Friday, May 3, 2019

ঘূর্ণিঝড়ের আগে যেসব খাবার সংরক্ষণ করবেন

ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে কিছুটা সময় পাওয়া যায় নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করার জন্য। কারণ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে ও ধেয়ে আসতে কিছুটা সময় নেয়। আবহাওয়াবার্তার বদৌলতে আমরা তা আগেভাগেই জানতে পারি। তাই আগে থেকে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে বিভিন্নরকম সংকট দেখা দিতে পারে। খাদ্য সংকট তার মধ্যে অন্যতম। আমরা সচেতন হলেই এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর বেশকিছু শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ করে রাখতে পারলে এই সংকট কাটানো সম্ভব-
khabar
মুড়ি
শুকনো খাবারের মধ্যে মুড়ি সহজলভ্য তাই এটি সহজেই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। তাই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুড়ি সংরক্ষণ করুন।
khabar
চিড়া
মুড়ির মতো চিড়াও বেশ সহজলভ্য এবং এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে সক্ষম। তাই ঘূর্ণিঝড়ের আগে শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া সংরক্ষণ করুন।
khabar
খই
মুড়ি-চিড়ার পাশাপাশি সংরক্ষণ করতে পারেন খই। একটি বাষ্পরুদ্ধ জারে বা মুখ আটকানো পলিথিনে খই সংরক্ষণ করুন।
khabar
খেজুর
শুকনো ফলের মধ্যে খেজুর সংরক্ষণ করতে পারেন। এটি সহজে নষ্ট হবে না এবং আপনাকে দ্রুত শক্তি দেবে।
khabar
বিস্কুট
বিভিন্নরকম বিস্কুট সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে বিস্কটু কেনার আগে দেখে নিন তার মেয়াদ আছে কি না এবং মানসম্মত কি না। নয়তো মানহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট খেলে পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
khabar
গুড়
শুধু মুড়ি বা চিড়া খেতে ভালো নাও লাগতে পারে। তাই সংরক্ষণ করতে পারেন গুড়। গুড়ের শরবত খেলেও তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সতেজ থাকা যাবে। গুড়ের পাশাপাশি চিনিও রাখতে পারেন।
khabar
বাদাম
আরেকটি শুকনো ফল বাদাম রাখতে পারেন। যেসব বাদাম সহজলভ্য সেগুলোই সংরক্ষণ করুন। বিপদে কাজে লাগবে।
khabar
বিশুদ্ধ পানি
শুকনো খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণও জরুরি। কারণ ঘূর্ণিঝরের পড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিতে পারে।

