Friday, April 6, 2018

পুলিশকে পেটানোর হুমকি দিলীপের, পার্থ বললেন ওরা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছাড়া কিছু জানে না

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের মধ্যে বাগ্‌যুদ্ধ চরমে উঠেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ পুলিশকে মারধর করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন ওরা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছাড়া কিছু জানে না।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তায়নের ফলে বিরোধীরা ঠিকমত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না বলে বিজেপি’র অভিযোগ। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূলের দাবি, এ পর্যন্ত তৃণমূলের চেয়ে বিরোধীরা বেশি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
আজ (শুক্রবার) বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যখন গুন্ডারা আমাদের সঙ্গে পারছে না তখন পুলিশ এসে আমাদের মারছে। শুধু তাই নয়, সিপিআই(এম), কংগ্রেস কর্মীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিরোধীদের পার্টি অফিসে তল্লাশি করছে। নিজেরা সঙ্গে করে বোমা-বন্দুক নিয়ে গিয়ে বলছে এসব বিরোধীদের অফিসে পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ আজ সম্পূর্ণ ক্যাডারের ভূমিকায় অভিনয় করছে। গতকাল পুলিশ মার খেয়েছে। আমার মনে হয়, আগামী ক'দিন পুলিশের কপালে দুঃখ আছে, যদি ওরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করে!’
এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় আজ বিজেপি সভাপতি দিলিপ ঘোষকে কটাক্ষ করে বলেন, উনি রাজনৈতিক ভাষা জানেন না কেবলই জানেন দাঙ্গা-হাঙ্গামা । তারা মিথ্যা আস্ফালন ও প্ররোচনামূলক কথা বলছেন। আমরা এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে জানাবো।’
এদিকে, আজ বাঁকুড়ার জেলা প্রশাসকের দফতরের সামনে বিজেপি নেতাদের গাড়ি থেকে টেনে বের করে মাটিতে ফেলে গণপিটুনি দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
অন্যদিকে, আজ মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে মিছিল করে মহকুমা প্রশাসকের দফতরে যাওয়ার সময় বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপর অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বোমা নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
নানা অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আজ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন বিজেপি’র রাজ্য সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সংগঠন সম্পাদক শ্যামাপদ মণ্ডলসহ বিজেপির অন্য প্রতিনিধিরা। এসময় আচমকা হেলমেট ও মুখে কাপড় বাঁধা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের ঘিরে ফেলে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিয়ে প্রথমে গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তারপর গাড়ি থেকে বের করে প্রত্যেককে মাটিতে ফেলে পিটুনি দেয়। কোনোমতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সঙ্গীরা।
ওই ঘটনায় তৃনমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা দায়ী বলে বিজেপি অভিযোগ করলেও বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরূপ খাঁ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে মুখে ‘গেরুয়া কাপড়’ বেঁধে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। তারা শাসকদলের হয় কীভাবে? এটা বিজেপিরই গোষ্ঠী কোন্দলের ফল।’
পশ্চিমবঙ্গে আগামী মাসের ১, ৩ ও ৫ মে তিন দফায় ভোট গ্রহণ হবে। ফল ঘোষণা হবে ৮ মে। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া চলবে। কিন্তু তার আগে সন্ত্রাসের অভিযোগে বিরোধী ও সরকার পক্ষের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

গাজা সীমান্তে গণপ্রতিবাদ: ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৩ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজার সীমান্তে সপ্তাহের দ্বিতীয় গণপ্রতিবাদে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে কমপক্ষে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে এক সপ্তাহে ইসরাইলিদের হাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন প্রতিবাদকারী। ওদিকে, গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার কমপক্ষে ১৫০ ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কর্মকর্তারা আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানান নি।
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ফিলিস্তিনের ওই ভূখণ্ডে দশক পুরনো সীমান্ত অবরোধের প্রতিবাদ চলবে কয়েক সপ্তাহ ধরে। আজকের গণ-প্রতিবাদ ছিল দ্বিতীয় দফায় প্রতিবাদের ঘটনা। ইসরাইলের অভিযোগ, কট্টরপন্থী গ্রুপ হামাস প্রতিবাদের আড়ালে ইসরাইলের সীমান্তে হামলা চালাচ্ছে। সেই সাথে হুশিয়ারি দিয়ে ইসরাইল বলেছে, যারা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যাবে তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আজ শুক্রবার সীমান্ত বেড়ার কয়েক শ মিটার দুরে আয়োজকদের স্থাপিত ৫টি তাবুতে অবস্থান নেয় হাজারো ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে একটি ক্যাম্পের অ্যাক্টিভিস্টদের কয়েকটি ছোট গ্রুপ জুমার নামাজের পর সীমান্ত বেড়ার কাছে চলে যায়।
বার্তা সংস্থা এপির সংবাদকর্মীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রতিবাদকারীরা ইসরাইলি স্নাইপারদের দৃষ্টি আটকানোর চেষ্টায় টায়ারের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে করে ঘন কালো ধোঁয়া উদগীরণ হতে থাকে। ওদিকে, ওপার থেকে তাজা গুলি, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট আর জল কামান দিয়ে জবাব দিতে থাকে ইসরাইলি সেনারা।
প্রথম দফায় টায়ারে আগুন দেয়ার পরপরই বেশ কয়েকজন তরুণ-যুবক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ক্যাম্পে স্থাপিত ক্লিনিকে আসতে শুরু করে।
ইসরাইলি বাহিনীর গোলাগুলিতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছে। তবে আল জাজিরার খবরে নিহতের সংখ্যা ৪ বলা হচ্ছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় থেকে শুক্রবার বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গত সপ্তাহে প্রতিবাদকারীদের ওপর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ করেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ বেআইনি বলে নিন্দা জানিয়েছে।

মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে পাথর নিয়ে লড়ছে ফিলিস্তিনিরা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

হুমকি উপেক্ষা করে ভূমি দিবসের কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ৫ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের সতর্কতার তোয়াক্কা না করে এদিন গাজা উপত্যকার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ধেয়ে আসে ইসরায়েলি মারণাস্ত্রের আঘাত, আহত হয় শত শত ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ৫ জন নিহত এবং ৭৮০ জনের আহত খবর দিয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এরইমধ্যে ৭ জনের প্রাণহানির কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা আগেই শুক্রবারের কর্মসূচিতে গাজার রক্তাক্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।
ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার দিন জোরালো বিক্ষোভের কর্মসূচি সফল করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় ফিলিস্তিনিরা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বৃহস্পতিবারই গুলি ছোড়া অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে রাখেন। এদিন তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কোনও ইচ্ছে নেই। ইসরায়েলের সরকারি রেডিওতে তিনি বলেন, ‘কোনও ধরনের উত্তেজনা দেখা গেলে গত সপ্তাহের মতো করেই কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’
ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিদের টানা ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভের দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার দিন জোরালো বিক্ষোভের কর্মসূচি সফল করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় ফিলিস্তিনিরা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান বৃহস্পতিবারই গুলি ছোড়া অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে রাখেন। রাষ্ট্রীয় রেডিওতে তিনি বলেন, ‘কোনও ধরনের উত্তেজনা দেখা গেলে গত সপ্তাহের মতো করেই কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে।’শুক্রবার ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি গাজার সীমান্ত বেড়ার পাঁচটি স্থানে  জড়ো হলে গুলি ছুঁড়ে জবাব দেয় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
হুমকি উপেক্ষা করে ভূমি দিবসের কর্মসূচি সফল করতে মাঠে নামে ফিলিস্তিনিরা। পরিত্যাক্ত টায়ার আর পাথর নিয়েই তারা মুখোমুখি হয় ভারি ইসরায়েলি অস্ত্রশস্ত্রের। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা বেড়ার পাঁচটি স্থানে বিক্ষোভে সামিল হয়। হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের নাবলুস, আল-বিরেহ, রামাল্লাহ ও হেবরন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটির খবরে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে থেকে  ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধে পাথর ও মলোটোভ ককটেল ছোঁড়া হয়। সেনাবাহিনী গুলি ছুঁড়ে পাল্টা জবাব  দেয়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার পাঁচজন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন কর্মসূচিতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ জনে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাফা প্রেস এজেন্সি এরইমধ্যে ৭ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাত নারী ও ৩১ শিশুসহ শুক্রবার আহত হয়েছে ৭৮০ ফিলিস্তিনি।
গাজার উম্মাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আবু আমির আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদেরকে মুক্তভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেবে না। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইসরায়েল এ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ সেই কথাকে সত্যি প্রমাণ করে ভয়াবহ দমন প্রক্রিয়া জারি করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুলিতে নিহত ৫ জনের নাম পরিচয় জানানো হয়।
ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে ‘সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দেয় ইসরায়েল। সহিংসতার জন্য গাজা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সংগঠন হামাসকে দায়ী করে দেশটি। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ মার্চ ইসরায়েলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে ফিলিস্তিনিরা। ওইদিন নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তাদের স্মরণেই পালিত হয় ভূমি দিবস। ২০০৭ সাল থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। সেখানকার ৭০ শতাংশ মানুষই ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত হয়ে সেখানে এসে বাস করছেন। এবছর ওই দিনটি স্মরণে বিশাল বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে। দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে এই বিক্ষোভটি প্রতি বছর আয়োজিত হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েরেলের রাজধানী স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা এবারের ভূমি দিবসকে ভিন্নতা দিয়েছে।

এটা এক ট্র্যাজেডি; ইসরাইলের তোষামোদি করছেন সৌদি যুবরাজ: ইরান

সৌদি আরবের অপরিণত যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষ এখন সব সীমা ছাড়িয়ে নিরাময়ের অযোগ্য ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ কথা বলেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি। সৌদি যুবরাজের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান মার্কিন সাপ্তাহিকী 'টাইম'-কে দেওয়াকে এক সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, ইরান হচ্ছে সৌদি আরব ও ইসরাইলের অভিন্ন শত্রু।
এর প্রতিক্রিয়ায় বাহরাম কাসেমি আরও বলেছেন, ক্ষমতালিপ্সু যুবরাজ ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও গত সাত দশকের ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞকে উপেক্ষা করে এখন অবৈধ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন এবং ইসরাইলের হয়ে কথা বলছেন। এর মাধ্যমে তিনি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য-আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তিনি সৌদি আরবের বর্তমান নীতিকে ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বড় বড় বুলি আউরানো সৌদি আরব এখন দখলদার ইসরাইলের তোষামোদকারীতে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের বর্তমান নীতি মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে একটি বড় কলঙ্ক হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে সৌদি যুবরাজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি তার ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে ইতিহাস পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে লাগলে নিশ্চিহ্ন হবে তেল আবিব: আয়াতুল্লাহ খাতামি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রভাবশালী আলেম আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনা সৌদি আরবের জন্য কলঙ্ক। আজ তেহরানের জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এ কথা বলেন।
তেহরানের জুমার নামাজের অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ খাতামি আরও বলেন, অতীতেও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উসকানিতে লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহযোগিতা এবং ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষ হত্যার দায়ে ইসলামি আদালতে সৌদি শাসক গোষ্ঠীর বিচার দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের সহযোগী হচ্ছে সৌদি আরব। দেশটি ইরাক ও লেবাননের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে এবং লাখ লাখ ডলার খরচ করেছে। তবে এখন সৌদি শাসক গোষ্ঠীর পতনের নানা আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক দিনে গাজায় বহু ফিলিস্তিনিকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রক্তের ওপরই দখলদার ইসরাইলের অস্তিত্ব গড়ে উঠেছে। প্রতিরোধের মাধ্যমেই তাদের জবাব দিতে হবে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কেবল শরণার্থীর সংখ্যাই বেড়েছে। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব কৌশলগত ভুল এবং বিশ্বাসঘাতকতা।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যার বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর নিরবতার সমালোচনা করে আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেছেন, সৌদি মুফতিরা গাজার সমর্থনে মিছিলকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং ইসরাইল তাদের ওই ফতোয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। সৌদি মুফতিদের এ পদক্ষেপ ইসলাম বিরোধী এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের হুমকিকে অলীক স্বপ্ন হিসেবে অভিহিত করেন আয়াতুল্লাহ খাতামি। তিনি বলেন, আবারও হিজবুল্লাহর শক্তি পরীক্ষা করা হলে ইসরাইলের হাইফা ও তেল আবিব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে সংশয় - আল-জাজিরার রিপোর্ট

