Sunday, August 30, 2009

বন্দরে ভেড়ার অপেক্ষায় গাড়িভর্তি জাহাজ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই দিন ধরে ভাসছে গাড়িভর্তি একটি বিশেষায়িত জাহাজ। বন্দরের গাড়ি রাখার শেডে ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি থাকায় ‘ওশান ব্লু’ নামের এই জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর অনুমতি দিচ্ছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন জাহাজ ব্যবসায়ীরা।
বন্দর ও জাহাজ কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বন্দরের চারটি জেটিতে গাড়ি রাখার ক্ষমতা এক হাজার ২০০ ইউনিট বাড়িয়ে চার হাজার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পাওয়া হিসাবে দেখা যায়, বন্দরের চারটি শেডে গাড়ি ছিল চার হাজার ৩৫৮ ইউনিট। এ কারণে গাড়িভর্তি জাহাজটি কখন জেটিতে ভেড়ানোর অনুমতি পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি। বাড়তি প্রতিদিনের জন্য জাহাজটির ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১০ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ধারণক্ষমতার বেশি গাড়ি থাকায় জাহাজটি ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ির সংখ্যা কমে গেলে অনুমতি দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, শুক্রবার সাধারণত গাড়ি খালাস হয় না, শনিবারও খালাস খুব কম হয়।
জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি এভারেট বাংলাদেশ লাইন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাপান থেকে ৫৭৪ ইউনিট গাড়ি নিয়ে জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। নিয়মানুযায়ী এর দুই দিন আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জেটিতে ভেড়ার অনুমতি চাওয়া হয়, কিন্তু গাড়িজটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, আমদানি করা গাড়ি কোন বন্দরে খালাস হবে, তা ঋণপত্র খোলার সময় উল্লেখ থাকে। এসব গাড়ি বহনকারী ক্যারিয়ারের প্রতিনিধিদের কিছু করার থাকে না। তাই বন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষায় জাহাজটি দ্রুত জেটিতে ভেড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ মংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাসের অনুরোধ জানায় জাহাজ ব্যবসায়ীদের। কয়েক মাস আগে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়। কিন্তু আমদানিকারকেরা যেখানে গাড়ি খালাস করবেন, সেখানেই খালাস করতে বাধ্য বলে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানান।
এ বিষয়ে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বলেন, মংলা বন্দরের অবকাঠামোগত সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তখন ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মংলায় গাড়ি খালাস করতে পারেন। কিন্তু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা কেন এ বন্দর ছেড়ে মংলায় গাড়ি খালাস করতে যাবেন? কোনো সুনির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে বাধ্য করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্মেলন বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল ও আদিবাসীদের স্বীকৃতি দাবি

১৯৭২ সালে রচিত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান পুনর্বহাল, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র দিন ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের জাতীয় সম্মেলনে (কাউন্সিল) এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান এক জাতি, এক প্রাণ’। বক্তারা বলেন, পরিষদ একটি অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। সংগঠনের মূল দাবি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। তাঁরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি করেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিচারপতি গোলাম রাব্বানী কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার কাউন্সিলর এতে যোগ দেন। এরপর বিশিষ্টজনেরা সংখ্যালঘুদের সমস্যা, নির্যাতন এবং এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে। একটি দল পরে সেটিকে নষ্ট করে ফেলেছে। এ কারণেই দেশে আজ জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশে ১০ লাখ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রয়েছে। তাদের পবিত্র ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা উচিত।
বিচারপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘অবিকৃতভাবে বাহাত্তরের সংবিধানের পুনর্বহাল চাই। বাহাত্তরের সংবিধান বিকৃত করার কারণেই দেশ আজ জঙ্গিবাদের হুমকিতে পড়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে সি আর দত্ত বলেন, যে রাজনৈতিক দলই এসেছে, তারাই সংখ্যালঘুদের নিয়ে খেলা করেছে। এই খেলা বন্ধ করতে হবে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীম চন্দ্র ভৌমিক, অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ, শিরিল সিকদার, সাধনা হালদার, বীরেন সিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে জিজ্ঞাসাবাদ