অভিষেকের আগে দেহরক্ষীকে বিয়ে করলেন থাই রাজা

সিংহাসনে বসার কয়েক দিন আগে বিয়ে করলেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। গত বুধবার তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর উপপ্রধান সুথিদাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরই স্ত্রীকে নতুন রানি উপাধি দিয়েছেন তিনি। রাজপরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানি সুথিদা ভাজিরালংকর্ন আয়ুধ্যাকে রাজপরিবারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে সুথিদা রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সব ধরনের মর্যাদা ভোগ করবেন।
এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, শনিবার থাই রাজার বিয়ের অনুষ্ঠান ঘটা করে উদ্‌যাপন করা হবে। এর আগে থাই রাজপরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন গতকাল তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর উপপ্রধান সুথিদাকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পরই স্ত্রীকে নতুন রানি উপাধি দিয়েছেন তিনি। বিবৃতি প্রকাশের পরই তা গতকাল রাতে রয়েল নিউজের অংশে সম্প্রচার করেছে থাইল্যান্ডের সব টেলিভিশন চ্যানেল। এ ঘোষণার ফলে সুথিদা এখন শুধু আর সুথিদা নন। তিনি এখন কুইন সুথিদা বা রানি সুথিদা ভাজিরালংকর্ন আয়ুধ্যা। সুথিদা রাজার চতুর্থ স্ত্রী।
ব্যাংককের ডুসিট প্যালেসে রাজার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের দিনে রাজা পরেছিলেন সাদা পোশাক আর ঐতিহ্যবাহী থাই সিল্ক পোশাকে ছিলেন সুথিদা। গতকাল তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা, রাজপরিবারের সদস্য, রাজপ্রাসাদের উপদেষ্টারা।
রাজার সিংহাসনের বসা উপলক্ষে তিন দিনের উৎসব শুরু হবে শনিবার থেকে।
সুথিদা থাই এয়ারওয়েজের সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্ট। সুথিদাকে নিজের দেহরক্ষীদের একটি ইউনিটের উপকমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা ভাজিরালংকর্ন। এ সময় বা এরপরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। তবে তাঁদের গভীর প্রেমের সম্পর্কের কথা কখনো রাজপরিবার বা রাজপ্রাসাদ থেকে স্বীকার করা হয়নি।
এর আগে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিয়ে করেছিলেন তিনবার। তিন বিয়েতেই বিচ্ছেদ ঘটেছে। তাঁর সাত সন্তান।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রয়েল থাই সেনাবাহিনীর একজন পূর্ণ জেনারেল হিসেবে সুথিদাকে পদোন্নতি দেন রাজা। এরপর ২০১৭ সালে তাঁকে তাঁর ব্যক্তিগত প্রহরীদের উপকমান্ডার নিয়োগ করেন। এ ছাড়া তিনি তাঁকে থানপুইং বিশেষণে ভূষিত করেন। থাইল্যান্ডে এটি হলো একটি রাজকীয় পদবি, যার অর্থ হলো লেডি।
৭০ বছর সিংহাসনে থাকার পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে মহা ভাজিরালংকর্নের বাবা রাজা ভূমিবল আদুলাদেজ মারা যান। আদুলাদেজের মৃত্যুর ৫০ দিন পর নতুন রাজা হিসেবে ওই সময়ের যুবরাজ মহা ভাজিরালংকর্নের নাম ঘোষণা করা হয়। দেশটির পার্লামেন্টের আমন্ত্রণে রাজসিংহাসনে বসতে সম্মত হন মহা ভাজিরালংকর্ন। শনিবার সিংহাসনে বসলে তিনি হবেন চকরি রাজবংশের দশম রাজা। তিনি রাজা রামা এক্স নামেও পরিচিত।
১৯৪৬ সাল থেকে, অর্থাৎ সাত দশক ধরে থাইল্যান্ডের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন ভূমিবল। দেশের জনগণের হৃদয়েও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন তিনি। ১৯৪৬ সালে ভাইয়ের মৃত্যুর পর মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভূমিবল থাইল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ৮৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ৬৭ বছর বয়সী যুবরাজ মহা ভাজিরালংকর্ন ভূমিবলের একমাত্র ছেলে।
ভূমিবল আদুলাদেজের মৃত্যুর পর থেকে মহা ভাজিরালংকর্ন সিংহাসনে আরোহণের আগ পর্যন্ত রাজপ্রতিভূ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রেম তিনসুলানন্দা।

রাশিয়ার গুপ্তচর তিমি আটক!

বিশ্বে সামরিক প্রভাব বাড়াতে শক্তিধর দেশগুলো গুপ্তচর নিয়োগ করে থাকে। শত্রুপক্ষের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে গুপ্তচরেরা তা তুলে দেন নিজ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। এক দেশের গুপ্তচরকে তাই আরেক দেশের সার্বভৌম অঞ্চলে পেলে তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত। তবে এবার জানা গেছে এক তিমি গুপ্তচরের কথা। গত শুক্রবার নরওয়ের উপকূলে আটক হয়েছে এটি। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রশিক্ষিত তিমিটি উত্তর মহাসাগরে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নিয়োজিত ছিল।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্সের গুপ্তচর জেমস বন্ডের মতো দুর্ধর্ষ না হলেও এই তিমি বেশ চিন্তার ভাঁজই ফেলেছে নরওয়ের কপালে। উত্তর মহাসাগর এলাকায় বরেন্টস সাগরের জলসীমা নিয়ে একসময় রাশিয়া ও নরওয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল।
গুপ্তচর তিমিটি বিলুগা প্রজাতির। উত্তর মহাসাগরের ইংগোয়া দ্বীপে নরওয়ের একজন জেলে তিমিটির গায়ে যন্ত্র লাগানো দেখে একে আটক করে। পরে ওই জেলে তিমিটির গা থেকে যন্ত্রটি খুলে ফেলতে সক্ষম হন।
নরওয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক এডান রিকার্টসন বলেন, বিলুগা ডলফিনের মতোই বুদ্ধিমান প্রাণী। কুকুরের মতোই তাদের প্রশিক্ষিত করে তোলা যায়। তিমিটির গায়ে পাওয়া যন্ত্রটি গোপ্রোজাতীয় ক্ষুদ্র ক্যামেরা স্থাপনের জন্য উপযোগী। যন্ত্রটির গায়ের লেবেলে সেন্ট পিটার্সবুর্গ লেখা থেকে এটি রাশিয়ার বলেই মনে করছেন রিকার্টসন। তবে তিমিটির গায়ে এ সময় কোনো ক্যামেরা লাগানো ছিল না।
যে এলাকায় তিমিটি ধরা পড়েছে, তার কাছেই রাশিয়ার একটি নৌঘাঁটি রয়েছে। থ্রোমসো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিকার্টসন বলেন, তাঁর রুশ সহকর্মীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বিলুগা তিমির গায়ে ক্যামেরা লাগিয়ে কোনো পরীক্ষা এই মুহূর্তে চালাচ্ছেন না। তবে রুশ নৌবাহিনী বিলুগা তিমি প্রশিক্ষণ দিয়ে সামরিক কাজে নিয়োজিত করছে বলে এক রুশ সহকর্মী তাঁকে তথ্য দিয়েছেন বলে জানান রিকার্টসন।
রাশিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম গোভারিত মাস্কভা এ ঘটনায় রুশ কর্নেল ভিকতর বারানেতসের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। সেখানে কর্নেল ভিকতর বিলুগা তিমিকে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নিয়োগের কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তিমিকে গুপ্তচরবৃত্তিতে নিযুক্তই করব, নিশ্চয়ই তার গায়ে আমরা মোবাইল ফোন নম্বর লিখে রেখে যোগাযোগ করতে বলব না।’

