Sunday, December 7, 2025

ভারতকে পাশ কাটিয়ে নতুন জোটের চেষ্টা পাকিস্তানের, সফল হবে কি?

আল জাজিরার বিশ্লেষণঃ ভারতকে পাশ কাটিয়ে নতুন একটি দক্ষিণ এশীয় জোট গঠনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এ উদ্যোগ কতটা সফল হবে তার একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। দীর্ঘ এ প্রতিবেদনে সাংবাদিক উসেইড সিদ্দিকী বিশ্লেষণ করেছেন নানা দিক নিয়ে। তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগটি ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও বাইরের অঞ্চলগুলোতে সম্প্রসারিত হতে পারে। বুধবার তিনি ইসলামাবাদে বলেন, আমরা শূন্য-ফলাফলভিত্তিক রাজনীতি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছি। মুখোমুখি অবস্থানের বদলে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর সবসময় জোর দিয়েছি।

প্রকৃত অর্থে, তার এই প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন বিকল্প ব্লক তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে যুক্ত হবে চীন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, রেষারেষি, কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রায় অচল হয়ে আছে। এমন এক সময়ে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত জুনে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনীতিকরা একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনের মান-উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, এই সহযোগিতা ‘কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়’। ইসহাক দার ওই মন্তব্য করেন এমন এক সময়ে যখন পাকিস্তান-ভারত বিরোধ আবারও চরমে উঠেছে। সম্প্রতি মে মাসে দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে চার দিনের সীমিত আকাশযুদ্ধ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কও ব্যাপকভাবে খারাপ হয়েছে। তিনি পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। কিন্তু ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, সার্কের অন্য সদস্য দেশও কি এমন একটি নতুন আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হতে রাজি হবে, যেটি মূলত ভারতকে উপেক্ষা বা প্রভাবহীন করার চেষ্টা বলে মনে হয়?

এখানে জানার বিষয়গুলো হলো- পাকিস্তানের প্রস্তাবটি কী?

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ‘যৌথ স্বার্থের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো’ এবং এই ধারণাকে ভবিষ্যতে ‘আরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে’ সম্প্রসারণ করা। ইসলামাবাদ কনক্লেভে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তি কিংবা সংযোগ- বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধাঁচের বহুদেশীয় গ্রুপ তৈরি হতে পারে। আমাদের জাতীয় উন্নয়ন বা আঞ্চলিক অগ্রাধিকার- কারও অনমনীয়তায় জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, থাকা উচিতও নয়।’ যা স্পষ্টভাবেই ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১১ বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের ‘সাজানো-কাঠামোবদ্ধ সংলাপ’ বন্ধ। ভারতের সঙ্গে এ অঞ্চলের অন্য অনেক দেশের সম্পর্ক ‘দোলাচলপূর্ণ’। পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, দক্ষিণ এশিয়া হওয়া উচিত এমন একটি অঞ্চল- যেখানে বিভাজনের বদলে সংযোগ গড়ে ওঠে, অর্থনীতিগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়, বিরোধগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়, মর্যাদা রক্ষা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র সিএসএসপিআরের পরিচালক রাবিয়া আখতার বলেন, এই প্রস্তাব আপাতত ‘বাস্তবায়নের চেয়ে বেশি উচ্চাকাক্সক্ষী’। তবে এটি দেখায় পাকিস্তান দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজছে এমন সময়ে যখন সার্ক কার্যত স্থবির।

সার্ক কী?
সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে ঢাকায়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান যোগ দিয়ে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় আটে। সার্কের লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ এশীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা সার্ককে ক্রমাগত অচল করে রেখেছে। স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশ তিনটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ করেছে। ২০১৬ সালের ১৯তম সার্ক সম্মেলন ইসলামাবাদে হওয়ার কথা থাকলেও ভারত অংশগ্রহণ না করায় তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়। সিএসএসপিআরের রাবিয়া আখতারের মতে, দুই বৃহত্তম সদস্যের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সার্ক এগোতে পারে না।

সার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৫ সালের হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা ২ বিলিয়নের বেশি, যা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অত্যন্ত কম-মাত্র ৫ শতাংশ। সে তুলনায় আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ২৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের হিসাব, নানা রকম বাধা কমালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ২৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬৭ বিলিয়ন ডলারে যেতে পারে। বিশেষভাবে ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য অত্যন্ত দুর্বল। ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ২.৪১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে দুই দেশে। ২০২৪ নাগাদ কমে তা দাঁড়ায় ১.২ বিলিয়ন ডলারে। অফিসিয়াল নয় এমন বাণিজ্য আরও বেশি, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এ অঞ্চলে পরস্পরের সঙ্গে সংযোগ ব্যবস্থা দুর্বল। এটাই এর অন্যতম প্রধান কারণ। ২০১৪ সালে সার্কভুক্ত গাড়িপণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের জন্য একটি মোটর ভেহিকল এগ্রিমেন্ট হতে যাচ্ছিল। কিন্তু পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনার কারণে তা আটকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত সহযোগিতা থাকলে সার্ক পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিবেশে তা খুবই কঠিন।

পাকিস্তানের প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স-এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর শাহাব এনাম খান বলেন, প্রস্তাবটি উচ্চাকাংখী হলেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দক্ষিণ এশিয়া বহুবার আঞ্চলিক বাস্তববাদী সহযোগিতায় ব্যর্থ হয়েছে, নিরাপত্তা-আবদ্ধ চিন্তাধারায় আটকে থেকেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেন, সার্কের নীরব মৃত্যু নতুন ফোরামের জন্য শূন্যতা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি এবং ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উষ্ণতা চীন-সমর্থিত ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগকে সম্ভব করেছে। সিএসএসপিআরের রাবিয়া আখতারের মতে, প্রস্তাবটির সফলতা নির্ভর করছে দু’টি বিষয়ের ওপর। তা হলো সম্ভাব্য রাষ্ট্রগুলো ছোট আকারের, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করা জোটে বাস্তব সুবিধা দেখছে কি না। এতে যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনৈতিক মূল্য তাদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তিনি মনে করেন- শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও সম্ভবত ভুটান প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে। বিশেষ করে সংযোগ, জলবায়ু অভিযোজন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার মতো ইস্যুতে। কিন্তু ভারতের আঞ্চলিক সংবেদনশীলতা ও চীন-পাকিস্তান প্রতিযোগিতার কারণে পূর্ণ সদস্যপদ নিতে দেশগুলো খুবই সতর্ক থাকবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের দোন্থির মতামত- এই প্রস্তাব এগোলে ভারত-বাংলাদেশ বৈরিতা আরও বাড়তে পারে এবং ভারতের সঙ্গে চীনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। এএসপিআইয়ের ফারওয়া আমার মনে করেন, পাকিস্তানের উদ্যোগ ‘কৌশলগত দিক থেকে সুসংগত’। চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। এই ‘ডুয়াল-ট্র্যাক কূটনীতি’ ইসলামাবাদকে আঞ্চলিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। তিনি বলেন, এটি ইসলামাবাদের প্রচেষ্টা- দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও নিজের অবস্থান নিশ্চিত করার।

