Showing posts with label সুভাষ সাহা. Show all posts
Showing posts with label সুভাষ সাহা. Show all posts

Saturday, February 21, 2015

বিশ্বের অবস্থা কি ভালো? by জনাথন পাওয়ার

২০১৫ সালের প্রারম্ভে প্যারিসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা অনেক বেশি বিষণ্ন হয়েছি। কারণ, এমনিতেই খারাপ সংবাদ শুনতে শুনতে আমাদের মগজ ধোলাই হয়ে আছে। কম বয়সে মৃত্যু ঠেকানোর লড়াইয়ে জয়লাভের সংবাদের চেয়েও আমাদের টেলিভিশনে প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার সংবাদ বেশি সময় ধরে সম্প্রচারিত হয়। তার মানে রক্তঝরা বা বিষাদের সংবাদ বেশি গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচারিত হয় সুসংবাদের পরিবর্তে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে কিছু আগ্রহোদ্দীপক তথ্য রয়েছে। গত দুই দশকে বিশ্বে শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। হামজাতীয় রোগে মৃতের সংখ্যা তিন-চতুর্থাংশে নেমে গেছে এবং একসময়ের মরণব্যাধি যক্ষ্মা ও প্রসবকালীন মৃত্যু অর্ধেকে নেমে এসেছে। এইডস সংশ্লিষ্ট অসুস্থ লোকের সংখ্যা এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১৯৬০ সালে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এক শিশু মারা যেত। এখন প্রতি ২০ জনে একজনের মৃত্যু ঘটে। আর এই হার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গত ছয় বছরের মহামন্দার মধ্যেও দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে। যদিও এর অধিকাংশই কমেছে চীনে। ভারতে ও অধিকাংশ তৃতীয় দুনিয়ার দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। এখন বিশ্বে শিশুদের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী রয়েছে। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের হানস রোসলিং বিবিসিকে বলেছেন, 'আমরা এখন শিশু উচ্চতার যুগে প্রবেশ করেছি।'
মেয়েদের শিক্ষার হার বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশে ছেলেদের মতো মেয়েরা বেশি সংখ্যায় স্কুলে যাচ্ছে। এমনকি সৌদি আরবে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে তরুণদের চেয়ে তরুণীর সংখ্যা বেশি।
২০১৫ সালের আগামী দিনগুলোতে আমরা নিশ্চিতভাবেই সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও সুদানে আরও যুদ্ধ দেখতে পাব। ইউক্রেনের অপ্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধানের পথে এগোতে না পারলে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে শীতল শান্তি বিরাজ করতে দেখা যাবে এ বছরেও। ব্রিটেন যদি গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইইউ বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হবে। ইবোলা, ম্যালেরিয়া ও বৈশ্বিক উষ্ণতার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ২০১৫ সালে আরও অনেক ক্ষেত্রে সুখবর আমরা পাব, যার ফলে বছরটি মানবজাতির জন্য উত্তম বছর হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আমরা দ্রুত মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করে চলেছি। তাই যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, দুর্ঘটনা ও স্বাভাবিক মৃত্যু ছাড়া এ বিশ্বের মানুষকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তবে এসব ঘটনায় কত লোক মরবে!
বিদেশি সাহায্যের বিরুদ্ধে বলাটা বৌদ্ধিকভাবে ফ্যাশনবেল। কিন্তু বিদেশি সাহায্যের মূল্যকে আমরা কি অস্বীকার করতে পারি? বিদেশি সাহায্য ছাড়া যে অধিকাংশ দরিদ্র দেশ তাদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে পারত না, এখন তো এর ভূরি ভূরি উদাহরণ পাওয়া যাবে। আফ্রিকায় এইডসবিরোধী কর্মসূচিতে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশের অবদানের কথা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এটাও অস্বীকার করার জো নেই যে, আমেরিকার সাহায্য কর্মসূচি ইউরোপীয়দের থেকে অপেক্ষাকৃত কম। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কর্মসূচির অধীনে আফ্রিকায় ৫০ লাখ এইডস আক্রান্তকে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটা সত্য যে, এ সময়ে ধনী দেশগুলো গরিব দেশগুলোকে বড় অঙ্কের সাহায্য দিয়েছে। শীতল যুদ্ধ অবসানের পর আড়াই দশকে এখন বিশ্বে অতীতের মতো যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে না। আর এসব যুদ্ধে প্রাণহানির সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কম। তবে এটাও সত্য, গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণেই পূর্বোক্ত সময়ের তুলনায় গত কয়েক বছরে যুদ্ধে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এটাও ঠিক, গড় হিসাবে যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এর প্রধান কারণ হতে পারে, গণতন্ত্র বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করা। আর গণতান্ত্রিক দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় না, এটা তো প্রমাণিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেখানে বিশ্বে ১০টির কম দেশে গণতন্ত্র ছিল, তা এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে।
শার্লি এবদো একটি খারাপ সংবাদ। এ সংবাদটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে উলি্লখিত ভালো খবরের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়ই নয়। এমনকি পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী পরিচালিত স্কুলে জঙ্গিরা ১৫০ স্কুলছাত্রকে হত্যা করার সংবাদও নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ইরাক আক্রমণের সংবাদ, যেটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেটাও ভালো খবরগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তাই ২০১৫ সালকে আগামী দিনগুলোতে অবশ্যই বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে।
প্রবীণ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক; খালিজ টাইমস
থেকে ভাষান্তর সুভাষ সাহা

