Wednesday, December 4, 2024

অর্থ পাচার করে একটি দেশের অর্থনীতি যেভাবে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে: নিউইয়র্ক টাইমস

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের হিসাবে, শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের শাসনামলে কেবল বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকেই ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। তবে অন্যান্য অর্থনীতিবিদের হিসাবে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার হওয়া টাকার প্রকৃত পরিমাণ কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। বিভিন্ন ধরনের আর্থিক হিসাব-নিকাশ করে আহসান মনসুর বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুট করেছে, তা কার্যত পৃথিবীর আর্থিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে আজ বুধবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সাক্ষাৎকার কবে নেওয়া হয়েছে তা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি–বিষয়ক শ্বেতপত্র কমিটি বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে সার্বিকভাবে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।

আহসান মনসুর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছিল, লুটপাট করার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে ব্যাংক। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ দিয়েছে, যে কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোর অস্তিত্বই নেই। এই টাকাও কখনো সম্ভবত ব্যাংকে ফিরে আসবে না; এই অর্থের একটি বড় অংশ দেশ থেকে অবৈধভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার আগে ২৭ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করছেন আহসান মনসুর। তিনি বলেন, ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ হাইজ্যাক করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে সরকারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এভাবে গুন্ডা–মাস্তানদের সহযোগিতায় পুরো ব্যাংক খাতে এমন পদ্ধতিগতভাবে ডাকাতি করেছে, এমন ঘটনা তিনি আর কোথাও দেখেননি।

সংবাদে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পালা চলছে, গণসহিংসতাও দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতি প্রসঙ্গে আহসান মনসুর বলেন, আগামী বছর অর্থনীতির আকাশে আরও ঝড় উঠবে; এরপর অর্থনীতির আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে।

শেখ হাসিনা ভারতের পালিয়ে গেছেন। তাঁর ভাগ্যে কী আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তাঁকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম এহসান। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’ করা হচ্ছে, তিনি তার বাইরে নন।

নিউইয়র্ক টাইমস শেখ হাসিনা ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় শূন্য পড়ে আছে। এরপর তারা শেখ হাসিনার মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মান্নানের পদত্যাগের ঘটনা সবিস্তারে তুলে ধরেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আর দশটা সাধারণ দিনের মতো আব্দুল মান্নান কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পথিমধ্যে তিনি একটি ফোন কল পান। কলটি করেছিলেন সামরিক গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান। তাঁকে বলা হয়, গাড়ির গতিমুখ পরিবর্তন করে তিনি যেন সংস্থাটির সদর দপ্তরে চলে আসেন।

গত অক্টোবর মাসে আব্দুল মান্নান নিউইয়র্ক টাইমসকে সেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কার্যালয়ে যাওয়ার পর সামরিক গোয়েন্দারা আব্দুল মান্নানের ফোন, ঘড়ি ও ওয়ালেট রেখে দেন। এরপর গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান আব্দুল মান্নানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিবরণ দেন; বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে তিনি যে গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন, সে জন্য তাঁর প্রশংসা করেন।

আব্দুল মান্নান ভাবছিলেন, তাঁর সময়টা বোধ হয় বৃথা যাচ্ছে। কিন্তু এরপরই তাঁকে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের চিঠিতে সই করতে বলা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তাঁকে বলেন, এই আদেশ দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে এসেছে, অর্থাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রথমে পদত্যাগ পত্রে সই করতে রাজি হননি। তখন ইসলামের খলিফা ওসমানের কথা মনে হচ্ছিল তাঁর। সপ্তম শতাব্দীতে ঘাতকের আক্রমণের মুখে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন।

কিন্তু এই পর্যায়ে এসে আব্দুল মান্নান আর বলতে পারলেন না। প্রথমত তিনি বলেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে মৌখিকভাবে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। এরপর তাঁকে গোয়েন্দা প্রধানের কার্যালয় থেকে আরেকটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি যে ধরনের মানুষ, তাতে ওই সময়ে আমাকে যে অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তার বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়।’ এরপর তিনি সময়ের হিসাব ভুলে যান এবং একপর্যায়ে জানতে পারেন, দুপুরের আগে আগে তিনি পদত্যাগ পত্রে সই করেছেন। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী আট বছর তিনি কার্যত নির্বাসনে ছিলেন; এখন তিনি আবার একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন।

আব্দুল মান্নান ও আহসান মনসুর একই সুরে বলেন, ওই ঘটনার পর এস আলম গোষ্ঠী ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়। এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম ট্রেডার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশেষ করে শেখ হাসিনার আমলে জ্বালানি, আবাসন খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, এস আলম গোষ্ঠী অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল।
হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএফআইইউর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম এহসান। ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক এস আলম গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার পর নামে–বেনামে বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যে ঋণের বড় অংশ আর ফেরত আসেনি। ফলে সেগুলো খেলাপি হয়ে গেছে।

এদিকে এস আলম গ্রুপও বসে নেই। তারা আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েলের মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে। বলেছে, দেশের একটি মাত্র ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সেটা ইসলামী ব্যাংক নয়। তাদের অভিযোগ, আহসান এইচ মনসুর এস আলম গোষ্ঠীর সঙ্গে নিপীড়নমূলক আচরণ করছেন; এমনকি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না।

লাইফ সাপোর্টে ব্যাংক খাত

বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক এখন লাইফ সাপোর্টে আছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি যেসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো, তারাও সেভাবে ঋণ দিতে পারছে না, এমনকি আমানতকারীদের টাকা সব সময় ফেরত দিতে পারছে না। আমানতকারীদের তারা মাঝেমধ্যে টাকা তোলার সুযোগ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে যে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেখ হাসিনার দলের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করা হয়েছে, যে অর্থ মূলত আমদানি–রপ্তানির মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে যে কেবল কিছু মানুষের পকেট ভারী হয়েছে তা নয়, এতে বাংলাদেশের মুদ্রার দরপতনও হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ পাচারের গতি বাড়তে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের মুদ্রার বড় ধরনের দরপতন হয়। আমদানি মূল্য অনেকটা বেড়ে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।

অনেক ব্যাংকে নগদ অর্থের সংকট আছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পুরো বেতন তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি যেদিন বেতন দেওয়া হয়, সেদিন তারা পুরো টাকা তুলতে পারেননি, এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

ওষুধ কোম্পানি টেকনো ড্রাগ কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। এই কোম্পানির সহমহাব্যবস্থাপক মাজেদুল করিম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, নিম্ন আয়ের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কর্মীরা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন, ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না, সে কারণে কোম্পানি বাধ্য হয়ে নগদ অর্থে মজুরি পরিশোধ করছে। তিনি আরও বলেন, নিজের ডেবিট কার্ড দিয়েও টাকা তোলা যাচ্ছে না।

আহসান মনসুর বলেন, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বছর নয়, যদিও মূল্যস্ফীতির হার কমে আসছে ও প্রবাসী আয়প্রবাহ বাড়ছে। তিনি আশাবাদী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশের মুদ্রা স্থিতিশীল করতে আরও তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

অর্থ পাচার করে একটি দেশের অর্থনীতি যেভাবে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে: নিউইয়র্ক টাইমস

টালমাটাল দ. কোরিয়া, নাটকীয়তা, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রস্তুতি

টালমাটাল দক্ষিণ কোরিয়া। মুহূর্তে মুহূর্তে নতুন নতুন নাটকীয়তা। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। মঙ্গলবার বেশ রাতে দেশে সামরিক আইন জারি করে বেকায়দায় প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। তার এ নির্দেশের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে পুরো দেশ। পার্লামেন্টের ভিতর আটকে পড়া এমপিরা সামরিক শাসনকে প্রত্যাখ্যান করে প্রস্তাব পাস করেন। দেশজুড়ে চলতে থাকে প্রেসিডেন্ট ইউন-বিরোধী বিক্ষোভ। পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি সামরিক শাসন তুলে নেন। ঘটনা সেখানে থেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু না। তা যেন তুষের আগুনের মতো ভিতর থেকে জ্বলে উঠেছে। উল্টো এবার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এমপিরা। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো সহ আন্তর্জাতিক দুনিয়া কড়া দৃষ্টি রেখেছে দেশটির ওপর। মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন জানান, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শক্তির কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং দেশের ভিতর থেকে রাষ্ট্রবিরোধীদের উৎখাতের জন্য প্রয়োজন সামরিক আইন। তিনি এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার কাঁধে কাঁঠাল ভেঙে খেতে চাইলেও পরে জানা যায়, দেশের ভিতরেই তীব্র চাপে আছেন তিনি। ধারাবাহিক বেশ কিছু স্ক্যান্ডাল ঘিরে ধরেছে তাকে। এছাড়া পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, নিজস্ব রাজনৈতিক সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। তার মধ্যে তিনি ক্ষমতাকে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে তিনি সামরিক আইন ঘোষণা দেয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এমপিরা জোর করে পার্লামেন্ট ভবনের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে আটকে দিতে ভোট করেন। কোনো কোনো এমপি ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের ভিতরে প্রবেশ করেন। একজন এমপি বলেছেন, তিনি দেয়াল টপকে প্রবেশ করেছেন। পার্লামেন্টে তাদের ভোটের পর প্রেসিডেন্ট ইউন ইউটার্ন নেন। সামরিক আইন জারি সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন। এখন তার বিরুদ্ধে কয়েক দিনের মধ্যে অভিশংসন প্রস্তাবের ওপর ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমপিরা। যদি তাদের ভোটে প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হন তাহলে সাংবিধানিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে প্রেসিডেন্ট ইউনকে। এমন পরিস্থিতিতে তালগোল পাকিয়ে গেছে দেশটির রাজনীতিতে।

