Sunday, November 9, 2025
ইসরাইলের ভূগর্ভস্থ কারাগার: ফিলিস্তিনি বন্দিরা কখনও সূর্যের আলো দেখেন না
রাকেফেত কারাগারটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে ইসরাইলের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের জন্য নির্মিত হয়। কিন্তু কয়েক বছর পর এটি ‘অমানবিক’ বলে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরাইলের অতি ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির কারাগারটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। কারাগারের কক্ষ, ছোট্ট ব্যায়ামক্ষেত্র এবং আইনজীবীদের সাক্ষাতের ঘর- সবই ভূগর্ভে। সেখানে কোনো প্রাকৃতিক আলো পৌঁছায় না। ১৯৮৫ সালে বন্ধ হওয়ার আগে রাকেফেত কারাগারে সর্বোচ্চ ১৫ জন বন্দি থাকতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি বন্দি সেখানে আটকে আছেন বলে পিসিএটিআইয়ের হাতে থাকা সরকারি তথ্য জানায়। অক্টোবরের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরাইল গাজা থেকে আটক ১৭০০ ফিলিস্তিনিকে অভিযোগ ছাড়া মুক্তি দেয়। পাশাপাশি আরও ২৫০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আটক অভিযান এত ব্যাপক ছিল যে মুক্তির পরও কমপক্ষে ১০০০ মানুষ এখনও একই অবস্থায় বন্দি আছেন। পিসিএটিআই বলেছে, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও গাজার ফিলিস্তিনিরা এখনো এমন আইনগতভাবে বিতর্কিত ও সহিংস যুদ্ধাবস্থার অধীনে বন্দি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কার্যত নির্যাতনের শামিল।
বেন গাভির দাবি করেন, রাকেফেত কারাগারকে পুনর্গঠন করা হয়েছে ‘নুখবা’ (অর্থাৎ এলিট) হামাস যোদ্ধা ও হিজবুল্লাহ বাহিনীর বিশেষ সদস্যদের রাখার জন্য। তবে পিসিএটিআই’র আইনজীবীরা সেপ্টেম্বরে যে দু’জন বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তারা কেউই যোদ্ধা নন। তাদের একজন ৩৪ বছর বয়সী নার্স। তাকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কর্মরত অবস্থায় আটক করা হয়। অন্যজন ১৮ বছর বয়সী কিশোর। তাকে অক্টোবর ২০২৪-এ ইসরাইলি চেকপোস্ট থেকে ধরে নেয়া হয়। আইনজীবী জানান, আমার সঙ্গে দেখা হওয়া তরুণটি ছিল এক সাধারণ খাবার বিক্রেতা। তাকে কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তার চেকপোস্ট থেকে তুলে নেয়া হয়।
রাকেফেত (হিব্রু শব্দ, অর্থ ‘সাইক্লামেন ফুল’) কারাগারে থাকা অন্য বন্দিদের বিষয়ে ইসরাইলি কারাগার কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে শ্রেণিবদ্ধ সরকারি তথ্য ইঙ্গিত করে, গাজার যেসব ফিলিস্তিনিকে যুদ্ধকালে আটক করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে রায় দেয়, ভবিষ্যৎ বন্দি বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ আটক রাখা আইনসম্মত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এখন জীবিত বন্দিদের সঙ্গেও একই কাজ করা হচ্ছে। পিসিএটিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক তাল স্টেইনার বলেন, ইসরাইলের সব কারাগারেই ফিলিস্তিনিদের জন্য পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়াবহ করা হয়েছে। তবে রাকেফেতে নির্যাতনের ধরন আরও অনন্য ও নিষ্ঠুর। মাসের পর মাস ভূগর্ভে আলোহীন অবস্থায় থাকা মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়ানক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, এমন অন্ধকার, দমবন্ধ পরিবেশে মানসিকভাবে অটুট থাকা প্রায় অসম্ভব। এটি ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম এবং ভিটামিন ডি উৎপাদন ব্যাহত করে। স্টেইনার নিজেও বহু কারাগার পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু রামলার নিকটবর্তী রাকেফেতের অস্তিত্ব তিনি আগে কখনও শুনেননি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তালেবান, দেওবন্দ এবং ভারতের ‘ধর্মীয় কূটনীতি’ by মনযূরুল হক
১০ অক্টোবর। শরতের বাতাসে দিল্লির পাতা ঝরছে। ভারতের মাটিতে পা রাখলেন কাবুলের প্রভাবশালী নেতা মৌলভি আমির খান মুত্তাকি, যিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক ইমারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতে তাঁর ছয় দিনের সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির নতুন মানচিত্র আঁকছে।
দিল্লিতে নেমে মুক্তাকি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বসলেন নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হলো, কাবুলে ভারত আবার দূতাবাস খুলবে, যা তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে বন্ধ। এরপর ১১ অক্টোবর মুত্তাকি গেলেন সাহারানপুরের দারুল উলুম দেওবন্দে; যা ইসলামিক ইমারতের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার প্রথম এই ভারতীয় মাদ্রাসা পরিদর্শন।
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কীভাবে কট্টর ইসলামপন্থী তালেবান সরকারের একজন মন্ত্রীকে গ্রহণ করল—এ রকম প্রশ্ন নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে নিশ্চয়ই। কাবুলের সঙ্গে দিল্লি এমন এক সময়ে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের দূরত্ব বাড়ছে, সীমান্তে রক্তাক্ত সংঘর্ষ চলছে। তাহলে দেওবন্দ পরিদর্শন কি শুধু প্রতীকী, নাকি এর মধ্যে কোনো গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিতও রয়েছে?
