Sunday, April 25, 2010

আইলা-দুর্গতদের পুনর্বাসন: প্রধানমন্ত্রীর সফর জরুরি by শরিফুজ্জামান শরিফ, এ এস এম আতীকুর রহমান, সরদার আমিন, বদরুল মান্নান, মিহির বিশ্বাস, ওমর ফারুক ও রোবায়েত ফেরদৌস

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হেনেছিল ২০০৯ সালের ২৫ মে। এতে প্রায় ১৭০ জন প্রাণ হারায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েক লাখ মানুষ। তারপর পেরিয়ে গেছে ১১টি মাস। কিন্তু আইলা-দুর্গত খুলনা ও সাতক্ষীরার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ ও দুর্দশা শেষ হয়নি। কয়েক মাস ধরে আইলা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জনগণের সম্পদের পুকুরচুরি, সরকারের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও মানুষের বিপন্নতার চিত্র গণমাধ্যম দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ওই সব প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে ওই অঞ্চলের সর্বশেষ অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য আমরা ৮ ও ৯ এপ্রিল ২০১০ আইলা-দুর্গত দক্ষিণাঞ্চল সফর করি। সে সময় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়ন; বিশেষ করে গাবুরা দ্বীপ, নীলডুমুর ইউনিয়ন, আশাশুনির প্রতাপনগর, খুলনার কয়রায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করি। নানা শ্রেণী ও বয়সের মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।
আমরা দেখেছি, মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তার ওপরে, কোথাও বা পাকা দালানের ছাদে আশ্রয় নিয়ে মানবেতরভাবে বেঁচে আছে। তাদের হাতে কাজ নেই, আশ্রয় নেই, ঘরে খাবার নেই। চারদিকে অথই পানি অথচ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। এলাকায় যেসব পুকুর ছিল তা লবণ-পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে এক কলস পানির জন্য মানুষকে সাত-আট কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। কোথাও কোথাও এই পানি কলসপ্রতি ১৫-২০ টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়। ওই অঞ্চলে অপরিকল্পিত চিংড়ির চাষ মানুষকে দুর্ভোগের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দিয়েছে। কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষের উপযোগী করে চিংড়িচাষিরা লাভবান হলেও দরিদ্র কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে, জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। কৃষিজমিতে লোনাপানি প্রবেশ করানো যাবে না—উচ্চ আদালতের এ রায় উপেক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ কেটে পানি তোলার ক্ষেত্রে চিংড়িচাষিদের সহায়তা করছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছে।
আমরা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের ক্ষোভ, শঙ্কা আর বিরক্তি লক্ষ করেছি। আইলার এক বছর হতে চলল, অথচ তারা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। কবে ফিরবে তাও জানে না। সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা ওই অঞ্চলে গেছেন; খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গেছেন ছয়বার। তিনি মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবারই তিনি বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছে, সর্বশেষ তিনি সেখানে বলে এসেছেন, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। আমরা আমাদের সফরকালে বাঁধ নির্মাণে তাঁর এই ঘোষণার কোনো বাস্তবায়ন দেখিনি। আমরা এখন কর্মকর্তাদের গাফিলতির জন্য শাস্তি প্রদানের খবর শোনার অপেক্ষায় আছি।
আমরা দেখেছি, গত শতকের ষাটের দশকে যে বাঁধ নির্মিত হয়েছিল, তার কোনো সংস্কার হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এখনো মেরামত করা যায়, তার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে যে কাজ করা হয়েছে তা দেখলে মনে হয় বিপুল অর্থের প্রকল্প তৈরিই ছিল এর লক্ষ্য, মানুষ বাঁচানো নয়। বর্ষা আসার আগে আইলা-দুর্গত এলাকার বেড়িবাঁধের সংস্কার করতে না পারলে, যাঁরা মানবেতরভাবে ওই এলাকায় অবস্থান করছেন, তাঁদেরও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
দুর্গত ব্যক্তিরা এখন ত্রাণ চায় না, কাজ চায়। নিজের বাড়িতে ফিরতে চায়। তারা আসন্ন কালবৈশাখী মৌসুমকে সামনে দেখে আতঙ্কিত। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বারবার সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিজ বাড়িতে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না। রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে আশ্রয় নেওয়া এ মানুষগুলো ত্রাণ সহায়তায় বেঁচে থাকলেও তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অবশ্য দেশি-বিদেশি সংস্থার সহায়তায় কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত সহায়তা আসেনি। আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি। আইলার এক বছর পরে মানুষগুলো কেমন আছে তা দেখার জন্য ওই অঞ্চল সফর করার অনুরোধ করছি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও ওই অঞ্চল পরিদর্শনে যাওয়া উচিত। আমাদের সমগ্র দেশবাসীর অভিভাবক প্রধানমন্ত্রীকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও মানুষের দুর্ভোগ দেখতে ওই অঞ্চল সফর করা উচিত। আমরা দেখেছি, আইলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় একের পর এক এলাকা লোনাপানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি শিবসা নদীর জোয়ারের চাপে নতুন করে বাঁধ ভেঙে দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ও কামারখোলা ইউনিয়নের ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
দাকোপের সুতারখালী ইউনিয়নের মধ্যবিল গ্রামের দীপংকর গাইন জানান, এলাকায় দিনমজুরি করারও কোনো সুযোগ নেই। ফলে সরকারের দেওয়া প্রতি মাসে ২০ কেজি চাল ও অন্যান্য কিছু সহযোগিতা নিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে। সমপ্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন—এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাঁর এই নির্দেশের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যেহেতু আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পুনর্বাসনকাজ করতে হচ্ছে, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। সরেজমিনে সফর শেষে আমরা দাবি করছি:
১. ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সুপেয় পানি সরবরাহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ২. কৃষিজমিতে লোনাপানি ঢোকানো বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। ৩. বর্ষা শুরুর আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে। ৪. অবৈধ ও অপরিকল্পিত চিংড়ির চাষ বন্ধ করতে হবে। ৫. বাঁধ নির্মাণ ও তদারকির জন্য স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে। ৬. পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
লেখকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও পানি প্রকৌশলী।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের তথ্য গোপন

প্রকৃত তথ্য গোপন করে বাণিজ্যিক অবস্থা ভালো দেখানোর চর্চাটি নতুন নয়। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের চর্চা কখনো বা বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণ হয়েছে। বাংলাদেশেও এই অপচর্চার উপস্থিতি মাঝেমধ্যে লক্ষ করা যায়। বিষয়টি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। হালে দেশের বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংক খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে এই অগ্রহণযোগ্য কাজটি করেছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রিমিয়ার ব্যাংক তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র দেড় শতাংশকে খেলাপি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, এই হার ১৩ শতাংশের বেশি। এভাবে খেলাপি ঋণ কম দেখিয়ে ব্যাংকটি মুনাফাও বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে আমানতকারীদের সঙ্গে, অন্যদিকে ব্যাংকটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলো, এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি উদ্ঘাটন করার পরও বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; বরং ভুল সংশোধনে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে কার্যত প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুরুতর অনিয়মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলেই মনে করা যেতে পারে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের কাজ অনুচিত। তা ছাড়া এত বড় অনিয়ম ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া হয়েছে বলে ভাবার সুযোগ কম। আর তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে—বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকটির পর্ষদ চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা। বস্তুত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও কেলেঙ্কারিতে অতীতে একাধিকবার প্রিমিয়ার ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে; বিশেষ করে ২০০৫ সালে ব্যাংকটির শেয়ার ছাড়া নিয়ে বিরাট কেলেঙ্কারির কথা সর্বজনজ্ঞাত। এ জন্য তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও ব্যাংকটিতে অনিয়ম করার প্রবণতা থেমে নেই। খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করা এর সর্বশেষ প্রমাণ।
কিন্তু এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মমাফিক কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তা ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হয়। অনিয়মকারীরা উৎসাহিত হয়। এতে আমানতকারী ও শেয়ারধারীরা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বোঝেন না বা জানেন না, তা নয়। অতীতে সাউথইস্ট ব্যাংকে এই ধরনের, কিন্তু এর চেয়ে তুলনামূলক ছোট অনিয়মের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির পর্ষদে পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ যাত্রায় এসবের ব্যত্যয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

ইউরোপ থেকে পরমাণু অস্ত্র না সরানোর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপ থেকে আগেভাগে পরমাণু অস্ত্র প্রত্যাহার না করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তারা জানিয়েছে, রাশিয়া যদি তাদের অস্ত্র ন্যাটো দেশগুলো থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তাহলে ওয়াশিংটনও তখন বিষয়টি বিবেচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান উঠে এসেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের এক বক্তব্য থেকে। ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি এই বক্তব্য দেবেন। বক্তব্যের খসড়া প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল কিন্তু বর্তমানে স্বাধীন ২৮ সদস্যের পশ্চিমা নিরাপত্তা জোটের ন্যাটো দেশগুলোকে খুশি করতেই হিলারি এ বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে তথাকথিত কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র প্রতিরক্ষাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এই এ দেশগুলো। তবে হিলারির এ বক্তব্যে দেশগুলো হতাশও হতে পারে। কেননা এতে করে তাঁদের স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার কথা মনে পড়ে যেতে পারে।
হিলরি বলেছেন, ‘পরমাণু অস্ত্র যত দিন থাকছে, ন্যাটো তত দিন একটি পরমাণু জোট হিসেবেই থাকবে। আর পরমাণু জোট হিসেবে পরমাণু ঝুঁকি ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করা একটি মৌলিক বিষয়।’
ঝুঁকি ও দায়িত্ব ভাগাভাগির অর্থ হলো ইউরোপের পাঁচটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা পরমাণু অস্ত্রগুলো এখনো থাকবে।
নিজেদের দূরপাল্লার কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ৩০ শতাংশ কমাতে ওয়াশিংটন এবং মস্কো চলতি মাসে চুক্তি করার পর থেকে এখন সবার দৃষ্টি ন্যাটো ও রাশিয়ায় মোতায়েন কৌশলগত পরমাণু বোমাগুলোর দিকে।
জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্র সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গত নভেম্বরে। এ ছাড়া ইউরোপে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কের আয়োজন করেছিল জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গ।
রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বোমা সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তারাও তাদের অস্ত্র ধ্বংস করবে না।
অন্যদিকে রাশিয়া ছাড় না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রও যে তাদের অস্ত্র কমাবে না সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন হিলারি।
হিলারি বলেন, ‘ভবিষ্যতে অস্ত্র কমানোর বিষয়ে আসলে আমরা চাইব, ইউরোপে অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে রাশিয়াকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, ন্যাটো দেশগুলো থেকে ওই সব অস্ত্র দূরে সরিয়ে নিতে হবে এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আলোচনায় অ-কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হতে হবে।

লেনিনের ব্যবহূত সামগ্রীর প্রদর্শনী

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত সোমবার উদ্বোধন করা হয়েছে ভ্লাদিমির লেনিনের মোজা ও অন্যান্য ব্যবহূত সামগ্রীর প্রদর্শনী। সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রে প্রায় দুই দশক পর এই প্রথম এ ধরনের আয়োজন করা হলো।
সোভিয়েত শাসনামলে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা লেনিনের ব্যবহূত বস্ত্রসহ নানা জিনিস রাখা হতো অন্তত ১২টি জাদুঘরে। এর মধ্যে ১১টি জাদুঘরই ছিল তৎকালীন লেনিনগ্রাদে। বিল্পবের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত এই লেনিনগ্রাদের নাম পরে পাল্টে রাখা হয় পিটার্সবার্গ।
লেনিন কখনো ইউক্রেন যাননি। এর পরও তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে ইউক্রেনের রাজধানীর প্রধান স্কয়ারে গড়া হয় লেনিনের ভাস্কর্য। রাজধানী কিয়েভে ১৯৩৮ সালে নির্মাণ করা হয় লেনিন জাদুঘর। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় লেনিনের ভাস্কর্য। আর কিয়েভের লেনিন জাদুঘর রূপান্তরিত হয় একটি শিল্পচর্চা কেন্দ্রে। এর নাম পাল্টে করা হয় ইউক্রেনিয়ান হাউস। লেনিনের জিনিসপত্রের মালিকানাও পায় এই হাউস। হাউসটির পরিচালক নাতালিয়া জাবোলোতনা জানান, বছরের পর বছর ধরে লেনিনের ব্যবহূত জামা-কাপড়সহ বেশ কিছু সামগ্রীর প্রদর্শনীর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হরতালে অচল কাশ্মীর

নয়াদিল্লিতে বোমা হামলায় জড়িত তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে কাশ্মীরে গতকাল শুক্রবার পূর্ণ দিবস হরতাল পালন করেছে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। কট্টর ও উদারপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একজোট হয়ে রাজধানী শ্রীনগরে এ হরতালের ডাক দেয়। হরতালে অচল হয়ে পড়ে শ্রীনগরের জনজীবন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে দিল্লির একটি মার্কেটে বোমা হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় আদালত ছয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুজন কাশ্মীরের ও একজন নয়াদিল্লির বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এর জের ধরেই ধর্মঘটের ডাক দেয়

এবার আইসল্যান্ডের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে গেছে

আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ছাইয়ের মেঘের কারণে ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। কিন্তু আগ্নেয়গিরির মূল কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলেমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়েও সচল ছিল আইসল্যান্ডের প্রধান বিমানবন্দরটি। তবে বাতাসের দিক ঘুরে যাওয়ায় গতকাল শুক্রবার থেকে ওই বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়েছে।
বাতাসের দিক পরিবর্তিত হওয়ায় এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ও ধুলা এখন আইল্যান্ডের রাজধানী রিকইয়াভিকের দিকে আসছে। ফলে রিকইয়াভিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসাভিয়া বিমানবন্দরের মুখপাত্র হরডিস গুডমুন্ডসডোট্টির বলেন, ‘বাতাসের দিক ঘুরে যাওয়ায় আগ্নেয়গিরির ছাই রিকইয়াভিক ও কেফলাভিকের আকাশে চলে আসছে।’ বিমানবন্দর গ্রিনিচ মান সময় ১২টা পর্যন্ত বা তার পরও বন্ধ থাকতে পারে বলে তিনি জানান

মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে নতুন বই

ভারতের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর জীবনী নিয়ে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ জ্যাড অ্যাডামসের লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। গান্ধী: ন্যাকেড অ্যামবিশন শীর্ষক এই বইয়ে গান্ধীর জীবনের কিছু অন্তরঙ্গ বিষয় স্থান পেয়েছে। বইটি শিগগিরই ভারতে পাওয়া যাবে।
গান্ধীর এই একান্ত বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে ইতিহাসবিদ অ্যাডামস উল্লেখ করেন, কৌমার্য রক্ষার ক্ষেত্রে যে গান্ধী কট্টর ছিলেন, তাঁর সেই প্রতিজ্ঞা তাঁকে নগ্ন নারীর সঙ্গে ঘুমানোর স্পৃহা থেকে ফেরাতে পারেনি। যৌন বিষয়ে তাঁর কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতাও ছিল।
অ্যাডামস বলেন, যৌনতার প্রতি গান্ধীর ব্যতিক্রমী নেতিবাচক মনোভাবের কথা সবারই জানা। তবে তিনি বিবাহিত ও চার সন্তানের জনক ছিলেন। গান্ধী তাঁর আশ্রমে আসা দম্পতিদের যৌন বিষয়ে নিরুৎসাহ করতেন এবং ভোগস্পৃহা অনুভব করলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করার পরামর্শ দিতেন।

রাজনৈতিক সংকটে বেলজিয়াম

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ইয়েভেস লেতেরমে রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টের কাছে গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ একটি দল জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী লেতেরমে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী লেতেরমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না—এ সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি রাজা। রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট ইউরোপে বেলজিয়ামের ভূমিকাকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী লেতেরমের পাঁচদলীয় জোট সরকারের শরিক ওপেন ভিএলডি দল সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। নির্বাচনী আইন নিয়ে ডাচ্ভাষী ও ফরাসিভাষীদের দীর্ঘদিনের বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ওপেন ভিএলডি দল। হারম্যান ভ্যান রোম্পাইয়ের কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাস পরই পদত্যাগ করলেন লেতেরমে। এদিকে, রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্রের বিষয়ে রাজা তাঁর সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।
সংকটের মূলে: ব্রাসেলস-হাল্লে-ভিলভোরডে (বিএইচভি) এলাকায় ফরাসিভাষী ও ফ্লেমিশভাষীদের মধ্যকার বিরোধকেই বেলজিয়ামের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ফরাসিভাষীদের অভিযোগ, এলাকায় কোন ভাষায় কথা বলা যাবে—এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেবল স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ফ্লেমিশভাষীরা কোনোভাবেই ফরাসি ভাষা গ্রহণ করতে চাইছে না।
ব্রাসেলস ও এর আশপাশের ১৯টি জেলা নিয়ে বিএইচভি অঞ্চল গঠিত। এলাকায় দুই ভাষার মানুষের বসবাস। বিএইচভি অঞ্চলের আশপাশের বাসিন্দারা প্রধানত ফ্লেমিশভাষী। তারা ফরাসি ভাষার বিস্তার রোধ করতে চায়।
ফ্লেমিশভাষীদের বিরুদ্ধে ফরাসিভাষীদের অভিযোগ বিস্তর। একজন মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেও দায়িত্ব নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওভারিজসে সিটি কাউন্সিলর জ্যাইন ডি ব্রোয়ের বলেন, তিনি ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ভাষাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফ্লেমিশ সরকার তাঁর বিজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ফরাসিভাষীরা বৈষম্যেরও অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ফ্লেমিশরা তাদের বিশেষ ভোটাধিকার তুলে দিতে চাইছে। ওভারিজসের একজন বার মালিকের অভিযোগ, যিনি এ এলাকায় কাজ করেন, তিনি ফরাসি ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তিনি ফরাসি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে পারবেন।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলতি মাসের শেষের দিকে: জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞায় চীন স্বাক্ষর করবে। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে এ মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘের নতুন এ নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, যা আগামী মে মাস থেকে কার্যকর হবে। এবিসি টেলিভিশনে ‘দি ভিউ’ টক শোতে জো বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাবে না।
বাইডেন বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁরা সবাই সম্মত যে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথেই আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই প্রথমবারের মতো সারা বিশ্ব ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। কাজেই ইরান এখন বিচ্ছিন্ন। এর আগে ইরান কখনো এমন বিচ্ছিন্ন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এত দিন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ওয়াশিংটন কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চীনকে রাজি করাতে চেষ্টা করে আসছে। চীন এ নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হলেও তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট করেনি। কিন্তু এবিসি টেলিভিশনকে বাইডেন বলেন, চীন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে রাজি হবে।
এদিকে জো বাইডেন প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আমরা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখছি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রশাসন ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার ইচ্ছা থেকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হবে

বিমান চালনা নিয়ে বিভ্রান্ত বিজ্ঞানীরা

আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে সৃষ্ট মেঘ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া কীভাবে রোধ করা যাবে এবং বিমান চলাচলের জন্য আকাশপথ কখন নিরাপদ হবে তা নির্ধারণ করা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতজনিত কারণে ইউরোপের আকাশজুড়ে ছাইমেঘ ছড়িয়ে পড়ায় কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ ছিল।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন শিল্পের (আইএটিএ) প্রধান গিওভানি বিসিগনানি এই ঘটনাকে ‘ইউরোপীয় বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আমরা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্তের দিকে নজর দিতে পারিনি।’
এদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং এয়ার ফ্রান্স বলেছে, তারা পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে এবং এর ফলে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।
আইসল্যান্ডের এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে সৃষ্ট মেঘ ইউরোপের আকাশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় ইউরোপীয় সরকারগুলো নিরাপত্তার অজুহাতে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সরকারগুলোর এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে এয়ারলাইনস বিশেষজ্ঞ ও আকাশ গবেষকদের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ তৈরি হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সোজা জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো সমঝোতা নয়।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এই মেঘ বিমানের টারবোফ্যান ইঞ্জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ১৯৮২ সালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি বিমান ইন্দোনেশিয়ার আকাশে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল বলে তাঁরা যুক্তি দেন। ওই বিমানটি অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। মেঘের কারণে ৩৭ হাজার ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় ওই বিমানটির ইঞ্জিন ধীর হয়ে গিয়েছিল। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে সৃষ্ট মেঘে এমন সব উপাদান রয়েছে, যা বিমানের ইঞ্জিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে বিসিগনানি ইউরোপীয় সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, ব্যাপকভাবে বিমান চলাচলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ সঠিক নয়।
অন্যদিকে ফ্রাংকফুর্ট গোয়েথি ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর অ্যাটমোসফেয়ারিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক জোয়াসিম কুর্টাস এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই করতে গিয়ে বলেছেন, এ ঘটনা এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষকে মেঘের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিমানকে রক্ষা করার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে উদ্যোগী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রয়েল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটির সাবেক প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্ট জন বলেন, ‘তুমি হয়তো ভাবতে পারো ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় মেঘ আছে। সুতরাং সেই উচ্চতায় বিমান না চালিয়ে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমান চালালে তা নিরাপদ হবে। কিন্তু এমন হতে পারে যে হঠাৎ বাতাস পড়ে গেল, আর তখন ওই মেঘ ২০ হাজার ফুট উচ্চতায়ও এসে যাবে।’
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা এই পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ বিষয়ে সর্বজন স্বীকৃত কোনো নিরাপদ পন্থা নেই।

ব্যাংক সংস্কারনীতির বিরোধীদের কঠোর সমালোচনায় ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর প্রস্তাবিত ব্যাংক সংস্কারনীতির বিরোধিতাকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিটখ্যাত নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত যেসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান তার সংস্কারনীতির বিরোধিতা করেছে, তাদের তিনি ‘ডাকাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ‘ডাকাতি’ আর চলতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সংস্কারনীতির বাস্তবায়ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে কুপার ইউনিয়ন কলেজে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মাঝে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওবামা প্রশাসনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া বিল গত ডিসেম্বরে নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। আগামী সপ্তাহে যুক্তিতর্কের জন্য বিলটি উচ্চকক্ষ বা সিনেটে পেশ করা হবে। সিনেটে ওবামা প্রশাসনের সদস্যসংখ্যা ৫৯ ও বিরোধী রিপাবলিকান দলের সদস্যসংখ্যা ৪১। সিনেটে বিলটির অনুমোদন পেতে অন্তত ৬০ সদস্যের ভোট দরকার হবে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক দলের সব ভোট পাওয়ার পরও এ বিল পাস করতে আরও অন্তত একটি ভোট দরকার হবে। রিপাবলিকান সদস্যরা দৃশ্যত বিলটির বিরোধিতা করলেও ওবামা প্রশাসন মনে করছে, তারা শেষ মুহূর্তে এর বিরোধিতা করবে না।
ওই সংস্কার বিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিরবচ্ছিন্ন তারল্য বজায় রাখতে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের একটি নিরাপত্তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে গ্রাহকদের অংশীদারিতে না রেখে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আবাসনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করতে না পারে সে জন্য একটি নীতিমালা দাঁড় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে আগের মতো সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারেও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে রিপাবলিকানরা এ সংস্কারনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ওবামা প্রস্তাবিত নিরাপত্তা তহবিল গঠনের জন্য সরকার করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করবে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে।
তবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, অর্থনৈতিক রক্ষাকবচ নিশ্চিত করা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। যারা সংস্কারনীতির বিরোধিতা করছেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবছেন। ওবামা বলেন, জনগণের স্বার্থেই ব্যাংকিং নীতির সংস্কার হওয়া দরকার।

গ্যাসের বিনিময়ে আর কোনো সামরিক ঘাঁটি নয়: পুতিন

বিশ্বের অন্য কোনো দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ার বিনিময়ে গ্যাস—এ রকম আর কোনো প্রস্তাব দেবে না রাশিয়া। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। যদিও তারা ইউক্রেনের সঙ্গে এ রকম একটি চুক্তি করেছে। এ চুক্তিতে রাশিয়া গ্যাসের দাম শতকরা ৩০ শতাংশ কম নেবে ইউক্রেনের কাছ থেকে এবং এর বিনিময়ে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরভিত্তিক ‘ব্লাক সি ফ্লিট’ ঘাঁটি সেখানে আরও ২৫ বছর থাকবে। খবর রয়টার্স।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ইয়ানোকোভিচ গত বুধবার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তি না হলে রাশিয়াকে ২০১৭ সালের মধ্যে ওই ঘাঁটি ছাড়তে হতো। এদিকে ইয়োনোকোভিচ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তির মাধ্যমে তাঁর দেশের এ বছর ৩০০ কোটি ডলার বেঁচে যাবে।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘জ্বালানি খাতে আমাদের অনেক অংশীদার আছে। বিশ্বব্যাপী আমাদের সামরিক ঘাঁটি তৈরির প্রয়োজন নেই। আমি অংশীদারদের বলতে চাই, আপনারা কেউ ইউক্রেনের মতো এ ধরনের অনুরোধ করবেন না। কারণ, ইউক্রেনের বিষয়টি আলাদা।’
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই শমাতকো গত বৃহস্পতিবার বলেন, ইউক্রেনের মতো এ ধরনের গ্যাস চুক্তি অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঘটবে না।

বোল্টের প্রিয় আর্জেন্টিনা

নিজ দেশ জ্যামাইকা কোয়ালিফাই করতে পারেনি, বিশ্বকাপ ফুটবলে উসাইন বোল্টের পছন্দ তাই আর্জেন্টিনা। আগামী বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির দেশকেই সমর্থন দেবেন জানিয়ে স্প্রিন্টের রাজা বলেছেন, ‘আমার দল আর্জেন্টিনা। তবে এই মুহূর্তে তাদের একজন ভালো সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার দরকার, যাতে মাঝমাঠে রাজত্ব করা যায়।’ ‘বি’ গ্রুপে গ্রিস, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আর্জেন্টিনাকে খুব বেশি বেগ দিতে পারবে বলে মনে করেন না বোল্ট, তবে বড় বাধা মানছেন স্পেন ও ব্রাজিলকে।

আইপিএলে দুটো ‘ফাইনাল’

একটা ফাইনাল হয়ে যাচ্ছে আজই। মাঠে। আরেকটা ‘ফাইনাল’ আগামীকাল। মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আর চেন্নাই সুপার কিংস। আজ মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে নির্ধারিত হবে আইপিএলের তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে কারা। ওদিকে আগামীকাল আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সভাই ঠিক করবে লোলিত মোদির ভাগ্য।
আঙুলে চোট পাওয়া শচীন টেন্ডুলকার আজকের ফাইনালে খেলবেন কি না—এ নিয়ে যতটা সংশয়, তার চেয়েও বেশি অনিশ্চয়তা আইপিএল প্রধান হিসেবে মোদির গদি টিকিয়ে রাখা নিয়ে। যে টুইটার ব্যবহার করে আইপিএলে বিতর্কের সূচনা করেছিলেন মোদি, সেখানেই কাল তিনি লিখেছেন, কারও চাপেই পদত্যাগ করবেন না, ‘অনেকেই চাইছে আমি যেন সরে দাঁড়াই। কিন্তু এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি পদত্যাগ করব না। ওদেরকেই আমাকে সরিয়ে দিতে হবে। শিগগিরই বেরিয়ে আসবে সব সত্য।’
‘ওদের’ বলতে মোদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বুঝিয়েছেন। কাল মুম্বাইয়ের সদর দপ্তরে দিনভর যাঁরা বৈঠক করেছেন দফায় দফায়। যে বৈঠকে কর্মকর্তাদের বড় অংশটাই মোদিকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। পরশু আইপিএলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যেও মোদি এক রকম ‘বিদায় সংবর্ধনা’র ভাষণ দিয়ে রেখেছেন। পরদিন, অর্থাৎ গতকাল টুইটারেও বিদায়ের সুর, ‘আপনাদের জন্য আমরা কী কী করেছি, সেটার নজির থাকল গত চারটি বছর। এই কৃতিত্ব কেউই কেড়ে নিতে পারবে না।’
আইপিএলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে বিসিসিআই সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের নামও শোনা যাচ্ছে। মনোহর যেন মোদির ঠিক উল্টো চরিত্র। মিডিয়ায় সরব উপস্থিতি নেই। সরল জীবনযাপন। মোদির ইঙ্গিত অনুযায়ী ‘সব সত্য’ বেরিয়ে আসার পর আইপিএলে যদি ভয়াবহ ধরনের অনিয়ম ধরাও পড়ে, টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি রক্ষায় মনোহরই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হবেন বলে অনেকেরই বিশ্বাস।
মাঠের বাইরের এসব ঘটনাই এতটা মনোযোগ পাচ্ছে, আজকের ফাইনালটিই যেন চলে গেছে খানিকটা আড়ালে। চেন্নাই প্রথম আসরের ফাইনাল খেলেছে। গতবার সেমিফাইনালেও উঠেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ফলে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে তারাই। কিন্তু মুম্বাই এবার খেলছে দুর্দান্ত। যদিও এই আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক টেন্ডুলকারকে না পেলে দ্বিমুখী আঘাত পেতে হবে মুম্বাইকে। এদিকে কাল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ডেকান চার্জার্সকে ৯ উইকেটে হারিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ডেকান ১৮.৩ ওভারে তুলেছে ৮২ রান। ১ উইকেট হারিয়ে ১৩.৫ ওভারে জয়ে পৌঁছে যায় বেঙ্গালুরু।