জজ মিয়ার সাজানো জবানবন্দি নেওয়া ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের তখনকার ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তিনি বর্তমানে ভূমি সংস্কার বোর্ডের উপসচিব। গত বৃহস্পতিবার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রওনাকুল হক চৌধুরী এ জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জজ মিয়াসহ তিনজনের সাজানো জবানবন্দি আদায় করেছিলেন তত্কালীন তদন্ত কর্মকর্তারা। এই জবানবন্দি নেওয়া তত্কালীন আরেক ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আনোয়ারের বক্তব্য কাল রোববার নেওয়া হবে বলে সিআইডির সূত্র জানায়।
পুলিশ জজ মিয়াসহ তিনজনের কাছ থেকে সাজানো জবানবন্দি আদায় করে গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার ঘটনায় সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরে মামলা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি রওনাকুল হক চৌধুরী বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেন। জাহাঙ্গীর আলম ঢাকার মহানগর হাকিম থাকাকালে ২০০৫ সালের ২৬ জুন জজ মিয়ার কথিত ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ নিয়েছিলেন।
এএসপি রওনাকুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে তিনি জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নিয়েছেন। তিনি ওই সময় কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে জজ মিয়ার জবানবন্দি নিয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি বিধিমোতাবেক নির্ধারিত ফরমে জজ মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। জজ মিয়াকে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি। জজ মিয়া যা যা বলেছেন, তিনি তা-ই লিপিবদ্ধ করেছেন। তত্কালীন মুখ্য মহানগর হাকিম তাঁকে জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জজ মিয়ার জবানবন্দি নেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ ও মুন্সী আতিকের সঙ্গে একত্রে বসে বিরিয়ানি খেয়েছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, কোনো আসামির বক্তব্য নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে বা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একত্রে বসে খাওয়ার সুযোগ, সময় বা রীতি কোনোটাই নেই। ম্যাজিস্ট্রেটের খাসকামরার বাইরে তাঁরা কিছু খেয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।
জাহাঙ্গীর আলম ২০০৫ সালের ১৬ নভেম্বর আবুল হাসেম রানা নামের আরেক নিরীহ যুবকের জবানবন্দি নেন। রানাও জজ মিয়ার অনুরূপ বক্তব্য দেন। এর পরদিন তত্কালীন আরেক মহানগর হাকিম শফিক আনোয়ার নেন শফিক নামের আরেক যুবকের জবানবন্দি।
শফিক আনোয়ার এখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে আছেন। তাঁর বক্তব্য আগামী রোববার নেওয়া হবে বলে এএসপি রওনাকুল হক চৌধুরী জানান।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২১ আগস্ট মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে তত্কালীন তদন্ত কর্মকর্তারা নির্যাতনের মাধ্যমে তিন নিরীহ যুবকের কাছ থেকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায় করেছেন। গত বছরের ১১ জুন মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর জজ মিয়াসহ এই তিন নিরীহ যুবক অব্যাহতি পান।

ফরিদপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা মামলার আসামি নিহত

ফরিদপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সঞ্জিত কুমার বিশ্বাস (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রি বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জিত পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ফরিদপুর র্যাব-৮-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিস্ত্রি বাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ অবস্থান করছে বলে র্যাব খবর পায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে র্যাব ও পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এরপর সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাব ও পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। ২৫-৩০ মিনিট ধরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভোরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী লাশটি সন্ত্রাসী সঞ্জিত বিশ্বাসের বলে শনাক্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার, একটি দেশি শটগান ও শটগানের চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় র্যাব-৮-এর সহকারী উপপরিচালক আলমগীর হোসেন গতকাল কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, সঞ্জিত জেলার শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় চারটি হত্যাসহ পাঁচটি এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
নিহত সঞ্জিতের বড় ভাই আশুতোষ বিশ্বাসের দাবি, সঞ্জিত গেরদা ইউনিয়ন যুবলীগের এক নম্বর ওয়ার্ডের (মুন্সিবাজার) সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে র্যাব সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। তাঁরা তাঁকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জানান, সঞ্জিত বর্তমান কমিটিতে নন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কমিটিতে ছিলেন। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কাদির খানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ

পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন সে দেশের আদালত। গতকাল শুক্রবার লাহোর হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। এই আদেশের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার ফিরে পেলেন পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী এই বিজ্ঞানী। বিদেশি শক্তির কাছে পরমাণু বোমা বানানোর তথ্য পাচারের অভিযোগে কয়েক বছর ধরে গৃহবন্দী রয়েছেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ওপর থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ দেন ইসলামাবাদের হাইকোর্ট। খবর বিবিসি ও টেলিগ্রাফের।
গতকাল লাহোর হাইকোর্টের বিচারক বিচারপতি এজাজ আহমেদ রায়ে বলেন, ‘ড. খান যেকোনো জায়গায় যাতায়াত করতে পারবেন। তাঁর চলাফেরা ও দেখা-সাক্ষাতে কেউ কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবেন না।’

পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসন থাকবে নারীদের জন্য

গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নের পথে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ভারতে। সারা দেশে পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন বিল অনুমোদন করা হয়।
ভারতে প্রায় দুই লাখ ৫২ হাজার পঞ্চায়েতে প্রায় ৩০ লাখ আসন রয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে নারীদের জন্য প্রায় ১৪ লাখ পঞ্চায়েত আসন সংরক্ষণ করা হবে। আসন সংরক্ষণের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন ও লোকসভার নারী সাংসদেরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভারতের মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল অনুমোদন করে। এ বিলে পঞ্চায়েতের এক-তৃতীয়াংশ থেকে ধাপে ধাপে শতকরা ৫০ ভাগ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার বিধান রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আম্বিকা সোনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সব সরাসরি নির্বাচনে এ আইন বলবত্ থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ আইন পাস হলে ভারতে রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। পঞ্চায়েতে আরও বেশিসংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়ে এলে তাঁরা যেকোনো রাজ্যে জনগণের কল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।’
তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে এখনই উচ্ছ্বসিত হতে পারছেন না অনেকে। কারণ ১৯৯৬ সালে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় শতকরা ৩৩ ভাগ আসন সরাসরি নির্বাচনের জন্য সংরক্ষণের আইন পাস হলেও এখন পর্যন্ত তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার এরই মধ্যে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। গত মে মাসে আইনটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবার রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে ভারতের বিভিন্ন নারী সংগঠন এ আইন পাসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের সভানেত্রী গিরিজা ব্যাস বলেন, ‘সরকার নারীর ক্ষমতায়নের এ উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যুতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদ মীনাক্ষি নটরাজন বলেন, ‘কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী কংগ্রেস সংসদীয় দলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, আজকের আমি তারই ফসল।’
ভারতের জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন গিরিজা ব্যাসের মতে, ‘নারীরা বাড়ি থেকে শুরু করে সর্বত্র, এমনকি লোকসভায়ও বৈষম্যের শিকার হন। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের সমান অংশগ্রহণ জরুরি।’
নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে কংগ্রেস সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির সাংসদ দর্শনা বিক্রম জারদোশ বলেন, ‘এ উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। ১৯৯৬ সালে প্রস্তাবিত লোকসভা ও রাজ্যসভায় নারীদের জন্য শতকরা ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। কেন্দ্র তাদের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচিতে এ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা তা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।’
তবে নারীর ক্ষমতায়নের এই চমত্কার উদ্যোগের বাইরে থাকছে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসামের উপজাতি-অধ্যুষিত পঞ্চায়েতগুলো। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা এবং মণিপুরের পার্বত্যাঞ্চলের পঞ্চায়েতগুলোও এর বাইরে থাকছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারকে উত্খাত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: কাস্ত্রো

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বামপন্থী সরকারকে উত্খাতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। কলম্বিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে দেশটি দক্ষিণ আমেরিকায় শক্তি পুঞ্জীভূত করতে চাইছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার কিউবার সরকারি ওয়েবসাইট কিউবাডিবেট ডট সিইউতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কাস্ত্রো এ অভিযোগ করেন।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনলেন ফিদেল কাস্ত্রো। ওয়াশিংটন ও বোগোটার মধ্যকার একটি সামরিক চুক্তি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক ওই সম্মেলনে ছায়া ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী কলম্বিয়ায় সাতটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকার থাকবে।
কাস্ত্রো তাঁর নিবন্ধে বলেন, ওয়াশিংটনের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সেনা পাঠানোর সামর্থ্য অর্জন।
ওয়াশিংটন বলে আসছে, চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে কলম্বিয়ার মাদক ও বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই।
কাস্ত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো শ্যাভেজের শুরু করা বৈপ্লবিক প্রক্রিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া এবং ভেনেজুয়েলার তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

অক্সফামের সতর্কবার্তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফাম আশঙ্কা করছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নেপালের দরিদ্র গ্রামীণ জনগোষ্ঠী খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারাপ ফলন, পানি ঘাটতি ও তাপমাত্রার তারতম্য দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী নেপালের কয়েক লাখ দরিদ্র মানুষকে চাপে ফেলবে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সম্মেলনের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। হিমালয় পর্বতমালার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি বিষয়ে ওই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্প্রতি গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক শীতকাল পার করেছে নেপালিরা। তার ওপর মৌসুমি বৃষ্টিপাতও শুরু হয়েছে দেরিতে এবং বৃষ্টিপাত নিয়মিতভাবে হচ্ছে না। এতে করে ভূমি ক্ষয়ের আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের শুষ্ক মৌসুমের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে সেখানে।
এদিকে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষ পানিসংকটে রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের চাষাবাদে এবং ফলন কমছে। ভূগর্ভস্থ উত্স থেকে পানিপ্রাপ্তি কমে যাওয়ায় ডায়রিয়ার মতো রোগের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। কারণ খাবার পানির উেসর জন্য মানুষ পুকুর, খাল, ঝরনা বা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আর এসব পানি অস্বাস্থ্যকর।
অক্সফামের কর্মী প্রবীণ মান সিং বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জীবনযাপন করতে তাদের এখনই যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের বেঁচে থাকার এই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এসব সংকট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ জানিয়েছে। নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ভাট্টেগাওয়ের নাইনা শাহি (৩৫) বলেন, ‘আমাদের কৃষির ফলন কমে গেছে। আমাদের জীবন ধারণের জন্য এখন আমরা আর কৃষির ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারছি না।’ গ্রামের বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উত্সটির ধারা শুকিয়ে এসেছে। গ্রামবাসী পানির সংকটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য নেপালকে সহায়তা করতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ পুলিশ নিহত

