Monday, October 4, 2010

বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিটিভির সংবাদ by মুস্তাফিজুর রহমান

পত্রিকার মাধ্যমে জানলাম, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্যাটেলাইট চ্যানেলে পাঠানো ১৬ সেপ্টেম্বরের এক ফ্যাক্স বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃক প্রচারিত দুটি জাতীয় সংবাদ বেসরকারি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলে বিনা মূল্যে প্রচারের শর্ত থাকলেও ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ওই শর্ত যথাযথভাবে পালন করছে না। বার্তায় এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক অবিলম্বে বিটিভির দুপুর দুইটা ও রাত আটটার বাংলা সংবাদ প্রচারের জন্য চ্যানেলগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই বার্তাটিতে আতঙ্কিত বা ভীত হওয়ার তেমন কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ বিটিভির সংবাদ প্রচারের এই নির্দেশনাটি অনেক আগেই ছিল। বিটিভির সংবাদ প্রচারের এই শর্ত মেনেই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠান ও সংবাদ প্রচার করে আসছিল। তবে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মে এই নীতিমালা শিথিল করে সংবাদ প্রচারের বাধ্যবাধকতাটি উঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যদি বিটিভির উল্লিখিত দুটি সংবাদ আবার প্রচার করা শুরু হয়, তাহলে কী লাভ আর কী-ই বা ক্ষতি। ফ্যাক্স বার্তা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, তথ্য মন্ত্রণালয় চাইছে দেশের আপামর জনগণ বিটিভির সংবাদ দেখুক। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এ যুগে কোনো দর্শক কিংবা পাঠককে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া কি সম্ভব?
বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা প্রায় ৩৫টি। সারা দেশে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আর বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড বাদ দিয়ে আরও রয়েছে ১১টি স্যাটেলাইট চ্যানেল। সাধারণ পাঠকেরা যখন বাড়িতে একটি বা দুটি সংবাদপত্র রাখেন, তখন তা নির্বাচন করার সময় পত্রিকাটির গুণগত মানের সঙ্গে আরও যে বিষয়টি অন্যতম বিবেচ্য হিসেবে কাজ করে, তা হচ্ছে পাঠকের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি।
টেলিভিশন চ্যানেল নির্বাচনের সময় নিজস্ব পছন্দের এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরেশোরে কাজ করে, বিশেষ করে সংবাদ প্রচারের সময়। বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যার যা আদর্শ অনুযায়ী বা কর্তার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ, অনুষ্ঠান ও টক শো প্রচার করে থাকে, তা যতই নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে থাকুক না কেন। বিগত সরকার কিংবা বর্তমান সরকার প্রায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদেরই সম্প্রচার লাইসেন্স দিয়েছে, যাঁরা তাঁদের ঘনিষ্ঠ। সে কারণে দর্শকদের মধ্যেও একটি বিভাজন লক্ষ করা যায়। যাঁরা বর্তমান সরকারের সাফল্যগাথা শুনতে বা দেখতে আগ্রহী, তাঁরা বিটিভি ছাড়াও সরকারদলীয় মতাদর্শের চ্যানেলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। অন্যদিকে যাঁরা বিরোধীদলীয় সমর্থক, তাঁরা তাঁদের মতাদর্শের চ্যানেলগুলো টিউন করেন।
কিন্তু মুশকিল হলো বেচারা দর্শকের। তার একমাত্র ভরসা তিন-চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দেড়/দুই ইঞ্চি প্রশস্ত একটি বস্তু (এসওএস), যার নাম রিমোট কন্ট্রোল। আজকাল প্রায় প্রতিটি টিভির সঙ্গে এই যন্ত্রটি থাকে। যাঁরা টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান দেখে থাকেন, তাঁরা প্রায় প্রতি মুহূর্তেই তাঁদের পছন্দের অনুষ্ঠানমালা খুঁজে থাকেন এর সাহায্যে। এমনকি এই ছোট্ট যন্ত্রটির সাহায্যে আমি অনেককে দেখেছি অনুষ্ঠানের মাঝখানের বিজ্ঞাপন বিরতির সময় চ্যানেল বদলিয়ে অন্য চ্যানেলে গিয়ে কিছু একটা দেখে পুনরায় ওই চ্যানেলে ফিরে আসতে, যদি তাঁর ওই অনুষ্ঠানটি ভালো লাগে। আর যদি বিজ্ঞাপন বিরতির আগের অনুষ্ঠানটির চেয়েও পছন্দনীয় কোনো অনুষ্ঠান তিনি চ্যানেল বদলাতে গিয়ে পেয়ে যান, তাহলে হয়তো আগের অনুষ্ঠানটি দেখা অসম্পূর্ণ রেখেই নতুন খুঁজে পাওয়া অনুষ্ঠানটি দেখতে শুরু করে দেন।
বিটিভির সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রেও তা-ই। যাঁরা বিটিভির সংবাদ দেখবেন, তাঁদের চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আর যাঁরা দেখবেন না, তাঁদের সব কটি চ্যানেলে একই সংবাদ প্রচার করেও দেখানো সম্ভব নয়। তবে এখানে প্রসঙ্গক্রমে এসে যায় নীতিমালার বিষয়টি। বেসরকারি টেলিভিশনের জন্য একটি নীতিমালা জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করা উচিত। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ১৯৯৮ ও ২০০৮ সালে যে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমান কারিগরি উৎকর্ষের কথা বিবেচনায় রেখে আবারও নতুন করে তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। এ প্রসঙ্গে বিটিভির কথাও বলা যেতে পারে। কবে, কখন বিটিভির নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। তাই বিটিভির জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন। তথ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টিও ভেবে দেখতে পারে।
তথ্য মন্ত্রণালয় যদি বিটিভির সংবাদ বাংলাদেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারের নির্দেশ অব্যাহত রাখে, বিশেষ করে রাত আটটার প্রাইম টাইমে, তাহলে হাতে গোনা দু-একটি চ্যানেল বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অধিকাংশ চ্যানেল। আমি নিজে একটি চ্যানেলে প্রধান নির্বাহী থাকাকালে দেখেছি, কী প্রাণান্তকর চেষ্টা করে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের কর্মীদের প্রাইম টাইমে এক মিনিট বিজ্ঞাপন সময় বিক্রি করতে হয় সামান্য অর্থের বিনিময়ে। এখন যদি এই প্রাইম টাইম অর্থাৎ রাত আটটা থেকে আটটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকে, তাহলে অবশ্যই টিভি চ্যানেলগুলো একটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।
যতক্ষণ দর্শককের হাতে রিমোট কন্ট্রোল আছে, ততক্ষণ কোনো কিছুই জোর করে দেখানো সম্ভব নয়। এই ছোট্ট যন্ত্রটির সাহায্যে আপনি বিশ্ব পরিভ্রমণ করতে পারেন মুহূর্তেই। তাই এখন দর্শকই ঠিক করবে, সে কী দেখবে। তাকে বাধ্য করে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা সংবাদ দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত চরম উৎকর্ষের সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত সত্যিই অর্থহীন। তথ্য মন্ত্রণালয় তার ফ্যাক্স বার্তায় পাঠানো বিটিভির সংবাদ সব বাংলাদেশি স্যাটেলাইট টিভিতে প্রচারের নির্দেশটি পুনর্বিবেচনার অবকাশ রাখে।
মুস্তাফিজুর রহমান: চলচ্চিত্রনির্মাতা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক।
mustafizz_rahman@yahoo.com

