Friday, June 21, 2019

ইরান খুব বড় ভুল করেছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান খুব বড় ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
পেন্টাগন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অবৈধভাবে ইরান তাদের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটি ছিল আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপরে, ইরানের আকাশসীমায় নয়।
ড্রোনটি এমন এক সময় ভূপাতিত করা হলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। এই ঘটনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান অনেক বড় ভুল করেছে বলে মন্তব্য করলেও ট্রাম্প মনে করেন, মনুষ্য ত্রুটির কারণে এই ঘটনা (ড্রোন ভূপাতিত) ঘটে থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, তাঁর দেশের ভৌগোলিক সীমা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করছে মর্মে জাতিসংঘে অভিযোগ করবে তেহরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তাখত রাভানচি বলেছেন, মার্কিন ড্রোনটি স্পষ্টতই গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যুক্ত ছিল। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে মাজিদ তাখত রাভানচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। কিন্তু তারা শত্রুপক্ষের তৎপরতার বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার রাখে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে এবং ওমান উপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে পরপর দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। ওই হামলাগুলোর জন্য তেহরানকে দায়ী করছে ওয়াশিংটন। যদিও তেহরান অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর মধ্যে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান।

গুজরাট দাঙ্গায় মোদিকে দায়ী করা সেই পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

ভারতের গুজরাটে ২০০২ সালে ভয়াবহ মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গায় দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও গুজরাট রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা ফাঁস করা এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সঞ্জিব ভাট নামে ওই কর্মকর্তাকে ৩০ বছর পুরোনো এক খুনের মামলায় এই সাজা দেওয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
সঞ্জিব ভাট গুজরাট দাঙ্গার পর অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদি সরকারী কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে হিন্দুদের। ওই দাঙ্গায় ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম। তবে মোদি সবসময়ই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
সঞ্জিব ভাট যেই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেটি ১৯৮৯ সালের একটি মামলা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তখন ওই দাঙ্গায় সস্পৃক্ত থাকার সন্দেহে ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছিলেন। কিন্তু এদের একজন মুক্তি পাওয়ার পর হাসপাতালে মারা যান। ওই ব্যক্তির পরিবার দাবি করেন, ভাট ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্যাতনের কারণেই তিনি মারা যান।
সঞ্জিব ভাটের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছে গুজরাট রাজ্যের একটি নিম্ন আদালত।
তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
সঞ্জিব ভাট ও তার পরিবার অবশ্য বহুদিন ধরে দাবি করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণেই সরকার তাকে টার্গেট করেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আবার বলছে, মোদিকে ফাঁসাতে প্রমাণ বিকৃত করেছিলেন সঞ্জিব ভাট।
২০০২ সালে ট্রেনে করে যাওয়ার পথে আগুণে নিহত হয়েছিলেন ৬০ জন হিন্দু পূণ্যার্থী। এরপরই দাঙ্গা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সেটিই ছিল ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা।
ট্রেনে আগুণ লাগার কারণ কখনই জানা যায়নি। কিন্তু হিন্দু গোষ্ঠীদের অভিযোগ, ওই আগুণ দিয়েছে মুসলিম প্রতিবাদকারীরা। যদিও পূর্বেকার তদন্তে বলা হয়, ট্রেনে আগুন লেগেছে দুর্ঘটনাক্রমে।
ওই ঘটনার সময় গুজরাট পুলিশের তদন্ত ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন সঞ্জিব ভাট। তার বক্তব্য, ওই পদে থাকায় দাঙ্গার আগে ও দাঙ্গার সময় প্রচুর তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তখন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তিনি জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় সঞ্জিব ভাটকে। ২০১৫ সালে তাকে পুরোপুরি বরখাস্ত করা হয়। ২০১১ সালে অবশ্য ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই দাঙ্গায় সস্পৃক্ততার অভিযোগ থেকে মোদিকে রেহাই দেয়।

আমরা ভাবতাম এই ড্রোনকে গুলি করা সম্ভব নয়: মার্কিন ড্রোন বিশেষজ্ঞ

গ্লোবাল হক মডেলের একটি মার্কিন ড্রোন (ফাইল ছবি)
একজন মার্কিন সামরিক ড্রোন বিশেষজ্ঞ ইরানের হাতে তার দেশের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত হওরার ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, আমরা ভাবতাম ‘গ্লোবাল হক’ ড্রোনকে শনাক্ত করে কেউ তা গুলি করে ভূপাতিত করতে পারবে না; কিন্তু আমাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।
মিসেস উলরিক ফ্রান্ক বৃহস্পতিবার আমেরিকার অর্থে পরিচালিত একটি ইরান বিরোধী প্রচারযন্ত্রকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা জানান। ইরান আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমেরিকার সম্মান ধুলায় মিশে গেছে।
ইরান সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতে আইআরজিসি দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের কুহমোবরক এলাকায় ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ভূপাতিত করে।
ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথা ঘোষণা করার পর ওয়াশিংটন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে নিজের ড্রোন হারানোর কথা স্বীকার করে। তবে মার্কিন সরকার দাবি করে, ইরান নিজের আকাশসীমায় নয় বরং আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ উদ্ধারের খবর জানিয়ে বলেছেন, ইরানের পানিসীমা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক ড্রোন বিশেষজ্ঞ মিসেস উলরিক ফ্রান্ক

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন চালকহীন বিমানের গোয়েন্দা সক্ষমতা

ইরানে অনুপ্রবেশের পর ভূপাতিত মার্কিন আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক চালকহীন বিমান দিনে ৪০ হাজার বর্গ মাইল বা এক লাগ বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ডের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে পারে। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া বা আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের ওপর পুরোপুরি গোয়েন্দা তৎপরতা একটি মাত্র দিনেই সম্পন্ন করতে পারবে।
টানা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি ঊর্ধ্বাকাশে থাকার সক্ষমতা রয়েছে আরকিউ-৪ গ্লোবাল হকের। যে কোনও ধরণের আবহাওয়ায় এটি তৎপরতা চালাতে পারে বলে নির্মাতা সংস্থা নর্থরোপ গ্রুমম্যানের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে। লকহিডের তৈরি ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান দিয়ে যে সব তৎপরতা চালানো যায় তার সবই আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক দিয়ে চালানো সম্ভব। চালকহীন এ গোয়েন্দা বিমান পরিচালনা করে মার্কিন বিমান বাহিনী বা ইউএসএএফ।
২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এটি পরিচালনার ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ২০১০ সালে এটি প্রতিঘণ্টা উড্ডয়ন পরিচালনায় ১৮৯০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু ২০১৩ সালে তা ঘণ্টা প্রতি ১১ হাজার ডলারে নেমে আসে। এ চালকহীন বিমান ১৩৬০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। একে পেলোড হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে ইরানের হাতে ভূপাতিত ড্রোনটি আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক নয়। বরং এমকিউ-৪সি ট্রাইটন। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এমকিউ-৪সি ট্রাইটন চালকহীন ড্রোনটি তৈরি হয়েছে আরকিউ-৪এর ওপর ভিত্তি করে। সক্ষমতার দিক থেকে এটি আরকিউ-৪'এর'ই অনুরূপ।
এমকিউ-৪সি ট্রাইটন

কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে মার্কিন ড্রোন নামাল ইরান?

আইআরজিসি'র থার্ড খোরদাদ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ফাইল ছবি)
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘থার্ড খোরদাদ’ নামক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের অত্যাধুনিক মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসি’র প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইরান সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতে আইআরজিসি দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের কুহমোবরক এলাকায় ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ভূপাতিত করে।
আইআরজিসি বলেছে, ২০১৪ সালে তাদের বহরে যুক্ত হওয়া ‘থার্ড খোরদাদ’ নামক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। মধ্যম পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাহায্য আকাশে মাঝারি উচ্চতায় থাকা যেকোনো আকাশযান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা সম্ভব। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে একইসময়ে চারটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। এ ছাড়া, এটি থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের এবং ২৭ কিলোমিটার উচ্চতার লক্ষ্যবস্তুতে গুলি করা সম্ভব।
শত্রুর ট্যাকটিক্যাল ও কৌশলগত যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা দিয়ে সহজেই শত্রুর অবস্থানে হামলা চালানো সম্ভব।
বৃহস্পতিবার ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথা ঘোষণা করার পর ওয়াশিংটন প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে নিজের ড্রোন হারানোর কথা স্বীকার করে। তবে মার্কিন সরকার দাবি করে, ইরান নিজের আকাশসীমায় নয় বরং আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ উদ্ধারের খবর জানিয়ে বলেছেন, ইরানের পানিসীমা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ফার্স নিউজের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কর্তৃক থার্ড খোরদাদ ব্যবস্থা পরিদর্শনের এই ফাইল ছবিটি প্রকাশ করা হয়

যে কারণে অলৌকিক স্বপ্নটা ছোঁয়া গেল না... by মেহেদী হাসান

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৮২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্লেষক থেকে সাবেকদের।
ম্যাচ জিততে না পারলেও হৃদয় জিতেছে বাংলাদেশ—কথাটা এ দেশের ক্রিকেটভক্তদের কাছে পুরোনো। ২০১২ এশিয়া কাপ থেকে অনেকবারই এ প্রশংসায় ভাসতে হয়েছে। কালও ফিরে আসল কথাটা। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮২ রানের পাহাড়ে উঠতে গিয়ে থামতে হয়েছে অল্প একটু পথ বাকি থাকতে। সেই পথটুকু সংখ্যায় মাত্র ৪৮ রান। এমন লড়াই দেখে হৃদয় না সঁপে পারেননি পাকিস্তানের সংবাদকর্মী আজমল জামি। তাঁর টুইট, ‘শুধু লড়াকু মানসিকতাটুকু দিয়ে বাংলাদেশ আবারও অসংখ্য হৃদয় জিতে নিল।’
প্রতিপক্ষ চার শ ছুঁইছুঁই রান করলে স্বাভাবিকভাবেই বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কাল ম্যাচ শেষে হারের কারণ ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘আমরা ৪০-৫০ রান বেশি দিয়েছি শেষের দিকে। না হলে ব্যাটসম্যানরা ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারত, রান তাড়ার ধরনটাও ভিন্ন হতো।’ সহজ কথায় লক্ষ্যটা সাড়ে তিন শ-র মধ্যে থাকলে ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপটা একটু কম থাকত। কিন্তু কাল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে কি মনে হয়েছে, জেতার জন্য ব্যাটসম্যানরা ভীষণ চাপ নিয়ে ফেলেছেন?
হ্যাঁ, চাপ তো থাকবেই। তা আড়াই শ-তিন শ রান তাড়া করতে গেলেও থাকে। তবে লক্ষ্য যখন চার শ ছুঁই ছুঁই তখন তাড়া করায় আলাদা কিছু থাকতে হয়। তামিম ইকবাল ব্যাটসম্যান বলেই বোধ হয় খামতিটা ধরতে পারলেন—তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমাদের এ রকম বড় রান তাড়া করার অভিজ্ঞতা বেশি নেই। সবাই কিছু না কিছু ভুল করেছি বলেই পারিনি।’ আসলে ভুল তো সেরা দলেরও হয়। আর এই রান তাড়া করতে নামলে বেশির ভাগ সময়ই হবে না। বাংলাদেশের মতো দল কুড়ি বার তাড়া করতে নামলে হয়তো একবার হবে। কাল কিন্তু সেই একবার হওয়ানো—মানে ‘অলৌকিক’ কিছু ঘটানোর সুযোগটা ভালোই ছিল।
হারের ব্যবধান দেখে বাজে বোলিং-ফিল্ডিং, ক্যাচ ছাড়ার খামতিগুলো চোখে বিঁধবেই। এসব না হলে ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততেও পারত। তবে এসব ঘটে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তা হয়নি তামিমের সেই ‘কিছু না কিছু ভুল’ আর একটি খামতির জন্য। খামতির কথায় পরে আসছি। আগে দু-একটি ভুল নিয়ে কথা বলা যায়। বাংলাদেশ গোটা ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান তুলেছে—ওয়ানডেতে দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ—১১৬টি বলে ‘ডট’ দিয়ে! অর্থাৎ বাকি ১৮৪ বল থেকে এ রান তুলেছেন ব্যাটসম্যানেরা। এবার হারের ব্যবধানটা দেখে নিশ্চয়ই কষ্ট বাড়ছে? আরেকটু স্ট্রাইক রোটেট করতে পারলে কিন্তু হয়ে যেত!
পাল্টা যুক্তি আসতে পারে, অস্ট্রেলিয়া তো তাঁদের ইনিংসে ১১১ বল ‘ডট’ দিয়েও ওই রানপাহাড় গড়েছে। অমন পাহাড় টপকাতে চাই চার-ছক্কার পসরা, স্ট্রাইক রোটেট করা কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে? সত্যিই তাই। চার-ছক্কাই চাই। চার মারায় অস্ট্রেলিয়ার (৩৪) চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ (৩০)। পার্থক্যটা আসলে বিগ হিটিংয়ে। ১০টি ছক্কা মেরেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা সর্বসাকল্যে মেরেছেন ৪ ছক্কা। দুই দলের মাঝে এই যে ছয়টি ছক্কার ব্যবধান সেটি আসলে সামর্থ্যের। খামতিটাও ঠিক এখানেই। বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত ‘বিগ হিটার’ নেই। আর বিগ হিটার ছাড়া এমন রান পাহাড়ে উঠতে গেলে যত বেশি সম্ভব স্ট্রাইক রোটেট করার বিকল্প কি?
এবার ব্যাটিংয়ের ধরনে তাকানো যাক। তার আগে একটা প্রশ্ন—কে বেশি আক্রমণাত্মক, তামিম না সৌম্য? সাম্প্রতিক সময়ে সৌম্যকে মনে হলেও বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ সমর্থক মাত্রই তামিমের স্ট্রোক প্লে-র সামর্থ্য সমন্ধে জানেন। এমন রান তাড়ার শুরুতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে দরকার পড়ে বোলারদের ‘সেট’ হতে না দেওয়ার কৌশল। সৌম্য থাকলে পরের কাজটুকু হয়তো হয়ে যেত। সেটি না ঘটায় দায়িত্বটা নিতে হতো তামিমকেই। কিন্তু বাংলাদেশের এ ওপেনার নিজে ‘সেট’ হতে বেশি সময় নিতে গিয়ে বোলারদের চড়ে বসার সময় করে দিয়েছেন।
দলের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু তামিমের স্ট্রাইকরেটই এক শ-র নিচে। আর চার শ ছুঁই ছুঁই সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইকরেট ৮৩.৭৮ হলে তা বেশি করে চোখে লাগাই স্বাভাবিক। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেও বোলারদের ওপর খুব একটা চড়াও হতে দেখা যায়নি তামিমকে। অন্তত ডাউন দ্য উইকেট গিয়ে বোলারের লাইন-লেংথ এলোমেলো করে দেওয়ার চেষ্টাটা করতে পারতেন সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম সেরা এ ওপেনার।
খেলার ধরনের কথা উঠলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের প্রসঙ্গ চলে আসে। তাঁর ১০ বলে ৩২ রানের ‘ক্যামিও’তে বোলারদের লাইন-লেংথ এলোমেলো হয়েছে, তাতে রান বের করতে আসল সুবিধাটা হয়েছে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্যটা ছিল পরিষ্কার—৪০ ওভার শেষে গড়ে সাড়ে ছয়ের ওপরে রানরেট থাকায় ওখান থেকে উড়াল দিতে চেয়েছে দল। সেটা ম্যাক্সওয়েলের চেয়ে ভালো আর কে পারে! সে জন্য স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যানকেও নামতে হয়েছে ছয়ে।
কিন্তু বাংলাদেশ দলে কাল কোনো ব্যাটসম্যানই শুরু থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হননি। সেট হওয়ার পর যা একটু চড়াও হতে দেখা গেছে মাহমুদউল্লাহকে। ততক্ষণে ৫৪ বলে দরকার ১৩৩। তা দেখে ক্রিকেট রসিক মাত্রই বলতে পারেন, এই তো ম্যাচ পালালে বল বাড়ে! আসলে ব্যাটিংটা বেশ ভালোই করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু রানের ঘাটতিটুকু দেখলে শুধু আফসোসই বাড়বে, ইস! শুরুতে যদি একটু মেরে খেলা যেত, কিংবা কোনো একজন ব্যাটসম্যান যদি ম্যাক্সওয়েলের মতো একটা ‘ক্যামিও’ উপহার দিতে পারতেন তাহলে হয়তো হয়ে যেত। কি হতো?
অলৌকিক কিছু ঘটানোর যে স্বপ্ন কাল দেখা হয়েছিল তা ছুঁয়ে দেখা যেত। এবার হলো না বটে। তবে কালকের ব্যাটিংটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে সামনে এসব হওয়ার দিন আসছে! অর্থাৎ শুধু হৃদয় জিতে সন্তুষ্ট থাকা নয়, সঙ্গে ম্যাচও।