mzamin

সুদানে কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা, ৪৬ শিশুসহ নিহত ১১৪

আফ্রিকার দেশ সুদানে একটি কিন্ডারগার্টেনসহ একাধিক স্থানে আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১৪ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি শিশু। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ হামলার ঘটনা ঘটে সাউথ করদোফান রাজ্যের কালোগিতে, গত বৃহস্পতিবার। কালোগির নির্বাহী পরিচালক গতকাল শনিবার আল–জাজিরাকে অন্তত ৭১ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার দিনের শেষে সুদানের চিকিৎসকদের জোট সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা হয়েছে।

সুদানের সরকার–সমর্থিত সুদানিজ আর্মড ফোর্সেসের (এসএএফ) দুটি সূত্র আল–জাজিরাকে জানায়, বৃহস্পতিবার ওই কিন্ডারগার্টেনে আরএসএফ প্রথমবার হামলা চালায়। পর উদ্ধারকাজে সেখানে জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষদের ওপর আরেক দফায় হামলা চালানো হয়।

এ ছাড়া শহরের হাসপাতাল ও একটি সরকারি ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় একটি সূত্র।

সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন উয়েত শুক্রবার বলেন, নিজের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিশুদের হত্যা করা শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিবদমান সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে এমন সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিশুদের কখনোই সংঘাতের মূল্য চোকানো উচিত নয়।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক বলেছে, বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় একের পর এক হামলার ধারাবাহিকতায় চালানো এবারের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

রাজধানী খার্তুম থেকে আল–জাজিরার হিবা মরগান জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, হতাহত মানুষের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। নিহত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কেননা, হামলায় আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

২০২৩ সাল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের লড়াই চলছে। দেশের কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে সেনাবাহিনী। আর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলের, বিশেষ করে উত্তর করদোফান ও দারফুর অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব জোরদার করতে চাইছে। এসব সংঘাতে দরিদ্র দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-07%2Fh0t1lryc%2FDeadly-attack.webp?rect=81%2C0%2C863%2C575&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সুদানে চলমান সংঘাতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ফাইল ছবি: এএফপি

ভারত-তালেবান নতুন ঘনিষ্ঠতার রহস্য যেখানে by আজিজা মুখাম্মেদোভা ও রায়খোনা আবদুল্লায়েভা

এ বছরের ১০ অক্টোবরের কথা। সেদিন নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ভারত ও তালেবানের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকে ভারত ঘোষণা করে, কাবুলে ২০২২ সালের জুন থেকে চালু থাকা তাদের টেকনিক্যাল মিশনকে এখন দূতাবাসে উন্নীত করা হবে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ভারত-আফগান সম্পর্কের ধরন ইতিবাচকভাবে বদলেছে। যদিও ভারত এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করা মানে স্বীকৃতির প্রস্তুতি নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল। অর্থাৎ ভারত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়েও সর্বোচ্চ মাত্রায় যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ বজায় রাখতে চায়।

আফগানিস্তান প্রশ্নে ভারত অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তাকে প্রভাব বিস্তার করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আফগানিস্তানের জাতীয় পরিসংখ্যান ও তথ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির বাণিজ্যে একমাত্র বড় অংশীদার দেশ—যার সঙ্গে সব সময় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকে, সেটি হচ্ছে ভারত।

২০২২-২৩ অর্থবছরে আফগানিস্তানের উদ্বৃত্ত ছিল ১৪৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ সালে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে। ওই সময়ে আফগানিস্তান ভারতের কাছে ২৬৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং ৫৯৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।

২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান ভারতের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পেয়েছে। এমনকি তা চীন, ইরান বা পাকিস্তানের চেয়েও বেশি। ফলে ভারতের ওপর আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ফলে ভারত সেখানে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারছে, আবার একই সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্বও বজায় রাখছে। অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রকল্পের বাইরে ভারত মানবিক কূটনীতিকেও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত আফগান জনগণের জন্য ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ভারত বর্তমানে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তাদাতা দেশ। তাদের সহায়তার মধ্যে ৫০ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম, ৬ কোটি ডোজ টিকা, ৪০ হাজার টন গমসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা রয়েছে।

ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

আফগানিস্তানে ভারতের কার্যক্রমের পেছনে মূল প্রেরণা হলো চীন ও পাকিস্তানের মতো অন্যান্য শক্তির প্রভাব সেখানে সীমিত করা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুত্তাকির ভারত সফরের সময়ই আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ে। এ পরিস্থিতি দিল্লিকে সুযোগ দেয় তাদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করার।

পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে মোড় নেয় ১১ নভেম্বর ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলার পর, যা তীব্র অবনতি ঘটায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ওই হামলার জন্য ‘ভারতপন্থী গোষ্ঠী’ এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), অর্থাৎ পাকিস্তানি তালেবানকে দায়ী করে। পাকিস্তান বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালেবান টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানকে ‘ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি’ বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও অভিযোগ করেন যে ভারত তালেবানকে ‘উসকে দিচ্ছে’।

এ বাস্তবতা ভারতের জন্য উদ্বেগজনক, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্যের সম্ভাব্য নতুন পুনর্বিন্যাস নিয়ে। এর প্রধান কারণ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। এ সম্পর্কের পেছনে বড় সমর্থন আছে চীনের। চীন কার্যকরভাবে ঢাকা-ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে উৎসাহ দিচ্ছে। ভারতের কাছে এটি একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি। কারণ, এই নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশেষ করে আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব দুর্বল করতে পারে।

