Thursday, November 28, 2024

ঝাড়খন্ডে নারীকে হত্যার পর লাশ ৪০ টুকরা করেছেন তাঁর সঙ্গী

ভারতের ঝাড়খন্ডে এক তরুণ তাঁর নারী সঙ্গীকে জঙ্গলের ভেতর নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ৪০ থেকে ৫০ টুকরা করে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

ঝাড়খন্ডের খুন্তি জেলায় রোমহর্ষ ওই ঘটনা ঘটেছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছে পুলিশ। তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম নরেশ ভেংরা।

ওই নারীকে হত্যা করার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে। পুলিশ বলেছে, ২৪ নভেম্বর জারিয়াগড় থানার জরদাগ গ্রামের কাছে একটি বুনো কুকুর মানবদেহের একটি কাটা হাত নিয়ে বেরিয়ে আসে।

নরেশ কয়েক বছর ধরে খুন্তি জেলারই এক তরুণীর (২৪) সঙ্গে তামিলনাড়ুতে বসবাস করছিলেন। বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া একত্রে থাকতেন তাঁরা। সম্প্রতি নরেশ ঝাড়খন্ডে ফিরে আসেন এবং অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন। নিজের বিয়ের বিষয়ে তিনি তাঁর সঙ্গী তরুণীকে কিছু জানাননি। বিয়ের পর তিনি আবার তামিলনাড়ু ফিরে যান ও সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

খুন্তি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমান কুমার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে ৮ নভেম্বর। সেদিন নরেশ তাঁর সঙ্গীকে নিয়ে খুন্তি আসেন। কিন্তু তাঁকে (তরুণী) জরদাগ গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে না গিয়ে বাড়ির কাছের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। পরে হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে ফেলেন।’

পুলিশ পরিদর্শক অশোক সিং এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তামিলনাড়ুতে একটি দোকানে কসাইয়ের কাজ করেন নরেশ।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, তিনি (নরেশ) ওই নারীর মরদেহ ৪০ থেকে ৫০ টুকরা করে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন। টুকরাগুলো তিনি জঙ্গলে ছড়িয়ে দেন, যেন এখানকার প্রাণী সেগুলো খেয়ে ফেলে। ২৪ নভেম্বর একটি কুকুর একটি কাটা হাত নিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ জঙ্গল থেকে মরদেহের আরও কয়েকটি টুকরা উদ্ধার করে।

নিহত তরুণী নরেশের বিয়ের বিষয়ে কিছু জানতেন না এবং তিনি নরেশকে খুন্তি ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তামিলনাড়ু থেকে ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচি পৌঁছানোর পর তাঁরা নরেশের গ্রামে আসতে ট্রেনে চাপেন।

পুলিশ কর্মকর্তা অশোক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী নরেশ একটি অটোরিকশায় করে ওই তরুণীকে গ্রামে বাড়ির কাছে একটি জঙ্গলে নিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর ধারালো অস্ত্র হাতে ফিরে আসেন ও তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ টুকরা টুকরা করে বাড়ি ফিরে যান।

তরুণী নিজের মাকে তাঁর খুন্তি আসার ও নরেশের সঙ্গে বসবাস করার কথা বলেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে জঙ্গলে যেখানে দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়, সেখানে পুলিশ একটি ব্যাগও দেখতে পায়। তারা ব্যাগে তরুণীর অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে আধার কার্ড পায়। পরে তরুণীর মা ব্যাগে থাকা অন্যান্য জিনিসপত্র তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

তরুণীর মা মেয়ের সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে পুলিশের কাছে নরেশের নাম বলেন। পুলিশ নরেশকে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

খুনের প্রতীকী ছবি

ড্রয়ারে ৩ বছর ধরে শিশুকন্যাকে লুকিয়ে রেখেছিলো মা

একজন মা তার শিশুকন্যাকে জন্মের পর থেকে তিন বছর ধরে ড্রয়ারে লুকিয়ে রেখেছিলেন। শিশুটির প্রতি “চরম অবহেলা' এবং পৈশাচিক ব্যবহারের জন্য ওই নিষ্ঠুর মায়ের সাত বছর ছয় মাসের জেল হয়েছে। মামলাটির শুনানি হয় যুক্তরাজ্যের চেস্টার ক্রাউন কোর্টে। চরম অবহেলা এবং নির্যাতনের পরিণতি হিসেবে শিশুটি এখন শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতবিক্ষত। চেশায়ারের বাড়িতে তৃতীয় জন্মদিনের কয়েক সপ্তাহ আগে শিশুকন্যাকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন সে রীতিমতো অপুষ্টিতে ভুগছে। শরীর প্রায় পানিশূন্য। গুরুতর বিকাশগত সমস্যায় জর্জরিত ছিল সে। তার গোটা ত্বক ফুসকুড়িতে আবৃত ছিল এবং সারা শরীরে অবহেলার চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। বিচারক স্টিভেন এভারেট বলেন যে শিশুটির মা তাকে সঠিক স্নেহ, যথাযথ মনোযোগ, সঠিক ডায়েট, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিত্সা পরিষেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি সিরিঞ্জের মাধ্যমে দুধযুক্ত উইটাবিক্স খাওয়ানো হতো তাকে। শিশুটির তালু ফেটে গেলেও  তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। শিশুটি একটু যত্নের প্রত্যাশায় ক্ষুধার্ত ছিল।আদালতকে বলা হয়েছিল যে মা শিশুটিকে তার ভাইবোনদের কাছ থেকে লুকাতে বিছানার ড্রয়ারে লুকিয়ে রেখেছিলেন।  তিনি তার সঙ্গীর কাছ থেকে গোপন করতে চেয়েছিলেন যিনি প্রায়শই বাড়িতে থাকতেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়।  সত্যটি সামনে আসে যখন ওই নারীর সঙ্গী একদিন সকালে হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে এসে শোবার ঘর থেকে শিশুর আওয়াজ শুনতে পান। খোঁজ চালানোর পর তিনি শিশুটিকে খুঁজে পান এবং স্বজনদের খবর দেন। ওই নিষ্ঠুর মাকে সাজা দিতে গিয়ে বিচারক স্টিভেন এভারেট তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, 'আপনি যা করেছেন তা বিশ্বাস করাও কঠিন। আপনি ছোট্ট মেয়েটিকে ভালবাসা, যত্ন, খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা ছাড়া যেভাবে রেখেছিলেন তার পরিণতি বিপর্যয়কর হতে পারতো। শিশুটি এখন জীবিত হয়েও মৃত।”

