Monday, May 30, 2016

ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

নিত্যপণ্যের উল্লম্ফন টেনে ধরতে খোলা বাজারে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করল সরকার। রোববার থেকে সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এ কার্যক্রমের আওতায় ১৭৪ স্থানে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রয় করছে। রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রচলিত দামের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেল ও খেঁজুর। খোলাবাজারে এসব পণ্য প্রতি লিটার সয়াবিন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ৯০, ছোলা ৭০, চিনি ৪৮ (দেশি) ও খেজুর প্রতি কেজি ৯০ টাকায় ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় একজন ভোক্তা টিসিবি পণ্য সয়াবিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার, মসুর ডাল ২ কেজি, চিনি ৪ কেজি, ছোলা ৫ কেজি ও খেজুর ১ কেজি হারে কিনতে পারবেন। টিসিবির এই পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, ১৫০-২০০ কেজি মসুর ডাল, ৩০০-৪০০ কেজি সয়াবিন, ৪০০-৮০০ কেজি ছোলা ও ৫০ কেজি হারে খেজুর সরবরাহ করা হচ্ছে। টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ৩২ স্থানে চট্টগ্রামে ১০ ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৫টি করে এবং বাকি জেলা সদরে দুটি করে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে দেশজুড়ে হৈচৈ শুরু হয়। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। মধ্যবিত্তরাও এর ধকল সইতে হিমশিম খাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে পুনরায় টিসিবি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি এনে দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা শহরে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ের স্থান : প্রেস ক্লাব, সচিবালয় গেট, কাপ্তান বাজার, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, শান্তিনগর বাজার, শাহজাহানপুর বাজার, বাসাবো বাজার, ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী বাজার, রামপুরা বাজারে টিসিবির পণ্য পাওয়া যাবে। আগারগাঁও শেওড়াপাড়া বাজার, মিরপুর-১ এর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল ও জিগাতলা কাঁচাবাজার, মিরপুর গোলচত্বর, খামারবাড়ি, কচুক্ষেত বাজারেও পণ্য কেনা যাবে। এছাড়াও ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল বিমান অফিস, দিলকুশা, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও কলাবাগান, জুরাইন ও শনির আঁখড়া, কলমিলতা বাজার, মালিবাগ বাজার,
মহাখালী কাঁচাবাজার ও খিলগাঁও তালতলা কাঁচাবাজারে টিসিবির পণ্য পাওয়া যাবে। এ সংক্রান্ত তথ্য ৮৮৯১৬৪৮ নম্বরে পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০টি ট্রাক নগরীর ১০টি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করছে। খোলা বাজারে যেসব স্থানে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলো হল- জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, কাস্টম মোড়, টাইগারপাস মোড়, আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, সিজিও বিল্ডিং গেট, অলংকার মোড়, নাসিরাবাদ, ষোলশহর দুই নম্বও গেট এবং ইপিজেড মোড়। রংপুর : নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্থানে ট্রাকে করে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানগুলো হল- ডিসির মোড়, প্রেস ক্লাব চত্বর, সিটি কাঁচাবাজার চত্বর, সাতমাথা মাহীগঞ্জ মোড়। তবে নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে সিটি কাঁচাবাজার চত্বর ও ডিসির মোড়কে রাখা হলেও বাকি ৩টি স্থান পর্যায়ক্রমে রদবদল হবে। এসব স্থান হল- শাপলা চত্বর, লালবাগ বাজার মোড় ও রেলওয়ে স্টেশন চত্বর। প্রতিদিন টিসিবির পণ্য বিক্রি হবে।

মামুনুলদের তাজিকিস্তান-যাত্রা

ফিরে এসেছেন ডাচ কোচ ডি ক্রুইফ। ফের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেই নেতৃত্ব ফিরে পেলেন মামুনুল ইসলাম। গুরু-শিষ্য ফিরে আসার পর আবারও তাজিকিস্তান যাত্রা। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে রোববার দুশানবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ল জাতীয় ফুটবল দল। ডি ক্রুইফের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মামুনুলেরও। তার কথায়, ‘ঢাকায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রত্যেকটিই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রতিনিয়তই আমাদের নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামতে হয়। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচটিও খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ আমরা যারা নিষেধাজ্ঞা থেকে দলে ফিরে এসেছি, এই ম্যাচে তাদের ভালো পারফর্ম করা খুবই জরুরি।’ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মিশন শেষে এবার এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ। এবার তাজিকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ। প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গেলেন মামুনুলরা। ২ জুন দুশানবেতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
গেল দু’সপ্তাহ প্রধান কোচ ডি ক্রুইফের অধীনে অনুশীলনে ঘামও ঝরিয়েছেন ফুটবলাররা। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড ভালো নয়। সাম্প্রতিক ফলও অনুল্লেখ্য। গেল বছরের ১২ নভেম্বর বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে তাজিকদের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় জাতীয় দল। তার আগে গেল বছর ১৫ জুন ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচে তাজিকদের ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। মামুনুলের কথায়, ‘তাজিকিস্তানের বিপক্ষে আমরা এখনও ভালো কিছুই করতে পারিনি। শেষ ম্যাচ আমরা ৫-০তে হেরেছিলাম। একটি ম্যাচে ড্র করেছি। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে আমরা একটি দল হিসেবে ভালো কিছু করার জন্য যাচ্ছি। ভালো পারফর্ম করতে চাই। এ ম্যাচে আমরা হারব কী জিতব সেটা এখনই বলতে পারছি না। তবে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেললে আশা করি ভালো ফল হবে।’ অন্যদিকে সাফ জানিয়ে দিলেন ডি ক্রুইফ, ‘তাজিকিস্তানে আমরা বেড়াতে যাচ্ছি না। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আশা করি, তারা ভালো করবে। তারা উজ্জীবিতও। এরপর আমাদের হোম ম্যাচ। সেখানে ইতিবাচক কিছু করতে হলে তাজিকিস্তানে ভালো ফল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
৭ জুন হোম ম্যাচে ঢাকায় তাজিকদের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। এদিকে সরকারি অনুমতি (জিও) না নিয়েই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলকে তাজিকিস্তানে পাঠাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিদেশে বাংলাদেশ ক্রীড়া দল পাঠাতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু বাফুফে জিও নেয়নি। যদিও ২৫ মে জিও চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩৩ জনের জন্য জিও চাওয়া হয়। ২৭ ও ২৮ মে সরকারি ছুটি ছিল। রোববার সকালে দল তাজিকিস্তান যায়। সাধারণত জিও’র জন্য ৭ থেকে ১৫ দিন আগে চিঠি দেয়ার নিয়ম রয়েছে। বাফুফে অন্যান্য সফরের সময় এ নিয়ম মানলেও এবার নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রতিনিধি দল দেশের বাইরে গেলে সেই দলের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। জিও দেয়া হয় যাতে প্রতিনিধি দলের যাবতীয় তথ্যাদি মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত থাকে। এ ব্যাপারে বাফুফের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে বলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সাত বছর পর ফের এক্স ফ্যাক্টর

সাত বছর পর আবারও এক্স ফ্যাক্টর নির্মাণ করছেন শিহাব শাহীন। ২৫ মে থেকে তিনি টেলিফিল্মটির শুটিং শুরু করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম তৈরি করেছিলেন ‘এক্স ফ্যাক্টর’। পরের বছর এ টেলিফিল্মের দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণ করেন। এরপর সাত বছর বিরতি। এবার টেলিফিল্মটির তৃতীয় পর্ব নির্মাণ করছেন। এবারের পর্বের নাম ‘এক্স ফ্যাক্টর-গেইম ওভার’। এতে জিসা চরিত্রে অভিনয় করছেন জাকিয়া বারী মম। যথারীতি মঈন চরিত্রে অপূর্ব ও টুপুর চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা। সঙ্গে রয়েছেন ইরেশ যাকের ও ফারহানা মিলি।
এ প্রসঙ্গে মম বলেন, ‘এক্স ফ্যাক্টরের প্রতিটি চরিত্রই নির্মাতা এমনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, আমার কাছে মনে হয়েছে এক্স ফ্যাক্টর তিনি নিজেই।’ অপূর্ব বলেন, ‘দীর্ঘ অভিনয় জীবনে আমি অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। এক্স ফ্যাক্টর তাদের মধ্যে অন্যতম। অনেক ভালোলাগা এবং আন্তরিকতা নিয়ে কাজটি করছি। আশা করি দর্শক আবারও এক্স ফ্যাক্টরে মগ্ন হবেন এবারের ঈদে।’ তৃতীয়বারের মতো কাজ করা প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, ‘আমি এতে অতিথি একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। পুরনো দিনের অনেক কথাই কাজ করতে এসে মনে পড়েছে। আশা করি আবারও এক্স ফ্যাক্টর দর্শকের মনে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করবে।’ আসছে ঈদে টেলিফিল্মটি জিটিভিতে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

Sunday, May 29, 2016

বুশের চেয়েও বেশি ভোগাবেন ট্রাম্প

আকস্মিকভাবে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে পা দিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইতিমধ্যে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থানও পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন অল্প ক’দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন মুলুকসহ সারা বিশ্বে তাকে ঘিরে এখন জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ভক্ত-সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটালেও প্রার্থিতা নিশ্চিত করেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বনেতাদের মনে। আসছে ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে যদি প্রেসিডেন্টের চাবিকাঠি চলে যায় ট্রাম্পের হাতে, তবে দারুণভাবে বিশ্বকে ভোগাবেন তিনি। সেই ভোগান্তির মাত্রা ‘বিশ্ব অস্থিরতা’র কর্ণধার জর্জ বুশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। শনিবার দি ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। নএতে বলা হয়েছে, যদি ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন, তার উচিত হবে বুশকে ধন্যবাদ জানানো। কারণ, তার আগেই বিশ্ব অরাজকতা সৃষ্টির পথ দেখিয়ে গেছেন বুশ। সেই পথ বেয়ে না চললেও তার থেকে ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বকে নাচাবেন ট্রাম্প।
প্রাথমিক নির্বাচনের প্রচারণায় তার বিতর্কিত বাচনভঙ্গির সূত্র ধরে এমনটাই আঁচ করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি অনেকেই ট্রাম্পকে ‘বুশ ব্রান্ড’-এর প্রোডাক্ট বলেও সম্বোধন করেছেন। বলা হয়েছে, যদি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানুষের দিকে চোখ রাখতে বলা হয়, তবে অধিকাংশের মনে জর্জ ডব্লিউ বুশের নাম ভেসে উঠবে। বুশকে বিশ্বমঞ্চের খলনায়ক হিসেবেও মূল্যায়ন করেন অনেকে। অসচেতনভাবে হোক আর জেনে-শুনে হোক পৃথিবীটাকে তপ্ত কড়াইয়ে পরিণত করেছেন তিনি। আর অধিকাংশ মার্কিনিও মনে করেন, একরোখা বুশ বিশ্বব্যাপী আমেরিকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ওসামা বিন লাদেনকে বধের নামে ইরাক আগ্রাসন থেকে শুরু করে সাদ্দামের পতন পর্যন্ত সব কাজে সমানভাবে সমালোচিত বুশ। এমনিভাবে বুশের পাশে খলনায়কের তালিকায় ট্রাম্পের নামটিও যোগ হতে পারে বলে বিশ্বাস বিশ্লেষকদের। ইসলাম নিয়ে কটূক্তি, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়া, মেক্সিকান ও নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কারণে এমন উপাধি পাওয়ার যোগ্য ট্রাম্প। এদিকে উগ্রপন্থী মনোভাবের দিক দিয়ে ট্রাম্প এগিয়ে বলে মনে করেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। অন্যদিকে ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছে রড্রিগো দুতেরতো, যাকে অপরাধীর যম নামে অ্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অপরাধী ও মাদকসেবীদের ধ্বংস করে দেবেন বলে ঘোষণা দেন। এমনকি এক অস্ট্রেলীয় মিশনারি কর্মীকে ধর্ষণ নিয়ে মজা করে এ নেতা বলেন, এ ধর্ষণে আমারই নেতৃত্ব দেয়া উচিত ছিল। এমন বিতর্কিত মন্তব্য করার পরও প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি। তবে আমেরিকাতে নয় কেন?

