Monday, June 3, 2019

ট্রাম্পের বৃটেন সফর, সাদিক খানকে তিরস্কার, বিক্ষোভ

বিতর্ক সৃষ্টি করেই লন্ডন সফর শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি বৃটেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তার বিমান সোমবার বৃটেনের স্থানীয় সময় সকালে অবতরণ করার কথা। তবে এ সফরে তিনি কড়া প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে তিনি লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার উচ্চতা নিয়ে তিরস্কার করেছেন। এর কয়েকদিন আগে ট্রাম্পকে একবিংশ শতাব্দীর ফ্রাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন সাদিক খান। তাই রোববার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে নিউ ইয়র্কের বামপন্থি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও’র সঙ্গে তুলনা করেন সাদিক খানকে।
৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার সাদিক খান। ডি ব্লাসিওর উচ্চতাও কাছাকাছি। ট্রাম্প তার মন্তব্যে সাদিক খান প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ডি ব্লাসিওর যমজ যেন,পার্থক্য শুধু তার থেকে খাট বা বেঁটে। এ নিয়ে বৃটিশ মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা হচ্ছে।
ওদিকে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া নিয়ে এরই মধ্যে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পাদন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন নাইজেল ফারাজেকে। ট্রাম্পের এমন আহ্বানকে বৃটেনের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সাদিক খান।
বৃটেন সফরে বিমানে উঠার আগে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে ডেইলি মেইল তার কাছে জানতে চায়, বৃটেন সফরের সময় মেয়র সাদিক খানের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত করবেন কিনা। এ সময় সাদিক খান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, আমি তার বিষয়ে অতো ভাবি না। তিনি ডি ব্লাসিওর যমজের মতো, পার্থক্য শুধু তিনি একটু বেঁটে। এখানে উল্লেখ্য, সাদিক খানের সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের যেমন বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক, একই রকম সম্পর্ক নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর সঙ্গেও। সে জন্যই হয়তো তাদেরকে ‘টুইন’ বা যমজ বলে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। সফরের সময় তিনি বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান ট্রাম্প।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার লন্ডনে অবতরণ করার কথা রযেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের। তাদেরকে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানোর কথা রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দেয়ার কথা রয়েছে। গ্রিন পার্কে এবং টাওয়ার অব লন্ডন থেকে তাকে রাজকীয় গান-স্যালুট জানানো হবে। রাতে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন রানি দ্বিতীয় এলজাবেথ। এর শুরুতেই তারা দু’জনে বক্তব্য রাখবেন।
মঙ্গলবার সকালের নাস্তা আয়োজন করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এর আয়োজন হবে সেইন্ট জেমস রাজপ্রাসাদে। সেখানে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়াকে নিয়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে আলোচনায় বসবেন তেরেসা মে। তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন। ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলন করবেন। বৃটেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন উইনফিল্ড হাউসে নৈশভোজের আয়োজন করবেন ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি। রাণীর পক্ষে এতে যোগ দেবেন প্রিন্স অব ওয়েলস এবং ডাচেস অব কর্নওয়াল। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স অব ওয়েলসের সঙ্গে বুধবার দিন অতিবাহিত করবেন ট্রাম্প দম্পতি।
ওদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাবেন তখন মধ্য লন্ডনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিখ্যাত ‘ট্রাম্প বেবি’ নামের বেলুন দৃশ্যমান হবে। পাশাপশি থাকবে রোবট ট্রাম্প, যাকে দেখানো হয়েছে একটি স্বর্ণের টয়লেটের কমোডের ওপর বসে আছেন। এমন রোবটের উচ্চতা ১৬ ফুট। ওদিকে ট্রাম্প সম্পর্কে সাদিক খান লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত হুমকির সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

জলবায়ু পরিবর্তন: কেমন আছেন চরের মানুষ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক নির্জন দ্বীপ। নিকটস্থ হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এর অবস্থান। সেখানে বসবাস করেন আবদুল জলিল (৬৭)। তিনি মনে করতেন অন্ধ হয়েই তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। কিন্তু তার সেই ধারণা পাল্টে গেছে এ মাসের প্রথমদিকে। ওই সময় তার বাড়ির পাশে নোঙর করে একটি জাহাজ। বিনামূল্যে ৬৭ বছর বয়সী জলিলের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, কখন আমার চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হবে, তার জন্য আর তর সইছিল না। ঠিকমতো আমার ছেলেকে শেষ কবে দেখেছি! সে অনেক আগের কথা। ভুলেই গিয়েছি দেখতে কেমন সে। ওই প্রতিবেদনে চরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে তারা। যমুনা নদীর বুকে বালু আর পলিমাটি জমা হয়ে দুই দশক আগে সৃষ্টি হয়েছে একটি দ্বীপ। সেখানেই বসবাস করেন আবদুল জলিল। বাংলাদেশে এসব দ্বীপ চর নামে পরিচিত। নিয়মিত এসব চরে ভাঙন চলে আবার গড়ার কাজও চলে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরমভাবাপন্ন বৃষ্টির কারণে এ ঘটনা ঘটে দ্রুততার সঙ্গে। নদী ভাঙন চরের বাসিন্দাদের বেঁচে থাকাকে জটিল করে তোলে। গবেষকরা বলছেন, এই নদী ভাঙনের কারণে সেখানে স্থায়ী কোনো হাসপাতাল নির্মাণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ভাসমান হাসপাতাল, যা জাহাজে পরিচালিত হয়, তা পরিচালনা করে একটি বেসরকারি সংগঠন। তাতে রয়েছে চিকিৎসা সুবিধার সরঞ্জাম। আছেন ডাক্তাররা। এ থেকে এমন চরে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এমন অন্য দেশগুলোর কাছে এটা হতে পারে একটি মডেল। জাহাজ ছাড়া চরের অধিবাসীদের ভাড়া করতে হয় বোট। তারপর নিকটস্থ হাসপাতালে সারাদিনের সফর শেষে পৌঁছাতে হয়। এনজিও ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রধান কাজী গোলাম রসুল এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, শুধু একজন ডাক্তারের সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য এসব চরের মানুষদের প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে অনুৎসাহিত হন তারা। তাই যখন রোগ বা ব্যথা অসহনীয় অবস্থায় চলে যায়, তখনই এসব অধিবাসীরা হাসপাতালে যান। বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওই এনজিওটি বর্তমানে দু’টি জাহাজ পরিচালনা করে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো পাঁচটি। এতে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরবের সংগঠন কিং আবদুল্লাহ ফাউন্ডেশন। পাঁচ বছর পরে নতুন জাহাজগুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নওশের আহমেদ শিকদার বলেন, যেসব মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন এবং তারা চিকিৎসা সেবা পান না তাদের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুবই বিপর্যকর অবস্থায়। গবেষকরা বলছেন, যেসব মানুষ মূল জনপদ থেকে অনেক দূরে চরে বসবাস করেন জলবায়ুুর পরিবর্তন, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে সবার আগে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারি রেকর্ড বলছে, গাইবান্ধার চরে বসবাস করছেন কমপক্ষে ৪৬৬টি পরিবার। তারা নদী ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়েছেন। ৬৭টি পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ন্যাশনাল চর এলায়েন্সের মতে, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চরগুলোতে বসবাস করেন প্রায় এক কোটি মানুষ। ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন রুনা খান। তিনি বলেন, এখানে জীবন ও মৃত্যু পাশাপাশি অবস্থান করে। একজন কৃষক তার জমিতে সবটুকু অর্থ বিনিয়োগ করেন। আশা ভালো ফলন পাবেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন তার কাছ থেকে এর সবটাই কেড়ে নেয়। তিনি যা সঞ্চয় করেছিলেন মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেছেন, গত দুই দশকে তার সংগঠন দেখতে পেয়েছে বিভিন্ন মৌসুম ছাড়াও রোগ দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যাকে মোকাবিলা করার জন্য রুনা খান তিন স্তরের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে রোগীকে জাহাজে নেয়া, মেডিকেল টিম চরে পাঠানো চেকআপ করতে, সচেতনতা বাড়াতে চরের নারীদের প্রশিক্ষণ ও ওষুধ দেয়া। রুনা খান বলেন, শহরের মতো স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা আপনি এসব চরে পাবেন না। কারণ, এসব চর অস্পৃশ্য। জলবায়ু বিষয়ক বিজ্ঞানী সলিমুল হক বলেছেন, হাসপাতাল জাহাজের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ধারণা ও চর্চা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

অভিনব কৌশলে এটিএম বুথের টাকা চুরি, ইউক্রেনের ৬ নাগরিক গ্রেপ্তার

অভিনব উপায়ে রাজধানীর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এতে জড়িত বিদেশী ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ইউক্রেনের নাগরিক। পুলিশ বলেছে, তারা যে উপায়ে এটিএম থেকে টাকা তুলেছে তা এর আগে কখনো দেখা যায় নি।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথ থেকে তারা অর্থ উত্তোলন করেছে। কিন্তু এই অর্থ উত্তোলনের রেকর্ড নেই ব্যাংকের সার্ভারে। এমন কি কোনো ক্লায়েন্ট বা একাউন্ট হোল্ডারের একাউন্ট থেকেও অর্থ কর্তন হয় নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন গণমাধ্যমকে বলেন, এ অপকর্মে জড়িত থাকায় ওই ৬ ব্যক্তিকে শনিবার রাজধানীর পান্থপথের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ এবং ব্যাংক সূত্রমতে, বিদেশী দু’জন নাগরিক শুক্রবার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এ বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বুথের নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে। এ সময় তারা দেখতে পান, দু’ব্যক্তি সত্যি টাকা তুলছে। ওই টাকা উত্তোলনের সঙ্গে কোনো একাউন্ট সংশ্লিষ্ট নয়। এমন কি ব্যাংকের সার্ভারেও এর রেকর্ড ওঠেনি।
শনিবার খিলগাঁওয়ে আরেকটি বুথে প্রবেশ করে ওই একই ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ছিলেন মুখোশ ও ক্যাপ পরা। এ সময় বুথের নিরাপত্তা রক্ষীর সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। স্থানীয় লোকজন এসে তাদের একজনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তির দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই চক্রের এক সদস্য পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভ্যালেন্টাইন সোকোলভস্কি (৩৭), শেভচুক ওলেগ (৪৬), ডেনিস ভিতোমেস্কি (২০), নাজারি ভোজনক (১৯), সের্গেই ইউক্রেনেটজ (৩৩) ও ভালোদিমির ট্রুশিনিস্কি (৩৭)।
শাহিদুর রহমান রিপন বলেন, ইউক্রেন থেকে ৭ জন একসঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন। এরমধ্যে ভিটালি ক্লিমচাক (৩১) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছে যে কার্ড পাওয়া গেছে, তা কাজ করে ভিন্নভাবে। যখন এই কার্ড এটিএম বুথের মেশিনে প্রবেশ করানো হয়, তখন বুথ ও ব্যাংকের সার্ভারের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তারপর তারা তাদের মতো করে অর্থ উত্তোলন করে। এমন প্রতারণা এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন এই পুলিশ কমকর্তা।

ভর্তি ফর্মে ধর্ম হিসেবে ‘মানবতা’ লেখার সুযোগ

ভর্তির ফর্মে নিজের ধর্মবিশ্বাস হিসেবে ‘মানবতা’ লেখার সুযোগ সৃষ্টি করলো ভারতের দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার বেথুন কলেজ এবং মেদিনীপুর কলেজের ভর্তি ফর্মে এই অভূতপূর্ব সুযোগ রাখা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে সেই রাত থেকেই অনলাইনে বিভিন্ন কলেজের ফর্ম পূরণ শুরু হয়েছে। আর সেখানেই বেথুন ও মেদিনীপুর কলেজের জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে আবেদনকারীরা দেখতে পাচ্ছেন, ধর্মের কলামে তালিকার প্রথমেই রয়েছে মানবধর্ম। হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্ট বা অন্য যে কোনো ধর্মকে বাদ দিয়ে মানবতাকে নিজের ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ পাচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা- যা অভিনব।
উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় মনে করছেন, সব ধর্মেরই মূল কথা মানবতা। এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক সময়ে বিভেদ সৃষ্টি হয়। আসলে ধর্মে ধর্মে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই। তিনি বলেন, “আজকাল অনেকেই ধর্মীয় পরিচয় দিতে চান না বা দিতে লজ্জা পান। সে ক্ষেত্রে মানবতাকে বেছে নেওয়ার এই সুযোগ থাকাটা ভালো। তাতে আবেদনকারীকে একটা স্বাধীনতাও দেওয়া হলো।”
বেথুন কলেজের অধ্যক্ষ মমতা রায় বলেছেন, গত বছরও ভর্তির অনলাইন ফর্ম ছিল, তবে তাতে মানবতাকে নিজের ধর্ম বলে বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। “অনেক আবেদনকারী হয়তো প্রচলিত কোনও ধর্মেই বিশ্বাস করেন না। তিনি হয়তো শুধু মানবধর্মে বিশ্বাসী। এই আবেদনকারীরা ওই কলামে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান-সহ নানা ধর্মের মধ্যে ‘অন্যান্য’ বলে যেখানে উল্লেখ থাকত তা বেছে নিতেন। অনেকে আবার লিখে দিতেন ‘নন বিলিভার’। এবার থেকে তাঁরা নিজের মত আরও স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে পারবেন।” অধ্যক্ষ্যের মতে, মানবতা ছাড়া যে কোনো ধর্মই হয় না, তাদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাও নবীন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে।
মেদিনীপুর কলেজের অধ্যক্ষ গোপালচন্দ্র বেরা বলছেন, ‘মানুষের প্রথম পরিচয় সে মানুষ। মানবতাই তার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়। তাই কলামটি এমন রাখা হয়েছে।’বেথুনের অধ্যক্ষ আরো বলছেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তির মেধাতালিকা বার করাটাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। তবে তার মধ্যেই ছোট ছোট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এবার অনলাইনে ভর্তির আবেদনপত্র প্রকাশের আগে কলেজে অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এবারের আবেদনপত্রে ধর্মের তালিকায় স্থান পাবে মানবধর্ম।
বেথুন ও মেদিনীপুর কলেজ কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন আবেদনকারী ছাত্রী থেকে শুরু করে তাদের অভিভাবকদের অনেকেই। তাদের একাংশের মতে, এর ফলে অনেকেই নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিতে কেন বিশ্বাস নেই ভারতের কৃষকদের? by জাহিদুল ইসলাম জন

কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের (ইউপিএ) বিরুদ্ধে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোট। তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলো বলছে, অনেক কৃষকের অবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ই্উনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স-ইউপিএ ২০০৪ সালে একটি কমিশন গঠন করলেও সেই কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কোনও উদ্যোগ নেয়নি কোনও সরকারই। সে কারণে দিনকে দিন তাদের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আত্মহত্যা করেছে লাখ লাখ কৃষক। এমন বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনেও কংগ্রেস ও বিজেপির পক্ষ থেকে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই কৃষকদের তাতে আস্থা নেই।
ভারতের ৫০ শতাংশ শ্রম শক্তি কৃষিখাতের। খরা, সেচের অভাব, ঋণের ফাঁদসহ নানা সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে দেশটির এই ভোটার গ্রুপটি এই নির্বাচনি ডামাডোলের মধ্যেও বড় আকারের বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ করেছে। বহু আগেই জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে কৃষকের আত্মহত্যা। সরকারি তথ্য সংগ্রহ করে মুম্বাইভিত্তিক এনজিও ডাউন টু আর্থ এর হিসেবে ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটিতে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। গত বছর সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করেছে ১২ হাজার ৬০২ জন কৃষক।
কৃষকদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ২০০৪ সালের ১৮ নভেম্বর ন্যাশনাল কমিশন অন ফার্মাস নামে একটি কমিশন গঠন করে তৎকালীন ইউপিএ সরকার। ভারতের পরিবেশ আন্দোলন সবুজ বিপ্লবের শীর্ষ নেতা প্রফেসর এম এস স্বামীনাথানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন ২০০৬ সালের ৪ অক্টোবর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। কমিশনের তরফে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সহজে পানি, প্রযুক্তি ও মূলধন সরবরাহ, খাদ্য শস্যের সর্বনিম্ন মূল্য বেধে দেওয়া এবং শুস্ক এলাকায় খরা সহিষ্ণু নীতি গ্রহণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারই ওই সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। ভারতীয় কৃষক সংঘের প্রেসিডেন্ট সাতনাম সিংহ বেহরু বলছেন, স্বামীনাথান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় জীবিকার ক্ষেত্রে ক্রমাগত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। চরম-ভাবাপন্ন আবহাওয়া, ক্রমাগত বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয় আর খাদ্য শস্যের মূল্য হ্রাসের কারণে ভারতের লাখ লাখ কৃষক সংকটে পড়েছে। সরকারি তথ্য মতে গত দুই দশকে ভারতে তিন লাখেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে ২০১১ সাল থেকে কৃষিখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মোট অপরিশোধিত কৃষি ঋণের পরিমাণ দাড়ায় এক লাখ কোটি রুপিতে। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার কোটি রুপি। চলমান এনডিএ জোট সরকারের শাসনামলে বেশ কয়েকটি বড় ধরণের বিক্ষোভ করেছে ভারতের কৃষকেরা। সরকারি কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছিলেন তারা। কৃষক নেতা বেহরু বলেন, বিজেপি সরকার আমাদের পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। সাত ধাপের ভারতীয় নির্বাচন শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে উত্তর ভারতের কৃষক ঈশ্বর চন্দ্র শর্মা আত্মহত্যা করলে তার পকেটে একটি চিরকুট পায় পুলিশ। তাতে লেখা ছিল ’বিজেপিকে ভোট দিও না’। পুলিশ ওই চিরকুটের সত্যতা নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঈশ্বরের ছেলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যে ঋণের কারণে তার ৬৫ বছর বয়সী বাবা বিষপানে বাধ্য হয়েছিলেন সেই ঋণের জন্য ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি) নীতিকে দায়ী করতেন তিনি।
সমালোচনার জবাবে বিজেপি মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল রয়টার্সকে বলেন, গত পাঁচ বছরে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তার দল। গত বছর স্বামীনাথন কমিশনের একটি সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম পড়ে গেলে কৃষকদের ন্যুনতম  লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, কৃষকদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ২০৮-১৯ অর্থবছরে কৃষি, বনায়ন ও মৎস খাত থেকে জিডিপি ২ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৫ শতাংশ। খামার উৎপাদনের সঙ্গে দারিদ্রের সরাসরি যোগাযোগ থাকায় জিডিপির এই হার উদ্বেগজনক। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কৃষিখাতের বার্ষিক জিডিপির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবারও তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রান্তিক মানুষ ও কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দারিদ্র দূরীকরণে বড় ধরনের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ন্যুনতম আয় যোজনা নামের এই কর্মসূচির আওতায় সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারকে বার্ষিক ৭২ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়া হবে। কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী যতদূর সম্ভব বাড়ির নারীদের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হবে। অন্যদিকে কৃষকদের ভার লাঘবে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে এই ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি এসেছে। ২০২২ সাল নাগাদ কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। তারপরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না দিল্লির যমুনা নদী তীরের প্রান্তিক কৃষক মোহাম্মদ মুজাবির। মার্কিন সংবাদমাধ্য সিএনএন-কে তিনি জানান, তার মতো প্রায় এক হাজার ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন যমুনা তীরে। তারাও আশাবাদী নন এসব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে তাদের কোনও ফায়দা হবে। তিনি বলেন, এখানকার কোনও কৃষকই লাভবান হয়নি। কিছুই হয়নি। তারা শুধু বলেই যায়।

নতুন বন্ডগার্লের প্রেমের নেশা

আসছেন নতুন বন্ডগার্ল। যৌন আবেদনময়ী যেসব বন্ডগার্ল এ পর্যন্ত এসেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে আবেদনময়ী যারা তার মধ্যে তিনি হতে চলেছেন অন্যতম। পান্নার মতো চোখ। স্বর্ণালী চুল। আর মসৃণ ত্বকের এই অভিনেত্রীর নাম আনা ডে আরমাস (৩১)। কিউবার এই সুন্দরী ০০৭ সিরিজের বন্ডগার্লে ‘আগুন’ ধরাতে আসছেন। তাকে নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় ব্যাপক মাতামাতি। এর কারণ, সহ-অভিনেতা যিনিই হোন না কেন, তিনি তারই প্রেমে পড়ে যান।
এটা নাকি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ১৬ বছর বয়স থেকেই তিনি ছবিতে অভিনয় করে আসছেন। এখন ৩১ বছর বয়সী টগবগে যুবতী। নিজেই স্বীকার করেছেন, আমি এরই মধ্যে অনেক মানুষের প্রেমে পড়েছি। অনেক ছবিতে তিনি রগরগে দৃশ্যে একেবারে খোলামেলা অভিনয় করেছেন। বিছানায় দেখা গেছে তাকে নগ্ন অবস্থায়। এখানে উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হলিউডে তিনি নিজের অন্যরকম এক জায়গা করে নিয়েছেন। সবাই এখন এক নামে তাকে চেনেন। এর কারণ, তিনি ক্যামেরার সামনে রগরগে দৃশ্যে অভিনয় করেন । সহ-অভিনেতার সামনে একেবারে নগ্ন হয়ে যান। কোনো ভনিতা নেই এতে তার। ২০১৭ সালে হিট ছবি ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ ছবিতে, ২০১ সালে ‘ব্লাইন্ড অ্যালে’ এবং ২০০৯ সালের ‘সেক্স, পার্টি অ্যান্ড লাইজ’ ছবিতে নগ্ন হয়ে অভিনয় করেছেন।
এ ছাড়া ২০১৫ সালে যৌন উত্তেজক হরর থ্রিলার ছবি ‘নক নক’-এ তিনি অভিনয় করেছেন অভিনেতা কেনু রিভসের সঙ্গে। তাতে দুজন যুবতী একজন বিবাহিত পুরুষকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। তারা ওই পুরুষের বাসা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পথ করে নেয়। তাতে ওই দুই যুবতী ও পুরুষের ভূমিকায় অভিনয়কারী কেনু রিভজ তিনজনে মিলে যে দৃশ্যে অভিনয় করেন তা এতটাই যৌন উত্তেজনাপূর্ণ ও খোলামেলা যে, ওই দৃশ্যগুলো পর্নো সাইটগুলো লুফে নেয়।
সেই আনা এখন ৭৬তম বন্ড গার্ল হতে যাচ্ছেন। তিনি কিউবার রাজধানী হাভানায় বড় হয়েছেন। শিশু থাকা অবস্থায় তিনি কোনো বন্ড সিরিজের ছবি দেখেননি। আর তো বন্ডগার্ল হওয়ার স্বপ্ন পরের কথা। হাভানায় ন্যাশনাল থিয়েটার স্কুলে চার বছর পড়াশোনা করেছেন। তারপর ১২ বছর বয়সে তিনি অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিউবা তখন শাসন করেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার দাদা-দাদি অথবা নানা-নানী স্প্যানিশ। সেই সূত্রে তিনি স্প্যানিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন ১৮ বছর বয়সে। তখন তার সঞ্চয় ২০০ ইউরো। তাই নিয়ে চলে যেতে চান মাদ্রিদে। আনা বলেছেন, আমার মনে হয়েছিল আমার আরো অনেক কিছু দরকার। সব সময় আমি খুব উচ্চাভিলাষী। আমি জানতাম আমার আরো কিছু চাই। অবশ্যই আমি জানতাম ওই ২০০ ইউরো কিছুই না। তবে কিউবায় এই অর্থ অনেক। অভিনেত্রী হিসেবে এই অর্থ সঞ্চয় করেছিলাম।
আনা বলেন, মা-বাবাকে বলেছিলাম যখন এই অর্থ ফুরিয়ে যাবে তখন দেশে ফিরে আসবো। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই অর্থ ফুরিয়ে গেল। আমি আর ফিরে যাইনি। আমি এ যাবত যত সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার মধ্যে এটা ছিল সবচেয়ে উত্তম।
স্পেনে টিভি থ্রিলার সিরিজ ‘এল ইন্টারনাদো’তে রোল পেয়ে যান তিনি। এর বদৌলতে হয়ে ওঠেন বিশাল মাপের একজন সেলিব্রেটি। ২০০৬ সালে মাদ্রিদ পৌঁছানোর পর এক সপ্তাহ অডিশন দিয়ে তিনি টিকেছিলেন এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। ব্যস, তার ভাগ্যের দরজা খুলে যায়। হাভানায় তিনি যে অর্থের কথা ভাবতেও পারতেন না, তার চেয়ে বেশি উপার্জন করতে থাকেন।
আনার পিতা-মাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একটি উদার পরিবার থেকে এসেছি। আমরা বিলাসিতার মধ্যে বাস করতাম না। দিনে যতটা খাবার প্রয়োজন হতো তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম। কোনো কোনো গ্রীষ্মে সমুদ্র সৈকতে যেতাম। বাবা-মার সততার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ। আমরা কি করতে পারি, কি করতে পারি না, এ বিষয়ে সব সময় ছিলাম সচেতন। ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় খেলতে যেতাম। আমাদের কোনো ফোন বা ইন্টারনেট এমনকি ডিভিডি প্লেয়ার ছিল না। কিছুই ছিল না।
আনা প্রথম জেমস বন্ড ছবি দেখেন। তিনি বলেন, আমি কয়েক বছরে বন্ড সিরিজের ছবির ভক্ত হয়ে উঠেছি। ‘স্কাইফল’ নিয়ে আমার বিশেষ স্মৃতি আছে। এটা ছিল বড় পর্দায় আমার দেখা প্রথম বন্ড ছবি। মাদ্রিদে এর প্রিমিয়ার হয়েছিল।
ততক্ষণে তিনি স্পেনের অভিনেতা ও মডেল মার্ক ক্লোটেটের (৩৯) প্রেমে পড়ে গেছেন। পরে তারা ২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে মার্ক-এর বন্ধুরা আনা’কে জ্বলন্ত মেজাজি বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, তিনি কখনো কখনো অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন। দু’বছর পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১৪ সালে ইংরেজি না জানা সত্ত্বেও আনা চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলসে।
তিনি বলেন, আমি খুব সাদামাটা একটি পরিকল্পনা নিয়ে লস অ্যানজেলসে পা রাখি। আমার সঙ্গে ছিল একটি সুটকেস। আর ছিল একটি ধারণা। সেটা হলো, আমাকে সেখানে যদি থাকতে হয় থাকবো। যদি চলে যেতে হয় তাহলে চলে যাবো। 
এখন লস অ্যানজেলসের ভেনিস বিচে নিজের কুকুর এলভিসকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করেন আনা। তিনি বলেন, এই পৃথিবীতে আমি হলাম সবচেয়ে অলস মানুষ। আমি শুধু ওয়াইন পান করতে পছন্দ করি। ছবি দেখতে ভালো লাগে। আমি জিমে যাই। কারণ, জানি আমার জন্য কেউ একজন অপেক্ষা করছে।
সামনেই আসছে থ্রিলার ছবি ‘নাইভস আউট’। এটি মার্কিন একটি অপরাধ বিষয়ক ছবি। এতে আনার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ডানিয়েল ক্রেইগ। এই কাজের সুবাদে দুজন দুজনকে জেনেছেন। গত সপ্তাহে তারা শিরোনামহীন ২৫তম একটি বন্ড ছবির সূচনা উপলক্ষে একসঙ্গে গিয়েছিলেন জ্যামাইকায়।