২.
২০২১ সালের আগস্ট তো বেশি দূরের সময় নয়। মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর তালেবান ক্ষমতায় এলে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারত। চার বছর ‘সম্পর্কহীন’ থাকার পর তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবার দিল্লিতে এসে বললেন, অমৃতসর-কাবুল ফ্লাইট শুরু হবে শিগগিরই। চার দশকের যুদ্ধে ক্লান্ত আফগানিস্তানের মানুষ উন্নয়নের জন্য উদ্গ্রীব।
আফগানিস্তানের আগের সরকারের সময় ভারত সেখানে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে সালমা ড্যাম, জারঞ্জ-দেলারাম হাইওয়ে ও পার্লামেন্ট ভবনের মতো প্রকল্পে। এবার মুত্তাকি এসে আফগানিস্তানের খনিজ ক্ষেত্রেও ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, এটা ‘তালেবান ২.০’-এর ইঙ্গিত। আসলেই কি তাই, নাকি এটা ‘শত্রুর শত্রু হলো বন্ধু’ কৌশলের খেলা? ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তান, যারা এখন আফগানিস্তানের ইসলামিক ইমারতের শত্রু।
বোঝার জন্য বলি, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অনেকটাই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনীয়। ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছে বটে; কিন্তু নানা যৌক্তিক কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব রয়েছে। কিন্তু ভারত ছাড়া আমাদের আবার চলেও না। চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণ এমনকি ঈদের বাজার করতে ভারতেই ভরসা ছিল এতকাল; এমনকি বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদেরও ‘শেষ আশ্রয়স্থল’ ভারত। বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের যদিও আগ্রাসী ভারতের প্রতি পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু দেওবন্দ মাদ্রাসার কারণে ভারতের আলেম-ওলামার সঙ্গে তাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগও রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশে বড় কোনো ইসলামি সম্মেলন মানেই ভারতের কোনো আলেমের আগমন।
ঠিক একই চিত্র আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। ব্রিটিশবিরোধী, সোভিয়েতবিরোধী বা ইঙ্গ-মার্কিনবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তান লাখ লাখ আফগান মুহাজিরের বড় আশ্রয়স্থল ছিল। নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক আফগানিস্তানের জন্য যেভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তা একাত্তরে বাংলাদেশের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনীয়।
কিন্তু ব্রিটিশ ছকে আঁকা ডুরান্ড লাইন নিয়ে জন্মদাগের মতো গেঁথে আছে দুই দেশের আজন্ম ঝগড়া। পাকিস্তান সেখানে আফগানিস্তানের প্রতি তেমনই আধিপত্যবাদী, ভারত যেমন ফারাক্কা বিরোধ বা তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি। অথচ আফগানিস্তানের মধ্যবিত্তের শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে বাজারসদাইয়ে নির্ভরতার জায়গা পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তানের ‘দেওবন্দি’ আলেমরাও আফগানিস্তানে বেশ জনপ্রিয়।
৩.
স্বভাবতই তালেবান আর পাকিস্তান ছিল ঘনিষ্ঠ। পাকিস্তানের মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদা থেকে মোল্লা ওমরের মতো তালেবান নেতারা। গত কয়েক দশকের যুদ্ধে পাকিস্তানের মাটি তাঁদের নিরাপদ আবাস ছিল—এটা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনি ২০০১ সালে তালেবানকে হটাতে পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ছেড়ে দিয়েছিল—এটাও বাস্তব। ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আমেরিকা ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে বোমা ফেলেছে; তখন ন্যাটোর ৭০ শতাংশ সরবরাহ গেছে পাকিস্তান দিয়ে। বিনিময়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ‘অনুদান’ নিয়ে আফগানদের গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠাতে সাহায্য করেছে পাকিস্তান।
সেই সময় পাকিস্তান ভারতের প্রভাব ঠেকাতে আফগানিস্তানকে ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ হিসেবে দেখত। লাখো আফগান মুহাজিরকে পাকিস্তান থেকে বের করে দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও স্বীকৃতিহীন একটি দেশে পাঠানোর মাধ্যমে পাকিস্তান দুই দেশের মানুষের সম্পর্ককে আরও বিষ ঢেলেছে। পাকিস্তান একসময় তালেবান নেতৃত্বকে আশ্রয় দিয়েছিল আর এখন টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) নেতাদের হত্যার জন্য খুঁজছে। পাকিস্তান সরকারের এই অবস্থানকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করছে। এর ফলে সংঘর্ষ বাধাটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
৯ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে কাবুল, খোস্ত, জালালাবাদে। পাল্টা জবাব দিয়েছে তালেবানও। তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি তখন সফর করছেন পাকিস্তানের ‘চিরশত্রু দেশ’ ভারতে। এরই মধ্যে তিনি যান ভারতের সাহারানপুরে অবস্থিত বিখ্যাত দেওবন্দে।
৪.