মালদ্বীপ স্টাইলে পর্যটন কেন্দ্র বানাবে চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে মালদ্বীপের আদলে পর্যটন কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। একাধিক বিতর্কিত দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দেশটি। শুক্রবার চীনের এক পদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি। জিয়াও জিও নামের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্যারাসেলস দ্বীপপুঞ্জের উডি আইল্যান্ডকে পর্যটকদের আকর্ষণ, সৌন্দর্যের লীলাভূমি মালদ্বীপের আদলে গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, এই দ্বীপপুঞ্জের আরও বেশকিছু দ্বীপকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে কোনো সামরিক বাহিনীর মহড়ার প্রয়োজন হবে না।
এ ছাড়া চীনের এই পর্যটন কেন্দ্র তৈরির ফলে সমুদ্রসীমানায় সিল্ক রোড প্রকল্প বাস্তবায়নও সহজ হবে। এসব কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য মাছ ধরা, ডাইভিংসহ নানা ব্যবস্থা রাখা হবে। থাকবে সি-প্লেনে করে যাতায়াতের ব্যবস্থাও। এমনকি সমুদ্রের নির্মল বায়ুর পাশে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিয়ের জমকালো আয়োজন করারও ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানান জিয়াও। ২০১৩ সাল থেকে বেইজিং পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজে করে ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে। এটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৬৫টি ভ্রমণ যাত্রায় প্রায় ১৬ হাজার পর্যটক এখানে এসেছেন। এবার দ্বিতীয় প্রমোদ ভ্রমণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। উডি আইল্যান্ড চীনের মূল প্রশাসনিক দ্বীপ, যেটি দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকাগুলো নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। এ সাগরের পথ দিয়ে বছরে ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ব্র“নাই এবং মালয়েশিয়াও দক্ষিণ চীন সাগরের অংশবিশেষের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করছে। এদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে প্রথমবারের মতো ড্রোন মোতায়েন করেছে চীন। রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম এমন ড্রোন হারবিন বিজেডকে-০০৫’র উপস্থিতি উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইমেজস্যাট ইন্টারন্যাশনাল (আইএসআই) এ ছবি তুলেছে।
বিরোধপূর্ণ চীন সাগরের উডি আইল্যান্ড নিয়ে যখন তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে তখন ওই এলাকায় এই নজরদারি বা গোয়েন্দা ড্রোন মোতায়েন করল দেশটি। দূরপাল্লার ড্রোন হারবিন বিজেডকে-০০৫’র ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা নেই। গত মাসে উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে ড্রোনে অস্ত্র বহনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য এ ড্রোন এক নাগাড়ে ৪০ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে। এদিকে এর আগে উডি আইল্যান্ডে যে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হয়েছিল তার অবস্থান পাল্টানো হয়েছে বলে উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে। ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা-চেষ্টার সমালোচনা করে তা বন্ধ না করলে, ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে চীন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে হুশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার। একই সঙ্গে সাইবার স্পেসে অবাধ তথ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপেরও সমালোচনা করেন তিনি। শুক্রবার ওয়াশিংটনের মেরিল্যান্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ব্যাচের স্নাতক শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে দেয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

দ্রুততম কিশোর-কিশোরী উজ্জ্বল ও তানজিলা

হাজী নুরুল ইসলাম মুন্সি স্মৃতি জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সের দ্রুততম কিশোর নরসিংদীর উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর এবং দ্রুততম কিশোরী তানজিলা আক্তার। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হওয়ার দৌড়ে উজ্জ্বল ১০.৮৩ সেকেন্ড এবং তানজিলা ১৩.১০ সেকেন্ড সময় নেয়। সব অ্যাথলেটেরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করা। সেই অধরা স্বপ্ন আরও একবার ধরা দিল নরসিংদীর উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধরের হাতে। এর আগে ২০১৩ সালে জুনিয়রদের এ মঞ্চে দ্রুততম বালকের খেতাব অর্জনের পাশাপাশি লং জাম্পেও স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। পরের বছর জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ও লংজাম্পে দ্বিতীয় হন।
গেল বছর এ আসরের লং জাম্পে ৭.০৯ সেন্টিমিটার উচ্চতায় লাফিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েন তিনি। পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাবে সেবার প্রিয় ইভেন্টে অংশ নেননি উজ্জ্বল। এবার তার আশা ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পাশাপাশি লং জাম্পেও জাতীয় রেকর্ড গড়বেন। কিন্তু জ্বরের কারণে তা আর হয়নি। লং জাম্পে রুপা জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উজ্জ্বল দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার গচিহাটা গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বলের বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহিণী। দিনহীন পরিবারে থেকেও সাফল্য ছিনিয়ে আনায় খুব খুশি তিনি। উজ্জ্বলের কথায়, ‘জুনিয়র মিটে সবাইকে পেছনে ফেলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এজন্য আখতারুজ্জামান স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। ওনার সহযোগিতার কারণেই এত পর্যন্ত আসতে পেরেছি।’ ভবিষ্যতের লক্ষ্য সম্পর্কে উজ্জ্বলের কথা, ‘ভবিষ্যতে সাউথ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। আর এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের। আমি অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনকে অনুরোধ করব এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতে।’ অন্যদিকে বিকেএসপির উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিলার কথা, ‘এর আগেও জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে তিনবার অংশ নিয়েছি। তবে ১০০ মিটারে প্রথম হলাম এবারই।
সেরা হওয়ার স্বপ্ন আমার অনেকদিনেরই। সেটা এবার পূর্ণ হওয়ায় খুবই খুশি।’ এর আগে এ আসরে ২০১৩ সালে তিনটি ইভেন্টে রুপা পেয়েছিল তানজিলা। ‘২০১৪ ও ২০১৫ সালে চোটের কারণে (লিগামেন্ট ইনজুরি) খেলতে পারিনি। এ প্রতিযোগিতার জন্য আমার প্রস্তুতি ছিল প্রায় তিন মাসের। ২০১৩ সালের আসরে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ে এবং লং জাম্পে রুপা জিতেছিলাম। আমার কোচ আমাকে এবার যেভাবে ও যতটুকু অনুশীলন করিয়েছেন, তাতে আমি আÍবিশ্বাসী ছিলাম, এবার আমি কিছু একটা করতে পারব।’ কৃষক বাবা শামসুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা তানজিলা যোগ করে, ‘তবে কিছুটা সংশয়েও ছিলাম। কারণ অনেকদিন খেলায় ছিলাম না এবং বেশিদিন অনুশীলনও করতে পারিনি।’ অতীতে ফিরে গিয়ে তানজিলা বলল, ‘যখন হাইস্কুলে যাই, তখন আন্তঃস্কুল অ্যাথলেটিক্সে অনেক পুরস্কার জিতেছি। আর তখন থেকেই আমার খেলাধুলার প্রতি বাবার নেতিবাচক মনোভাব বদলে যেতে থাকে। স্কুল পর্যায়ে পুরস্কার হিসেবে জিতেছি ৪৫ প্লেট এবং ২৫টির বেশি মেডেল। তিন মাস ক্যাম্প করার পর ২০১২ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হই। ভবিষ্যতে আমি বিউটি আপার (নাজমুন নাহার বিউটি) মতো ১০০ মিটারে এবং সুবর্ণা আপার (সুবর্ণা আক্তার) ২০০ মিটার স্প্রিন্টের বাংলাদেশ গেমসের রেকর্ডটা ভাঙতে চাই।’ এ আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জেতার পাশাপাশি ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং হাই জাম্পে রুপা জিতেছে তানজিলা।

আজ ঢাকা মাতাবেন আতিফ আসলাম

আবারও ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পী আতিফ আসলাম। এবার তার সঙ্গে রয়েছেন দুই ভারতীয় গায়িকা মমতা শর্মা ও আকৃতি কাক্কার। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে গান গাইবেন তারা। এ প্রসঙ্গে আয়োজক প্রতিষ্ঠান এটিএন এন্টারটেইনমেন্টে পরিচালক অনন্যা রুমা বলেন, আমরা সবসময় শ্রোতা-দর্শক চাহিদা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠান আয়োজন করি। আতিফ আসলামের প্রচুর শ্রোতা রয়েছে বাংলাদেশে।
তাদের জন্যই মূলত এ অনুষ্ঠান। পাশাপাশি মমতা ও আকৃতি বলিউডের ছবিতে গান গাওয়ার সুবাদে বাংলাদেশে পরিচিত। তাদের গানও আশা করি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’ কনসার্টের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে বলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন। কনসার্টে অংশ নিতে এ মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থান করছেন আতিফ আসলাম, মমতা শর্মা ও আকৃতি কাক্কার।

Saturday, May 28, 2016

হিরোশিমার ক্ষত শুকানোর নয়

হিরোশিমা মেমোরিয়াল পাক স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন
শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে করমর্দন
করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জি-৭
সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার ঐতিহাসিক হিরোশিমা
সফরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের (হিবাকুশা)
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবামা। এসময় ওবামা পারমানবিক
অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন -ডেইলি মেইল
হিরোশিমার ক্ষত শুকানোর নয়। হিরোশিমার নীরব কান্না থেকেই আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। ৭১ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমার আঘাতে জাপানের যে নগরী মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল, শুক্রবার সেই হিরোশিমা সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব কথা বলেন। খবর এএফপি, রয়টার্স ও ডেইলি মেইলের। দুই দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষদিন শুক্রবার ইসেশিমা থেকে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে হিরোশিমা পৌঁছেন ওবামা। ৫টা ৪০ মিনিটে হিরোশিমা মেমোরিয়াল পার্কে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নীরবতা পালন করেন তিনি। পরে শিনজো আবেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্থানীয় খোলা মাঠে পারমাণবিক বোমায় আক্রান্তদের অংশগ্রহণে এক স্মৃতিচারণ সভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় বারাক ওবামা বলেন, ‘৭১ বছর আগে আকাশ থেকে মৃত্যু পড়েছিল এবং পরিবর্তন ঘটেছিল বিশ্বে। আমি এখানে কেন এসেছি- এ প্রশ্ন অনেকে করতে পারেন, কিন্তু আমি এসেছি মানবিক বিবেচনায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ভাষায় হিরোশিমা দুদর্শার কথা বর্ণনা করা কঠিন।’ এক লাখের বেশি নিহতের স্মরণ করে ওবামা বলেন, ‘চলুন আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানদের বলি, নৃশংসতা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা আজ বুঝতে শিখেছি,
এ ধরনের যুদ্ধ মানব সভ্যতার জন্য কতটা হুমকি হতে পারে।’ ক্ষমা চাওয়ার বিষয় আগেই নাকচ করলেও এদিন ওবামা বলেন, ‘আমরা কৃতজ্ঞচিত্রে যুদ্ধের সময় নিহতদের স্মরণ করছি। ইতিহাস থেকে আমরা সরাসরি শিক্ষা নিয়েছি। তাই পারমাণবিক অস্ত্র আর কখনও মানব সভ্যতার প্রয়োজন পড়বে না।’ ওই সভায় শিনজো আবে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। যারা আজ বেঁচে আছেন তাদের কাছে আমাদের অঙ্গীকার হবে, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন নতুন বিশ্ব।’ জাপানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের স্মরণ করিয়ে আবে বলেন, ওবামার ঐতিহাসিক সফর মনে করে দিচ্ছে, পারমাণবিবক অস্ত্র কতটা ভয়ানক। এরপর ওবামা হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমায় আক্রান্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাদের কষ্টের কথা শোনেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধ এক ব্যক্তিকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এতে ওই ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ৯১ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর ধূসর রংয়ের স্যুট পরা অপর এক ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে ওবামা হিরোশিমার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামাই প্রথম হিরোশিমা সফর করলেন। ওবামার আগে ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি হিরোশিমা সফর করেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার আঘাতে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা হামলায় মারা যান আরও ৭৪ হাজার মানুষ।

এশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে জি-সেভেন

জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার ফটোসেশনের ফাঁকে
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরে নিচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী
ডেভিড ক্যামেরন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিনশেষে
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলেও বসেন দুই নেতা।
অন্যদিকে আয়েশি ভঙ্গিমায় হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা -বিবিসি
বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর দুই দিনব্যাপী আয়োজিত জি-সেভেন সম্মেলন শেষ হয়ে গেল শুক্রবার। এবারের মূল বিষয় ছিল অর্থনীতির বিকাশ এবং বাণিজ্যের বিস্তৃতি। এ ক্ষেত্রে ধনীদের দুর্নীতি ও কর ফাঁকির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন জি-সেভেনের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবারের সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চলমান রাখার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকলেও মূলত সবার দৃষ্টি ছিল এশীয় রাজনীতিতে। চীনকে মোকাবেলা করতে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাসহ ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে জাপানকে। জাপান-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি : ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি রাষ্ট্রের সঙ্গে অবাধ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পথে এগিয়ে গেল জাপান। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘জাপান-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুতই চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কারণ তখন আরও ন্যূনতম ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে অর্থবাজারে।’ বর্তমানে ইইউ-জাপান দ্বিপাক্ষিক ব্যবসার পরিমাণ বছরে ৮৯ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে এক্সপ্রেস নিউজ। এ ছাড়া ইসলামি মৌলবাদ দমন, চীনের একচেটিয়া বাজার দখল রোধ এবং ইউরেশিয়াতে রাশিয়ার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে জাপান-ইইউ। এ ব্যাপারে জি-সেভেন নেতারা বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাপান-ইইউ অবাধ বাণিজ্য দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট রোধে ভোক্তা কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাপানের : বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিতেও পরিবর্তন আনছে জাপান। পূর্ব প্রস্তাব অনুসারে জাপানের ভোক্তা কর ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা ছিল। তবে শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্থরতার কথা বিবেচনা করে জাপান ভোক্তা কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করছে।’ তবে জাপানি অর্থনীতিবিদ মাসাকি কুয়াহারা জাপান টাইমসকে বলেন, ‘সিনেটের আসন্ন উচ্চকক্ষের নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জি-সেভেন সম্মেলনকে সফলভাবে ব্যবহার করলেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এ সিদ্ধান্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
ব্রেক্সিটের বিপক্ষে সরব জি-সেভেন : ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বিশ্বের অর্থনীতির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জি-সেভেন নেতারা। তারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের পথে তা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পথেও তা বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘ইইউতে থাকার মধ্যেই ব্রিটেনের সার্বিক মঙ্গল নিহিত আছে। এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।’ জি-সেভেন সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যামেরনকে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকাটাই আপনার দেশের জনগণকে উপকৃত করবে।’ এ বছরের ২৩ জুন ইইউতে থাকা না-থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে ব্রিটেনে। উদ্বাস্তু ইস–্যকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিতকরণ : অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু সমস্যাকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জি-সেভেন নেতারা। তারা বলেন, উদ্বাস্তু সমস্যা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে বিশ্বের সব রাষ্ট্রেরই ভূমিকা রাখা উচিত। গত বছর সিরিয়া এবং ইরাক থেকে ১৩ লাখ মানুষ ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে। এদের এক-তৃতীয়াংশই আছে জার্মানিতে। এ ব্যাপারে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু সমস্যা নিরসনে সতর্ক নজর রাখবে জি-সেভেন। বিশেষ করে ইরাকের প্রতি আলাদা ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ ইরাক থেকেই স্রোতের মতো মানুষ বের হয়ে গেছে।’ প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা : বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যা নিরসনে ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জি-সেভেন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ন্যূনতম ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে।

