিন্ন কথা বলছে, কিন্তু বক্তব্যে ভিন্ন কথা বলছে। তাই কি হচ্ছে?
প্রধান উপদেষ্টা: ভিন্ন বলছে কিনা সেটা আপনারা বোঝেন। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি।
বিবিসি বাংলা: ছাত্রদের প্রসঙ্গে... ছাত্ররা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। বা এরইমধ্যে করে ফেলেছে। সে বিষয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে সরকার তাদের সহায়তা করছে। সরকার কি সহায়তা করছে তাদেরকে বা করেছে?
প্রধান উপদেষ্টা: না, সরকার কোনো সহায়তা করে না। যে রাজনীতি করতে চায়, সে নিজেই ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিল সরকারের ভেতরে। যিনি রাজনীতি করতে মন স্থির করেছেন, তিনি ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে চলে গেছেন। উনি প্রাইভেট সিটিজেনশিপে রাজনীতি করবেন, কার বাধা দেওয়ার কী আছে?
বিবিসি বাংলা: কিন্তু আপনি দায়িত্ব নেয়ার আগে এবং পরে বিভিন্ন সময় বলেছেন যে ছাত্ররাই আপনার বা আপনাদের নিয়োগকর্তা। সে কারণেই কি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি একটা সমর্থন আছে সরকারের?
প্রধান উপদেষ্টা: দেখিনিতো এখনও। দেখলে না ঠিক করবো যে ওদের কাজকর্ম ভালো হচ্ছে কিনা। প্রত্যকেরতো মনোভাব থাকবে যে ওই রাজনৈতিক দলটা সুন্দর কাজ করছে, ওই রাজনৈতিক দলটা ঠিক কাজ করছে না। এটা মনোভাব হতে পারে ব্যক্তিগতভাবে। সরকার হিসেবে আমাদের কোনো পজিশন নাই।
বিবিসি বাংলা: তাহলে আপনি কি বলবেন যে অভিযোগটা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেটা সঠিক নয়?
প্রধান উপদেষ্টা: সঠিক নয় মোটেই।
সেনাবাহিনী কি সহযোগিতা করছে?
বিবিসি বাংলা: সেনাবাহিনী থেকে কি আপনি সহযোগিতা পাচ্ছেন?
প্রধান উপদেষ্টা: সর্বাত্মকভাবে।
বিবিসি বাংলা: প্রথম থেকে যা ছিল, এখনও তাই?
প্রধান উপদেষ্টা: এবসুলেটলি।
বিবিসি বাংলা: আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে সম্প্রতি সেনাপ্রধান একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, অনেক বিষয়ে তিনি এবং আপনি একমত। তারমধ্যে তার একটি বক্তব্য ছিল যে, সবাই একসাথে কাজ করতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বা বিপন্ন হতে পারে। আপনি কি এই বক্তব্যের সাথে একমত?
প্রধান উপদেষ্টা: এটা ওনার বক্তব্য উনি বলবেন। আমার ওনাকে এনডোর্স করা না করারতো বিষয় না।
বিবিসি বাংলা: যেহেতু উনি বলেছেন অনেক বিষয়ে কথা হয়। আপনি অনেক বিষয়ে একমত। অথবা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা? সরকার প্রধান হিসেবে আপনি কী মনে করেন?
প্রধান উপদেষ্টা: এটাতো সবসময় থাকে। একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে আনসেটেল করার জন্য। এটাতো সবসময় থ্রেট আছেই। প্রতি ক্ষণেই আছে, প্রতি জায়গাতেই আছে। কাজেই এটাতো সবসময় থাকবে।
বিবিসি বাংলা: হুমকিটা কি আপনি বলছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ থেকে?
প্রধান উপদেষ্টা: অবশ্যই। এটাতো অবভিয়াস। তারা মাঝে মাঝেই ঘোষণা করছে। বক্তৃতা দিচ্ছে। এড্রেস করছে। আপনি-আমরা সবাই শুনছি। মানুষ উত্তেজিত হচ্ছে।
বিবিসি বাংলা: আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনারা বলেছেন বা আপনি এখন যেটা বললেন, তাদের দিক থেকে নানা কর্মকাণ্ড আছে। হুমকিটা কোথায়?
প্রধান উপদেষ্টা: এই যে এড্রেস করছে। জাগো, কাজে নামো ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক আহ্বান জানাচ্ছে না- কর্মসূচি দিচ্ছে, হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কীভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টি মুখে চলে যাবে সব?
বিবিসি বাংলা: অন্তর্বর্তী সরকারের একটা বড় লক্ষ্য হিসেবে আপনি সংস্কারের কথা বলেছেন। এটি নিয়ে আপনি অনেকগুলো কমিশনও গঠন করেছেন। কিন্তু এখন যেহেতু আপনারাই বলছেন যে বছরের শেষে নির্বাচন হবে। তো এই অল্প সময়ের মধ্যে আপনারা সংস্কার কতটা করতে পারবেন বলে মনে করেন?
প্রধান উপদেষ্টা: সেটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা একেবারে প্রত্যেকটা সুপারিশ দেবো। সুপারিশের সঙ্গে কথা থাকবে যে, আপনার রাজনৈতিক দল এটা কি সমর্থন করে? এটাতে রাজী আছেন? রাজী থাকলে বলেন, রাজী না থাকলে বলেন। বা এই যে সুপারিশটা আছে সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এনে রাজী হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে নাকি নির্বাচনের পরে – সব প্রশ্নের এখানেই সমাবেশ আছে।
রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে কোনটা? সবকিছু মিলালে আমরা এটা ঠিক করবো কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। সেটা আলাদা করবো যে এটাতে সবাই একমত হয়েছে। এরকম যে সমস্ত সুপারিশে তারা একমত হয়েছে, সেগুলো আমরা আলাদা একটা কাগজে নিয়ে আসবো যে এইসব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে এটাকে আমরা বলবো একটা চার্টার – জুলাই চার্টার।
এবং সবাইকে আহ্বান জানাবো, আপনারা সবাই যেহেতু একমত হয়েছেন এটাতে সই করে দেন। জুলাই চার্টারের মতোই আমরা চলবো। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনটা হবে। নির্বাচনের আগে যেটা বলেছেন সেটা নির্বাচনের আগে হবে, যেটা নির্বাচনের পরে বলেছেন সেটা নির্বাচনের পরে হবে। এটা আপনাদের বিষয়। কিন্তু আপনারা একমত হয়েছেন। সেই ঐকমত্যই আমরা গঠন করার চেষ্টা করছি।
বিবিসি বাংলা: তবে কি বলা যায় যে নির্বাচনটা এবছরের মধ্যেই হচ্ছে?
