Saturday, June 10, 2017

ন্যাটোর পারস্পারিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পারস্পারিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। গত মাসে ব্রাসেলসে এক বক্তৃতায় এই জোটের প্রতি সমর্থন দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর শুক্রবার তিনি মন্তব্যটি করেন। এদিকে ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন না থাকার কারণে আটলান্টিক জোটটির ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছিল। এ অবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের মন্তব্যটি এলো। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুচ্ছেদ পাঁচের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। অবশ্যই আমরা ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোকে রক্ষা করব।’ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে সফররত রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইওহানিসের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি মানুষকে নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের অনেক শক্তিশালী বাহিনী রয়েছে। আর এ শক্তিশালী বাহিনীর জন্যে আমাদের প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে হবে।’ এর আগে ২৫ মে ব্রাসেলসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে ২৯ জাতির এই জোটের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হন।

বগুড়ার শেরপুরে হাটের জায়গা দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ

বগুড়ার শেরপুরের ছোনকা এলাকার স্থানিয় টাউট-বাটপারদের ম্যানেজ করে আল-আমিন, আলম মিয়া, আজিবর ও তার মেয়ের জামাই রবিউল গত কয়েকদিন ধরে ছোনকা হাটের জায়গা দখল করে পাকাঘর নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসাশন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের ভুমিকা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ২ ছেলে আল-আমিন ও আলম মিয়া একই গ্রামের মৃত আরোজ উদ্দিনের ছেলে আজিবর ও তার মেয়ের জামাই দড়ি হাঁসড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে রবিউল ছোনকা বাজার এলাকার চিহ্নিত প্রভাবশালী টাউট-বাটপারদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে গত ১ সপ্তাহ যাবৎ সরকারি ছোনকা হাট পেরি-ফেরির জায়গা জোরপূর্বক দখল করে পাকাঘর নির্মান করছে। স্থানিয় লোকজন গত রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলামকে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ইউনিয়নের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা শুকুর মাহমুদকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেন। সে অনুযায়ি গত রোববার সকালে সহকারি ভূমি কর্মকর্তা শুকুর মাহমুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেন। ’কিন্তু বিধির বাম কে শোনে কার কথা’ অভিযুক্তরা কোন খুটির জোরে প্রসাশনের নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে রাতের আধারে বীরদর্পে সরকারি হাটের জায়গায় পাকাঘর নির্মাণ করছে। এলাকাবাসি মনে করছে তাহলে কি প্রসাশনের চেয়েও অবৈধ দখলদারদের হাত বড়? এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি)মোছাঃ মোরশেদা খাতুন বলেন-হাটের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন- ওই বিষয়ে এসি ল্যান্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মায়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত ইবি শিক্ষার্থী নাজমুল

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইবি শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান জীবনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিজ গ্রাম করাতি পাড়ায় মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো নাজমুল। শেষ বিদায় জানাতে যাওয়া সহপাঠিরাও নীর্বাক। শুধু চোখেল জলে বুক ভাসিয়ে সহ্য করতে হচ্ছে ভাই হারানোর বেদনা। পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে গিয়ে নিজেরাই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলছে বার বার। করাতি পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়াঁ। মা হারা পরিবারের ছোট সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বড় ভাই-বোনরা। আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছে তারা। গত শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে ক্যাম্পাস পার্শবর্তী মধুপুর এলাকায় মটরসাইকেলের সাথে নসিমনের সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান। নাজমুলের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিপপুর উপজেলায়। সে করাতিপারা গ্রামের আদম আলী মুসুল্লির ছেলে। নাজমুল ইবির আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

রমজানেও পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক : বাণিজ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি মজুত রয়েছে। ছোলা, বুট, খেজুর, চিনি, লবনসহ সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী, বড় বড় আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে মিটিং করে বাজার স্বাভাকি রাখার চেষ্টা করেছি। মন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মোশারেফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রী বলেন, এখন মুক্তবাজার অর্থনীতির সময়। কোন পণ্যের দাম যদি বিদেশে বাড়ে, বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। বিদেশে যদি কমে, এখানেও কমে যায়। আমাদের টিসিবি’র রোজার মাসে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা ভুর্তকী দিয়ে খোলা ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি’র আমলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
তাই তখন ব্যবসা-বানিজ্য প্রসার পায়নি। আর আজকে আমাদের শিল্পে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি, সার্ভিস খাতে ৫৫ শতাংশ ও কৃষি খাতে ১৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব খাতই আজ সমৃদ্ধ। তিনি বলেন, ভোলায় নদী ভাঙ্গন অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল। তাই পুরো জেলায় নদী ভাঙ্গন রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১৬ শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এসব কাজ শেষ হলে ভোলাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। তিনি বলেন, ভোলাকে মূল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত করতে ভোলা বরিশাল ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। ইফতার মাহফিলে জেলা প্রশাসক মো: সেলিমউদ্দিন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মোকতার হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডর মো: দোস্ত মাহমুদ, প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, জেলা আইজীবী সমিতির সম্পাদক নুরুন আমীন নুরনবী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃধা মো: মুজাহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি নজিবুল্লাহ নাজু, সম্পাদক আলী নেওয়াজ পলাশ, যুবলীগ সম্পাদক আতিকুর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডিইউপি-কে নিয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেন টেরিজা মে

ডেমোক্র্যাট ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। এই সরকার যুক্তরাজ্যকে ‘সংশয়মুক্ত’ ভবিষ্যৎ দিতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সরকারি বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসে তার সাথে দেখা করার পর এ কথা বলেন টেরিজা মে। আজ শুক্রবার সরকার গঠনের অনুমতি নিতে রানির সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। টেরিজা মের দল কনজারভেটিভ পার্টি গতকালের নির্বাচনে ৩১৮ আসন পেয়েছে। সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬৫০ আসনের হাউস অব কমনসে দলটির আরো আটটি আসন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাট ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। সরকার গঠনে ডিইউপির সমর্থন পাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি। রানির সাথে দেখা করার পর টেরিজা মে বলেন, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন ও সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর তার দলই ‘বৈধভাবে’ সরকার গঠন করতে পারে। তিনি বলেন, বন্ধু ও মিত্রদের সাথে নিয়ে ডিইউপির সাথে একযোগে কাজ করে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে। টেরিজা মে সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসুন সবাই মিলে একযোগে কাজ করি।’ সূত্র: বিবিসি

বাগদাদে মার্কেটে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩০

ইরাকের দক্ষিণ বাগদাদের পবিত্র কারবালা থেকে কিছুটা দূরে মুসায়াব শহরের এক মার্কেটে শুক্রবার আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫ জন। ইরাকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সূত্র দাবি করছে, ‘আত্মঘাতী হামলাকারী’ ছিল একজন মহিলা। তার শরীরে বিস্ফোরক বেল্ট বাঁধা ছিল। আত্মঘাতী বোমারু এই মহিলার পরিচয় এখনও বের করতে পারেনি ইরাকি পুলিশ। তবে, ঘটনার পরপরই এর দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আত্মঘাতী বোমারু যে একজন মহিলাই ছিল, লাশ পরীক্ষার পর নিরাপত্তা অফিসাররা তা নিশ্চিত করেছেন। মসুল হাতছাড়া হওয়ার পর, শুক্রবার ইরাকের মার্কেটে হামালা চালিয়ে, ফের মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে উগ্রবাদী সংগঠনটি। সিরিয়াতেও এখন অনেকটাই ব্যাকফুটে তারা।

ব্রিটেনে নির্বাচনের পর দ্রুত ব্রেক্সিট আলোচনার আহবান মের্কেলের

ব্রিটেনে নির্বাচনের পর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রেক্সিট আলোচনা দ্রুত শুরু করতে শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। দেশটির আগাম এ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জয় পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। খবর এএফপি’র। মেক্সিকো সফরকালে মের্কেল বলেন, ‘আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এ আলোচনা দ্রুত শুরু করতে চাই।’ তিনি বলেন, ব্রিটেন এখন কিভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে সে ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের সাথে আলোচনা ইইউ’র সদস্যভুক্ত ২৭টি দেশ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শুরু করবে। এক সংবাদ সম্মেলনে মের্কেল বলেন, এতদিন ‘আমরা ব্রিটেনের নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলাম। দেশটির নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করবো।
আলোচনায় আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২৭টি রাষ্ট্রের স্বার্থ দেখবো। তবে ব্রিটেন এতে তাদের নিজস্ব স্বার্থ দেখবে।’ একই সাথে আমরা এটাও বলছি যে, ‘আমরা ভাল অংশীদার দেশ ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাখতে চাই। ব্রিটেন ইউরোপের অংশ। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নে আর না থাকলেও তারা ইউরোপের অংশ। উল্লেখ্য, মে বেক্সিট আলোচনায় তার হাত আরো শক্তিশালী করার লক্ষে নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগে আগাম নির্বাচন আহবান করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা প্রশ্নে ২০১৬ সালের জুনে ব্রিটেনের গণভোটের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ আগাম নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে মে জয় পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হন।

লন্ডন হামলাকারীদের সঙ্গে ককটেলও ছিল

গত সপ্তাহে লন্ডনে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় হামলাকারীদের সঙ্গে ককটেলও ছিল। প্রথমে তারা একটি ট্রাক ছিনতাই করে হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে তারা পথচারীদের ওপর ভ্যানগাড়ি তুলে দেয়। শনিবার মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ফরেনসিক কর্মকর্তারা সাদা রঙের ভ্যানগাড়িটির মধ্যে ‘ন্যাকড়ায় প্যাঁচানো অবস্থায় ১৩টি মদের বোতল পেয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে এগুলোর মধ্যে তরল দাহ্য ছিল। এছাড়াও গাড়িটিতে দুটি মশাল ছিল।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত শনিবার লন্ডন ব্রিজ এলাকায় তিন হামলাকারী পথচারীদের ওপর ভ্যানগাড়িটি তুলে দেয় এবং তারপর নকল সুইসাইড ভেস্ট পড়ে গাড়ি থেকে নেমে পথচারীদের ছুরিকাঘাত করে।
এতে আট জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে হামলাকারী খুররাম শাহজাদ বাট, রশিদ রেদোয়ান ও ইউসেফ জাগবা নিহত হয়। পুলিশ জানায়, বাট হামলার কয়েক ঘন্টা আগে ৭.৫ টনের একটি ট্রাক ভাড়া করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। কাউন্টার টেরোরিজম কমান্ডের প্রধান ডিন হাইডন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ট্রাকটি পাননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে যে এরপর তিনি প্ল্যান বি অনুযায়ী ভ্যানটিকে ভাড়া করেন।’ ডিন বলেন, ‘বাট ৭.৫ টন ওজনের ট্রাকটি নিয়ে হামলা চালালে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যেত।’

বাড়িতে ঢুকে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোর একাপুলকোতে একটি রির্সোটের কাছাকাছি এক বাসায় হামলা চালিয়ে শিশু ও নারীসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্দুকধারীরা দক্ষিণাঞ্চলীয় ছোট্ট শহর সান পেডরো কাকাহুয়াটেপেকের ওই বাড়ির ভিতর ঢুকে শুক্রবার গুলি চালাতে শুরু করে। এতে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশু, একজন কিশোর, তিনজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি একথা জানায়।

কোমি মিথ্যাবাদী : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পদচ্যুত এফবিআই প্রধান জেমস কোমির দাবির ব্যাপারে প্রয়োজনে শপথ নিয়ে কথা বলবেন। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার দলের সাথে রাশিয়ার গোপন যোগসাজশের ব্যাপারে কংগ্রেসের একটি কমিটিতে কোমি সাক্ষ্য দেয়ার পর এ বক্তব্য দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কংগ্রেসে দেয়া সাক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করে জেমস কোমি বলেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সম্মানহানি করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করব।" ট্রাম্প উল্টো কোমিকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিশেষ করে মস্কোর সহযোগিতায় নিজের বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন। সিনেটের কমিটিতে দেয়া সাক্ষ্যে কোমি আরো বলেন, রাশিয়ার ব্যাপারে তিনি এফবিআই'র প্রধান হিসেবে যে পদ্ধতিতে তদন্ত করছিলেন তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। ওই তদন্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাপের মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন কোমি। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিশেষ করে মস্কোর সহযোগিতায় ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন বলে ডেমোক্র্যাট দল যে অভিযোগ করেছে তা নিয়ে ওই নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকায় তুমুল বিতর্ক চলছে।

রাণীনগরে কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে

নওগাঁর রাণীনগরে বিলুপ্ত প্রায় এক সময়ের এদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল সোঁনালী আঁশ হিসাবে খ্যাত পরিবেশ বান্ধব পাট চাষে আগ্রহ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম বিক্রয় মূল্য ভাল পাওয়ায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি স্বল্প পরিমান হলেও স্থানীয় কৃষকরা পাট চাষ করছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মওসুমে ইরি ধানের পাশাপাশি পাট চাষ করায় কয়েকটি ইউনিয়নে মাঠে মাঠে এখন পাট গাছের সবুজের দানা মেলেছে। কৃষকরা আশা করছেন, ভাল বাজার দর পেলে আগামী পাট চাষের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে। এই এলাকায় বোরো ধান নির্ভর হওয়ায় কৃষকরা খুব স্বস্তিতে নেই। তাই সহজলব্য চাষ হওয়ায় রাণীনগরে কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে রাণীনগর উপজেলায় এবার ভাল পাট চাষ হয়েছে। রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি খড়িপ মওসুমে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে মেস্তা পাট, দেশী পাট ও তোষা জাতের পাট প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। বিগত বছরে পাটের ভাল ফলন ও দাম আশানুরুপ পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাট চাষের আগ্রহী হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরগুলোতে চাষিদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিজাত ফসলের লোকসান হওয়ার কারনে এলাকার চাষিরা পাটের আবাদ মনোযোগ দিয়ে করছে। ফলন ও দাম ভাল পেলে চাষিদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভরা মওসুমে প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ দেখা দিলে অন্যান্য ফসলের যেমন ক্ষতি হয় পাটের তেমন ক্ষতি হয় না। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়। গত বছর রাণীনগরে কৃষকরা প্রতি মণ কাচা পাট ১৭শ’ থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা করেছে।
তবে খুলনা জেলার দৌলতপুর উপজেলায় উপস্থিত ক্রিসেন্ট জুট মিলের একটি ক্রয় কেন্দ্র রাণীনগর ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারনে মিল কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের শেষ দিকে ক্রয় সেন্টার বন্ধসহ সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে দেওয়ায় এখানকার উৎপাদিত পাটগুলো চাষিদের হাটে-বাজারের ফরিয়াদের কাছে বিক্রিয় করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ করে পাট চাষিদের স্বার্থে পুনরায় একটি পাট ক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে এলাকাবাসির দাবি। উপজেলা খট্রেশ্বর গ্রামের পাট চাষি মো: শামছুর রহমান জানান,আমি নিজের জমিতে বোরো ধানের চাষ করতাম। কিন্তু ধানের জমি কিছুটা কমিয়ে পাট চাষের দিকে ধীরে ধীরে মনোযোগ দিচ্ছি। এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত রোগ বালাই মুক্ত থাকায় আশা করছি ভাল ফলন হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, বিগত বছরগুলোতে পাটের বাজার মন্দ থাকায় এই ফসলের প্রতি চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্যে পরিবেশ বান্ধব পাটের মোড়ক বহুবিদ ব্যবহার করায় বর্তমান পাটের উৎপাদন ও বাজার দর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদেরও পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি খড়িপ মওসুমে চাষিদের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে কৃষকদের গঠনমূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই ফসলে এমনিতেই তেমন কোন রোগ-বালাই আক্রান্ত হয় না। দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন পাট চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