৭১৪ রানের অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ by ইশতিয়াক পারভেজ

ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩৩৩ রান। বিশ্বকাপে দু’দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭১৪ রানও এসেছে এই ম্যাচে। বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেয়েছেন মুশফিকুর রহীম। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদও স্বরূপে ফিরেছেন। এতো সব অর্জনের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ৫ উইকেটে ৩৮১ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে করে ৩৩৩।
ট্রেন্টব্রিজের এই মাঠেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪৪ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল ইংল্যান্ড, পরে সেটি ছাড়িয়ে ৪৮১ করেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। উইকেটে বোলারদের জন্য কিছু ছিল না এ দিনও।
তবে এমন উইকেটে নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক বোলিং করা উচিত, সেটিও করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়া পেরেছে তাই তারা ম্যাচ জিতেছে। এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কার ৬৮৮ রান ছাড়িয়ে গেছে এই ম্যাচ। দু’দল মিলে তুলেছে ৭১৪ রান।
এদিন নটিংহ্যামে আসা টাইগারদের ভক্তদের কাছে ৩৮১ রানও যেন মামুলি মনে হচ্ছিল। ২৩ রানের সময় সৌম্য আউট হলেও তাদের কণ্ঠে একই চিৎকার ‘হবে, হবে সাকিব আছে হবে, তামিম আছে হবে, মুশফিক আছে হবে!’ বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লড়াই করেছে। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে আট উইকেটে বাংলাদেশ করেছে সর্বোচ্চ ৩৩৩ রান। এই বিশ্বকাপেই আফ্রিকার বিপক্ষে দলীয় ৩৩০ রান করেছিল টাইগাররা। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করা সাকিব গতকাল ৪১ রানে ফিরলেও মুশফিকুর রহীম হাঁকিয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১০২ রানে। তাইতো এমন হারের পরেও ইংল্যান্ড আর বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শকদের মধ্যে ছিল না হতাশার ছায়াঁ। মাঠ ছাড়ার আগে স্লোগান দিচ্ছেলেন কাপঁলো কারা? অস্ট্রেলিয়া’ অস্ট্রেলিয়া’।
সত্যি অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ হয়তো কপালের ঘাম মুছতে মুছতেই বের হয়েছেন মাঠ থেকে। ম্যাচ শেষে ধন্যবাদ দিয়েছেন ওয়ার্নারকে। আর মাশরাফি আক্ষেপ করেছেন ৪০-৫০ রান বেশি হওয়ার। অনেক প্রাপ্তির ম্যাচেও থেকে গেল আফসোস। কারণ এই ম্যাচ জিতলেই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার আশা জোরালো হতো বাংলাদেশের। আর এখন আফগানিস্তান ভারত ও পাকিস্তানকে হারাতে পারলেও আশায় থাকতে হতে প্রতিপক্ষের হারের।
টসে হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের কোন নিয়মিত বোলার সফলতা এনে দিতে পারেননি। তাই বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবারের মতো বল হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল সৌম্য সরকারের হাতে। প্রথম সাফল্য আসে তার হাত ধরেই। আগের ৪৮ ওয়ানডেতে ১ উইকেট নেওয়া সৌম্য এদিন নিয়েছেন ৩ উইকেট। মাঝের ওভারগুলোতে যেমন, এই ম্যাচের বাস্তবতায় স্লগ ওভারেও করেছেন দারুণ বোলিং। গত কিছুদিনে যাকে নিয়ে অনেক আলোচনা, সেই রুবেল হোসেন ৯ ওভারে গুনেছেন ৮৩ রান।
শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নারের ১৬৬ রানে ৫ উইকেটে ৩৮২ রানের চ্যালেঞ্জটা ছুড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। এক কথায় নিরাপদই মনে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে ১০ রান করে যখন সৌম্য আউট হন তখন অনেক সংবাদকর্মীও বলছিল ২৭০/২৮০ এর বেশ রান করা সম্ভব নয়। এবার তামিমকে নিয়ে ৭৯ রানের জুটি দলকে আবোরো পথ দেখালেন সাকিব। কিন্তু ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করা সাকিব গতকাল ৪১ রান করে আউট হয়ে ফিরেছেন। টানা ৫ ইনিংসে কমপক্ষে ৫০ তোলার পর গতকালই হাল ছাড়লেন তিনি। তখন দলের আশার প্রতীক তামিম-মুশফিকের জুটিতে আবারো আশার আলো দেখাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বাজে একটা শটে তামিম প্লেডঅন হয়ে ফিরেন ৬২ রান করে। বিশ্বকাপের এই আসরে এটি তার প্রথম ফিফটি। এরপর মুশফিক-লিটন জুটিতেও দল এগিয়ে যাচ্ছিল দারুণ ভাবে। কিন্তু এদিন লিটন দারুণ শুরুর পর থামলেন ২০ রানে। জাম্পার বলে হয়েছেন এলবিডাব্লিউ, রিভিউ নিয়ে বাঁচতে পারেননি। তাতেই ভাঙ্গে ৩১ রানের জুটি। লিটন যখন আউট হন দলীয় রান ১৭৫। ঠিক একই ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ১৬৩ রান। তবে পার্থক্য অজিরা তখন হারিয়েছির ১টি উইকেট। বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট। এরপর মুশফিক শুরু করেন ভায়রা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে প্রতিরোধ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর থেকে অফ ফর্মে থাকা মাহমুদুল্লাহ এদিন দারুণ ভাবে ঘুড়ে দাঁড়ান ৫০ বলে ৬৯ রান করে। তার এই ইনিংসে ছিল ৫ চার ও ৩ ছয়ের মারে। আউট হওয়ার আগে গড়েছেন মুশফিকের সঙ্গে শতরানের জুটি, তাও ৮৩ বলে।
এই দু’জনের জুটিতে আসে ১২৭ রান। এরপর সাব্বিরের উপর ভরসা রেখেছিল দল। কিন্তু সেটি পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্বকাপের একাদশে প্রথম সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটসম্যান। আউট হয়েছেন প্রথম বলেই। ৪৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩০৪ রান। মুশফিকুর রহিম ৮৪ রানে সেঞ্চুরির অপেক্ষাতে। শুরু থেকে আস্থার সঙ্গে দারুণ খেলে ওয়ানডেতে তার সপ্তম সেঞ্চুরি দেখা পান বিশ্বকাপের ময়দানে। ৫৪ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করা মুশফিক ৯৫ বলে ১০০ রান স্পর্শ করেন। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে নয়টি চার ও একটি ছক্কা। ৪৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩২৬ রান ৭ উইকেট হারিয়ে। ক্রিজে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গী মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ পর্যন্ত মাশরাফিও আউট আউট হলে থামে বাংরাদেশের পথচলা। তও হাতে দুই উইকেট।

১১ দিন পর পাওয়া গেল সোহেল তাজের ভাগ্নেকে: ‘আর কারও সঙ্গে যেন এমনটি না হয়’ -সোহেল তাজ

১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর মায়ের কোলে ফিরে এসেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেখার আলম সৌরভ (২৫)। গতকাল ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় তাকে কে বা কারা হাত বাধা অবস্থায় রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে একটি গাড়িতে করে সৌরভকে বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পুলিশের একটি পিকআপও ছিলো। গাড়ি থেকে নেমেই মা, বাবা ও মামাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। তার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল তাজ। তিনি বলেন, সৌরভ ফিরে এসেছে বলে আজ আমরা হাসতে পারছি।
সৌরভ আমার ভাগ্নে বলেই তাকে সহযোগিতা করতে পেরেছি। সৌরভের মতো যেন কারও জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে। কাউকে হারানো বা খুঁজে না পাওয়া কী যে মানসিক যন্ত্রণা, তা বুঝানো যাবে না। এটি একটি বিষাক্ত অনুভূতি। এটি জীবন্ত অবস্থায় দোযখের যন্ত্রণা অনুভব করা। কোনো মানুষেরই এই যন্ত্রণা কাম্য হতে পারে না।
একইভাবে সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, এরকম যেন কারও না হয়। দেশের কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমনটি কাম্য না। আমার ছেলেটি খুব নিরীহ। নিরপরাধ। মা হিসেবে বলবো দেশের কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে যেন এরকম না ঘটে। এসময় ফুফাতো ভাই সোহেল তাজের ভূমিকার প্রশংসা করেন সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান।
কারা সৌরভের গুমের সঙ্গে জড়িত এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোহেল তাজ সাংবাদিকদের বলেন, সৌরভকে বাধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার পড়নে কোনো জামা ছিল না। শুধু পায়জামা ছিলো। ময়মনসিংহের এসপি সাহেবের বাসায় নিয়ে তার গোসলের ব্যবস্থা করেছেন। সৌরভ বুঝতে পারেনি সে কোথায় ছিল। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এখন তার ওপর কোনো চাপ দেয়া যাবে না। আমাদের প্রত্যাশা ছিলো তাকে ফিরে পাব। পেয়েছি। এখন এর চেয়ে বেশি কথা বলতে চাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। এসময় সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানান সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।
ময়মনসিংহের তারাকান্দার মধুপুর একটি অটো রাইসমিলের ম্যানেজার সৌরভকে পাওয়া গেছে বলে তার পরিবারকে ফোনে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি চট্রগ্রামে পুলিশকে জানান সোহেল তাজ। এরপর চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন (সিএমপি) পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারাকান্দা থেকে সৌরভকে নিয়ে আসেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, তারাকান্দা উপজেলার বটতলা বাজারের জামিল অটো রাইসমিলের ম্যানেজার সমির তার ফোন থেকে সৌরভের পরিবারকে কল করেন। এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ডিসি আমাকে বিষয়টি জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যাই। পরে তাকে উদ্ধার করে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান বলে জানান এসপি।
তিনি জানান, সৌরভ সম্পূর্ণ সুস্থ। তাকে উদ্ধারের বিষয়টি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে জানানো হয়। পরে তার কথার প্রেক্ষিতে সৌরভকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তারাকান্দা বটতলা জামিল অটো রাইস মিলের ফোরম্যান গকুল বিশ্বাসের ছেলে সমির উদ্দিন জানান, ভোর ৪টার দিকে ‘বাচাঁও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ম্যানেজার শর্মা সরকারকে নিয়ে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের পাশে গিয়ে সৌরভকে পান। এসময় সৌরভ জানান, তাকে ছেঁড়া কাপড়ে গাছে হাত বেঁধে রেখে যায় কে বা কারা। সৌরভ নিজেই হাতের বাঁধন খুলে মুক্ত হন। তাকে রাইস মিলের অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজারকে পরিবারের ফোন নম্বর দিয়ে কল করতে বলেন সৌরভ।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে তারাকান্দা উপজেলার বটতলা এলাকার একটি রাইস মিলের কাছে কে বা কারা সৌরভকে রেখে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
গত ৯ই জুন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার আফমি প্লাজার সামনে থেকে সৌরভকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। ভাগ্নে সৌরভের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তাছাড়াও এ নিয়ে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ভাগ্নেকে খোঁজে বের করতে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করেন সোহেল তাজ। সৌরভ নিখোঁজের পরদিন তার বাবা সৈয়দ ইদ্রিস আলম চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঈদের ছুটিতে সৌরভ চট্টগ্রামের বাসায় বেড়াতে যান। গত ৯ই জুন পাঁচলাইশ আফমি প্লাজার সামনে থেকে দু’জন লোক তাকে অপহরণ করে গাড়িতে তোলে নিয়ে যায়। সৌরভ ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে ডকুমেন্টরি তৈরির কাজ করতেন। সৌরভ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের মামাতো বোন সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমানের ছেলে।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে দাঙ্গার নেপথ্যে

ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সলোমন দ্বীপপুঞ্জে রাজনীতির একটা বদঅভ্যাস আছে। সেখানে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এই যেমন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ এপ্রিল রাজধানী হনিয়ারায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এমন ঘটনা ১৩ বছর আগেও সেখানে ঘটেছিল।
এবারও পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষুব্ধ তরুণেরা ক্ষোভ ফেটে পড়েন। তাঁরা এমপিদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান।
বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে রাজধানীর চায়নাটাউন জেলায় যান। তাঁরা সেখানকার প্যাসেফিক ক্যাসিনো হোটেল ভাঙচুর করেন।
২০০৬ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।
এবার অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া পুলিশ যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল। চায়নাটাউনে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দেয় দাঙ্গা পুলিশ। তারা বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশের প্রস্তুতি ও তৎপরতা সত্ত্বেও ২৪ ও ২৫ এপ্রিল রাতে দাঙ্গা চলে। তবে এই দাঙ্গা রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। দাঙ্গাকারীরা দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করে।
মূলত ১০ম সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে এই অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষী বাহিনী (রামসি) ২০১৭ সালে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ত্যাগ করে। রামসি চলে যাওয়ার পর সেখানে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়।
নির্বাচন অনেকটা শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু মনাসসেহ সোগাভারে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। তিনি ৫০ জন এমপির মধ্যে ৩৪ জনের সমর্থন পান। আর ১৫ জন এমপি সমর্থন করেন ম্যাথিউ ওয়েলকে। সোগাভারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার প্রতিবাদে এই ১৫ এমপি পার্লামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করেন।
ওয়েলের দাবি, সোগাভারে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অযোগ্য। কারণ, আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে হয়। কিন্তু তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন বিলম্বিত করার পক্ষে আদালতের আদেশ পান ওয়েল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী গভর্নর জেনারেল এই আদেশ অগ্রাহ্য করেন। তিনি সংবিধানের দোহাই দেন। সে অনুযায়ী, কোনো এমপি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আপাতদৃষ্টিতে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে দাঙ্গার কারণ রাজনীতি। তবে অন্তর্নিহিত কারণ—অর্থনীতি।
সলোমন দ্বীপপুঞ্জে শান্তিরক্ষী বাহিনী (রামসি) অবস্থানকালে তারা বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করেছেন। কিন্তু উন্নয়নের দিকটি উপেক্ষিত থেকেছে। এ ক্ষেত্রে খুব কমই কাজ হয়েছে। তা ছাড়া বিদেশি কোম্পানির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়নি।
সলোমন দ্বীপপুঞ্জে ব্যবসায় চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে সেখানে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, বৈষম্য, বেকারত্বের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিশেষ করে শহুরে তরুণেরা ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভই সম্প্রতি বিস্ফোরিত হয়ে দাঙ্গার রূপ নেয়।

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

কন্যা ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের কাছে নিগৃহীত সামসুন নাহার তসলিম নিজ বাড়িতে ফিরতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আকুতি জানান সামসুন নাহার। ব্যারিস্টার তুরিনের অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। নিজ মেয়ের কাছে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম বলেন, এখানে-  সেখানে ঘুরে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকবো? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আজ দুই বছর তিন মাস ১৯ দিন ধরে আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার ১৮ দিন পর আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয় তুরিন। আমার দোষ তার কিছু আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়ি ভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার ও ওষুধের খরচ চলতো। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তুরিন বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাতে ঘরে প্রবেশ করানো নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে, তুরিনের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম করে সে ভয় দেখাতো এবং বলতো ‘ওরা সবাই তার বন্ধু।’ কোনও কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করানোর ভয় দেখাতো।
সামসুন নাহার তসলিম বলেন, আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে উনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম, সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই।
তিনি বলেন, আমি তো ধারা বুঝি না। তুরিন আরও বলতো, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসবো। আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাতো। গ্রামের বাড়ি নীলফামারি যেতে পারি না। সে সেখানকার দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে। প্রতিবাদ করলে কথায় কথায় বড় আপু (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ও ছোট আপুর (শেখ রেহানা) প্রসঙ্গ টানতো।
ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ভাই শাহনেওয়াজ শিশির সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটিই, আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাসা থেকে আমাদের বের করে দেয়ার পরও রাজউকের কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধান বর্হিভূত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারীতে আমাদের চাচাতো ভাইবোনদের জমিজমাও জিম্মি করে রেখেছে।
এর আগে, গত ১৪ জুন, নিজ বাড়িতে মা সামসুন নাহার তসনিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির বাসায় ঢুকতে না পেরে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে। ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির এই জিডি করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার কানাডা থেকে দেশে আসার পর আমরা উত্তরার বাসায় যাই। কিন্তু বোনের নির্দেশে বাসার দারোয়ান ও আনসারগণ আমাকে প্রবেশ করতে দেয়নি।

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটারবিমুখতা: বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচনে ভোট দেয়ার ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মসজিদে মসজিদে মাইকে আহ্বান করেও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা যাচ্ছে না। এটা কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্যও বিপদ সংকেত।
গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মেনন বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ যদি নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাহলে রাজনৈতিক দল কেবল নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য যেমন, আওয়ামী লীগের জন্যও প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার কাজটি আমাদের করতে হবে। কারণ রোগ এখন উপজেলা নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলের অভিজ্ঞতা, এমনকি আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা করুণ। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলেও কোন লাভ হচ্ছে না। বরং তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন ও সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, সেই ’৬৩ সাল থেকে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। সর্বশেষ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের ভুয়া ভোটার তালিকা আর নীল-নক্সার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ১৪ দল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোট প্রয়োগের আন্দোলনে সফলতা অর্জন করেছিলাম। আবার যেন এই বৃদ্ধ বয়সে সবটাই পুনঃমুষিকভব করতে না হয়।
এদিকে, এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটের নিম্ন হার দেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
পাঁচ ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরদিন গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব তালুকদার তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “এবারের উপজেলা নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও জাতির জন্য এরকম নির্বাচনবিমুখতা অশনি সংকেত। এই নির্বাচন বিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরো জানান, “কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ। এই অবস্থা কখনও কাম্য হতে পারে না। আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় সামিল হতে চাই না। যথোপযুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তুলে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবারের উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৪০ শতাংশের কিছু বেশি।
গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের শাসনে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে কারচুপির কারণে নির্বাচনের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
গতকাল মাহবুব তালুকদার তার সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, “বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত এবং তা বহুত্ববাদের ভেতর থেকে উৎসারিত হতে হয়। একতরফা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের কোনো অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয় না বলে এর কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।”
বাংলাদেশে সকল পর্যায়ের নির্বাচনে ভোটারদের আনাগ্রহের মাঝেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ঘোষণা করেছেন, ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই  ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা হবে। আর সে জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি হয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে বুধবার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম নুরুল হুদা এ ঘোষণা দেন।
অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম আজ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে বদ্ধপরিকর। জন্মনিবন্ধনসহ স্বচ্ছ নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তকরণ ও ভুল তথ্য সংশোধনও করা হচ্ছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রংপুর নগরীর বড়বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ছবি যুক্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিদর্শকালে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগদ কার্যক্রমে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

ইরানে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করল আইআরজিসি

গ্লোবাল হক মডেলের একটি মার্কিন ড্রোন (ফাইল ছবি)
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশ হরমুজগানের আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রদেশের ‘কুহে মোবারক’ এলাকায়  আমেরিকায় তৈরি ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের একটি গোয়েন্দা ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। কুহে মোবারক এলাকাটি হরমুজগান প্রদেশের মধ্যাঞ্চলীয় ‘জাস্ক’ কাউন্টিতে অবস্থিত।
আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী যেকোনো শত্রু  বিমান বা ড্রোন গুলি করে নামানোর যে নির্দেশ রয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী ‘সেন্টকম’র পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদারের কারণে এ অঞ্চলে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার খবর এল। এ ছাড়া, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা এমন সময় ইরানে গোয়েন্দা ড্রোন পাঠাল যখন তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ‘সেন্টকম’কে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ অভিহিত করে প্রস্তাব পাস করেছে এবং ওই প্রস্তাবের জের ধরে তেহরান এ অঞ্চলে মোতায়েন সব মার্কিন সেনাকে সন্ত্রাসী সেনা বলে মনে করে।
ইরানের হরমুজগান প্রদেশ (লাল রঙে চিহ্নিত)

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের হুমকি, কী করবে যুক্তরাষ্ট্র?

ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার জন্য ইরান দায়ী বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছে ইরান তাকে ভিত্তিহীন ও উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছে।
যেখানে এই ঘটনাগুলো ঘটছে, সেটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই পথটি হরমুজ প্রণালী হিসেবে পরিচিত।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তেল রফতানি করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল যায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য জায়গায়।
হরমুজ প্রণালীর একদিকে আছে আরব দেশগুলো। এসব দেশের মধ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলো রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর অন্য পাশে রয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ যে অংশ সেখানে ইরান ও ওমানের দূরত্ব মাত্র ২১ মাইল। এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটি লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত।
হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানি তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী যথেষ্ট গভীর ও চওড়া।
পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়।
মালাক্কা প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রফতানি হয় এক কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল এবং সুয়েজ খাল দিয়ে প্রতিদিন ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়।
হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান রুট। ইরানের অর্থনীতির জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের মোট রফতানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে জ্বালানি তেল রফতানির মাধ্যমে। ২০১৭ সালে ইরান ৬৬০০ কোটি ডলারের তেল রফতানি করেছে। ইরানের উপর আমেরিকা নতুন করে যে অবরোধ দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়।
ইরান বলেছে, তাদের তেল রফতানিতে আমেরিকা যদি বাধা দেয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোনো তেল রফতানি করা যাবে না।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যত তেল পরিবহন করা হবে সেটি তারা বন্ধ করে দেবে।
১৯৮০'র দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় এ ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ইরাক এবং ইরান পরস্পরের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে চেয়েছিল।
তখন জ্বালানি তেল বহনকারী ২৪০টি তেলের ট্যাংকার আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৫৫টি ডুবে গিয়েছিল।
ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে চায় তাহলে সেটির কিছু নেতিবাচক দিক আছে। হরমুজ প্রণালী অশান্ত হয়ে উঠলে পৃথিবীজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে।
সূত্র : বিবিসি

স্কুলের বেতন পুরোনো প্লাস্টিক!

স্কুলটিতে বেতন দিয়েই পড়তে হয় শিশুদের। কিন্তু সেই বেতন হলো পুরোনো প্লাস্টিক বর্জ্য! অর্থের বিনিময়ে পুরোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিটে যায় স্কুলের ফি। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতে ঘটেছে এমন ঘটনা। সেখানকার একটি স্কুল অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন হিসেবে অর্থের পরিবর্তে প্লাস্টিক নিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার লাগোসে মরিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এই অভিনব পদ্ধতিতে বেতন নিচ্ছে। ‘আফ্রিকান ক্লিন আপ ইনিশিয়েটিভ’ ও ‘উইসাইকলারস’ নামের দুটি সংগঠনের সহায়তায় এই পদ্ধতি চালু করেছে স্কুলটি। বেতন হিসেবে অর্থের পরিবর্তে প্লাস্টিক নেওয়ার কারণ হিসেবে দুটি সুবিধার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর একটি হলো—পরিবারগুলো প্লাস্টিক পরিশোধের মাধ্যমে ব্যয় কমাতে পারবে এবং অন্যটি হলো, স্কুলের আশপাশের এলাকা প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা পাবে।
এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা প্রথমে ব্যাগভর্তি প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে স্কুলের নির্ধারিত জায়গায় যান। সেখানে তাদের প্লাস্টিক বর্জ্যের ওজন মাপা হবে। এরপর ওজন অনুসারে আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই আর্থিক মূল্য স্কুলের বেতন হিসেবে কেটে রাখা হবে।
মরিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা বিবিসিকে বলেন, সন্তানের বেতন পরিশোধে আগে তাঁর আর্থিক টানাটানি হতো। অধিকাংশ সময় তাঁর কাছে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকত না। তাই মাঝে মাঝে বেতনের অর্ধেক দিয়ে, বাকিটা অন্য সময়ে পরিশোধ করতেন। তবে প্লাস্টিক বর্জ্য নেওয়ার এই প্রকল্পের কারণে এখন স্কুলের বেতন দেওয়াটা তাঁর জন্য সহজ হয়ে গেছে।
প্লাস্টিক নেওয়ার বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, এর মধ্য দিয়ে সব অভিভাবক চাপমুক্ত হয়েছেন। তাঁরা এখন স্কুলের বেতন দ্রুত দিতে পারছেন। এই প্রকল্পে সবাই লাভবান হয়েছেন। স্কুলের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মা’রও সুবিধা হয়েছে।
অন্যদিকে লাগোসের ‘মাই মডার্ন মেট’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বলছে, প্লাস্টিক বর্জ্য নেওয়ার এই প্রকল্প শুধু ওই এলাকার পরিবেশ দূষণই রোধ করছে না, পাশাপাশি সবার জন্য শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশের সুযোগও নিশ্চিত করছে।