প্রেসিডেন্ট ইউনের সামরিক আইন জারির পরিকল্পনার সমর্থক ছিলেন তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়োং-হিউন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার তিনি পদত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন জাতির কাছে। বলেন, সামরিক আইন জারি করার পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তিনি নেবেন। বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের মতে, প্রেসিডেন্ট ইউনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনের বিরুদ্ধেও অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমপিরা। কেন দেশটিতে এমন পরিস্থিতি হলো তার অনুসন্ধান করেছে বিবিসি। এতে বলা হয়, বেশ কিছু বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলের স্ত্রী। অভিযোগ আছে তিনি বিলাসবহুল ডিয়র মডেলের একটি ব্যাগ গ্রহণ করেছেন। গত বছর কোরিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন একজন পাস্তুরের কাছ থেকে এই ব্যাগটি গ্রহণ করেন তার স্ত্রী। এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এর মধ্য দিয়ে উপহার নেয়া বিষয়ক আইন ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ইউনের গৃহীত পদক্ষেপ তাকে আরো গরম পানিতে ফেলে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ভিডিও নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইউন বলেন, দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তার দলের ক্ষতি করার জন্য এই ভিডিও বানানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন ডিয়র মডেলের ২২০০ ডলারের ওই ব্যাগটি আন্তরিকভাবে নিতে অস্বীকার করেছিলেন ফার্স্টলেডি। কিন্তু এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। বাড়তে থাকে অসন্তোষ। অবশেষে এই স্ক্যান্ডাল ছড়িয়ে পড়ার পুরো এক বছর পরে গত মাসে স্ত্রীর পক্ষ হয়ে ক্ষমা চান প্রেসিডেন্ট ইউন। এ ঘটনায় কোনো রকম তদন্তের অনুমতি দেননি তিনি। এর পর থেকে জনক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্র হতে থাকে। জনমত বলছে, শুধু এই একটি বিষয় নয়। আরও অনেক কারণে প্রেসিডেন্টের রেটিং কমে গেছে। প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার সামরিক আইন জারি করার পর উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির রাজনীতি। রাতের তাপমাত্রা নেমে যায় প্রায় শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেই হিম ঠান্ডা উপেক্ষা করে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা সমবেত হন গাংহামুন স্কয়ারে। সেখান থেকে প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি তোলা হয়। মঞ্চে উঠে জনতা গান গাইতে থাকে। উল্লাস করতে থাকে। তাদের হাতে ছিল প্রজ্বলিত মোমবাতি এবং ইউনিয়ন ফ্লাগ। অনেকে হাতে দেখা যায় ‘বিদ্রোহের অভিযোগ ইউন সুক ইয়োলকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে’ লেখা পতাকা। সেখানে উৎসবের এক আবহ ছড়িয়ে পড়ে।

ওদিকে কিছু রাজনীতিক প্রেসিডেন্ট ইউনের পক্ষ নিয়েছেন। তার মধ্যে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোয়াং কিও-আহন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করা উচিত হবে না। প্রেসিডেন্ট ইউনের সামরিক আইন জারির যৌক্তিকতাকে সমর্থন করেছেন। বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তের পর এমপিদেরকে সমবেত করতে এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে আটকে দেয়ার আহ্বান জানান জাতীয় পরিষদের স্পিকার। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন। বুসান সিটির কাউন্সিলম্যান পার্ক জং-চিওল বলেন, সামরিক আইন জারির ঘোষণাকে তিনি সক্রিয়ভাবে এবং সহানুভূতির সঙ্গে সমর্থন করেন। ডায়েগু শহরের মেয়র হং জুন-পিও তার ফেসবুকের পেস্টে অভিশংসনের পক্ষে অমত জানিয়েছেন।

mzamin

কেপি শর্মা অলির বেইজিং সফর কী বার্তা দিচ্ছে?

চলতি বছরের জুলাইয়ে শপথগ্রহণের মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো নেপালের ক্ষমতায় আসেন কেপি শর্মা ওলি। ক্ষমতাগ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আজ (৩ ডিসেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, নেপালের অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে শি জিনপিংকে রাজি করানোই তার এ সফরের প্রধান লক্ষ্য।

সাধারণত একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতাগ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। প্রথম সফরে রাষ্ট্রপ্রধান সেই দেশেই যান যে দেশকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন অথবা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনে করেন।

দিল্লির সঙ্গে কাঠমান্ডুর শতবর্ষের সম্পর্ক রয়েছে। নেপালের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ধরা হয় ভারতকেই। তাই ঐতিহ্যগতভাবেই নেপালের যে কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় বসে প্রথমে ভারত সফর করে থাকেন। তবে এবার সেই প্রথার ব্যত্যয় ঘটালেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাত ও চতুর্থবারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়া কেপি শর্মা ওলি।

ওলি এবার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য শত বছরের মিত্র দিল্লির বদলে বেইজিংকে বেছে নিয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সফরে প্রেসিডেন্ট শি-জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি-ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে ওলির।

২০১৭ সালে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাস্টাকচার ইনিশিয়েটিভে’ স্বাক্ষর করে কাঠমান্ডু। তবে প্রকল্প কাঠামো দাঁড় করানো হলেও এখনো কোনো কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। নেপাল একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র হওয়ায় এর কোনো সমুদ্র পথ ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই বাণিজ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনে তার বহুমুখী স্থলপথ জরুরি। নেপালের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে দেশটিকে চীনের সঙ্গে স্থলপথে সংযুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন শি জিনপিং।

অবশ্য নেপালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের চেয়ে ভারতের প্রভাবই বেশি। যেখানে কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দিল্লির হিস্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, সেখানে বেইজিংয়ের আছে মাত্র ১৪ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে চীন।

নেপালে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে এই মুহূর্তে চীনের অর্থায়নের পরিমাণ ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। এদিক থেকে ভারতের থেকে কিছুটা এগিয়ে চীন। কাঠমান্ডুর অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে বেইজিং। শি জিনপিং চাইছেন নেপালকে চীনমুখী করতে।

২০১৬ সালে ওলি ক্ষমতায় থাকাকালীন নেপালে তেল রপ্তানি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিল ভারত। তিনি তৎক্ষণাৎ চীনের সঙ্গে জ্বালানি তেলসংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ওই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নেপালের একমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারীর তকমা হারায় ভারত। আর চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচিত হয়। এরপর থেকে নেপালে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় চীন। রাজধানীর ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোখারাতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে বড় অঙ্কের ঋণ দেয় তারা। ওলি চাইছেন, অবকাঠামো খাতে চীনের আরও সহযোগিতা আসুক। উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হোক।

বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ছবি : সংগৃহীত
বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ছবি : সংগৃহীত



সূর্যের আলো থেকে শত কোটি টাকা আয় চীন-পাকিস্তানের!

সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা আয় করছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন। এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গ দিচ্ছে পাকিস্তান। দেশ দুটি একে অন্যের পরিপূরক হয়ে কাজ করছে। জানা গেছে, চীন সমুদ্রের বুকে গড়ে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-সি সোলার ফার্ম। এক একটি ফার্মের বিশালতা শত ফুটবল মাঠের সমান।

প্রশ্ন হলো সব সোলার ফার্ম সমুদ্রের তীরে কেন নির্মাণ করেছে চীন। কারণ দেশটিতে জমির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। তাই ফসলি জমি নষ্ট না করে সমুদ্র তীরকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। চীন এই সোলার ফার্মগুলোকে এমনভাবে নির্মাণ করেছে যা সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনায়াসে টিকে থাকতে পারবে। এজন্য তারা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে।

এদিকে পাকিস্তানে দিন দিন বাড়ছে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের চাহিদা। এই মুহূর্তে বিশ্বের যে-সব দেশে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, সেসবের মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। এর মূল কৃতিত্ব চীনের সাশ্রয়ী মূল্যের সোলার প্যানেলের।

জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, চলতি বছর পাকিস্তানে সৌর বা সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ পৌঁছাবে ১৭ গিগা ওয়াটে। যা দেশটির মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের এক তৃতীয়াংশ। মাত্র দু’ থেকে দেড় বছরের মধ্যে ঘটেছে এই উল্লম্ফন।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা অ্যাম্বারের বিশ্লেষক ডেভ জোনস বলেন, তার জানামতে, পাকিস্তানে যে গতিতে সোলার প্যানেল বসানো এবং সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে, বিশ্বের আর কোনো দেশে এমনটা দেখা যায়নি।

মূলত পাকিস্তানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ঘাটতি, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দুর্বল অবকাঠামো এবং অতিরিক্ত দামের কারণে দেশজুড়ে ধনী-দরিদ্র সবাই ঝুঁকছেন সৌর বিদ্যুতের দিকে।আর এক্ষেত্রে তাদের প্রধান সহায় হয়ে উঠেছে চীনা কোম্পানগুলোর তৈরি সাশ্রয়ী সোলার প্যানেল। ফলে এখন পাকিস্তানজুড়ে ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানার ছাদে সৌর প্যানেলের সমারোহ।

পাকিস্তানে 'সৌর বিপ্লব' সম্ভব হয়েছে চীনের সহজলভ্য প্রযুক্তির কল্যাণে। গেল ১৫ বছরে ইসলামাবাদ সোলার প্যানেলের দাম কমিয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্বের শীর্ষ সোলার প্যানেল উৎপাদক চীন প্রতিবেশী দেশটিতে বেশ সস্তায় প্যানেল রপ্তানি করছে। গত চার দশকে পাকিস্তানে সবচেয়ে দামি সোলার প্যানেল এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে পশ্চিমা যুদ্ধ-পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