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত দাবি করেন যে তিনি জানতেন না তিনি গর্ভবতী ছিলেন এবং সন্তান জন্মাবার পর ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অফিসারদের বলেছিলেন যে শিশুটি “পরিবারের অংশ নয়”। শিশুটিকে তার পিতার কাছ থেকে দূরে রাখতেই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেন। মেয়েটি এখন ফস্টার কেয়ারে রাখা হয়েছে। একটি বিবৃতিতে, তার তত্ত্বাবধায়ক জানাচ্ছেন, শিশুটি নিজের নাম পর্যন্ত এখনো বুঝতে শেখেনি। প্রসিকিউটররা আশা প্রকাশ করেছেন যে মেয়েটি সুস্থ হয়ে অবশেষে একটি সুস্থ  জীবনযাপন করতে পারবে। বিচারক স্টিভেন এভারেট জানিয়েছেন “আমার ৪৬ বছরে এতো খারাপ কেস আর দেখিনি ।”

সূত্র : গালফ নিউজ

mzamin

কাশী, মথুরা ও সম্ভলের পর এবার আজমির শরিফের জায়গায় মন্দির ছিল বলে দাবি হিন্দুত্ববাদীদের

ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্ভলে জামা মসজিদে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত ঘিরে হিংসা ও বিতর্কের মধ্যেই রাজস্থানের আজমির শরিফ দরগাহ নিয়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা নতুন প্রশ্ন তুলে দিলেন। তাঁদের দাবি, সেখানে খাজা মইনুদ্দিন চিশতি দরগাহটি এক শিবমন্দিরের ওপর গড়ে তোলা হয়েছিল।

সত্য নির্ধারণে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে সেখানকার নিম্ন আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার আদালত নোটিশ পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার, কেন্দ্রীয় সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ও দরগাহ কমিটিকে। এই আবেদন নিয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ ডিসেম্বর।

আবেদনকারী হিন্দু সেনা সংগঠনের প্রধান বিষ্ণু গুপ্ত। আবেদনে তিনি বলেন, অযোধ্যা, কাশী ও মথুরার মতো আজমিরের ওই স্থানেও মুসলমানরা উপাসনালয় গড়ে তোলেন এক শিবমন্দিরের ওপর। তাঁর দাবি, সত্যতা নির্ধারণে ওই দরগাহস্থলের সমীক্ষা বা জরিপ করা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁর আবেদন, সেখানে হিন্দুদের উপাসনা করার অধিকারও দেওয়া হোক।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, ওই আবেদনের ভিত্তিতেই স্থানীয় দায়রা জজ মনমোহন চাণ্ডেল সংশ্লিষ্ট সবার কাছে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আবেদনকারী বিষ্ণু গুপ্ত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, বিচারক তাঁকে আবেদনের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। বিচারককে তিনি জানান, ১৯১০ সালে হরবিলাস সারদা নামের স্থানীয় এক বিচারক, রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ তাঁর লেখা পুস্তকে শিবমন্দিরের অস্তিত্ব থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তাতে লেখা হয়েছিল, আদিতে ওই স্থানে একটি শিবমন্দির ছিল। সেখানে প্রতিদিন চন্দনকাঠের ধূপকাঠি জ্বালানো হতো। পূজা অর্চনা হতো। সেই মন্দিরের ওপরই গড়ে তোলা হয়েছে খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ।

বিষ্ণু গুপ্ত বলেন, তাঁরা চান এএসআইকে দিয়ে জরিপ করিয়ে সত্যতা নির্ধারণের পর ওই উপাসনাস্থলকে মন্দির ঘোষণা করে তা হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। তাঁর দাবি, খাজা মইনুদ্দিন চিশতি আজমিরে জন্মগ্রহণ করেননি। তার আগে ওখানকার রাজা ছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌহান। তাঁর নামেই তৈরি শহরের নাম ছিল অজয়মেরু।

আগামী বছরের জানুয়ারিতে আজমির শরিফ দরগাহ ৮১৩তম ওরস উদ্‌যাপন করবে। দরগাহর রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার সম্পাদক সৈয়দ সারোয়ার চিশতি গণমাধ্যমকে বলেন, মন থেকে না হলেও অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেখানেই বিষয়টি থেমে নেই। কাশী, মথুরা ও সম্ভল ঘটে চলেছে। অথচ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন, সব মসজিদে শিবলিঙ্গ খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই।

একের পর এক এ ধরনের ঘটনার জন্য সারোয়ার চিশতি প্রধানত দায়ী করেন সদ্য অবসর নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে। তিনি উদ্যোগী হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ক চলাকালে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার এক আইন প্রণয়ন করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতার সময় সব উপাসনালয়ের চরিত্র যেমন ছিল, তেমনই রাখতে হবে। বদল করা যাবে না। একমাত্র ব্যতিক্রম অযোধ্যা, যেহেতু সে সময় থেকেই তা ছিল আদালতের বিচার্য।

