Sunday, July 15, 2018

ইরান চুক্তির তিন বছর: উত্তেজনাকর অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রভাব পড়বে তেলের বাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে বিরোধ এক উত্তেজনাকর পর্যায়ে চলে গেছে। এ বছরের ৫ই নভেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে ইরানি তেল রপ্তানি বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তার জবাবে পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল রপ্তানির রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সংকট আরো বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেহরানের অপ্রত্যাশিত এমন আচরণে বাজারে তেলের সরবরাহে ঘাটতি পড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে। এর ফলে তেলের দাম ১০০ ডলার বা তারও বেশি বেড়ে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে রাশিয়ার অনলাইন প্রাভদা। এতে বলা হয়েছে, বিংশ শতাব্দীতে ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা ব্যবহার করেনি কখনও। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ইরান এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ১৯৭৩ সালের ৬ই অক্টোবর শুরু হয়েছিল ইয়োক কিপ্পুর যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে মিশর ও সিরিয়াসহ ওএপিইসিভুক্ত সব আরব সদস্য দেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। আর তাতে সমর্থন ছিল ইসরাইলের। ওই সময় ১৯৭৩ সালের ১৭ই অক্টোবর তেহরানের সামনে এমন একটি সুযোগ এসেছিল। তখন আরব দুনিয়ার সঙ্গে ছিল ইসরাইল। সামরিক সংঘাতের মুখে তেহরান ছিল নিরপেক্ষ। কারণ, ওই সময় ইরানে ক্ষমতাসীন শাহ শাসকগোষ্ঠী ছিল ওয়াশিংটনের সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র। কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পরে সেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবে রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতা হারিয়ে পালিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ইরানে ক্ষমতায় আসে নতুন সরকার। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারা এ দেশটিকে প্রধান শত্রু হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ হয় ইরান ও ইরাকের মধ্যে। তখন প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় তেহরান। কিন্তু পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ইরানকে এক্ষেত্রে বিরত রাখে পেন্টাগন। ওই যুদ্ধজাহাজ এমন অবস্থানে রাখা হয় যাতে যেকোনো সময় সেখান থেকে ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকে তারা। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে সতর্কতামূলকভাবে মহড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ আব্রাহাম লিঙ্কন। এর মধ্য দিয়ে তেহরানকে দ্ব্যর্থহীন এক বার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তা হলো: হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচল যদি বন্ধ করার চেষ্টা করে ইরান তাহলে যুদ্ধ অপরিহার্য। ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি- অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পানিপথ হিসেবে একটি মর্যাদা আছে হরমুল প্রণালীর। এর আশেপাশে যেসব দেশ আছে তাদের কারো এখান দিয়ে কোনো নৌযান বা ট্যাংকার চলাচলে বিধিনিষেধ দেয়ার অধিকার নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তেহরানের কাছ থেকে ভয়াবহ বিবৃতি পাওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে উত্তেজনাকর করে তুলতে চায় না ইরান। এরই মধ্যে ইরান কূটনৈতিক সফলতাকে উদযাপন করেছে। কারণ, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বজ্রকঠিন সম্পর্কে ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। সার্বিয়া, ইরাক, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার সময়ে ইউরোপীয়ান ন্যাটোর অংশীদাররা ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়েছিল। ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তিকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন ডনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের ৮ই মে। তখন প্রথমবারের মতো কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায় ইউরোপিয়ান দেশগুলো। তারা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একীভূত ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করে। ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি রক্ষা করা নিয়ে ভিয়েনাতে গত ৬ই জুলাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ না জানানোর মনোভাব প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ইরানকে একঘরে করে ফেলার ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত করার খায়েস প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীন কাজ করছে ইরানের মিত্র হিসেবে। তাই তেহরান এবার ওয়াশিংটনকে একটি যুদ্ধের হুমকিতে ছেড়ে দেবে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার যে হুমকি দিয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি বড় পাল্টা হুমকি।

মালয়েশিয়ায় সাজেদার ১২ টুকরা লাশ