প্রধান উপদেষ্টা: আমরাতো সেটা ঘোষণা করে দিয়েছি। আবার নতুন করে বলারতো কিছু নাই।
বিবিসি বাংলা: সর্বশেষ যখন আপনার সাথে কথা হচ্ছিলো তখন আপনি একটা বিষয় বলেছিলেন যে আপনার ওপরে যে মামলা, হয়রানি – এসব কারণে আপনি ব্যক্তিগত জীবনে নানাভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন। এখন সরকারের সাত মাস হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থাকার পর আপনার ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে প্রভাবিত হয়েছে?
প্রধান উপদেষ্টা: আমিতো এখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি। এখনতো আমার জীবন অন্য রকমের। বদ্ধ ঘরে কাজ করার মতো জীবন। আমার এদিকে ওদিকে কাজ করার সুযোগ নাই। যেটুকু করার খুবই সীমাবদ্ধভাবে আমাকে ফোকাসড ওয়েতে সেগুলো কাজ চলছে। কাজেই ওটার সঙ্গে এটার কোনো তুলনা করতে পারছি না আমি। ওটা আমি ফ্রি জীবন। যা ইচ্ছা তাই করছিলাম। এখনতো আর সেটা করা যাচ্ছে না।
‘ভারতের সাথে মাঝখানে কিছু কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে’
বিবিসি বাংলা: গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি দেখা গেছে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে আছে?
প্রধান উপদেষ্টা: খুবই ভালো। আমাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয় নাই। আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছি আমাদের সম্পর্ক সবসময় ভালো থাকবে। এখনও ভালো আছে, ভবিষ্যতেও ভালো থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই। আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, আমাদের পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি এবং ঐতিহাসিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের এত ক্লোজ সম্পর্ক, সেটা থেকে আমরা বিচ্যুত হতে পারবো না। তবে মাঝখানে কিছু কিছু দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, আমি বলেছি মেঘ দেখা দিয়েছে। এই মেঘগুলো মোটামুটি এসেছে অপপ্রচার থেকে। অপপ্রচারের সূত্র কারা সেটা অন্যরা বিচার করবে। কিন্তু এই অপপ্রচারের ফলে আমাদের সঙ্গে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। সেই ভুল বোঝাবুঝি থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি।
বিবিসি বাংলা: ভারত সরকারের সাথে আপনার সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে?
প্রধান উপদেষ্টা: সবসময় যোগাযোগ হচ্ছে। তারা এখানে আসছে, আমাদের লোকজন সেখানে যাচ্ছে। প্রাইম মিনিস্টার মোদীর সঙ্গে আমার প্রথম সপ্তাহেই কথাবার্তা হয়ে গেছে।
বিবিসি বাংলা: ইলন মাস্কের সাথে সম্প্রতি আপনার কথা হয়েছে এবং তাকে আপনি বাংলাদেশে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা?
প্রধান উপদেষ্টা: এটা মূলত ছিল স্টারলিংক নিয়ে। এটা ব্যবসায়ীক একটা সম্পর্কের বিষয় ছিল। সেবিষয়ে আমরা আলাপ করছি যে স্টারলিংকের কানেকশনটা আমরা নিতে চাই।
আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না?
বিবিসি বাংলা: আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে, বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। এটা নিয়ে আপনার অবস্থানটা কী?
প্রধান উপদেষ্টা: ওই যে ঐকমত্য। আমরা বরাবরই ফিরে যাচ্ছি ঐকমত্যে। সবাই মিলে যা ঠিক করবে আমরা তাই করবো।
বিবিসি বাংলা: এবিষয়ে আপনার সরাসরি অবস্থান নেই বা আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা রাজনীতি করবে কিনা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না?
প্রধান উপদেষ্টা: আমি অত ডিটেইলসে যাচ্ছি না। আমার বরাবরই পজিশন হলো যে আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। আমাদের এই দেশের ওপরে সমান অধিকার। আমরা সব ভাই ভাই। আমাদেরকে এই দেশেই বাঁচতে হবে। এ দেশকেই বড় করতে হবে। কাজেই যে মত-দল করবে, তার মতো করে, সবকিছু করবে। এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো উপায় নাই। কিন্তু যে অন্যায় করেছে, যার বিচার হওয়া উচিৎ, তার বিচার হতে হবে। এটুকুই শুধু।
বিবিসি বাংলা: বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তাতে সরকার প্রধানের সাথে রাষ্ট্রপতির একটা নিয়মিত যোগাযোগ থাকার কথা। বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাথে কি আপনার যোগাযোগ হয়?
প্রধান উপদেষ্টা: যখনই প্রয়োজন হয়। শুধু শুধুতো গিয়ে ওনার সময় নষ্ট করার দরকার নাই। যখনই দরকার হয়, আমিতো তার কাছে যাই।
বিবিসি বাংলা: এর আগে সাক্ষাৎকারে আপনি একটা কথা বলেছিলেন যে এক-এগারোর সময় আপনি যে একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, সেটা নিয়ে কথা হচ্ছিলো এবং আপনি বলেছিলেন যে আপনার রাজনীতিতে আসাটা ভুল হয়েছে। এখন আপনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পদে রয়েছেন। এখন আপনার কী মূল্যায়ন? এখানে আসা কি আপনার সঠিক হয়েছে নাকি এখনই বিচার করতে চান না?
প্রধান উপদেষ্টা: না,
বিচার করবো। প্রথম কথা, আমি রাজনৈতিক দল গঠন করি নাই। গঠন করার কথা
বলেছিলাম। এবং দশ সপ্তাহ যাবৎ এই কথা জারি ছিল। দশ সপ্তাহ পর আমি বলেছি-
না, আমি রাজনীতিতে যাব না। আমি বলেছি যে পলিটিক্স ইজ নট মাই কাপ অফ টি। এবং
ওটা ওখানেই সমাপ্ত, এরপর আমাকে রাজনীতির কাছে কেউ টানতে পারেনি। সবাই
চেষ্টা করেছে দেশের নেতৃত্ব নেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হন। সবাই চেষ্টা
করেছে। আমি ওটা চাই নাই। আমি বলেছি, ওই চ্যাপ্টার শেষ। এই দশ সপ্তাহ-
দ্যাটস এনাফ। কাজেই ওইভাবেই আছি এখন। এখানে আমি রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো
সম্ভাবনা নাই। রাজনীতি করিও না।
বিবিসি বাংলা: কিন্তু এটা একটা রাজনৈতিক পদ, সরকার প্রধান...
