Thursday, November 14, 2024

লেবাননে দ্বিতীয় ধাপের হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননে দ্বিতীয় ধাপের স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তেল আবিবের দৈনিক মারিভের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটির নতুন আস্তানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এর অর্থ হচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননের নতুন এলাকা ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে পড়তে যাচ্ছে।

তথ্য মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ের যে সূচনা করেছে তাতে যোগ দিয়েছে ৩৬ তম ডিভিশন। হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা লাইনের দিকে অগ্রসর হয়েছে তারা। ৩৬ তম ডিভিশন একটি সাঁজোয়া ডিভিশন এবং এটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে বৃহত্তম।

ডিভিশনের সংযুক্ত আছে গোলানি ব্রিগেড, প্যারাট্রুপারস ব্রিগেড এবং ১৮৮ তম সাঁজোয়া ব্রিগেডসহ যুদ্ধ প্রকৌশলীরা। তারা ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নতুন অপারেশনে জড়িত।

ইসরায়েলি দৈনিকটি বলেছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া এবং লেবাননে রাজনৈতিক মীমাংসার আলোচনায় বসতে হিজবুল্লাহর ওপর চাপ প্রয়োগ করা।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করে। এর প্রতিবাদে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট ছুড়ে আসছিল হিজবুল্লাহ। মাঝে মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিও ছুড়েছে তারা। সীমান্ত সংঘাত যখন চরমে তখন ইসরায়েল হিজবুল্লাহ নিধনে লেবাননে বোমা হামলা শুরু করে।

লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলি হামলায় প্রায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং সাড়ে ১৪ হাজার আহত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা জানা দুষ্কর।

এদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে স্বাধীনতাকামীরা। সোমবারের (১১ নভেম্বর) লড়াইয়ে তারা উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছে। ওই দিন সম্মুখযুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ৪ সেনা নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এখনও সংঘাতের ঘটনা বিস্তারিত জানায়নি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

আইডিএফ জানায়, উত্তর গাজা উপত্যকায় লড়াইয়ের সময় চার সেনা নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, স্টাফ সার্জেন্ট ওর কার্টজ (২০), স্টাফ সার্জেন্ট নেভ ইয়ার আসুলিন (২১), স্টাফ সার্জেন্ট গ্যারি লালরুয়াকিমা জোলাট (২১) ও স্টাফ সার্জেন্ট ওফির ইলিয়াহু (২০)।

সৈন্যরা সবাই কেফির ব্রিগেডের শিমশন ব্যাটালিয়নের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তাদের মৃত্যুতে গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ এবং সীমান্তে অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনা নিহতের সংখ্যা ৩৭৫ জনে দাঁড়াল। তবে আইডিএফের এ হিসাব অনেকেই মানতে নারাজ। বিভিন্ন সংগঠন ইসরায়েলি সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার কয়েক গুণ বলে দাবি করেছে। 
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা। ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের আরও অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা, নিহত ৬ ইসরায়েলি সেনা

দক্ষিণ লেবাননে দ্বিতীয় ধাপের স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে দেশটির আরও অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা করে সেনারা। এ সময় হিজবুল্লাহর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় তাদের। ভয়ংকর সম্মুখযুদ্ধে নিহত হয় ছয় দখলদার সেনা।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ নভেম্বর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে ছয় ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এলাকায় তীব্র সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের আরও অভ্যন্তরের গ্রামগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে এমন প্রতিরোধের মুখে তাদের কমই পড়তে হয়েছে। তবে এতে তারা থামবেন না। সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলোতে দ্বিতীয় ধাপের অভিযান চলছে। তারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান আরও সম্প্রসারিত করেছে।

নিহত সেনারা হলেন- ক্যাপ্টেন ইতাই মার্কোভিচ (২২), স্টাফ সার্জেন্ট শ্রেয়া এলবোইম (২১), স্টাফ সার্জেন্ট ডর হেন (২০), স্টাফ সার্জেন্ট নির গোফার (২০), সার্জেন্ট শালেভ ইতজাক সাগরন (২১) ও সার্জেন্ট ইয়াভ ড্যানিয়েল (১৯)। তারা সবাই গোলানি ব্রিগেডের ৫১তম ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটির নতুন আস্তানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এর অর্থ হচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননের নতুন এলাকা ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে পড়তে যাচ্ছে। 