সাংবাদিকের শত্রু-মিত্র by উদিসা ইসলাম

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। যখন দিবসটি পালিত হচ্ছে, তখন দেশের সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মনে করছে, স্বাধীন   সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হুমকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। শত্রুর সংখ্যা যত বাড়ছে, সাংবাদিকের মিত্র-সংখ্যাও ততটাই কমে আসছে। সাংবাদিক ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, এমন সংগঠনের অভিযোগ, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার চাপে সঠিক সাংবাদিকতা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি সাংবাদিক নেতারা দলীয় আনুগত্য প্রকাশ করার কারণে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার  নিশ্চিত করাও যায় না।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার প্রবণতাও বেড়েছে। সে কারণে গণমাধ্যমে সেলফ সেন্সরশিপের প্রবণতাও বাড়ছে বলে মনে করেন সংবাদব্যক্তিত্বরা।
এদিকে, প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’-এর১৮ এপ্রিল প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে চার ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। সূচকে থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ ও সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
আইনে বাধা সাংবাদিকতা
‘আর্টিকেল নাইন্টিন’ নামের একটি সংগঠন জানিয়েছে, ২০১৮ সালে মতপ্রকাশজনিত ১৩১টি ঘটনায় আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে।  প্রতিবেদন বলছে, শুধু মতপ্রকাশজনিত কারণে মোট ৩১টি ফৌজদারি (মানহানি) মামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ৭১টি মামলা করা হয়েছে আইসিটিঅ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায়। ৯টি বেআইনি আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাসহ ২০টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন বলছে, ডিজিটাল অ্যাক্টের মাধ্যমে অনলাইন মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও সাময়িক বন্ধ বা ব্লক করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে ২০১৮ সালে। এ ধরনের মোট ৮টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। উদাহরণ হিসেবে ‘দ্য ডেইলি স্টার’, ‘এশিয়ান এজ’ ও ‘বিডিনিউজ ২৪’-এর উল্লেখ করা যায়।
গত কয়েক বছরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিক হয়রানির ঘটনা ঘটেছে অনেকগুলো৷ ২০১৫ সালে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে সিনিয়র সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হয়৷ এরপর বিডিনিউজ যমুনা টেলিভিশনসহ বেশকিছু পত্রিকার সাংবাদিকরা এই মামলার মুখোমুখি হয়েছে।
আইনি বাধা বিষয়ে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান  বলেন, ‘সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণ করতে এ ধরনের আইন বরাবরই ছিল। এখন ডিজিটাল সময় বলে ডিজিটাল আইন দরকার হয়েছে।’
সেল্ফ সেন্সরশিপ
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের চাপে পড়ে অনেক সময় সাংবাদিকরাই সেল্ফ সেন্সরশিপ অবলম্বন করেন। অনেকসময় চাকরি হারানোর ভয়ে অফিসের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ বেশি, তাদের বিষয়েও প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে নিজেরাই সতর্ক হয়ে যায়।
২০১৭ সালের ১১ জুন বিডিনিউজে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করায় গোলাম মুজতবা ধ্রুব'র বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন মানিকগঞ্জের এক বিচারক। এ ঘটনার  দুই বছর পরও সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট লেখার সময় অজানা অস্বস্তি পেয়ে বসে বলে মন্তব্য করেন  গোলাম মুজতা। তিনি বলেন, সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিউজ ছাড়ি। ওই সময়ের হয়রানির কথা মনে করে যেকোনো সংবেদনশীল নিউজ লিখতে আজও অজানা অস্বস্তি কাজ করে।’
অযোগ্য নেতাদের কারণে সাংবাদিকরা এই ভয়-ভীতি থেকে নিজেদের বের করে আনতে পারে না বলে মনে করেন ডিবিসি টেলিভিশনের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু। তিনি বলেন, ‘একসময় সাংবাদিকদের চাকরি গেলে ইউনিয়নের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ মালিকদের ছিল না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি নানা কারণেই যেতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানছে কি না, সেটা দেখার লোক ছিল। কিন্তু এখন বেশিরভাগ মালিকপক্ষ নিয়মের ধার ধারে না। কারণ ইউনিয়ন দুর্বল, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য নেই।’
