Friday, October 29, 2010

তাঁকে কেউ ভুলবে না by মুজিবুর রহমান

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ জোরদার হয়। আর পাকিস্তান সরকার যখন এ যুদ্ধকে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করে, তখন থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশাল একটি বাহিনী এসে যোগ দেয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। ফলে গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ হলেও এগুলো ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ১১টি সেক্টরের মধ্যে ৪ নম্বর সেক্টর মেজর জেনারেল সি আর দত্তের অধীনে ছিল ত্রিপুরার কমলপুর সাব-সেক্টর। এ সেক্টরে একজন সাব-সেক্টর সহ-অধিনায়ক ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান। তাঁর স্মৃতিচারণায় জানা যায়, ২৪ অক্টোবর রাতের শেষ দিক থেকে ২৮ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে ইপিআর (বর্তমান বিডিআর) ফাঁড়ির সামনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চলে। ধলই সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের এই প্লাটুনের অ্যাসল্ট অফিসার ছিলেন মেজর (অব.) কাইয়ুম চৌধুরী। আর সিপাহি হামিদুর রহমান ছিলেন মেজর কাইয়ুম চৌধুরীর রানার। টানা চার দিনেও পাকিস্তানি বাহিনীকে যখন পিছু হটানো যাচ্ছিল না, তখন নিজ ইচ্ছায় সিপাহি হামিদুর রহমান ধলই ইপিআর ক্যাম্পে এসে গ্রেনেড মেরে পাকিস্তানি বাহিনীকে ধ্বংস করার কঠিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২৮ অক্টোবর ঘন কুয়াশা ও প্রবল গুলিবর্ষণের মধ্যে ভোররাত চারটায় প্রায় আধা কিলোমিটার গ্রেনেড হাতে ক্রলিং করে সিপাহি হামিদুর রহমান ধলই ইপিআর ক্যাম্পে পাকিস্তানি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর গ্রেনেড হামলা চালান। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফেরার সময় পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের একটি গুলি এসে বুকে লাগে সিপাহি হামিদুর রহমানের। হঠাৎ করে একটু নীরবতা। পরক্ষণে সহ-মুক্তিযোদ্ধারা এসে খুঁজে বের করেন শ্রেষ্ঠ বীর সিপাহি হামিদুর রহমানের লাশ। লাশ উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ত্রিপুরার আমবাসায় নিয়ে তাঁকে দাফন করা হয়।
বিশ্বের এমন কোনো দেশের ইতিহাস নেই যে, এত অল্প সময় যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ভিয়েতনামের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলেছে ৩১ বছর। দেশমাতৃকয়াকে শত্রুমুক্ত করতে অতি অল্প সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন। একেবারে মুখোমুখি অবস্থান করে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা মাত্র নয় মাসে শত্রুমুক্ত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে সাতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয় বাংলাদেশ সরকার। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য ঝিনাইদহ জেলার গর্ব সিপাহি হামিদুর রহমান।
দেশ স্বাধীনের ৩৪ বছর পর গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কমলগঞ্জের সাংবাদিকেরা বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে। ধলই সীমান্তে, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন, সেখানেই সাইফুর রহমানের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ যোগাযোগের পর অবশেষে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ দেশে এসেছে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে। তবে সিপাহি হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা কমলগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের জোর দাবি ছিল, খুব সহজে ধলই সীমান্ত দিয়ে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে এলে তাঁর নামের স্মৃতিসৌধ এলাকায় শেষবারের মতো সম্মান জানাতে পারতেন তাঁরা। সরকারি উদ্যোগে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে শ্রেষ্ঠ বীর সিপাহি হামিদুর রহমানের মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় সমাহিত করা হয়েছে, তাতে সবাই খুশি।
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কমলগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে পাঠ্যপুস্তক ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ধলই সীমান্ত বলা হচ্ছে। ধলই শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন নয়, কমলগঞ্জ উপজেলাধীন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ রাইফেলসের উদ্যোগে ধলই সীমান্তে তাদের ক্যাম্পের সামনে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করে ফলকে লেখা হয়েছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলার ধলই সীমান্ত। সেই থেকে দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে কমলগঞ্জ উপজেলাধীন মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ধলই সীমান্ত বলা হয়। কমলগঞ্জবাসী দাবি, এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে বহুবার বলা হয়েছে যে ধলই কমলগঞ্জ উপজেলাধীন। এই ভুল সংশোধন করার ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ইনসাফ ও স্বাধীনতা ব্য অরুন্ধতী রায়

সম্প্রতি প্রখ্যাত ভারতীয়লেখক অরুন্ধতী রায়েরকাশ্মীর বিষয়েকরা মন্তব্যনিয়েভারতে বিতর্ক চলছে। এমনকি তাঁকে গ্রেপ্তারের কথাও উঠেছে। এ বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে যে বক্তব্য দেন, এখানে তা প্রকাশ করা হলো।

লিখছি কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে। আজকের (মঙ্গলবার) সকালের পত্রিকাগুলো বলছে, কাশ্মীর বিষয়ে সম্প্রতি আমি প্রকাশ্যে যা বলেছি, তার জন্য জনগণকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে আমাকে হয়তো গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আমি যা বলেছি, তা এখানকার লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিনই বলে যাচ্ছে। আমি যা বলেছি, তা আমিসহ আরও অনেক লেখক ও ভাষ্যকার বছরের পর বছরজুড়ে বলে আসছেন।
কেউ যদি কষ্ট করে আমার বক্তৃতার শ্রুতিলিখন পড়েন তো দেখবেন, আসলে আমি যা বলেছি তা বুনিয়াদিভাবে সুবিচারের জন্য দাবি। আমি সেই কাশ্মীরি জনগণের জন্য সুবিচারের দাবি করেছি, যারা বিশ্বের অন্যতম নির্মম সামরিক দখলদারির মধ্যে বাস করে আসছে। আমি বলেছি কাশ্মীরি ব্রাম্মণ পণ্ডিতদের কথা, যাঁরা তাঁদের স্বভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার করুণ বাস্তবতায় বাস করছেন। আমি বলেছি সেসব দলিত সৈন্যদের কথা, কাশ্মীরের সংঘাতে যাঁরা মারা গেছেন। আমি কুড্ডালোর গ্রামে তাঁদের কবর দেখতে গিয়েছিলাম। আবর্জনার স্তূপের নিচে সেসব কবর ঢাকা পড়েছে। আমি বলেছি ভারতের সেসব দরিদ্র মানুষের কথা, এই দখলদারির মূল্য যাঁদের দিতে হচ্ছে শরীর দিয়ে, জীবন দিয়ে। তাঁরা সবাই এখন ত্রাসের রাজত্বে বসবাস করা শিখছেন, যে রাজত্ব দিনকে দিন পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে উঠছে।
গতকাল (সোমবার) আমি আপেলের শহর শোপিয়ানে গিয়েছিলাম। ৪৭ দিন ধরে শহরবাসী আয়েশা ও নিলুফার নামের দুই তরুণীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে শহরটিকে বন্ধ করে রেখেছে। তাঁদের লাশ পাওয়া গিয়েছিল তাঁদেরই বাড়ির ধারের এক চিকন নালার মধ্যে। এত দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তাঁদের খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
আমি নিলুফারের স্বামী আয়েশার ভাই শাকিলের সঙ্গে দেখা করি। সেখানে আমাদের ঘিরে অজস্র ব্যথিত ও ক্রুদ্ধ নর-নারী দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভারতের কাছ থেকে তাঁরা কখনো ‘ইনসাফ’ পাবেন, এ আশা তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের একমাত্র আশার নাম হলো ‘আজাদি’—স্বাধীনতা। অল্পবয়সী ছেলেদের সঙ্গেও আমার দেখা হয়েছে। পাথর ছোড়ার অপরাধে তাদের চোখে গুলি করা হয়। যে তরুণের সঙ্গে আমি এখানে-সেখানে গিয়েছিলাম, তাঁর কাছ থেকে শোনা, কীভাবে তার তিন অল্পবয়সী বন্ধুকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাথর ছোড়ার শাস্তি হিসেবে আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল।
সংবাদপত্রে দেখলাম, কারও কারও অভিযোগ যে আমি নাকি ‘ঘৃণা ছড়ানো’ বক্তব্য দিচ্ছি। আমি নাকি চাই ভারত ভেঙে যাক। অথচ আমি উল্টোটাই চাই। আমি যা বলেছি, তার উৎস ভালোবাসা ও গৌরব। মানুষ গুলিতে মরুক কিংবা ধর্ষিত হোক কিংবা উপড়ে দেওয়া হোক তাদের আঙুলের নখ—এই চাওয়া থেকে তো আমি কিছু বলিনি। আমি বরং এর বিপরীত পরিবেশ চাওয়ার কথাই বলেছি। আমার কথাগুলোর জন্ম এমন এক সমাজে, যা এক ন্যায্য জীবন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেই রাষ্ট্রকে আমার করুণা হয়, যা লেখকদের মনের কথা প্রকাশ করার পথ বন্ধ করে, তাঁদের নীরব করে দেয়। সেই রাষ্ট্রকে করুণা, যা সুবিচারপ্রার্থীদের জেলে ভরে আর সাম্প্রদায়িক ঘাতকদের, গণহত্যাকারীদের, করপোরেট নচ্ছারদের, লুটেরাদের, ধর্ষকদের এবং যারা গরিবস্য গরিবদের শিকার করে বেড়ায়, তাদের মুক্ত বিচরণে কোনো বাধা দেয় না।

ভারতের দ্য হিন্দু থেকে ভাষান্তর ফারুক ওয়াসিফ
অরুন্ধতী রায়: বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় লেখক ও অধিকারবাদী কর্মী।