জান্নাতুল বাকিতে ওয়াহাবিদের ধ্বংসযজ্ঞ ওদের ইহুদিবাদী স্বভাবেরই প্রকাশ

৮ শাওয়াল ইসলামের ইতিহাসের এক শোকাবহ দিন। ৯৬ চন্দ্র-বছর আগে এই দিনে ওয়াহাবি ধর্মদ্রোহীরা পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ক্ষমার অযোগ্য কিছু পাপাচার ও নজিরবিহীন বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছিল।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যখন পবিত্র জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ নিষ্পাপ উত্তরসূরির পবিত্র মাজার জিয়ারত করছিলেন তখন ওয়াহাবি দুর্বৃত্তরা সেখানে ভাঙ্গচুর ও লুটপাট অভিযান চালায়এবং ওই নিষ্পাপ ইমামদের পবিত্র মাজারের সুদৃশ্য স্থাপনা ও গম্বুজগুলো মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এরপর বর্বর ও ধর্মান্ধ ওয়াহাবিরা আরো কয়েকটি পবিত্র মাজারের অবমাননা করে এবং এইসব মাজারের গম্বুজ ও স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে-চুরে ইসলাম অবমাননার ন্যক্কারজনক তাণ্ডব চালায়। এইসব মাজার ছিল বিশ্বনবী (সা.)'র ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন,সাহাবি, স্ত্রী, বংশধর ও খ্যাতনামা আলেমদের।
তৎকালীন পত্র-পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, সৌদি রাজা আবদুল আজিজ জান্নাতুল বাকিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এটা যে লোক-দেখানো বিবৃতি ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তিনি এইসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে শাস্তি দেননি বা কাউকে গ্রেফতার কিংবা এ বিষয়ে তদন্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন বলে শোনা যায়নি। আসলে একজন ওয়াহাবি রাজা ওয়াহাবিদের সুপরিকল্পিত অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন-এটা ভাবাই যায় না।
জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে এসে বিশ্বনবী (সা.) বলতেন, “ তোমাদের ওপর সালাম! হে বিশ্বাসীদের আবাসস্থল! আল্লাহ চাইলে আমরাও শিগগিরই তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। হে আল্লাহ, আল-বাকির (জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের) অধিবাসীদের ক্ষমা করুন।”
সুন্নি ও শিয়া সূত্রে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর সাহাবায়ে কেরাম ও আত্মীয়-স্বজনদের কবরে সালাম দিতেন।
বিশ্বনবী (সা.) কবর জিয়ারতের সুন্নাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেছিলেন। সম্ভবত এর অন্যতম কারণ এটাও ছিল যে এর মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের মধ্যে বিভেদকামী এই ওয়াহাবি-সালাফি গোষ্ঠীর মুনাফেকি বা কপট চরিত্র উন্মোচন করবেন। এই সুন্নাতের মাধ্যমে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এটা স্পষ্ট করেন যে, একটি গতিশীল ইসলামী সমাজ সবসময় তার মৃত ব্যক্তিদের স্মরণ করে যেই মৃত ব্যক্তিরা মৃত্যুর পরেও খোদায়ী রহমত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে শহীদদের অবস্থা আরো উন্নত। স্বয়ং মহান আল্লাহ বলেছেন,
‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে তাদের তোমরা মৃত ভেবো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে জীবিকা-প্রাপ্ত।’ (সুরা আলে ইমরান-১৬৯)
অন্য একটি আয়াত হতে জানা যায় এই বিশেষ জীবন (বারজাখের জীবন) শুধু শহীদদের জন্যই নয়, বরং আল্লাহর সকল অনুগত ও সৎকর্মশীল বান্দার জন্য নির্ধারিত।
মহান আল্লাহ্ বলেছেন :
‘যারা আল্লাহ্ ও তাঁর প্রেরিত পুরুষের আনুগত্য করবে তারা সেই সব ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে নবীগণ, সত্যবাদিগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য হতে যাদের তিনি নিয়ামত দিয়েছেন। তারা কতই না উত্তম সঙ্গী!’ (সুরা নিসা-৬৯)
বিশ্বনবী (সা.)’র জন্য এটা কতই না হৃদয় বিদারক যে তাঁর প্রিয় আহলে বাইত, সাহাবি ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের মাজারগুলো গুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে! জান্নাতুল বাকি কোনো সাধারণ কবরস্থান নয়। এখানে রয়েছে অন্তত সাত হাজার সাহাবির কবর। এখানে রয়েছে বিশ্বনবী (সা.)’র ফুপি বা পিতার বোন হযরত সাফিয়া ও আতিকার কবর। এখানেই রয়েছে বিশ্বনবী (সা.)’র শিশু পুত্র হযরত ইব্রাহিম (তাঁর ওপর অশেষ শান্তি বর্ষিত হোক)-এর কবর। এই পুত্রের মৃত্যুর সময় বিশ্বনবী (সা.) অশ্রু-সজল চোখে বলেছিলেন, “চোখগুলো থেকে পানি ঝরছে এবং হৃদয় শোকাহত, কিন্তু আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্রেককারী কথা ছাড়া অন্য কিছুই বলব না। আমরা তোমার জন্য শোকাহত হে ইব্রাহিম!”
জান্নাতুল বাকি হচ্ছে সে স্থান যেখানে সমাহিত হয়েছেন বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা হযরত আবু তালিব (রা.)’র স্ত্রী ফাতিমা বিনতে আসাদ (সালামুল্লাহি আলাইহা)। এই মহীয়সী নারী বিশ্বনবী (সা.)-কে লালন করেছিলেন নিজ সন্তানের মত স্নেহ দিয়ে এবং তাঁকে কবরে রাখার আগে বিশ্বনবী (সা.) এই মহান নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিজেই ওই কবরে কিছুক্ষণ শুয়েছিলেন। রাসূল (সা.) তার জন্য তালকিন উচ্চারণ করেছিলেন শোকার্ত কণ্ঠে।
জান্নাতুল বাকি হচ্ছে সেই কবরস্থান যেখানে বেহেশতী নারীদের সর্দার তথা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (সা.) বিশ্বনবী (সা.)’র ইন্তিকালের পর যে ৯০ দিন নিজে বেঁচে ছিলেন প্রায়ই সেখানে গিয়েই শোক প্রকাশ করতেন। যেখানে বসে তিনি শোক প্রকাশ করতেন সেই স্থানটিকে বল হল বাইতুল হুজন বা শোক প্রকাশের ঘর। একই স্থানে কারবালার শোকাবহ ঘটনার পর বিশ্বনবী (সা.)’র নাতি শহীদদের নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) ও নিজের পুত্র হযরত আবুল ফজল আব্বাস (রা.) ’র জন্য শোক প্রকাশ করতেন মুমিনদের নেতা হযরত আলী (আ.)’র স্ত্রী উম্মুল বানিন (সা. আ.)। এখানেই মদিনাবাসী যোগ দিতেন শোক-অনুষ্ঠানে। এখানে প্রায়ই শোক প্রকাশের জন্য আসতেন ইমাম হুসাইন (আ.)’র স্ত্রী হযরত রাবাব (সা. আ.)। বিশ্বনবী (সা.)’র নাতনী ও ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জয়নাব (সা. আ.) ও উম্মে কুলসুম (সা.আ.) নিয়মিত শোক প্রকাশের জন্য এখানেই আসতেন।
প্রায় ৯১ বছর আগেও জান্নাতুল বাকিতে টিকে ছিল বিশ্বনবী (সা.)’র ১২ জন নিষ্পাপ  উত্তরসূরির মধ্য থেকে তাঁর নাতি হযরত ইমাম হাসান (আ.), অন্য নাতি ইমাম হুসাইন (আ.)'র পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.), তাঁর পুত্র ইমাম মুহাম্মাদ বাকির (আ.) ও বাকির (আ.)'র পুত্র ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’র সুদৃশ্য মাজার। কিন্তু বর্তমানে এ এলাকায় টিকে রয়েছে একমাত্র বিশ্বনবী (সা.)’র মাজার। ওয়াহাবিরা বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র মাজার ভাঙ্গার জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়ার পরও মুসলমানদের প্রতিরোধের মুখে ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ভয়েই তা বাস্তবায়নের সাহস করেনি।
ব্রিটিশ ও কাফিরদের সহযোগী ইহুদিবাদী চরিত্রের অধিকারী ওয়াহাবিরা কেবল মদিনায় নয় পবিত্র মক্কায়ও ইসলামের অনেক নিদর্শন ও পবিত্র মাজার ধ্বংস করেছে। এইসব মাজারের মধ্যে রয়েছে মক্কায় জান্নাতুল মোয়াল্লা নামক কবরস্থানে অবস্থিত বিশ্বনবী (সা.)’র স্ত্রী ও প্রথম মুসলমান উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজা (সা. আ.)’র পবিত্র মাজার এবং বিশ্বনবী (সা.)’র পুত্র হজরত কাসেম (আ.), চাচা হযরত আবু তালিব (রা.) ও দাদা হযরত আবদুল মুত্তালিব (আ.)সহ অন্যান্য পারিবারিক সদস্যদের মাজার।
ওয়াহাবিরা মদীনায় ওহুদ যুদ্ধের ঐতিহাসিক ময়দানে বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা শহীদদের নেতা হযরত হামজা (সা.)’র মাজারসহ অন্যান্য শহীদ সাহাবিদের মাজারও ধ্বংস করেছে।
ওয়াহাবিরা এভাবে ইসলামের ইতিহাসের নিদর্শনগুলো ধ্বংস করছে ঠিক যেভাবে বায়তুল মোকাদ্দাস শহরে মুসলমানদের পবিত্র প্রথম কেবলা এবং এর আশপাশের ইসলামী নিদর্শনগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করছে দখলদার ইহুদিবাদীরা। ফিলিস্তিনের অনেক ইসলামী নিদর্শন ধ্বংস করেছে ইহুদিবাদীরা। অনেকেই মনে করেন ওয়াহাবিদের পৃষ্ঠপোষক সৌদি রাজবংশ (যারা তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ইংরেজদের সহায়তা করেছে এবং পুরস্কার হিসেবে হিজাজে বংশীয় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে) ছিল একটি ইহুদিবাদী ইহুদি গোত্রেরই বংশধর। এরা মুখে মুখে মুসলমান বলে দাবি করলেও সব সময়ই ইসলামের শত্রুদের সহযোগী।
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে ওয়াহাবি মতবাদের প্রবক্তা আবদুল ওয়াহহাব নজদি সৌদ বংশের সহায়তা নিয়ে ইবনে তাইমিয়ার বিভ্রান্ত চিন্তাধারা প্রচার করতে থাকে। তার ভুল দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নজদি অলি-আওলিয়ার উসিলা দিয়ে দোয়া করা, তাদের মাজারে মানত করা ও শ্রদ্ধা জানানোসহ অলি-আওলিয়ার মাজার ও কবর জিয়ারতের মত ইসলামের মৌলিক কিছু ইবাদত এবং আচার-অনুষ্ঠানকে হারাম ও শির্ক বলে ঘোষণা করেছিল। ফলে ওয়াহাবিরা মাজার ও পবিত্র স্থানগুলো ধ্বংস করে আসছে। শুধু তাই নয় নজদি তার চিন্তাধারার বিরোধীদেরকে কাফির ও তাদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করত।
অথচ বিশ্বনবী (সা.) নিজে কবর জিয়ারত করতেন এবং বিশেষ করে তাঁর মাতা হযরত আমিনা (সালামুল্লাহি আলাইহা)’র কবর জিয়ারত করতে ছুটে যেতেন। তিনি নিজের মায়ের কবরের পাশে কাঁদতেন। (আল মুস্তাদরাক, খণ্ড-১, পৃ.৩৫৭, মদিনার ইতিহাস, ইবনে শাব্বাহ, খণ্ড-১, পৃ.১১৮) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মহানবী (সা.) বলেছেন, “তোমরা কবর জিয়ারত কর। এই জিয়ারত তোমাদেরকে পরকালের স্মরণে মগ্ন করবে।”
ওয়াহাবিরা বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র মাজারে এবং কারবালায় হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) মাজারে হামলা চালিয়ে মূল্যবান অনেক সম্পদ, উপহার ও নিদর্শন লুট করেছিল।
ইসলামের পবিত্র ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ধ্বংস করে ওয়াহাবিরা শুধু মুসলিম উম্মাহর হৃদয়কেই ক্ষত-বিক্ষত করেনি, একইসঙ্গে মানব সভ্যতার অবমাননার মত জঘন্য কলঙ্কও সৃষ্টি করেছে। কারণ, প্রত্যেক জাতি ও সভ্যতাই নিজের পুরনো ঐতিহাসিক চিহ্ন ও নিদর্শনগুলোকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সংরক্ষণ করে। এ জন্য বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে থাকে জাতিগুলো। অথচ ওয়াহাবিরা ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোও ধ্বংস করে দিচ্ছে যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মগুলো এইসব নিদর্শন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। এটা ইসলাম ও মানব সভ্যতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ওয়াহাবিরা অতীতেও জান্নাতুল বাকিতে হামলা চালিয়ে নিষ্পাপ ইমামদের মাজার ধ্বংস করেছিল। প্রথমবার তারা হামলা চালিয়েছিল হিজরি ১২২০ সালে (১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে)। (এ সময় হিজাজে সৌদি ওয়াহাবিদের গঠিত প্রথম বিদ্রোহী ও অবৈধ সরকারটি নির্মূল হয়েছিল তুরস্কের ওসমানিয় খেলাফতের মাধ্যমে। ) সে সময় ওয়াহাবিরা দেড় বছর ধরে মদীনাকে অবরুদ্ধ করে শহরটি দখল করতে সক্ষম হয় এবং বিশ্বনবী (সা.) পবিত্র মাজারের দামী পাথর ও সোনা-রূপাসহ মূল্যবান জিনিষগুলো লুট করে এবং জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট চালায়। তারা পবিত্র মক্কায়ও হামলা চালিয়েছিল।
তারা ওই একই বছর কেবল বিশ্বনবী (সা.)’র মাজার ছাড়া মক্কা ও মদীনায় সব মাজার ধ্বংস করে। শ্রদ্ধার জন্য নয়, বরং জনগণের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে ও ভয়াবহ পরিণামের ভয়ে বিশ্বনবী (সা.)’র মাজার ধ্বংস করার সাহস তারা করেনি। ওয়াহাবিরা মক্কা ও মদিনার কাজি বা বিচারকদের অপসারণ করে সেখানে নিজেদের কাজি নিয়োগ করে। নবনিযুক্ত ওয়াহাবি কাজি বিশ্বনবী (সা.)’র মাজার বা কবর জিয়ারত থেকে জনগণকে বিরত রাখার চেষ্টা করতেন। মক্কা ও মদিনার জনগণকে জোর করে ওয়াহাবি মতবাদ মেনে নিতে বাধ্য করেছিল ওয়াহাবিরা।
ধর্মপ্রাণ সুন্নি ও শিয়া মুসলমানরা অর্থ ব্যয় করে আবারও জান্নাতুল বাকির মাজারগুলো পুনর্নির্মাণ করেন। কিন্তু ওয়াহাবিরা দ্বিতীয়বার মক্কা দখলের পর পর ১৩৪৪ হিজরিতে তথা ১৯২৬ সালে মদীনা অবরোধ করে এবং প্রতিরোধাকামীদের পরাজিত করে এই পবিত্র শহর দখল করে। ওসমানিয় পুলিশদের শহরের বাইরে হটিয়ে দিয়ে এবারও তারা জান্নাতুল বাকিতে অবস্থিত নবী (সা.)- পরিবারের নিষ্পাপ ইমামদের মাজারসহ সব মাজার ধ্বংস করে এবং লুটপাট চালায়। মুসলমানরা এই দিনটিকে ইয়াওমুল আলহাদাম বা ধ্বংসের দিন বলে অভিহিত করেছেন। এ সময় ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা বহু মুসলমানকে হত্যা করে জান্নাতুল বাকির আশপাশে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী  উল্লেখ করেছিলেন: আমার সামনে একটা  উপত্যকা ঢেকে আছে মানুষের লাশে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে শুকনো রক্ত। এমন কোনো গাছ ছিল না যার নীচে পড়ে থাকা একটি বা দুটি লাশ দেখা যায়নি।
ওয়াহাবিরা এখানে বিশ্বনবী (সা.)’র পিতা হযরত আবদুল্লাহ (আ.), পুত্র ইব্রাহিম (আ.), মুমিনদের নেতা আলী (আ.)’র স্ত্রী উম্মুল বানিন প্রমুখের মাজারও ধ্বংস করে। এ ছাড়াও তারা মদীনায় ওহুদ পাহাড়ের মসজিদসহ এখানে বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা হযরত হামজা (আ.)’র মাজার এবং ওহুদের অন্যান্য শহীদ সাহাবিদের মাজার ধ্বংস করে। এখানে ১২ জন শহীদ ও সাহাবিদের মাজারের মধ্যে হযরত মুসআব বিন উমাইর (রা.), জাফর বিন শামস (রা.) ও আবদুল্লাহ বিন জাহাসের মাজার ছিল লক্ষণীয়।
লন্ডন-ভিত্তিক হিজাজের ঐতিহাসিক নিদর্শন বিষয়ক আন্তর্জাতিক গ্রুপ জানিয়েছে, সৌদি আরবে ইসলামী নিদর্শনগুলোর শতকরা ৯৫ ভাগই ধ্বংস করে ফেলেছে ওয়াহাবিরা। ইসলামের দুই প্রধান কেন্দ্র তথা মক্কা ও মদিনায় ইসলামের প্রধান নিদর্শনগুলোর বেশির ভাগই ধ্বংস করে ফেলেছে তারা। অথচ ওয়াহাবিরা হিজাজে তথা সৌদি আরবে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিদর্শনগুলো রক্ষা করছে! এটা খুবই বিস্ময়কর ও লক্ষণীয় বিষয়। যেমন, খায়বরের মারহাব দুর্গ রক্ষা করছে তারা। মারহাব ছিল মদিনার অন্যতম ইহুদি গোত্র-প্রধান ও পালোয়ান যে হযরত আলী (আ.)’র সঙ্গে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। এমনকি ওয়াহাবিদের প্রথম শাসনামলের দিকে নির্মিত খ্রিস্টানদের একটি গির্জাকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে রক্ষা করছে ওয়াহাবিরা। অথচ বিশ্বনবী (সা.)’র পবিত্র স্মৃতি-বিজড়িত নিদর্শনগুলো ধ্বংস করছে তারা।
বিভিন্ন দলিল প্রমাণে দেখা গেছে ওয়াহাবিরা সৌদি আরবে, বিশেষ করে, মক্কা ও মদিনায় অলি-আওলিয়ার মাজার বা কবর ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের অবমাননার জঘন্য ও দুঃখজনক পদক্ষেপও নিয়েছে। যেমন, ওয়াহাবিরা মক্কায় বিশ্বনবী (সা.)’এর স্ত্রী ও প্রথম মুসলমান উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজা (সালামুল্লাহি আলাইহার) বাসভবনটিকে ধ্বংস করে সেখানে টয়লেট নির্মাণ করেছে। তারা ‘মৌলুদুন্নবি’ নামে খ্যাত বিশ্বনবী (সা.)’র জন্মের স্থানটিকে পশু রাখার স্থানে পরিণত করেছে।
ওয়াহাবিদের নারকীয় তাণ্ডব আজও অব্যাহত রয়েছে। প্রায়ই তাদের অনুগত সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হচ্ছে ইয়েমেন ইরাক, পাকিস্তান ও সিরিয়ার নিরপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশু। নিরপরাধ নারী ও শিশুসহ গলা কেটে হত্যা করছে বেসামরিক নাগরিকদের। তাদের দুষ্কৃতির সহযোগী হতে রাজি না হওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে ও পুড়িয়ে মারছে এবং গণ-কবর দিচ্ছে। এমনকি তারা লাশের অবমাননা করে কলিজা বের করে তা চিবিয়ে খেয়েছে। মানুষ-খেকো এই ওয়াহাবিদের নৃশংসতা বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা ও শহীদদের নেতা হযরত হামজার কলিজা-খেকো নারী হিন্দার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হিন্দা ছিল ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু আবু-সুফিয়ানের স্ত্রী ও মুয়াবিয়ার মা তথা ইয়াজিদের দাদী।
কেউ কেউ বলে থাকেন যে সৌদি রাজ-পরিবার আসলে “দোমনেহ” নামের বিভ্রান্ত ইহুদিবাদী গোষ্ঠীর বংশধর। এই গোষ্ঠী ভণ্ড ইহুদিবাদী নবী ‘শাব্বিটি জিভি’র অনুসারী। তারা প্রকাশ্যে ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করত। কিন্তু তারা বাস্তবেমদ্যপ ও নির্বিচার যৌনাচার বা যৌন অনাচারসহ নানা ঘৃণ্য কাজে অভ্যস্ত ছিল।
আজ বিশ্বের মুসলমানদের সচেতন হতে হবে এবং মক্কা ও মদীনার মত পবিত্র শহরগুলো পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ওয়াহাবিদের সরিয়ে দিয়ে তা মুসলমানদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের কাছে অর্পণ করতে হবে।
মদিনায় পবিত্র জান্নাতুল বাকি গোরস্তান। ওয়াহাবিদের ধ্বংসযজ্ঞের বহু বছর পরের একটি দৃশ্য।