ইসরায়েলের নিহত ছয় সেনা। ছবি : সংগৃহীত

আফিল উদ্দিন আমার বড় ভাই, তবে আমরা ভিন্ন মতাদর্শের: শেখ বশিরউদ্দিন

আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের ৩ স্ত্রীর ১৫ সন্তানের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। আরেকজন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।

প্রয়াত শেখ আকিজ উদ্দিন ১৯৯৯ সালে সন্তানদের মধ্যে ব্যবসা ভাগ করে দেন। সেই থেকে আফিল উদ্দিনের সঙ্গে বশিরউদ্দিনের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। তাঁদের পারিবারিক যোগাযোগও খুব বেশি নয়। ২০২৩ সালে শেখ বশির যখন নিজের আকিজবশির গ্রুপের যাত্রা শুরু করেন, তখন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আসেননি শেখ আফিল।

শেখ বশির গত রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তার পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিলের ভাই হিসেবে ধরে শেখ বশিরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেওয়া হচ্ছে; যদিও শেখ বশির সম্পর্কে জানাশোনা থাকা ব্যবসায়ীরা বলছেন, শেখ আফিল ও শেখ বশিরের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। শেখ বশির ব্যবসায় মনোযোগী ছিলেন। আফিল ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে গত সোমবার শেখ বশির সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের আবেগের সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই। তবে আমার ধারণা, ওনারা মিস ইনফরমড (ভুল তথ্য পাওয়া)। ওনাদের তথ্যের ভিত্তি সঠিক নয়।’

যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শেখ বশির বলেন, ‘আফিল উদ্দিন আমার বড় ভাই। আমরা আলাদা মায়ের হলেও বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করে চলি। তবে রাজনৈতিক আদর্শে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্নমতাদর্শের।’

শেখ বশির আরও বলেন, ‘ভিন্ন মা হওয়ায় ১৯৯৯ সালে পারিবারিকভাবে আমরা আলাদা হই। পরে আফিল ভাই রাজনীতিতে যুক্ত হন। আমরা সবাই দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা ব্যবসা পরিচালনা করছি। তিনি মূলত যশোরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও রাজনীতি করছেন। আমিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঢাকাকেন্দ্রিক।’

শেখ আকিজ উদ্দিনের ১৫ সন্তানের মধ্যে ১০ ছেলে ও ৫ মেয়ে। আকিজ উদ্দিনের সন্তানদের মধ্যে ছেলেরাই শুধু ব্যবসায় যোগ দিয়েছেন। ১০ ছেলের মধ্যে ব্যবসা ভাগ করে দেন আকিজ উদ্দিন নিজেই। ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

শেখ আকিজের প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলে। এর মধ্যে শেখ মহিউদ্দিন চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী। তিনি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা করেন। শেখ মমিন উদ্দিন ২০২০ সালে মারা গেছেন। তিনি ট্যানারি, চামড়াসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। শেখ আকিজের প্রথম স্ত্রীর তৃতীয় ছেলে শেখ আফিল উদ্দিন। তাঁর আফিল গ্রুপ নামে ব্যবসা আছে। সেটা মূলত যশোর এলাকায়।

শেখ আকিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে শেখ আমিন উদ্দিন ও শেখ আজিজ উদ্দিন। শেখ আমিনের তথ্যপ্রযুক্তি, গাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। শেখ আজিজের পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট খাত, কৃষিসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।

শেখ আকিজের তৃতীয় স্ত্রীর পাঁচ ছেলে। তাঁরা হলেন শেখ নাসির উদ্দিন, শেখ বশিরউদ্দিন, শেখ জামিল উদ্দিন, শেখ জসিম উদ্দিন ও শেখ শামীম উদ্দিন। এই পাঁচ ভাই ২০২২ সাল পর্যন্ত একত্রে ব্যবসা করেছেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল আকিজ গ্রুপ। পরে তাঁরা ব্যবসা ভাগাভাগি করেন। তবে এখনো ধানমন্ডির একটি বাড়িতে পাঁচ ভাই পরিবারসহ একত্রে বসবাস করেন।