বিদেশি সহায়তার ছাড় হয়েছে গতবারের অর্ধেক

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ছয় কোটি ১০ লাখ ডলার বা ৪২৭ কোটি টাকার বিদেশি সহায়তার অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্ধেক। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ছাড় হয়েছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের দুই মাসে যে অর্থ ছাড় হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ৪০৪ কোটি টাকা হলো ঋণ-সহায়তা। আর বাকি ৩৩ লাখ ৩১ হাজার ডলার হলো অনুদান।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে (ইআরডি) এ তথ্য জানা গেছে।
অবশ্য চলতি অর্থবছরের দুই মাসে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থের বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে প্রতিবেশী ভারত থেকেই ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিপরীতে প্রতিশ্রুতি রয়েছে ১০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় সাত হাজার কোটি টাকা)। আর বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার বা দুই হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মোট ৬৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ টাকার বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে পাওয়া যেতে পারে কমপক্ষে ২৮০ কোটি ডলার।
ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে ভারতের ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির কারণেই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ বেশি লাগছে। বিশ্বব্যাংকও এবার অনেক বেশি ঋণ-হায়তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সহায়তার প্রক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য ১৫ হাজার ৩০০ কোটি আর বাজেট-হায়তাসহ অন্যান্য খাতের জন্য চার হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

আমদানি বাড়ায় খাদ্যশস্য খালাস ও সংরক্ষণে সংকট

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল-গমের আমদানি বেড়ে গেছে। প্রায় সোয়া তিন লাখ টন চাল ও গমবাহী ২৫টি জাহাজ এখন বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
আমদানি বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যশস্য খালাস ও সংরক্ষণের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দর, খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ খাদ্যশস্য খালাসের জন্য নির্ধারিত দুটি জেটির পরিবর্তে সর্বোচ্চ চারটি জেটিতে চাল-গম খালাসের অনুমতি দিয়েছে। এর পরও ছোট আকারের একেকটি জাহাজ থেকে চাল-গম খালাস করতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। সাধারণত এসব ছোট আকারের জাহাজের খাদ্যশস্য খালাস করে ফিরে যেতে সময় লাগত পাঁচ-ছয় দিন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে মোট আমদানি-রপ্তানির ৬৫ শতাংশই বাল্ক জাহাজে পরিবাহিত হয়েছে। খাদ্যশস্যসহ শিল্পের কাঁচামাল সবই বাল্ক জাহাজে পরিবাহিত হয়। এ কারণে এসব জাহাজ বেশি সময় অবস্থান করলে বন্দরের সার্বিক দক্ষতার সূচকে প্রভাব পড়ে বেশি।
গত অর্থবছরে বাল্ক জাহাজের গড় অবস্থান ছিল ৭ দশমিক ৫৩ দিন। এবার এই হার অনেক বেশি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর আর ইউ আহমেদ বলেন, খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ বেশি আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাদ্যশস্যবাহী জাহাজকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তাই বেসরকারি খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খাদ্যশস্য খালাসের জন্য চার-পাঁচটি জেটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
বন্দরের জাহাজের আগমন ও অবস্থানসূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বন্দর জেটিতে ভেড়ার অপেক্ষায় বহির্নোঙরে ১৫টি চাল-গমবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজ থেকে চাল-গম খালাস হচ্ছে চারটি জাহাজে। এ ছাড়া জেটিতে চাল-গম খালাস হচ্ছে ছয়টি জাহাজ থেকে। এসব জাহাজের তিনটি বন্দরসীমানার বাইরে অবস্থানরত বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জাহাজ বেশি আসায় বেসরকারি খাদ্যশস্যবাহী আমদানির জাহাজ ২০ দিনের আগে জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
বন্দরে অবস্থানরত চাল-গমের ২৫টি জাহাজের মধ্যে ১৫টিতেই এসেছে সরকারি আমদানির চাল-গম।
এ প্রসঙ্গে টোটাল শিপিং এজেন্সি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বহির্নোঙরে ভেড়ার পর ২০-২৫ দিনের আগে বেসরকারি খাদ্যশস্যবাহী জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে জাহাজ পরিচালনাকারীরা এই বন্দরে জাহাজ পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, খাদ্যশস্য পরিবহনে যে ভাড়া পাচ্ছে, জাহাজ কোম্পানিগুলো তার চেয়ে তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। ছোট থেকে মাঝারি আকারের বাল্ক জাহাজের প্রতিদিনের ভাড়া ৬ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এই হিসাবে একেকটি জাহাজ গড়ে এক থেকে দুই লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।
সরকারিভাবে চাল-গম বেশি আমদানি হওয়ায় এসব খাদ্যশস্য সংরক্ষণে সংকটও দেখা দিয়েছে। খাদ্য বিভাগের হিসাবে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট তিন লাখ ৮৫ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে ভিয়েতনামের সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। এর মধ্যে এসেছে এক লাখ ৪০ হাজার টন। আসার পথে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন চাল।
এই বিপুল পরিমাণ চাল কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে সংকটে আছে খাদ্য বিভাগ। এ পরিস্থিতিতে হালিশহরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারের (সিএসডি) ৩৪টি গুদাম ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনার চিঠিটি জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়। এই ৩৪টি গুদাম দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারের দখলে রয়েছে। এসব গুদামে প্রায় ৪৬ হাজার টন খাদ্যশস্য রাখার ধারণক্ষমতা আছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক চিত্তরঞ্জন বেপারী প্রথম আলোকে জানান, খাদ্যশস্য আমদানি বাড়ায় সংরক্ষণের জন্য গুদামের সংকট আছে। তাই এসব গুদামের দখল বুঝে নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলে এসব গুদামের দখল বুঝে নেওয়া হবে বলে।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ১২৬.১০ পয়েন্ট

ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ রোববার সাধারণ মূল্যসূচক ও আর্থিক লেনদেন দুইই বেড়েছে, বেড়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১২৬ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২২৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে।
এদিকে, আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে মোট দুই হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪০ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬০টির, কমেছে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত আছে সাতটির।
লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বিএসআরএম স্টিল, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সর্ভিসেস, কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স, বিডি ফিন্যান্স, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আর দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, মুন্নু ফেব্রিকস, ঢাকা ফিশারিজ, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ও চট্টগ্রাম ভেজিটেবল।
আজ ডিএসইর বাজারমূল্য ৩,১৬,৩৫৫ কোটি টাকা।

ম্যান্ডেলার দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান অভিযুক্ত

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার দাতব্যপ্রতিষ্ঠান নেলসন ম্যান্ডেলাস চিলড্রেনস ফান্ডের (এনএমসিএফ) সাবেক প্রধান জেরেমি র‌্যাটক্লিফকে অবৈধভাবে হীরা রাখার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেল তাঁর কাছে ওই হীরা রেখেছিলেন।
গত আগস্টে নেদারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে লাইবেরিয়ার সাবেক শাসক চার্লস টেলরের যুদ্ধাপরাধ আদালতে নাওমি র‌্যাটক্লিফের কাছে হীরা রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে র‌্যাটক্লিফও হীরা রাখার কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করেন এবং ওই হীরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