ভারতের সংসদে বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর নামে শপথ নিলেন যারা

ভারতে চলছে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। সংসদে শপথ গ্রহণের সময় যখন ‘জয় শ্রীরাম ও বন্দেমাতরম’ স্লোগানে মুখরিত, তখন মুসলিম সংসদ সদস্যরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করেন এবং উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দেন।
লোকসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান, সাংসদ ব্যারিস্টার আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও সাংসদ আবু তাহের খান এবং উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন সরকার সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শাফিকুর রহমান সংসদে আল্লাহর নামে শপথ নেন এবং আল্লাহু আকবার দিয়ে তাদের বক্তব্য শেষ করন।
গত সোমবার অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদুদ্দিন ওয়াইসি চতুর্থবারের মতো লোকসভা সদস্য হিসাবে উর্দুতে শপথ বাক্য পাঠ করেন।
তার শপথের সময় বিজেপি ও এনডিএ নেতারা উচ্চ আওয়াজে ‘জয় শ্রীরাম ও বন্দেমাতরম’ স্লোগান দিচ্ছিলো, তিনি শপথ গ্রহণ করে উচ্চ আওয়াজে আল্লাহু আকবার বলে তাকবিরের মাধ্যমে শপথ শেষ করেন।
জয় শ্রীরাম ও বন্দেমাতরম স্লোগানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ‘এতবার জয় শ্রীরাম স্লোগানের পরিবর্তে সংবিধান ও মানুষের প্রতি যত্নবান হলে দেশের মানুষের বেশি উপকার হবে।’
মুর্শিদাবাদ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবু তাহের খান। কংগ্রেসের গড় মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে সবাইকে চমক দেখিয়ে জয় লাভ করেন এ তৃণমূল নেতা। জয়ের পরে পরেই তাকে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত মঙ্গলবার তিনি ভারতের সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের জন্য নাম ঘোষণা করতেই তিনি হাসিমুখে মাইক্রোফোনের কাছে ছুটে যান। দৃঢ় ও বলিষ্ট কণ্ঠে বাংলায় শপথ বাক্য পাঠ করেন। তার শপথের শুরু ছিল এমন-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আমি আবু তাহের খান, লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হইয়া আল্লাহ পাকের নামে শপথ গ্রহণ করিতেছি যে,
- আমি বিধিধারা প্রতিষ্ঠিত ভারতের সংবিধানের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব।
- আমি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সংহতি রক্ষা করিয়া চলিব এবং যে কতৃব্যভার আমি গ্রহণ করিয়া চলিয়াছি, তা আমি বিশ্বস্তভাবে নির্বাহ করিব ইনশা আল্লাহ।
জয় হিন্দ, জয় বাংলা, খোদা হাফেজ, আল্লাহু আকবার।’
বিজেপির সাংসদরা সেই সময় জয়শ্রী রাম ও বন্দেমাতরম স্লোগান দিতে থাকেন।ৎ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও আল্লাহর নাম নিয়ে শপথ নেয়ায় আবু তাহের খানের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ সরব হয়ে ওঠেছে। বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
একই দিন মঙ্গলাবর উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন সরকার সমাজবাদী পার্টির সাংসদ শাফিকুর রহমান বার্ক শপথ নেন। তিনি হিন্দিতে তার শপথ বাক্য পাঠ করেন। শপথের শুরুতে তিনিও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করেন এবং আল্লাহ তাআলার নামে শপথ বাক্য পাঠ করেন।
তার বক্তব্য দেয়ার সময়ও জয় শ্রীরাম ও বন্দেমাতরম ধ্বনি চলতে থাকে।
তিনি তার বক্তব্যের শেষে বন্দেমাতরম স্লোগান সম্পর্কে ইসলামের দিক-নির্দেশনা- ‘বন্দেমাতরম ইসলাম বিরোধী স্লোগান।,এটা কখনো অনুসরণ করা যাবে না’ উল্লেখ করে তার বক্তব্য শেষ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যর্থতার দায় স্বীকার জাতিসংঘের

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতার’ প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থা বলেছে, এই ব্যর্থতার কারণেই ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। গত সোমবার জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
মিয়ানমারে মুসলমান সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলার সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করার অভিযোগ ওঠে সে দেশে কর্মরত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মিয়ানমারে জাতিসংঘ কার্যালয়ের ভূমিকার বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হাজির করতে গত ফেব্রুয়ারিতে আদেশ দেন বিশ্ব সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এরপরই এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশটির রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এরপর প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলেছে।
পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কথা বললেও এর সঙ্গে দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নতুন এই প্রতিবেদন বলেছে, ‘জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী ঘৃণ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষই যৌথভাবে দায়ী।’
দুই বছর আগে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নিপীড়নের খড়্গ নেমে আসে, তখন মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ছিলেন রেনেটা লক ডেসালিয়ান। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস নিপীড়নের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
৩৬ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন গুয়াতেমালার প্রখ্যাত কূটনীতিক গার্ট রোজেনথাল। প্রতিবেদনে তিনি রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে স্বচ্ছ ও একতাবদ্ধ কৌশলের অনুপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ে পদ্ধতিগত ও একতাবদ্ধ বিশ্লেষণের ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা নিপীড়ন ঠেকাতে জাতিসংঘের ব্যর্থতার কারণগুলো নিয়ে তিনি লেখেন, মিয়ানমারে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অতি উৎসাহ একটি কারণ।
রোজেনথাল বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তৎকালীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার জেইদ রা’আদ-আল হোসেন প্রায়ই সমালোচনা করতেন। এই বিষয়টি জাতিসংঘের কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল, যারা মুখে কুলুপ আঁটা কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে কাজ করতেন।
এই বিষয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ বলেন, মহাসচিব গুতেরেস সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছেন এবং জাতিসংঘের কার্যপদ্ধতির উন্নতি করতে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘের পরিচালক লুই চরবোনিউ বলেছেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পুরোটা দায় জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের। তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ হবেই!