ঋণখেলাপিরা কি ভালো হয়ে যাবেন by শওকত হোসেন

প্রথমেই বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ দিই ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সার্কুলারটি জারি করতে পেরেছে বলে। সার্কুলারের বিষয়বস্তু তৈরি হয়েছে এক পাঁচ তারকা হোটেলে, সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা ছিল না। তারপর সেটি লেখা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে। এরপর সেটি গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। জানতে পারলাম, কেন্দ্রীয় ব্যাংক খানিকটা ঘষামাজা করেছে বটে, তবে সেটাও কম কিসে।
এবার অভিনন্দন জানাই বছরের পর বছর ধরে ঋণখেলাপির অবস্থান যাঁরা ধরে রেখেছেন, তাঁদের। ধৈর্যের পুরস্কার তাঁরা পেয়েছেন। সরকার বিশাল এক ছাড় দিয়েছে। কোনো তিরস্কার না, কোনো শাস্তিও না, বরং অনেক বড় পুরস্কার। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ, ২ শতাংশ এককালীন কিস্তি, আর বাকি টাকা ১০ বছরে পরিশোধ। কেবল তা-ই নয়, তাঁরা নতুন ঋণও পাবেন।
ভালো ঋণগ্রহীতারাও ধন্যবাদ পাবেন। সমাজে তাঁরাও যে আছেন, সরকার এবার অন্তত স্বীকৃতি দিল। নইলে বছরের পর বছর ধরে ঋণখেলাপিরা যেভাবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, মনে হতো তাঁদের অস্তিত্বই একমাত্র সত্য। নতুন নীতিমালায় ভালো গ্রহীতা ১০ শতাংশ অর্থ ফেরত পাবেন।
এ ক্ষেত্রে সরকারকেও ধন্যবাদ দিতে হয়। জানা ছিল, কেবল ঋণখেলাপিরাই বড় পুরস্কার পাবেন। যেমন আগেও পেয়েছেন। কিন্তু যতবার ঋণখেলাপিরা পুরস্কৃত হয়েছেন, ততবার সরকারের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। কেননা, এতে নিয়মিত ও ভালো গ্রাহকেরা ঋণ ফেরত দিতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। এমনকি তা অনৈতিকও। কিন্তু সরকার সব সময় কালোটাকার মালিকদের অর্থ সাদা করার সুযোগ দেওয়ার মতো করে ঋণখেলাপিদের নিয়মিতভাবে সুযোগ দিয়ে আসছে। এবারই সম্ভবত প্রথম ভালো গ্রহীতাদের পুরস্কারের ঘোষণা দিল। তবে কোনো সংশয় নেই যে ঋণখেলাপিদের বিশাল ছাড় দেওয়ার সমালোচনা থেকে খানিকটা রেহাই পেতেই ভালো গ্রহীতাদের প্রতি এই আলাদা নজর। তারপরও সরকারকে ধন্যবাদ।
পুঁজি খাতের নিয়ন্ত্রকেরাও বিশেষভাবে ধন্যবাদ পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বাজার মন্দা। মাঝেমধ্যে জোর করে সূচক ওঠানো ছাড়া ভালো কোনো সংবাদ অনেক দিন ধরেই শেয়ারবাজারে নেই। বাজারে অর্থের সংকট আছে, তার চেয়েও বেশি আছে আস্থার সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার ঋণ পুনঃ তফসিল বিষয় ছাড়াও পুঁজিবাজার নিয়েও আলাদা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেখানে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা রয়েছে। আশা করা যায়, এখন শেয়ারবাজারের তারল্যসংকট খানিকটা কমবে, বাজার চাঙা হবে। তবে এ থেকে আস্থার সংকট কতটা কমবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ধন্যবাদের পালা শেষ। এবার আশাবাদের পালা। আশা করা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপন অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে, ঋণখেলাপিরা সবাই ভালো হয়ে যাবেন। তাঁরা এরপর থেকে নিয়মিতভাবে ঋণ শোধ করবেন, ঋণের অর্থে ভালো উদ্যোগে বিনিয়োগ ঘটবে, তাতে কর্মসংস্থান হবে, মানুষের আয় বাড়বে। এতে বিনিয়োগের সংকট যেমন কাটবে, তেমনি অর্থ পাচারও কমবে। ঋণ নিয়ে কেউ আর অন্য খাতে নিয়ে যাবেন না।
এবার শঙ্কার কথা বলি। খুব বেশি পেছনে যেতে হবে না। ২০১৫ সালেই দেশের বড় ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে—এমন ১১ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। শর্ত ছিল, এরপর তাঁরা নিয়মিত কিস্তি দিয়ে ভালো হয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মাত্র দুটি কোম্পানি ছাড়া আর কেউই কিস্তির টাকা পরিশোধ করেননি। আরও দুঃখজনক হলো, নতুন করে যে ছাড় দেওয়া হলো, এর পেছনেও আছেন পুনর্গঠন–সুবিধা নেওয়া ব্যবসায়ীদেরই কেউ কেউ। বিশেষ সুবিধা পেয়ে ঋণখেলাপিরা ভালো হয়ে গেছেন, এমন উদাহরণ বাংলাদেশে কখনো দেখা যায়নি। সুতরাং, আবার যে একই ঘটনা ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কী।
বাংলাদেশে ভালো গ্রাহক হওয়ার চেয়ে খারাপ গ্রাহক হলে লাভ বেশি। ঋণের টাকা পাচার বা অন্য কাজে ব্যবহার করেও বছরের পর বছর আয়েশে কাটানো যায়। নতুন নীতিমালা তাঁদের এই আয়েশ আরও বাড়াবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এমনকি সরকার অর্থনীতি বা ব্যবসার স্বার্থে নাকি কিছু ব্যবসায়ীর জন্য নতুন নীতিমালাটি জারি করেছে, সেই সন্দেহও থেকে গেল।

বিশ্বের মহাসাগরে মিলল নতুন ২ লাখ ভাইরাস: বৈশ্বিক উষ্ণতা নিবারণে সহায়তা হবে!

নতুন এক সমীক্ষার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে যে বিশ্বের সব মহাসাগরে রয়েছে প্রায় দুই লাখ অজানা ভাইরাস।
বিস্ময়কর এ সব জীবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে মহাসাগরীয় পাঁচটি অঞ্চল থেকে। এগুলো সাধারণ ভাবে স্বতন্ত্র পরিবেশগত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সুমেরু এবং কুমেরু মহাসাগর থেকে শুরু করে উষ্ণ মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে রয়েছে এ সব অঞ্চল। সেল নামের জার্নালে এ গবেষণার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ সব ভাইরাসের বেশির ভাগের খবরই বিজ্ঞান জগতে অজানা ছিল। অন্যদিকে মহাসাগরে যে পরিমাণ ভাইরাস আছে বলে আগে অনুমান করা হতো তার চেয়ে প্রায় ১২ গুণ বেশি ভাইরাস পাওয়া গেছে।
বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে  এক লাখ ৯৫ হাজার সাতশ ২৮টি ভাইরাস পাওয়া গেছে। এ সব অণুজীব মহাসাগরের বাস্তুতন্ত্র বা জৈব পরিবেশকে প্রভাবিত করে তাও জানার আগ্রহ রয়েছে বিজ্ঞানীদের।
ভাইরাসকে সাধারণ ভাবে ভিলেন হিসেবেই গণ্য করি আমরা। কেবলমাত্র অসুখ-বিসুখ সৃষ্টির সঙ্গেই ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে বলে সাধারণ ভাবে মনে করি আমরা। এ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। আর সাগরের এ সব ভাইরাসের বেশির ভাগই মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে এগুলো মাছ বা তিমির মতো সামুদ্র প্রাণী দেহে সংক্রমণ ঘটাতে হয়ত পারে। যাই হোক না কেনও, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে সাগরের বুক জৈব-প্রকৌশল প্রয়োগের পথ বের করতে হয়ত সহায়তা করবে এ জরিপ।
টারা নামের এক সমুদ্রযানের মাধ্যমে সু থেকে কুমেরু পর্যন্ত জরিপ চালানো হয়েছে। গত এক দশক ধরে চলেছে এ জরিপ। সাধারণ ভাবে সাগরের চার হাজার মিটার বা ১৩ ফুট গভীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সব নমুনাকে পরিশোধন শেষে বিভিন্ন গবেষণাগারে পাঠানো হয়। এ জরিপের সঙ্গে জড়িত গবেষণাগারগুলো 'টারা ওসেনস কনসোর্টিয়াম' হিসেবে পরিচিত।
মানুষের শ্বাস নেয়ার জন্য যে অক্সিজেন ব্যবহার হয় তার অর্ধেকই উৎপাদন করে সামুদ্র জীবরা। অন্যদিকে আবহমণ্ডলে মানুষ যে কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে তার ৫০ ভাগই সরিয়ে ফেলে তারা।
নতুন এ গবেষণার মাধ্যমে আবহমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্যের বিষয়টি আরও সঠিক ভাবে সহায়তা করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।
তারা বলেছেন, সাগরে অধিক হারে জীবনের খোঁজ পাওয়ার মানে হলো কার্বন ডাই অক্সাইড অধিক হারে জৈব কার্বনে এবং জৈব ভরে রূপান্তরিত হবে। এতে সাগরের পানির অম্লত্ব বাড়াবে না কার্বন ডাই অক্সাইড।
সাগরের ভাইরাসে কিছু রদবদলের চেষ্টা করবেন বিজ্ঞানীরা। এটি করা হবে গবেষণার মাধ্যমে। এতে বাতাস থেকে বেশি বেশি করে কার্বন ডাই অক্সাইড সরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। সম্ভব হবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর যুদ্ধ।

ব্ল্যাক হোল দেখতে কেমন?

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বরের (ব্ল্যাক হোল) ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন, তা জানতে পারল বিশ্ববাসী। কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে আজ এই কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কৃষ্ণগহ্বরটির আকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার। সহজ করে বললে, কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবীর প্রায় ৩০ লাখ গুণ বড়! আকারে এটি এতটাই বিশাল যে বিজ্ঞানীরা একে ‘দৈত্যাকৃতি’র বলে উল্লেখ করেছেন।
কৃষ্ণগহ্বরটি পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। পৃথিবীজুড়ে স্থাপন করা ৮টি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবি ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
ব্ল্যাক হোল কী?
  • ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না। এমনকি আলোও এই গহ্বরকে অতিক্রম করতে পারে না।
  • নাম গহ্বর হলেও ব্ল্যাক হোলের মধ্যে কিন্তু পুরোটা ফাঁকা জায়গা নয়। বরং এর মধ্যে খুব অল্প জায়গায় এত ভারী সব বস্তু আছে যে এসবের কারণে তীব্র মহাকর্ষীয় শক্তি উৎপন্ন হয়।
  • ব্ল্যাক হোলের পেছনে ‘ইভেন্ট হরাইজন’ নামের একটি স্থান আছে, যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’। এই জায়গায় মহাকর্ষীয় শক্তি এতটাই তীব্র যে এখান থেকে কোনো কিছুই আর ফেরত আসতে পারে না।
প্রথম এই গবেষণার প্রস্তাব তোলা অধ্যাপক হেইনো ফালকে বিবিসিকে বলেছেন, এম৮৭ নামের একটি ছায়াপথে এই বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গহ্বরটির আকৃতি সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা যা দেখতে পেয়েছি, তার ভিত্তিতে বলতে হয়, আকৃতিতে কৃষ্ণগহ্বরটি আমাদের সমগ্র সৌরজগতের চেয়েও বড়। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ৬.৫ বিলিয়ন গুণ বেশি। আমাদের ধারণা, যতগুলো কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে, সব কটির মধ্যে এটি ভরের দিক থেকে অন্যতম। এটি স্রেফ দৈত্যাকৃতির একটি কৃষ্ণগহ্বর।’
প্রকাশিত ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, কৃষ্ণগহ্বর থেকে ‘আগুনের চক্র’ নির্গত হচ্ছে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ফালকে বলেছেন, একটি সম্পূর্ণ গোলাকৃতি ও অন্ধকার গহ্বরকে ঘিরে রয়েছে এই আগুনের চক্র। গহ্বরের ভেতরে আটকে পড়া উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসের কারণে এই আগুনের উৎপত্তি বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফালকে। চক্রাকার এই আগুনের কারণে উৎপন্ন হচ্ছে তীব্র এক আলোকরশ্মি। এই আলোর তীব্রতা এতটাই বেশি যে ওই ছায়াপথে অবস্থিত শত শত কোটি তারার মোট ঔজ্বল্যের চেয়েও উজ্জ্বল এই গহ্বর! এ কারণেই এত দূরে থাকা পৃথিবী থেকেও কৃষ্ণগহ্বরটিকে দেখা গেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত দিন বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরের আকৃতি সম্পর্কে যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও অনুমান করেছিলেন, বাস্তবের কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে তার অধিকাংশই মিলে গেছে। গবেষক দলের সদস্য ড. যিরি ইউনুসি তো এমনটাও বলছেন যে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বহু বছর আগে আইনস্টাইন যে ধারণা রেখে গিয়েছিলেন, সেটিই সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, ‘কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি সময়, মহাকাশ, এমনকি আমাদের অস্তিত্বের বিষয়গুলোকে অনেক জটিল প্রশ্নের সামনে ফেলে দিচ্ছে। এটা আশ্চর্যজনক যে আমরা যেই ছবি পেয়েছি, সেটি আমাদের তাত্ত্বিক গবেষণার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আইনস্টাইন আরও একবার সঠিক প্রমাণিত হতে চলেছেন।’
গহ্বরের চারপাশে এই উজ্জ্বল আলো কীভাবে সৃষ্টি হচ্ছে—সেটি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন কেউ। তবে প্রথমবারের মতো এই ছবি প্রকাশিত হওয়ায় কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার সুযোগ ও সম্ভাবনা—দুটোই আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের চীন-ভারত ভারসাম্য by অস্টিন বডেট্টি