Saturday, February 14, 2015

ইউক্রেন সংকটের মেঘ কাটছে

ইউক্রেন সংকট অবসানে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউক্রেন প্যাকেজ চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলারুশের মিনস্কে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা প্রায় বিরতিহীন আলোচনা চালানোর পর ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপের জটিলতম এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সহজসাধ্য ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সংকট জিইয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলে শুরু থেকেই রাশিয়া অভিযোগ করে আসছিল। আবার ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন নিয়ে দুরভিসন্ধি রয়েছে বলে ওয়াশিংটন পাল্টা অভিযোগ করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় ইউক্রেনে রাশিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে এবং অনেক বিশেষজ্ঞ ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধে পর্যন্ত জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন। নওম চমস্কি পর্যন্ত এ ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন। ফলে ইউরোপের নেতৃস্থানীয় দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের ওপর শান্তি সন্ধানের পক্ষে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। মিনস্ক চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত এই দুই নেতার আপ্রাণ চেষ্টার ফলেই সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠান কভার করতে আসা প্রায় সব সাংবাদিক মতপ্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ইউক্রেন সামরিক বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের বর্তমান সংঘর্ষ লাইন থেকে ২০১৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সম্পাদিত মিনস্ক মেমোরেন্ডামে বর্ণিত দূরত্বে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। শনিবার থেকে বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্র বিরতি কার্যকর হবে। উভয়পক্ষকে নিজ নিজ ভারী অস্ত্রশস্ত্রগুলো ফায়ার রেঞ্জের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। ১৪ দিনের মধ্যে এই অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে উভয়পক্ষকেই। একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে নিরাপত্তা এলাকা হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে চুক্তিতে, যাতে কোনো অছিলায় কোনো পক্ষ থেকেই উস্কানি দিয়ে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্যই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গ্রুপ (ওএসসিই) ত্রিদেশীয় কন্ট্রাক্ট গ্রুপের সহযোগিতায় গোটা প্রক্রিয়াটি মনিটর করবে। এখানে রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্স ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। রাশিয়ার পত্রিকা প্রাভদার ভাষ্য দেখে মনে হয় পুতিন প্রশাসন এই চুক্তিতে বেশ খুশি হয়েছে। ইউরোপের সমস্যা ইউরোপই সমাধান করুক, যুক্তরাষ্ট্র তাতে নাক গলানোর সুযোগ না পাক_ তাই চাইছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। এই চুক্তির ফলে তার ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রচিত স্ট্র্যাটেজি জয়লাভ করল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইউরোপের জন্যও এটা একটা বড় স্বস্তির। দীর্ঘস্থায়ী, এমনকি ভবিষ্যৎ পারমাণবিক যুদ্ধের বিপদ থেকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা হলো। তাছাড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে যে রাশিয়াকে তার অবস্থান থেকে একচুলও নড়ানো যাবে না সেটাই হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া শুরু করেছিল ইউরোপের অধিকাংশ দেশ। গ্রিসের নবনির্বাচিত বামপন্থি সরকার তো প্রকাশ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করেছিল। কিছুদিনের মধ্যে স্পেনে নির্বাচন হবে। সেখানেও সম্ভাব্য বিজয়ী দল হিসেবে যাদের বিবেচনা করা হচ্ছে তারা সংবাদ সম্মেলন করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইউরোপের বেশকিছু দেশের বাম-ডান নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও রাশিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করা শুরু করেছে। তারা ইউরোপের আমেরিকানির্ভর বৈদেশিক নীতির পরিবর্তে ইউরোপের স্বার্থের অনুকূল স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের আওয়াজ তোলেন।
ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি নিষেজ্ঞার কারণে উভয়পক্ষই আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এদিকে ইউরোপ আরও একটি মারাত্মক আর্থিক মন্দা পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই বিরোধ জিইয়ে রাখা কোনোক্রমেই উচিত হবে না বলে মনে করেছে ইইউ। কারণ আরও একটি আর্থিক মন্দা ইউরোপের ঐক্যকেই মারাত্মক হুমকির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরো পর্যন্ত বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হতে পারে। তাই ইউরোপের বড় শক্তি হিসেবে জার্মানি ও ফ্রান্স বৃহস্পতিবার মিনস্ক চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে এতটা ব্যাগ্র ছিল। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
মিনস্ক চুক্তি সম্পাদনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ সারা রাত ও সকাল পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে উপনীত হওয়াকে 'ইউরোপের জন্য হাঁফ ছেড়ে বাঁচা' বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে বৈশ্বিক একটা সংঘাতের অবসানও ঘটানো গেল। তবে চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে উভয়পক্ষের অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নেওয়া ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ওপর। ডনটেস্ক ও লহানস্কর স্বায়ত্তশাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো অবশ্য অনেক দেনদরবার করেছেন বৈঠকে।
তবে মিনস্ক চুক্তি আদৌ সম্পাদিত হতে পারবে কি-না সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বরাবর সন্দেহ ছিল। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অ্যান্ড্রু হিগিন্সের নিবন্ধে ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধাানের ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আদৌ আন্তরিক কি-না সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কথায় বলে, সব ভালো তার শেষ ভালো যার। ইউরোপের নেতৃবৃন্দ মিনস্ক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ইউরোপকে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিপদ থেকে বাঁচাতে সক্ষম হলে তার জন্য তারা প্রশংসিত হতে পারেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকেও নিশ্চয়ই এর প্রতিফলন ঘটবে।
নিউইয়র্ক টাইমস, প্রাভদা, ইতার-তাস নিউজ ও
ইকোনমিস্ট অবলম্বনে সুভাষ সাহা