মুসলিম দেশগুলোর সমালোচনা

আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের বন্যা-দুর্গত মানষকে পর্যাপ্ত সাহায্য না করায় মুসলিম দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি পুরো বিশ্বকে পাকিস্তানের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। গতকাল একটি ইসলামি ওয়েব সাইটে দেওয়া এক অডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি লাদেনের দ্বিতীয় অডিও বার্তা। এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইটে দেওয়া এক অডিওবার্তায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পাকিস্তানের ত্রাণ-তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন লাদেন।

চীনের পণ্য বর্জন চলছে অরুণাচলে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল রাজ্যে এখন চীনের পণ্য বর্জনের আন্দোলন চলছে।
অরুণাচল সীমান্তে চীনের আগ্রাসী নীতি ও দালাই লামাকে নিয়ে নেতিবাচক অবস্থানের প্রতিবাদে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন চীন পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। এর জের ধরে ভারত-চীন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করেছে ভারত সরকার। চীন অরুণাচলকে তাদের অংশ বলেদাবি করে।

আলোচনায় বিরোধ মেটাতে চান আলেমরা

অযোধ্যার বিতর্কিত জমি বিরোধ মামলার রায় নিয়ে ভারতজুড়ে এখন আলোচনা চলছে। মামলার বাদী-বিবাদী দুই পক্ষই উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আদালতের বাইরে সমঝোতার বিষয়টিও নতুন করে উঠেছে। একদল আলেম অবশ্য জমির দাবি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র মসজিদ নির্মাণের কথা বলেছেন। তাঁদের মতে, ইতিহাসে এ ধরনের অনেক নজির রয়েছে।
রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে এক দল মুসলিম বুদ্ধিজীবী আলোচনায় বসে একমত হয়েছেন যে আদালত যখন বিতর্কিত জমিতে মুসলমানদের দাবি মেনে নিয়েছেন, তখন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আইনি লড়াইকে দীর্ঘ করে লাভ হবে না। তাঁরা মনে করেন, মুসলমানসমাজের কাছে সবচেয়ে ভালো পথ হচ্ছে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে আলোচনার পথে যাওয়া।
জামায়েত উলেমা হিন্দের নেতা মেহমুদ মাদানি বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা আশার আলো দেখতে পেয়েছি। এটাই আমাদের নতুনভাবে শুরু করার দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, রায়ে মুসলমানেরা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে মনে করার কারণ নেই। শিয়া মুসলিম তরুণদের সংগঠন হুসেইনি টাইগার্সের পক্ষ থেকে সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ড ও মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ডের কাছে এক আবেদনে তাদের সুপ্রিম কোর্টে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। কল্যাণের জন্য এখানেই বিষয়টির ইতি টানতে বলে তারা।
আরও কয়েকটি মুসলিম তরুণ সংগঠন বিরোধকে আর জিইয়ে না রেখে ইতি টানার পক্ষে মত দিয়েছে।

মহাশূন্যে হবে অতিথিশালা

মহাশূন্যে হবে অতিথিশালা। মহাকাশে ভ্রমণে যাওয়া ধনকুবেরেরা অর্থের বিনিময়ে আরাম-আয়েশে থাকতে পারবেন সেখানে। ২০১৬ সালে চালু হবে চার কক্ষের এ হোটেল। অরবিটাল টেকনোলজিস নামের রাশিয়ার একটি কোম্পানি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
মস্কোভিত্তিক এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জানায়, খ্যাতনামা বাবুর্চি দিয়ে খাবার রান্না করে তা ওই মহাকাশ হোটেলে পাঠানো হবে। অতিথিরা ওই হোটেলে যাবেন সয়ুজ শাটলের মতো নভোযানে করে, যে যানে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে (আইএসএস) যান।
অরবিটাল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী সার্গেই কস্তেনকো দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক হবে এই হোটেলে থাকা। তিনি বলেন, ‘হোটেলের ভেতরটা আমরা এমনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করেছি, সেখানে থাকলে কারও মনে হবে না, তিনি মহাকাশকেন্দ্রে আছেন। এর মধ্যে এমন ব্যবস্থা রাখা হবে, হোটেলের জানালা দিয়ে পৃথিবী দেখা সম্ভব হবে।’
কস্তেনকো বলেন, ধনী যেসব ব্যক্তি মহাকাশভ্রমণে যেতে চান, তাঁদের জন্য এই হোটেল তৈরি করা হবে। বেসরকারি কোম্পানির হয়ে যেসব গবেষক মহাকাশে গিয়ে গবেষণা চালাতে চান, তাঁদের জন্যও হোটেলটি বেশ কাজে লাগবে। এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রকে অনুসরণ করে একই কক্ষপথে আবর্তন করবে।
হোটেলটিতে চারটি কক্ষ থাকবে। এতে একসঙ্গে সাতজন নভোচারী থাকতে পারবেন। হোটেলটি থাকবে ২০ ঘনমিটার জায়গাজুড়ে। তবে হোটেলে থাকার খরচের ব্যাপারে কিছু জানাননি কস্তেনকো।

মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিং ওবামার আদর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আদর্শদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিং অন্যতম। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ডিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ২৭তম বার্ষিক মহাত্মা গান্ধী স্মারক বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
রবার্ট ব্লেক বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিংয়ের আত্মজীবনী বারাক ওবামার জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রেসিডেন্ট বারবারই বলে আসছেন, তাঁর আদর্শদের মধ্যে গান্ধী ও লুথার কিং অন্যতম। তাঁদের নীতিই সব সময় অনুসরণ করেছেন তিনি।
এর আগে ব্লেক জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ওভাল অফিসে লুথার কিংয়ের বাণী ‘দ্য আর্ক অব দ্য মর‌্যাল ইউনিভার্স ইজ লং, বাট ইট বেনডস টুওয়ার্ড জাস্টিস’ লেখা আছে। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারির ক্ষেত্রে আমরা এই মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করি।’
গত বছর মার্টিন লুথার কিং ও তাঁর স্ত্রীর ঐতিহাসিক ভারত সফরের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। ব্লেক বলেন, ‘আত্মজীবনীতে লুথার কিং লিখেন, “গান্ধী অহিংস উপায়ে সমাজ পরিবর্তনে আমাদের পথ দেখিয়েছেন।”

ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় লাদেন জড়িত: যুক্তরাষ্ট্র

কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁদের বিশ্বাস, মুম্বাই হামলার আদলে সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন নগরে যে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল, তার সঙ্গে ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় নেতারা জড়িত। তবে আল-কায়েদার প্রধানসহ অন্য নেতারা কীভাবে এ হামলার পরিকল্পনা সমন্বয় করেন, তা এখনো পরিষ্কার নয় বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা ও হাক্কানি আল-কায়েদার সঙ্গে কাজ করছে। হামলার পরিকল্পনায় লাদেনের ভূমিকার ব্যাপারে প্রথম প্রতিবেদন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর)। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিকল্পনায় লাদেন জড়িত থাকতে পারেন—এমন অনুমান থেকেই তাঁরা এখন কাজ করছেন। তবে তাঁর সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা তাঁদের কাছে নেই।
ওয়াশিংটনের বিশ্বাস, ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় নেতারা পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা আল-কায়েদা ও অন্য ইসলামি জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকায় উদ্বিগ্ন। তাঁরা সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় জঙ্গি দমনে আরও সচেষ্ট হতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপে এ সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার পেছনে উত্তর আফ্রিকার আল-কায়েদার সহযোগীদের জড়িত থাকার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন একজন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, উত্তর আফ্রিকার আল-কায়েদা খুবই ভয়ংকর। তারা ইউরোপেও হয়তো সন্ত্রাসের বিস্তৃতি ঘটাতে পারে। কিন্তু তারা এ মুহূর্তে সেটা করবে, এমন কোনো আভাস নেই।
এনপিআর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে লাদেন আল-কায়েদার অনুসারী ও সহযোগীদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানান, মুম্বাই হামলার আদলে কৌশলগত অন্তত তিনটি স্থান যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সে হামলা দেখতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রধান লিওন প্যানেট্টা সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়ে পরিকল্পনার এই বিষয়টি দেশটির নেতাদের জানিয়ে বলেছেন, লস্কর-ই-তাইয়েবা ও হাক্কানি আল-কায়েদাকে সঙ্গে নিয়ে নভেম্বরের শেষের দিকে হামলার পরিকল্পনা করে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির ডন পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।
প্যানেট্টা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও সেনাপ্রধান আশফাক পারভেজ কায়ানির সঙ্গে বৈঠক করে জানান, ৩৯ জনের বেশি সন্ত্রাসবাদী এই পরিকল্পনার পেছনে কাজ করছে।

গুপ্তচর আটকের দাবি ইরানের

ইরানের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত মন্ত্রী হায়দার মোসলেহি বলেছেন, তাঁরা বেশ কয়েকজন ‘গুপ্তচর’ আটক করেছেন, যারা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। গতকাল শনিবার মোসলেহিকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানায় সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
তবে কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা উল্লেখ না করে মোসলেহি বলেন, ইরান শত্রুদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম প্রতিরোধ করেছে। ইরানি মন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে পশ্চিমা শক্তিদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম শনাক্ত করেছে এবং এই আক্রমণ মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল নিয়েছে ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, গোয়েন্দা বাহিনী সাইবার স্পেসে নজরদারির কাজ শেষ করেছে। দেশের পরমাণু কর্মসূচিসংক্রান্ত কোনো তথ্য ফাঁস হতে দেওয়া হবে না।’

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আজ রোববার। আজকের নির্বাচনে সাবেক মার্ক্সবাদী গেরিলা জেওমা হুসেফ নির্বাচিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
কেননা, নির্বাচন-পূর্ব সব জনমত জরিপেই জেওমা হুসেফ (৬২) তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ড্য সিলভার কাছ থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোববারের নির্বাচন নিয়ে এখন প্রশ্ন একটিই, তা হলো, হুসেফ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পাবেন কি না। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
আজকের নির্বাচনে ফেডারেল ও রাজ্য আইনসভা, গভর্নর ও সিনেট নির্বাচনেরও ভোট গ্রহণ করা হবে। দেশটিতে ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটি।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হুসেফ ছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন হোসে সেরা, মারিনা সিলভা ও প্লিনিও ডি আরুদা।
প্রেসিডেন্ট লুলা তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে হুসেফকে বেছে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রাজিলের অধিকাংশ মানুষই কার্যত তাঁকে চিনত না। যদিও সাবেক এই গেরিলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রেসিডেন্ট লুলার সরকারে জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হুসেফ। লুলা ব্রাজিলের অর্থনীতির উত্তরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তাঁর পছন্দের বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের দারুণভাবে প্রভাবিত করছে।
হোসে মারিও নামে রিও ডি জেনিরোর এক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমি হুসেফকে ভোট দেব।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হুসেফকে ভোট দিতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। তাই তিনি হুসেফকেই ভোট দেবেন।
লুলা দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছেন বলে ব্রাজিলের জনগণ মনে করে।

বারলুসকোনির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার দেশটির রাজধানী রোমে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। সম্প্রতি পার্লামেন্টে এক আস্থা ভোটে উতরে যাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটল।
বিক্ষোভে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে লোকজন বাসে করে রাজধানীতে এসে জড়ো হয়। ইন্টারনেটভিত্তিক একটি সংগঠন পার্পল পিপল এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। গত ডিসেম্বরেও সংগঠনটি এ ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়।
দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার গিয়ানফ্র্যাঙ্কো ফিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বারলুসকোনির একসময়কার অন্যতম এই মিত্র এমপিদের একটা অংশকেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছেন। এতে বেশ চাপের মুখে পড়ে যান বারলুসকোনি। এ অবস্থায় গত বুধবার পার্লামেন্টে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে পার পেয়ে যান বারলুসকোনি।
আস্থা ভোটের পর ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আগাম ভোটেরও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৩ সালে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা নতুন একটি আইন প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে। প্রচলিত আইনে ইতালির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বারলুসকোনির একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীরা নতুন নির্বাচনী আইন ও আগাম নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছে।
পার্পল পিপলের পক্ষে আদেল প্লাজ্জো বলেছেন, ‘দেশের সংকট সমাধানে পার্লামেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই আমরা এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছি। এর সঙ্গে বারলুসকোনির ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় জড়িত নেই।

কাজে যোগ দিয়েছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট, পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া গত শুক্রবার আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলো সীমান্ত খুলে দিয়েছে। তবে রাজধানী কিটোতে জরুরি অবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। বিদ্রোহের পর সেখানে এক সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
সরকারের ব্যয় সংকোচন-নীতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিদ্রোহের চেষ্টা করে সে দেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাংশ। বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট কোরেয়াকে একটি হাসপাতালে ১২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে প্রেসিডেন্টের অনুগত সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৭৪ জন।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে কড়া সতর্কাবস্থায় থাকা একজন সেনাসদস্য বলেছেন, ‘প্রাসাদে কেউ ঢুকতে পারবে না। এটা শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশ।’ প্রাসাদের আশপাশে প্রেসিডেন্টের সমর্থকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিদায়ী পুলিশপ্রধান ফ্রেডি মার্টিনেজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদে আছেন।
তিনি বলেন, অপ্রীতিকর এ ঘটনার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন। নতুন পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্যাট্রিসিও ফ্র্যাঙ্কো।
উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডউইন জ্যারিন বলেন, প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৬০০ জন বিদ্রোহে অংশ নিয়েছে। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অন্তত দুই হাজার ৩০০ পুলিশ বিদ্রোহে যোগ দেয়।
কিটোতে শুক্রবার তুলনামূলক শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আইনসভায়ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট কোয়েরা এ ঘটনাকে অভ্যুত্থান বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ এর জন্য দায়ী। বিদ্রোহীরা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বিরোধী নেতা লুসিও গুতিয়েরেজকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তাঁর লোকজনই এ ঘটনায় উসকানি দিয়েছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিরোধী নেতা গুতিয়েরেজ টেলিভিশনে এক ভাষণে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের অভিযোগ কাপুরুষোচিত, ডাহা মিথ্যা ও নিষ্ঠুর।’
প্রেসিডেন্ট কোরেয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিবেশী দেশ পেরু ও কলম্বিয়া তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শুক্রবার ফের সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সংস্থা অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস) শুক্রবার আর্জেন্টিনায় জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে নেতারা ইকুয়েডরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