প্রিমিয়ার ডিভিশন ভলিবল

পল্টন ভলিবল স্টেডিয়ামে কাল শুরু হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক প্রিমিয়ার ডিভিশন ভলিবল। প্রথম দিনে জিতেছে বাংলাদেশ পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রথম ম্যাচে পুলিশ ৩-০ সেটে বিডিআরকে এবং পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডও ৩-০ সেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে হারিয়েছে। এবারের লিগে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস, ওয়ারী, ইস্ট এন্ড ক্লাব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ইস্ট এন্ড বয়েজ, ভাই ভাই সংঘ ও বাংলাদেশ রাইফেলস।

শুরুতেই হারলেন রানী

নারায়ণগঞ্জে কাল শুরু হয়েছে জাতীয় মহিলা দাবা। প্রথম রাউন্ডে হেরে গেছেন রানী হামিদ। গতবারের রানারআপ শামীমা আক্তার (লিজা) তাঁর বিপক্ষে সাদা ঘুঁটি নিয়ে জিতেছেন ৪৭ চালে। জাতীয় মহিলা দাবায় ১৮তম শিরোপা সন্ধানে নামা রানী গতবার চ্যাম্পিয়ন হলেই গিনেস বুকে নাম তুলতে পারতেন। এবারও তাঁর সামনে সেই সুযোগ আছে। তবে প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়ায় লক্ষ্যপূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য।
উদ্বোধনী দিনে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শারমিন সুলতানা হারিয়েছেন রোকসানাকে। নাজরানা খান জিতেছেন জাহানারা হকের বিপক্ষে।

ফাইনালে আনসার

মেয়েদের ক্লাব কাপ ক্রিকেটে ফাইনালে উঠল আনসার। কাল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে তারা ৪৮ রানে হারিয়েছে বিকেএসপিকে। প্রথমে ব্যাট করে ২২৯ রান তোলে আনসার। সর্বোচ্চ ৬৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন চামেলি। জবাবে ১৮১ রানেই অলআউট বিকেএসপি। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ এপ্রিলের ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে আজকের আবাহনী-মোহামেডান সেমিফাইনালের জয়ী দল।

আরেক পা সামনে আবাহনী

স্টেডিয়াম এলাকায় একটা কথা চালু আছে—বড় আবাহনীর পয়েন্ট কাড়বে না ছোট আবাহনী। কথাটা ভুল কি সঠিক বোঝার মানদণ্ড নেই। তবে ছোট আবাহনী পেরে উঠছে না বড় আবাহনীর সঙ্গে। পেশাদার লিগে এ নিয়ে ছয় ম্যাচ খেলল দু দল। সব ম্যাচেই জয় ঢাকা আবাহনীর। ২-০, ২-১, ৩-০, ১-০, ১-০—এরপর ৬-২।
দু দলের শক্তির ব্যবধান এতই যে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ইচ্ছেমতো হারাতে পারে ঢাকা আবাহনী। ৬-২ কেন, কাল হওয়া উচিত ছিল ১০-২ বা তারও বেশি।
তবে অন্য ছোট দলগুলো কখনো কখনো অঘটন ঘটিয়ে ঢাকা আবাহনীকে বিপদে ফেললেও আজও তা পারল না চট্টগ্রাম আবাহনী। ঢাকা আবাহনীর সামনে তারা যেন হার মেনে মাঠে নামে। কাল তো শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ঢাকা আবাহনী সহজেই জিতবে। কোনো প্রতিরোধই যেন ছিল না তাদের।
প্রথম কয়েক মিনিটেই ঢাকা আবাহনী গোটা চারেক গোল আদায় করে নিতে পারত। চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণ ভাঙতে এতটুকু পরিশ্রম করতে হয়নি ইব্রাহিম, শেরিফ, এনামুলদের। প্রথমার্ধেই হয়ে যায় ৪-০। এই অর্ধের শেষ দিকে চট্টগ্রাম আবাহনীকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি মাঠে।
আতিকুরের ক্রসে এনামুলের হেডে প্রথম গোল এল ১৭ মিনিটে। ৩২ মিনিটে মেহেদি হাসানের (উজ্জ্বল) ক্রসে মতিউর মুন্নার হেডে ২-০। ৩৯ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন শেরিফ দ্বীন মোহাম্মদ। বাদ যাবেন কেন ইব্রাহিম। বিরতিতে যাওয়ার আগে দলের চতুর্থ গোলটা করে যান এই ঘানাইয়ান।
বিরতির পর গোল করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী ছিল না ঢাকা আবাহনী। শেষ দিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর এমন দুরবস্থা হয় যে ৮৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল করে ফেলেন এনামুল। দুই মিনিট পরই বদলি মিডফিল্ডার সোহাগ করলেন ষষ্ঠ গোল।
শুধু ঢাকা আবাহনীর গোল দেখতে বোধহয় ভালো লাগছিল মাঠে আসা হাজার খানেক দর্শকের। তারা গোল পেতে উদ্বুদ্ধ করে গেল চট্টগ্রাম আবাহনীকে। তাতে উজ্জীবিত হয়ে শাখাওয়াত হোসেন (রনি) ৭০ ও ৮৬ মিনিটে ব্যবধান কমান। প্রথমে ১-৪, পরে ২-৫।
আবাহনীর এই জয় দেখতে ভালো লাগেনি মোহামেডান সমর্থকদের। তারা মাঠে আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর পয়েন্ট হারানো দেখতে। যাতে তাদের দল শিরোপা লড়াইয়ে আবাহনীর কাছে চলে আসতে পারে। তা হয়নি বলে মনঃক্ষুণ্ন ছিল তারা। মোহামেডান সমর্থকেরা আবাহনীর জয়টাকে ‘সমঝোতার জয়’ বলে চেঁচিয়ে গেল শেষ দিকে।
আবাহনীর তাতে কী আসে যায়! এক ম্যাচ বেশি খেলে মোহামেডানের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে আকাশি-নীলেরা (১৮ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট)। আবাহনী এখন একেকটা ম্যাচ জিতছে আর শিরোপার কাছে চলে যাচ্ছে!

বেতনের দাবিতে আবার বিদ্রোহ মোহামেডানে

বেতনের দাবিতে কয়েক দিন আগেই বিদ্রোহ করেছিলেন মোহামেডানের বিদেশি ফুটবলাররা। দুই ম্যাচ তাঁরা মাঠে নামেননি। দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের মান ভাঙানো হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতে সাদাকালো শিবিরে আবার বেতন নিয়ে বিদ্রোহ। এবার তা করলেন স্থানীয় খেলোয়াড়েরা।
একটি সূত্র জানিয়েছে, দলবদলের সময় খেলোয়াড়দের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা প্রতি মাসে দেওয়ার কথা ক্লাবের। কিন্তু তা সময়মতো না দেওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের কারও তিন মাস, কারও চার মাসের বেতন বাকি পড়েছে। গতকাল খেলোয়াড়দের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা পাননি খেলোয়াড়েরা। এরই জেরে তাঁরা অনুশীলন করেননি। কোচ মারুফুল হক বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসেন আবাহনীর ম্যাচ দেখতে।
পেশাদার লিগের শেষ দিকে এসে মহাবিপদেই পড়েছে মোহামেডান টিম ম্যানেজমেন্ট। টাকা জোগাড় করতে না পারলে সহসাই এই বিপদ কাটবে না। ক্লাবের নির্বাহী কমিটি না থাকায় নানাভাবে সমস্যায় পড়েছে ক্লাব। ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ‘বায়রা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছি। ক্লাবের গত সাত দিনের কোনো খবর আমার কাছে নেই। লোকমান ভাই, বা মোস্তাক ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলুন।’ মোস্তাকুর রহমানের কথা, ‘ঢাকার বাইরে থাকায় কিছু বলতে পারব না।’ লোকমান হোসেন ভুইয়াকে অনেকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
আজ রহমতগঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নামছেন মোহামেডান খেলোয়াড়েরা? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় বলেছেন, ‘এখন বলতে পারব না। দেখা যাক।’

বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারের পদত্যাগ

পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম।
বোর্ড সূত্রের খবর, বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে গত পরশু তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাল পদত্যাগের কথা স্বীকার করে রাবিদ ইমাম বলেছেন, ‘আমি বোর্ডের সিইওর কাছে কাল (পরশু) আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। ব্যক্তিগত কারণেই আমার পক্ষে আর এ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’ তবে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, পদত্যাগপত্রটি কাল পর্যন্ত তাঁর হাতে পৌঁছায়নি, ‘আমি কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। মিডিয়া ম্যানেজার যদি চিঠি দিয়ে থাকেন সেটা হয়তো কাল (আজ) অফিস খুললে আমার হাতে আসবে।’

তোরেসকে নিয়ে দুই ক্লাবে লেগে গেছে এখনই

চোট ফার্নান্দো তোরেসকে ছিটকে ফেলেছে মাঠের বাইরে। তবে মাঠে না থেকেও আলোচনায় ঠিকই আছেন স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার। তাঁকে নিয়ে কথার লড়াইয়ে নেমে পড়েছে লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি। আসন্ন দলবদলের বাজারে তোরেসকে পেতে ছোটা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ম্যান সিটি কোচ রবার্তো মানচিনি। আর এই কথা শুনে খুব চটে গেছেন লিভারপুল কোচ রাফায়েল বেনিতেজ। তোরেসের দিকে হাত বাড়াবেন না—মানচিনিকে উদ্দেশ করে বলে দিয়েছেন লিভারপুল কোচ।
ম্যান সিটি তোরেসের পেছনে ছোটার কথাটা প্রকাশ করেছে পরশু লিভারপুল মাদ্রিদে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে। ম্যাচের আগে বেনিতেজ কিছু বলেননি। ম্যাচটি শেষ হতেই ভেতরের রাগটা উগরে দিয়েছেন তিনি। লিভারপুলের সঙ্গে তোরেসের চার বছরের বর্তমান চুক্তিটার এক বছরও শেষ হয়নি এখনো। এর মধ্যেই তাঁকে নিয়ে এমন টানাটানি লিভারপুলের পছন্দ হওয়ার কথাও নয়। বেনিতেজ সরাসরিই বলে দিয়েছেন—তোরেস বিক্রির জন্য নয়।
তবে তাঁর এ ঘোষণাটা কত দিন টিকে থাকে, সেটাই এখন দেখার। কারণ তোরেসকে পেতে টাকার বস্তা নিয়েই নামছে ম্যান সিটি। ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড হেঁকেই তোরেসকে পাওয়ার দৌড়ে নামতে চায় তারা। তবে তাঁকে পাওয়ার নিয়ামক যে কেবল টাকাই হবে না, মানচিনি সেটাও জানেন ভালো করে, ‘আমরা শীর্ষ ক্লাবের একটি এবং অন্য সব শীর্ষ ক্লাবের মতো আমরাও তোরেসকে চাই। তবে এটা খেলোয়াড়ের ওপরই নির্ভর করে। কারণ খেলোয়াড়েরা সাধারণত চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে চায় এবং আমরা যদি চার নম্বরে থেকে লিগ শেষ করতে না পারি তাহলে তাকে চুক্তিবদ্ধ করাটা কঠিনই হয়ে যাবে।’
এবার ম্যান সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার ইচ্ছাপূরণ না হলেও পরের মৌসুমে হবেই বলে আশাবাদী মানচিনি। এ কারণেই তোরেসকে আরও বেশি করে চান তিনি।

