Tuesday, November 24, 2009

সুশাসন -সরকারি খাতের সংস্কার ও স্থানীয় সরকার by এ এম এম শওকত আলী

১৯৯৭ সালে একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের চাকরিসংক্রান্ত কাঠামোর বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছিল। যদিও এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের চাকরি কাঠামো, কিন্তু এর সঙ্গে সংগতভাবেই জড়িয়ে যায় স্থানীয় সরকারের কাঠামো। কারণ, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে একই ধারা দৃশ্যমান। এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে ব্যাপক। বাংলাদেশে এ বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এ বিতর্কে দুটি পরস্পরবিরোধী মতবাদের ধারা বিদ্যমান। এক. স্থানীয় সরকারকে স্বশাসিত করার লক্ষে শাসনব্যবস্থার আওতাভুক্ত সব ধরনের কাজ স্থানীয় সরকারকে অর্পণ করতে হবে এবং এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার। এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো কর্তৃত্বই কাম্য নয়। দুই. স্থানীয় সরকারকে উপযুক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের লক্ষে সংসদের একটি আইনের মাধ্যমে ক্ষমতা দেওয়া আশু প্রয়োজন। তিন. কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বাজেটের অন্তত শতকরা ৪০ ভাগ সরাসরি স্থানীয় সরকারকে দিতে হবে।
এ বিষয়ে ভিন্নমত হলো, সংসদই আইন দিয়ে নির্ধারণ করে দেবে স্থানীয় পর্যায়ের কী কী বিষয় এবং কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হবে। সব কাজ স্থানীয় সরকারকে দেওয়া সম্ভব বা সংগত নয়। স্থানীয় সরকার রাষ্ট্রেরই একটি অংশ। একে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দেখার কোনো যুক্তি নেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরিচালিত কিছু কাজ দেশব্যাপী বিস্তৃত বিধায় এসব কাজকে খণ্ডিত করার কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কাজের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে বিদ্যুত্, খনিজ সম্পদ আহরণ ও ব্যবহার, বৃহত্ সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো, বিচার বিভাগ, অপরাধ দমন ও আইনের প্রয়োগসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা যা জনস্বার্থে অপরিহার্য। এ ছাড়া রয়েছে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার কাঠামোগত দুর্বলতা, যার কারণে সব কাজই এদের দিয়ে সুচারুরূপে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
কেন্দ্রীয় বাজেটের নির্দিষ্ট একাংশ স্থানীয় সরকারকে দেওয়ার বিষয়ে অনেকেই বলেন, একাধিক কারণে এটা দেওয়া সম্ভব নয়। এক. ওই পর্যায়ে দুর্নীতি ও অপচয়। দুই. স্থানীয় সম্পদ আহরণে স্থানীয় সরকারের দুর্বলতা। এতে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হলে এ প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময়ই সরকার মুখাপেক্ষী বা নির্ভরশীল হবে। এ জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই স্থানীয় সম্পদ আহরণের জন্য স্থানীয় সরকারকে উত্সাহিত করার একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এ পদ্ধতি বাংলাদেশেও পাকিস্তান আমল থেকে চালু করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইউনিয়ন পরিষদকে মোট স্থানীয় করের ন্যূনতম শতকরা ২৫ ভাগ আদায় করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে ওই সব ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি কোনো অনুদান লাভের যোগ্য হবে না। কিন্তু মূলত রাজনৈতিক কারণে এটা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
একই পদ্ধতি ইএনডিপি কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। এ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে ২০০৬-০৭ সালে বিশ্বব্যাংক দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে এ প্রথা চালু করে। সরকারি ও দাতা সংস্থার অনুদানপ্রাপ্তি এদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছকে মূল্যায়ন করার পরই নির্ধারিত অনুদান দেওয়ার প্রথা চালু হয়। এ প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ ছিল এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট ছকে ছিল কার্যাবলি প্রণয়নে স্বচ্ছতাসহ কর আদায় ও উন্নয়ন কার্যাবলি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা। এ প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে অনুদান সরাসরি দেওয়ার বিষয় সম্পর্কেও তত্কালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ প্রকল্পের মূল্যায়নের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সংগত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সব কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ১৯৮৪-৮৫ সালে উপজেলা প্রথা চালু করার পর একটি ভারসাম্যমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রবর্তন করা হয়েছিল। সে কাঠামো প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু হোঁচট খেলেও পরবর্তী সমেয় অনেকটা সঠিকভাবে কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পঞ্চায়েত প্রথা অনেক গবেষকের মতে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। এ প্রথার আইনি ও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের; কেন্দ্রীয় সরকারের নয়। একেক রাজ্যের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাপর মধ্যে পার্থক্যও বিদ্যমান। কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের অনেক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিত কিছুটা ভিন্নতর। কারণ বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র, যাতে কোনো রাজ্য নেই। অনেকটা যুক্তরাজ্যের অনুরূপ। ওই রাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তবে এতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যুক্ত নন। বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাজ্যেও স্থানীয় সরকার কাঠামোর যথেষ্ট ক্ষমতা। তবে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ওই রাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বিদ্যমান। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গবেষকেরা এ কথাই বলেছেন।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ক্ষমতার কাঠামো ও পরিধি ওই দেশের সংসদ আইন দ্বারা নির্ধারণ করে, যা বাংলাদেশের অনুরূপ। এ আইন ‘আইনবহির্ভূত (টষঃত্ধ ারত্বং)’ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ওই দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যে ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হয়, সে ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার সংসদের মাধ্যমে রহিতও করে। পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশের প্রথায় এ বিষয়টি স্বীকৃত নয় যে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে অবস্থান করবে। ওই সব দেশে এ বিষয়টি স্বীকৃত যে স্থানীয় সরকারের সম্পদ সীমিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ও দক্ষতাও সীমিত। এ কারণে সব কাজই তারা করতে সক্ষম নয়। তবে নিজস্ব ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাবান। জার্মানির কেন্দ্রীয় সরকার প্রকৃত পক্ষে স্থানীয় সরকারকে কিছু কাজ সম্পাদনের বিষয়টি আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করে থাকে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার পরিধির বর্তমান বিতর্কের মূল উত্স এ সরকারের ওপর স্থানীয় সাংসদদের নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের কোনো দেশেই নেই। এমনকি ভারতেও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে কেন হলো, তা বলা নিষ্প্রয়োজন। সবাই নির্বাহী ক্ষমতালিপ্সু। সরকারি দলের নেতারা যদিও এ প্রথাকে সমর্থন করেন এই যুক্তি দিয়ে যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্যই এটা করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থে এতে ক্ষমতার ভারসাম্যই ধ্বংস করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কার্যাবলি সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তি হচ্ছে জনগণের, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
ইতিমধ্যে সাংসদদের কর্তৃত্ব রহিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট দাখিল করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ এই মর্মে দিয়েছেন, কেন এ কর্তৃত্ব বিলুপ্ত করা হবে না। এ ধরনের ঘটনা যে ঘটবে, তার কিছু আভাস উপজেলা-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আইন সংসদের অনুমোদনপ্রাপ্তির পরই দৃশ্যমান ছিল। ওই সময়ে কিছু সংক্ষুব্ধ উপজেলা চেয়ারম্যান এ ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। যা ঘটার তা-ই ঘটেছে। হাইকোর্টের রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর বোঝা যাবে, প্রকৃত অবস্থা কী? অনুমান করা যায়, রায় সরকারের বিরুদ্ধে গেলে সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হবে। হওয়াই স্বাভাবিক। তখন আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।
এ বিষয়ে উল্লেখ করা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপজেলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশে সাংসদদের কোনো কর্তৃত্বই দেওয়া হয়নি। নির্বাচিত সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে সৃষ্ট হয়েছে অনেক জটিলতা। এ জটিলতার কারণে আইনের দ্বারা সৃষ্ট শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টা অনেকটা বিফল হবে। এ বিষয়ে আরও জটিলতা বিদ্যমান। এক. ইউনিয়ন পরিষদের ওপর উপজেলা পরিষদের কর্তৃত্ব। দুই. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের প্রথা পরিহার করে পরিষদের অংশ হিসেবে বর্তমান আইনে বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।
এ এম এম শওকত আলী: তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