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস ও রাষ্ট্রের হাতে ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্যাতনের ফলে দেশটির আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরবর্তী নির্বাচন হবে সহিংস উপহাস মাত্র। ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচন প্রায় সব ক’টি বিরোধী দলই বর্জন করেছিল। ব্যাপক আকারে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ফলে ওই নির্বাচন হয়েছে বিতর্কিত। এবারও তারই পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা কারাবন্দি বা তার চেয়েও খারাপ কিছু হওয়ার আশঙ্কায় দিনতিপাত করছে। সাধারণ মানুষের মনেও নির্বাচনী বছর নিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। এ বছরের ডিসেম্বরে সংসদীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশে।
ঢাকার একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাদিয়া তাবাসসুম খান মনে করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবে সকল ধরনের ভিন্নমত দমন করেছে, তাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস কারোই হবে না। ঢাকাভিত্তিক একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক হাসান হাবিব বলেন, ‘প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে শত্রুতা’র দরুন নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দ্‌াড়িয়েছে।
বলপূর্বক অন্তর্ধান: প্রধান বিরোধী নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত মাস থেকে বন্দি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে এখন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা ক্রমেই দুরূহ ঠেকছে যে, সরকার ক্রমেই কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে।
৮ই ফেব্রুয়ারি নিজের স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য সংস্থার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার বড় ছেলে ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী তারেক রহমান ও আরও চার জনকে ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।
প্রায় এক মাস পর খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হয়। তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ওই জামিন স্থগিত করেন। ফলে অন্তত আগামী ৮ই মে পর্যন্ত ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়া কারাগারে থাকছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার ও বন্দিত্ব বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। বিএনপি অভিযোগ করছে, খালেদা জিয়াকে রাজনীতির বাইরে রাখতে সরকারি চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাকে জেলে ঢুকানো হয়েছে। পুলিশের হিসাব মতে, খালেদা জিয়ার রায় প্রদানের দিন প্রায় ৩০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন অবধি ৩ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী কারাগারে। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তাদের তিক্ত শত্রুতা বাংলাদেশকে প্রায়ই সহিংসতা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিএনপি অভিযোগ করছে, ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে দলটির প্রায় ৫ শতাধিক সমর্থককে হত্যা ও প্রায় ৭৫০ জনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। দলটি দাবি করে, নিখোঁজ নেতাকর্মীদের মধ্যে কমপক্ষে ১৫০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে অথবা গুম করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার রায়ের পর কর্মপরিকল্পনা এখনও ঠিক করেনি বিএনপি। এখন পর্যন্ত অসহিংস কর্মসূচিই দিয়েছে দলটি। তবে রাজনৈতিক সভার জন্য অনুমতি বাতিল হওয়ায় বিএনপির অনেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। বড় আকারে সহিংসতা অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে ফেলতে পারে।
সম্প্রতি জার্মান থিংক ট্যাংক বার্টলসম্যান ফাউন্ডেশন কর্তৃক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে; যাতে বলা হয়, দেশটি এখন স্বৈরতান্ত্রিক শাসনাধীন। ১৩টি দেশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডায় গণতন্ত্র কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অবনমনের মধ্যদিয়ে গেছে। ফলে এই ৫টি দেশ এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড রক্ষা করতে পারছে না।
নির্বাচন নিয়ে সংশয়: বাংলাদেশের ভেতরের ও বাইরের পর্যবেক্ষকরা বার্টলসম্যান ফাউন্ডেশনের ওই কড়া প্রতিবেদনের সঙ্গে মোটামুটি সহমত পোষণ করেছেন। ১০ বছরের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, ২০১০ সালের পর থেকে বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার হয়েছে প্রায় ৫১৯ জন। এছাড়া ৩০০ জন এখনও নিখোঁজ।
কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা উঠিয়ে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সরকার বিরোধী পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগ উঠানো হয়। তার মেয়ে শাবনম জামান বলেন, ‘৪ঠা ডিসেম্বর থেকে আমার পিতা নিখোঁজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ যখন আমার পিতার অন্তর্ধান হওয়ার সম্যক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে, তখন থেকেই তারা তদন্ত থামিয়ে দিয়েছে।’ এ বছরের মার্চে বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের এক নেতা জাকির হোসেন হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে নির্যাতন করেছে পুলিশ। গত বছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, সরকার গোপনে শ’ শ’ মানুষকে আটক করেছে। এদের বেশির ভাগই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
তবে এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে বিএনপির ওপর রাজনৈতিক নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে বিরোধী দল। ‘তবে তার মানে এই নয় যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সেসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেবে না, যেগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতে পারে,’ বলেন তিনি।
২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী। বিএনপির ওই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক। তারা এখন বুঝতে পারছে সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’ বাংলাদেশি এই মন্ত্রী জার্মান থিংকট্যাংকের ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও একমত নন। সরকার স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে, এমন দাবিকে তিনি উদ্দেশ্যমূলক ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, বার্টলসম্যান স্টিফটাং তাদের উপাত্ত কোন সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছে, তা জানতে আগ্রহী তিনি। তার মতে, ‘গণতন্ত্রের সকল শাখা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যম বাংলাদেশে সম্পূর্ণ স্বাধীন।’ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ফারুক খান বলেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষ্য, ‘আমাদের সরকার বরং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার নজির স্থাপন করেছে।’
তবে বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের এসব যুক্তি মানতে রাজি নন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকভাবে সাড়া প্রদানের ফলে বাংলাদেশ হয়তো আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে। তবে দেশটির ঘরোয়া মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘সরকার এখনও গুমের বিষয়টি অস্বীকার করে চলেছে। সরকারকে অবশ্যই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটককৃত ব্যক্তিবিশেষকে মুক্তি দিতে হবে। গুম হওয়া অনেকেই রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ মিনাক্ষী গাঙ্গুলি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এক ভয়ের পরিবেশে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় অনেক নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে অনুকূল নয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো দূরের কথা। আলী রীয়াজ মনে করেন, চাপের মুখে থাকা বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনও বয়কট করতে বাধ্য হয়, তাহলে সেই নির্বাচনেরও ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো কোনো নৈতিক বৈধতা থাকবে না। তার ভাষ্য, ‘বিরোধী পক্ষকে অব্যাহতভাবে নির্যাতন করা শুধু অবিচক্ষণ সিদ্ধান্তই নয়, এটি হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনে। বাংলাদেশের শাসক দলগুলোর মধ্যে তা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, সরকার নিরাপত্তার অজুহাতে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ, নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দল বিরাট বিরাট সভা-সমাবেশ করেই যাচ্ছে। নজরুল বলেন, ‘এটি এমন এক সরকার ও রাজনৈতিক দল যারা বিশ্বাস করে তারা কারও কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। এটি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক এক লক্ষণ।’