স্প্যানিশ পর্যটক আলবার্তো ব্লাসকো ভেন্তাস ইউক্রেনের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইরপিন সেতুর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ২০২২ সালে রুশ সেনাদের ঠেকাতে সেতুটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। জায়গাটি এখন রোমাঞ্চপিয়াসী পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম দিকে রুশ সেনারা এই সেতুটি পার হয়ে রাজধানী কিয়েভ দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন। ক্রমে রুশ বাহিনী কয়েক শ কিলোমিটার দূরে সরে যায়। কিন্তু এখনো প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তারা। ছুটি কাটানোর জন্য ব্লাসকো ভেন্তাস ইউক্রেনের রাজধানীকেই বেছে নিয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, ‘এই প্রথম কোনো যুদ্ধাঞ্চলে এলাম। মিথ্যা কথা বলব না, আমার কাছে একটু ভয়ই করছে, কারণ কী ঘটবে কেউ জানে না।’

ব্লাসকো ভেন্তাস এক ‘কালো পর্যটন’–এ শামিল হয়ে ইউক্রেন ঘুরছেন। দেশটির ডজনখানেক কোম্পানি এই তকমা দিয়ে পর্যটকদের শোকাবহ ঘটনাস্থলগুলো ঘুরে দেখানোর ব্যবস্থা করছে। এই বিশেষায়িত খাতটি নিতান্ত ছোট। তবে এটা বড় হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের তোয়াক্কা না করে ইউক্রেন সফরে বের হন ব্লাসকো। প্রথমে তিনি উড়োজাহাজে মলদোভা যান। সেখান থেকে ১৮ ঘণ্টার রেলযাত্রা করে ইউক্রেনে পৌঁছান।

ব্লাসকো ভেন্তাসের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। চ্যানেলটির গ্রাহক (সাবসক্রাইবার) ১ লাখ ১৫ হাজার। ইনফ্লুয়েন্সার হতে উদ্‌গ্রীব ব্লাসকো তাঁর ট্যুরের প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিও করেছেন। এই ভিডিও পরে ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করবেন। চ্যানেলটিতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে ভয়ংকর মানসিক হাসপাতাল’ এবং বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্ত’ হিসেবে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত নিয়ে আধেয় (কনটেন্ট) প্রকাশ করেছেন তিনি।

‘টিকার মতো’

যুদ্ধের আগে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ইউক্রেনের চেরনোবিল ভ্রমণে যেতেন। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটে।

ওয়ার ট্যুর নামের একটি কোম্পানি ব্লাসকো ভেন্তাসের ইউক্রেন ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে। তারা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ জন পর্যটক পেয়েছে। এই পর্যটকদের বেশির ভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আর এই ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি ১৫৭ ডলার থেকে ২৬২ ডলার খরচ করতে হয়েছে তাঁদের।

ওয়ার ট্যুরের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি নিকিফরোভ বলেন, তাঁদের লভ্যাংশের একটি অংশ সেনাবাহিনীকে দেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টা টাকা আয়ের নয়। এটা হচ্ছে যুদ্ধের স্মারক ধরে রাখার ব্যাপার।’

কিয়েভের আরেকটি পর্যটন কোম্পানির ব্যবস্থাপক ভিতোজার মইসেইভ বলেন, এ ধরনের পর্যটনে আর্থিক লাভ যৎসামান্যই। কিন্তু লাভের বিষয় তত গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং এর একটি শিক্ষাগত মূল্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি টিকার মতো, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

সাধারণত কিয়েভ ও এর শহরতলির আশপাশ ঘিরেই এ ধরনের ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। ২০২২ সালের শুরুর দিকে রুশ সেনারা সেখানে গণহত্যা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে কিছু কিছু কোম্পানি যুদ্ধক্ষেত্রের আরেকটু কাছাকাছি ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ইউক্রেনের মতো জায়গা রয়েছে। সেখানে কয়েক দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি খরচ ৩ হাজার ৩০০ ইউরো।

যতটুকু যা পাওয়া যায়

অনেক পর্যটক আছেন, যাঁরা কিয়েভ ছাড়িয়ে ইউক্রেনের আরও ভেতরে যেতে চান। তাঁদের একজন নিক তান। তিনি নিউইয়র্কের একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করেন।

নিক তান গত জুলাই মাসে খারকিভ সফর করেন। এটি ইউক্রেনের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ শহর। রাজধানী কিয়েভ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটিতে অনবরত বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে রুশ বাহিনী।

৩৪ বছর বয়সী আমেরিকান এই পর্যটক বলেন, ‘আমি এটি (খারকিভ) ঘুরে দেখতে চেয়েছিলাম কারণ আমি মনে করি পশ্চিমে আমাদের জীবন খুব আরামদায়ক ও সহজ।’

নিক তান আরও বলেন, তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের আরও কাছাকাছি যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাঁর গাইড রাজি হননি।

নিজেকে একজন রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষ বলে মনে করেন নিক তান। তিনি ইতিমধ্যে স্কাইডাইভিং করেছেন। নিয়মিত বক্সিং ক্লাস এবং মন পাল্টে দেওয়া মাদকের উদ্দাম পার্টিতে যান। তাঁর জানার ইচ্ছা বিধ্বস্ত ইরপিন শহরতলির কিছু বাসিন্দাকে বিস্মিত করেছিল। সেখানকার বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত রুশ বিমান হামলার হুমকি নিয়ে বসবাস করেন।

ইরপিন শহরের একজন বাসিন্দা রুসলাম সাভচুক (৫২)। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমার বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার দূরে একটি শাহেদ ড্রোন আছড়ে পড়ে। এ ধরনের অভিজ্ঞতার পর আমার আর এখানে থাকতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু কেউ যদি নিজের কাঁধে এমন সব বিপদ টেনে নিতে চান, সেটা তাঁর অধিকার।’

সাভচুক একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ইরপিনকে পর্যটন সম্পর্কে পরামর্শ দেন। পর্যটকেরা স্থানীয়দের জন্য দরকারি আয়ের উৎস হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের মতো কঠিন বিষয়ও ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে।’

‘আমাদের দুঃখ-বেদনা দেখুন’

মিখাইলিনা বলেন, স্থানীয় মানুষজনকে এমন অভিযোগও করতে শুনেছেন- ‘কেন আপনারা এখানে আসছেন? কেন আপনারা আমাদের দুঃখ-বেদনা দেখতে চান?’

ইরপিনের স্থানীয় কাউন্সিলর ও বুচা শহরের সাবেক ডেপুটি মেয়র মিখাইলিনা স্করিক স্কারিভস্কা বলেন, সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দার ‘কালো পর্যটন’ নিয়ে আপত্তি নেই। তবে কেউ কেউ মনে করেন মানুষের রক্ত মাড়িয়ে এই মুনাফা অর্জন করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টের প্রধান মারিয়ানা ওলেস্কিভ বলেন, যুদ্ধ–পর্যটনের বিকাশ অনেক নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। কিন্তু এটির বাজার বাড়তে বাধ্য। তাঁর এজেন্সি গাইডদের জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কিয়েভ অঞ্চলে স্মারক সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মারিয়ানা ওলেস্কিভ বলেন, গত বছর ৪০ লাখ বিদেশি পর্যটক ইউক্রেন ভ্রমণ করেছেন। এই সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণ, তবে এঁরা প্রধানত ব্যবসায়িক কাজে আসা মানুষ।

কিয়েভের অদূরে একটি বিধ্বস্ত ট্যাংক দেখছেন আলবার্তো ব্লাসকো
কিয়েভের অদূরে একটি বিধ্বস্ত ট্যাংক দেখছেন আলবার্তো ব্লাসকো। ছবি: এএফপি

গাজায় মরছে মানুষ, খাবার ফুরিয়ে গেছে

ইসরাইলের ব্লকেড বা অবরোধ অব্যাহত। চলছে গাজায় হামলা। মরছে মানুষ। এটাই যেন গাজার মানুষের নিয়তি এখন। অন্তত গত একটি বছরের উপরে তাদেরকে নির্বিচারে এভাবেই হত্যা করছে ইসরাইলি সেনারা। এ অবস্থায় জাতিসংঘ বলেছে, ইসরাইলের অব্যাহত অবরোধের ফলে গাজা উপত্যকার পুরোটায় এ পর্যন্ত খাদ্যের পর্যাপ্ততা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। দখলীকৃত গাজার উত্তরাঞ্চলের মানুষরা বলছেন, তাদের সরবরাহ এরই মধ্যে পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে। ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপে লাজ্জারিনি বলেছেন, বিশ্বের মধ্যে মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি শিশুর অঙ্গহানি ঘটছে গাজায়। যুদ্ধাহত প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এমন জখম নিয়ে বেঁচে আছেন, যা তাকে বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তাদের প্রয়োজন জরুরি পুনর্বাসন সেবা। এর মধ্যে আছে কেটে ফেলা অঙ্গের যত্ন, মেরুদণ্ডের ক্ষতের যত্ন নেয়া। নীরবে নিভৃতে যেসব মানুষ দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন লাজ্জারিনি। তিনি বলেন, তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে স্পেশাল কেয়ার নেয়া প্রয়োজন। ৭ই অক্টোবরের আগে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে- প্রতি ৫টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবারে কমপক্ষে একজন মানুষ বিকলাঙ্গ হয়েছেন। ওদিকে লেবাননের দক্ষিণে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি সেনারা। এতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছে তারা। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরাইলি নৃশংসতায় গাজায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৪,৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন কমপক্ষে এক লাখ ৫ হাজার ৩৫৮ জন। অন্যদিকে লেবাননে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩,৯৬১ জন। আহত হয়েছেন ১৬,৫২০ জন।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স বলেছে, রাফায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তাদের হামলায় ওই এলাকায় ফিলিস্তিনি উদ্ধারকর্মীরা রক্ষা পেয়েছেন। তাদেরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলিরা ভারী বোমা হামলা করেছিল। ওইসব ফিলিস্তিনি রাফায় আহতদের উদ্ধার এবং তাদেরকে স্থানান্তরের কাজ করছিলেন। এর আগে সিভিল ডিফেন্স থেকে বলা হয়েছে, রাফায় আল জিনেইনা এবং খিরবেত আল-আদাস এলাকায় ইসরাইলের ড্রোন হামলায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চল দিয়ের আল বালা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজম বলছেন, সংকটজনক অবস্থায় চার ফিলিস্তিনিকে পাশের শহর খান ইউনুসে নাসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ওদিকে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের বক্তব্যের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে ৯ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

mzamin


৪৪০০ কোটি ডলারের দুর্নীতি ফাঁসির রায় এবং...