Thursday, February 12, 2015

সাধারণ এক মানুষের অসাধারণ বিজয় by সুভাষ সাহা ও নুরুল ইসলাম

একজন অতি সাধারণ মানুষের অসাধারণ এক ঐতিহাসিক বিজয়। স্তম্ভিত দিলি্লবাসী। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেজরিওয়াল-সুনামি। ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এ রাজনৈতিক সুনামিতে ভেসে গেল বিজেপি ও কংগ্রেস। টেলিভিশন পর্দায় ভারতবর্ষের জনগণসহ গোটা বিশ্ববাসী দেখল, 'কামব্যাক ম্যান' অরবিন্দ কেজরিওয়াল-ম্যাজিক। মাত্র নয় মাস আগে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উঠেছিল মোদি-ওয়েভ। কে জানত, এত অল্প সময়ের মধ্যেই তা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে। জনমত জরিপগুলো পর্যন্ত আঁচ করতে পারল না, কী ম্যাজিক না দেখাতে যাচ্ছেন কেজরিওয়াল! বুথফেরত জরিপেও মিলল না তার কোনো আভাস-ইঙ্গিত। ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দিলি্ল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-বিজেপিকে সাফ করে দিয়ে সাধারণ মানুষ অরবিন্দ কেজরিওয়াল পেলেন এক অসাধারণ বিজয়। দিলি্ল বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে তিনটি ছাড়া সব কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির দখলে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। বিজেপির মিত্র আকালি দল পেয়েছে বাকি একটি। টানা দ্বিতীয়বার দিলি্লর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৯ দিন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক সরকারি চাকুরে। সে সময় কংগ্রেসের সমর্থনে কেজরিওয়াল ছিলেন সংখ্যালঘু সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে দুর্র্নীতিবিরোধী লোকায়ুক্ত বিল পাসে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি। তার পর থেকে দিলি্লতে ছিল রাষ্ট্রপতির শাসন।
এই ঐতিহাসিক জয় দিলি্লবাসীকে উৎসর্গ করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, যে অভাবনীয় সমর্থন তার দল পেয়েছে, তা 'ভয় পাওয়ার মতো'। দিলি্লর প্যাটেল নগরে দলের সদর দপ্তরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কেজরিওয়াল বলেন, 'আমি দলের সব বিধায়ক ও সমর্থককে অনুরোধ জানাই, আপনারা মোটেই অতি উল্লসিত ও উদ্ধত হবেন না। কারণ, এর আগে উদ্ধত হয়ে কংগ্রেস হারিয়ে গেছে। এবার বিজেপির ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটল।'কেজরিওয়াল বলেন, 'দিলি্লবাসী তাক লাগানো একটা ফল অর্জন করেছে। আমি তাদের স্যালুট জানাই। এটা সত্যের জয়। আমি নিশ্চিত, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দিলি্লকে গর্ব করার মতো স্থানে পরিণত করতে সক্ষম হবো। তবে আমি একা সবকিছু করতে পারব না। আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ।'
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য সেই ১৪ ফেব্রুয়ারিকেই বেছে নিয়েছেন কেজরিওয়াল; গত বছর যে দিনটাতে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। নিজ আসন নয়াদিলি্লতে বিজেপির নূপুর শর্মাকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন কেজরিওয়াল (কেজরিওয়াল ৫৭ হাজার, নূপুর ২৫ হাজার)।আমি নই, হেরেছে বিজেপি :নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ২৮-৩৯, বিজেপি ২২-২৭ এবং কংগ্রেস তিন থেকে পাঁচটি আসন পাবে বলে মোটামুটি আভাস দেওয়া হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের পর বুথফেরত জরিপে আম আদমি ৪৯ আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেল গতকাল ফল প্রকাশের পর। তবে দলের শোচনীয় পরাজয়ের দায় নিজ কাঁধে তুলে নিতে অস্বীকার করেছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী কিরণ বেদি। বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সমাজকর্মী কিরণ বেদি বলেন, 'এ নির্বাচনে আমি হারিনি, হেরেছে বিজেপি। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিজেপি একটি জাতীয় দল। তাদের উচিত, এ পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করা।' যদিও এর আগে কিরণ বেদি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'দল (বিজেপি) জিতলে তা হবে দলের সবার বিজয়। আর হারলে তার দায় নেব আমি নিজে।'বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিজ আসন কৃষ্ণনগরে আম আদমির অখ্যাত এস কে বাগগার কাছে হেরেছেন কিরণ বেদি। তবে কিরণসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা মানতে নারাজ, এ পরাজয়ে 'মোদি-ওয়েভ' একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে। দলের অন্যতম মুখপাত্র শাহনেওয়াজ বলেন, 'নানা কারণে আমাদের পরাজয় হয়েছে। তবে আমরা হতাশ নই। সামনের নির্বাচনগুলোতে আমরাই জিতব, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে।' আর মোদিকে এ পরাজয়ের দায় থেকে আড়াল করে কিরণ বেদি বলেন, তিনি তো মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ছিলেন না। তাহলে তার কথা আসছে কেন?
কংগ্রেস 'নো প্লেয়ার' :২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদ দিলি্লর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছিল কংগ্রেসের দখলে। এবার একটি আসনও পেল না সর্বভারতীয় এ দলটি। শুধু তা-ই নয়, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বড় বিধানসভায় কংগ্রেস হয়ে গেল 'নো প্লেয়ার'। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিরোধী দল এক-দশমাংশ আসন না পাওয়ায় কেন্দ্রের মতো দিলি্ল বিধানসভায়ও এবার থাকছেন না কোনো বিরোধীদলীয় নেতা।কেন এই বিপুল বিজয়দিলি্ল বিধানসভা নির্বাচনে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির পক্ষে এমন বিপুল বিজয় অর্জন সম্ভব হলো কীভাবে? প্রধান কারণ, দিলি্লতে কংগ্রেসের পায়ের নিচের মাটি পুরোপুরি সরে যাওয়া। হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০১৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস যে ২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ এবার আম আদমির পক্ষে চলে যাওয়ায় কেজরিওয়ালের ভূমিধস বিজয় সহজ হয়েছে। তা ছাড়া কেজরিওয়ালের সাধারণ জীবন, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান, বিজেপির আক্রমণাত্মক নির্বাচনী প্রচারও আম আদমির বিস্ময়কর বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, বিজেপি যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় রয়েছে, সেখানে নানা উপলক্ষে কট্টর ধর্মীয় সংগঠন 'রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে'র (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য এবং সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টাকে আমজনতা ভালো চোখে দেখেননি। তারা মোদিকে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। ভারতের জনগণ ধর্মভীরু হলেও তারা চান না, কোনোমতেই রাষ্ট্রশাসনে ধর্মগুরুরা নাক গলান। বিজেপি এই কঠিন সত্যটা উপলব্ধি করতে পেরেছে কি! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু এসব ধর্মীয় সংগঠনের সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বলিষ্ঠভাবে চ্যালেঞ্জ জানাননি। মাঝেমধ্যেই কোনো না কোনো ধর্মীয়, এমনকি কিছু কিছু বিজেপি নেতার সাম্প্রদায়িকতাদুষ্ট বক্তব্য মোদি সরকারের ভাবমূর্তিকে ম্লান করেছে, যে কারণে দিলি্লর সাধারণ মানুষ মোদির ব্যাপারেও সন্দিহান হয়ে উঠেছেন। তা ছাড়া মোদির এখন সার্বক্ষণিক রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের জন্য সময় ও এনার্জি ব্যয় করার কথা। তিনি কেন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির প্রধান মুখ হতে যাবেন? দিলি্লর মানুষ এটাও পছন্দ করেননি। কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা ভূমি অধিগ্রহণ আইনও দিলি্লর গ্রামীণ বিপুলসংখ্যক ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তারা শঙ্কিত, এর মাধ্যমে তাদের জমি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অন্যের হাতে চলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে 'শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ'কে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের ৩২ বছরের শাসনকে মাটিতে লুটিয়ে দিয়েছেন ভোটাররা। কেজরিওয়াল এ ইস্যুকে ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। এ কারণে আম আদমি পার্টি শহরের চেয়েও গ্রামাঞ্চলে বেশি ভোট পেয়েছে। এমনকি শহরের গরিবদের পাশাপাশি ধনীরাও এবার ভোট দিয়েছে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিকে, যে ধনীরা গত নির্বাচনে ছিল বিজেপির পক্ষে। নয়াদিলি্ল, আরকে পুরম, গ্রেটার কৈলাস, মালবিয়া নগরের মতো বিলাসবহুল এলাকাগুলোতেও এবার জিতেছে আম আদমি।
৪৯ দিনের দিলি্ল শাসনে বিনামূল্যে পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক করে দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। দিলি্ল পুলিশের ঘুষ গ্রহণকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিলেন। এতে অটোচালক থেকে রাস্তায় ঘুমানো দিনমজুর পর্যন্ত উপকৃত হন। বস্তি এলাকার লোকজনের ঘর নির্মাণেও আম আদমি পার্টির অগুনতি সমর্থক হাত লাগান। এর ফলে সাধারণ মানুষ ভাবতে শেখে, তাদের অধিকার আদায় ও জীবন-জীবিকাকে নিরাপদ করতে হলে কেজরিওয়াল শাসন মডেলই উত্তম।এটা ঠিক, গত বছর কেজরিওয়ালের হঠাৎ দিলি্লর ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটা সাধারণ ভোটার জনগণ সহজভাবে নেননি। তখন কেজরিওয়ালের সমালোচনায় মুখর হন সবাই। কিন্তু জনগণকে বোঝানোর ক্ষেত্রে নিরন্তন প্রচেষ্টা চালান অদম্য কেজরিওয়াল। আর কংগ্রেসের দোলাচল অবস্থা, মোদির সুশাসনের প্রতিশ্রুতির প্রত্যক্ষ প্রমাণ না পাওয়া ও জনগণের উপকারে আসা সরাসরি পদক্ষেপ গ্রহণে ধীরগতি আম আদমির নীরব জনপ্রিয়তাকে করে আকাশচুম্বী। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সে ব্যাপারে নানা অজুহাতে মোদির বিলম্ব, সর্বোপরি ভূমি অধিগ্রহণ অর্ডিন্যান্স এবং হিন্দু উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির রাশ টেনে ধরতে ব্যর্থতার কারণে কেজরিওয়ালের দিকে জনগণ দৃষ্টি ফেরায়। গত বছর আকস্মিক ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি দিলি্লর জনগণের কাছে ক্ষমাভিক্ষা করেন। এটাও মানুষ সাদরে গ্রহণ করে। শাসন পরিচালনা ও রাজনীতির ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞতার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। মানুষের মনে তার এসব স্বীকারোক্তি দাগ কাটতে সমর্থ হয়। তারা ভাবে, কেজরিওয়াল তো আমাদেরই লোক।
মোদি-অমিত শাহ টিমের আরও একটি গুরুতর ভুল হলো, তারা কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কিরণ বেদিসহ নাগরিক আন্দোলনের দু'জন নারী নেত্রীকে দলে নেন। কিন্তু কিরণ বেদি যে কোনোভাবেই কেজরিওয়ালের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী নন, তা তিনি প্রায় প্রতিটি টিভি অনুষ্ঠানেই প্রমাণ করেছেন; বরং শেষ মুহূর্তে দলে নেওয়া ও কিরণ বেদিকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করাটা বিজেপির বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সফলতার জন্য জনগণ মোদির প্রশংসা করলেও ওবামার সঙ্গে ১০ লাখ টাকার সুট পরাটা তার ভাবমূর্তির মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
গত বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর থেকেই পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন কেজরিওয়াল। নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ঘোরেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। সে তুলনায় বিজেপির প্রস্তুতি ছিল স্বল্প সময়ের। শুধু কংগ্রেস নয়, মুসলিমদের ভোটও একচেটিয়া পড়েছে আম আদমির বাক্সে। দলটির জয়ের পেছনে এসব ফ্যাক্টরও রেখেছে বড় ভূমিকা। তা ছাড়া গত লোকসভা নির্বাচনে দিলি্লতে সাতটি আসনের সবক'টি পেয়ে খুশিতে গদগদ ছিল বিজেপি। ভেবেছিল, বিধানসভায়ও তার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু ভোটাররা ভেবেছেন উল্টোটা।