শেখ নাসির উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানের আকিজ অ্যাসেট, শেখ বশিরউদ্দিনের প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজবশির গ্রুপ, শেখ জামিল উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ-ইনসাফ গ্রুপ, শেখ জসিম উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ রিসোর্সেস এবং শেখ শামীম উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানের নাম আকিজ ভেনচার।

২০২৩ সালের মার্চে আকিজবশির গ্রুপের যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আকিজবশির গ্রুপের অধীন রয়েছে সিরামিকস, স্যানিটারি ও বাথওয়্যার, টেবিলওয়্যার, পার্টিকেল বোর্ড, পাট, স্টিল, চা-সহ ১৬ ধরনের ব্যবসা। বছরের এসব ব্যবসার পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার।

নতুন গ্রুপের নবযাত্রার এ ঘোষণা অনুষ্ঠান মঞ্চে শেখ বশিরউদ্দিন হাজির হন তাঁর বাবা শেখ আকিজ উদ্দিনের ব্যবহৃত ভেসপা মোটরসাইকেলে করে মাকে সঙ্গে নিয়ে। এ সময় তিনি জানান, নতুন এ গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন তাঁর মা মনোয়ারা বেগম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, শেখ বশির সব সময় রাজনীতি এড়িয়ে চলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেও তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। তিনি মূলত একজন নিরেট ব্যবসায়ী। শেখ বশির অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিয়েছেন—এটাই অনেককে অবাক করেছে।

খুলনার ফুলতলা থেকে উঠে আসা শিল্পপতি শেখ আকিজ উদ্দিন শূন্য থেকে শুরু করে আকিজ গ্রুপকে গড়ে তুলেছিলেন। ছেলেদের মধ্যে তিনি বশিরউদ্দিনকে ১৯৮৮ সালে ব্যবসায় নিযুক্ত করেন। তখন তিনি মাত্রা ম্যাট্রিক পাস করেছেন। পদ ছিল স্টেশনারি খরিদকারী। পরে বশিরউদ্দিন তেজগাঁও কলেজের নৈশ শাখা থেকে বিকম পাস করেন। তিনি আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছিলেন। পরে নিজের প্রতিষ্ঠান আকিজবশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন তিনি। অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার আগে ব্যবসার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।

শেখ বশির উদ্দিন
শেখ বশির উদ্দিন। প্রথম আলো

জলবিদ্যুৎ ভাগ করার জন্য দক্ষিণ এশিয়া গ্রিড তৈরির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

নেপাল ও ভুটানের উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ ভাগ করে নেয়ার জন্য একটি দক্ষিণ এশিয়া গ্রিড তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার বাকুতে জলবায়ু সম্মেলনের সাইডলাইনে সোশ্যাল বিজনেস গ্রুপের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে সংযোগকারী বিদ্যুতের গ্রিডের অভাবে হিমালয় দেশগুলোর বেশিরভাগ জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। নেপালের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, দেশটির ৪০,০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারত ও বাংলাদেশের মতো বড় দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সহজেই নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আনতে পারে, কারণ এটি বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৪০ মাইল দূরে। নেপালের জলবিদ্যুৎও সস্তা হবে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিড তৈরি করার কথা ভাবতে হবে।

জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বন্যারোধে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, পানি আমাদের প্রধান পরিবেশগত সমস্যা। আমাদের এমনভাবে পানি ব্যবস্থাপনা করতে হবে যাতে এটি প্রকৃতিকে সমর্থন করে।

অন্তর্বর্তী সরকার যুব উন্নয়ন ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সরকার জানুয়ারিতে তরুণদের জন্য একটি উৎসবের আয়োজন করবে। যখন দেশের ক্রিকেট বোর্ড তার বার্ষিক টি-টোয়েন্টি বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আইওসি প্রেসিডেন্ট টোমাস বাখ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নারী ফুটবলের জন্য একটি টুর্নামেন্টেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দেশের সব জায়গায় উৎসব করার চেষ্টা করছি।

অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কেও কথা বলেন, যা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ বর্বর স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। তিনি কপ২৯-এর মূল বিষয় এবং কার্বন ক্রেডিট নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান আলোচনার বিষয়েও কথা বলেছেন।

mzamin

মহাকাশচারীদের নিয়ে লেখা উপন্যাসে বুকার জিতলেন হার্ভে

সাহিত্যের অভিজাত বুকার পুরস্কার জিতেছেন বৃটিশ লেখিকা সামান্থা হার্ভে। মঙ্গলবার এ বছরের এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অনলাইন বিবিসি বলছে, ‘অরবিটাল’ উপন্যাসের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে ৬ জন মহাকাশচারী যেভাবে তাদের দিনরাত অতিবাহিত করেছেন তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই ৬ মহাকাশচারীর মধ্যে দু’জন পুরুষ ও চারজন নারী। বুকার পুরস্কারের বিচারক প্যানেলের চেয়ারপারসন এডমুন্ড ডে ওয়াল বলেন, বিচারকদের সর্বসম্মতিক্রমে বৃটিশ  লেখক হার্ভে’কে বুকার পুরস্কারজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ডে ওয়াল একে ‘ক্ষতবিক্ষত পৃথিবীর’ গল্প হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে ছয় নভোচারীর পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা, সীমানা এবং টাইম জোনের নাজুক জায়গাজুড়ে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা নিয়ে লেখা এ গল্পে প্রত্যেকেই বিষয়বস্তু, আবার কেউই বিষয়বস্তু নয়। পুরস্কার পাওয়ার পর হার্ভে বলেন, যেসব মানুষ পৃথিবীর পক্ষে সরব থাকেন, অন্য মানুষের মর্যাদা, অন্য প্রাণের পক্ষে কথা বলেন এবং যেসব মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার থাকেন ও কাজ করেন, তাঁদের সবার জন্য তিনি পুরস্কারের ৫০ হাজার পাউন্ড অর্থ উৎসর্গ করছেন। ‘অরবিটাল’ বইটি ১৩৬ পৃষ্ঠার। এটি বুকারজয়ী দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম বই। এ ছাড়া এটি মহাকাশ নিয়ে লেখা প্রথম কোনো বই, যেটি বুকার পুরস্কার জিতেছে। এ বছর বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় হার্ভে ছাড়া আরও চারজনের নাম ছিল। এর মধ্যে মার্কিন লেখক র‌্যাচেল কুশনার (‘ক্রিয়েশন লেক’ বইয়ের জন্য) এবং কানাডীয় লেখক অ্যান মাইকেলসও (‘হেল্ড’ বইয়ের জন্য) ছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারিকালে লকডাউনের সময় ‘অরবিটাল’ বইটির বেশিরভাগটা লিখেছেন হার্ভে।
mzamin

ভারতে শেখ হাসিনার ১০০ দিন : কীভাবে রয়েছেন, সামনেই বা কী?

ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলকে চক্রাকারে ঘিরে রয়েছে যে ইনার রিং রোড, তার ঠিক ওপরেই চারতলা পেল্লায় বাড়িটা। ডাক বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী ঠিকানা ৫৬ রিং রোড, লাজপত নগর, দিল্লি ১১০০২৪।

শহরের দক্ষিণপ্রান্তে পাঞ্জাবি অধ্যুষিত ওই এলাকায় এই বাড়িটার আলাদা করে কোনও বিশেষত্ব চোখে পড়ার কোনও কারণ নেই! কিন্তু আসলে ক’জনই বা জানেন প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে শেখ হাসিনা যখন প্রথম ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তার ঠিকানা ছিল রিং রোডের ওপরে এই ভবনটাই?