সাতক্ষীরার খেলোয়াড় গড়ার কারিগর

ঘরোয়া আসর তো বটে, মালদ্বীপ লীগেও হ্যাটট্রিকের পর হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন। সাবিনা খাতুন ছাড়াও সুরাইয়া খাতুন ও মিরানার মতো তারকা ফুটবলার তৈরির কারিগর আকবর আলী। সাতক্ষীরার এই ক্রীড়াবিদ তৈরির কারিগরের হাতে দীক্ষা নিয়ে জাতীয় কাবাডি দলে খেলছেন মিতা খাতুন পাখি, মানসুরা খাতুন ও আজমিরা খাতুন দোলারা। দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারও তার হাতে তৈরি। তার দুই মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রিক্তা ও ফাতেমাতুজ জোহরা মুক্তা জাতীয় ফুটবল ও খোখো দলের সদস্য। আকবর আলী এবার অ্যাথলেট গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। নিজে ছিলেন অ্যাথলেট। দুই মেয়েও খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। ছেলেটা পড়াশোনায় ব্যস্ত। তাই বলে সাতক্ষীরার আকবর আলী ও তার স্ত্রীর সংসার ছোট নয়। বাড়িতে ১৫ জন। নিজের বাড়িতে ১৩ জন মেয়েকে নিয়ে আকবর আলী গড়ে তুলেছেন জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগে ছিল অনাবাসিক। গেল তিন বছরে এ আবাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধশত ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলছেন। আকবর আলী এবার পাঁচ তরুণ অ্যাথলেটকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) মহিলা ফুটবল দলের কোচ আকবর আলী দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত।
তার দুই মেয়ে রিক্তা ও মুক্তা পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড ফিজিক্যাল অ্যাডুকেশনে তৃতীয় বর্ষে। আকবার আলী ও তার দুই মেয়ে নিজেদের অর্জিত সব অর্থ খরচ করেন ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে। সাতক্ষীরার চালতেতলা বাজারে নিজের বাড়িতে ২০০৮ সালে জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। বর্তমানে ১৩ জন মহিলা ক্রীড়াবিদ এখানে খেলাধুলা শিখছেন। আকবর আলী বলেন, ‘বিজেএমসিতে আমি কোচ হিসেবে এবং আমার দুই মেয়ে চাকরি করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাই। এখানে ১৩ জন মেয়ের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া আমাদের অর্থে চলে। অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাড়ি, ফুটবল ও খোখো খেলা শেখানো হয়। নতুন যোগ হয়েছে ক্রিকেট, থ্রোবল ও সেপাক টাকরো। নিঃস্বার্থ এ ক্রীড়াকোচ এবার পাঁচ তরুণ অ্যাথলেট নিয়ে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে এসেছেন। সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে নয়ন হোসেন অন্যতম। বাবা রমজান আলী ইটভাঙা গাড়ির দিনমজুর। মা গরু খামারি। বর্ষা মৌসুমে বাবার কাজ বন্ধ থাকলে মা সংসার চালান। তাদের নিয়েই আগামী ক্রীড়াঙ্গনের স্বপ্ন দেখছেন আকবর আলী। তার কথায়, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জ্যোতি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রীড়াবিদ তৈরির বড় কারখানায় রূপান্তরিত হবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই কাজ করছি।’

বাবা তোমার হাতটা একটু ধরি

বাবা তোমার হাতটা একটু ধরি। অনেকটা আবেগী কথন। ছেলের উদ্দেশে মায়ের এমন আবদার। এই আবেগী বাক্যটাই নাটকের নাম হিসেবে বেছে নিলেন আবুল হায়াত। ঈদের জন্য এ নামেই নির্মাণ করছেন একটি নাটক। এতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহানারা আহমেদ। ছেলের ভূমিকায় রয়েছেন শাহেদ শরীফ খান। নাটকে পরিচালক আবুল হায়াতও স্কুল মাস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করেই নাটকটি নির্মাণ করছি।
যেহেতু ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়িতে থাকেন এবং পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের অনুষ্ঠানগুলো দেখার চেষ্টা করেন। তাই পারিবারিক শিক্ষামূলক একটি নাটক রচনা এবং নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি। সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আমি এ নাটকটি নির্মাণ করছি। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।’ জাহানারা আহমেদ বলেন, ‘হায়াতের এ নাটকের গল্প আমার খুব ভালো লেগেছে।’ শাহেদ শরীফ খান বলেন, ‘সবসময়তো গৎবাঁধা গল্পের নাটকে অভিনয় করি। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা গল্পের নাটক এটি। আমি নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছি। খুব ভালো লাগছে কাজটি করতে।’ নাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন মৌটুসী বিশ্বাস।

স্পেন হারল ইংল্যান্ডে

ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ে আর স্পেনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচটা পড়ে গেল একই দিনে। বাবা ফ্যাবিও ক্যাপেলো খেলাটাকেই বেছে নিলেন পেশার টানে। তাই পরশু ইতালির মিলানে যখন বাজছিল ছেলে পিয়েরফিলিপ্পোর বিয়ের সানাই, ইংল্যান্ড কোচ ক্যাপেলো ব্যস্ত ওয়েম্বলির ডাগ-আউটে।
তবে ছেলের বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারার কষ্টটা হয়তো এই রাতে ভুলেই গেছেন ক্যাপেলো। ইংল্যান্ড যে প্রীতি ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। জয় এসেছে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের একমাত্র গোলে।
ছেলের বিয়ের একটু আমেজ যেন তাই ৬৫ বছর বয়সী ক্যাপেলো টেনে এনেছিলেন ওয়েম্বলির কোলাহলপূর্ণ স্টেডিয়ামেও। ডাগ-আউটে এসেছিলেন গায়ে দামি সুগন্ধি মেখে। সেই সুগন্ধির সঙ্গে জয়ের সুবাস মিশে ম্যাচ শেষে যেন পুরো ওয়েম্বলিই ভাসছিল আনন্দের মৌতাতে।
কয়েক বছর ধরেই অন্যগ্রহের ফুটবল খেলতে থাকা স্পেন প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়েও তাদের খেলাটাই খেলেছে। পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে পুরো সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করে স্প্যানিশরা। শুধু গোলটাই তারা করতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে হেড করে স্পেনের পোস্টে বল পাঠিয়ে দেন ল্যাম্পার্ড।
গত ৩১ বছরে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের বিপক্ষে এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম জয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড সর্বশেষ জিতেছিল ১৯৮০ সালে, এই ওয়েম্বলিতেই ১৯৭৮-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। তরুণ ম্যারাডোনাও ছিলেন সেই দলে। ক্যাপেলো কোচ হওয়ার পর ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর কোনো দলের বিপক্ষে এটা ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়, আর স্পেনের বিপক্ষে ১০ বছর পর। ওয়েম্বলির কথা বললে, স্পেনের বিপক্ষে জয়টা ৪৩ বছর পর। এখানে স্পেনকে সর্বশেষ তারা হারিয়েছিল ১৯৬৮ সালে।
ম্যাচ শেষে ক্যাপেলো ছিলেন উচ্ছ্বসিত, ‘ছেলের বিয়ে এবং ইংল্যান্ডের জয়, সত্যিই এটা আমার জন্য অসাধারণ এক মুহূর্ত।’ জয়ের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তরুণ খেলোয়াড়দের। নিয়মিত অধিনায়ক জন টেরি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। অধিনায়কের বাহুবন্ধনী পরেন চেলসি তারকা ল্যাম্পার্ড। আর অধিনায়কই জিতিয়েছেন দলকে। ইংল্যান্ডের পক্ষে এটি তাঁর ২৩তম গোল। তাঁর কথা, ‘এই রাতটি আমি কখনোই ভুলব না। আমি হয়তো শেষবারের মতো ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করলাম। কিন্তু ওয়েম্বলিতে যা করেছি এরপর এটা নিয়ে আমার আর কোনো দুঃখ নেই।’
এই ম্যাচ দিয়েই আন্দোনি জুবিজারেতার স্পেনের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। কিন্তু রেকর্ড ছোঁয়ার রাতে ক্যাসিয়াসকে ছুঁল হতাশা, ‘খুবই খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি।’ কোচ দেল বস্কের কণ্ঠেও হতাশা, ‘আমি হতাশ এবং খারাপ লাগছে যে আমরা জিততে পারিনি। কিন্তু আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি খুশি।’

পাপাদেমোসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রিকের সমর্থন

গ্রিসের নতুন প্রধানমন্ত্রী লুকাস পাপাদেমোসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রিকদের সমর্থন রয়েছে। গতকাল রোববার দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত জনমত জরিপের ফলাফলে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রিসের ঐকমত্যের সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে পাপাদেমোসকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পাবলিক ইনস্টিটিউটের পরিচালিত একটি জনমত জরিপে এক হাজার ২০০ জন অংশ নেয়। এ জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ গ্রিক নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন দিয়েছে। ১৮ শতাংশ পাপাদেমোস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছে।
কাপা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালিত আরেকটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ গ্রিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাপাদেমোসের নিয়োগ সঠিক বলে মত দিয়েছে।

Friday, May 27, 2016

নীতি মানেননি হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ই-মেইল আদান-প্রদানে পররাষ্ট্র দফতরের নীতিমালা মানেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ই-মেইল আদান-প্রদান এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের অবহিত না করার মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র দফতরের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপিত পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিদর্শক স্টিভ লিনিকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। খবর এএফপির। প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এরই মধ্যে তা হাতে পাওয়ার দাবি করেছে।

ধানী ফসলের মাঠে লিচু চাষ

চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করার উপায় নেই যে, দক্ষিণ উপকূলের জেলা পিরোজপুরের এক ফসলি জমিতে আমন ধানের পরিবর্তে কৃষকরা এখন বিভিন্ন জাতের লিচুর আবাদ করে বিষ্ময় সৃষ্টি করেছেন। গাছে গাছে এখন শোভা পাচ্ছে সিঁধুরে ও বাহারি রঙের টসটসে লিচু। জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত তারাবুনিয়া গ্রামের লিচুর বাগান দেখতে এখন জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ, সংবাদকর্মী, উদ্যোক্তাসহ অসংখ্য লোকজন আসছেন এই লিচু বাগানে। ধান, পেয়ারা, আমড়া আর সুস্বাধু মাল্টা চাষে পিরোজপুরের রয়েছে ব্যাপক সুখ্যাতি। এর পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে লিচু উৎপাদনেও ব্যপক সফলতা পেয়েছেন জেলার লিচু চাষীরা। তবে এ সফলতা এক দিনে আসেনি, ধান চাষে কম মুনাফা হওয়ায় ২০০৭ সালে জেলার নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের অত্যন্ত কর্মক্ষম চাষী হংষপতি মিস্ত্রী ও হিমাংশু মিস্ত্রী দুই ভাই পরীক্ষামূলকভাবে নিজেদের পাঁচ একর জমিতে চায়না থ্রি ও মুজাফ্ফরপুরী নামের দুটি জাতের লিচুর চাষ শুরু করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এ বছর জেলার নাজিরপুরসহ পিরোজপুর সদর ও মঠবাড়িয়া উপজেলার দুই শতাধিক কৃষক চায়না থ্রি ও মুজাফ্ফরপুরী জাতের লিচুর আবাদ করেছেন। চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলনে হাসি আর আনন্দের জোয়ার বইছে চাষকৃত কৃষকের ঘরে ঘরে। এদিকে সম্পূর্ণ কীটনাষক ও বালাই মুক্ত লিচু ক্রয় করে বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন অত্র অঞ্চলের ক্রেতারাও। লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত এবং কৃষকদের উৎসাহে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পিরোজপুর ও নাজিরপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগও। সহযোগিতার পাশাপাশি তারা ঋণের ব্যবস্থাও করতে যাচ্ছেন। জেলা কৃষি বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ মো. আবুল হোসেন তালুকদার যুগান্তরকে জানান, অত্র অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু লিচু চাষের অনুকূলে হওয়ায় ভবিষ্যতে এ চাষের আরও ব্যাপক প্রসার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার ৩টি উপজেলার ৩৭ হেক্টর জমিতে এ বছর লিচুর ফলন হয়েছে প্রায় ২শ’ মেট্রিক টন। যার পাইকারী মূল্য বর্তমান বাজার দরে তিন কোটি টাকারও বেশি। সরকারের ঋণ সুবিধা পেলে লিচু চাষ পিরোজপুর অঞ্চলে একটি অন্যতম কৃষিজাত ফসল হিসেবে এলাকার চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যত্র বিক্রয় করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবে বলে ধারণা চাষীদের।