প্রধান উপদেষ্টা: এটা টেকনিক্যালি হলে হবে। আমিতো এই পদে আসতেও চাই নাই। আমাকে অনুরোধ করেছে, বহুবারই করেছে। তারপর আমি শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়েছি। সেটার দায়িত্ব নিয়েছি। রাজনৈতিক পদ যদি হয়ে থাকে, এটা বাই ডেফিনেশন। আমি রাজনীতি করি না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, ইউনূসকে যেতে হবে বহুদূর: অমর্ত্য সেন
এতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তার শান্তিনিকেতনের বাড়িতে পিটিআই এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন অমর্ত্য সেন। তিনি মনে করেন জামায়াতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বাংলাদেশ। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অঙ্গীকার অব্যাহত রাখা উচিত বলে মত দিয়েছেন নোবেল পাওয়া ওই অর্থনীতিবিদ। সেন বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে কারণ আমার বাঙালি পরিচয়ের প্রতি শক্তিশালী অনুভূতি রয়েছে।
পিটিআইকে অমর্ত্য সেন বলেন, আমি ঢাকায় বহু সময় কাটিয়েছে। সেখানেই আমার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছে। এছাড়াও আমি প্রায়ই মানিকগঞ্জে আমার পৈতৃক বাড়িতে যাতায়াত করতাম। মাতৃভূমি বিক্রমপুরে আমি নিয়মিত যেতাম, বিশেষ করে সোনারং যাওয়া হতো। এই স্থানগুলো ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্য সকলের মতো আমিও চিন্তিত যে বাংলাদেশ কীভাবে তার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠবে।
শৈশবের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় কাটিয়েছেন অমর্ত্য সেন। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে। পরে তিনি শান্তিনিকেতনে চলে যান এবং নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কুলে ভর্তি হন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে সেন এক সময়কার মাথাপিছু আয়ের উন্নতির কথা তুলে ধরেন। যেখানে ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জন্মহার কমিয়ে ভারতের তুলনায় গড় আয়ুতেও বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন অমর্ত্য।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে নারী অধিকারের অগ্রগতিতে ব্র্যাক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মতো সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো বেশ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো তুলনামূলকভাবে স্বাধীন হয়েছে, সরকার বিরোধী দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা সত্ত্বেও সেখানে এর সমৃদ্ধি ঘটেছে।
সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর সংযমের প্রশংসা করেছেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, অন্যান্য অনেক দেশে এমনটা ঘটেছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরোধীতা করেছেন তিনি। বলেন, আওয়ামী সরকারকে যে ভুলের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে; সেক্ষেত্রে এ ধরণের পদক্ষেপ নিলে অন্যান্য দলও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে। অমর্ত্য সেন বলেছেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের উচিত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে একসঙ্গে কাজ করার ঐতিহ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। আমি আশা করি স্বাধীনাত এবং বহুত্ববাদের প্রতি বাঙালিদের অঙ্গীকার বজায় থাকবে। সামনের নির্বাচনগুলো আরও বেশি অবাধ এবং সুষ্ঠু হবে। কেননা সেখানে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে আশাহীন নই।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে অমর্ত্য সেনের মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনূস আমার পুরোনো বন্ধু। আমি জানি তিনি অত্যন্ত সক্ষম এবং অনেক দিক থেকেই একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, যদি আপনি হঠাৎ করে কোনো দেশের প্রধান হন; যেমনটি ইউনূস হয়েছেন, তাহলে আপনাকে বিভিন্ন দল বিবেচনা করতে হবে। সেখানে ইসলামী দল আছে এবং হিন্দু দলও আছে। ইউনূসের দক্ষতার ওপর আমার আস্থা অগাধ।
বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে অমর্ত্য সেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। বলেছেন, এ ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সরকার এবং জনগণ উভয়েরই দায়িত্ব। বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা দেশটি ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘুর প্রতি আচরণ এবং জামায়াতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় গর্বিত। এসব বলতে যেয়ে অমর্ত্য সেন ভারতের মসজিদে হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ভারতের মসজিদেও হামলা হয়েছে। এ ঘটনাগুলো বাংলাদেশ কিংবা ভারত হোক- বন্ধ হওয়া উচিত।
১৯৪০ সালের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসময় প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। এজন্য আমাদের অতীত নিয়ে ভাবতে হবে এবং তার আলোকে ভবিষ্যৎ বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনী প্রচারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অমর্ত্য সেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমেরিকাকে এক ফোঁটাও জ্বালানি তেল দেব না’
হাল্টবাক বাংকার্স নামে নরওয়ের একটি সংস্থা মার্কিন সেনাকে বছরে ৩০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, ‘আজ বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য একটা শো হল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে আমরা দেখলাম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আমরা কুর্নিশ জানাই। এতক্ষণ বসে বসে অসভ্যতা সহ্য করার জন্য। এসব আমাদের ক্লান্ত করেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অবিলম্বে আমেরিকাকে তেল সরবরাহ বন্ধ করব। যতক্ষণ না ট্রাম্প জমানার পতন ঘটছে, ততক্ষণ একফোঁটা তেলও দেব না। এমনকি এখন থেকে মার্কিন জাহাজ নরওয়ের তীরে ভিড়তেও পারবে না।’
কোম্পানিটির মালিক গুনার গ্রান নরওয়ের সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রাম্প যতদিন ক্ষমতায় আছেন, আমেরিকানদের এক ফোঁটাও জ্বালানি দেব না। আমরা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের গ্রাহক বেছে নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুতিনের আগ্রাসনের পর আমরা রাশিয়ানদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করেছিলাম। এতে আমাদের প্রতিযোগীরা বাড়তি লাভের সুযোগ পেয়েছিল। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, কিন্তু আমাদের নৈতিক অবস্থান অটুট রয়েছে। এখন ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের কারণে আমেরিকানদের জন্যও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে। হাল্টবাক বাংকার্স বিবৃতিতে ইউরোপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল কেউই ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য নন! by আরজু আহমাদ