ড্রাইভিং না মাস্তানি by শামীমুল হক

সড়ক সন্ত্রাসে জেরবার মিনারার পরিবার। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু সড়ক সন্ত্রাস তার স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। মিনারার স্বামী রফিকুল ইসলাম ছিলেন সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা। সেদিন মতিঝিলের অফিস থেকে লোকাল বাসে যাচ্ছিলেন বাসায়। সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাসটি মাঝ সড়কে নামিয়ে দেন তাকে। বাস থেকে    নামার পরই আরেকটি বাস রং সাইড দিয়ে ক্রস করতে যায়। দুই বাসের মাঝে পড়েন রফিক। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই বাসের চাপায় রফিকের বুকের হাড় ভেঙে যায়। এরই সঙ্গে রফিকের সংসারের পাঁজরও ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দুই সন্তানসহ মিনারার এখন শুধুই সম্বল কান্না। মিনারা বলেন, ড্রাইভাররা ঘাতক। ওরা সন্ত্রাসী। স্টিয়ারিং ওদের অস্ত্র। রাজধানীতে গতকাল বেশক’টি স্পটে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে সড়কে চলন্ত বাসের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই কলেজছাত্র রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শরীর থেকে। পাশাপাশি লেগে থাকা দুটি বাসের মধ্যে ঝুলে থাকে রাজীবের হাতটি। এ দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেন সবাই। বাসযাত্রীরা মনে করেন ড্রাইভাররা সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসের কারণেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল লাব্বাইক বাসের যাত্রী  নজরুল ইসলাম বলেন, একটি বাসে কম করে হলেও ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী থাকে। এসব যাত্রী মাত্র তিনজনের কাছে জিম্মি। হেলপার, কন্ডাক্টর ও ড্রাইভারের কর্মকাণ্ডে যাত্রীরা অতিষ্ঠ। তানিয়া রহমান নামের এক যাত্রী তার ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় অনেকটা রিস্ক নিয়ে বাসে উঠতে হয়। রাজীবের হাতের ছবি দেখে আঁতকে ওঠার পাশাপাশি কুঁকড়েও গেছি। বাসের ড্রাইভারদের অমানবিক প্রতিযোগিতা কি করে বন্ধ হবে জানি না। যাত্রীরা যখন চিৎকার করে তখন ড্রাইভাররা বেপরোয়া চালায়। কিন্তু ড্রাইভার কিছুই শুনে না। বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় কাওরানবাজার সিগন্যালের কাছে মিরপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস হালকা ভাবে থামায়। একজন যাত্রী উঠতে না উঠতেই চালক গাড়ি টান দেয়। এতে ওই যাত্রী নিচে পড়ে যান। তার হাতটি তখনও ধরা বাসে ওঠার দরজায়। এভাবে তাকে কিছুক্ষণ টেনে নেয়। এক পর্যায়ে যাত্রী হাত ছেড়ে দেন। ততক্ষণে যাত্রীর প্যান্ট ছিঁড়ে পায়ের ও হাতের চামড়া উঠে গেছে। আরিফ নামের একজন যাত্রী বলেন, ড্রাইভারদের সন্ত্রাসের প্রতিযোগিতা চলে সড়ক-মহাসড়কে। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে, ঘষাঘষি করে বাস চলে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে যান। কিন্তু ড্রাইভাররা মনে হয় এতে আনন্দ পান। উল্লাস করেন। তিনি বলেন, রাজীবের হাতের ছবিটা ড্রাইভার সন্ত্রাসের একটি নমুনা মাত্র। প্রতিদিন এমন কত যে ঘটনা ঘটে তার ইয়ত্তা নেই। ক’টিইবা মিডিয়ায় আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়কে পরিবহন চলাচলের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় যাত্রীদের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। নগরীর রাস্তায় কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। সবাই জিম্মি ড্রাইভারদের কাছে। সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন যাত্রাবাড়ীর একটি মেসে থাকেন। সেখান থেকে রাজীব মঙ্গলবার দুপুরে একটি বিআরটিসি বাসে উঠেছিলেন কলেজে যাওয়ার জন্য। রাজধানীর ভিআইপি সড়ক হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের সার্ক ফোয়ারার কাছে ব্যক্তি মালিকানাধীন স্বজন পরিবহনের একটি বাস সেখানে দ্রুতগতিতে এসে বিআরটিসি বাসটির গা-ঘেঁষে এগোতে থাকে। রাজীব বিআরটিসি বাসের দরজায় ঝুলে যাচ্ছিলেন। বাস দু’টির রেষারেষিতে রাজীব রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান। আর তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বাসের মাঝখানে ঝুলতে থাকে। রাজীব এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজীবের স্বজনরা জানিয়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার রাজীব ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন। তার দু’টি ছোট ভাই আছে। তাদের তিন ভাইকেই চাচা-মামারা ভাগাভাগি করে লেখাপড়া করাচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামসুল হক বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপ হচ্ছে।  তিনি বলেন, সিস্টেমটাই খুব বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। আমরা যা দেখি, আসলে উপসর্গটা দেখি। আমরা এমন কোনো পরিকল্পনা করিনি যেখানে বাস ড্রাইভাররা সুষ্ঠুভাবে গাড়ি চালাবে। আমরা যখন যে এসেছে, রুট পারমিট দিয়েছি। মালিকরাও ফিক্সড ইনকামে চলে গেছে। ফলে দিনের শেষে এখন চালকরাই ব্যবসাটা করছে পুরো রাস্তায়। এ ব্যাপারে একাধিক পরিবহন মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারাও রাস্তার পরিস্থিতির জন্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কথা তুলে ধরেন। আট নম্বর বাসের একজন মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হলে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব হ্রাস পাবে। গতকাল সকাল ৯টায় গুলিস্তান হলের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায় গাড়ি চারদিক থেকে আসছে। হলের সামনে যাত্রীরা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। শিকড় পরিবহনের একটি গাড়ি যাত্রী তুলছিল। এ সময় অপর একটি শিকড় গাড়ি পেছন দিক থেকে ওই গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় একজন যাত্রী উঠতে গিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। কিন্তু এ দিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। পেছনের গাড়ির চালক মতিন জানান, ওই গাড়ি আমার আগের সিরিয়ালের। ও কেন আমার গাড়ি আসার পরও দাঁড়িয়ে থাকবে? ধাক্কা না দিলে সে যাবে না। তাই ধাক্কা দিয়েছি। একটু এগিয়ে পল্টন মোড়ে দেখা যায়, মনজিল পরিবহনের দুটি বাস ঘষাঘষি করে চলছে। এভাবে মিনিট খানেক চলার পর একটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে সড়কে পড়ে যায়। আর দুটি বাসের ভেতর থেকেই যাত্রীরা চিৎকার করছিল। কিন্তু কে শুনে কার কথা। প্রায়ই দেখা যায়, এক গাড়ি অন্য গাড়িকে সাইড না দেয়ার দৃশ্য। এক পর্যায়ে পেছনের গাড়ি একটু সুযোগ পেলেই গাড়ি এগিয়ে দেয়। এ অবস্থায় লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়। কখনো কখনো যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হন। সড়কে ড্রাইভারদের সন্ত্রাসের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ সন্ত্রাসে হাজারো পরিবারকে জীবনভর কান্নার সাগরে ভাসতে হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে চালকদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ট্রাফিক পুলিশও দায়সারা দায়িত্ব পালন করে। মাজিদুল আলম নামের এক যাত্রী বলেন, গাড়িতে মূল স্ট্যান্ড থেকে ওঠার সময় ধীরস্থির ভাবে উঠলেও পথে পথে গাড়ি চলন্ত অবস্থায় যাত্রীদের উঠতে হচ্ছে। আবার নামতে গেলে কখনো সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে নামতে বলে চালক আর হেলপার। এভাবে রিস্ক নিয়ে রাজধানীর যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) এ জন্য সাত কারণকে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনের মহাসচিব আশীষ কুমার দে জানিয়েছেন, যাত্রীদের অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে চালকদের কাছে। তিনি সাতটি কারণের মধ্যে প্রথম কারণ উল্লেখ করেন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে। এছাড়া অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ককে দায়ী করেন। সড়ক দুর্ঘটনার ওপর ওই সংগঠনের জরিপে ওঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। গত ১২ বছরে সারা দেশে ৫১৬৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৭২২৬ জন। আহত হয়েছেন ৯৩৫০৬ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ সালে ৫৯৯৭টি, যাতে ৮৭৯৮ জন নিহত ও ১৮১১৩ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০১৬ সালে ২৯৯৮টি। এতে নিহত হয়েছেন ৩৪১২ ও আহত হয়েছেন ৮৫৭২। এ ব্যাপারে এনসিপিএসআরআর-এর মহাসচিব আশীষ কুমার দে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরজুড়ে গঠনমূলক সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখতে হবে।  দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করতে হবে।  ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সংকেত স্থাপন ও সড়ক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, সবার আগে চালকদের প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। এজন্য কঠোর নজরদারি করতে হবে। সড়কগুলোকে লেনে ভাগ করে নির্দিষ্ট গাড়িকে লেনের বাইরে চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।

রূপগঞ্জে দুই মহাসড়কে ১৮ কি.মি. যানজট, ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের উভয় দিকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীসাধারণ থেকে শুরু করে পথচারীরাও। যানজট থেকে মুক্তি পেতে লোকাল সড়কগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে সেখানেও তীব্র যানজট লেগে যায়। এ ছাড়া কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতি ও টোল আদায়কারীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা  নিয়ে যানজট সৃষ্টির আরেকটা কারণ। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বান্টি এলাকা থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের বস্তল এলাকা থেকে পলখান পর্যন্ত এ যানজন সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলাকেই দায়ী করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এদিকে পুলিশ বলছে, নিয়ম ভঙ্গ করে যানবাহন চলাচলের কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ভুলতা, গোলাকান্দাইল, আধুরিয়া, সাওঘাট, বরপা, রূপসী, বিশ্বরোড এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও কাঞ্চন, কালাদি, পলখান, বস্তল এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানজট যেন এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। সকাল-সন্ধ্যা যানজট থাকার কারণে যাত্রীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যেখানে যেতে সময় লাগার কথা ২০ মিনিট, সেখানে যেতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার এ যানজটের কারণে অনেকেই রূপসী-কাঞ্চন সড়ক, ভুলতা থেকে মুড়াপাড়া ফেরিঘাট হয়ে ৩০০ ফুট সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তা ভাঙ্গার কারণে বেশ কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে।
এ দীর্ঘ যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে জানা গেছে, ভুলতা ফ্লাইওভার ও রাস্তার নির্মাণ কাজ, যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানামা, চালকরা নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানো, হাটবাজারে লোড-আনলোড, অবৈধ ফুটপাথ, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। নিত্যদিনের এ যানজটের কারণে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
পরিবহন চালক, যাত্রী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গোলাকান্দাইল চৌরাস্তা এলাকা দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক ক্রস করেছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানাবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। আবার এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। দুটি সড়কেই যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। তাই দুটি সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয় এবং যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক মোটামুটি প্রশস্ত হলেও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কটি প্রশস্ত অনেকটা কম। যার ফলে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে কোনো প্রকার যানবাহন বিকল হয়ে পড়লেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া কাঞ্চন টোলপ্লাজায় ৪টি টোল বসানো হয়েছে। লোকবল সংকটে মাঝে মাঝে ৪টি টোলের মধ্যে ২টি বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত টোল আদায় করার কারণে প্রায় সময়ই টোল আদায়কারীদের সঙ্গে যানবাহন চালকদের বাকবিতণ্ডা ঘটছে। মাঝে মাঝে মারপিটের ঘটনাও ঘটে। এতে সময় কেটে যায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট। এ সময়ে যানজট লেগে যায়। এক ঘণ্টার মধ্যে এ যানজট সেতুর দুই পাশে প্রায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসাধারণ থেকে শুরু করে মালবাহী যানবাহনের চালকরা।
অভিযোগ রয়েছে, গাউসিয়া মার্কেটের সামনের ফুটপাথে অবৈধভাবে দোকান বসানো হয়েছে। ফুটপাথে দোকান থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেক সময় যাত্রীদেরকে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে ফুটপাথে দোকান বসিয়েছে স্থানীয় নেতারা। রাস্তার মাঝে গাড়ি থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজিতে এ দীর্ঘ যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে অভিযোগ  করেছেন চালকরা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েকজন চালক অভিযোগ করে জানান, তাদের গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক থাকার পরও পুলিশকে টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়া হয় না।
ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও গোলাকান্দাইল মজিবুর রহমান ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিনের এ দীর্ঘ যানজটের ফলে প্রতিদিনই তাদেরকে স্কুলে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। সময়মতো স্কুলে না পৌঁছাতে পারলে তাদেরকে স্যারদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। যেখানে তাদের যেতে সময় লাগতো ২০ মিনিট কিন্তু দীর্ঘ যানজটের ফলে এখন সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। যানজটের কারণে কখনো শিক্ষার্থীদের স্কুলের ক্লাসের সময় পার হয়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ভাবে খারাপ প্রভাব পড়ছে।
কাঞ্চন সেতুতে দায়িত্বরত ইনচার্জ কারিবুল ইসলাম বলেন, আসলে এখানে যানবাহনের চাপ অত্যন্ত বেশি। তাই মাঝে মাঝে যানজট লেগে গেলেও দ্রুত টোল আদায়ে তা নিরসন করা হয়। এ ছাড়া টোল আদায় করতে গিয়ে মাঝে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে একটু তর্কবিতর্ক হলেও তা তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যায়।
ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ইকবাল হোসেন বলেন, লোকবল সংকট, তারপর যানজট নিরসনে কাজ  চালিয়ে যাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যানবাহন চালকদের হয়রানির বিষয়টি সঠিক নয়। যানবাহন চালকরা নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালানোর কারণেই যানজট লেগে যায়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসন করতে না পারলে থানা পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। যানজট নিরসন করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

নজীব রাজাকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘নোংরা কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ

আর কয়েকদিন পরেই মালয়েশিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই নির্বাচনকে ঘিরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজীব রাজাকের বিরুদ্ধে নোংরা কৌশল অবলম্বন ও প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের দলের সুবিধার জন্য তার সমালোচকদের টার্গেট করে কয়েকটি আইন পাস করিয়েছেন রাজাক। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়, শুক্রবার (আজ) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার কথা রয়েছে। এর পর বেশ দ্রুতই নির্বাচন অনুষ্ঠুত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগে, গত সপ্তাহে অজস্র অভিযোগ অগ্রাহ্য করে তড়িঘড়ি করে পার্লামেন্ট থেকে দু’টি আইন পাস করিয়েছেন রাজাক। এর মধ্যে একটি হচ্ছে নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্বিন্যস্ত বিষয়ক ও অপরটি হচ্ছে কথিত ভুয়া খবর বিষয়ক। বিশেষজ্ঞরা এই দুই আইনের প্রবর্তনকে নজীবের জন্য ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মালয়েশীয় রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, জন ক্যাবট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ব্রিজেট ওয়েলশ বলেন, ‘নজীব নিজের হাত শক্ত করার জন্য তার নির্বাহী ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার ব্যবহার করছেন। তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত আইন, নির্বাচনে যাওয়ার আগে নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
নজীব ২০০৯ সাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ওয়ানএমডিবি দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও নিখোঁজ এমএইচ৩৭০ বিমানের বিষয়টি সামলানোতে ব্যর্থতার কারণে তার জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াও তার জনপ্রিয়তা কমায় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, এবার নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ (৯২)। এতে করে নির্বাচনে নজীবের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আরো কমেছে। উল্লেখ্য, মাহাথির পূর্বে নজীবের পরামর্শদাতা ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় বরাবরই ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনের আগে নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করে থাকে। এটা বেশ পুরনো কৌশল। তবে নজীবের সামপ্রতিক পরিবর্তনগুলো ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। পার্লামেন্টের মাধ্যমে সাংবিধানিক পরিবর্তন এসেছে ৪০ শতাংশের মতন। আর এই পরিবর্তন আনতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগায়। দেশটির নির্বাচন কমিশন বর্তমানে নজীবের নিয়ন্ত্রণাধীন। কমিশনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কমিশন সমপ্রতি, রাজনৈতিক ইউনিটগুলো বিভক্ত করে দিতে সহায়তা করেছে। এতে করে বিরোধীদল সমর্থন করে এমন দলগুলোকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। ওয়েলশ জানান, পুরো বিশ্বে বর্তমানে এমন বিভক্তির (ম্যাল-এপর্শনমেন্ট) সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা ঘটছে মালয়েশিয়ায়। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ সাধারণত নজীবের ক্ষমতাসীন বারিসা ন্যাশনাল জোটই জেতে। এখন এই জোটকে ভেঙে ছোট করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে জোট গড়ে পাবে ৪৮ হাজার ভোট। এতে করে জনপ্রিয় ভোট পাওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে বিরোধীদল পাবে গড়ে ৭৯ হাজার ভোট।
অন্যদিকে, নজীবের ভুয়া খবর বিষয়ক আইন পাস হয় মঙ্গলবার। এই আইন অনুসারে, ভুয়া খবর ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে। তবে অনেকের ধারণা, এই আইন ব্যবহার করে নজীবের সমালোচকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। কেননা, কোনটা ভুয়া খবর তা ঠিক করবে সরকার নিজে।

বর্ষা মৌসুমে দুই লাখ রোহিঙ্গা ঝুঁকিতে: ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ by দীন ইসলাম

বর্ষাকালে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে দুই লাখ তিন হাজার রোহিঙ্গা। এ জন্য ৪৭ হাজার ৮১৬টি পরিবার বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। রোহিঙ্গাদের এমন অবস্থার বিপরীতে আগাম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ই মার্চ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বর্ষাকালে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধস থেকে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় অবস্থানরত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের রক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, ফেব্রুয়ারিতে অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে ভূমি ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকাকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা ১১৮৮টি পরিবারের পাঁচ হাজার ৩৫ জনকে এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮ নং ক্যাম্পের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিতে থাকা মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উখিয়ার কুতুপালং সম্প্রসারিত ক্যাম্পের উত্তর-পশ্চিম অংশের ১২৩ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জমিতে শেল্টার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ একর জমি ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকরা সহজে স্থান পরিবর্তন করতে চায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে যেন টিকে থাকে এজন্য অস্থায়ী শেল্টারগুলো মজবুত করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ পর্যায়ের ওই সভায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমের মাঠ পর্যায়ের চিত্র চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও কক্সবাজারের ডিসি উপস্থাপন করেন। এ সভায় ১৩টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব সিদ্ধান্তে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ভাসানচর আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদ স্থানে বা ভাসানচরে যেতে উৎসাহিত হয় এজন্য প্রামাণ্য চিত্র তৈরি এবং মোটিভেশনাল ব্রিফ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মরত এনজিওগুলোতে এ কাজে নিয়োজিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সম্পর্কে নেয়া এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বর্ষাকালে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন তারা।

মেসে মেসে বাজিকর by পিয়াস সরকার

বাজির নেশায় মত্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ নেশায় পড়ে অনেকেই হারাচ্ছেন নিজের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন। এমন কি গ্রাম থেকে পাঠানো মাসের খরচও নিমিষে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে ইদানীং বাজির প্রবণতা নেশায় রূপ নিয়েছে। সব হারিয়েও শেষ নয়। আশ্রয় নেয় নানা মিথ্যার। পরিবারের কাছে মিথ্যা বলে আনে বাড়তি টাকা। কেউবা  ধারকর্জ করে। রাজধানীর বেশিরভাগ মেসে এখন বাজি কমন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং ক্লাব ক্রিকেট ম্যাচ, ফুটবল ম্যাচেই বেশি বাজি ধরে শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ক্রিকেট। বাজির টাকার পরিমাণ ঠিক করে একটি দল পছন্দ করে এক শিক্ষার্থী বিপক্ষে দল পছন্দ করবে আরেক জন। যার পক্ষে ফল যাবে সেই বিজয়ী। এর সঙ্গে থাকে টস, প্রথম বলে কত রান, প্রথম ওভারের রান এভাবে বিভিন্ন ওভার সহ মোট রান ইত্যাদি। জোড়- বিজোড় নিয়ে ভিন্ন ধারার বাজি ইদানীং শুরু হয়েছে। যেমন বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলায় এক পক্ষ বলবে তামিম ইকবাল জোড় রান করবে, আরেক বাজিকর বলবে বিজোড়। তামিম ইকবাল ১০০ রান করলে পকেটপূর্তি হবে জোড় বেছে নেয়া বাজিকরের।
বাজির অর্থের পরিমাণটা মোটেও কম নয়। ১ হাজার টাকা সর্বনিম্ন বাজি। একজন বাজিকর প্রতি ম্যাচে ৮ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার বাজি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ হাজারের ঘরেও পৌঁছায় প্রায়ই। আবার খেলা হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ডের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিতে চাইলে গুনতে হবে অধিক টাকা। যেমন বাংলাদেশ জিতলে পাবে ১ হাজার টাকা হারলে দিতে হবে ২ হাজার, ৩ হাজার বা ততোধিক টাকা। মেসে মেসে এই বাজি ভয়াল রূপ ধারণ করছে। মেসের সদস্যদের পাশাপাশি বন্ধু, এলাকার পরিচিত, বন্ধুর বন্ধু এমনকি অচেনা ব্যক্তির সঙ্গেও হয়ে থাকে বাজি।
বাজির মোহে শিক্ষা জীবন বাজির মুখে ফেলে দিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন আবিব। প্রথম ঢাকায় এসে উঠেন মেসে। সেখানেই জড়িয়ে পড়েন বাজির নেশায়। আবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে কয়েকবার বাজি খেলি। রেজিস্ট্রেশন না করায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করি মেস বদল করি এবং বাবা-মাকে না জানিয়েই ভর্তি হই ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে। প্রথম তিন সেমিস্টার খুব ভালো রেজাল্ট হয় কিন্তু আবার জড়িয়ে পড়ি বাজিতে। এখন আমার লেখাপড়া বন্ধ, বাড়ি থেকে টাকা নেই আর বাজি খেলি। বাজিতে জিতলে সেই টাকা কীভাবে যেন খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়, জমাতে পারি না। শুধু আমি না বাজির টাকা কেউই ধরে রাখতে পারে না।
বাজির আবার দালাল রয়েছে। দালালদের বলা হয় ‘পেটিসখোর’। তাদের কাজ বাজির পার্টি ঠিক করে দেয়া। পেটিসখোররা পার্টি ঠিক করে দেয় এবং তার মাধ্যমে লেনদেন করে। এতে তার লাভ হয় ১০ শতাংশ। আবার কম দামে বাজি কিনে রেখে তারা পরে বেশি দামেও বিক্রি করে। শিক্ষার্থী আসিফ একজন পেটিসখোর। তিনি বলেন, পেটিস খেয়ে নিদাহাস ট্রফিতে লাভ করেছি ১২ হাজার টাকা। তবে অনেক ঝুঁকি আছে এতে, টাকা ঠিকমতো দিতে চায় না। হারলে ফোন বন্ধ করে রাখে, কম টাকা দেয়। এসব টাকা আবার সময়মতো বুঝিয়ে দিতে হয় পার্টিকে। টাকার লেনদেন সাধারণত বিকাশের মাধ্যমে হয়; তার থেকে আমার অংশ কেটে নেই। ২০১৭ সালের জুনে জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে জিম্বাবুয়ে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। লঙ্কানরা হারলে সেই চোট এসে লাগে ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রেজওয়ানের উপরে। ৪২ হাজার টাকা হেরেছেন শুধু শেষ ম্যাচেই। সময়মতো টাকা না দেয়ায় ল্যাপটপ জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয় পার্টি। কিন্তু পরে টাকা দিলেও ফেরত দেয়নি ল্যাপটপ বরং ল্যাপটপের কথা অস্বীকার করে মারধর করা হয় তাকে। হাতে টাকা না থাকায় কেনই বা বাজি ধরলেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ধারণা করিনি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হারবে।
কয়েকজন সদস্য নিয়ে বাজি খেলার জন্য রয়েছে বেশকিছু দল। এগুলোর নাম ঢাকা ক্লাব, স্পোর্টস লাভার, আমরা আমরাই তো, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, চিলি সস বেটিং, সুইট অকটাগন, টাইগার্স টেরিটরি ইত্যাদি। এসব দলে সাধারণত সদস্য সংখ্যা থাকে ১৫ থেকে ২০ জন। কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে দল নির্বাচন করে বাজির মূল্য নির্ধারণ করে দলের সদস্যরা। নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বাজি কেনে। আবার দলগত ভাবেও বাজি ধরা হয়। লাভ কিংবা লোকসান দলের সবাই ভাগাভাগি করে নেন সেই টাকা। দলগত বাজি নিয়েও শোনা যায় সমস্যার কথা। উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীবন রহমান। তিনি বলেন, একবার আমাদের দলের তিনজন সদস্য নিজেদের মধ্যে গুপ্ত দল তৈরি করেছিল। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলায় ভারতের বাজি ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনলেও তারা আমাদের বলে ১ হাজার ৬০০ টাকা করে কিনেছে। এটা ধরা পড়ার পর আমরা তাদের দল থেকে বের করে দেই। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছিল। তারা দল ছাড়া হয়ে নিজেরা নতুন দল গঠন করে নাম দেয় টাইগার্স টেরিটরি।