দারুল উলুম দেওবন্দকে বলা যায় ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম পুনর্জাগরণের প্রতীক। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধে দেওবন্দিরা ছিলেন সামনের সারিতে। আফগান ছাত্ররা দেওবন্দে পড়তে আসতেন। ফিরে গিয়ে তাঁরা কাবুল ও কান্দাহারে মাদ্রাসা গড়তেন; যা আজও আফগান ধর্মীয় জীবনে ছাপ ফেলে চলেছে। তখন এই যোগাযোগ ছিল শুধু শিক্ষার, রাষ্ট্রীয় নয়।
১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর পাকিস্তানের দেওবন্দি মাদ্রাসাগুলো থেকে হাজারো শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে গিয়ে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে শরিক হন। এর পর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে দেওবন্দের যোগাযোগ হতে থাকে পাকিস্তানের মাধ্যমে। আফগানিস্তানের ইসলামপ্রিয় মানুষ তখন থেকে ভারতকেও পাকিস্তানের চোখ দিয়ে দেখা শুরু করে। তালেবান গঠিত হয় এরও অন্তত দেড় দশক পর।
এটা বোঝা জরুরি যে দেওবন্দের যে চিন্তাধারা তালেবানকে প্রভাবিত করেছে, সেটি এসেছে পাকিস্তানের ‘ছাঁকনি’ দিয়ে; যেখানে ধর্মীয় ন্যারেটিভের সঙ্গে পাকিস্তানের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির মিশেল থাকাটাই স্বাভাবিক।
পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের বিরোধ যদিও দেওবন্দি চিন্তার পাকিস্তানি সংস্করণ নিয়ে নয়; এটা নিছকই রাষ্ট্রের প্রশ্ন। কিন্তু আফগানিস্তানের রাষ্ট্রটা চালায় এখন দেওবন্দ অনুসারীরা, পাকিস্তানে তা নয়; বরং রাষ্ট্রগঠনের শুরুতেই দেওবন্দের দাবিকে পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন দেওবন্দের শাব্বির আহমদ উসমানি, যিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খানের উপস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে পাকিস্তানকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে, যা আদতে নাকচ হয়ে যায়।
পাকিস্তানের দেওবন্দি আলেমদের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক কিন্তু মন্দ নয়। হিবাতুল্লাহ আখুনজাদার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রভাবশালী আলেম তাকি উসমানির পত্রবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে; যেখানে তিনি মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে আফগান সরকারের নীতি বদলানোর অনুরোধ করেছেন।
আরেকজন প্রভাবশালী দেওবন্দি আলেম ছিলেন সামিউল হক হক্কানি; যাঁর মাদ্রাসা থেকে মোল্লা ওমরসহ শীর্ষ অনেক তালেবান নেতা লেখাপড়া করেছেন। হক্কানি পাকিস্তানের দুবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের রাজনৈতিক দলের প্রধান। এই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলটি গঠিত হয় শাব্বির আহমদ উসমানির নেতৃত্বে দেওবন্দ প্রভাবিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ থেকে। উসমানি তখন পাকিস্তানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করেন আর জমিয়ত ছিল অখণ্ড ভারত আন্দোলনের সমর্থক। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এখনো ভারতে দেওবন্দিদের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠন।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি দেওবন্দ মাদ্রাসা পরিদর্শন করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এই দলের বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতীয় আলেমদের বন্ধন শক্তিশালী করা। এভাবে প্রথমবারের মতো দেওবন্দ মাদ্রাসার সঙ্গে এবং দেওবন্দি ভারতীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক রচিত হলো, পাকিস্তানের ছায়ার বাইরে গিয়ে।
ভারত সরকারের তরফ থেকে এটি একধরনের কূটনৈতিক সফলতা; যার মধ্য দিয়ে তারা আফগানিস্তানে তাদের বিনিয়োগ রক্ষা এবং পাকিস্তানের প্রভাব থেকে তালেবানকে মুক্ত রাখার বিশাল সম্ভাবনা ছাড়াও ধর্মীয় কূটনীতির প্রশস্ত পথ পেল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তালেবানের পাকিস্তানকেন্দ্রিক ‘দেওবন্দি’ থেকে ভারতীয় মূলের দিকে ফিরে আসার সংকেত। বোঝা যায়, তারা পাকিস্তানের ছায়া থেকে মুক্তি চাইছে। মুত্তাকি তাই সশরীর দেওবন্দে গিয়ে বললেন, ‘আমরা আপনাদের ঐতিহ্যের সন্তান।’
৫.
ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেমনই হোক, ধর্মীয় কূটনীতিতে বরাবরই কৌশলী। ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং কাশ্মীরের মুসলিমদের নিপীড়ক হয়েও ভারত এখনো আরব দেশগুলোসহ বেশির ভাগ মুসলিম দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে; বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করছে; মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের বিশাল শ্রমবাজার।
একাত্তরে যখন এ দেশের ইসলামপন্থীদের একাংশ মুক্তিযুদ্ধকে ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ পাকিস্তান ভাঙার জন্য ভারতের ষড়যন্ত্র মনে করেছিল, তখন ভারতের ধর্মীয় কূটনীতির দায়িত্ব পালন করেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা আসআদ মাদানি। তিনি এ দেশের আলেমদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকতে উৎসাহ দেন এবং ভারতের মুসলমান সমাজে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন।
বাংলাদেশের দেওবন্দি আলেম মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জি (হাফেজ্জি হুজুর) এই সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে জালেম ঘোষণা করেন এবং বলেন, এই যুদ্ধ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীও ছিলেন দেওবন্দ থেকে পড়া মাওলানা।
লক্ষণীয়, বিজেপি সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় কাশ্মীরি জনতা যখন অস্থির হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম বরাবরের মতো কাশ্মীরিদের পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, তখনো ভারতের সার্বভৌমত্বের যুক্তি দিয়ে বিজেপি সরকারের নীতিকে সমর্থন করেন জমিয়ত নেতা মাহমুদ মাদানি। তিনি ধর্মীয় জায়গা থেকে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ধর্ম তার ডান চোখ হলে দেশ তার বাঁ চোখ। এবারও ধর্মীয় কূটনীতির পরীক্ষায় সফল হয় ভারত। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ দিয়ে ‘কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলিয়ে নিতে সক্ষম হয় তারা।
ফলে দেওবন্দপন্থী আফগান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ভারতের জন্যও একটি সুযোগ। ভারত তাদের বলতে পারছে, তারা কখনো আফগানিস্তানকে শোষণ করেনি—সোভিয়েত যুগেও নয়; বরং মুজাহিদীনের আমলে প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দিন রব্বানিকে সাহায্য করেছে ভারত। কারজাই আমলে তিন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে ‘নন-ইন্টারফেয়ার’ নীতিতে। মুত্তাকির তাই ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে খনিজ, কৃষি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানাতে সংকোচ হয়নি।
দেওবন্দ এখানে ভারতের দিক থেকে একটি চাবি বটে। তবে আফগানিস্তানের দিক থেকে ভাবলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার গুলতি—বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া এবং দেওবন্দের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে কঠোর ইসলামি আইন বাস্তবায়নের নৈতিক শক্তি অর্জন। উপরি হিসেবে পাচ্ছে পাকিস্তানের একচ্ছত্র নির্ভরতা কাটানোর বিকল্প পথ; আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পরিচয় বদলানোর গরজও আছে তাদের।
মূলত দুই দেশই আটকা পড়েছে ‘ফোর ডি’র ফ্রেমওয়ার্কে—ডিপ্লোমেসি (দূতাবাস ও বিমান চলাচল), ডেভেলপমেন্ট (প্রকল্প মেরামত), ডায়ালগ আর দেওবন্দ—যা পাকিস্তানের হার্ড পাওয়ারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
বাংলাদেশের জনগণ যেমন ক্ষণে ক্ষণে ভারতকে বলার চেষ্টা করছে, ‘মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করার দোহাই দিয়ে চিরকাল আধিপত্য করা যায় না’, তেমনি আফগান জনগণেরও পাকিস্তানকে বলার সময় এসেছে, ‘আফগানিস্তান কেবল পাকিস্তানের খেলার মাঠ নয়।’
আসল কথা হলো, ভারত হোক কিংবা পাকিস্তান, আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাইলে আধিপত্যের নীতি বাদ দিতে হবে। দেখার বিষয় হলো, যে দেওবন্দি চিন্তাধারাকে এত দিন ধরে বলা হয়েছে অকেজো, তা নতুন করে এ অঞ্চলে শান্তির দিগন্ত দেখাতে পারে কিনা?