মার্কিন গবেষকদের ভয়ংকর পরীক্ষা

১৯৪০-এর দশকে গুয়াতেমালায় মানসিক রোগী এবং কারাবন্দীদের ওপর একটি ভয়ংকর গবেষণা চালিয়েছিলেন মার্কিন গবেষকেরা। এতে কয়েক শ মানুষ যৌনরোগ গনোরিয়া ও সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনাকে ‘রোমহর্ষক’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলভারো কোলোম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
গনোরিয়া ও সিফিলিস প্রতিরোধে নতুন উদ্ভাবিত পেনিসিলিন কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য গুয়াতেমালার লোকজনের ওপর পরীক্ষা চালান মার্কিন গবেষক জন কাটলার। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এ গবেষণা চালানো হয়। কিন্তু যাঁদের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়, তাঁরা বিষয়টি জানতেন না। কারণ তাঁদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
মার্কিন জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক কাটলার এবং তাঁর সহকর্মীরা প্রথমে যৌনকর্মীদের শরীরে গনোরিয়া ও সিফিলিসের জীবাণু প্রবেশ করান। এরপর কারাবন্দী, সৈনিক ও মানসিক রোগীদের ওই যৌনকর্মীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ করে দেন। এ ছাড়া সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁদের শরীরে এই দুটি যৌনরোগের জীবাণু প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় হাজার মানুষের মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁদের অনেকেই গনোরিয়া ও সিফিলিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের ওপর পেনিসিলিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয় এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁদের সবাই সুস্থ হয়েছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।
মার্কিন গবেষকদের এই কুকর্মের বিষয়টি প্রথম জানাজানি হয় ওয়েলেসলি কলেজের অধ্যাপক সুজান রিভারবির অনুসন্ধানে। পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কাইভসের নথিপত্র ঘেঁটে বিষয়টি জানতে পারেন চিকিৎসক রিভারবি। তিনি জানিয়েছেন, গুয়াতেমালার সরকার এবং তৎকালীন মার্কিন শল্যচিকিৎসক জেনারেল টমাস পারান বিষয়টি জানতেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে গত বৃহস্পতিবার একটি ফোন পেয়ে এই গবেষণার বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট কোলোম। এরপর গত শুক্রবার তিনি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন গবেষকদের এই কাজকে ‘রোমহর্ষক’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গুয়াতেমালার গণমাধ্যম এবং দেশের লোকজন খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার অধিকার আমাদের আছে।’
প্রেসিডেন্ট কোলোমকে ফোন করে গুয়াতেমালার জনগণ এবং যাঁদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
একই সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাথলিন সেবিলিয়াস। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘এই ঘটনা ঘটেছিল ৬৪ বছর আগে। এর পরও জনস্বাস্থ্যের নাম করে এ ধরনের দায়িত্বহীন গবেষণা চালানোর ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা গভীর অনুতপ্ত। গুয়াতেমালার জনগণ এবং যাঁদের ওপর পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল, তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ফ্রান্সিস এস কলিনস বলেন, এই গবেষণা চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। যাঁদের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে, তাঁদের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের গবেষণা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইরাকে প্রধানমন্ত্রী পদে মালিকির প্রতি সমর্থন শিয়াদের

ইরাকের পার্লামেন্টে শিয়া আইনপ্রণেতাদের প্রধান জোট ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (এনএ) গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে নুরি আল-মালিকির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্ভবত এর মাধ্যমে দেশটিতে সাত মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার একটি অবসান হতে যাচ্ছে। গত ৭ মার্চের নির্বাচনের পর থেকে নতুন সরকার গঠন নিয়ে সেখানে অচলাবস্থা চলে আসছে।
নির্বাচনে ৩২৫ আসনের আইনসভায় ১৫৯টি আসন পেয়েছে এনএ। সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও চারটি আসন দরকার। মালিকির নেতৃত্বাধীন স্টেট অব ল জোট ও ইরানপন্থী ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (আইএনএ) একত্র হয়ে এনএ গঠন করে। শিয়াদের এই জোট আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মালিকির প্রতি সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে একক জোট হিসেবে শীর্ষস্থানে থাকা ইরাকিয়া জোট নির্বাচনে ৯১টি আসন পায়। এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবি।
এনএর সদস্য ফালাহ ফাইয়াদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের প্রার্থী হিসেবে মালিকির প্রতি সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। জোটের সদস্যরা একমত হয়ে এ তাঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’
এ সিদ্ধান্তে সন্তোষ জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহ বোধ করছে। কারণ, ইরাকের রাজনীতিকেরা অবশেষে একটি সরকার গঠনের জন্য পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন।
তবে এনএর পক্ষে সরকার গঠন করাটা সহজসাধ্য না-ও হতে পারে। জোটের অন্যতম দুই শরিক সুপ্রিম ইরাকি ইসলামিক কাউন্সিল (এসআইআইসি) ও আল-ফাধিলা পার্টি প্রার্থী ঠিক করার আলোচনায় অংশ নেয়নি। এ দুই দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২৭টি আসন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শিয়ারা সরকার গঠন করলেও সেখানে সুন্নিপ্রধান ইরাকিয়া জোটের অংশীদারি থাকা উচিত। কারণ, এর আগে সুন্নিদের ক্ষোভ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্জনের ঘটনা ইরাকে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল। এ ব্যাপারে ইরাকিয়া জোটের আইনপ্রণেতা হাসান আলাবি বলেন, ‘ইরাক অনেকটা লেবাননের মতো। এখানে কেউ পছন্দ না করলেও সরকারে সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।’
গত শুক্রবার ইরাকের এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা একটি রেকর্ড স্পর্শ করে। নির্বাচনের পর সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে না পারার নেদারল্যান্ডের ১৯৭৭ সালের রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলে তারা। ওই সময় নেদারল্যান্ডের পার্লামেন্ট একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে ২০৮ দিন সময় নিয়েছিল।

মিজান কাবাডি মেলা

ফেনীর ভাষাশহীদ সালাম স্টেডিয়ামে গতকাল দিনব্যাপী মিজান কাবাডি প্রতিযোগিতা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষণায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার ৬টি উপজেলা কাবাডি দল ফেনী সদর, সোনাগাজী, দাগনভূঞা, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম অংশ নেয়। ফেনী সদর চ্যাম্পিয়ন ও পরশুরাম উপজেলা রানার্সআপ হয়েছে। বিকেলে কাবাডি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো. আবদুল কুদ্দুস খান।

অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে মুরালিধরন

গত জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজটাই ছিল মুত্তিয়া মুরালিধরনের শেষ টেস্ট সিরিজ। মুরালিধরন টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়ার পর ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য মুরালিধরন তাতে খেলেননি। তবে আগামী নভেম্বরের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দলে তাঁকে রেখেছেন শ্রীলঙ্কার নির্বাচকেরা।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলটি শ্রীলঙ্কান নির্বাচকেরা গড়েছেন আগামী বছরের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে। মুরালিধরন যেহেতু শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় খুব ভালোভাবেই আছেন, তাই তাঁকে রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক অরবিন্দ ডি সিলভাই বলেছেন কথাটা, ‘মুরালিধরন অবশ্যই আমাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ। এ জন্যই তাকে দলে রাখা।’
মুরালির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ১৬ সদস্যের দলে আছেন আরেকজন অফ স্পিনার, সুরাজ রণদিভ। ডি সিলভা জানিয়েছেন, ম্যাচে একজন অফ স্পিনারই খেলবেন। বাকি কাজটুকু করে দেবেন পার্টটাইম স্পিনার তিলকরত্নে দিলশান ও জীবন মেন্ডিস।
শ্রীলঙ্কা অস্ট্রেলিয়ায় একটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। ওয়েবসাইট।
শ্রীলঙ্কার ১৬ সদস্যের দল: কুমার সাঙ্গাকারা (অধিনায়ক), মাহেলা জয়াবর্ধনে (সহ-অধিনায়ক), তিলকরত্নে দিলশান, উপুল থারাঙ্গা, চামারা সিলভা, জীবন মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, থিলিনা কান্দাম্বি, চামারা কাপুগেদারা, থিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারা, দিলহারা ফার্নান্দো, মুত্তিয়া মুরালিধরন, সুরাজ রণদিভ, ধাম্মিকা প্রসাদ, দিনেশ চান্দিমাল।

এদিকে চেলসি-আর্সেনাল ওদিকে ইন্টার-জুভ

সর্বোচ্চ ২৭ বার সিরি ‘আ’ জিতেছে জুভেন্টাস। ইউরোপ-সেরা দুবার। তবে সেই সোনালি দিন আর নেই। গত চার-পাঁচ মৌসুমে কিছু না জিতে আর দশটি সাধারণ দলের কাতারেই পড়ে গেছে তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’রা। ২০০৬ সালে জেতা সর্বশেষ লিগ শিরোপাও হারাতে হয়েছে ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির দায়ে।
ঠিক উল্টো ছবি ইন্টার মিলানের। সর্বশেষ পাঁচ মৌসুমের সিরি ‘আ’ শিরোপা তাদের মুকুটে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুটসহ শিরোপাত্রয়ী ঘরে তুলেছে তারা গত মৌসুমে। ইন্টার এখন অন্যরকম এক দলই। সাম্প্রতিক সাফল্যের বিচারে ইন্টার আর জুভেন্টাসের এখন আকাশপাতাল তফাৎ। তার পরও দুই দল মুখোমুখি হওয়া মানেই অন্য রকম একটা রণের শিহরণ। এটা যে ‘ডার্বি অব ইতালি’। জুভেন্টাস-ইন্টার মিলান ম্যাচের এই নামকরণ হয়েছে ১৯৬৭ সালে। নামটি দিয়েছিলেন ইতালির ক্রীড়া সাংবাদিক জিয়ান্নি ব্রেরা।
সেই নামকরণের পর থেকে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছে ২১২ বার। আপাতত যতই পিছিয়ে থাকুক, পরিসংখ্যানে কিন্তু জুভদেরই জয়জয়কার। ২১২ ম্যাচের ৯৩টিতেই জিতেছে তারা। ইন্টারের জয় ৬৭টিতে। বাকি ৫২টি ম্যাচ ড্র।
আজ সান সিরোতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই পরিসংখ্যান থেকেই জুভরা অনুপ্রেরণা খুঁজবে। এ ছাড়া আর কোনো উপায়ই যে নেই। এ মৌসুমেও লিগে জুভদের শুরুটা তথৈবচ। ৫ ম্যাচের ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে তুরিনের ক্লাবটি।
অন্যদিকে ইন্টার মিলান ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। একে তো নিজেদের মাঠে খেলবে তারা, তার পরও চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ম্যাচে ভেরডার ব্রেমেনকে ৪-০ গোল উড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণাও সঙ্গী হবে ইন্টারের। যদিও ইন্টারের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো সতীর্থদের আত্মতৃপ্তিতে না ভোগার পরার্মশই দিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় শীর্ষে থাকা বা ভেরডার ব্রেমেনের বিপক্ষে জয়ে কিছু পরিবর্তন হবে না।’
ইন্টারের আজ ভয়ও একটা আছে। রাফায়েল বেনিতেজের দলে বাসা বেঁধেছে চোট। গোলরক্ষক হুলিও সিজার, সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার লুসিও, স্ট্রাইকার ডিয়েগো মিলিতোর সঙ্গে চোটে পড়েছেন আরও দু-তিনজন। তবে এই চোটের কারণে রক্ষণটা একটু হালকা হয়ে গেলেও আক্রমণভাগটা মনে হয় ঠিকঠাক সামলে নিতে পারবেন ব্রেমেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা স্যামুয়েল ইতো আর ব্রাজিলিয়ান উঠতি তারকা কওতিনহো।
বড় ম্যাচ আছে আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও। চেলসি নিজেদের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনালের। বড় এই ম্যাচের আগে মানসিক একটা ধাক্কা খেয়েছেন চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিন দিন আগে তাঁর বাবা মারা গেছেন। তবে পিতৃশোক বুকে চাপা দিয়ে ডাগ-আউটে থেকে যাচ্ছেন এই ইতালিয়ান কোচ। তিন নম্বরে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে এই ম্যাচটি যে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা চেলসির জন্য।
স্পেনে বড় ম্যাচ না থাকলেও আজ খেলা আছে রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা দুই দলেরই। নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা খেলবে রিয়াল মায়োর্কার বিপক্ষে। আর বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ দেপোর্তিভো লা করুনিয়া।

পিঠের ব্যথা নিয়ে মাশরাফির চিন্তা

মাশরাফি বিন মুর্তজার অবস্থা ঘরপোড়া গরুর মতো। সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পান। একটার পর একটা ইনজুরির ধাক্কায় সামান্য ব্যথাও চিন্তার ভাঁজ ফেলে তাঁর কপালে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ শুরুর আগেও সে রকমই এক দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক।
গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনে বল করতে গিয়ে পিঠে টান লাগে মাশরাফির। মাত্র ৫ ওভার বল করার পর আর বল হাতে নেননি তাই। তবে পরদিন বল করেছেন আবার এবং সেটাই সমস্যা বাড়িয়েছে বলে ধারণা মাশরাফির। ‘কাল (গত পরশু) বল করাটা উচিত হয়নি মনে হচ্ছে। ব্যথা আরও বেড়েছে। প্রথম দিনের চেয়ে বেশি ব্যথা হচ্ছে এখন’—কাল রাতে টেলিফোনে বলছিলেন অধিনায়ক।
কাল বিশ্রামেই ছিল বাংলাদেশ দল। হোটেলে উঠেছেন খেলোয়াড়েরা। হোটেলেই সন্ধ্যায় ফিজিও মাইক হেনরির সঙ্গে পিঠের ব্যথা নিয়ে কথা বলেছেন মাশরাফি। তবে হেনরি নাকি পিঠের সমস্যাটাকে খুব গুরুত্ব দিতে চাইছেন না, ‘ফিজিও বলেছে সমস্যা গুরুতর কিছু নয়। পিঠের কোনো অংশ হয়তো সাময়িক আড়ষ্ট হয়ে গেছে।’ ফিজিও পাত্তা না দিলেও মাশরাফি পিঠের সমস্যার ব্যাপারে উপসংহারে পৌঁছাবেন আজ অনুশীলনে বল করার পর, ‘কাল (আজ) বল করে দেখি। যদি সমস্যা না হয় তো ভালো। আর যদি ব্যথা হয়, তাহলে তো একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে...।’
পিঠের ব্যথা নিয়ে মাশরাফি দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়া আরেক পেসার রুবেল হোসেন সুসংবাদই দিলেন কাল, ‘আর কোনো সমস্যা নেই। সব ঠিক হয়ে গেছে। কাল বল করব।’