তথ্য পাওয়া কত কঠিন by মশিউল আলম

তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবশেষে একটা খবর পাওয়া গেল। অবশ্য বাস্তবায়ন নয়, এটা অবাস্তবায়নের খবর। গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরটি ছিল এ রকম: বান্দরবানের কয়েকজন সাংবাদিক গত বছরের নভেম্বরে সেখানকার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনপত্র দিয়ে এই তথ্য চেয়েছিলেন: বান্দরবান জেলায় এ যাবৎ কী পরিমাণ জমি বিভিন্ন কোম্পানি, বহিরাগত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ইজারা, বন্দোবস্ত ও ক্রয়-বিক্রয়সূত্রে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারপর পাঁচ মাস চলে গেছে, কিন্তু ওই সাংবাদিকদের কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। প্রথম আলোর বান্দরবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমাও ১১ নভেম্বর একই ধরনের তথ্যের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনিও কোনো তথ্য পাননি। গত মাসের ১১ তারিখে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন ওই তথ্যগুলো তাঁকে কবে সরবরাহ করা হবে। তিনি এখনো কোনো উত্তর পাননি।
কিন্তু এ রকম হওয়ার কথা নয়। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এ এমন কোনো সুযোগ একেবারেই নেই। আইনটির ৯ ধারা বলছে, (১) বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তথ্যের জন্য আবেদন করলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনপত্র পাওয়ার তারিখ থেকে অনধিক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করবেন। (২) অনুরোধকৃত তথ্যের সঙ্গে একাধিক তথ্য প্রদান ইউনিট বা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকলে অনধিক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আর (৩) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো কারণে তথ্য প্রদানে অপারগ হলে অপারগতার কারণ উল্লেখ করে আবেদন পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তা অনুরোধকারীকে অবহিত করবেন। যদি (৫) উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যর্থ হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ, এটা খুব পরিষ্কার, বান্দরবানের সাংবাদিকদের উল্লিখিত তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ আইন অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী? তথ্য অধিকার আইনের ২৪ ধারায় বলা হচ্ছে, কোনো আবেদনকারী ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য না পেলে বা (তথ্য প্রদানের) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনকারী ব্যক্তি আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল কর্তৃপক্ষ হলো, যে কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল পাওয়ার পরের ১৫ দিনের মধ্যে আপিল আবেদনকারীকে অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবেন; অথবা তাঁর বিবেচনায় আপিল গ্রহণযোগ্য না হলে আবেদনটি খারিজ করে দেবেন। তার পরও তথ্য না পেলে বা আপিল খারিজ হলে আবেদনকারীর সামনে আসবে পরবর্তী ধাপ। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি অভিযোগ করতে পারবেন তথ্য কমিশনের কাছে। তথ্য কমিশন বিষয়টি অনুসন্ধান করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে এবং সে সিদ্ধান্ত সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে জানাবে।
তথ্য কমিশন কী ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে? অনুরোধকৃত তথ্য সুনির্দিষ্ট পন্থায় অনুরোধকারীকে সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারে, অথবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই বহাল রাখতে পারে। আর অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় বা অন্য কোনোভাবে তথ্য কমিশনের যদি এ রকম মনে হয় যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ বা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, অসদুদ্দেশ্যে তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ বা আপিল প্রত্যাখ্যান করেছেন, ভুল বা অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত তথ্য দিয়েছেন, তথ্যপ্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, তাহলে তথ্য কমিশন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দৈনিক ৫০ টাকা হারে জরিমানা আরোপ করতে পারবে।
বলাবাহুল্য, বান্দরবানের সাংবাদিকদের তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়াটি এত দূর পর্যন্ত এগোয়নি; প্রথম ধাপেই শেষ হয়ে গেছে। এখানে প্রক্রিয়াগত কিছু সমস্যা ফুটে উঠেছে। সাংবাদিকেরা তথ্যের জন্য আবেদন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের কাছে। জেলা প্রশাসক কোনো তথ্য প্রদান ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ার কথা নয়। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইন অনুযায়ী প্রথম আবেদনটি করার কথা তাঁরই কাছে। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করতে হতো। এবং এ জন্য পাঁচ মাস অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, আবেদন করার ৩০ দিন পরই সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করতে পারতেন। কিন্তু আপিল করা হয়নি। আর আপিল করাই যখন হয়নি, তখন তথ্য কমিশন পর্যন্ত যাওয়ার কোনো প্রশ্নই দেখা দেয়নি।
তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মধ্যেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কী অবস্থা হতে পারে। শুধু সাংবাদিক কেন, জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও যে তথ্য প্রদানের প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন, তার আভাসও এ ঘটনায় পাওয়া কষ্টকর নয়। প্রথম আলোর মঙ্গলবারের প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিকদের তথ্যের আবেদন পাওয়ার দুই মাস পর বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য ও অভিযোগ শাখা এবং বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠান। এই কাজ তাঁদের করা উচিত ছিল আবেদনপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এবং যেহেতু একাধিক দপ্তরের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাই অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য তাঁদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় পাওয়ার কথা—এটা আইনেই স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে। যা হোক, দুই মাস পরে চিঠি দিয়েও তথ্যগুলো তাঁরা সংগ্রহ করতে পারেননি। তারপর আরও দুই মাস পার হয়ে গেল। তারপর জেলা প্রশাসক সাহেব ৩১ মার্চ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি লিখে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা চাইলেন, কেননা, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটির বিধিমালা তখনো হয়নি (কিন্তু ২৯ মার্চেই খোদ তথ্যসচিবের মুখে জেনেছি, বিধিমালা অনুমোদিত হয়ে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে)। দিকনির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারকে এমন কথা জানিয়েছেন যে ভূমিবিষয়ক ও অন্যান্য এমন কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান তথ্যভান্ডার থেকে খুঁজে পেতে ন্যূনতম তিন মাস বা তারও অধিক সময়ের প্রয়োজন। এমনকি এ জন্য বাড়তি লোকবলও নিয়োগ করতে হবে।
এটা সাংঘাতিক কথা। তথ্য অধিকার আইনের সুফল পাওয়া কত যে দুষ্কর ব্যাপার হতে পারে, তা এ রকম ঘটনার মধ্য দিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি করে স্পষ্ট হবে। তথ্য অধিকার আইন থাকলেই তথ্য পাওয়া যাবে না, দেওয়ার কাজটিও সহজ হবে না, যদি তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত না থাকে। অবশ্য বান্দরবান পার্বত্য জেলার সরকারি ভূমিসংক্রান্ত তথ্যাবলিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পর্শকাতর ভেবে তথ্য সরবরাহে গড়িমসি করছে কি না, তা বলা কঠিন। তবে সাধারণভাবে সারা দেশের সকল কর্তৃপক্ষের কাছেই তথ্য ব্যবস্থাপনায় খুব যে শৃঙ্খলা আছে, তা আশা করা যায় না।
এ ক্ষেত্রে তথ্য কমিশনের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য কমিশন কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় যদি দেখতে পায় কোনো কর্তৃপক্ষ অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে, তাহলে তথ্য কমিশন সেই কর্তৃপক্ষকে নতুনভাবে তথ্যের প্রকৃতি নির্ধারণ, শ্রেণীবিন্যাসকরণ, সংরক্ষণ, প্রকাশ ও সরবরাহ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিতে পারবে। বান্দরবানের এ ঘটনাটি তথ্য কমিশনের গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া উচিত। সাংবাদিকেরা তথ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ করেননি, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। তথ্য অধিকার আইনের ১৩ ধারায় বলা আছে, তথ্য কমিশন স্ব-প্রণোদিত হয়েও অনুসন্ধান চালাতে পারবে।
বান্দরবানের সাংবাদিকদের তথ্য চাওয়ার ঘটনাটি আদ্যোপান্ত অনুসন্ধানের ফলে তথ্য কমিশনের কাছে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের অনেক সমস্যার চিত্র পরিষ্কার হতে পারে এবং তার আলোকে কমিশন নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। সরকারি-বেসরকারি সমস্ত কর্তৃপক্ষ, যারা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পড়ে, তাদের নিজ নিজ তথ্য সংরক্ষণ-ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল না হলে নাগরিকদের চাহিদা ও অনুরোধ মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না, তার একটি প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত বান্দরবানের এই ঘটনা।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

আত্মহৎযা জঘন্য পাপকাজ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে দুনিয়ায় মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই জীবন দেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান। মানুষ যেমন নিজের ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করতে পারে না, তেমনি স্বেচ্ছায় জীবনাবসানও ঘটাতে পারে না। মানুষ নিজকে নিজের প্রাণের মালিক এবং নিজকে ধ্বংস করার এখতিয়ার আছে বলে মনে করতে পারে না। কেননা মানুষের জীবন-প্রাণ তো আল্লাহর দান, সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত আমানত। একে ধ্বংস করা বা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করার অধিকার কারও নেই। জীবনের পরিব্যাপ্তি ইহজগতেই শেষ নয়, সত্যিকার চিরস্থায়ী জীবন অপেক্ষা করছে পরকালে। কিন্তু আত্মহৎযার ক্ষেত্রে বান্দা ধর্ম-কর্ম ভুলে স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে এবং নিজের হাত দিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে। এ জন্য ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি শরিয়ত-গর্হিত জঘন্য কাজ। আত্মহৎযা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেওয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সব কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো। এটা আল্লাহ তাআলা মোটেই পছন্দ করেন না।
ইসলাম মানব জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করেছে। ইসলামে আত্মহৎযা ঘৃণ্য ও জঘন্য মহাপাপ কাজ হওয়া সত্ত্বেও এমন অনেক লোক আছে, যারা নিজেদের সংবরণ করতে পারে না। আত্মহৎযার উপায়-উপকরণ জোগাড় করে বা ডায়েরি লিখে রাখে ও নেতিবাচক কথাবার্তার মাধ্যমে জীবন শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত রেখে যায়। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ জীবনযাপনের দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে পরিত্রাণের জন্য অথবা জেদের বশবর্তী হয়ে কেউ কেউ বেছে নেয় আত্মহননের পথ। অথচ ধৈর্যধারণ করলে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা থাকলে কারও আত্মহৎযার মতো ক্লেশকর পথে পা বাড়াতে হয় না। এ ঘৃণ্যকাজ থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে এর পরিণামের কথা ভাবার জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহৎযা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করা; আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)
অথচ আজকাল প্রায়ই আত্মহৎযার ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ প্রবণতা অনেক বেশি। বখাটে লোকের উৎপাতের কারণে যেমন কেউ আত্মহৎযার পথ বেছে নিচ্ছে, আবার দেখা যাচ্ছে পিতা-মাতার সামান্য বকুনির কারণেও আত্মহৎযার মতো ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গেও জড়িত আছে আত্মহৎযার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনা। এসব আত্মহৎযার পেছনে কাজ করে প্রচণ্ড মানসিক চাপ। ফলে ভারসাম্য হারিয়ে তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের মধ্য দিয়ে তারা মুক্তি খোঁজে। আত্মহৎযার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহৎযা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহৎযা করে, সেও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে। আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহৎযা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দিয়ে সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইসলামি বিধানে আত্মহৎযা নাজায়েজ এবং এর প্রতিফল হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম। যে ব্যক্তি আত্মহৎযা করে, সে শুধু তার নিজের ওপরই জুলুম করে না বরং এতে পিতা-মাতা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-পরিজন সবাই খুব কষ্ট পান এবং অত্যন্ত বিচলিতবোধ করেন। যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি এক বিরাট অন্যায়। কারণ এর দ্বারা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া নিয়মের বরখেলাপ হয়ে যায়। তাই এ থেকে সদাসতর্ক থাকা প্রতিটি মুমিন মুসলমানের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। নবী করিম (সা.) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যেই জিনিস দ্বারা আত্মহৎযা করে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহৎযা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহৎযা করে, সে দোজখেও সেভাবে নিজেকে শাস্তি দিবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি)
মানুষের আত্মহৎযা করার বিবিধ কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া, প্রেম-বিরহ, ব্যবসা-বাণিজ্যে পুনঃ পুনঃ ব্যর্থ হওয়া, শত্রুর কাছে ধরা না দেওয়া প্রভৃতি। যখন কারও জ্ঞান-বুদ্ধি ও উপলব্ধি-অনুধাবনশক্তি লোপ পায়, নিজকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনই ধর্ম-কর্ম ভুলে মানুষ আত্মহৎযা করে বসে। জাগতিক ক্ষুদ্র দুঃখ-কষ্ট, লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে আত্মরক্ষা করার ইচ্ছায় মানুষ আত্মহননের মাধ্যমে চিরন্তন কষ্ট ও লাঞ্ছনার দিকে চলে যায়। আত্মহৎযা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের এক ব্যক্তি আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। সে একটি ছুরি দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। এ ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন: আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির মতো আত্মহৎযাও একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি। এটি সমাজে ব্যাপকভাবে দেখা না গেলেও মাঝেমধ্যে পত্রিকার পাতায় আত্মহৎযার সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকমের নারী-পুরুষ বেছে নেয় আত্মহননের ঘৃণ্য ও জঘন্য দুর্ভাগ্যজনক পথ। ইসলামে আত্মহৎযা মহাপাপ জেনেও যাদের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দুর্বল, তারাই ধ্বংসাত্মক ও মর্মান্তিক পথে পা বাড়ায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস নয়, সৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে হবে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীও এ থেকে মুক্ত নয়। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ছাড়াও আত্মহৎযা যেমন যুবক ও প্রৌঢ়দের মধ্যে দেখা যায়, তেমনি তা নারী-পুরুষের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। আত্মহৎযা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’(সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৯৫)
সৃষ্টিগতভাবে মানব-প্রকৃতি হত্যা ও আত্মহৎযাবিরোধী। তাই এ থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা সকল সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এতে নানা রকম পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের পাপকর্ম সংঘটিত হয়। একটু সচেতন হলে বিশেষ করে পিতা-মাতা, কাছের বন্ধু-বান্ধব বা শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ সতর্কতা আত্মহৎযা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ জীবনে আত্মহৎযার মতো মহাবিপর্যয়, অন্যায় ও অপরাধ থেকে সর্বস্তরের নর-নারী ও সন্তানসন্তুতির বেঁচে থাকার জন্য ইসলামের বিধিবিধান ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাই সর্বোত্তম পন্থা।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিশ্বকাপে যাওয়া হলো না শ্যুটারদের

ফেব্রুয়ারিতে কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে অংশ নেওয়ার পর মার্চে গেছেন ইন্দো-বাংলা গেমসে। এর পর থেকে অনুশীলনে নেই আসিফ হোসেন খান, শারমিন আক্তার (রত্না) ও সাদিয়া সুলতানারা। দিল্লি কমনওয়েলথ শ্যুটিং থেকে ফেরার পর ফেডারেশন থেকে বলা হয়েছিল, সেরা শ্যুটারদের বিশ্বকাপে পাঠানো হবে। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল চীনে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে যাওয়া হলো না শ্যুটারদের।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠানরত বিশ্বকাপ শ্যুটিংয়ের রাইফেল ও পিস্তল ইভেন্টের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হবে আগামীকাল। মূলত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া শ্যুটারদের রেটিং ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অলিম্পিকে যাওয়ার টিকিট মেলে। আপাতত সেই সুযোগ পেলেন না শ্যুটাররা। তবে সামনে আরও সুযোগ আছে যাওয়ার।
এসএ গেমসে সোনাজয়ী শারমিন আক্তার এই বিশ্বকাপে না যেতে পেরে খানিকটা হতাশ, ‘প্র্যাকটিস নেই। শুয়ে-বসেই দিন কাটাচ্ছি। অনেক দিন ক্যাম্পও নেই। বিশ্বকাপে পাঠানো হলে হয়তো ভালো একটা স্কোর করতাম।’ দুবার বিশ্বকাপ শ্যুটিংয়ে (২০০৩-এ জার্মানি ও ২০০৯-এ মিলান) অংশ নেওয়া আসিফের কথা, ‘বিশ্বকাপে গেলে ভালোই হতো।’
গত কিছুদিন শ্যুটিং ফেডারেশনের কমিটি ছিল না। বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া স্ট্যাটাসের পর বর্তমান কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ শ্যুটারদের চীনে না পাঠানোর কারণ হিসেবে এসব ঝামেলাকে দায়ী করলেন, ‘মামলা সব সময় শ্যুটিংকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই মামলা-মোকদ্দমার কারণেই ইচ্ছে থাকার পরও ওদের বিশ্বকাপে পাঠাতে পারিনি।’
তবে পরের যেকোনো বিশ্বকাপে শ্যুটারদের পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফেডারেশনের সম্পাদক।