সিলেটে ১৫ দিনে চার জোড়া খুন, আতঙ্ক by ওয়েছ খছরু

একের পর এক জোড়া খুনের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে সিলেটে। দেখা দিয়েছে ক্ষোভও। ১৫ দিনের ব্যবধানে সিলেটে চারটি আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি জোড়া খুনের ঘটনা হচ্ছে মা ও ছেলে। অপর দুটি হয়েছে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে । এর পাশাপাশি সিলেটে সাম্প্রতিককালে আরো কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনাগুলো নাড়া দিয়েছে সিলেটবাসীকেও। হঠাৎ করে সিলেটে খুন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রায় সবক’টি ঘটনারই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। দুটি ঘটনার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে খুনের ঘটনার প্রকৃত আসামিরা এখনো ধরা পড়েনি। সমাজে নানা অস্থিরতার কারণে সিলেটে জোড়া খুন সহ নানা ঘটনায় খুন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন নগরবাসীকে। এর থেকে উত্তরণের জন্য তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার উপর জোর দিয়েছেন। সর্বশেষ গত রোববার সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫-জে বাসার নিচ তলার ফ্ল্যাট থেকে মা রোকেয়া বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোটা নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। আলোচিত এ ঘটনা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় নিহত রোকেয়া বেগমের ৫ বছরের মেয়ে রাইসা। পুলিশি তদন্তে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। রোকেয়া বেগমের বেপরোয়া আচরণ আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যই তিনি খুন হয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে রোকেয়া বেগমের প্রেমিক শহরতলির মুক্তিরচক গ্রামের নাজমুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার পুলিশ সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ নাজমুলকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। আলোচিত এ খুনের ঘটনার একমাত্র সাক্ষী রাইসার জবানবন্দি ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নাজমুলকে। এখনো গ্রেপ্তার হয়নি তানিয়া নামের মেয়েটি। সে রোকেয়া বেগমের অনৈতিক কাজের সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে। রাইসা এখনো সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে ধারণা পেয়েছে- নাজমুলের বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রেমিকা রোকেয়া বেগম। আর এ বাধার কারণেই রোকেয়াকে খুন করা হতে পারে। তবে- রোকেয়ার বেডরুমে যাতায়াত ছিল আরো কয়েকজন পুরুষের। তারা হাই প্রোপাইল লোক। জোড়া খুনের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কী না- পুলিশ সে ব্যাপারেও তদন্ত করছে। সিলেটের কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাদেক কাওছার জানিয়েছেন- তদন্তে কোনো ফাকঁফোকর রাখা হচ্ছে না। যাতে নির্দোষরা কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। তবে, প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে যে তথ্য হাতে এসেছে সেগুলো তো পরিষ্কার। জোড়া খুনের সব দিকের বিশ্লেষণ ও খোঁজখবর এক করে পুলিশ সূত্র মেলাচ্ছে। নিহত রোকেয়া বেগমের বেডরুমের লোক ছিল নাজমুল- এটি ইতিমধ্যে পরিষ্কার হওয়া গেছে। এদিকে- গত ২৪শে মার্চ ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একরাই গ্রামের পূর্বের হাওর থেকে নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ওই হাওরে গিয়ে একটি গলিত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পাশেই ৭-৮ বছরের একটি শিশুর মাথা, পা ও হাতের খণ্ড খণ্ড অংশ পাওয়া যায়। আলোচিত এ ঘটনার রহস্যও ইতিমধ্যে পুলিশ উদঘাটন করেছে। গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে। এর মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ১৭ই মার্চ রাতে গোয়ালাবাজার থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুরের মালাকারপাড়ার মৃত অমিত মালাকারের স্ত্রী দীপু মালাকার (৪০) ও তার ছেলে বিকাশ মালাকারকে (৮) অপহরণ করে একই থানার পশ্চিম পৈলনপুরের জবেদ আলীর ছেলে জকরুল মিয়া (২২), বদিয়ারচরের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৭) ও মৃত আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (২৯)। পরে অটোরিকশা দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একারাই হাওরে। রাতভর হাওরে দীপু মালাকারকে ধর্ষণ করে। এ সময় ছেলে অমিত মালাকার দেখে ফেললে তাকে গলাটিপে হত্যা করে। ধর্ষণ শেষে দীপু মালাকারকেও হত্যা করে কচুরিপানা দিয়ে চাপা দিয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে সোমবার রাত ৩টার দিকে ওসমানীনগরের বদিয়ারচর থেকে অপহরণ, ধর্ষণ ও জোড়া খুনে জড়িত ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পুলিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ, ধর্ষণ ও জোড়া খুনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। ২৪শে মার্চ সিলেটের গোয়াইনাঘাটে সালুটিকরে ঘটে আরেকটি জোড়া খুনের ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র দিয়ে গুলি করে খুন করা হয় দুই জনকে। এ ঘটনার পর এখনো স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি সালুটিকরে। মসজিদের জমি নিয়ে সালিশ চলাকালে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ে দুইপক্ষ। একপর্যায়ে হয় বন্দুকের ব্যবহার। গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই জন নিহত। ঘটনার একপর্যায়ে গুলিতে মিত্রিমহল গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে মনাই মিয়া ও আজিজুল ইসলামের ছেলে রুমেল আহমদ সেদিন নিহত হন। ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বহর গ্রামের পুরুষরা। অন্যদিকে কান্না চলছে নিহতদের পরিবারে। সমপ্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাবল মার্ডারের নজির এটি। অবশ্য পুলিশ জড়িতদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। সিলেট শহরতলির বরইকান্দি এলাকায় ১৬ই মার্চ ঘটেছিল আরেকটি জোড়া খুনের ঘটনা। বরইকান্দির আলফু চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গৌছ মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষকালে আলফু মিয়ার পক্ষের লোকজনের গুলিতে মারা যান গৌছ মিয়ার পক্ষের শফিক মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া ও জমসেদ মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া। তবে আলফু মিয়ার স্ত্রী সুলতানা ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন নিজেদের গুলিতে মারা গেছে মাসুক ও বাবুল। ওদিকে- খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছে গৌছ মিয়ার পক্ষের লোকজন। এখনো গ্রেপ্তার হয়নি আলফু চেয়ারম্যান ও তার পক্ষের লোকজন।

সুন্দরবনের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ১৯০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত

পরিবেশ অধিদপ্তরের চিহ্নিত করা এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুন্দরবনের মাটি, পানি ও বাতাস মারাত্মক দূষণকারী ‘লাল’ শ্রেণিভুক্ত ২৪টি; বাকি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবও মারাত্মক। ছয় মাস আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর এ প্রতিবেদন তৈরি করে; যা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব আদালতে দাখিল করার পর গতকাল তা উপস্থাপন করা হয়। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৪শে আগস্ট ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন শিল্প-কারখানা অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কতগুলো শিল্প-কারখানা রয়েছে, তার তালিকা ছয় মাসের মধ্যে জমা দিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। সেই প্রতিবেদনটিই গতকাল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মোতাহার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে; যা আমি আদালতে উপস্থাপন করেছি। আগামী ৯ই মে এটি রুল শুনানিতে উঠবে। রিট আবেদনকারী জাকির হোসেন বলেন, ১৯০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণকারী লাল শ্রেণির ২৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। এই ২৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারবে না। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (এনভায়রনমেন্টাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া-ইসিএ) অর্ডিন্যান্স ১৯৯৯ অনুযায়ী প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগ নেই।

অপ্রয়োজনে সিজার করলে ব্যবস্থা

সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোকে একটি ফরম পূরণ করতে হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান ডেলিভারি (অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম) করালে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। গতকাল বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ কথা জানান। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ম্যাটারনাল মরটালিটি অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সার্ভের (বিএমএমএস) প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রতি এক লাখ জীবন্ত শিশু জন্মের ক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ১৯৬ জন মায়ের। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯৪। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। আমরা ওই রিপোর্টের সঙ্গে এখনো একমত হতে পারিনি। কারণ আমাদের যে রুটিন হেলথ ইনফরমেশন ডাটা যেখানে থেকে আসে আমরা সেটাকে বিশ্বাস করতে পারি। আমাদের ডাটা অনুসারে এটা ১৬৮ থেকে ১৭০ এর মতো হতে পারে। এটা নিয়ে কাজ করছি, বিষয়টি দেখছি, এটা আসলে কতটুকু সঠিক। কাজেই আমরা স্বীকার করতে রাজি নই মাতৃমৃত্যুর হার বাংলাদেশে বেড়েছে। তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি বাংলাদেশে সিজারিয়ান অনেক বেড়ে গেছে। এটা যাতে না হয়, যেখানে সিজারিয়ান করার প্রয়োজন নেই, সেখানে যাতে সিজারিয়ান করা না হয়, সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ফরম করেছি। যেখানে সিজারিয়ান হবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে ফরম পূরণ করে আমাদের জানাতে হবে। আমরা এগুলো চেক করবো। তারা যে তথ্য আমাদের জানাচ্ছে তা সঠিক কি-না। সেক্ষেত্রে যারা বিনা প্রয়োজনে সিজারিয়ান করাবে, সেখানে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার সে ধরনের আমরা ব্যবস্থা নেব। ফরমে মোবাইল নম্বরও নেয়া হবে। ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের সফলতা আশাব্যঞ্জক। সরকার বর্তমানে জিডিপি’র ২ দশমিক ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭১ দশমিক ৮, যা ২০০০ সালে ছিল ৬৫ দশমিক ৫। শিশুদের টিকাদানের অর্জন ৯৪ শতাংশ; অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে ৬৫ শতাংশ মানুষকে; মাতৃমৃত্যুর হার এখন প্রতি এক লাখে ১৭৬ জন, যা ২০০০ সালে ছিল ৩৯৯ জন; প্রতি ১০০০ জনে নবজাতকের মৃত্যু ২০০০ সালে ছিল ৪২ দশমিক ৬, যা ২০১৫ সালে কমে হয় ২৩ দশমিক ৩।  স্বাধীনতার সুফল সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে-পরিকল্পিত পরিবার গঠন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই এ ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সবার জন্য সর্বত্র।’

ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদে অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসী বোনের মৃত্যু

বাংলাদেশে ভাই মারা যাওয়ার শোক সইতে পারেন নি ইংল্যান্ডে বসবাসকারী বোন, দু’ সন্তানের মাতা সুলতানা আখতার। ওই খবর শোনার পর হার্ট এটাকে আক্রান্ত হন তিনি। এর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান সুলতানা। ১৯ শে মার্চ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন তার কাছে খবর আসে, বাংলাদেশে সুলতানার ৩৪ বছর বয়সী ভাই মারা গেছেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, দু’সন্তানের মা হলেও সুলতানা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। দেশে ভাইয়ের মারা যাওয়ার খবর শুনে তিনি ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারে অচেতন হয়ে পড়েন। তবু তার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। গ্লুচেস্টারে করোনার কোর্টে এ নিয়ে শুনানি হয়েছে। তাতে জানার চেষ্টা করা হয়েছে, সুলতানা আসলেই হার্ট এটাকে মারা গেছেন কিনা। ওদিকে ঘটনার পর সুলতানাকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাদেরকে পরাজিত করে সুলতানা পাড়ি দেন অন্য জগতে। এ সময় তার গর্ভে ছিল একটি মেয়ে সন্তান। তিনি অচেতন হয়ে পড়ার পর গ্লুচেস্টারশায়ার রয়েল হাসপাতালের জরুরি সিজারিয়ান সেকশনে নিয়ে ভূমিষ্ঠ করানো হয় ওই শিশুকে। ভূমিষ্ঠ করালে কি হবে, তাকে বাঁচাতে পারেন নি চিকিৎসকরা। উল্লেখ্য, সুলতানা আখতারের স্বামী ফিরুজ আলী। তাদের রয়েছে দুটি ছেলে নাবিল (১০) ও নাহিদ (১৪)। মায়ের অকস্মাৎ এভাবে মৃত্যুতে তারা ভেঙে পড়েছে। সুলতানা দম্পতি ছিলেন সন্তানদের প্রতি ভীষণ যতœশীল। দু’ ছেরের জন্মের পরে তারা একটি কন্যা সন্তান প্রত্যাশা করছিলেন গত ছয় বছর ধরে। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছিল। সুলতানার ১০ বছর বয়সী ছেলে নাবিল পড়ে ট্রেডওয়ার্থ জুনিয়র স্কুলে। সে বলেছে, আমি শিশুদের ভালবাসি। আমি যখনই মার কাছে একটি বোনের আবদার করতাম, তিনি সব সময়ই আমাকে বলতেন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। তাই আমি প্রতিদিন একটি বোন চেয়ে প্রার্থনা করেছি। শেষ পর্যন্ত আমার প্রার্থনা কবুল হয়েছে। কিন্তু যে বোনকে পেলাম তাকে আমাদের কাছে রাখতে পারলাম না। তাকে রেখে আসতে হলো মায়ের সঙ্গে। ওর জন্য একটি নামও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। নামটি হলো তায়্যিবা আখতার। কেনা হয়েছিল ভেলভেটের একটি লাল পোশাক।

