Tuesday, December 24, 2013
প্রতিক্রিয়া- টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে? by মনজুরুল আহসান বুলবুল

উদ্বিগ্ন হয়েই খোঁজ নিয়েছি, সরকারের কোনো নির্দেশনার হদিস যেমন পাইনি, তেমনি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকদেরও মন্তব্য পাইনি। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর একটি টেলিভিশনে টক শোর একজন উপস্থাপক বদল থেকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। সে কারণে খোঁজ নিয়ে জানলাম: ওই উপস্থাপক সেই চ্যানেলটির মালিকের উপদেষ্টাও বটে। অর্থাৎ চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তিনি জড়িত। চ্যানেলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে: উপদেষ্টা ও মালিকের সম্মতিতেই টক শোর উপস্থাপক বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবু মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলছেন, এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হবে না যে মালিকপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু না মালিক, না উপদেষ্টা, না চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই ‘সরকারি চাপের’ প্রতিবাদ করেছেন। তাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিবাদটি করলে পেশাদার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের কর্মীরা নিশ্চয়ই পাশে দাঁড়াবেন।
এই প্রেক্ষাপটেই পরের দুটি প্রশ্নের জবাব খুঁজতে চেষ্টা করি। প্রথম প্রশ্ন, সরকার কেন টক শো নিয়ন্ত্রণ করবে? টিভি টক শোতে সরকারের বিরুদ্ধে আর কি কথা বলার বাকি আছে? ‘শেখ হাসিনার পরিণতি তাঁর বাবার মতো হবে’, ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকার পালাবার পথ খুঁজে পাবে না’, ‘আওয়ামী লীগকে দেখলে সবাই বলবে চোর’, ‘শেখ হাসিনা এখন গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকার প্রধানমন্ত্রী’, ‘এই সরকারের আমলেই সাতক্ষীরা স্বাধীন হয়ে গেছে,’ ‘শেখ হাসিনার তো কিছু হবে না, কিন্তু তাঁর দলের লোকজনের পিঠের চামড়া থাকবে না, ছাত্রলীগ-যুবলীগের খুনিরা সব অপকর্ম করছে’, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকারি দলের গুন্ডারা বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারছে, এই জালিম সরকারের পতন আসন্ন...’ এসবই হালফিল টক শোর ভাষা। এসব যদি সরকার সহ্যই করে থাকে, তাহলে আর টক শো নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন কী? দ্বিতীয় প্রশ্ন: টক শোগুলোতে আর কী বলার স্বাধীনতা প্রয়োজন? এই প্রতিক্রিয়া যখন লিখছি, তখন বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় হলো: আটজনের মৃত্যুদণ্ড আর ১৩ জনের যাবজ্জীবন। কিছুকাল আগে এক টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আলোচক বললেন: ‘লিখে রাখতে পারেন, এই সরকারের আমলে বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হবে না।’ লিখে রেখেছিলাম। সেই আলোচক আর সেই টেলিভিশন চ্যানেল এখন কী বলে, তা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী মন্তব্য করব।
নিবন্ধে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেছেন: ‘কোনো কোনো টিভি চ্যানেলে বিশেষ বিশেষ আলোচককে আমন্ত্রণ না করার জন্য চাপ আছে। এই চাপ প্রয়োগের কারণ বেশির ভাগ টিভি চ্যানেল বর্তমান সরকারের অনুগ্রহে লাইসেন্স পেয়েছে।’
এ বিষয়ে বিতর্কে না গিয়ে একটি আদর্শ পরিবেশের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে প্রশ্ন করা যায়, কোন টেলিভিশন কাকে কখন টক শোতে ডাকবে বা ডাকবে না, সেটি কে ঠিক করে দেবে? কোন পত্রিকা কার লেখা ছাপাবে অথবা ছাপাবে না, তা নিয়ে কি প্রশ্ন তোলা যায়? এই প্রশ্ন ওঠে না এই কারণে যে প্রতিটি সংবাদপত্র পরিচালিত হয় তার নির্ধারিত সম্পাদকীয় নীতিমালার অধীনে। যদি সংবাদপত্রের বেলায় প্রশ্ন না তোলা যায়, তাহলে টেলিভিশনের বেলায় কেন যাবে? টক শোতে কবে, কাকে অতিথি করা হবে, তা একান্তই টেলিভিশনের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতির বিষয়। যদি টক শোর অতিথি নির্বাচনে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে তো নাটক, নৃত্য বা গানের অনুষ্ঠান নির্মাণে শিল্পী নির্বাচনের বেলায়ও একই প্রশ্ন তোলা যাবে। চাপ, অনুরোধ, আগ্রহ বা পরামর্শ হয়তো থাকবে কিন্তু অতিথি নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা শুধু টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে লাইসেন্স পাওয়াদের ওপর সরকারের চাপ বেশি। কিন্তু অ-আওয়ামী আমলে লাইসেন্স পাওয়া টেলিভিশনগুলোও তো তাদের টক শোতে তাদের পছন্দসই তালিকার বাইরে কাউকে ডাকে না! সেখানে কারা চাপ দেয়—এ প্রশ্ন কি করা যায়? না, করা যায় না। কারণ, সেটিও তাদের স্বাধীন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত। তবে চাপ সম্পর্কে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। এক-এগারোর আগে বিএনপির তখনকার মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া দলের প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে যান একটি তালিকা নিয়ে। বলেন, এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের টক শোতে নিলে তাঁর দলের স্বার্থ রক্ষা হয়। এর কিছুদিন পর এক-এগারো ঘটে যায়। নতুন পরিস্থিতিতে মহাপরাক্রমশালী সেনা গোয়েন্দা সংস্থা। এ পর্যায়ে তাঁরা এলেন আরেক তালিকা নিয়ে। নির্দেশ: টেলিভিশন টক শোতে যাতে তাঁদের তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তার সঙ্গে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তালিকার ভিন্নতা খুব বেশি ছিল না।
এ বিষয়টি সবাইকে বুঝতে বলি: টক শোতে আমন্ত্রণ পাওয়া কিন্তু কোনো অতিথির সরাসরি ‘অধিকার (রাইট)’ নয়, এটি হচ্ছে তাঁদের ‘বিশেষ সম্মান (প্রিভিলেজ)’। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারীরাই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে কখন সেই বিশেষ সম্মান জানাবেন। কয়েকটি টক শোতে কথা বললেই কারও ইচ্ছামাফিক যেমন আমন্ত্রিত হওয়ার অধিকার জন্মায় না, তেমনি কোনো চ্যানেল ডাকলেই সেখানে যেতে তাঁরা বাধ্য নন।
এ তো গেল অতিথি প্রসঙ্গ; এবার উপস্থাপক নির্বাচন। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় কিছু প্রচলিত ও স্বীকৃত বিধান আছে। এই রীতি অনুযায়ী টেলিভিশনে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরই উপস্থাপক নির্বাচন করা হয়। তবে সম্পাদকীয় নীতি সরাসরি দৃশ্যমান হয় সে ধরনের স্পর্শকাতর অনুষ্ঠান উপস্থাপনা বা পরিচালনার জন্য সাধারণভাবে সেই টেলিভিশনের পূর্ণকালীন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়াটাই রীতি। কারণ, নিজের প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় নীতিটি সেই কর্মীর মাথায় থাকবে, এই নীতির লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে। উপমহাদেশের স্বনামখ্যাত চ্যানেলগুলোর সম্পাদকীয় নীতিসংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর অনুষ্ঠানগুলোর উপস্থাপকদের দেখুন, তাঁরা কারা। তবে যোগ্য নিজস্ব কর্মী পাওয়া না গেলে অতিথি উপস্থাপক নেওয়া যেতে পারে। নির্বাচিত উপস্থাপককে এ শর্ত মেনে নিজস্ব মত ও পথ সম্পর্কে নৈর্ব্যক্তিক থেকেই তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাজটি কঠিন বটে। একটি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের উপস্থাপক দিয়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সিদ্ধান্ত যেমন নিতে পারে, তেমনি যেকোনো সময় তাঁকে বদলও করতে পারে। এতে কেউ অসম্মানিত হলেন এমনটি মনে করার কারণ নেই। একজন উপস্থাপক বদল করার সঙ্গে সব সময়ই গণমাধ্যমে চাপ বা স্বাধীনতা হরণের প্রসঙ্গটি যুক্ত না-ও থাকতে পারে।
অনেক টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিকেরা প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের নিউজ পলিসির সঙ্গে টক শোর পলিসি মেলে না। কারণ, নিউজ তো চালান টেলিভিশনের পূর্ণকালীন কর্মীরা এবং তাঁরা জানেন তাঁদের স্টেশনের বা চ্যানেলের সম্পাদকীয় নীতি কী? কিন্তু টক শো চালান আমন্ত্রিত বিশেষজনেরা, চ্যানেলের সম্পাদকীয় নীতির প্রতি তাঁদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সরাসরি রাজনীতি করেন এমন বাগ্মী ও মেধাবী ব্যক্তিরাও টক শোর উপস্থাপক হয়ে আসেন, কিন্তু উপস্থাপকের নৈর্ব্যক্তিকতা বজায় রাখা তাঁদের জন্য খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে। নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক বিরাগ বা অনুরাগধর্মী মন্তব্য থেকে অনেক সময়ই নিজেকে বিযুক্ত রাখতে পারেন না অনেকেই। ফলে তিনি নিজে হয়তো লাভবান হন কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয় চ্যানেলের নিরপেক্ষতা; বিভ্রান্ত হন দর্শক-শ্রোতারা।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলি, শুধু টক শো বা টিভি অনুষ্ঠান নয়; কোনো গণমাধ্যমের উপস্থাপনায় কেউ ক্ষুব্ধ হলে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়েই তার মোকাবিলা করতে হবে। তথ্যের লড়াই তথ্য দিয়েই করতে হবে, অন্য কোনো পন্থায় তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করতে চাইলে তা হবে আত্মঘাতী। অন্যদিকে চ্যানেলগুলোকেও স্পষ্ট করতে হবে তাদের সম্পাদকীয় নীতি; এই নীতির আলোকে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, উপস্থাপনা আর সম্প্রচারে হতে হবে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল, পেশাদারি। মনে রাখতে বলি, শুধু বহিরঙ্গের চাপ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নয়, অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনাহীনতা এবং সংকীর্ণ স্বার্থে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে গণমাধ্যমের যথেচ্ছ ব্যবহারই গণমাধ্যমের বড় শত্রু।
মনজুরুল আহসান বুলবুল: সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় হলফনামা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দশম জাতীয় সংসদ- যে নির্বাচনে সবাই হারবে by এম সাখাওয়াত হোসেন
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য @২৪ ডিসেম্বর ২০১৩
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।