● মনযূরুল হক, লেখক ও সাংবাদিক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। ১১ অক্টোবর ২০২৫ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক কক্ষের বাড়ি থেকে ‘রাজপ্রাসাদে’ মামদানি
‘আমি আর আমার স্ত্রী এখন ভাবছি, এক শোবার ঘরের ফ্ল্যাটটা আমাদের জন্য একটু ছোট হয়ে যাচ্ছে,’ সম্প্রতি ‘দ্য নিউইয়র্কার রেডিও আওয়ার’–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি এ কথা বলেন। এ সময় ওই ভাড়া বাসার পানির লাইনের সমস্যার কথা বলেন।
এখন মামদানি যদি মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে উঠতে রাজি হন, তবে আর এমন দৈনন্দিন সমস্যা তাঁকে ভোগাবে না, তা নিশ্চিন্তেই বলা যায়। তাঁর নতুন বাসা হবে অনেক প্রশস্ত ও জাঁকজমকপূর্ণ।
কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় মামদানির বর্তমান বাসা একটি সাধারণ, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট। আর গ্রেসি ম্যানশন হলো ২২৬ বছরের পুরোনো, ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের এক প্রাসাদ। সেখানে ঝকঝকে আয়না, ঝাড়বাতির আলো, মেহগনি কাঠের দরজা, আপেল ও ডুমুরগাছঘেরা বিশাল লন, আর সবজিবাগান—সবই আছে।
দান্তে ডি ব্লাসিও, বাবা বিল ডি ব্লাসিও নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার সময় কিশোর ছিলেন। ২০১৪ সালে এই গ্রেসি ম্যানশনে পরিবারের সঙ্গে উঠেছিলেন দান্তে। বলেন, ‘আমি নিজেকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভাগ্যবান ছেলে মনে করতাম।’ আরও বলেন, ‘নিউইয়র্কে বেড়ে উঠে কোনো জায়গা পেলে সেটা হালকাভাবে নেওয়া যায় না। হঠাৎ করেই একটা লন আর একটা নাচঘর পেয়ে গেলে তো কথাই নেই।’
‘তবে এই বাড়িতে থাকা কিছুটা বিচ্ছিন্নতাও এনে দেয়,’ বলেন দান্তে। ‘নিউইয়র্কের জীবনের প্রতিদিনের বাস্তবতা—এর গৌরব আর অস্বস্তি। এ দুটো থেকেই আপনি দূরে চলে যান।’
গত কয়েক মাস ধরেই মামদানি বলেছেন, তিনি তাঁর বর্তমান ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে চান। কিন্তু বুধবার সকালে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি গ্রেসি ম্যানশনে উঠবেন? তখন তিনি নিরুত্তর থাকেন।
‘আমি এখনো জানি না, কোথায় থাকব,’ বুধবার টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন মামদানি। ‘তবে জানি, কোথায় কাজ করব—সেটা হচ্ছে সিটি হল।’
ওই দিনই পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি মজা করে বলেন, ‘গত রাতে আমার সুপারের কাছ থেকে একটা টেক্সট পেয়েছি। তবে গ্রেসি ম্যানশনই শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ মেয়রের ঠিকানা হয়—নিরাপত্তা আর বড় জমায়েত আয়োজনের সুবিধার কারণে; তাঁরা এটা পছন্দ করুন বা না করুন।’
এখানে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো। মামদানির বর্তমান অ্যাপার্টমেন্ট তাঁর সম্ভাব্য নতুন বাসা থেকে কতটা ভিন্ন, এসব উদাহরণ থেকে তা বোঝা যাবে।
তাপ পোহানো ও গরম পানির সুবিধা
২০১৮ সালে মামদানির কুইন্সের ফ্ল্যাটের ভাড়ার বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় সুবিধার কথা বলা হয়েছিল—‘তাপ পোহানো ও গরম পানির সুবিধা ভাড়ার মধ্যেই’। এটি নিউইয়র্কের আইনে বাধ্যতামূলক সুবিধা।
এ সুবিধাই শেষ নয়। আরও কিছু সুবিধা ছিল। ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে ছিল একটি জানালা, শোবার ঘরে দুটি আলমারি আর ভবনের ভেতরেই থাকতেন তত্ত্বাবধায়ক। নিজস্ব ওয়াশার–ড্রায়ার না থাকলেও ভবনে ছিল সাধারণ লন্ড্রি রুম।
১৯২৯ সালে নির্মিত হালকা ইটের এ নিচু ভবনে লিফট আছে, অ্যাস্টোরিয়ায় এটা বিরল। মামদানির প্রচারশিবির তাঁর ভাড়া ফ্ল্যাট নিয়ে কিছু বলতে চায়নি। অবশ্য, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা অনুমান করছেন, জায়গাটা সর্বোচ্চ ৮০০ বর্গফুটের।
পূর্ণকালীন শেফ ও বলরুম
অন্যদিকে গ্রেসি ম্যানশনকে একসময় নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক বর্ণনা করেছিলেন ‘লেবুর রঙের কেকের মতো প্রাসাদ’ হিসেবে। এটি কার্ল শুর্জ পার্কের ওপরে, এফডিআর ড্রাইভ (ম্যানহাটানের পূর্ব তীর ধরে চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক)–এর পাশে অবস্থিত। গ্রীষ্মে বারান্দা থেকে দেখা যায় ইস্ট রিভারের মনোরম দৃশ্য।
অফিসের কাজ শেষে মেয়রদের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে হয় এ প্রাসাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ফটক দিয়ে। সামনের দরজায় লাগানো আছে মেজুজা—ছোট একটি বাক্সে ইহুদি ধর্মগ্রন্থের কিছু বাণী–সংবলিত এক স্ক্রল। ১৯৭০–এর দশকের মেয়র আব্রাহাম বিম এটি প্রথম স্থাপন করেন।
নীল ও সোনালি রঙের কার্পেট বিছানো সিঁড়ি
নিচতলা অত্যন্ত সজ্জিত, খুবই ফেডারেল শৈলীর। মেয়রদের জন্য এখানে কোনো পরিবর্তন ঘটানোর সুযোগ নেই। ম্যানশনে একটি বিনোদনকক্ষও আছে; যার মধ্যে বিশাল চুলা। ১৯৬০-এর দশকে মেয়র জন লিন্ডসের সন্তানেরা এটি ব্যবহার করেছেন।
এ ছাড়া আছে বসার ঘর ও ডাইনিং কক্ষ। এ কক্ষের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে প্যারিসের বাগানের ছবি আঁকা ওয়ালপেপার। মেয়ররা চাইলে এখানেই খাবার খেতে পারেন, যা তৈরি করেন গ্রেসি ম্যানশনের পূর্ণকালীন রাঁধুনি। পাশে আছে ১৯৬৬ সালে খুলে দেওয়া নাচঘর।
ম্যানশনের ওপর তলায় রয়েছে পাঁচটি শোবার ঘর। আগে অনেক মেয়রই চেষ্টা করেছেন ম্যানশনের খুব আনুষ্ঠানিক এ অংশকে কিছুটা ঘরোয়া করার।