যেভাবে পরকীয়ায় স্নিগ্ধা-কামরুল by জাভেদ ইকবাল

একটি পরকীয়া। ভেঙে চুরমার দুটি সাজানো সংসার। স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল মিলে অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে খুনের ঘটনায় বিস্মিত-হতবাক রংপুরের মানুষ। সর্বত্র ক্ষোভ-ধিক্কার। দু’ জন দু’ ধর্মের। পরিবার-সন্তান রয়েছে দু’ জনেরই। তবুও তাদের এই প্রেম-পরকীয়ার ঘটনার চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
দু’ জনই দীর্ঘকাল ধরে চাকরি করতেন তাজহাট উচ্চ   বিদ্যালয়ে। গতকাল সে স্কুলে গিয়ে দেখা যায় এক অন্যরকম পরিবেশ। স্কুলের শিক্ষিকা ফেরদৌসী আরা পলি বলেন, যেভাবে এ দু’শিক্ষক মেলামেশা করতো তাতে আমরা সহকর্মী হিসেবে তেমন কিছু মনে করতাম না। গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দু’সন্তানের জননী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও এক সন্তানের জনক কামরুল ইসলামের পরকীয়া প্রেমের গল্প। প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির পর সব শিক্ষকদের পরে  বের হতো স্নিগ্ধা ও কামরুল। প্রায়ই তারা মোটরসাইকেলে করে দূরে নিভৃত স্থানে গিয়ে সময় পার করতো। অ্যাড. রথীশ ভৌমিকের দুই সন্তানের মধ্যে এল.এল.বি অনার্স পড়ুয়া পুত্র ঢাকায় থাকতেন। নবম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা থাকতো বাসায়। কন্যা স্কুলে চলে যাওয়ার পর কামরুল পেছনের দরজা দিয়ে স্নিগ্ধার বাসায় গিয়ে গোপনে অবৈধ মেলামেশা করতো। বিষয়টি রথীশ ভৌমিক আঁচ করতে পারলে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৪ সালে গড়ে ওঠা তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৯৪ সালে অ্যাড. রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ধর্মীয় শিক্ষক এবং কামিল পাস করা কামরুল ইসলাম একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। স্নিগ্ধা ভৌমিক শান্ত স্বভাবের হলেও কামরুল ইসলাম চতুর ও চঞ্চল প্রকৃতির। হাসি, ঠাট্টা করতো সবার সঙ্গে। দীর্ঘদিন চলার পথে শিক্ষক স্নিগ্ধা ও কামরুলের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্কের কারণে স্নিগ্ধার দাপ্তরিক যাবতীয় কাজকর্ম কামরুল করে দিতো। বিনিময়ে স্নিগ্ধা বাড়ি থেকে টিফিন বক্সে করে কামরুলের জন্য খিচুড়ি, ছানা, পায়েসসহ ফলমূল নিয়ে এসে তাকে খাওয়াতো। তার সহকর্মীরা প্রশ্ন করলেও স্নিগ্ধা বলতো আমার কাজ করে দেয় বিধায় তাকে নাস্তা খাওয়াই। এসব বিষয় জানতে পারেন স্নিগ্ধার স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি শিক্ষক কামরুলকে সাবধান করে দেন। এ থেকে তাদের  মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে মোবাইল ফোনে কামরুল আর স্নিগ্ধা পরিকল্পনা করে কীভাবে আগের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা যায়। তারা দিনে কখনো ৩০-৩৫ বারও কথা বলেছেন। এসব বিষয় নিয়ে রথীশের পরিবারে নেমে আসে চরম অশান্তি। দেখা দেয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও বিরোধ। স্নিগ্ধা প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বামীকে গালমন্দও করতো।
সম্প্রতি তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুলের বেপরোয়া চলাফেরা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রথীশ প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করার তাগিদ দেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষিকা ৪ঠা মার্চ তাকে শোকজ করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর দিতে বলেন। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর কামরুল তার চিঠির জবাব দিলেও সন্তোষজনক না হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অভিভাবক সদস্য বিপুল সরকারকে। অপর দুই সদস্য হলেন- শিক্ষক প্রতিনিধি মতিউর রহমান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন। ২৮শে মার্চ ওই তদন্ত কমিটি কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরই মধ্যে ঘটে যায় ২৯শে মার্চ রাতে রথীশের হত্যার ঘটনা। শিক্ষক শাহরুল হুদাসহ অন্যরা বলেন, ৩০শে মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ সংবাদ শুনে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৩১শে মার্চ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করি। ওই কর্মসূচিতে কামরুলও উপস্থিত ছিল এবং সে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালন করে। তার চোখ- মুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে নিহত রথীশের হত্যাকাণ্ড ঘটনার রহস্য গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রকাশের পর রংপুরে জাতীয় ও স্থানীয় সব পত্রিকা দিনের অর্ধবেলায় বিক্রি হয়ে যায়। সর্বত্রই স্নিগ্ধা ও কামরুলকে নিয়ে চলে সমালোচনা।
রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে ৩০শে মার্চ নিখোঁজ হন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের দায়ী করে আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ক্ষত্রিয় সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, গণঅনশন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। নিখোঁজ রথীশের সন্ধানে মাঠে নামে র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আইনজীবীর স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং তার সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ষষ্ঠ দিন ৪ঠা এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করা হয়। স্নিগ্ধা ভৌমিক র‌্যাবকে জানায়, পরিবারিক কলহ, সন্দেহ ও অশান্তির কারণে সে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তাকে এ কাজে সহায়তা করে তার কথিত প্রেমিক কামরুল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কক্সবাজার সফর ২৭শে এপ্রিল

চলতি মাসের শেষের দিকে কক্সবাজার ও রাখাইন সফর করতে চায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের প্রতিনিধিরা আগামী ২৭ ও ২৮শে এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী। সূত্র মতে, ওই সফর বিষয়ে জাতিসংঘ ছাড়াও মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। সরকারের তরফে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবেন বলে তাদের জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সফরকালে সংখ্যালঘু  রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিষয়টি আলোকপাত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপ্রিলের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘে নিযুক্ত পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো মেজা-সুআদ্রা দু’দিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তারা রাখাইন ও কক্সবাজার সফর করতে চান। সফরের সময় এবং বিস্তারিত বিষয় নিয়ে এখনো কাজ করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার সফরের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে অং সান সুচি সরকার। তবে তারা রাখাইন রাজ্যে যেতে পারবেন কিনা, তাদেরকে সেই অনুমতি দেয়া হবে কিনা- তা এখন নিশ্চিত নয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট পেরুর রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো মেজা চুয়াড্রা নিজেই সেই অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেছেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার সফরে যাওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তখন সুচি সরকারের তরফে বলা হয়েছিল- সফরের এটা উত্তম সময় নয়। তবে এবার নেপি’ডর তরফে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারে স্বাগত জানানোর সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে রাখাইন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত পেতে হয়তো আরো কিছুটা সময় লাগবে! সফর বিষয়ে পেরুর রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো মেজা চুয়াড্রা গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ সফর সম্পর্কে প্রাথমিক কাজকর্ম চূড়ান্ত করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো মিয়ানমার সরকার নিরাপত্তা পরিষদকে কি রাখাইন রাজ্য সফরের অনুমতি দেবে কি-না। মেজা চুয়াড্রা বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা রাখাইন যেতে আগ্রহী। তিনি বলেন, কাউন্সিল মেম্বাররা আশা করে তারা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইন রাজ্য সফর করতে পারবেন। ওই রাজ্যে বিদ্রোহীদের দমনের নামে সেনারা বর্বর কায়দায় যে অভিযান চালিয়েছে তা থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে পাশের বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে এখনো কিছু রোহিঙ্গা রয়েছেন। রাখাইনের বাস্তব পরিস্থিতি দেখার চেয়ে তাদের সফরে ভালো কিছু আর হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই সফর আয়োজন করছে বৃটেন, কুয়েত ও পেরু। ২৫শে আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। রাষ্ট্রদূত মেজা সুয়াদ্রা এ-ও জানান, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা ইরাক সফর করবেন। ইরাক পুনঃনির্মাণ এবং দেশটির বিবদমান সব পক্ষের সমঝোতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহায়তা প্রয়োজন। দেশটিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)সহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি রয়েছে। রাষ্ট্রদূত মেজা জানান, আগামী মে মাসে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

পাঁচ বছরের দণ্ড, জেলে সালমান

কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় বলিউড তারকা সালমান খানের ৫ বছরের জেল হয়েছে। সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। ২০ বছর আগের এ মামলায় তাকে গতকাল দোষী সাব্যস্ত করে যোধপুরের আদালত রায় প্রদান করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার ক্ষত্রী এ রায় প্রদান করেন। ৫ বছরের জেল হওয়ায়   জামিনের জন্য সেশনস কোর্টে যেতে হবে এ অভিনেতাকে। ৩ বছরের কম সাজা হলে যোধপুর আদালতই গতকাল তাকে জামিন দিতে পারতো। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় তাকে পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে। একই মামলায় অন্য চার অভিযুক্ত ছিলেন বলিউড তারকা সাইফ আলি খান, টাবু, নীলম এবং সোনালি বেন্দ্রে। তাদের বেকসুর ঘোষণা করেছেন আদালত। বিশনয়রা বাকি অভিযুক্তদের খালাস পাওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে বলে জানিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রায় ঘোষণার পর সালমান খানকে হাতকড়া পরিয়ে যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সালমানকে বহনকারী পুলিশের একটি গাড়ি আদালত থেকে কারাগারে প্রবেশ করে। এ সময় চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ওই সময় সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সালমানকে যে কারাগারে রাখা হয়েছে সেখানে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গতকালই দোষী সাব্যস্ত করে দেয়া রায় ও সাজার নির্দেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন পেশ করা হয়েছে সালমানের পক্ষে। আজ বেলা সাড়ে দশটায় তার শুনানি। এদিকে সালমানকে যখন মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বাইরে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিশনয় সমপ্রদায়ের সদস্যদের। কৃষ্ণসার শিকারের মুখ্য অভিযুক্ত সালমান খানের সঙ্গে ছিলেন তার দুই বোন আলভিরা ও অর্পিতা। সালমানের বিরুদ্ধে বন্য পশু সংরক্ষণ আইনের ৫১ নম্বর ধারায় মামলা চলছিল। এই কৃষ্ণসার হরিণের রক্ষণাবেক্ষণ যারা করেন রাজস্থানের সেই বিশনয় উপজাতির সদস্যরা জানান, তাদের স্থির বিশ্বাস, এবার তারা ন্যায় বিচার পাবেন। সালমানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বতের দাবি ছিল, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতেই পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমন কি, বন্দুকের গুলিতেই যে হরিণ দুটির মৃত্যু হয়েছিল, তা-ও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন সারস্বত। ২৮শে মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়। অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ১৯৯৮ সালের ১লা এবং ২রা অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের মাঝে আলাদা আলাদা জায়গায় দু’টি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেছিলেন সালমান খান। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলি খান, নীলম, টাবু এবং সোনালি  বেন্দ্রে। রাজস্থানের কঙ্কানি এলাকার গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গুলির শব্দ শুনে তারা সালমানদের জিপসি গাড়িটিকে ধাওয়া করেছিলেন। কিন্তু তাদের ধরা যায়নি। সেই সময় চালকের আসনে ছিলেন স্বয়ং সালমান। প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে তারা পালিয়ে যান বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে এই মামলায় কয়েকদিন যোধপুর কারাগারে ছিলেন সালমান খান। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে যখন এই মামলার রায় দেয়া হয় তখন নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন এ অভিনেতা। কিন্তু এই রায়ের ওপর আবারো আপিল করা হয়। এদিকে এই মুহূর্তে সালমানের ওপর এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি লগ্নি রয়েছে। তার সাজা হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়লো এই ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ।

বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলোয় ওরা by রাজিউর রহমান রুমী