সাংবাদিকদের আনুগত্য
অন্যান্য পেশার মতো রাজনৈতিক কারণে সাংবাদিকরাও এখন দ্বিধাবিভক্ত। আর এ কারণে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের চাপ বেশি হওয়া স্বাভাবিক। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটি দেওয়া হয় না। নেই চাকরির নিরাপত্তাও। শারীরিক নিরাপত্তার কথাও ভাবা হয় না। কিন্তু বিষয়গুলো বলার কেউ নেই।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিককে তার চাকরি হারাতে হয় কেবল প্রতিষ্ঠিত ও নেতা সাংবাদিকদের দলীয় আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই। সাংবাদিকরা বলছেন, আনুগত্য নিশ্চিত করা গেলে নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হয়। অপেশাদার আচরণ ও দলীয় সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি নির্বাচনি প্রচারণার দলীয় কমিটিতেও সাংবাদিকদের যুক্ত হতে দেখেছি। পেশাদার সাংবাদিক এভাবে দলীয় কমিটিতে যুক্ত হতে পারেন না।’
সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘এখন অনেক অনলাইন, অনেক সংবাদপত্র। এরমধ্যে অনেকেই সংবাদপত্র করার মৌলিক ধারণা থেকে সংবাদপত্র করেন না।’
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. কাবেরী গায়েন বলেন, ‘যে দেশে সাংবাদিকরা নিজেরাই নিজেদের সেন্সর করেন, সে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম শব্দটির কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। আর যে গুটিকয়েক সাংবাদিক মুক্ত থাকতে চান, তাদের নানাভাবে হয়রানি করে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিকতার সঙ্গে যু্ক্তরা যখন হয় কোনো কিছু প্রত্যাশা করেন, না হয় ভীত থাকেন; তখন মুক্ত সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। আমাদের গণমাধ্যম প্রত্যাশা, লোভ ও ভয়ের মধ্যে পড়ে মুক্ত সাংবাদিকতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।’
সরকার, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক নেতা ও বিজ্ঞাপনকে স্বাধীন সাংবাদিকার পথে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করতে চান ডিবিসি টেলিভিশনের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মুক্ত সাংবাদিকতায় স্টাবলিশমেন্ট বড় বাধা। যারা নিজেদের দুর্নীতি ও গণবিরোধী কাজ চেপে রাখতে নানা আইন তৈরি করে, আমলাতন্ত্র কাজের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর মালিকপক্ষ ‘পুঁজি রক্ষার জন্য’ সর্বত্র আপস করে এবং রাজনীতিকদের প্রতি আনুগত্য দেখায়।’’
গণমাধ্যমের মালিকানার ধরনটাও ঝামেলার উল্লেখ করে জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেন, ‘মালিকানার ধরনটা প্রফেশনাল নয়। ব্যবসার স্বার্থে বিভিন্ন করপোরেট হাউজের কাছে মাথা নত করে তারা টিকে থাকে। সবশেষে বলতে চাই, যে ভয়াবহতার মুখোমুখি আজকের সাংবাদিকতা, সেটি হলো বিজ্ঞাপন সংস্থার আধিপত্য। তারা এতদিন কেবল রিপোর্টের কনসেপ্ট হাজির করতেন। এখন তারা ভাষাও নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। অর্থের কারণে গণমাধ্যমগুলো সেগুলো প্রচার করছে।’
সাংবাদিকদের শত্রুমিত্র নিয়ে আলাপকালে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাংবাদিকের প্রধান শত্রু সাংবাদিকরা, মিত্রও তারা।’
বিষয়টির ব্যাখ্যা করে এই সাংবাদিক বলেন, ‘অনেকেই তাদের ভূমিকা দিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষতি করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছেন। তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে দুরূহ করে চলেছেন। আবার এরমধ্যে অনেকেই নিজের শ্রম মেধা দিয়ে সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করার লড়াইও অব্যাহত রেখেছেন।’
সাংবাদিকতার ক্লাসিক্যাল কিছু শত্রু আছে উল্লেখ করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্টাবলিশমেন্ট, বড় পুঁজি, রাষ্ট্রক্ষমতা, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, বিত্তশালী অসৎ ও বৃহৎ ব্যবসায়ীরা এই তালিকায় রয়েছে। আর মিত্র সাধারণ মানুষ, সিভিল সোসাইটি, গবেষক—যারা আমাদের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করে।’ তবে শত্রুমিত্র বিষয়টি স্থায়ী কিছু নয় বলেও তিনি মনে করেন।