এশিয়ার টেলিযোগাযোগ শিল্পে চীনের আধিপত্যের বিষয়টি এখন সবার জানা। কিন্তু বাংলাদেশের অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঘাঁটি গেড়েছে দেশটি। সেটি হলো জ্বালানি শিল্প। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ক্রমবিস্তৃত ব্যবধান কমাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার দিকে নজর দিয়েছে। চীনকে এক্ষেত্রে আগ্রহী মনে হয়েছে। চীনের হুয়াডিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিটেড গত বছর বাংলাদেশে একটি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে সম্মত হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে বৃটিশ একটি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাওয়ারচায়না আরেকটি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে সম্মত হয়েছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ও ‘বাংলাদেশ: পলিটিকস, ইকোনমিকস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি’ বইয়ের লেখক ডেভিড লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশ এক সময় জ্বালানি সরবরাহ সমস্যার কারণে ভীষণ সমস্যায় ছিল।
এ কারণেই সরকার এই খাতে বিদেশী বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করার দিকে ঝুঁকেছে।’
বিদ্যুত সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। ২০১৪ সালে একবার দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ বা ১০ কোটি মানুষ বিদ্যুতহীন অবস্থায় পড়ে যায়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ কুমার সাহা বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রচুর জ্বালানি প্রয়োজন। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যার দরুন দেখা যেতে পারে অস্থিতিশীলতা। এজন্য জ্বালানি সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে জ্বালানি শিল্পে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে চায় বাংলাদেশ।’
এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষের গৃহে বিদ্যুত নেই। এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের জ্বালানি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ছুটছে বৃটেন, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিযোগিতায় দৃশ্যত জয়ী হচ্ছে চীন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জ্বালানি উন্নয়নে ভারতকে টপকে বাংলাদেশের শীর্ষ অংশীদারে পরিণত হয় চীন।
উইলসন সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ অ্যাসোসিয়েট মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বর্ধিষ্ণু অর্থনীতি ও বড় জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময়ই জ্বালানি অনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকবে। এ কারণে জ্বালানি সম্পদের খোঁজে বৈদেশিক বিনিয়োগ অনুসন্ধান সহ সকল বিকল্পই দেশটি খোলা রাখতে চাইবে। অপরদিকে চীনের রয়েছে অঢেল অর্থ আর বিনিয়োগের ইচ্ছা। এ কারণে চীন সবসময়ই এক্ষেত্রে ঢাকার জন্য আকর্ষণীয় অংশীদার।’
তবে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের কারণে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে ভারতে। বাংলাদেশের সঙ্গে ২৫৮২ মাইলের সীমান্ত রয়েছে ভারতের। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিশেষ করে জ্বালানি খাতে চীনের ভূমিকা নিয়ে ভারতের কর্মকর্তারা বেশ সতর্ক। ডেভিড লুইস এক্ষেত্রে বলেন, ‘এই অঞ্চলে দুই বড় শক্তিধর রাষ্ট্র হলো ভারত ও চীন। আর উভয় দেশের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক রক্ষা করা বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে। তবে এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি হলো ভারতের সঙ্গে দেশটির জটিল সম্পর্কে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যে সম্পর্ক কিনা এখন বেশ ভাল অবস্থায় আছে। ভারতীয় সম্পৃক্ততার চেয়ে চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল।’
২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যকার ভূখ- সংক্রান্ত বেশিরভাগ জটিলতা নিরসন করেছে। গত বছর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের অর্থনৈতিক সুবিধা- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে কাজ করছে।
কুগেলম্যান অবশ্য বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করলে বাংলাদেশের দু’টি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। একটি হলো অর্থনৈতিক। বাংলাদেশ হয়তো বিপুল অংকের ঋণের জালে আটকা পড়তে পারে। আরেকটি ঝুঁকি হলো ভূরাজনৈতিক। ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গত ৫ বছরে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যদি এটি প্রতীয়মান হয় যে ঢাকা বেইজিং-এর দিকে বেশি ঝুঁকছে, তাহলে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।’
বিদ্যুত কেন্দ্রের মতো বৈদেশিক অবকাঠামো খাতে চীন যে সহযোগিতা করছে, তার অনেকটাই দেশটি করেছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর অধীনে। চীনের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোকে নিজের অর্থনৈতিক প্রভাব বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসা। বাংলাদেশ ও আরও কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ এই প্রকল্প থেকে স্বল্পমেয়াদে লাভবান হলেও, প্রায়ই চীনা ঋণের কারণে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতাও দেখা গেছে। এই ঋণজালের সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ দেখা গেছে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে দেশটির সরকার চীনা অর্থায়নে নির্মিত একটি বন্দরের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে, সেটি চীনের রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘চীন এই অঞ্চলের সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছে। চীনের দিকে ঝুঁকে বাংলাদেশ আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সস্তা জ্বালানি পেতে পারে। তবে এর ফলে ভারত রেগে যাবে, এমন ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশকে এতটা চীনের কাছাকাছি যেতে দেখে দেশটি খুশি হবে না, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ওপর ভারতের অনেক প্রভাব রয়েছে। দেশটি সবসময় চাইবে বাংলাদেশকে চীন থেকে দূরে রাখতে।’
তবে চীন-বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়আশয় ও জ্বালানি চাহিদাই বেশি জড়িত। ভারতকে ক্ষুব্ধ করাটা এখানে উদ্দেশ্য নয়। ভারত এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশের একটি। কুগেলম্যানও বললেন যে, ‘ভারত নিজেও বিষয়টা বোঝে। ঢাকা যদিও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, এর পুরোটাই অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংক্রান্ত কারণে। এখানে কৌশলগত কিছু মূখ্য নয়। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে থাকা সম্পর্ককে সবসময় মূল্য দেবে বাংলাদেশ।’
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভারত সম্পৃক্ততা অব্যাহত রেখেছে। তবে বাংলাদেশের এই খাতে চীনের অন্তর্ভূক্তিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা।
যদি চীন ও ভারতের কোনো একটি প্রভাব বলয়ে না ঝুঁকেই সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে বহু বছর ধরে চীন-ভারত-প্রভাবিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফসল ঘরে তুলতে পারবে দেশটি। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে এই দুই পরাশক্তি যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, ততই বাংলাদেশের লাভ।
ডেভিড লুইস বলেন, এসব প্রকল্প থেকে সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে না। কেননা, এখানে চীনা শ্রমিক ও যন্ত্রাংশই ব্যবহৃত হবে। তবে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশ ভীষণভাবে লাভবান হবে।
গত বছর বাংলাদেশ ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে পেরেছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে হবে বাংলাদেশকে। এক্ষেত্রে হয়তো চীনের ওপরই নির্ভর করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশকে।
কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘চীনা-অর্থায়নে নির্মিতব্য জ্বালানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ বেশ কয়েকভাবে উপকৃত হবে। প্রথমত, এই জ্বালানি সস্তা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ও জাতিসংঘে চীনের সহায়তা নিতে পারবে বাংলাদেশ।’
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন যেমন কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে বাংলাদেশকে, তেমনটা দেশটির খুব অল্প ক’টি মিত্রই পারবে।
(এই নিবন্ধ দ্য ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে)

প্রেম-প্রতারণা অতঃপর... by রুদ্র মিজান

সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার কিশোরী। সবই ঘটে তার সরলতার সুযোগ নিয়ে। তাকে বিক্রি করে দেয়া হয় পতিতালয়ে। তারপর কিশোরীকে সহ্য করতে হয় নির্মম পাশবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধারও করা হয় তাকে। কিন্তু বিচার পায়নি কিশোরী। ঘটনাটি প্রায় আট মাস আগের। দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরী এখন রোগাক্রান্ত।
অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাকে।
গতকাল দুপুরে কথা হয় তার সঙ্গে। তার জীবনে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের সেই করুণ গল্পটি বলতে গিয়ে সে জানায়, দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান সে। বাবা মারা যান ছোটবেলায়। সংসারে ছোট ভাই আর মা। অভাব লেগেই আছে। পরিবারের আর্থিক হাল ধরতেই বরিশাল থেকে এক রাতে লঞ্চে করে ঢাকায় আসে কিশোরী। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কর্মস্থান হয় পোষাক কারখানায়। যাত্রাবাড়ীতে মেসে থাকে। এক সপ্তাহ দিনে, পরের সপ্তাহে রাতে ডিউটি। সপ্তাহ শেষে বেতন। ভালোই চলছিল। এর মধ্যেই পরিচয় হয় মনিরের সঙ্গে। মাগুরার ছেলে মনির কাজ করতো একটি সোয়েটার কোম্পানিতে।
মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জের দোকান থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কথা বলে কিশোরীর সঙ্গে। কথায়-কথায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের। সরাসরি দেখা হয়, কথা হয়। এভাবেই ঘনিষ্ঠতায় পৌঁছে যায় তারা। মেয়েটি জানায়, মনির তাকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাতো। স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই চলাফেরা করতো তারা। ধোলাইপাড়ে বন্ধুর বাসা থেকে মিরপুরের আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্নস্থানে রাত্রি যাপন করেছে তার সঙ্গে। প্রায়ই এই কিশোরীর কাছ থেকে টাকা খুঁজে নিতো মনির। হঠাৎ একদিন মনির জানায়, আর দেরি না, তাকে বিয়ে করবে। কিশোরীর আনন্দের শেষ নেই। স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে! মনিরের বন্ধু রফিক, শফিক ও বিশ্বকর্মার সহযোগিতায় একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুগদা এলাকায়। সেখানে ছবি নামে এক নারীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বাসায় কিশোরীকে রেখে বাইরে যায় মনির। আসি বলে গেলেও তার আর আসা হয় না। দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে। কিশোরী পথ চেয়ে থাকে। কিন্তু বাসায় ঢুকেই চোখ যেন কপালে উঠে তার। প্রতিটি রুমে নারী-পুরুষ। কোনো কোনো রুমে একাধিক তরুণী। তারা স্বল্প বসনা। গল্প করছে, শুয়ে আছে। প্রেমিক মনিরকে না পেয়ে অস্থির কিশোরী। ছবির কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, মনির আর আসবে না। তার প্রেম ও বিয়ে করার কথাটি ছিল ছলনা। মনির মূলত দালাল। টাকার বিনিময়ে কিশোরীকে ছবির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কিশোরী কান্নাকাটি করে। ছবির পায়ে পড়ে। অনুনয় করে, আমাকে এখান থেকে যেতে দিন। আমার জীবনটা নষ্ট করবেন না। অনুরোধ-অনুনয়ে সাড়া দেয় না ছবি। বরং আরো নির্দয় হয়ে উঠে। ছবি জানায়, কোনোভাবেই এখান থেকে বের হতে পারবে না। টাকার বিনিময়ে মনিরের কাছ থেকে কেনা হয়েছে তাকে। এখানে শরীর বিক্রির কাজ করতে হবে। কিশোরী চিৎকার করে। সঙ্গে সঙ্গে চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয় তাকে।
নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, তিনটি ছেলেকে ডেকে আনা হয়। জোর করে একটা কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে ওই তিন যুবক। এভাবে একের পর এক ধর্ষণ করা হয় তাকে। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করে কিশোরী। চিৎকার শুনে এগিয়ে যায় আশপাশের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মুগদা থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ির গেইট ভেঙ্গে অভিযান চালানো হয়। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। আটক করা হয় ছবিসহ তার সঙ্গীদের। কিন্তু দালাল মনিরের কোনো হদিস নেই। কিশোরী জানায়, মনিরের বাড়ি মাগুরা। তার বাবার নাম সায়েম মোল্লা, মা রেখা বেগম।
নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু তার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের নামে প্রতারণা করে বিক্রি করে দিলেও কোনো শাস্তি হয়নি মনিরের। মনির এখন কোথায় আছে তাও জানেনা কিশোরী। এমনকি ছবি নামের ওই নারী সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি সে। কিশোরী এখন অসুস্থ। পেটে টিউমার হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছে। স্টাফ কোর্য়ার্টার এলাকায় থাকে সে। নির্যাতিতা কিশোরী বলে, আমি গরিব মানুষ। টাকা নেই। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করি। চিকিৎসা ঠিকমতো করাতে পারছি না। কিছু টাকা ছিলো তাও প্রেমের অভিনয় করে মনির নিয়ে গেছে। টাকা নেই, সাহায্য করার মতো মানুষ নেই। তাই মনিরের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপও নিতে পারিনি। ছবি নামের ওই নারী সম্পর্কে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ছবি নামের ওই নারী অসামাজিক ব্যবসায় জড়িত। তার বাসা মুগদা মানিকনগর এলাকায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ছবি প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করে। ওই কিশোরী মেয়েকে বিক্রি করে দেয়া, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি তখন ওই থানার দায়িত্বে ছিলেন না, যে কারণে এ বিষয়ে অবগত না। তবে এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে ওসি সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