সব বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে চায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কয়েক শিক্ষার্থী। ওদের পণ নিজেদের চোখের আলো না থাকলেও দেশ ও সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা। সব বাধা পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে ১৬ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় এবার পাবনায় সর্বাধিক সংখ্যক ১৬ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অংশগ্রহণ করছে। এসব অন্ধ যুবক শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার জন্য শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পাবনা শহরের শহীদ বুলবুল কলেজ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ ও জাগির হোসেন একাডেমি কেন্দ্র থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। পাবনা সদর উপজেলার সিংড়া এলাকার সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘মানব কল্যাণ ট্রাস্ট’ এর বাসিন্দা নরসিংদী জেলার শিহাবুদ্দিন ভুইয়া, মো. আব্দুল্লাহ, টাঙ্গাইল জেলার আবদুল্লাহ আল আমিন, আবুল কালাম আজাদ, গোপালগঞ্জের ইখতেয়ার মৃধা, জামালপুরের গোলাপ মল্লিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহাদত হোসেন, পঞ্চগড় জেলার রোকনুজ্জামান, দিনাজপুরের আব্দুল আজিজ, কুড়িগ্রামের ইমরান হোসেন, রাজশাহীর মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ জেলার মোজাম্মেল, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ আলী, বরিশালের হুমায়ুন কবির ও পাবনার মনিরুল ইসলাম। এই ১৬ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতি লেখকদের শোনান ও শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। এ কারণে তাদের জন্য তিন ঘণ্টার অতিরিক্ত মাত্র ২৫ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এ সময়  যথেষ্ট নয় বলে তারা দাবি করেছেন। তিনি আরো জানান, শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা ও বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে পদে পদে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এ কারণে সাত জনের এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছিল। পরীক্ষার তিন দিন আগে তারা জানতে পারে বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকের অনুমোদন দিচ্ছে না। নির্ধারিত একজনের পাঁচ হাজার টাকা করে ১৬  শ্রুতি লেখকের জন্য মোট ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা থাকলেও নানা তালবাহানা করে বোর্ড। অবশেষে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন ও পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কায়সারুর ইসলাম বিষয়টা জানার পরে এ ব্যপারে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করেন। এরপর ওই সাত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার আগের দিন রাজশাহীতে গিয়ে বিষয়টা সমাধান করতে পারেন।
মানব কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর (অন্ধ) শিক্ষা সংগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতা। সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে।
পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের (অন্ধ) লেখপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতি লেখক সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়া করার ন্যূূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তারপরেও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন।
তিনি আরো জানান, এই ১৬ পরীক্ষর্থীর মতো আরো ৭২ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন। এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা, আট জন ৯ম শ্রেণিতে, ১০ম শ্রেণিতে সাত জন, একাদশে ৯ জন, দুই জন এমএ সহ বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে সারা দেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি দাবি করেন।

কোটা সংস্কার: বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন by নূর মোহাম্মদ

সরকারি চাকরিতে শতকরা অর্ধেকেরও বেশি কোটা থাকায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে। সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে চলছে আন্দোলন। এ নিয়ে নানা বিতর্ক, নানা আলোচনা। মানবজমিন-এর পক্ষ থেকে এ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের কাছে মতামত চাওয়া হলে তারা কোটা সংস্কারের পক্ষে মত দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য কোটা প্রচলন করা হয়। আজকের প্রেক্ষাপটে এ কোটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা বিবেচনা করা জরুরি। আমরা দেখছি, শুধু চাকরি নয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি থেকে সব জায়গায় কোটা পূরণ হচ্ছে না। এতে মেধাবীদের প্রবেশ যেমন সঙ্কুচিত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসন দিন দিন মেধাহীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার। না হয় দিনদিন গোটা প্রশাসন দুর্বল হয়ে যাবে। তার মতে, দেশের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, পাহাড়ি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য কোটা রাখা দরকার, তবে সেটাও সংস্কার হওয়া উচিত। আর এখন মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখা উচিত না। এখন মেধার ভিত্তিতে নেয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি বয়স দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া তারা রাষ্ট্রের আরো অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ ভাগ কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখন যদি তাদের নাতি-নাতনীদের জন্য একইভাবে কোটা চালু রাখা হয় তবে এক সময় এসে প্রশাসন মেধাশূন্য হয়ে যাবে। আমি মনে করি, কোটা পদ্ধতির সংস্কার জরুরি। কোনো শতাংশ না কোটা পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া উচিত। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও টিআইবির ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, কোটা বাদ দেয়ার পক্ষে আমি না। তবে সেটা সময়ের প্রয়োজনে সংস্কার করতে হবে। বছরের পর বছর এভাবে কোটা থাকতে পারে না। সব কোটা মিলে কত শতাংশ হবে তা রাষ্ট্রকে এখনই নির্ধারণ করতে হবে। না হয়, ৪৪ শতাংশ মেধাবী আর ৫৬ শতাংশ কোটাধারীদের দিয়ে মেধাবী প্রশাসন করা যাবে না। তাই আমি মনে করি, কোটা নিয়ে যে আন্দোলন চলছে তা সরকার মেনে নিয়ে এ কোটার সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, কোটার সংস্কারকে অস্বীকার করা মানে প্রয়োজনকে অস্বীকার করা।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, কোটা ব্যবস্থা একদম থাকবে না, এমনটা নয়। সর্বসাকুল্যে ১০ শতাংশ কোটা রাখা যেতে পারে। এগুলো যেমন- শারীরিক প্রতিবন্ধী, উপজাতি, নারী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রাখতে হবে। কোটার জন্য যোগ্য ও মেধাবীরা কোনোভাবেই যেন বঞ্চিত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বঞ্চিত হলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা থাকেন তাদের জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। কোটা সংস্কার জরুরি। সব কোটা এখন সর্বোচ্চ ২০ ভাগ করা যায়। বাকি ৮০ ভাগ মেধার ভিত্তিতে নেয়া উচিত। তিনি বলেন, আমরা তো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না মতামত দিতে পারি। তবে জনস্বার্থ বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী, জেলা নারী সব কোটায় সংস্কার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যে কোনো কোটা বংশ পরম্পরায় থাকা উচিত না এবং এটা বৈষম্য তৈরি করে।
গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কোটা সংস্কারের যে দাবি উঠেছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখা উচিত না। বর্তমান ব্যবস্থা কোটা সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হরণের শামিল। সকলেই সমান এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার যেন পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে কোটার সুযোগ দেয়া সাংবিধানিক অধিকার হরণের শামিল। এতো বেশি কোটার সুযোগ থাকায় জাতি মেধাহীন হয়ে পড়বে, মেধার মূল্যায়ন হবে না। বিশেষ সম্প্রদায় প্রাধান্য পাওয়ায় প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা সমস্ত জায়গা মেধাহীন হয়ে পড়বে। এটা জাতির জন্য ভয়াবহ হবে।

এক শিকলে ২২ বছর by এনামুল হক আকন্দ

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রেল লাইন ঘেঁষা ছোট খুপরী ঘরে মাজেদা খাতুনের পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাস। অভাব পিছু ছাড়েনি এই পরিবারটিতে কখনো। একটা সময় অভাবের কারণে মাজেদা খাতুনের স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এখন মাজেদা খাতুনের সবচেয়ে বড় কষ্ট তার বড় ছেলে চাঁন মিয়াকে ২২ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রেখেছেন। কারণ ১৯৯৬ সালের দিকে তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয় মাজেদাকে। ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করানোটাই ২২ বছর ধরে স্বপ্নেই রেখেছেন তিনি।
মাজেদা খাতুন জানান, তারা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এই রেল সড়কের পাশেই রেলের জমিতে খুপরী  ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী মোস্তফা একজন দিনমজুর ছিল। তাদের সংসারের প্রথম সন্তান এই চাঁন মিয়া। তার বয়স যখন সাত বছর তখনই ময়মনসিংহের একটি মাদরাসায় তাকে হাফেজি পড়ার জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের দিকে তার মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। পরে আর অর্থাভাবে কোনো ধরনের চিকিৎসা করাতে পারেননি। এ সময় থেকেই তাকে শিকলে বাড়িতে বেঁধে রাখা হচ্ছে। সময় গড়িয়ে চলে গেছে ২২ বছর। তিনি আরো জানান, পরে তাদের সংসারে আরো চার জন সদস্যের জন্ম হয়। কিন্তু অভাবের কারণে একটি সময় তার স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময় তার প্রতিবন্ধী সন্তানের সহযোগিতার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড ২নং কাউন্সিলর তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কয়েকবার কিন্তু তা মুখেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজউদ্দিন আহমেদ জানান, হতদরিদ্র পরিবারের এই মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানই এখন তাদের বড় সমস্যা। এরা সহায়তার জন্য একবার আমার কাছে এসেছিল। তাদের কিছু কাগজ জোগাড় করার জন্য বলেছিলাম পরে আর আসেনি। শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হক জানান, সমাজের অবহেলিত হতদরিদ্র লোকজনের সহায়তায় সরকারের সামাজিক কর্মসূচি কার্যক্রম চলমান আছে। এই প্রতিবন্ধীর পরিবারকে কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।

অসুস্থতার কারণে খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়নি

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২২শে এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই দিন পর্যন্ত এ মামলার আসামি খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিতকরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। অসুস্থতার কারণে গতকালও খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালনার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তবে, ভিডিও কনফারেন্সের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেছেন, দুদক আইনজীবীর এ ধরনের বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তা বাড়াবাড়ি। জিয়া   চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে। এর আগে  ২৮শে মার্চ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে ওই তারিখে তাকে হাজির করা হয়নি। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন একই আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।
গতকাল সকাল থেকে বকশীবাজারের বিশেষ আদালত ও কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালতের বাইরের বিভিন্ন সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ তাই বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের উদ্দেশে বলেন, আজ (গতকাল) এই মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য ধার্য আছে। আদালতে দুজন আসামি (জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান) উপস্থিত আছেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি আথ্রাইটিসে ভুগছেন। তাই, তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে চান। খালেদা জিয়াকে চাহিদা মোতাবেক গৃহকর্মী দেয়া হয়েছে। তাঁকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া যেহেতু অসুস্থ, তাকে আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না, তাই আমরা এই মামলার বিচারকাজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচালনা করতে চাই। তিনি বলেন, ভারতের লালু প্রসাদ যাদবের (বিহার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী) মামলার বিচারকাজও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আমাদেরও এ সুযোগ রয়েছে। আগামী তারিখে এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করবো। 
এ সময় খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের একটি পিটিশন রয়েছে। তাছাড়া কাস্টডি ওয়ারেন্ট আমরা এখনো দেখিনি।
এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান দুদক আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, এই আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে। আদালত কীভাবে চলবে, কীভাবে পরিচালিত হবে সেজন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রয়োজন। ভিডিও  কনফারেন্স, এটা সেটা-এ ধরনের বক্তব্য বাড়াবাড়ি। এসব বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য এক মাস সময়ের আবেদন করেন আব্দুর রেজাক খান। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, আমার কাছে তথ্য আছে যে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নন। তিনি তার পুরনো অসুখেই ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ড তাকে ওষুধ দিয়েছে। কিন্তু তিনি সে ওষুধ গ্রহণ করছেন না। এ পর্যায়ে আব্দুর রেজাক খান বলেন, আপনি যেটি জানেন না সেটি নিয়ে কথা বলবেন না।
মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমি এই মামলার পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আমাকে কথা বলতেই হবে।
আব্দুর রেজাক খান বলেন, আপনি দুদকের পিপি, স্টেটের পিপি নন। এ পর্যায়ে আদালত এ মামলার অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আগামী ২২শে এপ্রিল দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই ধার্য তারিখ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিত করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মো. আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন ভুঁইয়া। আদালত থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আজ (গতকাল) আদালতে খালেদা জিয়াকে উপস্থিত করা হয়নি। কাস্টডি ওয়ারেন্টে লেখা আছে তিনি অসুস্থ। আব্দুর রেজাক খান বলেন, দুদকের পিপি বলেছেন, যেহেতু খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মামলার পরবর্তী বিচারকাজ চলতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, আদালতের কথায় মামলার বিচারকাজ চলবে, দুদকের পিপির কথায় নয়। আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে যে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা কোথায় হবে। আব্দুর রেজাক খান বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশের আইন আদালত চলছে। আদালতের কার্যক্রম যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্যের সমালোচনা করে আব্দুর রেজাক খান বলেন, দুদকের পিপি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিতে পারেন না। তার কথা আমলে নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যা কিছু বক্তব্য আসবে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসবে। চিকিৎসা গ্রহণ করা না করা এগুলো জেল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনের ব্যাপার। এ বিষয়ে আদালত কিংবা পিপি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। খালেদা জিয়া ওষুধ খাচ্ছেন না- এ ধরনের বক্তব্য তার (দুদকের আইনজীবী) মনগড়া। এটি অতি উৎসাহী বক্তব্য।  
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। কারণ তিনি আথ্রাইটিসে ভুগছেন। এটি তার পুরনো রোগ। তার নতুন কোনো রোগ নেই। তিনি পুরনো রোগেই আক্রান্ত। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড তাকে ওষুধ দিয়েছে। কিন্তু তিনি সেই ওষুধ গ্রহণ করছেন না। তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসক চেয়েছেন। হয়তো ব্যক্তিগত চিকিৎসক পেয়ে যাবেন। মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, যেহেতু খালেদা জিয়া আথ্রাইটিসে ভুগছেন এবং তিনি চলাফেরায় অক্ষম, সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় কি না আদালতে সেটি বলেছি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে লালু প্রসাদ যাদবের মামলার বিচারকাজ ও রায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হয়েছে। তাই দৃষ্টান্তস্বরূপ আমরা মনে করি সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মামলা পরিচালনা করা যায় কি না। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে তার (খালেদা জিয়া) আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করতে পারেন। এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা আছে বলে আমার জানা নেই।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