রাতজাগা জীবন তাঁদের by মো. আল-আমিন

>>গাজীপুরের টঙ্গী বাজার এলাকার একটি মার্কেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে এই নৈশপ্রহরী। রোববার রাতে তোলা। ছবি: প্রথম আলো।
মনু মিয়ার বয়স ৬৪ বছর। চুল-দাড়ি পাকা। চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট। এই বয়সে তাঁর অবসরে থাকার কথা। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তিনি এখন নৈশপ্রহরী। রাত কাটে পরের সম্পদ পাহারা দিয়ে, কখনো খানিকটা বসে, কখনো দাঁড়িয়ে।
শুধু মনু মিয়া নন, গাজীপুর নগরের বিভিন্ন এলাকায় আছেন এমন অনেক নৈশপ্রহরী, যাঁদের অনেকের বয়স ৬০ থেকে ৭০–এর মধ্যে। পরিবারের খরচ, সন্তানের লেখাপড়া আর চিকিৎসাসহ নানা কারণে তাঁদের করতে হচ্ছে রাত জাগার চাকরি। রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে পাহারা দিতে হয় পরের সম্পদ। থাকে প্রতিমুহূর্তে বিপদের ঝুঁকি।
রাত পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী বাজার, আনারকলি রোড, মধুমিতা রোড, টঙ্গী বিসিক, পাগাড়, মিরাশপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কিছু নৈশপ্রহরীর দেখা পাওয়া যায়। তাঁদের সবার হাতে লাঠি, টর্চ ও বাঁশি। কারও কারও পরনে কোম্পানির ইউনিফরম। সবাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, মার্কেটের সামনে পায়চারি করছেন। রাত গভীর হলেই একটু পরপর বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করছেন।
টঙ্গী বাজার এলাকায় গাজী মার্কেটের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন মনু মিয়া। বাঁ হাতে টর্চ আর ডান হাতে লাঠি নিয়ে বসেছিলেন একটি চেয়ারে। এদিক-ওদিক বারবার তাকাচ্ছিলেন। কথা হলে তিনি বলেন, রাত হইলেই খারাপ মানুষের আনাগোনা বেশি বাড়ে। একটু অসতর্ক হইলেই চোর-ছিনতাইকারী হামলা চালায়। তাই সব সময় চোখ-কান খোলা রাখা লাগে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো সময় কাটে মনু মিয়ার। তবে ঝড়–বৃষ্টি হলেই পড়েন বেকায়দায়। রাতের অন্ধকারে কোথাও যেতে পারেন না। তাই বৃষ্টিতে অনেকটা ভিজেই রাত কাটাতে হয় তাঁকে। জানতে চাইলে অনেকটা গলা ধরে আসছিল মনু মিয়ার। তিনি বলেন, ‘কী করব? গরিব মানুষ। চাকরি না করলে পুরা পরিবার বইসা যাইব। পেটের দায়ে সব কষ্ট সহ্য কইরা চাকরি করতে হয়।’
একই অবস্থা মো. হারুন অর রশিদের। টঙ্গী মধুমিতা রোডের অগ্রণী টাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মী তিনি। প্রায় ৪০ বছর ধরে নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে নানা চড়াই-উতরাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু পরিবারের দিকে তাকিয়ে কখনোই চাকরি ছাড়েননি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাতে ডিউটি করলে নানাজনের নানা কথা শুনতে হয়। কেউ একটা গালি দিলেও হজম করি। কারণ, কিছু বললে আবার একা পাইয়া যেকোনো সময় আমার ওপর হামলা হইতে পারে। বিপদের তো হাত-পা নাই।’
সাধারণত বাসাবাড়ি, দোকান, মার্কেটের নৈশপ্রহরীরা নিরস্ত্র। হাতিয়ার হিসেবে হাতে থাকে শুধু লাঠি। খালি হাতে দায়িত্ব পালনে ভয় লাগে কি না, জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভয় তো লাগেই। কিন্তু কি করমু। পরিবারের দিকে তাকালে আর ভয় থাকে না। দুমুঠো খাবার আর সন্তানদের শিক্ষার আলো দিতেই চাকরি করতে হয়।’
এই নৈশপ্রহরীর বেতন পাঁচ-আট হাজার টাকার মধ্যে। যে টাকা পান, তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চলে তাঁদের। কখনো কখনো পান থেকে চুন খসলেই চাকরি হারানোর ভয় থাকে তাঁদের। নাম না প্রকাশের শর্তে একটি মার্কেটের এক নৈশপ্রহরী বলেন, ‘সব সময় চাকরি হারানোর ভয়ে থাকি। অনেক সময় বেতন আটকায় দেয়। কোনো কোনো মালিক গালিগালাজও করেন। সবকিছু সহ্য কইরাই চাকরি করতে হয়।’

যুক্তরাজ্যে টোয়েক কেলেঙ্কারি: শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা

ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ২০১৪ সালে নেওয়া সরকারের ওই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভোগান্তি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী বিদেশিরা। ঢালাও ওই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে এবার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আর্থিক খাত নজরদারিতে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও)।
শনিবার এক বিবৃতিতে এনএও বলেছে, উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির ফলে অভিবাসন বিভাগের সিদ্ধান্তগুলো সংসদ ও জনমনে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যে বসতি গড়া লোকদের অন্যায়ভাবে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে বিতাড়ন করাকে বলা হচ্ছে উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারি।
যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে বা ভিসা পরিবর্তন করতে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০১৪ সালে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখানো হয় যে ‘টেস্ট অব ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন’ (টোয়েক) পরীক্ষার কয়েকটি কেন্দ্রে জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। একজনের পরীক্ষা অন্যজন দিয়ে দিচ্ছে। এমন জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সরকার ওই পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিস’কে (ইটিএস) বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানায়। সংস্থাটি ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার পরীক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করে। অন্তত ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানায়। এরপর থেকে ভিসা বাড়াতে টোয়েক সনদ ব্যবহার করেছেন, এমন সবার ভিসা বাতিল করতে শুরু করে ব্রিটিশ অভিবাসন বিভাগ।
সেই সময়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন থেরেসা মে, তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে অভিবান নিয়ন্ত্রণে থেরেসা মের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির কারণেই উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির মতো বড় ধরনের অন্যায় ঘটে যায়।
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিতাড়ন করা হয়েছে ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে। আর পরীক্ষায় জালিয়াতির সুযোগ করে দেওয়ার কারণে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
কিন্তু শত শত বিদেশি শিক্ষার্থী সরকারের ওই ঢালাও সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফাতেমা চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, ২০১০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তাঁর ভিসা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দেশ ছেড়ে যেতে বলা হয়নি। কিন্তু তাঁর চাকরি করার অনুমতি নেই। সর্বজনীন বিনা মূল্যের চিকিৎসা সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত। যে কারণে গত বছর কেবল সন্তান জন্মদানের জন্য তাঁকে ১৪ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১৫ লাখ টাকা) হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশি আরেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদ রহমান বিবিসিকে বলেন, তিনি ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের আরেকটি পরীক্ষায় পাস করে সেই সনদ জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও অভিবাসন বিভাগ সন্তুষ্ট নয়। ২৯ বছর বয়সী ওয়াহিদ ২০১৪ সালে অ্যঙ্গলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি থেকে ‘মার্কেটিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়। ওয়াহিদ রহমান বলেন, তাঁর সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কাজ করতে পারছেন না, চিকিৎসা নিতে পারছেন না, এ যেন এক মুক্ত কারাগার।
এসব শিক্ষার্থী জালিয়াতির অভিযোগ কোনোভাবেই মানতে পারছেন না। এ অভিযোগ থেকে নিজেদের নাম মুক্ত করতে চান। দেশটির লেবার দলীয় রাজনীতিক স্টিফেন টিমস বলেন, ঢালাও ভিসা বাতিলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।
ন্যাশনাল অডিট অফিস জানিয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে এবং অভিবাসন বিভাগ কতজনের ভিসা বাতিল করেছে, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখবে তারা।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় করণীয়