বানু আপা by ফরিদা বানু |

ডা. আয়শা আখতার মুনিম, আমাদের অতি প্রিয় বানু আপা একেবারে হঠাত্ই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আট বছর আগে ঠিক একইভাবে চলে গিয়েছেন তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুল মুনেম। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
১৯৫৭ সালে বানু আপার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। আমরা দুই বোন আইএসসি পাস করে উইমেন্স হলে (বর্তমান রোকেয়া হল) ঢুকেছি। কিছু দিন পরই বানু আপা রাজশাহী থেকে এসে ভর্তি হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পার্ট ওয়ানে। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে দূর থেকে দেখতাম। রাজশাহী কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্সে তিনি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন। সেই যুগে পড়াশোনায় ভালো ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কৌতূহল ও মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠত। তা ছাড়া লম্বা, সুশ্রী, উন্নত শির বানু আপা দূর থেকেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। সাদা শাড়ি, মাথায় একটু ঘোমটা, সুন্দর চেহারার বানু আপা পরবর্তীকালে খুব একটা বদলাননি। বিশ্ববিদ্যালয় ও হলজীবনের স্মৃতি আমাদের জীবনে—হয়তো বা বানু আপার জীবনেরও—এক সুমধুর মূল্যবান অধ্যায়। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কার্জন হলে সুপ্রশস্ত লম্বা বারান্দা, লেকচার থিয়েটার, প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস আর শিক্ষকদের বক্তব্যের স্মৃতি কখনো ভোলার নয়। ক্লাসের পর হলে ফিরেও আমরা ক্লান্ত হতাম না। শীতকালে ব্যাডমিন্টন খেলা হতো। অন্য সময় মাঠে ঘাসের ওপর গোল হয়ে বসে আড্ডা চলত। এসব আড্ডায় প্রায়ই হতো বানু আপা ও রোজী আপার (অধ্যাপক রাজিয়া বেগম, সাবেক প্রিন্সিপাল, ইডেন কলেজ) গান। ১৯৯৬ সালে রোজী আপা আর ২০০৪ সালে সেলিনা আপা (অধ্যাপক সেলিনা বাহার জামান) ইহকাল ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। সেলিনা আপা যদিও হলে ছিলেন না, কিন্তু কার্জন হলের কমন রুমের মধ্যমণি ছিলেন তিনি। আজ বানু আপার কথা বলতে গিয়ে রোজী আপা ও সেলিনা আপাকে বড় বেশি মনে পড়ছে।
আমাদের সময় হলজীবন কেমন ছিল তা এই যুগের ছেলেমেয়েরা কল্পনাও কতে পারবে না। হলের ভিপি প্রতিভা মুত্সুদ্দি আমাদের জোর করে বাধ্য করতেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে। কার্জন হলে উইমেন্স হলের বার্ষিক নাটক মঞ্চস্থ হলো—শরত্চন্দ্রের বিজয়া। কেউ কি মনে রেখেছেন ‘নরেন’ চরিত্রে বানু আপার অভিনয়ের কথা? আমার চোখে এখনো স্পষ্ট ভাসে, দীর্ঘ সুঠাম দেহ, প্রায় পুরুষ মানুষের সমান লম্বা, ধুতি-পাঞ্জাবি পরা বানু আপাকে নরেনের চরিত্রে কী চমত্কার মানিয়েছিল! ফাইনাল ইয়ারে ওঠার পর বানু আপা হল ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে। আমরা তাঁর একান্ত অনুগত সহকারী ছিলাম।
বানু আপা এমএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার পর অনেক দিন আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল না। তবে তাঁর খবর সব সময় রাখতে চেষ্টা করতাম। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে গিয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে পিএইচডি করেন। পশ্চিম পাকিস্তানে ডিফেন্স সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে চাকরি করেন কিছুদিন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকায় ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। ইতিমধ্যে তিনি একে একে চার সুযোগ্য কন্যার মা হয়েছেন এবং সংসারে নানা দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।
বানু আপা অতি শান্ত, স্নিগ্ধ স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁকে কখনো রাগ করে মাথা গরম করতে দেখিনি। বেশ অন্তর্মুখী, প্রচারবিমুখ মানুষ ছিলেন। নিজেকে কখনো জাহির করতেন না। আমার অনেক সময় মনে হয়েছে, তিনি তাঁর ন্যায্য দাবিও নিজের মুখে অন্যের কাছে তুলে ধরতে পারতেন না। দূর থেকে তাঁকে খুব গম্ভীর, রিজার্ভ মনে হলেও যারা তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছে, তারা তাঁর চরিত্রে মাধুর্যের পরিচয় পেয়েছে। কখনো তাঁকে অন্য মানুষের নিন্দা করতে শুনিনি। সাধারণ আনন্দ-উত্সবে সব সময় তাঁকে আমাদের মধ্যে না পেলেও, ১৪ ডিসেম্বর আমার ভাই শহীদ গিয়াসউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি প্রতিবছর উপস্থিত থাকতেন। এবার থেকে তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের ভীষণ কষ্ট দেবে।
গত কয়েক বছর নানা উপলক্ষে আমাদের প্রায়ই দেখা হয়েছে। ২০০০-০৩ সালে আমরা একসঙ্গে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েসনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরূপে কাজ করেছি। প্রতিটি মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। গত বছর আমরা একসঙ্গে সাভারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হাউজিং সোসাইটির বার্ষিক সভায় গিয়েছি। তাঁর সান্নিধ্যে সময়টা কী সুন্দর কেটেছে! তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার স্মৃতি আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। এক মাসও হয়নি, আমরা দুজন সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গিয়ে হাউজিং সোসাইটির জমির নমিনেশন ফর্ম পূরণ করে এলাম। ফেরার পথে আমার বাসায় চা খেতে খেতে কত যে গল্প করলেন! অনেক দিন তাঁর এত গল্প শুনিনি। নিজের প্রয়াত স্বামী, মেয়ে, নাতি-নাতনিদের কথা, শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ সবার গল্প করলেন। যাওয়ার সময় বললেন, ‘তোমার সঙ্গে গল্প করে খুব ভালো লাগছে।’ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একাকিত্ববোধে আক্রান্ত হব আমরা সবাই। তরুণ বয়সের মধুর স্মৃতি তর্পণ করে সময় কাটবে হয়তো। রোজী আপা, সেলিনা আপা চলে গেছেন একে একে। একইভাবে কাউকে কোনো কষ্ট না দিয়ে বানু আপাও চলে গেলেন সৃষ্টিকর্তার অমোঘ নিয়মে। আমিও শেষ দিনের অপেক্ষায় আছি। মনে মনে ভাবি, জীবনে চলার পথে এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যাঁদের সংস্পর্শে নিজের জীবন সার্থক হলো। তাঁদের প্রতি নিবেদন করি আমার একান্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও জড়িত হবে না কেন? by মনজুরুল ইসলাম

ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের সহায়তায় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত যে, সম্প্রতি মন্ত্রিসভা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধনী-২০০৯ খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এ আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন ও শর্ত সাপেক্ষে আউটার ক্যাম্পাস স্থাপন ও দূরশিক্ষণ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধনীতে দূরশিক্ষণ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে অনেক লেখালেখি হয়েছে। অনেকেই পক্ষে বলেছেন আবার দু-একজন বিপক্ষে বলেছেন। যার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা এ শিক্ষা পদ্ধতির অপব্যবহার। ১৮ নভেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি অভিমত কলাম পড়লাম। সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ প্রোগ্রাম নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে—সরকারি তদারকির অনুপস্থিতি, ইউজিসির মান নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি, অনভিজ্ঞতা, ই-মিডিয়া ব্যবহার না করা ইত্যাদি। সুতরাং বেসরকারি খাতকে ঢালাওভাবে দোষারোপ না করে বরং এই কারণগুলো দূরীকরণে মনোযোগী হতে পারলে সরকারি-বেসরকারি যেকোনোভাবেই দূরশিক্ষণ পরিচালনা করা যেতে পারে।
১. যেহেতু সরকার দূরশিক্ষণ শিক্ষা পদ্ধতি বন্ধ করেও আবার চালু করতে চাইছে, সেহেতু তা নিশ্চয়ই অত্যাবশ্যকীয় বিবেচিত হয়েছে। কারণ, দেশকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে একটি সংযোজনী বা অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে এখন এর বিকল্প নেই। দেশের বৃহত্ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত আসন যথেষ্ট নয়। তড়িঘড়ি করে শত শত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা সম্ভব নয়—এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের দূরশিক্ষণ পদ্ধতির অনুমোদন দেওয়া উচিত।
২. যাঁরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগানে বিশ্বাস করেন না, যাঁরা উন্মুক্ত শিক্ষা পরিচালনা-প্রসার সম্বন্ধে সীমিত জ্ঞান রাখেন, যাঁরা প্রযুক্তি ও আইসিটিকে কাজে লাগিয়ে কর্মজীবী ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুবিধামতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিপক্ষে এবং যাঁরা আইসিটি ও এর প্রয়োগের সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁরাই কেবল দূরশিক্ষণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততাকে অসমর্থন করবেন। কারণ, উন্মুক্ত দূরশিক্ষণে উন্নত প্রযুক্তির (যেমন-ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও নিজেদের interactive যোগাযোগ, অডিও-ভিডিও কনফারেন্সিং, সিডি, ওয়েবসাইট ইত্যাদি) ব্যবহারকে অন্যতম সহায়ক হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচলিত (conventional) পদ্ধতিতে শিক্ষা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও ভালো করছে। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও কেউ ভালো করে, কেউ খারাপ করে। তাই বলে সবগুলোকেই একত্রে বন্ধ করা সমীচীন নয়। সুতরাং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির মতো দূরশিক্ষণ পদ্ধতির জন্যও অনুমতি দেওয়া উচিত। কারণ, শিক্ষা নিয়ে ঘৃণ্য ব্যবসা করতে চাইলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায়ও করা সম্ভব ছিল। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
৪. দূরশিক্ষণ পদ্ধতি শিক্ষার একটি পদ্ধতি মাত্র, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি সুপরিচিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। মান নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তা পরিচালিত করতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মতো বেসরকারি খাতেও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা যেতে পারে। কারণ, মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় বৃহত্ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। নতুন পাবলিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা অনেক সময়সাপেক্ষ। সুতরাং যাচাই-বাছাই করে শর্ত সাপেক্ষে কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্বৈত পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের অনুমতি দেওয়া উচিত।
. বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষাদানে ও গবেষণায় দেশে-বিদেশে আমার বেশ কয়েক বছর কাজ করার সুযোগ হয়েছে। গত এক দশকে পাঁচ-পাঁচটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে যোগদান ও পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে। কিছুকাল বাউবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রাম কোর্স বাদ দিলে তাদের উচ্চশিক্ষায় অবদান খুবই নগণ্য। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বল্পসময়ের প্রোগ্রাম হওয়ায় ও কাঙ্ক্ষিত মানের অধিকসংখ্যক প্রোগ্রাম না হওয়ায় অনেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বিগত কয়েক বছরের উপাত্ত দেখলেই এটা পরিষ্কার হবে। তা ছাড়া, গত ১৭ বছরে তাদের এখনো শিক্ষার্থী-শিক্ষক সার্বক্ষণিক অনলাইনে যোগাযোগ, সিডি/ভিসিডি, অডিও-ভিডিও কনফারেন্সিং কিছুই তেমন নেই। শুধু ভর্তির শুরুতে কতগুলো পুস্তক দেওয়া হয়। কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশনে স্বল্পসময়ের জন্য ব্রডকাস্টের ব্যবস্থা আছে প্রশংসনীয়ভাবেই। সে তুলনায় দু-একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেকখানি এগিয়ে ছিল।
৬. বেসরকারি খাতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞদের প্রচলিত প্রথার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার অনুমতি দিয়ে উত্সাহিত করা উচিত। সৃজনশীলতা ও গতিশীলতার জন্য বেসরকারি খাত সর্বদাই প্রশংসিত। সুতরাং হয় বেসরকারি খাতকে কোনো পদ্ধতিতেই শিক্ষা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়, নতুবা মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচিত যেকোনো পদ্ধতিতেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া উচিত। তাহলে কি সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব? সম্ভব নয়। ইউজিসি ও সরকারি তদারকি এবং অভিজ্ঞদের দ্বারা দূরশিক্ষণের পাঠ্যতালিকা প্রণয়ন ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক এই দেশে বঞ্চিত ও কর্মজীবীসহ সবার সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। দূরশিক্ষণকে যদি এভাবে সংকুচিত করেই রাখা হয়, সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই ছড়িয়ে দেওয়া না হয়, তাহলে দেশের শিক্ষা অবশ্যই ব্যাহত হবে। আজ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো দূরশিক্ষণে অনেক এগিয়ে গেছে। দ্রুত উন্নয়নশীল মালয়েশিয়ায় ইতিমধ্যে দুটি বেসরকারি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে। সেখান থেকে আমাদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত। সবকিছুতেই দেরিতে সিদ্ধান্ত নিলে জাতি হিসেবে আমরা সারাজীবন পিছিয়েই থাকব। ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে, আর দেরি করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশেও মান নিয়ন্ত্রণ এবং সার্থকভাবে দূরশিক্ষণ পরিচালনা করা সম্ভব—প্রয়োজন যথোপযুক্ত নিয়ন্ত্রণের, উদ্যোক্তাদের সদিচ্ছা ও উদ্যোগের (সবাই খারাপ অর্থে ‘ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির’ নন) এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার।
অধ্যাপক ড. মনজুরুল ইসলাম: সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ওপেন, ভার্চুয়াল অ্যান্ড ডিসট্যান্স লার্নিং।