ওমান উপসাগরে দুটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরান জড়িত থাকার প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্য দেয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সংকট জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে যে, বৃহস্পতিবারের হামলায় জড়িত ছিল ইরান।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এতেই বেশ পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেমন হতে যাচ্ছে পরবর্তী পরিস্থিতি? যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? কিংবা কতটা মারাত্মক হতে পারে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের পূর্ণ-মাত্রার বিমান ও নৌ সংঘর্ষ?
এ বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জনাথন মার্কাস।
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার হামলার শিকার তেল ট্যাংকার দুটির একটি থেকে অবিস্ফোরিত একটি লিমপেট মাইন সরিয়ে নিচ্ছে ইরানি একটি ছোট তরীর ক্রুরা।
যাকে এই যুদ্ধে প্রকৃত ঘটনা প্রতিষ্ঠার প্রথম শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইরান এবং ট্রাম্প প্রশাসন- উভয় পক্ষের সমালোচনাই বিষাক্ত।
গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে জাহাজে চারটি লিমপেট মাইন হামলার মতোই শুরু থেকেই এ ঘটনার সাথেও সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তবে দুটো ঘটনার জন্যই তেহরানকে দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, এই বাকযুদ্ধ শেষ মেষ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দ্রুত ও স্পষ্টভাবেই ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন।
তিনি বলেন, "এই মূল্যায়ন" গোয়েন্দা তথ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র, অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা, সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে ইরানের হামলা এবং যেহেতু ওই এলাকায় থাকা কোন প্রক্সি গ্রুপের এ ধরণের সূক্ষ্ম অভিযান পরিচালনার মতো সক্ষমতা না থাকার ভিত্তিতে করা হয়েছে।
এ অভিযোগ দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান। উল্টো এই ঘটনা সাজানো উল্লেখ করে পাল্টা দোষারোপ করেছে দেশটি।
ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, "কেউ" ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক খারাপ করতে চাইছে।
অস্বাভাবিক কালক্রম?
সাধারণভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর ভিডিওটি বিশ্বাসযোগ্যই বটে। কিন্তু এর পরও আসলে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়।
মার্কিনীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিস্ফোরণের কিছু সময় পর এটি রেকর্ড করা হয়েছিলো, যখন কিনা ইরানিরা প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করছিলো।
তবে এই হামলার কালক্রম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হওয়া দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কখন এই মাইনগুলো জাহাজে স্থাপন করা হয়েছিলো?
ওই এলাকায় শক্তিশালী মার্কিন নৌ উপস্থিতি থাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বেশ সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাই আরও তথ্য সামনে আসা উচিত। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর ময়না তদন্তও আরও তথ্য উদঘাটন করবে।
যাইহোক, মার্কিন এই দাবির প্রভাব আরও অনেক সুদূরপ্রসারী। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ইরান ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
মিস্টার পম্পেও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "পুরো ঘটনা আমলে নিলে বোঝা যায়, এ ধরণের উস্কানিহীন হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও সুরক্ষার প্রতি হুমকি, নৌ চলাচলের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ এবং উত্তেজনা বাড়ানোর অগ্রহণযোগ্য প্রচারণা।"
এসব স্থূল অভিযোগের পর প্রশ্ন আসে, এগুলো ঠেকাতে কি ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের?
সমন্বিত কুটনৈতিক তৎপরতা হতে পারে এক ধরণের উদ্যোগ, যাতে আন্তর্জাতিক মিলিত নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে আরো কোণঠাসা করা যায়।
তবে এ বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই যে, ভুল কিংবা সঠিক, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা তেহরানের উপর চাপ প্রয়োগ করে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রেভ্যূলিউশনারি গার্ড কর্পসের মতো স্বাধীন নৌ-শক্তি পরিচালনাকারী গ্রুপগুলো হয়তো পাল্টা আঘাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাহলে এখন কি হবে? যুক্তরাষ্ট্র কি শাস্তিস্বরূপ সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছে?
উপসাগরীয় অঞ্চল এবং তার বাইরে মিত্রদেশগুলো কি চিন্তা করবে? আর সামরিক পদক্ষেপের পরিণতিই বা কি হবে?
ভয়ংকর সময়
বাস্তবিকপক্ষেই বিপদের আশঙ্কা রয়েছে যে, হামলার শিকার হলে ইরান সরাসরি বা তার মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় হাইব্রিড যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। জাহাজ পরিচালনা ও অন্যান্য টার্গেটে ব্যাপকহারে হামলা শুরু করতে পারে, বাড়তে পারে তেল ও বীমার দাম। যা আসলে আরও শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে।
তবে কোনো পক্ষই এ ধরণের বিপজ্জনক সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে আগ্রহী হবে না। অবশ্য কেউ ভাবে না যে, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র, দুপক্ষই পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু করতে চায়।
আমেরিকানদের জন্য, পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি থাকা সত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও নৌ হামলা সব ধরনের বিপদ ডেকে আনবে।
এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অনেক সময় অনেক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলেও বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ধৈর্যশীল ছিলেন। তার শাসনামলে সিরিয়ায় বিমান হামলা ছিলো মূলত প্রতীকী।
এখন শঙ্কা হচ্ছে, পরিস্থিতি না বুঝে হলেও, মার্কিন প্রশাসনে একটা শোরগোল তুলেছে ইরান যা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে উস্কে দিতে পারে।
আসল বিপদ হচ্ছে, পরিকল্পিত নয় বরং দুর্ঘটনা বশত যুদ্ধের সূচনা।
তেহরান ও ওয়াশিংটন দুপক্ষই সংকট সমাধানের ইঙ্গিত দিলেও কেউই তা সঠিকভাবে গ্রহণ করছে না।
উদাহরণস্বরূপ, উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন অবকাঠামোকে হুমকি হিসেবে দেখতে পারে ইরান। আর নিজেদের দোরগোড়ায় এ ধরণের হুমকি কখনোই সহ্য করবে না তারা।
ধরা যাক, এই বার্তাকে ভুল ভাবে নিতে পারে ইরানের রেভ্যূলিউশনারি গার্ড কর্পস।
তারা ভাবতে পারে যে, উপসাগরের পানিসীমায় মার্কিনীদের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রয়েছে তাদের। যা মানে না আমেরিকানরা।
অন্য কথায় বলতে গেলে, তারা ভাবতে পারে যে, তাদেরকে "জোর করে খামে ঢুকানোর" চেষ্টা চলছে। যার জন্য ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের শাস্তি পেতেই হবে। এটা উদ্দেশ্যমূলক ও উদ্দেশ্যহীন যেকোনো ধরণের সংঘাত উস্কে দেয়ার রেসিপি। এগুলো খুবই খারাপ সময়।
জার্মানি আর ফ্রান্সের মতো ওয়াশিংটনের মিত্ররা এরইমধ্যে সাবধানতার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে। তবে এক্ষেত্রে নিজের উপসংহার নিজে টানতে চায় তারা।
"আমরা আমাদের আলাদা মূল্যায়ন করবো, এ বিষয়ে আমাদের নিজেদের প্রক্রিয়া রয়েছে", বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানকে বলেন জেরেমি হান্ট।
তিনি বলেন, "আমেরিকার মূল্যায়ন বিশ্বাস না করার কোন কারণ নেই। কারণ তারা আমাদের নিকটতম মিত্র।"
তবে যেকোনো পদক্ষেপ মিস্টার ট্রাম্পের হিসাব করেই নেয়া উচিত।
তিনি যখন প্রথমে ক্ষমতায় আসেন তখন হোয়াইট হাউসে অনেক এমনকি রিপাবলিকান বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ ছিলেন যারা তার প্রশাসনের সাথে কাজ করতে চাননি। তাদের অভিযোগ, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে ট্রাম্পের মারাত্মক ও অনিশ্চিত পদ্ধতি সংকট ডেকে আনবে।
আর অনেক সময় মনে হয়েছে উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ার সাথে সংকট তৈরি হবে। তবে শেষমেশ তা আর হয়নি।
এখন হোয়াইট হাউসের উপর নতুন করে সংকট আগত।
এর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী মারাত্মক প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে পরবে না বরং গালফ ও অন্যান্য এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী অংশীদার ও মিত্রদের উপর পরবে। যাদের অনেকেই জানেন না যে এই প্রেসিডেন্ট ও তার অনান্য কূটনৈতিক ধারার সাথে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে।
সূত্র : বিবিসি

কচুশাক বিক্রেতা থেকে মোদির মন্ত্রিসভায়

খাবারের জোগাড় করতে এক সময় জঙ্গল থেকে কচু ও ঢেকি শাক তুলে আনতে হত। বাজারে বিক্রি করে হাতেগোনা যা পয়সা পেতেন সেটা দিয়েই মিলেমিশে ভাগ করে খাবার খেতেন। আর সেই ছেলেটিই এবার স্থান করে নিলেন নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায়।
তিনি রামেশ্বর তেলি। ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা রামেশ্বর মোদীর নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছেন এ বার। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে আসমের এই এমপিকেই বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
রামেশ্বর তেলির ছোটবেলা খুব অভাবের মধ্যে কেটেছে। বাবা ছিলেন চা শ্রমিক। আসামের ডিব্রুগড়ের চা বাগানেই ছোট্ট ঘরে ভাই, দুই বোন নিয়ে মোট ৬ জনের বাস। বাবার টাকায় ঠিকমতো খাবারও জুটত না তাদের। রামেশ্বরের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। তখন থেকেই নিজেদের খাবার খরচ নিজেই উপার্জন করতে শুরু করেন। দু’বছরের ছোট ভাই গুণেশ্বরকে সাথে নিয়ে রোজ আশেপাশের জঙ্গল চষে বেড়াতেন। সঙ্গে করে কচু আর ঢেকি শাক নিয়ে ফিরতেন। সেগুলোই বিক্রি করে রুটি কেনার পয়সা জোগাড় করতেন।
বাবার মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। মা, ভাই ও দুই বোনের সংসারের হাল ধরতে হয় রামেশ্বর তেলিকে। তাই পড়াশোনা বেশি করা হয়নি।
রোজগারের জন্য বাড়ির কাছেই একটি পানের দোকান দিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে যা উপার্জন হতো তাতে সংসার চলত। একটু একটু করে সেই টাকা জমিয়ে দুই বোনের বিয়েও দেন।
কলেজে পড়ার সময় রামেশ্বর তেলি আসমের চা জনগোষ্ঠী ছাত্র সংস্থা (আটসা)য় যোগ দেন। আটসা নেতা তেলির জনপ্রিয়তা ও নেতাসুলভ গুণ নজরে পড়ে বিজেপি নেতাদের। ২০০১ সালে দুলিয়াজান থেকে বিজেপির হয়ে রাজ্য বিধানসভার এমপি হন নির্বাচিত রামেশ্বর। ২০০৬ সালেও জেতেন ভোটে হন। তবে ২০১১ সালে হেরে যান; কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপির টিকেটে প্রার্থী হন লোকসভার নির্বাচনে। কংগ্রেসের পাঁচ বারের এমপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবনসিংহ ঘাটোয়ারকে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটে হারিয়ে তাক লাগান তিনি।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে পবনসিংহই তার প্রতিপক্ষ ছিলেন। ২০১৪ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে এবার তাকে ৩ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন রামেশ্বর। যা আসমের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। বিপুল জনভোট, রামেশ্বরের জনপ্রিয়তার জন্যই তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেন মোদী।
কচু, ঢেকি শাক বা পানের দোকান— এগুলোর আর কোনওটাই তাকে এখন চালাতে হয় না। রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সংসারের অভাবও আর তেমনটা নেই। তবে রামেশ্বরের জীবনযাপন কিন্তু তেমনটাই রয়েছে। তার মা, ভাই এখনও চা বাগানের সেই দরমার ঘরেই থাকেন। রাজনীতির কাজে বাড়িতে খুব বেশি থাকতে পারেন না রামেশ্বর। তবে বাড়ি ফিরলে এই দরমার ঘরই তার আস্তানা।
রামেশ্বরের এক কাকা এখনও ঠেলা চালান। অন্য এক কাকা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি এলপিজি সিলিন্ডার পৌঁছে দেন। আর এক কাকা অটোচালক।
তবে প্রথমে সংসার ও পরে রাজনীতির ঘানি টানতে গিয়ে নিজের কথা এখনও ভেবে উঠতে পারেননি রামেশ্বর। তাই ৪৯ বছর বয়স হলেও নিজের সংসার গোছানো হয়ে ওঠেনি রামেশ্বরের। বৃহস্পতিবারে ছেলেকে শপথ নিতে দেখে গর্বে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন রামেশ্বরের মা। এখন শুধু একটাই ইচ্ছা, রামেশ্বরের বিয়ে। পাত্রী খোঁজাও নাকি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। সূত্র: আনন্দবাজার

রাশিয়ান অস্ত্রে পাকিস্তানের চোখ, যা আছে মস্কোর ভাণ্ডারে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার দেশ রাশিয়ার অস্ত্র কিনতে চায় এবং এ ব্যাপারে মস্কোর অনেক কিছুই দেয়ার রয়েছে, তা সেটা প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক এবং জঙ্গি বিমান হোক, বা হেলিকপ্টার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হোক। একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ আরটিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কয়েক দশক ধরে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী অস্ত্রের আপগ্রেড এবং নতুন অস্ত্র কেনার জন্য পশ্চিমা এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর ভরসা করেছে। এখন সময় বদলে যাচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি এখন রাশিয়ান অস্ত্র সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। একই সাথে মস্কোর সাথে তারা সামরিক সম্পর্কও তৈরি করতে চাচ্ছে।
স্পুটনিকের সাথে এক সাক্ষাতকারে খান বলেন, “পাকিস্তান আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাঁধা ছিল এবং আমরা সবাই জানি ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ ছিল”। বিশ্ব এখন সেই শীতল যুদ্ধের সময় পেরিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থল ও সাগরে রাশিয়ার প্রায় সব অস্ত্র সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী, কিন্তু ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার সম্ভাবনাই এখানে বেশি – এমন ব্যাখ্যা দিলেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মিখাইল খোদারেনোক।
খোদারেনোক বললেন, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হয়তো টি-৯০ কিনতে চাইবে, যেটা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং পাকিস্তানের প্রতিবেশী ভারত ২০০০ সালের পর থেকে এটা ব্যবহার করে আসছে। ইসলামাবাদ সম্প্রতি এ ব্যাপারে ইউক্রেন বা চীনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের ট্যাঙ্কের বহর আপগ্রেড করাটা অত্যন্ত জরুরি।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, রাশিয়ার তৈরি হেলিকপ্টারের ব্যাপারেও পাকিস্তানের আগ্রহ থাকতে পারে। পাকিস্তানী বিমান বাহিনী চারটি এমআই-৩৫এম হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে। এটা এমআই-২৪ হিন্দ অ্যাটাক হেলিকপ্টারের নতুন ভার্সান। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বহরে আগে থেকেই ছয়টি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার রয়েছে।
আকাশযান ছাড়াও ইসলামাবাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানও সেখানে পিছিয়ে নেই। তবে, এ ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র পাকিস্তানের জন্য কেনা দুরূহ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন খোদারেনোক। এর পরিবর্তে, পাকিস্তান বরং বুক, থর বা পান্তসির-এস২ টাইপ স্বল্প-পাল্লার সিস্টেম বেছে নিতে পারে।
তিনি বলেন, বহু কারণ রয়েছে, যে জন্য রাশিয়া পাকিস্তানকে তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্রাদি কেনার প্রস্তাব দিতে পারে। পাকিস্তান এখন একটি উদীয়মান অস্ত্রের বাজার, এবং তাদের রাশিয়ান অস্ত্রের যে চাহিদা রয়েছে, সেটার পরিমাণ আগামী বছরগুলোতে ৮-৯ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর

সুদান নিয়ে বিশ্বশক্তিদের এতো আগ্রহ কেন?