১৫ বছর বয়সী বৃটিশ অ্যাকাউন্টেন্ট

মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি বালক বৃটেনের সবচেয়ে কম বয়সী অ্যাকাউন্টেন্টে পরিণত হয়েছে। স্কুলে পড়া অবস্থায় সে সফলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছে অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম। এ জন্য তার ব্যাপক প্রশংসা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই বালকের নাম রণবীর সিং সাধু। দক্ষিণ লন্ডনে তার বসবাস। ২৫ বছর বয়সে নিজেকে মিলিয়নিয়ার বানানোর লক্ষ্য স্থির করেছে সে। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাই শুরু করেছে ব্যবসা। এ খবর দিয়েছে ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই।
রণবীর বলেছে, খুব অল্প বয়স থেকেই সে নিজেকে একজন অ্যাকাউন্টেন্ট এবং আর্থিক খাতের পরামর্শক হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেছে। অগ্রজরা যেভাবে ব্যবসা করে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে তাদের পথ অনুসরণ করে এ পথে এগুতে ইচ্ছে হয় তার। প্রতিদিন তার প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ জন ক্লায়েন্টকে সেবা দেয়া হয়। এর বিনিময়ে প্রতি ঘণ্টায় চার্জ নেয় ১২ থেকে ১৫ পাউন্ড। তার ভাষায়, স্কুলের পড়াশোনা আর ব্যবসা নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। আমার কোনো হতাশা বা চাপ নেই। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো একজন মিলিয়নিয়ার হওয়া এবং ব্যবসাকে প্রসারিত করা।
রণবীর ১২ বছর বয়সে লেভেল ৩ সিপিডি বেসিক অ্যাকাউন্টিং সনদ সংগ্রহ করেছে অনলাইনে অ্যাকাউন্টিং কোর্স করে। এরপর ২০১৬ সালের জুনে চালু করে তার ব্যবসা ডিজিটাল অ্যাকাউন্টস। দুই বছর পরে দ্বিতীয় একটি কোম্পানি চালু করে। এর নাম দেয় নিজের নামে -রণবীর সিং সাধু। বর্তমানে এর উন্নয়ন কাজ চলছে।
রণবীর তার কাজ করে মূলত বাসায়। পাশেই তার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও আছে একটি অফিস। তাও ব্যবহার করে সে। তার পিতা আমান সিং সাধু (৫০) একজন বিল্ডার। মা দলবিন্দর কাউর সাধু (৪৫) এস্টেট এজেন্ট।
রণবীর বলেছে, শুরু থেকেই মা-বাবা আমাকে সাহায্য করেছে সব সময়। আমার লক্ষ্য হলো অনেক অর্থ বানানো। ব্যবসা বিস্তৃত করা। একে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়া।

একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম

একজন মা একসঙ্গে একটি বা দুটি সন্তানের জন্ম দেন- এমনটা অহরহ দেখা যায়; কিন্তু কোনো মা যদি একসঙ্গে ছয়টি সন্তানের জন্ম দেন, তা হলে সেটা অবাক করার মতোই ঘটনা।
বিস্ময়কর হলেও পোল্যান্ডের এক মা গর্ভধারণের সাত মাসের মাথায় একসঙ্গে ছয়টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যা ওই দেশে প্রথম। গত ২০ মে এমন ঘটনা ঘটেছে পোল্যান্ডের ক্রাকাউ শহরে।
শহরটির ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি শিশুর জন্ম দেন পোলিশ ওই নারী। হাসপাতালের মুখপাত্র রিচার্ড লুটারবাখ জানিয়েছেন, একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দেওয়া ওই নারীর বয়স ২৯ বছর। জন্ম দেওয়ার পর ওই নারী তার ছয় সন্তানসহ সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি।
ওই ছয় নবজাতকের দুটি পুত্র এবং চারটি কন্যসন্তান। তবে সবার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। বাচ্চাগুলোর ওজন ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ গ্রামের মধ্যে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বিরল ঘটনা নিয়ে দেশটির মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত।
ছয় সন্তানের জন্ম দেওয়া ওই নারীর দুই বছর বয়সী আরও একটি ছেলেসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ওই নারীকে টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রেজ দুদা।

ভারতের সাত রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চাই -খন্দকার সিপার আহমদ by উজ্জ্বল মেহেদী

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। পাশাপাশি তিনি সিপার এয়ারওয়েজ অ্যান্ড এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী। সিলেট অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উজ্জ্বল মেহেদী, সিলেট।
প্রথম আলো: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট আসছে। আপনাদের প্রত্যাশা কী?
খন্দকার সিপার আহমদ: প্রথম কথা হলো, করের চাপ নির্দিষ্ট মানুষের ওপর না রেখে আওতা বাড়াতে হবে। বাজেট সামনে রেখে প্রতিবারই আমরা করের আওতা বাড়ানোর কথা বলি। কিন্তু তা হয় না। সিলেটে একটি কর ভবন স্থাপন করা জরুরি। ইতিমধ্যে কর আইনজীবীরা এ দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। সিলেটে কর আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে। তাই কর ভবন স্থাপনের দাবিটি বাস্তবায়ন করা দরকার। নিয়মিত করদাতাদের উৎসাহিত করতে আঞ্চলিক কার্যক্রম নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত আয়করদাতাদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। আবার পেনশন দিয়ে সম্মানিত করা হলে মানুষ কর দিতে আরও উদ্যোগী হতে পারে। সিলেটে গত ২০ এপ্রিল প্রাক্‌-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে আমাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।
প্রথম আলো: সিলেটে ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনারা কী কী সমস্যার মুখে পড়েন? সম্ভাবনা কী কী?
খন্দকার সিপার আহমদ: সিলেট প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। গ্যাস, পাথর ও বালু সিলেট অঞ্চল থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও বিপুল। আমরা সিলেটে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা দেখছি। ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ নামে খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট চেম্বার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই সব রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ বাড়লে সিলেট অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। সিলেট চেম্বার ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ১০ মে যৌথ উদ্যোগে ভারতের আসামের গুয়াহাটির ইয়াং ইন্ডিয়ান টিমের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে উত্তর ভারতে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু পর্যটকদের ভ্রমণ কর বা ট্রাভেল ট্যাক্স সিলেট শহরে গিয়ে দিতে হয়। সেটি একটি বড় সমস্যা। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে এনবিআরের চেয়ারম্যান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
প্রথম আলো: সিলেটে বড় শিল্পাঞ্চল না হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা কী কী?
খন্দকার সিপার আহমদ: প্রতিবন্ধকতা একটাই। সেটি হচ্ছে উদ্যোগের অভাব। সিলেটের বহু মানুষ বিদেশে থাকে। তরুণদের মধ্যে বিদেশমুখিতা প্রবল। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে দরকার বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সেদিক দিয়ে এখনো আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ ছাড়া সিলেটে এখন গ্যাস না পাওয়াও একটা বড় সমস্যা। সিলেট থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। নিজেদের গ্যাস নিজের এলাকায় না পাওয়াটা পীড়াদায়ক। শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করতে সবার আগে গ্যাস দরকার। আমরা চাই গ্যাসের সুবিধা সিলেটের সবাইকে দেওয়া হোক। এ ছাড়া পাথর ও বালু আহরণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত প্রশাসনিক উদ্যোগ দরকার।
প্রথম আলো: ব্যবসা-বাণিজ্যে সিলেটের তরুণেরা এগিয়ে আসছেন না কেন?
খন্দকার সিপার আহমদ: সিলেটের তরুণেরা ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসছেন না, এটা সত্য। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেট এখনো এ দিক দিয়ে পিছিয়ে। এর কারণ বেশ পুরোনো। কারণটি হলো বিদেশ চলে যাওয়ার প্রবণতা। আমরা সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি গবেষণা করেছি। এতে তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিমুখতার চিত্র উঠে এসেছে। এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তবে আশার কথা যে এখন তরুণেরা ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় তরুণ উদ্যোগ বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রথম আলো: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে তথ্যপ্রযুক্তির হাইটেক পার্ক হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসারে এটি কী রকম ভূমিকা রাখবে?
খন্দকার সিপার আহমদ: এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। হাইটেক পার্ক হলে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসার হবে। সেই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় বিনিয়োগে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সম্প্রতি সিলেট চেম্বারে এক মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হাইটেক পার্কে ইলেকট্রিক্যাল-শিল্পে ৫০ হাজার লোকের নতুন করে কর্মসংস্থান হবে। এর মধ্যে দিয়েই বোঝা যাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন এক সম্ভাবনা আমাদের সামনে। সিলেট চেম্বার এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্ম। আমি যুক্তরাজ্যে এ নিয়ে একটি সেমিনার করেছি এবং প্রবাসীদের হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছি।
প্রথম আলো: সিলেট চেম্বার আয়োজিত প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে ‘চাকরি মেলা’ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে ‘ক্লিন সিলেট’ প্রশংসিত হয়েছে। এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
খন্দকার সিপার আহমদ: প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানে চাকরি মেলা করা হয়েছিল একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায়। তাতে আমরা দেখেছি, প্রতিবন্ধীরা সুযোগ পেলে সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। তাই কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধীরা ভবিষ্যতে সুযোগ যাবেন, এটি তাঁদের কাজের স্বীকৃতি। এ জন্য এই ধারা স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকবে। আর ‘ক্লিন সিলেট’ ছিল একটি সামাজিক উদ্যোগ। সুন্দর শহর গড়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এটি করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে অবশ্যই প্রশাসনিক সমর্থন দরকার। সিলেট চেম্বারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমি মনে করি।

ইরানে হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর, কী প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান?

ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। দিন দিন শত্রুতা যেন তীব্র হচ্ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হতে দেয়া হবে না। সিরিয়ার গোলান মালভূমি শুধু নয়, সিরিয়ার যে স্থানেই ইরানের সামরিক উপদেষ্টারা দেশটির সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা দেবে সেখানেই আঘাত হানা হবে। দেশটির যে স্থানেই ইরানের সেনাবাহিনী অবস্থান করুক না কেন আমরা তাদের সে চেষ্টা সফল হতে দেব না।
অতীতের এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেছেন ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান তামির পারদো। তিনি জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ১৫ দিনের মধ্যে ইরানে হামলা চালানোর সব রকম প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে নেতানিয়াহু এ ধরনের কথা বলেছিলেন। ইরানের হামলার জন্য এ নির্দেশ কোনো সামরিক মহড়া ছিল না।
২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তামির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষণ-গণনার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেন, তখন ভাবতে হবে যে, তিনি আপনার সঙ্গে রসিকতা করছেন না। এসব বিষয়ের সাংঘাতিক অর্থ রয়েছে।
নেতানিয়াহুর ওই নির্দেশনা দেয়ার পরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কিছু বলেননি পারদো। তবে শেষ পর্যন্ত ওই সময়ে ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়নি। এ ধরনের মন্তব্যের জেরে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দামেস্ক সরকারের অনুরোধে সিরিয়ায় বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির সেনাবাহিনীকে সামরিক পরামর্শ দিয়ে আসছে ইরান। কিন্তু সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অভিযানের পর্যুদস্ত এসব সন্ত্রাসীর মদদ দিয়ে টিকিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।
গত বছরের শেষের দিকে সিরিয়ায় তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের পরাজয়ের পর সিরীয় বাহিনীর ওপর ইসরাইলি সেনাদের বিমান হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। দায়েশের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়ায় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মনোবলও ভেঙে পড়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা বহাল রেখেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কিভাবে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যবহার করা যায়, শক্তিশালী করা যায়। সম্প্রতি পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ইরানের সঙ্গে এ সমঝোতা বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
আলী আকবর বেলায়েতি প্রস্তাব দেন, ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড (ইউএফ৬) উৎপাদন করা যেতে পারে। তিনি বলেন- আমরা ইউএফ৬ উৎপাদন করতে পারি যা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে সমৃদ্ধকরণের জন্য ইউরেনিয়ামকে ঘোরাতে পারে।
বেলায়েতির দ্বিতীয় প্রস্তাব হচ্ছে- জাহাজ ও সাবমেরিনে ব্যবহার উপযোগী শক্তিশালী পারমাণবিক ইঞ্জিন ব্যবহারে গতি আনা এবং স্থিতিশীল আইসোটপ উৎপাদন করা যায়। তিনি বলেন, পরমাণু ইঞ্জিনসমৃদ্ধ সাবমেরিন একটানা দুই বছর পর্যন্ত পানির নিচে অবস্থান করতে পারবে। কিন্তু অন্যান্য জ্বালানি চালিত সাবমেরিনকে কয়েক দিন পরপর পানির ওপরে ভেসে উঠতে হয়। পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন না করেই এসব পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। আমরা স্থিতিশীল আইসোটপ তৈরি করে আমাদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারি যা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগে না। তিনি পরমাণু তৎপরতায় কার্বন ফাইবার ব্যবহারের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের হুমকি দেন। তার ওই ঘোষণার পর এরই মধ্যে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে ওয়াশিংটন। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো আমেরিকাকে ছাড়াই এ সমঝোতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে ইরানকে এ সমঝোতায় টিকে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যবস্থায় এ সমঝোতা বজায় রেখে ইরান কীভাবে নিজের পরমাণু কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে পারে তার একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরলেন আলী আকবর বেলায়েতি।
সিরিয়ায় ইসরাইল সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সিরিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশের সেনা না থাকার যে ঘোষণা রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছে, তা মানবে না ইরান। ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাসেম আলী নেজাদ বলেছেন, দামেস্ক সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে যত দিন প্রয়োজন তত দিন পর্যন্ত ইরানের সামরিক উপদেষ্টারা সিরিয়ায় অবস্থান করবে। সিরিয়ায় যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে ইরানের সামরিক উপদেষ্টাদের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেক গভীর এবং এটি অব্যাহত রাখতে হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন, সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্ত থেকে সিরিয়া ছাড়া অন্য দেশের সেনা সরিয়ে নিতে হবে। শুধুমাত্র সিরিয়ার বাহিনীই ইসরাইল ও জর্দানের সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত হওয়া উচিত, কারণ দক্ষিণ সিরিয়ায় বিদ্রোহীরা সরকারি সেনাদের দ্বারা সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুত।
সাম্প্রতিক সময়ে, সিরিয়ার সরকার বিদ্রোহীদের দখলে রাখা এলাকা দিরায় যোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ করার জন্য বিমান দিয়ে সতর্কতা লিফলেট বিতরণ করেছে। অন্যদিকে ইসরাইল রাশিয়াকে জানিয়েছে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের প্রধান সহযোগী ইরান সিরিয়াতে একটি স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি সহ্য করা হবে না।