গত সপ্তাহে উত্তর প্রদেশের সম্ভলের জামা মসজিদে স্থানীয় আদালতের নির্দেশে সমীক্ষক দল জরিপ করতে গেলে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ বাধে। তাতে পাঁচজন নিহত হন। সেখানেও হিন্দুদের একই দাবি। হিন্দু মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে।

উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাজমহল ও কুতুব মিনার নিয়েও এই একই দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, তাজমহলের আসল নাম তেজো মহালয়া। সেটি আসলে ছিল শিবের মন্দির। এ নিয়ে আগ্রায় দায়রা জজের কাছে একাধিক আবেদনও জমা পড়েছিল। যদিও তাজমহল নিয়ে ওই দাবিতে বিচারকেরা সাড়া দেননি।

ভারতের রাজস্থানের আজমির শরিফে ভক্তদের ভিড়
ভারতের রাজস্থানের আজমির শরিফে ভক্তদের ভিড় ফাইল ছবি-এএনআই

আন্দোলন চলমান, শেষ করবেন খান সাহেব : গান্দাপুর

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর আন্দোলন এখনো চলমান এবং দলের চেয়ারম্যান ইমরান খানই এটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) পাকিস্তানের মানসেহরায় এক সংবাদ সম্মেলনে কেপি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বৃহত্তর লড়াই। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এদিকে, পিটিআই বুধবার ভোরে একটি ‘অস্থায়ী স্থগিতাদেশ’ ঘোষণা করেছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দমনপীড়ন চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে, গান্দাপুর স্পষ্ট করেন যে আন্দোলন কেবল ইমরান খানের নির্দেশে শেষ হবে।

তিনি দাবি করেন, পিটিআই একটি অহিংস দল হলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে গ্রেপ্তার, সহিংসতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলাম, কিন্তু সরকার আমাদের ওপর হামলা করেছে।

গান্দাপুর বলেন, সরকার যত বাধা সৃষ্টি করুক, আন্দোলন চলবে। এটি আমাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম।

তিনি কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু আজকের জন্য নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংগ্রাম। তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত ইমরান খান আন্দোলন শেষ করার নির্দেশনা না দেন, ততদিন পর্যন্ত এটি চলবে।

রাজধানী ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের বিক্ষোভে প্রাণহানি ও সহিংসতার প্রতিবাদে গান্দাপুর বলেন, এই প্রতিবাদ একটি বিপ্লব। যদি সরকার এটি থামাতে চেষ্টা করে, জনগণ আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।

এদিকে, সরকার পিটিআইয়ের বিক্ষোভ দমন করতে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করেছে, যার ফলে ৫ পুলিশ সদস্য এবং ৩ রেঞ্জার সদস্য নিহত হয়েছে।

পিটিআই জানায়, সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়ে রাজধানীকে হত্যা ক্ষেত্র বানাতে চাচ্ছে। দলের নেতারা আরও জানান, ইমরান খানের নির্দেশের পর তারা পরবর্তী কৌশল ঘোষণা করবেন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর। ছবি : সংগৃহীত
খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর। ছবি : সংগৃহীত



মালয়েশিয়ায় নার্স সংকট: যেভাবে খুলতে পারে রেমিটেন্সের নতুন দুয়ার by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় দেখা দিয়েছে নার্স সংকট। এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে যদি দেশটির নার্সদের প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত আরো তিন ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

দেশটির ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ নার্সেস (আইসিএন) বলছে, সিভিল সার্ভিস রিমুনারেশন সিস্টেমের অধীনে একটি নতুন নির্দেশনার এসেছে, যেখানে ওয়ার্ড নার্সদের সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪৫ ঘণ্টা কাজ করতে বলা হয়েছে। দেশটিতে এই নিয়ম ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এই পদক্ষেপটিকে একটি স্বল্পমেয়াদি দ্রুত সমাধান হলেও আইসিএন-এর সিইও হাওয়ার্ড ক্যাটন বলছেন যে, পদক্ষেপটি নার্সদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে আরও চাপ বাড়িয়ে দেবে, যা আরও বেশি নার্স হারানোর কারণ হতে পারে।

এদিকে দেশটির ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, মালয়েশিয়া গুরুতর নার্স সংকটের মুখোমুখি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আরও প্রকট করে তুলছে। এর কারণ হিসেবে জনপ্রিয় এ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং ব্রেন ড্রেন সমস্যা।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে আরো জানিয়েছে, গত মে মাসে, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী জুলকেফলি আহমাদ বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নার্সিং কর্মী ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬০% ছাড়িয়ে যাবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নার্স সংকটের এ সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারে কি না? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিলো মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার, মো. শামীম আহসান-এর কাছে, তিনি এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনের মালয়েশিয়া করেসপন্ডেন্ট আরিফুল ইসলামকে বলেন;

"নীতিগতভাবে, আমরা মালয়েশিয়ায় দক্ষ কর্মী ও প্রফেশনালদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেই। মানব সম্পদের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের শুধু শ্রমিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিবর্তনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে নার্সিং একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, কেয়ার-গিভারের চাহিদা সম্পর্কে আমরা শুনেছি। অন্যান্য খাতগুলোর পাশাপাশি আমরা এই খাতগুলো নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই খাতগুলোতে পেশাদারিত্ব সম্পর্কে আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী হতে হবে, কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে লোকাল ভাষার সাথে সম্পূর্ণ অপরিচিতি। যার ফলে, কিছু নিয়োগদাতা অন্য দেশ থেকে কর্মী সংগ্রহ করেছে।"