ম্যানইউতে সপ্তাহে দুই লাখ পাউন্ড বেতন চান ইব্রা

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপে তার রাজত্ব। বলা হচ্ছে, জ­াটান ইব্রাহিমোভিচের পরবর্তী গন্তব্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। যেখানে ইন্টার মিলানের পর ফের গুরু হোসে মরিনহোর সঙ্গে জুটি হবে তার। ম্যানইউতে পর্তুগিজ কোচ প্রথম সই করাবেন ইব্রাকে, এমনটিই জানিয়েছে ইংল্যান্ডের মিডিয়া। ইব্রাও ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাড়ি জমাতে মুখিয়ে আছেন। তবে বছরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো (১১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড) পারিশ্রমিক চান তিনি। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ৩৪ বছর বয়সী ইব্রাহিমোভিচকে পেতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেয়ার কথা ভাবছেন মরিনহো। যদিও কোচ মরিনহোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঘোষণা করেনি ম্যানইউ। ইন্টার মিলানে (২০০৮-০৯) গুরু-শিষ্য ছিলেন মরিনহো-ইব্রা।
২০১৫-১৬ মৌসুম শেষে চার বছরের পিএসজি অধ্যায়ের ইতি টানেন সুইডিশ অধিনায়ক। তিনি জানিয়েছেন, তার পরবর্তী গন্তব্য চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ইব্রাকে দলে ভেড়াতে আমেরিকার মেজর লীগ সকার (এমএলএস) ক্লাব এলএ গ্যালাক্সির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি ক্লাব নাকি লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে। ইব্রার সঙ্গে ইংলিশ জায়ান্টদের চুক্তি হবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার এজেন্ট মিনো রাইওলা নিশ্চিত করেছেন, ম্যানইউতে সপ্তাহে অন্তত দুই লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক চান ইব্রা। বর্তমানে ম্যানইউর সর্বোচ্চ উপার্জনকারী খেলোয়াড় হলেন ওয়েন রুনি। ইংলিশ অধিনায়কের সাপ্তাহিক বেতন তিন লাখ পাউন্ড। ধারণা করা হচ্ছে, ইব্রার ইচ্ছাপূরণ হবে। বিশেষ করে যেখানে তিনি ফ্রি ট্রান্সফারে (বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন) যোগ দেবেন। ওয়েবসাইট।

এবার কানাডায় অস্তিত্বের লড়াই

অনন্য মামুন পরিচালিত ‘অস্তিত্ব’ ছবিটি এবার দেশের বাইরে কানাডার পেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আরিফিন শুভ ও তিশা অভিনীত ছবিটি সেখানে হলিউডের ‘এক্স-মেন অ্যাপোক্যালিপস্’ ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে বলে জানা গেছে। কানাডায় বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি মুক্তি প্রসঙ্গে অনন্য মামুন বলেন, ‘এটা দেশের চলচ্চিত্রের জন্য গৌরবের বিষয়। আমরা চাই দেশের চলচ্চিত্র বিশ্ব অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ুক।’
অস্তিত্ব ছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো টিভি পর্দা থেকে বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। ছবিটি কানাডায় মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য দারুণ একটি আনন্দের খবর। সবসময় শোনা যায় আমাদের চলচ্চিত্র বাজার অন্যরা দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। এবার আমাদের ছবিও বিদেশের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে। আশা করি এ থেকে তরুণ নির্মাতারা উৎসাহ পাবেন।’

Thursday, May 26, 2016

চীনবিরোধী ‘চাপার জোর’ ঝাড়বেন নেতারা

জাপানে শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ (বৃহস্পতিবার)। দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মোটা অংশজুড়ে থাকবে চীনের বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বর। এশিয়া ও বিশ্বব্যবস্থায় বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তি রুখতে এদিন চীনবিরোধী ‘চাপার জোর’ ঝাড়বেন তারা। যুক্তি-স্বার্থের গুরুগম্ভীর বক্তব্যে চীনবিরোধী আঞ্চলিক বিষ আর তেতো করে তুলবেন বক্তারা। দ. চীন সাগরে ‘চীনা-আগ্রাসন’ই তাদের একমাত্র মাথাব্যথা। এ কারণেই দ. চীন জলসীমায় বেইজিংয়ের ‘উপদ্রব’ ঠেকাতে নতুন ‘সমুদ্রনীতি’ও ঘোষণা হতে পারে এদিন। ধনী দেশগুলোকে নিয়ে এই জোট প্রতিষ্ঠা হলেও এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনকে গ্র“পের বাইরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় পরাশক্তি রাশিয়াকে এই নিয়ে গ্র“প একসময় জি-৮ হিসেবে পরিচিত ছিল। রুশ ভ­াদিমির পুতিনের পশ্চিমাবিরোধী একরোখা ভাব ও ইউক্রেনের ক্রিমিয়া সংকটের জেরে রাশিয়াকে বহিষ্কার করে জোটকে জি-৭ রূপ দেয়া হয়েছে। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এরই মধ্যে জাপানে বিশ্ব নেতারা জড়ো হয়েছেন।
সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র–ডো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। এছাড়া ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাংকারও উপস্থিত থাকছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, শ্রীলংকা ও শাদ’র রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্মেলনের আউটরিচ মিটিংয়ে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। টোকিও’র ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা লি শিমায় যাবেন বিশ্বনেতারা। এ উপলক্ষে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৭০ হাজার পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন ট্রেন স্টেশন ও ফেরি টার্মিনালে কয়েক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দু’দিনের সম্মেলন চলাকালে সাধারণত শান্ত থাকা বিভিন্ন সড়কে সরাসরি যান চলাচল করবে। জাপানের রাজধানী ও সম্মেলন স্থলের আশপাশের এলাকাগুলোতে ট্রেন ও পাতাল ট্রেনের স্টেশনগুলোতে ময়লার ডাস্টবিন সরিয়ে নেয়া হয়েছে কিংবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসব এলাকায় মুদ্রা দিয়ে ব্যবহৃত লকারগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, থিয়েটার ও স্টেডিয়ামের মতো স্থানগুলোতে তীক্ষè দৃষ্টি রাখা হবে। স্বাগত দেশ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এক সম্পাদকীয় কলামে জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন, সন্ত্রাসবাদ ও বিশ্বস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া নিস্তেজ বৈশ্বিক অর্থনীতির বিষয় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে চীন। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হুশিয়ারি জানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। জাপান টাইমস জানিয়েছে, শিনজো আবের ফর্মুলায় তিনটি ‘সমুদ্রনীতি’ ঘোষণা করা হবে।
পূর্ব চীন সাগর নিয়ে জাপানের সঙ্গে ও দক্ষিণ চীন সাগর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে বেইজিংয়ের। এ অবস্থায় জাপানসহ চীনের প্রতিবেশী সব দেশকে উসকানি ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জি-৭ সম্মেলনে শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে পরোক্ষ হুশিয়ারি জানানোর উদ্দেশ্য রয়েছে। চীন এ বিষয় আঁচ করে কয়েকদিন আগেই বেইজিংয়ে জি-৭ দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাবধান করা হয়, সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ বা চীনের ‘একান্ত বিষয়’ নিয়ে যেন উচ্চবাচ্য করা না হয়। জাপানের টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক রবার্ট দুজারিক বলেন, মূলত চীনের অ্যাকশনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিকে তুলে ধরতে চায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় সফরে ‘প্রেমের ছুটি’ নিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী বিশ্বরাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ, বিনিয়োগ-বাণিজ্যের সমীকরণের মধ্যেও প্রেমময় জীবন কাটাতে সচেতন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (৪৪)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রীয় সফরে এখন তিনি জাপানে আছেন। এর মধ্যেই হাজির হয়েছে জাস্টিন ট্রুডো ও তার স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ট্র–ডোর ১১তম বিবাহবার্ষিকী। আর তাই এ দিনটি স্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কাটাতে ছুটি নিয়েছেন তিনি। বিবাহবার্ষিকী পালনে জাপানি ঐতিহ্যবাহী পান্থশালায় ৪১ বছর বয়সী স্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটাবেন তিনি। তবে এ উপলক্ষে সরকারি কোষাগারের কোনো অর্থ খরচ করবেন না ট্রুডো। জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ‘কর্মময় জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য এমন ছুটি নেয়া অত্যাবশ্যক। এই ছুটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করব।’ উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৮ মে সোফি গ্রেগরিকে বিয়ে করেন ট্রুডো।

ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ মেশানো কার্যকর হয়নি

সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেনি রিফাইনাররা। বুধবার এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রীর হুশিয়ারিসংক্রান্ত আলটিমেটাম শেষ হয়। তবে কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও রিফাইনার ও আমদানিকারকসংশ্লিষ্ট কেউই সরকারের এ হুশিয়ারিতে খুব একটা নড়েচড়ে বসেছেন- ক্রেতা-বিক্রেতা, পাইকার ও পরিবেশক কিংবা বাজার পর্যায়ের চিত্র সেটির প্রমাণ করে না। এখনও গুটিকয়েক ব্যবসায়ী এ প্রতিবিধানটি মান্য করতে গড়িমসি করছেন। তারা অধিক মুনাফার লোভে নিুমানের ভোজ্যতেল সরবরাহ করছে- যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোজ্যতেল উৎপাদক ও আমদানিকারকসংশ্লিষ্টদের অনেকেই এখন পর্যন্ত তাদের সরবরাহ করা সয়াবিনে ভিটামিন ‘এ’-এর সংমিশ্রণ ঘটাতে পারেননি। অজুহাত হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোজ্যতেলে যে ভিটামিন সংশ্রিণের প্রয়োজন হয় সেটি আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট চলছে। আবার যারাওবা পাচ্ছেন তারা পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতায় এই ভিটামিন সময়মতো দেশে আনতে পারছেন না। ফলে লাইসেন্সবিহীন রিফাইনাররা তাদের সরবরাহ করা তেলে ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োগ করতে পারছেন না।
অন্যদিকে লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ভিটামিন সংকটের অজুহাত তুলে দেশের ব্যান্ডনির্ভর অনেক কোম্পানিও সব সময় ‘এ’ প্রয়োগ করতে পারেন না। জানা গেছে, দেশে ছোট-বড় মিলে ভোজ্যতেলের ৬০টির অধিক রিফাইনার, উৎপাদক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ভোজ্যতেলে ‘এ’ ভিটামিন সংমিশ্রণের সক্ষমতার কথা বলে ১১ কোম্পানি বিএসটিআই থেকে লাইসেন্স নিয়েছে। বাকিরা এখনও অধরা থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রীর আলটিমেটাম শেষ হলেও ভোক্তার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিযুক্ত ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট থেকেই গেল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক মো. ইকরামুল হক যুগান্তরকে জানান, রিফাইনার কিংবা অন্যদের অবস্থান যা-ই থাকুক না কেন, প্রত্যেককেই ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যারা পারবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল হবে। পণ্য বাজারজাত বন্ধ থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১১টি কোম্পানি ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সংযুক্তকরণ লাইসেন্স পেয়েছে। আরও ৮টির আবেদন পাওয়া গেছে। কিন্তু লাইসেন্স দেয়ার ক্রাইটোরিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাকি চারটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