মসজিদে মোনাজাত নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মধ্য কালিরচর গ্রামের মনছুর আহমদ জামে মসজিদের ইমামের মোনাজাত না ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নুর হোসেন নামের এক মুসল্লী নিহত হয়েছেন। হামলায় নিহত নুর হোসেনের বড় ভাই জাকির হোসেনও আহত হন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে মসজিদের ইমাম আল-আমিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ইমাম পক্ষের লোকজনের হামলায় ওই দুই ভাই গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুর হোসেনকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৭টায় দিকে মারা যান তিনি। নিহত নুর হোসেন কালিরচর গ্রামের মৃত রফিক উল্লাহর ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় মনছুর আহমদ জামে মসজিদের ইমাম মো: আল-আমিন নামাজের পর অন্য ইমামদের মতো মোনাজাত ধরতেন না। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ইমাম উত্তেজিত হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় ইমাম পক্ষ ও কমিটির পক্ষরা বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হয়। এর জের ধরে রাতে তারাবির নামাজের পর ইমামের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দেলোয়ারসহ কয়েকজন মাথায় লাল ফিতা বেঁধে দুই ভাইকে পেটায়। স্থানীয়রা আরও জানান, বিগত ৩/৪ মাস ধরে আল-আমিন ওই মসজিদে ইমামতি করলেও এখানে তার কোন আসবাবপত্র ছিল না। ইমাম আল-আমিন চাঁদপুরের বিশ্বপুর গ্রামের মো: দুলালের ছেলে বলে জানা যায়। এদিকে নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মেয়ে মিতু আক্তার ও ছেলে রুবেল এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নুর হোসেনের লাশ ঢাকা থেকে নিয়ে আসলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এই ঘটনায় মসজিদের ইমামকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারে দেশের বৃহত্তম সোলার পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণকাজের উদ্বোধন

কক্সবাজারের টেকনাফে উদ্বোধন হয়েছে দেশের বৃহত্তম সোলার পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণকাজ। টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিমিটেডের ২০ মেগাওয়াট সোলারপার্ক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। প্রকল্পটি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার টার্গেট করছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জুলস পাওয়ার লিমিটেড। টেকনাফের নাফ নদীর তীরে একশত একর জমির জুড়ে নির্মিত হচ্ছে এই সোলার প্লান। এটি বাস্তবায়ন হলে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে জানান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। জুলস পাওয়ার লিমিটেডের এমডি নোহেল লতিফ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার, টেকনাফ সোলারটেক এনার্জি লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহামুদুল হাসান প্রমুখ।

লংগদুর নয়ন হত্যায় গ্রেপ্তার ২

রাঙামাটিতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা নূরুল ইসলাম নয়নকে হত্যা ও মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ গ্রেফতারকৃতরা হলো জুনেল চাকমা (৩২) ও রুনেল চাকমা (১৭)। ছিনতাই হওয়া মোটর সাইকেলটি উদ্ধারে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জেলার পুলিশ সুপার আলী আহমদ জানিয়েছেন।  গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতেই মাইনী নদীতে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

টাইগারদের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত রাতে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) আবুল কালাম আজাদ বাসসকে জানান, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিজ নিজ সেঞ্চুরির জন্য এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অত্যন্ত সঙ্কটময় ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয়লাভ করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আশা করেন এই লড়াই এবং বিজয়ের ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

দূর্ঘটনায় ইবি শিবির নেতার মৃত্যুতে শিবিরের শোক

মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের নেতা নাজমুল হাসানের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জোড়াদাহ সাংগঠনিক থানা সভাপতি নাজমুল হাসান গতকাল বিকাল ৪টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে ছাত্রশিবিরের সকল জনশক্তি আজ গভীর ভাবে শোকাহত। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়েছেন।
তার ইন্তেকালে সংগঠন একজন নিবেদিত প্রাণ দক্ষ ও মেধাবী নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হল। এ ক্ষতি অপূরণীয়। ইসলামী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তার ত্যাগ ও প্রচেষ্টা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, নাজমুল হাসানেরর বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর থানায়। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৫/১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। শুক্রবার জোড়াদাহ থেকে মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বিজ্ঞপ্তি

মা ও তিন সন্তানের লাশ উদ্ধারে হত্যা মামলা

ঢাকার উপকণ্ঠে কামারপাড়ায় ঘরের ভেতরে তিন সন্তানসহ এক নারীর লাশ পাওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত রেহেনা পারভীনের ভাই সামছুল আলম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় শুক্রবার রাতে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে থানার ওসি মাহবুবে খোদা জানান। মামলার এজাহারে রেহেনার স্বামী মোস্তফা কামাল ও কামালের বোন কুহিনূরের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে লেখা হয়েছে। রাতে মামলার পর মোস্তফাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের কাছে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোররাতে পুলিশ তুরাগ থানা এলাকায় ইজতেমা মাঠের কাছের কামারপাড়ার কালিয়ারটেক এলাকার টিনশেড একটি বাসা থেকে রেহেনা পারভীন (৪০) ও তার তিন সন্তান শান্তা (১৩), শেফা (৮) ও সাদ (১) এর  লাশ উদ্ধার করে।

কিশোরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

মাগুরার শ্রীপুরের মধুপুর গ্রামে এক কিশোরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সাধন বৈরাগী (১৭) অটো মেক্যানিক ছিল। সে ওই গ্রামের দশরথ বৈরাগীর ছেলে। আজ শনিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, সাধন সদরের গাংনালিয়া এলাকার মামার বাড়িতে থেকে একটি অটো গ্যারেজে মেক্যানিকের কাজ করতো। চার দিন আগে সে মুধুপুরের নিজ বাড়িতে আসে। শুক্রবার রাতে বাড়ির বাইরের একটি বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল সে। রাতে কোন এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে বারান্দা থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। সকালে তার লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। কি কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে আ'লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার সকালে সদর উপজেলার দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে এই সংঘর্ষ হয় বলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী জানান। নিহত মাসুদ ঢালীর বয়স ২২ বছর। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ মো. তারিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাইফুল খান ও ইসলাম দেওয়ানকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে পুরনো বিরোধের জেরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ভূইয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জীবনের সমর্থকদের মধ্যে এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শনিবার সকালে আফসারের লোকজন চরমশুরা গ্রামে হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

চৌহালী শিক্ষা অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দালাল চক্রের যোগসাজসে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ভুয়া চিঠি দেখিয়ে নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। এছাড়া স্লীপ প্রকল্প, স্কুল মেরামত, বদলি, অবসর, বকেয়া বেতন-ভাতাসহ কোন কাজই ঘুষ ছাড়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দালাল চক্রের মাধ্যমে নানা কৌশলে চরাঞ্চলের শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, যমুনার চরাঞ্চল অধ্যুষিত চৌহালী উপজেলায় ১২৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৭৫১জন শিক্ষক/শিক্ষিকা ও প্রায় ৩২হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে অন্যত্র সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয় গুলোতে কোন রকম ঘর তুলে রোধ-বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে পাঠদান করানো হচ্ছে। চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কমোলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্ষায় নৌকা ও শুস্ক মৌসুমে একমাত্র পায়ে হেটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতো কষ্টের পরও শিক্ষা অফিসের নিয়োগকৃত একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের কাছে শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে আছেন।
তাদের নানা অজুহাতে উৎকোচ গুনতে হয় চরাঞ্চলের সাধারন শিক্ষকদের। অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ( অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করে) আব্দুল মালেক নিজ এলাকা চৌহালীতে প্রায় এক যুগ ধরে কর্মরত থাকার সুবাদে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে আব্দুল মালেক ও স্কুুল ফাঁকি দেয়া পুখুরিয়া কোদালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দালাল চক্র শিক্ষা অফিসকে ঘুষ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে। এদের চাহিদা মতো উৎকোচ না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চরাঞ্চলের শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের আশ্বাসে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ভুয়া স্বারক ও চিঠি পত্র প্রস্তুত করে চৌহালীতে ১৯টি নতুন বেসরকরী প্রাথমিক বিদ্যলয় সৃষ্টিতে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী তারিখের পূর্বের ডেড দিয়ে অখ্যাত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। যেনতেন ঘর তুলে প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে ৪ জন করে শিক্ষক নিয়োগ ও জাতীয় করনের কথা বলে ওই চক্রটি প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই সিন্ডিকেট চক্রের মুনছুর আলী (প্রাক্তন শিক্ষক) ও মশিউরের (সহকারী শিক্ষক) সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা অফিসে জনবল সঙ্কটের কারণে মশিউরকে দিয়ে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। তবে দালাল চক্রের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তোভোগী কয়েকজন শিক্ষক জানান, শ্লিপ প্রকল্পের টাকা উত্তোলন পরবর্তী শিক্ষা অফিসে ভ্যাট ট্যাক্স ছাড়াও ৩ হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। আবার বিল ভাউচার পাশ করানোর সময় দিতে হয় দেড় হাজার করে টাকা। সে কারনে শ্লিপ প্রকল্পে কাঙ্খিত কাজ হয় না।
নাম মাত্র কিছু উপকরন কিনে বিল ভাউচার করে জমা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয়করণের আওতায় উপজেলার ২০ জন পুল শিক্ষক ও ৯০ জন প্যানেল শিক্ষকের যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিকট থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার করে প্রায় ৩ লাখ টাকা, নব সরকারী বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ জন শিক্ষকের নিকট থেকে টাইমস্কেল বাবদ ৩ হাজার করে দেড় লক্ষ টাকা, মেডিকেল ছুটি পাশ করাতে নিচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা, শ্রান্তি বিনোদনের বিল তুলতে প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ১ হাজার করে টাকা উৎকোচ নেয়া হয়। এছাড়া প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত-সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল মালেক চরাঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের সুবিধামতো স্কুলে বদলিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা এবং পেনশনের টাকা উত্তেলনের কাগজ পত্র তৈরীতে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে অফিস সহকারী আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অব্ররিশ বাবু চরাঞ্চলে নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠায় ঘুষ বাণিজ্যের সাথে নিজে জড়িত নয় দাবি করে এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি আমি পছন্দ করি না। চৌহালীতে যোগদানের পর থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে। মশিউর একটু বেশি অফিসে ঘোরাঘুরি করে তাই অনেকেই সহ্য করতে পারে না। তবে নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বলে টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মোঃ ইউসুফ রেজা মোবাইল ফোনে জানান, আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতিকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেই না। চৌহালী উপজেলা শিক্ষা অফিস ও একটি চক্র নতুন ১৯টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সৃষ্টিতে মন্ত্রনালয়ের কিছু চিঠি পত্র আমার কার্যালয়ে পাঠিয়ে সুপারিশের জন্য তদবির শুরু করে। এগুলো আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি আবার ওই চিঠি যাচাইয়ের জন্য মন্ত্রনালয়ের প্রেরণ করি। সাত দিন পরে প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিশাখা-১ হতে যুগ্ম সচিব সাক্ষরিত পত্রে জানতে পারি নতুন বিদ্যালয় সৃষ্টিতে যে কাগজ পত্র জমা দেয়া হয়েছে সেগুলো ভুয়া ও জাল। এরপর ওই স্কুলগুলোর নাম মন্ত্রনালয়ে পাঠাইনি। এছাড়া শিক্ষা অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কিছু শিক্ষক স্কুল ফাঁকি দিয়ে অফিসে তদবিরের বিষয় গুলো তদন্ত করে অভিযোগের প্রমান পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বালিশে সাপ ধরার এই ভিডিও এখন ভাইরাল

বালিশের কাপড় দিয়ে সাপ ধরে চমক লাগিয়ে দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক মহিলা। তার সাপ ধরার কীর্তি ভিডিও করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে দেয়া হয়। সেই ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল। ১ জুন ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতেই ৩৬ লাখ দর্শক তা দেখে ফেলেছেন। ট্যাটু শিল্পী সানসাইন ম্যাককারি তার ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌বাড়ি ফিরে দেখি আমার বসার ঘরে ৫–৬ ফুটের কালো রঙের একটি সাপ আরাম করছে।’‌ সেটাকে ধরতেই বালিশের কাপড় নিয়ে আসেন সানসাইন ম্যাককারি। সাপটিকে বালিশের কাপড়ের মধ্যে ভরে তিনি বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেন। ম্যাককারির এই ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ৩৭ হাজার জন এবং আট হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে এই ভিডিওর। ট্যাটু শিল্পীর সাহস দেখে অনেকেই তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