নতুন আঞ্চলিক শক্তিকাঠামো

একই সময়ে চীন পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করছে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এবং ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর’ (সিপিইসি) প্রকল্পের মাধ্যমে। এসব প্রকল্প দুই দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সংযোগকে শক্তিশালী করছে এবং পরিবহন-বাণিজ্য রুট থেকে ভারতকে কার্যত বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। চীন-পাকিস্তান সহযোগিতা যখন যৌথভাবে একই গন্তব্যের দিকে আগানোর পর্যায়ে চলে যায়, তখন তা ভারতের জন্য ভূ–অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি করে।

এই রাজনৈতিক সমীকরণে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গড়ে তোলা আর শুধু প্রভাব বিস্তারের কৌশল নয়। এটি ভারতের জন্য একধরনের বেঁচে থাকার কৌশল, যার মাধ্যমে তারা মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে চায় এবং চীন-পাকিস্তান অক্ষের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চায়।

তবে ভারত ও তালেবানের মধ্যে সহযোগিতা এখনো সীমিতই রয়ে গেছে। নারী অধিকারসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ভারত এখনো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। এর একটি প্রতীকী উদাহরণ হলো, ১০ অক্টোবর দুই দেশের মন্ত্রীদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কোনো নারী সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা ভারতের গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

স্বল্প মেয়াদে ভারত রাজনৈতিক স্বীকৃতি না দিয়েই আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও মানবিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাইবে এবং বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের অপেক্ষায় থাকবে। এই অবস্থান ভারতের জন্য ঝুঁকি কমিয়ে আনে, একই সঙ্গে আফগানিস্তানকে তার প্রভাববলয়ের মধ্যে রাখার সুযোগ দেয়।

আজিজা মুখাম্মেদোভা রায়খোনা আবদুল্লায়েভা, ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধীন আফগানিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া অধ্যয়ন কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক
- দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। ছবি: রয়টার্স

বেনিনে প্রেসিডেন্টকে উৎখাতের দাবি একদল সেনার, সরকারের অস্বীকার

আফ্রিকার দেশ বেনিনের একদল সেনাসদস্য দেশটির প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালোনকে উৎখাত করার দাবি করেছেন। আজ রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসে এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলেছে, তালোন নিরাপদ আছেন।

১০ বছর ধরে বেনিনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্যাট্রিস তালোন। আগামী এপ্রিলে তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার কথা।

এরই মধ্যে আজ একদল সেনাসদস্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হয়ে বলেন, তাঁরা একত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্যাট্রিস তালোন আর দেশের প্রেসিডেন্ট থাকছেন না। সেনাদলটি নিজেদের মিলিটারি কমিটি ফর রিফাউন্ডেশন (সিএমআর) হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরই বেনিনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় দাবি করেছে, প্যাট্রিস তালোন নিরাপদে আছেন এবং সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করছে।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এএফপিকে বলা হয়েছে, ‘গুটিকয় মানুষের ছোট দলটি শুধু টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছেন। শহর ও দেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে।’

প্যাট্রিস তালোন
প্যাট্রিস তালোন। ফাইল ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক রিপোর্ট: ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তির’ মুখোমুখি ইউরোপ

বর্তমান পরিস্তিতি বিবেচনায় ইউরোপ ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তির’ ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নভেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক নথিতে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।  ৩৩ পৃষ্ঠার ওই নথিতে বিশ্ব রাজনীতি, মিত্রতার কাঠামো এবং সামরিক-অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, নথিটিকে মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘রোডম্যাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই নথি নিশ্চিত করবে যে যুক্তরাষ্ট্র মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক সফল জাতি হিসেবে টিকে থাকবে।

ইউরোপকে লক্ষ্য করে নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০ বছরের কম সময়ের মধ্যে ইউরোপ অচেনা রূপ ধারণ করবে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের তুলনায় ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তির’ ঝুঁকি আরও বেশি। ইউরোপের কিছু দেশ ভবিষ্যত নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কিনা সে বিষয়েও নথিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নথিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অতরাষ্ট্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খর্ব করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, অভিবাসন নীতি অস্থিরতা তৈরি করছে, জন্মহার কমে যাওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় পরিচয় সংকটসহ নানা কারণে ইউরোপের আত্মবিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, নথিতে ইউরোপের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে জানানো হয়েছে, এসব দলকে সমর্থন জানাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উৎসাহিত করবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানির অতি-ডানপন্থি এএফডি দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে। যাকে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা ‘চরম ডানপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জার্মানির সমাজবিন্যাস বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বহিরাগত পরামর্শের প্রয়োজন নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবেই অভিহিত করেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপের রাশিয়াবিষয়ক নীতি আত্মবিশ্বাসহীন। যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলেও দাবি করা হয় ওই নথিতে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার মূল সংস্করণে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে দিতে বলা হয়। তবে পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

নথিতে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারও জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক সম্পদের পুনর্বণ্টনের কথা বলা হয়েছে, যাতে কম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে সম্পদ সরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহার করা যায়। ইতিমধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে মাদকবাহী নৌকায় বারবার আঘাত হানা হচ্ছে এবং বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরার্ল্ড ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। তাই পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক উপস্থিতি আরও সবল ও দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে সংঘাত প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া স্বনির্ভর শিল্পভিত্তি গড়ে তোলা এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও নথিতে গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক শুল্ক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

mzamin

গণতান্ত্রিক রূপান্তর: তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের নতুন পথচলা

ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণঃ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসন পতনের পর অনেক বিশ্লেষক ইতিহাসের সাদৃশ্য খুঁজতে থাকেন। সবচেয়ে আলোচিত তুলনা উঠে আসে তিউনিসিয়ার সঙ্গে। এ দেশকে একসময় আরব বসন্তের একমাত্র ‘সফলতা’ বলা হতো।