ক্ষমা চাইলেন এ কে খন্দকার

মানবজমিন, ২ জুন ২০১৯, রবিবার: ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইটিতে ‘জয় বাংলা’র পাশে ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ ব্যবহার করায় দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীর উত্তম। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বইয়ের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার লেখা বই ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লিখিত বিশেষ অংশ ও বইয়ের আরও কিছু অংশের প্রতি সারা দেশে প্রতিবাদ ওঠে। সেখানে লেখা ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই যে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল, তা আমি মনে করি না।
এই ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’। তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়ে বললেন ‘জয় পাকিস্তান’! এ কে খন্দকার জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, এই অংশটুকুর জন্য দেশপ্রেমিক অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এই তথ্যটুকু যেভাবেই আমার বইতে আসুক না কেন, এই অসত্য তথ্যের দায়ভার আমার এবং বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে কখনোই ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বলেননি। তাই আমার বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার উল্লিখিত বিশেষ অংশ সম্বলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং একইসঙ্গে আমি জাতির কাছে ও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।
৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর বাঙালী জাতি স্বাধীনতার মনোবল নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামরিক বেসামরিক সর্বস্তরের পেশাজীবী, পুলিশ, বিডিআর, ছাত্র, কৃষক, সাধারণ জনগণ মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সাড়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছিল বাঙালী জাতি। এই স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে বিশ্বে খ্যাতির শীর্ষে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত। তারই বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বে দেশ আজ যুদ্ধাপরাধী মুক্ত। জীবন সায়হ্নে দাঁড়িয়ে পড়া একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রথমা প্রকাশনীর কাছে বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে পুনর্মুদ্রণের দাবি জানিয়ে লেখক বলেন, আমার বয়স এখন ৯০ বছর। আমার সমগ্র জীবনে করা কোনো ভুলের মধ্যে এটিকে আমি একটি বড় ভুল বলে মনে করি। জীবনের গোধূলি বেলায় দাঁড়িয়ে পড়ন্ত সূর্যের মত আমি আজ বিবেকের তাড়নায় দহন হয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মার কাছে ও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আশা করি প্রথমা প্রকাশনী আমার বইয়ের ৩২ পৃষ্ঠার বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে পুনর্মুদ্রণ করবে।
শ্রবন সমস্যার কারণে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কে খন্দকার বীর উত্তম এর পক্ষে কথা বলেন তাঁর সহধর্মিনী ফরিদা খন্দকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মতিউর রহমান সাহেবকে আমি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করেছিলাম- আপনি কি বিষয়টি পড়ে দেখেননি? তিনি বলেছিলেন- আমি পড়ি না, আমাদের লোক থাকে। তারা লেখার গ্রামার এবং বানান দেখে। এছাড়া অন্য কোনও কিছু আমরা খেয়াল করি না।
ফরিদা খন্দকার বলেন, তারপরও আমি চেষ্টা করেছিলাম সংশোধনের। কিন্তু কিছু লোক আমাকে করতে দেয়নি। আমি কোনও ঝগড়াঝাটির মধ্যে যেতে চাই না। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ফরিদা খন্দকার বলেন, ‘তাজউদ্দিন আহমেদের পিএস মঈদুল হাসান ও কাজী জাফর উল্লাহসহ আরও বেশ কিছু লোক এসেছিলেন। তারা বেশ কিছুদিন পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন যেন সংশোধন করতে না পারি। মঈদুল হাসান বলেছিলেন, গুলি তো ছেড়ে দিয়েছো, এখন কি গুলির পিছে দৌড়াবা?’ এসময় সাংবাদিকরা এ কে খন্দকারের স্ত্রীর কাছে জানতে চান কাজী জাফর উল্লাহ বলতে আওয়ামী লীগের কাজী জাফর উল্লাহকে বুঝাচ্ছেন কিনা? এসময় তিনি বলেন, জাফরউল্লাহ। সাদা, লম্বা চুল, গোঁফ ওয়ালা জাফরউল্লাহ। এতদিন কেন বিষয়টি স্পষ্ট করেননি জানতে চাইলে ফরিদা খন্দকার বলেন, বইটি প্রকাশের পর কী যে যন্ত্রণা সহ্য করেছি, তা বলার মতো নয়। বইটি সংশোধন না করাতে পেরে উনি কিন্তু মানসিক রোগী হয়ে গেছেন। সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়েছেন, এখনও নিচ্ছেন।
ফরিদা খন্দকারের অভিযোগের বিষয়ে প্রথমা প্রকাশনের ব্যবস্থাপক জাফর আহমেদ রাশেদ মানবজমিনকে বলেন, এ কে খন্দকার সাহেবের সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের বাইরে সেখানে যা বলেছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সুতরাং ওই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তথ্য সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বইটি প্রথম প্রকাশের পরপরই যখন বিতর্ক তৈরী হয় তখন আমরা লেখকের কাছে গিয়েছি। তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলেছি। তিনি একটি মাত্র সংশোধনী দিয়েছেন-সেখানে তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ শেষ করেছেন ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান বলে’। এখন উনি সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন, এই তথ্যের জন্য মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি তথ্যগুলো প্রত্যাহার করে নিতে চান। সেক্ষেত্রে প্রথমা প্রকাশনের বক্তব্য হল- বইটির লেখক এ কে খন্দকার। তার বইয়ের যে কোনো তথ্য যদি তিনি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কারণ বইটি তার, আমাদের না।

সাত শিক্ষার্থীর অন্যরকম ঈদ by রাশিম মোল্লা

ঈদ উৎসব ঘিরে কত মানুষ কত স্বপ্ন বুনেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ছোট-বড় সবার সঙ্গে নতুন জামা পরে ঈদ উদযাপন করবেন। এজন্য পরিবার পরিজনের জন্য কেনাকাটা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিতামাতারা। কিন্তু দুস্থ অসহায় পরিবারের শিশুদের পিতা মাতার সামর্থ্য নেই সন্তানদের নতুন জামা দেয়ার। এমন দুস্থদের জন্য সাতজন কলেজ শিক্ষার্থী নেমেছেন মাঠে। শিশুদের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে তাদের ঈদের টাকায় দুস্থদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা বিতরণ করেছেন নতুন জামা। শিক্ষার্থীদের হাতে খুব বেশি পরিমাণে টাকা পয়সা থাকে না।
তবুও তারা নিজেদের টাকায় যতটুকু সম্ভব অসহায় শিশুদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই সামান্য ঈদ উপহার দুস্থদের এ যেন এক বাড়তি সুখ, বাড়তি তৃপ্তি নিয়ে এসেছে। সাত শিক্ষার্থীর হলেন- উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর মো. ইউসুফ নিলয়, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের রাসেল মোল্লা ও ফাতেমা আক্তার, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনিকা রহমান, ঢাকা উদ্যান মহা বিদ্যালয়ের জাহিদ হাসান ইমন, তেজগাঁও কলেজের প্রিয়া আক্তার ও রাজিয়া রহমান। তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিছু অসহায় দুস্থদের মাঝে নতুন জামা বিতরণ করেছেন। নতুন জামা নিতে আসা সাজ্জাদ জানায়, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ, কিন্তু মা তার জন্য নতুন জামা কিনতে পারেনি, তাই এই জামা পেয়ে তার খুশি লাগছে। এখন ঈদ তার ভালই কাটবে। ১০ বছরের নুসরাত, কাজ করেন রেল লাইনের পাশে সবজির দোকানে। অনেকদিন ধরে তার নতুন কোনো জামা নেই। এই জামা পেয়ে তার যে কী আনন্দ!  সখিনা বেগম তিন সন্তানের মা। তার স্বামী রিকশাচালক। এবছর ঈদ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন তিনি। কারণ তার সন্তানদের ঈদে পোশাক কেনার জন্য হাতে টাকা ছিলো না। পরে  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন পোশাক পেয়ে চিন্তা মুক্ত হলেন।
সাত শিক্ষার্থীর এক উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। অনেক দিনের ইচ্ছা গরিব দুঃখীর জন্য কিছু একটা করার। হঠাৎ ১২ রমজানে মাথায় আসলো যাদের ঈদ আনন্দ করার মত কোনো সামর্থ্য নেই তাদের মুখে একটু হাসি ফুটাবো। কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বললাম। কেউ পাশে থাকার আশ্বাস দিলো। আবার কেউ কেউ অন্যরকম মন্তব্য করলো। তবে আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিলো, যে যাই বলুক ছোট করে হলেও কিছু একটা করব। যাই হোক আমরা সাত বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম। দিন ঠিক করলাম। ২৫ রমজান আমরা দুস্থদের মাঝে ঈদের নতুন জামা বিতরণ করব। আমরা সবাই যেহেতু শিক্ষাথী, সবার পক্ষে বেশি টাকা দেয়া সম্ভব নয়। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততো টাকা ওঠালাম। সব মিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ালো ১০ হাজার টাকা। ওটা দিয়ে ২৫ রমজানেই সকলে মিলে বের হলাম মার্কেটে। কিছু নতুন জামা কেনাকাটা করে  গেলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে দেখলাম অনেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছু মানুষকে যার যার মত জামা কাপড় দিয়ে দিলাম। আশা ছিল বড় করে করবো কিন্তু সবার সাহায্য না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবুও কিছু মানুষের ঈদ আনন্দে অংশ নিতে পারে ভাল লাগছে। অপর আরেক উদ্যোক্তা কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা বলেন, খুব সামান্য আয়োজনে শিশুর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে শুরু হয়েছে আমাদের এই কার্যক্রম। উপহার হিসেবে সামান্য হলেও শিশুদের মুখের হাসি আর ওদের প্রাপ্তির আনন্দই আমাদের কষ্টকর আয়োজনের স্বার্থকতা। কারণ আমাদের নিজস্ব সঞ্চয় থেকেই এই আয়োজন। রাসেল মোল্লা বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ নিজ নিজ এলাকায় এমন আয়োজন করলে ছিন্নমূল, সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুও পাবে ঈদের আনন্দ, খুশিতে মেতে উঠতে পারবে প্রতিটি শিশু।

মডেল অভিনেত্রীদের টার্গেট, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে টাকা আদায় by জিয়া চৌধুরী

উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলেও আর বেশিদূর পড়াশোনা করা হয়নি সামির আল মাসুদের। তথ্যপ্রযুক্তিতে আগ্রহী হয়ে যোগ দেন হ্যাকিং গ্রুপে। কাজ করতেন অ্যানোনিমাস হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য হয়ে। জনপ্রিয় তরুণ মডেল-অভিনেত্রী ও উঠতি তারকাদের ফেসবুক আইডি নিজের দখলে নিতেন অনায়াসে। আইডি দখলে নিয়ে ঢুকে পড়তেন তারকাদের ফেসবুক ইনবক্সে, হুমকি দিতেন আপত্তিকর ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার। আইডি ফিরিয়ে দিতে দাবি করতেন মোটা অংকের টাকাও। অনেক সময় টাকা পেলেও এসব তারকাদের আইডি ফিরিয়ে দিতেন না ২৩ বছরের হ্যাকার সামির। সবশেষ তার আক্রমণের শিকার হন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়া।
ফেসবুক আইডি দখলে নেয়ার পর টাকাও দাবি করেন। সামির আল মাসুদকে দশ হাজার টাকা দেয়ার পরও নিজের আইডি ফেরত পাননি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের প্রথম রানারআপ।
পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের শরণাপন্ন হন নিশাত নাওয়ার সালওয়া। রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় বুধবার ঢাকার খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে সামির আল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে সাইবার ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারকাদের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়েছে হ্যাকার সামির আল মাসুদ। সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ মানবজমিনকে জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জনপ্রিয় ও উঠতি নারী মডেলদের টার্গেট করতো হ্যাকার সামির আল মাসুদ। ফেসবুকে তারকাদের বন্ধু হয়ে তাদের আইডি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিত। পরে টাকা দাবি করে হুমকি দিত। তবে, সাইবার ক্রাইম বিভাগ নিয়মিত এসব হ্যাকারদের ওপর নজর রাখছে।
অ্যানোনিমাস, ডন’স টিম ও সাইবার শট নামে কয়েকটি হ্যাকিং গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা কোন ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়লে আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় অন্তত ৩০ জন অভিনেত্রী ও মডেলের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেয় সামির আল মাসুদ। এদের অনেকে টাকা দিয়ে নিজেদের আইডি ফেরত পান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে এই হ্যাকার। তবে, টাকা দিলেও অনেক মডেল-অভিনেত্রী তাদের ফেসবুক আইডি ফেরত পেতেন না। সূত্র জানায়, জনপ্রিয় তরুণ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূজা চেরী, টিভি অভিনেত্রী শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেম, উপস্থাপিকা ও মডেল মারিয়া নূর এবং এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকারের ফেসবুক আইডিও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল হ্যাকার সামির আল মাসুদ। পরে টাকা দাবি করে এসব মডেল-অভিনেত্রীদের হুমকি দেয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর এদের অনেকের আইডি ফিরিয়ে দিতেন হ্যাকার সামির। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আইডি ফেরত দেয়া হতো। কখনো কখনো এর বেশি টাকায়ও রফাদফা হতো। সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক আইডি হ্যাক করা সামির আল মাসুদ হ্যাকিং গ্রুপ অ্যানোনিমাসের সদস্য।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়লেও নিজেকে পরিচয় দেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে। ফেসবুকে বেশি সময় বিচরণ করায় এক সময় ফেসবুক আইডি হ্যাকিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন সামির আল মাসুদ। শুরুর দিকে বেছে বেছে তরুণ নারী মডেল অভিনেত্রীদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। বন্ধুত্বের আবেদনে সাড়া দেয়ার পর ‘টু ফ্যাক্টর অথোরিটি’ ও ‘ট্রাস্টেট কন্টাক্ট’র মাধ্যমে মডেল-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিতো সামির আল মাসুদ। এরপর শুরু হতো হ্যাকার সামিরের দ্বিতীয় ধাপের কাজ। এই ধাপে, পিক্সআর্ট নামে সফটওয়্যারের মাধ্যমে মডেল-অভিনেত্রীদের আইডির নামে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র(এনআইডি) তৈরি করা হতো। খোলা হতো জিমেইল অ্যাকাউন্টও। নকল এনআইডি তৈরির পর সাবমিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট গেট অপশনে গিয়ে তারকাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিজের দখলে নিয়ে নিতো। এরপর ঢুকে পড়তো ফেসবুক ইনবক্সে, ব্যক্তিগত স্পর্শকতার তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হতো।
ফেসবুক আইডির ফ্যান, ফলোয়ার সংখ্যা ও তারকার জনপ্রিয়তা বুঝে চাওয়া হতো অর্থ। সামির আল মাসুদ হ্যাকিংয়ের অন্য বিষয়ে পারদর্শী হলেও তার নেশা ছিল নারী তারকাদের আইডি দখলে নেয়া। কোন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখলে নিতে পারলে ‘অ্যানোনিমাস’ হ্যাকিং গ্রুপে পোস্ট দিয়ে উদযাপন করা হতো। সাইবার ক্রাইম সূত্রে জানা গেছে, তারকাদের আইডি হ্যাক করার পর জনপ্রিয়তা বুঝে গ্রুপের পক্ষ থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত রিওয়ার্ড মানি পেত হ্যাকার সামির। তারকাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থ তো ছিলই। সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ মানবজমিনকে আরো জানান, মূলত অসাবধানতাবশত ও সচেতনতার অভাবে হ্যাকিংয়ের শিকার হন অনেক মডেল-অভিনেত্রী। নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নামে ফেসবুক অ্যাকউন্ট না খোলায় এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। এছাড়া, অপরিচিত যে কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে যুক্ত করেও বিপদে পড়তে হয় অনেককে। এসব ক্ষেত্রে তারকাদের আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এনআইডি’র নামেই ফেসবুক ইউজার নেম থাকলে খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় না। এছাড়া, হুট করে কাউকে না জেনে বন্ধু তালিকায়ও নেয়াটা ঠিক হবে না। এদিকে, রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে হ্যাকার সামির আল মাসুদকে। সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি কলাবাগান থানার আরেকটি মামলায় প্রথমে সাইবার মনিটরিং টিমের হাতে গ্রেপ্তার হয় হ্যাকার সামির। প্রায় দেড় মাস কারাগারে থাকার পর গত ২৫ মার্চ জামিনে বের হয়ে আবারো নারী মডেল-অভিনেত্রীদের টার্গেট করা শুরু করে। সবশেষ রমনা থানায় গত ২রা মে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়ারের দায়ের করা আরেকটি মামলায় বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