প্রার্থী বাছাইয়ে চমক থাকবে বিএনপিতে

আগামীতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনই এখন বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখী কার্যক্রম চলছে দলটিতে। সম্প্রতি একাধিক ইফতার মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইঙ্গিতও পরিলক্ষিত হয়েছে। ৫ জুন রাজনীতিবিদদের সম্মানে দেয়া বেগম জিয়ার ইফতার মাহফিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসির উদ্দেশে তিনি বলেছেন, এ সরকার আপনাদের কাছে যা কিছু আবদার করবে, আপনারা তা বাস্তবায়ন করবেন না। আপনারা জনগণের মতামত নেবেন। সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে যে মতামত পাবেন, তার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এলডিপির ইফতারে আগামী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ইনশাল্লাহ আমরা বিশ্বাস করি ২০১৮ সাল দেশের জনগণের বছর হবে। একই সাথে দেশ থেকে সব অত্যাচার ও অত্যাচারী বিদায় নেবে। এর আগে গত ৫ জুন সোমবার তার উদ্যোগে দেয়া রাজনীতিবিদদের সম্মানে দেয়া ইফতারে জোটের বাইরে থাকা অন্যান্য দলের নেতাদের সাথে কুশল বিনিময়ের সময় দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন তিনি। ওই সব রাজনৈতিক দলের নেতারাও রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে বেগম জিয়াকে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ সময় বেগম জিয়া তাদের আশ্বস্ত করেছেন সঙ্কট নিরসনে সব ধরনের পথ খোলা রেখেছেন তিনি।
অর্থাৎ বিএনপি আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে মনোযোগী। তবে অবশ্যই তা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে বলে দলটির নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। দলটির নেতারা বলছেন, আন্দোলন করেই নিরপে সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে বিশ দলীয় জোটকে আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর সাথেও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আলোচনা করবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বলেন, ক্ষমতাসীনরা ভরাডুবির ভয়ে নানা প্রহসন আর নকশা করে যাচ্ছেন। তবে আগামী দিনে আওয়ামী ঝুড়িতে অবৈধ ভোট ভরার জন্য কোনো নীলনকশা বা অভিনব ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ। সন্ত্রাসের নির্মাণ ও বিপণন করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কোনো সুযোগ পাবে না আওয়ামী লীগ। নিরপে সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবে বিএনপি। এ ইস্যুতে সরকারের সাথে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে আন্দোলন বিবেচনায় থাকবে। দলটি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দ্রুত দল গোছানোর কাজও শেষ করছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মনে করছেন বিএনপি একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
এ প্রত্যাশায় নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আংশিকভাবে চূড়ান্ত করছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের তালিকা ধরেই আগামী নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম চলছে। এসব তালিকা থেকেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন করা হবে। যারা বিগত ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলে নানা কারণে নির্বাচন করতে পারেননি, কিন্তু যোগ্য ছিলেন এমন ব্যক্তিদেরও মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সর্বোপরি প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়নের ব্যাপারে সুপারিশ করবে। তবে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিবেন বেগম খালেদা জিয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিতে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে চমক থাকবে। সেই চমক হচ্ছেÑ জিয়া পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পাশাপাশি অন্তত ২০ ভাগ তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতারা মনোনয়ন পাবেন। ঈদুল ফিতরের পর বেগম জিয়ার চোখের চিকিৎসা করাতে যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে চিকিৎসারত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সাথে আগামী নির্বাচন, আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলবেন তিনি। দলের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অপ্রকাশ্যেই চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়া নিজেই এ বিষয়ে কাজ করছেন। তিন স্তরে প্রার্থী বাছাই করে প্রস্তুত রাখা হবে। সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর সাজা হলে বা অন্য কোনো কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হলে দ্বিতীয় স্তর থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে।
তিনিও কোনো কারণে বাদ পড়লে বিকল্প হিসেবে তৃতীয় জনকে বেছে নেয়া হবে। সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতারা যোগ্য ও নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে বিএনপির হাইকমান্ড। এ দিকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে মাঠ সাজাচ্ছেন বহু নেতা। তাদের মধ্যে অনেকেই তরুণ এবং সাবেক ছাত্রনেতাও রয়েছেন। আগামীতে পাবনা সদর আসনে নির্বাচন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। সেখানে তিনি একক প্রার্থী বলে জানা গেছে। মাদারীপুর-১ (শিবচর) থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) থেকে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল চেম্বারস অব কমার্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, বগুড়া সদর আসন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলা বিএনপি সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম। তবে সেখানে বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থী না হলে ভিপি সাইফুলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান জানান, তিনি এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্নভাবে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
গতকালও ইফতার মাহফিল করার কারণে পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এলাকাবাসী যোগ্য, তরুণ সৎ মানুষকে এমপি হিসেবে চায় বলে জানান তিনি। নেত্রকোনা-১ থেকে কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া দুলাল, সিলেট-৬ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) থেকে সাবেক ছাত্রনেতা আবু বকর সিদ্দিক, নেত্রকোনা-৫ থেকে শহিদুল্লাহ ইমরান, মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ফেনী-৩ থেকে নির্বাহী কমিটির সাবেক সহদফতর সম্পাদক বর্তমানে সদস্য আবদুল লতিফ জনি, ঢাকা-১০ (লালবাগ-ধানমন্ডি) থেকে মহানগর দণি বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, জামালপুর-৫ থেকে নিলোফার চৌধুরী মনি, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) থেকে বিএনপির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, চাঁদপুর-৫ থেকে ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) থেকে যুবদলের সেক্রেটারি ও ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সুমন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ আর আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে গেছে : রিজভী

পুলিশ অার আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে ইফতার মাহফিলে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এভাবে বিরোধীদলকে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে সরকার বিরত রাখতে চায় বলে দলটির অভিযোগ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের মুসলিমজাতি যখন রমজানে সিয়াম সাধনা করছে, তখন দেশে সরকারের সন্ত্রাসীরা বিরোধীদলীয় ইফতার মাহফিলে আক্রমণ করছে। বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে আক্রমন করছে। তারা দ্রুত বিচার আইনের অধীনে মামলার ভয় দেখাচ্ছে। আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গতকাল শুক্রবার নরসিংদীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের ইফতার মাহফিলে বাধা দিয়েছে। মঞ্চ পন্ড করেছে। ছাত্রলীগের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা করে ইফতার মাহফিল ভাঙচুর করেছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানের বাড়িতে ইফতার মাহফিলের অায়োজন করা হলে তার বাড়িতে হামলা চালায় পুলিশ। পরে ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে। ঢাকার দোহারেও ইফতার মাহফিলে বাধা দেয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি বলেন, দেশে বন্দুকযুদ্ধের নামে প্রতিনিয়ত চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড। গ্রেফতার করা হচ্ছে বহু সাধারণ মানুষকে। দেশে সরকার আছে বলে মনে হয়না।
তবে যারা এধরনের কাজ করছে তাদেরও কালো তালিকা হচ্ছে। কেউ পার পাবেননা। কারণ আপনারা জঘন্যতম মানবতাবিরোধী কাজ করছেন। দ্রুত বিচার আইনের সাজার মেয়াদ বাড়ানোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আজকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা অাদায় করা হচ্ছে। এই হলো দেশের বর্তমান অবস্থা। নরসিংদীতে জেলা ছাত্রদল নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি অবিলম্বে তার সন্ধান দাবি করেন। রিজভী বলেন, রমজান মাসে দেশব্যাপী বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলগুলোতেও অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা। কোথাও কোথাও সরকারি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুলিশ চড়াও হচ্ছে, অাক্রমণ চালাচ্ছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিএনপি সহ বিরোধীদলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড তো দূরে থাক ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতেও হিংসার অাশ্রয় নিয়েছে। আওয়ামী ক্যাডাররা বাধা দিচ্ছে। এ ধরনের আক্রমণ বা বাধা শুধু প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা নয়, বরং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপরও আক্রমণ। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোমোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবগামী ২০ হাজার শ্রমিকের ছাড়পত্র মিলছে না

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার পর গত ৩ দিন ধরে সৌদি আরবগামী শ্রমিকদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন বিদেশগামী প্রায় ২০ হাজারের মতো কর্মী। যাদের বেশির ভাগ সুদে ও জমিজমা বন্ধক রেখে লাখ লাখ টাকা রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন।  জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার নেতারা এ প্রসঙ্গে বলছেন, অনলাইন সিস্টেম চালু হওয়ার পর একক ভিসায় বিদেশ যেতে কোনো কর্মীর নামেই দূতাবাস থেকে সত্যায়ন আনতে হতো না। আগেভাগে না জানিয়ে হঠাৎ মন্ত্রণালয় থেকে এমন একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ায় সৌদিগামী হাজার হাজার পুরুষ কর্মীর বিদেশগমনে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এ মুহূর্তে ইচ্ছা করলেই কি সৌদি আরব থেকে শ্রমিকের সত্যায়ন নেয়া সম্ভব? এখনতো কর্মীর নামে ভিসা, মেডিক্যাল, টিকিট সবকিছুই হয়ে গেছে। শুধু বাকি রয়েছে ম্যানপাওয়ার কিয়ারেন্সটুকু। বায়রা নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা দ্রুত সৌদি সরকার, দেশটিতে থাকা রাষ্ট্রদূত ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির (বায়রার) নেতারাপ্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির সাথে দেখা করতে দিনভর অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু তাকে না পাওয়ায় পরে একটি লিখিত আবেদন দিয়ে এসেছেন।  গত ৬ জুন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজার কাছে। জরুরি ওই আদেশটি পরে পাঠানো হয় সৌদি আরবের জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সাথে জড়িত রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির সাধারণ সদস্যদের কাছেও। চিঠিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন, যাচাই প্রতিবেদন ছাড়া একক/দলীয় ভিসায় কোনো কর্মী যাতে সৌদি আরব যেতে না পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।  চিঠির এক স্থানে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর এডিজিকে বিষয়টি অতীব জরুরি উল্লেখ করে ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রতিপালনপূর্বক ছাড়পত্র প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজার সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, এ নিয়ে মন্ত্রণালয় অথবা আমার ডিজি মহোদয় বক্তব্য দেবেন। আমি কিছু বলতে পারব না। তবে ২০ হাজার কর্মীর ফাইল আটকা পড়েছে এ প্রসঙ্গে তিনি শুধু বলেন, ৩-৪ হাজার হবে কি না সন্দেহ। তবে এর বেশি যদি থেকে থাকে তাহলে সেগুলো ব্যুরোতে জমা হয়নি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
সৌদি আরব থেকে একক ও দলীয় ভিসার ডিমান্ড সবই এখন অনলাইন সিস্টেমে আসছে। তাই ভিসা নিয়ে সন্দেহ করা বা জালজালিয়াতি হওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই। আর ভিসা যদি সঠিক থাকে তাহলে দূতাবাসের সত্যায়ন লাগার কথা না। গতকাল শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং অ্যাজেন্সিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নোমান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, সৌদি আরবগামী পুরুষ কর্মীদের ভিসাসহ সবকিছু ঠিক থাকার পরও শুধু দূতাবাসের সত্যায়নের দোহাই দিয়ে আমাদের ১৫-২০ হাজার শ্রমিকের বহির্গমন ছাড়পত্র এখন ব্যুরোর বহির্গমন শাখায় আটকে আছে। তারা বলছেন, এসব ভিসার বিপরীতে সত্যায়ন নিয়ে আসতে। এ মুহূর্তে কি সত্যায়ন আনা সম্ভব? এটি আনতে আনতে কর্মীদের ভিসা, টিকিট এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে? শুধু ম্যানপাওয়ার কিয়ারেন্সটাই এখন বাকি আছে আমাদের। আমরা কেউ আইনের বাইরে না। তবে নতুন কোনো নিয়ম চালুর আগে অন্তত আমাদের সময় তো দেয়া উচিত। হুট করেই একটি নিয়ম চালু করে দিলেই তো আর হবে না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টির দ্রুত সুরাহার জন্য বৃহস্পতিবার দিনভর প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেছি। তিনি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে থাকায় তার বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়ে এসেছি। আগামী রোববার আমরা আবার তার সাথে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যাব। এ দিকে গত ৯ জুন নয়া দিগন্তের প্রথম পাতায় ‘উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ে শ্রমিক রফতানি, শীর্ষ ১৩ রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম স্থগিত’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসর মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বিষয়টি মোটেও সঠিক নয়। আমরা টাকা বেশি নিয়ে শ্রমিক রফতানি করছি এমন একটি ঘটনারও সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। আমরা ১৩ এজেন্সির প্রতিনিধি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও সচিবের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করি। তখন তারা আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, যেহেতু এই বিষয়টাতে কোনো ধরনের মেটারিয়াল নেই তাই মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী আমরা বিএমইটিতে পাঠাবো বলে।

আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান শতাধিক সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা। সেই লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন তারা। রুটিন করে নিজ নিজ আসনে সময় দিচ্ছেন যে যার মতো। সুখে-দুঃখে এলাকার জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তারা। তাদের অনেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দুর্বলতা কাজে লাগাতে ব্যস্ত। এতে দলের মধ্যে নবীন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে রীতিমতো মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে স্থানীয় এমপিদের। কখনো কখনো তা সংঘর্ষেও রূপ নিচ্ছে। তবে কোনোভাবেই মাঠ ছাড়তে রাজি নন তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আসছে ধরে নিয়েই নির্বাচনী ছক কষছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই দলীয় ফোরামে তা উল্লেখ করেছেন। সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে এবং তা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকের দায়িত্ব নিলেও এবারের নির্বাচনে আমি আর তাদের দায়িত্ব নিতে পারব না। এমপিদের তাদের যোগ্যতা দিয়ে উঠে আসতে হবে। যাদের ইমেজ খারাপ তাদের আর মনোনয়ন দেয়া হবে না।’ আগামী নির্বাচনের প্রার্থী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যাদের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমর্যাদা বিগত দিনে নষ্ট হয়েছে আগামী দিনে তারা মনোনয়ন পাবেন না।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপোকৃত তরুণ স্বচ্ছ নেতাদেরই গুরুত্ব দেয়া হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অবশ্যই দল ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। দলীয় দুই শীর্ষ নেতার এমন বক্তব্যের পর বিতর্কিত এমপিরা আতঙ্কে রয়েছেন। অন্য দিকে দলের মধ্যে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। বিশেষ করে বিতর্কিত এমপিদের আসনে ছাত্রলীগের সাবেক অনেক কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে নেমে পড়েছেন। মনোনয়ন পেতে লবিংসহ নানা ধরনের কৌশল নিয়ে কাজ করে করছেন তারা। সূত্র জানায়, নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই একাধিক জরিপ পরিচালনা করেছে। এসব জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগ দলীয় শতাধিক সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে খারাপ খবরের শিরোনামও হয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল এসব বিতর্কিত সংসদ সদস্যকে বাদ দিয়ে অপোকৃত তরুণ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করছেন। এমন বার্তায় শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের অপোকৃত তরুণ প্রার্থীরা মনোনয়নের লড়াইয়ে নেমেছেন। জানা গেছে খুলনা, ঝালকাঠি দিনাজপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, ঢাকা, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, যশোর, রাজশাহী, লক্ষ্মীপুরসহ আরো বেশকিছু জেলায় একাধিক আসনে এবার প্রার্থিতায় পরিবর্তন আসতে পারে। জানা গেছে, অপোকৃত তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগের নেতারা, আওয়ামী লীগ সমর্থিত পেশাজীবীদের অনেকে মনোনয়ন দৌড়ে বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন (চট্টগ্রাম-১৪), বিশ্বনাথ সরকার বিটু (রংপুর-২), অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর-৩), ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন (গাইবান্ধা-৫), সাখাওয়াত হোসেন শফিক (বগুড়া-৭), ইঞ্জিনিয়ার আকতারুল আলম (নওগাঁ-২), মাহমুদ রেজা (নওগাঁ-২), রতন কুমার সাহা (নাটোর-১), কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪), অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু (পাবনা-৩), রফিকুল ইসলাম লিটন (পাবনা-৩), অ্যাডভোকেট এ বি এম আহসানুল হক আহসান (যশোর-৩), কামরুল হাসান বারী (যশোর-৫), সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), পংকজ সাহা (মাগুরা-১), ড. ওয়াহিদুর রহমান টিপু (মাগুরা-২), শ্যামল দাস টিটু (নড়াইল-১), নিজাম উদ্দিন খান নিলু (নড়াইল), বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), আকতারুজ্জামান বাবু (খুলনা-৬), আব্দুল মালেক (পটুয়াখালী-২), জিয়াউল হক জুয়েল (পটুয়াখালী-২), শাহে আলম (বরিশাল-২), মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-২), এস এম মশিউর রহমান শিহাব (বরগুনা-১), মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর), অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), শফি আহমেদ (নেত্রকোনা-৪), আলমগীর হাসান (নেত্রকোনা-৩), অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫), গোলাম সরোয়ার কবীর (মুন্সীগঞ্জ-১),
ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবদুল ওয়াহিদ (মুন্সীগঞ্জ-২), ফয়সাল বিপ্লব (মুন্সীগঞ্জ-৩), পনিরুজ্জামান তরুন (ঢাকা-১), ড. আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাউসার (ঢাকা-৮), গোলাম রব্বানী চিনু (ঢাকা-১৩), ইকবাল হোসেন সবুজ (গাজীপুর-৩), অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাউসার (নরসিংদী-৫), শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-১), ড. আবদুস সোবহান গোলাপ (মাদারীপুর-৩), আনোয়ার হোসেন (মাদারীপুর-৩), দেলোয়ার হোসেন (মাদারীপুর-৩), ইকবাল হোসেন অপু (শরীয়তপুর-১), এ কে এম আজম খান (পিরোজপুর-১), এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩), মঈন উদ্দিন মঈন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মো: আলামিনুল হক আলামিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), ড. মোস্তফা কামাল খান (চাঁদপুর-৫), মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন (চট্টগ্রাম-৬), মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মঞ্জুরুল আলম শাহীন ও জহিরউদ্দীন মাহমুদ লিপটন (ফেনী-৩), সাইফুদ্দীন নাসির (ফেনী-২), এম এ মমিন পাটোয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১), আরিফুর রহমান দোলন (ফরিদপুর-২), নাফিউল ইসলাম নাফা (নীলফামারী-৪ ), রবিউল ইসলাম রবি (ঠাকুরগাঁও-৩) প্রমুখ। এসব প্রার্থী নিজ নির্বাচনী এলাকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এলাকার জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। চেষ্টা করছেন এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে। তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ দলীয় কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, গণভবনসহ প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় নিয়মিত ধর্ণা দিচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে লবিং-গ্রুপিং করে যাচ্ছেন যে যার মতো করে।

কাতারবাসীরা আমাদের ভাই: এরদোগান

কাতারবাসীদের নিজেদের ভাই ঘোষণা করে যেকোন পরিস্থিতিতে কাতারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবকে কাতারের প্রতি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে ক্ষমতাসীন নিজ দল জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরদোগান বলেন, 'কাতারবাসীরা আমাদের ভাই। আমরা আমাদের ভাইদের থেকে আলাদা হব না।' সৌদি আরবকে কাতারের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা এ অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। আপনারা মুসলিমদের পবিত্র স্থান 'কাবা' ঘরের জিম্মাদার। সুতারাং আপনাদের উচিৎ ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালানো।'
মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সাহায্য করা ও ইরানের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের অভিযোগে কয়েক দিন আগে আকস্মিকভাবে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশর, ইয়েমেন ও মালদিভ সম্পর্ক ছেদ করে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে ছয় আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করায় বিপাকে পড়া কাতারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। ইতিমধ্যে তুরস্কের সংসদ কাতারের সমর্থনে সেনা পাঠানোরও অনুমতি দিয়েছে। তুরস্কের পার্লামেন্ট ২৪০ ভোটে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। ভবিষ্যতে কাতার সব সবধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে জানিয়ে এরদোগান বলেন, আমরা আমাদের কাতারি ভাইদের খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সাহায্য দেয়ায় অনেকেই আমাদের ভালো ভাবে দেখছে না। আমি দু:খের সঙ্গে তাদের বলছি, আমরা কাতারকে এমন সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাব। কাতাদের সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক আছে এমন কোনো প্রমান কারো কাছে নেই বলেও দাবি করেন এরদোগান।

কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কী ঘটে

ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে পরবর্তী সরকার কীভাবে গঠিত হবে তা নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। সংসদের ৬৫০টি আসনের সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর যে দল থেকে সবচেয়ে বেশি এমপি নির্বাচিত হন সাধারণত সেই দলকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই দলের নেতাই সাধারণত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, যেমনটা বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ঘটেছে, যে দল দ্বিতীয় হয়েছে সে দলও অন্য দলের সহযোগিতায় সরকার গঠন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ হল হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তারাই যাদের দল থেকে সর্বাধিকসংখ্যক এমপি নির্বাচিত হয় অর্থাৎ অন্য সব দল থেকে নির্বাচিত মোট এমপির থেকে বেশি। এ ক্ষেত্রে মোট ৩২৬টি আসনে জিততে হবে। ৩২৬টি আসন পেলে সংসদে সেই দল নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অর্জন করে। কোনো দল যদি এককভাবে ৩২৬টি আসন না পায়, তাহলে সেটা হবে ‘ঝুলন্ত পার্লামেন্ট’ অর্থাৎ একাধিক দলকে জোটবদ্ধভাবে ৩২৬টি আসন পেতে হবে।
যেটা হয়েছিল ২০১০-এর সাধারণ নির্বাচনে। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটেই বসবাস করবেন যতক্ষণ না কারা নতুন সরকার গঠন করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে দলের নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলবে। তারা চেষ্টা করবে জোট গঠন করে একটা সরকার গঠন করতে অথবা কনজারভেটিভ দলের নেতা তেরেসা মে অথবা লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে প্রধানমন্ত্রী করে হয়তো কোনো একটা সমঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করা যেতে পারে। এ ধরনের জোট বা সমঝোতাভিত্তিক সরকার গঠনের সুযোগ প্রথমে তেরেসা মে-কে দেয়া হবে এবং দেনদরবার চলাকালীন তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এটা যদি স্পষ্ট হয় তিনি এ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং জেরেমি করবিন সফল হয়েছেন তাহলে তেরেসাকে পদত্যাগ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া কতদিন ধরে চলতে পারে তার কোনো ধরাবাঁধা সময়সীমা নেই। ২০১০-এর নির্বাচনে একটা জোট গঠনের জন্য পাঁচ দিন সময় লেগেছিল, তবে সাধারণত এ আলোচনা ও দরকষাকষিতে আরও বেশি সময় লাগে। প্রথম দফায় চূড়ান্ত সময়সীমা দেয়া হবে ১৩ জুন পর্যন্ত। নতুন সংসদ শুরু হবে সেইদিন।

দক্ষিণে আ’লীগের রাজনীতিতে হাসানাত-সাদিকের আধিপত্য

বরিশালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে নগরে সাদিক আর জেলায় হাসানাত। তবে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা হলেও তার বাবা সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির বিচরণ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় থাকা ২১টি নির্বাচনী এলাকা আর প্রায় সব উপজেলা-পৌরসভাতেই রয়েছে তার নেপথ্য আধিপত্য। সব মিলিয়ে বরিশাল তথা দক্ষিণের সিংহভাগ এলাকায় এখন সাদিক আর হাসানাতেই আবর্তিত ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি। নির্বাচন থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি, সবকিছুতেই ঘুরেফিরে কেবল এ দু’জনারই নাম। মাত্র ক’বছর আগেও বরিশালে আওয়ামী লীগের মাঠের চিত্র অবশ্য এমনটা ছিল না। ওয়ান-ইলেভেনকালীন অনেকটা ফাঁকা মাঠে বরিশালে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের হাতে। পরে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতায় সেই অবস্থান পাকাপোক্ত করেন তিনি। গড়ে তোলেন নিজস্ব শক্ত বলয়। নিজের মতো করে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের কমিটিও গঠন করেন হিরন। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় হিরনের মৃত্যুর পর অবশ্য দ্রুতই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। হিরনের আদর্শ রক্ষা আর অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হন তারই হাতে গড়া অন্য নেতারা। কেবল ব্যর্থ হন বললে ভুল হবে, তারা গিয়ে ভিড় জমান মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নামা হাসানাতপুত্র যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাদিক আবদুল্লাহর কাছে। হিরনের হাতে গড়া ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মধ্যে ২৮টির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রে চিঠি দেন সাদিককে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করতে। পাশাপাশি মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিজেকে কঠিনভাবে সম্পৃক্ত এবং সব কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে থাকেন সাদিকও। এর ফল হাতেনাতে সুফল পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ঘোষিত মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তাকে। হিরন অনুসারীদের অস্তিত্বের কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন তারই স্ত্রী জেবুন্নেসা আফরোজ। হিরনের মৃত্যুতে খালি হওয়া বরিশাল সদর আসনে দলের মনোনয়নে এমপি হলেও স্বামীর রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে গিয়ে হাত মেলান হাসানাত আবদল্লাহর সঙ্গে। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুসংহত হয় সাদিকের। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসেবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরও এখানে আওয়ামী লীগ বলতে ঘুরেফিরে আসতে শুরু করে কেবল সাদিক আবদুল্লাহর নাম। এমনকি মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও হয়ে পড়েন গৌণ। এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নসহ সব ক্ষেত্রে অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন সাদেক। সর্বশেষ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে তাকে একক প্রার্থী হিসেবে নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত হয়েছে দলে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘যোগ্যতাই একটি মানুষের ওপরে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। সাদিকের সেই যোগ্যতা আছে। তবে সে এককভাবে আওয়ামী লীগের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে এটা ঠিক নয়। দলীয় সব কর্মকাণ্ডে সে আমাদের পরামর্শ নেয়। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে কিছুই করে না। তাছাড়া তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়েছে সেটা তো মিথ্যা নয়।’ এ ব্যাপারে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘উত্তরাধিকারসূত্রে আমার শিরা-উপশিরায় আওয়ামী লীগের রক্ত বহমান। আমি যা করি তা আওয়ামী লীগের জন্য করি। সেক্ষেত্রে কি পেলাম বা কি না পেলাম তা বড় কথা নয়। আমি পরিচ্ছন্ন ধারায় রাজনীতি করতে চাই। আর সেভাবেই চেষ্টা করছি।’ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ওয়ান-ইলেভেনে দেশের বাইরে অবস্থানকালীন ছাড়া আগাগোড়াই দক্ষিণে আওয়ামী লীগের অভিভাবক তিনি। তার প্রমাণও রেখেছেন দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তার একসময়কার হাতে গড়া নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। সেসব নেতাই বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুরো দক্ষিণে। এক হিসাবে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২৬টি পৌরসভার মধ্যে ১৮টিতেই মেয়র পদে আসীন হাসানাত আবদুল্লাহর অনুসারী। এই ২৬ পৌরসভার একটিতে অবশ্য এখনও নির্বাচন হয়নি। বরিশাল বিভাগে থাকা ৪২টি উপজেলার মধ্যে ৩৭টিতে চেয়ারম্যান পদে আছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এই ৩৭ জনের মধ্যে ২২ জন হাসানাতের অনুসারী। এছাড়া দক্ষিণের ২১ সংসদীয় আসনের মধ্যে যে ১৬টিতে আওয়ামী লীগের এমপি রয়েছেন তাদের ৭ জনই তার ঘনিষ্ঠ। বিভাগের ৬ জেলা পরিষদের ৬ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৪ জন হাসানাতের অনুসারী।
এসবের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অন্য সেক্টরগুলো হিসাব করলে দক্ষিণের অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে সমর্থন প্রশ্নে তৃণমূলে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন হাসানাত আবদুল্লাহ। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিভিন্ন জেলার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা যুগান্তরকে জানান, দক্ষিণের ৬ জেলায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা। কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন মন্ত্রী এমপির সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু তারা কেউই এভাবে পুরো দক্ষিণ নিয়ে মাথা ঘামান না। কেউ কেউ অবশ্য হাসানাত আবদুল্লাহর এসব কর্মকাণ্ডকে পুরো দক্ষিণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার একক আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে ভাবেন। তাদের মতে, বরিশাল বিভাগের প্রত্যেকটি এলাকায় নিজের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এসব করেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন হাসানাত আবদুল্লাহ। বর্তমানে তিনি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা যেমন তার অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি তেমনি পুরো বরিশালেই ছড়িয়ে আছে তার অনুসারী নেতাকর্মী। তাছাড়া রাজনৈতিক কর্মী তৈরির সূতিকাগার বরিশাল বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে পেয়েছেন হাসানাত আবদুল্লাহর সান্নিধ্য। এলাকাভিত্তিক রাজনীতি প্রশ্নে তারাই এখন যার যার এলাকায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের। সেই হিসেবে পুরো দক্ষিণে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর শ্রদ্ধার আসন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে হাত মেলানো প্রসঙ্গে হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেসা আফরোজ যুগান্তরকে বলেন, তিনি আমার পিতৃতুল্য বড় ভাই এবং রাজনৈতিক অভিভাবক। আমি তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে কাজ করি। হিরনের সঙ্গে হাসানাতের দূরত্ব প্রসঙ্গে জেবুন্নেসা বলেন, আমি রাজনীতিতে নতুন। আগে আমার স্বামীর সঙ্গে কী ছিল না ছিল তা আমার জানা নেই।