২০১৪ সালের সংবিধানের জন্য আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছিল তিউনিসিয়া। আর সেখানে সুশীল সমাজের মধ্যস্থতাকারীরা নোবেল শান্তি পুরস্কারও পান। এসব কথা বলা হয়েছে অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে। এতে বলা হয়, এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে সেই পরীক্ষিত গণতন্ত্র ভেঙে পড়ে। প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদ ২০২১ সালে সংসদ স্থগিত করেন এবং একটি নতুন সংবিধান চাপিয়ে দেন, যা সমস্ত ক্ষমতা তার হাতে কেন্দ্রীভূত করে।

বাহ্যিকভাবে সাফল্যের গল্প মনে হলেও বাস্তবে তিউনিসিয়ার রূপান্তর ছিল কেবল অলংকারসুলভ- যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দেয় যে, গণতান্ত্রিক পথচলায় শুধু বাহ্যিক রূপ নয়, কার্যকর কাঠামো জরুরি।

তিউনিসিয়ার ফাঁপা বিজয়: তিউনিসিয়ায় ২০১৪ সালের সংবিধান আরব বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রসর বিষয় ছিল। সেখানে লিঙ্গ সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়। শ্রমিক ইউনিয়ন, ব্যবসায়ী সংগঠন, আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডায়ালগ কোয়ার্টেট দেশটির রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাংবিধানিক সৌন্দর্য বাস্তব নীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। বিপ্লবের মূল দাবিগুলো- বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতি দমন, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো কেবল কাগজে ছিল। বাস্তবে কার্যকর করার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সবচেয়ে বড় ভুল ছিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক দাবিগুলো উপেক্ষা করা।

আন্তর্জাতিক দাতাদের চাপে তিউনিসিয়া মেনে নেয় কঠোর মিতব্যয়ী নীতি-ভর্তুকি কমানো, সরকারি খাতে মজুরি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারিকরণ। এর ফলে প্রবৃদ্ধি হঠাৎ কমে যায়, যুব বেকারত্ব এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তে থাকে।

অন্যদিকে, প্রতিশ্রুত প্রতিষ্ঠানগুলো- সাংবিধানিক আদালত, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রায় সবই থেকে যায় কাগজে-কলমে। পুরোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো নতুন কাঠামোর ভেতরেও টিকে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ নতুন ব্যবস্থাকে আগের মতোই ভেদ করতে শিখে ফেলে- সংযোগ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে, অধিকার নয়।

বাংলাদেশের সমান্তরাল চ্যালেঞ্জ:
বাংলাদেশের জুলাই-উত্থানও একইসঙ্গে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বস্তির দাবি তুলে ধরে। তিউনিসিয়ার মতো এখানেও পুরোনো স্বার্থগোষ্ঠী আছে। তারা ভূমি, লজিস্টিকস ও সরকারি ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে। তবে বাংলাদেশের কিছু সুবিধাও আছে। অর্থনীতি তুলনামূলক বড় এবং বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের  মাধ্যমে। এখাতে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। গত দুই দশকে শিক্ষা, মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আছে বাংলাদেশের। তবু ভঙ্গুরতাও আছে। সীমিত রপ্তানি খাত, জ্বালানি দামের ঝুঁকি, দুর্বল আর্থিক খাতের শাসনব্যবস্থা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের আধিক্য। শহুরে জীবিকা মুদ্রাস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত, আর যুব বেকারত্ব ক্রমবর্ধমান- যে অবস্থা তিউনিসিয়ার মতো হতাশা তৈরি করতে পারে।

তিউনিসিয়ার ভুল থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা: বাংলাদেশের সামনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার রয়েছে। তা হলো- দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি: জনগণ যদি পরিবর্তনের সুফল না পায়, গণতন্ত্র ভঙ্গুর হয়। তাই দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা, নিম্নআয়ের শ্রমিকদের মজুরি ভর্তুকি, শ্রমঘন জনপদ প্রকল্প এবং স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস নিশ্চিত করা জরুরি। তিউনিসিয়া উল্টো কাজ করেছিল- আগে কৃচ্ছ্রনীতি, পরে প্রতিশ্রুতি।

কাঠামোগত সংস্কার: শুধু নতুন মুখ নয়, দরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন। স্বচ্ছ ই-প্রকিউরমেন্ট, সরকারি ঠিকাদারদের প্রকৃত মালিকানা নিবন্ধন, প্রতিযোগিতা কমিশনকে ক্ষমতায়ন এবং ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড দুর্নীতি কমাতে সাহায্য করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার: তিউনিসিয়া নোবেল পেলেও সাংবিধানিক আদালত তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশকে প্রথমেই বিচার বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনে জোর দিতে হবে।

আর্থিক সংস্কারের ধাপ: কৃচ্ছ্রনীতি প্রয়োগের আগে দরিদ্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, ডিজিটাল কর-ব্যবস্থা এবং ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনায় ধাপে ধাপে শর্ত গ্রহণ করা দরকার।

স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধ: স্বৈরশাসন প্রায়শই দক্ষতার নামে ফিরে আসে। তাই প্রয়োজন শক্তিশালী বিচারিক পর্যালোচনা, সংসদীয় কমিটির তদন্ত ক্ষমতা, প্রকৃত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সক্রিয় সুশীল সমাজ।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব:
১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এটি বিশ্বের দ্বিতীয়, আর এর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন, শ্রম অভিবাসন ও জলবায়ু অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তিউনিসিয়ার পতন নীতিনির্ধারকদের মাঝে এই ধারণা জোরদার করেছে যে গণতন্ত্র উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিলাসিতা। কিন্তু যদি বাংলাদেশ রাজনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার একসঙ্গে সরবরাহ করতে পারে, তবে এটি সেই ধারণার জবাব হতে পারে বাস্তব প্রমাণ দিয়ে।