আইন প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে -জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি

গত ১২ বছরেও নারী উন্নয়ন নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঘোষণা আর পুনর্ঘোষণাতেই আটকে আছে এর ভবিষ্যত্। বর্তমান মহাজোট সরকারের অঙ্গীকারের মধ্যে নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা রয়েছে। কার্যত এর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় কথা। নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া একটি সমাজ সমৃদ্ধ ও মানবিক হতে পারে না। আর এ কাজটি রাষ্ট্রীয় উত্সাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব নয়।
১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতিটি বাংলাদেশে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ নীতিটি প্রণয়ন করা হয় বেইজিং সম্মেলন এবং জাতিসংঘ-ঘোষিত নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিডও) আলোকে। এই নীতি প্রণয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন নারী অধিকার ও নারী আন্দোলনের কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার শাসনামলে এ নীতির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে পারেনি। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আরোহণের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। তারা কোনো রকম আলাপ-আলোচনা ছাড়াই নারী উন্নয়ন নীতিটি গোপনে সংশোধন করে ২০০৪ সালের মে মাসে প্রকাশ করে, যেখানে নারীর অধিকারের মৌলিক প্রশ্নগুলোই এড়িয়ে যাওয়া হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৪-এর পশ্চাত্পদ নারীনীতিটি বাতিল করে ‘নারী উন্নয়ন নীতি, ২০০৮’ ঘোষণা করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ওই নীতিটিও আর বাস্তবায়িত হয়নি।
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ উপনেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীর নিয়োগ এ সরকারের নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। সরকার সম্প্রতি বাবার সমান্তরালে মায়ের একক অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনার ঘোষণার মাধ্যমেই সব দাপ্তরিক কাজে বাবার পাশাপাশি মায়ের নামের প্রচলন হয়েছে, যার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। নারী বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, এ সরকারের পক্ষেই নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
সরকার বলছে, ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতি পুনর্বহাল করবে। সরকারের সদিচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা বলতে চাই, আবার ১২ বছর পেছনে যাওয়ার দরকার কী? ২০০৮ সালের নীতি বাস্তবায়ন করতে অসুবিধা কোথায়? কারণ, ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ঘোষিত নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮-এর মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। শুধু কাজের আওতা না বাড়িয়ে নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের মনোযোগী হওয়া উচিত।
এ বছর সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকার অঙ্গীকার করেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের জন্য আইন প্রণয়ন করবে। আশা করা যায়, সরকার তার অবস্থান থেকে পিছু হটবে না।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমীন চৌধুরী বলেছেন, সরকার শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করবে। আমরা আশা করব, সরকার শুধু ঘোষণার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখবে না, সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করে নারী উন্নয়ন নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