বিদ্যুৎ সমাচার b y আতাউর রহমা

গল্প আছে: গ্রামের রাস্তায় দুই গ্রামবাসীর অকস্মাত্ সাক্ষাত্ ঘটেছে। একজন অপরজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাদের রোগীর অবস্থা কেমন?’ সংক্ষিপ্ত উত্তর এল, ‘ভালো।’ ‘কতটুকু ভালো?’ প্রথমোক্ত জন আবার প্রশ্ন করলেন। এবার জবাব এল, ‘রোগী পূর্বে পায়খানা করতেন ঘরের বাইরে, কলাগাছের তলায়। বর্তমানে ওটা করছেন ঘরের ভেতরে, বিছানায়।’
গল্পটা আমার মনে পড়ে গিয়েছিল সম্প্রতি যখন বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ ঢাকায় একনাগাড়ে এক ঘণ্টার পরিবর্তে দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং শুরু করে দিল, তখন আল্লাহকে অসংখ্য ধন্যবাদ, অতঃপর শুভ বুদ্ধির উদয় হলো এবং সাবেক রায় পুনর্বহাল করা হলো। তবে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম যদি হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, বেইলি রোড ইত্যাকার ভিভিআইপি এলাকায়ও এই লোডশেডিংটা বরাবর বলবত্ থাকত। কেননা, বহুকাল আগেই তো কবি লিখে গেছেন, ‘কী যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনী যারে?’
আর এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিংয়ের পরিবর্তে দুই ঘণ্টা পর পর লোডশেডিংয়ের পক্ষে যে যুক্তি দেখানো হয়েছিল—জনসাধারণ অতঃপর বলবে, দৈনিক আটবারের পরিবর্তে চারবার লোডশেডিং হচ্ছে—সেটা পত্রপত্রিকায় পড়ে আমার আরেকটি মজার গল্প মনে পড়ে গিয়েছিল: বড়লোক বাপ ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজের হোস্টেলে পাঠিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাকে আমি মাসে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পাঠাব।’ ছেলে সেটা শুনে বলল, ‘মাত্র পাঁচ হাজার? তাহলে তো আমাকে অপমান করা হয়।’ বাপ তখন রাগতস্বরে বললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে তোমাকে দুই মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পাঠাব, যাতে করে তুমি প্রতি মাসে অপমানিত না হয়ে দুই মাস অন্তর একবার অপমানিত হও (...so that you are insulted less often)।’
সে যা হোক। স্কটল্যান্ডের অধিবাসী লর্ড কেলভিন (১৮২৪—১৯০৭) ছিলেন প্রখ্যাত পদার্থবিদ ও একজন আবিষ্কারক; বৈদ্যুতিক প্রকৌশলের বহু যন্ত্র তিনি আবিষ্কার করেছেন। তো তাঁর সম্পর্কে একটি বহুল প্রচারিত গল্প আছে: তিনি একবার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈদ্যুতিক কারখানা দেখতে যান। কারখানাটির সিনিয়র ফোরম্যান খুব উৎসাহসহকারে তাঁদের কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন। ফোরম্যান লর্ড কেলভিনের প্রকৃত পরিচিতি জানতেন না বিধায় তাঁকে বিদ্যুতের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ মনে করে সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, আর লর্ড কেলভিনও অজ্ঞের ভান করে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গের বন্ধু কয়েকবার তাঁর পরিচিতি জানাতে উদ্যত হলেও তিনি চোখের ইশারায় তাঁকে নিরস্ত করলেন। পরিশেষে ফোরম্যান সবকিছু দেখানো ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সমাপ্ত করলে পর লর্ড ক্যালভিন তাঁর দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, বিদ্যুৎটা তাহলে কী?’ ফোরম্যান থতমত খেয়ে লজ্জানম্র-কণ্ঠে স্বীকারোক্তি করলেন যে তিনি তা বলতে পারবেন না। ‘ওয়েল, ওয়েল’, লর্ড কেলভিন ধীরকণ্ঠে বলনে, ‘বিদ্যুতের ব্যাপারে ওটাই একমাত্র জিনিস, যা আপনি বা আমি কেউই জানি না।’
আমরাও বিদ্যুৎ কী, তা জানি না। জানে বোধকরি সেই স্কুলের ছেলেটি, যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—বজ্রপাত ও বিদ্যুতের মধ্যে পার্থক্য কী? প্রত্যুত্তরে সে নাকি বলেছিল, ‘বজ্রপাতের জন্য কোনো বিল আসে না; কিন্তু বিদ্যুতের জন্য প্রতি মাসে একবার করে বিল আসে।’ আর জানে বোধকরি সেই ইলেকট্রিশিয়ানটিও, যাকে রাস্তায় পেয়ে বাড়ির মালিক বুড়ি যখন অভিযোগ করলেন, ‘তোমাকে গতকাল টেলিফোন করে বললাম আমার ঘরে বিদ্যুতের লাইন পুরো বিকল হয়ে আছে, এসে ঠিক করে দিতে, অথচ তুমি এলে না।’ তখন সে প্রত্যুত্তর করেছিল, ‘এসেছিলাম তো। কিন্তু অনেকক্ষণ কলবেল টিপলাম, কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়াতে ফিরে আসতে হলো।’
আর আমাদের বাংলা ভাষায় একটা প্রবচন আছে, কান ধরে টানলে মাথা আসে। এর উল্টোটাও সঠিক; অর্থাৎ মাথা ধরে টানলে কানও আসে। তাই বিদ্যুতের ব্যাপারে বলতে গেলে বৈদ্যুতিক বাল্বের ব্যাপারটাও প্রসঙ্গক্রমে এসে যায়। হিউমারের বইতে বিকল বৈদ্যুতিক বাল্ব পরিবর্তন করে নতুন বাল্ব লাগানোর ব্যাপারে অনেক মজার কথা পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ: (১) প্রশ্ন: একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বদলাতে কয়জন পোলিশের প্রয়োজন? উত্তর: পাঁচজন, যেহেতু পোল্যান্ডের অধিবাসীরা বোকা। একজন টেবিলে উঠে বাল্বটাকে সকেটের মুখে ধরে রাখবে, আর অপর চারজন টেবিলের চার কোণে ধরে টেবিলটাকে ঘোরাতে থাকবে। (২) প্রশ্ন: একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বদলাতে কয়জন আইরিশের প্রয়োজন? উত্তর: দুজন, একজন বাল্বটাকে ধরে রাখবে আর অপরজন হুইস্কি পান করা চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না কক্ষটি ভনভন করে ঘুরতে থাকে।
অনুরূপভাবে যদি প্রশ্ন করা হয়, একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বদলাতে কয়জন বাংলাদেশি সাংসদের প্রয়োজন? তাহলে উত্তর হবে: সাতজন; একজন ওটা বদলাবেন ও অপর ছয়জন একটা তথ্যানুসন্ধান কমিটি করবেন এবং বিদেশে কাজটা কীভাবে করা হয়, সেটা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য একটা বৈদেশিক সফরের প্রস্তাব করবেন। পরিশেষে দুটো প্রাসঙ্গিক বিদেশি গল্প পরিবেশন করে বিদায় নিই। এক. তিনজন শল্যচিকিৎসক নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। একজন বললেন, ‘আমি লাইব্রেরিয়ানদের বক্ষে অস্ত্রোপচার করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। কেননা, ওদের বক্ষ বিদীর্ণ করলে সবকিছু বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো পাওয়া যায়।’ দ্বিতীয়জন বললেন, ‘আমার মনে হয় হিসাবরক্ষকদের বক্ষে অস্ত্রোপচার করা সবচেয়ে সহজ; কারণ ভেতরের সবকিছুতেই নম্বর দেওয়া।’ শুনে তৃতীয়জন বললেন, ‘বক্ষে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে আমার সবচেয়ে পছন্দ ইলেকট্রিশিয়ান। কেননা, সবকিছু কালার কোডেড (Colour Coded)।’ বলা বাহুল্য, ইলেকট্রিক প্লাগের অভ্যন্তরে পজিটিভ, নেগেটিভ ও নিউট্রাল বোঝাতে হলুদ, নীল ও সাদা বর্ণের তার সংযোজিত থাকে।
দুই. পাশ্চাত্যের একটি হোটেলের দোতলায় পাশাপাশি দুটো কামরায় একই সময়ে অবস্থান করতে গিয়ে হানিমুন করতে আসা দুই নবদম্পতির মধ্যে বেশ খাতির জমে উঠল। একদিন রাতের ডিনার শেষে স্ত্রীদ্বয়কে নিজ নিজ কামরায় পাঠিয়ে দিয়ে স্বামীদ্বয় লবিতে খানিকক্ষণ গল্পগুজবের পর সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠার মুখে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। ওই সব দেশে বিদ্যুৎ খুবই কদাচিত্ যায় বিধায় হোটেলে জেনারেটরের ব্যবস্থা ছিল না। তাই অন্ধকারে কোনো রকমে হাতড়িয়ে যাঁর যাঁর কামরায় প্রবেশের পর একজন তাঁর নিত্যকার অভ্যেস অনুসারে বিছানায় যাওয়ার আগে মিনিট দশেক ফ্লোরে প্রার্থনারত অবস্থায় কাটালেন। অতঃপর কাপড় বদলিয়ে বিছানায় স্ত্রীর পাশে শুতে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ বিদ্যুৎ ফিরে এল।
আর তখনই ভুলটা ধরা পড়ল, অন্ধকারে বুঝতে না পেরে একে অন্যের কামরায় ঢুকে পড়েছেন। তিনি তত্ক্ষণাত্ সরি বলে দরজার উদ্দেশে পা বাড়াতেই বিছানায় শায়িত নারীটি বলে উঠলেন, ‘এখন আর তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই, ওই কামরায় যা ঘটার ঘটে গেছে। কেননা, আমার স্বামীর বিছানায় যাওয়ার আগে প্রার্থনা করার অভ্যেস নেই।’
লোডশেডিং তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাভজনকও বটে!
আতাউর রহমান: রম্য লেখক। ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক।

ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্টের

জেমস বন্ড সিরিজের শেষ দৃশ্যের রোমাঞ্চ নিয়ে হাজির ইউরোপিয়ান লিগগুলো। তিনটি প্রধান লিগ—স্পেনের লা লিগা, ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ আর ইতালির ‘সিরি আ’; তিন জায়গাতেই শিরোপার লড়াই জমে উঠেছে। যেন ভিলেনের ডেরায় হানা দিয়েছেন সিক্রেট এজেন্ট বন্ড। কিন্তু ভিলেনও কম কীসে! কে পেরে উঠবে বলা মুশকিল।
ইউরোপের লিগগুলোতেও একই উত্তেজনা। স্পেনে যেমন বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের দূরত্ব মাত্র এক পয়েন্টের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও চেলসি-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্যবধানটাও তা-ই। ইতালিতে রোমা-ইন্টার মিলানের ব্যবধানও এক পয়েন্টের!
এই এক পয়েন্টের ব্যবধান বলেই এক ম্যাচে অপ্রত্যাশিত কোনো ফল হিসাব উল্টে দিতে পারে শিরোপার লড়াইয়ের। লা লিগায় বাকি আছে আর ৫টি মাত্র ম্যাচ। ইংল্যান্ডে চারটি, ইতালিতে তিনটি। এই পরিস্থিতিতেই আজ মাঠে নামছে শিরোপার দৌড়ে থাকা বার্সেলোনা, রিয়াল, ইন্টার এবং ম্যানইউ।
আগের ম্যাচে ইন্টারের কাছে ৩-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগে বড় ধাক্কা খেয়ে আসা বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ আজ পয়েন্ট টেবিলের সবার তলানিতে থাকা দল জেরেজ। রিয়ালের প্রতিপক্ষও তেমন হাতিঘোড়া কিছু নয়। রেলিগেশন অঞ্চলের দুই ধাপ ওপরে থাকা রিয়াল জারাগোজা। বার্সার ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর পরই শুরু হবে রিয়ালের ম্যাচটি। অবিশ্বাস্য হলেও রিয়াল সমর্থকদের প্রার্থনা নিশ্চয়ই থাকবে, বার্সা যেন পয়েন্ট হারায়।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেমন এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন লিগ জেতার, ‘এখন আমরা অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। আর ফুটবলে, যেখানে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধান, এ অবস্থায় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে। রিয়ালের সব খেলোয়াড়ের এটা বিশ্বাস করতে হবে, আমাদের পক্ষে শিরোপা জেতা অবশ্যই সম্ভব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাকি পাঁচটা ম্যাচই আমরা জিতব। এই বিশ্বাসও আমার আছে, লিগের শিরোপা উঠবে আমাদেরই হাতে।’
রিয়াল বাকি পাঁচটা ম্যাচই জিতবে—এটা ধরে নিয়েই সতীর্থদের সে হিসেবেই খেলার কথা বলছেন বার্সা গোলপ্রহরী ভিক্টর ভালদেসও, ‘প্রতিটি ম্যাচ আমাদের জন্য এখন একেকটি ফাইনাল। মাদ্রিদ আমাদের জন্য কাজটা কঠিন করে তুলবে। আমি নিশ্চিত, ওরা একটা পয়েন্টও হাতছাড়া করবে না। তাই আমাদের জেরেজেরও বিপক্ষেও সাবধান থাকতে হবে।’
জয় না পেলেও জেরেজ যেন অন্তত ড্র করে ন্যু ক্যাম্প থেকে ফেরে—এই আশাও করবে রিয়াল সমর্থকেরা। তাতে জারাগোজার বিপক্ষে জিতলেই রোনালদোরা উঠে যাবে শীর্ষে। ওদিকে জারাগোজাই কিন্তু উল্টো হুমকি দিচ্ছে রিয়ালকে আটকে দেওয়ার। রেলিগেশন অঞ্চল থেকে মাত্র দুই পয়েন্টের জন্য বেঁচে থাকা দলটিও চাইবে নিজেদের মাঠে অন্তত একটা পয়েন্ট হলেও কুড়িয়ে নিতে। দলের স্ট্রাইকার হ্যাভিয়ের আরিজমেন্দি অবশ্য বলছেন, ‘আমাদের প্রেরণা থাকবে উঁচুতে বাঁধা। আমরা জয়ের জন্য সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
বার্সা সমর্থকদের বুক এমনিতেই কাঁপছে। গত মৌসুমে ফুটবল দেবী তাদের দিয়েছিলেন দুহাত ভরে। ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে এক বছরে ছয়টি শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। এবার অনেক কাছে এসে খালি হাতে ফেরার শঙ্কাও আছে! তবে বার্সা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা বলছেন, এই দলটা সবকিছুই করে দেখিয়েছে, শুধু একটা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এখনো করে দেখায়নি। এটাই সেই সময় কিছু করে দেখানোর।