এদিকে মালয়েশিয়াতে ঘুরতে আসা অনেক ইউরোপীয় বিদেশিরা বলেছেন যে, তাদের দেশে নার্সরা তাদের রোগীদের ভাই, বোন ও মায়ের মতো যত্ন করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তবে আমাদের নার্সদের এখনও এই ধরনের নোংরা কাজ, মানবিকতা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি, পেশাদার মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি একাডেমিসিয়ান, মেডিকেল মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, মেডিকেল সায়েন্টিস্ট এবং যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশপিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত ‘সাকসেসফুল পিপল্ ইন মালয়েশিয়া’ নামক বইয়ে স্থান পাওয়া বাংলাদেশি, বর্তমানে মালয়েশিয়ার পারদানা ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিন-এর মেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. নাজমুল হাসান মাজিজ এ সম্পর্কে দৈনিক মানবজমিনকে জানিয়েছেন-

“মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি নতুন পলিসি করে, সার্কুলার দিয়ে বিদেশ থেকে নার্স নেওয়ার ঘোষণা দেয় তখন সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসা সম্ভব। যদিও প্রাইভেট সেক্টরে এখনো নার্স নিয়ে আসা সম্ভব তবে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের ভিসা জটিলতা এবং আমাদের দেশের নার্সদের ভাষা জটিলতার কারণে তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।”

স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে খুব সতর্কতার সাথে গুরুত্ব দিতে হয়। এখানে ভুলের পরিণতি খুব ভয়াবহ। নার্সরা ক্লান্ত হলে সেবার মান ও কার্যকারিতা কমে যায়। যদি একজন নার্স ভুল করে, তবে তার পরিণতি ভুল নম্বরে ডায়াল করার মতো না যে, কেটে দিয়ে সঠিক নাম্বারে ডায়াল করলাম। এটা জীবন সম্পর্কিত বিষয়, যদি তা পেশাদারিত্বের সাথে নিতে পারা যায়, তবেই না মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডা. শংকর চন্দ্র পোদ্দারের সাথে। যিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি নার্স নিয়ে আসার ব্যাপারে আমি প্রথম কাজ শুরু করি কিন্তু আমাদের দেশের নার্সদের রয়েছে পেশাদারিত্বের অভাব, ইংরেজিতে দুর্বলতা এবং লোকাল (মালয়) ভাষা না শেখার প্রবণতা।

ভাষাগত জ্ঞান না থাকার ফলে ইমার্জেন্সি রোগীর চিকিৎসায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগীর অবস্থা সঠিকভাবে চিকিৎসককে জানানো কঠিন হয়ে যায়, যা সঠিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটায়। ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত তথ্য প্রদান রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ব্যাঘাত ঘটে, যা কখনো কখনো রোগীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। এই সমস্যাগুলো এড়াতে ভাষার প্রাথমিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে নার্স নিয়ে আসার সঙ্কটের সমাধান নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলা প্রেসক্লাব মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, আহমাদুল কবিরকে, তিনি জানিয়েছেন

আমাদের দেশের নার্সদের পেশাদারিত্ব মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে। কাটাতে হবে ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাথে মালয় ভাষা অনর্গল বলতে শিখতে হবে কারণ মালয়েশিয়াতে একজন নার্সকে সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তারদের তত্ত্ববধানে থাকতে হয়। আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দেশে প্রফেশনাল নার্স ইনস্টিটিউট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার গড়ে তোলার। যা মালয়েশিয়া তথা বিশ্বের স্বাস্থ্য খাতের পলিসিগত বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও মালয়েশিয়া সকল ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহার নিয়ে ভাবছে, তবে সময়ের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যসেবায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহারের এক প্রশ্নে ক্যাটন বলছিলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নার্সদের বিকল্প হতে পারবে না, কারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পছন্দ করে। আমরা সেই মানবিক যোগাযোগ চাই। এটি কেবল আমাদের শারীরিক প্রয়োজন নয়, আমাদের মানসিক প্রয়োজনও মেটায়। যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রোবট কখনোই তা বিকল্প হতে পারবে না।

সে হিসেবে আমাদের দেশের নার্সদের ভাষাগত জ্ঞান এবং পেশাদারিত্বের সকল স্তরে উন্নীত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়োগদাতাদের সকল শর্ত মেনে নার্সদের বৈশ্বিকভাবে তৈরি করতে এখন থেকেই সঠিক পদক্ষেপ, পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন করতে পারলেই খুব দ্রুতই খুলতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের দেশ মালয়েশিয়ার আরেক নতুন দুয়ার।