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বলা হচ্ছে চল্লিশ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্নিঝড়। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার সাড়ে তিন হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখার পাশাপাশি সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জরুরি করণীয় কি? আবহাওয়াবিদদের কথায় জেনে নিন:
১. ঝড়-জ্বলোচ্ছ্বাস প্রবণ বাংলাদেশে মূলত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
২. এ সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড় ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধস ঘটতে পারে।
৩. ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও গতিপথ অনুযায়ী বন্দরগুলোতে জারি করা হয় বিপদ সংকেত। সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
৪. ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সময় উপকূলের নিচু এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বসে প্লাবিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিচু এলাকায় পাকা দালানে থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। সুতরাং কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে দেরি না করে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়া উচিৎ।
৫. উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের আগে পাঠাতে হবে।
৬. আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় টর্চ লাইট, দেশলাইসহ মোমবাতি, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৭. ঘূর্ণিঝড়ের ‘চোখ’ বা কেন্দ্র উপকূলীয় এলাকা দিয়ে অতিক্রমের সময় কিছুটা সময় সব শান্ত হয়ে আসে।
তখন ঝড় শেষ ভেবে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়া চলবে না, কারণ ‘চোখ’ পেরিয়ে গেলে আবারও আগের শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালায় ঝড়। সুতরাং ঝড় সরে যাওয়ার বা থেমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র ত্যাগ করা উচিৎ হবে না।
৮. দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন।
৯. যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুন। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিন। ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত করতে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।
১০. জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকাল, দুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুন।
১১. ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে, তা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
১২. ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।

ফণীকে স্বাগত জানাচ্ছে এক গ্রামের মানুষ

ফণী আতঙ্ক বিরাজ করছে ভারতজুড়ে। বিভিন্ন রাজ্যে ইতোমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং উপকূলবর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম অন্ধ্র প্রদেশের বিজয়নগরাম। সেখানে খরা এবং তীব্র পানির সংকটে দিন কাটাচ্ছে মানুষ।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পানির সংকট নজীরবিহীন আকার ধারণ করেছে। গত ৫০ বছরে এমন ভয়াবহ সংকটে পড়েনি ওই গ্রামের মানুষ।
প্রতিদিন মাত্র দেড় কোটি লিটার পানি পায় সেখানকার মানুষ। কিন্তু, চার লাখ জনসংখ্যার জন্য সেখানে প্রতিদিন পানির প্রয়োজন সাড়ে চার কোটি লিটার। বিজয়নগরাম জেলায় অবস্থিত চম্পাবতী, ঝানঝাবতীসহ বেশিরভাগ নদীর পানিই শুকিয়ে গেছে।
এমন খরা আর তীব্র পানি সংকটের কারণে সেখানকার লোকজন ঘূর্ণিঝড় ফণীর জন্য অপেক্ষা করছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতে খরাপ্রবণ এলাকাটির পানি সংকট কমবে। সে কারণেই তারা ফণীকে স্বাগত জানাচ্ছে। যদিও জেলার বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে ঘূর্ণিঝড়।
ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও ঘূর্ণিঝড়কে আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন বিজয়নগরামের মানুষ। আগামী কয়েকদিন সেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদী-নালা পানিতে ভরে উঠবে এবং ভূগর্ভে পানির চাহিদা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজয়নগরামের কালেক্টর এম.হ্যারি জহরলাল বলেন, আগামী কয়েকদিনে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে জেলার বিভিন্ন স্থানে খাবার পানির সংকট কমে যাবে। তবে ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাকেও যথেষ্ঠ গুরুত্বে সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা কোন ঝুঁকি নিতে চাই না। বিভিন্ন স্থানে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বিজয়নগরামের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এ আর দামোদার বলেন, ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতিতে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী, দমকল বাহিনী, পুলিশ, এনডিআরএফ, নৌবাহিনী এবং অন্যান্য বিভাগের লোকজন।
বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড়টি ৪৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। শক্তি বাড়িয়ে ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার করে এগিয়ে আসছে মারাত্মক এই ঘূর্ণিঝড়। বুধবার সন্ধ্যায় পুরী থেকে এর দূরত্ব ছিল ৬১০ কিলোমিটার। আর কলকাতা এবং দিঘা থেকে এর দূরত্ব ছিল যথাক্রমে এক হাজার এবং ৮শ কিলোমিটার।