থাইল্যান্ডে পতন নাদালের

উড়তে থাকা রাফায়েল নাদালকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন স্পেনেরই গিলার্মো গার্সিয়া-লোপেজ। কাল থাইল্যান্ড ওপেনের সেমিফাইনালে ২-৬, ৭-৬ (৭/৩), ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন এই ২৭ বছর বয়সী স্প্যানিয়ার্ড। আজ ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ফিনল্যান্ডের জার্কো নিমিনেন।
এ বছর শেষ তিনটি গ্র্যান্ড স্লামের প্রতিটিতে শিরোপা জিতেছিলেন নাদাল। এই মৌসুমেই এর আগে হেরেছিলেন মাত্র সাত ম্যাচে, জিতেছেন ৬১টি। সেই নাদালকেই হারালেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৫৩ নম্বরে থাকা গার্সিয়া-লোপেজ, পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র একটিই এটিপি শিরোপা জিতেছেন যিনি।
স্বভাবতই এই পরাজয়ে নাদাল হতাশ, ‘এই হার মেনে নেওয়া কঠিন। এই মৌসুমে আরেকটি ফাইনালে, আরেকটি শিরোপার এত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু হলো না। তবে খেলা ব্যাপারটিই তো এমন। দিনটা আসলে আমার ছিল না। ওকে অভিনন্দন জানাই। আমার চেয়ে ও আজ ভালো খেলেছে।’
লোপেজের নিজেরও যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না নাদালের মতো মহাতারকার পতন হয়েছে তাঁর হাতে, ‘এই জয়ে আমি বিস্মিত। নাদাল তো বটেই, এর আগে কখনোই এক নম্বরকে হারাতে আমি পারিনি। এটা তাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা জয়।’

তবুও খুশি নিউজিল্যান্ড

বৃষ্টিতে বিকেএসপির মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকায় আজকের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচটিও হচ্ছে না। সিরিজের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারায় নিউজিল্যান্ড দলে হতাশা আছে। তবে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যে সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া গেল, আফসোস তাতে কমেও যেতে পারে অনেকটা। দেশের বাইরে সিরিজ খেলতে গিয়ে যে এই প্রথম পাওয়া গেল সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগ!
উইকেট সম্পর্কে ধারণা হয়ে যায় বলে বিদেশি দলগুলোকে সাধারণত মাঠের মূল উইকেটগুলোয় অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয় না। প্র্যাকটিস ম্যাচ না হওয়ায় এবার সে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটল। সফর আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আশরাফ হোসেন জানালেন, অনুরোধটা নিউজিল্যান্ড দল থেকেই ছিল, ‘মাঠ ভেজা থাকায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটা প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলার সুযোগ পাচ্ছে না ওরা। সে জন্য নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি চায়। আমরা সেন্টার উইকেটগুলোর একেবারে পাশের একটা উইকেটে তাদের প্র্যাকটিস করতে দিয়েছি।’
ড্যানিয়েল ভেট্টোরি-ব্রেন্ডন ম্যাককালামদের উইকেট সম্পর্কে ‘অন্ধকারে’ রেখে যে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে বাংলাদেশ দল বিরাট কিছু ঘটিয়ে ফেলবে, সে নিশ্চয়তা নেই। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ড বোর্ডের সঙ্গে সুসম্পর্কের খাতিরেও বিসিবিকে এই সৌজন্যটা দেখাতে হয়েছে। নিউজিল্যান্ড দলের বোলিং কোচ শেন ইয়ুর্গেনসেন তো কাল প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে না পারার হতাশাও ভুলে গেলেন সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করতে পেরে, ‘আবহাওয়ার ওপর কারও হাত নেই। এখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হচ্ছে না। কিছুটা হতাশ তো অবশ্যই, তবে আজ (গতকাল) সেন্টার উইকেটে খুব ভালো প্র্যাকটিস হয়েছে। সিরিজ শুরুর আগে এটা হওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের জন্য এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
আবহাওয়া না হোক, কাল উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা ভালোই হলো। সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিসের সুযোগ পেয়ে সবাই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঝখানেই থাকলেন, ফিল্ডিং বা অন্য কোনো প্র্যাকটিসে আগ্রহ দেখা গেল না কারও। ভেট্টোরির দলের খেলোয়াড়দের জন্য এটা স্বাভাবিকও। গত আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফরের পর এক মাস বলতে গেলে বিশ্রামেই ছিলেন সবাই। মাঠে ফেরার তাড়না তো থাকবেই। বোলিং কোচ বললেন, ‘চার সপ্তাহ বিশ্রামের পর আমরা আবার মাঠে ফিরছি। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে, সবাই খেলার অপেক্ষায় আছে এখন।’
বাংলাদেশের গত নিউজিল্যান্ড সফরে অভিষেক হয়েছিল পেসার অ্যান্ডি ম্যাকাইর। এবার অভিষেকের অপেক্ষায় হামিশ বেনেট। ভেট্টোরির ভাষ্যমতে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারে, এমন বোলারদের একটা গ্রুপই নাকি তৈরি করতে চাচ্ছে নিউজিল্যান্ড দল। কিন্তু উপমহাদেশের উইকেটে কেবল গতি দিয়েই কি সব হয়? বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলার দায়িত্ব তাই নির্দিষ্ট কারও ওপরে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন না ইয়ুর্গেনসেন, ‘আমাদের কিছু বোলার আছে যারা ভালো উচ্চতায় বল তুলতে পারে, অনেকে ভালো সুইংও করাতে পারে। পেসারদের সঙ্গে ড্যানিয়েল (ভেট্টোরি), ন্যাথান (ম্যাককালাম) আছে...। অলরাউন্ডারসহ দশ জনই বল করতে পারে। কে বল করল সেটা তাই গুরুত্বপূর্ণ না। ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলাই মূল লক্ষ্য।’
সেন্টার উইকেটে খেলতে পারলেও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা কিউদের থাকছেই। পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ ঢাকার আকাশ রোদ ঝলমলে হওয়ার কথা থাকলেও আগামীকাল এবং পরশু প্রথম ওয়ানডের দিনও নাকি ভারী বর্ষণ হবে। খেয়ালি শরৎকাল নিউজিল্যান্ডকে হয়তো একটু বিভ্রান্তিতেই ফেলছে।