স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সংস্কার কমিশন সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন অপ্রত্যক্ষ ভোটে করার সুপারিশ করেছে। তারা প্রস্তাবনায় বলেছে, এসব ক্ষেত্রে মেম্বার বা কাউন্সিলর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। এরপর তাঁরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ভোট দিয়ে মেয়র বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
এই নির্বাচনপদ্ধতির সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে, এতে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচনে নির্বাচক সংখ্যা কম হওয়ায় টাকার বিপুল ব্যবহারের সম্ভাবনা। এতে ভোট কেনাবেচার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হবে। একজন শ্রমিক, মজুর, কৃষক, মালি, মুচি, দলিত সবাইকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পৃথিবীতে নির্বাচনমাত্রই অর্থের ব্যাপার জড়িত থাকে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তা আরও ব্যাপক।
জামানত ফি ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে গরিব মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারই সুযোগ পান না। নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে সেখানে কোনো সিস্টেমিক বৈষম্য তৈরি করার মানে হয় না। এই পদ্ধতি অভিজাততন্ত্রকেই আরও শক্তিশালী করবে। ব্যবসায়ী ও ধনিক শ্রেণির হাতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে ফেলবে।
তা ছাড়া নির্বাচকমণ্ডলী নির্দিষ্ট হওয়ায় যে সরকার ক্ষমতায়, সে সরকারের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হয়ে আসবে। ইতিমধ্যে পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাই বলে। স্কুলগুলোতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচনে যেমন স্থানীয় সংসদ সদস্যের একচেটিয়া প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, সেই একই রকম প্রভাব দেখা যাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচনে।
সরকার ও সরকারি দলের আকাঙ্ক্ষাই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। সরকারদলীয় প্রার্থীর নির্বাচিত হয়ে আসাটা অনিবার্য হয়ে পড়বে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা তাঁদের নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতিই বেশি মনোযোগী হন। এতে চেয়ারম্যান, মেয়ররা তাঁদের নির্বাচক মেম্বার, কমিশনারদের মনঃতুষ্টির দিকেই মনোযোগী হবেন বেশি। তাঁরা নিজেরাও যেহেতু মেম্বার বা কমিশনারদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন, তাতে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিও পক্ষপাতমূলক হয়ে ওঠার সমূহ আশঙ্কা আছে।
---- ২.
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে চেয়ারম্যান ও মেয়রের ক্ষেত্রে স্নাতক এবং নির্বাহী সদস্যদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পাস অগ্রাধিকার পাবে বলে বলা হয়েছে। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই কারোর দক্ষতা, যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। সুশিক্ষিত ব্যক্তিমাত্রই স্বশিক্ষিত। যত দিন পর্যন্ত সর্বস্তরে শিক্ষাকে বিনা মূল্যে নিশ্চিত করা না যাচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্থির করে দেওয়া বৈষম্যমূলক প্রস্তাবনা।
বহু শিক্ষার্থী এখনো অর্থের অভাবে ঝরে যায়। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনাই যেখানে কঠিন, সেখানে স্নাতক পর্যন্ত টাকা দিয়ে পড়ার সামর্থ্য কি সবার আছে? দেশের সব উচ্চমাধ্যমিক পাস ছাত্রের জন্য কি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, কলেজে পর্যাপ্ত সিট আছে? যদি না থাকে, সে ক্ষেত্রে নাগরিককে গণপ্রতিনিধিত্ব থেকে বিরত রাখার অধিকার রাষ্ট্রের নেই।
এ দেশে বহু নারীর বিয়ের পর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাঁর জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার কেন দেওয়া হবে না? সব স্নাতক পাস ব্যক্তিই কি সমান যোগ্যতাসম্পন্ন হন! পৃথিবীতে বহু রাষ্ট্রনায়কই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত না হয়েও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন সফলভাবেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন, জেমস মনরো, এন্ড্রু জ্যাকসন, উইলিয়াম হ্যানরি হ্যারিসন, জ্যাকারি টেইলর, মিলার্ড ফিলমোর, এন্ড্রু জনসন, গ্রুভার ক্লিভল্যান্ড, উইলিয়াম ম্যাকেনলি, হ্যারি এস ট্রুম্যান—এঁদের কেউই কলেজ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। কেবল মাধ্যমিক পাস করা স্যার জন মেজর, উইনস্টন চার্চিলসহ কমপক্ষে আটজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দাতেও পা রাখেননি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের জনপ্রিয় নেত্রী জয়ললিতাও ছিলেন কেবল মাধ্যমিক পাস। তামিলনাড়ুর আরেক মুখ্যমন্ত্রী করুণা নিধিও ছিলেন দশম শ্রেণি পাস।
জীবনে স্কুলে না যাওয়া জ্যাকব জুমা দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘকাল ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ওমর আল বশির সুদানের সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার এবং সেখান থেকে দীর্ঘকাল ছিলেন সুদানের প্রেসিডেন্ট। আফ্রিকান আমেরিকানদের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠা ফ্রেডরিক ডাগলাসেরও ছিল না কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। পৃথিবীর নানা দেশে এ রকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। যাঁরা কোনো রূপ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সফল রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। কারও কারও শাসনকালের ক্ষেত্রে সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু সেই সমালোচনা কারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব।
আমাদের সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবনা রেখেছে, আমাদের বাঙালি সত্তার প্রবাদপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম কেউই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। নজরুলের নির্বাচনের প্রতি ঝোঁক ছিল। তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের সংস্কার কমিশন তাঁকেও উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় অযোগ্য ঘোষণা করত! সফল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল থেকে আমাদের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মতে তাঁরা কেউই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভার মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।
---- ৩.