কারাগারে শিশু

শিশুরা অপরাধ করে না এমন নয়। কখনো সেই অপরাধ গুরুতর। তাদের সংশোধনের বিধানই শ্রেয়। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধী শিশুদের স্থান সাধারণ কারাগার। আইন বা নৈতিকতা—কোনো বিবেচনায়ই শিশুদের কারাগারে আটক রাখার সুযোগ নেই, কিন্তু বাস্তবে তা-ই হয়ে আসছে। এই অমানবিক ও আইনবহির্ভূত পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশের সব কারাগারে আটক শিশুদের মুক্তি দিয়ে নিরাপদ আবাসে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমরা উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানাই।
দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৪৫ জন শিশু আটক রয়েছে—এ ধরনের একটি খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর হাইকোর্ট এ ব্যাপারে সরকারের ওপর সুয়োমোটো রুল জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে গত সোমবার হাইকোর্ট কারাগারে আটক এসব শিশুকে নিরাপদ আবাসে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। নিরাপত্তা হেফাজতের নামে এই শিশুরা বর্তমানে কারাগারে। নির্দেশে আদালত বলেছেন, নিরাপত্তা হেফাজত বা কোনো ফৌজদারি মামলায় কোনো শিশুকে কারাগারে আটক রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারাগার শিশুদের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ স্থান হতে পারে না। বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শিশু অপরাধীদের ব্যাপারে এর আগে বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানায় সরকারের সমালোচনা করেন।
এটা দুঃখজনক যে শিশু ইস্যু ও শিশুদের অধিকারের ব্যাপারে যে সংবেদনশীলতা সরকার ও নীতিনির্ধারকদের থাকা উচিত, সে ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু-কিশোর অপরাধীদের ব্যাপারে হাইকোর্ট ২০০৩ সালে সরকারকে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তখন স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, কোনো অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু-কিশোরকে কারাগারে রাখা যাবে না। তাদের সংশোধনাগারে বা নির্দিষ্ট অন্য কোনো নিরাপদ আবাসে রাখতে হবে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা মানা হলে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ১৪৫ জন শিশুর আটক থাকার কথা ছিল না। এরপর ২০০৯ সালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একটি জাতীয় শিশু কমিশন ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় টাস্কফোর্সকে সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এসব ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
হাইকোর্টের বর্তমান নির্দেশের পর সবার টনক নড়বে, সেই আশা আমাদের। আদালত কারাগারে আটক শিশুদের সংশোধনকেন্দ্র বা শিশু আইন মেনে পরিচালিত সরকার অনুমোদিত নিরাপদ আবাসনে স্থানান্তরের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারে এখন সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। আর শিশুদের সব বিষয় সংবেদনশীল দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতা তৈরির দিকটিও জরুরি। হাইকোর্ট জামিন-অযোগ্য মামলায় আটক শিশু-কিশোরদেরও জামিনের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বিবেচনা করে দেখতে বলেছেন। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কারাগারের বাইরে শিশু-কিশোর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন সরকারের।

অপরিবর্তিত দুর্নীতির সূচক -নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি ধারণা সূচকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের দুর্নীতি-পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ত্রয়োদশ থেকে দ্বাদশ স্থানে ওঠার অর্থ যদিও আরও এক ধাপ খারাপ হওয়া; তবে বাংলাদেশের পাওয়া নম্বর (স্কোর) আগের বছর ও এ বছর অভিন্ন। মোট ১০-এর মধ্যে বাংলাদেশ গতবার পেয়েছিল ২ দশমিক ৪, এবারও তা-ই। কিন্তু এই অঙ্কের হিসাব ছাড়াও মোটের ওপর ধারণা করা যায়, বাংলাদেশে দুর্নীতি আগের মতোই চলছে।
২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টিআইবির এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেশ নেতিবাচক হয়ে পড়েছিল সেই বছরগুলোতে। ২০০৫ সালের পর থেকে অবশ্য আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছি। ২০০৬ সালে তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮ সালে দশম এবং গত বছর ত্রয়োদশ স্থানে ছিল বাংলাদেশের নাম। দেশের ভাবমূর্তির কথা ভাবলে এটা নিশ্চয়ই স্বস্তির বিষয়। কিন্তু এই স্বস্তি থাকে না, যখন আমরা দেখি, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে আসতে পারছে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এই দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রথমত বলতে হয়, এর সঙ্গে জড়িত জাতি হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম—এ থেকে মনে হতে পারে, জাতিই বুঝি দুর্নীতিবাজ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়; বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণ অল্পসংখ্যক ক্ষমতাবানের দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও লাগামহীন দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারগুলোর ব্যর্থতার দায় বর্তাচ্ছে পুরো জাতির ওপর।
দুর্নীতির কারণে কীভাবে দেশের সুশাসন ও উন্নয়ন-অগ্রগতি ব্যাহত হয়, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হয়, তা আমরা সবাই জানি। এ নিয়ে অনেক কথা বলা ও লেখা হয়েছে। দুর্নীতি দমন বা হ্রাস করতে হলে কী কী করা দরকার, সেসব নিয়েও অনেক আলোচনা, বক্তৃতা, সভা-সেমিনার হয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। মন্ত্রী-সাংসদদের সম্পদের হিসাব দেওয়া ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে। কিন্তু সেসব করা হয়নি। বরং এমনভাবে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। দুদক আইন সংশোধনী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। সরকারের উচিত, দুদক যাতে আরও স্বাধীনভাবে, কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা।
দুর্নীতি হ্রাসের জন্য প্রথমত প্রয়োজন, যাঁরা দেশ পরিচালনা করছেন, তাঁদের আন্তরিক সদিচ্ছা। দুর্নীতি ঘটলে দুদক তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু দুর্নীতি যাতে না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজ নিজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে, যেমনটি দেখা গেছে প্রতিবেশী ভারতে। আমরা আশা করি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এই দুর্নীতি ধারণা সূচক সরকারকে তার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো আবার স্মরণ করিয়ে দেবে এবং সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সরকার তৎপর হবে।

বোরকা নিষিদ্ধ করায় ফ্রান্সকে লাদেনের হুমকি

আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নতুন এক অডিও বার্তায় বলেছেন, প্রকাশ্য স্থানে ফ্রান্স নারীদের বোরকা পরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা তাদের (আল-কায়েদার) হাতে আটক ফরাসি পাঁচ নাগরিককে হত্যা করার বৈধতা দিয়েছে। গতকাল বুধবার আল-জাজিরা টেলিভিশন ওসামার প্রায় দুই মিনিটের ওই অডিও বার্তাটি প্রচার করে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নাইজারের সাহারা মরুভূমি এলাকা থেকে আল-কায়েদা জঙ্গিরা সাতজন বিদেশিকে অপহরণ করে। এদের পাঁচজন ফ্রান্স, একজন টোগো ও একজন মাদাগাস্কারের নাগরিক।
নতুন বার্তায় লাদেন বলেন, ‘তোমরা যদি মুসলমানদের বোরকা পরার স্বাধীনতা কেড়ে নাও, তাহলে তোমাদের দখলবাজ লোকজনকে হত্যা করার অধিকার কি আমাদের নেই?’
লাদেন তাঁর অডিও ভাষণে আফগানিস্তান থেকে সেনাসদস্য সরিয়ে নেওয়ার জন্যও ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানান। অডিও বার্তাটি সত্যিই লাদেনের কি না, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এক দশক ধরে অনশন

ভারতের মণিপুরে ‘লৌহমানবী’ বলে পরিচিত ইরম শর্মিলার একটানা অনশন কর্মসূচির ১০ বছর পূর্ণ হবে আগামী ৪ নভেম্বর। সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০০০ সালের ৪ নভেম্বর থেকে অনশন করছেন তিনি।
কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও মানবতাবাদী কর্মী শর্মিলা (৩৮) গত মঙ্গলবার মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের জে এন হাসপাতাল থেকে এক বিবৃতিতে বলেন, সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, এ আইন সংশোধন নয়, পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।
২০০০ সালের ১ নভেম্বর ইম্ফল উপত্যকার মালম শহরে মণিপুরের ১০ জন নিরীহ নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শর্মিলা। কিন্তু মণিপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন বলবৎ থাকায় ওই গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত বছরের ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় আমরণ অনশন শুরু করেন শর্মিলা। ৬ নভেম্বর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মণিপুরের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শর্মিলাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখে পুলিশ। তবে পুলিশের পাহারায় হাসপাতালের মধ্যেই অনশন চালিয়ে যান শর্মিলা। পুলিশ বা চিকিৎসকেরা এখনো তাঁকে মুখ দিয়ে কিছু খাওয়াতে পারছেন না। নাকে নল দিয়ে জোর করে খাওয়ানো হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান

পাকিস্তানে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মধ্যে টেলিফোন আলাপের সময় উভয় নেতা এ ব্যাপারে এক মত হন। তাঁরা স্বীকার করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘পাকিস্তানকে সাহায্য করা মানে আফগানিস্তানে আমাদের সাহায্য করা।’
ওবামা বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাঁর ভারত সফরকে পাকিস্তানের ভিন্নভাবে দেখা উচিত হবে না। আগামী ৫ নভেম্বর ওবামার ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা পাকিস্তান ও প্রেসিডেন্ট জারদারি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। বিবৃতিতে পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপারেও অবগত আছেন উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ওবামা কর-ব্যবস্থায় সংস্কার ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর জন্য জারদারিকে পরামর্শ দেন।
ওবামা অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

হাইতিতে নতুন করে শতাধিক কলেরায় আক্রান্ত

হাইতিতে গত মঙ্গলবার কলেরায় আক্রান্ত আরও ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে কলেরায় ২৮৪ জন মারা গেল। নতুন করে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। কলেরায় আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে তিন হাজার ৬১২-তে দাঁড়িয়েছে।
কলেরার প্রাদুর্ভাবের কারণে হাইতির প্রতিবেশী দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিক তার সীমান্ত এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। জাতিসংঘ ও দাতা সংস্থাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তথ্য প্রচারসহ হাইতির রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্স ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। হাইতি কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁদের ধারণা, কলেরার প্রকোপ শিগগিরই কমে আসবে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএএইচও) চিকিৎসক মিশেল থিয়েরেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি সামনের মাসে কলেরা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
হাইতিতে গত জানুয়ারি মাসে ভূমিকম্পে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়। ওই ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হয়ে রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ১৩ লাখ মানুষ আশ্রয়শিবির ও বস্তিতে বাস করছে। দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পানি বা খাবারের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় আশ্রয়শিবির ও বস্তি এলাকার লোকজন কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