নতুন মাত্রার সংযোজন -প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

এবারই প্রথম সারা দেশে একসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, শিশুশিক্ষার্থীরা মহা উত্সাহে পরীক্ষা দিয়েছে। উপস্থিতির হার ৯২ শতাংশ, যা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। যেখানে শিশুদের মধ্যে পরীক্ষাভীতি প্রবল, সেখানে পরীক্ষাকে উত্সবে পরিণত করা একটি তাত্পর্যপূর্ণ ব্যাপার। এটা প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন মাত্রার সংযোজন।
আমরা কথায় বলি—সকালের দুই মুঠি, সারা দিনের খুঁটি। এর মর্মার্থ হলো, সকালবেলা পেটভরে খেয়ে নিলে সারা দিন কাজ করা যায়। শিক্ষার সকালবেলাটি হলো প্রাথমিক শিক্ষার স্তর। এ সময় ভালো পড়াশোনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বাকি শিক্ষাজীবনে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। দেশব্যাপী একই প্রশ্নপত্রে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন সেদিক থেকে এক ধাপ অগ্রগতি। প্রাথমিক ‘এসএসসি পরীক্ষা’র আকর্ষণ শিশুদের শিক্ষার প্রতি অনুরাগী করে তুলতে সাহায্য করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২০ লাখ শিশুশিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ সহজ কথা নয়। এখানে সুবিধা হলো, আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কার্যালয় ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। জালের আকারে বিস্তৃত এই কাঠামো ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সম্ভব। তবে এখানে মনে রাখতে হবে, যেহেতু একই মানের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তাই পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রেও সমমান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানের ফল পেতে পারে, যা সমর্থনযোগ্য নয়। খাতা মূল্যায়নে একটি অভিন্ন নীতিমালা যেন সব পরীক্ষক মেনে চলতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা দরকার। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
আরেকটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া দরকার। শহরাঞ্চলে যত সহজে পরীক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যেতে পারে, দূরবর্তী অঞ্চলের অনেকের পক্ষে তা সম্ভব নাও হতে পারে। বিশেষত হাওর, চরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার দুর্গম এলাকায় যাতায়াত কষ্টসাধ্য। সেখানে পঞ্চম শ্রেণীর শিশুদের পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করার সহজ উপায় বের করা দরকার।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মূল্যায়ন বিভাগ পদ্ধতি, না গ্রেড পয়েন্টে হবে—এটা ভেবে দেখা দরকার। এই শিশুরাই আর পাঁচ বছর পর পরীক্ষার ফল পাবে গ্রেড পয়েন্টে। তাহলে সেটা কেন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকেই শুরু হবে না? প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এ দিকটি ভেবে দেখতে পারেন। ভবিষ্যতের প্রস্তুতি প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শুরু হওয়া বাঞ্ছনীয়।
একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী স্তরে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা প্রায় আট শতাংশ বেশি। ছাত্রীদের উপবৃত্তি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। মেয়েরা শিক্ষায় এগিয়ে এলে সমগ্র সমাজের এগিয়ে যাওয়ার একটি অন্যতম শর্ত সৃষ্টি হয়। তাই এ ধারাটি ধরে রাখার জন্য সরকারকে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকলেও একটি ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা যে শুরু করা গেছে, সেটাই বড় কথা। একে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার পথে প্রথম সোপান হিসেবে দেখা চলে।