মর্যাদার পরীক্ষা:
তিউনিসিয়ার বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রের দৈনন্দিন অবমাননা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়া। যখন গণতন্ত্র কেবল উচ্চমূল্য আর ধীর সেবা হিসেবে দেখা দিল, তখন জনগণ একে অভিজাতদের হাতিয়ার মনে করল।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে একই পরীক্ষা:
গণতন্ত্র কি একজন পোশাকশ্রমিকের চাকরি রক্ষা করবে? একজন কৃষক কি মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া ন্যায্য দাম পাবে? একজন সাংবাদিক কি নির্ভয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন? এসব অর্জনই টেকসই গণতন্ত্রের মাপকাঠি। বিশ্ব প্রশংসা করবে যদি বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচন করে বা চমৎকার আইন পাস করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য আসবে তখনই, যখন মানুষ টেবিলে খাবার, কাজে মর্যাদা ও বিচার পাবে। তিউনিসিয়ার ফাঁপা বসন্ত বাংলাদেশের হতাশ শীতে রূপ নেবে না- যদি ঢাকা ‘মর্যাদা’কেই গণতান্ত্রিক সাফল্যের আসল মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে।

mzamin

সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে গাজা শান্তিচুক্তি সম্পূর্ণ হবে না -কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে শান্তিচুক্তি সম্পূর্ণ হবে না। গতকাল শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আবেদলরহিম আল-থানি এ কথা বলেন। কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত দোহা ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা সংকটময় মুহূর্তে আছি। গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা ও উপত্যকাটিতে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ হবে না।’ গত ১০ অক্টোবর কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গাজা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয়। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে।

শান্তিচুক্তির দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলকে গাজার বিভিন্ন স্থানে থাকা সেনাচৌকি প্রত্যাহার, একটি অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ শাসনভার গ্রহণ করা এবং সেখানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে, যা এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরব ও মুসলিম দেশগুলো স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

ফোরামে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এই বাহিনী নিয়ে এখনো আলোচনা

চলছে। এটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে—তা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফিদান বলেন, ‘এই বাহিনীর প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ইসরায়েলি সেনাদের হাত থেকে ফিলিস্তিনিদের পৃথক করা। এটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এরপর আমরা অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব।’

তুরস্ক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নিতে চায় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ইসরায়েল বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। কারণ, তারা মনে করে হামাসের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে

কাতার, তুরস্ক, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করছে। দুই দেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মেদ বিন আল-থানি
মোহাম্মেদ বিন আল-থানি

ইসরায়েলি দখলদারির অবসান ঘটলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করবে হামাস

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলদারির অবসান ঘটলে গাজায় একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি হামাস। শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি এ কথা জানিয়েছে।

হামাসের আলোচক দলের প্রধান এবং সংগঠনটির গাজা প্রধান খলিল আল-হায়া বিবৃতিতে বলেন, ‘দখলদারি ও আগ্রাসনের কারণেই আমরা অস্ত্রশস্ত্র রাখছি। দখলদারির অবসান ঘটলে এসব অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের জবাবে আল-হায়া দপ্তর জানায়, রাষ্ট্র বলতে তিনি একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কথা বুঝিয়েছেন।

খলিল আল-হায়া আরও বলেন, ‘আমরা গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্তে নজরদারির জন্য জাতিসংঘের বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। তবে শুধু হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হলে, তা মেনে নেওয়া হবে না।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2023-10%2Fab18ef92-a817-4d67-a8b2-e0a37ae3e008%2FIsrael_army.webp?rect=0%2C0%2C640%2C427&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের টহল। ফাইল ছবি: এএফপি

নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে ‘রোকেয়া রান’ অনুষ্ঠিত

নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে দৌড় কর্মসূচি ‘রোকেয়া রান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৭টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এই দৌড় কর্মসূচি পালিত হয়। ২৫ নভেম্বর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিডি রানার্স যৌথভাবে এ কর্মসূচি পালন করে। এই ‘রোকেয়া রান’ নারীদের সব জড়তা, ক্লান্তি ও আড়ষ্টতা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার “জাগো ভগিনীরা জাগো” আহ্বানে উজ্জীবিত থেকে নারী-পুরুষের জন্য সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।’

ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লড়াইয়ের কেন্দ্রে ছিল প্রথা ভাঙার লড়াই। কিন্তু আজ আবার নারীদের নানা ঘেরাটোপে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রোকেয়ার সম্বন্ধে কটূক্তি করার স্পর্ধা দেখানো হচ্ছে। যারা দেখাচ্ছে, তাদের সেই স্পর্ধার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা জোর গলায় বলতে চাই, প্রথা ভাঙার লড়াইকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আজকের এই রোকেয়া রান বিশেষ অবদান রাখবে।’

দৌড় শেষে বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়া নারীমুক্তির যে মন্ত্র আমাদের শুনিয়েছিলেন, সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা ছুটে চলেছি, ছুটে যাব সমাজের সব জায়গায়। সব জায়গায় নারীরা সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে সমাজের যা কিছু বাধা আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে, সে সব বাধাকে পেছনে ফেলে আমরা অবিরাম ছুটছি, ছুটব!’

বাংলাদেশের প্রথম আয়রনম্যান ও বিডি রানার্সের অ্যাকটিভিস্ট মোহাম্মদ শামছুজ্জামান আরাফাত বলেন, ‘সমতাপূর্ণ সমাজ গড়তে রোকেয়ার চিন্তাভাবনা ছিল দূরদর্শিতাসম্পন্ন, যা আজকের দিনেও আমরা ভাবতে পারি না। পুরুষের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের যে অনুপ্রেরণা থাকে, তা আমাদের বার্তা দেয় যে সবাইকে একসঙ্গে অগ্রসর হতে হবে।’

আয়রনম্যান, পর্বতারোহী ও বিডি রানার্সের আরেক অ্যাকটিভিস্ট ইমতিয়াজ এলাহী বলেন, এটি কেবল একটি দৌড়ের ইভেন্ট নয়, এটি নারী মুক্তিকামীদের সামনে এগিয়ে চলার শক্তিকে আহ্বান জানায়। এ সময় নারীদের এই এগিয়ে চলার যাত্রাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী; লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক দীপ্তি শিকদার; প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালক শাহাজাদী শামীমা আফজালী শম্পা এবং প্রোগ্রাম অফিসার (কাউন্সেলিং) সাবিকুন নাহার।

উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে দৌড়ের নিয়মনীতি ও পথ সম্পর্কে জানান মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিউতি সবুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রানার্স কমিউনিটির সদস্য মিঠুন ও পাপ্পু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিলা পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার। কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিডি রানার্স যৌথভাবে ‘রোকেয়া রান’ কর্মসূচি পালন করে
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বিডি রানার্স যৌথভাবে ‘রোকেয়া রান’ কর্মসূচি পালন করে। ছবি: মহিলা পরিষদের সৌজন্যে

ডা. জুবাইদার আগমন: ভিউয়ের প্রতিযোগিতা ও সাংবাদিকতার নৈতিক সংকট by ইয়াসির সিলমী

সাংবাদিকদের বলা হয় ‘জাতির বিবেক’আর সাংবাদিকতাকে বলে ‘ফোর্থ পিলার অব স্টেট’। সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে কাজ করাই যার মূল লক্ষ্য; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের আচরণ সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিউজের চেয়েও ভিউজের দিকে মনোযোগ বাড়াতে গিয়ে সাংবাদিকতাকে হাসির খোরাক বানিয়েছে কিছু অত্যুৎসাহী সংবাদমাধ্যম। অবাক করা বিষয় হলো এই তালিকায় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমও রয়েছে।

যার সর্বশেষ উদাহরণ পাওয়া গেল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বাংলাদেশে আগমনে। তাঁর লন্ডন থেকে ঢাকায় আগমন এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যম যে অতি উৎসাহ ও অপরিণামদর্শী আচরণ প্রদর্শন করেছে, তা সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতার সংজ্ঞাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কৌতূহল মেটানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা

ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর অসুস্থ শাশুড়ি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মুহুর্তের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। ফলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর দেশে ফেরা সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে; কিন্তু সমস্যাটা সংবাদ প্রকাশে নয়, সংবাদ পরিবেশনের ধরন ও বাড়াবাড়ি নিয়ে। কিছু সংবাদমাধ্যম এটি করেছে, যা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ডা. জুবাইদার লন্ডনে বিমানে ওঠা থেকে শুরু করে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ, ইমিগ্রেশন পার হওয়া, ভিআইপি গেট দিয়ে বের হওয়া, কোন গাড়িতে উঠলেন, কোন পথ দিয়ে হাসপাতালে গেলেন, কোন ফ্লাইওভার ব্যবহার করলেন, কখন এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছালেন—প্রতিটি মুহূর্তের এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ কি আসলেই জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ? নাকি এটি নিছকই কৌতূহল মেটানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা?

একটি গাড়ি কোন ফ্লাইওভার দিয়ে যাচ্ছে, তা জানা জাতির জন্য কতটা জরুরি, তা গবেষণার বিষয়। এই ধরনের লাইভ ট্র্যাকিং বা ‘ধাওয়া করা সাংবাদিকতা’ কেবল হাস্যকরই নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিকতা যখন ‘গোয়েন্দাগিরি বা ‘পাপারাজ্জি’ সংস্কৃতির স্তরে নেমে আসে, তখন তথ্যের চেয়ে সস্তা বিনোদনই মুখ্য হয়ে ওঠে।

ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ

ঘটনার এখানেই শেষ নয়, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশযাত্রার সম্ভাব্য সফরসঙ্গীদের তালিকা প্রকাশের নামে কিছু সংবাদমাধ্যম নজিরবিহীন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীদের নাম, পাসপোর্টের নম্বর এবং মুঠোফোনের নম্বরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এর জন্য বিএনপির দায়িত্বশীল মহল দায় এড়াতে পারে না। এ তথ্যগুলো ব্যবহার করে যে কেউ সাইবার অপরাধ বা জালিয়াতির আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু খবরের জৌলুশ বাড়াতে গিয়ে এমন সংবদেনশীল ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেছে কিছু সংবাদমাধ্যম।

সাংবাদিকতার নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট না হলে কারও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কারও পাসপোর্ট নম্বর বা ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর প্রকাশ করা কি জনস্বার্থের অন্তর্ভুক্ত? এটি সরাসরি ডেটা প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা সব খবর বা তথ্যই কি প্রকাশ করা পেশাদারির মধ্যে পড়ে?

হাসপাতালের পরিবেশ বিঘ্ন

ডা. জুবাইদা রহমান যখন এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান, তখন সেখানকার দৃশ্য ছিল আরও করুণ। শত শত ক্যামেরা, ইউটিউবার ও মূলধারার মিডিয়াকর্মীদের ভিড় হাসপাতালের প্রবেশপথকে কার্যত এক জনসভায় পরিণত করেছিল। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গা, যেখানে নীরবতা ও শৃঙ্খলা কাম্য, সেখানে সংবাদমাধ্যমের এই হুলুস্থুল আচরণ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ, অন্যান্য রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়েছে।

হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের পথ আটকে, অন্যান্য রোগীর স্বজনদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে ডা. জুবাইদার গাড়ির পেছনে দৌড়ানোর দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে, এটি কোনো সংবাদ সংগ্রহ নয় বরং কোনো অ্যাকশন সিনেমার শুটিং চলছে। যেসব সাংবাদিক এমনটা করছেন তাঁরা কি ভুলে গেছেন, হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীরা থাকেন? তাঁদের এই হট্টগোল মুমূর্ষু রোগী ও হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্মে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? ‘ব্রেকিং নিউজ’ দেওয়ার নেশায় মানবিক বোধটুকু বিসর্জন দেওয়া কোন ধরণের সাংবাদিকতা!

ডা. জুবাইদার ঘটনাই একমাত্র উদাহরণ নয়, ভিউয়ের নেশায় মত্ত হয়ে আমাদের অনেক সংবাদমাধ্যম এমন অত্যুৎসাহী লাইভ, ব্রেকিং ও এক্সক্লুসিভ দেওয়াকে রুটিনে পরিণত করেছে।

কেন এমন আচরণ

প্রশ্ন হলো, অনেক সাংবাদিক কেন এমন আচরণ করছেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রিচ বাড়ানো’ বা ভিউ–বাণিজ্যের মধ্যে। এখন খবরের মান যাচাই করা হয় সত্যতা বা গভীরতা দিয়ে নয়; বরং কত দ্রুত সেটি ফেসবুকে ভাইরাল হলো এবং কত বেশি ভিউ পেল, তার ওপর ভিত্তি করে।