mzamin
প্রতীকী ছবি


লেজেগোবরে আইনশৃঙ্খলা by মরিয়ম চম্পা

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশের শাসন ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর থেকেই চারদিকে অস্থিরতা। দাবি-দাওয়া, হাহাকার তুলে মাঠে স্বার্থান্বেষী নানা গোষ্ঠী। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারা সক্রিয়। যারপর নাই চাপ তৈরি করছে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। এখনই তাদের সবার সব দাবি পূরণ করতে হবে। দাবি-দাওয়া পার্টির কারণে দেশ জুড়ে যখন তখন সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যুত্থানের ফ্রন্টলাইনার তরুণ ছাত্রদের আন্তঃক্যাম্পাস কলহ। এটা এক নৈরাজ্যকর অবস্থার জানান দিচ্ছে। কলেজে কলেজে সংঘর্ষ থামাতে উদ্যোগী হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। সেই সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় উস্কানিদাতাদের খুঁজে বের করতে মাঠে সরকারি সংস্থাগুলো। যখন অবস্থা তখন আচমকা সক্রিয় সনাতনীরা। তাদের জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে সীমান্তের ওপারেও। রক্তাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বিবাদীর সমর্থকরা। রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভুল-নীতি কৌশলের কারণেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সরকারের সকাল-বিকাল আদেশ- নিষেধ পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্তহীনতাই এর জন্য দায়ী। আইনশৃঙ্খলা রীতিমতো লেজেগোবরে অবস্থা! তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরতদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। বলাবলি আছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশনা আসে অন্য উপদেষ্টা ও দপ্তর থেকে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত অবস্থান করে অভিভাবকহীনতার প্রমাণও মিলে। ওই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) সদ্য নিয়োগ পাওয়া মো. খোদা বকস চৌধুরীকে মন্ত্রণালয়ে পাওয়া যায়নি। তারা মিটিংয়ের কাজে বাইরে ছিলেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র সূত্র। এদিন ঢাকার বাইরে ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবারও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অফিস করে বেরিয়ে যান উপদেষ্টা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কোন কৌশলে এগোচ্ছে? এ বিষয়ে জানতে কথা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মো. খোদা বকস চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) নিয়োগ দেয়া হয়। এর কিছুদিন পর নতুন করে আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়। এত কিছুর পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি অনুবিভাগ) নাসির-উদ-দৌলা মানবজমিনকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা-সচিবের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আরেক যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে কথা বলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনিয়র সচিব গণমাধ্যমে কেন কথা বলছেন না- এটা একান্ত তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিগত আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন। এ সময় সদর দপ্তরে নানান বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নতুন করে আইজিপি এবং ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ দেয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। সাম্প্রতিক ইস্যুতে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপিসহ সকল বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ডিএমপিসহ বিভাগীয় শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদ-মন্দির-গির্জা ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশেষ টহলের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেউ আইন এবং রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করলে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। জিরো টলারেন্স। অপরাধীরা কোন রাজনৈতিক দল-মতের সেটা বিবেচনা করা হবে না। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর মানবজমিনকে বলেন, পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে কিংবা জনজীবনে ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাঠ পর্যায়ে সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিব মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যস্ত কাকে বদলি, ওএসডি, কাকে পদায়ন করবেন এটা নিয়ে। পুলিশে এত ঘনঘন বদলি করার দরকার ছিল না। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে আছেন। কে কখন বদলি, ওএসডি- গ্রেপ্তার হন। পুলিশের মধ্য থেকে এই ভীতি দূর করে তাদের মধ্যে মনোবল ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও মনোযোগী হতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. খোদা বকস চৌধুরীকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপদেষ্টা হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা টোট্যালি ফেলিওর। তিনি কিন্তু যেসব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলে সাধারণ মানুষ খুশি হবে সেটা করছেন না। এবং করেন নি। তিনি বিডিআর বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই করেন নি। একটির পর একটি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় রীতিমতো লেজেগোবরে অবস্থা। 

mzamin

আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল চট্টগ্রাম: সিসিটিভি’র ফুটেজে খুনিরা চিহ্নিত by জালাল রুমি

আদালত এলাকায় সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর সমর্থকদের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল উত্তাল ছিল চট্টগ্রাম। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। নিহত আইনজীবীর জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। পরে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন উপস্থিত জনতা।  মহানগরীসহ জেলার সব উপজেলায় হয়েছে মিছিল। একইসঙ্গে বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম আদালতের কার্যক্রম। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন  ও ছাত্রশিবির।  সেখানে বর্বর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

ওদিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আইনজীবী সাইফুল হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলা-সংঘাতে জড়িত অন্তত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ। এরমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন ৬ জন আছেন। গতকাল সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সাইফুল ইসলামের  প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে  দ্বিতীয় জানাজা, বিকালে নিজ উপজেলা লোহাগাড়ায় দুইটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দ্বিতীয় জানাজায় ইমামতি করেন মহানগর জামায়াতের আমীর শাহজাহান চৌধুরী। এতে অন্যদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা মাওলানা শাহজাহান, বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

জানাজা শেষে নিহত সাইফুলের লাশ নিয়ে মিছিল করতে থাকেন বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে নগরের টাইগারপাসে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় টাইগারপাস মোড়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সেখানে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহসহ চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। সেখানে উপস্থিত জনতা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানান।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা ভুলে যাই নাই আওয়ামী লীগের সহায়তায় এই ইসকন কীভাবে গত ১৬ বছর পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠে আজকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে স্বৈরাচারের সঙ্গী হয়ে ভারতের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই হাসিনা এই বাংলাদেশে তোমার আর ঠাঁই হবে না। ভারতে বসে যতই ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করা হয় আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবো।

জঙ্গি ইসকনকে বিতাড়িত করা হাতের ময়লা উল্লেখ করে শোক সমাবেশের বক্তব্যে নাগরিক কমিটির সদস্য ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেন, ‘যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা এই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই চিন্ময়রা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে খুনি হাসিনারা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জঙ্গি ইসকনরা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ভারতের কিছু প্রেত্মারা উস্কানি দেয়। আমরা স্পষ্ট করে সকল প্রেত্মাদের বলে দিতে চাই, আমরা ১৬ বছরের খুনি হাসিনাকে দেশছাড়া করেছি এবং ছোটোখাটো কিছু জঙ্গি ইসকনকে দেশছাড়া করা আমাদের জন্য হাতের ময়লা।

এদিকে এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার চট্টগ্রাম আদালতে কর্মবিরতি পালন  করেছেন আইনজীবীরা। তারা সেখানে সকালে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। এরমধ্যে ইসকনকে সহযোগিতার অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতের ক্লার্ক এসোসিয়েশনের অফিসের (মুন্সি সমিতি) নথিপত্রে আগুন দেয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুরের পর ইসকন সদস্যরা তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মুন্সি সমিতির সদস্যরা নিজেদের পোশাক এবং খাবার পানি বিক্ষোভকারীদের সরবরাহ করেছেন। এ ছাড়া তারা উস্কানিমূলক বিভিন্ন পোস্টও দিয়েছেন ফেসবুকে।