উইকিলিকসের কাছে আরও গোপন নথি রয়েছে: পেন্টাগন

উইকিলিকসের কাছে মার্কিন সরকারের আরও গোপন নথি আছে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে পেন্টাগন মুখপাত্র কর্নেল ডেভ লাপান সাংবাদিকদের বলেন, উইকিলিকসের কাছে আরও গোপন নথি আছে—এমন ধারণা করার যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনমতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে উইকিলিকসের হাজার হাজার নেটওয়ার্কের সংযোগ রয়েছে। তবে উইকিলিকস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিভিন্ন সরকারের জন্য বিব্রতকর তথ্য ফাঁসের জন্য আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস গত সপ্তাহে ইরাকে মার্কিন দখলদারির সময়কার প্রায় চার লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে সাধারণ মানুষের ওপর ইরাকি কর্তৃপক্ষের ব্যাপক নির্যাতন ও ইরাক যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত জুলাই মাসে উইকিলিকস আফগান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি গোপন নথি প্রকাশ করে আলোড়ন তোলে।
উইকিলিকস অবশ্য গত সপ্তাহেই জানিয়ে দেয়, আফগানিস্তান যুদ্ধ বিষয়ে তাদের হাতে আরও ১৫ হাজার গোপন নথি ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

ত্রিদেশীয় বৈঠকের আহ্বান প্রচণ্ডর

নেপালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের চেষ্টা গত মঙ্গলবার ১৩ বারের মতো ভেস্তে যাওয়ার পর সে দেশের বিরোধী নেতা ও মাওবাদীদের প্রধান পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড সংকট সমাধানে ত্রিদেশীয় বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অচলাবস্থা নিরসন করে শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে নেপাল এবং তার প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও চীনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘কৌশল জোট’ গঠন করা দরকার।
ভোট কেনার সঙ্গে প্রচণ্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকা নিয়ে খবর প্রকাশের পর গত মাসে প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন থেকে সরে যান। সম্প্রতি নেপালের সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি চীন সফর করেন। গত মঙ্গলবার তিনি নেপালে ফেরেন। গতকাল বুধবার নেপালের মাওবাদীদের মুখপত্র জনদিশার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সফর করার সময় প্রচণ্ড চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রচণ্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে জনদিশা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে সিপিসির কয়েকজন সদস্যের নয়াদিল্লি সফর করার কথা। ওই প্রতিবেদনের দাবি, প্রচণ্ডের অনুরোধেই তাঁরা নেপাল সমস্যার সমাধান করতে ভারতের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। তবে প্রচণ্ড যে ‘কৌশল জোটের’ প্রস্তাব দিয়েছেন, এর ধরন সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
প্রচণ্ড এমন এক সময় এ ধরনের প্রস্তাব দিলেন, যখন কাঠমান্ডুতে ভারতের রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে জুতা নিক্ষেপ করা নিয়ে ভারতের সঙ্গে মাওবাদীদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ৬ অক্টোবর ভারতের রাষ্ট্রদূত রাকেশ সুদের গাড়িতে বিক্ষোভকারীরা জুতা নিক্ষেপ করে। ভারতের অভিযোগ, প্রচণ্ডের ইন্ধনেই মাওবাদী বিক্ষোভকারীরা রাকেশের গাড়িতে জুতা ছুড়ে মারে। ইতিমধ্যে ভারত নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটক করার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেছে।
প্রচণ্ড বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকেও জুতা ছুড়ে মারা হয়েছিল। কিন্তু তাই বলে গঠনমূলক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে ইতিপূর্বে প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে তাঁর হেরে যাওয়ার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া মাওবাদীরা নেপালের অচলাবস্থার জন্য ভারতকেই দায়ী করে আসছে।

বিক্ষোভের মধ্যেই ফ্রান্সে পেনশন সংস্কার বিল পাস

aবিভিন্ন শ্রমিক সংঘ ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেই গতকাল বুধবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টে পেনশন সংস্কার বিল পাস হয়েছে। বিলটির পক্ষে পড়ে ৩৩৬ ভোট। বিপক্ষে পড়ে ২৩৩ ভোট। বিলটি পাস হলেও আগামী মাসে প্রেসিডেন্ট সারকোজির স্বাক্ষর করার আগে এটি আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
সরকারের পেনশন সংস্কার কার্যক্রমে সরকারি কর্মীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর এবং পূর্ণ অবসরকালীন ভাতা পাওয়ার বসয়সীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত এর বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাতে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সারকোজির সরকারের এই সংস্কার বিল গত মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদন পায়। বিলের পক্ষে ১৭৭ ও বিপক্ষে ১৫১ ভোট পড়ে।
এই বিলের বিরুদ্ধে শ্রমিকনেতাদের ডাকে আজ বৃহস্পতিবারও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশের ১০০টিরও বেশি শহর ও নগরে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলবে বিক্ষোভ মিছিল। তবে সরকারের সমর্থকেরাও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সংস্কার বিরোধীদের কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে দাবি করে। চলমান বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটিকে জ্বালানি তেলের সংকটে ফেলেছে।
পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ফলে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের ভেতরের সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী মাসে শ্রম, পরিবহন, পররাষ্ট্র ও বাজেট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আনতে পারেন সারকোজি। একই মাসে জি-২০-এর দায়িত্ব নেবে ফ্রান্স। সারকোজি আশা করছেন, এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রা বিনিময় হার ও পণ্যের দাম নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন, যা তাঁর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়ক হবে।

আফগানিস্তানে বিয়ে বাড়ির ছাদ ধসে নিহত ৫০

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বাঘলান প্রদেশে একটি বিয়েবাড়ির ছাদ ধসে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের সবাই নারী ও শিশু। গতকাল বুধবার সকালের দিকে প্রদেশের জেলগার ওয়ার্চি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।
বাঘলানের গভর্নর মুন্সি আবদুল মজিদ বলেন, ‘পরিবারটির অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্তে এ ধরনের একটি বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটল।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তিব্বতি ভাষার পক্ষে ৩০০ চীনার স্বাক্ষর

চীনে তিব্বতি ভাষার ব্যবহার সীমিত না করার জন্য সরকারের কাছে পেশ করা আবেদনে তিন শতাধিক চীনা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল বুধবার একটি মানবাধিকার সংগঠন এ খবর জানিয়েছে।
কিংহাই প্রদেশের বিদ্যালয়গুলোতে তিব্বতির পরিবর্তে চীনা ভাষার ব্যবহার শুরু করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সেখানে কয়েক দিন ধরে তিব্বতিরা বিক্ষোভ করছে। গত সপ্তাহে কিংহাই প্রদেশে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। গত শুক্রবার রাজধানী বেইজিংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, কিংহাই প্রদেশে বহু আদিবাসী তিব্বতির বাস। তারা তিব্বতি ভাষায় কথা বলে এবং নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার বিষয়ে সচেষ্ট।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চীন সরকার তিব্বতি সংস্কৃতি থেকে তাদের বিচ্যুত করতেই সেখানকার বিদ্যালয়ের ভাষাবিষয়ক ক্লাশে তিব্বতির পরিবর্তে চীনা ভাষা চালু করতে চাইছে। এটা খুবই অন্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত (আইসিটি) বলেছে, তারা কিংহাইয়ের বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে, কিংহাই থেকে ২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
আইসিটি জানিয়েছে, চীনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে পেশ করা আবেদনে বলেছেন, কিংহাইয়ের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা যদি শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চীনা ভাষায় কথা বলেন, তাহলে তারা তা বুঝতে পারবে না। এতে তাদের শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হবে।

হবিটের শুটিং নিউজিল্যান্ডেই

প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, জে আর টোলকিয়েনের শিশুতোষ ফ্যান্টাসি দ্য হবিট অবলম্বনে নির্মিতব্য দুটি চলচ্চিত্রের শুটিং পূর্বপরিকল্পনামতো নিউজিল্যান্ডেই হবে। হলিউডের নির্বাহীরা ছবি দুটির শুটিং নিউজিল্যান্ডে না-ও হতে পারে বলে ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পর প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
বেতনবিষয়ক জটিলতা নিয়ে ছবি দুটির নির্ধারিত কলাকুশলীরা কাজ না করার হুমকি দেওয়ায় গত সোমবার প্রযোজক ওয়ার্নার ব্রস ছবি দুটি নিউজিল্যান্ডে চিত্রায়িত না-ও হতে পারে বলে ঘোষণা দেন।
শুটিং অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে নিউজিল্যান্ডে কয়েক দিন আগে শত শত লোক রাজপথে বিক্ষোভ করে। তারা যেকোনো মূল্যে চিত্রায়ণের কাজ সে দেশেই করার দাবি তোলে। ছবি দুটি তুমুল জনপ্রিয় চলচ্চিত্র লর্ড অব দ্য রিংস ত্রয়ীর আগের কাহিনি (প্রিকুয়েল) হিসেবে নির্মিত হবে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী জন কি জানান, ছবি দুটি প্রযোজনার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
হলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা পিটার জ্যাকসন তাঁর জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডে এর আগে তিন পর্বে লর্ড অব দ্য রিংস ছবি তৈরি করেন। ওই তিনটি পর্বই ব্যবসায়িকভাবে বড় সফলতা পায়।

বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় জাপানের ২০০ কোটি ডলারের প্যাকেজ

বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় ২০০ কোটি ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জাপান। জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এই সহায়তা দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার জাপানের নাগোয়ায় চলমান জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্যবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে এই প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।
এ দিকে একই সম্মেলনে উত্থাপিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রাণী ও উদ্ভিদের এক-পঞ্চমাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার হুমকির মুখে রয়েছে। একদল বিজ্ঞানী ‘রেড লিস্ট অব থ্রেটেন্ড স্পেসিজ’ নামে এই সমীক্ষা পরিচালনা করে।
শীর্ষ সম্মেলনে গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান বলেন, প্রাণী ও উদ্ভিদকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে সহায়তার কাজে জাপান নেতৃত্ব দিতে চায়। এ জন্য জাপান পরবর্তী তিন বছরে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ২০০ কোটি ডলার বণ্টন করবে। তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর জাতীয় (জীববৈচিত্র্যবিষয়ক) কৌশলগুলো হালনাগাদকরণ ও বাস্তবায়নে সমর্থন দিতে যৌথ উদ্যোগে আমরা প্রাণ সঞ্চার করব।’
এ দিকে সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা বলেন, বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের একটি অংশ বিলুপ্ত হওয়ার হুমকি দিন দিন বাড়ছে। তবে তাঁরা আশার কথাও শুনিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যাপক সংরক্ষণ কর্মসূচির কারণে এর মধ্যে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাণীর মধ্যে উভচর প্রাণীর প্রজাতিগুলো সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে। উভচর প্রাণীর ৪১ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। পাখিকুলে ১৩ শতাংশ প্রজাতি একই পর্যায়ে রয়েছে।
প্রাণী ও উদ্ভিদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। সেখানে কৃষিজমির জন্য বন-জঙ্গল সাফ করায় একদিকে যেমন গাছপালা কমেছে, একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণী হারিয়েছে আবাস। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট প্রতিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এডওয়ার্ড ও উইলসন বলেন, এভাবে জীববৈচিত্র্যের মেরুদণ্ড ক্ষয় হচ্ছে। বিলুপ্ত হতে থাকা প্রজাতির যে ‘লাল তালিকা’, এতে এক পা দেওয়া মানে বিলুপ্ত হওয়ার পথে ঝেড়ে এক লাফ দেওয়া।
বিজ্ঞানীরা এর মধ্যে হুঁশিয়ার করেছেন, মানুষের কারণে প্রতিবেশব্যবস্থা দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে প্রাকৃতিক হারের চেয়ে হাজার গুণ দ্রুতগতিতে প্রাণী ও উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবীর প্রাণী ও উদ্ভিদকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করার কৌশল বাতলানোর লক্ষ্য নিয়ে জীববৈচিত্র্যবিষয়ক এই শীর্ষ সম্মেলন চলছে। ১২ দিনব্যাপী সম্মেলন কাল শুক্রবার শেষ হবে।

শেয়ার বিনিয়োগে প্রভিশন বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ফাটকা বিনিয়োগে ঝুঁকি কমাতে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
নতুন এই বিধান অনুসারে এখন থেকে কোনো ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অশ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে। এর আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অশ্রেণীকৃত ঋণে ১ শতাংশ হারে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন রাখতে হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে গতকাল বুধবার নতুন এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিং-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসারে বর্তমানে চলমান, তলবি ও মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে অশ্রেণীকৃত ঋণের জন্য ১ শতাংশ হারে সাধারণ প্রভিশন এবং ভোক্তা ঋণের (কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিং) আওতায় গৃহায়ণ খাতের ঋণ ও লোন ফর প্রফেশনাল সেটআপ বিজনেসের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ হারে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অশ্রেণীকৃত ঋণের জন্য ৫ শতাংশ হারে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মানের খেলাপি ঋণের জন্য পৃথক ও উচ্চ হারে প্রভিশনিংয়ের বিধান আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে প্রভিশন বৃদ্ধি বিষয়ে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বা ঋণ দেওয়া অন্য যেকোনো বিনিয়োগ বা ঋণের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘এটা যেহেতু ফাটকামূলক (স্পেকুলেটিভ) বাজার, তাই আমরা ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি কমাতে এ ব্যবস্থা নিয়েছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংক তার সার্কুলারে উল্লেখ করেছে, শেয়ার বা ডিবেঞ্চারবাজারে মূল্য স্থিতিশীল থাকে না বলেই এর ডিলার বা সাবসিডিয়ারি (সহযোগী) কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিকে দেওয়া ব্যাংকঋণ বা বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে কোনো ব্যাংক কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত স্টক ডিলার, শেয়ার ব্রোকারেজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে গঠিত নিজস্ব পৃথক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা কোম্পানিগুলোতে প্রদত্ত যেকোনো ধরনের ঋণ (ফান্ডেড) এবং এ উদ্দেশ্যে গঠিত অন্য কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তিকে প্রদত্ত যেকোনো ধরনের ঋণের অশ্রেণীকৃত অংশের বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন ১ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ হারে সংরক্ষণ করবে।

সারের কোনো সংকট হবে না: শিল্পমন্ত্রী

দেশে প্রচুর পরিমাণে সারের মজুদ রয়েছে। আমদানি ও উৎপাদনের মাধ্যমে তা আরও বাড়বে। আর তাই আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সারের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
তা ছাড়া সারা দেশের কৃষকের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ ও বিতরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
আর সার আমদানির জন্য চলতি অর্থবছর সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। গত অর্থবছরে সার আমদানিতে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার দেশের বর্তমান সার উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান্রেশিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানীসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস সময়কে ভরা মৌসুম হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশে এ সময় সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পরিমাণ থাকে। এবার চাহিদার পরিমাণ ১২ লাখ আট হাজার ৩৮২ টন। কিন্তু এ সময় দেশের সার কারখানাগুলোর উৎপাদন, আগের মজুদ ও সম্ভাব্য আমদানি মিলিয়ে প্রাপ্তি হবে ১৮ লাখ দুই হাজার ২০৩ টন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘সার দেশের কৃষি উৎপাদনের একটি স্পর্শকাতর উপাদান। এর সঙ্গে দেশের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। এ জন্য সারসংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো তথ্য সঠিকভাবে দেশের জনগণের কাছে পৌঁছা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।’
সামনে ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে চাষিরা যেন সারের জন্য কোনো দুশ্চিন্তায় না থাকেন, সে লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে মোট আটটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কারখানায় ইউরিয়া, একটি কারখানায় টিএসপি ও এসএসপি এবং একটিতে ডিএপি সার উৎপাদিত হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন জানান, চাহিদাকৃত ইউরিয়া সারের পুরোটাই বিসিআইসি জোগান দেবে। এর মধ্য্রেকারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা্র সাড়ে ১১ লাখ টন ও আমদানি লক্ষ্যমাত্রা্র্র১৬ লাখ ৮১ হাজার টন।
এ ছাড়া টিএসপি ও ডিএপি সারের মোট চাহিদার মধ্যে বিসিআইসি এক লাখ টন টিএসপি এবং দেড় লাখ টন ডিএপি সার উৎপাদন করবে। টিএসপি ও ডিএপি সারের অবশিষ্ট চাহিদা বিএডিসি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছরের আমদানির মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কাফকো (বাংলাদেশ) থেকে ছয় লাখ টন, মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ্রছয় লাখ টন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যম্রেচার লাখ ৮১্রলাখ টন আমদানি করা হবে।্র
তিনি বলেন, বিসিআইসির ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে তিনটি কারখানায় এএফসিসিএল (আশুগঞ্জ), পিইউএফএফএল (পলাশ) ও এনজিএফএফএল (ফেঞ্চুগঞ্জ) এ উৎপাদন চালু রয়েছে। স্বাভাবিক গ্যাস প্রেসার না থাকায় যমুনা ও সিইউএফএল এ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস প্রেসার স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই উল্লিখিত দুটি কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমদানি করা ইউরিয়া সার বাফার গুদামে পরিবহন ও সংরক্ষণের সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে রেলওয়ে সাইডিংসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউরিয়া সারবাহী জাহাজ বার্থিংয়ের ব্যবস্থা করাসহ লাইটারেজ ভ্যাসেল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদানের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে সারবাহী জাহাজ স্বাভাবিক ড্রাফট নিয়ে যাতে চলাচল করতে পারে, সে জন্য নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে পত্র প্রেরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্রবন্দরে ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রানজিট গুদাম নির্মাণের ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সারের চালচিত্র
চাহিদা
ইউরিয়া ২৮.৩১ লাখ টন
টিএসপি ৫.৬০ লাখ টন
ডিএপি ৩.৪০ লাখ টন
আমদানি লক্ষ্যমাত্রা (ইউরিয়া) ১৬.৮১ লাখ টন
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৫০ লাখ টন
প্রারম্ভিক মজুদ (ইউরিয়া) ৫.৯৪ লাখ টন

ডিএসইর সভাপতি ও সিইওকে তলব

অনুমোদন ছাড়াই মূল্যসূচক সংশোধন এবং তহবিলের টাকা খরচ করে রিসোর্ট বা অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতীপতী মৈত্রকে গতকাল বুধবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কার্যালয়ে তলব করা হয়।
এসইসি তাঁদের কাছে জানতে চায়, অনুমোদন না থাকার পরও মূল্যসূচকের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় কেন পরিবর্তন করা হলো। আর একটি অলাভজনক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্দেশ্যই বা কী।
জানা গেছে, কাউকে না জানিয়ে সূচক পরিবর্তনের বিষয়ে সতীপতী মৈত্র সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি যা বলেছেন, তা হলো, গত ২ জুন অনুষ্ঠিত স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক সমন্বয়ের নির্দেশনা পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে সূচক সংশোধনের নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সূচক সংশোধন করা হয়েছে।
তার এই জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি এসইসি। পাল্টা বলা হয়, ওই বৈঠকে সূচক সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপনও দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া এ ধরনের একটি সংশোধন বাজারসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষকে না জানিয়ে করা ঠিক হয়নি বলেও এসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়।
অন্যদিকে রিসোর্টের জন্য জমি কেনার ব্যাপারে শাকিল রিজভী বলেন, ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আবাসিক প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি কেনা হয়েছে। এর পেছনে কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সূচক সংশোধন ও জমি কেনার ব্যাপারে ডিএসইর ব্যাখ্যা জানতেই তাঁদের ডাকা হয়েছিল। আমরা তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।’
জানা গেছে, এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ডিএসইকে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপনে সূচক পরিবর্তন ও জমি কিনে অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের খবরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডিএসইর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, গতকালের প্রথম আলোতে ‘মূল্যসূচক নিয়ে লুকোচুরি’ ও ‘৩৭ বিঘা জমিতে হচ্ছে ডিএসইর অবকাশকেন্দ্র’ শীর্ষক দুটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই এসইসি ডিএসইর সভাপতি ও সিইওকে তলব করে।