ফের শীর্ষে মোহামেডান

আগের দিন হারের শংকা নিয়ে থামতে হয়েছিল মোহামেডানকে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বৃষ্টিই মোহামেডানের হার পিছিয়ে দিল। একদিনের জন্য পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানেও নেমে গিয়েছিল তারা। নতুন দিনের আলোয় মুশফিকুর রহিমরা ফিরে পেলেন নিজেদের। প্রাইম ব্যাংককে ২২৫ রানের লক্ষ্য দিয়েও ৮২ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে মুশফিকের মোহামেডান। ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বরকে টপকে আবারও তারা উঠে গেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে ২২৪ রানে অলআউট হয় মোহামেডান। জবাবে এক উইকেট হারিয়ে ৬.২ ওভারে ৪২ রান তুলেছিল প্রাইম ব্যাংক। বৃষ্টি ওখানেই খেলা থামিয়ে দেয়। কাল রিজার্ভ ডে’তে প্রাইম ব্যাংক সেখান থেকেই শুরু করে। ওই এক উইকেট হারিয়েই ১১৩ রান তুলে ফেলে তারা। এরপরই চিত্রটা পাল্টে দেন পেসার শুভাশীষ রায় ও স্পিনার নাঈম ইসলাম জুনিয়র। মেহেদী মারুফ ও সাব্বির রহমান দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। পাঁচ রানের ব্যবধানে মেহেদী ৪৮ এবং সাব্বির ৪১ রান করে আউট হন। ১১৩/১ থেকে ১০ ওভারের ব্যবধানে হয়ে যায় ১৪২/১০!
২৯ রানের ব্যবধানে নয় উইকেট হারায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আট ব্যাটসম্যান দুই অংকের রান করতে পারেননি। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নূরুল হাসান সোহান আউট হন ৫ রান করে, শ্রীলংকান ব্যাটসম্যান শেহান জয়সুরিয়া আউট হন ৪ করে। বাকিদের অবস্থাও অভিন্ন। প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন মোহামেডানের দুই বোলার। মাত্র ৪.৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নাঈম ইসলাম জুনিয়র নিয়েছেন চার উইকেট। শুভাশীষ ১০ ওভারে ৪৯ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট। দুটি উইকেট নেন আরিফুল হক, একটি নাঈম ইসলাম। এ নিয়ে তিনবার ম্যাচসেরা হলেন নাঈম ইসলাম জুনিয়র। তবে আম্পায়াররা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আগের দিন ৪১ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পরও নাজমুল হোসেন মিলন ও হাবিবুর রহমানের হাফ সেঞ্চুরিতে ২২৪ রান করে মোহামেডান। তিনটি উইকেট নেন মোহাম্মদ আজিম। এ নিয়ে আট ম্যাচে সমান আটটি করে জয় ও হার প্রাইম ব্যাংকের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী ২৭৬/৬, ৫০ ওভারে (তামিম ইকবাল ৫৫, লিটন ৩৭, শান্ত ২২, রজত ভাটিয়া ৯০*, মোসাদ্দেক ৪৭। মেহেদী ২/৩২, ফারুক ১/১২)। গাজী গ্রুপ ২৪৪, ৪৮.১ ওভারে (শামসুর রহমান ১৩৬, অলক কাপালী ১৫, ফারুক ২৯, শরীফ ২৫। তাসকিন ৪/৩২, ভাটিয়া ২/৪৬)। ফল : আবাহনী ৩২ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তাসকিন আহমেদ (আবাহনী)।
মোহামেডান ২২৪, ৪৯.২ ওভারে (নাঈম ইসলাম ২৫, মিঠুন মানহাস ৩৫, মিলন ৬৪, হাবিবুর ৫০, নাঈম ইসলাম জুনিয়ার ১১, এনামুল জুনিয়র ১২। আজিম ৩/৪০, রুবেল ২/৪০, মনির ২/৩৩)। প্রাইম ব্যাংক ১৪২, ৩২.৪ ওভারে (মারুফ ৪৮, শানাজ ১৬, সাব্বির ৪১। শুভাশীষ ৩/৪৯, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ৪/২১, আরিফুল ২/২৭)। ফল : মোহামেডান ৮২ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাঈম ইসলাম জুনিয়র (মোহামেডান)।

লুলিয়াতেই ধরাশায়ী সালমান!

তারকাদের প্রতিটা মুহূর্তই যেন ভক্তমহলের কাছে বিশেষ খবর। সেটা যদি বলিউড তারকা সালমান খান হন তাহলে তো বলার অবকাশ রাখে না। বলিউডের অবিবাহিত তারকা-অভিনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ব্যাচেলর হচ্ছেন ‘দাবাং’ তারকা সালমান খান। কাজের চেয়ে তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভক্তমহলে আগ্রহ তুঙ্গে থাকে সবসময়। বয়সের কোটা ৫০ পেরুলেও মুম্বাই সিনেপাড়ার সুযোগ্য পাত্রের মুকুট যেন মাথায় ধারণ করে আছেন এখনও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সোমি, সঙ্গীতা, ঐশ্বরিয়া, ক্যাটরিনাদের মতো বহু নায়িকার সঙ্গে প্রেম করেছেন। এ জন্য অবশ্য ‘বিগহার্ট লাভারবয়’ তকমাও বসেছিল তার নামের পাশে। তবে, ঐশ্বরিয়া রাই ও ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের গভীরতাটা যেন একটু বেশিই ছিল। রাগ, অভিমান, বিচ্ছেদ- সবকিছু মিলিয়ে মিডিয়াতেও কম জল ঘোলা হয়নি।
কিন্তু কোনো সম্পর্কই বিয়ে অবধি পৌঁছায়নি। এমনকি বিয়ে নিয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতেই যেন নারাজ ছিলেন প্রভাবশালী এ তারকা। প্রতিবার বিয়ের বিষয় সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। সে কারণেই সালমানভক্তদের তার বিয়ে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। তবে এবার সালমানভক্তরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন। কারণ সম্প্রতি সালমান জানিয়েছেন, নতুন বছরে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন এ তারকা। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে বিগ স্টার এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে নিজের বিয়ের কথা ঘোষণা দেন সালমান। তবে কাকে বিয়ে করছেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বলেলও কর্মকাণ্ডের গুণে স্বাভাবিকভাবেই একজনের নাম উঠে আসে। তিনি হচ্ছেন, রোমানীয় টিভি তারকা ইউলিয়া লুলিয়া ভেঞ্চার। ২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ‘এক থা টাইগার’ ছবির শুটিংয়ে সালমানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল লুলিয়ার। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা হয় তাদের। গত নভেম্বরে ছোট বোন অর্পিতার বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন লুলিয়া। সেখানে তাকে গার্লফ্রেন্ড হিসেবে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সালমান। এরপর থেকে সালমান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে তার। পরবর্তী সময় এ রোমান মডেলের সঙ্গে সালমান খানের প্রেমের খবরটি যেন ক্রমেই ডালপালা ছড়াতে থাকে। কিছুদিন আগে লুলিয়া ও সালমান আংটিবদল করেছেন- এমন গুঞ্জন উঠেছে মিডিয়াপাড়ায়। তবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি দাবাং তারকা। সম্প্রতি নিজে নিজের বিয়ে নিয়ে আবারও মুখ খুললেন সাল্লু। তা ছিল খানিকটা বিরক্তের সুরেই। আইফা অ্যাওয়ার্ডের প্রেস কনফারেন্সে হাজির হয়ে তিনি বলেন, আমার যখন বিয়ে করা দরকার মনে হবে আমি তখন বিয়ে করব। সে খবর আগেই সংবাদ মাধ্যমে জানানোর কোনো কারণ নেই। ভক্তদের জন্য আমি নিজেই টুইটারে জানিয়ে দেব।
মূলত ভক্তদের উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বলিউডের একাধিক অভিনেত্রীর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করলেও সব গুঞ্জন সত্যি হলে এটি তার প্রথম বিয়ে। কিন্তু বলিউডের এ সুপারস্টারের সঙ্গে প্রেমে জড়ানোর আগে রোমানিয়ান সঙ্গীত পরিচালক মারিয়াস মোগার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল লুলিয়ার। সম্প্রতি সাবেক স্বামীর সঙ্গে তোলা কিছু স্থিরচিত্রও প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। লুলিয়া ও মারিয়াস দু’জনই রোমানিয়ান। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০০৭ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০১১ সালে চার বছরের সংসারের ইতি টানেন এ রোমান দম্পতি। ক্যাটরিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আবারও নতুন নারী এসেছে সালমানের জীবনে। তাই পূর্বের ঘটনার জেরে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় সম্পর্কের শেষ পরিণতি বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে তো? সালমানভক্তরা যেন এ প্রশ্নের উত্তরেরই অপেক্ষায়। যদিও সালমানের বাবা সেলিম খান বলেছেন, সালমানের বিয়ে ৪০ বছর আগেই হয়ে গেছে। কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায় সবার কাছে। মুলত ছেলের উপর বিরক্ত হয়েই তিনি এমনটি বলেছেন। কারণ গত ৪০ বছর ধরেই ছেলেকে বিয়ে করানোর জন্য পরিকল্পনা করে আসছেন তিনি। কিন্তু সবকিছুই বিফলে গেছে তার। তাই শেষতক লুলিয়াতে ধরাশায়ী সালমানের প্রেমের অস্তিত্ব বিয়েতে প্রকাশ হবে কী না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Wednesday, May 25, 2016

ফুটপাতের হোটেলে চেটেপুটে নিশিভোজ

দেখে পানীয় আর খাবারে মনোযোগী মনে হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা আসলে ‘জনগণমন’ কূটনীতিতে ব্যস্ত। একসময়
মার্কিন বোমার আঘাতে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ভিয়েতনাম।
এবার তাদেরকেই নিজেদের অস্ত্রে সজ্জিত করার প্রতিশ্রুতি
দিয়েছেন ওবামা। সে উপলক্ষ্যেই কিঞ্চিত জলপান! সোমবার
রাতে ভিয়েতনামের রাস্তার এই চিত্রটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে বিবিসি
হ্যানয়ের রাস্তায় বসে রাতের খাবার খেলের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তারপর চুমুক দিলেন স্থানীয় বিয়ারে। করলেন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। প্রোটকলের হাকডাক নেই। হুটহাট ঘটে গেল ঘটনাটা। বিখ্যাত ভিয়েতনামি পাঁচক অ্যান্থনি বোর্দাইন মঙ্গলবার এমন কিছু স্থিরচিত্র পোস্ট করেন নিজের টুইটার এবং ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। নতুন নতুন স্ট্রিটফুডের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন অ্যান্থনি। তার সঙ্গেই সোমবার রাতের বেলা ঘুরতে বেরোন ওবামা। দিনের আলোয় ভিয়েতনামের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে রাতেই চেখে দেখলেন সেখানকার আহারের স্বাদ। এ সময় ন্যুডলস, সবজি এবং শূকর ভাজা খান তিনি। তবে এ উপলক্ষে আলাদা কোনো আয়োজন ছিল না সেখানে। প্লাস্টিকের এক সাধারণ টুলে বসেই আহারপর্ব সারেন ওবামা। খাওয়া শেষে পরিশোধ করেন ৬ ডলারের বিল।
এ ব্যাপারে রেস্তোরাঁ মালিক থাই লিয়ের বলেন, ‘আমি জানতাম একজন অতিথি আসবেন। তবে তিনি যে ওবামা হবেন তা জানতাম না।’ ওবামার চপস্টিক ব্যবহারের কায়দাকানুন দেখে রীতিমতো মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এত নম্র এবং আলতোভাবে স্টিক ব্যবহার করে ওবামাকে খানা খেতে দেখে অবাক হয়েছেন তিনি। ওবামার এই সফরের মধ্যদিয়ে সম্প্রতি দীর্ঘদিনের শত্রু থেকে বাণিক বন্ধুতে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্র দুটি। দুষ্টলোকরা বলছে-৪ এমন পরিস্থিতিতে জনগণমন জয়ে ওবামাই শুধু ওবামার জুড়ি! তবে ডিনার শেষে চলে যাওয়ার সময় উৎসুক মানুষের সঙ্গে হাত মেলান ওবামা। ওবামার এই খাপছাড়া খামখেয়ালিপনা দূরদর্শী কূটনীতিরই একটা অংশ। আর সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আপাদত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শেষ। এবার শুরু বন্ধু বন্ধু মেলা। দক্ষিণ চীন সাগরে প্রভাব বিস্তারে ভিয়েতনামকে কতটা কাজে লাগাতে পারেন ওবামা- সেটাই এখন দেখার বিষয়। ওবামার এই ‘জনগণমন’ কূটনীতি কতটা সফল হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। তবে হ্যাঁ, স্ট্রিট ডিনারের ভিডিওটা সেপ্টেম্বরে সম্প্রচার করা হবে বলে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