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের আদিবাসী অধ্যুষিত খাইবার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় পুলিশের ২২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে চালকবিহীন একটি মার্কিন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন তালেবান জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনার এক ঘণ্টা পর এই বোমা হামলা চালানো হয়। তালেবান জঙ্গিরা এই হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তারিক হায়াত জানান, আফগান সীমান্তঘেঁষা ওই এলাকায় পুলিশের সদস্যরা যখন ইফতার করার জন্য জড়ো হন, তখনই এই হামলা চালানো হয়।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেহান গুল খাতাক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ বোমাবাজদের দলনেতাকে দেখতে পায়।
নাইম আফ্রিদি নামে স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
‘জিহাদি’দের সহায়তা করতে জাওয়াহিরির আহ্বান
পাকিস্তানের আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকার ‘জিহাদি’দের সহায়তা করতে সে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি। তিনি বলেন, জিহাদিরা আমেরিকান ‘ক্রুসেডার’দের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইন্টারনেটে প্রকাশিত জাওয়াহিরির একটি ভিডিও টেপের বরাত দিয়ে এসআইটিই নামের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। এসআইটিই ইন্টারনেটে জিহাদি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে থাকে।
‘পাথ অব ডুম’ নামের ওই ভিডিও টেপে জাওয়াহিরি বলেন, ‘আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা ও সোয়াত এলাকায় যে লড়াই চলছে, তা মার্কিন ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্রুসেডাররা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে হামলা করছে। যারা মার্কিন ও পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করছে, তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদেরই সহায়তা করছে।’ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলাকারীদের পরাস্ত করতেই এ কৌশল নিয়েছে তারা।
এসআইটিই জানায়, সাড়ে ২২ মিনিটের এ ভিডিওটি প্রস্তুত করেছে আল-কায়েদার গণমাধ্যম শাখা আস-সাহাব। ইংরেজি সাব-টাইটেলযুক্ত ভিডিওটিতে দেখা যায়, আগের মতোই জাওয়াহিরি একটি বইয়ের শেলফের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন।

বায়ার্নে রোবেন

ওয়েসলি স্নাইডারের পর আরেক ডাচ ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন। আরিয়েন রোবেনের গন্তব্য বায়ার্ন মিউনিখ। ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে চার বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছে জার্মানির ক্লাবটি। দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে ট্রান্সফার ফির অঙ্কটা গোপন রাখা হয়েছে। অবশ্য শোনা যাচ্ছে, অঙ্কটা আড়াই কোটি ইউরো। ওদিকে রিয়াল আবারও নতুন করে বায়ার্নের ফ্রাঙ্ক রিবেরিকে কেনার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে।

৩৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

ফলোঅন থেকে ৫৭ রান দূরে থাকা নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় দিনে প্রথম লক্ষ্য ছিল ফলোঅন এড়ানো। সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য বাঁধা যেন ব্যর্থতার চক্রেই। ফলোঅন এড়ানোর পর আর মাত্র ১৭ রান যোগ করতেই শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার পাওয়া ১৮২ রানের বিশাল লিডটা দিন শেষে হয়েছে ৩৩৯, হাতে এখনো ৮ উইকেট। শেষ বিকেলে নিউজিল্যান্ডের স্বস্তি হয়ে আসা বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও উইকেটে থিতু হওয়ার পর বোলারকে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন ওপেনার তিলকরত্নে দিলশান। সর্বশেষ তিন ইনিংসে মাত্র ২৪ রান করা পারানাভিতানা বড় ইনিংসের আশায় খেলছিলেন দেখেশুনে। ১১৯ মিনিটে তাঁর ৩৪ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটি শেষ হয়েছে আম্পায়ার ড্যারিল হার্পারের ভুল সিদ্ধান্তে। এর পর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেছেনে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। নিউজিল্যান্ডের সামনে অনতিক্রম্য একটা লক্ষ্য দেওয়ার পাশাপাশি সিরিজে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দিকেও আজ দৃষ্টি থাকবে ৬৪ রানে অপরাজিত সাঙ্গাকারার।
দিনের প্রথম সেশনে নিউজিল্যান্ড ফলোঅন বাঁচিয়েছে জ্যাকব ওরাম ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরির ২৪ ও ২৩ রানের দুটি ইনিংসে। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ম্যাককালাম ও টেলর আট বলের ব্যবধানে আউট হওয়ার পর অষ্টম উইকেটে ৪৩ রান যোগ করেন ওরাম-ভেট্টোরি। মুরালিধরনের বলে ম্যাককালামের ক্যাচটি নিয়ে ইতিহাসের অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১৫০ ক্যাচ পূর্ণ করেছেন জয়াবর্ধনে। কাল শ্রীলঙ্কার পেসাররা বলই হাতে নেননি, ৫টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। পাকিস্তান সিরিজে ১৫ উইকেট নেওয়ার পরও গল টেস্টে বাদ পড়া রঙ্গনা হেরাথ ৭০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সফলতম বোলার। ৩ উইকেট নিয়েছেন মুরালিধরনও, তবে রান দিয়েছেন একটি বেশি। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছয় উইকেট পাওয়ার পর সর্বশেষ ৮ ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া হয়নি স্পিন-জাদুকরের।