সমর্থন সংগ্রহে তৎপর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবির -স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সিনেটে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার প্রস্তাব সিনেটে অনুমোদনের লক্ষ্যে নিজ নিজ পক্ষে সমর্থন সংগ্রহে শেষ মুহূর্তেও জোর তৎপর ছিল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবির। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাতে মার্কিন সিনেটে ভোট নেওয়ার কথা। এ প্রস্তাব নিয়ে চলমান বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটে এবার বিরোধী রিপাবলিকান-দলীয় সদস্যরা নারীদের ক্যানসারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁরা নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যানসার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন। খবর এএফপির।
নারীদের ক্যানসার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনটির প্রসঙ্গ টেনে আলাস্কার সাবেক গভর্নর ও গত নির্বাচনে রিপাবলিকান-দলীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পেলিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রতিবেদনটির পরামর্শ শুনে আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টি এসেছে তা হলো ‘রেশনভিত্তিক সেবা দেওয়া’। এই প্রতিবেদন ওই রেশন সেবার প্রাথমিক ধাপ হতে পারে।”
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনটিতে স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য নারীদের নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ‘ম্যামোগ্রাম’ ৪০ বছরের পরিবর্তে ৫০ বছর থেকে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী টাইম-এর প্রতিবেদক কেট পিকার্ট লিখেছেন, বর্তমানে এই ‘ম্যামোগ্রাম’ নিয়ে রিপাবলিকান শিবির নতুন বিতর্কে মেতে উঠেছে। এ ধরনের বক্তব্যকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল উল্লেখ করে ডেমোক্র্যাট-দলীয় কংগ্রেস সদস্য ডেবি ওয়াসেরমান শুলত্জ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করেছেন।
এদিকে সিনেটে ভোট গ্রহণ সামনে রেখে ওবামার ডেমোক্র্যাট শিবির তাদের প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহে শেষ মুহূর্তে জোর প্রচেষ্টা চালায়। ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেটর ডিক ডারবিন বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু ধরে নিচ্ছি না; বরং সিনেটে সব ডেমোক্র্যাটকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। ১০০ সদস্যের সিনেটে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন।’ প্রস্তাবটি নিয়ে সংশয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট-দলীয় সিনেটর বেন নেলসন বলেন, তিনি হয়তো দলের পক্ষেই ভোট দেবেন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় তিনি রিপাবলিকানদের পক্ষেও চলে যেতে পারেন। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট-দলীয় আরও দুজন সিনেটর ম্যারি ল্যান্ডরিউ ও ব্ল্যাঞ্চে লিনকন এখন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এদিকে রিপাবলিকান-দলীয় ৪০ জন সিনেটর এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।
এর আগে ৭ নভেম্বর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২২০-২১৫ ভোটে স্বাস্থ্যসেবা খাতসংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। তবে ওই প্রস্তাবটির সঙ্গে সিনেটে যে প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়া হবে তার কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দুটি প্রস্তাব নিয়ে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব আইন আকারে তৈরি করার জন্য আবার আলোচনা শুরু হবে। বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারবিষয়ক প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবীমা চালু করার কথা বলা হয়েছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে নতুন করে তিন কোটির বেশি মার্কিন নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে।

কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নিদালের - ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ড

কট্টরপন্থী একজন মার্কিন ধর্মীয় গুরুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফোর্ড হুড হত্যাকাণ্ডের নায়ক মেজর নিদাল হাসানের। এ মাসের গোড়ার দিকে নিদাল টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে গুলি করে ১৩ জনকে হত্যা করেন। এর আগে তিনি ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত ওই মার্কিন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে ই-মেইল চালাচালি করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চোখ এড়িয়ে বিদেশে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারের ব্যাপারেও দুজনে আলোচনা করেন।
গতকাল শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এএফপির।
দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এফবিআই জানতে পারে, কট্টরপন্থী মুসলিম ইমাম আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে গত বছর ই-মেইলে যোগাযোগ শুরু করেন নিদাল হাসান। এ বছরের জুন মাসেও তাঁরা পরস্পরকে কয়েক দফা ই-মেইল করেন। এই তথ্য এফবিআই সেনাবাহিনীকে জানায়নি।
সূত্র দুটির উল্লেখ না করে পত্রিকাটি আরও জানায়, নিদাল হাসান প্রথম দিকে ধর্মীয় ব্যাপারে কথাবার্তা চালিয়ে যান। পরে তিনি ধীরে ধীরে কট্টরপন্থী হয়ে ওঠেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, নিদাল ও আল-আওলাকি বিদেশে নিরাপদে অর্থ পাচারের ব্যাপারেও আলোচনা করেন।

ভাগ্যবানই বটে র্যান্ডি ব্রেসনিক। চিকিত্সকেরা গত বছর বলেছিলেন তিনি বাবা হতে পারবেন না। কিন্তু কয়েক মাস পরই র্যান্ডির স্ত্রী রেবেকা বুর্গিন অন্তঃসত্ত্বা হন। মার্কিন নভোচারী র্যান্ডি এখন আকাশে বসেই আরও একটা দারুণ খবর পেলেন, শিগগিরই কন্যাসন্তানের বাবা হতে যাচ্ছেন তিনি। র্যান্ডি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রয়েছেন। তাঁর বাবা হওয়ার আনন্দঘন মুহূর্তটির জন্য পুরো নাসা পরিবার এখন অধীর অপেক্ষায়।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘র্যান্ডির কন্যাসন্তান যেকোনো সময়ই পৃথিবীর মুখ দেখতে পারে। সম্ভবত আজ রাতেই (শনিবার) র্যান্ডি তাঁর বাবা হওয়ার সুখবরটি পাবেন।’
চিকিত্সকদের কথামতো সন্তান লাভ করতে পারবেন না ভেবে র্যান্ডি ও তাঁর স্ত্রী গত বছর ইউক্রেন থেকে একটি পুত্রসন্তান দত্তক নেন। কিন্তু এর মাস কয়েক পরই রেবেকা মা হওয়ার সুখবর দেন।
র্যান্ডি হবেন দ্বিতীয় বাবা, যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে বাবা হওয়ার খবর পাবেন। এর আগে ২০০৪ সালে নভোচারী মাইকেল ফিঙ্কি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বসে বাবা হওয়ার সুখবর পান।

ইতালিতে দুই পাকিস্তানি গ্রেপ্তার -মুম্বাই হামলার ঘটনা

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীমুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলাকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ইতালির পুলিশ। দেশটির গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার এ তথ্য জানানো হয়। খবর এএফপির।
ইতালির সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক বছর ধরে তদন্তের পর ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় একটি শহরে বিদেশে টাকা পাঠানোর একটি প্রতিষ্ঠান চালাত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই ব্যক্তি ভুয়া নাম ব্যবহার করে মুম্বাই হামলাকারীদের কাছে টাকা পাঠিয়েছিল। গোয়েন্দারা এর প্রমাণ পেয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে গোপনে ও অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন ও ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাইয়ে ওই সন্ত্রাসী হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন।
মার্কিন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবা ওই হামলা চালায়। এতে ১০ সশস্ত্র জঙ্গি অংশ নেয়। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গিদের নয়জন নিহত হয়। জীবিত ধরা পড়েন আজমল আমির কাসাব নামের এক জঙ্গি।