তার পরও আশাবাদী তামিম

সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের চেয়ারে বসেই বাঁ হাতটা উঁচু করে দেখালেন। সে হাতে কোনো ব্যান্ডেজ-ট্যান্ডেজ নেই। কিন্তু ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতটা ছুঁয়ে তামিম ইকবাল নিজেই বললেন, ‘ব্যথা আছে। ব্যথা তো এত সহজে যাবে না। তার পরও আমি আশাবাদী।’
তামিম ইকবাল একা নন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁকে নিয়ে এখনো বেশ আশাবাদী বাংলাদেশ দল। আশাবাদী বলেই এখনো ব্যাট ধরতে না পারলেও দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছেন তামিম।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা, বিশেষত টি-টোয়েন্টির মতো ক্রিকেটে দলের বড় কান্ডারি হওয়ার কথা তামিম ইকবালের। সেই ভরসাটাকে ধাক্কা দিয়েছে এনসিএলে সাইক্লোনস অব চিটাগংয়ের শেষ ম্যাচ। ওই দিন ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ হাতের তালুর উল্টো পিঠে আঘাত পেয়েছিলেন তামিম। প্রাথমিক পরীক্ষার পর আশঙ্কাই জেগেছিল, বিশ্বকাপটাই বুঝি শেষ হয়ে গেল এই বাঁহাতির।
কিন্তু কাল সংবাদ সম্মেলনে তামিম বললেন, চিকিৎসক, ফিজিও ও তিনি মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে খেলার জন্য, ‘দেখুন, ডাক্তার বলেছে, সাধারণত এই ইনজুরিতে ন্যূনতম দুই সপ্তাহ বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু আমাদের হাতে তো সময় নেই। এখন সবাই কাজ করছি এটা নিয়ে। আশা করি, এই কদিনের ভেতর ব্যাট নিয়ে মাঠে নামার মতো অবস্থায় পৌঁছে যাব।’
যদি না পারেন? বাংলাদেশ তো তাহলে বিপাকে পড়বেই। আর তামিম পুড়বেন হতাশায়, ‘বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মাঠে না নামতে পারার দুঃখ কি বলে বোঝানো যাবে? আমি সব সময়ই স্বপ্ন দেখি, বড় বড় আসরে দলের হয়ে কিছু করব। দলকে জয় এনে দেব। সেটা না পারলে তো কষ্টের সীমা থাকবে না। আশা করি, সেটা হবে না।’

মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর ভাবনা -কর্মক্ষেত্রকে নারীর জন্য অনুকূল করা প্রয়োজন

মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অন্তত ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ বিবেচনা করে নেওয়া হচ্ছে এ সিদ্ধান্ত। চাকরি-রীতিতে এই পরিবর্তন বাস্তব রূপ পেলে নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। এর ফলে নিয়োগকারীর সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখেই কর্মজীবী নারী তাঁর শিশুর কাছাকাছি আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পেশার সঙ্গে পারিবারিক জীবনের এমন যোগসূত্র স্থাপিত হলে নাগরিকদের সামাজিক জীবন অনেক শান্তিময় হবে।
মাতৃত্বকালীন ছুটির ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অনেক দিনের অনুপস্থিতি তৈরি হয়। এই ছুটিকে নারীর অধিকার হিসেবে বিবেচনা না করলে কর্মক্ষেত্রে নারী পিছিয়ে পড়বেন। ছুটি শেষে নারী যেন কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার না হন, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আমাদের দেশে এখনো এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি মিললেও মেলে না ছুটিকালীন মজুরি। এ কারণে সন্তান প্রসবের পর নারীর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী নারী গর্ভবতী হলে তাঁকে চাকরি হারাতে হয়। তা ছাড়া প্রান্তিক নারীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সুতরাং মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক পরিসরকে সামগ্রিকভাবে নারীর জন্য ইতিবাচক করার কাজ সব সময় বজায় রাখতে হবে।
নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র, নারীর নিরাপত্তা, সমকাজে সমমজুরি, সমসুযোগ, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং সন্তানের জন্য দিবাযত্নকেন্দ্রের দাবি দীর্ঘদিন থেকে উচ্চারিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে জোর দেওয়ার পাশাপাশি কাজে যোগদান করার পরও নারীকর্মী যেন তাঁর সন্তানের কাছাকাছি থাকতে পারেন, সে জন্য কর্মক্ষেত্রে শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে সরকারকেই, আর বেসরকারি পর্যায়ে এসব মান মেনে চলার জন্য চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচন - অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন

যে দেশে নির্বাচন মানেই গণ-উৎসব, সে দেশে জাতীয় সংসদের একটি আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শনিবার অনুষ্ঠেয় ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনের কিছুটা উত্তাপ জাতীয় রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি এই উপনির্বাচনকে নিয়েছে মর্যাদার লড়াই হিসেবে। দুই দলেই রয়েছেন শক্তিশালী প্রার্থী। শুরু থেকে তাঁরা জমজমাট প্রচার চালিয়ে আসছেন ভোটারদের নিজ নিজ পক্ষে টানতে।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে হয়তো সেটি অস্বাভাবিকও নয়। অস্বাভাবিক হলো নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা কিংবা নির্ধারিত তারিখের দুই দিন আগে বিএনপির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি। তিনি নিজেও জানেন যে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্তে এই দাবি তোলায় নির্বাচন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভবত বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পরদিন বিএনপির প্রার্থী বলেছেন, ‘পরিস্থিতি যা-ই হোক, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসবে না।’ ঢাকায় দলের মহাসচিবও বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’ আমরা তাঁদের এই অবস্থানকে ইতিবাচক বলে মনে করি। সেই সঙ্গে যেসব অভিযোগ তাঁরা এনেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উচিত হবে তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
বিএনপির অভিযোগ, ইসি তাদের অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে সরকারি দলের প্রার্থীকে সুবিধা করে দিয়েছে। অন্যদিকে কমিশনের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা তারা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২২ এপ্রিলের (গতকাল) মধ্যে বহিরাগত ব্যক্তিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপির দাবি, ক্ষমতাসীন দলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সেখানে বহাল তবিয়তে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির কাছে যদি নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকে, গয়রহ অভিযোগ না তুলে তা ইসির কাছে পাঠানো উচিত। সন্ত্রাসী দুই দলেই আছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে দল-মতনির্বিশেষে; কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। ভোট গ্রহণের সময় যাতে সেখানে স্থানীয় বা রহিরাগত কোনো সন্ত্রাসী না থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই। ইতিমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত সদস্য পাঠিয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী এলাকা থেকে বহিরাগত ব্যক্তিদের বের করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সমর্থনযোগ্য। এলাকার রাজনৈতিক কর্মী-ক্যাডাররা সবার চেনামুখ হলেও বহিরাগত লোকজনকে চিহ্নিত করা কঠিন। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সর্বোপরি ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্ন ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চাইলে ভোলা-৩ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা কঠিন হবে না বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল

আইসল্যান্ডের এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি থেকে উিক্ষপ্ত ছাইয়ের কারণে টানা ছয় দিন বিমান চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বিমান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।
বিমান পরিবহন শিল্পের কর্মকর্তারা ইউরোপের দেশগুলো বিনা প্রয়োজনে বিমান চলাচল বন্ধ রেখে তাদের কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁরা বলেছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করেই তাঁরা আকাশপথ বন্ধ করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সিকিউরিটির (ন্যাটস) অ্যালেক্স ব্রিস্টল বলেছেন, বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

ক্যামেরনকে ডিম নিক্ষেপ

নির্বাচনের বাকি দুই সপ্তাহও নেই। ৬ মে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনের ঠিক এ আগ-মুহূর্তে প্রার্থীদের অবসরের ফুসরত নেই। আজ এই এলাকা তো কাল অন্য এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। ভোটারদের মন জয়ে তাঁরা নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ছড়াচ্ছেন। আশ্রয় নিচ্ছেন নানা কৌশলের। প্রার্থী ও দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে তাঁদের কতই না প্রাণান্তকর চেষ্টা। কিন্তু ঠিক এ মুহূর্তেই একটি ঘটনা ঘটে গেল বিরোধী শিবিরে।
প্রধান বিরোধী নেতা ডেভিড ক্যামেরন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে কর্নওয়ালে গিয়েছিলেন। কর্নওয়ালের একটি কলেজে কে যেন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে। ডিমটি লাগে তাঁর পিঠে। তিনি যে এ ঘটনায় খানিকটা বিব্রত হয়েছেন তা উপস্থিত সবাই টের পেয়েছেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন স্কাই নিউজের সাংবাদিক জোয়ে জোনস।
জোনস বলেন, ডিমটি ক্যামেরনের পেছনে লাগায় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। অবশ্য ক্যামেরন বিষয়টি তেমন পাত্তা দেননি।
এর আগে কনজারভেটিভ পার্টির এই নেতা আরেকটি ব্রিবতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। ওই ব্যক্তি ছিলেন চিকেন স্যুট (মুরগির আদলে তৈরি পোশাক) পরিহিত।
জোনস বলেন, এই দুই ঘটনায় ক্যামেরন রসিকতা করে বলছিলেন, ‘এটা এখন আমার জানা হয়ে গেছে যে কোনটি আগে, মুরগি না ডিম? আসলে মুরগিই আগে—ডিম নয়।’
ক্যামেরনের গায়ে ডিম ছোড়ার অভিযোগে পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করে। তবে কে ডিম ছুড়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কলেজের কোনো ছাত্রই ক্যামেরনের গায়ে ডিম ছুড়েছে।

কিরগিজস্তানে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে কিরগিজস্তানের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১০ অক্টোবর এ নির্বাচন হবে। তবে এর আগে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধান ওমুরবেক তেকিবায়েভ গত বুধবার এ ঘোষণা দেন।
জাতীয় টেলিভিশনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তেকিবায়েভ বলেন, আগামী ২৭ জুন গণভোট হবে। ক্ষমতা একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া রোধ করতে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যেই এ গণভোট।
কিরগিজস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভ রাজধানী বিশকেক থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ৭ এপ্রিল ক্ষমতা গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের নেতৃত্বে আছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজা ওতুনবায়েভা। বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়।
বাকিয়েভ সপ্তাহ খানেক দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পালিয়ে থাকার পর দেশ ছেড়ে চলে যান প্রতিবেশী দেশ কাজাখস্তানে। এরপর গত সোমবার তিনি পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিয়ে চলে যান বেলারুশে। বাকিয়েভ এখনো দাবি করছেন তিনিই কিরগিজস্তানের বৈধ প্রেসিডেন্ট।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপপ্রধান তেকিবায়েভ জানিয়েছেন, ক্ষমতা যাতে একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত না থাকে সেজন্য সংবিধান সংশোধন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার করা হবে। সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তির ব্যবস্থা রোহিত করা হবে এবং প্রেসিডেন্টের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রপ্রধানকে তাঁর নিজের উপার্জনেই চলতে হবে।
এ ছাড়া ৯০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো রাজনৈতিক দলই যাতে ৫০ আসনের বেশি নিজেদের দখলে না রাখতে পারে সংশোধিত সংবিধানে সে ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানান তেকিবায়েভ।

নয়াদিল্লিতে পশ্চিমা নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন ও অন্যান্য পশ্চিমা নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ চারটি দেশের দূতাবাস হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, রাজধানীর ব্যস্ত বাজার ও পর্যটন এলাকায় পশ্চিমা নাগরিকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দূতাবাসের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। বুধবার দূতাবাস দুটির ওয়েবসাইটে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জঙ্গিরা রাজধানীর চাঁদনী চক, কনট প্লেস, গ্রেটার কৈলাস, কারল বাগ, মেহরাউলি, সরোজিনী নগরসহ ব্যস্ত বাজার ও দোকান বেছে নিতে পারে।
এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনও পৃথক বিবৃতিতে নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে জঙ্গিরা এ ধরনের হামলা চালাতে পারে।
তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন কোনো সন্ত্রাসী হামলার হুমকির ব্যাপারে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

জাপানে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করেছে তাইওয়ান

জাপানে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করেছে তাইওয়ান। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিনিময় ছাড়াও তাইপে কালচারাল সেন্টার নামের এই কেন্দ্রটি জাপানে তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহূত হবে। এ জন্য এটিকে জাপানে তাইওয়ানের কার্যত দূতাবাস হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এশিয়ায় এটাই তাইওয়ানের প্রথম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এর আগে নিউইয়র্ক ও প্যারিসে তাইওয়ান এ ধরনের কেন্দ্র চালু করে।
চীনের বাধার কারণে তাইওয়ানের সঙ্গে এখনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনি জাপান। এ সমস্যার কিছুটা সমাধানের জন্য তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মায়িং-জি ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাপানে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভিক্ষুদের অবদান গণমাধ্যমে অবহেলিত

চীনে ১৪ এপ্রিল ভূমিকম্পের পর পরই উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রথম এগিয়ে গিয়েছিলেন তিব্বতি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। কিন্তু তাঁদের সেই অবদানকে প্রথম থেকেই খাটো করে দেখছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আর এখন ওই ভিক্ষুদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চীনের চিংহাই প্রদেশে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর পরই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছিলেন সেখানকার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। খালি হাতে তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করেছেন। আহত ও আশ্রয়হীন মানুষের খাবার ও আশ্রয়ের প্রাথমিক ব্যবস্থাও করেছিলেন ভিক্ষুরা। এমনকি নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের কাজও করেছেন তাঁরা। কিন্তু চীনা গণমাধ্যম প্রথম থেকেই ভিক্ষুদের এই প্রচেষ্টাকে কম গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছে।