ইতোমধ্যেই গুলিতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আধা সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র গ্রুপ, সামনে যাকেই পাচ্ছে তাকেই তারা বাছবিচার না করেই পেটাতে শুরু করছে। সুদানে বড়ো ধরনের এই রাজনৈতিক সঙ্কট, যার জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, শুরু হয়েছে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে। ৩রা জুন বিক্ষোভকারীদের উপর সরকারি বাহিনীর আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই দেশটি এরকম এক অরাজকতায় ডুবে গেছে।
বিরোধীদলের সমর্থকরা বলছেন, গত কদিনে ১১৩ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু সরকার ৪৬ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।
সুদানের রাজধানী খার্তুমের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগের সাথেই চোখ রাখছে বিশ্বের বড় বড় কয়েকটি শহর- রিয়াদ থেকে কায়রো এবং আঙ্কারা থেকে মস্কো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সুদানের রাজধানী যখন উত্তাল তখন দেশটিকে ঘিরে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর এই আগ্রহের পেছনে কারণ কী।
সৌদি-আমিরাত-মিশর
মধ্যপ্রাচ্য-জুড়ে সংঘাতের পেছনে যেসব বিষয় ও দেশের ভূমিকা রয়েছে, সুদানের সঙ্কটেও আছে সেসব দেশ। বিশেষ করে, সৌদি আরব ও তার মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে তুরস্ক ও কাতারের বিরোধ।
সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সুদানের প্রতিবেশী দেশ মিশর খার্তুমের সামরিক শাসককে বড় ধরনের সমর্থন দিচ্ছে।
এই তিনটি দেশই চেষ্টা করেছে ওই অঞ্চলে আরব বসন্তের মতো জনপ্রিয় আন্দোলন ঠেকাতে। চেষ্টা করেছে এই আন্দোলনের কোন প্রভাবই যাতে তাদের দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। বিশেষ করে ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে দমন করার ব্যাপারে তারা খুবই সতর্ক থেকেছে।
তারা প্রত্যেকেই মনে করে এই আন্দোলন এবং মুসলিম ব্রাদারহুড তাদের মতো স্বৈরাচারী সরকারের জন্যে বড় ধরনের হুমকি।
সুদানে দীর্ঘদিনের শাসক ওমর আল বশিরের ক্ষমতাচুতির পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ এখন সেনাবাহিনীর হাতে।
সুদানের সামরিক বাহিনীকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিচ্ছে রিয়াদ এবং আবুধাবি। দেশটির বেসামাল অর্থনীতিকে সামাল দিতে ইতোমধ্যেই তারা তিনশো কোটি ডলার ঋণ দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে।
এমাসের শুরুর দিকে বিরোধীদের উপর সরকারি দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার আগে সুদানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় জেনারেলরা রিয়াদ, আবুধাবি ও কায়রো সফর করেছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিলো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা যেসব উদ্যোগ নিচ্ছেন সেগুলোতে এসব দেশের সমর্থন নিশ্চিত করা।
গত এপ্রিল মাসে সুদানে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা উমর আল-বাশিরের পতনের পর দেশটিতে এসব দেশের প্রভাব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
তুরস্ক ও কাতার
সুদানের বিষয়ে সৌদি আরব, আমিরাত ও মিশরের অবস্থানের বিপরীতে আছে তুরস্ক ও কাতার। খার্তুমের সাথে তাদেরও আছে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। আফ্রিকার এই দেশটিতে কৃষি ও খাদ্য খাতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে কাতার।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং উমর আল-বাশিরের শাসনামলেও সুদান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে উঠেছে। লোহিত সাগরে এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে ছিল এমন একটি বন্দর সুয়াকিনের উন্নয়নের জন্যে তুরস্ক ও সুদানের মধ্যে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে চারশো কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই হয়েছিল। সমঝোতা হয়েছিল যে সেখানে তুর্কী নৌবাহিনীর ছোটখাটো একটি স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে।
উমর আল-বাশির তার দীর্ঘ তিন দশকের শাসনামলে এই দুটো পক্ষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। এটা তিনি করতে পেরেছিলেন ইসলামপন্থীদের দূরে সরিয়ে রাখার মাধ্যমে। ইয়েমেনে ইরানপন্থী হুতি মিলিশিয়াদের সাথে যুদ্ধে তারা সৌদি আরবকে সৈন্য পাঠিয়েও সহযোগিতা করছে।
সুদানের বিরোধীদলীয় কর্মীরা বলছেন, তারা রাজধানী খার্তুমের পাশে নীল নদ থেকে ৪০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে।
ওমর আল-বাশির হঠাৎ করেই ইরানের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেন। সুদানে ইরানের যতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল সেগুলো আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেন। এরপর পরই ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরব সফর শেষে তিনি সৌদি আরবের কাছে সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এই সৌদি আরবের সাথে সুদানের বর্তমান সামরিক শাসকেরও রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান লে. জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল বুরহান এবং সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি লে. জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালোর সম্পর্কও ভালো।
আফ্রিকান ইউনিয়ন
সৌদি আরব, আমিরাত ও মিশর এবং কাতার ও তুরস্ক এই দুটো পক্ষের কারো সাথেই সুদানের সরকারবিরোধীদের সম্পর্ক নেই। সুদানে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তারা কেউই আগ্রহী নয়।
বর্তমানে দেশটিতে গণতন্ত্রের দাবীতে যে আন্দোলন বিক্ষোভ চলছে তাতে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন। এদের মধ্যে মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং প্যান-আরব দলগুলিও রয়েছে। সমর্থন রয়েছে দক্ষিণ সুদানের বিদ্রোহীদেরও। এই আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন।
সুদানের সদস্যপদ ইতোমধ্যেই স্থগিত করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং দেশটিতে বেসামরিক প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দিলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোর এই জোট।
কিন্তু এই জোটের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিশরের সাথেই সুদানের সামরিক কাউন্সিলের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সমর্থন।
এই সঙ্কটে মধ্যস্থতা করতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদ শুক্রবার খার্তুমে এসে পৌঁছেছেন। বিরোধীরা ইতোমধ্যেই তার দেওয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের কথা হলো সামরিক বাহিনী এর আগেও তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ফলে তাদেরকে আর বিশ্বাস করা যায় না। এরই মধ্যেই ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করার অভিযোগে বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতাকেও সামরিক সরকার আটক করেছে।
রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র
সৌদি আরবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সুদানের উপর কিছু চাপ সৃষ্টি করেছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্যে। তবে সুদানের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ তেমন একটা নেই বললেই চলে।
গত জানুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন সুদানের উপর আরোপ করা কিছু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ১৯৯০ এর দশকে দাফুরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হবার পর এ সপ্তাহে সুদানে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে - সংগৃহীত
সুদানের সামরিক বাহিনী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসীদের স্রোত ঠেকানোর জন্যে। রাশিয়া এবং চীনও এখন ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা দেখতে চায়।
গত কয়েক দশক ধরেই মস্কো সুদানের কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি বিক্রি করে আসছে। এই বিক্রির উপর জাতিসংঘের তরফে ২০০৫ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরেও রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনেছে খার্তুম সরকার।
সুদান ২০১৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এসইউ-৩৫ কিনেছে। এর ফলে আরব দেশগুলোর মধ্যেই সুদানই প্রথম দেশ যাদের এই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে বাণিজ্যিক কিছু স্বার্থ- বেশ কিছু রুশ কোম্পানি সুদানের আকর্ষণীয় কিছু খাতে, বিশেষ করে, স্বর্ণ ও তেলের ব্যবসায় বড় আকারের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। চীনের সাথেও সুদানের সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। সুদানের তেল-ক্ষেত্রের উন্নয়নে বড় ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে চীন। বর্তমানে দেশটিতে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণেও বেইজিং সহযোগিতা করছে। সূত্র : বিবিসি।
সুদানে গত এপ্রিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকার উৎখাতের পর থেকেই ক্ষমতায় রয়েছে সামরিক পরিষদ৷ তখন থেকে চলছে বিক্ষোভ৷ আন্দোলনকারীদের সরাতে গুলি চালায় পুলিশ৷ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷

রাহুল ও কংগ্রেসের ব্যর্থতা নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'র 'পোস্টমর্টেম'

*১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা শূন্য আর কেবলমাত্র কেরালাতেই এই সংখ্যা দশকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছে।
*উত্তর প্রদেশে বিজেপিকে হারাতে বিলম্বে হলেও কংগ্রেস তুরুপের তাস হিসেবে  প্রচারণায় নামিয়েছিল প্রিয়াংকা গান্ধীকে। সেখানে দলের ভোট আগের ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মোট ভোটের হিসাবে এর সংখ্যা ৬০ লাখা ৬১ হাজার থেকে কমে ৫৪ লাখ ৫৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
*২০০৯ সালে উত্তর প্রদেশে ২২ আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। এবারে ওই আসনগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানেও ২০১৪ সালের তুলনায় ১৪টি আসনে ভোট কমেছে। ভোট হারানো বড় বড় প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সালমান খুরশিদ, আর পি এন সিং, আন্নু ট্যান্ডন ও জিতিন প্রসাদ।
*মাত্র পাঁচ মাস  আগে বিজেপিকে হারিয়ে যে মধ্য প্রদেশ হস্তগত করেছিল কংগ্রেস সেখানেও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের থেকেও এবারে ভোট কমেছে দলটির। ভোট কমেছে কর্নাটকেও। সেখানেও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা দলটির ভোট কমেছে দশ শতাংশ।
*দলের ভোট আর ভোট পাওয়ার হার কমেছে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং হিমাচল প্রদেশের ১১৫টি আসনেও।
*কেন্দ্র শাসিত কয়েকটি অঞ্চল, পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের কয়েকটি ছোট রাজ্য ও গোয়া বাদে কংগ্রেসের ভোটের ভাগ ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে কেবল পাঞ্জাব ও ছত্তিশগড়ে।
*এই সব সংখ্যাই মিথ্যা করে দেয় সেই সব ব্যাখ্যা যাতে বলা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি ঝড় ২.০ কংগ্রেসের বিশালতা আর ব্যাপ্তির পতন হয়েছে।
১৩৪ বছরের পুরনো দলটির ইতিহাসে দ্বিতীয় শোচনীয় পরাজয়ের আসল কারণ কী? এমন প্রশ্নে মোদি ম্যাজিকের মাত্রাধিক ক্ষমতার ওপর দায় চাপানো হলেও সত্য হলো কংগ্রেসের হারের নেপথ্যে গত পাঁচ বছরে দলটির কিছু ভুল পদক্ষেপ, সাংগঠনিক অদক্ষতা, ভুল নীতি, কৌশলগত বিপর্যয় এবং বার্তা দেওয়ার নড়বড়ে পরিস্থিতিও তাদের ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪ সালে মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া রাহুল গান্ধী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্ব নেন। দলের পরাজয়ের এইসব কারণের অনেক কিছুর দায় তাকেই নিতে হবে।
এর ফলেই  গত ২৫ মে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভার ওপরে নজর ছিল সবার। রাহুল গান্ধী কি পদত্যাগ করবেন? নাকি তিনি অতি প্রয়োজনীয় সেই ধরনের পরিবর্তন আনবেন যা তিনি ২০১৩ সালে দিল্লির নির্বাচনে আম আদমি পার্টির কাছে দলের পরাজয়ের পর দিয়েছিলেন? ওই নির্বাচনে হারার পর রাহুল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দলে এমন পরিবর্তন আনা হবে যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
কিন্তু দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বৈঠকে বিস্মিত হওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি। রাহুল পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও ওয়ার্কিং কমিটিতে সর্ব সম্মতভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান হয়েছে। আর তাকেই দল ঢেলে সাজানো ও সব পর্যায় পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসের দ্বিতীয় শোচনীয় হারে মাত্র ৫২ আসন পেয়েছে কংগ্রেস। এই ফলাফলেই স্পষ্ট যে, বিজয়ী বিজেপির শক্তির সঙ্গে দলটি খাপ খাওয়াতে পারেনি। শক্তিশালী সংগঠন ও বার্তা পাঠানোর ক্ষমতা যদি বিজেপির শক্তি যদি হয় তাহলে কংগ্রেস দুটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। আর কোনও নির্বাচনে জিততে এই দুটিতেই এগিয়ে থাকা জরুরি। একগুচ্ছ নির্বাচনে পিছিয়ে পড়া আর ধারাবাহিকভাবে ভোটের ভাগ কমতে থাকার পরও কংগ্রেস নতুন আখ্যান লিখতে ব্যর্থ হয়েছে। কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি এখন রাহুল গান্ধীকেই দল ঢেলে সাজানোর ক্ষমতা দিচ্ছে। কিন্তু এটাও একটা পুরনো প্রবণতা।
২০১৪ সালেও একই ধরণের আখ্যান দেখা গিয়েছিল। ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী দুজনেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। ওয়ার্কিং কমিটি যথারীতি তা প্রত্যাখান করেছিল। সেবারও পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অল্প কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া কংগ্রেস একইরকম থেকে গেছে।