কচুপাতার মতো আত্মায় মাগফিরাত জুটবে না

‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ধর্মদরদি মানুষের সংখ্যাই বেশি। এটা সম্ভব হয়েছে উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান নায়েবে নবীখ্যাত আলেমদের মেহনতের কারণে। আলেমরা ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহমুখী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ চেষ্টারই বড় একটা মাধ্যম জুমার বয়ান। আজ আমরা মাহে রমজানের দ্বিতীয় জুমা আদায়ের জন্য এখানে জমায়েত হয়েছি।’ এভাবেই গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ান শুরু করেন আল্লামা মাহমুদুল হাসান। প্রথমেই তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে বলেন, নবী এবং সাহাবিরা যখন বক্তব্য দিতেন তখন মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ছিল না। তারপরও তাদের কথা মানুষের কান হয়ে অন্তর স্পর্শ করত খুব সহজেই। আমরা মাইকে কথা বলছি। আমাদের কথা অনেকের কানও স্পর্শ করছে না। আমাদের আমলের কমতির কারণেই এমনটি হচ্ছে। পাশাপাশি আরেকটি কারণও আছে। বৃষ্টি যখন হয়, সব কিছুই ভিজিয়ে যায়। কিন্তু কচুপাতা ভেজে না। আমার দরদি শ্রোতা বন্ধুরা! একটু ভেবে দেখুন! কোরআনের কথা যে আপনার আত্মায় স্পর্শ করছে না, আপনার অন্তর কচুপাতার মতো স্থায়ী শুষ্ক হয়ে যায়নি তো? যা বাইরে থেকে দেখতে সবুজ কিন্তু রহমতের বর্ষণে সিক্ত হয় না। যদি এমনটি হয়েই থাকে তবে মাহে রমজানে খোদার রহমতের বর্ষণ থেকে আপনি বঞ্চিত থেকেই যাবেন- এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ আল্লামা মাহমুদুল হাসান মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, ‘মুসলমানদের মাঝে এখন এক ধরনের ফেতনা শুরু হয়েছে। ধর্ম নিয়ে ফেতনা। মদ-জুয়া-ঘুষ, অন্যায়-অনাচার, জেনা-ব্যভিচার এসব নিয়ে কোনো ফেতনা নেই। ফেতনা হল নামাজ নিয়ে। রোজা নিয়ে। মিলাদ-কিয়াম-মাজহাব নিয়ে। হাদিসের ভিন্ন ভিন্ন মতের কারণেই এ ধরনের মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আপনার যেটি ভালো লাগে সেটিই করুন। কিন্তু আরেকজনকে কেন ভুল বলছেন বা কেন আপনারটা আরেকজনকে গেলাতে চাচ্ছেন। এটা দ্বীনের জন্য বড় ভয়াবহ কথা। কোনো ইমামই কোরআন হাদিসের বাইরে কথা বলেননি। আর বললেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ! ধর্ম নিয়ে ফেতনায় জড়াবেন না।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমল করলে তো আপনি সওয়াব পাবেন, কিন্তু ধর্ম নিয়ে ফেতনায় জড়িয়ে গেলে আপনার আত্মা কচুপাতার মতো হয়ে যাবে। বাইরে থেকে মনে হবে কত সবুজ! কিন্তু আল্লাহর রহমত-মাগফিরাত কপালে জুটবে না। আপনি হবেন চির বঞ্চিতদের একজন।’
‘হে আমার প্রিয় মুসল্লি ভাইয়েরা! রমজানের বৃষ্টি রহমত হয়ে মাগফিরাত হয়ে নাজাত হয়ে ঝরছে। অনেক দিল এমনও আছে বৃষ্টিতে সিক্ত হয় না। এর যথার্থ কারণ রয়েছে। বড় কারণ তো বললাম, ধর্ম নিয়ে ফেতনায় জড়িয়ে পড়া। আরেকটা কারণ হচ্ছে আল্লাহর কাছে দোয়া না করা। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে কোরআনের শেখানো নিয়মে। ওয়াদউ রব্বাকুম তাদাররুআ ওয়া খুফইয়াতান। আল্লাহকে ডাক, বিনয়-নম্রতা ও ভয়ের সঙ্গে চুপিচুপি।’ প্রিয় মুসল্লিরা! নামাজ শেষে আপনারা আমার সঙ্গে হাত তুলবেন। আমি দোয়া করব। আপনারা আমিন আমিন বলে চোখের জলে বুক ভাসাবেন। আমার ভাষায়, এটা আসল দোয়া নয়। আসল দোয়া হল আপনার হৃদয়ের আবেগ-ভয় যখন আপনাকে আল্লাহর কাছে টেনে নিয়ে যাবে, গোনাহের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই হাউমাউ করে অথবা ঠোঁট কামড়ে কেঁদে ফেলবেন, মনের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে একটি ক্ষীণ আওয়াজ বের হবে ‘হে আল্লাহ! আমি ভুল করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ আমি বলি- এটিই আসল দোয়া। এটিই কোরআনে শেখানো দোয়া।’ মাহে রমজানের করণীয় সম্পর্কে খতিব বলেন, ‘রমজানের প্রধান করণীয় দুটি। এক. দোয়া করা। কোরআনে আল্লাহপাক রোজার বিধি-বিধান বর্ণনার পর পরই বলেছেন, ‘ওয়া ইজা সাআলাকা ইবাদি আন্নি ফাইন্নি কারিব। আদরের বান্দা! তুমি আমাকে ডাকা মাত্রই আমি সাড়া দেব। আমি তো তোমার কাছেই আছি।’ তাই রমজানে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয় করণীয় হল- কারও সঙ্গে যদি আপনার বিরোধ থাকে, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোন, প্রতিবেশী, সহকর্মী এক কথায় কোনো মানুষের সঙ্গে আপনার মতবিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে নিতে হবে। তা না হলে আপনি যতই আল্লাহর দরবারে দোয়ার হাত তোলেন না কেন আল্লাহর কাছে তা কবুল হবে না।’

ঘরে মা ও তিন সন্তানের লাশ

রাত সাড়ে ১১টায় (বৃহস্পতিবার) অন্য দিনের মতো মোস্তফা কামাল সমিতির (স্থানীয় যুব কল্যাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রোপার্টি) অফিস থেকে বের হন। একটি দোকানে বসে চা পান করেন তিনি। তারপর এক প্রতিবেশীর সঙ্গে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। বাসায় এসে দরজা নক (ধাক্কা) করেন কামাল। দরজা নক করলে দুই মেয়ে নুসরাত মোস্তফা আঁখি (১৩) ও আরিশা মোস্তফা (৯) বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে- এমন চিত্র প্রতিদিনের। কিন্তু এদিন বারবার দরজা নক করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। তাই জানালা দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে নিজেই ঘরের দরজা খোলেন কামাল। ঘরে প্রবেশ করতেই তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। একটি কক্ষে খাটের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে রাখা দুই মেয়ে আঁখি, আরিশা এবং ১১ মাস বয়সী ছেলে মোছামিম সাদের লাশ। অন্য কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে তার স্ত্রী রেহেনা পারভীন (৩৫)। এ দৃশ্য দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন কামাল। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের এমন পরিস্থিতিতে ভড়কে যান সবাই। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়ার কালিয়ারটেকের একটি বাসায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কামালের স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। রেহেনার স্বামী মোস্তফা কামাল ও প্রতিবেশীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। এ প্রসঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, তিন শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তবে মায়ের মৃত্যু রহস্যজনক। তাই তার ঘারের টিস্যু পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।তবে রেহেনার স্বামী কামালের দাবি, তুরাগের স্থানীয় দুই প্রভাবশালীকে তিনি ডেসটিনির ব্যবসার জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তারা টাকা ফেরত দেননি। এর জেরে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হত্যা করা হতে পারে। অন্যদিকে রেহেনার ভাই মাহবুব আলমের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহেনা ও তার তিন সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, মোস্তফা কামালের স্ত্রী রেহেনা পারভীন তার তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, রেহেনার গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির দাগ দেখা গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এমনকি এ ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়নি। রেহেনার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা কামাল বেকার। এ কারণে আর্থিক অনটন ছিল পরিবারে। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। তাছাড়া মোস্তফা কামালের ভাই-বোনদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এসব বিষয় নিয়ে মানসিক যন্ত্রণা ছিল রেহেনার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন রেহেনা। এ কারণে সন্তানদের হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরা যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তিন সন্তানকে হত্যার পর রেহেনা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর প্রেক্ষাপট এবং কারণগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ মাহমুদ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিন সন্তানকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে। পারিবারিক সূত্র জানায়, মোস্তফা কামাল চট্টগ্রামে একটি বায়িং হাউসে উচ্চ বেতনে চাকরি করতেন। ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। পরে ডেসটিনিতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এ সময় তিনি অনেকের কাছ থেকে ধারও করেছিলেন। ডেসটিনি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি এ টাকা আর তুলতে পারেননি। একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে পাওনাদারদের চাপ ছিল তার ওপর। এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রী রেহেনার সঙ্গে পারিবারিক কলহ ছিল তার। রেহেনার ভাবী সুলতানা বেগম জানান, ৬ বোন ৪ ভাইয়ের মধ্যে রেহেনা ছিলেন পঞ্চম। ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাস করেছিলেন তিনি। পরে সমাজ কল্যাণে এমএ ডিগ্রি নেন। আর্থিক অনটন নিয়ে হতাশা থেকে বাঁচতে রেহেনা চাকরি খুঁজছিলেন। কিন্তু চাকরি পাননি। তুরাগের কামারপাড়ার কাইলারটেকের সানবিম স্কুল রোডের ১নং গলির ৮৯ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন মোস্তফা কামাল। ২০১০ সালে পৈতৃক সম্পত্তির ওপর এক তলা একটি বাড়ি করেন। এ বাড়িটির মালিক তিনি ও তার বোন শামসুন্নাহার। শামসুন্নাহার চট্টগ্রামে থাকেন। কামাল জানান, ওই বাড়ির মধ্যে ২০টি ঘর আছে। এর মধ্যে তিনটি করে ঘর নিয়ে তিনি এবং তার আরেক বোন কোহিনুর থাকেন। বাকি ১৪টি ঘর ভাড়া দেয়া হয়েছে, যার টাকা তার মা ও বোন (শামসুন্নাহার) নেন। মোস্তফা কামালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বেকার থাকায় তারা কয়েকজন মিলে একটি যুব কল্যাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রোপার্টি গড়ে তুলেছেন। কালিয়ারটেক এলাকাতেই এর অফিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন। রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানের লাশ দেখতে পান। স্থানীয় পরশমণি ল্যাবরেটরি স্কুলে তার বড় মেয়ে নুসরাত মোস্তফা আঁখি ৫ম শ্রেণীতে ও ছোট মেয়ে আরিশা মোস্তফা প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। পরিবার যা বলছে : স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মোস্তফা কামাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করতে পারে না। এলাকার দুই প্রভাবশালীকে ডেসটিনির ব্যবসার জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। পরে ওই টাকা আর পাইনি। তারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ওরা এতটাই প্রভাবশালী যে, ওদের নাম বললে আমাকেও মেরে ফেলবে। এদিকে নিহত রেহেনা পারভিনের ভাই মাহবুব আলম সাগর বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানা পারভীনকে হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রেহেনার সঙ্গে ননদ, দেবর ও শাশুড়ির বিরোধ চলে আসছিল। তারা গত দেড় বছল ধরে তুরাগের ওই বাড়ি ভাড়ার সব টাকা নিয়ে নিত। তাদের এক টাকাও দিত না। রেহেনার স্বামী মোস্তফা কামাল দীর্ঘদিন ধরে বেকার রয়েছেন। কোনো আয় না থাকায় আর্থিক অনটন লেগেই থাকত। কয়েকদিন আগে ১৭ লাখ টাকার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করা হলেও কোনো টাকা কামালকে দেয়া হয়নি। সন্তানদের লেখাপড়া চালানো এবং পরিবারের খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হতো না। এরপরও বাড়ি ভাড়ার টাকা মোস্তফা কামালকে না দিয়ে তার মা এবং ভাই-বোন ভোগ করতেন। তিনি আরও বলেন, মোস্তফা কামালের বোন কোহিনুর বেগম ও তার স্বামী ওই বাড়িতেই থাকেন। এ ঘটনার পর কোহিনুর ও তার স্বামী হাসপাতাল মর্গেও আসেননি। এতে বিষয়টি আরও সন্দেহ তৈরি করে। ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল : শুক্রবার দুপুরে ১২টায় নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, তিন শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রেহেনা পারভীনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে। এদিকে মৃত রেহেনা পারভীন ও তার তিন সন্তানের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তুরাগ থানার এসআই খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার।
এতে তিনি উল্লেখ করেন, মোস্তফা কামালের স্ত্রী রেহেনা পারভীন তার তিন সন্তানকে হত্যা করে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি কক্ষে তিন সন্তানের লাশ ছিল। তাদের গলায় আলাদাভাবে ওড়না পেঁচানো ছিল। অন্য কক্ষে খাটের ওপর রেহানা পারভীনের লাশ রাখা ছিল। তার গলার বামপাশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি দাগ রয়েছে। ডান হাতের ওপরে রয়েছে রক্ত লাগানো দাগ। সুরতহাল প্রতিবেদন আরও বলা হয়, রেহেনার মেয়ে নুসরাত মোস্তফা আঁখি ওরফে শান্তার (১৩) গলায় হলুদ রঙের সুতি ওড়না দিয়ে পেঁচানো ও গলায় সামান্য কালো কালো দাগ ছিল। পা দুটি খাট থেকে নিচের দিকে হাঁটু বরাবর নামানো ছিল। এছাড়া পা দুটি গোলাপি ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল। তার পরনে ছিল হাফ হাতা গোলাপি গেঞ্জি ও গোলাপি সুতি পায়জামা। তার ছোট বোন আরিশার লাশ খাটের ওপরে ছিল। তার কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। এছাড়া ১১ মাসের শিশু মুছামিম ওরফে সাদের গলায় ছাপা বেগুনি নীল রঙের সুতি ওড়না দিয়ে পেঁচানো ও পায়ের পাতায় রক্ত জমানো কালো দাগ ছিল। পরনে ছিল হাফ শার্ট ও হাফ প্যান্ট। নিহতদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উভারামপুর গ্রামে। সব হারিয়ে কামালের আর্তনাদ : ঘরে প্রবেশ করেই মোস্তফা কামাল দেখতে পান তিন শিশুসন্তান খাটের মধ্যে পড়ে আছে। ওই সময় ১১ মাস বয়সী ছেলে সাদকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। ওই সময় প্রতিবেশীদের ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ যুগান্তরের কাছে এসেছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, ছেলেকে ধরে আহাজারি করছেন মোস্তফা কামাল। দুই মেয়ের গাল ধরে আদর করছেন। তখন তিনি শুধু বলছিলেন, আল্লাহ একি হয়ে গেল। তিনি আর কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। প্রতিবেশীরা তাকে শান্ত করতে পারছিলেন না। কামাল উদ্দিন নামে এক প্রতিবেশী জানান, এখানে আমরা যারা থাকি তাদের মধ্যে মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী রেহেনা পারভীন শিক্ষিত। এ কারণে রেহেনা অন্যদের সঙ্গে মিশতেন না। তাছাড়া তাদের অভাব-অনটনের বিষয়েও কারও কাছে বলতেন না। নাছিমা বেগম নামে এক প্রতিবেশী জানান, রেহেনা সারা দিন একাকী বাসায় থাকতেন। কখনোই প্রতিবেশীদের বাড়িতে আসতেন না।