Monday, February 2, 2015

আরেকটি রক্তাক্ত দিন - ভাষান্তর by সুভাষ সাহা

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শিকারপুর লাখিদার এলাকার একটি মসজিদে শক্তিশালী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। গত ডিসেম্বরে সেনা স্কুলে হামলার পর পাকিস্তানে এটাই বড় ধরনের হামলার ঘটনা। এতে নিহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি এবং আহতের সংখ্যাও ৫০-এর অধিক। এ প্রাণঘাতী হামলা নিয়ে পাকিস্তানের ডন ও দি নিউজ পত্রিকার দুটি সম্পাদকীয় ভাষান্তর করেছেন সুভাষ সাহা >> যখন নওয়াজ শরিফ করাচিতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনারত ছিলেন তখন জঙ্গিবাদ যে কতটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল একটি বর্বরোচিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে। এতে জঙ্গিবাদ দমন যে এখন কেবল অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়নে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না তাও স্পষ্ট হলো। শিকারপুরে ইমামবাগে এক শিয়া মসজিদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আমাদের সুনি্নদের মতো পবিত্র জুমাবারে নামাজে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে আমরা কবে এ ধরনের বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনা বা একই ধরনের সম্প্রদায়গত বিদ্বেষজাত হামলায় হতাহতের মতো ঘটনা থেকে মুক্তি পাব সেটাই এক বিরাট জিজ্ঞাসা চিহ্ন হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ভয়ানক জঙ্গিবাদ যা আমাদের সমাজকে বিদীর্ণ করছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো সাফল্য এখনও পর্যন্ত আসেনি। বছরের পর বছর ধরে আমরা সম্প্রদায়গত সহিংসতার শত শত ঘটনায় অনেক মানুষের হতাহত হওয়া দেখে আসছি। লাখিদার এলাকার কারবালা মওলা ইমামবাগের হামলা এর সঙ্গে নতুন সংযোজন। ইসলামের পবিত্রতম সপ্তাহের এ দিনটি দেশের বিরাট অংশের কাছে শোকের দিনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কাছে বা যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সিন্ধু সরকারের সদস্যদের এ সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা কোনো সান্ত্বনাই বয়ে আনবে না। এসব পরিবারের ক্ষতি কোনো মতেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা জাতি হিসেবে এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারি না তাই বোঝা যায়। পুলিশ বলেছে, বোমা প্লাস্টিকে মোড়ানো ছিল এবং এটি মসজিদের ভেতরে রাখা হয়। এটি বিস্ফোরণেই মসজিদের ছাদের একটি অংশ বিধ্বস্ত হয় এবং এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে হতাহত হয়। এই সর্বশেষ হামলার ঘটনাটির দায় জাদুল্লা জঙ্গিবাদী সংগঠনটি ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে এবং সংগঠনটির মুখপাত্র শিয়াদের তাদের শত্রু বলে উল্লেখ করে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে এই সংগঠনটি ইতিমধ্যে একাত্মতা ঘোষণা করে এবং মনে হয় এরা আইএসের মতো একই হত্যার দর্শনে বিশ্বাসী। আমরা যখন অসহায়ভাবে এসব পর্যবেক্ষণ করছি তখন এ সংগঠনটির প্রভাব আমাদের দেশেও বিস্তৃত হয়ে চলেছে। বাস্তবতা হলো, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতাকে মেনে নেওয়ার মতো সুযোগ আমাদের নেই। গত ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সামরিক স্কুলে হামলার ঘটনার পর সরকার জঙ্গিবাদীদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা অনেকটা কসমেটিক প্রকৃতির। এটা সুস্পষ্ট যে, কেবল ফাঁসি দিয়ে জঙ্গিদের প্রতিরোধ করা যাবে না। ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে বা কিছু কট্টরপন্থি মৌলভীকে আটক করে আমরা যে অবস্থার মধ্যে রয়েছি, তার পরিবর্তন ঘটানো যাবে না। বাস্তবতা হলো নারকীয়। জঙ্গিবাদী যোদ্ধারা সবাই এখন বেরিয়ে পড়েছে যাদের শত্রুজ্ঞান করে তাদের হত্যা করার জন্য। এখন আমরা দেখতে চাই, ঘৃণা ছড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় মৌলভীদের আটক করে এবং আমাদের ছোট-বড় শহরে হামলার সুযোগ যেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর যোদ্ধা বা কর্মীরা না পায় তার ব্যবস্থা করা। সরকার কি এসব সংগঠনের তৎপরতাকে স্তিমিত করতে পারে? যতদূর মনে হচ্ছে, এই ফ্রন্টে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা সরকারের বারবার ব্যর্থতা দেখতে চাই না।