স্কুল থেকে ফেরার পথে ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আমিনুর

তিন সন্তানের জনক কর্তৃক যশোর শহরের খড়কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা জানতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জবানবন্দি নিতে ডাকলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ সময় অভিভাবকরা জড়িত আমিনুরকে আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। এদিকে ঘটনা আঁচ করতে পেরে পালিয়েছে ধর্ষক আমিনুর।
পুলিশ এই নরপিশাচকে আটকে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলে দাবি কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসানের। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আরা বেগম  ও সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী গত ২৮শে এপ্রিল পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় তারা পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে কথা বলে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনার সত্যতা জানতে গতকাল (বুধবার) মেয়েদের, তাদের অভিভাবকদের ও অভিযুক্ত আমিনুরকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়।
কয়েকটি মেয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। তাদের ধর্ষণ করা হয়েছে এবং একটি মেয়ে রক্ষা পেতে গাছে উঠে যায় বলে জানায়। এরপর খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে পুলিশ আসে এবং মেয়েদের থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমিনুর ঘটনা বুঝতে পেরে পালিয়েছে।
তারা আরো বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তারা অবহিত করেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার তিন সন্তানের জনক আমিনুর স্কুল ফেরত মেয়েদের চকলেট ও ফল খাবার প্রলোভন দিয়ে পাশের বাগানে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালাতো।
এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দা আনারুল ইসলাম, শুকুর আলী, সাগর হোসেন, বিল্লাল হোসেন, রেশমা বেগম, কামরুন নাহার ও নুরুননাহারসহ কয়েকজন বলেন, এখন পর্যন্ত ৫/৬টি মেয়ের বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী একটি মেয়েও রয়েছে। এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তারা আরো বলেন, বুধবার সকাল থেকে আমিনুরকে এলাকায় দেখা যায়নি। তাদের ধারণা সে পালিয়েছে। তারা আমিনুরকে আটক ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ৫ শিশুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের ও অভিভাবকদের বক্তব্য গ্রহণ করে পুলিশ। এরপর যৌন নিপীড়নের শিকার প্রতিবন্ধী শিশুটির বোন রেশমাকে বাদী করে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ইতিমধ্যে মামলা নেয়া হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত আমিনুরকে আটকে সবধনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে নির্যাতনের শিকার শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হবে।

অন্ধ্র থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ফণী

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তম থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ঠ প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। মারাত্মক ঝোড়োবাতাস ও বৃষ্টির সঙ্গে আজ রাতেই প্রদেশটিতে আঘাত হানবে ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়। উপকূলের খুব কাছাকাছি এখন অবস্থান করছে এটি।
ভারতীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ১৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কেন্দ্রে এখন অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বিশাখাপত্তম থেকে ১৫০ কিলোমিটার এবং ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের পূরী উপকূল থেকে এর দূরত্ব এখন ৩০০ কিলোমিটার।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী মারাত্মক শক্তি সঞ্চয় করছে। গত একদিনে এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত ঘূর্ণিঝড় যদি উল্টোদিকে অগ্রসর হতে শুরু করে তাহলে তাদের গতি বাড়তে থাকে। তাই ফণী দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সারারাত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানবে ফণী। প্রচণ্ড শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন ভারতের বিশাখাপত্তম উপকূলের খুব কাছকাছি অবস্থান করছে।
শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানার পড় মারাত্মক এই ঘূর্ণিঝড় ফণী স্থলভাগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোবে। ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতা থেকে ফণী যে দুরুত্বে অবস্থান করছে তাতে করে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে বাংলাদেশে প্রবশে করবে ফণী।
ইতোমধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ট্যুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তীব্র হাওয়া এবং বৃষ্টির জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক পোল ও গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছাড়ছেন তারা।

সৌদিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের সাগরা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো চারজন। বুধবার (১ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাজধানী রিয়াদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের শহর সাগরায় যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাগরা প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়।
গাড়িতে চালকসহ মোট ১৭ জন ছিলেন বলে জানা গেছে।
১১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে সাগরা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে।
দুর্ঘটনায় আহত নাজমুল নামের এক বাংলাদেশি জানান, আমরা দু'জন সুস্থ আছি। তিনজনের অবস্থা একটু খারাপ। ১০ থেকে ১১ জন মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, মাইক্রোবাসে ১৭ জন ছিলেন। ঘটনার আগের দিন (৩০ এপ্রিল) রাতে দাম্মাম থেকে মদিনার দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টায় হঠাৎ গাড়ির চাকা বার্স্ট হয়। গাড়িটা ডিগবাজি খেয়ে পড়ে যায়। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তারা সবাই আল ফারুক ক্যাটারিং এ কাজ করেন বলে জানান নাজমুল।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার দু'দিন হতে চললো এখন পর্যন কেউ আসেনি।
এদিকে এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে ফোন দিয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ধেয়ে আসছে ‘ফণী’, প্রস্তুত বাংলাদেশ

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আরও সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত ও উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকেল নাগাদ ভারতের ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরবর্তীতে ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে ‘ফণী’।
এ দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সম্ভাব্য আঘাতে মানুষের প্রাণহানি রোধ এবং সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করছি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেও তেমন বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবে না।’ তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ‘ফণী’র বর্তমান অবস্থান ও গতিবিধি দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর, অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক মনিটর করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এ দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।