Tuesday, October 27, 2009

যুক্তরাষ্ট্রে সোয়াইন ফ্লুকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোয়াইন ফ্লুকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ সম্পর্কিত ঘোষণাপত্রে সই করেন তিনি। এই ঘোষণার জন্য সে দেশে এখন চিকিত্সক ও হাসপাতালগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আরও দ্রুততার সঙ্গে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে পারবে।
গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ নাগরিক সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছে। দেশের ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে এইচ১এন১ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লোক মারা গেছে। তাঁরা আরও জানান, এই ফ্লুতে সংক্রমণের হার এখন ফ্লুর মৌসুমের সর্বোচ্চ সংক্রমণের হারের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণত সেখানে নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত ফ্লুর সংক্রমণের ‘পিক’ সময় ধরা হয়। অর্থাত্ ওই সময় ফ্লুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়।
এই ঘোষণার আগের দিন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাথলিন সেবলিয়াস সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, সোয়াইন ফ্লুর প্রতিষেধকের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। ঘোষণাপত্রে ওবামা বলেন, ২০০৯ সালে এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ওবামা বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই রোগের একটি কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কার করা হয়েছে।
তবে মার্কিন সরকার স্বীকার করেছে, প্রতিষেধক সরবরাহে দেরি হচ্ছে। মধ্য অক্টোবরের মধ্যে তারা ১২ কোটি ডোজ প্রতিষেধক সরবরাহ করার আশা করেছিল। কিন্তু এখন মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কোটি ডোজ প্রতিষেধক সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রধান টমাস ফ্রিডেন বলেন, ‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি, যেখানে আরও আগে পৌঁছাব বলে আশা করেছিলাম।’ সিডিসি জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তাদের কাছে এক কোটি ৬১ লাখ ডোজ প্রতিষেধক তৈরি রয়েছে। আরও এক কোটি ১০ লাখ ডোজ এরই মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে মেক্সিকোতে প্রথম সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এরপর তা শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বিশ্বে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

‘দালাই লামা আমাদের সম্মানিত অতিথি’ -চীনকে মনমোহন বললেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, ‘তিব্বতের নির্বাসিত নেতা দালাই লামা আমাদের সম্মানিত অতিথি। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা। আমি চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওকেও এটা বলেছি।’ থাইল্যান্ডের হুয়া থিনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে মনমোহন সিং এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনমোহন সিং আরও বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর খোলাখুলি ও গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। তাঁরা দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে মতবিরোধ ক্রমান্বয়ে কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
সম্প্রতি সীমান্ত বিষয়ে এশিয়ার বৃহত্তম প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার ভারতীয় সীমান্ত প্রদেশ অরুণাচল সফরের পরিকল্পনায় বিরোধ আরও উসকে দেয়। কারণ চীন বরাবরই দালাই লামাকে বিপজ্জনক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে আসছে।

পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে -রাজ্য সরকারের ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার ২৩ জন সন্দেহভাজন মাওবাদীর জামিনের বিনিময়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাঁকরাইল থানার ওসিকে মাওবাদীদের হাত থেকে উদ্ধার করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। অভিযোগ ওঠে, রাজ্য সরকার মাওবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলবে। এই অভিযান থেকে রাজ্য সরকারের পিছিয়ে আসার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া এই অভিযানকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
এদিকে মাওবাদীদের দমনের লক্ষ্যে গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সচিবালয়ে রাজ্য সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মাওবাদী দমনের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত তিন জেলায় আরও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ওই তিন জেলার ৩০টি থানার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সাড়ে সাত কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়। জেলা তিনটি হলো পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুরা।
গতকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব অশোক মোহন চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব অর্ধেন্দু সেন, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ভূপিন্দর সিং প্রমুখ।