সন্তানের জন্য চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল নাজমুন নাহার by মো. মিন্টু হোসেন

সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে ভালো একটি চাকরি বা সুন্দর ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন—এমন নারীর সংখ্যা কিন্তু কম নয়। তারপর সন্তানের ঝক্কিঝামেলা সামলাতে সামলাতেই জীবন পার। এর মধ্যে নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার কি কোনো সুযোগ থাকে? অবশ্যই থাকে। তা দেখিয়ে দিয়েছেন বরিশালের নাজমুন নাহার। বয়স আর কত—এই ত্রিশ! চাকরি ছেড়েছেন তো কী হয়েছে? অন্যভাবে, নিজ মহিমায়, দুর্দান্তভাবে আবির্ভূত তিনি। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সার।
‘একদিন প্রথম আলোতে নারী ফ্রিল্যান্সারদের সফলতা নিয়ে প্রকাশিত একটি লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। তখুনি সিদ্ধান্ত নিই এ খাতে চেষ্টা করে দেখব।’
কথাগুলো বলছিলেন নাজমুন নাহার। ওই লেখা থেকে পাওয়া আগ্রহ আজ তাঁকে সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি এখন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সার।
সংসার ও সন্তান সামলাতে গিয়ে একসময় নিজের চাকরি ছেড়ে দেন নাজমুন। তবে চাকরি ছাড়লেও ভিন্ন পেশায় দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন।
স্বামী জাহিদুল ইসলামের ব্যবসার সুবাদে এখন বরিশালের বগুড়া রোডে মুন্সি গ্যারেজ এলাকায় বাস করছেন নাজমুন নাহার। বাড়িতে বসেই এখন ফ্রিল্যান্সিং করছেন তিনি। যে ছোট মেয়ের জন্য চাকরি ছেড়েছিলেন, তার বয়স এখন ছয় বছর।
নাজমুন ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালের শেষের দিকে। তখন থাকতেন ঢাকাতেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। পাস করার পর প্রথম চাকরি শুরু করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দিতে চেয়েছিলেন বিসিএস পরীক্ষা। কিন্তু দেড় বছরের মেয়েকে বাসায় রেখে সবকিছু সামলানো আর অফিস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই সিদ্ধান্ত নেন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার। তবে পেশাজীবনের সমাপ্তিটাও মেনে নিতে পারছিলেন না। এ সময় পাশে দাঁড়ান তাঁর স্বামী। তাঁকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে উৎসাহিত করেন। নাজমুন যখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন একমাত্র সন্তানের দেখভালেও সহায়তা করেন স্বামী।
স্বামী জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওকে (নাজমুন) এ কাজে উৎসাহ দিয়েছি। ও যখন রাতে কাজ করে বা মিটিং থাকে, তখন মেয়েকে সামলাই, ঘুম পাড়াই। দিনের বেলা ও ব্যস্ত থাকলে আমি মেয়েকে স্কুলে আনা–নেওয়া করি। কাজ নিয়ে দুজনের মধ্যে সমঝোতা থাকায় সংসার সামলাতে কোনো ঝামেলা হয় না; বরং বাড়তি আয় সংসারের স্বচ্ছলতা বাড়ায়।’
ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার শুরুর গল্প বলতে গিয়ে নাজমুন বলেন, ‘প্রথম আলোসহ অন্যান্য পত্রিকায় ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলাম এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ খাতে চেষ্টা করে দেখব। নিজেকে আগে দক্ষ করে গড়ে তুলব। নিজেকে দক্ষ করার প্রয়াসে প্রথমে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) বিষয়ে কোর্স করি। এরপর আরও পড়াশোনা শুরু করি।’
নাজমুন জানান, তিনি নানা অনলাইন কোর্স থেকে এসইও বিষয়ে নানা কলাকৌশল রপ্ত করেন। ইউটিউব, গুগলসহ নানা রিসোর্স ব্যবহার করে শেখার পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে প্রথম কাজটি পাই।’ এরপর আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম প্রকল্পটিতে কাজ করেন ছয় মাসের বেশি সময়। এর মধ্যে ছোট ছোট অনেক প্রকল্পে কাজ করেন। এরপর যোগ দেন একটি কানাডীয় মার্কেটিং এজেন্সিতে। সেখানে টানা দুই বছর পূর্ণ সময়ে ভার্চ্যুয়াল টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
নাজমুন নহার বলেন, ‘এরপর টানা প্রায় এক বছর দুটি প্রতিষ্ঠানে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি।’ দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপটোকারেন্সি এডুকেশন প্ল্যাটফর্মের হয়েও কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।
নাজমুন বলেন, ‘ঘণ্টায় মাত্র ৩ মার্কিন ডলার আয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, যা এখন প্রায় ২০ ডলারের ওপরে হয়ে গেছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই জায়গা করে নিতে পেরেছিলাম। কাজের সফলতার হারও ছিল শতভাগ। ফলে, কাজের জন্য কখনো হাহুতাশ করতে হয়নি।’
তবে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংয়ের বিষয়টিতে যেহেতু সব সময় নতুন নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করতে হয়, তাই এ ক্ষেত্রে নিজেকে হালনাগাদ রাখা জরুরি বলে মনে করেন নাজমুন। তিনি জানান, এখন মেয়েকে স্কুলে দিয়ে কাজে বসে পড়েন এবং নতুন নতুন বিষয় শেখার জন্য চেষ্টা করেন। রাতেও ক্লায়েন্টের কাজ করে দেন। এতে নিজের দক্ষতা আরও বাড়ে।
নাজমুনের মতে, কাজের পরিধি এখন বেড়ে গেছে। এখন ছোট একটি দল নিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তোলার কাজ করছেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বেশির ভাগই মেয়ে। এই পেশায় যাঁরা আসতে চান, তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন—এমন মায়েদের উদ্দেশে নাজমুন বলেন, ‘অনেক মা সন্তানকে দেখাশোনা করার জন্য বিশ্বস্ত কাউকে না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। আবার অনেক মেধাবী ও পরিশ্রমী মেয়ে বিভিন্ন কারণে প্রচলিত চাকরিতে যোগদান করতে পারছেন না বা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব মা ও নারী নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্রিল্যন্সার হিসেবে ঘরে বসেই কাজ করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবলেই মানুষ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজ করতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকারও হতে হয়। মনে রাখতে হবে, কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই আপনাকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করে দেবে না। পড়াশোনা করতে হবে। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। কাজ শেখার একাগ্রতা থাকতে হবে। অনলাইনে অনেক রিসোর্স পাবেন।’
নাজমুন বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আয়ের নিশ্চয়তা নেই। এটা ভুল ধারণা। আমাদের দেশে এমন অনেকে ফ্রিল্যান্সার আছেন, যাঁরা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রচলিত চাকরির থেকে বেশি আয় করছেন। আপনি যে কাজটি করেন, সেই কাজে যদি আপনি দক্ষ হন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যদি নিজেকে হালনাগাদ রাখতে পারেন এবং কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তবে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য ভালো পেশা হতে পারে।’

শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরতে পারেননি মশিউল, জায়ানের পরিবারে ঈদ নেই by জিয়া চৌধুরী

ক’দিন বাদে ঈদুল ফিতর। ঘরে ঘরে সবাই মাতবে ঈদের আনন্দে। কিন্তু এবার অন্যরকম এক ঈদ এসেছে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীর পরিবারে। ইস্টার সানডের দিন  গত ২১শে এপ্রিল শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভয়াবহ বোমা হামলায় প্রাণ হারায় আট বছরের ছোট্ট জায়ান। তার বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন।
তিনি এখনও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী বাবা-মা আর দেড় বছরের ছোট ভাইকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। হোটেলের কক্ষে থাকায় হামলা থেকে বেঁচে যান জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা এবং জায়ানের ছোট ভাই জোহান চৌধুরী।
হামলার তিন দিন পর ২৪শে এপ্রিল জায়ানের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ১৫ই আগস্টের শহীদদের কবরের পাশে জায়গা হয় ছোট্ট জায়ানের। শেখ ফজলুল করিম সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স তখন শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসাধীন।
এমনকি জায়ানের মাও সেদিন তার ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এমন ট্র্যাজেডির পর কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছে না জায়ানের পরিবার। গতকাল বনানীতে জায়ানের নানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় নীরব-নিথর পরিবেশ। এই বাড়িটিতেই বেশিরভাগ সময় কাটাতো জায়ান। সুযোগ পেলেই নানার কোলে চড়তো। শেখ ফজলুল করিম সেলিমও সময় দিতেন তার প্রিয় নাতিকে। তবে ঈদ কিংবা বিশ্বকাপ আমেজ কোন কিছুই যেন এবার বাড়িটিকে ছুঁতে পারেনি। জায়ানের পছন্দের খেলা ছিল ক্রিকেট। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলা থাকলে সে উন্মাদনা ছুঁয়ে যেত জায়ানকেও। তবে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জায়ান চৌধুরীর পরিবারের কাছে বেদনার অন্য নাম।
ঘর আলো করে রাখা পুত্র জায়ান অন্য পারে আর তার বাবা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জায়ানের পছন্দের খেলা ছিল ক্রিকেট, নানা বাড়িতে থাকলে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে খেলত সে। বাড়িটির একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, জায়ান আসলে বাড়িটিতে অন্যরকম আনন্দ বয়ে যেত। মাঠে ক্রিকেট খেলতো, হই-হুল্লোড় লেগে যেত। ঈদেও সব আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়ে জায়ান আলাদা জায়গা করে নিত। তবে, এবার পরিস্থিতি আসলেই ভিন্ন। জায়ান চৌধুরীর বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স এখনো সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার একটি পা এখনো সেরে উঠেনি। তবে, মশিউল হক চৌধুরী আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের একজন সদস্য। স্বামীর দেখভাল করতে দেড় বছরের সন্তান জোহান চৌধুরীকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে আছেন আমেনা সুলতানা সোনিয়া। ঈদের আগের দিন চিকিৎসাধীন জামাতাকে দেখতে সিঙ্গাপুর যাবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