কৌতূহলী এক ফটোগ্রাফারের চোখ আটকে যায় একটি কালো ব্যাগে। ধারণা করা হচ্ছিলো ব্যাগটিতে ভারি কিছু রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। সেই ব্যাগ খুলতেই এক ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে পান তারা। ব্যাগের ভেতরে এক নারীর টুকরো টুকরো  লাশ। চাঞ্চলক্যর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের সুঙ্গাই গম্বাকের জালান ইপো ব্রিজ এলাকায়। গত ৫ই জুলাই লাশটি উদ্ধার হলেও পাওয়া যাচ্ছিলো না পরিচয়। মুহূর্তেই খবরটি পৌঁছে যায় সর্বত্র। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ছবি দেখে গত ১১ই জুলাই নিহতের স্বজনরা শনাক্ত করেছেন ওই নারীর লাশ। নিহত সাজেদা ই বুলবুল বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি পটুয়াখালীর পুরাতন আদালত পাড়ার ৯৯ বড় মসজিদ মহল্লার আনিস হাওলাদার ফিটারের মেয়ে। কুয়ালামপুর পুলিশের প্রধান দাতুক সেরি মাজলান লাজিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই নারীর বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর হবে। ব্যাগের মধ্যে তার টুকরো লাশ, কসমেটিকস, চাবি ও রক্তমাখা কয়েক জামা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ‘আল্লাহ্‌’ লেখা একটি নেকলেস রয়েছে। এ থেকেই পুলিশ ধারণা করছিলো নিহত নারী মুসলিম। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে সাজেদার স্বামী শাহজাদা সাজু।
এ বিষয়ে গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে কথা বলেন, নিহতের বড় বোন খাদিজা পারভীন উপমা। তিনি অভিযোগ করেন, সাজেদাকে হত্যা করেছে সাজু। বিয়ের পর থেকেই এই দম্পতির সংসারে অশান্তি লেগেই ছিল। ঘটনা গড়িয়েছিল থানা পুলিশ পর্যন্ত। ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম করেছিলেন সাজেদা। আইন বিষয়ে ডক্টরেট করানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মালয়েশিয়া নিয়ে গিয়েছিলো সাজু। শেষ পর্যন্ত সাজু তার বোনকে প্রাণে মারবে এটি ভাবতে পারেননি তারা।
উপমা জানান, ২০০৪ সালে একই জেলার মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মৃত সোহরাব ফকিরের ছেলে সাজুর সঙ্গে বিয়ে হয় সাজেদার। সাজেদা তখন এসএসসি পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে সাজু সৌদি ফেরত, বেকার। সাজেদার বাবা আনিস হাওলাদার লঞ্চের ব্যবসা করেন। বিয়ের পর থেকেই একটার পর একটা দাবি নিয়ে হাজির হয় সাজু। কখনো ব্যবসা, কখনো বিদেশে যাওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নেয় শ্বশুরের কাছ থেকে। শ্বশুরের টাকায় চলতো সাজুর সংসার। ২০১১ সালে এক কন্যাসন্তানের মা-বাবা হন এই দম্পতি।
সাজেদাকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকতো সাজু। ২০০৭ সালে প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম করেন সাজেদা। পাশাপাশি চাকরি করেন একটি ওষুধ কোম্পানিতে। সাজেদার বোন উপমার অভিযোগ, তারপরও বাবার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য সাজেদাকে চাপ দিতো। মারধর করতো। খাদিজা পারভীন উপমা বলেন, শাহজাদা সাজু পরকীয়ায় আসক্ত ছিলো। দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইতো। আমার বোন বাধা দিতো। এ নিয়ে কলহ আরও বেড়ে যায়। সাজুকে তার মাসহ পরিবারের সদস্যরাও প্রশয় দিতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাজেদাকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় সাজু। সেখানে গিয়ে আইন বিষয়ে ডক্টরেট করবে সাজেদা। সেইসঙ্গে দু’জন মিলে ব্যবসা করবে। এরমধ্যেই সাত বছর বয়সী মেয়ে মুগ্ধকে দেশে রেখে সাজেদাকে নিয়ে ২০১৬ সালের ৩রা ডিসেম্বর মালয়েশিয়া চলে যায় সাজু। মেয়ে মুগ্ধ থাকে শাহজাদা সাজুর বোনের কাছে। কুয়ালামপুরে গিয়ে লেখাপড়া সেভাবে না হলেও স্বামী-স্ত্রী মিলে ব্যবসা ভালোই করছিলেন। কুয়ালালামপুর একটি রেস্টুরেন্ট চালাতেন সাজেদা। একটি গাড়িও কিনেছিলেন। কিন্তু তখনই সাজেদা বুঝতে পারেন তার স্বামী একজন জুয়ারি। প্রায়ই জুয়ার আসরে বসে কষ্টে আয় করা টাকা হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়। খেসারত হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি করতে হয়েছে রেস্টুরেন্ট, গাড়ি। আবার বাড়তে থাকে স্বামী-স্ত্রীর কলহ। গত ২৭শে জুন সাজু মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয় সাজেদাকে। পরিচিত জনরা সেদিন শাহজাদা সাজু ও সাজেদাকে মিলিয়ে দেন। সাজেদার বোন বলেন, রাগ-অভিমান ভুলে বারবার সংসার করতে চাইলেও সংসার তার ভাগ্যে জুটেনি। প্রায়ই নির্যাতন করা হতো তাকে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে থেকেই সাজু বাইরে গেলে বাইরে থেকে তালা দিয়ে যেতো বাসায়। দেশে থাকা মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে দিতো না। সর্বশেষ গত ২রা জুলাই কথা হয়েছে দুই বোন উপমা ও সাজেদার। ফোনের ওই প্রান্ত থেকে বোনের কান্না শব্দ পেয়েছেন উপমা। সাজুর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন সাজেদা। এমনকি একমাত্র সন্তানের সঙ্গে কথা বলতে না দেয়ার কষ্টগুলোও প্রকাশ করেছেন। এই করুণ অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন সাজেদা। শেষপর্যন্ত তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো টুকরো করে মুক্তি দিয়েছে সাজু!