ভয়ংকর রাষ্ট্রীয়-সন্ত্রাস কবলিত দেশ। প্রতিদিন রক্ত ঝরছে। বিনাবিচারে নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে কান্নার রোল। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে নিভৃত পল্লীতেও ছড়িয়ে পড়েছে আতংক। সকলের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। নির্বিকার শুধু সরকার। তাদের লক্ষ্য একটাই, যে-কোনো মূল্যে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখা। তাই তারা ভিনদেশী হানাদারদের মতো ‘পোড়ামাটি নীতি’ অবলম্বন করে চলেছে। এমন পরিস্থিতি আমরা কখনো চাইনি। এই দেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আছে। এ দেশের জনগণের প্রতি আমাদের মমতা আছে। তাই আমরা বরাবর সমঝোতার কথা বলেছি। শুধু মুখে বলা নয়, আমরা সমঝোতার জন্য সব রকমের চেষ্টা করছি। সকল দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। সে প্রস্তাব আমাদের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টেও পেশ করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আসুন, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটা ঐক্যমতে পৌঁছাই। সরকার তাতেও রাজি হয়নি। তারা অনড় অবস্থান নিলেন। ক্ষমতায় থেকে, পার্লামেন্ট বহাল রেখেই তারা নির্বাচন করবেন। আমরা চাইলে তাদের সরকারে কয়েকজন মন্ত্রী দিতে পারবো শুধু। এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে একটি দল কীÑধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তা আজ দেশবাসীর সামনে পরিস্কার। আমরা একটা সমঝোতার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে দেশবাসী এর মাধ্যমে সমঝোতার ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ ও আন্তরিকতার প্রমাণ পেয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এসে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের বৈঠকের উদ্যোগ নেন। আমরা তাতেও সাড়া দিয়েছি। যদিও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়নি। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এমনকি, একতরফা নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়নি। অর্থাৎ, আলোচনার একট সুষ্ঠু পরিবেশ সরকারের তরফ থেকে সৃষ্টি করা হয়নি। তা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সুরাহা করার ব্যাপারে আন্তরিকতার সর্বোচ্চ প্রমাণ আমরা দিয়েছি। দু:খের বিষয়, তিন দফা আলোচনা সত্ত্বেও সরকারের অনড় মনোভাবের কারণে কোনো সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব হয়নি। তারা সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়নি। ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের নামে কী-ধরণের প্রহসন করা তাদের উদ্দেশ্য, তা সকলের সামনে এর মধেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। আসলে কেবল লোক দেখানোর জন্য তারা আলোচনায় এসেছিলেন। এটা ছিল সময় ক্ষেপণে তাদের এক প্রতারণাপূর্ণ কৌশল। এর আড়ালে তারা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে গেছে। আপনারা জানেন, তৃতীয় দফা বৈঠকে আমাদের দেয়া প্রস্তাব নিয়ে সরকারী দল তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে আবার ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছিল। তারা সে কথাও রাখেনি। আমাদেরকে আর কিছু জানানোও হয়নি। সংবাদ-মাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি যে, তারা বলেছে, দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার আর কোনো অবকাশ নেই। নির্বাচনের নামে একতরফা এক নজীরবিহীন প্রহসনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
উপস্থিত সাংবাদিক বন্ধুগণ,
সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নে ১৯৯৫-৯৬ সালে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গী করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী লীগ। হত্যাকান্ড, ধ্বংসযজ্ঞ ও অর্থনৈতিক বিনাশই ছিল তাদের আন্দোলনের পন্থা। গান পাউডার দিয়ে যানবাহন জ্বালিয়ে তারা নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা করেছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর তারা দীর্ঘদিন অচল করে রেখেছে। সে সময় বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনা করছিল। আমরা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলাম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বন্ধুরাও মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনমনীয়তা ও সন্ত্রাস-আশ্রয়ী কার্যকলাপের কারণে কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। আমরা প্রথম দিকে তাদের দাবির সঙ্গে একমত ছিলাম না। কিন্তু সকলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে আমরা তাদের দাবি পূরণে সম্মত হই। তবে তার আগেই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সব সদস্য জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। তখন সংবিধান সংশোধন করার মতো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি’র ছিলনা। তাই কেবলমাত্র সংবিধান সংশোধনের জন্য পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে একটি স্বল্পমেয়াদী জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য আমরা নতুন নির্বাচন দিই। আমরা ঘোষনা করি, এটি একটি নিয়ম-রক্ষার নির্বাচন এবং এই নির্বাচনে জিতলে আমরা দেশ পরিচালনা করবো না। আমরা সে কথা রেখেছিলাম। সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর আমরা সংসদ ভেঙ্গে দিই এবং সরকার পদত্যাগ করে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার হীন উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে সংবিধানের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করেছে। সে কারণেই আজকের সংকটের সূত্রপাত ঘটেছে। এই হঠকারিতার কারণে দেশে যা-কিছু ঘটছে, তার দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নেতাদেরকেই বহন করতে হবে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে একটি ঐক্যমত ও সমঝোতা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সকলের অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠ, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এটা জানা সত্ত্বেও, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে, প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে, তাদের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার যে কূটকৌশল গ্রহন করেছে, তার বিষময় কুফল আজ দেশবাসী পাচ্ছে।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলে থাকেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সংবিধানের এই বিতর্কিত সংশোধনীর আওতায় তিনি আজ নির্বাচনের নামে যে প্রহসন পরিচালনা করছেন তাতে জনগণের ভোট ছাড়াই ১৫৪ জন এমপি হয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের জনগণের ভোটের কোনো প্রয়োজন হয়নি। দেশের মোট ভোটারের শতকরা প্রায় ৫৩ জনের ভোটের অধিকার এই প্রক্রিয়ায় কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাকী আসনগুলোতেও যারা প্রার্থী আছেন তাদেরও কোনো উপযুক্ত ও যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সেখানেও ভোটাররা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। কারণ শুধু বিএনপি নয়, দেশের উল্লেখযোগ্য সকল বিরোধী দলই এই নির্বাচনী প্রহসন বর্জন করেছে। শুধু আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের একাংশ এই একতরফা প্রহসনে শামিল হয়েছে। এই নির্বাচনী তামাশা কোনো ইলেকশন নয়, এটা নির্লজ্জ সিলেকশন। জনগণের ভোটাধিকার হরণের এমন জঘণ্য প্রহসন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক ঘৃণ্য কলঙ্কের অধ্যায় হয়ে থাকবে। শাসকদলের এই অপকৌশলের কথা আমরা বিগত কয়েক বছর ধরেই বারবার বলে আসছিলাম। দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই চরম অত্যাচারী ও অযোগ্য সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোনো নির্বাচনে জনগণের ভোটে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সাহস তাদের নেই। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের জন্য আমাদের দাবি গণদাবি ও জাতীয় আকাঙ্খায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করার পক্ষে। যখন সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ আমাদের সঙ্গে রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণভাবে এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষনা করছিলেন, তখন সরকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছে। দুনিয়ার সব গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ও বিরোধী দলের রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণ পন্থায় তাদের দাবি তুলে ধরার অধিকার থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই। এখানে কেবল সরকারের সমর্থকরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় রাজপথে সশস্ত্র মহড়া দিতে পারে। অথচ আমাদের সংবিধানে সকলকেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠানের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। আমাদের সদর দফতর ও শাখা কার্যালয়গুলো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নির্বিচারে চলছে হত্যা, গুম, নির্যাতন, গুলি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ও অপহরণ। সুপরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী পরিবেশ তৈরি করে দেশের জনগণ ও বিরোধী দলকে আতংকিত ও পলায়নপর রেখে সরকার তাদের নির্বাচনী প্রহসনের নীল-নক্শার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
প্রিয় বন্ধুরা,
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি গুরুতর কথা বলেছেন।
এক. সমঝোতার মাধ্যমে আসনগুলো ভাগাভাগি করেছেন তারা। ফলে ১৫৪ আসন ভোট ছাড়াই তারা পেয়ে গেছেন। বিএনপি অংশ নিলে এভাবেই আমাদেরকেও আসন দেয়া হতো।
দুই. বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। জনগণকে আর বিরোধী দলকে ভোট দিতে হলো না। এতে জাতি অভিশাপমুক্ত হয়েছে।
তার কথাতেই পরিস্কার হয়েছে, নির্বাচন নয়, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আসন ভাগাভাগির প্রহসনই তিনি চেয়েছেন এবং এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যদি বিরোধীদল এতে অংশ নিতো তবুও তিনি একই রকম প্রহসনের চেষ্টাই করতেন।
দ্বিতীয়ত: বিরোধীদলহীন নির্বাচনই তাঁর কাম্য। একদলীয় ব্যবস্থাতেই তিনি বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি এমন ব্যবস্থা করেছেন, যাতে জনগণ বিরোধী দলকে ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ না পায়। এতে তিনি পরিতৃপ্তিবোধ করছেন।
আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই যে, আসন ভাগাভাগি করার আপনি কেউ নন। এটা জনগণের অধিকার। তারাই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। সেই অধিকার আপনি কেড়ে নিয়েছেন। আমরা সকলেই জানি যে, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি নয়, জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। তারা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য, সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন। সেই প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকার অর্জিত হয়। এটাই গণতন্ত্রের বিধান। এই বিধানের অন্যথা হলে গণতন্ত্র থাকেনা। সেটা হয়ে দাঁড়ায় অবৈধ স্বৈরাচার। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে সেই অবৈধ স্বৈরাচারের পথেই পা দিয়েছে। ইতিহাসের অমোঘ বিধানে এই পা চোরাবালিতে আটকে যেতে বাধ্য। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, ভোট ও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া ১৫৪ জন এবং কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া বাকী যাদেরকেই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করবে, তারা কেউই বৈধ জনপ্রতিনিধি হবে না। কেননা, জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করছে না। কাজেই তাদের সমর্থনে গঠিত সরকার হবে সম্পূর্ণ অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও জনপ্রতিনিধিত্বহীন। তেমন একটি অবৈধ সরকারের আদেশ নির্দেশ মান্য করতে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনগণের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকেনা। নৈতিক ও জনসমর্থনের দিক বিবেচনায় নিলে এবং বারবার সংবিধানের বেপরোয়া লঙ্ঘণের কারণে এই সরকার অনেক আগেই দেশ পরিচালনার অধিকার ও বৈধতা হারিয়েছে। তবুও সাংবিধানিক সংকট ও শূণ্যতা চাইনি বলেই এখনো সরকারের কর্তৃত্ব ও অস্তিত্বের প্রতি আমাদের স্বীকৃতি অব্যহত রয়েছে। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনী প্রহসন করতে গিয়ে তারা নজীরবিহীন এক চরম জটিলতা সৃষ্টি করেছে। যে আসন শূণ্য হয়নি, সেখানে নতুন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রশ্ন অবান্তর। বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের এক নিকৃষ্ট নজীর সৃষ্টি করেছে প্রতিটি আসনে এই দ্বৈত প্রতিনিধিত্ব। এই পরিস্থিতি যারা সৃষ্টি করেছে তাদেরকেই এর নিরসনের দায়িত্ব নিতে হবে।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