মাঠে নেমেই খেলোয়াড় চিনবেন ওয়াসিম

কোচ মাঠে নেমে তাঁর খেলোয়াড়দের নাম জেনে নেবেন! এ ছাড়া উপায় আর দেখছেন না খন্দকার ওয়াসিম ইকবাল। ব্রাদার্স কর্মকর্তারা এবার তাঁর হাতে ‘অচেনা’ একটা দলই যে তুলে দিচ্ছেন।
সাবেক তারকার কোনো খেদ নেই এতে, ‘এখন অনেকেরই নাম জানি না। তবে অনুশীলন (আসলে ট্রায়াল) শুরু করেছি, সবাইকে দেখে নিশ্চয়ই নাম জেনে যাব। বেশির ভাগ খেলোয়াড় অপরিচিত হলেও এটাকে বড় কোনো সমস্যা মনে করি না।’
এ কথা শুনে পাশে বসা ব্রাদার্স ম্যানেজার আমের খানের মুখে হাসি, ‘এমন দল আমরা এবার গড়েছি, ওয়াসিম ভাইয়ের কী করার আছে। কোনো রকমে একটা দল দাঁড় করালাম। তবে এখন বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে না চিনলেও আস্তে আস্তে ঠিকই চিনবেন তিনি। গতবারও খেলোয়াড়দের চিনতেন না ওয়াসিম ভাই, এবারও চেনেন না। এ জন্য আসলে খারাপই লাগছে।’
ব্রাদার্সের অনুরোধে গত বছরই প্রথম কোচিং শুরু করেন ওয়াসিম। অনেক দিন ফুটবলের খোঁজখবর সেভাবে রাখতেন না। কিন্তু এবার তিনি তাঁর দলের খেলোয়াড়দের চিনবেন না, তা কী করে হয়! হয়তো হয় না, তবে বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর, সেটা মেনেই ওয়াসিম বলছেন, ‘নিজেকে শুধু ব্রাদার্সের কোচ মনে করি না, ব্রাদার্সের ঘরেরই একজন আমি। বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আমি হাঁড়ির খবর জানি। সে জন্য নতুন দল গড়ার ব্যাপারে আমার কোনো চাওয়া ছিল না।’
ব্রাদার্সের অবস্থা এবার এতই করুণ যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর চেয়ে দুর্বল দল আর হয়নি। গত বি-লিগের কয়েকজন খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে, তবে অনেকেই নিজ নিজ দলে ছিলেন অনিয়মিত। সঙ্গে প্রথম বিভাগ, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণদের যোগ করে ট্রায়ালের মাধ্যমে আরও কয়েকজনকে বাছাই করা হচ্ছে!
অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনে ক্লাবের কর্তৃত্ব দখল হওয়ায় এই পরিণতি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, ‘দখল নয়, সমস্যাটা অনেক দিনের। ব্রাদার্সে সক্রিয় কোনো কমিটিই নেই তিন-চার বছর ধরে। ভালো দল করা যায়নি এসব কারণে। একজন সভাপতিই আমরা ঠিক করতে পারছি না অনেক চেষ্টা করে। দল হবে কী করে।’
গতবারের মাসুদ রানা ও লিটন খান ছাড়া আর কেউ নেই ব্রাদার্সের নতুন দলে। থেকে যাওয়া দুজনও সেরা একাদশের খেলোয়াড় ছিলেন না। এতেই বোঝা যায়, ব্রাদার্স এবার কতটা ভাঙা হাট। কর্মকর্তা সৈয়দ মাসুম আলীর প্রার্থনা তো এমনই হবে—‘দোয়া করবেন, আমরা যেন টিকে থাকতে পারি!’
ব্রাদার্সের পছন্দের তালিকায় আছেন: গোলে জাহাঙ্গীর (শেখ রাসেল), ইরান (রহমতগঞ্জ), রঘু (ইয়ংম্যান্স), করিম (অনূধ্ব-১৯)। রক্ষণে ইউসুফ (রাসেল), লিটন পাল (খুলনা আবাহনী), রিপন খান (ঢাকা মোহামেডান), মামুন (ফরাশগঞ্জ), পারভেজ (অগ্রণী ব্যাংক), অপু (মুক্তিযোদ্ধা) ও মাসুদ রানা। মাঝমাঠে নয়ন (আরামবাগ), তানভীর (রাসেল), ফয়সাল (ফরাশগঞ্জ), এমেকা (খুলনা আবাহনী), সাইফুল (মুক্তিযোদ্ধা), সবুজ (বিকেএসপি), লিটন খান। আক্রমণে বুলবুল (রাসেল), তরু (ঢাকা আবাহনী), মিলন (মুক্তিযোদ্ধা), দিদার (ইয়ংমেন্স)।

এখন আমার সময়: বোল্ট

ইচ্ছাপূরণ দেবীর দেখা উসাইন বোল্ট তো পেয়েছেন আগেই। যা চাইছেন, অনায়াসে এসে ধরা দিচ্ছে তাঁর হাতের মুঠোয়। এ মাসেই ১০০ আর ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড নতুন করে লেখানো বোল্ট বলছেন, সময়টাই এখন তাঁর, ‘আসাফা (পাওয়েল) আর টাইসনের (গে) সময় এসেছিল। আমি নিশ্চিত জানি, এখন সময়টা আমার। আমি সেটা উপভোগ করতে চাই।’
সময়টা নিশ্চয়ই তিনি উপভোগ করেছেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্প্রিন্টে তিন ইভেন্টের তিনটিতেই সোনা জিতে গতকালই আবার দৌড়েছেন জুরিখের গোল্ডেন লিগ মিটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বোল্টের দৌড়ের ফলাফল জানা যায়নি। তবে ২৩ বছর বয়সী জ্যামাইকান ‘বজ্রবিদ্যুতের’ না জেতাটাই হবে বিস্ময়।
সময়টা এতটাই ভালো কাটছে, বোল্ট এখন লং জাম্প নিয়েও ভাবছেন। কিছুদিন আগে বোল্টকে এই নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন খোদ লং জাম্পের বিশ্ব রেকর্ডধারী মাইক পাওয়েল! শুধু তাই নয়, পাওয়েলের দৃঢ়বিশ্বাস, ১৮ বছর আগে গড়া তাঁর বিশ্ব রেকর্ড (৮.৯৫ মিটার) ভেঙে প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে বোল্ট পেরিয়ে যাবেন ৯ মিটারের সীমানা।
পাওয়েলের কথা মনে ধরেছে বোল্টের, ‘আমি অবশ্যই লং জাম্পে একটা চেষ্টা করে দেখতে চাই। আমার ধারণা, লং জাম্পার হিসেবেও আমি ভালো করব। স্কুলে থাকতেই শখের বসে আমি লং জাম্পে অংশ নিতাম। আমি অবশ্যই একটা চেষ্টা করব।’
তবে এখনই এটি নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি, ‘মারা যাওয়ার আগে অন্তত একবার চেষ্টা করে দেখব। তবে ১০০ আর ২০০ মিটারে জেতা কঠিন হলেই কেবল তা করব।’
শুধু বোল্ট নন, গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সফল তাঁর দেশও। সাতটি সোনাসহ মোট ১৪ পদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই পদক তালিকায় ছিল জ্যামাইকা। বোল্ট জানালেন, ক্যারিবীয় দেশটি বরাবরই ভালো ভালো দৌড়বিদ জন্ম দিয়েছে। পার্থক্য হলো, আগে অনেকেই বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেখানকার মাত্রাতিরিক্ত অনুশীলনের কারণে ইনজুরিতে পড়ে অকালেই ঝরে যেতেন। আর এখন তাঁরা নিজ দেশেই অনুশীলন করেন। ‘এখন যারা ভালো করছে তাদের প্রায় সবাই জ্যামাইকাতেই থাকে। তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারে, কখন তারা দৌড়াবে আর কখন এই ক্লান্তিকর কাজের নিচে নিজের শরীরটাকে ঠেলে দেবে না’—সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বোল্ট।