বৃটেনে ৩৪০০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন

বৃটিশ সরকারের সিদ্ধান্তে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হওয়ার পথে। ২০১৪ সালে সরকার অভিযোগ করে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অর্থাৎ বাইরের দেশ থেকে সেখানে পড়তে যাওয়া প্রায় ৩৪০০০ শিক্ষার্থী বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। ভিসা নবায়নের জন্য এ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তাতে প্রতারণার অভিযোগে ওইসব শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াশোনা ত্যাগ করতে বাধ্য করানো হয়েছে। অনেককে এজন্য যার যার দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের অনেকে। তার মধ্যে ফারজানা ববি অন্যতম। আছেন ভারতের তেজাস সোনি, পাকিস্তানের নাভিদ খান। জীবনে বড় ধাক্কা খেয়ে এসব শিক্ষার্থীর অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ আত্মহত্যা করতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। পরিবারের কাছে অনেকে হয়ে পড়েছেন অনাকাঙ্ক্ষিত। ফলে কোথাও তাদের ঠাঁই নেই। লন্ডনে যাওয়া, থাকা-খাওয়া, প্রতিষ্ঠানের খরচ সহ তাদের ও পরিবারের হাজার হাজার পাউন্ড অর্থ খরচ হয়েছে।
কিন্তু তাদেরকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে পড়াশোনা শেষ না করেই। এ অবস্থায় আগামী শুক্রবার বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বৃটেনের ন্যাশনাল অডিট অফিসের (এনএও)। ওদিকে কেন এত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এমন হয়ে গেল সে প্রশ্নে ক্রমশ চাপ বাড়ছে বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কি ঘটেছিল তা নিয়ে প্রথমবার তদন্তের জন্য আগামী মাসের শুরুতে এমপিদের সর্বদলীয় একটি বৈঠক বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে সরকার ভুল করে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করেছে এবং তাতে তাদের মধ্যে যে বিপর্যয়কর পরিণতি সৃষ্টি হয়েছে তা তুলে ধরতে মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা শিক্ষার্থীদের। বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ এমপিদের কাছে ব্যক্তিগভাবে বলেছেন, তিনি ওইসব শিক্ষার্থীর অবস্থার সঙ্গে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, তাদেরকে ভুল করে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এনএও’র রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ হতে পারে।
এ খবর দিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকারের ওই অভিযোগের পর বৃটেন থেকে কমপক্ষে ১০০০ শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়া হয়েছে। কয়েক শত শিক্ষার্থী দীর্ঘ বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বলেছেন, ভুল করে তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কমপক্ষে ৩০০ এমন ঘটনা আদালতে মুলতবি আছে। এতে বাংলাদেশের ফারজানা ববির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, টিউশন ফি ও বৃটেনে বসবাসের খরচ মিলিয়ে ববির পরিবারকে হারাতে হয়েছে ৫০ হাজার পাউন্ড। কিন্তু বৃটিশ সরকারের অভিযোগ তিনি ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় প্রতারণা করেছেন। এ অভিযোগে তিনি লন্ডনে অবস্থান করতে পারেন নি। তাকে কলেজে যোগ দেয়া বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করে দেয় সরকার। এতে তার ডিগ্রি অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এর ফলে যে অর্থ নষ্ট হয়েছে তাতে ববি ও তার পিতামাতার মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। তিনি শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারেন নি। এজন্য তাকে কম বেতনের কাজ করতে হচ্ছে বাধ্যতামূলক। বৃটিশ সরকারের অভিযোগের কারণে তার চাকরির যোগ্যতাকে আরো খর্ব করেছে। তার পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ফারজানা ববি বিদেশে গিয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। তা ছিল জীবনকে উন্নত হিসেবে গড়ে তোলার বাসনা। কিন্তু তার পরিবর্তে তার জীবনে নেমে এসেছে করুণ পরিণতি।
গার্ডিয়ান লিখেছে, ফারজানা ববির বয়স ২৯ বছর। তিনি খুব পরিষ্কার এবং শুদ্ধ ইংরেজি বলেন। তিনি ১৯ বছর বয়সে ব্যবসায় পড়াশোনা করতে লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। তার আগে তার ইংরেজির দক্ষতা ছিল খুব ভালো। একটি মার্কিন সংস্থা পরিচালিত মিশনারি স্কুলে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। ফলে ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় তাকে কারো সহায়তা নেয়ার দরকার হওয়ার কথা নয়।
বিবিসির একটি রিপোর্টের পর ইংরেজি ভাষায় প্রতারণার বিষয়টি সামনে চলে আসে। ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন (টোয়েইচি) পরীক্ষায় দুটি কেন্দ্রে এমন প্রতারণা হয় বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়। ওই পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিসেসের। বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রতি নির্দেশ দেয় ৫৮৪৫৮ জনের পরীক্ষা আবার পর্যালোচনা করতে, যাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। এমন নির্দেশের পর ওই প্রতিষ্ঠান এটা চূড়ান্ত করে যে, ৩৪০০০ শিক্ষার্থী চিটিং করেছেন। ২২৬০০ শিক্ষার্থীর ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানানো হয়। আর চিটিং বা প্রতারণা করেন নি ২০০০ শিক্ষার্থী। তাই ৩৪০০০ শিক্ষার্থীর সবার ভিসা বাতিল করা হয় অথবা মেয়াদ খর্ব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২২ হাজার ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর অনেকে। এ অবস্থায় শত শত শিক্ষার্থী এমপিদের সহায়তা চেয়েছেন। এ নিয়ে যারা প্রচারণায় নেমেছেন তারা বলছেন, যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী কি করে এমন প্রতারণা করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে যারা তাৎক্ষণিকভাবে বৃটেন ছেড়েছেন তাদের পক্ষে বিদেশে বসে এই লড়াই চালিয়ে নেয়া খুবই কঠিন, যদিও তাদেরকে বলা হয়েছে বৃটেনের বাইরে বসেও তারা আপিল করার অধিকার পাবেন। এমন অবস্থার শিকার শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাদের কাছে এমন অনুভূতিকে আত্মহত্যার মতো মনে হয়েছিল। তারা জীবনে আর অগ্রগতি করতে পারছেন না।
ফারজানা ববি ২০১২ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে তাকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা প্রমাণ করতে হতো। তিনি বেশ ভালো গ্রেড নিয়ে পাস করেন। ভিসার জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। তারপর ২০১৪ সালের নভেম্বরের এক রোববার সকাল ৭টার সময় তার বাসায় হাজির অভিবাসন বিষয়ক ৬ জন কর্মকর্তা। তার ফ্লাটমেটদের কাছে জানতে চান, ফারজানা ববি সেখানে থাকেন কিনা।
ববি বলেন, এ কথা শুনে আমার মনো হলো- আমি যেন একজন ক্রিমিনাল। তার ভিসা নবায়নের আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করেছে আগেভাগে তা তিনি জানতেন না। মুহূর্তের মধ্যে তিনি উচ্চ ফি দিয়ে পড়াশোনা করা একজন ছাত্রী থেকে যেন অবৈধ অভিবাসী হয়ে যান।
ওই কর্মকর্তারা তাকে ইংরেজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করতে থাকেন। ববি বলেন, পরীক্ষা নিয়ে তারা প্রচুর প্রশ্ন করলেন আমাকে। যেখানে পরীক্ষা দিয়েছি সেই ভবনটি দেখতে কেমন, পরীক্ষা কেমন ছিল, পরীক্ষা দিতে আমি সিঁড়ি বেয়ে উপরে গিয়েছি নাকি নিচতলায় পরীক্ষা দিয়েছি- এসব জানতে চাইলেন তারা।
ফারজানা ববিকে ইমিগ্রেশন সেন্টারে নিয়ে রাখা হয় কয়েক ঘণ্টা। এরপর ধরিয়ে দেয়া হয় একটি কাগজ। তাতে বলা হয়, বৃটেনে প্রতারণার জন্য তাকে বৃটেন ছাড়তে হবে। তবে শুরুতে এ বিষয়ে এতখানি বুঝতে পারেন নি ববি। তিনি বলেন, আমি মনে করেছিলাম আমাকে সম্ভবত ছাড় দেয়া হচ্ছে। বৃটেন একটি উন্নত দেশ। তারা আইন দিয়ে চলে। কিন্তু দ্রুত এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তার মতো আরো কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে একইভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোটা খুব সহজ ছিল না।
পড়াশোনা করতে না পেরে এবং কাজ থেকে তাকে বিরত রাখায় খুব হতাশ হয়ে পড়েন ফারজানা ববি। তবে তিনি বৃটেনে থাকার পক্ষে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যাতে তার ডিগ্রি সম্পন্ন করে গ্রাজুয়েশন করতে পারেন। ৬ মাস বাকি ছিল তার সেই পড়াশোনায়। কিন্তু সেই সময়টাও পান না। ববি বলেন, এমন সময় আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আমাকে দিশাহারা করে তুললো। এক পর্যায়ে আমি আত্মহত্যা করবো ভেবেছিলাম। মনে হলো আমার সহায়তা নেয়া প্রয়োজন। তাকে তার ফ্লাটমেটরা চলে যেতে বললেন। ফলে কয়েক মাস আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন ববি। বিভিন্ন বন্ধুর বাসায় সোফার ওপর তাকে ঘুমাতে হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মধ্য লন্ডনে একটি পার্কের বেঞ্চে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন। আইনি লড়াই করবেন সেই সামর্থ্য ছিল না তার। নিজে নিজেই চেষ্টা করেছেন বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনায় আবেদন করতে। এ পথে অগ্রসর হওয়ার আগেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ববি বলেন, আমি মানসিক, শারীরিক, আবেগ ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আর বাঁচতে পারবো না। তাই হয়তো আমি আত্মহত্যা করবো। মনে হয়েছিল আমি ব্লাকহোলের মধ্যে অবস্থান করছি। এখান থেকে আমাকে মুক্তি পেতে হবে। ভীষণ ভীতু হয়ে পড়েছিলাম। মনে হতো, তারা আমাকে ধরে বন্দিশিবিরে পাঠাবে। এ অবস্থায় একজন ইংলিশ বন্ধু আমাকে ঢাকায় ফেরার একটি টিকিট কিনে দেন। ব্যর্থতা এবং ক্ষোভ আমার ভিতর যেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলো। একটি ভিডিও ক্লিপের ওপর ভিত্তি করে তারা এত হাজার ছেলেমেয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, এতে খুব রাগ হয়েছে। একটি ভিডিও ক্লিপই এটা প্রমাণ করতে পারে না যে, আমরা সবাই প্রতারণা করেছি।
ফারজানা ববির পিছনে যে বিপুল পরিমাণের অর্থ খরচ হয়েছে তার জন্য ক্ষুব্ধ তার পিতামাতা। তাই ববি বিশ্বাস করেন, বৃটিশ সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে। তারা সেটা করলে আমি আমার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে পারবো। তারা জানতে পারবেন আমি কোনো অন্যায় করি নি। আমার হাতে প্রমাণ থাকবে। তাদেরকে দেখানোর মতো কিছু নেই আমার কাছে আর। আমি আমার আশা হারিয়ে ফেলেছি।
বৃটেনে ১১ মাস জেলে কাটিয়েছেন ভারতের তেজাস সোনি (৩৬)। তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আছে। কিন্তু তিনি তা স্বীকার করেন না। এ অভিযোগের বিরুদ্ধে বৃটিশ আদালতে কোনো আপিল করার অধিকার নেই। ইংরেজিতে তার ভালো দক্ষতা। তিনি আশা করেছিলেন বৃটেনে উচ্চতর পড়াশোনা শেষে ভারতে চাকরি করতে পারবেন। তাই তাকে বিদেশ যেতে উৎসাহিত করেছিলেন তার পিতা। সোনি বলেন, বাবা চেয়েছিলেন আমি মাস্টার ডিগ্রি সম্পন্ন করি, যাতে জীবনে আমার অবস্থান হয় উন্নততর। এজন্য আইনগত ও টিউশন ফি বাবদ খরচ হয়েছে ৩৫০০০ পাউন্ড। বৃটেন যাওয়ার আগে ইংরেজিতে তার ছিল ভালো দক্ষতা। ২০১১ সালে ভিসা নবায়নের জন্য তাকে টোয়েইচ পরীক্ষা দিতে হয়। তিনি মনে করেন, এতে চিটিং করা খুব কঠিন। কারণ সেখানে পরীক্ষাকক্ষে ছিল সিসিটিভি। এ ছাড়া ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ উত্তরগুলো কম্পিউটারে রেকর্ড করছিলেন।
২০১৪ সালে তাকে একটি চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন এবং তার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে। তাতে তার বিরুদ্ধে ইংরেজি পরীক্ষায় চিটিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। তাতে বলা হয, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের আর কোনো অধিকার নেই আপনার। বিলম্ব না করে আপনার চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া উচিত। এ অবস্থায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে’র কাছে এ বিষয়ে চিঠি লেখেন সোনি। তাতে তিনি বলেন, বৃটেনে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি পড়াশোনার পিছনে এবং ভিসার পিছনে প্রচুর অর্থ খরচ করেছেন। কিন্তু তার সেই পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সোনি এ সময় তাদের কাছে জানতে চান- আমার এখন কি করা উচিত? এই দেশে আমি কি একজন অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হবো? আমি কি মুখ বন্ধ করে থাকবো এবং আমার দেশে ফিরে যাবো? আমি কি টেমসের (নদী) পাড়ে যাবো এবং তার ভিতর নিজেকে ডুবিয়ে দেবো?
সোনির নাম যতক্ষণ ওই তালিকা থেকে বাদ না যায় ততক্ষণ তাকে ইংল্যান্ডে থাকার পরামর্শ দেয় তার পরিবার। কিন্তু ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করে। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায় বন্দিশিবিরে। সেখানে রাখা হয় ১১ মাস। এ সময়ে তিনি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন। ওই বন্দিশালার মেডিকেল টিম তাকে বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ দেয়। ওইসব স্টাফরা খুব সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে তার বর্ণনা। তবে তারা সহায়তা করায় সক্ষম ছিলেন না। এমন কি কতদিন থাকতে হবে বন্দি তাও তারা বলতে পারতেন না। ওদিকে তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়ায় ভেঙে যায় তার বিয়ে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী মনে করেছিল আমি একজন লুজার। এক পর্যায়ে ভারতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু ভারতের আহমেদাবাদে বসে এ লড়াই চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভারতে বসে বৃটেনের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা খুবই কঠিন। আমি এখনও আশা করি, বৃটেন আমার পড়াশোনার বাকি অংশটা সম্পন্ন করার অনুমতি দেবে।
ওইসব শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের নাভিদ খান (৩৩)। তিনি বৃটিশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেঁচে যান। নিজেকে আবিষ্কার করেন একটি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন পাকিস্তানে ফিরে আসতে। তারা মনে করেন, দেশে ফিরলে তিনি হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু তাকে প্রত্যাখ্যান করে তার পরিবার। কারণ, এ পরিবারটি বৃটিশ বিচার ব্যবস্থার ওপর এতটাই আস্থা রাখে যে, তারা মনে করে বৃটিশ সরকার অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনতে পারে না। বৃটেনে থেকে ফিরে এসে পরিবারে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাভিদ। কোনো কাজ পাচ্ছেন না। পাকিস্তানে তিনি বিপন্ন অবস্থায় আছেন। দু’বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে দু’ঘণ্টার দূরত্বে গৃহহীন মানুষদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন তিনি।