ব্যাংককে বিস্ফোরণে নিহত ৩, উত্তেজনা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গতকাল বৃহস্পতিবার দফায় দফায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত ও বহু আহত হয়েছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী সুতেপ থাকসুবান বলেছেন, সরকারবিরোধী শিবির থেকে এসব গ্রেনেড ছোড়া হয়।
এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
সুতেপ বলেন, বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়েছে। তবে ব্যাংককের হাসপাতাল সূত্র একজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
এর আগে থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছে, আর সহ্য করা হবে না। বিক্ষোভকারীদের হটাতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। সেনাবাহিনীর এই প্রত্যক্ষ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংককে আবারও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সানসার্ন কেওকেমনার্দ বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের হটাতে কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবে।’ তবে রাজধানীর একাংশে অস্থায়ী ঘাঁটি গেড়ে বসা বিক্ষোভকারীদের ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে সরকারের পদত্যাগ ও নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হটে যাওয়ার কোনো মনোভাব দেখা যাচ্ছে না। তারা তাদের অস্থায়ী আস্তানায় এখনো অবস্থান করছে।
লাল শার্ট আন্দোলনকারীদের ২২ সদস্যের কমিটির একজন ওয়েং তোজিরাকান বলেন, ‘তাঁরা যদি আমাদের হত্যা করতে আসে, আমরা লড়তে রাজি আছি। আমরা ভীত নই। আসুক, আসুক, শিগগির আসুক।’ তবে তিনি জানান, তাঁরা অস্ত্র ব্যবহার করবেন না।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, তারা অসহিংস এবং তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। যদিও কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করে বিক্ষোভকারীদের হাতে অস্ত্র আছে।
ওয়েং তোজিরাকানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীদের একটি দল গতকাল ব্যাংককে জাতিসংঘ কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়ে আসে। এতে তারা থাইল্যান্ডে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পাঠানোর আহ্বান জানায়।
গত বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের পাথর ও বোতল ছোড়াছুড়ি শুরু হলে সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও চুপচাপই ছিলেন।

যৌন কেলেংকারির দায়ে ভারতীয় গুরু গ্রেপ্তার

যৌন কেলেংকারির দায়ে এক ভারতীয় ধর্মগুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসে দুই নারীর সঙ্গে তাঁর অনৈতিক কার্যকলাপের একটি দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচারের পর চূড়ান্ত অশ্লীলতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অপরাধে বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ডি ভি গুরুপ্রসাদ জানান, এক সঙ্গীসহ ৩২ বছর বয়সী দীর্ঘকেশী পরমহংস নিত্যানন্দ স্বামী নামে ওই গুরুকে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হিমাচল প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৩টি দেশে তাঁর ভক্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
গুরুপ্রসাদ বলেন, তিনি যে ধরনের অশ্লীলতা করেছেন, তা ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন।
নিত্যানন্দের দুই নারী ভক্তের সঙ্গে শয্যাদৃশ্যটি টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পর তা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ওই দৃশ্যটি প্রচারের পর তাঁর আশ্রম ধ্যানপীতম বা ‘জ্ঞান কেন্দ্র’-এর প্রধানের পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বিক্ষুব্ধ ভক্তরা জ্ঞান কেন্দ্রে লুটতরাজ চালায় ও তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে।
পুলিশ কর্মকর্তা গুরুপ্রসাদ বলেন, আরও তদন্তের স্বার্থে তাঁকে বেঙ্গালুরুতে নেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত করা হবে। তবে নারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নিত্যানন্দ। টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ওই দৃশ্যটিও পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত কয়েক মাসে ধর্মগুরুদের যৌন কেলেংকারির কয়েকটি ঘটনায় ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মার্চে উত্তর ভারতে বিমানবালা ও কলেজ ছাত্রীদের নিয়ে একটি পতিতালয় চালানোর দায়ে দিল্লিতে এক গুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজনকে অপহরণের দায়ে অপর এক গুরুকে আটক করা হয়েছে।

ভ্যাট আরোপ করার কথা বিবেচনা করছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেওয়ার জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপের চিন্তা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্য সংযোজন কর পরিচিত হলেও মার্কিনদের কাছে বিষয়টি নতুন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, বহু দেশে মূল্য সংযোজন কর আরোপ অর্থনীতিতে সুফল নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এমন কর আরোপের ফলে সুফল পাওয়ার অবকাশ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত বুধবার সিএনবিসি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং ঘাটতি মোকাবিলায় সব ধরনের বিকল্প নিয়েই আমাকে ভাবতে হচ্ছে।’
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অন্যতম উপদেষ্টা পল ভলকার সম্প্রতি মূল্য সংযোজন কর আরোপ নিয়ে কথা বলেছেন। ধারণাটি নিয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে। অধিকাংশ আইনপ্রণেতাই মূল্য সংযোজন কর আরোপের বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। তাঁদের অভিমত, এমন ব্যাপক কর আরোপের ফলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপ বাড়বে। মন্দা অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধারের চলমান উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
নানা ধরনের করের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকেরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ। যেকোনো ধরনের নতুন কর আরোপের উদ্যোগ-আলোচনাও সংগত কারণে খুবই অপ্রিয় সাধারণ জনগণের কাছে। মূল্য সংযোজন কর আসছে—এমন আলোচনা হোয়াইট হাউস থেকে অস্বীকার করা হয়েছে বারবার। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি রবার্ট গিবস এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মূল্য সংযোজন কর আরোপের কথা ভাবছেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার জন্য কংগ্রেসে উভয় দলের সমন্বিত সুপারিশের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার জন্য মূল্য সংযোজন কর আরোপসহ সবগুলো বিকল্প যাচাই করার অবকাশ রয়েছে।

৫০ লাখ মানুষকে তেহরান ছাড়ার আহ্বান জানালেন আহমাদিনেজাদ

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন পারমাণবিক হামলার চেয়েও ভূমিকম্পের আশঙ্কা এখন অনেক বেশি। এ জন্য কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষকে রাজধানী তেহরান ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।
সান ফ্রান্সিসকোর অধিবাসীদের মতো তেহরানের বাসিন্দারাও জানে, তাদের ক্রমবর্ধমান মহানগর বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু ইরানে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবনের মানের অগ্রগতি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেহরানে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘তেহরানে এক কোটি ৩০ লাখ মানুষের বাস। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে আমরা কীভাবে তা সামলাব? সুতরাং তেহরান থেকে মানুষ সরিয়ে নিতে হবে।’ যারা রাজধানী ছেড়ে যাবে, তাদের জন্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তেহরানের সাবেক মেয়র আহমাদিনেজাদ বলেন, কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের তেহরান ছাড়া উচিত।
১৮৩১ সালে যখন সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন তেহরান ছিল খুবই ছোট একটি শহর।
ভূকম্পনবিদেরা বলছেন, কোনো এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার দেড় শ বছরের মধ্যে সাধারণত ওই এলাকায় আবারও বড় ধরনের আঘাত হানার আশঙ্কা থাকে।
১০ বছর আগে ইরানে ভূমিকম্প-সম্পর্কিত একটি গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফরিদ মেহদিয়ান। তিনি বলেন, যদি তেহরানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা হবে মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। তাঁর পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, পরবর্তী বড় ধরনের ভূমিকম্পে পাঁচ লাখ লোক মারা যেতে পারে।
তেহরানের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বাহরাম আকাশেহ বলেন, ইরানের চারটি রাজধানী থাকা উচিত। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি, শিল্পবিষয়ক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি। তাঁর ধারণা, রিখটার স্কেলে ছয় মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে তেহরান, যা এ নগরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট।
ভূমিকম্প আঘাত হানার আশঙ্কা ব্যক্ত করতে গিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে আকাশেহ বলেন, ‘হয়তো ৫০ বছরের মধ্যে; হয়তো আগামী রাতে; কিংবা হয়তো এখনই, যখন আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি।’

বেনজির হত্যা নিয়ে হামিদ গুলের বক্তব্য ভিত্তিহীন: যুক্তরাষ্ট্র



বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল বলে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্সের (আইএসআই) সাবেক প্রধান হামিদ গুল সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘নীতিবিবর্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে হামিদ গুল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় নেমেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে হামিদ গুলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করার পর যুক্তরাষ্ট্রের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি জে ক্রাউলিও গত বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের কাছে গুলের দাবি অস্বীকার করেন। খবর পিটিআই ও দি নেশন অনলাইনের।
সম্প্রতি হামিদ গুল পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন টক শোতে বেনজির হত্যাকাণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই প্রতিবেদনে মূল সত্য আড়াল করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করা হয়। দূতাবাস থেকে বলা হয়, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই হামিদ গুল মার্কিন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনার পরও টক শোর উপস্থাপক তাঁকে চ্যালেঞ্জ না করে পেশাদার সাংবাদিকতার পরিচয় দেননি।
বুধবার পি জে ক্রাউলি বলেন, হামিদ গুলের বক্তব্য পুরোপুরি ভিত্তিহীন। টেলিভিশনে তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষ্য দেন। নিশ্চিতভাবেই তাঁর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী উদ্দেশ্য রয়েছে।
গত সোমবার পেশোয়ারে জামায়াতে ইসলামীর শোভাযাত্রায় সন্ত্রাসী হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন ছিল বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ক্রাউলি তাও প্রত্যাখ্যান করেন।
ক্রাউলি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র এক হয়ে লড়াই করছে। তাদের হাতে পাকিস্তানিদের সঙ্গে মার্কিন সেনারাও মারা যাচ্ছেন। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা অর্থহীন। তিনি এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার জন্য পাকিস্তানের গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
এর আগে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে পাকিস্তানের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। এতে সে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, পাকিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীদের সাংবাদিকতার জ্ঞান ও উপদেশ না দিয়ে মার্কিন দূতাবাস তাদের দেশের লোকজনকে নীতিকথা শোনালে সেটিই বরং শোভনীয় হবে।

অধিনায়ক টানলেন দক্ষিণ আফ্রিকার একাডেমিকে

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর প্রথম ওভারেই আউট ওপেনার বোদিবে। এর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ ও ষষ্ঠ উইকেটে ৮১ রানের দুটি জুটির পরও ২৪৮ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। নবম উইকেটে নয় আর ১০ নম্বর ব্যাটসম্যানের ১১৯ রানের জুটিতে তারপরও ৩৭১ রান। ৭৪ বলে সর্বোচ্চ ৮৪ করেছেন অধিনায়ক উইয়ান ফন জিল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিন শেষ বিকেলে ২৩ রান তুলতেই ওপেনার নাদিমউদ্দিনকে হারিয়েছে জিপি-বিসিবি একাডেমি।

চেন্নাই-মুম্বাই ফাইনাল

আইপিএলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কাল ডেকান চার্জার্সকে ৩৮ রানে হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। পরশুর ফাইনালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৪২ রান তোলে চেন্নাই। সর্বোচ্চ ৩৭ রান বদ্রিনাথের। জবাবে ১৯.২ ওভারে ১০৪ রানেই অলআউট ডেকান। ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে চেন্নাইয়ের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অস্ট্রেলিয়ান ডগ বলিঞ্জার।

বিশ্বকাপে তামিমকে পাচ্ছে বাংলাদেশ

বাঁ হাতের ইনজুরি পুরোপুরি সারেনি। তবে অবস্থা যা, তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিমানে উঠতে কোনো বাধা নেই। চিকিৎসকেরা কাল সেই ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছেন তামিম ইকবালকে।
এনসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ হাতের তালুর উল্টো পিঠে চোট পান তামিম। এমআরআই ও সিটি স্ক্যানে দেখা যায় ওই জায়গাতে আগে থেকেই থাকা সূক্ষ চিড়টাই নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণের পর কাল চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অবস্থা উন্নতির দিকে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই হয়তো পুরোপুরি সেরে যাবে ইনজুরিটা।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে কাল টেলিফোনে তামিম বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী, ‘ডাক্তাররা বলেছেন, আমি খেলতে পারব। আমি আশাবাদী, কোনো সমস্যা হবে না। তবে সতর্কতার জন্য হয়তো বিশ্বকাপের আগে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে খেলব না।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আগামীকাল রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা বাংলাদেশ দলের।

মন্দা সামলেও শীর্ষে ম্যানইউ

ইউরোপ-আমেরিকার প্রায় সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই গত বছরের মহামন্দায় বিপাকে পড়েছিল। স্বভাবতই মন্দার ঢেউ লেগেছিল ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবগুলোর গায়েও। তার পরও ‘গরিব’ তো হয়ে যায়নি তারা! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে সবার ওপরে রেখে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ২০টি ক্লাবের নাম ঘোষণা করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন।
বিশ্বের শীর্ষ ক্লাবগুলো সর্বশেষ যখন বিক্রি হয়েছিল, সে সময়ের দাম ও বর্তমান আয় মিলিয়ে এই তালিকাটা করে ফোর্বস। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাব হিসেবে ম্যাগাজিনটির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ম্যানইউ। গ্লেজার পরিবারের মালিকানার এ ক্লাবটির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৮৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের চেয়ে দুই শতাংশ কম।
সম্পদ শুধু ম্যানইউয়েরই কমেনি। মন্দার ধাক্কায় সেরা ধনী ২০ ক্লাবের ১৫টিই গত বছর সম্পদ খুইয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছর এই ক্লাবগুলোর মূল্য ৮.৫ শতাংশ কমে গেছে। আগের বছর ধনী ২০ ক্লাবের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; গত বছর সেটা কমে এসে ৬৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অবশ্য এই সম্পদ কমে যাওয়ার পেছনে ডলারের তুলনায় ইউরোর দাম কমা-বাড়াটাও বিবেচ্য। ফোর্বস ম্যাগাজিন তালিকা করে থাকে মার্কিন ডলারের হিসাবে। আর ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব ইউরোতে। সম্প্রতি ডলারের দাম ইউরোর তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর সম্পদ ডলারে আরও কম বলে মনে হচ্ছে।
সবার অবশ্য কমেনি। শীর্ষ ২০ ধনী ক্লাবের একটির সম্পদ অপরিবর্তিত আছে। আর সম্পদ বেড়েছে চারটি ক্লাবের। সম্পদ বাড়া-কমার এই সুযোগে লিভারপুলকে টপকে তালিকার ৪ ও ৫ নম্বরে উঠে এসেছে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ। তালিকায় প্রথম স্থানটির মতো অপরিবর্তিত আছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের ক্লাবও। এ দুটি স্থানে আছে যথাক্রমে রিয়াল মাদ্রিদ ও আর্সেনাল।