ফিরোজুল ইসলাম তালুকদার নামে এক আইনজীবী  বলেন, এখান থেকে গতকাল মুন্সির পোশাক পরে গিয়ে ইসকনকে সাপোর্ট করা হয়েছে। তারা আইনজীবীদের অংশ। তারা তো এটা করতে পারে না। সাধারণ আইনজীবীরা এই নিয়ে ক্ষুব্ধ।

হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ:
এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে মানবজমিনের কাছে। সেই ফুটেজে বেশ কয়েকজন তরুণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুলকে কোপাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে সাইফুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার সেখান থেকে সরে পড়ে। এই তরুণদের ৩ জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এদেরকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এই তরুণরা হলো- শুভ কান্তি দাশ, বিকাশ দাশ ও বিশাল দাশ। এদের মধ্যে বিকাশ দাশ ও বিশাল দাশ মেথরপট্টি এলাকার মেথর সর্দার জগন্নাথ দাশের ছেলে। আর শুভ কান্তি দাশ বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির আইনের শিক্ষার্থী। এরইমধ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি তার ছাত্রত্ব বাতিল করেছে।
মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন ৬ জনকে আটক করা হয়েছে ভিডিও ফুটেজ দেখে।

এদিকে মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ইসকনের সদস্যদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সাইফুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন পদধারী নেতাও ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সূত্র।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) তারেক আজিজ মানবজমিনকে বলেন, মঙ্গলবার আদালতে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এপর্যন্ত পুলিশ বাদী হয়ে ৩টি মামলা করেছে। এরমধ্যে আটক করা হয়েছে ২৭ জনকে। এদের কয়েকজন আইনজীবী সাইফুল হত্যায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় জানানো যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত এলাকায়   চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সমর্থকদের  হামলায় নিহত হন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম আলিফ। নিহত সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকার জামাল হোসেনের পুত্র। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় গঠিত আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই আইনজীবী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক। তার  স্ত্রী বর্তমানে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ওদিকে চমেক হাসপাতাল থেকে পাওয়া সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম আলিফের পিঠে ও ঘাড়ে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাথায় ভারী বস্তুর আঘাতে খুলি ভেঙে গেছে। একটি পাও ভেঙে দেয়া হয়।

সাইফুলের হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে থাকা আইনজীবী এডভোকেট জিয়াউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, মূলত মসজিদে হামলা হওয়ার পর আমরা কয়েকজন আইনজীবী ইসকনের লোকদের ধাওয়া দিয়ে আদালত থেকে বের করে দেই। এরমধ্যে তারা দৌড়ে যাওয়ার সময় সাইফুলকে টেনে নিয়ে পাশের মেথরপট্টির গলির ভেতরে ঢুকিয়ে হত্যা করেছে। 

mzamin

বিয়ে ছাড়াই সন্তানের পিতা, প্রথম সারির অভিনেতার সমালোচনায় মুখর দ. কোরিয়া

বিয়ে করেননি এমন একজন নারীর গর্ভে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম শ্রেণির অভিনেতা ৫১ বছর বয়সী জাং উ-সাং এমন স্বীকারোক্তি দেয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেলিব্রেটিদের আচরণ এবং প্রথার বাইরে গিয়ে পারিবারিক কাঠামো দাঁড় করানো নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পের এই তারকা রোববার তার এজেন্সির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, ৩৫ বছর বয়সী মডেল মুন গা-বি’র নবজাতক সন্তানের পিতা তিনি। পিতা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করার অঙ্গীকার করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া এখনও অনেকটা রক্ষণশীল। সেখানে তিনি মুন’কে বিয়ে করবেন কিনা এ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি নীরব। সেখানে বিবাহবহির্ভূত সন্তান জন্ম দেয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া হয় না। এ নিয়েও তীব্র বিতর্ক চলছে। কিন্তু জাং উ-সাং এর পক্ষে কথা বলছেন কিছু প্রগতিশীল মানুষ। তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিবারে বৈচিত্রের দিকে অগ্রগতির পক্ষে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে সন্তান জন্ম দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মডেল মুন। তবে তার গর্ভে যে সন্তান জন্ম নিয়েছে তার পিতার নাম উল্লেখ করেননি তিনি। বলেছেন, অপ্রত্যাশিতভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। আকস্মিক এই খবরের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। এর দু’দিন পর জাং উ-সানের এজেন্সি আর্টিস্ট কোম্পানি একটি বিবৃতি দেয়। তারা নিশ্চিত করে মুনের গর্ভে যে সন্তান জন্ম হওয়ার কথা প্রকাশ হয়েছে সামাজিক মিডিয়ায়, তা জাং উ-সাং এর ছেলে। এতে আরও জানানো হয়, জাং এবং মুন দু’জনে এই ছেলেকে কিভাবে উত্তমরূপে বড় করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ খবর দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পর ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোতে মতামতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে চলছে বিতর্ক। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেও আসছে মন্তব্য। অনলাইনে যেসব মন্তব্য আসছে তার বেশির ভাগই জাং উ-সাং’কে সমালোচনামুলক। কারণ, তার চলচ্চিত্রের উচ্চ মাত্রার ক্যারিয়ার তাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু মন্তব্যে বলা হচ্ছে, একটি চমৎকার, পরিষ্কার নিজের ভাবমূর্তিকে এই তারকা শেষ করে দিয়েছেন।
mzamin

সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ

দেশে সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো ধরনের চেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা বলেছেন, কোনো ধরনের উস্কানিতে পা দেয়া যাবে না। সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা যে বা যারাই করবে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসাউদ বলেন, ইসকন মানে সনাতনী নয়, ইসকন একটি জঙ্গি সংগঠন। যার অপকর্মের বিরুদ্ধে হাজার হাজার সনাতনী ভাইয়েরা ভারত ও বাংলাদেশে রাজপথে নেমেছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদী এই সংগঠন সাধারণ শান্তিময় মুসলমানদের ওপর নয়, বিভিন্ন সময়ে অনেক সনাতনী মন্দিরেও তারা হামলা চালিয়েছে, রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে। চিন্ময় দাশ ও ইসকনকে হিন্দুদের মূল প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্রচার করার কারণে আজকে এ ঘটনা এত দূর গড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাসউদ। বলেন, দেশের লাখো লাখো হিন্দু ভাইয়েরা চিন্ময় দাশকে তাদের প্রভু হিসেবে স্বীকার করে না।

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সফল গণঅভ্যুত্থানকে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন,পতিত শেখ হাসিনার শেষ ট্রাম্পকার্ডই  ছিল দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ। সে ও তার দল দেখাতে চায় দেশে একটি ইসলামী বিপ্লব হয়েছে ও এদেশের মুসলমানরা এখন সংখ্যালঘুদের বিপদে ফেলবে এবং এই সামপ্রদায়িক প্লট সৃষ্টির পেছনে প্রতিনিয়ত প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ভূমিকা রেখেছে ভারতীয় কিছু মিডিয়া।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় উমামা ফাতেমা বলেন, যেভাবে ক্রমাগত সামপ্রদায়িক সংঘাত ও সংঘর্ষের কথা বাংলাদেশে হয়েছে বলে ক্রমাগত অপপ্রচার করা হচ্ছে তার কিছুই বাস্তবে হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল ক্ষমতায় এসেই এ বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বকে জানানো। এ ছাড়া ভারত ক্রমাগত যে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যাচ্ছে সেটিও বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু সরকারের অবস্থা দেখেছি, তারা ভারতকে ছাড় দিতে চাইছিল।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দোসরদের বিচার হয় নাই, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই। যদি তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হতো তাহলে আ জ ম নাসিরের লোক কীভাবে ইসকনের পেছনে কলকাঠি নাড়ে? তাদের তো আজ জেলখানায় থাকার কথা ছিল।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুর ইস্যুটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ফিরতে চায়। হয়তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই কিন্তু তারা সংখ্যালঘু কার্ড আজীবন খেলে যাবে। আমাদের রাজনীতিতে এই বিষয়টা সবসময় রাখতে চাইবে তারা।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাহীন সরকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সমপ্রীতি বজায় রেখে আবহমানকাল থেকে একত্রে বসবাস করে আসছে। এই সমপ্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বাইরে বসে আওয়ামী লীগের পতিত নেতারা ষড়যন্ত্র করছে। তারই অংশ হিসেবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। তাদের পাতানো ফাঁদে আমরা পা দেবো না। যত চেষ্টাই করুক এই দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। আইন অনুযায়ী সব ঘটনার বিচার করা হবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই চিন্ময় একজন রাষ্ট্রদ্রোহী। তিনি এদেশের ধর্মীয় সমপ্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। নানা মহল সমপ্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশের জনগণকে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্র-জনতা কেউ অপরাধীদের ছাড় দেবে না। যে সংগঠন বাংলাদেশের সমপ্রীতি নষ্ট করতে চায় তাদেরকে এদেশ থেকে বিদায় নিতে হবে।
সমাবেশে সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যার বিচারের দাবি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে বিভিন্ন স্ল্লোগান দিতে শোনা যায়। ইসকন নিষিদ্ধেরও দাবি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

mzamin


প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি’র বৈঠক: আলোচনায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

দেশে চলমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অতি দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণারও তাগিদ দেয়া হয়েছে দলটির তরফে। দাবি করা হয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে হওয়া সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানায় বিএনপি। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে দলটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরকারের তিন উপদেষ্টা হাসান আরিফ, আদিলুর রহমান খান, মাহফুজ আলম।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কয়েকদিন ধরে চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়েছি প্রধান উপদেষ্টার কাছে। আশা করছি তিনি তার পরিষদ নিয়ে অতিদ্রুত এ বিষয়গুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান করবেন। যেন দেশে এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি না হয় যে সমস্যাগুলোর মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। কারণ এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটি মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় অথবা এর যে স্থিতিশীলতা সেটি বিনষ্ট করতে চায় তাদের প্রতিহত ও প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের অবশ্যই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে সে বিষয়টিও আমরা তাদের সামনে নিয়ে এসেছি। যাতে করে দ্রব্যমূল্য কমানো যায় এবং এলাকাভিত্তিক টিসিবি’র ট্রাক বাড়ানো যায়। ট্রাকসহ যানবাহন চলাচল যেন নির্বিঘ্ন থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি। এ ছাড়াও কৃষিতে বিশেষ করে সার বিতরণের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করার কথা আমরা বলেছি। কারণ এখনো এসব অনেক জায়গায় ফ্যাসিস্টদের দোসররা নিয়ন্ত্রণ করছে। ফখরুল বলেন, শিল্প উৎপাদনে স্বাভাবিক যে কার্যক্রম সেটি যেন চালু থাকে সে বিষয়ে বলা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে যেন কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি না হয়। প্রয়োজনে সরকার থেকে ঋণ দেয়ার অনুরোধ করেছি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জোর জবরদস্তি করে নির্বাচন করে তাদের নিয়ে আসা হয়েছিল। তাই আমরা বলেছি সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের মতো এটাকেও ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে। এ ছাড়াও ট্রেড বডিগুলোকে ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়ে আসার কথা বলেছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সামগ্রিকভাবে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য আমরা আহ্বান করেছি। নির্বাচন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সংস্কারগুলো যথাসম্ভব শেষ করে অতিদ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ দেয়ার জন্য বলেছি। যেটি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা মনোযোগ সহকারে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা বিশ্বাস করি তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এ ছাড়াও আমরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছি।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, খুবই সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মিটিং হয়েছে। বিএনপি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টা নিজেও জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। তিনি সব কমিউনিটির মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। সরকার বিশৃঙ্খলার বিষয়ে যা যা করা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিষয়েও কথা হয়েছে। তিনি জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে জোর দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন। এ ঘটনায় মোট ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ৬ জন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত। ২১ জন সহিংসতা ও পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত। আর বাকি ৬ জন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য।