দিনে দিনে হতাশা বাড়ছে হিলারির

ওবামার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ‘নির্ভরতার সমীক্ষা সূচক’ জরিপে শতকরা ৬৬ শতাংশ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিল সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন। এমনকি ২০১৫ সালের শুরুতেও তার প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন ৫০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু সম্প্রতি এই সুদর্শনার দিক থেকে সবাই যেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এখন ৫৭ শতাংশ মানুষ বলছেন হিলারির উপর আস্থা রাখা যায় না। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এবিসি নিউজের জরিপে এ তথ্য এসেছে বলে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এছাড়াও একই দিনের দ্য ইকোনমিক টাইমস জানাচ্ছে- দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিবিএস নিউজের জনমত জরিপেও ঠেঁসে গেছেন হিলারি। হিলারি তাদের মূল্যবোধ বোঝেন না বলে দাবি করেছে ৬০ শতাংশ মানুষ। ৬৪ শতাংশ বলছে হিলারি সততায় ঘাটতি আছে এবং তাকে বিশ্বাস করা যায় না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক ইমেজকে পুঁজি করে সহজেই হোয়াইট হাউসে যাওয়ার যে স্বপ্ন হিলারি দেখছিলেন সে আশার গুঁড়ে এখন শুধুই বালি।
রাজনীতির ময়দানের চিত্র এখন পুরোটাই আলাদা। তুমুল জনপ্রিয় হিলারির ইমেজটাই এখন নেমে গেছে ‘নেতিবাচক’ ইমেজধারী ট্রাম্পের কাতারে। সাম্প্রতিক সময়ের জনমত জরিপে খুব পাশাপাশি অবস্থান করছেন তারা। অজনপ্রিয়তায় দু’জনেই সমান ৫৭ শতাংশ এবং জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ এগিয়ে- এই হল হালে হিলারির অবস্থা। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকলেও ঝুঁকিমুক্ত নন : রিপাবলিকানদের অন্তর্দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মঞ্চে এখন অনেক শক্তিশালী হওয়ার কথা ছিল হিলারির অবস্থান। কিন্তু সেই অবস্থানে নেই তিনি। উল্টো তার অবস্থাও টালমাটাল। উদারপন্থী বলে পরিচিত আরেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্যান্ডার্সের তুমুল জনপ্রিয়তাই এর কারণ। জনমত জরিপে ট্রাম্পের তুলনায় ২ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছেন হিলারি। তবে হিলারির সমর্থকদের ৬০ শতাংশ ব্যক্তিই জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন না বলেই তারা হিলারিকে সমর্থন করছেন। সে হিসেবে ট্রাম্পের পক্ষে স্যান্ডার্সের সমর্থন আরও বেশি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে জিততে চাইলে স্যান্ডার্সের ভোটারদের উপর ভরসা করতে হবে হিলারিকে।
কিন্তু সে নিশ্চয়তা তিনি সহসাই পাচ্ছেন না। পাল্টাপাল্টি অক্রমণে ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখন জগাখিচুড়ি অবস্থা। ২০১২ সালের নির্বাচনপূর্ব জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনীর তুলনায় ১৫ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সে তুলনায় হিলারির অবস্থা খুব একটা সুবিধাজনক না। অতি গোপনীয় চরম পেশামুখিতা হিলারির পথের কাঁটা : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে জানাচ্ছে যে- দারুণ একটা শুরুর পরেও শেষপর্যন্ত কেঁচে গিয়েছে হিলারির জনপ্রিয়তা। এক্ষেত্রে তার কর্পোরেট ইমেজ এবং জনগণ মানুষের সঙ্গে সখ্যতা না থাকার বিষয়টিতেই তুলে ধরেছে তারা। এছাড়াও হিলারির নির্বাচনী প্রচারণার ভুল কৌশলও তাকে নেতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছে নাগরিক সমাজে। লোকজন বলছে, ‘হিলারির নির্বাচনী প্রমো দেখে তাকে কোনো মানুষ মনে হয় না। ভিনগ্রহের প্রাণী মনে হয়। চাকচিক্যে ভরপুর কিন্তু কোথাও নেই প্রাণবন্ততার ছোঁয়া।’ এছাড়াও ‘শুধুমাত্র’ সমাজের সফলশ্রেণীর সঙ্গেই হিলারি সখ্যতার বিষয়টিতেও কেউ আর ভালো চোখে দেখছে না। মানুষের অভিযোগ, অতিরিক্ত পেশাগততার আড়ালে হিলারির ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগততা খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়াও সাধারণ নাগরিক জীবনযাত্রার সঙ্গে তার চলাফেরা একেবারেই সামঞ্জস্যহীন এবং সবকিছুই গোপনতায় ঠাঁসা বলে জরিপে উঠে এসেছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস বলছে, ব্যয়বহুল নির্বাচনী প্রচারণাই তাকে জনমনে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ধরি মাছ না ছুঁই পানি এই হল হিলারির অবস্থা : হিলারির সামনে অবারিত সুুযোগ আছে কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন ব্যক্তিগত অবস্থানের অস্পষ্টতা। এখন পর্যন্ত তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি যে তিনি বামঘেঁষা রাষ্ট্রপতি হবেন নাকি উদারনীতির পথে হাঁটবেন। এক্ষেত্রে ডোনাল্ট ট্রাম্পের মতো একই সমস্যার সম্মুখীন তিনি। রিপাবলিকান মনোনয়নের ভোটে জিতে এলেও নিজ দলের নেতাদের আস্থা অর্জনে এখনো খাঁবি খাচ্ছেন ট্রাম্প। রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের রক্ষণশীলতা নিয়েও সন্দীহান। দলের আদর্শ রক্ষার্থে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে রীতিমতো নিজের দলেই চাপের মুখে আছেন ট্রাম্প। হিলারিকেও আদর্শিকভাবে কট্টরপন্থী বলে অভিহিত করে নিয়মিতই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন আরেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স। একই সঙ্গে কয়লা নীতির প্রসঙ্গে হিলারিকে পেটি বুর্জোয়া বলতেও তিনি ছাড়ছেন না। রাষ্ট্রীয় নীতির বিষয়ে অস্পষ্টতা : অভ্যন্তরীণ নীতিতে ক্লিনটনের বামঘেষা উদারনৈতিক আদর্শ এবং সমঝোতার রাজনীতে ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন এই সাবেক ফার্স্টলেডি। তিনি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে তবে বৃদ্ধির হার সীমিত, খুব বেশি বৃদ্ধির পক্ষেও না। তিনি সম্পদের উপর কর বাড়াতে চান তবে উদারপন্থীদের দাবির মতো অত্যাধিক হারে না। তিনি ব্যাপক পরিসরে নাগরিক কর্মকাণ্ডে সরকারি অংশগ্রহণের পক্ষে তবে শুধু সেবা হিসেবে নয় বরং অর্থের বিনিময়ে সেবা দেয়ার পক্ষে। পররাষ্ট্র বিষয়েও তিনি ওবামার মতো স্থিরচিত্ত নন। বহির্বিশ্বে অধিক হস্তক্ষেপের পক্ষে তিনি। বণিক প্রীতি নীতির গ্যাঁড়াকল : ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য হিলারি পছন্দনীয় ব্যক্তি হতে পারেন। কারণ তিনি আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এই কারণে নিজের দল এবং প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের দ্বারাও উপর্যুপরি আক্রমণের শিকার তিনি। দু’পক্ষই একজোট হয়ে হিলারিকে বলছেন-বণিক শ্রেণীর প্রতিনিধি।

সাকিব না মুস্তাফিজ আজ কার বিদায়

এবারের আইপিএলে বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে যে কোনো একজনের ‘ছুটি’ হয়ে যাবে আজ। দুই টাইগারের তৃতীয় দ্বৈরথে যিনি হারবেন, তারই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে আইপিএল থেকে। দিল্লিতে আজ বাঁচা-মরার এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি সাকিবের কলকাতা নাইটরাইডার্স ও মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজদের হারিয়েই শেষ চারের টিকিট কেটেছেন সাকিবরা। ওই হারে শীর্ষ দুইয়ে থেকে কোয়ালিফায়ার ওয়ানে খেলার সুযোগ হারিয়েছে হায়দরাবাদ। কোয়ালিফায়ার ওয়ানের সুবিধা হল, এ ম্যাচে জিতলেই সরাসরি ফাইনাল। আর হারলেও দ্বিতীয় সুযোগ থাকে।
কিন্তু এলমিনেটর ম্যাচে হারলেই বিদায়। আজ দিল্লিতে সাকিব ও মুস্তাফিজের লড়াইটা হবে নিজ নিজ দলের ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার। এলিমিনেটরের বিজয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। প্রতিপক্ষ কোয়ালিফায়ার ওয়ানের পরাজিত দল। সেই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের বিজয়ী দল যাবে ফাইনালে। টিকে থাকার লড়াইয়ে হায়দরাবাদের বড় ভরসা মুস্তাফিজই। ১৪ ম্যাচে ২২.২৫ গড়ে ১৬ উইকেট নিয়ে দলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসার। সেই তুলনায় কলকাতায় জার্সি গায়ে এবারে অনেকটাই ম্লান সাকিব। ১০ ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র ৫ উইকেট। ব্যাট হাতে ফিফটি মাত্র একটি। তবে কে জানে, সেরাটা হয়তো শেষের জন্যই তুলে রেখেছেন সাকিব!

ব্লকবাস্টারে আসছে হলিউডের আলোচিত দুই ছবি

ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের বিলাসবহুল সিনে থিয়েটার ব্লকবাস্টার সিনেমাসে মুক্তি পাচ্ছে হলিউডের আলোচিত দুই ছবি ‘টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টারটেলস : আউট অব দ্য শ্যাডো’ ও ‘নাও ইউ সি মি-২’। ৩ জুন মুক্তি পাবে ‘টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টারটেলস : আউট অব দ্য শ্যাডো’ ছবিটি। এ উপলক্ষে ২ জুন সন্ধ্যায় ব্লকবাস্টার সিনেমাসে ছবিটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ডেবিড গ্রীন। টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টারটেলস সিরিজের সর্বশেষ ছবি এটি। থ্রিডি, সাইন্সফিকশন, অ্যাকশন ও কমেডি ধাঁচের এ ছবিটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
এতে বিভিন্ন চরিত্রে অংশ নিয়েছেন মেগান ফক্স, স্টিফেন এমিল, উইল আরনেট, টেইলর পেরি ও ব্রিয়ান টি প্রমুখ। উল্লেখ্য, এ সিরিজের আগের সব ছবিই ব্লকবাস্টারে প্রদর্শিত হয়েছে ও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ ছবি ছাড়াও ১০ জুন আরেকটি আলোচিত ছবি ‘নাও ইউ সি মি টু’ মুক্তি পাবে ব্লকবাস্টারে। জন এম চো পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল রেডক্লিফ, মার্ক রোফালো, জেসি এইসেনবার্গ ও লেভি চ্যাপলেন। ম্যাজিকের ওপর বিস্ময়কর কার্যাবলী নিয়ে এ ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। মুক্তির ছবি দুটি ব্লকবাস্টার সিনেমাসে নিয়মিত প্রদর্শিত হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Tuesday, May 24, 2016

রাঙ্গুনিয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় আজ মঙ্গলবার ভোরে মোহাম্মদ মহসিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মহসিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি কৃষক। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খতিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজদ্দৌলা দুলালের অভিযোগ, নিহত মহসিন তাঁর কর্মী ছিলেন। নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সমর্থকেরা তাঁকে হত্যা করে। সিরাজদ্দৌলার আরও অভিযোগ, এক সপ্তাহ আগে প্রতিপক্ষ ইকবাল হোসেনের লোকজন নিহত মহসিনসহ তাঁকে আসামি করে চাঁদাবাজির একটি মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় এসেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ মহসিনের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। মহসিন কৃষিকাজ করতেন। ময়নাতদন্তের জন্য মহসিনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানি–রপ্তানি পণ্য

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম নগরের
খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে পানি ঢোকে।
এতে ভিজে যায় শুঁটকি, ছোলা, ডাল, মরিচ,
নারকেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। ভিজে যাওয়া
এসব পণ্য শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী করার
চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানার সময় শনিবার দুপুরে জোয়ারের পানি ঢুকে একটি বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার ভর্তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও কী পরিমাণ কনটেইনার ভর্তি পণ্য নষ্ট হয়েছে, তা এখনো হিসাব করতে পারেনি ডিপোটি। জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এক কিলোমিটার দূরে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো এছাক ব্রাদার্সে জোয়ারের পানি ঢোকে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কনটেইনার রাখার চত্বরের নিচের অংশে অনেকগুলো কনটেইনারে পানি ঢুকে কিছু পণ্য নষ্ট হয়। এর মধ্যে আছে তৈরি পোশাক ও ভোগ্যপণ্য। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, জোয়ারের পানিতে ওই ডিপোতে থাকা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ২২ কনটেইনার ভর্তি ছোলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কনটেইনারের প্রতিটির নিচের অংশে অন্তত ৮ থেকে ১০ টন করে ছোলা পানিতে ভিজে গেছে। ভোগ্যপণ্য ছাড়াও রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রপ্তানি পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়ার নিয়োজিত তিনটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, জোয়ারের পানির কারণে ডিপোতে থাকা রপ্তানি পণ্যের আনুমানিক ৪৭টি কনটেইনারে পানি ঢোকার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির জন্য ১০টি কনটেইনার রয়েছে ডিপোটিতে। এর মধ্যে দুটি কনটেইনারের নিচের স্তরে রাখা কার্টনের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে এছাক ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউনুছের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, পানিরোধক ব্যবস্থা থাকার কারণে কনটেইনারে পানি ঢোকার কথা নয়। এরপরও পানিরোধক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গুটি কয়েক কনটেইনারের নিচের স্তরে থাকা কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে। এদিকে জোয়ারের পানিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে অন্তত ২০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে চাল, ডাল, চিনি, গুঁড়া দুধ, পেঁয়াজ, সাবানসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন চাক্তাই শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, সোমবার বন্ধ থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা হয়নি। মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের কাছে ক্ষতির হিসাব নেওয়া হবে।