ঝড়ের কবলে যুক্তরাজ্য অজানা গন্তব্যে ব্রেক্সিট

আগাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্রিটেন নতুন এক রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের পদত্যাগ দাবি করছেন তার কনজারভেটিভ পার্টির বহু নেতাকর্মী। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক এ পরিস্থিতিতে অজানা গন্তব্যে গিয়ে ঠেকেছে বেক্সিট আলোচনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাকে আরও পাকাপোক্ত করতে হঠাৎই এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। কিন্তু ব্রিটেনের ভোটাররা বিস্ময়কর এক আঘাত হেনেছেন তার প্রতি। নির্বাচনে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন তিনি। ফলে নতুন এক বিপর্যয়ের যুগে প্রবেশ করল যুক্তরাজ্য। নির্বাচনের কারণে এখন ব্রেক্সিট আলোচনা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছ থেকে এক বছরেরও কম সময় আগে তেরেসা ক্ষমতা নিয়েছিলেন। ব্রেক্সিট গণভোটে পরাজয়ের পর পদত্যাগ করেন ক্যামেরন। সাবেক অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন নির্বাচনী ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তার দলের এ পারফরম্যান্স বিপর্যয়কর। কনজারভেটিভ দলের এমপি আনা সাউব্রি বলেন, এখন নিজের অবস্থান সম্পর্কে তেরেসাকে বিবেচনা করতে হবে। নির্বাচনের এ ফল ব্রিটেনকে আরেক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ফেলবে, যেখানে ব্রেক্সিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থবির হয়ে যাবে। এরই মধ্যে নির্বাচনের ফলে পাউন্ডের দরপতন হয়েছে। এদিকে, তেরেসা বলেন, এখন এ সময়ে দেশে প্রয়োজন একটি স্থিতিশীলতা। নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও তিনি নতুন সরকার গঠনে তৎপর থাকবেন বলে জানান। তবে বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তার ম্যান্ডেট হারিয়েছেন। তিনি তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। সিএনএনের সাংবাদিক জেন মেরিক লিখেছেন, দেশের কর্তৃত্ব, কনজারভেটিভ পার্টির কর্তৃত্ব ধরে রাখার ব্যাপারে এটা তেরেসার জন্য বিরাট এক বিপর্যয়।
কারণ, তিনি এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। মেরিক আরও বলেন, এ নির্বাচন ছিল তেরেসার জন্য একটি গণভোট এবং তাতে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এখন সামনের দিনগুলোতে যেসব বিষয় আসবে তার মধ্যে ব্রেক্সিট সমঝোতা অন্যতম। যদি তেরেসা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যান তাহলেও এ আলোচনা হয়ে উঠবে কঠিন। অনেকেই এ নির্বাচনকে ব্রেক্সিট-নির্বাচন হিসেবে দেখেছেন। এক্ষেত্রে ব্রেক্সিট আলোচনা ঝুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারাও। ইউরোপীয় কমিশনের জার্মান সদস্য গুয়েনতার ওতেঙ্গার বলেন, তারা এখনও জানেন না ১৯ জুনের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হবে কিনা। এছাড়া কোনো নেতা শক্ত অবস্থানে না থাকলে তার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। ইইউর বাজেট কমিশনার ওতেঙ্গার আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরকার চাই যারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে পারবে। দুর্বল সরকার হলে দু’পক্ষের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ ইউরোপ রেডিও ওয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড ফিলিপ বলেন, ব্রিটেনের নির্বাচনী ফলাফল বিস্মিত করেছে কিন্তু ব্রেক্সিট ইস্যুতে দেশের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। আমি মনে করি না যে এ ফলাফলে ব্রেক্সিট নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। ইইউর ফরাসি নেতা পিয়েরে মোসোভিসি বলেন, ‘এই ফলাফল অবশ্যই আলোচনায় প্রভাব ফেলবে। তবে ব্রিটেন কোনোভাবেই ইইউতে থাকতে চাইবে না আর। ফিনল্যান্ডের সাবেক প্রিমিয়ার আলেক্সান্ডার স্টাব এক টুইটে বলেন, ‘হয়তো আমাদের ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনায় বিরতি নিতে হবে।’ সিএনএন ও রয়টার্স।

২ দিনব্যাপি বর্ধিতসভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করবে ছাত্রলীগ

১০৯টি জেলা ইউনিটের সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে বর্ধিত সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আগামী ১১ ও ১২ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। শনিবার এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের উপস্থাপনায় এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। লিখিত বক্তব্যে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আমরা গত বছর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও নিয়মিত বর্ধিত সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। এবারও ১১ ও ১২ জুন আমাদের নিয়মিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি করবো। দুই দিনব্যাপি এই বর্ধিত সভায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত গতিশীল করার লক্ষে নেতা-কর্মীদের প্রতি দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ থাকবে। থাকবে একজন ছাত্রনেতার চারিত্রিক গঠন, ব্যক্তিত্ববোধ সৃষ্টিসহ নানা দিক নির্দেশনা। তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শের এই সংগঠনের প্রতিটি নেতা-কর্মী হয়ে উঠবে একজন সুনাগরিক। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা চেয়েছেন, ছাত্রলীগই সেটা বিনির্মাণ করতে পারবে। ছাত্রলীগের প্রতি যেমনি জাতির পিতার আস্থা ছিল, তেমনি ছাত্রলীগও জাতির পিতার প্রধান সিপাহসালারের ভূমিকায় ছিল।
একইভাবে এখনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত করতে এই সংগঠনের প্রতিটি নেতা-কর্মী প্রস্তুত। সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা প্রায় এককোটি পরিবারের একটি বৃহৎ পরিবার। ১০৯টি জেলা ইউনিট, ৫০টি আন্তর্জাতিক শাখা ইউনিট, অর্ধ সহস্র উপজেলা এবং প্রায় ৪৫৫০টি ইউনিয়ন ইউনিট আছে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আমরা প্রায় সবগুলো আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করেছি। ৩৭টি জেলা ইউনিটের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দিয়েছি। বেশ কয়েকটি ইউনিটের কমিটি প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, আমরা ছাত্রলীগকে তৃণমূল পর্যায়ে গতিশীল করতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। যেগুলোতে একেবারেই ওয়ার্ড-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আমরা তাদের সমস্যার কথা শুনেছি, সমাধানের নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। কমিটি গঠন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং যেখানে কমিটি নেই সেখানে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বাকি বিভাগগুলোতেও এই প্রতিনিধি সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, অহিদুর রহমান জয়, মেহেদী হাসান রনি, আবদুল বাছেদ গলিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমরান খান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, দফতর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, উপ দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপ স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আরাফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

তিন বাঙালি কন্যার অভূতপূর্ব জয়

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছেন তিন বাঙালি কন্যা। গতবারের চেয়ে এবার তারা আরও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। এদের তিনজনই নির্বাচিত হয়েছেন লেবার দলের টিকিটে। বৃৃহস্পতিবারের নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে, রুশনারা আলী বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ও রূপা হক ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে জয়ী হন। এবার পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোট ১৫ প্রার্থী নির্বাচন করেন। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন আগের মেয়াদে এমপি থাকা ওই তিনজন।
টিউলিপ সিদ্দিক : লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে লেবার দলের প্রার্থী টিউলিপ পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। ১৫ হাজার ৫৬০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন টিউলিপ। ৩৫ বছর বয়সী টিউলিপ টুইটারে লিখেছেন, ‘আমার আসন হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন থেকে আবারও নির্বাচিত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আমার প্রতি দৃঢ় সমর্থন রাখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’ ২০১৫ সালে মাত্র ১ হাজার ১৩৮ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। পরে তিনি বিরোধী দলনেতা জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভারও সদস্য হয়েছিলেন। টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে। একদিকে পারিবারিক পরিচয়, অন্যদিকে লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে প্রার্থী হওয়ায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন এবং সেইভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গে কাজ করেন টিউলিপ। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হন। ২০১০ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন টিউলিপ। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে স্থানীয় পার্টির সদস্যদের ভোটে টিউলিপ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকিট পান।
রুশনারা আলী : ৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে বড় জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী। এ নিয়ে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে তৃতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হলেন তিনি। রুশনারা ৪২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির চার্লট চিরিকো পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট। নির্বাচনে বিজয়ী রুশনারা আলী তার টুইটে লিখেছেন, ‘পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে আবারও আমাকে নির্বাচিত করায় বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বোর বাসিন্দাদের আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাই। এটি আমার কাছে এক সম্মানজনক প্রাপ্তি।’ ২০১০ সালের নির্বাচনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হন। সেবার তিনি প্রায় ১২ হাজার ভোটে জয়ী হন। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি নির্বাচিত হন। পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনটি লেবার দলের নিরাপদ আসন। অক্সফোর্ডপড়ুয়া রুশনারার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সাত বছর বয়সে তিনি মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান।
রূপা হক : লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে দ্বিতীয় মেয়াদে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক। লেবার দলীয় প্রার্থী রূপা হকের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট। গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জয় পাওয়া রূপা এবার জিতেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৫ সালে রূপা হক প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। রূপার আসনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এ আসনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসের বিজয় ঠেকাতে এবার পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তারা লেবার প্রার্থী রূপাকেই সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে ডানপন্থী ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি (ইউকিপ) কনজারভেটিভ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এই আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। মাত্র তিনজন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর প্রার্থী হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের জনবল। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে তার আদি বাড়ি পাবনায়।
অভিনন্দন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হককে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাদের এই বিজয়ে বাংলাদেশের জনগণের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃত দিয়ে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হক এই তিন কন্যার বিজয় আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি আশা করি, তারা যে বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছে তার আলোর বর্ণালি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।’

সবচেয়ে গরম ভিনগ্রহের সন্ধান

সূর্যের চেয়ে বেশি দাউদাউ করে জ্বলা একটা তারা বা নক্ষত্র আস্ত একটা গ্রহকে যেন গিলে খাচ্ছে। ওই তারার গা পুড়িয়ে দেয়া তাপে তাকে পাক মেরে চলা আস্ত একটা গ্রহ ধীরে ধীরে উবে যাচ্ছে! এমন একটা দিন আসবে যখন ওই ভিন গ্রহটির আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সম্প্রতি সেই রাক্ষুসে তারা আর তাকে ঘিরে চলা ও ধীরে ধীরে উবে যাওয়া গ্রহ ‘কেল্ট-৯বি’ ধরা পড়েছে ২৭ বছর ধরে মহাকাশে থাকা হাব্ল স্পেস টেলিস্কোপের চোখে। অন্য নক্ষত্রমণ্ডলের সেই ভিন গ্রহটি চেহারায়, আকারে-আকৃতিতে দেখতে অনেকটা আমাদের বৃহস্পতির মতো। পুরোটাই গ্যাসে ভরা। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে গরম ভিন গ্রহ সেটি। খবর আনন্দবাজারের। ওই আবিষ্কারের গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এ। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি টেক্সাসের অস্টিনে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির গ্রীষ্মকালীন বৈঠকে সেই গবেষণাপত্রটি নিয়ে সবিস্তার আলোচনার পর তা নিয়ে শোরগোলও শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্বজুড়ে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এত গরম ভিন গ্রহের হদিস এর আগে মেলেনি।
‘কেল্ট-৯বি’ ভিন গ্রহটিই এই ব্রহ্মাণ্ডে আপাতত সবচেয়ে উষ্ণ কোনো গ্রহ। মূল গবেষক কলাম্বাসের ওহায়ো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক স্কট গাউরির দাবি, ‘এত গরম, গ্যাসে ভরা ভিন গ্রহের হদিস এর আগে মেলেনি। আমাদের বৃহস্পতির মতো গ্যাসে ভরা গ্রহ হলেও ‘কেল্ট-৯বি’ ভিন গ্রহটি ‘গুরুগ্রহ’-এর চেয়ে প্রায় তিন (সঠিক হিসেবে, ২.৮ গুণ) গুণ ভারি। যদিও তার ঘনত্ব আমাদের বৃহস্পতির প্রায় অর্ধেক।’ সহযোগী গবেষকদের অন্যতম জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বসন্ত রেড্ডি বলেছে, ‘ভরের নিরিখে ‘কেল্ট-৯বি’কে গ্রহ বলে মনে হলেও, তার যে বায়ুমণ্ডল রয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত আমাদের অনুমান, তা কোনো গ্রহের হতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিজিটিং প্রফেসর অর্ণবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘যে নক্ষত্রটিকে পাক মারছে ওই ভিন গ্রহটি, সেই ‘কেল্ট-৯’ খুব বেশি দিন আগেকার তারা নয়। তার জন্ম হয়েছিল ৩০ কোটি বছর আগে। যেখানে আমাদের সূর্যের জন্ম হয়েছিল প্রায় ৫০০/৫৫০ কোটি বছর আগে। কিন্তু সেটি আমাদের সূর্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বড়। আর সূর্যের চেয়ে তা প্রায় দ্বিগুণ গরমও।