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূলহোতা ভিয়েতনামের ধনকুবের ট্রুং মাই ল্যান। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। কিন্তু তাতে হেরে গেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। আপিলে পরাজিত হওয়ার পর ৬৮ বছর বয়সী এই নারী এখন নিজের জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজছেন। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার একটি উপায় আছে দেশটির আইনে। সে অনুযায়ী তিনি যে অঙ্কের অর্থের কেলেঙ্কারি করেছেন তার যদি শতকরা ৭৫ ভাগ সরকারি তহবিলে ফেরত দেন, তাহলে মৃত্যুদণ্ড লঘু হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এপ্রিলে ট্রায়াল কোর্ট দেখতে পেয়েছে যে, গোপনে সাইগন কমার্শিয়ান ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন ট্রুং মাই ল্যান। এটি দেশটির পঞ্চম বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে শেল কোম্পানির একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ বছর ধরে তিনি ঋণ নিয়েছেন। এর পরিমাণ ৪৪০০ কোটি ডলার। প্রসিকিউটররা বলেছেন, এই অর্থের মধ্যে ২৭০০ কোটি ডলারের অপব্যবহার হয়েছে। ১২০০ কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে আত্মসাৎ কাজে। একে দেশটিতে সবচেয়ে গুরুতর আর্থিক অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জন্য আদালত তাকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার আদালত তার আপিলের জবাবে বলেছেন ট্রুং মাই ল্যান্ডের মৃত্যুদণ্ড কমানোর কোনো ভিত্তি নেই। তবে তিনি যে ১২০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন তার তিন-চতুর্থাংশ বা ৯০০ কোটি ডলার যদি ফেরত দেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটা তার চূড়ান্ত আপিল নয়। এখনো তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করতে পারেন। বিচারকাজ চলাকালে বেশির ভাগ সময় ট্রুং মাই ল্যান আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক শুনানিতে তিনি সাজার বিরুদ্ধে খুবই অনুতপ্ত ছিলেন। বলেছেন, এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ার কারণে বিব্রত তিনি। তিনি এই অর্থ ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। হো চি মিন সিটিতে ট্রুং মাই ল্যানের জন্ম সিঙ্গাপুরের বংশোদ্ভূত ভিয়েতনামি একটি পরিবারে। মায়ের সঙ্গে কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রি করে বাজারে একজন হকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ১৯৮৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করার পর তিনি জমি ও বিভিন্ন রকম সম্মদ কিনতে শুরু করেন। ১৯৯০-এর দশকে হোটেল ও রেস্তরাঁ বিষয়ক বিশাল এক পোর্টফোলিও পেয়ে যান। এপ্রিলে তাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়া হয়। ওই সময় তিনি প্রথম সারির রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ভান থিন ফাত গ্রুপের চেয়ারওমেন ছিলেন। ওই মামলায় বাকি ৮৫ জনের সব আসামিই অভিযুক্ত হন। তার মধ্যে চারজনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন জেল। ট্রুং মাই ল্যানের স্বামী ও ভাতিজি সহ বাকিদেরকে ২০ বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থগিত শাস্তি দেয়া হয়।

সাইগন কমার্শিয়ান ব্যাংকে অর্থ সংকট কাটাতে স্টেট ব্যাংক অব ভিয়েতনাম শত শত কোটি ডলার অর্থ সরবরাহ দেয়, যাতে গ্রাহকদের মধ্যে পীড়া কমে। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, ট্রং মাই ল্যান যে অপরাধ করেছেন তা বিশাল। আগে কখনো এমনটা দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে তার শাস্তি লঘু হতে পারে না। এখন ট্রুং মাই ল্যানের আইনজীবীরা বলছেন- তিনি ৯০০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার চেষ্টা করছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার যে সম্পদ তা থেকে নগদ অর্থ বের করে আনা খুবই কঠিন। কারণ, এর বেশির ভাগই হো চি মিন সিটিতে বিলাসবহুল সম্পদ। তা মুখ দিয়ে বললেই বিক্রি করে দেয়া যায় না। অন্য ব্যবসা ও প্রপার্টি বিষয়ক প্রকল্পে আছে তার শেয়ার। কেলেঙ্কারির মাধ্যমে  দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার সম্পদে আছে তার বিনিয়োগ। বর্তমানে তা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিবিসি জানতে পেরেছে যে, এই ধনকুবের বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ওই ৯০০ কোটি ডলার পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

mzamin

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারি

জরুরি অবস্থা বা সামরিক শাসন জারি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োল। তার ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে আগামী বছরের বাজেট বিষয়ক বিল নিয়ে অব্যাহত মতবিরোধের জের ধরে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতের গভীরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শক্তি থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে এবং রাষ্ট্রবিরোধীদের নির্মূলের জন্য প্রয়োজনীয় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থার অধীনে সেনাবাহিনীর আইন বহাল থাকবে। এ সময়ে নাগরিকদের স্বাভাবিক অধিকার থাকবে স্থগিত। প্রেসিডেন্ট সামরিক শাসন জারি করার পর দক্ষিণ কোরিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বাইরে প্রথমবারের মতো বিপুলসংখ্যক সেনা জমায়েতের ছবি পাওয়া গেছে। পার্লামেন্টে প্রবেশের গেটে প্রহরা দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। পার্লামেন্ট ভবনের গেট বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন।  যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক পরিষদের একজন মুখপাত্র সিবিএস’কে বলেছেন, দক্ষিণ কোরীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বাইডেন প্রশাসনের। তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে সামরিক শাসন জারির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কোনো মন্তব্য করেনি। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলেছে, সামরিক শাসন লঙ্ঘন করলেই গ্রেপ্তার করা হবে। বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের মতে, সামরিক আইন লঙ্ঘন করলেই পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা যাবে। সব মিডিয়া এবং প্রকাশনা সংস্থাগুলো সামরিক আইনের কমান্ডের অধীনে থাকবে। একইসঙ্গে পার্লামেন্টের কর্মকাণ্ড থাকবে নিষিদ্ধ। ওদিকে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন বেশ কিছু এমপি ও স্টাফ। এর ছাদে অবতরণ করেছে একটি হেলিকপ্টার। ধারণা করা হয়, তা দিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হতে পারে।
mzamin

একটি ঘটনায় আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আটকাবে না: প্রণয় ভার্মা

ভারতে বাংলাদেশ মিশনে বর্বরোচিত হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে জরুরি তলব করা হয়েছিল দেশটির ঢাকাস্থ হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে। মঙ্গলবার বিকালে যথাসময়ে সেগুনবাগিচায় তিনি উপস্থিত হন, সরকারের প্রতিনিধিদের কথা শুনেন। ঢাকার তরফে ত্রিপুরার রাজ্য পুলিশের  উপস্থিতিতে আগরতলাস্থ সহকারী হাই কমিশনে জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অন্তবর্তীকালীন সরকার। মন্ত্রণালয় থেকে ফেরার পথে তলবের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দূত সম্প্রীতির বার্তা দেন। উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপে হাই কমিশনার ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুমাত্রিক, সিঙ্গেল এজেন্ডা অথবা একটি মাত্র ঘটনা এই সম্পর্ককে আটকাবে না। বাংলাদেশ ও ভারত নানা কারণে একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীল জানিয়ে তিনি আশা  করেন- ঘটনা যাই হোক, সম্পর্ক অটুট থাকবে। স্মরণ করা যায়, সেগুনবাগিচায় ভারতীয় দূতের উপস্থিতির আগে থেকে বিদায় অবধি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। কারণ পররাষ্ট্র ভবনের অদূরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের গেটে তখন ভারত বিরোধী বিক্ষোভ চলছিলো। সেখান থেকে কোন অতিউৎসাহী যেন কোন অবস্থাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ভারতীয় দূতের আশপাশে আসতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে সেনা টহলসহ পুলিশের বাড়তি সতর্কতা ছিল। সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন গোটা সেগুনবাগিচা এলাকায়। সোমবার ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা উগ্রপন্থি বিক্ষোভকারী হামলা করে। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নজিরবিহীন ওই হামলার পর প্রতিবাদে দল-মত, জাতি-ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। আজ ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠান। তলব শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক চাই। আমাদের সম্পর্কে  আলোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। অনেক বিষয়ে আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। পারস্পরিক ওই নির্ভরশীলতাকে আমরা উভয়ের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাই। আমরা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের দুই দেশই উপকৃত হয়। এখানে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভারতে বাংলাদেশের মিশনসমূহে নিরাপত্তা বাড়ানো ছাড়াও আগরতলায় ৭ হামলাকারী আটক এবং কর্তব্যে অবহেলার জন্য ত্রিপুরা রাজ্যের ৩ পুলিশ বরখাস্ত এবং একজনকে বদলি করা হয় বলে জানানো হয়েছে। 
mzamin