mzamin

জিয়াকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: বিচারপতিকে ডিম ছুড়লেন আইনজীবীরা

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একটি মামলার রায়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আশরাফুল কামাল আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে আইনজীবীরা তার ওপর ডিম ছুড়ে মারেন। পরে তিনি এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। গতকাল দুপুর সোয়া ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আইনজীবীরা ক্ষোভ থেকে এমন কাজ করেছেন। এই বিচারপতি রাজনীতি বেশি চর্চা করেন এবং পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণ করে বিষোদগার করেন। এজন্য একপর্যায়ে আইনজীবীরা তাকে ডিম ছুড়ে মারেন। পরে বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান।

জিয়াকে নিয়ে যা বলেন বিচারপতি:
২০১৬ সালে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল তার পর্যবেক্ষণের একাংশে বলেন,  মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাকবাকুম করে ক্ষমতা নিয়ে নিলেন, তথা রাষ্ট্রপতির পদ দখল করলেন। একবারও ভাবলেন না, তিনি একজন সরকারি কর্মচারী। সরকারি কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি রুলস ভঙ্গ করেন। ভাবলেন না তার শপথের কথা। ভাবলেন না, তিনি দেশকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে মৃত্যুকে বরণ করার শপথ নিয়েছিলেন। ভাবলেন না, তিনি এবং তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করতে।

বিচারপতি বলেন, আমরা জানি ডাকাতরা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করে। ডাকাতদের যে নেতৃত্ব দেয় তাকে ডাকাত সর্দার বলে। ডাকাতি করার সময়ে ডাকাতরা বাড়িটি বা ঘরটি কিছু সময়ের জন্য অস্ত্রের মুখে দখল করে এবং মূল্যবান দ্রব্যাদি লুণ্ঠন করে। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গংরা দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র এবং অবৈধ কলমের খোঁচায় নির্বাচিত জাতীয় সংসদকে ভেঙে ডাকাতদের মতো অবৈধভাবে জোরপূর্বক জনগণের ক্ষমতা ডাকাতি করে দখল করেন। যে বিচার বিভাগ এবং এর বিচারকদের ওপর আইনগত দায়িত্ব ছিল সংবিধানের সামান্যতম বিচ্যুতিকে রক্ষা করা, সংরক্ষণ করা এবং নিরাপত্তা প্রদান করা; সেই বিচার বিভাগ এবং এর তৎকালীন বিচারকরা সংবিধানকে এককথায় হত্যা করলেন, জনগণের রায় ডাকাতি করে ‘জনগণের নির্বাচিত সংসদকে বাতিল করলেন। অপরদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও আর্মি রুলস ভঙ্গ করে জনগণের রায়ে নির্বাচিত জাতীয় সংসদকে হত্যা করে দেশের সংবিধানকে হত্যা করে অস্ত্রের মুখে অন্যায়ভাবে, অসৎভাবে হত্যাকারীদের দোসর হয়ে জনগণকে চরম অবজ্ঞা করে ক্ষমতা দখল করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী তথা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এবং জামায়াতে ইসলামীকে এদেশে পুনর্বাসন করেন। তাদের রাজনীতি করার অধিকার দেন। তাদের নাগরিকত্ব দেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সংসদ সদস্য করেন এবং তাদের মন্ত্রী বানিয়ে, তাদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের সঙ্গে বেঈমানি করেন। এরপরেও কি বাংলাদেশের জনগণ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারে?
বিচারপতি আরও বলেন, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান শুধু জাতির পিতা ও তার পরিবারের এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকারীদের শুধু দোসরই হননি, বরং তিনি জাতির পিতা ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছেন রাষ্ট্রদূত, সংসদ সদস্য ইত্যাদি বানিয়ে। তিনি আরও জঘন্য যে কাজটি করেন তা হলো, তিনি জনগণের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের হত্যার বিচার বন্ধ করে দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করেন। অর্থাৎ তিনি জাতির পিতা ও তার পরিবারের হত্যাকে এই দায়মুক্তি আইন দ্বারা সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেন তিনিও জাতির পিতা ও তার পরিবারের হত্যাকারী এবং জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদেরই একজন।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে একটি মামলার রায় দেন এই আদালত। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে জিয়াউর রহমান প্রাসঙ্গিক না হলেও এই বিচারপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে ‘অশালীন’ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল কয়েকদিন ধরেই। আইনজীবীরা জানান, আজ এই বিচারপতি এজলাসে উঠলে কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন- আপনি এই চেয়ারে বসে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। আপনার এই চেয়ারে বসার অধিকার নেই। একপর্যায়ে তারা বিচারকের দিকে ডিম ছুড়ে মারেন।