যেসব ভুলে তেরেসার স্বপ্নভঙ্গ

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ব্রিটেনের রাজনীতির ইতিহাসে নাটকীয় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। দেশটির আগাম সাধারণ নির্বাচনে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তার কনজারভেটিভ পার্টি। অথচ খুব সহজেই জয় পাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছিলেন তেরেসা। আর এ কারণেই ১৮ এপ্রিল হঠাৎ করেই আগাম ভোটের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রথম জনমত জরিপে কনজারভেটিভ পার্টি লেবার পার্টির চেয়ে ২০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন, যেটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার পাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। তাহলে তেরেসা ব্যর্থ হলেন কেন? শুক্রবার সেই কারণগুলো তুলে ধরেছে এএফপি।
আগাম নির্বাচন : বহু ব্রিটিশ এ নির্বাচনকে অজনপ্রিয় বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য একটি প্রতারণাপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। দেশটি পাঁচ বছরের সংসদ মেয়াদের মাত্র ২ বছর অতিবাহিত করেছে এবং তেরেসা গত বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশদের আরেক অংশের নাগরিকরা এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দুটি গণভোটের কথা স্মরণ করেন। একটি ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার প্রশ্নে এবং অন্যটি ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে। ফলে আগাম নির্বাচন ব্রিটিশ নাগরিকদের মনে ওই পুরাতন ক্ষতকে জিইয়ে তোলে।
ডিমেনশিয়া ট্যাক্স : তেরেসার কনজারভেটিভ পার্টির ‘ডিমেনশিয়া ট্যাক্স’ তাকে ডুবিয়েছে। বৃদ্ধদের তাদের বাড়িতে সেবা পেতে হলে বিপুল পরিমাণে অর্থ প্রদান করতে হবে মর্মে একটি প্রস্তাব পাস করেন তেরেসা। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অনেকে তাদের পারিবারিক বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হবে। এ নিয়ে অনেকের মনে ক্ষোভ রয়েছে। তেরেসা সমর্থিত কনজারভেটিভ সংবাদমাধ্যমগুলোও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্তরাধিকারকে মুছে ফেলার এ ‘ডিমেনশিয়া ট্যাক্স’কে ব্র্যান্ডিং করে। এ সুযোগটি গ্রহণ করে লেবার পার্টি। দলের নেতা জেরেমি করবিন সেবা খাতে অর্থের পরিমাণ কমানোর ঘোষণা দেন।
সন্ত্রাসী হামলা : নিরাপত্তা ইস্যুতে ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির চেয়ে কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা বেশি। তবে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর তেরেসার আসন নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এজন্য ব্রিটেনের নিরাপত্তা আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে ছয় বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তেরেসার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন করবিন। পুলিশের ভূমিকায় প্রভাব ফেলতে তেরেসা বাজেট কমিয়ে দেন বলে তোপ দাগেন তিনি। বাজেট কমানোর ফলে প্রায় ২০ হাজার পুলিশ সদস্য কমে গেছে।
টিভি বিতর্ক প্রত্যাখ্যান : করবিনের সঙ্গে টিভি বিতর্কে অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেরেসা বলেছিলেন, তিনি রাজপথে বের হবেন। ভোটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাদের মুখে সরাসরি ভালোমন্দ শুনবেন। জবাবে করবিনও বলেন, তেরেসা টিভি বিতর্কে অংশ না নিলে তিনিও সেখানে যাবেন না। তবে পরে তেরেসা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং ৩১ মে বিতর্কের মঞ্চে উপস্থিত হন। সেখানে কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই তেরেসা তার নিজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কাপুরুষতার অভিযোগ তোলার সুযোগ করে দেন।
‘মেবট’ স্টাইল : তেরেসা নিজেকে বুদ্ধিমান ও সময়নিষ্ট একজন ইংলিশ নারী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় ওই ভাবমূর্তির নীতিবাচক দিকটাই সামনে এসে উজ্জ্বলতায় ধরা দিয়েছে। তেরেসার ‘শক্তিশালী ও স্থায়ী নেতৃত্বের’ মন্ত্র অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এজন্য তিনি ‘মেবট’ ডাক নাম উপাধি পেয়েছেন। একজন বিজ্ঞ তৃণমূল নির্বাচনী প্রচারণাকারী বলেন, তেরেসার ওই উদ্ভট স্টাইল নির্বাচনী প্রোগ্রামে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে তা করবিনের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

রেকর্ড সংখ্যক নারী নির্বাচিত

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছেন। হাউস অব কমন্সের ৬৫০টি আসনের মধ্যে দুই শতাধিক নারী নির্বাচিত হয়েছেন এবারের নির্বাচনে। নারীদের এ সংখ্যা এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালের নির্বাচনে ১৯১ জন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনই তা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক নারী এমপি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ছিল। দুই বছর পর বৃহস্পতিবারের আগাম নির্বাচনে বিজয়ী নারী এমপির সংখ্যা আগের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে ২০১ জন হয়েছে। খবর সিএনএনের। এ বছর ব্রিটেন প্রথমবারের মতো এক শিখ নারী এমপিও পেয়েছে। বার্মিংহাম এজবাস্টন আসনে লেবার পার্টির হয়ে জয় পেয়েছেন প্রিত কর গিল নামের ওই শিখ নারী। তবে এ নির্বাচনে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর অন্যতম হচ্ছে- কেন্টের কেন্টারবারি আসনে ১৯১৮ সালের পর প্রথমবারের জন্য লেবার দলের রোজি দাফিল্ড নামে একজন নারী জয়ী হয়েছেন।

সহায়ক সরকারের বিধান কোনো দেশে নেই: ওবায়দুল

সহায়ক সরকারের বিধান কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি সহায়ক সরকার নামে যে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বিআরটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অপর এক প্রশ্নের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মওদুদ আহমেদকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে, এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। এখন তিনি আদালতের রায় মানেন না; তিনি তো আইনমন্ত্রী ছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আইনের শাসন কতটুকু প্রতিষ্ঠিত হবে এতেই বুঝা যায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে না। বিভিন্ন জরিপে যাদের নাম আসবে তারাই মনোনয়ন পাবেন। এসময় সেতুমন্ত্রী ঈদের আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যেসব স্থানে মহাসড়কের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা অপসারণের জন্য হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেন। মহাসড়কে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজিতে এককভাবে কেউ জড়িত নয়। এর সঙ্গে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, অসাধু কিছু পুলিশসহ দালালচক্র জড়িত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও অপরাধ থাকবে না। মন্ত্রী বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পচনশীল ও রপ্তানীযোগ্য গার্মেন্টস পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত সকল প্রকার কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরিসহ ভারী যানবাহন চলাচল ঈদের আগে ও পরে ৩ দিন করে বন্ধ থাকবে। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সওজ-কুমিল্লার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলামুর রহমান, হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ, বিআরটিএ-কুমিল্লা সার্কেলের সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি) মো. নুরুজ্জামান, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপালী মণ্ডল প্রমুখ।

মসজিদে মোনাজাত নিয়ে বাকবিতণ্ডা, মুসল্লি খুন

লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলায় মসজিদে ইমামের মোনাজাত নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে হামলায় নূর হোসেন নামের এক মুসল্লি খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার রাতে উপজেলার মধ্য কালিরচর গ্রামের মনছুর আহমদ জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে নূর হোসেনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৭টায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। নিহত নূর হোসেন স্থানীয় মৃত রফিক উল্লাহর ছেলে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় শনিবার সকালে মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে এক ইমামকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় মনছুর আহমদ জামে মসজিদের ইমাম মো. আল আমিন নামাজের পর অন্য ইমামদের মতো মোনাজাত ধরতেন না। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ইমাম উত্তেজিত হয়ে তাকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
এসময় ইমাম পক্ষ ও কমিটির পক্ষরা বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এর জের ধরে রাতে তারাবির নামাজের পর ইমামের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় দেলোয়ারসহ কয়েকজন মাথায় লাল ফিতা বেঁধে দুই ভাইকে পেটায়। স্থানীয়রা আরও জানান, বিগত ৩-৪ মাস ধরে হুজুর ওই মসজিদে ইমামতি করলেও এখানে তার কোনো আসবাবপত্র ছিল না। ওই ইমাম চাঁদপুরের বিশ্বপুর গ্রামের মো. দুলালের ছেলে বলে জানা যায়। এদিকে নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, মেয়ে মিতু আক্তার ও ছেলে রুবেল এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, নিহত নূর হোসেনের মরদেহ ঢাকা থেকে নিয়ে আসলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই ঘটনায় মসজিদের ইমামকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

মুন্সীগঞ্জে আ'লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মাসুদ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে জেলা সদরের চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমুশুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ ওই গ্রামের মরহুম মো. মোজাফ্ফর ঢালির ছেলে। সংঘর্ষে অপর তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন- তারিক (২০), সুমন দেওয়ান (২০) ও ইরফান (২২)। তাদের মুন্সীগঞ্জে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু হাজী ও মো. হারুনের সঙ্গে অপর আওয়ামী লীগ নেতা এবং ওয়ার্ড মেম্বার মন্টু দেয়ানের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ইউপি নির্বাচনে হারুণকে পরাজিত করে মন্টু দেওয়ান মেম্বার নির্বাচিত হয়। এরপর হারুণ ও তার গ্রুপ এলাকা ছাড়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নান্নু হাজী ও হারুণ এক হয়ে আজ ভোরে মন্টু দেওয়ান গ্রুপের ওপর হামলা করলে এ সংঘর্ষ বাধে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাসুদ নিহত হন। এছাড়া অপর তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। ওসি জানান, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত

আগামী নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শুক্রবার নির্বাচনী এই এলাকার চা শ্রমিকদের মধ্যে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ফের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ভোটও চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগামীতে এ আসনে আমিই যে প্রার্থী হচ্ছি তা শতভাগ নিশ্চিত।’ উল্লেখ্য, এর আগে তিনি আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সকালে সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে চা শ্রমিকদের মধ্যে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী। উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের ‘চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাইজার মো. ফারাবি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আছিই। তবে দাঁড়াব কিনা বলতে পারছি না।’ প্রার্থী হচ্ছেন এটা কতভাগ নিশ্চিত এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শতভাগ ধরে নিতে পারেন।’ গত এপ্রিল মাসে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আই উইল রিটায়ার ইন টু থাউজ্যান্ড এইটটিন। আই থিংক ইট উইল বি গুড টাইম। দ্যাট টাইম আই উইল বি এইটি ফাইভ’ (আমি ২০১৮ সালে অবসরে যাব। আমি মনে করি, এটা একটা ভালো সময়। তখন আমার বয়স হবে ৮৫)। এভাবেই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে নিজের অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে গত বছরের ৫ জুন সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ২০১৯ সালে তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন।
সেই অনুযায়ী আগামী বাজেটই হবে তার শেষ বাজেট। সে সময় তিনি তার উত্তরসূরি হিসেবে ভাই ড. আবদুল মোমেনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মোমেন এলাকায় কাজ করছে তবে ভবিষ্যতে কি হয় তা বলা যায় না। গত মে মাসেই সিলেটে গুঞ্জন ওঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট-১ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। এমন গুঞ্জনের পর ৩০ মে এক বেসরকারি টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সিলেট-১ আসনের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যদি সত্যি সত্যিই তিনি প্রার্থী হন তাহলে আরও একবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামব আমি। না হলে আর না।’ সবশেষ শুক্রবার সিলেটে প্রার্থী নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিয়তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এদিকে প্রার্থিতা ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রার্থী হবেন এটা খুশির খবর। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার জন্যই কাজ করবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। অর্থমন্ত্রী এই আসনে প্রার্থী হলে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।’ ২২ মার্চ সিলেটে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সাম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। ওই সমাবেশে অর্থমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী এখন সেই আসনেই ফের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ যুগান্তরকে বলেন,‘ অর্থমন্ত্রী আর প্রার্থী হবেন না ঘোষণা দেয়ার পরই তো আমি ওই আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছি। এখন উনি কেন আবার প্রার্থী হওয়ার কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। উনি যাই বলুক, ওই আসনে আমি নির্বাচন করব।’
উল্লেখ্য, সিলেট-১ আসন মর্যাদাপূর্ণ আসন। ভোটের রাজনীতিতে ‘মিথ’ আছে- ‘সিলেট-১ আসন যার, ক্ষমতা তার’। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে যে দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে তারাই সরকার গঠন করেছে। এ কারণে আগামী নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলের। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়ান ফরিদ গাজী এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২য় সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, ৩য় ও ৪র্থ সংসদ নির্বাচনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ৫ম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম সাইফুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মধ্যে খন্দকার আবদুল মালিক ছাড়া সবাই এই আসন থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন। নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যের দলই সে সময় সরকার গঠন করে।