সংবিধান পুনর্লিখনে ৬৯ দফা প্রস্তাব জাতীয় নাগরিক কমিটির

সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের যে সংস্কারের কথা বলছে, তার সঙ্গে একমত নয় জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর গঠিত সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলছে, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে আগের সংবিধান বাতিল হয়ে গেছে বলে তারা মনে করে। ফলে নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব তাদের, যার মাধ্যমে হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ। এ ছাড়া নতুন সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে দলের প্রধান ও সংসদ নেতাও হতে পারবে না বলে তারা প্রস্তাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সংবিধান সংস্কার কমিশন। সেখানে ৬৯ দফা লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন নাগরিক কমিটির নেতারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও নতুন সংবিধানে প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারাও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের কথা বলছে। তাদের প্রস্তাবগুলো পরে লিখিত আকারে কমিশনে জমা দেয়ার কথা বলেছে সংগঠনটি। জাতীয় নাগরিক কমিটি সংবিধান সংস্কার কমিশনকে যে প্রস্তাব দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার পাশাপাশি পরে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিধান না রাখা, বিরোধীদলীয় নেতাকে ছায়া-মন্ত্রিসভা গঠনের অধিকার দেয়া, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রকে প্রথম রিপাবলিকের প্রস্তাবনা হিসেবে গ্রহণ করে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা, দ্বিতীয় রিপাবলিকের প্রোক্লেমেশন জারি করে তা নতুন সংবিধানের প্রস্তাবনা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব করে জাতীয় নাগরিক কমিটি বলছে, উচ্চকক্ষের নাম হবে জাতীয় পরিষদ ও নিম্নকক্ষের নাম হবে আইনসভা। তিনশ’ আসনের আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হবে জনগণের ভোটে। আর ১০০ সদস্যের জাতীয় পরিষদ হবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে। এরমধ্যে ৩৩টি আসনে পেশাজীবী-কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-আইনজীবী- চিকিৎসক- প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-সাংবাদিকসহ আইনে তফসিলভুক্ত পেশা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষকে মনোনয়ন দিতে হবে। আইন পাসে উভয় কক্ষের অনুমোদনের বিধানের প্রস্তাব করে তারা। তাদের প্রস্তাব- নতুন লিগ্যাল ফ্রেম অর্ডারের অধীন গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা, সংবিধান প্রণয়ন সম্পন্ন হলে গণপরিষদই আইনসভায় রূপ নেবে, সংবিধানে প্রত্যেক জাতিসত্তার স্বীকৃতি থাকা, বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচিত করা, সংবিধানের প্রস্তাবনায় গণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির বিধান রাখার পাশাপাশি গণভোটের বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে সংবিধানে পরিবর্তনও শুধু গণভোটে করার প্রস্তাব করেছে নাগরিক কমিটি। স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রস্তাব করে নাগরিক কমিটি বলছে, এর প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির অধীনে আলাদা সচিবালয় ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তারা মনে করে রাষ্ট্র সরকারের নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের বাইরে আনা গেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আর প্রয়োজন হয় না। তবে আগামী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলেও মত দিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রশাসন নির্বাচনের আগের তিন মাস নির্বাচন কমিশনের অধীনে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবিধান কীভাবে পুনর্লিখন হবে, এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আগের সংবিধান বাতিল হয়ে গেছে বলে আমরা মনে করি। আমরা দীর্ঘসময় ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। সেটা গণপরিষদের মাধ্যমে বা অন্যকে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই দাবি ও প্রস্তাবনা আমরা করছি। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলছেন, তাদের সঙ্গে আমরা একমত নই।

আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান সংবিধানের সজ্জা, গঠন দেখলে মনে হয় এটা যেন আওয়ামী লীগের কোনো দলিল। আমরা আওয়ামী দলিল এবং যে সংবিধানের মধ্যে একজন ব্যক্তিতে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট গড়ে তোলার উপাদান রয়েছে, সেরকম সংবিধান রাখতে চাই না। আমরা জনগণের কাছে এ আহ্বান রাখছি। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। গণপরিষদ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণপরিষদ হবে। সেখানে যারা অংশীজন আছেন, তারা সেটা ঠিক করবে। এক্ষেত্রে গণপরিষদ নির্বাচনে যারাই নির্বাচিত হয়ে আসবেন, সংবিধান প্রণয়নের পরে তারাই আইনসভার সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে নতুন করে সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন থাকছে না। সংবিধান পুনর্লিখনের প্রস্তাব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে বলে জানান এই সংগঠনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল। তিনি বলেন, আমরা পুনর্লিখনের কথা বলেছি। গণপরিষদ লাগবে। গণপরিষদ নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের লিখিত স্বীকৃতি থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য রাষ্ট্রপতির হাতে কিছু ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা করেছে বলে জানান আরিফ সোহেল।

তার ভাষ্য, সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, বিচারপতি নিয়োগের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন, একইসঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল অগণতান্ত্রিক আচরণ করলে তাদের আদালত থামিয়ে দিতে পারে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, সংবিধান এমনভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে রাষ্ট্রের তিনটি অর্গানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। বিচারপতি নিয়োগের বিধান নিশ্চিতে আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর কুক্ষিগত হয়ে কাজ করে, তাই আলাদা সচিবালয় করার প্রস্তাব দিয়েছি। সংবিধানে ছাত্রদের মতামতের প্রতিফলন সংবিধানে রাখার পরামর্শ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিয়েছে। মতবিনিময় সভায় জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, কেন্দ্রীয় সদস্য সারোয়ার তুষার, মুকুল মুস্তাফিজ, জহিরুল ইসলাম মুসা, আতিক মুজাহিদ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত। আর সংবিধান সংস্কার কমিশনের পক্ষে ছিলেন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ফিরোজ আহমেদ, মুস্তাইন জহির, সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, মইন আলম ফিরোজি, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী।

mzamin

উত্তেজনা তুঙ্গে: ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব, আগরতলায় কনস্যুলার সেবা বন্ধ

ভারতের আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় দুই দেশের  সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। সোমবার দুপুরের ওই ঘটনার পর রাতে কড়া প্রতিবাদ নোট পাঠিয়েছিল ঢাকা। মঙ্গলবার  বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে ফিজিক্যালি প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। সেখানে বহুমাত্রিক সম্পর্ক রাখতে চাইলে আবশ্যিকভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন,  পদস্থ কূটনীতিক, নন-কূটনীতিক স্টাফ মেম্বার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া পদক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে আগরতলার বর্বোরচিত হামলার পুঙ্খানুপঙ্খ ঘটনায় তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। হাইকশিনারকে খোলাসা করেই বলা হয়েছে, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, মিডিয়া এবং উগ্রপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, যা বন্ধ না করলে মানুষে মানুষে গড়ে ওঠা দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক কেবলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তলব নিয়ে সরকারের তরফে বিস্তারিত জানানো হয়নি এখনো। তবে অনানুষ্ঠানিক সূত্র বলছে, সোমবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছিল সেটি মঙ্গলবার হাইকমিশনারের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। সামগ্রিকভাবে এটা জানানো হয় যে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক একটা রূপ আছে। আবার ত্রিপুরাসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ ঘনিষ্ঠ। তাই স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রাখার স্বার্থে আগরতলা, কলকাতা, মুম্বইসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ঘিরে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতীয় হাইকমিশনারও জানিয়েছেন, আগরতলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বেশ ক’জন বিক্ষোভকারীকে আটক এবং কর্তব্যে অবহেলার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মিশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ভারতীয় দূত সরকারের প্রতিনিধিদের বলেন, কেবল ত্রিপুরায় নয় দিল্লি, কলকাতা, মুম্বইসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ঘিরে সতর্ক রয়েছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী।

উত্তেজক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের তলবের জবাব দিয়ে ভারতীয় দূত অবশ্য সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। সেগুনবাগিচা থেকে প্রস্থানের মুহূর্তে উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুমাত্রিক, সিঙ্গেল এজেন্ডা অথবা একটিমাত্র ঘটনা এই সম্পর্ককে আটকাবে না। বাংলাদেশ ও ভারত নানা কারণে একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীল জানিয়ে তিনি আশা  করেন- ঘটনা যাই হোক, সম্পর্ক অটুট থাকবে। স্মরণ করা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় গত সোমবার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ঢুকে হামলা চালানো হয়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠনের সমর্থকেরা ন্যক্কারজনক ওই হামলা চালায়। এদিন মুম্বইয়ের বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কাছাকাছি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) আয়োজনে কয়েক শ’ লোক বিক্ষোভ করেন। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি হলো ভিএইচপি’র সহযোগী সংগঠন। আগরতলার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক বিবৃতি দেয় দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক।

সেইসঙ্গে আগরতলাসহ অন্যান্য মিশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে ভারত সরকার। তবে আগরতলার হামলার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ঘটনা বাংলাদেশ সরকারকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ঘটনাপ্রবাহ দেখে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের লঙ্ঘন। এ ছাড়া ওই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। কয়েক দিন ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভের প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ হয়। উল্লেখ্য, রোববার ফেনীর সীমান্তবর্তী পরশুরামের বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ভারত অংশে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সনাতনী হিন্দুসমাজের ব্যানারে কিছু ভারতীয় ওই বিক্ষোভ করেন। তার আগে সিলেট সীমান্তেরও  বিক্ষোভ করেন ভারতীয়রা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) তাদের প্রতিবাদী মিছিলের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকায়। এর আগে ২৮শে নভেম্বর বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ নামের একটি সংগঠন কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। ওই ঘটনারও কড়া প্রতিবাদ করেছিল বাংলাদেশ। এরইমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশে শান্তিসেনা পাঠাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এটা স্বীকার্য যে, ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ওই দিনই শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতেই আশ্রয় নেন। সেই থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন।  ভারতের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের টার্গেট করে নাকি নির্যাতন চলছে। যদিও সরকার এ দাবি দফায় দফায় প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টানাপোড়েনে স্থলবন্দর ও শূন্যরেখা প্রায় ফাঁকা। উভয়ের ব্যবসা বাণিজ্য হুমকির মুখে রয়েছে।