অনলাইন পোর্টাল এবং কিছু টেলিভিশন চ্যানেল টিআরপি ও ভিউ বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মানুষের আবেগ, কৌতূহল এবং ব্যক্তিগত বিষয়কে পুঁজি করে তারা চটকদার শিরোনাম তৈরি করছে। জুবাইদা রহমানের গাড়ির পেছনে দৌড়ানোর ভিডিও হয়তো ইউটিউবে লাখ লাখ ভিউ এনে দিচ্ছে, বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়াচ্ছে; কিন্তু এতে সাংবাদিকতার মর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যখন সাংবাদিকতা বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন পেশার নীতি–নৈতিকতার বালাই থাকে না। সাংবাদিকেরা তখন আর ‘ওয়াচডগ’ থাকেন না, হয়ে ওঠেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

দেশে কি সংবাদের সত্যিই অভাব? উত্তর হলো ‘না’। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনীতি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, পরীক্ষা বন্ধ রেখে শিক্ষকদের আন্দোলন, অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে, তখন মিডিয়ার একটি বড় অংশ ব্যস্ত একজন ব্যক্তির গাড়ির রুটম্যাপ তৈরিতে। এটি কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মূল সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর কৌশল? নাকি এটি কেবলই মেধা ও মননশীলতার সংকট?

মিডিয়া যখন জনগণের কথা না বলে চটকদার বিষয় নিয়ে মেতে থাকে, তখন তারা জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। ডা. জুবাইদা রহমানের আগমন অবশ্যই একটি ঘটনা; কিন্তু সেটিই একমাত্র বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হতে পারে না। তাই এখনই সময় এই অপসাংবাদিকতার লাগাম টেনে ধরার। ‘জাতির বিবেক’খ্যাত সাংবাদিকদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা প্রয়োজন। মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা হাতে নিলেই যা খুশি তা করা যায় না, এই বোধোদয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের কিছু করণীয় রয়েছে।

প্রথমত, সাংবাদিকদেরই বুঝতে হবে পাপারাজ্জি আর সাংবাদিকতা এক নয়। সাংবাদিকতা মানে দায়িত্বশীলতা। সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের কর্মীদের নিয়মিত নীতিনৈতিকতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্পাদক ও বার্তাকক্ষের নীতিনির্ধারকদের আরও কঠোর হতে হবে। ভিউ বাড়ানোর জন্য যেকোনো সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করার আগে সম্পাদকীয় নীতি অনুসারে যাচাইপ্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, প্রয়োজনে ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। তবে এ আইন যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি হাসপাতাল বা স্পর্শকাতর এলাকায় মিডিয়ার আচরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

গণমাধ্যমকর্মী ও সরকারের পাশাপাশি পাঠকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। চটকদার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী সংবাদ বর্জন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ভিউ না পেলে তখন মিডিয়াও তাদের পলিসি বদলাতে বাধ্য হবে।

ডা. জুবাইদা রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আমাদের কিছু সংবাদমাধ্যমের যে আচরণ দেখা গেল, তা আমাদের সাংবাদিকতার রুগ্‌ণ দশাটিই প্রকট করে তুলেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো যদি এখনই নিজেদের সংশোধন না করে, তবে তারা কেবল হাসির খোরাকই হবে না; বরং সমাজের চোখে অবিশ্বাস আর বিরক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে। আমরা চাই আমাদের সাংবাদিকেরা এভাবে গাড়ির পেছনে নয়, সত্যের পেছনে দৌড়াক। তাঁরা যেন তথ্যের ফেরিওয়ালা হন, গুজবের নয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে এই পেশার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে।

* ইয়াসির সিলমী, সভাপতি, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ই-মেইল: silmybd@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে ফিরছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে ফিরছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

এখনো বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। তবে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থার অর্থাৎ দীর্ঘ যাত্রার ধকল নিতে শারীরিকভাবে উপযোগী কি না, সেটার ওপর।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গতকাল শনিবার রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার নানা শারীরিক জটিলতাগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা ওঠানামা করছে। এর কিছু কিছু কখনো নিয়ন্ত্রিত, আবার হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কিডনির সমস্যার কারণে খালেদা জিয়ার শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়েছিল, সেটি বেড়েছে। কিডনির কার্যকারিতা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফুসফুসেরও উন্নতি আছে। তবে তিনি এখনো আশঙ্কা মুক্ত নন।

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার তারিখ পেছানো হয়। তাঁকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে নেওয়া হবে। এর পর শুক্রবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন তারিখ বলা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর। পরে রাতে জানা গেছে, সেটা পিছিয়ে সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ ঠিক করা হয়েছে ৯ ডিসেম্বর। এখন পর্যন্ত এই তারিখে যাওয়াও নিশ্চিত নয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা আরও দু দিন পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে যাত্রার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে গতকাল সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে এক ব্রিফিঙে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিমান ভ্রমণে শারীরিকভাবে সক্ষম না হওয়ার কারণেই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

যখনই উনাকে বিদেশ নেওয়ার জন্য মেডিকেল বোর্ড যথোপযুক্তভাবে তৈরি মনে করবেন, শারীরিকভাবে মনে হবে যে, উনাকে সেফলি ট্রান্সফার করা যাবে—তখনই ফ্লাই করবেন।’

জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ওই সময়ে (শুক্রবার) এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি সমস্যার কারণে আসতে পারেনি, এটাও যেমন সত্য—আবার ওই সময়ে জরুরিভাবে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ওই মুহূর্তে তাঁর বিমানযাত্রা সঠিক হবে না। সে জন্য তাঁকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো শারীরিক অবস্থাই বলে দেবে তাঁকে কখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যাবে।

এ সময় জাহিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও (শেখ হাসিনার সরকারের সময়) মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিগত ৬ বছর যাবৎ তাঁকে (খালেদা জিয়া) সেবা দিয়ে আসছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এর আগে আরও খারাপ অবস্থা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। তাই আমরা আশাবাদী তিনি এবারও সুস্থ হয়ে ফিরবেন ইনশা আল্লাহ।’

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত

বাসস জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ড সবুজসংকেত দিলেই খালেদা জিয়াকে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।

এনামুল হক বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দলের পক্ষ থেকে কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি বলেন, কাতার কর্তৃপক্ষই জার্মানি থেকে একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাতেও তিনি খালেদা জিয়াকে দেখতে যান।