মালয়েশিয়ার অবস্থানরত স্বজন ও ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে উপমা জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাজেদার মাথায় আঘাত করা হয়। এমনকি তাকে ইনজেকশন পুশ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তারপর তার লাশটি টুকরো টুকরো করা হয়েছে। অন্তত ১২ টুকরো করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তারা। পরে লাশটি ব্যাগে ভরে নদীর চড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকেই লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উপমা বলেন, লাশ দেশে আনা, মামলা বা আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

কেন ফিরেছেন নওয়াজ? by অনিম আরাফাত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কি শুধু জেলে যেতেই দেশে ফিরেছেন? তিনি জানতেন পাকিস্তান ফেরামাত্রই তাকে এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি চাইলেই পাকিস্তানি অনেক নেতার মতো বিদেশে পালিয়ে থাকতে পারতেন। তারপরেও তিনি পাকিস্তানে কেন ফিরে এলেন? এ নিয়ে ভারত উপমহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা আলোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক নানা সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছেন। পাকিস্তানে আগামী ২৫শে জুলাই জাতীয় নির্বাচন। তার আগে নওয়াজ শরীফের এভাবে ফিরে আসাকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক জুয়া খেলা হিসেবে। কারণ, এ খেলায় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হয় টিকে থাকবে, না হয় শেষ হয়ে যাবে। তাই, এমন জুয়ায় নেমেছেন নওয়াজ শরীফ।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানে বর্তমানে তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন)-এর নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন। সেখানে, নওয়াজ শরীফ দেশে থেকে তাদের শক্তি জোগানের চেষ্টা চালাবেন এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নিজের দলকে সংঘবদ্ধ রাখতেই জেলের ভয় না পেয়ে দেশে ফিরেছেন নওয়াজ। তাছাড়া, তিনি ব্যতীত তার দল পিএমএলএন সফলভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করবেন তিনি।
একইসঙ্গে, রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের মুখ বন্ধ রাখতেও নওয়াজ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভুল প্রমাণ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে দেশে ফিরে আদালতে লড়াই করা। তাছাড়া, জেল এড়াতে তিনি যদি লন্ডন বা বিদেশে অবস্থান করতেন তাহলে বিরোধী দলগুলো দুর্নীতির দায়ে তার সমালোচনা করার সুযোগ পেত। সেখানে, নওয়াজ শরীফ দেশে ফিরে সবাইকে জানিয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মোকাবিলা করতে ভয় পান না। পাকিস্তানে ফিরে আসার মাধ্যমে নওয়াজ শরীফ একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সবাইকে এক ধরনের শক্তির জোগান দেয়াই তার উদ্দেশ্য। সেনাবাহিনী যেখানে বার বার পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে সেখানে তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে চাইছেন। পাশাপাশি, জেলে আটক অবস্থায় তার প্রতি মানুষের সহানুভূতি বৃদ্ধি পাবে, নির্বাচনে যা ফল ঘুরিয়ে দিতেও সক্ষম। এর আগে ২০০৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো নিহত হওয়ার পরে তার দল ‘সিম্প্যাথি ভোট’ এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়েছিল।
নওয়াজ শরীফের ফিরে আসার আরেকটা কারণ হচ্ছে, তিনি মনে করছেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো শক্তিশালী নয়। নিরপেক্ষ বিচার হলে তিনি সহজেই মুক্তি পেয়ে যাবেন। আদালতে যদি তিনি নিজেকে মুক্ত করে আনতে পারেন তাহলে তা হবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক অসাধারণ সময়। তাই বিদেশে পালিয়ে না থেকে বাজি খেলতে চাইছেন নওয়াজ শরীফ।
এর আগে, লন্ডনে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পত্তি থাকার অভিযোগে নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে যথাক্রমে ১০ বছর ও ৭ বছর কারাদণ্ড দেয় পাকিস্তানের একটি আদালত। শুক্রবার রাতে লন্ডন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পর লাহোর বিমানবন্দরে তাদেরকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বি-শ্রেণির সুবিধা নিয়ে অবস্থান করছেন।