১৯৭৫ সালে এই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। নিজেদের লুন্ঠন ও শাসন-ক্ষমতা পাকাপোক্ত রাখতে সমাজতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। সব দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনগণের সকল মৌলিক ও মানবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বিনা ভোটে সরকারের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নির্বাচন ছাড়াই তাদের নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করে ঘোষণা করেছিল: ‘যেন তিনি নির্বাচিত।’ প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণের সম্মতি ছাড়াই এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপগুলো তারা গ্রহন করেছিল পার্লামেন্টারী ক্যু’র মাধ্যমে। রাষ্ট্রশক্তির নিপীড়ন চালিয়ে এবং পেশীশক্তির প্রয়োগে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের সকল প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আজ আবারো আওয়ামী লীগ সেই কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে একটু ভিন্ন আদলে। জনগণের অধিকার হরণকারী চতুর্থ সংশোধনীর মতো এবারের বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী তারা একতরফাভাবে ব্রুট মেজরিটির জোরে সংসদে পাস করেছে। এরপর তারা ধাপে ধাপে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার পথে। প্রহসন ও কারসাজির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সর্বশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকছে। বর্তমান অবস্থায় প্রাচীন একটি ফরাসী প্রবাদের অনুকরণে আমি আজ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বাক্য উচ্চারণ করতে চাই: ‘ডেমোক্রেসি ইজ ডেড, লং লিভ ডেমোক্রেসি।’
সমবেত সাংবাদিকবৃন্দ,
দেশে এখন নির্বাচনের নামে সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ন্যক্কারজনক যে তামাশা চলছে তাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৃটিশ সাময়িকী ‘ইকোনমিস্ট’ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘শাসকেরা জিতবে, হারবে বাংলাদেশ’। শুধু শাসক দল আওয়ামী লীগ জিতলে কথা ছিলনা। যে বিজয়ের অর্থই হচ্ছে দেশের পরাজয়, বাংলাদেশের হেরে যাওয়া, সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না। এদেশের জনগণ জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ করে যে-দেশ সৃষ্টি করেছে, তারা সেই দেশের পরাজয় মেনে নেবে না। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এদেশের মানুষ যে গণতন্ত্র এনেছে, সেই গণতন্ত্রকেও তারা কেড়ে নিতে, পরাজিত হতে দিবে না। এদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার আদায় করবেই। বাংলাদেশের জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও সুুষ্ঠু অর্থনৈতিক তৎপরতার উপযোগী পরিবেশ চান। দীর্ঘ মেয়াদে যাতে বাংলাদেশ অশান্ত, অনিরাপদ ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ছেয়ে না যায়, তার জন্যই গ্রামে গঞ্জে, শহরে বন্দরে, পাড়ায় মহল্লায় মানুষ আজ লড়াইয়ে নেমেছে। এ লড়াই গণতন্ত্র রক্ষার, অধিকার প্রতিষ্ঠার, জীবন রক্ষার, দেশ বাঁচাবার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবার। জনগণের বিজয় অর্জন পর্যন্ত এই লড়াই চলতে থাকবে এবং আমরা জনগণের সঙ্গেই থাকবো ইনশাআল্লাহ্।
গণবিচ্ছিন্ন, সন্ত্রাসী, গণহত্যাকারী ও মহালুটেরা সরকার জানতো, তাদের এই কারসাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠবেই। তাই তারা খুবই সুকৌশলে পরিকল্পিত পন্থায় প্রহসনের নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারের রায়ের বাস্তবায়নকে একই সময়সীমায় এনে দাঁড় করিয়েছে। জনগণের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অন্তর্ঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে, আগুনে ঝলসিয়ে দিয়ে তারা এর দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাতে চাইছে। ২০০৬ সালে যারা প্রকাশ্য রাজপথে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করে মৃতদেহের উপর পৈশাচিক উল্লাস করেছে সেই আওয়ামী লীগ আজ মানবতা ও শান্তির বাণী শোনাচ্ছে। অপরদিকে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে চালাচ্ছে অপপ্রচার। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সংঘঠিত হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের বিচার আমরাও চাই। তবে বিএনপি বারবার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে না জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনগত মানদন্ড বজায় রেখে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে। আমাদের পরামর্শ মেনে সরকার যদি বিষয়টিকে নিয়ে অতি-রাজনীতি না করতো, তাহলে আজ দেশে-বিদেশে এ নিয়ে এতো সংশয় সৃষ্টি ও প্রশ্ন উত্থাপিত হতো না। বাংলাদেশের অনেক বন্ধু রাষ্ট্র, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, এমনকি জাতিসংঘ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিয়ে যে আপত্তি তুলছে, তাতে আমাদের অনেক বেশী সতর্ক ও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ যে-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। পাকিস্তানের ভেতরই দায়িত্বশীল মহল থেকে এর প্রতিবাদ করা হচ্ছে। বিএনপির তরফ থেকে এ বিষয়ে আগেই আমাদের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। আজ আমি আবারো বলছি, ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি। পাকিস্তান এখন সহ¯্র মাইল দূরবর্তী এক পৃথক রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের সরকারই ত্রিদেশীয় চুক্তি সই করেছিল। সেই চুক্তিতে পাকিস্তানী যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার না করার এবং অতীত তিক্ততা ভুলে সামনে অগ্রসর হবার অঙ্গীকার তারাই করেছিলো। এরপর কোনো ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা কূটনৈতিকভাবেই নিরসন করা উচিত। কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে সরকার এই প্রসঙ্গকে পুঁজি করে দেশের ভেতরে নোংরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। এই রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করুন।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে। আমি বারবার বলেছি, আজ আবারো বলছি, নির্দোষ সাধারণ মানুষের জানমালের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে দিকে সকলের সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। একদিকে হত্যা, নির্যাতন, গুম অপরদিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অন্তর্ঘাত সৃষ্টির অপকৌশল সরকার নিয়েছে। বিচারপতির বাড়িতে বোমা হামলা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার সময় শাসক দলের লোকেরা ধরা পড়লেও বিচার হচ্ছে না। দোষ দেয়া হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর। কাজেই সকলকে খুব বেশি সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশের জনগণই আমাদের শক্তির উৎস। তাদের জন্য এবং তাদেরকে নিয়েই আমাদের সংগ্রাম। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের জীবন ও সম্পদের উপর হামলার প্রকাশ্য উস্কানি দিয়েছেন। জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলেই এ ধরনের হামলার মোকাবিলা করতে হবে। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে গণপ্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হতে দেয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে আমি গত ২১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া আমার বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করে বলতে চাই কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ হামলার শিকার হলে আগামীতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে অপরাধীদের চিহ্নিত ও শাস্তিবিধান নিশ্চিত করা হবে। দেশব্যাপী সন্ত্রাস, নাশকতা, হানাহানি উস্কে দিয়ে, অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করে সরকার প্রহসনের নির্বাচনকে আড়াল করার যে অপকৌশল নিয়েছে এবং স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের নামে তারা তাদের অপশাসন ও নিষ্ঠুর লুন্ঠনকে দীর্ঘায়িত করার যে নীল-নক্শা প্রনয়ণ করেছে, তা ব্যর্থ করে দিতে হবে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। দেশে আজ ভয়ংকর অনিশ্চিত এক নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে সরকার। বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে রাজপথে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এখন শুরু হয়েছে ঘরে ঢুকে হত্যা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে যৌথবাহিনী গঠন করে তাদেরকে চরমভাবে অপব্যবহার করছে সরকার। তালিকা করে বেছে বেছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার, অপহরণ, নির্যাতন করা হচ্ছে। জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বেআইনী ও নৃশংস অভিযানে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করার অপচেষ্টাও শুরু হয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞ ও শাপলা চত্ত্বরে রক্তপাতের খলনায়কেরা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দেশবাসীর মুখোমুখি দাঁড় করাবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের সম্পদ দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে প্রহসনের নির্বাচনে জড়িত করে বিতর্কিত না করার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের নির্দেশে যৌথবাহিনীর অভিযানে শাসকদলের সশস্ত্র ক্যাডাররাও অংশ নিচ্ছে। তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও মহিলাদের পর্যন্ত আটক করে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। অনেকের হত্যার পর লাশ গুম করা হচ্ছে। তাদের ঘর-বাড়ি লুটপাট, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া এবং আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে গুপ্তহত্যা ও গুম করা। এ ধরণের পৈশাচিকতার তুলনা কেবল ভিনদেশী হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সঙ্গেই করা চলে। আজ লক্ষীপুর, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়া, জয়পুরহাট, সীতাকুন্ড, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের তান্ডব। প্রধানমন্ত্রী ও শাসক দলের প্রকাশ্য হুমকির পর তা’ আরো বিস্তৃত ও নৃশংস হয়ে উঠেছে। এর দায়-দায়িত্ব উস্কানি ও নির্দেশদাতা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। আমি আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘণ করে দেশের নাগরিকদের ওপর এই নির্মম দমন-অভিযানের প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন বন্ধে সকলকে সোচ্চার হবার এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের বিরাজমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি জাতিসংঘকে আবারো ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, সংসদ, রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, সংবাদ মাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় যেভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন, তার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমি আশা করি, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি-স্থিতি, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার জনগণের পক্ষে বলিষ্ঠভাবে দাঁড়াবেন। দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নারীর ক্ষমতায়ন ও ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের মাধ্যমে দারিদ্রমোচনের ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকে রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। আমি এই আন্দোলনকেও জনগণের অধিকার রক্ষার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ বলেই মনে করি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল প্রহসনের নির্বাচনকে বর্জন করে মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আজ অটল ভূমিকা পালন করছে। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সকলের প্রতি আমার আহবান, নিজ নিজ রাজনৈতিক বিশ্বাস, কর্মসূচি ও আদর্শ অক্ষুন্ন রেখেই আসুন, দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায়, বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে একদলীয় স্বৈরশাসনের দিকে যাত্রাকে রুখে দিতে আমরা এক হয়ে লড়াই করি। এই সংগ্রামে বিজয়ের পর আমরা সকলে মিলে গড়ে তুলবো অখন্ড জাতীয় সত্ত্বা। দূর করবো হানাহানির অন্ধকার। কায়েম করবো সুশাসন। ফিরিয়ে আনবো আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। সমঝোতার ভিত্তিতে প্রধান জাতীয় সমস্যা ও বিরোধীয় ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি করবো। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করবো। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও কর্মমুখর করে সামনের দিকে এগিয়ে নেবো। দেশের সিভিল সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সংগঠনকে আমি ধন্যবাদ জানাই শান্তি, সমঝোতা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পক্ষে সোচ্চার হবার জন্য। আমি সাংবাদিক বন্ধুদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। গণমাধ্যম আজ শৃঙ্খলিত ও রাষ্ট্রীয় ভীতির শিকার। এর মধ্যেও আপনারা সাহস করে অনেক সত্য তুলে ধরছেন। দেশবাসী সংবাদ-মাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন কী সীমাহীন লুন্ঠন ও দুর্নীতি করে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রী-এমপি ও তাদের নিকটজনেরা অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের নিজেদের দেয়া হিসেব থেকেই জানা গেছে যে, গত পাঁচ বছরে তাদের সম্পদের পরিমাণ সোয়া দুই হাজার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। শেয়ারবাজার ও রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ব্যাংকগুলো তারা নির্মমভাবে লুটে নিয়েছে। কারসাজি ও অত্যাচার চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার ব্যাপারে তাদের যে উদগ্র বাসনা, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, লুটপাটের এই অবারিত সুযোগ। এ সুযোগ তারা যে কোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে চায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আমি আবারো আহবান জানাচ্ছি, সরকার কিংবা দলবাজ কিছু মুষ্টিমেয় কর্মকর্তার নির্দেশে আপনারা বেআইনি ও অন্যায় কোনো তৎপরতায় লিপ্ত হবেন না। আপনারা বিরোধীদল বা জনগণের প্রতিপক্ষ নন। সরকারি দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং হত্যা, গুম, নির্যাতন চালাবার হাতিয়ার হিসেবে আপনারা ব্যবহৃত হতে পারেন না। মনে রাখবেন, আপনারা সরকারের নন, জনগণের কর্মচারি। এখন সময় এসে গেছে, আপনাদেরকে জনগণের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে। এই স্বৈরশাসনের সময় ফুরিয়ে এসেছে। কাজেই তাদের ক্রীড়নক হয়ে নিজ নিজ বাহিনীর সুনাম ও ঐতিহ্য ক্ষুন্নকারী তৎপরতা থেকে আপনারা বিরত থাকবেন, এ আমার আহবান। সরকারকে বলবো, নিজেরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। এখন বাংলাদেশকে সারা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিপদে ফেলবেন না। এই দেশ, এ দেশের মানুষ আপনাদেরকে অনেক দিয়েছে। তাদের প্রতি প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলবেন না। অনমনীয়তা ও হঠকারিতা পরিহার করে বাস্তবের দিকে ফিরে তাকান। প্রধানমন্ত্রী এখনো প্রহসনের নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড়। তিনি বলেছেন, দশম সংসদ নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। পরে একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এটা যুক্তির নয়, জেদের কথা। এটা বাস্তবসম্মত নয়, অপকৌশলের কথা। আমি তাকে অনুরোধ করি, একগুঁয়েমি পরিহার করুন। গণতান্ত্রিক রাজনীতি হচ্ছে ‘আর্ট অব কমপ্রোমাইজ’। সমঝোতা স্থাপন করলে কেউ ছোট হয়ে যায়না। ১৯৯৬ সালে আমরা আপনাদের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতা স্থাপন করেছিলাম। এখন আপনারা ক্ষমতায় আছেন। জনগণের দাবি মেনে নিয়ে সমঝোতায় আসুন। এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল বাতিল করুন। আলোচনা শুরু করুন। আমরাও আলোচনায় বসতে রাজি আছি। জনগণের অর্থের অপচয় করে ভোটবিহীন, প্রার্থীবিহীন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একটা অর্থহীন প্রহসনের নির্বাচন করার প্রয়োজন নেই। এতে শুধু আপনারাই কলংকিত হবেন না, গণতন্ত্রও ধ্বংস হবে। আওয়ামী লীগের ভেতরে বিবেকবান, গণতন্ত্রমনা ও দেশপ্রেমিক মানুষ যারা আছেন তাদের প্রতিও আমার আহ্বান, এই দেশ এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জনগণের প্রত্যাশা ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে আপনারাও অবস্থান নিন। স্বৈরশাসন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করুন। নানা বাধাবিঘœ পেরিয়ে ১৯৯১ সাল থেকে এদেশে গণতান্ত্রিক যে বিধি-ব্যবস্থা চলে আসছিলো, এবার আওয়ামী লীগের হাতে তার অপমৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে। এই গণতন্ত্র বিনাশের ক্ষেত্রে দোসর হয়েছে মেরুদন্ডহীন ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভোট, ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এক কারসাজির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী এবং গণতন্ত্রকে পরাজিত ও জনগণের ভোটাধিকার হরণের ঘৃন্য প্রক্রিয়া তারা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কথা প্রায়ই বলেন। এবার দেশের মানুষ তার ন্যক্কারজনক প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে। এটা ইলেকশন নয়, সিলেকশন। এখানে জনগণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই নির্বাচন ও এর মাধ্যমে গঠিত সরকার ‘বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল’ হবে না। এটা হবে : ‘বাই দ্য ইলেকশন কমিশন, ফর দ্য আওয়ামী লীগ, অফ দ্য আওয়ামী লীগ’। এই গণবিরোধী প্রক্রিয়া বন্ধ করার সাধ্য না থাকলে ইলেকশন কমিশনের অন্তত: পদত্যাগ করা উচিত। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রহসনে পর্যবেক্ষক না পাঠাবার কথা জানিয়েছে। অন্যরাও জনগণের অধিকার হরণের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবার বদলে গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়ার ইংগিত দিয়েছে। অর্থাৎ শুধু দেশে নয়, বিশ্বসমাজও এই নির্বাচনী প্রহসনকে বৈধতা দিতে রাজি নয়। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই দৃঢ় অবস্থানকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই প্রহসন ঘৃনাভরে বর্জনের জন্য আমি বাংলাদেশের নাগরিক ও ভোটারদের প্রতি আহবান জানাই। যে প্রহসনকে সারা দুনিয়ার কেউ বৈধতা দিতে রাজি নয়, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যাতে শামিল হচ্ছে না, সেই প্রক্রিয়ায় জড়িত না হবার জন্যও আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে এবং শাসক দলের পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত ও নাশকতায় যারা জীবন দিয়েছেন, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তাদের শোকার্ত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। যারা নির্যাতিত, ক্ষতিগ্রস্ত ও পঙ্গু হয়েছেন তাদের প্রতিও জানাচ্ছি গভীর সহানুভূতি। সারা দেশের জনগণ যেভাবে এই আন্দোলনে একাত্ম হয়ে নিভৃত পল্লীতে পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, সে জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের এই আন্দোলন সফল হবেই ইনশাআল্লাহ্। জনগণের বিজয় অনিবার্য।
আমি এখন চলমান আন্দোলনে চার দফা করণীয় ও নীতি-কৌশল তুলে ধরছি:
১। ভোটাধিকার হরণকারী ও মানবাধিকার লঙ্ঘণকারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রাণক্ষয়ী লড়াইয়ে যারা শরিক আছেন এবং হচ্ছেন তাদের মধ্যে সমন্বয়, সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে তুলুন।
২। বিভক্তি ও বিভাজনের বিষাক্ত রাজনীতির চিরঅবসান ঘটানোর জন্য জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে মূল্য দিন। জাতীয় ক্ষেত্রে বিতর্কিত বিষয়সমূহ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ আলোচনা এবং গণভোটের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় মীমাংসার রাজনৈতিক সংকল্পকে জোরদার করুন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ যা চায় না দেশের সংবিধানে তা থাকতে পারে না।
৩। ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক সংগ্রাম কমিটিগুলোর পাশাপাশি দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনরত সকল পক্ষকে নিয়ে অবিলম্বে জেলা, উপজেলা ও শহরে ‘সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে পাঁচ জানুয়ারি নির্বাচনী তামাশা প্রতিহত করুন। প্রতিটি জেলার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখুন এবং জনগণের জান, মাল ও জীবীকার নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে স্ব স্ব নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন।
৪। গণতন্ত্রের এই সংগ্রামে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠির মানুষদের যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লংঘণের সরকারি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখুন, সজাগ থাকুন। কোন প্রকার সাম্প্রদায়িকতাকে বরদাশত করবেন না।
এই আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত, ব্যাপক ও পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমি আগামী ২৯ ডিসেম্বর রোজ রোববার সারা দেশ থেকে দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সক্ষম নাগরিকদেরকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা করার আহবান জানাচ্ছি। এই অভিযাত্রা হবে নির্বাচনী প্রহসনকে ‘না’ বলতে, গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলতে। এই অভিযাত্রা হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অর্থবহ নির্বাচনের দাবিতে। এই অভিযাত্রা হবে শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে। এই অভিযাত্রা হবে ঐতিহাসিক। আমরা এই অভিযাত্রার নাম দিয়েছি: ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা।
আমার আহবান, বিজয়ের মাসে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে সকলেই ঢাকায় আসুন। ঢাকায় এসে সকলে পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিলিত হবেন।