আসলে তখন ৫৬ রিং রোড ছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ‘সেফ হাউজ’ বা গোপন অতিথিশালা। শেখ মুজিব আততায়ীদের হাতে নিহত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন তার কন্যাকে সপরিবার ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রথমে তার থাকার ব্যবস্থা করেছিল এই বাড়িটিতেই।

পরে একাধিকবার হাতবদল হয়ে ওই ভবনটি এখন শহরের একটি ছিমছাম চারতারা হোটেলে রূপ নিয়েছে। নাম ‘হোটেল ডিপ্লোম্যাট রেসিডেন্সি’।

মজার ব্যাপার হলো, লাজপত নগরের ওই এলাকাটি এখন দিল্লির আইভিএফ চিকিৎসার প্রধান হাবে পরিণত– যার সুবাদে বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজার হাজার নিঃসন্তান দম্পতি ওখানে আসেন এবং দিনের পর দিন ওখানকার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে থাকেন।

কিন্তু বাংলাদেশের এই মেডিক্যাল ট্যুরিস্টদের যারা ওই বিশেষ হোটেলটিতে ওঠেন, তাদের হযতো কারওরই জানা নেই তাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনাও তার জীবনের চরম সঙ্কটের মুহূর্তে ওই একই ভবনে আশ্রয় পেয়েছিলেন!

দিল্লির লাজপতনগরে ৫৬ রিং রোডের ভবনটি, এখন যেভাবে

লাজপত নগরের ওই ঠিকানায় অবশ্য শেখ হাসিনা বা তার পরিবারকে খুব বেশিদিন থাকতে হয়নি।

শহরের ব্যস্ততম রাস্তার ওপর একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথিকে দীর্ঘ সময় রাখাটা নিরাপদ নয় বিধায় তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অভিজাত পান্ডারা রোডের একটি সরকারি ফ্ল্যাটে, যার বাইরে ঝোলানো থাকত ভিন্ন নামের নেমপ্লেট। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর সেখানেই ছিলেন তারা।

লাজপত নগরের সেই ভবনে এসে ওঠার ঠিক ৪৯ বছর বাদে বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা যখন আরও একবার ভারতে এসে আশ্রয় নিলেন – তখনও কিন্তু শহরে তার প্রথম ঠিকানায় তিনি থিতু হননি।

আসলে আজ থেকে ঠিক একশো দিন আগে অগাস্টের ৫ তারিখে চরম নাটকীয় পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা যখন ভারতে পা রাখেন, দিল্লির বিশ্বাস ছিল তার এই আসাটা একেবারেই সাময়িক - ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে যাওয়ার আগে এটা একটা সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির বেশি কিছু নয়!

যে কোনও মুহূর্তে তৃতীয় কেনও দেশের উদ্দেশে তিনি রওনা হয়ে যাবেন, এই ধারণা থেকেই প্রথম দু-চারদিন তাকে (ও সঙ্গে বোন শেখ রেহানাকে) রাখা হয়েছিল দিল্লির উপকন্ঠে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটির টার্মিনাল বিল্ডিং-এই, যেটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ভার দেশের বিমান বাহিনীর।

কিন্তু চট করে শেখ হাসিনার তৃতীয় কোনও দেশে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর ভারত সরকার তাকে হিন্ডন থেকে সরিয়ে আনে দিল্লির কোনও গোপন ঠিকানায়। পরে তাকে হয়তো দিল্লির কাছাকাছি অন্য কোনও সুরক্ষিত ডেরাতে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে – কিন্তু এ ব্যাপারে ভারত সরকার আজ পর্যন্ত কোনও তথ্যই প্রকাশ করেনি।

কিন্তু ‘লোকেশন’ যা-ই হোক, ভারতে তার পদার্পণের একশো দিনের মাথায় এসে এই প্রশ্নটা ওঠা খুব স্বাভাবিক যে এখন শেখ হাসিনাকে কীভাবে ও কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে? আর সেটার পেছনে কারণটাই বা কী?

 

দিল্লির কাছে ভারতের বিমানবাহিনীর হিন্ডন এয়ারবেসের মূল প্রবেশপথ


পাশাপাশি এই ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সিচুয়েশন’ বা চরম অস্বাভাবিক একটা পরিস্থিতিতে তিনি স্বাধীনভাবে কতটা কী করতে পারছেন? কিংবা ‘হোস্ট কান্ট্রি’ হিসেবে ভারত কি তাকে কোনও কোনও কাজ না-করারও অনুরোধ জানিয়েছে?