সৌদি আরবে নারী সাংবাদিককে ৬০টি দোররা

 সৌদি আরবে এক নারী সাংবাদিককে ৬০টি দোররা মারার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। টেলিভিশন চ্যানেলে একটি অনুষ্ঠান করার দায়ে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে মাজেন আবদুল জাওয়াদ নামের এক সৌদি পুরুষ তাঁর বিবাহবহির্ভূত যৌনজীবন নিয়ে খোলামেলা কথাবার্তা বলেন। অনুষ্ঠানটি লেবাননের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ‘এলবিসি’ তৈরি করে। এটি সম্প্রচারের পর রক্ষণশীল সৌদি আরবে বিরাট কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পর সৌদি সরকার এলবিসি টেলিভিশন চ্যানেলের নারী সাংবাদিকসহ দুজন নারীকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে সাক্ষাত্কারদাতা মাজেনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক হাজার দোররা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাজেন যৌনচারের জন্য কীভাবে সৌদি নারীদের তুলে নিয়ে যেতেন—সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন। এলবিসি নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ সাক্ষাত্কার ‘রেড লাইন’ নামের ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের অংশ ছিল।
সৌদি নারীদের সঙ্গে যৌনাচারের কৌশল নিয়ে কথা বলে মাজেন সৌদি আরবে তুমুল হইচই ফেলে দেন। তিনি এভাবে সাক্ষাত্কার দেওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান। তার পরও অবশ্য আদালত তাঁকে রেহাই দেননি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাজেনের তিন বন্ধুকেও দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মাজেন কৌশলে তাঁকে বিপদে ফেলার জন্য এলবিসির প্রযোজকদের দায়ী করেন। পরে সৌদি আরবে ওই চ্যানেলের কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং চ্যানেলটির দুই নারী প্রযোজককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। তবে এ ব্যাপারে এলবিসি কোনো মন্তব্য করেনি।

এক মাসের মধ্যে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান তালেবানমুক্ত হবে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

এক মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানকে তালেবানমুক্ত করা হবে। সেনাবাহিনী সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী চৌধুরী আহমেদ মুখতার এই ঘোষণা দেন। দ্য সানডে টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের শক্ত ঘাঁটি কোটকাই শহর সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। তালেবান শহরটি পুনর্দখলের যে প্রচারণা চালিয়েছে তা ভিত্তিহীন। জঙ্গিদের এটা একধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা।
তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যেই সেনাবাহিনী তালেবান জঙ্গিদের মূল উত্পাটন করবে। ওই এলাকাকে জঙ্গিমুক্ত করবে। এক মাসের মধ্যে তা সম্ভব হবে। তিনি এও বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে হয়তো শহরাঞ্চলে তালেবানের উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে। বিভিন্ন জায়গায় ঘটতে পারে হামলার ঘটনা। এরপর ধীরে ধীরে সব শান্ত হয়ে আসবে। পরিস্থিতি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নিজ শহর কোটকাই এখন সেনাদের দখলে আছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরটিতে অনেক বাংকার রয়েছে। সেগুলোয় জঙ্গিদের অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে। সেগুলো সরানো হচ্ছে। তা ছাড়া জঙ্গিদের পুঁতে রাখা স্থলমাইনও অপসারণ করছে সেনারা।
সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকায় সেনা-জঙ্গি লড়াইয়ে ১৬২ তালেবান জঙ্গি ও ২২ সেনা নিহত হয়েছেন। আফগান সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানকে জঙ্গিমুক্ত করতে অন্তত ৩০ হাজার সেনা লড়াই করছে। তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে গোলন্দাজ ও বিমান বাহিনী। ধারণা করা হয়, ওই এলাকায় অন্তত ১২ হাজার দেশি-বিদেশি সশস্ত্র জঙ্গি রয়েছে। তাদের মধ্যে আল-কায়েদার সদস্যও আছে।

নিজেদের ‘গালফম্যান’ ভাবেন দুবাইয়ের কেরালাবাসী by কাজী আলিম-উজ-জামান

১৮ অক্টোবর রোববার দুপুর একটায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বার দুবাই এলাকায় কান্ট্রি ক্লাব হোটেলে ট্যাক্সিতে যেতে সময় লাগল ১০ মিনিটের মতো। হোটেলে ঢুকে মুখোমুখি হতে হলো এক তরুণ অভ্যর্থনাকারীর। তার বুকে সেঁটে থাকা একটি সুন্দর চাপরাশ, তাতে নাম লেখা—সত্যম। কৃষ্ণবর্ণের যুবক সত্যমের পাশেই কাজ করছেন দুই তরুণী। সবাইকে ভারতীয় মনে হলো। জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল ধারণা সঠিক। সত্যম ও ওই দুই তরুণী কেরালার। তবে তাঁদের একজনের জন্ম দুবাইয়ে।
হোটেলে ফিরে নিজের কক্ষে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। এর ঘণ্টা দুই পরে লবিতে বসতেই কথা হলো হোটেলের এক বিপণন নির্বাহীর সঙ্গে। দুবাইয়ের ভালোমন্দসহ নানা বিষয়ে আলোচনার পর ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ আসতেই জানা গেল মধ্যবয়সী ওই ভদ্রলোক ছয় বছর ধরে এখানে আছেন এবং তিনিও কেরালার। তিনি জানালেন, চার তারকা ওই হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপক পর্যন্ত যত কর্মী আছেন, তার ৯০ ভাগ ভারতীয়; যাঁদের প্রায় ৮০ ভাগই আবার কেরালার।
পরদিন একটু সকাল সকাল পোর্ট রশিদের বিপরীতে মিনা রোড হয়ে নিউ গোল্ড সুক সেন্টার ছাড়িয়ে কিছুদূর যেতেই কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের দেখা মিলল। তাঁরা প্রায় সবাই উপমহাদেশীয়। ভারতেরই বেশি।
১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর—পাঁচ দিন দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারে ২৯তম ‘জিটেক্স টেকনোলজি উইক’-এ যোগদান উপলক্ষে সেখানে অবস্থানকালে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়। বর্তমানে সেখানে স্থানীয়দের চেয়ে বিদেশিরা সংখ্যায় বেশি। এদের মধ্যে আবার ভারতের কেরালার মানুষ বেশি।
কেরালা কেন? ভারতের অন্য রাজ্য কেন নয়? এ প্রশ্নের জবাব দিলেন দেরা এলাকার ক্লক টাওয়ারের পাশে অবস্থিত হোটেল ক্যারাভানের সহযোগী ব্যবস্থাপক জুনায়েদ হাসান। তিনি অবশ্য মুম্বাইয়ের মানুষ। তবে গত দুই দশক ধরে দুবাইয়ে আছেন। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। তাঁরা দুবাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বুধবার জুনায়েদ হাসানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপে জানা গেল, কেরালার মানুষ কেবল দুবাইয়ে নয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই আছেন এবং অর্থনৈতিকভাবেও সাবলম্বী। এর কারণ এদেশে এসেই তারা প্রথমে আরবী ভাষা বোঝা ও জানার চেষ্টা করেছে। ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে যাওয়া মানুষেরা এটা করেনি। কেরালার মানুষেরাই প্রথম রক্ষণশীল আরবদের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করেছে এবং পরবর্তীতে সফল হয়েছে। এ কারণে আজ হোটেল, জুয়েলারি, পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের উদীয়মান ব্যবসায় তারা পড়ালেখায় ভালো করছেন।
জুনায়েদ হাসানের তথ্যের সূত্র ধরে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ইন্টারনেটে সংশ্লিষ্ট একাধিক ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেল, ‘কেরালা গালফ বুম’ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এর অর্থ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলে কেরালার লোকজনের সংখ্যাধিক্য। মূলত ১৯৭২ থেকে ১৯৮৩, এই ১১-১২ বছরে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্য থেকে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যে যায় কাজের সন্ধানে, এখনো অব্যাহত আছে। ২০০৮ সালে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কেরালার মানুষ আছে ২৫ লাখ। বছরে তাঁরা ৬৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠায়।
মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৩০-এর দশকে জ্বালানি তেলের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর পঞ্চাশের দশকে কিছু কিছু করে উত্তোলন শুরু হয়। আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ষাট ও সত্তরের দশকে। এ কাজের জন্য অসংখ্য কর্মীর দরকার ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলোর তেমন কর্মী না থাকায় তারা বিদেশি শ্রমিকদের জন্য দরজা খুলে দেয়। এ সুযোগটা বেশি করে নেয় ওই সময়ে তীব্র বেকারত্বে জর্জরিত ভারত। এখানে এগিয়ে থাকে কেরালার মাপ্পিলারা। মাপ্পিলারা মুসলমান হওয়ায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য বেশি অনুভব করে।
‘রাষ্ট্র পথ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু কেরালার মানুষ ভাগ্য গড়েছে পরিশ্রম করে।’ বলছিলেন দেরার গোল্ড সেন্টারের এক বিক্রয়কর্মী। ‘আজ কেরালা ভারতের সমৃদ্ধিশালী রাজ্যগুলোর একটি, যেখানে শিক্ষার হার ৯১ শতাংশ, যা ভারতে সর্বাধিক।’ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে দুবাইয়ে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেরালার লোকদের সমালোচনাও আছে। তাঁরা নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে কারও সহযোগিতা করেন না। আর স্বার্থের জন্য হীন কাজও তাঁরা করতে পারেন—এমন অভিযোগ অনেকে করেছেন।
এসব নিয়ে এখানকার কেরালাবাসী মোটেই চিন্তিত নন। তাঁরা বরং নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা বা ‘গালফম্যান’ ভাবতে পছন্দ করেন। আকর্ষণীয় আয়ের কারণে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অনেক ধনাঢ্য পরিবারে তাঁরা বিয়েও করছেন। আর কেরালার কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে পারলে অনেক উপহার মেলে, এমন ধারণা আছে অভিবাসী তরুণদের মধ্যে।

ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের চার নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নেই

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে অবস্থিত ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের চার নম্বর কূপ খননে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
এই কূপে গ্যাস মজুদের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এটি খনন করার উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব গত বছর পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সে প্রস্তাবের কোনো জবাব মেলেনি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছে, কূপটি খনন করা হলে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এ ছাড়া এই গ্যাসক্ষেত্রে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশীয় গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৮৫ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (পিপিএল) এই গ্যাসক্ষেত্রের এক নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।
পরে দীর্ঘ কয়েক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাপেক্স ২০০৪ সালে দুই নম্বর এবং পরের বছর (২০০৫) তিন নম্বর কূপ খনন করে তা থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের মাঝামাঝিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উভয় কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বাপেক্স আবারও দুই নম্বর কূপ খনন করে। পরে ওই কূপ থেকে আবার গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রে কর্মরত বাপেক্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ‘গ্যাসক্ষেত্রের চার নম্বর কূপে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস মজুদ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্রের দুই নম্বর কূপ থেকে প্রায় সাত মিলিয়ন এবং তিন নম্বর কূপ থেকে উত্তোলিত প্রায় ১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গ্যাসক্ষেত্রে ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ প্রতিদিন মাত্র ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন উত্তোলিত গ্যাসের সঙ্গে প্রায় ৪৫ ব্যারেল কনডেনসড (অপরিশোধিত জ্বালানি) পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরিশোধিত জ্বালানি চট্টগ্রামে পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়। সেটা থেকে পেট্রল, অকটেন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল উত্পন্ন হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে বাপেক্সের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের চার নম্বর কূপে প্রচুর গ্যাস মজুদ রয়েছে। খননের উদ্যোগ নেওয়া হলে এটা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। আর ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব হতো।’

মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ করল সিটি ব্যাংক

রায়হান চৌধুরী একজন ব্যস্ত ব্যবসায়ী। তাই দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য জানার জন্য তিনি মোবাইল ফোনের খুদে বার্তা বা এসএমএস সেবার ওপরই নির্ভর করেন। এ জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এসএমএস সেবা পেতে কিছু নম্বর বা মূল শব্দ (কি ওয়ার্ড) মনে রাখতে হয়। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনের সময় তিনি প্রায়ই মূল শব্দ ভুলে যান। ফলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে না পারার ঝামেলায় পড়তে হয় তাঁকে।
রায়হান চৌধুরীসহ অগণিত গ্রাহকের এসব সমস্যা সমাধানে বেসরকারি খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড নিয়ে এসেছে ‘সিটি ওয়ালেট’ নামে আরও আধুনিক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন গ্রাহক তাঁর মোবাইল ফোনসেটের মেনু অপশনে গিয়েই মৌলিক ব্যাংকিং সেবা পাবেন। এ জন্য গ্রাহককে আর কষ্ট করে কোনো ‘কি ওয়ার্ড’ মনে রাখতে হবে না।
কোনো গ্রাহকের মোবাইল ফোনসেটে জাভা অপশনসহ ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ‘সিটি ওয়ালেট’ সুবিধা স্থাপন করে নিলেই এসএমএস না করে ব্যাংক লেনদেনের হালনাগাদ তথ্য ঘরে বসেই পাওয়া যাবে। তবে যেসব গ্রাহকের মোবাইল ফোনে জাভা অপশন ও ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তাঁরা আগের পদ্ধতিতে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ জন্য গ্রাহককে ৯৬৯৬ নম্বরে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য নির্দিষ্ট কি ওয়ার্ড পাঠাতে হবে।
রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে ‘সিটি ওয়ালেট’ নামে ব্যাংকিং সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা গতকাল রোববার এসব তথ্য জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে মাহমুদ সাত্তার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন, রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মাসরুর আরেফিন, হেড অব ব্রাঞ্চ জাভেদ আমিন, হেড অব সার্ভিস কোয়ালিটি মোস্তাফিজুর রহমান ও এসএসএল ওয়্যারলেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম। এসএসএল ওয়্যারলেস লিমিটেড নতুন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার জন্য কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে।
সিটি ওয়ালেট চালু প্রসঙ্গে কে মাহমুদ সাত্তার বলেন, ‘সিটি ব্যাংকে এসএমএস ব্যাংকিং ছিল। কিন্তু এতে আমরা কেউ পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলাম না। কারণ এ সেবা সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত নয়। তবে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া সিটি ওয়ালেট সেবায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই গ্রাহকেরা যেকোনো সময় লেনদেনের তথ্য জানতে পারবেন।’
মাহমুদ সাত্তার আরও বলেন, মোবাইল ফোন যেহেতু ওয়ালেটের মতো সবার পকেটে থাকে, তাই নতুন এ সেবার নাম দেওয়া হয়েছে সিটি ওয়ালেট।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় অনেক ওপরে উঠে গেল। পৃথিবীর খুব কম দেশই পাওয়া যাবে, যারা এ ধরনের সুবিধা ব্যবহার করে।
মাশরুর আরেফিন জানান, সিটি ওয়ালেটের সুবিধা পেতে গ্রাহককে ২০০ টাকা দিয়ে নিবন্ধন নিতে হবে। এর ফলে গ্রাহকেরা পাবেন ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, মিনি স্টেটমেন্ট, সর্বশেষ ২০ লেনদেনের বিবরণী, শাখা ও এটিএমগুলোর তথ্য, বিদেশি মুদ্রার হার। একই সঙ্গে সরাসরি গ্রাহকসেবা বিভাগে কথা বলার সুবিধা পাবেন তিনি।

আগোরার অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন

‘স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ: সুস্থ ও সুখী জীবন’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গত শনিবার দিনব্যাপী নানা রকম কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে চেইন সুপারস্টোর আগোরার অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে।
ঢাকায় ধানমন্ডিতে রাইফেলস স্কয়ারের আগোরায় কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আগোরার পরিচালনা কর্তৃপক্ষ রহিমআফরোজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আফরোজ রহিম এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আগোরার চেয়ারম্যান ফিরোজ রহিম।
অনুষ্ঠানে আগোরার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রঞ্জন ডি সিলভা, হেড অব অপারেশনস শামস হায়দার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের প্রধান হারুনুর রশীদ, ক্রয় বিভাগের প্রধান নিজাম চৌধুরী, বিপণনপ্রধান রুহেল আবেদিন, ব্যবসা সহায়তা ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান, রহিমআফরোজ গ্রুপ ও আগোরার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আগোরায় পণ্য সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগোরার এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল, ক্রেতা-ভোক্তাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা, শিশুদের চকলেট উপহার দেওয়া এবং অষ্টম, ৮৮তম ও ৮৮৮তম ক্রেতাকে ডার্টবোর্ডের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে উপহার দেওয়া ইত্যাদি।
অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগোরার সব কটি আউটলেটকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের সমাহার ঘটিয়ে ক্রেতা-ভোক্তাদের কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০১ সালের ২৪ আগস্ট ধানমন্ডির রাইফেলস স্কয়ারে আগোরা যাত্রা শুরু করে। সাড়ে আট হাজার বর্গফুট এলাকায় শুরুতেই প্রায় ১০ হাজার পণ্যের পসরা সাজানো হয়। পরবর্তীকালে ঢাকার গুলশান, মগবাজার ও মিরপুরে আগোরার আরও তিনটি আউটলেট বা বিক্রয়কেন্দ্র খোলা করা হয়। বর্তমানে আগোরার আউটলেটগুলোয় ক্রেতাদের জন্য ২০ সহস্রাধিক পণ্যের সমাহার রয়েছে।

সিএসআর কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ

অর্থ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর বাধ্যতামূলক করার জন্য সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি সিএসআর কার্যক্রম করমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা গেলে সিএসআর কার্যক্রম বাড়বে।
গত শনিবার রাতে ঢাকায় শেরাটন হোটেলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সিএসআর সন্ধ্যা ২০০৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংসদ মোস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।
তিনি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিএসআর কার্যক্রমে উত্সাহী করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশংসা করেন।
মোস্তফা কামাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিএসআর পরিপালনে বাধ্য করার জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রতিও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি ছিলেন।
মোস্তফা কামাল ডেনমার্কের সিএসআর আইনের মতো আইন প্রণয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের সভাপিত আনিসুল হক, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জাফর ওসমান, ফরেন চেম্বারের সভাপতি ওয়ালিউর রহমান ভূইয়া এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক।
ব্যবসায়ী নেতারা সিএসআর কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, সিএসআর এমনভাবে করা প্রয়োজন যেন এটি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারের অধিকতর সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর করতে আগ্রহী। তবে সিএসআর খাতে দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয় কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালন করেন। এতে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে সিএসআর অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বিত্তবানদের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সিএসআর কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রাধান্য পাচ্ছে সেবা খাতের অন্তর্ভুক্তি ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা অপসারণ -সাফটা নিয়ে কাঠমান্ডুতে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু BY ফখরুল ইসলাম

দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল চুক্তি (সাফটা) নিয়ে চলতি মাসে চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেপালের কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে সার্কের সদস্য আটটি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীসহ শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা বৈঠকগুলোতে অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধিরা।
সেবা খাতের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সার্ক চুক্তির ওপর প্রথম বৈঠকটি শুরু হয় গত শনিবার। শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এ বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে একটি সাফটা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। এ দলটিরই চতুর্থ সভা হলো এ দুই দিন।
পরের বৈঠকটি হলো সাফটা বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক। এটি বিশেষজ্ঞ দলের পঞ্চম বৈঠক। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এ বৈঠক।
পাশাপাশি এই দুই দিনে অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি বৈঠক। সেটি হলো অশুল্ক প্রতিবন্ধকতার (এনটিএম) ওপর সাফটা উপকমিটির পঞ্চম বৈঠক।
সূত্র জানায়, ২৮ অক্টোবর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ সাফটা মন্ত্রী পর্যায়ের কাউন্সিল। এটিই মূল বৈঠক এবং এখানে সাফটা কার্যসূচির খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগ দেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহুল আমিন সরকার, ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মোস্তফা আবিদ খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম মনিরুল ইসলাম, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালক।
২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়ে ২০০৬ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া শুরু হয়েও সাফটা বেশিদূর এগোতে পারেনি। এর মধ্যে ২০০৬ সালেই ভারতকে সাফটার আওতায় এমএফএন (সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি) শুল্কসুবিধা দিতে অস্বীকার করে বসে পাকিস্তান।
অন্যদিকে ১০ বছর আগে ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকেও দ্বিপক্ষীয় এফটিএ করার আহ্বান জানায় ভারত। কিন্তু সে সময়ই আশঙ্কা তৈরি হয়, ভারত-শ্রীলঙ্কার ওই চুক্তি আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্যকে পেছনে ঠেলে দেবে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। সাফটা কার্যকর করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কেবলই বৈঠক হচ্ছে।
এদিকে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য সম্প্রসারণের বড় সমস্যা হলো অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা এবং এ প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দেশেরই অভিযোগের মূলে রয়েছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাফটায় স্পর্শকাতর পণ্যের দীর্ঘ তালিকার বিষয়টিও বাণিজ্য সম্প্রসারণের এক বড় বাধা।
জানা যায়, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের স্পর্শকাতর পণ্য তালিকায় রয়েছে ওভেন পোশাক, নিট পোশাক, চা ও হিমায়িত খাদ্য—যা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ। আবার বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সাফটার পূর্বসূরি সাপটায় (দক্ষিণ এশীয় অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি) রপ্তানিযোগ্য পণ্য হতে হলে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বিধান ছিল। অথচ সাফটায় এই ৩০ শতাংশের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বাড়তি কিছু শর্ত। ফলে সাফটায় উত্সবিধি আরও কঠিন হয়েছে।
আবার সাপটায় যেখানে এলডিসিগুলোর জন্য শুধু ৪০ শতাংশ আঞ্চলিক উপাদানই যথেষ্ট ছিল, সেখানে সাফটায় তা করা হয়েছে ৫০ শতাংশ। যার মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশ হতে হবে স্থানীয় মূল্য সংযোজন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাপটা থেকে সাফটায় উত্তরণ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হলো।
এদিকে সাফটা নিয়ে আশাবাদী না হওয়ারও কারণ খুঁজে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রায়হান।
প্রথম আলোকে সেলিম রায়হান বলেন, ‘আলোচিত সাফটা পণ্য বাণিজ্যকেন্দ্রিক। তাই দরকার হলো সাফটা প্লাস অর্থাত্ সেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে সাফটার আওতা বাড়ানো। কারণ বাংলাদেশের পক্ষে শুধু পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে সাফটা থেকে খুব বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও মনে করেন, সাফটার ফলে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যের গতিধারা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে খুব বেশি লাভবান হওয়ার কিছু না দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো পাওয়া যেতে পারে। সেই ফল পেতে বাংলাদেশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এবারও ভুটানকে দিয়েই শুরু বাংলাদেশের

যে ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গত বছর কলম্বো সাফ ফুটবলের ব্যর্থ অভিযান শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের, উদ্বোধনী দিনে সেই ভুটানকেই এবারও প্রথম ম্যাচে পাচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগামী ৪ ডিসেম্বর শুরু ষষ্ঠ সাফ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে অবশ্য মুখোমুখি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
ভুটানের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু, দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের সঙ্গেও ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তারপর তো শেষ গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ০-১ গোলে হেরে সেমিফাইনালের আগেই পঞ্চম সাফ ফুটবল শেষ বাংলাদেশের। এবার দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ওই ব্যর্থতা মুছে দেওয়ার মিশন। মিশন ২০০৩ তৃতীয় সাফের মতো সর্বোচ্চ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানো—শিরোপা জয়। সেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই সব কটি ম্যাচ হবে এবারও। গ্রুপ পর্বে ম্যাচ ১২টি, এর সঙ্গে দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে মোট ম্যাচ ১৫টি। ফাইনাল ১৩ ডিসেম্বর।

আবার বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট

প্রায় তিন বছরের বিরতির পর আবার হচ্ছে বিসিবি অ্যাওয়ার্ড নাইট। আগামী ২৬ ডিসেম্বর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা, অ্যাওয়ার্ড নাইটও হবে ওই দিনই।
আ হ ম মোস্তফা কামাল বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর কালই প্রথম বসল বিসিবির পরিচালনা পরিষদের সভা। সভায় এজিএম আর অ্যাওয়ার্ড নাইটের দিন-তারিখ ঠিক হওয়া ছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়েছে আরও কিছু। তবে বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর থেকে মোস্তফা কামাল বারবার খুব জোর দিয়ে যেটা বলছিলেন, সে ব্যাপারেই কিছু হলো না! বোর্ড সভাপতি বলেছিলেন, এই সভাতেই নাকি আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। আদতে সেটা হলো না। বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে শুধু জানানো হলো, আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
সভায় গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির বয়সভিত্তিক কার্যক্রমে আরও বেশি বোর্ড পরিচালককে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বয়সভিত্তিক কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হবে এই পরিচালকদের।
ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, সেটার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিসিবি পরিচালক এনায়েত হোসেন, গাজী আশরাফ হোসেন ও আজিজ আল কায়সারকে নিয়ে একটা কমিটিও গঠন করা হয়েছে গতকালের সভায়।
মাশরাফি বিন মুর্তজা ইনজুরি থেকে ফেরেননি বলে কাল থেকে শুরু জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক ও মুশফিকুর রহিমকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটি অনুমোদন হয়েছে সভায়।

শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হাসি

অস্ট্রেলিয়াকেও হারানো হয়নি ভারতের
মহেন্দ্র সিং ধোনি যখন ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নিলেন, তখনো ম্যাচে ভালোভাবেই আছে ভারত। ৯৬ বলে প্রয়োজন ১২৬, হাতে ৭ উইকেট। উইকেটে অধিনায়কের সঙ্গে গৌতম গম্ভীর, দুজনেই সেট। পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে ভারত তুলতে পারল মাত্র ৩২, উইকেট হারাল ৩টি। দুই সেট ব্যাটসম্যানই আউট, সঙ্গে সুরেশ রায়নাও। খেলা তো ওখানেই শেষ!
তবে এটা ধরে নিয়ে যাঁরা এই ম্যাচ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁরা ম্যাচের আসল অংশটুকুই পাননি। শেষ ১০ ওভারে ৯২ রান প্রয়োজন, উইকেট মাত্র ৩টি। অষ্টম উইকেটে হরভজন সিং ও প্রাভিন কুমারের ৮৪ রানের এক জুটি মরা ম্যাচে এনে দিল প্রাণের ছোঁয়া। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রানের, রুদ্ররুপে দুই ব্যাটসম্যান—ম্যাচ তখন ভারতেরই হাতে। কিন্তু এর আগে ম্যাচে একদমই নিষ্প্রভ পিটার সিডল নিজেকে ফিরে পেলেন আসল সময়েই। প্রথম বলেই বোল্ড হরভজন। আগের ওভারেই দিয়েছিলেন ১৩ রান, শেষ ওভারে দিলেন মাত্র ৩ (আর লেগ বাই ১)। ৪ রানে ম্যাচ জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন রিকি পন্টিং।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭২ রানের বেশি তাড়া করে জেতেনি ভারত। কাল করতে হতো ২৯৩। ভারত তাকিয়ে ছিল শেবাগ-টেন্ডুলকারের ওপেনিং জুটির দিকে। শুরুটা তাঁর মতোই করেছিলেন শেবাগ, ব্রেট লির করা ইনিংসের প্রথম দুই বলেই চার। প্রথম ২ ওভারে ২০। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি দুজনের কেউই। লির অফ স্টাম্প-ঘেঁষা একটি বল মিড উইকেটে খেলতে গিয়ে আউট শেবাগ। টেন্ডুলকারের আউটটি পুরো পরিকল্পিত, ক্রমাগত অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে যাচ্ছিলেন ওয়াটসন। ধৈর্য হারিয়ে একটিতে ড্রাইভ করলেন টেন্ডুলকার, শর্ট কভারে দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন পন্টিং।
কোহলির সঙ্গে গম্ভীরের ৫৮ ও ধোনির সঙ্গে ৬৪ রানের দুটি জুটিতে অবশ্য ম্যাচে ছিল ভারত, কিন্তু ৪ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে ভারত। এর পরই হরভজন-প্রাভিনের সেই জুটি, অষ্টম উইকেটে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজেরই রেকর্ড। ৪৯ রানে আউট হয়ে ম্যাচের মতো ওয়ানডেতে প্রথম ফিফটিও হারিয়েছেন হরভজন, আগের সর্বোচ্চ ৪৬-ও ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহ গড়ে পন্টিং, মাইক হাসি, টিম পেইন ও ক্যামেরন হোয়াইটের হাফ সেঞ্চুরিতে। ভারতের বিপক্ষে এই প্রথম চারটি ফিফটি করল কোনো দল। দ্বিতীয় ওভারে ওয়াটসন আউট হওয়ার পর পেইন-পন্টিং গড়েন ৯৭ রানের জুটি। ব্রাড হাডিনের ইনজুরিতে দলে এসেছেন। পেইন নিজেই বলছেন, হাডিন ফিরলে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। তবে যেভাবে খেলছেন (১৪ ম্যাচে ১ সেঞ্চুরি, ৩ হাফ সেঞ্চুরি), তাতে হাডিন ফিরলেও নির্বাচকেরা নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয়বার ভাববে তাঁকে নিয়ে। পন্টিং শুরু থেকেই ছিলেন সপ্রভিত, যে বলে আউট হলেন, তার আগে একবারও মনে হয়নি আউট হতে পারেন। ধীর সূচনার পর হাত খুলে খেলেছেন হোয়াইট। আর ৫৪ বলে ৭৩ রান করে শেষটা করেছেন ম্যাচ-সেরা মাইক হাসি।