আমার আহ্বান এই অভিযাত্রায় ব্যবসায়ীরা আসুন, সিভিল সমাজ আসুন, ছাত্র-যুবকেরাও দলে দলে যোগ দাও।
মা-বোনেরা আসুন, কৃষক-শ্রমিক ভাই-বোনেরা আসুন, কর্মজীবী-পেশাজীবীরা আসুন, আলেমরা আসুন, সব ধর্মের নাগরিকেরা আসুন, পাহাড়ের মানুষেরাও আসুন। যে যেভাবে পারেন, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, অন্যান্য যানবাহনে করে ঢাকায় আসুন। রাজধানী অভিমুখী জন¯্রােতে শামিল হোন।
একই সঙ্গে যারা রাজধানীতে আছেন, তাদের প্রতিও আমার আহ্বান, আপনারাও সেদিন পথে নামুন। যারা গণতন্ত্র চান, ভোটাধিকার রক্ষা করতে চান, যারা শান্তি চান, যারা গত পাঁচ বছরে নানাভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, শেয়ারবাজারে ফতুর হয়েছেন সকলেই পথে নামুন।
জনতার এ অভিযাত্রায় কোনো বাঁধা না দেয়ার জন্য আমি সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। যানবাহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করবেন না। নির্যাতন, গ্রেফতার, হয়রানির অপচেষ্টা করবেন না। প্রজাতন্ত্রের সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবার অধিকার দিয়েছে। সেই সংবিধান রক্ষার শপথ আপনারা নিয়েছেন। কাজেই সংবিধান ও শপথ লঙ্ঘণ করবেন না।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাঁধা এলে জনগণ তা মোকাবিলা করবে। পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলছি, দেশবাসীর এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা আপনারা দেবেন।
এই কর্মসূচির সাফল্যের জন্য আমি পরম করুণাময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সাহায্য কামনা করি।
আজ এ পর্যন্তই। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য @২৪ ডিসেম্বর ২০১৩
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা

গণতন্ত্রের এই সংগ্রামে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী, সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠির মানুষদের যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লংঘণের সরকারি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখুন, সজাগ থাকুন। কোন প্রকার সাম্প্রদায়িকতাকে বরদাশত করবেন না।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত, ব্যাপক ও পরবর্তী ধাপে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমি আগামী ২৯ ডিসেম্বর রোজ রোববার সারা দেশ থেকে দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সক্ষম নাগরিকদেরকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা করার আহবান জানাচ্ছি। এই অভিযাত্রা হবে নির্বাচনী প্রহসনকে ‘না’ বলতে, গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলতে। এই অভিযাত্রা হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অর্থবহ নির্বাচনের দাবিতে। এই অভিযাত্রা হবে শান্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে। এই অভিযাত্রা হবে ঐতিহাসিক। আমরা এই অভিযাত্রার নাম দিয়েছি: ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা। দেশবাসীকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বিজয়ের মাসে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে সকলেই ঢাকায় আসুন। ঢাকায় এসে সকলে পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিলিত হবেন। আমার আহ্বান এই অভিযাত্রায় ব্যবসায়ীরা আসুন, সিভিল সমাজ আসুন, ছাত্র-যুবকেরাও দলে দলে যোগ দাও। মা-বোনেরা আসুন, কৃষক-শ্রমিক ভাই-বোনেরা আসুন, কর্মজীবী-পেশাজীবীরা আসুন, আলেমরা আসুন, সব ধর্মের নাগরিকেরা আসুন, পাহাড়ের মানুষেরাও আসুন। যে যেভাবে পারেন, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, অন্যান্য যানবাহনে করে ঢাকায় আসুন। রাজধানী অভিমুখী জন¯্রােতে শামিল হোন। রাজধানীবাসীল উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা রাজধানীতে আছেন, তাদের প্রতিও আমার আহ্বান, আপনারাও সেদিন পথে নামুন। যারা গণতন্ত্র চান, ভোটাধিকার রক্ষা করতে চান, যারা শান্তি চান, যারা গত পাঁচ বছরে নানাভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, শেয়ারবাজারে ফতুর হয়েছেন সকলেই পথে নামুন।
জনতার এ অভিযাত্রায় কোনো বাঁধা না দেয়ার জন্য আমি সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। যানবাহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করবেন না। নির্যাতন, গ্রেফতার, হয়রানির অপচেষ্টা করবেন না। প্রজাতন্ত্রের সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবার অধিকার দিয়েছে। সেই সংবিধান রক্ষার শপথ আপনারা নিয়েছেন। কাজেই সংবিধান ও শপথ লঙ্ঘণ করবেন না। খালেদা জিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাঁধা এলে জনগণ তা মোকাবিলা করবে। পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশবাসীর এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা আপনারা দেবেন।
এই কর্মসূচির সাফল্যের জন্য আমি পরম করুণাময় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সাহায্য কামনা করি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক কালাশনিকভের মৃত্যু

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক কালাশনিকভের মৃত্যু
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিক্রিয়া- টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে? by মনজুরুল আহসান বুলবুল
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা- উপসর্গ নয়, রোগের চিকিৎসা জরুরি by বদিউল আলম মজুমদার
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৭২-এ পাওয়া আর ১৫৪-তে যাওয়া by একে এম শাহ নাওয়াজ
আমার ভাবনা এমন, ৭২-এ পাওয়া রাজনীতিকে ভবিষ্যতের ইতিহাস লেখক কিভাবে মূল্যায়ন করবেন। গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতিকরা জনকল্যাণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করেন। রাজনৈতিক দল আন্দোলন-সংগ্রামে অবরোধ এবং হরতালের মতো অস্ত্রের ব্যবহার করে যখন এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি বিকাশের বুকে পা রেখে, মানুষ খুন করে, শিক্ষা জীবনকে বিধ্বস্ত করে, শ্রমজীবী মানুষের পেটে ক্ষুধার আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে এ ধরনের আন্দোলনে মানুষকে সম্পৃক্ত করবে কেমন করে! এ কারণে প্রায় মাসব্যাপী অবরোধ-হরতালে বিপর্যস্ত করার পরও বিএনপির আন্দোলন কোনো লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। নেতারাও মাঠে থাকছেন না, আবার সাধারণ মানুষকেও মাঠে টানা যাচ্ছে না। জামায়াত-শিবির, বিএনপির দলীয় সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে অস্ত্রবাজদের পথে নামিয়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়ে সরকারকে দুর্বল করে লক্ষ্যে পৌঁছা কঠিন। আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপির অতীত অবস্থান এমন ছিল না যে, সাধারণ মানুষ বিএনপির ডাকে জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ২০০৬ সালের আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার সন্ত্রাসের পেছনে সাধারণ মানুষ তবুও কিছুটা যুক্তি খুঁজে পেয়েছিল। তাই আওয়ামী লীগের ঘরে ফসল উঠাতে অল্প কয়টি দিনের সহিংসতা আর অরাজকতাই যথেষ্ট ছিল। এত দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের সহিংসতা থেকে ফলাফল আশা করাটা কঠিন। আমাদের ধারণা আন্দোলনের মাঠে বিএনপিকে সত্যিই ৭২-এ পেয়েছে। আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতাই শুধু দেখাচ্ছে তারা। আর জামায়াত জঙ্গিদের ব্যবহার করতে গিয়ে জনগণের সামনে কলংকিত করছে নিজ দলকে। দলীয় কর্মীদের আÍশক্তির জায়গায় বড় এক ফাটল তৈরি করেছে। গোটা বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি যৌক্তিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারত। প্রায় পাঁচ বছরের শাসন দুর্বলতায় দলটি খুব সবল অবস্থানে ছিল না। কিন্তু বিএনপির সংকীর্ণ ও একগুঁয়েমি আচরণ আওয়ামী লীগের পায়ের তলার মাটি অনেকটা শক্ত করে দেয়। এ অবস্থায় দলটি নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়ার নানা রকম ছক কাটতে থাকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ দলীয় ঐতিহ্যের কথা বিবেচনায় না এনেই ক্ষমতায় টিকে থাকার উদগ্র বাসনা থেকে নানা গলি পথ খুঁজে নেয়। ১৫ ফেব্র“য়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করে বিএনপি নেতারা নিজ দলকে যেমন রাজনৈতিক ইতিহাসে কলংক উপহার দিয়েছিলেন, তেমনি যেন কলংকের ভারসাম্য তৈরি করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে জেতার আনন্দে আপ্লুুত হতে চাইলেন। যেহেতু বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নেতা-নেত্রীরা হুংকার দিচ্ছিলেন দলীয় বা সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবেন না, তাই অত ঝুট-ঝামেলায় না গিয়ে দশম জাতীয় সংসদে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ার জন্য নির্বাচনের আগেই নিজ দলের ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে গেলেন। সংবিধানে ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা বলা থাকলেও অতি জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সামনে কেউ এলেনই না। তাই ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়াই অধিকাংশ আসনে আওয়ামী লীগ ও তাদের বন্ধু দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে গেলেন। বলাই বাহুল্য, এতে গণতন্ত্র একটি বড় রকমের হোঁচট খেল। আওয়ামী লীগের মতো দলের এমন বিতর্কিত অবস্থান কাম্য ছিল না। কার বা কাদের পাপে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদেরই মূল্যায়ন করতে হবে। মুখে যত কথাই বলুন না কেন, এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভেতর যে অন্তঃক্ষরণ হচ্ছে না তা নয়। যে কারণে ১৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে নির্বাচনের আয়োজন করা যাবে। নির্বাচন কমিশনও সময়মতো দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। তাই নিয়মের ফাঁদে পড়েই জগাখিচুড়ির নির্বাচন করতে হচ্ছে ৫ জানুয়ারি। এর মধ্যে এ ধারার ছেলেখেলা আর স্থূলতার নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কথা বলে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন নির্বাচনের দিকে স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলের কোনো আগ্রহ নেই। আছে সমালোচনা ও তির্যক দৃষ্টি। দেশের ভেতরেও কি কোনো মহলের আগ্রহ আছে? আমাদের ধারণা, খোদ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও আগ্রহে ভাটা পড়েছে। যা কিছু আগ্রহ থাকার তা আছে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের এখন দৃষ্টি সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোটার শূন্যতা সৃষ্টি করা। আমরা মনে করি এরা কষ্ট না করলেও ফলাফল এ ধরনেরই হবে।
তবে এ ধরনের জেদাজেদির রাজনীতি, ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার বা ক্ষমতাসীন হওয়ার রাজনীতি ক্রমে আরও বেশি ভঙ্গুর করে ফেলছে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। যদি এর মধ্যে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না হয় তবে নির্বাচনী খেলার পর নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে। দশম সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর আসনে বসবেন রওশন এরশাদ। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়া অমন সংসদ দাঁড়াতেও পারবে না। হামাগুঁড়ি দিয়েও কি চলতে পারবে? নির্বাচনী রাজনীতিতে কৌশল হিসেবে একবার আওয়ামী লীগ গোলাম আযমের অনুকম্পা নিতে গিয়েছিল। সেই ক্ষতের খোঁচা এখনও বারবার বিক্ষত করছে আওয়ামী লীগকে। আর এবার যে গ্যাংগ্রিন হতে যাচ্ছে, তার পরিণতির কথা ভেবে মুক্তিযুদ্ধাত প্রগতিশীল মানুষ ভয়ানক অস্বস্তিতে আছে।