দিল্লিতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ওয়াকিবহাল মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বিবিসি বাংলা এই সব প্রশ্নের যে উত্তর পেয়েছে, এই প্রতিবেদনে থাকছে তারই সারাংশ।

নিরাপত্তা প্রোটোকলটা ঠিক কী রকম?
সরকারি পদমর্যাদা ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতের ভিভিআইপি-রা বিভিন্ন ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন– যার মধ্যে ‘জেড প্লাস প্লাস’-কেই সর্বোচ্চ বলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ডে আয়োজন করা হয়, ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’ বা এসপিজি কমান্ডোরা সচরাচর বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলান।

যে ভিভিআইপি-দের নিয়মিত প্রকাশ্যে আসতে হয়, আর যাদের লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও চলে– অবশ্যই তাদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার আয়োজনও হয় কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের।

তাহলে ‘অপ্রত্যাশিত অথচ অতি গুরুত্বপূর্ণ’ অতিথি শেখ হাসিনার জন্য ভারত এখন ঠিক কোন ধরনের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করছে?

হুবহু এই প্রশ্নটাই করেছিলাম ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে, যিনি গত একশোদিন ধরে ভারতে শেখ হাসিনার প্রতিটি পদক্ষেপের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত।

ক্ষুদে বার্তায় তিনি ছোট ছোট তিনটে বাক্যে এই প্রশ্নের যে উত্তর দিলেন, তা এরকম :

এক. “বেয়ার মিনিমাম, প্লেইন ক্লোদস, নো প্যারাফারনেলিয়া!”

যার অর্থ হল, যেটুকু না-হলে নয় শেখ হাসিনাকে সেটুকু নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে, সাদা পোশাকের রক্ষীরাই তার চারপাশে ঘিরে রয়েছেন (জলপাই-রঙা উর্দির কমান্ডো বা সেনা সদস্যরা নন), আর গোটা বিষয়টার মধ্যে কোনও আতিশয্যর বালাই রাখা হয়নি! মানে ঢাকঢোল পিটিয়ে বা ঘটা করে তাকে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না, বরং পুরো জিনিসটাকে খুব নিচু তারে বেঁধে রাখা হয়েছে।

দুই. ‘ইন হার কেস, সিক্রেসি ইজ দ্য সিকিওরিটি!”

সোজা কথায়, তার বেলায় গোপনীয়তাই হল নিরাপত্তা! এটারও অর্থ খুব সহজ– শেখ হাসিনার অবস্থানের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে গোপনীয়তা রক্ষার ওপর, কারণ তিনি কোথায়, কীভাবে আছেন এটা যত গোপন রাখা সম্ভব হবে, ততই তার নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা সহজ হবে।

তিন. “মুভমেন্টস অ্যান্ড ভিজিটস– অ্যাজ লিটল অ্যাজ পসিবল!”

ফলে ওই কর্মকর্তা তার তৃতীয় বাক্যে জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনাকে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া, কিংবা তার সঙ্গে অন্যদের দেখা করানোর ব্যবস্থা– এটাও যতটা সম্ভব এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার মুভমেন্টস বা ভিজিটস যে পুরোপুরি বন্ধ নয়, তার কথায় সে ইঙ্গিতও ছিল!

ওই কর্মকর্তার কথা থেকে স্পষ্ট, শেখ হাসিনার জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও সেটা খুব বিশেষ এক ধরনের আয়োজন– মানে ধরা যেতে পারে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা থাকে তার সঙ্গে সেটা মাত্রায় তুলনীয় হলেও আয়োজনে একেবারেই অন্য রকম!

১৯৭৫-৮১ পর্বে দিল্লি থাকাকালীন এই নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগায় প্রায়ই আসতেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনাকে যাতে কোনওভাবেই প্রকাশ্যে না-আসতে হয়, এই প্রোটোকলে সেই চেষ্টাও বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

ফলে দিল্লির মর্নিং ওয়াকারদের স্বর্গ লোদি গার্ডেনে তিনি এসে মাঝেমাঝে হাঁটাহাঁটি করে যাচ্ছেন কিংবা ইচ্ছে করলে নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগায় বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যায় কাওয়ালি শুনে আসছেন– এই ধরনের যাবতীয় জল্পনা হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট মহলের কর্মকর্তারা!