শাশুড়ি খালেদা জিয়াকে দেখতে লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। গতকাল বিকেল তিনটা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের ফটক দিয়ে জুবাইদা রহমানের গাড়ি ঢুকতে দেখা যায়। জুবাইদা গত শুক্রবার লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের অধীন চিকিৎসাধীন।

গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নানা গুজব চলছে। এতে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

গতকাল ব্রিফিংয়ে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কোনো সময় অনেক গুজব শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, দয়া করে দেশনেত্রীর প্রতি যদি আপনাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আপনারা দয়া করে যে ফ্যাক্ট-সেটার বাইরে গুজব ছড়িয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করবেন না।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

ইসরায়েল থাকায় ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা বর্জন করছে ইউরোপের কোন চার দেশ

ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলকে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়ার পর প্রতিযোগিতাটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও স্লোভেনিয়া

এরা সেসব দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা গাজায় যুদ্ধ এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগে ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।

ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) জানায়, জেনেভার এক বৈঠকে সদস্যদের একটি ‘বড় অংশই’ মত দেয়, (প্রতিযোগিতায়) অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন নেই এবং ২০২৬ সালের ইউরোভিশন আগের পরিকল্পনামতোই চলতে পারে।

এ বিষয়ে গোপন ব্যালটের দাবির পক্ষে সোচ্চার স্পেনের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ‘উৎসবটির আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে অবিশ্বাস’ বাড়িয়ে দিয়েছে।

গাজায় ভয়াবহ প্রাণহানি হয়েছে এবং সেখানে চলমান মানবিক সংকটে এখনো অসংখ্য বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় রেডিও ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই বলছে, মনে হচ্ছে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করাটা বিবেকহীনের মতো কাজ হবে।

ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি স্পেন ইউরোভিশনের ‘বিগ ফাইভ’ দেশগুলোর একটি।

এসব দেশের শিল্পীরা সরাসরি ফাইনালে ওঠার সুযোগ পান। কারণ, এসব দেশের সম্প্রচারমাধ্যমগুলো ইবিইউকে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনুদান দেয়।

প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বিবিসিসহ প্রায় ৫০টি সম্প্রচার সংস্থা ইবিইউর বৈঠকে যোগ দেয়। প্রতিযোগিতাটি প্রতিবছর ১৫ কোটির বেশি মানুষ দেখে।

ওদেরকে নতুন কিছু নিয়মের পক্ষে সমর্থন দিতে বলা হয়। যেগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে—সরকার এবং তৃতীয় পক্ষকে তাদের প্রতিযোগীদের জন্য সংগঠিতভাবে ভোটের প্রচার চালানো থেকে নিরুৎসাহিত করা। কারণ অভিযোগ উঠেছিল, এ বছর ইসরায়েল তাদের প্রতিযোগী ইউভাল রাফায়েলের পক্ষে (অনলাইন ক্যাম্পেইনে) অন্যায্যভাবে সমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে, যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ভোটের আয়োজন করা হয়, সেখানে একটি শর্তও যুক্ত ছিল। শর্তটি ছিল, প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো ভোটাভুটি হবে না এবং এ বিষয়ে সদস্যরাও একমত হয়।

ইবিইউ বলেছে, এই ভোটের অর্থ হলো সব ইবিইউ সদস্যের মধ্যে যারা ২০২৬ সালের ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায় এবং নতুন নিয়মগুলো মানতে সম্মত, তারাই অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতার পরিচালক মার্টিন গ্রিন বলেন, তিনি ‘খুশি’ যে ভোটের আগে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে সদস্যদের ‘বিতর্ক করার সুযোগ’ দেওয়া হয়েছিল।

গ্রিন বলেন, ‘বিতর্কটি ছিল খোলামেলা, সৎ এবং যথেষ্ট মর্মস্পর্শী। কিন্তু আমরা ফলাফলে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, সবাই সত্যিই বিশ্বাস করে যে ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতাকে রাজনৈতিক মঞ্চের মতো ব্যবহার করা উচিত নয়। এটির কিছুটা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।’

প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলকে অংশ নিতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তিনি বলেন, তিনি ‘খুশি যে ইসরায়েল আবার ইউরোভিশনে অংশ নেবে এবং আশা করেন প্রতিযোগিতা এমন একটি অনুষ্ঠান হিসেবে থাকবে, যা সংস্কৃতি, কবিতা, মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সীমান্তপারের সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াকে শুদ্ধ করবে।’

তবে এই সিদ্ধান্ত ইউরোভিশন কমিউনিটির মধ্যকার গভীর বিভক্তিকে সবার সামনে এনেছে।

এক বিবৃতিতে ডাচ সম্প্রচারমাধ্যম অ্যাভ্রোট্রস বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ করা জনগণের মূল্যবোধের (যা আমাদের জন্য অপরিহার্য) সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।’

স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই আরও যোগ করে, ‘আরটিভিই-এর পরিচালনা বোর্ড গত সেপ্টেম্বরে সম্মত হয়েছিল, ইসরায়েল এতে অংশ নিলে স্পেন ইউরোভিশন থেকে সরে যাবে।’

‘এই সরে যাওয়ার অর্থ আরটিভিই ইউরোভিশনের ২০২৬ সালের ফাইনাল তো বটে, এমনকি প্রাথমিক সেমিফাইনালগুলোও সম্প্রচার করবে না।

স্লোভেনিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভি জানিয়েছে, (এ বিষয়ে) তাদের অবস্থানও ‘অপরিবর্তিত’ থাকবে।

আরটিভি জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক নিয়মের পরিবর্তনগুলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারেনি। একটি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে আরটিভি স্লোভেনিয়া নৈতিক নীতিমালা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আশা করে, সব ইবিইউ সদস্য ও অংশগ্রহণকারী দেশে সমান নিয়ম ও মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে।’

বেলজিয়ামের সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পক্ষ নেবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন ইউভাল রাফায়েল। এ বছরের ইউরোভিশনে তিনি ইসরায়েলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন ইউভাল রাফায়েল। এ বছরের ইউরোভিশনে তিনি ইসরায়েলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছবি: রয়টার্স