শিক্ষা ব্যয় কমানোর দাবিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ

শিক্ষা ব্যয় কমানোর দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন দুই দিন ধরে অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। বর্ধিত টিউশন ফি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পাস পুলিশের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পাস ঘিরে রেখেছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে বিক্ষোভস্থল থেকে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের মুখে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্ধিত টিউশন ফি কার্যকর হলে আগামী জানুয়ারি থেকে প্রতি শিক্ষার্থীকে বছরে ন্যূনতম আট হাজার ৩৭৩ ডলার টিউশন ফি দিতে হবে। ফি বাড়ার দ্বিতীয় ধাপে আগামী বছরের শেষ প্রান্তে টিউশন ফি দিতে হবে ১০ হাজার ডলারেরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বেলায় বর্ধিত ফি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ফি বেড়ে ১৭ হাজার ২০০ ডলার হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চলমান মন্দা-অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস অন্যতম। সেখানে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাপকসংখ্যক বাড়িঘর নিলামে উঠেছে। একদা জমকালো জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত ছিল এ লস অ্যাঞ্জেলেস।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিউশন ফি বাড়িয়ে ৫০৫ মিলিয়ন ডলার তাদের সংগ্রহ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের টিউশন ফি বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

পানির ট্যাংকের শতবর্ষ

শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ খাবার পানির ট্যাংক কলকাতার টালা ট্যাংক। এবার সেই ট্যাংকের শতবর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে। টানা ১০০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কলকাতার মানুষকে পরিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে এই টালা ট্যাংক। এই সুদীর্ঘ দিনে ট্যাংকে কয়েকবার সামান্য কিছু ছিদ্র ধরা পড়লেও তা যথারীতি মেরামত করা হয়েছে। কলকাতার উত্তর প্রান্তের শ্যামবাজারের কাছে পাইকপাড়ায় অবস্থিত ওই ট্যাংকটি সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গত বুধবার ওই ট্যাংক তার ১০০ বছর পূর্ণ করেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম এই পানির ট্যাংকটি তৈরি হয়েছে গ্যালভানাইজড লোহার চাদর দিয়ে। ১১০ ফুট উচ্চতায় এই ৩২১ ফুট পরিধি বিশিষ্ট ট্যাংকটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ৯০ লাখ গ্যালন পানি ধারণ করে। ট্যাংকটির গভীরতা ১৬ ফুট। দিনের ২৪ ঘণ্টাই একদিক দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়, অন্যদিক দিয়ে উত্তর শহরতলির পলতা থেকে পরিশুদ্ধ পানি এসে ভর্তি করে ট্যাংকটি। আর সেই পানি ভূগর্ভস্থ পাইপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় উত্তর শহরতলির সিঁথি থেকে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর পর্যন্ত গৃহস্থের ঘরে ঘরে।
ব্রিটিশরাই শুধু লোহালক্কড় দিয়ে তৈরি করেছিল ওই বিশালাকার ট্যাংকটি। ১৯০৯ সালে এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। অবিভক্ত বাংলার তত্কালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যাডওয়ার্ড বেকার এর ভিত্তি স্থাপন করেন। ওই প্রকল্পের কাজ করেছিল ইংল্যান্ডের লিডসের বিখ্যাত ক্লেটন সন অ্যান্ড কোম্পানি। ট্যাংকটি তৈরি করতে সেই যুগে খরচ হয়েছিল পাঁচ লাখ রুপি।
সময়ের ব্যবধানে টালা ট্যাংক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কলকাতারও এক গর্বের দ্রষ্টব্য এই ট্যাংক। তবে ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই। কলকাতা পুরসভার মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, টালা ট্যাংকের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি পুস্তিকা বের করা হবে। একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।

রাশিয়ার আধুনিকায়ন: মেদভেদেভকে সমর্থন করলেন পুতিন

রাশিয়ার অর্থনীতির আধুনিকায়নে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের আহ্বানকে জোর সমর্থন করেছেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সব নেতার উচিত মেদভেদেভের আহ্বানে সাড়া দেওয়া।
সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মেদভেদেভ বলেন, ‘রাশিয়াকে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকলে আর চলবে না, দেশের অর্থনীতির আধুনিকায়নও জরুরি।’ সেন্ট পিটার্সবুর্গে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির বার্ষিক কংগ্রেসে গতকাল শনিবার দেওয়া বক্তৃতায় পুতিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের ডাক রাশিয়ার সব সমাজেরই প্রতিফলন। রাশিয়ার অর্থনীতির আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মেদভেদেভের ডাক যথার্থ। আমাদের উচিত রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে তাঁর এ আহ্বানে সাড়া দেওয়া।’
বিশ্বমন্দার এ সময় রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন পুতিন। এ জন্য সব নেতা-কর্মীকে তিনি স্বাগত জানান। পুতিন এও বলেন, রাশিয়ার জিডিপি ৮ দশমিক শূন্য থেকে ৮ দশমিক ৫-এ রয়েছে। জিডিপির উন্নয়নে আরও সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ভারত-মার্কিন সহযোগিতার সম্পর্ক খুবই জরুরি -যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রাক্কালে মনমোহন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, ভারত-মার্কিন সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আমাদের জন্য খুবই জরুরি। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং এগুলোর সমাধানে কৌশলগত বিভিন্ন দিক নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ত্যাগের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ২২ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।
নয়াদিল্লি ত্যাগের আগে এক বিবৃতিতে মনমোহন সিং বলেন, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মতো বৈশ্বিক হুমকি এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার আশা করছেন তিনি। এ ছাড়া বাণিজ্য আলোচনার দোহা রাউন্ড এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়েও তাঁরা দুই নেতা মতবিনিময় করবেন।
মনমোহন বলেন, ‘আফগানিস্তান পরিস্থিতি ও অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যু নিয়েও আলোচনার আশা করছি আমি।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘পণ্য ও সেবাক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। আমাদের মধ্যে গভীর বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বড় ভারতীয়-মার্কিন জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ ছাড়া গণতন্ত্র, বহুত্বধর্ম এবং মানবাধিকারের প্রতি আমাদের একই মূল্যবোধ এবং অঙ্গীকার রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে কমনওয়েলথ সরকার-প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে পোর্ট অব স্পেন যাবেন মনমোহন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা অভিযানে চিরশত্রু পাকিস্তানের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতায় অস্বস্তিতে রয়েছে ভারত।
নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তালেবান বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করতে পারে ইসলামাবাদ।