বিল ডি ব্লাসিওর পরিবার একজন সজ্জাবিদ নিয়োগ করে বাসাটি আধুনিক করেছেন এবং একটি ঘরকে হোম অফিসে রূপান্তর করেছেন। বিম পরিবার আরেকটি ঘরকে খাবার ঘরের জন্য সাজিয়ে ছিল। সেখানে তাঁর স্ত্রী মাঝেমধ্যে মধ্যরাতে নাশতা করতেন।
নিচতলার জানালার কাচে লিন্ডস, রুডলফ জুলিয়ানি ও মাইকেল আর ব্লুমবার্গের সন্তানেরা তাঁদের নাম খোদাই করেছিলেন। সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর স্ত্রী শির্লেন ম্যাক্রেও তাঁর নাম লিখেছেন।
বড় সুবিধা: পার্টি আয়োজনের জায়গা
মামদানির এখনকার এক শয়নকক্ষের মতো ছোট ফ্ল্যাটে কোনো পার্টি আয়োজন করা সহজ নয়। কিন্তু গ্রেসি ম্যানশন পার্টির জন্যই তৈরি।
মেয়র এরিক অ্যাডামস চলতি বছর এ ম্যানশনে আরব, ইকুয়েডোরিয়ান ও গায়ানা-আমেরিকানদের সম্মান জানিয়ে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। এ ছাড়া ফ্লিট উইক, উইমেন্স হিস্ট্রি মান্থ ও নওরোজ উদ্যাপনে পার্টিও করেছিলেন।
অ্যাডামসের ছেলে, র্যাপার জর্ডান কোলম্যানও একবার ছুটির সময় পার্টি করেছিলেন এবং তাঁর নতুন অ্যালবামের গান পরিবেশন করেন।
দান্তে ডি ব্লাসিও মামদানিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তিনি বাড়িটিকে মিউজিয়ামের মতো না দেখে সত্যিই যেন ব্যবহার করেন।
‘অ্যাস্টোরিয়া’ বনাম ‘আপার ইস্ট সাইড’
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে মামদানির প্রতিনিধিত্ব করা এলাকা অ্যাস্টোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে শান্ত আবাসিক ব্লক, ওয়াটারফ্রন্ট পার্ক ও ভালো পাবলিক স্কুলের সুবিধা আছে। আশপাশের এলাকাতে থাকেন গ্রিস, মিসর ও মরক্কোর অভিবাসীরা। রয়েছে বড় লাতিনো জনগোষ্ঠীও। অ্যাস্টোরিয়া নিউইয়র্ক শহরের একটি সুন্দর, কিন্তু খুব বেশি বিলাসী নয়, এমন এলাকা।
এরপর আসে গ্রেসি ম্যানশনের এলাকা আপার ইস্ট সাইডের কথা। দীর্ঘদিন ধরে এটি নিউইয়র্কের ধনী ও অভিজাত এলাকার অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখানে বিশ্বের কিছু প্রসিদ্ধ জাদুঘর আছে। এ এলাকা শান্ত, মাঝেমধ্যে গ্রীষ্মের সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রায় খালি হয়ে যায়। তখন অনেক বাসিন্দা হাম্পটনস বা ন্যানটাকেট চলে যান।
এ এলাকায় চিজবার্গার বা স্প্যাগেটি পোমোডোরো পাওয়া সহজ। কিন্তু সেই ধরনের খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন; যা মামদানির নিজ এলাকা অ্যাস্টোরিয়ার রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায়।
নিরাপত্তাই আগে
মামদানির বর্তমান অ্যাপার্টমেন্টে কোনো পাহারাদার বা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। গ্রেসি ম্যানশনের আসল সুবিধা হতে পারে উঁচু বেড়া, ক্যামেরা ও বাইরে অবস্থান করা পুলিশের দল।
এ কারণে ডি ব্লাসিওর পরিবার শেষ পর্যন্ত এ ম্যানশনেই উঠেছিলেন এবং সাবেক এ মেয়র মামদানিকে একই কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অবশ্য বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের এক হুমকি শনাক্ত করেছেন এ ম্যানশনে। ‘ওখানে ভূত আছে, বন্ধুরা,’ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বছরে এক সাংবাদিককে বলেছিলেন তিনি।
এদিকে মাইকেল আর ব্লুমবার্গ পুরোপুরি গ্রেসি ম্যানশন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এর পরিবর্তে তিনি কাছাকাছি টাউনহাউস পছন্দ করেছিলেন, যা আরেকটু ভালো।
![]() |
| জোহরান মামদানির সম্ভাব্য নতুন বাসস্থান ‘গ্রেসি ম্যানশন’ ছবি: গ্রেসি ম্যানশনের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় ‘দোষ স্বীকার’ হাসিনার
গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে চলে যান হাসিনা। সেই থেকে ভারতেই ‘অজ্ঞাতবাসে’ রয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই চলতি সপ্তাহের ইমেলে তিন সংবাদমাধ্যম- রয়টার্স, এএফপি এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে গত বছরের জুলাই-অগস্টের আন্দোলনপর্বে বিপুল প্রাণহানির দায় চাপিয়েছিলেন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাঁধে। নাম না করে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন ‘বিদেশি চক্রান্ত’ এবং আন্দোলনকারীদের একাংশের দিকেও।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সুর বদলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দোষের কথাও কবুল করেছেন হাসিনা। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, আপনি কি রাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত হিংসার জন্য দায় স্বীকার করেন? জবাবে তিনি বলেন, দেশের নেত্রী হিসেবে, আমি চূড়ান্ত ভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করি। হত্যাকাণ্ডের জন্য আইনরক্ষক বাহিনীকে নিশানা করে তিনি বলেন, আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলাম, এই অভিযোগ মৌলিক ভাবে ভুল। প্রাণহানি বা আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত ভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ১৪০০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের অনুপস্থিতি কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে
লাভরভ তাঁর পদে আছেন কি না, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে জোর জল্পনা চলছে। কারণ, গত বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠক থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘পূর্ণমাত্রায় পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনার’ ঘোষণা দেন।