সম্প্রসারমান এক যুদ্ধ - ভাষান্তর by সুভাষ সাহা

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শিকারপুর লাখিদার এলাকার একটি মসজিদে শক্তিশালী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। গত ডিসেম্বরে সেনা স্কুলে হামলার পর পাকিস্তানে এটাই বড় ধরনের হামলার ঘটনা। এতে নিহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি এবং আহতের সংখ্যাও ৫০-এর অধিক। এ প্রাণঘাতী হামলা নিয়ে পাকিস্তানের ডন ও দি নিউজ পত্রিকার দুটি সম্পাদকীয় ভাষান্তর করেছেন সুভাষ সাহা >> পাকিস্তানে একই ধরনের ধ্বংসাত্মক ঘটনা বারবার সংঘটিত হয়েছে। এবার শিকারপুরে শুক্রবারের নামাজের সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে অনেকের আঘাত গুরুতর। বোমা বিস্ফোরণটি কতটা ভয়াবহ ছিল তা আঁচ করা যায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা থেকে। অনেকে সে সময় ভবনে বিধ্বস্ত ছাদের নিচে চাপা পড়েন। এ বছরের শুরুর পর থেকে এটি সম্প্রদায়গত দ্বিতীয় বড় হামলার ঘটনা। এর আগেরটির দায়িত্ব স্বীকার করেছিল তেহরিক-ই তালেবানের (টিটিপি) একটি অংশ। রাওয়ালপিন্ডির ওই হামলায় তখন ৭ জন নিহত হয়েছিলেন, আহত হন ২০ জন। তবে শিকারপুরের হামলার ঘটনাটি নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রথম সিন্ধু প্রদেশের দূরবর্তী এলাকায় বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটল। আর এই ছোট্ট শহরটি সুফি ইসলামের ঐতিহ্যগত স্থান। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইটা পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও সিন্ধুসহ ছোট-বড় শহরেও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা মূর্ত হয়েছে। এতে সরকারের অপশাসন রাষ্ট্রের অসামর্থ্যতার সঙ্গে মিলে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী প্রভাবকে কীভাবে বিস্তৃত করে তারও প্রমাণ পাওয়া গেল। কয়েক বছরে সিন্ধু প্রদেশ ক্রমশ রেডিক্যালাইজেশনের দিকে নেমে যাওয়া ও ধর্মীয় বিভেদ বৃদ্ধির বিষয়কে অগ্রাহ্য করে আসা হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দির ধ্বংস বা অপবিত্র করা ও হিন্দু মেয়েদের বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করার ঘটনা ঘটেছিল। দেওবন্দি সাম্প্রদায়িক গ্রুপ এসব কাজে ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি করে চলেছে। প্রথাগত শিক্ষা অবহেলা করার কারণে এখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো মাদ্রাসার বিস্তার ঘটেছে। এসব মাদ্রাসায় গরিব পরিবারের ছেলেদের ভর্তি করিয়ে ধর্মীয় কট্টরপন্থি গ্রুপ তাদের রক্ষণশীল মানসিকতায় অনড় কর্মী গড়ে তোলে। সিন্ধুতে সুশাসনের অভাবের কারণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে করে প্রদেশের সরকারের পক্ষে মৌলবাদী এসব জঙ্গি গ্রুপকে মোকাবেলা করা বা তাদের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। এই শাসনশূন্যতার কারণেই শিকারপুরের শিয়া মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটাতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক রিপোর্টে পাকিস্তান সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ ও তাদের রক্ষা করার ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের অশুভ বিস্তার সম্পর্কে সরকার জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক ঐকমত্যকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সরকারের এ অক্ষমতার কারণে দেশে সাম্প্রদায়িক ও সহিংস ঘটনার বিস্তার রোধের আশা করা যায় না। দেশের পরিস্থিতিরও এতে ইতরবিশেষ ঘটবে বলে মনে হয় না। শিকারপুরের ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সে সময় প্রধানমন্ত্রী করাচিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছিলেন। পেশোয়ারে সামরিক বাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার পর কয়েকজন জঙ্গিকে দ্রুত ফাঁসি দেওয়ার মতো ঘটনা আমরা দেখতে পেয়েছি। এখন শিকারপুরের ঘটনার পর বেশি কিছু ঘটবে বলে আশা করাটা বাতুলতা মাত্র। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অ্যাকশন প্ল্যান কোথায়? ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা যখন শার্লি এবদোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা জোরদার ও তাদের রাস্তার শক্তির জানান দিয়েছে তখন সরকার পিছু হটেছে বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। এসব উগ্রবাদীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে সরকার নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।

Friday, July 26, 2013

রাজনীতি-রাজনীতিতে ভারসাম্যহীন মেরুকরণ by সুভাষ সাহা

বাংলাদেশের রাজনীতি ভারসাম্যহীন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে?
আমাদের দীর্ঘকালের ধর্মীয় সহনশীলতার আদর্শ ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে মার খাচ্ছে।

Wednesday, July 17, 2013

ভিমরুলিতে নেই ভিমরুল by সুভাষ সাহা

 ভয় নেই! ভিমরুলিতে ভিমরুল নেই। তাই ভিমরুলিতে গেলে ভিমরুলের হুলের জ্বালা সইতে হতে পারে, এমন আতঙ্কেরও কোনো কারণ নেই; বরং ঝালকাঠির ভিমরুলি লেবুরহাটে কাগজিলেবুর ম-ম করা গন্ধ যখন নাকে ঝাপটা দেবে, তখন মনটাও লেবুর বাহারি সবুজ রঙের মতো সতেজ হয়ে উঠতে পারে।

Friday, July 12, 2013

নষ্টের সাধনা by সুভাষ সাহা

ব্যবস্থাটি চমৎকার। এমনকি নিখুঁতও বলা যায়। এই ব্যবস্থায় শরিকদের রাজনৈতিক দলের রঙ মাখানো আছে। তবে সে রঙ কোন দলের সেটা কিন্তু ঠাওর করা মুশকিল। বিরোধী দল-সরকারি দল, ইসলামপন্থি-ধর্মনিরপেক্ষ দাবিদার, রক্ষণশীল-উদারপন্থি_ সবার রঙ মিলেমিশে একাকার।

Sunday, February 3, 2013

'ব্যাটার বুকের পাটা আছে' by সুভাষ সাহা

বঙ্গ-ভাষায় 'বুকের পাটা আছে' বলে তিনটি শব্দের একটি বাক্যবন্ধনী আছে। সাধারণত কোনো অপ্রত্যাশিত বা অসম সাহসী কোনো কাজ করে ফেললে এ ধরনের বাক্যবন্ধনী প্রয়োগ করা হয়।

Saturday, February 2, 2013

বাংলার নতুন মুখ by সুভাষ সাহা

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে মেতেছে বাঙালি। যারা বাংলাদেশের মানুষ, তাদের হৃদয়তন্ত্রী একইভাবে কখনও নাচছে, কখনও উত্তেজনায় থরোথরো কাঁপছে, আবার কখনও বিষাদের বেহাগে কাতর হচ্ছে।