এখন পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার সুযোগ ধনিক শ্রেণির হাতে অনেকটাই সীমাবদ্ধ। সাধারণ গরিব মানুষের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়াটা এমনিই কঠিন। সেখানে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগকেই নাই করে দিলে তা দেশে চূড়ান্তভাবে একটা অভিজাততন্ত্রের সৃষ্টি করবে। এই জুলাই আন্দোলনেও শত শত শ্রমিক, দোকানদার, মজুর, রিকশাচালক প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অংশ নিয়েছেন। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব পরিবর্তিত রাষ্ট্রে থাকতে হবে। এই আন্দোলন কেবল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একার ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষিতদের হাতে সব তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত আমরা চাই না। প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হওয়া উচিত। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী, স্বীকৃত ঋণখেলাপি, অপ্রকৃতিস্থ ছাড়া নাগরিক মাত্রই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র, লিঙ্গ বিচারে কোনো বৈষম্য থাকা চলবে না। জনগণের ভোটের অধিকার হবে অবাধ, তাঁরাই নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। পরোক্ষ নির্বাচনের নামে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না।
* আরজু আহমাদ কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মুসলিমদের অবস্থা নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের থেকে ভিন্ন নয়: সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার
হর্ষ মান্দার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করলেন, যখন এপ্রিলে দলীয় কংগ্রেসের আগে চূড়ান্ত প্রস্তাবের খসড়ায় কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া—মার্ক্সবাদী (সিপিআই–এম) বলেছে, মোদি সরকারের মধ্যে ‘নব্য ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য’ থাকলেও এটিকে ‘ফ্যাসিবাদী বা নব্য ফ্যাসিবাদী’ শাসন হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
দিল্লির মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব সিভিল রাইটস জাকিয়া জাফরির স্মরণে বৃহস্পতিবারের ওই সভার আয়োজন করেছিল। কংগ্রেসদলীয় লোকসভার সংসদ সদস্য (১৯৭৭-৮০) এহসান জাফরির স্ত্রী হচ্ছেন জাকিয়া জাফরি। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় আহসান জাফরিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
স্বামীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টে হেরে যান জাকিয়া। এহসানকে পুড়িয়ে হত্যার পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। জাকিয়া জাফরি মারা গেছেন গত ১ ফেব্রুয়ারি।
জাকিয়ার স্মরণসভায় বৃহস্পতিবার হর্ষ মান্দার বলেন, ‘আমি নাৎসি জার্মানি নিয়ে অনেক দিন ধরে পড়াশোনা করেই বলছি, ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে এমন একটা অবস্থার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেটা নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। এটা অত্যন্ত ভয়ের পরিস্থিতি। অবশ্যই জার্মানির “হলোকাস্ট” বা গণহত্যা আক্ষরিক অর্থে এখানে সম্ভব নয়, কারণ মুসলমানদের সংখ্যাটা এখানে অনেক বড়, ২০ কোটি।’ ১৯৩৩ সালে যখন নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় আসে, তখন জার্মানিতে ইহুদিদের সংখ্যা ১ শতাংশের কম ছিল।
ভারতের ভবিষ্যৎ কী
এখন প্রশ্ন হলো, ভারতে ভবিষ্যতে কী হবে? এই প্রসঙ্গে জন্মসূত্রে ইহুদি ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক হ্যানা আরেন্ডটকে উদ্ধৃত করে হর্ষ মান্দার বলেন, ওই জার্মান দার্শনিক বলেছিলেন, নাগরিকত্ব হলো ‘অধিকার পাওয়ার অধিকার’ (রাইট টু হ্যাভ রাইটস)।
হর্ষ মান্দারের কথায়, ‘ভারতীয় মুসলিমদের এমন একটা কোণে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এই অধিকার পাওয়ার অধিকার তাদের জন্য ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।’
নিজের মতো করে কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন মান্দার। তিনি বলেন, একটি অল্পবয়সী ছেলে নাকি একটি ক্রিকেট ম্যাচের সময় পাকিস্তানের নামে জয়ধ্বনি দিয়েছিল। কিছু লোক নাকি সেটি শুনেছে। কিছু লোকের সেই সম্ভবত শোনার ভিত্তিতে ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পাঠানো হয়। এখানেই ব্যাপারটা শেষ হয়নি। তাঁর মা–বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগটি কি? অভিযোগ হলো, আরেকটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টির চেষ্টা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—আজকের ভারতে এই ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।
মান্দার আরও বলেন, আজকের ভারতে প্রার্থনা করাও একটা অপরাধ। সে কারণেই আমি বলছিলাম, আজকের ভারতে মুসলমানরা সমাজের এমন একটা কোনায় চলে গেছে, যেখানে তাদের অধিকার থাকারই আর কোনো অধিকার নেই। এই রোহিঙ্গাদেরই দেখুন। এরাও এখন সেই ধরনের মানুষ, যাদের অধিকার থাকার অধিকার আর নেই।
বিশিষ্ট এই ভারতীয় সমাজকর্মী বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি এখন মনে করি, ভারতে যাঁরা বিশ্বাস করেন যে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার আছে, তাঁরা সবাই এক অন্ধকার সময়ে প্রবেশ করেছেন। ভারতে সব রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা—সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। আর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা সংখ্যালঘু কমিশন বলে যে কিছু আছে, সেটা তো আমরা ভুলেই গেছি। শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভেঙেচুরে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।’
বক্তৃতার একেবারে শেষে সামান্য আশার কথা বলেন সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় আমাদের সাধারণ মানুষকে লড়াই করতে হবে। ফিরে আসার লড়াই। সেটা আমি দেখতেও পাচ্ছি। এই যে কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে এত মানুষ যখন মারা গেলেন, তখন আমরা কী দেখলাম…মানুষ কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিলেন? আমরা দেখলাম তাঁরা মসজিদে আশ্রয় নিলেন। এটাই আমার ভারত। আর এটাকে ফিরে পেতেই আমাদের লড়াই করতে হবে। আমরা ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা দিয়ে লড়ব।’
জাকিয়া জাফরির দুই সন্তান তানভীর ও নিশরিন জাফরি ছাড়াও স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ভাষা সিং, সমাজকর্মী জন ডায়াল, সাবেক সংসদ সদস্য কুমার দানিশ আলী, অধ্যাপক নন্দিতা নারাইন, আইনজীবী নিত্যা রামকৃষ্ণান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দা হামিদ।
