Showing posts with label যুদ্ধাপরাধের বিচার. Show all posts
Showing posts with label যুদ্ধাপরাধের বিচার. Show all posts

Thursday, October 6, 2011

যুদ্ধাপরাধের বিচার-সবার দায়িত্বশীল থাকা বাঞ্ছনীয়

বিলম্ব সত্ত্বেও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে একজন অভিযুক্তের বিচার শুরু হতে চলার খবরে বিভিন্ন মহলে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। আসামিপক্ষের তরফে বিচার বর্জনের ইঙ্গিত সত্ত্বেও ৩০ অক্টোবর বিচার শুরু হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত হবে, জনগণের ও আইনের শাসনের দাবি পূরণে যাতে আশাভঙ্গের কারণ না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। পুরো বিষয়টি যাতে সুষ্ঠু, পরিচ্ছন্ন, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ থাকে, সে জন্য প্রসিকিউশন ও তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই শুধু নন, পুরো নির্বাহী বিভাগকেও সজাগ থাকতে হবে। কারণ, তারা তাদের কাজে স্বাধীন হলেও বাস্তবে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয়েই প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়াটি যুগপৎ আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। তাই বিচার-সংক্রান্ত খবরাখবর প্রকাশে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিডিয়ার অতি উৎ সাহ সমস্যা সৃষ্টি করে।
গোড়া থেকেই আমরা নির্বাহী বিভাগ, বিশেষ করে, এক জুনিয়র মন্ত্রীকে বিচার অনুষ্ঠান নিয়ে নানা মন্তব্য করতে দেখছি, যা বিচারবিরোধীদের অপপ্রচারের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এত দিন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু না হওয়ার পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এখন যদি অতি উৎ সাহী ব্যক্তিদের না সামলানো হয়, তাঁরা যদি আগের মতো মেঠো বক্তৃতা করে আসর মাত করার প্রবণতা অব্যাহত রাখেন, তাহলে সমূহ বিপদ। সরকারের মধ্যে যাঁরা বাগাড়ম্বরপ্রিয়, তাঁদের মনে রাখা উচিত, হাইকোর্টে বিচারাধীন কোনো মামলা নিয়ে তাঁরা কিন্তু একই ধরনের মন্তব্য করেন না। তাঁরা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান থাকার সময় বলেন না যে আদালত অমুক তারিখ বা সময়ের মধ্যে দোষীকে শাস্তি দেবেন। আদালতের প্রতি অযাচিত পক্ষাবলম্বনও কখনো আদালত অবমাননা বলে গণ্য হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে প্রথমবারের মতো ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধের বিষয়ে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। এখন সরকারের তরফে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয়ে সব ধরনের অনভিপ্রেত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। মানুষ এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করবে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা কী ধরনের আচরণ দেখিয়ে থাকে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষে ঘোষিত মুখপাত্র ছাড়া অন্যদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, তদন্তকারী দল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পেশ করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রথমেই মিডিয়ার সামনে পেশ করা হলো। এটা অসংগত ও বিধিবহির্ভূত, যা নানা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের আগে সংবাদ সম্মেলন ডাকা বিধিসম্মত কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হলেও তা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এটা কাম্য নয়।
আমরা আশা করব, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিরোধী দলের বৈধ উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তার ওপর অর্পিত সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব সুসম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিকে গ্লানিমুক্ত করবে।

Tuesday, September 27, 2011

সেক্টর কমান্ডারদের উদ্বেগ আমলে নিন-যুদ্ধাপরাধের বিচার

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ তথা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। শনিবার সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যুদ্ধাপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বলতার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে নানামুখী অপতৎপরতার বিষয়টি উঠে আসে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার যেমন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, তেমনি এটি গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পেতেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম বিপুলভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। ২০১০ সালের মার্চে যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছিল যে দেরিতে হলেও এই বিচারের মাধ্যমে জাতি গ্লানিমুক্ত হবে।
কিন্তু যেভাবে বিচার-প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অনেকের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, বিচার-প্রক্রিয়া আদৌ শেষ হবে কি না! তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান সরকারের আমলে বিচার-প্রক্রিয়া শেষ না হলে ক্ষমতার পালাবদলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে।
এরই মধ্যে সরকার মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করেছে। কিন্তু বিচার-প্রক্রিয়া চলছে অনেকটা ঢিমেতালে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক ছয়জনের মধ্যে মাত্র একজন—দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তকাজ শেষ হয়ে মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। অন্য আসামিদের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। পুরো বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট। প্রথমে বলা হয়েছিল, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হবে। তারপর বলা হলো, বেছে বেছে কয়েকজনের প্রতীকী বিচার হবে। এখন সেই প্রতীকী বিচার নিয়েও সংশয় কাটছে না।
যেকোনো মামলার ন্যায়বিচারের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। তদন্তে কোনো ঘাপলা থাকলে আসামির ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং বিচারও প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। কিন্তু সরকার শুরু থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এমন এক ব্যক্তিকে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল, যাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরে পাকিস্তানি সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। আইনজীবী নিয়োগেও সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পেরেছে, তা বলা যাবে না। দেশে অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়নি। সেটি তাঁদের অনাগ্রহ, না সরকারের অনিচ্ছায়—তা আমরা জানি না। তবে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ঠিক নয়।
যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সরকারের কর্তব্য হবে সেগুলো আমলে নেওয়া। মনে রাখতে হবে, বিচার-প্রক্রিয়া যত প্রলম্বিত হবে, বিচারবিরোধী শক্তি তত মরিয়া হয়ে উঠবে। গত সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া কিংবা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এরই প্রাথমিক আলামত।
অতএব, যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। সে সঙ্গে বিচার নিয়ে যাতেকেউ প্রশ্ন করতে না পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাও জরুরি।