পাম সু’তে মজেছেন নারীরা

পাম সু, হাইহিল, বোস্টন হিল ও হাই নাইক- এবারের ঈদ কেনাকাটায় এসব জুতা নারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। পুরুষদের পছন্দের তালিকায় আছে স্লিপার, লোফার ও কনভার্স টাইপের জুতা। বাচ্চাদের জন্য অভিভাবকদের পছন্দ বেল্টের বিভিন্ন রংয়ের চামড়ার জুতা। ইতিমধ্যে যারা ঈদের পোশাক কিনে ফেলেছেন তারা পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে জুতা কিনতে এ মার্কেট-ও মার্কেট ছুটছেন। আবার অন্য চিত্রও দেখা গেছে। যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বড় বড় শপিংমলে দেশীয় ব্র্যান্ড ও অভিজাত শোরুমগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি জুতাও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এসব শোরুম থেকে পোশাক ও জুতা ম্যাচ করে কিনছেন। শুক্রবার যমুনা ফিউচার পার্কসহ রাজধানীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ঈদের কেনাকাটা আগেভাগেই সারতে অনেকে শপিংয়ে বেরিয়ে পড়েন। এতে মার্কেটগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যেই যাদের পোশাকের কেনাকাটা শেষ তারা এসেছেন ম্যাচ করে জুতা কিনতে। এবারের ঈদে জুতা বৈচিত্র্যে ভরপুর। মেয়েদের জুতার ডিজাইনে এবার হাইহিল, হিল, পাম সুসহ সব ধরনের জুতায় চুমকি, পুঁতি, পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পুরুষদের জুতার ডিজাইনে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।
বাচ্চাদের জুতার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কনভার্স, লোফার ও বেল্টের স্লিপার জুতাও এবার আছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় ব্র্যান্ড ও বিদেশ থেকে আমদানি করা জুতার ডিজাইনের মধ্যে পার্থক্য ছিল খুব কম। যমুনা ফিউচার পার্কের ট্রাস্ট মার্ট শোরুমের বিক্রয় কর্মী সম্রাট হোসেন বলেন, বিদেশি নাগরা, হাইহিল, হাই নাইক, পাম সু, বোস্টন হিলের কদর বেশি। এবার সব জুতায় স্টোনের কাজ করা। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কালারফুল হাইহিল আর পাম সু। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে লাল, কালো, গোলাপী, গ্রিন ও গোল্ডেন কালারের হাইহিল কিনছেন নারীরা। তরুণী-যুবতীরা জিন্সের সঙ্গে পরার জন্য কিনছেন হাই নাইক। আর পাম সু কিনছেন মধ্য বয়স্কসহ সব বয়সী নারীরা। নিকেতনের বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটা করতে আসার একটা কারণ, এখানে সব পোশাক, জুতার ব্রান্ডের শোরুম আছে। এছাড়া অন্য শোরুমগুলোর পণ্যও অরিজিলান। তাই নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারি। গতবারও পুরো পরিবারের ঈদ কেনাকাটা এখান থেকে করেছি। এবারও এখান থেকে করব। যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, বাটা, এপেক্স, ওরিয়ন ছাড়াও অন্য সব দেশীয় ব্র্যান্ডের জুতার শোরুম আছে। ট্রাস্ট মার্ট, ব্রান্ড কিউ, ক্যাটস আই, ইনফিনিটি ও এক্সট্যাসির মতো পোশাকের ব্রান্ডগুলোও আলাদা কাউন্টারে নিজস্ব ডিজাইনের জুতা বিক্রি করছে। এছাড়া ইমরানি, প্যারিস গ্যালারির মতো লাক্সারিয়াস শোরুমে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, চীন থেকে আমদানি করা উন্নতমানের জুতা বিক্রি হচ্ছে। এর বেশির ভাগের ডিজাইনেরই পোশাকের ডিজাইনের সঙ্গে মিল আছে। এছাড়াও আছে ব্রান্ডহীন জুতার শোরুম। যেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা উন্নতমানের জুতা বিক্রি করছে। এপেক্সের শোরুমে খিলক্ষেত থেকে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, শেষ দিকে ভিড় বেশি থাকায় আগেভাগেই নিজের ও বাচ্চাদের ঈদের পোশাক কেনাকাটা শেষ করেছেন। এখন জুতা কিনতে মার্কেটে এসেছেন। এক ছাদের নিচে সব দেশীয় ব্রান্ডের জুতার শোরুম থাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছেন। তিনি বলেন, রাস্তার পাশের মার্কেটগুলো আকারে ছোট।
অল্প ভিড় হলেই এসি কাজ করে না। তাছাড়া সব ব্রান্ডের শোরুমও থাকে না। যমুনা ফিউচার পার্কের আয়তন বড় হওয়ায় হাঁটাচলা করে স্বস্তি পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় ঈদের সময়ও লোকজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি লাগে না। খোলামেলা পরিবেশে বাচ্চাদের হাঁটাহাঁটি করতে অসুবিধা হয় না। তাছাড়া বিক্রয়কর্মীদের আচরণও বেশ ভালো। পাশাপাশি সব ব্রান্ডের শোরুম আছে। তাই অন্য মার্কেটে দৌড়াদৌড়ি করা লাগে না। এখানে ক্লান্তিহীন স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। ৪র্থ তলায় এপেক্স শোরুমের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে ৫শ’র বেশি নতুন ডিজাইনের জুতা আনা হয়েছে। এছাড়া ঈদে ক্রেতাদের ভালো সার্ভিস দিতে নিজস্ব সেলসম্যানের অতিরিক্ত ৫৫ জন সাপোর্টিং স্টাফ এক মাসের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন বেশিরভাগ জুতা বিক্রি হচ্ছে বাচ্চা ও মহিলাদের। ২০ রমজানের পর থেকে পুরুষদের জুতা বিক্রি বাড়বে। নিচ তলায় ফ্যাশন হাউস ক্যাটস আইয়ের ম্যানেজার সাইফ উদ্দিন বলেন, এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি, প্রিন্টের শার্ট, মেয়েদের টপস আনা হয়েছে। এছাড়া ক্যাটস আইয়ের ফরমাল শার্ট আছে ছেলেদের জন্য। আর নির্দিষ্ট আইটেমের জুতার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে।

বিচারের বাণী

বিচারব্যবস্থা বলতে আমরা মানে সাধারণ লোকজন কী বুঝি? বুঝি যে, এ এমন এক ব্যবস্থা যা যে কোনো বিষয়ের সত্যাসত্য নির্ধারণ করে, সত্যের পক্ষে রায় দেয় বা ব্যবস্থা নেয়। এখানে কঠোর যুক্তির অধিকার, কল্পনাবিলাসের কোনো স্থান নেই। কারও মনগড়া কথা, কারও মিথ্যা জল্পনা, কোনো অলীক অনুমান সভ্য মানুষের বিচারব্যবস্থায় স্থান পায় না, তা নির্মম নিরপেক্ষতায় শুধু সত্যেরই অধিকার স্বীকার আর প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। সে জন্যই মানুষ বিচারব্যবস্থায় আস্থা রাখতে চায়, যেমন আস্থা রাখতে চায় রোগ নিরাময়কারী ডাক্তারদের ওপর। অন্যদিকে বিচারক যারা হন, তাদের ক্ষেত্রে আমরা ভাবি আইনে তাদের নিঃসংশয় অধিকার, বিচার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তারা বিশেষ মেধাবী ও বিজ্ঞ, অভিজ্ঞতায় পোক্ত হয়ে তারা বিচারের সব অন্ধিসন্ধি বুঝে নিয়েছেন, এবার সরকার তাদের আইন জ্ঞান ও বিচক্ষণতার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে। তাদের হাতে সত্যের স্বার্থ, সেই সঙ্গে দেশের নিরপরাধ মানুষের স্বার্থ সম্পূর্ণ অক্ষত থাকবে। তারা সবাই সত্য আর ন্যায়ের পথ দেখাবেন। অপরাধীকে শনাক্ত করবেন, তার উপযুক্ত শাস্তির বিধান দেবেন।
দেশের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করবেন। বলা বাহুল্য, সবাই জানেন, বাস্তব ক্ষেত্রে এ আস্থা প্রায়ই বিচলিত হয়, কী বিচারের ওপর, কী ডাক্তারদের ওপর। উকিল-অ্যাডভোকেট-ব্যারিস্টারদের সুচতুর কুযুক্তি অনেক সময় সত্য থেকে বিচারকে ভ্রষ্ট করে, যেমন ডাক্তারদের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পক্ষপাতদুষ্ট বিচার যেমন অপরাধীকে রেহাই দেয়, তেমনি অসাধু বা অনিশ্চিত চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের লোভ অনেক সময় রোগী আর তার পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে। দু’ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ভ্রান্তির একটা পরিসর নিশ্চয়ই আছে, কারণ ভুল মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক; কিন্তু ভ্রান্তির স্থান যখন নেয় স্বার্থ, তখন প্রায়ই বিচারের ক্ষেত্র থাকে ইংরেজিতে ‘miscarriage of justice’ বা ‘বিচারভ্রংশ’ বলে তাই ঘটে, ডাক্তারির ক্ষেত্রে চিকিৎসাভ্রংশ। কিন্তু ডাক্তারদের বিষয়টি পৃথক রেখে আপাতত বিচার ক্ষেত্রের দু-একটি তাজ্জব ঘটনা বলি। ঘটনাস্থল ভারত, ভারতের।
২. এ সাধারণ কথাগুলো অনেকের কাছে বেশি তাত্ত্বিক ও বায়বীয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের এক বিচারপতির আপ্ত-উচ্চারণ দেখে মনে হল পুরো দেশটা উন্মাদ হয়ে গেছে, নইলে এসব কথা আমরা শুনছি কী করে? অবশ্য আমার এ আক্ষেপের কোনো অর্থ হয় না, কারণ আমাদের কলকাতার ওপারে হাওড়াতে এক পাল মশাই দীর্ঘদিন ধরে দেয়ালে লিখে লিখে প্রচার করে গেছেন, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এবং পৃথিবী গোলাকার নয়, চৌকোনা, এবং এ নিয়ে তারা ট্রেনে-বাসে বই ছাপিয়েও বিক্রি করতেন। আমেরিকার ক্রিয়েশনিস্ট নামক একদল খ্রিস্টান দাবি করে, খ্রিস্টীয় ঈশ্বর দশ হাজার বছর আগে একদিন সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ পৃথিবী আর জীবজগৎ সৃষ্টি করেছিলেন। তারা তাদের এ তত্ত্ব মার্কিন দেশের পাঠ্য তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করে সফল হননি, এখন ট্রাম্পের আমলে আর একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে, সব দেশে, একটা ‘পাগলা-প্রান্ত’ থাকেই (ইংরেজিতে lunatic fringe) যারা এ ধরনের কথাবার্তা বলবে। কিন্তু তাই বলে বিচারক? ন্যায়মূর্তি? মহামান্য আদালতের সর্বোচ্চ কেদারায় সমাসীন মহাজন? কথাগুলো বলেছেন রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি মহেশচন্দ্র শর্মা, তার অবসরগ্রহণের দিনে। তার কথার মণিমুক্তাগুলো এরকম-
১. গরু নিজে একটি সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ হাসপাতাল- অর্থাৎ তাতে সবধরনের চিকিৎসা পাবে মানুষ। বিচারক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল বলেছেন কিনা জানি না, সংবাদপত্রে (‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘গণশক্তি’ ইত্যাদি, কলকাতা ১ জুন ২০১৭) তার উল্লেখ নেই। কী গুণে গরুর এ মাহাত্ম্য তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন বিচারক-
২. গোমূত্র পান করলে পূর্বজন্মের সব পাপ ধুয়ে যায়;
৩. গরুর দুধ খেলে রক্তকণিকায় ক্যান্সার ঢুকতে পারে না; ৪. গরুর মধ্যে বাস করছেন ৩৩ কোটি হিন্দু দেবদেবী; ৫. হিন্দুপুরাণের সমুদ্রমন্থনের সময় সমুদ্র থেকে লক্ষ্মীর সঙ্গে নাকি গরুরও আবির্ভাব হয়েছিল; ৬. গোমূত্র পান করলে বার্ধক্য বিলম্বিত হয়; ৭. গোবর দিয়ে দেয়াল লেপে রাখলে পারমাণবিক বিকিরণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অবশ্য এ কথাটি তিনি নিজের আবিষ্কার হিসেবে জাহির করেননি, অথরিটি হিসেবে এক ‘রুশ বিজ্ঞানী’র কথা বলেছেন, যদিও সেই বিজ্ঞানীর নামটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন; ৮. গোবরে (তা খেতে হবে না মাখতে হবে, তা তিনি বলেননি বা কাগজে উল্লেখ করেনি) কলেরার জীবাণু মরে যায়; ৯. গরুর হাম্বা ডাক বাতাসে ভেসে থাকা জীবাণু ধ্বংস করে। আর এতেই গো-মহিমার শেষ নয়, গরু নাকি নিঃশ্বাসে অক্সিজেন নেয় আর প্রশ্বাসে অক্সিজেন ছাড়ে। আর গরু একমাত্র স্তন্যপায়ী জীব, যার বৃহদন্ত্র ১৮০ ফুট লম্বা। এত সব গুণান্বয়ের জন্য তিনি গরুকে ভারতের জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন! এ সূত্রেই ময়ূর কেন ভারতের জাতীয় পাখি, তারও একটি অভাবিত যুক্তি দিয়েছেন মহামান্য শর্মা। ময়ূর নাকি একটি ‘ব্রহ্মচারী’ পাখি। অর্থাৎ ময়ূরশিশু (বা ডিম) পয়দা করতে হলে তার নাকি ময়ূরীর সঙ্গে সঙ্গমের দরকার নেই, সে ময়ূরীর সামনে দাঁড়িয়ে ভেউ ভেউ করে কেঁদে চোখের জল ফেলে, ময়ূরী (ময়ূরের গায়ে পাখা বোলাতে বোলাতে) সেই চোখের জল গিলে ফেললেই গর্ভবতী হয়। এ কি পরিহাস, না উন্মাদের প্রলাপ? কিছুই না, অন্তত ন্যায়াধীশ শ্রীশর্মা তা মনে করেন না। তিনি বিচারালয়ের একটি মামলার ১৪৫ পৃষ্ঠার একটি বৈধ ‘রায়’-এ এসব মহাবাণী উচ্চারণ করেছেন। রাজস্থান সরকার পরিচালিত হিঙ্গোনিয়া গোশালায় গত বছর নাকি শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছিল। গরু একটি সর্বাঙ্গসম্পূর্ণ হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন অপঘাত মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি, সে প্রশ্ন বিচারক শর্মা করেননি। একজন সেই গোশালার অস্বাস্থ্যকর অবস্থা নিয়ে রাজস্থানের হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিল, তারই রায়ে তিনি এসব অবিস্মরণীয় সব কথা বলেছেন। তার মতে, গোহত্যার শাস্তি হওয়া উচিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড- রাজস্থানের হিসাবে তা দশ বছরের জেল। বেচারি জনস্বার্থ মামলা যে করেছিল, সে এতসব চায়নি, সে শুধু গোশালাটির রক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি চেয়েছিল। এসব কথাকে সে ‘গাছে না উঠতেই এক কাঁদি’ হিসেবে দেখবে কিনা জানি না। বিচারপতি বেদপুরাণ থেকে অনেক উদ্ধৃতি দিয়ে তার জ্ঞানগভীরতার প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হল, আদালতের মহৎ আঙিনায় এসব কথা এমন অবলীলাক্রমে বলা যায়? একজন বিচারক, যার নির্মাণে রাষ্ট্রের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়, তিনি বিশ্বাস আর সত্যের মধ্যে তফাত করবেন না, অলীক গালগল্প তৈরি করতে তার এতটুকু দ্বিধা হবে না? তিনি এটুকু স্বীকার করেছেন, এসব বিশ্বাসের ব্যাপার, কিন্তু আদালতের বিচারকের রায়ে এই ‘বিশ্বাস’ ঢুকে পড়া কি বৈধ? এই রায় কি আদালত বা সরকার গ্রহণ করবে? এটাই এখন আমাদের কাছে কোটি টাকার (কালো টাকা নয়) প্রশ্ন।
প্রয়াত ও স্নেহাস্পদ নবারুণ ভট্টাচার্য ভারতের এক বিশেষ সময়ের স্মরণে লিখেছিল, ‘এই মৃত্যু-উপত্যকা আমার দেশ নয়’। আমাদের মাঝে মাঝে মনে হয়, এই গোবরলিপ্ত অন্ধকারময় ভূমি আমার দেশ নয়। কিন্তু ‘দেশ নয়’ বলে যাব কোথায়? দেশে থেকেই এই মূঢ়তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, মানুষের পক্ষে।
পবিত্র সরকার : সাবেক উপাচার্য, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা; লেখক