তিনি থাকবেন মহিরুহ হয়ে

বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম
গতকাল ২৩ মে সোমবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিলেন আমাদের প্রিয় আপা নূরজাহান বেগম (১৯২৫-২০১৬)। তিনি তো শুধু আপা নন, তিনি মাতৃসম বটবৃক্ষ হয়ে বিরাজ করছিলেন আমাদের সমাজে, সংস্কৃতিতে, সাংবাদিকতার জগতে, নারী আন্দোলনের দীর্ঘ যাত্রাপথে। তাঁর বিদায় শারীরিক-ইহজাগতিক হতে পারে; কিন্তু সমাজ-সংস্কৃতির ইতিবাচক প্রবহমান জগতে তিনি আছেন, থাকবেন মহিরুহ হয়ে। তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে ৪ জুন ২০১৫। সেদিন তাঁর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম নিজের এবং সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে (উপাচার্য ও শিক্ষার্থীসহ) তাঁকে সালাম ও অভিনন্দন জানাতে। তিনি মধ্যমণি হয়ে উপস্থিত সবাইকে কাছে ডেকে মাথায় বুলিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্নেহ-আশীর্বাদ। এরপর ফোনে বহুবার কথা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে, চলতি মাসের ৬ তারিখে তিনি টেলিফোনে অনুরোধ করেছিলেন বেগম-এর ঈদসংখ্যায় লেখা দেওয়ার জন্য। কথা দিয়েছি লেখা পাঠাব। ভেবেছিলাম, তাঁর হাতে নিজেই পৌঁছে দেব। সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেল। ১৯৬৪ সালে তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়ের শুরু থেকে আজ অবধি তাঁর সঙ্গে যেসব কথা হয়েছে, যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলো চিরসবুজ, চিরনবীন হয়ে আমার হৃদয়ে বিরাজ করছে। সেসব আমাকে চলার পথে এগিয়ে দিয়েছে, নতুন নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে ভরিয়ে দিয়েছে। আমি জানি, আমাদের দেশের নারী-পুরুষ বহুজনের মনে গুঞ্জরিত হচ্ছে একই ধরনের কথা, ভাবনা। প্রগতিবাদী মানুষের পথচলায় তিনি অন্য অনেক ধ্রুবতারার মধ্যে অন্যতম দিশারি। এই দিশারির শারীরিক অবক্ষয় হলেও তার কোনো প্রভাব প্রবহমান সমাজ প্রগতির ধারায় অবক্ষয় ঘটাবে না; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তাঁকে স্মরণ রাখবে, ইতিহাসের অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রবহমানতার সৃষ্টি হবে। বেগম (১৯৪৭)-এর প্রথম সম্পাদক সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)। সে সময় যুগ্ম সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে সম্পাদক (১৯৫০) হলেন নূরজাহান বেগম। বেগম-এর যাত্রা শুরু ও ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের (১৮৮৮-১৯৯৪) সযত্ন নির্দেশে-পরিচালনায় সাংবাদিকতায় নূরজাহান বেগমের পরিপক্বতা রূপায়িত হয়েছে। নূরজাহান আপা কখনোই বেগম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিসত্তা বলে ভাবেননি। বেগম তাঁর আত্মার আত্মীয়, তাঁর সন্তানতুল্য। মন উজাড় করে বলেছেন আমাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, ‘বেগম-এর কাজ করতে আমার খুব আনন্দ লাগত। আমি প্রথম দিকে দেখেছি কলকাতায় মেয়েদের কী অবস্থা (১৯৪৭-এ) এবং ঢাকায় এসে মেয়েদের কী অবস্থা, সেটাও দেখেছি। সবাই লেখা দিতে আসে। বলেছে লেখাটি একটু দেখে দিন। ঈদসংখ্যার লেখার সাথে নিজ ইচ্ছায় ছবি দেন সকলে।’ বেগম-এর লেখক-সাংবাদিক মেয়েরা তাঁর সান্নিধ্যে পেয়েছেন পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসা-যত্ন। গভীর নিষ্ঠায় তিনি বেগম সম্পাদনা করেছেন, লেখা সংগ্রহ করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা-আন্তরিকতায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের গ্রাম-মফস্বল-শহরের দূর-দূরান্ত অঞ্চলের অন্তঃপুরবাসিনীরা। তাঁরা-আমরা সবাই তাঁর মধ্যে পেয়েছি মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা। পেয়েছি বোনের সহমর্মিতা। বয়সভেদে কারও সঙ্গেই তাঁর দূরত্ব ঘটেনি। বিনয়ী, মমতাময়ী অথচ দায়িত্ব সচেতনতায় তাঁকে দৃঢ়-কঠোর হতেও দেখেছি। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন হাজার হাজার লেখিকা, কর্মী ও সাংবাদিক। তাঁরা সেই ১৯৫০-এর দশক থেকে অদ্যাবধি সাহিত্যিক হিসেবে, সাংবাদিক হিসেবে স্বনামখ্যাত হয়েছেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে।
অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা সমস্যার জন্য বেগম বর্তমানে ঈদসংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় নূরজাহান আপা তাঁর ঘনিষ্ঠ সুহৃদদের কাছে দুঃখ-কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে বলেছেন, এমনটা তিনি মানতে পারছেন না। তাঁর অশ্রুভারাক্রান্ত-বেদনাসিক্ত কণ্ঠ এখনো আমার কানে বাজছে। তিনি বলেছিলেন, ‘বেগম পারিবারিকভাবে বংশানুক্রমে চলছে, চলবে। এখন আমার দুই মেয়ে আছে, তাদের নাতি-নাতনি আছে। বেগম প্রকাশনার কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তাদের বসবাস। তাদের বাবাকে (প্রয়াত রোকনুজ্জামান খান) দেখেছে, তাদের নানাকে দেখেছে, মাকে দেখেছে এবং কীভাবে কী করে যোগাযোগ করি, কার সঙ্গে ফোন করি, দেখেছে। ওদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, ওরা দায়িত্বশীল। আমার বড় মেয়ে ফ্লোরা নাসরিন খান এখন ঈদসংখ্যা বের করছে। আমার এখন চোখও নেই, “ভয়েস”ও নেই। বলে দিই এটা এই, ওটা ওই। মেয়ে বলে, “আম্মা, ওটা ভালো লাগবে না, তুমি এটি দাও।” বলি, “তা-ই দাও।” এই করে চলে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, ওরা যদি অন্য কিছুর দিকে না তাকিয়ে শুধু নারীসমাজের উন্নয়নের দিকে তাকায়, তাহলেই বেগম চলবে।’ আমাদের ডাকতেন পরামর্শের জন্য। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত, বৃহত্তর বেগম-এর চলার পথে তাঁকে সহায়তা করার আহ্বানে আমরা কেউই তেমন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারিনি। নূরজাহান আপার কাছে জীবিতকালে বহুবার ক্ষমা চেয়েছি। এখন তাঁর আত্মার কাছেও ক্ষমা চাচ্ছি। নূরজাহান আপা নারীজাগরণ আন্দোলনের কাজে সমিতি-সংগঠন-বেগম ক্লাবের সাংগঠনিক কাজ করেছেন। পত্রিকা চালানোর স্বার্থেই শুধু নয়, নারীসমাজের প্রগতির বৃহত্তর স্বার্থেই তিনি এসব কাজ করেছেন। বেগম বা নিজের জীবন নিয়ে স্মৃতিকথা লেখেননি তিনি। বলতেন সাক্ষাৎকারে, বলতেন সভা-সেমিনারে। তাঁর জন্মদিনে ২০১৪ সালের ৪ জুন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, ‘মেয়েদের আর পেছনের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। পথ এখন প্রশস্ত। আপনারা এগিয়ে চলুন। পুরুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলুন।’ তাঁর কণ্ঠ এতটাই সজোর ও উচ্চ ছিল যে, মাইক ছাড়াও শুনতে-বুঝতে অসুবিধা হতো না। তাঁর কোনো ভাষণেই আত্মপ্রচার থাকেনি কখনো।
তবে বাবা অন্তঃপ্রাণ, তিনি বাবার আদর্শ-নীতি-নিষ্ঠার কথা বলেছেন প্রায়ই। তাঁর বাবা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রগতির পথে প্রগতিশীল লেখকদের সংগঠিত করতে যে প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন সওগাত পত্রিকার মাধ্যমে, সেই সংগ্রামের হাতেখড়ি দিয়ে মেয়ে নূরজাহানকে তিনি সাংবাদিকতার বা পত্রিকা সম্পাদনার কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন। সেসব নূরজাহান বেগম স্মৃতি থেকে অকপটে বলতেন কথোপকথনে ও সাক্ষাৎকারে। মা ফাতেমা খাতুনের কথা বলতে গিয়ে তিনি শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হতেন। মা ছিলেন নীরব সচেতন গৃহিণী। বাবার হাত ধরে মেয়ের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মায়ের অকুণ্ঠ প্রেরণার কথা বলেছেন শ্রদ্ধেয় নূরজাহান বেগম। তিনি প্রায়ই কবি সুফিয়া কামালের অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বের প্রভাবের কথা বলতেন। মৃদু হাসিতে অত্যন্ত সংকোচে তাঁর লেখাপড়ার জীবনের কথা বলেছেন আমার আগ্রহভরা জিজ্ঞাসায়। কলকাতায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রতিষ্ঠিত ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল’ থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪২), কলকাতায় ‘লেডী ব্রেবোর্ন কলেজ’ থেকে স্নাতক (১৯৪৬) পাস করে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন বাবার সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজে। স্কুল-কলেজের শিক্ষাকেন্দ্রে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ইত্যাদিতে অংশ নিয়েও সংগঠক হিসেবে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেসব শিক্ষা ও কর্মতৎপরতার দীক্ষা তাঁর পরবর্তী জীবনে পত্রিকা পরিচালনা, বেগম ক্লাব পরিচালনা ও নারী সমিতি পরিচালনায় সংগঠক ও নেত্রী হিসেবে ভূমিকা পালনে কৃতী হতে সহায়ক হয়েছে।
‘রোকেয়া পদক’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন তিনি ১৯৯৭ সালে। পেয়েছেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (২০০২) এবং অন্যান্য বহু সাহিত্য সম্মাননা ও স্বর্ণপদক। এসব তাঁকে যেমন সম্মানিত করেছে, তেমনি তাঁকে সম্মানিত করে দেশ ও জাতিও সম্মানিত হয়েছে নিঃসন্দেহে। তাঁর বাসায় ইদানীং যখনই গিয়েছি, দেখেছি তিনি বেলা ১১টার মধ্যে সকালের নাশতা শেষে পরিপাটি কাপড় পরে সুন্দর স্নিগ্ধ মুখে, প্রফুল্ল চিত্তে বেগম-এর লেখাগুলো নিয়ে কাজ করছেন। বেগম তাঁর আত্মাসম, বন্ধুসম ছিল। বেগম নিয়ে তাঁর অতীত স্মৃতি-মাধুর্যের কথা শুনতাম, বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুনতাম। তাঁকে আশ্বস্ত করতে পারিনি। এই না-পারার বেদনা আমাদের বহুজনের মনে মর্মপীড়াদায়ক হয়ে আছে, থাকবে। নূরজাহান আপার সার্থক দীর্ঘ জীবনের ইতিহাস আমাদের দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ। তাঁর কথা আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে নিয়ে যাব তাদের উদ্দীপিত করার জন্য। তাঁর সন্তানদের সঙ্গে আমরাও চিরতরে হারালাম আমাদের পরম শুভাকাঙ্ক্ষীকে। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দরকার নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে তাঁর কৃতিত্বকে ঐতিহাসিক করে তোলা।
আমরা সবাই মিলে সেই দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসতে সচেষ্ট হব।

সম্পদপূর্ণ নরক!