কোচিও নেই আইপিএলে

আইপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সংখ্যা আট থেকে বেড়ে ১০ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ২০১১ আইপিএলে উল্টো দলসংখ্যা কমে সাত হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) কার্যক্রম দেখে তাই মনে হচ্ছে।
রাজস্থান রয়্যালস ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে আগেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে আইপিএল থেকে। তাদের জায়গা পূরণ করতে পারত সাহারা পুনে ওয়ারিয়র্স ও কোচি। কিন্তু মালিকানা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিবাদ এখন পর্যন্ত না মেটাতে পারায় গতকাল কোচিকেও বহিষ্কারাদেশের নোটিশ দিয়েছে বিসিসিআই।
নাগপুরে গতকালকের আইপিএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর। অবশ্য নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য কোচি মালিকদের ৩০ দিন সময় দিয়েছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ৩১তম দিন থেকে কোচি দলকে বিলুপ্ত বলে ধরে নেওয়া হবে।
আইপিএলে কোচিবিষয়ক এই বিতর্ক চলছে অনেক দিন ধরে। কিন্তু কোচির বিতর্কিত ঘটনাবলির মধ্যে এসে পড়েছে ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের নাম। কোচির অন্যতম মালিকপক্ষ সত্যজিৎ গায়কোয়াড় দাবি করেছেন, শুরু থেকেই গাভাস্কার তাঁদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য গাভাস্কার কোচি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত থেকে নৈতিকভাবে সঠিক কাজ করেছেন কি না?
অবশ্য গাভাস্কার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছেন, কোচি তাঁকে ক্রিকেটীয় বিষয় দেখার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিসিসিআই কোচির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তিনি কোচিকে হ্যাঁ-না কোনোটাই বলছেন না।
কোচিকে নিয়ে ঝামেলার শুরু আসলে এই ফ্রাঞ্চাইজিটির জন্মলগ্ন থেকেই। কোচির মালিকানা নিকটজনদের পাইয়ে দিতে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন, এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরকে পর্যন্ত মন্ত্রিসভা ছাড়তে হয়েছে। লোলিত মোদিকে ভারতীয় ক্রিকেট থেকেই বিতাড়িত হতে হয়েছে। কিন্তু ঝামেলার শেষ হয়নি।
এখন সমস্যা, কোচি দলটি যারা কিনেছে, সেই কনসোর্টিয়ামের বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করতে চাইছে না। আবার তারা কেউ মালিকানা ছাড়তেও রাজি নয়। কোচির ৭৫ শতাংশ মালিকানার সমান অংশীদার অ্যাংকর আর্থ, পারিনি ডেভেলপার, রোসি ব্লু ও ফিল্ম ওয়েভ। বাকি ২৫ শতাংশের মালিক গায়কোয়াড় পরিবারের রঁদেভু স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড।
গতকাল সভা শেষে শশাঙ্ক মনোহর বললেন, ‘আমরা রঁদেভু ও অন্যান্য মালিক; দুই পক্ষ থেকেই জবাব পেয়েছি। দুই পক্ষই মনে করে, তাদের মধ্যে ঝামেলা এখনো আছে।’ এই ঝামেলা না মিটলেই শেষ কোচির সম্ভাবনা।
অবশ্য এসব বিতর্কের মধ্যে না থাকলেও সুনীল গাভাস্কার বলছেন, কোচিকে আরও একটু সময় দেওয়া উচিত, ‘আমি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকলে নিজেদের মধ্যে সমস্যা মেটাতে কোচিকে আরও সময় দিতাম। কারণ এই সময়ে এত টাকা দিয়ে মালিকানা কেনার মতো অন্য লোক পাওয়া সহজ কথা হবে না।’
তার চেয়েও বড় কথা, আগামী নভেম্বরেই চতুর্থ আইপিএলের দলগুলোর খেলোয়াড় নিলামে অংশ নেওয়ার কথা। সেই নিলাম কি ৭ দলের মধ্যেই হবে, নাকি নতুন দল খুঁজে পাবে বিসিসিআই?

প্রথম বিভাগ ক্রিকেট

প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে কাল জয় পেয়েছে ইস্কাটন সবুজ সংঘ, সিটি ক্লাব, বারিধারা ড্যাজলার্স, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও পারটেক্স স্পোর্টিং। ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইস্কাটন (২৬৩/৭) ১৫৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের (১০৮) বিপক্ষে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে কাঁঠালবাগানকে (১৫৯) ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব (১৬৩/৪)। সিটি ক্লাব মাঠে রূপালী ব্যাংকের ১৮৫ রানের জবাবে শেষ ওভারে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে বারিধারা (১৮৭/৭)। বিকেএসপিতে ব্রাদার্স (১৭৩/৫) ৫ উইকেটে জিতেছে ইন্দিরা রোডের (১৭২/৫) বিপক্ষে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ৯৪ রানে অলআউট ঢাকা মেরিনার্সের বিপক্ষে মাত্র ২ উইকেটে জিতেছে পারটেক্স (৯৫/৮)।

বড় স্বপ্ন নেই ধোনির

২০১১ বিশ্বকাপ শুরুর বাকি চার মাসেরও কম। কিন্তু এখনো মহেন্দ্র সিং ধোনির ভাবনাটা পুরোপুরি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক হয়নি। এক বাণিজ্যিক প্রচারণায় কলকাতায় এসে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বললেন, ‘(বিশ্বকাপ নিয়ে) এখনই কথা বলাটা আগেভাগেই হয়ে যায়...ওটার জন্য হাতে এখনো ভালোই সময় আছে।’
বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে চান না, তবে বিশ্বকাপের জন্য যে বিষয়টির ওপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে চান, তা ঠিক করে ফেলেছেন ধোনি। তাঁর ভাষায়, ‘বর্তমান সময় আর বিশ্বকাপ শুরুর মাঝখানে অনেক বিষয়ই উঠে আসবে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং পারফরম্যান্স। সব খেলোয়াড়ের চোটমুক্ত থাকাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সাফল্যের স্বার্থেই এটি দরকার।’
তাঁর নেতৃত্বেই টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে ভারত। সর্বশেষ সিরিজে দেশের মাটিতে ধোনির ভারত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব সংহত করেছে আরও। একজন অধিনায়ক হিসেবে সাফল্যের ভেলায় ভাসছেন ধোনি। কী তাঁর সাফল্যের রহস্য? ‘আমি সফল, কারণ আমি একটা সফল দল পেয়েছি’—বলেছেন ধোনি।
কোনো বড় স্বপ্ন আছে কি না, এমন এক প্রশ্নের উত্তরেও ভারত অধিনায়ক বাস্তববাদী, ‘আমি বর্তমানেই বিশ্বাসী।...অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ কোনোটাই ভাবি না। বড় কোনো স্বপ্নও দেখি না। আমি আসলে বাস্তববাদী।’

দ্বিতীয় ম্যাচেও হার পাকিস্তানের

মাঠের বাইরে হাজারটা ঝামেলা। ওয়াকার ইউনুস-শহীদ আফ্রিদিরা ভালো করেই জানেন, সবার নজরটা ক্রিকেটে ফেরাতে মাঠে খেলতে হবে দারুণ। কিন্তু মাঠের খেলাতেও যে পাকিস্তান বড় ছন্নছাড়া। প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো কাল দ্বিতীয় ম্যাচেও দক্ষিণ আফ্রিকা জিতল ৬ উইকেটে। দুই ম্যাচ সিরিজটিও জিতল ইয়োহান বোথার দল ২-০-তে।
কাকতালীয়ভাবে জয়ের আকারের মতো ম্যাচের চিত্রপটও একই। কালও টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামেন আফ্রিদি। প্রথম ম্যাচে ১১৯ রানে অলআউট পাকিস্তান কাল করে ১২০/৯!
এই পুঁজি নিয়ে লড়াই করা কঠিন। পাকিস্তান পারেওনি। আফ্রিদি, হাফিজ ও সাঈদ আজমল স্পিন জালে বসম্যান (১১), ডি ভিলিয়ার্স (১১) ও গ্রায়েম স্মিথকে (৩৮) ফিরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকা ধীর করেছিল বটে; কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আগের ম্যাচের দুই নায়ক ডুমিনি ও ইনগ্রামের ব্যাট ৮ বল বাকি থাকতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে পাইয়ে দেয় জয়, ১২৫/৪। ১৮ বলে ৩৪ রান করে বেড়ে যাওয়া রানরেট নাগালে এনে দিয়ে আউট হন ইনগ্রাম। ২২ রানে অপরাজিত ডুমিনি মাঠ ছাড়েন জয় নিয়ে।
এর আগে ৩৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে ১২০-তে নিয়ে যান মিজবাহ (৩৩), রাজ্জাক (২৫) ও জুলকারনাইন (১৭)। থেরন ৪ উইকেট, তোতসোবে নেন ২ উইকেট।

ইংল্যান্ড-রাশিয়া ঠোকাঠুকি

২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রার্থিতা নিয়ে সমস্যা বাড়ছে বৈ কমছে না। একটা সমস্যা দূর না-হতেই চেপে বসছে আরেক সমস্যা। বিশ্বকাপ আয়োজক প্রার্থীদের ভোট কেনাবেচা নিয়ে ওঠা বিতর্ক চলছে, এর মধ্যে দুই প্রার্থী দেশ ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে লেগে ভালোই লেগে গেল।
রাশিয়ার আয়োজক কমিটির প্রধান আন্দ্রেই সরোকিন প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের সমালোচনা করেছেন। এতে ইংল্যান্ড তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নালিশ করেছে ফিফার কাছে। অবকাঠামোর দিক দিয়ে ইংল্যান্ড ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুত বলে মনে করেন ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। কিন্তু সরোকিনের কথা, ইংল্যান্ড মোটেই বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নিরাপদ নয়।
‘ইউরোপের বিভিন্ন শহরের তুলনায় লন্ডনে অপরাধ বেশি। লন্ডনের তরুণদের মদ্যপানের অভ্যাসও বেশি’—বলেছেন সরোকিন। সরোকিনের এই অভিযোগ মেনে নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। তাদের আয়োজক কমিটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, আমরা এর বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছি।’ ইংল্যান্ড বিড কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে এটিকে নেহাত ভুল বোঝাবুঝি বলে ব্যাখ্যা করেছেন সরোকিন। তবে দাবি করেছেন, এ নিয়ে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।
আইওসির অবশ্য এতে কিছুই এসে-যায় না। কিন্তু বিশ্বকাপের আয়োজক হতে ভোট কেনাবেচার যে চাঞ্চল্যকর খবর বেরিয়েছে, সেটি মেনে নিতে পারছেন না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি জ্যাক রগে। এ বিষয়ে ফিফার আশু পদক্ষেপ দেখতে চান তিনি।