সংশয়ে দ্রগবা-এসিয়েনের বিশ্বকাপ

শনিবার টটেনহামের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। ম্যাচ শেষ করতে পারেননি। খেলার মাঝখানে মাঠ থেকে নিজেকে তুলে নেওয়ার কাতর আবেদন জানিয়েছেন। মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছেন দিদিয়ের দ্রগবা।
দ্রগবার এই মাঠ ছাড়া দেখে আইভরিকোস্টের সমর্থকেরা নিশ্চয়ই শিউরে উঠেছেন। কুঁচকির ইনজুরির সঙ্গে লড়তে থাকা দ্রগবা তাহলে বিশ্বকাপে থাকবেন না? শঙ্কাটা শুধু দ্রগবাকে নিয়ে নয়। আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপে না থাকার সম্ভাবনা আছে আরেক আফ্রিকান তারকা ঘানার মাইকেল এসিয়েনেরও।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে স্বাগতিক মহাদেশের রং ছড়ানোর বড় দুই ভরসা ছিলেন চেলসির দুই তারকা দ্রগবা আর এসিয়েন। এই দুই তারকার পিঠে চড়ে আইভরিকোস্ট ও ঘানা বিশ্বকাপে চমক দেখাবে, সেই আশা ছিল অনেকের। কিন্তু সে আশার গুড়ে আপাতত বালি।
চেলসি স্ট্রাইকার দ্রগবা বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন কুঁচকির ইনজুরিতে। শনিবার টটেনহামের বিপক্ষে চেলসির ১-২ গোলে হারের ম্যাচে সেটা আরও বেড়েছে। বলা হচ্ছে, পুরোপুরি সুস্থ হতে একটা অস্ত্রোপচার করাতে হবে এই আফ্রিকান তারকাকে। সেটা কবে?
দ্রগবার অস্ত্রোপচার প্রিমিয়ার লিগের পর হলে নিশ্চিত করেই তিনি বিশ্বকাপ মিস করছেন। আর বিশ্বকাপে অস্ত্রোপচার না করিয়ে গেলেও তার মাঠে নামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অতএব দ্রগবা-কল্পনা বাদ দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এসিয়েনকেও বোধ হয় বাদ দিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে। চেলসির এই মিডফিল্ডার সেই হিসাবই করছেন। দ্রগবার মতো এসিয়েনও বেশ কিছুদিন ধরে লড়ছেন হাঁটুর ইনজুরির সঙ্গে। গত ডিসেম্বর থেকে এই ঘানাইয়ান মাঠে নামতে পারেননি। চেলসির আশা ছিল, স্টোক সিটির বিপক্ষে এ সপ্তাহের ম্যাচে মাঠে নামবেন। কিন্তু আবার জটিল হয়ে পড়েছে তাঁর ইনজুরি।
জটিলতা এতটাই যে এসিয়েন নিজেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন আর দেখতে পারছেন না। তিনি এখন এক একটা দিন ধরে এগোতে চাইছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন না—এমন মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না জানতে পারছি যে, অমুক দিন বা সপ্তাহে সুস্থ হব, ততক্ষণ বিশ্বকাপে খেলব কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। যদি না যেতে পারি তাহলে ঘরে বসে আর দশ জন ঘানাইয়ানের মতো দলকে সমর্থন জানা

শোয়েব-সানিয়া পাকিস্তানে

‘দুলহান’ সানিয়া মির্জাকে নিয়েই দেশে ফিরলেন ‘দুলহা’ শোয়েব মালিক। ‘পাকিস্তানের বউকে স্বাগতম’ প্লাকার্ড হাতে অসংখ্য ভক্ত আর শুভানুধ্যায়ী কাল তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন করাচি বিমানবন্দরে। উপলক্ষটিকে স্মৃতির ফ্রেমে আটকে রাখতে জ্বলে উঠেছে অগুনতি ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
পাগড়ি-শেরওয়ানি নয়, দেশে ফেরার সময় শোয়েবের পরনে ছিল নীল রঙের জিন্স আর সবুজ টি-শার্ট। সানিয়াও বেনারসি পরেননি। লাল ট্রাউজার, সবুজ কটি আর চোখে সানগ্লাস পরা আধুনিকা বধূ হয়েই শ্বশুরবাড়ি গেছেন ভারতের এই টেনিস তারকা। বিমানবন্দরে শোয়েব-সানিয়াকে বরণ করে নিতে হাজির হয়েছিলেন প্রাদেশিক ক্রীড়ামন্ত্রী মোহাম্মদ আলী শাহসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ছিলেন সাধারণ মানুষও। তাঁদেরই একজন ফকির শাহর আশা, ‘আমি খুবই খুশি এই বিয়েতে। আশা করি, এই বিয়ে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে সাহায্য করবে।’
গত ১২ এপ্রিল হায়দরাবাদে বিয়ের পর একদফা উৎসব হয়ে গেছে। বর-বধূকে নিয়ে সপ্তাহব্যাপী উৎসব হবে পাকিস্তানেও। তবে মূল অনুষ্ঠানটা ২৫ এপ্রিল, মালিকের শহর শিয়ালকোটে সেদিনই সংবর্ধনা দেওয়া হবে শোয়েব-সানিয়াকে।
সানিয়াকে পেতে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি শোয়েবকে। হায়দরাবাদেরই আরেক তরুণী আয়েশা সিদ্দিকের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেই সানিয়ার পাণিগ্রহণ করেছেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।

হায় রিবেরি

ম্যাচে সবার চোখ থাকে রিবেরির ওপর। পরশুও ছিল। তবে তাকিয়ে থাকার আগ্রহের পেছনে ফরাসি উইঙ্গারের খেলা নয়, কারণ ছিল মাঠের বাইরে তাঁর উটকো বিতর্কে জড়িয়ে পড়া। সেই রিবেরি ম্যাচের ৩৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন। বায়ার্ন মিউনিখের লাল জার্সিতে একরকম মুখ লুকিয়ে!
অস্বস্তিকর যে বিতর্কে রিবেরি জড়িয়েছেন, তাতে উঠে এসেছে আরেক ফরাসি তারকা করিম বেনজেমার নামও। অপ্রাপ্তবয়স্কা এক পতিতার সঙ্গে রিবেরি, বেনজেমা আর লিওঁর উইঙ্গার সিডনি গোভ্যুর ‘সম্পর্ক’ নিয়ে ফরাসি পুলিশ তদন্ত করছে। ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। এরই মধ্যে পুলিশ রিবেরিকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
এই খবর চাউর হওয়ার পরই পরশু প্রথম মাঠে নেমেছিলেন এই ২৭ বছর বয়সী। মাঠ থেকে বের হলেন সরাসরি লাল কার্ড দেখার লজ্জা নিয়ে। ভাগ্য ভালো পরশু বায়ার্ন ১-০ গোলে জিতেছে। ফলাফল অন্যরকম হলে জার্মান মিডিয়া তাঁকে নির্ঘাত ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে ফেলত!
রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া না-যাওয়া, ইনজুরি, অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিতর্ক—সব মিলে মৌসুমটা খুব বাজে কাটছে রিবেরির। পরশুর ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু করলে সমালোচনা হয়তো থিতিয়ে যেত। উল্টো উসকে দেওয়ার মতোই কাণ্ড করলেন তিনি।

এশিয়ান গেমসে চোখ গেরহার্ডের

তাঁর আসার কথা ছিল আরও দিন পাঁচেক আগে। কিন্তু মিউনিখ বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিয়ে কাল সকালে ঢাকায় আসতে পেরেই নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবছেন পিটার গেরহার্ড। আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাইমেঘের কারণে ইউরোপের বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর এই দেরি। এসেই কাজে নেমে পড়লেন জার্মান কোচ।
ঘণ্টা দুয়েক অনুশীলন করালেন কাল খেলোয়াড়দের। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের জন্য অনুশীলন হলেও তাঁর চোখ নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে।
প্রাথমিক দলে ডাক পেলেও খেলবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন ইসা, মুসা। তাঁরা দুই ভাই তো বটেই, কাল অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন মামুনুর রহমান (চয়ন), মেহরাব হোসেন (কিরণ), জাহিদুল ইসলাম (রাজন), আশিকুজ্জামান, আবদুস সাজ্জাদ (জন), পুষ্কর খীসা (মিমো) ও জাহিদ বিন তালিব (শুভ)। পুষ্কর নেদারল্যান্ড থেকে ই-মেইলে ফেডারেশনকে জানিয়েছেন দু-এক দিনের মধ্যেই যোগ দেবেন। অন্যরাও আজ যোগ দেবেন বলে জানান কোচ। ইউরোপ সফর, দক্ষিণ এশীয় গেমস ও ক্লাব কাপের পর খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের পারদ উঁচুতে উঠেছে বলে মনে করেন গেরহার্ড, ‘আগের চেয়ে ছেলেরা অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমার প্রথম লক্ষ্য। আমার আসল লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। যদিও হাতে মাত্র ছয় মাস আছে। এ জন্য এখন থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।’
আগামী ৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাছাইপর্ব থেকে দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ভারত, পাকিস্তান, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে।
হকির সঙ্গে পারটেক্স বেভারেজ: হকির সঙ্গে যুক্ত হলো কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পারটেক্স বেভারেজ। আগামী তিন বছর হকির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে কোমল পানীয় সরবরাহ করবে তারা। প্রত্যেক বছর এটি নবায়ন করা হবে। কাল এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পারটেক্স বেভারেজের কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন।

পুরস্কার ক্লিনটনের সঙ্গে গলফ খেলা

বিল ক্লিনটনের সঙ্গে গলফ খেলতে চান? জন ম্যাকেনরো বা ব্রুক শিল্ডসের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে? সাধারণ মানুষের জন্য বিরল এই সুযোগগুলো এনে দিয়েছে খ্যাতনামা নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিস। গতকাল নিউইয়র্কে অন্যরকম এক নিলামের আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই নিলামঘর। অন্যরকম, কারণ এমনিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন বড় বড় নিলামের আয়োজন করলেও ক্রিস্টিসের কালকের নিলামটির উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। নিউইয়র্কে ‘এক্সপেরিয়েন্সেস সিরিজ’ শীর্ষক এই নিলামের উদ্দেশ্য পরিবেশ বাঁচানোর জন্য তহবিল সংগ্রহ। ৪০তম ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে এই নিলাম।
নিলামে ছিল বালিতে পাঁচ রাত কাটানোর একটি প্যাকেজ, ২০১১ ‘ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কার আফটার পার্টি’র দুটি টিকিট, বতসোয়ানায় ফটোগ্রাফিক সাফারি করার ছয়টি টিকিট। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তো অবশ্যই তারকাদের সঙ্গে সময় কাটানো ও ক্লিনটনের সঙ্গে গলফ খেলার সুযোগ। এসব তারকার মধ্যে অভিনেত্রী সালমা হায়েক ও ব্রুক শিল্ডস, জর্দানের রানি নূর ও টেনিস গ্রেট জন ম্যাকেনরোর উপস্থিত থাকার কথা ছিল কালকের নিলামে।
ক্রিস্টিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন কিছু সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন

লোলিত মোদির পক্ষ এবং বিপক্ষ দলের মধ্যকার ফাটল আরও স্পষ্ট হলো গতকাল। ২৬ এপ্রিলে ডাকা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় আসলে নির্ধারিত হবে লোলিত মোদির ভাগ্য, সেই সভাকেই মোদি বলছেন ‘অবৈধ’। পরশু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধানকে পাঠানো ই-মেইলে মোদি জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকে তিনি থাকছেন না।
‘পয়লা মের পরিবর্তে সভা এগিয়ে ২৬ এপ্রিল নিয়ে আসতে চাইলে আমার অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে। না হলে এই সভা অনানুষ্ঠানিক (আনঅফিসিয়াল) বলেই গণ্য হবে। অবৈধ কোনো সভায় আমি যোগ দেব না’—মনোহর আর অরুণ জেটলিকে পাঠানো ই-মেইলে লিখেছেন মোদি। এটি তো বটেই, এই কদিনে চালাচালি হওয়া সব ই-মেইলও ফাঁস হয়ে গেছে মিডিয়ায়।
২৬ এপ্রিলের বৈঠককে ‘অবৈধ’ বলার পেছনে মোদির যুক্তি, এই বৈঠক ডেকেছেন বিসিসিআইয়ের সচিব এস শ্রীনিবাসন। আইপিএলের প্রধান হিসেবে এই বৈঠক ডাকার এখতিয়ার শুধু তাঁর আছে জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘মাননীয় সচিব, যিনি নিজেও একটি দলের মালিক, এই বৈঠক ডাকতে পারেন না।’ এত অল্প সময়ে ওই সভার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করাও সম্ভব নয় বলে লিখেছেন মোদি। বোঝাই যাচ্ছে সহজে হাল ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
এ অবস্থায় বৈঠক হলে আইপিএলের সর্বোচ্চ পদ থেকে মোদির ছাঁটাই নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আত্মরক্ষার পথ খুঁজতে মোদি তাই কালক্ষেপণের কৌশল নিয়েছেন। যদিও মনোহর জোর দিয়ে বলছেন ২৬ তারিখ বৈঠক হবেই। ১৪ সদস্যের গভর্নিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে আছে জানিয়ে ভারতের স্বনামধন্য এই আইনজীবী বলেছেন, ‘সভা যথাসময়েই হবে। কোনো সদস্য যদি আসতে না চান, সেটা তাঁর মর্জি, আমাদের করার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের যত দ্রুত সম্ভব একটা পদক্ষেপ নিতেই হবে।’
মোদি যে যুক্তিতে এই সভাকে অবৈধ বলেছেন, সেটিও নাকচ করে দিচ্ছেন মনোহর, ‘তিনি (শ্রীনিবাসন) এই বৈঠক দলের মালিক হিসেবে ডাকেননি। বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সচিবই সব ধরনের বৈঠকের আহ্বায়ক।’
আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সদর দপ্তরসহ মূল সহযোগী তিনটি প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ। টেলিভিশন সম্প্রচারের দায়িত্ব পাওয়া মাল্টি-স্ক্রিন মিডিয়া, বিপণন সংস্থা ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস গ্রুপ আর প্রধান ব্যবস্থাপক ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের দপ্তরে কাগজপত্র খতিয়ে দেখে কর কর্মকর্তারা বোঝার চেষ্টা করেছেন, কোথাও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না।
তিন বছরের মাথায় ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ৪.১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছা এই লাভজনক টুর্নামেন্টের সঙ্গে নামে-বেনামে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং বলিউড তারকারা যুক্ত। এমনও অভিযোগ উঠেছে, প্রচুর কালো টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এই টুর্নামেন্টে। কোণঠাসা মোদি সবগুলো দলের মালিকানার সঙ্গে কারা কারা আছেন, সেটি জানিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র একজন বলেছেন, আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশঙ্কায় আছেন তাঁরা, ‘কর তদন্ত থেকে যদি আরও জল ঘোলা হয়, অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই—এমনটা বলতে পারলে খুশিই হতাম। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি খুবই, খুবই উদ্বিগ্ন।’