সভা পরিচালনার সময় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রশান্ত ট্যান্ডন বলেন, ‘২০০২ সালে গুজরাটে যে ধরনের মানুষদের আমরা দেখেছিলাম, তাঁরা সমাজে এখনো বিদ্যমান। গুজরাটের সেই সহিংসতা আমরা আখলাক বা পেহলু খানের বিরুদ্ধে ঘটতে দেখেছি। গত কয়েক বছরে আখলাক বা পেহলু খানের মতো ভারতে আরও অনেককে পিটিয়ে মারা হয়েছে।’
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এক কর্মসূচিতে হর্ষ মান্দার। ফাইল ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের এত বিশেষত্ব কী? by ড্যান মোজেনা
যারা বাংলাদেশের প্রতি আমার স্থায়ী ভালোবাসার কথা জানেন, তারা মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন করে জানতে চান- ‘বাংলাদেশের এত বিশেষত্ব কী?’ এই প্রশ্নটির একটি সরল উত্তর আছে। তা হলো- জনগণ, বাংলাদেশের চমৎকার মানুষগুলোই হলো এর কারণ। এ জন্যই আমার কাছে দেশটি এত স্পেশাল। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশটির পুরো ৬৪টি জেলা সফর করেছি। যেখানেই সফরে গিয়েছি দেখেছি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ- তার মধ্যে আছেন কৃষক, গ্রামের নারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, মেডিকেল ওয়ার্কার, রাস্তার হকার, দোকানদার, ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাকের শ্রমিকরা- তারা সবাই কঠোর পরিশ্রম করেন। তারা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সৃজনশীলতার সঙ্গে কাজ করেন। যা ছিল ‘আন্তর্জাতিকভাবে তলাবিহীন ঝুড়ি’ খ্যাত দেশটির জন্য সুদূরপরাহত। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক।
স্বৈরাচারের আবেশ ও নিষ্পেষণে দেশটির জনগণ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পুরো জাতি হিসেবে এর বিরুদ্ধে গত জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশি জনগণ তাদের ম্যাজিক ও বিস্ময়ের পূর্ণাঙ্গ প্রদর্শন করেছেন। এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্ররা। তারা সেই ছাত্র, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন- যেখানে তাদের নিজেদের, তাদের পরিবারের এবং সম্প্রদায়ের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে নাগরিকরা অবাধে এবং নিরাপদে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই আশা করাটা কী খুব বেশি? আমি তা মনে করি না। এমনকি শিক্ষার্থীরাও মনে করেন না। তাই তারা নতুন বাংলাদেশের সন্ধানে অবিচল। দুঃখজনক হলো- এই জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে কেউ কেউ আত্মত্যাগ করেছেন।
‘এনাফ’ বা যথেষ্ট হয়েছে- এমনটা ঘোষণা দিয়ে নিষ্পেষণকে দূরে ছুড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা নয়। পূর্বে জনগণ মুক্তির যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তার ইতিটা ভালো হয়নি। কারণ, নিষ্পেষণকারী শক্তির নতুন করে আবির্ভাব হয়েছে এবং আবার জনগণের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। আমি মনে করি, এবার বিষয়টি ভিন্ন হবে। শিক্ষার্থীরা অনুধাবন করতে পেরেছে যে, পূর্বের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতেই তাদের কাজ শেষ নয়। এটা হলো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তাদের যে বিরাট লক্ষ্য আছে তার একটিমাত্র পদক্ষেপ। ইতিহাস বলে যে, বিপ্লবীরা যখন ক্ষমতায় বিদ্যমান কাঠামোকে উৎখাত করে তাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য অর্জন করে তখন মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার জন্য লড়াই শুরু হয়ে যায়। এটা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত যখন একজন নেতা নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে না আসেন এবং অন্য নেতারা হারিয়ে যান অথবা তাদের খারাপ কিছু ঘটে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নিয়েছেন এবং একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। এ জন্য তাদেরকে বড় রকমের কৃতিত্ব দিতে হয়। তাদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে কুস্তি করার পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন এবং তাদের এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোকিত মানুষ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রফেসর ইউনূস একজন অনুপ্রেরণাদায়ক বাছাই। তার কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। তিনি নিজের জন্য কোনো ক্ষমতা চান না। তাকে আরও প্রমাণ দেয়ার কিছু নেই। এরই মধ্যে তিনি একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। আমি বিশ্বাস করি এই চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য তিনি তার প্রিয় বাংলাদেশের জন্য একটি পথ বের করতে সরলভাবে সহায়তা করছেন।
এই বিপ্লব একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কাছে দীর্ঘদিনের অধরা স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। যে স্বপ্ন বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত কিন্তু উত্তাল ইতিহাসের দুঃখজনকভাবে বার বার চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। সামনের পথ অপ্রত্যাশিত বিপদের (ট্রেচারাস)। বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য লড়াই করছে, তখন কেউ কেউ চাইছে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ব্যর্থ হোক। উগ্রপন্থি এবং অন্যরা তাদের নিজেদের এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছে। অন্যদের মনে ক্ষোভ ও ক্রোধ ভরা। বিগত সরকারের নৃশংসতার বাস্তবায়ন করে বা সুবিধা নিয়েছেন যারা তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে তৎপর তারা।
এই নেতিবাচক শক্তি অস্থিতি সৃষ্টি করছে। তারা এমন এক সময়ে জনগণের মধ্যে ঘৃণাকে এবং বিভক্তিকে গাঢ় করছে যখন বাংলাদেশিদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে একটি টেকসই গণতন্ত্র সৃষ্টির জন্য। যে গণতন্ত্র সব নাগরিকের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। এই লক্ষ্যে একমাত্র পথ খোলা আছে। তা হলো, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বের অধীনে একটি অন্তর্বর্তী সরকার। আমি আশা করবো এই ক্রান্তিকালে সব বাংলাদেশি এই সরকারকে সহায়তা করে অন্তর্বর্তী এই সরকারের পাশে থাকবেন। এই সরকারকে দেখতে সাহায্য করবেন যে, এটি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক পথে চালু করার জন্য ঠিক কি করেছে, কোথায় ভুল করেছে এবং কোথায় এটি আরও ভালো করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সঠিকভাবে করতে পারে।