একটি ঘটনায় আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আটকাবে না: প্রণয় ভার্মা
এদিকে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে বর্বরোচিত হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার তলব করা হয় দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে। বিকাল ৪টায় সেগুনবাগিচায় উপস্থিত হন তিনি। পরে সরকারের প্রতিনিধিদের কথা শোনেন। মূলত ত্রিপুরার রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে আগরতলাস্থ সহকারী হাইকমিশনে জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতেই তাকে তলব করা হয়। অবশ্য সেগুনবাগিচায় ভারতীয় দূতের উপস্থিতির আগে থেকে বিদায় অবধি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। কারণ পররাষ্ট্র ভবনের অদূরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের গেটে তখন ভারতবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। সেখান থেকে কোনো অতিউৎসাহী যেন কোনো অবস্থাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ভারতীয় দূতের আশপাশে আসতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে সেনা টহলসহ পুলিশের বাড়তি সতর্কতা ছিল। সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন গোটা সেগুনবাগিচা এলাকায়। সোমবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে উগ্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা হামলা করে। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নজিরবিহীন ওই হামলার পর প্রতিবাদে দল-মত, জাতি-ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। আজ ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠান। তলব শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক চাই।

আমাদের সম্পর্কে আলোচনার অনেক বিষয় রয়েছে। অনেক বিষয়ে আমরা একে-অপরের ওপর নির্ভরশীল। পারস্পরিক ওই নির্ভরশীলতাকে আমরা উভয়ের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাই। আমরা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের দুই দেশই উপকৃত হয়। এখানে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় নিরাপত্তা বাড়ানো ছাড়াও আগরতলায় ৭ হামলাকারী আটক ও কর্তব্যে অবহেলার জন্য ত্রিপুরা রাজ্যের ৩ পুলিশ বরখাস্ত এবং একজনকে বদলি করা হয় বলে জানানো হয়েছে। প্রণয় ভার্মার সঙ্গে যা হলো- সোমবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছিল সেটি আজ হাইকমিশনারের হাতে দেওয়া হয়। সামগ্রিকভাবে এটা জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক একটা রূপ আছে। আবার ত্রিপুরাসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ ঘনিষ্ঠ। তাই স্বাভাবিক সম্পর্ক ধরে রাখার স্বার্থে আগরতলা, কলকাতা, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ঘিরে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতীয় হাইকমিশনারও জানিয়েছেন, আগরতলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বেশ ক’জন বিক্ষোভকারীকে আটক এবং কর্তব্যে অবহেলার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মিশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ভারতীয় দূত সরকারের প্রতিনিধিদের জানান, কেবল ত্রিপুরায় নয় দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ঘিরে সতর্ক রয়েছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী।  

আগরতলায় বাংলাদেশের কনস্যুলার সেবা বন্ধ
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার পর সেখানে কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নিরাপত্তার কারণে আপাতত আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে কনস্যুলার সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে ওই মিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা সেবা বন্ধ থাকবে। সন্ধ্যায় ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধের কথা জানিয়ে আগরতলা মিশন নোটিশ জারি করে।

mzamin


ফরমায়েশি মামলা তদন্ত করে পুরস্কার পেয়েছিলেন কাহ্‌হার by আশরাফুল ইসলাম

১৯৭২ সালে এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর) পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন আবদুল কাহ্‌হার আকন্দ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ বছরেরও বেশি সময় চুক্তিতে পুলিশে চাকরি করেছেন তিনি। এ সময় পেয়েছেন পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ‘বিরল’ পদোন্নতি। এর সবই সম্ভব  হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আশীর্বাদে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ মামলাসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন কাহার আকন্দ। মামলা তদন্তের নামে শেখ হাসিনার মিশন বাস্তবায়নই ছিল তার কাজ। এর মাধ্যমে তিনি শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন। ফলে পুলিশ বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঁচবার বিপিএম এবং পিপিএম পদক দেয়া হয়েছে কাহার আকন্দকে।

২০১৯ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর থেকেই তিনি এমপি পদে প্রার্থী হতে এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেন। অথচ ওই মেয়াদে তার কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাবেক আইজিপি, রাষ্ট্রদূত ও সচিব নূর মোহাম্মদ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবং সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে বিগত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পান কাহার আকন্দ। তবে নির্বাচনী দৌড়ে সফল হতে পারেননি তিনি। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হন। শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হওয়ায় এরপরও তাকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল- কাহার আকন্দ মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। তার কাছের মানুষজনকে বলেছিলেনও, নেত্রী (শেখ হাসিনা) তাকে মন্ত্রী করবেন। কিন্তু ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব তার সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। কিশোরগঞ্জ ও কটিয়াদী থানায় দায়ের হয় ৩ মামলা। অপকর্মের দায় থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরদিন ৬ই আগস্ট কাহার আকন্দ নিরাপদে দেশ ছেড়েছেন বলেও তার কাছের অনেকগুলো সূত্র জানিয়েছে। তবে অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করছেন না। তারা মনে করছেন, দেশেই কোথাও আত্মগোপনে রয়েছেন কাহার আকন্দ।
এদিকে মানবজমিনের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সামান্য একজন দারোগা হিসেবে চাকরি শুরু করা কাহার আকন্দের পারিবারিক অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। বাবা মৃত মেহেদি আকন্দ ছিলেন কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বপুরুড়া গ্রামের একজন দরিদ্র কৃষক। বনগ্রাম আনন্দ কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের এ বিদ্যালয়ে তিনি হেঁটে যাতায়াত করতেন। সেখান থেকেই ১৯৬৭ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন মহকুমা সদরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। তখন তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে তিনি পুলিশে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসআই পদে চাকরি নেন। চাকরির ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে হন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তিনি পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরির বেশিরভাগ সময়ই তার কেটেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ জামানায় শুরু হয় তার স্বর্ণযুগ। ১৯৯৬ সালের ১৪ই নভেম্বর সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল কাহার আকন্দ। এরপর তিনি জেলহত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে। একই সঙ্গে চাকরিতে ফেরানো হয় চাকরিচ্যুৎ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাহার আকন্দকে। ২০০৯ সালের ২৮ই জানুয়ারি চাকরি ফেরত পাওয়ার একদিন পরই তিনি অবসরে যান। কিন্তু অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে আবদুল কাহার আকন্দকে চুক্তিতে সিআইডিতে বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়। চুক্তিতে ফিরেই কাহার আকন্দ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের ৩রা জুলাই আসামির তালিকায় আরও ৩০ জনকে যোগ করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন কাহার আকন্দ। সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানসহ চারদলীয় জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নাম ঢুকিয়ে দেন কাহার আকন্দ।
অনুসন্ধান এবং কাহার আকন্দের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, কাহার আকন্দের ফর্মুলা ছিল তদন্তে শেখ হাসিনার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো। শেখ হাসিনার মিশন বাস্তবায়ন করাই ছিল তার কাজ। এর মাধ্যমে তিনি শেখ হাসিনার আনুকুল্য পাওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্লাট-প্লট ও বাড়ি করা ছাড়াও কানাডাতেও তিনি একাধিক বাড়ি করেছেন। এ ছাড়া গড়েছেন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-এর জামানায় খিলগাঁওয়ের তালতলার কাহার আকন্দ একটি বহুতল ভবন করেছেন। আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় একাধিক ফ্লাট-প্লট ও বাড়ি করেছেন। এক সময় তিনি তালতলা’র বাসায় থাকলেও সর্বশেষ তিনি বসুন্ধরা এলাকার ফ্লাটে থাকতেন। দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে অন্তত হাজার কোটি টাকার মালিক বনেছেন কাহার আকন্দ। এ ছাড়া তার ভাই স্থানীয় সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আকন্দের নামেও বিপুল পরিমাণ সহায়-সম্পদ করেছেন।

mzamin

রহস্যময় গুপ্ত সংগঠন ইলুমিনাতি সম্পর্কে যা জানা যায়

ইলুমিনাতি, নামটি শুনলেই চোখে ভেসে উঠে রহস্যময় এক গুপ্ত সংগঠনের নাম। যারা পুরো পৃথিবীজুড়ে বিছিয়ে রেখেছে এক ভয়াবহ যড়যন্ত্রের জাল। কারা এ সংগঠনের সদস্য আর কীভাবে কাজ করে তা জানার আগ্রহ সবার। বলা হয়ে থাকে ইলুমিনাতির সদস্যরা মিশে থাকে আমাদের আশপাশেই, তাদের চেনা যায় না বা ধরা যায় না, কিন্তু টের পাওয়া যায়। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক গুপ্ত এ সংগঠন সম্পর্কে কিছু অজানা দিক।

আজ থেকে ২৪৮ বছর আগে ‘ইলুমিনাতি’ নামে একটি গোপন আর বাস্তব সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্য অর্ডার অফ দ্য ইলুমিনাতি বা ইলুমিনাতি হলো ব্যাভারিয়াতে প্রতিষ্ঠিত একটি গোপন সমাজ। যা বর্তমান আধুনিক জার্মানির অংশ। এই সংগঠনটি ছিল ১৭৭৬ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত।

ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আইনের অধ্যাপক অ্যাডাম উইসাপট। ইলুমিনাতি গোষ্ঠীর প্রথম বৈঠকটি ১৭৭৬ সালের পহেলা মে ইঙ্গলস্ট্যাড শহরের কাছে একটি জঙ্গলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়, যেখানে পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং ওই পাঁচজন সংগঠনের গোপন আদেশ পরিচালনা করবে, এমন নিয়ম জারি করা হয়েছিল।