কলেজ হ্যান্ডবল

ডেলটা লাইফ মহিলা হ্যান্ডবলের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে কাল সেমিফাইনালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ১৫-৮ গোলে ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয়কে হারিয়েছে। ভিকারুননিসা নূনের পিংকি করেছেন সর্বোচ্চ ৬টি গোল। অন্য সেমিফাইনালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ১১-১ গোলে জিতেছে ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয় (জুনিয়র) দলের বিপক্ষে। সিদ্ধেশ্বরীর বিভা করেছেন সর্বোচ্চ ৪টি গোল।

মিলিতো না থাকায় বিস্ময়

ইতালি-ফ্রান্স কোনো সাড়া-শব্দ করছে না। ইংলিশ মিডিয়ায় মৃদু বিস্ময়। ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের ২৩ জনের তালিকায় নাম নেই এই তিন দেশের কোনো ফুটবলারেরই। ইতালির আসলে সোচ্চার দাবি জানানোর কিছুই নেই। তবে ক্লাব হিসেবে ইন্টার মিলানের আছে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইতালিয়ান লিগ আর কাপ জিতে ‘ট্রেবল’ পূর্ণ করা এই ক্লাবটির সেরা স্ট্রাইকারের নামই যে নেই তাতে।
লড়াইয়ে শেষ মঞ্চে হয়তো টিকতেন না। তার পরও ডিয়েগো মিলিতোর নাম না থাকাটা আসলেই বিস্ময়কর। বিশেষ করে যেখানে নাম আছে ঘানার আসামোয়া জিয়ানের। গত মৌসুমে লিগে ২২টি আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬টি গোল করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তাঁর জোড়া গোলেই শিরোপা জেতে ইন্টার। দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর পরও ফিফা ব্যালন ডি’অরের ২৩ জনের মধ্যেও থাকতে না পারাটা তাঁর জন্য হতাশার তো বটেই।
তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে গত মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু লিওনেল মেসি, দিদিয়ের দ্রগবা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও এই তিনজনই গোলের মাহাত্ম্যে পিছিয়ে। লিগের শেষ ম্যাচ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কাপ ফাইনালে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনিই।
সেই মিলিতোর নাম না থাকায় ইন্টারের ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। ক্লাব সভাপতি মাসিমো মোরাত্তির প্রতিক্রিয়ায় সেই ক্ষোভ, ‘মিলিতো এই তালিকায় না থাকায় আমি খুবই হতাশ। ওকে ফোন করে সেটা আমি বলেছিও। সিদ্ধান্তটা খুবই বিস্ময়কর।’

গঠনতন্ত্র সংশোধনীর আলোচনা হবে

আলোচ্য বিষয় আরও থাকলেও মূলত গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনার জন্যই ডাকা হয়েছিল বিসিবির আজকের পরিচালনা পর্ষদের সভা। কিন্তু ওয়েকা বিচ ক্রিকেট উপলক্ষে কাল রাত থেকে বোর্ডের অনেক পরিচালকই কক্সবাজারমুখী হয়ে পড়ায় আজকের সভায় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব উঠুক না-উঠুক, পর্ষদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ উপস্থিত থাকলে সভাটি হবে।
উপানুচ্ছেদ ২.২১ এবং ১৪.১ (ফ)-এর কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনী। ২.২১-এ বর্তমান সিইও পদের জায়গায় সিওও পদের প্রস্তাব আনা হয়েছে। আর ১৪.১ (ফ) অনুযায়ী জাতীয় দলের চূড়ান্ত অনুমোদনের পাশাপাশি দল মনোনয়ন বা নির্বাচনের এখতিয়ারও চলে যায় পরিচালনা পর্ষদের আওতাধীন।
সিইওর জায়গায় সিওও পদ সৃষ্টির বিপক্ষে এর মধ্যেই বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। পেশাদার ক্রিকেট বোর্ডের স্বার্থে তিনি বিসিবিতে সিইও রাখার পক্ষে এবং এ ধারণাটিই বিশ্ব ক্রিকেট-স্বীকৃত। জানা গেছে, সভাপতি তাঁর এই অবস্থানে এখনো অটল এবং বোর্ডের বেশির ভাগ সদস্যও চান সিইও পদ বহাল থাকুক। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সিওও আছে কেবল পাকিস্তানে। আর পাকিস্তান ক্রিকেটের হ-য-ব-র-ল প্রশাসনের কথা কে না জানে?
সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা বিসিবির গঠনতন্ত্র কমিটির প্রধান দেওয়ান শফিউল আরেফিন অবশ্য কাল আর সিইও-সিওও বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না, ‘বিষয়টা নিয়ে বোর্ড সভাপতি তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানিয়েছেন। এরপর এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কোরাম পূর্ণ হলে বোর্ড সভায় প্রস্তাবটি উঠবে এবং আলোচনা হবে।’
উপানুচ্ছেদ ১৪.১ (ফ)-এর প্রস্তাব নিয়ে বিভ্রান্তির কারণ বলা হচ্ছে ভাষাগত। এই উপানুচ্ছেদ অনুযায়ী আগে সব জাতীয় দলের ম্যানেজার, কোচ, অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক মনোনয়ন বা নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল পরিচালনা পর্ষদের। আর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘সব জাতীয় দল, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক এবং কোচসহ টিম ম্যানেজমেন্টের সব সদস্য মনোনয়ন বা নির্বাচনকরণ এবং চূড়ান্ত অনুমোদন’-এর কর্তৃত্ব পাবে পরিচালনা পর্ষদ। নির্বাচকদের নির্বাচিত দল আগেও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করত বোর্ড। এবার তার সঙ্গে ‘মনোনয়ন বা নির্বাচনকরণ’ যোগ হওয়ায়ই উঠছে প্রশ্ন। খোদ বিসিবির সহসভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলমও বলেছেন, ‘দল নির্বাচন কোনোভাবেই পরিচালনা পর্ষদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না, এটা হওয়া উচিত না।’
বোর্ড থেকে অবশ্য এটিকে ভাষাগত ত্রুটি উল্লেখ করে সেটি সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাবের এই সংশোধনীটা বোর্ড সভাতেই হয়ে যাওয়া জরুরি। কারণ একবার অনুমোদন হয়ে যাওয়া সংশোধনী প্রস্তাবের ভুল দূর করতেও আনতে হয় আরেকটি সংশোধনী।
ইজিএমে যাওয়ার আগে সংশোধনী প্রস্তাব পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন হতে হয়। আজকের সভায় না হলে ৩০ নভেম্বরের ইজিএমের আগে ডাকতে হবে আরেকটি বোর্ড সভা।

আইসিসি চুপই থাকবে

শ্রীলঙ্কা সফরে এক তরুণীর সঙ্গে সুরেশ রায়নার সখ্য নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড়। ওই তরুণী বাজিকরদের ঘনিষ্ঠ, সেই সূত্রে রায়নার সঙ্গেও থাকতে পারে বাজিকরদের ঘনিষ্ঠতা—এসব খবর রায়নার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেই। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা কোনো মন্তব্যই করবে না। ওয়েবসাইট।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাতের ব্যাখ্যা, ‘বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে আর্থিক চুক্তিগুলোর বিস্তারিত আমরা প্রকাশ করি না; তেমনি এসিএসইউর (দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ইউনিট) কাছে কোনো ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া রিপোর্টও আমরা জনসম্মুখে প্রকাশ করি না। বোর্ড আমাদের সঙ্গে কথা বলে এবং আমরাও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলি।’
এটা নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের কেন এই মৌনতা? কিন্তু এসব খবরকে ‘মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিসিসিআই সচিব শ্রীনিবাসন। দিন তিনেক আগে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো রিপোর্ট বিসিসিআই পায়নি। সংবাদমাধ্যমের একটা অংশের এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।’

উডসের পতন

আগামী রোববার আরেকটি দুঃসংবাদ শুনতে যাচ্ছেন টাইগার উডস। টানা ২৮১ সপ্তাহ পর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি হাতছাড়া হচ্ছে এই গলফ তারকার।
২০০৫ সালের জুন থেকে এক নম্বর জায়গাটি ছিল তাঁর দখলে। সেই মুকুটটিই জার্মানির মার্টিন কেমার নয়তো ইংল্যান্ডের লি ওয়েস্টউডের কাছে হাতছাড়া করতে হবে উডসকে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া আন্দালুসিয়া মাস্টার্সের সেরা দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারলে নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে যাবেন কেমার। কেমার ব্যর্থ হলে এক নম্বর হবেন এখন পর্যন্ত কোনো মেজর জিততে না পারা ওয়েস্টউড। মুকুটটা কার মাথায় উঠছে, এটা এখনো নির্ধারিত না হলেও উডসের র‌্যাঙ্কিং পতন হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেদিক দিয়ে দেখলে দুঃসংবাদ শোনার জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকারই নেই। সেটি এরই মধ্যে শুনে বসে আছেন মার্কিন কিংবদন্তি।

দুই কোচের দুই বাজি

দৃশ্যটা সচরাচর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দেখা যায়। স্কুল ড্রেস পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামের গেটে হাজির একদল ছাত্র। ক্রিকেটের মতো অতটা দীর্ঘ না হলেও কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গ্রামীণফোন ফেডারেশন কাপে দর্শকদের লাইনটাও নেহাত ছোট হচ্ছে না। ফুটবল যে এখনো তরুণদের টানে সেটা বোঝা গেল দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দিন; শেখ জামাল ধানমন্ডি-মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচে।
সুন্দর ফুটবলের আকর্ষণ যে চিরন্তন, সেটি তো এই ফেডারেশন কাপই কিছুটা বোঝাচ্ছে। এভারটনের ব্রাজিলিয়ান জাদু, ঘানাইয়ান বেনটিলের খানিক নৈপুণ্যের ঝলক দেখতে আগ্রহভরেই স্টেডিয়ামে ঢুকেছে দর্শকেরা। তবে দর্শকদের প্রত্যাশার সবটুকু পূরণ করতে পারেনি ব্রাদার্স ও মুক্তিযোদ্ধা।
খেলা শেষের মিনিট পাঁচেক আগে গোল খেয়ে শেষ চারেই বিদায় মুক্তিযোদ্ধার। অথচ তাদের বড় আশা ছিল ফাইনাল খেলার। দলের কোচ মারুফুল হক এখন নিয়তিবাদী, ‘সব সময় তো মানুষের চাওয়া-পাওয়া এক হয় না।’ হারের পর তিন দিনের ছুটি পেয়ে খেলোয়াড়েরা আপাতত বিশ্রামে। আগামী শনিবার থেকে কোচ নতুন উদ্যমে শুরু করবেন নতুন অভিযান, ‘এখন আমাদের সামনে লিগ আর সুপার কাপ। এগুলো নিয়েই ভাবছি। আশা করি, লিগে আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে।’ সেমিফাইনালে কেন হারল মুক্তিযোদ্ধা? মারুফুলের মনে হয়েছে, বুকোলার ‘নির্জীব’ থাকা, সঙ্গে অন্যদের গোল মিসের হতাশাও ছড়িয়ে পড়েছিল খেলোয়াড়দের মাঝে, ‘বারবার চেষ্টা করার পরও ছেলেরা গোল পাচ্ছিল না বলে হয়তো ওদের মধ্যে হতাশা এসে গিয়েছিল। ওই সুযোগটাই নিয়েছে শেখ জামাল।’ হতাশা নাকি স্নায়ুচাপ? মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যের কাছে কারণ এ দুটির কোনোটাই নয়, তাঁর চোখে এটি স্রেফ দুর্ভাগ্যের কারসাজি, ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। তিন-তিনবার বল ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছে। এটা মিরাকল।’
তবে যোগ্য দুই দলই ফাইনালে উঠেছে বলে মেনে নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা গোলরক্ষক, ‘সেরা দুই দলই ফাইনালে। লড়াইটা জমজমাটই হবে।’ মুক্তিযোদ্ধার মতো সেমিফাইনালে বাদ পড়ে ব্রাদার্সও তাকাচ্ছে সামনে। ব্রাদার্স কোচ ওয়াসিম ইকবাল বললেন, ‘ফেডারেশন কাপ আমাদের কাছে এখন অতীত। এখন লিগ ও সুপার কাপে আরও ভালো খেলতে হবে আমাদের।’
স্পষ্ট বলেননি, তবে ফেডারেশন কাপে এভারটনকে ঘিরেই যে দলের প্রত্যাশা ঘুরপাক খেয়েছে, প্রকারান্তরে সেটাই কবুল করেছেন ওয়াসিম ‘কোনো সন্দেহ নেই, এভারটন ভালো খেলোয়াড়। কিন্তু ও নিজেই নিজের খেলাটা নষ্ট করেছে। একা একা এত বেশি খেলতে গেছে যা মোটেও ঠিক হয়নি।’ তবে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়কে দর্শক-আকর্ষক চরিত্র বলে নিতে তাঁর দ্বিধা নেই, ‘এটা সত্যি, ওর খেলা দেখতে অনেকেই মাঠে এসেছে।’
মাঠের খেলা অনুযায়ী ফাইনালে উঠতে পারত এই দুই দলের যেকোনোটি। শিরোপাও উঠতে পারত এক দলের হাতে। কিন্তু আগামীকালের ফাইনালে তারা দর্শক। তো সেমিফাইনালে পরাজিত এই দুই দল কার হাতে শিরোপা দেখছে? আবাহনী, না শেখ জামাল?
ব্রাদার্সকে হারানো আবাহনীর হাতেই এবার ফেডারেশন কাপের শিরোপা দেখছেন ওয়াসিম, ‘আবাহনীর বিদেশি খেলোয়াড়েরা যদি ফাইনালে ভালো খেলতে পারে তাহলে ওরাই বেরিয়ে যাবে। যদিও কাগজে-কলমে শেখ জামালই এগিয়ে, তার পরও আমার বাজি আবাহনীর পক্ষে।’
মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জয়ী শেখ জামালকে এগিয়ে রাখছেন মুক্তিযোদ্ধা কোচ মারুফুল, ‘দলীয় শক্তি এবং খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার বিচারে শেখ জামালই মনে হয় লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে।’

হত্যা করা হয়েছে পলকে

মরে গিয়েও নিস্তার নেই বেচারা পলের। বিশ্বকাপের তারকা অক্টোপাস পল মারা যাওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শোক জানানো। আবার কোনো কোনো ভক্ত দাবি করছে, পলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে!
সবচেয়ে ভয়ানক দাবিটা করেছেন জিয়াং জিয়াও নামের একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর দাবি, পল আসলে মারা গেছে গত জুলাই মাসের ৯ তারিখ; মানে বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন আগেই!
‘পল দ্য অক্টোপাসকে কে মারল’ নামে একটা রোমাঞ্চ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন জিয়াও। তিনি বলছেন, বিশ্বকাপের সময় থেকে পলকে নিয়ে একটা চলচ্চিত্র বানানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন তাঁরা। এই চলচ্চিত্রটির জন্য তাঁরা পলের ‘তথাকথিত’ ক্ষমতা নিয়ে অনেক তদন্তকাজও করেছিলেন। কিন্তু জার্মানির ‘সি লাইফ সেন্টার’ কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করেনি। তখনই জিয়াও নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, পল এরই মধ্যে মারা গেছে।
জিয়াওয়ের দাবি, ‘আমি শতকরা ৬০-৭০ ভাগ নিশ্চিত, পল ৯ জুলাই মারা গেছে। জার্মানরা এত দিন খবরটা চেপে রেখেছিল এবং আমাদের সবাইকে বোকা বানাচ্ছিল।’ প্রশ্ন হলো, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের পক্ষে ভবিষ্যদ্বাণীটা কে করল?
অবশ্য সি লাইফ সেন্টার কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই দাবির পাশাপাশি কিছু পল-ভক্ত দাবি করছেন, পলকে আসলে বাজিকরদের সঙ্গে যোগসাজশে মেরে ফেলা হয়েছে।
পলের ভবিষ্যদ্বাণীতে লোকজন বিশ্বাস করে তার অনুমান অনুযায়ী দলের পক্ষে বাজি ধরছিল। ফলে বাজিকরদের যে ভরাডুবি হচ্ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজিকর তো পলের মৃত্যুসংবাদ শুনে বলেই ফেললেন, ‘সত্যি কথা বলি, পল দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ায় আমরা একটু স্বস্তি বোধ করছি। ওর জন্য আমাদের অনেক টাকার লোকসান হয়েছে।’
ভক্তদের বক্তব্য এই লোকসান ঠেকাতেই বাজিকরেরা হত্যা করেছে পলকে। এ দাবিকেও উড়িয়ে দিয়েছে সি লাইফ কর্তৃপক্ষ। তাদের এক মুখপাত্র বলছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, পলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ওর বয়স হয়েছিল প্রায় আড়াই বছর, অক্টোপাসদের গড় আয়ু এ রকমই।’
পলের মৃত্যু নিয়ে যা-ই ঘটুক, জার্মানির সি লাইফ সেন্টারে এখন চলছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। জাঁকজমকভাবেই পলকে সমাহিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা সেন্টারের কোনো এক অংশে পলকে সমাহিত করবে এবং সেখানে একটি সৌধও বানানো হবে।
মানুষ না হয়ে অক্টোপাস হলেও মন্দ হতো না!

তাঁকে কী করে ভোলেন মেসি!

সম্পর্কটা কি আগের মতো উষ্ণ আছে এখনো? নাকি তাতে এখন হিমঘরের শীতলতা! ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাবেন, সেটাই প্রতিধ্বনিত হবে একালের ‘ম্যারাডোনা’ লিওনেল মেসির কণ্ঠেও। মনে হবে, তাঁদের সম্পর্কটা এখনো পিতা-পুত্রসম। কিন্তু এর মধ্যেও আঁচ করে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়, সুরটা কোথায় যেন কেটে গেছে।
যাওয়ারই কথা। মেসি ঠিক বাকি ১০ জন আর্জেন্টাইনের মতো আবেগতাড়িত হয়ে বিশ্বকাপের পরও ম্যারাডোনার পাশে দাঁড়াননি। কথার মারপ্যাঁচ তেমন জানেন না। মনের কথাটা অকপটে বলেন। আর সেটা করতে গিয়েই ম্যারাডোনাপক্ষের চক্ষুশূল হতে হয়েছিল। মেসি যে বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে সার্জিও বাতিস্তাকেই তিনি চান।
এত দিন পর নিজের ওই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিলেন আর্জেন্টিনার খুদে জাদুকর। ফ্রেঞ্চ ফুটবল সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন, আর সবার মতো তিনিও ম্যারাডোনার এমন বিদায়ে অনুতপ্ত। সেই দুঃখ এখনো হু হু করে বয় তাঁর বুকের মধ্যে, ‘আমি ঠিক জানি না, কোন কারণে তাঁকে বিদায় নিতে হলো। তবে নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। আমি এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। শুধু এটুকুই বলি, ডিয়েগোর বিদায় এভাবে হবে ভাবতেই পারিনি। তাঁর শেষটার জন্য অবশ্যই কষ্ট হয়।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে পড়ার স্মৃতি মুছে ফেলতে চান। কিন্তু চাইলেই কি আর এত সহজে ভোলা সম্ভব? ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের কাছে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর বিশ্বকাপের ওই পরাজয় আমার কাছে এ বছরেরই সবচেয়ে বড় হতাশার। বিশ্বকাপ একেবারেই অন্য জিনিস। আমরা বিশ্বকাপে আরও বড় কিছুই প্রত্যাশা করেছিলাম। আমাদের সেই সামর্থ্যও ছিল। কিন্তু আমরা ছিটকে গেলাম। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমাদের সবাইকে আক্রান্ত করেছিল।’
জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে গেলেও মেসি বলছেন, ম্যাচের মোড় আসলে ঘুরে গিয়েছিল টমাস মুলারের শুরুর গোলটিতেই, ‘এরপরই আমরা বাধ্য হয়েছি আক্রমণে শক্তি বাড়াতে। এতে আমাদের রক্ষণ ওদের দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের জন্য আরও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। সেটার চড়া দামই দিতে হয়েছে আমাদের।’
অতীত থেকে মেসি চোখ ফিরিয়েছেন বর্তমানেও। তাঁকে কেনার জন্য ইন্টার মিলানের তৎপরতা নিয়ে বেশ মুখরোচক খবর ছড়াচ্ছে। সবই মূলত ইন্টার সভাপতি মাসিমো মোরাত্তিকে ঠাট্টা করে। মেসি কি আর বার্সা ছেড়ে ইন্টারে আসবেন! তবে এই সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দিলেন একটু অন্যরকম উত্তর, ‘ইন্টার? আমি এখন বার্সাতে সুখেই আছি। ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তবে ভবিষ্যতের কথা কে বলতে পারে? যখন সবকিছু ভালোমতো চলে, এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। কিন্তু কঠিন সময় এলে, কে জানে কী হতে পারে। তবে বার্সেলোনায় আমি আনন্দেই আছি। চাইলে লিখেও দিতে পারেন, আমি এখানে এভাবেই থেকে যেতে চাই আজীবন।’