এবার গণতন্ত্র বিনির্মাণে বাংলাদেশের জয় হবেই নাগরিকদের মধ্যে এই আশা টেকসই করাটা হলো অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারকে বহুবিধ ফ্রন্টে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ক) সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খ) মানসম্পন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা সরবরাহ করতে হচ্ছে। গ) দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর অভিযান চালাতে হচ্ছে। ঘ) এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান এবং জীবনমান উন্নত করবে। ঙ) বিগত সরকারের যারা জনগণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য কাজ করেছে তাদের জবাবদিহিতা করানো। চ) পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, যারা জনগণের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত কম পদক্ষেপ নিয়েছেন তাদেরকে দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল অনুসরণ করে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন করা। এই প্রক্রিয়ায় এসব ব্যক্তি তাদের অতীতের পাপ সম্পর্কে জনগণের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, ভিকটিমদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং বাংলাদেশের উদীয়মান গণতন্ত্রের জন্য তাদেরকে প্রতিশ্রুতিশীল থাকতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সংস্কার করতে হবে, যাতে বাংলাদেশিরা কার্যকরভাবে তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারেন, নতুন রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে পারেন অথবা বিদ্যমান বিরোধী দলগুলো তাদের নিজেদেরকে নতুন করে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার মধ্যদিয়ে তা করতে পারে। এমন হলে দলীয় নেতাকর্মীরা অবাধে তাদের দলীয় নেতা বাছাই করতে পারবেন।
এসব চ্যালেঞ্জের গভীরতা এবং তীব্রতার বিষয়ে প্রশংসা করি আমি। তা সত্ত্বেও, আমি বাংলাদেশের জনগণের ওপর আস্থাশীল যে, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদারিত্বের অধীনে এসব চ্যালেঞ্জের জয় বেরিয়ে আসবে। তাতে নির্বাচনী সংস্কার বেরিয়ে আসবে, যাতে নাগরিকরা অবাধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেন এমন একজনের পক্ষ থেকে এটা কি শুধু ইচ্ছাপূরণের চিন্তা? আমি তা মনে করি না। বাংলাদেশিরা জানেন যে, এটা তাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তারা তাদের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বহুবার চুরমার হয়ে যেতে দেখেছেন। স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসাকে মেনে নেবেন না বাংলাদেশিরা। তারা গণতন্ত্রের চেয়ে কম কিছুকে মেনে নেবেন না।
(লেখক: বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত। তার এই লেখাটি অনলাইন দ্য ডেইলি স্টার থেকে অনুবাদ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনপন্থি বিক্ষোভ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
'চীনের নেতাকে হোয়াইট হাউসে ডেকে তিরস্কার করতে পারবে না আমেরিকা' by আকার প্যাটেল
এর পরে রয়টার্স ‘রাশিয়ান আইন প্রণেতার দাবি ক্ষেপণাস্ত্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন বাইডেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে (শিরোনামটি পরে সংশোধিত করা হয়েছিল)। তার আগের মাস ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংকার জেপি মরগানের উদ্ধৃত একটি শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘পশ্চিমা শক্তি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে পারে’।
তিনি কেবল ইউক্রেনের যুদ্ধই নয়, গাজায় গণহত্যা এবং চীনের উত্থানকেও বৃহত্তর কিছু পরিবর্তনের জন্য অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই ২৮শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বিখ্যাত ওভাল অফিসে যে সার্কাসটি দেখা গেল, সেটিই একমাত্র ঘটনা ছিল না যখন আমরা মানবজাতির সম্ভাব্য ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।
এই সব থেকে কী বোঝা যায়? প্রথমেই আসা যাক ডনাল্ড ট্রাম্প কী চান? আপাতদৃষ্টিতে এটা বলা কঠিন। কারণ তিনি সহজে অনেক কিছু নিয়ে কথা বলে দেন। ট্রাম্পের সমালোচকরা বলেন যে, তিনি আদপে বোকা এবং হিংস্র- কিন্তু দুবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী একজন ব্যক্তির সাথে এই পরিচয়ের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ট্রাম্প জানেন তিনি কী করছেন। এককথায় বলে যেতে পারে, আমেরিকান প্রেসিডেন্টের আসল লক্ষ্য চীন।
তিনি চীনের উত্থানকে বাধাগ্রস্ত করতে চান যাতে এটি ক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের সমান না হয়। তিনি চান ডলারই একমাত্র রিজার্ভ বৈশ্বিক মুদ্রা থাকুক এবং চীন যেন উৎপাদন ও রপ্তানির কিছু অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনে। আর তাই তার সমস্ত বৃহত্তর কর্মকাণ্ডকে চীন-বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।
পূর্ববর্তী প্রবৃদ্ধির হার বজায় থাকলে আগামী কয়েক দশকে চীন মার্কিন অর্থনীতির সমান হবে এবং তারপরে তাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প তা হতে দিতে চান না। প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ যা বাইডেনের অধীনে যুক্ত করা হয়েছিল, যেমন উচ্চমানের কম্পিউটার চিপের উপর নিষেধাজ্ঞা (চীন যাতে প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রগতি না করে) এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অংশ। এই মেয়াদে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আসা সমস্ত চীনা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন এবং তারপরে আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যা ২রা মার্চের সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন যে, এর পরিমাণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। এর ফলে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রেও উচ্চ স্তরের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতা তৈরি হবে কারণ অনেক শিল্প একে অপরের সাথে জড়িত। অনেকেই সরাসরি ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি আমেরিকান ভোক্তাদের উপর ততটাই প্রভাব ফেলবে যতটা চীনা কোম্পানিগুলোতে পড়বে, কিন্তু ট্রাম্প বারবার এই উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছেন। ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্রিকসকে তার খোলামেলা হুমকি চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনার আরেকটি অংশ। এই যুক্তি অনুসারে ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বিভ্রান্তিকর। সেখানকার যুদ্ধগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে যাতে চীনের মূল ব্যবসার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা যায়।