গত শুক্রবার লাভরভের অনুপস্থিতি ঘিরে চলা জল্পনাকে কিছুটা শান্ত করতে চেষ্টা করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসব প্রতিবেদনের কোনো সত্যতা নেই। লাভরভ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
কিন্তু লাভরভকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন খবর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য রাশিয়ার ক্ষমতার ক্রেমলিনের ভেতরের রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বোঝাটা জরুরি। বুধবার রাশিয়ার বাণিজ্য-সংক্রান্ত দৈনিক কোমার্স্যান্ট ‘বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন কয়েকটি সূত্রের’ বরাতে জানায়, উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে লাভরভ ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
পর্যবেক্ষকেরা আরও বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে একমাত্র লাভরভই বুধবারের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠেয় জি–২০ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বেও লাভরভ থাকছেন না। গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) পুতিন এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেনশিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ম্যাক্সিম ওরেশকিনকে জি–২০ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন।
এসব কিছুর কারণে অনেকের প্রশ্ন, পুতিনের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেই কি লাভরভকে সরিয়ে দেওয়া হলো? এটা কি রাশিয়ার সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্ভাব্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত?
লাভরভের অনুপস্থিতির খবরটি আসার আগে সম্প্রতি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। কয়েক সপ্তাহ আগে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়।
এই বৈঠক আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন লাভরভ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে লাভরভের ফোনালাপের পর বৈঠকটি স্থগিত হয়ে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন বিষয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ দাবির সঙ্গে কোনো আপস করতে রাজি হচ্ছেন না রুশরা। তাই বৈঠকটি হয়নি। বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা আসার পর রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওয়াশিংটন।
কথা হচ্ছে, কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে মস্কোয় কোনো চাপা ক্ষোভ তৈরি হলেও তা তো প্রকাশ্যে আসার কথা নয়। কারণ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এই ধরনের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা নিজেদের মধ্যে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
লাভরভ এখনো দায়িত্বে আছেন কি না, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার কাছে তা জানতে চেয়েছিল সিএনএন। বুধবারের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কথা নিশ্চিত করে জাখারোভা বলেন, এমনটি ‘হতেই পারে’। তবে লাভরভ এখনো পদে আছেন।
লাভরভ দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কূটনৈতিক মহলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। এর আগে তিনি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের দায়িত্ব পালনকালে এখন পর্যন্ত পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর উল্লেখযোগ্য যেসব সংকট দেখা দিয়েছে, সেসবের প্রায় সব কটিতে একনিষ্ঠভাবে তাঁর পাশে ছিলেন লাভরভ।
এসব সংকটের মধ্যে ২০০৮ সালে রাশিয়া-জর্জিয়া সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদের পক্ষ নিয়ে অংশগ্রহ অন্যতম। তা ছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেন হামলাকেও সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করে আসছেন লাভরভ।
৭৫ বছর বয়সী লাভরভ একটি সাহসী ও সংঘাতময় কূটনীতির ধারা গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই ধারা পুতিনের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রায় সময় খাপ খায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠকে লাভরভ যে সোয়েটার পরে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংক্ষিপ্ত নাম সাইরিলিক ভাষায় লেখা ছিল। প্রসঙ্গত, সাইরিলিক লিপি হলো একটি অক্ষর পদ্ধতি, যা মূলত স্লাভিক বিভিন্ন ভাষা, বিশেষ করে রুশ, ইউক্রেনীয় এবং বেলারুশিয়ানের জন্য ব্যবহার করা হয়।
সংকট সত্ত্বেও পুতিনকে নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী সের্গেই শোইগুকে গত বছর অন্য পদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় তাঁকে সরানো হয়। তবে সরাসরি বরখাস্ত না করে শোইগুকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি করা হয়েছে। তাই লাভরভকেও অন্য কোনো পদে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
| দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কূটনীতির সবচেয়ে পরিচিত মুখ সের্গেই লাভরভ। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং চালু করল পাকিস্তান ও বাংলাদেশ