এ ধারার রাজনীতি হয়তো সাময়িক কিছু লাভ এনে দেবে দুই ক্ষমতা প্রত্যাশী দলকেই। তবে তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ভয়ানক কালো মেঘ তৈরি করে দিচ্ছে আকাশে। বেড়ে ওঠা প্রজন্ম প্রণোদনার জন্য এখন রোল মডেল খুঁজে পাবে না। গত দুদিন আগে বিষয়টি আমাকে ভয়ানকভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। আমার বাসা ক্যাম্পাসে স্কুলের পাশেই। হেঁটে স্কুলের পাশের রাস্তা অতিক্রম করছিলাম। স্কুল ড্রেস পরা কয়েকজন ছেলেমেয়ের জটলার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে পড়লাম। ওদের কথা কানে আসছিল। অবরোধের কারণে বারবার পরীক্ষা পেছানো থেকেই সম্ভবত ওদের আলোচনা উৎসারিত হয়েছে। এখনও রেশ কাটেনি। বোঝা গেল ওরা বেশ বিক্ষুব্ধ। পরীক্ষা শেষে দেশের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় একজন ভীষণ রকম আহত। এ বয়সে বেমানান হলেও রাজনৈতিক আলোচনা ভর করেছে ওদের বক্তব্যে। হয়তো কিছুটা বুঝে আর কিছুটা বড়দের মুখে শুনে। এ কোমলমতি শিশুরা একপর্যায়ে অনেকটা ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমাদের দুই নেত্রী সম্পর্কে যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল, তাতে আমি বেশ অস্বস্তিতে পড়লাম। এর পরিণতির কথা ভেবে আতংকিত হলাম। প্রত্যেক জাতির প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হলে রাজনৈতিক অঙ্গনের মডেল প্রয়োজন। যাদের দেখে, যাদের কথা শুনে উদ্দীপ্ত হবে প্রজন্ম। এগিয়ে যাওয়ার-জয় করার প্রণোদনা পাবে। নেলসন ম্যান্ডেলা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, সব নিপীড়িত মানুষেরই মডেল। মালয়েশিয়ার শিশুরা মাহাথির মোহাম্মদকে নিয়ে গর্ব করে-প্রত্যয়ী হয়। আমাদের মতো বয়সীরা সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা, ভাসানী, বঙ্গবন্ধু অথবা কেউ কেউ জিয়াউর রহমানকে রোল মডেল মনে করে প্রণোদনা খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু এ শিশু-কিশোর প্রজন্ম বড় দুর্ভাগা। তাদের সামনে গর্ব করার মতো কোনো মডেল নেই। আমাদের নষ্ট রাজনীতি তেমন মডেল তৈরি হতে দেয়নি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতের ওপর সবকিছু ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বড় হতাশার আর কী হতে পারে! আমাদের মহান রাজনীতিকরা যদি দেশপ্রেমের চোখে দূরদৃষ্টিতে না তাকান, তাহলে এ অবস্থা থেকে আমাদের উদ্ধার করবে কে? এভাবে ৭২-এর পাওয়া আর ১৫৪-এ বৈতরণী পাড়ি দেয়া সংকীর্ণ রাজনীতিতেই যদি আমরা আটকে যাই, তবে জাতি হিসেবে আমরা পেছাতেই থাকব।
ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দশম নয়, নবম সংসদ ভেঙেই সংকট সমাধান সম্ভব by ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

গণতন্ত্রের ইতিহাসে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি হাস্যাস্পদ, অগ্রহণযোগ্য এবং নজিরবিহীন প্রহসনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের জন্য ভোটযুদ্ধ হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, দশম সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ১৫৪ আসনে ভোট ছাড়াই সংসদ সদস্যরা জয়লাভ করেছেন। তাই অবশিষ্ট ১৪৬টি আসনের পাতানো নির্বাচন হয়ে পড়েছে অর্থহীন। সে কারণেই সারা দেশে নেই কোনো নির্বাচনী তৎপরতা বা ভোটারদের মধ্যে কোনো প্রাণচাঞ্চল্য। অথচ আমাদের দেশেই অতীতে সব দলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ শিক্ষা-দীক্ষায় কিছুটা অনগ্রসর হলেও ভোটের অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ও স্পর্শকাতর। দলীয় সরকারের অধীনে আমাদের দেশে এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচন হবে বুঝতে পেরেই দেশের জনগণ ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দুই বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। পূর্বপরিকল্পিত একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের জনগণের এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া দেখে সরকারদলীয় নেতারা লজ্জিত হওয়ার কথা। গণতন্ত্রের প্রতি সামান্য শ্রদ্ধাবোধ থাকলে সরকারদলীয় নেতারা এই প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে এত তর্জন-গর্জন করতেন না। বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দল এ প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করায় ১৫৪ আসনে আর কোনো নির্বাচনপ্রত্যাশী ব্যক্তি প্রার্থী হতে যাননি। এমনকি মহাজোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। যার জন্য সরকার তাকে অত্যন্ত কদর্যভাবে টানাহেঁচড়া করতে ছাড়েননি। সরকারি এজেন্সির পাহারায় এরশাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তির রহস্য এখনও সবার কাছে অজানা। রাজনীতির বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে এত নাটক, এত জোরজবরদস্তি বিশ্বে নজিরবিহীন। রওশন এরশাদকে জিম্মি করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মাঠে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তারপরও ১৫৪ আসন প্রার্থীশূন্য। ১৮ দল ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম এবং আ স ম আবদুর রব প্রমুখ নেতার দলসহ নিবন্ধিত বহু দল নির্বাচন বর্জন করছে। তারপরও কোন অদৃশ্য কারণে অবশিষ্ট ১৪৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কোমর বেঁধে নেমেছে, তা দেশ ও বিদেশের পর্যবেক্ষক মহল বিস্ময়ের সঙ্গে অবলোকন করছে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশ, অবশিষ্ট ১৪৬টি আসনের অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিযোগিতা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে। বাকি আসনে মহাজোটের অংশীদার কোনো ছোট দল বা অখ্যাত কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, নির্বাচনের মাঠ খেলোয়াড়শূন্য। এই খেলায় নির্বাচন কমিশন নামক রেফারির প্রয়োজন নেই। তারপরও নির্বাচন কমিশন বর্তমান সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে একটি পক্ষের নীলনকশা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সবই করছে। বিরোধী দলের জোরালো দাবি উপেক্ষা করে আরপিও প্রণয়নকালে নির্বাচন সময়ে আইন-শৃংখলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বাদ দিয়েছিল, সেই নির্বাচন কমিশন এখন প্রার্থীবিহীন, ভোটারবিহীন ও বিতর্কিত প্রহসনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করছে। সরকার গঠনের জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন তা তো ইতোমধ্যে ভোট ছাড়াই অর্জিত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে পাতানো, অপ্রয়োজনীয় এবং প্রতিযোগিতাহীন ১৪৬টি আসনে লোকদেখানো প্রহসনের এই নির্বাচন কি আর প্রয়োজন আছে? হয়তো নিয়ম রক্ষার্থে এই খেলার সমাপ্তি ঘটাতে হবে। কিন্তু এই অপ্রয়োজনীয় পাতানো খেলার সমাপ্তি ঘটাতে গিয়ে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতন, বিরোধী দল দমন ও আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের কফিনে সর্বশেষ পেরেকটি স্থাপনের ঝুঁকি গ্রহণ করা হল।
এ ধরনের একটি পাতানো নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য হবে না তা প্রধানমন্ত্রীর ‘দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ নির্বাচন’ সংক্রান্ত মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। দেশের জনগণ যে এই প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আন্তর্জাতিকভাবেও যে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না তাও আগাম জানা গেছে। আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বাংলাদেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কমনওয়েলথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যে চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করে না, সে দেশের পক্ষ থেকেও তাদের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। এমনকি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে দশম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী দলের লাগাতার আন্দোলনে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত, জননিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র আজ জনগণের মুখোমুখি। দেশের জনগণ এক দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। দেশ অগ্রসর হচ্ছে এক অনিশ্চিত অন্ধকার টানেলের পথে। দশম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
বিদ্যমান সংকট সমাধানে সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিকারভাবে আন্তরিক হন তাহলে দশম কেন, নবম সংসদ ভেঙে দিয়েই তা সম্ভব। নবম জাতীয় সংসদ এখনও বহাল আছে। ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান নবম সংসদের মেয়াদ রয়েছে। সরকার পক্ষ সংশোধিত সংবিধানের ১২৩ (৩) ধারার (ক) উপধারা মোতাবেক ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বর্তমান সংশোধিত সংবিধানের ১২৩ (৩) ধারার (খ) উপধারায় যে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা সরকার তার নিজস্ব স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নিশ্চুপ রয়েছে। এই উপধারায় উল্লেখ আছে যে, ‘(খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ এই উপধারায় কখন সংসদ ভাঙা যাবে তার কোনো সময়কাল নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ মেয়াদকালে যে কোনো সময় সংসদ ভেঙে দেয়ার বিধান উল্লিখিত উপধারায় রয়েছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে- (খ) উপধারায় যে ‘অন্য কোন কারণ’ উল্লেখ আছে তা তৈরি হয়েছে কিনা? আসন্ন দশম সংসদ নিবাচনে ১৫৪ জন ভোটবিহীন নির্বাচিত হওয়া, অবশিষ্ট ১৪৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা এবং জাতীয় অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতিসহ বহুবিধ সংকট সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে সংবিধানে ১২৩ (৩) এর (খ) উপধারা প্রয়োগের যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয়েছে বলে দেশের বিবেকবান মানুষ মনে করেন। এমতাবস্থায় বিদ্যমান নবম সংসদ ভেঙে দিয়ে বর্তমান সংশোধিত সংবিধান মেনেই পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। আসন্ন দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশ যে গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে তা থেকে মুক্তি পেতে হলে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচন-সংক্রান্ত একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার বিকল্প নেই। আজ হোক বা দশম সংসদ নির্বাচনের পরে হোক, বর্তমান সংকটের সমাধান দেশের রাজনীতিবিদদেরই করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এ ইঙ্গিতই বহন করে। প্রধানমন্ত্রী দশম সংসদ নির্বাচনের পর যদি এই সোনার হরিণ ‘সমঝোতা’ সম্ভব বলে মনে করেন, তাহলে সেই সমঝোতা এখনই হবে না কেন? দেশের অর্থনীতির স্বার্থে, জননিরাপত্তার বিবেচনায় এবং গণতন্ত্র রক্ষায় এখনই কাক্সিক্ষত সমঝোতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। সরকার যেভাবে ভোটারবিহীন ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইন-শৃংখলার উন্নতি সম্ভব নয়।
যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে হলে যে তিনটি বিশেষ শর্ত পালন করতে হয়, তার একটিও পালন করা হচ্ছে না। প্রধান তিনটি শর্ত হল- ক) অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন খ) সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং গ) ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক নিশ্চিত করা। বলাই বাহুল্য, উপরোক্ত শর্তগুলো আসন্ন নির্বাচনে পূরণ হবে না বলে দশম সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ১৫৪টি আসনে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণও এই নির্বাচনকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সবার প্রশ্ন, কেন এবং কার স্বার্থে আসন্ন অর্থহীন ও অগ্রহণযোগ্য এই নির্বাচন? শুধু ব্যক্তি, দল বা একটি গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের মতো একটি উন্নয়নশীল এবং স্পর্শকাতর অর্থনীতির দেশে এত বড় ঝুঁকি গ্রহণ করা কোনো মানদণ্ডেই সমীচীন নয়।
ধরে নেয়া যাক, বর্তমান সরকার তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক ভোটারবিহীন ও প্রার্থীবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল। যে সরকারের প্রতি জনসমর্থন নেই, যে সরকারকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ পায়নি, যে সরকার দেশের নব্বই ভাগ মানুষের প্রত্যাশাকে পদদলিত করে ক্ষমতা দখল করেছে, সেই সরকারের কর্মকাণ্ডকে জনগণ কেন সহযোগিতা ও সমর্থন করবে? কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সরকার সফল হয়েছে বা চলতে পেরেছে এমন নজির কেউ দেখাতে পারবে না। এমন একটি অর্থহীন নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে জনগণের কষ্টে অর্জিত অর্থ ব্যয় হবে, সামরিক বাহিনীসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিতর্কিত করা হবে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার, মামলা ও হামলার শিকার হতে হবে। যার ফলে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির অপূরণীয় ক্ষতি হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। একটি অর্থহীন ও প্রহসনের নির্বাচনের জন্য দেশ ও জনগণের এত বড় বহুমাত্রিক ক্ষতি কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না।
এমতাবস্থায় জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমধারা রক্ষার লক্ষ্যে এখনই রাজনৈতিক সমঝোতায় উপনীত হয়ে নবম সংসদ ভেঙে দশম সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেই জাতিকে সর্বগ্রাসী সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সরকারকেই অগ্রসর হতে হবে, উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তরিক হতে হবে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নজিরবিহীন নির্বাচনে জয়-পরাজয় কার? by মোঃ মাহমুদুর রহমান
বিরোধী দলের অনেক বক্তব্য থাকতে পারে নির্বাচন ও ক্ষমতাসীনদের আচরণ নিয়ে। অনেক অভিযোগ আছেও। কোনোটি যৌক্তিক, আবার কোনোটি হয়তো বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতার জন্য। তবে তাদের একটি অভিযোগ রাজনীতির বাইরের সাধারণ মানুষের কাছে আজ দিবালোকের মতো সত্য- তা হচ্ছে, এই সরকার দেশের মানুষকে ভোট প্রদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া যেখানে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হয়, সেখানে সরকারি দল এর কী ব্যাখ্যা দেবে বোঝা যাচ্ছে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে জানতে চেয়েছেন, সরকার ভোটার ও প্রার্থীবিহীন এই নির্বাচনকে কীভাবে নিচ্ছে? আমাদের যিনি আগেই বলেছেন এই ভোটারবিহীন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, সেই ভদ্রলোককে কেন রাষ্ট্রদূত বিব্রতকর প্রশ্নটি করলেন বোঝা যাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী সঠিকভাবে বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। অর্থমন্ত্রী, যিনি মন্ত্রিসভার একজন সিনিয়র সদস্য, একই সঙ্গে সরকারি দলেরও, তার অতীতের কোনো কোনো বক্তব্য বিতর্কিত হলেও ব্যক্তিগত সততার বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও আজ পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন তোলেননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে জেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানানোর কথা বলে অর্থমন্ত্রী দুটি বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। প্রথমত, দেশে বিতর্কিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে কী অর্জিত হচ্ছে, তা সরকার ও দল জানে না। দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনের দায়দায়িত্বও তারা নিচ্ছেন না। এর ফলে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি দেশের কোনো কল্যাণ হয় তাহলে তা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর কৃতিত্ব। আবার যদি কোনো ক্ষতি হয় তার দায়ও প্রধানমন্ত্রীর।
সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনের কোনো হিতকর দিক আপাতত খুঁজে পাচ্ছে না। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রায় শতাধিক মানুষ জীবন হারিয়েছে। অনেক গাড়ি, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে দেশের হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিরাপত্তাহীন শুধু বিরোধী দলের কর্মীরা নন, সরকারি দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আমাদের মতো রাজনীতির বাইরের খেটে খাওয়া মানুষও নিরাপত্তাহীন। এ মুহূর্তে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে আছেন। এর বাইরের সরকারি দলের কর্মী, বিরোধী দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ কেউই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত হতে পারছেন না। কারণ প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও কাউকে না কাউকে প্রতিপক্ষের হাতে জীবন দিতে হচ্ছে। রাস্তা চলাচলে কিংবা যানবাহনে অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হতে হচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আমাদের কি এই মরণ খেলা থেকে মুক্তি দিতে পারবে? পাবলিক পারসেপশন হচ্ছে- না, পারবে না। তাহলে কেন এই নির্বাচন? আমরা কী অর্জন করছি এ নির্বাচনী খেলার মাধ্যমে? সবাইকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন হলে কি জাতির কল্যাণ হতো না?
এ প্রশ্নগুলো করার জন্য কোনো দায়িত্বশীল মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না, যিনি সদুত্তর দিতে পারবেন এবং জনগণের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূরীকরণে সাহায্য করতে পারেন। অথচ দেশের কোটি কোটি মানুষের একই প্রশ্ন। উত্তর নেই। দেশ যাচ্ছে কোথায়? কেউ জানে না। অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে বলে সবার ধারণা থাকলেও এর মাত্রা যে এত ভয়াবহ হবে তা কেউ সম্ভবত অনুমান করতে পারেননি। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও নির্বাচনের মাধ্যমেও যে গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে পড়তে পারে, তা দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কারও জানা ছিল বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন দলের ছোট একটি অংশ ছাড়া দেশ-বিদেশের সবাই একমত, বর্তমানে নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে তা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া। তাই দেশীয় পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়নও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘও চাচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তা এ মুহূর্তে হচ্ছে না। তাই এ নির্বাচন দেশ-বিদেশের কোথাও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে তা সাংবিধানিকভাবে বৈধ হলেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা পাবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথায়ও এ বৈধতা সংকটের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। নির্বাচনের পর বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা হলে প্রয়োজনে দশম সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য জনগণকে আরও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। পরে সমঝোতা করে নির্বাচন করলে এখন করা হচ্ছে না কেন? সাংবিধানিক সময়সীমার যুক্তি সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মানতে পারছেন না। সমঝোতা হলে বর্তমান তফসিল স্থগিত করে কীভাবে নির্বাচন করা যায়, তা প্রতিনিয়ত টকশোতে বাতলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কার কথা কে শোনে!
সরকারি দলের অনেক নেতাও জনগণের সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। অর্থমন্ত্রী আগেই বলেছেন, এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। পরে কক্সবাজারের রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলের নেত্রীদের মতের বিপরীতে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হলেও এখন সাহস করে প্রকাশ্যে অনেকেই বলবেন বলে মনে হচ্ছে। তাদের বক্তব্যকে যত তাড়াতাড়ি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেবেন ততই দেশ, জাতি ও ক্ষমতাসীনদের জন্য কল্যাণকর হবে। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতার প্রথম মেয়াদের সরকারের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ করে একজন মন্ত্রী মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন। পরে তার কথাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। এবারও এমন হতে পারে। তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকলে সম্ভবত প্রশংসা ও তোষামোদকারীদের বেশি ভালো লাগে সবার। যৌক্তিক ভিন্নমতও তখন শত্র“তা মনে হয়। অথচ সময়মতো ক্ষমতাসীনরা শত্র“-মিত্র শনাক্তকরণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারলে দেশ ও জনগণ অনেক অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা থেকে রেহাই পেত। প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার অসুস্থ মানসিকতা পরিহার করে সব পক্ষ সমঝোতার পথে এগিয়ে আসবে- এটাই এই মুহূর্তে জনগণের প্রত্যাশা। সহিংসতা নয়, সমঝোতাই নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নিশ্চিত করতে পারে। এই সত্য উপলব্ধি করে উভয় পক্ষ একটি কার্যকর নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাক- এটাই দেশবাসী দেখতে চায়।
অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কারণ এ নির্বাচনে গণতন্ত্রের পরাজয় হবে। নজিরবিহীন এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা জিতলেও দেশ হারবে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের দি ইকোনমিস্ট পত্রিকা। নিশ্চয়ই দেশপ্রেমিক কেউ চাইবে না দেশ হেরে যাক।
মোঃ মাহমুদুর রহমান : ব্যাংকার
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুশীলদের তামাশা by ফরহাদ মজহার