Thursday, January 31, 2013

পরিবর্তন! by সুভাষ সাহা

আমাদের সমাজ নাকি এক লাফে অনেক ওপরে উঠে পড়েছে। দেশের অর্থনীতির শনৈঃ শনৈঃ উন্নতিযোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাকি আমাদের চেতন জগতেও একটা বিপ্লব ঘটে চলেছে। একদিকে পুরনো মূল্যবোধগুলো খসে পড়ছে, অন্যদিকে দেখা দিচ্ছে নতুন বোধ।

Monday, January 14, 2013

জন্ম থেকে জ্বলছে by সুভাষ সাহা

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর যখন মাওলানা মওদুদী সেদেশে পা রাখলেন, তখন থেকেই সেখানে ধর্মের নামে সহিংস রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের উদ্যোগ শুরু। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রশাসনিক দক্ষতায় অগ্রসর আহমদিয়া সম্প্র্রদায়ের ওপর হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও,

Tuesday, January 8, 2013

আমরা-তারা একাকার by সুভাষ সাহা

 মানী লোকদের মান রক্ষার ব্যাপারে বাঙালির ঐতিহ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে টেলিফোনে কথা হচ্ছিল এ দেশেরই পোড়-খাওয়া ও দেশে-বিদেশে সুপরিচিত এক সাংবাদিকের সঙ্গে। একথা-সেকথা বলতে বলতে তিনি নিয়ে গেলেন বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে।

Sunday, December 30, 2012

পাকিস্তান-মৌলবাদ নাকি সংস্কারপন্থি, কে জয়ী হবে? by সুভাষ সাহা

 বৃহত্তর ক্যানভাসে পরিকল্পিত ও এখানে উলি্লখিত সংস্কার করতে পারলে পাকিস্তান এক দশকের মধ্যেই হয়ে উঠতে পারে একটি অগ্রসরমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

চূড়া ছোঁয়ার স্বপ্ন by সুভাষ সাহা

ছুটছে তো ছুটছে_ এ ছোটার যেন বিরাম নেই। দেখা যায় না ক্লান্তির ছায়াও। কিসের নেশায় ওরা ছুটে চলেছে, কীই-বা হাসিল করতে চায় তারা? কোথায় তাদের স্বপ্ন বসতি আর কোথায় গিয়েই বা থামবে এই উড়ন্ত চলা? চীনের একটির পর একটি অর্থনৈতিক মিরাকলের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি,

Tuesday, December 25, 2012

রাজনীতি-বিপজ্জনক রাজনৈতিক খেলা by সুভাষ সাহা

খালেদা জিয়া কেন যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে ছাড়তে পারছেন না? আর শেখ হাসিনাই কেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলকে পাঠিয়ে ২০০৬ সালে ইসলামী কয়েকটি দলের সমর্থন পাওয়ার জন্য ফতোয়া জারি করার অধিকারসহ কয়েকটি মৌলবাদী দাবি মেনে নিয়ে চুক্তি

Friday, December 21, 2012

মহাপ্রলয়ের ঢাক by সুভাষ সাহা

আজই কি ঘটতে যাচ্ছে মহাপ্রলয়! চীনের ২০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে, ২১ ডিসেম্বর সৃষ্টির অপরূপ মাধুরী মেশানো রূপ-রস-গন্ধে ভরা এই ধরিত্রীর মহানিদানের দিন। যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের মানুষরা আরও বেশি সংখ্যায় রোজ কিয়ামতের ক্ষণ হিসেবে এই দিনটিকে বেছে নেওয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসে অটল।

Friday, December 7, 2012

মিসর সংকট উপাখ্যান by সুভাষ সাহা

চরম অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কার মুখে মিসরের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে বৃহস্পতিবার ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সমর্থক ইসলামী ব্রাদারহুড ও ইসলামী পার্টিগুলোর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে উদারতাবাদী,

Wednesday, November 21, 2012

পোড়া কপাল! by সুভাষ সাহা

খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির জোয়ালটা শেষ পর্যন্ত কলুর বলদের মতো গরিবের ঘাড়েই চাপে। তখন বেচারা গরিবের কাছে একফালি চাঁদ সুকান্তের কবিতার মতো ঝলসানো রুটির মহিমা নিয়ে হাজির হয়। খাদ্যের বাড়তি অর্থ জোগাতে গিয়ে গরিব তার আদরের শিশুসন্তানকে স্কুলে না পাঠিয়ে ফুটফরমাশের কাজে লাগায়।

Saturday, November 17, 2012

নতুন নেতৃত্ব-আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা জোরালো হবে by সুভাষ সাহা

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শেষে ১৫ নভেম্বর পার্টির দায়িত্ব নিলেন নতুন প্রজন্মের নেতারা। প্রত্যাশিতভাবেই শি জিনপিং দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মার্চে তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য লি কেকিয়াং।