ব্যবসার প্রতিযোগিতায় টিকতে জ্ঞানমুখী হওয়ার তাগিদ -ব্র্যান্ড ফোরামের নলেজ সেন্টার উদ্বোধন

বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুর জন্যই মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি বিকল্প সম্ভাবনা। একটি হচ্ছে, সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। অন্যটি হলো, জয়ী হতে বদলানো। এ জন্য জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে পরিবর্তন আনতে হবে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুরই প্রথাগত চিন্তাভাবনায়।
আর এই বিবেচনা সামনে রেখে বাণিজ্য, বিপণন, ব্র্যান্ড, কৌশল ও সৃষ্টিশীলতা বিষয়ে জ্ঞানভাণ্ডার (নলেজ সেন্টার) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। গুলশানে ফোরামের নিজস্ব কার্যালয়ে গতকাল শনিবার এ নলেজ সেন্টারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। ব্র্যান্ড ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ফারহাত আনোয়ার এ সময় নলেজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের একটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা আরও অনেক আগেই হওয়ার দরকার ছিল।’ তবে দেরিতে হলেও বেসরকারি উদ্যোগে তা হওয়ার জন্য তিনি খুশি। এ সেন্টার সৃষ্টিশীলতাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে একে অপরের কাজে লাগবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের উন্নতির পথে অন্যতম অন্তরায় হচ্ছে অজ্ঞানতা। যে বিষয়ে যিনি যা-ই করতে যান না কেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য তৈরিতে অনেক সময়ই তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এই বিবেচনা থেকে এ দেশের মানুষের উপকারের জন্যই নলেজ সেন্টার ধারণার সূত্রপাত।
তরুণদের প্রশিক্ষণ, সেমিনার, নেতৃত্ব সম্মেলন (লিডারশিপ সামিট), মাসিক ব্যবসায় প্রকাশনা, ব্র্যান্ড পুরস্কার, কলা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়া, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সাফল্যগাথা তুলে ধরা, স্থানীয় তত্ত্বের উন্নয়ন ও নতুন নতুন তত্ত্ব দেওয়া, স্থানীয় বাজার বোঝা ও ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করবে নলেজ সেন্টার।
ব্র্যান্ড ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘দেশে ভালো ব্যবসায় থাকলেও মহত্ ব্যবসায়ী খুব বেশি নেই। প্রতিভাবান লোক থাকা সত্ত্বেও সেই প্রতিভার কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। কথা দিয়ে তা না রাখাটাই অনেকের অভ্যাস। অন্যদিকে পণ্য উত্পাদন ও বিপণনে ভোক্তাকে তেমন মর্যাদা দেওয়া হয় না। এসবের পরিবর্তন আজ জরুরি।’
ফারহাত আনোয়ার জানান, স্থানীয় কোম্পানিকে বিশ্বমানে উন্নীতকরণ, দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যকে প্রসারিত করা, ব্যবসায়ের পাশাপাশি সমাজে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও নলেজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ।
নলেজ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক নওশাদ করিম চৌধুরী, কোকাকোলা ফারইস্টের কান্ট্রি হেড দেবাশীষ দে, এসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর, রহিমআফরোজের পরিচালক মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, ব্র্যান্ড ফোরামের উপদেষ্টা প্রিমা আন্দালিব, রুবাবা দৌলা প্রমুখ।
নলেজ সেন্টারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—গ্রামীণফোন, এক্সেসটেল, অ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস, প্রথম আলো, সুবাস্তু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, কোহিনূর কেমিক্যাল, ইব্রাহীম টেক্সটাইল, গ্যালারি অ্যাপেক্স, রহিমআফরোজ, বিইওএল, নাভানা গ্রুপ, এসএসডি-টেক, অটবি, ট্রান্সকম লিমিটেড ও পারটেক্স গ্রুপ।

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে প্রথম আলো জবসের কর্মশালা

প্রথম আলো জবসের উদ্যোগে গতকাল শনিবার ‘সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলোর সেমিনার রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো জবসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন। এতে প্রধান প্রশিক্ষক উপস্থিত ছিলেন নেসলে বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর নকিব খান।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

রাজশাহীতে সপ্তাহব্যাপী রেশমমেলা সমাপ্ত

ঐতিহ্যবাহী রেশমশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী রেশমমেলা গতকাল শনিবার নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় শেষ হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় আগ্রহী দর্শনার্থীদের সপ্তাহজুড়ে ভিড় থাকলেও আশানুরূপ বেচাবিক্রি হয়নি। তারপরও তাঁরা হতাশ নন বলে জানান।
মেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু বক্কর বলেন, মেলার উদ্দেশ্যই ছিল জনসাধারণকে রেশম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয়ভাবে তুঁত চাষ ও রেশম ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ে।
মেলায় এসে রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ রেশম বোর্ডের স্টলে রেশম চাষ ও ব্যবসার ব্যাপারে ধারণা পান উত্সাহী দর্শনার্থীরা।
এ ছাড়া রেশম সুতার তৈরি পোশাক নিয়ে স্টলের মালিকেরা দর্শনার্থীদের রেশম সুতার ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে তুলে ধরেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানের ছাত্র মোজাম্মেল হক বলেন, এ ধরনের মেলা বছরে দু-তিনবার আয়োজন করা উচিত।