কিংস কাপে রিয়াল ‘প্রজা’

ইউরোপ আর স্পেনের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদের কাছে কিংস কাপ যেন ‘আলোর নিচে অন্ধকার’। রাজা নয়, এখানে তারা প্রজা। স্পেনের ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সাফল্য সবচেয়ে বেশি, সর্বোচ্চ ২৫ বারের শিরোপাজয়ী কাতালানরা। অ্যাটলেটিক বিলবাওয়ের মতো দলও রিয়ালের ওপরে (২৩ বার জয়ী)। ১৭টি শিরোপা নিয়ে রিয়ালের অবস্থান তিনে! এবার ১৮তম শিরোপা জয়ের অভিযানটাও তাদের ব্যর্থ হবে কি না, বলা যাচ্ছে না। তবে পরশু তৃতীয় বিভাগের দল রিয়াল মুর্সিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে দুর্দান্ত রিয়াল নিজেরাই প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে সম্ভাবনায়।
কিংস কাপে রিয়াল মাদ্রিদ সর্বশেষ শিরোপা জিতেছে ১৯৯৩ সালে। গত ছয় বছরে তাদের পারফরম্যান্স রীতিমতো ভয়াবহ। ২০০৪ সালের পর ফাইনালেই জায়গা করে নিতে পারেনি। গত মৌসুমে চতুর্থ বিভাগের দল অ্যালকরকনের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে। পরশু এই শেষ ৩২-এর প্রথম লেগে তাদের আটকে দিল তৃতীয় বিভাগের দল রিয়াল মুর্সিয়া।
হোক প্রতিপক্ষের মাঠ, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন ও স্প্যানিশ লিগে গোল-বন্যা বইয়ে দেওয়া রিয়াল গোলেরই দেখা পাবে না, ব্যাপারটি বিস্ময়কর। কোচ হোসে মরিনহো এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বরং দলের খেলায় সন্তুষ্ট, ‘এটা ঠিক, আমরা জয়ের জন্যই খেলি। তবে আজ (পরশু) দল যা করেছে তাতে আমি খুশি। আমি তাদেরই সমালোচনা করি, যারা পর্যাপ্ত পরিশ্রম করে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তো তেমনটা ঘটেনি!’
পর্যাপ্ত পরিশ্রম করলেও করিম বেনজেমার ভাগ্য যেন বদলাচ্ছে না। হোসে মরিনহোর প্রথম একাদশে ঢোকা তাঁর জন্য আরও কঠিন করে দিল এই ম্যাচ। বেনজেমাকে প্রথম একাদশে রেখে একটা সুযোগ মরিনহো দিয়েছিলেন। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না বেনজেমা, নষ্ট করেছেন গোল করার দুটি সহজ সুযোগ।
বার্সেলোনা অবশ্য সব প্রতিযোগিতায় সমানতালে এগোচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের পর স্প্যানিশ লিগ এবং এরপর কিংস কাপ—তিনটি ম্যাচেই ২-০ গোলে জিতল কাতালানরা। কিংস কাপের জয়টি সেউতার বিপক্ষে। আরেকটা ২-০ গোলের জয়ে লিওনেল মেসির আর জোড়া গোল নেই। বার্সেলোনার জয়ের নায়ক এবার ম্যাক্সওয়েল ও পেদ্রো রদ্রিগেজ।
কার্লিং কাপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়ের নায়ক সেই হাভিয়ের হার্নান্দেজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জোড়া গোল করে স্টোকের বিপক্ষে ম্যানইউকে জিতিয়েছেন মেক্সিকান স্ট্রাইকার। পরশু উলভসের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন হার্নান্দেজ।
বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ ধুঁকতে থাকলেও জার্মান কাপে শোয়েনস্টাইগারের জোড়া গোলে ভেরডার ব্রেমেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

জীবন বুঝেছেন জোন্স

নিতান্ত মধ্যবিত্ত এক পরিবার থেকে উঠে এসে খ্যাতি, অর্থ, সাফল্য পেয়েছিলেন দুহাত ভরে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ, পদক হারানো, জেল খাটা পর্যন্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। জীবনের উত্থান-পতন কাকে বলে, তা মারিয়ন জোন্সের চেয়ে ভালো আর কজন জানেন?
সেই অভিজ্ঞতা এবার পাঠকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চলেছেন সাবেক অ্যাথলেট জোন্স। গত মঙ্গলবার আত্মপ্রকাশ করেছে জোন্সের আত্মজৈবনিক বই অন দ্য রাইট ট্র্যাক। বইয়ে কী থাকছে, জীবনকে কীভাবে দেখেন—এসব প্রশ্ন নিয়ে জোন্স মুখোমুখি হয়েছিলেন বার্তা সংস্থা এপির। সেই সাক্ষাৎকারে জোন্স বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুতাপ মিথ্যে বলায়।
২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে ৫টি সোনা জিতেছিলেন। পরের বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছিলেন ২টি সোনা। কিন্তু পরে ডোপ পরীক্ষায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সব পদকই কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে। ২০০৭ সালে জোন্স স্বীকার করেন যে তিনি আসলেই সিডনি অলিম্পিকের আগে ডোপ নিয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের সামনে তিনি মিথ্যে বলেছিলেন।
এই দায়ে ২০০৮ সালে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। জীবনের নানারূপ দেখে কারাগার আর নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়েছেন জোন্স। গত মৌসুমে খেলেছেন উইমেনস ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন লিগে। জীবনের এই বহুমুখী অভিজ্ঞতা নিয়ে ম্যাগি গ্রিনউড-রবিনসনের সঙ্গে মিলে লিখেছেন ২১৩ পৃষ্ঠার এই বই।
বইটা কী নিয়ে লেখা হয়েছে, তা বুঝতে জোন্সের একটা কথা শোনাই যথেষ্ট, ‘আমার জীবনের গল্পটাই অন্য রকম। জীবনের প্রথম পর্বে আমি সর্বোচ্চ চূড়ায় চড়েছিলাম। জননন্দিত ক্যারিয়ার ছিল। সেখান থেকে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে সব শেষ হয়ে গেল।’
তাহলে জোন্স কি অনুতপ্ত? হ্যাঁ, অনুতপ্ত তো বটেই। কিন্তু টাইম মেশিনে চড়ে আর পেছনে ফিরে যেতে চান না, পেছনে ফিরে গিয়ে ভুল সংশোধন করতে চান না জোন্স, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয়, অতীতে গিয়ে কিছু ব্যাপার বদলে দিয়ে আসি। কিন্তু তাহলে আজ আমি যেখানে, সেখানে তো থাকতাম না। আমি যদি এই অভিজ্ঞতাগুলোর ভেতর দিয়ে, ছয় মাসের সেই সাজা ভোগ না করতাম, তাহলে বুঝতামই না, জীবনটা আসলে কী। পৃথিবীর অনেক মানুষ তা বোঝে না।’

কার্লিং কাপের শেষ আটে আর্সেনাল

গত পাঁচ বছরে কার্লিং কাপের শিরোপার দেখা পায়নি আর্সেনাল। সে জন্যই বোধহয় এবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া হয়ে আছেন কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। কার্লিং কাপে শিরোপা পেতেই হবে, এমন অভিপ্রায়ে আগের বছরগুলোর তুলনায় সেরা খেলোয়াড়দের নিয়েই একাদশ সাজিয়ে মাঠে নামিয়েছিলেন দলকে। ফল পেয়েছেন হাতে-হাতে।
বুধবার নিউক্যাসেল ইউনাইটেডকে এক প্রকার উড়িয়ে দিয়ে কার্লিং কাপের শেষ আটে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল। চার গোলের এ বিশাল জয়ের পথে আর্সেনাল প্রথম গোলটি পেয়েছে খুবই হাস্যকরভাবে। নিউক্যাসেল মিডফিল্ডার রায়ান টেলর গোলপোস্টের সামনে একটি বল বিপদমুক্ত করতে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা গোলরক্ষক টিম কার্লের মাথায় লেগে ঢুকে পড়ে নিজেদের জালেই। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটের সময় আর্সেনালের দ্বিতীয় গোলটিতে অবশ্য কিছুটা বিতর্ক রয়ে গেছে। জোহান দজোরুর বাড়ানো বল থেকে নিউক্যাসেলের জালে বল জড়ানোর সময় থিও ওয়ালকট ছিলেন অফসাইডে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে নিউক্যাসেল। বারবার আক্রমণ চালাতে থাকে আর্সেনালের রক্ষণভাগে। কিন্তু গোল শোধ করা তো দূরের কথা বরং খেলার শেষ ১০ মিনিটে আর্সেনালের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আরও দুটো গোল হজম করতে হয় নিউক্যাসেলকে। ৮৩ মিনিটে ফ্যাব্রিগাসের পাস থেকে গোল করেন নিকোলাস বেন্ডনার। পাঁচ মিনিট পরেই ফ্যাব্রিগাসের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান থিও ওয়ালকট।
কার্লিং কাপের অন্যান্য খেলায় ওয়েস্ট হ্যাম ৩-১ গোলে স্ট্রোক সিটিকে এবং অ্যাস্টন ভিলা ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রানলিকে।