সত্যিই নতুন ইসিনবায়েভা

একের পর এক জয়ই তাহলে ইয়েলেনা ইসিনবায়েভার পরাজয়ের কারণ? এই রুশ পোল্ট ভোল্ট তারকার নিজের ধারণা এমনটাই। প্রতিযোগিতায় নামলেই সহজ জয়, আত্মবিশ্বাসটা তাই এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে তাঁকে কেউ হারাতে পারে এটা ভাবতেই পারেননি, ভুলে গিয়েছিলেন হার বলেও কিছু আছে। আর এর মাশুলই বার্লিনে দিয়েছেন পোল ভোল্টের বিশ্ব রেকর্ডধারী, ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। আমি ভেবেছিলাম আরেকটি সোনা জয়, হয়তো বা রেকর্ড গড়াও খুব বেশি সমস্যা হবে না। ভেবেছিলাম ৪.৮০-ই জয়ের জন্য যথেষ্ট। যখন ট্র্যাকে নামলাম মনে হলো আমি যেন ঠিক এখানে নেই। আমি আসলে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং খুব বেশি নির্ভার ছিলাম। সবই ছিল ভুল।’
২৭ বছর বয়সী তারকা জানালেন বার্লিনের হারে ভীষণ মর্মাহত তাঁর কোচও, ‘‘সে মনে খুবই কষ্ট পেয়েছিল। আমাকে বলেছিল, ‘তোমার সমস্যা কী? টেকনিক, রানআপ সবই ঠিক আছে, কিন্তু মনে হচ্ছিল তোমার দেহটা ট্র্যাকে থাকলেও মনটা যেন অন্য কোথাও।’ সে খুবই হতাশ হয়েছে।”
তবে ধাক্কাটা ভালোই খেয়েছেন ইসিনবায়েভা। স্বপ্নরাজ্যে থাকা দুবারের অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাস্তবের জমিন খুঁজে পেয়েছেন এই হারে, ‘বার্লিনের আগে জয়টা বিশেষ কিছু ছিল না। সবাই জানত আমিই জিতব, আমারও তেমন কিছু মনে হতো না। এ ঘটনা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, আপনি যে-ই হোন না কেন, ট্র্যাকে প্রতিবারই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। অবসরের আগ পর্যন্ত এটা আমার মাথায় থাকবে।’ সব মিলিয়ে এই পরাজয়টা তাঁকে এক নতুন জীবনদর্শনও দিয়েছে, ‘এটা আমার মনোজগতকে পাল্টে দিয়েছে। আমি আমার খেলাটাকে এখন আরও মূল্য দিই। ভবিষ্যত্ সাফল্যের জন্যই এই হার প্রয়োজনীয় ছিল।’
হতোদ্যম না হয়ে তাই সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে চান তিনি, ‘হয়তো আগে ফ্যান, ফেডারেশন, কোচের কাছ থেকে অনেক চাপ ছিল। কিন্তু এটা এখন শূন্য। আমাকে শুরু থেকে আবার শুরু করতে হবে এবং নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কোচের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমরা সামনের দিকেই তাকাচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে।’
শিক্ষাটা কতটুকু কাজে লেগেছে এটা অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে যাওয়ার কথা। গতকাল রাতেই জুরিখে গোল্ডেন লিগে জ্যাকপটের লড়াইয়ে নামার কথা তাঁর।