দুর্বল প্রচারণা
২০১৮ সালের গ্রীষ্মকাল। প্রত্যেক এমপি, রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সবাই পার্লামেন্টে নরেন্দ্র মোদিকে রাহুল গান্ধীর জড়িয়ে ধরা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই পার্লামেন্ট বিতর্কের এক পর্যায়ে উঠে গিয়ে মোদির সঙ্গে কোলাকুলি করেন রাহুল। পার্লামেন্টে নিজের কার্যালয়ে এক সিনিয়র নেতার তখন অকপট পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘যতটা বাস্তবায়ন করা যাবে ততটাই ভালো এই আইডিয়া।’
ওই নেতা বলেন, ঘৃণা ও ক্ষোভের বিরুদ্ধে ভালোবাসা- একটি শক্তিশালী আইডিয়া। এই আইডিয়া এমন একজন মানুষের কাছ থেকে এসেছে যিনি তার দাদী ও বাবাকে খুন হতে দেখেছেন। ‘কিন্তু বাস্তবায়নে গিয়ে হারিয়ে গেল ওই বার্তা। আমরা সবাই জানি বিজেপি, আরএসএস এবং মোদি সবাই ঘৃণা ছড়িয়েছেন। কিন্তু উঠে গিয়ে মোদিকে জড়িয়ে ধরায় এই অনন্য মেসেজটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল’- এই ঘটনার কয়েক দিন পর বলছিলেন সাবেক ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
পেছনে ফিরে তাকিয়ে আর পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করে ওই একই নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রচারণা ছিল খুবই দুর্বল। তিন তালাক আইন বা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও বালাকোটের হামলার মতো আবেগি বিষয়গুলোতে আমাদের প্রচারণা অনেক সময়ই নির্মিত বলে উপস্থাপিত হয়েছে। আমরা প্রায়ই জনগণের আবেগ ও মনোভাবের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেছি। কেবলমাত্র ৯০ দিনের প্রচারণায় খুব কম নির্বাচনই জেতা যায়। এতে কেবল একক ব্যক্তিকে বিশ্লেষণ করা যায় আর খুব বেশি হলে তাতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকা ভোটারদের সামান্য অংশকে প্রভাবিত করা যায়। আমরা হয়তো লড়াই শুরুর আগেই হেরে গেছি’।
ভরাডুবির পর হতভম্ব কংগ্রেস নেতারা বলছেন, পারিবারিক মত গঠনে ক্রমাগত ভূমিকা রাখতে থাকা তরুণদের উদ্দেশে দলের পাঠানো নির্দেশনা স্পষ্ট ছিল না। গান্ধী হয়তো বেকারত্ব ও রুটি-রুজির ইস্যুর বীণা বাজিয়ে গেছেন তবে অনেক সিনিয়র নেতাই মনে করেন, এর প্রভাব সীমিত। যেখানে বিজেপি’র আগ্রাসী ও আবেগী জাতীয়তাবাদের খেলা চলছে সেখানে ওই বীণা কাজ করেনি। তারা আরও বলছেন, এসব তরুণদের অনেকেই বংশানুক্রমিক রাজনীতির ওপর অসহিষ্ণু। এসব তরুণদের অনেকেই এই রাজনীতি পরিবর্তনের মনোভাব পোষণ করেন।    
আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈই বলেন, ‘আবেগ ভারতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটা একটা বড় ফ্যাক্টর। আমাদের এটা বুঝতে হবে আর এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আমাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে’। সাবেক আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, কেবল আবেগী ইস্যুতে কংগ্রেস ব্যর্থ হয়েছে তেমন না। পণ্য ও পরিষেবা শুল্ক বিল জিএসটিকে গব্বার সিং ট্যাক্স বলে আমরা কী বার্তা পাঠাচ্ছি? কঠোর পরিশ্রম করার পরও কংগ্রেস সভাপতি ভাবগাম্ভীর্য বর্জিত রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে কাজের ঘাটতি
২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস নেতারা কেউ ইচ্ছায় আবার কেউ অনিচ্ছায় এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন। অনেকেই নতুন প্রজন্মের যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষমতা মেনে নেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এসব প্ল্যাটফর্মে নিজেদের প্রতি সাড়া দেখে বহু কংগ্রেস নেতারা এই সত্যই ভুলে গিয়েছিলেন যে, সত্যিকার মাঠপর্যায়ের কাজের কোনও বিকল্প নেই।
‘মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে যেখানে দৃশ্যত কমিউনিস্টদের খুব কম বা উপস্থিতি নেই বললেই চলে সেখানে তারা কৃষাণ মার্চের আয়োজন করতে পারে। আর আমরা কী করছি? অন্ধ্র প্রদেশে জগন (মোহন) রেড্ডির দিকে তাকান। মাসের পর মাস তিনি রাস্তায় রয়েছেন। আমার মনে হয় তার পদযাত্রা প্রতিটি জেলা ছুঁয়ে গিয়েছিল আর ফলাফল দেখেন। ডিএমকে’র স্টালিনও মাঠে সক্রিয় ছিলেন’, বলছিলেন সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস কমিটির এক সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
দলের অনেক নেতার বিশ্বাস দিল্লির নেতারা বসে থাকেন, আর মানুষের ক্ষোভ ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন বাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা আর টুইটারে মতামত দেওয়াতেই কাজ সারেন। ‘কৃষি সংকট, দলিত অস্থিরতা, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ চলেছে। আর মাঠে আমাদের দেখা যায়নি। রাজপথে বিক্ষোভ আয়োজন, সোস্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড আর সংবাদপত্রের কাটা অংশ পরের দিন সকালে দিল্লি পাঠাতেই আগ্রহী ছিলেন বেশিরভাগ প্রাদেশিক সভাপতি। কিন্তু সেগুলোর কোনওটাই সত্যিকার জনগণের আন্দোলন ছিল না’, বলেন সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই মুখ্যমন্ত্রী এখন দলের অভ্যন্তরে আর প্রিয়পাত্র নন।
মধ্যপ্রদেশের এক সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা গুজরাটে জিগনেস মিওয়ানি, উত্তর প্রদেশে চন্দ্রশেখর আজাদ ও মহারাষ্ট্রে প্রকাশ আম্বেদকরের কাছে জায়গা ছেড়ে দিয়েই খুশি ছিলাম। এমনকি মধ্য প্রদেশেও লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের সময় আমরা কৃষক বিক্ষোভের নায়ক কেদার সিরোহী ও ডি পি দাকাদকে অবহেলা করেছি। তার ফলাফল? মন্দসুরের মতো জায়গায় চরি আসনের তিনটিতেই হেরেছি আর নিমুকের তিনটির সবগুলোই গেছে। আমরা তাদেরকে দলে টেনে নিতে পারতাম।’ 
সাংগঠনিক অদক্ষতা
বহু কংগ্রেস নেতা অবাক হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী যখন প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতির রাজ্য গুজরাটের দায়িত্ব প্রথমবারের মতো এমপি হওয়া ৪৫ বছরের রাজিব সত্যবের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। অনেকেই তার উত্থান মেনে নিতে পারেনি। ফলে এই ক্ষোভের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিতভাবেই ছিল। অনেক সিনিয়র নেতা বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তিনি কী মোদি-অমিত জুটির বিরুদ্ধে থেকে দল চালাতে পারবেন?
এর মধ্যে আসে আরেকটি বড় চমক। নির্বাচনের মাত্র তিনমাস আগে রাহুল তার বোন সোনিয়া গান্ধী ভদ্রকে পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর প্রদেশের জন্য সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করেন। ‘কংগ্রেস কর্মী হিসেবে আমরা উল্লসিত হলাম আর প্রিয়াংকার রাজনীতিতে প্রবেশের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া উপেক্ষা করলাম। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, উত্তর প্রদেশের মতো একটি রাজ্যের সঙ্গে এরকম আচরণ কীভাবে করা যেতে পারে? নির্বাচনের আগে আগে আপনি দৃশ্যত নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করছেন। আর তারপরে গুলাম নবি আজাদকে পাঠানো হলো হরিয়ানায়। যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় কোনও সাধারণ সম্পাদক নেই’, বলেন এক সিনিয়র নেতা।
তিন রাজ্যের ফলাফলই স্পষ্ট। হরিয়ানা ও গুজরাটে কোনও আসনই পায়নি কংগ্রেস। আর উত্তর প্রদেশে কমেছে ভোটের ভাগ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লিতে আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই রাজ্য গুলোতে  সাংগঠনিক বিপর্যয় কংগ্রেসকে চোখ রাঙাচ্ছে।
কর্নাটকের এক সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, ‘কর্নাটকে জনতা দলের (জেডি) সঙ্গে জোট গড়া কংগ্রেসের বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এই জোট কোনও কাজে আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস মন্ত্রির মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না। নেতাদের বিবৃতি ভুল বার্তা দিয়েছে। তারওপর বিবৃতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামিয়ার আচরণ নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দুই ধর্মীয় গোষ্ঠী লিঙ্গায়াত ও ভোক্কালিগাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এসব প্রকাশ্যে আসার পর দুটি সম্প্রদায়ই আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত এক বছরেও দলের শীর্ষ নেতারা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেনি বা কেউ এখানে আসেনি। এসব ঘটনা বাড়ছেই।’
বহু নেতাই কর্নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের সমালোচক। ‘প্রাদেশিক কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট দিনেশ গুন্ডু রাওয়ের দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরও একই অবস্থা। তিনি নিজেও তার মনোযোগ কাজে লাগাননি আর কেউও তার কাছে কোনও কিছুর জন্য যায়নি’, বলেন এক সিনিয়র কংগ্রেস নেতা।
মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চৌহান বলেন, রাজ্যে পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছেন রাজ্যের নেতারা।
যেখানে রাধাকৃষ্ণ ভিকে পাতিল বিধানসভার বিরোধী দলের নেতার পদ ছেড়ে প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ নিবেদিত ছিলেন (তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়া তার ছেলে সুজয় ভিকে পাতিলের পক্ষে প্রচারণা চালান) সেখানে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট অশোক চৌহান দেবেন্দ্র ফাড়নবিস সরকারকে দুর্নীতি নিয়ে কার্যকরভাবে আক্রমণ করতে পারেননি। ফাড়নবিস নিজেই অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা করছেন, বলেন পৃথ্বিরাজ চৌহান।
আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, প্রকাশ আম্বেদকরকে দলে নিতে না পারার ব্যর্থতারও মূল্য দিতে হয়েছে কংগ্রেসকে।
হরিয়ানায় কংগ্রেস বুঝে উঠতেই পারেনি জাট (ওই অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী) বা জাটহীন রাজনীতি তারা করবে কীনা। প্রথম বিষয় হলো, জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে গুলাম নবি আজাদ একটি বাসযাত্রা আয়োজন করলেন। আর পুরোভাগে ছিলেন ভুপেন্দর সিং হুদা ও তার ছেলে দিপেন্দর হুদা। তাদের দুজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হলো। বিজেপি সহজেই জাটহীন রাজনীতির কার্ড খেলে দিলে পারলো আর সব জাটহীন ভোট সংহত করার সুযোগ পেল। কুমারি শৈলজার মাঠ তৈরিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু তারপরও আমরা হোয়াইট ওয়াশ হয়ে গেলাম, বলেন রাজ্যের এক সিনিয়র নেতা।
পার্শ্ববর্তী পাঞ্জাবেও বিভক্তি দেখা গেছে। সেখানে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে চূড়ান্ত বলে দেখা হয়ে থাকে। ‘সেখানে বালাকোট ও অন্যান্য বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি তার মনগড়া কথা বলেছেন যাতে দলের মূল নেতৃত্ব থেকে তার বক্তব্য আলাদা মনে হয়েছে। কিন্তু তিনি বিজেপির আবেগের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তিনি পরিবর্তনের প্রতি অনেক বেশি বাস্তবিক ও বিচক্ষণ ছিলেন’, বলেন এক সিনিয়র নেতা। অমরিন্দর সিংয়ের সমালোচক বলে অনেকেই জানেন এই নেতাকে।
রাহুলকে ভুলপথে চালানো হয়েছে?
দলের অভ্যন্তরেই রাহুলের ‘কোর টিম’ নিয়েই অস্বস্তি রয়েছে। পুলওয়ামা ও ১৯৮৪’র শিখ দাঙ্গা নিয়ে স্যাম পিতোরদার মতো নেতাদের অসময়োচিত মন্তব্যের জন্য ক্ষোভও আছে।  
‘২০১৪ সালের নির্বাচন পরিচালনায় যে দলটি ছিল এবারও সেই একই দল ছিল। এবার কেবলমাত্র প্রবীন চক্রবর্তীকে (কংগ্রেসের ডাটা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান) যুক্ত করা হয়েছে। তারা রাহুলকে বলেছেন যে, তারা তিন সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ বুথ কমিটি গঠন করে ফেলেছে’, বলেন এক সিনিয়র কংগ্রেস নেতা।
সূত্র বলছে, ওই বর্ণনা কংগ্রেসের কোর কমিটিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল কিন্তু ডাটা বিশ্লেষক দল তা ম্যানেজ করে ফেলে। তিনি বলেন, ‘তারা আরও বলেছে দশ দিনের মধ্যে সব বুথ কমিটিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেলেছে। আসলে শক্তি অ্যাপে ১২ লাখ মানুষ যুক্ত ছিল আর প্রতি বুথে দশজন করে। তার মানে প্রায় এক কোটি। আমাদের মনে হয় কংগ্রেস সভাপতিও এর আওতায় ছিলেন।’
এক শীর্ষ নেতা বলেন, সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিল কংগ্রেসের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব।
এক সিনিয়র নেতা বলেন, জনগণ জানতে চায় আমাদের প্রস্তাব কী, বিশেষ করে ভারতের তরুণ অংশ। তাদের জন্য কোনও বার্তা নেই। আর ডাটা বিশ্লেষণ বিভাগ কংগ্রেস সভাপতি ও শীর্ষ নেতাদের বলতে থাকেন প্রধানমন্ত্রীকে রাফায়েল ইস্যুতে আক্রমণ করতে থাকুন, ন্যুনতম আয় যোজনার প্রতিশ্রুতি সঠিক পথেই আছে’।
বিশাল এই পরাজয়ের পরও হয়তো রাহুল বা দলের পতন হয়ে যাবে না। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন এ থেকে উত্তরণ হবে পাহাড়ের চূড়ায় যাত্রা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।