এক সময় গোষ্ঠীটি রাজনীতি, রাজতন্ত্র ও চার্চের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব বাড়াতে থাকে। ইলুমিনাতির কিছু সদস্য পরে তাদের সংগঠনে নতুন সদস্য আনতে ফ্রিম্যাসন সোসাইটিতে যোগ দেয়। ফ্রিম্যাসন সোসাইটি হলো শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত একটি প্রাচীন গোপন সমাজ, যেখানে সব সদস্য একে অপরকে সাহায্য করে এবং নিজেদের যোগাযোগের জন্য গোপন চিহ্ন ব্যবহার করে। পরে ‘বার্ড অফ মিনার্ভা’ নামের একটি পাখি এই সমাজের প্রতীকী চিহ্ন হয়ে ওঠে। বার্ড অফ মিনার্ভার এই বার্ড আসলে একটি পেঁচা, যা রোমান জ্ঞানের দেবী মিনার্ভার প্রতীক।

কেউ যদি ইলুমিনাতিতে যোগ দিতে চায়, তাহলে তার সেই সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের অনুমতি এক কথায় সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সেইসাথে তাদের অঢেল সম্পদের মালিক হতে হবে এবং খ্যাতমান হতে হবে। এ ছাড়াও, ইলুমিনাতিতে সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে কিছু শ্রেণি বিভাজন দেখা যায়।

একজন নতুন সদস্য হিসেবে এই সংগঠনে প্রবেশ করার পর তিনি নভিস পদবি পান। এরপর তিনি হন মিনারভাল। যা কি না নভিসের এক ধাপ উপরের স্তর। এর চাইতে উপরের স্তর হলো ‘এনলাইটেনড মিনারভাল’। সংস্থাটির পূর্ণ সদস্য হতে হলে ১৩টি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

১৭৮৪ সালে, ব্যাভারিয়ার শাসক কার্ল থিওডর আইন দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন কোনো করপোরেশন বা সমাজ তৈরি করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পরের বছর তিনি দ্বিতীয় ডিক্রি পাস করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে ইলুমিনাতিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ওই সময় ইলুমিনাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেখানকার সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হতো, তখন বেশ কিছু নথি পাওয়া যায়, যেখানে নাস্তিক্যবাদ এবং আত্মহত্যার মতো ধারণাকে সমর্থন করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে গর্ভপাত করার নির্দেশনাও পাওয়া যায়।

ছবি : সংগৃহীত

লুট করা অস্ত্রে প্রেমিকাকে হত্যা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গুলিতে নিহত শাহিদা আক্তার (২২) অন্তঃসত্ত্বার জন্য প্রেমিক তৌহিদ শেখ (২৩)কে বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই প্রেমিক তৌহিদ শেখ থানা লুট করা অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করে শাহিদাকে। সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার।

নিহত শাহিদা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার বেগুনবাড়ির বরিবয়ান এলাকার প্রয়াত আবদুল মোতালেবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ওয়ারী থানার যুগীনগর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গ্রেপ্তার প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারীর বনগ্রাম এলাকার প্রয়াত শফিক শাহ’র ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জে ক্লুলেস হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার  বলেন, শাহিদাকে গুলি করে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তৌহিদ শেখ। আমরা তাকে (তৌহিদকে) হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তৌহিদ আমাদের জানিয়েছে, তার সঙ্গে শাহিদার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।  কিন্তু তৌহিদ তার পরিবারের পছন্দের অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কও ছিল। শাহিদা তৌহিদকে বলেছিল সে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে সামপ্রতিক সময়ে শাহিদাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল সে। এবিষয়টি শাহিদা বুঝতে পেরে তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে শাহিদাকে মুঠোফোনে ওয়ারীর বাড়ি থেকে মাওয়ায় ইলিশ খাওয়ার কথা বলে ডেকে আনে তৌহিদ। শাহিদাকে নিয়ে খাওয়া- দাওয়া শেষে রাতভর মাওয়া এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। শনিবার ভোরে শ্রীনগর দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়েতে শাহিদাকে নিয়ে আসে তৌহিদ। সেখানেই তার সঙ্গে থাকা ওয়ারী থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে শাহিদাকে গুলি করে হত্যা করে।
হত্যার পর তৌহিদ দোগাছি এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে পিস্তলটি কেরানীগঞ্জের বটতলী বেইলি সেতুর নিচে ফেলে যায়। রোববার তৌহিদ আত্মগোপনে ছিল।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, তৌহিদ তার পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় সোমবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাপক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরবর্তীতে ভোলার ইলিশাঘাট এলাকায় লঞ্চের কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এর আগে গত শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সমসপুর এলাকার দোগাছি সার্ভিস সড়ক থেকে শাহিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে কয়েকটি গুলির খোসা পড়ে ছিল। তার শরীরে আটটি গুলির ছিদ্র ছিল।

সেদিন দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে শ্রীনগর থানায় নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেখান থেকে শাহিদার মুঠোফোনে থাকা নম্বরের মাধ্যমে তার মায়ের নম্বর পাওয়া যায়। বিকালে জরিনা বেগম এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর নিহত তরুণীর মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন। পরে রোববার সকালে ওই মামলায় একমাত্র নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় তৌহিদকে। রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে শাহিদার লাশ ময়মনসিংহের বরিবয়ান গ্রামে দাফন করা হয়।

নিহতের মা জরিনা বেগম বলেন, তিন মাস আগে শাহিদা ও তৌহিদ সবার অজান্তে চাঁদপুরে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে তৌহিদ আমার মেয়েকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়। তখন তাদের মধ্যে প্রেমের বিষয়টি আমি জানতে পারি। পরে তৌহিদের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিই। জানতে পারি, তৌহিদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ছেলে হিসেবেও ভালো না। আমার মেয়েকে ওই ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তৌহিদ বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেত। আমার মেয়েটাকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি সঠিক কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিতভাবে জানার কথা বলেন পুলিশ সুপার। তবে শাহিদা অন্তঃসত্ত্বা ছিল কিনা এমনটা জানে না তার মা জরিনা বেগম।

মুন্সীগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইশতিয়াক রাসেল বলেন, আসামি তৌহিদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

mzamin

সমসাময়িকতায় পরিপূর্ণ মানবিক ইত্যাদি

ইত্যাদি সব সময়ই অনন্য, অসাধারণ; নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। টানা তিন যুগ ধরে আলো ছড়ানো ইত্যাদির জৌলুস বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। এবারে অনুষ্ঠান ধারণের স্থান বাগেরহাটের মোংলা বন্দর। এবারের ইত্যাদি দেখে একটা অদ্ভুত উপলব্ধি হলো। সেটা হচ্ছে, ইত্যাদি যেন অনিন্দ্য সুন্দর এই বাংলাদেশকে আরও নান্দনিকভাবে তুলে ধরছে দুর্দান্ত মুন্সিয়ানায়। আর এই মুন্সিয়ানার কারিগর তো সেই কিংবদন্তি হানিফ সংকেত। গত প্রায় দেড় দশক থেকে ইত্যাদি যখন চার দেয়াল পেরিয়ে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়তে থাকলো, তখনই বিভিন্ন জেলা সম্পর্কে আমরা জানতে থাকলাম নতুন করে। নতুনভাবে যেন আমরা জেলাগুলোকে আবিষ্কার করেছি। এবার বাগেরহাট সম্পর্কে যে প্রতিবেদন বা যে নৃত্যগীত পরিবেশিত হয়েছে, তা যেন আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য তো ছিলই, ছিল অনেক অজানা তথ্যও। এ যেন পর্যটনবান্ধব এক আয়োজন। প্রতিবেদনও যে কতোটা হৃদয়গ্রাহী, আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে তোলা যায় সেটার প্রমাণ এবারের ইত্যাদি। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের রুমিছা বেগমকে নিয়ে করা প্রতিবেদনটি একইসঙ্গে মানবিক, হৃদয়ছোঁয়া ও অনুপ্রেরণামূলক। স্বামী অসুস্থ বলে নিজে দমে যাননি; ইঞ্জিনভ্যান চালিয়ে গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ মুদির দোকান। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি। একজন নারী হয়ে সংসারের বোঝা কাঁধে নেয়ার এই চিত্র বহু মানুষকে যে অনুপ্রাণিত করবে তাতে সন্দেহ নেই। মোশারফ গাজীকে নিয়ে করা আরেকটি মানবিক প্রতিবেদনও দর্শকদের অশ্রুসিক্ত করে তুলেছে। পেটের তাগিদে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে শেষে কুমিরের আক্রমণে তিনি নিহত হন। বন বিভাগের জারি করা নিষিদ্ধ সময়ে বনে প্রবেশ করায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংসারের অভাব-অনটন আর স্বামীর সুন্দরবনের যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মোশারফের স্ত্রী। সুন্দরবন-সংলগ্ন কিছু মানুষের জীবিকার চিত্র উঠে আসার পাশাপাশি নিষিদ্ধ সময়ে বনে প্রবেশের বিষয়ে সতর্কতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। সমসাময়িক কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে দুর্দান্ত একটি বিষয় এসেছে এক নাট্যাংশে। বর্তমানে তো বহুল আলোচিত বা চর্চিত একটি শব্দ হলো ‘সংস্কার’। একটি নাট্যাংশে দেখানো হলো যে ‘আত্মসংস্কার’ কতোটা প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, যত ধরনের সংস্কারই করা হোক না কেন, আমরা যদি নিজেকে সংস্কার না করি, নিজের মনের সংস্কার না করি, নিজেরা কাজে-কর্মে বা আচার-আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন না নিয়ে আসি, তাহলে কোনো ভালো ফলই আসবে না। চরম বাস্তব এই বার্তাটি দেয়ার জন্য ইত্যাদিকে বিশেষ ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে। সমসাময়িক আরও দু’টি আলোচিত বিষয় হলো ‘চুরি’ ও ‘ঘুষ’। এই দুই বিষয়ে দুইজন ‘গবেষক’কে নিয়ে করা দু’টি নাট্যাংশও বেশ প্রশংসার দাবিদার। চুরি ও ঘুষের সেকাল-একাল এবং চোর ও ঘুষখোরের সেকাল-একাল নিয়ে রসাত্মক কিন্তু চরম বিদ্রূপাত্মক নাট্যাংশ দু’টিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে। আরেকটি নাট্যাংশে ঋণখেলাপিদের চেয়েও ভিক্ষুকদের জমানো টাকার পরিমাণ বেশি- এমন তুলনা শুধু চরম বাস্তবতার দিকেই কটাক্ষপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। এবার নানি-নাতি পর্বেও সমসাময়িক বিষয় উঠে এসেছে। ‘কালার’ দেয়া, অর্থাৎ কাউকে পছন্দ না হলে কোনো একটা তকমা লাগিয়ে দেয়ার নেতিবাচক বিষয়টি উঠে এসেছে তাদের মজার আলাপচারিতায়। এ ছাড়া দর্শক পর্ব, বিদেশি প্রতিবেদন ও বিশেষ ম্যাজিকও ছিল বেশ উপভোগ্য। সবমিলিয়ে বলা যায়, ইত্যাদি ইত্যাদিই। হানিফ সংকেত হানিফ সংকেতই। তাকে শুধু তিনি নিজেই ছাড়িয়ে যেতে পারেন। ভালো থাকুন আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় এই নান্দনিক কারিগর।
mzamin

মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন ইরানি সঙ্গীততারকা

ইরানে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন র‌্যাপার সঙ্গীতশিল্পী তুমাজ সালেহী (৩৪)। মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে তিনি দুই বছর কারাগারে ছিলেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার জন্য তাকে আটক করেছিল কর্তৃপক্ষ। এর আগে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান মাশা আমেনি নামের এক যুবতী। তারপর থেকে ইরানে নারীদের অধিকারের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা হয়। এই আন্দোলনকে জনসমূখে সমর্থন করেন তুমাজ সালেহী। এ জন্য তাকে ২০২২ সালের অক্টোবরে আটক করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

উল্লেখ্য, সালেহী তার গানে কঠোরভাবে ইরানি নেতাদের সমালোচনা করেন। এ কারণে ইরান সরকার তাকে কনসার্টে পারফর্ম করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাকে ছয় বছর তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়। সালেহী কোনো প্রমাণ ছাড়াই গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের নামে ভুয়া পোস্ট শেয়ার করে নির্যাতনের দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ কারণে কিছুদিন পর তাকে পুনরায় আটক করা হয়। এরপর  ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ভয়াবহ অপরাধের কারণে, যদিও পরবর্তীতে এই রায় বাতিল করা হয়। এই র‌্যাপারকে সাইবারস্পেসে মিথ্যা ছড়ানো, জনগণের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি এবং প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়নের মতো কয়েকটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ইনডেক্স অন সেনশরশিপ নামে একটি সংস্থা তার মুক্তির খবরকে স্বাগত জানায়। তারা আরো জানায় সালেহীকে  আটক করা উচিত হয়নি।  পুরো ইরান মাশা আমিনের মৃত্যু নিয়ে উত্তপ্ত থাকার মুহূর্তে তাকে আটক করা হয়।

mzamin

ভারতীয়দের বাধা: সিলেট সীমান্তে আটকা পণ্যভর্তি ৪ শতাধিক ট্রাক by ওয়েছ খছরু ও মিনহাজ উদ্দিন

সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথিত অভিযোগ তুলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ‘বাংলাদেশ চলো’ কর্মসূচির কারণে সিলেট সীমান্তের ওপারে ভারতের অংশে পণ্যভর্তি প্রায় ৪ শতাধিক ট্রাক আটকা পড়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব ট্রাক আটকে থাকার কারণে পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই ট্রাক বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে ভারত অংশের ব্যবসায়ীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে হিন্দু ঐক্যমঞ্চ’র নেতারা। এ কারণে দোটানায় রয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা; এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়ীরা।

গত রোববার সিলেটের বিয়ানীবাজারের শ্যাওলা স্থলবন্দরের ওপারে বড় আকারের মুভমেন্ট করে ভারতের আসাম রাজ্যের বরাকভ্যালির হিন্দু ঐক্যমঞ্চের নেতারা। এই মুভমেন্টের কারণে ওই বন্দরে ২ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। সোম ও মঙ্গলবার আরও শতাধিক ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দর এলাকায় আসে। তবে পণ্যসহ ট্রাক সীমান্তের ওপারে আটকা রয়েছে। ভারত অংশের সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে যাতে কোনো ট্রাক না ঢুকতে পারে সে কারণে হিন্দু মঞ্চ’র নেতাদের নজরদারি রয়েছে। ফলে ওই বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির রয়েছে। একইসঙ্গে বন্দরের এপাশে বাংলাদেশ অংশে আরও ৫০ থেকে ৬০টি পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। এই ট্রাকগুলোও মালামাল নিয়ে ঢুকতে পারছে না। সমস্যাটা মূলত ভারত অংশের। হিন্দুমঞ্চ’র নেতাদের হুমকির কারণে এ বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্যাওলা বন্দরের ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার সকাল থেকে কয়েক দফা মুভমেন্টের পর করিমগঞ্জের আরেক বর্ডার স্টিমার ঘাট দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ চক্রবর্তীর আল্টিমেটামের কারণে করিমগঞ্জ স্টিমার ঘাটের আমদানি-রপ্তানিকারকরা ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এতে করে জকিগঞ্জ অংশেও পণ্যবাহী ২০-২৫টি ট্রাক আটকে আছে। সিলেটের এই দুটি স্থলবন্দর দিয়ে মূলত পাথর, কমলাসহ নানা ধরনের পণ্য আসে। বিশেষ করে পাথর আমদানি করা হয় বেশি। রাজনৈতিক মুভমেন্টের কারণে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছেন। সিলেট জেলা পাথর আমদানিকারক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন- হঠাৎ করেই তিন দিন আগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এ বন্ধ হওয়ার জন্য মুভমেন্টই দায়ী। ভারত অংশের ব্যবসায়ীরা সব কার্যক্রম শেষে আটকা পড়েছে ৪ শতাধিক ট্রাক। এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও তারা ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু ভারতের ব্যবসায়ীরা সমস্যা সমাধানের কোনো সুখবর দিতে পারেননি। তিনি বলেন- এখন যেসব পণ্যবাহী ট্রাক আটকা আছে সেগুলোর মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ীরা। শেওলা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী কমর উদ্দিন জানিয়েছেন- শনিবার থেকে দুই দেশের ট্রাক আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে সোমবার বাংলাদেশ থেকে প্রাণ আরএফএলের দুইটি ট্রাক পণ্য নিয়ে গেলেও ভারত থেকে কোনো ট্রাক আসেনি। মঙ্গলবার পোর্টের কার্যক্রম একেবারের বন্ধ রয়েছে।

তামাবিল স্থলবন্দর পাথর, কয়লা আমদানি বন্ধ: তামাবিল বন্দরেও পাথর ও কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। ব্যস্ততম এ স্থলবন্দরে পাথর, কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আমদানি করে নিয়ে আসা পাথরবাহী ট্রাকে কাদামাটি, আবর্জনাসহ ওয়ে স্কেলে কড়াকড়িভাবে ওজন নির্ণয়ের কারণে ওজন জটিলতায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাথর-কয়লা আমদানি থেকে বিরত রয়েছেন। এমতাবস্থায় পাথর আমদানি চালিয়ে নিলে ব্যবসায়ীরা পাথরবাহী ট্রাক প্রতি ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সোমবার তামাবিল স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের ডাউকী বন্দর এলাকায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতারা বিক্ষোভ করেছেন। এই বিক্ষোভকে ঘিরে তামাবিল বন্দরেও উত্তাপ বিরাজ করছে। বিক্ষোভের কারণে নতুন করে বন্দর চালু করতে ভয় পাচ্ছেন ডাউকী এলাকার রপ্তানিকারকরা। তামাবিল স্থলবন্দরের আমদানিকারক মেসার্স মিসবাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিসবাহউল আম্বিয়া ও মেসার্স রেজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস উদ্দিন লিপু জানান- ওজন জটিলতায় আমরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছি। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে পাথর আমদানি করে যেখানে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ওপারে পাথর-কয়লাবাহী শত শত ট্রাক লাইনে দাড়িয়ে আছে। রপ্তানিকারকরা আমাদের কাছে এসব পণ্যবাহী ট্রাকের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান সমন্বয়ক হেনরী লামিন বলেন- আমাদের বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করে ব্যবসা করে আসছিলো। এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের পরবর্তী সরকার ব্যবস্থা আসার পর হঠাৎ করে তামাবিল স্থলবন্দরে পাথর ও কয়লাবাহী ট্রাকসমূহ পুরোপুরি ওজনের আওতায় আনা হয়েছে। এতে করে আমাদের আমদানিকারকরা প্রতিদিন বড় অঙ্কের লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন। কেননা পাথরবাহী ট্রাকের পাথরের সঙ্গে কাদা, পানি এমনকি উচ্ছিষ্ট আবর্জনাও চলে আসে। তবে সোমবারের বিক্ষোভের পর থেকে ওই বন্দর দিয়ে আসা অন্যান্য মালামাল আসাও বন্ধ রয়েছে।