কাকা-ইতো-ইব্রার অন্য রকম চ্যাম্পিয়নস লিগ

নিয়তি একেই বলে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্রটা এমন হলো যে, কদিন আগে ছেড়ে আসা ক্লাবের মুখোমুখি করে দিল কাকা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও স্যামুয়েল ইতোকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে একই গ্রুপে পড়েছে কাকার সাবেক আর বর্তমান দুই ক্লাব এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদ। ইব্রাহিমোভিচ আর ইতোর ব্যাপারটা আরও মজার। সুইডিশ স্ট্রাইকার ইব্রাহিমোভিচকে পেতে টাকার সঙ্গে ইতোকেও ইন্টার মিলানকে উপহার দিতে হয়েছে বার্সেলোনার। দুই মাস যেতে না যেতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল এই দুই তারকাকে। পরস্পর খেলবেন নিজেদের ছেড়ে আসা ক্লাবের বিপক্ষে।
যে ক্লাবের হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা হাতে নিয়েছেন, সেই ক্লাবকে খুন করতে গোল করতে হবে এবার। ইতোর জন্য বিষয়টি কষ্টেরই। ইব্রাহিমোভিচকেও একই অনুভূতি গ্রাস করার কথা। তবে তাঁদের পুরোনো ক্লাব হয়তো সেভাবে ভাবছে না। এই যেমন ইতোকে আবার ন্যু ক্যাম্পে দেখতে পাবেন বলেই খুশি বার্সেলোনা সহসভাপতি রাফায়েল ইয়ুস্তে। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাবেক ক্লাব হলেও ইতো স্মৃতিকাতর না হয়ে তাঁর সেরা খেলাটাই খেলবেন, রেডিও মার্কায় ইতোর সাক্ষাত্কার শুনে ইয়ুস্তেরও তা-ই বিশ্বাস, ‘ইতো গ্রেট খেলোয়াড়। প্রতিপক্ষ কে সেটা না ভেবে সব সময়ই ও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত থাকে।’
ইতোকে ন্যু ক্যাম্পে অবশ্য এখনই দেখতে পাচ্ছে না বার্সা। ১৫ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচ দিবসে ইন্টার-বার্সা মুখোমুখি হচ্ছে ঠিক, তবে সেটা ইন্টারের মাঠ সান সিরোতে। ইন্টারের ইব্রাহিমোভিচ-দর্শন অবশ্য হয়ে যাবে এদিন।
সাবেক ক্লাব এসি মিলানের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কাকা। ১৫ সেপ্টেম্বর রিয়াল-এসি মিলান দুদলই মাঠে নামবে। কিন্তু রিয়াল সুইজারল্যান্ড যাবে এফসি জুরিখের সঙ্গে খেলতে। আর এসি মিলান যাবে মার্শেইয়ের মাঠে।
সফর নিয়ে একটু চিন্তায়ই আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন। সিএসকেএ মস্কো, বেসিকতাস আর ভলফ্সবুর্গ পড়েছে ম্যানইউর গ্রুপে। ভলফ্সবুর্গের বিপক্ষে জার্মানিতে খেলা নিয়ে অত ভাবেন না ফার্গুসন। তবে রাশিয়া আর তুরস্কে খেলাটাকে কঠিন বলেই মানেন ম্যানইউ কোচ, ‘গ্রুপটা কঠিন হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও তুরস্কে গিয়ে খেলাটা কঠিনই হবে।’ এই দুটি কঠিন (!) অ্যাওয়ে ম্যাচের একটি দিয়েই শুরু হবে তিনবারের ইউরোপ-সেরাদের মিশন। তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ তাদের।
প্রতিপক্ষের শক্তির বিচার করলে চেলসির গ্রুপটা খুব একটা সহজ নয়। দুবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন পোর্তো আর গত মৌসুমে স্প্যানিশ লিগে দারুণ খেলা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আছে তাদের গ্রুপে। তবে চেনা প্রতিপক্ষ পোর্তোকে পেয়ে খুশিই ২০০৮-এর ফাইনালিস্ট চেলসির প্রধান নির্বাহী পিটার কেনিয়ন। যেকোনো বিবেচনাতেই আর্সেনাল সহজতর গ্রুপ পেয়েছে বলতে হবে। নেদারল্যান্ডসের এ জেড আলকমার, গ্রিসের অলিম্পিয়াকোস আর বেলজিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড ডি লিগেকে টপকে যাওয়া কঠিন হওয়ার কথা নয়। এএফপি।
চ্যাম্পিয়নস লিগ
‘এ’ গ্রুপ: বায়ার্ন মিউনিখ (জার্মানি), জুভেন্টাস (ইতালি), বোর্দো (ফ্রান্স), ম্যাকাবি হাইফা (ইসরায়েল)।
‘বি’ গ্রুপ: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ইংল্যান্ড), সিএসকেএ মস্কো (রাশিয়া), বেসিকতাস (তুরস্ক), ভলফ্সবুর্গ (জার্মানি)।
‘সি’ গ্রুপ: এসি মিলান (ইতালি), রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন), মার্শেই (ফ্রান্স), এফসি জুরিখ (সুইজারল্যান্ড)।
‘ডি’ গ্রুপ: চেলসি (ইংল্যান্ড), পোর্তো (পর্তুগাল), অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (স্পেন), অ্যাপোয়েল এফসি (সাইপ্রাস)।
‘ই’ গ্রুপ: লিভারপুল (ইংল্যান্ড), অলিম্পিক লিওঁ (ফ্রান্স), ফিওরেন্টিনা (ইতালি), দেব্রেসেনি ভিএসসি (হাঙ্গেরি)।
‘এফ’ গ্রুপ: বার্সেলোনা (স্পেন), ইন্টার মিলান (ইতালি), ডায়নামো কিয়েভ (ইউক্রেন), রুবিন কাজান (রাশিয়া)।
‘জি’ গ্রুপ: সেভিয়া (স্পেন), রেঞ্জার্স (স্কটল্যান্ড), ভিএফভি স্টুটগার্ট (জার্মানি), ইউনিরিয়া উর্জিসেনি (রোমানিয়া)।
‘এইচ’ গ্রুপ: আর্সেনাল (ইংল্যান্ড), এ জেড আলকমার (নেদারল্যান্ডস), অলিম্পিয়াকোস (গ্রিস), স্ট্যান্ডার্ড ডি লিগে (বেলজিয়াম)।