রোনালদোতেই আস্থা মরিনহোর

ইউরোপিয়ান ফুটবলের গত মৌসুমটা রীতিমতো শাসন করেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য পরিণত হয়েছিলেন মূর্তিমান বিভীষিকায়। ৩৫ ম্যাচে করেছিলেন ৩৩ গোল। কিন্তু অনেক দিন ধরেই একেবারে নিষ্প্রভ হয়ে আছেন এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই আগের রোনালদোকে। ইতিমধ্যেই বহু সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে তাঁকে। তবে রোনালদোর ওপর থেকে এখনো আস্থা হারাননি রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো। রোনালদোর লক্ষ্য, শৃঙ্খলা তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদের অপরিহার্য খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে রোনালদো সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে; কারণ, সে অন্য যে কারও তুলনায় কঠোর পরিশ্রম করে।’
গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে ট্রেবল জিতিয়ে এবার রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা-খরা কাটানোর মিশন নিয়ে স্পেনে এসেছিলেন হোসে মরিনহো। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না ‘স্পেশাল ওয়ান’। গোলের জন্য রীতিমতো হা-হুতাশ করতে হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের। গোলের প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে আর বলটা জড়াতে পারছেন না ডি মারিয়া-হিগুয়েইন-রোনালদোরা। এ নিয়ে অবশ্য খুব একটা চিন্তিতও নন মরিনহো। প্রচুর গোলের সুযোগ যে সৃষ্টি করা গেছে এতেই তিনি আপাতত সন্তুষ্ট। আর রিয়াল মাদ্রিদ তো এখনো মরিনহোর ভাষায় ‘নির্মাণাধীন’ অবস্থায় আছে। কিন্তু মাদ্রিদের এ ‘নির্মাণকাজ’ শেষ হবে কবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনহো বলেছেন, ‘আরও ১০ মাস, এক বা দুই বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু দলটা তো সব সময়ই পরিবর্তিত হচ্ছে।’

আরেকটি জয়ের কাছে সিদ্দিকুর

আবার এশিয়ান ট্যুর ওয়েবসাইটের প্রচ্ছদে সিদ্দিকুর রহমানের ছবি। আবার শিরোনামে সিদ্দিকুর। কারণ আরেকবার গলফ-বিশ্বে বাংলাদেশ ও নিজের নাম সগর্বে জানানোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই গলফার।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়ান ট্যুরজয়ী সিদ্দিকুর গতকালই পৌঁছে গেছেন দ্বিতীয় এশিয়ান ট্যুর জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তাইওয়ানে চলমান ‘মারকিউরিস তাইওয়ান মাস্টার্স’-এর তৃতীয় রাউন্ড শেষে ২১১ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশি এই ইতিহাস নির্মাতা। আজ চূড়ান্ত রাউন্ডে জিতলেই ইতিহাস!
তাইওয়ান থেকে এশিয়ান ট্যুরের ওয়েবসাইটের কাছে সিদ্দিকুর দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন, ‘নিজের দ্বিতীয় এশিয়ান ট্যুর জয়ের জন্য খুব ভালো অবস্থায় পৌঁছে গেছি আমি। এখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।’
বাংলাদেশের গলফ ইতিহাসে সিদ্দিক যা করেন, তাই আসলে ‘প্রথম’। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এশিয়ান ট্যুর খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ১ আগস্ট ব্রুনাইতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জিতেছেন এশিয়ান ট্যুর।
এবার দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন গতকাল। ৫ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার মূল্যের এই টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ডে বেশ পিছিয়ে ছিলেন সিদ্দিকুর; ৩ শট বেশি খেলতে হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে পরের দুই রাউন্ডে ফিরে এসে সবাইকে টপকে গেছেন।
নিজের এই প্রত্যাবর্তনে অভিভূত সিদ্দিকুর তৃতীয় রাউন্ড সম্পর্কে বলছিলেন, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা রাউন্ড। ভালো শুরু করেছি, আগের দিনের চেয়েও ভালো স্ট্রাইক করতে পারছিলাম। বলা যায়, সবকিছুই আমার মনমতোই হচ্ছিল।’
টুর্নামেন্টে গতকাল পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এশিয়ান ট্যুরের এ মৌসুমের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার, থাইল্যান্ডের পারিয়া জুনহাসাভাসদিকুল। গত মাসেই হান্ডা ক্ল্যাসিক জেতা দক্ষিণ আফ্রিকার পিটার করিমস আছেন তৃতীয় স্থানে। যুগ্মভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন সাবেক দুই মারকিউরিস মাস্টার্স জয়ী তাইওয়ানিজ ইহ-শিন ও ওয়েই-চিন।
আজ সিদ্দিকুরের চ্যালেঞ্জ শুধু গত দুই দিনের পারফরম্যান্সটা ধরে রাখা। আরেকবার ইতিহাস গড়ার ব্যাপারে সিদ্দিকুর খুবই আশাবাদী, ‘ব্রুনাই ওপেনের পর থেকে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। এখন শুধু আগামী কালকের (আজকের) দিকে চেয়ে আছি।’
বাংলাদেশও তাই চেয়ে আছে!

লড়াই করেই দলে ফিরতে হবে বালাককে

মাত্র কয়েক দিন আগেও জার্মান দলের মধ্যমণি ছিলেন মাইকেল বালাক। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে আগে ইনজুরির কবলে পড়ে অংশ নিতে পারলেন না বিশ্বকাপে। হাতছাড়া হয়ে গেল অধিনায়কের বাহুবন্ধনীটাও। এখন দলে ফেরার জন্যই বালাককে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে। আবার দলে ফিরতে পারবেন কি না, এ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা শুরু করেছে অনেকেই। তবে জার্মান দলে বালাকের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন কোচ জোয়াকিম লো।
বিশ্বকাপের সময় জার্মান মাঝ মাঠে বালাকের অনুপস্থিতি প্রায় টেরই পেতে দেননি পোডলস্কি, মেসুত ওজিল ও বাস্তেইন শোয়েনস্টাইগারেরা। এখনো জার্মান মাঝ মাঠটা বেশ ভালোমতোই সামলাচ্ছেন সামি খেদিরা আর বাস্তেইন শোয়েনস্টাইগার। কিন্তু জার্মান দলকে বালাকের এখনো অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে বলে মন্তব্য করেছেন লো।
জার্মান একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি মনে করতাম যে জার্মান দলে মাইকেলের আর কোনো প্রয়োজন নেই, তাহলে আমি অনেক আগেই সেটা তাকে বলে দিতাম। ব্যাপারটা সে রকম নয়।’ কিন্তু দলে ফিরতে হলে বালাককে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এটা স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেন নি তিনি।
কাজেই বালাকের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ, কথার বরখেলাপ করেন না বলে বেশ ভালো সুনাম আছে জার্মান কোচের। তবে দলে জায়গা করে নিতে বালাকের মতো খেলোয়াড়কেও কষ্ট করতে হচ্ছে দেখে নিশ্চয়ই মনে মনে খুব খুশিও হচ্ছেন জোয়াকিম লো।

আইসিসির নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আসিফ-আমিরের আবেদন

আইসিসির সাময়িক বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আগেই আবেদন করেছিলেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট। এবার স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত অন্য দুই পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফও আবেদন করেছেন আইসিসির বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে। আইসিসির নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করার বা স্পট ফিক্সিংয়ের তথ্যপ্রমাণ হাজির করার জন্যও আইসিসির কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
২৮ অক্টোবর লন্ডনে প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটকে ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিসি। পিসিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, ২৫ অক্টোবর লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন আমির, আসিফ ও বাট।
অভিযুক্ত এই তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আইসিসির বহিষ্কারাদেশ উঠে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের আবার পাকিস্তান দলে ফেরানোর আভাস দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মহসিন খান।