লিখিত প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং সেবা চালু হওয়ার ফলে পণ্য পৌঁছাতে সময় এখন ২৩ দিনের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিন লাগছে। এতে লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা বেড়েছে এবং পরিবহন ব্যয়ও অনেক কমেছে।’
অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তানি পণ্যের জন্য বন্দরগুলোতে ১০০ ভাগ পরিদর্শন বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে। ইসহাক দার এ পদক্ষেপকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্য পরিবহনের গতি আরও বাড়বে। কাস্টমসে বিলম্ব কমে যাওয়ায় পাকিস্তানি রপ্তানি এখন বাংলাদেশের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়া এক চুক্তির ভিত্তিতে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। ২ লাখ টন রপ্তানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। ওই চাল সেই প্রতিশ্রুতির অংশ। ইসহাক দার নিশ্চিত করেন যে, আগামী মাসগুলোতেও এই কাঠামোর অধীনে চাল রপ্তানি অব্যাহত থাকবে। তার লিখিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও ডেনিম এক্সপোতে পাকিস্তানের দুই শতাধিক কোম্পানি অংশ নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও উৎপাদন খাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
সামুদ্রিক যোগাযোগের পাশাপাশি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এখন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসহাক দার জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থাকে বাংলাদেশ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। উভয় পক্ষ এখন সময়সূচি ও লজিস্টিক চূড়ান্ত করার কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, এই ফ্লাইটগুলো চালু হলে ব্যবসা ও পর্যটন উভয় ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারি শাটডাউন: যুক্তরাষ্ট্রে শত শত ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে মানুষ
কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ফ্লাইট বাতিল করা প্রয়োজন। কারণ কিছু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও ফেডারেল নিরাপত্তা কর্মী এই অচলাবস্থার কারণে বেতন পাচ্ছেন না। এ জন্য তারা কাজে আসছেন না। শুক্রবারই ৪,৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কারণ পর্যাপ্ত সংখ্যক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার উপস্থিত ছিলেন না। এই বাতিল ও বিলম্বের মূল কারণ দুটি- কর্মী সংকট এবং ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নির্দেশিত ৪ ভাগ ফ্লাইট কমানোর আদেশ। শুক্রবারের এই কাটছাঁট দেশের ৪০টি বৃহত্তম বিমানবন্দরে ৪ ভাগ ফ্লাইট হ্রাস করে। যদি অচলাবস্থা চলতেই থাকে, তবে আগামী সপ্তাহে আরও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
সম্ভাব্যভাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ১০ ভাগ ফ্লাইট বাদ পড়তে পারে। এফএএ বলছে, উচ্চ-চাপ ট্রাফিক যুক্ত ৪০টি বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট কমাতে হবে। প্রতিটি এয়ারলাইন নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কোন ফ্লাইটগুলো বাতিল করবে। তবে নির্ধারিত সংখ্যক ফ্লাইট অবশ্যই কমাতে হবে। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে রয়েছে বোস্টন লোগান, নিউয়ার্ক লিবার্টি, নিউইয়র্ক জেএফকে, লা গার্ডিয়া, ফিলাডেলফিয়া ও টিটারবোরা (নিউ জার্সি)। মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে আছে শিকাগো মিডওয়ে, শিকাগো ও’হেয়ার, সিনসিনাটি/নর্দার্ন কেনটাকি, ডেট্রয়েট, ইন্ডিয়ানাপোলিস, লুইসভিল মুহাম্মদ আলী, মিনিয়াপলিস-সেন্ট পল। দক্ষিণ অঞ্চলে আছে শার্লট ডগলাস, ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, ডালাস লাভ ফিল্ড, ফোর্ট লডারডেল, হিউস্টন জর্জ বুশ, আটলান্টা হাটসফিল্ড-জ্যাকসন, মেমফিস, অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পা। ওয়াশিংটন এলাকায় বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন, রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল, ওয়াশিংটন ডালাস। পশ্চিমাঞ্চলে ডেনভার, লাস ভেগাস হ্যারি রিড, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওকল্যান্ড, অন্টারিও, ফিনিক্স, পোর্টল্যান্ড, সল্ট লেক সিটি, সান ডিয়েগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল-টাকোমা। হাওয়াই ও আলাস্কার হনলুলু ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে ও আঙ্কোরেজ টেড স্টিভেন্স।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 09
(7)
- ইসরাইলের ভূগর্ভস্থ কারাগার: ফিলিস্তিনি বন্দিরা কখন...
- তালেবান, দেওবন্দ এবং ভারতের ‘ধর্মীয় কূটনীতি’ by মন...
- এক কক্ষের বাড়ি থেকে ‘রাজপ্রাসাদে’ মামদানি
- অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় ‘দোষ স্বীকার’ হাসিনার
- রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের অনুপস্থিত...
- করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং চালু করল পাকিস্তান ও ...
- সরকারি শাটডাউন: যুক্তরাষ্ট্রে শত শত ফ্লাইট বাতিল, ...
-
▼
Nov 09
(7)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