গুজবে কান দেবেন না

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও তার অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। খালেদা জিয়াকে   ছাড়াই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেতে পারে- রাজনৈতিক মহলের এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন- গুজবে কান দেবেন না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দলের সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ আছি আর সেটি সরকারের পছন্দ হচ্ছে না। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা সত্যিকারের একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু বর্তমানে যা চলছে, তাতে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। সেজন্য লড়াই করছেন খালেদা জিয়া। আমরা দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ২০ দলীয় জোটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০ দল আগেও ছিল, এখনো আছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, আছি। কিন্তু জোট নিয়ে যেসব সংবাদ প্রচার হয়, তা তারা কোনো বক্তব্য দেননি। আমরা দলীয় ও জোটগতভাবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছি। দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর ঐক্যের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, এখনও সময় আসেনি। রাজনীতির প্রত্যেকটি জায়গার একটা সময় আছে। আমরা কথা বলছি, কথা চলছে। সবাইকে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একটা জায়গায় আসতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকার সময় আমাকে নিয়ে যেভাবে মনগড়া নিউজ করা হয়েছে, তাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। বিএনপি মহাসচিব হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর একটি পত্রিকায় ‘কে চালাবে বিএনপি’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, এসব মনগড়া নিউজ জাতিকে বিভ্রান্ত করে। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, যেখানে প্রতিটি নেতাকর্মী সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে। তিনি বলেন, আমি খুব উদ্বিগ্ন হয়েছি। যখন আমি হাসপাতালে ভর্তি, তখন আমাকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে মনগড়া নিউজ। এসবের ফলে শুধু একটা দল বা ব্যক্তি নয়, গোটা জাতির ক্ষতি হয়। তাই আমি আহ্বান জানাব, যাতে এমন কোনো সংবাদ প্রচার না হয়, যাতে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবে, যাতে দেশ ও জাতি উপকৃত হতে পারে। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য প্রচার করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করা কখনও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হতে পারে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন কারাগারে ‘অধিকার বঞ্চিত’ হচ্ছেন। খালেদা জিয়ার যে ন্যূনতম প্রাপ্য অধিকারগুলো তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার যখন ডিভিশন প্রাপ্তির কথা ছিল প্রথম কয়েক দিন তা দেয়া হয়নি। তাকে একটি পরিত্যক্ত নির্জন একটি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। একটি সভ্য দেশে এমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাৎ ও সেবা দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে না সরকার। এক্ষেত্রে সরকারের আচরণ দেখে পরিষ্কার, তারা খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা করতে দিতে চায় না। এর একটি মাত্র কারণ তারা তাকে ভয় পায়। কারণ তিনিই একমাত্র গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারেন এবং এই দুঃশাসনকে পরাজিত করতে পারেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, দুদক সরকারের ইচ্ছাপূরণে কাজ করছে। সরকার যেভাবে চায়, তারা সেভাবে কাজ করছে। এখন আমাদের দলের আট নেতার চরিত্রহনন করতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তারা নাকি ১২৫ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করেছেন? আমি বলব, দুদকের এ অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। আমাদের দলের যেসব নেতার নাম এসেছে তাদের মধ্যে এমন নেতাও আছেন যার ওই ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্টই নেই। তিনি বলেন, সরকারের যারা দুর্নীতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যারা রাষ্ট্রের অর্থ পাচার করছে, ব্যাংক লুট করছে, শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে- তাদের বিষয়ে দুদক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এমন কি যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা এখনো মন্ত্রী পদে বহাল আছেন। এদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তিনি বলেন, দুদকের একমাত্র কাজ হচ্ছে বিরোধী দলের মামলাগুলো দাঁড় করানো এবং তদন্তের নামে তাদের রাজনীতি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। কিন্তু কেন? গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা যে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, কয়জনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত করেছে দুদক? অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঝে-মাঝে মনে হয়, সত্যিই কি আওয়ামী লীগ দেশ চালাচ্ছে? আমার তো মনে হয় আওয়ামী লীগ দেশ চালাচ্ছে না। অন্য কেউ দেশ চালাচ্ছে। কারণ একটি রাজনৈতিক দল দেশ চালালে কখনো বিরোধী দলের সঙ্গে এমন আচরণ করে না; ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয় না। মির্জা আলমগীর বলেন, নিজের হাতে তৈরি করা যে সন্তানের জন্য লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে; তাকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। কেয়ারটেকার জবাই করেছে, গণতন্ত্রকে জবাই করেছে। আসলে তারা কোথা থেকে কোথায় আসলো এগুলো আমাদের ভাবা উচিত। আমরা কেউ কিন্তু এগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ। ইতিহাস যদি দেখেন, সবসময় নির্বাচনকে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে নেয়া হয়েছিল। এজন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে অংশ নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে যেতে পারছি, আমাদের কথা তুলে ধরতে পারছি। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ হবে- প্রত্যশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি একটি ভালো নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু কখনো সেটি হয় না। যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা ঠুটো জগন্নাথ। তাদের যে নির্দেশ করে তারা তাই করে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়বে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনগণের মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা। জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে নৌকা খুঁঁজে পাওয়া যাবে না। গ?য়েশ্বর রায় ব?লে?ছেন, সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বন্দি করেছে সুতরাং রাজনৈতিকভাবেই তাকে মুক্ত করা আমাদের প্রয়োজন। আমার মনে হয় আমরা বেশি দিন শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে আমাদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ রাখবো না। সময় এসেছে আজকে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করার। আর সরকারের পতন হলে খালেদা জিয়াও মুক্তি পাবেন, জনগণও মুক্তি পাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং জনগণের মুক্তি তাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা যাবে কিন্তু তিনি যে চেতনা লালন করেন, সেই চেতনার কোনো দিন মৃত্যু হবে না। আমরা যারা তার অনুসারি আছি, দীর্ঘদিন তার নেতৃত্বে পা?শে আ?ছি, আমাদের মধ্যেও সেই চেতনাবোধ অঙ্গিকার প্রতিশ্রুতি আছে। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করছি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সেই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে যারা বাধা তারা গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। সেই অধিকার আদায় করার ক্ষেত্রে বা সেই অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই; কিন্তু এটাকে আমরা আবার অতিক্রমও করি। গয়েশ্বর রায় বলেন, জনগণের সমর্থন আছে এ কারণে জনগণ যা চায় বিএনপি ও সেটাই চায়। জনগণ যা চায় সেটা খালেদা জিয়াও চায়। খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে বা দলের কোনো স্বার্থে লড়াই করছে না সেই কারণে জনগণও ঐক্যবদ্ধ আছে। তি?নি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে এত হামলা মামলা তার পরও কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগের) একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার সৎ সাহস নেই। তা?দের অনেকেই হয়তো মনে করছেন বিএনপি শেষ কিন্তু বিএনপি শেষ হতে পারে না। আওয়ামী লীগের অত্যাচার নির্যাতন অগণতান্ত্রিক শক্তির নির্যাতন যত বাড়বে তত গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হবে। তাদের শক্তি আরও বাড়বে এটাই কিন্তু স্বাভাবিক। গ?য়েশ্বর বলেন, কারাগারে বসে আমার সবচেয়ে যে বিষয়টি ভালো লেগেছে চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে আমাদের দলের যে ইউনিটি- এটাই সফলতার পূর্ব লক্ষণ। আমরা সফল হবো; কারণ আমাদের আন্দোলন বিএনপির স্বার্থে নয়। গয়েশ্বর রায় বলেন, আমরা জানি বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের হতে দেবে না। আমি কথাটি স্পষ্ট বলছি সরকার আমাদের নেত্রীকে বের হতে দেবে না। কারণ এখানে আদালতের কিছু করার নেই। ইতিমধ্যে আদালত সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি ব?লেন, আমি সবচেয়ে বেশি মনে করি খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী এটাই তার বড় পরিচয় নয়। তার পরিচয় একটা, তিনি (খালেদা) একটা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান এবং তার যাত্রা শুরু গণতন্ত্রের আন্দোলন দিয়ে। এখনও তিনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করছেন। যেখানে তিনি কখনও আপস করেননি। সেই সঙ্গে এটাও বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও তিনি আপস করবেন না। সংজ্ঞত কারণেই তার এই আপসহীন মনোভাবের সঙ্গে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী একই চেতনা নিয়ে তারা রাজনীতি করছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছে। তার এই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তিনি সাচ্চা জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক। গয়েশ্বর রায় বলেন, দেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতি, দেশের স্বার্থ বিনষ্ট হোক এই বিষয়ের ওপর তিনি কখনই আপস করেননি। তিনি দেশটাকেই বড় করে দেখেছেন এবং কখনও কখনও তিনি বিএনপির স্বার্থ না দেখে দেশের স্বার্থটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সে কারণেই বলছি খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একটা প্রতিষ্ঠান। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিএনপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করা। অবরুদ্ধ মানবাধিকার যা ভূলণ্ঠিত হয়েছে, সেটি প্রতিষ্ঠিত করা। এক্ষেত্রে এক বিন্দুও আমরা পিছপা হবো না। হয় সফলতা, না হয় মৃত্যু। এর বাইরে আর কোনো রাস্তা নেই। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সেলিমুজ্জামান সেলিম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, তিন দিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার দলীয় নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরেছেন তিনি।