চীন আমেরিকার একমাত্র সমকক্ষ প্রতিযোগী- রাশিয়া নয়, অন্য কেউ নয়। অতএব, সামগ্রিক লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না। গাজায় দুই বছরের একটানা ও হত্যাকাণ্ডমূলক বোমাবর্ষণের অবসান ঘটে জানুয়ারিতে ইসরাইলের উপর ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এবং এখন মনে হচ্ছে মার্কিন সমর্থন উঠে যাওয়ায় ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
একবার তা ঘটলে অর্থাৎ, রাশিয়া ইউক্রেন দখলে নিলে চীনের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আরও তীব্র হবে। কিন্তু যদি তাই হয়, তাহলে ট্রাম্প কেন আমেরিকার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং মিত্রদের পিছনে ছুটছেন, এমনকি মেক্সিকো এবং কানাডার পিছনেও? আমি মনে করি, এই সবই আমেরিকাকে চীনের চেয়ে এগিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বিশ্ব বাজারে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে এবং এটি সর্বদা ডলারকে শক্তিশালী করার দিকে পরিচালিত করে, যেমনটি আমরা প্রত্যক্ষ করছি। ডলারের দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পণ্য রপ্তানি করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাই ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান। হয়তো ট্রাম্প এই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন, হয়তো ভাবেননি। আমরা আগামী দিনে দেখব, কারণ চার বছর অনেক দীর্ঘ সময়। চীন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। চীনের বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে যারা মাত্র ৪০ বছরের মধ্যে ইতিহাসের যেকোনো জাতির চেয়ে দ্রুত দেশের অর্থনীতি এবং শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
চীন তার অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে। প্রথমে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমান হওয়ার চেষ্টা করবে এবং তারপরে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়াস জারি রাখবে। চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমেরিকা নির্ধারণ করতে পারে না। চীনের নেতাকে হোয়াইট হাউসের রাজার দরবারে ডেকে তিরস্কার করা যাবে না এবং মার্কিন মিত্রদের মতো হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা যাবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং ২০২৪ সালে বিশ্বের অন্যান্য দেশে চীনা রপ্তানির বৃদ্ধি দেখায় শুল্কের ভয় দেখিয়ে চীনকে থামানো যাবে না। মূলত, যদি ট্রাম্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হয় আমেরিকার বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বজায় রাখা, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নতুন প্রশ্ন তুলে দেবে এরপর কী হবে?তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি অন্য কিছু-কেউই এর উত্তর জানে না।
সূত্র: ন্যাশনাল হেরাল্ড

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মারুফ ইবনে মাহবুবের আকাশের উল্টোপাশে: জীবনকে ভিন্নভাবে আলোকপাত by মো. পলাশ সরকার
এই বইটি লেখকের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার একটি সমাহার। ভিন্ন কিছু ভাবা শিরোনামে ৫৩টি নতুন চিন্তা তিনি হাজির করেছেন এবং দুই বা এক শব্দে উপশিরোনাম দিয়েছেন, এতে চিন্তাগুলোর একটি মূল বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে।
প্রতিটি অভিজ্ঞতার নিচে দেয়া তারিখ দেখে বোঝা যায়, এই ঘটনাগুলো ভিন্ন সময়ের। বোঝা যায়, এই ঘটনাগুলো তাকে নাড়া দিয়েছিল ভীষণভাবে, তারপর যেটি তিনি সঞ্চার করেছেন তা হলো আত্মোপলব্ধি।
নিজেকে তিনি বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বারংবার এবং জীবনের মূল লক্ষ্য ও দর্শন, আইনকানুন, প্রথা, সৃষ্টিকর্তার আদেশ ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করেছেন, যে তিনি নিজে আসল পথে হাঁটছেন তো?
তার জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তাকে একবার ভেঙেছে এবং সেখান থেকে নতুন বোধোদয় সম্পন্ন আমরা আরেকজন মানুষ বের হয়ে আসতে দেখি। আমরা যেভাবে এই সমাজ দেখি, বা যেভাবে আমাদের দেখতে শেখানো হয়, সেটি আসলে একটি ভ্রম কিংবা দৃষ্টিনন্দন নকল মোড়কে মোড়া কিছু একটা।
জীবনকে পাঠ করার ভিন্ন শিক্ষা এই ভ্রম ভাঙতে সাহায্য করে।
মারুফ ইবনে মাহবুব মুখোশ খুলে পেছনের মানুষকে দেখিয়েছেন। অতি সাধারণ মানুষ তিনি, কিন্তু জগতকে দেখা ও বোঝার অন্তর্দৃষ্টি তাকে সাধারণের মধ্যে অসাধারণ করেছে।
এই অন্তর্দৃষ্টি তিনি দিনের পর দিন মানুষকে পরম মমতা, স্নেহ ও নিস্বার্থ ভালোবাসার মধ্যদিয়ে দেখে রপ্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিনিয়ত মজলুম, নিপীড়িত, শোষিত, দরিদ্র, অসহায় মানুষের স্থান থেকে নিজের ওপর আলোকপাত করেছেন। যার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ মানুষ, যাদের অস্তিত্ব আমরা অনেকেই বুঝেও বুঝি না সেসব মানুষও উঠে এসেছে জীবনের উল্টোপাশে।
অসহায় মানুষ এবং আমরা, নাম, চেয়ার প্রীতি, পড়াশুনার চাপ, জানাজার ভাবনা, শোধ-প্রভৃতি উপশিরোনামের লেখাগুলো কিছু সময়ের জন্য পাঠককে বিমূঢ় করে দেবে।
তার বদল উপশিরোনামের লেখাটার প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলা যাক। এখানে লেখক জীবনের প্রতি মুহূর্তের পরিবর্তন বা একটি নির্দিষ্ট বলয় থেকে আরেকটি বলয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, চিন্তার বদল, জীবনদর্শন, পেশা, দেশ, অভ্যাস, রুচি, বন্ধু বদলের কথা বলেছেন। এসব বড্ড আপেক্ষিক। লেখক লিখেছেন,
মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে চিন্তা করি, জীবনের শেষ পর্যায়ে কোন দর্শন কোন চেতনা ধারণ করে বিদায় নেবো? কোন মানুষকে পাশে রেখে বিদায় নেবো? কোন কাজকে সঙ্গে করে বিদায় নেবো? আজ যেটাকে ধ্রুব সত্য বলে ভাবছি কাল সেটা যে জীবনের সবচেয়ে বড় মিথ্যা হবে না তা জোর দিয়ে কি বলা যায়? আজ যাকে সবচেয়ে আপন ভাবছি কাল সেই সবচেয়ে পর হয়ে যাবে না তা কি বলা যায় জোর দিয়ে? কিংবা উল্টোটা?
আকাশের উল্টোপাশে বইটির প্রকাশনী সংস্থা সাহিত্য কুটির। ১২৭ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৩৫০ টাকা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 03
(9)
- বিবিসি বাংলাকে ড. ইউনূস: একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চ...
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, ...
- ‘আমেরিকাকে এক ফোঁটাও জ্বালানি তেল দেব না’
- রবীন্দ্রনাথ-নজরুল কেউই ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য...
- ভারতে মুসলিমদের অবস্থা নাৎসি জার্মানিতে ইহুদিদের থ...
- বাংলাদেশের এত বিশেষত্ব কী? by ড্যান মোজেনা
- যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনপন্থি বিক্ষোভ
- 'চীনের নেতাকে হোয়াইট হাউসে ডেকে তিরস্কার করতে পার...
- মারুফ ইবনে মাহবুবের আকাশের উল্টোপাশে: জীবনকে ভিন্ন...
-
▼
Mar 03
(9)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