বিভিন্ন দেশ ঘুরতে ঘুরতে মরক্কোর পরিব্রাজক ইবনে বতুতা ঠিক ৬৭০ বছর আগে বাংলার মাটিতে এসেছিলেন। তাঁর সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সিলেটে হজরত শাহজালালের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকার। মহান সুফির অলৌকিক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা দেখে তিনি বিস্মিত হন, সে কথা তিনি তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সফরনামায় লিখে গেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর ‘ইবনে বত্বূত্বা এবং তাঁহার বাঙ্গালা ভ্রমণ’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন: ‘ইবনে বত্বূত্বা ইসলামের উন্নতির যুগের শেষ সময়ের একজন ভ্রমণকারী।’ তিনি মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, কেরালার কালিকট ভ্রমণ করে আবার মালদ্বীপ যান। ড. শহীদুল্লাহর ভাষায়: ‘সেখান হইতে জাহাজে রওয়ানা হইবার ৪৩ দিন পরে বাঙ্গালা দেশের সপ্তগ্রাম বন্দরে উপস্থিত হইলেন। তৎপরে নদীপথে কামরূপ গিয়া শঙ্খ জলালুদ্দীন তবরিজীর সহিত সাক্ষাৎ করেন। সেখান হইতে সোনারগাঁয় উপস্থিত হন। খ্রীঃ  ১৩৪৬-৪৭ (খ্রিষ্টীয়) অব্দে ইবনে বত্বূত্বা বাঙ্গালায় আসিয়াছিলেন।’ বতুতার সফরনামার ১৩ অধ্যায়ে ‘বঙ্গালহ’ (বঙ্গদেশ) শীর্ষক একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। তার শুরু এ রকম: ‘বঙ্গালহ এক বহু বিস্তৃত দেশ। চাউল প্রচুর পরিমাণে জন্মে। এত সস্তা আমি আর কোনো দেশে দেখি নাই। কিন্তু এই দেশ ভালো নয়, অন্ধকারময়। এই জন্য খোরাসানের থেকে ইহাকে “দোযখ্‌ পুর্‌ নি’য়ামত” (সম্পদপূর্ণ নরক) বলে। সেখানে এক রূপার দীনারে ২৫ রতল [৩৫০ কেজির সমান] চাউল পাওয়া যায়। ... ৩০ গজ লম্বা তুলার কাপড়ের দাম ২ দীনার এবং সুন্দরী বাঁদীর দাম ১ সোনার দীনার (যাহা পশ্চিম দেশের ২ দীনারের সমান)।
আমি এই মূল্যে “আশুরহ” নামে একটি বাঁদী কিনিয়াছিলাম। সে খুব সুন্দরী ছিল। আমার একজন সঙ্গী লুলু নামে একটি অল্প বয়সের গোলাম ২ দীনারে খরিদ করিয়াছিল।’ [অনুবাদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। মূল আরবি থেকে তরজমা]। সেকালের বাংলার দাসী-বাঁদীরা একালের ছুটা বুয়াদের মতো ছিল না যে বাসন-পেয়ালা মেজে ঘরদোর ঝাড়ু দিয়ে দুপুর-দুপুরই বাড়ি চলে যাবে। তাদের মনিবের কাছে থাকতে হতো চব্বিশ ঘণ্টা। ইবনে বতুতার বাঁদী আশুরহ যে ‘খুব সুন্দরী ছিল’ সে কথা তাঁর পাঠককে না জানিয়ে তাঁর মন ভরেনি। এবং বাঁদীটি যে ১৫-১৬ বছর বয়সী ছিল তা আমরা অবশ্যই ধরে নিতে পারি। তাকে বতুতার সব রকম প্রয়োজন পূরণ করতে হতো, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। শুধু দু-তিনখানা রুটি সেঁকে একটু হাঁস-মুরগি বা কবুতরের মাংস রান্না করে দিয়েই সে তার দায়িত্ব শেষ করত না। তবে একটি জিনিস লক্ষণীয়, তাঁর খুব সুন্দরী বাঁদীটির দাম ছিল এক দিনার, আর তাঁর সঙ্গীর পুরুষ গোলামটির দাম ছিল দুই দিনার! ঠিক এখন যেমন ইটভাটায় হোক বা নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে হোক বা কল-কারখানায় হোক একই কাজে নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে কম। যা হোক, বতুতা যা লিখেছেন তা এখন লিখলে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার করা হতো। এবং রিমান্ড রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ১৫ দিন চাইলে অন্তত ৮ দিন মঞ্জুর হতো। তিনি পৌনে সাত শ বছর আগে বলেছেন ‘এই দেশ ভালো নয়, অন্ধকারময়’। আমি তাঁর পক্ষের উকিল হলে বলতাম, তিনি এই দেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ‘ভালো নয়’ বলেননি, তিনি দেশের মানুষের কথা বলেছেন। দেশ একটি জড়বস্তু, তার ভালো-মন্দ কী! দেশের সুনাম-দুর্নাম সবই নির্ভর করে দেশটির মানুষের আচার-আচরণ-আখলাকের ওপর। বতুতা চালাক কিছু কম ছিলেন না। যা বলার তা নিজে বলেননি, খোরাসানের লোকের মুখে বসিয়ে দিয়েছেন। খোরাসান পারস্যের একটি প্রদেশ, সেখানকার কোন লোক নাকি কবে বলেছে, বাংলাদেশটা ‘দোজখ্‌ পুর নি’য়ামত’ বা সম্পদপূর্ণ নরক। সেই সাত-আট শ বছর আগে খোরাসানিদের কেউ যদি তা বলে থাকে, তার সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ কতটা? বাঙালির কী কী আচরণ দেখে মরক্কোর বতুতা বা ইরানের খোরাসানি অমন নিন্দাসূচক বা দেশদ্রোহমূলক মন্তব্য করেছিলেন, তা আমাদের পক্ষে এখন বলা সম্ভব নয়।
তবে এখন যদি তাঁরা আসতেন সফরে, তাহলে দিন তিনেক থেকেই বলতেন, ‘বঙ্গালহ্‌ দেশটা হলো জুলুমপুর নিয়ামত’ অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হলো সম্পদপূর্ণ নির্যাতনের দেশ। অথবা সরকারি লোকদের পরিভাষায় বলতেন নিম্নমধ্যম আয়ের ‘লানৎপুর নিয়ামত’—অপমান-লাঞ্ছনা-গঞ্জনার দেশ। এখানে সত্য, ন্যায় ও মূল্যবোধের পারসেনটেজ কী, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই; সরকারি নেতা, কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবেত্তারা ক্যালকুলেটর নিয়ে গুনতে থাকেন জিডিপির পারসেনটেজ। অপরাধী বা অন্যায়কারীর শাস্তি দেওয়ার বিচিত্র প্রথা মানুষ নিজেই উদ্ভাবন করেছে, বিধাতা শিখিয়ে দেননি। কান ধরে ওঠবসের প্রথাটা পৃথিবীর সব জাতির মধ্য থেকে উঠে গেলেও বাংলাদেশে শুধু বাঙালিদের মধ্যেই তা রয়ে গেছে। একজন মানুষ তার পেশা ও সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, তাকে শত শত মানুষের সামনে কান ধরে ওঠবসে বাধ্য করা আদিম বর্বরতাকেই শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়। আমি প্রধান শিক্ষকের শাস্তির ঘটনাটিকে দেখছি অন্যভাবে। আমি শুধু দণ্ডদাতা স্বনিয়োজিত বিচারককেই ধিক্কার দেব না, যাঁরা দৃশ্যটি উপভোগ করেছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, তাঁরাও সমান অপরাধী। একজন মানুষও কি সেদিন সেখানে ছিল না যে মৃদু প্রতিবাদ করে বলতে পারত, আপনি থামুন, এভাবে তাকে শাস্তি দেবেন না? সে কথা বলার পর তিনি যদি অপমানিত হতেন, সেই অপমান হতো খুবই গৌরবের। মনুষ্যত্ব রক্ষায় যদি কাউকে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়, তাতে লজ্জার কিছু নেই, বরং তা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। মানুষকে অপমান করার প্রতিভা বাঙালির সীমাহীন। মারামারি করার শক্তি বিধাতা বাঙালির শরীরে দিয়েছেন অপরিমেয়। শৈশব থেকেই সে অন্যকে আঘাত করার কৌশলগুলো রপ্ত করে। বঙ্গসন্তানেরা ছোটবেলায় খেলার সাথিকে দেয় খামচি। বেশি রেগে গেলে দাঁত দিয়ে কামড়ায়। প্রতিটি অঙ্গ সে ব্যবহার করে মারামারিতে। হাতের প্রয়োগই প্রবল। কিল-ঘুষি-থাপ্পড়। তর্জনী ঢুকিয়ে সে মনের আনন্দে চোখ উপড়ায়। অন্য জাতির চেয়ে পায়ের প্রয়োগ বাঙালিই বেশি করে থাকে। মানুষকে লাথি মেরে তার এতই আনন্দ, যা ফুটবল খেলোয়াড় বলে লাথি দিলেও পায় কি না সন্দেহ। তা ছাড়া, লাঠিসোঁটা থেকে শুরু করে ছুরি-বন্দুক-পিস্তল তো আছেই। যাকে অপমান করা হলো তার পেশা-পদবি, বংশপরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় কি তার চেয়ে বড় কথা সে মানুষ। আমি প্রতিদিন গোটা পনেরো পত্রিকা কমবেশি পাঠ করি। এমন দিন নেই, যেদিন হত্যা-ধর্ষণের বাইরে মানুষকে অপমান করার সংবাদ না থাকে। অপমানিত ও লাঞ্ছিতের পেশাগত পরিচয় বিচিত্র। যেমন, গত কিছুকালের মধ্যে প্রবলের হাতে এবং পায়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের কেউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষক, মাদ্রাসার মোদাররেস, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গণমাধ্যমের কর্মী, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা প্রভৃতি নানা পেশার শুধু নন, নানা ধর্মের মানুষ। তাঁদের কেউ চড়-থাপ্পড়, কেউ লাথি, কেউ-বা লাঠিসোঁটার মার খেয়েছেন অসংখ্য মানুষের সামনে। অন্যকে অপমান করতে বাঙালির মুখ থেকে এমন মধু নিসৃত হয়, যা শুনলে শয়তান পর্যন্ত কানে আঙুল দিয়ে দৌড়ে পালায়। নারী অপহরণ এবং নারীর ওপর যৌনপীড়ন হাজার বছর আগেও যে বাঙালি সমাজে ছিল, তার সাক্ষ্য চর্যাপদ ও বৌদ্ধ দোঁহাতে পাওয়া যায়। যুবতী বউকে একা ঘরে রেখে সেকালেও কৃষক মাঠে যেতে চাইত না বা জেলে মাছ ধরতে নদীতে যেত না, পাছে ফিরে এসে দেখে বউ নেই। আজ এক কিশোরী স্কুলে যাবে নির্বিঘ্নে, সে উপায় নেই। তার যাত্রাপথের আশপাশে সানগ্লাস পরে কেউ কাত হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁধ ঝাঁকায়, শিস দেয়, অথবা অশ্লীল বাক্যবাণ নিক্ষেপ করে। কখনো পিছে পিছে আসে ভীতিকর যান মোটরসাইকেল। কখনো ধঁা করে টান মেরে ওড়নাটা খুলে নিয়ে যায় কোনো ক্যাডারের শিষ্য। কেউ তার প্রতিবাদ করলে তার অপমান ও লাঞ্ছনার শেষ নেই। অপমানও ভালো, প্রতিবাদ করে প্রাণ দিতে হচ্ছে অনেককে। গত চার মাসে সে রকম প্রাণ দিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। সব সংবাদ পত্রপত্রিকায় আসে না। যে মানুষ অপমানিত হয়, সে কে? এবং যে মানুষ অপমান করে সে-ইবা কে? যে অপমানিত হয় অবধারিতভাবে সে দুর্বল। শারীরিকভাবে হোক বা সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে হোক। যে বা যারা অপমান করে, সে বা তারা প্রবল। কবি ভাবের আবেগে বলেছেন বটে, ‘দুর্বলেরে রক্ষা করো দুর্জনেরে হানো’, কিন্তু বাংলাদেশে চিরকাল দুর্জন রক্ষা পেয়েছে এবং দুর্বলকে হানা হয়েছে আঘাত। শারীরিক আঘাত হোক বা অপমানের মানসিক আঘাত হোক। লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দণ্ডদাতার অঙ্গুলিহেলনে ওঠবসের সময় আমজনতার বাইরে সেখানে আর কারা ছিল? তিনি বললেন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছিলেন। তখন নিজেকে প্রশ্ন করি: তাঁদের বিবেক কোথায় ছিল? টিভির ফুটেজ দেখে তাঁদের ডেকে সরকারের জিজ্ঞেস করা উচিত, তাঁরা নিজেদের মানুষ মনে করেন কি না?
খোরাসানির কথা বাদই দিলাম, ইবনে বতুতা বলেছেন, দেশটা ভালো নয়, অন্ধকারময়। আমরা তা মানতে বাধ্য নই। ৭০০ বছর আগে বঙ্গীয় সমাজ অন্ধকারময় থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গত ৫০০ বছরে অসংখ্য বাঙালি মনীষী আলো জ্বেলেছেন। তাঁরা সমাজের সব জায়গার অন্ধকার দূর করতে পারেননি। তা যদি পারতেন তাহলে প্রতিদিন যা ঘটছে তা ঘটত না। বাংলাদেশে ধান-পাট, তেল-গ্যাস-কয়লাসহ বহু সম্পদ রয়েছে। আমরা একে ‘সম্পদপূর্ণ নরক’ বলব না। বেহেশতের মতো দেশও আমরা চাই না। আমরা চাই সুসভ্য বসবাসযোগ্য এক বাংলাদেশ।

ক্ষমা চাইতে হলো ফেসবুককে

মডেল টেস হলিডের বিকিনির ছবি মুছে দেওয়ায় ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক
শরীরের গঠন মোটাসোটা হলেই কি সে ছবি মুছে দেবে ফেসবুক? সম্প্রতি এক মার্কিন নারী মডেলের এ ধরনের ছবি সরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এক নারীবাদী গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। শেষ পর্যন্ত ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ভারী শারীরিক গঠনের ওই মার্কিন মডেলের নাম টেস হলিডে। তাঁর বিকিনি পরা ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন মুছে দিয়েছিল ফেসবুক। একটি বিশেষ প্রচারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নারীবাদী গোষ্ঠী ‘সারচেজ লা ফেম’ ওই ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন ফেসবুকে পোস্ট করেছিল। কিন্তু ওই ছবি ফেসবুকের নীতিমালার সঙ্গে যায় না বলে ফেসবুক তা সরিয়ে দেয়। ছবি মুছে দেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে ফেসবুক বলছে, ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো স্বাস্থ্য-বিষয়ক বিজ্ঞাপনে নিখুঁত হিসেবে বর্ণনা করা বা অত্যন্ত আপত্তিকর নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক ওজনের ছবি প্রচার করা যাবে না। এ ছাড়া এ ধরনের ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দিলে দর্শকেরা তাদের নিজের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পেতে পারে। এ ধরনের ছবির পরিবর্তে কেউ দৌড়াচ্ছে বা সাইকেল চালাচ্ছে—এ ধরনের ছবি অধিক গ্রহণযোগ্য। তবে নারীবাদী গোষ্ঠীটির সমালোচনা ও আবেদনের পর ওই ছবিটি সরানো ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছে এবং এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে বলেও অনুমতি দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ এই ক্ষমা চাওয়ায় খুশি নয় ওই নারীবাদীরা। তারা ফেসবুকের নীতিমালায় পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে। তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল।