Tuesday, November 16, 2010

ফিচার- 'এটি একটি সংখ্যামাত্র' by রণজিৎ বিশ্বাস

ভ্রমণ যখন বিমানে হয়, একটা বিস্ময় কিছুতেই আমাকে ছাড়তে চায় না। এই বিম্ময় শেষবার আমাকে পেয়ে বসলো প্রায় দু'বছর আগে, ২০০৯'এর জানুয়ারিতে টরন্টো থেকে হংকং আসার পথে।

বারোচৌদ্দ বগির ট্রেনের যাত্রীর সমান মানুষে ঠাসা ভরাপুরা এই বাহনটি সাড়ে ছ'শ প্যাসেঞ্জার ও তাদের লাগেজ, কেবিন লাগেজ ও তাদের জন্য চৌদ্দ ঘন্টার খাদ্যাখাদ্যসহ আরও ছ-সাতশ' মানুষের ওজন নিয়ে ঘন্টায় হাজার কিলোমিটার বেগে উড়ে যাচ্ছে কীভাবে!

আমার পিতা হারানোর তিথি by শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য পাঁড়ে

দেখতে দেখতে পাঁচ-পাঁচটা বছর চলে গেল। ঘাতকের নৃশংস বোমায় মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার সংসার। আমার বাবা ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী জজ জগন্নাথ পাঁড়ে তাঁর সহকর্মী আরেক সহকারী জজ সোহেল আহমেদের সঙ্গে নিহত হন জেএমবি নামের জঙ্গিদের হামলায়।
আমার বাবা, সোহেল চাচ্চুকে মেরে ওদের কী লাভ হয়েছে জানি না, আমার জীবনটা একেবারে পাল্টে গেছে। চিরদিনের জন্য ওরা আমাকে বাবার আদর থেকে বঞ্চিত করেছে। নিজের বাড়ির বদলে আমার ঠাঁই হয়েছে মামার বাড়িতে। আমার জীবনের ঠিকানাই ওরা বদলে দিয়েছে।
আমি যে খুব খারাপ আছি, তা নয়। আমার দাদু, দিদা তাঁদের সমস্ত আদর ঢেলে আমাকে মানুষ করছেন। আমার মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন আমার ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। তিনি নিজের সব সুখ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছেন আমার মুখের পানে চেয়ে। দিব্যি রোজ খাই-দাই, স্কুলে যাই, খেলাধুলা করি। যা দরকার, চাওয়ার আগে পাই। আমার কোনো কিছুর অভাব নেই।
কিন্তু এত সব পেয়েও সারাক্ষণ আমার মন কী এক না-পাওয়ায় ভরে থাকে। যখন কেউ বাবার কথা বলে তখন আমার বুকটা হু-হু করে ওঠে। বাবাকে খুব মনে পড়ে। সবার বাবা আছে, সবার বাবা তাদের ছেলেকে খুব আদর করে, আর আমার বাবা আসে না। ঘাতকদের ফাঁসি হয়ে গেছে। কিন্তু বাবার কথা মনে হলেই ওদের প্রতি আমার ঘৃণা তীব্র হয়ে ওঠে। আমি কী দোষ করেছিলাম যে ওরা আমার নির্দোষ বাবাকে মেরে ফেলল!
বাবার মৃত্যুর পর প্রথম দুই বছর বহু মানুষ আমাদের খবর নিত। বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে কত মানুষ সমবেদনা জানাত। সাংবাদিকদের কত না ছোটাছুটি ছিল আমাদের বাড়িতে। কিন্তু ক্রমশ সবাই বাবাকে ভুলতে বসেছে। সোহেল চাচ্চুকে ভুলতে বসেছে। ওদের ফাঁসির পর আর কিছু শয়তান-বদমাশকে ধরার পর সবাই কি ভেবেছে, সব চুকেবুকে গেছে? আমার বাবার হত্যাকাণ্ড কি এত সামান্য ঘটনা? আমার দাদু বলেন, যারা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তাদের উচিত এই দিনটাকে জঙ্গিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা। এতে অন্তত আমার বাবার স্মৃতিটা বেঁচে থাকবে। এই দিন প্রতিবছর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ শপথ নিতে পারবে। স্কুলে আমাকে বাবা সম্পর্কে রচনা লিখতে দিলে আমি কিছু লিখতে পারি না। বাবার আদরের স্মৃতি প্রতিদিনই ফিকে হয়ে আসছে। তবু মনে পড়ে বাবার হাসিমুখ, আমাকে পাপ্পি খাওয়ার স্মৃতি। কালো কোট পরে কোর্টে যাওয়ার আগে আমাকে আর মাকে আদর করার দৃশ্য এখনো মনে পড়ে। কিন্তু বাবা কি শুধু এতটুকু স্মৃতি, নাকি আরও বেশি কিছু অনুভূতি, ঠিক বুঝতে পারি না। তবে এ মুহূর্তে আমার মা-ই আমার মা, বাবা—সব। মা রচনা লিখতে গেলে কষ্টে আমার চোখে জল এসে যায়। এই জল কেন ওরা আমার মায়ের চোখে চিরদিনের জন্য দিয়ে গেল? কেন চিরদিনের জন্য আমার মায়ের সিঁদুর ওরা মুছে দিল—এ প্রশ্নের মীমাংসা আমি কিছুতেই করতে পারি না। আমি কাঁদতেও পারি না। তাই চুপ করে বসে থাকি আর ভাবি। হঠাৎ দূর আকাশের দিকে দৃষ্টি চলে গেলে কিংবা কোনো হাওয়া আমাকে ছুঁয়ে গেলে আমার মনে হয় বাবা আমার চারপাশে আছে। তার সেই অস্তিত্ব নিয়েই আমি বড় হচ্ছি। আপনারা সবাই আমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন বাবার মতো কিংবা আমাকে নিয়ে বাবার স্বপ্নের মতো আমি হতে পারি।
শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য পাঁড়ে: জঙ্গি হামলায় নিহত বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ের কন্যা।

ন্যানোতে আগুন ধরা মোকাবিলায়

ভারতের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মোটর্স তাদের ন্যানো গাড়ির জন্য বিনামূল্যে নিরাপত্তার মান উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। কয়েকটি ন্যানো গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগার ঘটনার পর গত বুধবার টাটার পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
টাটার এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ৭০ হাজারেরও বেশি ন্যানোর মালিককে আশ্বস্ত করতে চায় যে সামগ্রিকভাবে গাড়িতে কোনো ত্রুটি নেই। প্রায় আড়াই হাজার ডলার দামের বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা এ গাড়িটির বিক্রি শুরু হয় গত বছর থেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাড়িতে নিরাপত্তামূলক অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হবে। এ প্রস্তাবের সুবিধা গ্রহণ করবেন কি করবেন না, ক্রেতারাই এ সিদ্ধান্ত নেবেন।

বুশের বইয়ের প্রশংসা করলেন বিল ক্লিনটন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের লেখা আত্মজীবনী ডিসিশন পয়েন্টস-এর প্রশংসা করেছেন আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তিনি বলেন, ‘খুব চমৎকার লেখা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ মজার। আমার মনে হয়, রাজনীতিবিদদের এটা পড়া উচিত।’
ক্লিনটন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জর্জ বুশ অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেগুলোর সঙ্গে অনেকেই একমত নন। ডিসিশন পয়েন্টস পড়লে তাঁদের হয়তো সেই অবস্থানের পরিবর্তন হবে না, তবে কোন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এসব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তা জানা যাবে।’
হোয়াইট হাউসে বিল পরিস্থিতির উত্তরসূরি ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ডব্লিউ বুশ ও তাঁর বাবা জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল ক্লিনটনের। ১৯৯২ সালে সিনিয়র বুশকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন ক্লিনটন। ডিসিশন পয়েন্টস-এ সিনিয়র বুশের সঙ্গে ক্লিনটনের সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান র‌্যানডম হাউস ডিসিশন পয়েন্টস প্রকাশ করে। ২০০৪ সালে ক্লিনটনের আত্মজীবনী মাই লাইফও প্রকাশ করে র‌্যানডম হাউস। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মাই লাইফ প্রকাশের প্রথম দিনে চার লাখ কপি বিক্রি হয়। ডিসিশন পয়েন্টস প্রথম দিনে বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার কপি।

গল্প- 'সোনালি চিল' by সৈয়দ মোফাজ্জেল হোসেন

ক'দিন ধরেই মন খারাপ রাজিবের। রাত্রির সঙ্গে ওর পরিচয় গত পাঁচ বছরের। এই পাঁচ বছর ধরে ওরা সব সময়েই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখেছে।

রাত্রির বাবা-মাও বিষয়টি জানেন। তার সম্মতি ছিল রাজিবের সঙ্গে রাত্রির বিয়েটা হয়ে যাক। শুধু অপেক্ষা ছিল রাত্রির চাচার আমেরিকা থেকে দেশে আসা নিয়ে। তিনি ঢাকাতে এলেই রাজিব-রাত্রির বিয়েটা হয়ে যাবে। এর ভিতরে রাত্রির এমএটাও শেষ হবে। তার পর আর যেন বাধা নেই।

গল্প- 'বোবা ইশারা' by মণীশ রায়

স্বপ্নের ভেতর পাওয়া গেল এক অদ্ভুত ইশারা। বোবা ইশারা, সালমা সকালে উঠে বিছানায় শুয়ে সেই ইশারার ব্যাখা করতে লাগল মনে মনে।

কালো একটা মুখ, ভেংচি কেটে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছিল। কখনো মনে হচ্ছিল জহিরের চাপা অসুখটার কথা বলছে। কখনো মনে হচ্ছে- তা নয়, সালমার নতুন বসের স্বভাব নিয়ে আগাম সতর্ক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সালমা অভিনেত্রী নয়। হলে হয়তো ইশারা-ইঙ্গিতের একটা অর্থ বের করে ফেলত। সে ছাপোষা এক নারী, মতিঝিলের একটি বীমা কোম্পানীতে নটা-পাঁচট অফিস করে ক্লান্ত, প্রতিটি সপ্তাহ শুরু হয় শুককুরবারের আশায়।

গল্প- 'চিরদিনের' by মঈনুল আহসান সাবের

জিএম-এর মুখ দেখে মনে হলো জীবনে সে এত অবাক আগে কখনো হয়নি। এমন আশ্চর্য কথা সে আগে কখনো শোনেনি। জিএমকে অবাক করে দিতে চেয়েছে, এটা বুঝতে পেরে সে ভেতরে ভেতরে উৎফুলস্ন হয়ে উঠল।

তবে বাইরে তার কোনো ছাপ সে পড়তে দিতে চাইল না। একটা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সে কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে। গুরুতর অভিযোগ এনে আর যাই হোক, মুখ হাসি হাসি করে রাখা যায় না।

স্মরণ- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ সাহিত্যের এক সর্বসত্তা প্রাণ' by আহমাদ মাযহার

আবদুল মান্নান সৈয়দ এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন। মৃতু্যর মাত্র কয়েকঘণ্টা আগেও যিনি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, পরিকল্পনা করেছেন নতুন নতুন লেখার তিনি চলে যেতে পারেন কী করে! ব্যক্তিগতভাবে আমি সৌভাগ্যবান যে

তাঁর মতো মানুষের সানি্নধ্য পেয়েছিলাম। গত এক বছর ধরে প্রায়ই সকালের দিকে আমাকে টেলিফোন করে তাঁর সাহিত্যিক ভাবনার কথা জানাতেন, কত পরিকল্পনা ছিল তাঁর লেখার! বাংলা সাহিত্যের সব সম্পদকে যেন আগলে বসেছিলেন তিনি। একটাও যেন হাত ফসকে বেরিয়ে না যায়! এই তো মাত্রই কয়েকদিন আগে সুকান্তের কবিতার ওপর এক অন্তর্ভেদী আলোচনা লিখে তাঁর গভীর পাঠ অভিজ্ঞতা ও রসবিচারের ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের বিস্মিত করে দিলেন।

আলোচনা- 'বাংলা চর্চা পরিচর্যা ও ইংরেজি শেখা' by ড. সাখাওয়াত আলী খান

বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা এমন একটি লোকও সম্ভবত পাওয়া যাবে না যে বাংলা ভাষা জানে না। এ দেশের ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির লোকদের মাতৃভাষা বাংলা না হলেও তারা বাংলাভাষা বুঝতে পারে এবং মোটামুটি বলতেও পারে।

তাদের মধ্যে অনেকে বাংলা মাধ্যমে লেখাপড়া করে সমাজে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছে। তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও তারা মূলত বাংলাভাষাই ব্যবহার করে থাকে।
পৃথিবীর অনেক দেশেই একটি মাত্র ভাষা দেশের সব মানুষের মধ্যে এমন সর্বত্রগামী হয় না। আমাদের জন্য এটি অবশ্যই একটি আশির্বাদ স্বরূপ। একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে এই পরিবেশ যেমন অনুকূল, তেমনি জাতিকে অগ্রগতি, উন্নয়ন ও আধুনিকতার পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সকলের বোধগম্য ও ব্যবহার্য এমন একটি ভাষা থাকলে কাজটি অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যায়।

আলোচনা- 'আমার ছেলেবেলার ঈদ আর বুড়োবেলার ঈদ' by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

আমাদের বাল্যকালে দরজি বাসায় এসে জামা-প্যান্টের মাপ নিতেন। আব্বার সাথে দোকানে গিয়ে পছন্দমত কাপড় কিনে দরজির দোকানে পেঁৗছে দিতাম। বাড়িতে শাড়ির বোঝা নিয়ে ফেরিওয়ালারা একের পর এক আসতেন।

মা দরজার আড়াল থেকে আমার মাধ্যমে ঈদের শাড়ি পছন্দ করতেন আর দরদাম করতেন। আমরা দু'ভাই মাঝে মাঝে দরজির দোকানে যেয়ে খোঁজ নিতাম শার্ট-প্যান্ট তৈরি শেষ হলো কিনা। সেমাই তৈরি করার মতো ঈদের কাপড় চোপড় তৈরির ব্যাপারটিও রোজার দিনগুলো ব্যাপী চলত।

আলোচনা- 'নৈতিক চেতনা : ধর্ম ও মতাদর্শ' by আবুল কাসেম ফজলুল হক

পৃথিবীতে মানুষের জীবন-যাপনের শ্রেষ্ঠ উপায় কী- এই প্রশ্ন যুগে যুগে মানুষের মনকে আলোড়িত করেছে। এই প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করতে গিয়েই মানুষ উদ্ভাবন করেছে নীতি, পদ্ধতি, আদর্শ, জীবনদর্শন। ধর্মের মধ্যেও আমরা এই প্রশ্নেরই উত্তর পাই।

কর্মবিশ্বাসী লোকেরা বলেন যে, ধর্ম দৈব বা ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত, ধর্মের বিধি-বিধান রীতি-নীতি ও প্রথা-পদ্ধতি ঈশ্বর কতর্ৃক ধর্মপ্রবর্তক- কাছে মানুষের জন্য অলৌকিক উপায়ে প্রদত্ত। ঈশ্বর সম্পর্কে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও ঈশ্বর সম্পর্কিত উপলব্ধিতে তারতম্য আছে। আবার নিরীশ্বর ধর্মও আছে। যেমন বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ইত্যাদি।