প্রথম আলোর যুক্তি হচ্ছে, শাসকগোষ্ঠী একদিকে ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা’ রক্ষাকে জরুরি মনে করছে, অন্যদিকে আবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু এখন আর সংসদ ভেঙে ৯০ দিন সময়ের সুযোগ গ্রহণ করা যায় না। কারণ, সংবিধান তা সমর্থন করে না। তাই সমঝোতার জন্য কান্নাকাটি করে কোনো লাভ নেই। বৃথা। আরও ইন্টারেস্টিং যুক্তি হচ্ছে, ‘সমঝোতা নয়, সংবিধান বড়’। বিএনপিকে সংবিধানই মানতে হবে। শেখ হাসিনা তো বারবার এ কথাই বলছেন। সংবিধানই সব। প্রধানমন্ত্রী একাদশ সংসদ গঠনের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের শর্ত দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা দশম সংসদ নিয়েই কথাবার্তা চালাচ্ছেন। প্রথম আলো একই লেখায় বলছে, জানুয়ারি মাসের পর ‘দশম সংসদ নির্বাচন’ কথাটি জাদুঘরে ঠাঁই পেতে পারে। অর্থাৎ দশম সংসদ নিয়ে কোনো কথা বলার আর সুযোগ নেই। এসব কথা বলে বিএনপি ‘অপরিপক্বতার পরিচয় দিচ্ছে’।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির কী করা উচিত তার নসিহতও দেয়া হয়েছে। বিএনপির উচিত হবে কেবল নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে তা নিয়ে সমঝোতা করা নয়, বরং তাদের উচিত ‘গুচ্ছ প্রস্তাব’ নিয়ে আসা। যেমন- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানোর ফর্মুলা ইত্যাদি। সুশীলদের এই আকুতিকে আমরা সাধুবাদই জানাব। ঠিকই বিএনপি সংবিধানের কী ধরনের সংস্কার করতে চায় সেটা তাদের পরিষ্কার করেই বলা উচিত। অর্থাৎ বিদ্যমান সংবিধান বিশেষত পঞ্চদশ সংশোধনীর পর রাষ্ট্রব্যবস্থার যে চরিত্র দাঁড়িয়েছে তার রূপান্তর বা সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কোনো ভবিষ্যৎ নাই, এটা আমাদের সবার কাছে, যারা গণতন্ত্রের বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার।
অতএব সুশীল রাজনীতির ধারক প্রথম আলো বিএনপি সংবিধান প্রশ্নে যে সীমাবদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে, তার যে সমালোচনা করছে, তাতে কিছুটা সায় দেয়া হয়তো যায়। যদিও তাদের সমালোচনার মধ্যে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ আওয়ামী প্রীতি যতটা প্রবল, ঠিক ততটাই বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের বিচারবুদ্ধির নমুনা কম দেখি। প্রায়ই দেখি এক ধরনের ঘৃণা বিষের মতো গলগল করে বেরিয়ে পড়ে। সুশীল রাজনীতির সঙ্গে যা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারও মতো বা রাজনীতি বিএনপি-বিরোধী হতেই পারে। ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষের অসুখের কারণে তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের সহকারী। এই মানসিক বিকার কাটিয়ে তোলা কঠিন, এটাও স্বীকার করি। কিন্তু যদি আমরা ইতিবাচক কোনো সুশীল চিন্তা ও রাজনীতির দ্বারা সমাজে অবদান রাখতে চাই, তাহলে নসিহত দেয়ার ভাষা কিংবা প্রকাশের ধরনের একটা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন অবস্থা থাকা দরকার। যে কারণে প্রথম আলো শেষাবধি একটি আওয়ামীপন্থী পত্রিকায় পরিণত হয়। হয়তো পত্রিকার নীতি না হলেও এর মধ্যে আওয়ামী ক্যাডার ও ভারতপন্থীদের প্রাবল্যের কারণে যে ইতিবাচক নিরপেক্ষ ভূমিকা পত্রিকাটি পালন করতে পারত সেখানে ঘাটতি সীমাহীন।
কথাগুলো বলার কারণ রয়েছে। এর আগে আমি কয়েকবারই বলেছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সুশীল রাজনীতি বা যাকে সাধারণত ইংরেজিতে লিবারেলিজম বলা হয় তার একটা ইতিবাচক ভূমিকা আছে। বিশেষত যেখানে আমাদের সমাজ নাগরিক ও মানবিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলতে বোঝে প্রথম আলোর স্বাধীনতা। কিন্তু দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, কিংবা ইসলামিক টিভির স্বাধীনতা নয়। যেখানে ভিন্ন চিন্তাকে আমরা সহ্যই করতে পারি না ইত্যাদি। এই পরিস্থিতিতে উদার চিন্তা ও মানসিকতার চর্চা প্রশস্ত করার দরকার রয়েছে কোনো সন্দেহ নেই।
তারপরও বলব, ‘দুই-তৃতীয়াংশের চেরাগ পেলে বিএনপি কোন কোন অনুচ্ছেদ বদলাবে? কোনটার পরিবর্তে কোনটা আনবে? দেখবেন আবোলতাবোল বকতে শুরু করেছে’- প্রথম আলোর এই অভিযোগ সঠিক। অর্থাৎ যদি বিএনপি বা বিরোধীদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব তাদের কী? ঠিক, বিএনপি এটা জানে না। কিন্তু জানেটা কে? প্রথম আলো? সুশীল সমাজ? সমাজের বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা? টকশোর পারফর্মাররা? সংবিধান বিশেষজ্ঞরা? না, কেউ জানে না। আজ অবধি বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কী ধরনের ‘গঠনতন্ত্র’ আমাদের দরকার এবং কী ধরনের গঠনতন্ত্র ও রাষ্ট্রকাঠামো বাংলাদেশের উপযোগী সেই তর্কের কিনারেই আমরা পৌঁছাতে পারিনি। কিন্তু এটা তো বিএনপির একা করার কথা নয়। সংবিধানের সংস্কার কী করে হতে পারে, তার উত্তর শুধু কি বিএনপির কাছ থেকে আমরা চাইব? এটা তো কাজের কথা হতে পারে না। আজ অবধি সুশীলদের মধ্যে কি আমরা কোনো গণতান্ত্রিক চিন্তা দেখেছি? দেখিনি। বাহাত্তরের পূত পবিত্র সংবিধানকে মাথায় তুলে তো ৪২ বছর কেটেছে। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল করেছেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা পঞ্চদশ সংশোধনী করে আজ দেশকে ক্ষতবিক্ষত করেই ক্ষান্ত থাকেননি, খোদ সার্বভৌমত্বকেই বিপন্ন করে তুলেছেন, বাংলাদেশকে তুলে দিয়েছেন দিল্লির হাতে, এই গ্যাঁড়াকল থেকেই তো দেশ মুক্ত করা যাচ্ছে না। ইসলামাবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করা গেছে, দিল্লির কবল থেকে মুক্ত হব কিভাবে? গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র বা সংবিধান নিয়ে চিন্তাভাবনা তো অনেক দূরের কথা। বিএনপি যদি গণতান্ত্রিক ও গণমানুষের দল হতো তাহলে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটত অনেক আগেই। এটা আমাদের রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য। ফলে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের পক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকা যেমন অসম্ভব, একইভাবে বিএনপি বা বিরোধী দলের পক্ষাবলম্বনও অসম্ভব।
প্রথম আলো বিএনপি ও আঠারো দলের বিরোধী, এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তারা আওয়ামীপন্থী এখানেই তাদের রাজনৈতিক চরিত্র আমরা বুঝতে পারি। তারা আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করে তাকে রক্ষার জন্য, গণমানুষের গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা বা রাজনীতির বিকাশ ঘটানোর জন্য নয়। এখন নির্লজ্জ ওকালতি হচ্ছে দশম সংসদ মেনে নেয়ার পক্ষে জনমত তৈরি করা।
প্রথম আলোর দাবিটি কৌতুককর। যে তামাশার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘সংসদ’ নামে এক প্রকার বিচিত্র জিনিস জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেই সংসদকে ‘বৈধ’ বলে আমাদের মেনে নিতে হবে। কারণ সেই সংসদই ‘উপযুক্ত সংশোধনী’ আনবে। আর তাতেই ‘সমঝোতা’ হবে, আর বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এর চেয়ে হাস্যকর, গণতন্ত্রবিরোধী, আইন ও সাংবিধানিক ধ্যানধারণার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ চিন্তা আর কী হতে পারে?
প্রথম আলো এখনই বিএনপির কাছ থেকে কথা বের করতে চায়। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ শাসনের কার্যপ্রণালীটা কী করবে? ‘আসলে কী ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংবিধানে নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কী হবে, তা নির্দিষ্ট করতে হবে। মৌখিক নয়, একটি লিখিত অবস্থান আদায়ে বিএনপিকে চাপ দিতে হবে। শুধু অবরোধ বা তার নামে নাশকতা দিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করা যাবে না।’
যে দলকে রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না, যাদের নেতাদের জেলে পুরে রাখা হয়েছে, যাদের কর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, আন্দোলনের এই তুঙ্গ মুহূর্তে বিএনপির কাছ থেকে ‘লিখিত অবস্থান’ আদায় করা তামাশা ছাড়া কিছু না। একটি গণমাধ্যম বা টেলিভিশন চ্যানেল নেই, যারা নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করে। ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে বিকৃত তথ্য। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির কাছ থেকে আমি কিছুই প্রত্যাশা করি না। কিন্তু যেটা প্রত্যাশা করি, সেটা হচ্ছে আন্দোলনের পদক্ষেপ ও ধরন সম্পর্কে হুঁশে আসা। প্রথম আলো বলতে চাইছে ‘আন্দোলন ও নাশকতা’ দিয়ে বিএনপি নির্বাচন ভণ্ডুল করতে পারবে না। কেন তারা বলছে সেটা বুঝতে পারি, কারণ দশম সংসদের নির্বাচনকে তারা ‘বৈধ’ করার জন্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইছে। এটা ভুল রাজনীতি। এতে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো মীমাংসা হবে না। বরং কিভাবে আন্দোলন করলে সরকারের পতন ঘটবে সেই পরামর্শই বিএনপিকে দেয়া দরকার। এরপরই আসবে নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের প্রশ্ন।
বিরোধী রাজনৈতিক জোটের সামনে আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ নেই। এজন্য একথা বলছি না যে, রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। না, তা নয়। আছে। কিন্তু সে সুযোগের ব্যবহার শেখ হাসিনা করতে পারবেন না। কারণ লড়াইটা স্পষ্টতই দিল্লির বিরুদ্ধে। এই গোড়ার সত্যকে অস্বীকার করলে সুশীলরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে তা শেষতক দিল্লির পক্ষেই নগ্ন দালালি ছাড়া আর কিছুই হবে না।
বিএনপিকে অবশ্যই পরামর্শ দেয়া উচিত। কিন্তু সেটা দশম সংসদ ‘বৈধ’ প্রমাণ করার জন্য ‘উপযুক্ত সংশোধনী’র প্রস্তাব নয়। বরং আন্দোলনের ধরন ও কৌশল নিয়ে পরামর্শ। যাতে আন্দোলন গণতান্ত্রিক চরিত্র পরিগ্রহণ করতে পারে এবং বর্তমান সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের উপাদান ও শর্ত তৈরি করা সম্ভব হয়।
শেখ হাসিনা নির্বাচন নিয়ে যা করেছেন, তারপরও তাকে রক্ষার চেষ্টা দেখে লজ্জাবোধ হয়।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গীয় হলফনামা
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে?
মনজুরুল আহসান বুলবুল: সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইংলাকের বাসভবন ঘেরাও
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির সিংহাসন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হবে লজ্জাস্কর : কেজরিওয়াল
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 24
(20)
- প্রতিক্রিয়া- টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে? ...
- সহজিয়া কড়চা- বঙ্গীয় হলফনামা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- দশম জাতীয় সংসদ- যে নির্বাচনে সবাই হারবে by এম সাখা...
- খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য @২৪ ডিসেম্বর ২০১৩
- খালেদা জিয়ার পুরো বক্তব্য @২৪ ডিসেম্বর ২০১৩
- ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা
- ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা
- একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক কালাশনিকভের মৃত্যু
- একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক কালাশনিকভের মৃত্যু
- প্রতিক্রিয়া- টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে? ...
- নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা- উপসর্গ নয়, রোগের চিকিৎস...
- ৭২-এ পাওয়া আর ১৫৪-তে যাওয়া by একে এম শাহ নাওয়াজ
- দশম নয়, নবম সংসদ ভেঙেই সংকট সমাধান সম্ভব by ড. খন্...
- নজিরবিহীন নির্বাচনে জয়-পরাজয় কার? by মোঃ মাহমুদুর ...
- সুশীলদের তামাশা by ফরহাদ মজহার
- বঙ্গীয় হলফনামা
- টিভি টক শো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে?
- প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য
- ইংলাকের বাসভবন ঘেরাও
- দিল্লির সিংহাসন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া হবে লজ্জাস্কর...
-
▼
Dec 24
(20)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