সেই সঙ্গেই তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, এর অর্থ হলো তার সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্বও কিন্তু এখন ভারতেরই কাঁধে। সেখানে সামান্য কোনও ভুলচুক হলেও তার দায় ভারতের কাঁধেই আসবে এবং সেটা দিল্লির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে।

ফলে সেই নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা যাবে না এবং তার জীবনকে সামান্যতম ঝুঁকিতেও ফেলা যাবে না; আর পাশাপাশি পুরো বিষয়টা অত্যন্ত গোপন রাখতে হবে– এগুলো বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হয়েছে তার নিরাপত্তা প্রোটোকল!

ঘনিষ্ঠজনদের সাথে মেলামেশা?
গত ৫ অগাস্ট যখন শেখ হাসিনা দিল্লিতে এসে নামলেন, সে দিনই সন্ধ্যায় দিল্লিতে কংগ্রেসের একদা মুখপাত্র শর্মিষ্ঠা মুখার্জি নিজের এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি টুইট করেন।

তাতে তিনি লেখেন, “স্টে সেফ অ্যান্ড স্ট্রং, হাসিনা আন্টি। টুমরো ইজ অ্যানাদার ডে, মাই প্রেয়ার্স আর উইথ ইউ!”

শেখ হাসিনাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকতে পারেন, দিল্লিতে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি ছাড়া এমন আর দ্বিতীয় কেউ আছেন কি না বলা খুব মুশকিল! সেই প্রিয় আন্টিকে মনোবল শক্ত রাখার কথা বলতে তিনি কিন্তু এক মুহূর্ত দেরিও করেননি।

 

৫ই অগাস্ট শর্মিষ্ঠা মুখার্জির করা টুইটের স্ক্রিনশট

আসলে শর্মিষ্ঠা মুখার্জির আর একটা পরিচয় হলো, তিনি ভারতের প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কন্যা। খুব ছোটবেলায় শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে তার যে নিবিড় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও এতটুকু ম্লান হয়নি বলেই তিনি ওই কথাগুলো সেদিন বলতে পেরেছিলেন।

পঁচাত্তরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দেওয়ার পর তাদের ‘স্থানীয় অভিভাবক’ হিসেবে সবকিছু দেখাশুনোর ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন তার আস্থাভাজন বাঙালি কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জির ওপর। হিন্দি ও পাঞ্জাবিভাষীদের শহর দিল্লিতে নির্ভেজাল বাংলায় কথা বলতে পারাটাও তখন শেখ হাসিনা ও তার স্বামী-সন্তানদের জন্য ছিল বিরাট একটা ব্যাপার!

প্রণববাবুর স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির সঙ্গেও নিবিড় পারিবারিক বন্ধন গড়ে উঠেছিল শেখ হাসিনার। আর শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুল ও প্রণববাবুর কন্যা শর্মিষ্ঠা ছিল প্রায় সমবয়সী, দুটি বাচ্চা মেয়ে প্রায়ই পান্ডারা রোড থেকে হাঁটাপথের দূরত্বে ইন্ডিয়া গেটের প্রশস্ত লনে খেলতে চলে যেত!

প্রণববাবু নিজে একবার এই প্রতিবেদককে হাসতে হাসতে গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, “নিজের ছেলেমেয়েদের কখনও সেভাবে সময় দিতে পারিনি, কিন্তু মিসেস গান্ধীর নির্দেশে আমি শেখ হাসিনার ছেলে-মেয়ে, জয় আর পুতুলকে নিয়ে হরিয়ানার দমদমা লেকে বোটিং পর্যন্ত করিয়েছি!”

ফলে প্রণব মুখার্জির গোটা পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনার পরিবারের সবার কেন নিবিড় আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তা বোঝা মোটেই শক্ত নয়।

 

২০১০ সালে ভারতের তখনকার অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

প্রয়াত পিতাকে নিয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি গত বছর ‘প্রণব মাই ফাদার’ নামে যে স্মৃতিচারণাটি লিখেছেন তাতেও তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও দিল্লিতে হুটহাট প্রণববাবুর কাছে তার ফোন আসত!

প্রণব মুখার্জি হয়তো তখন দেশের অর্থ, প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনি শেখ হাসিনাকে মনে করিয়ে দিতেন এভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীর অন্য দেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে সরাসরি ফোন করাটা ঠিক বিধিসম্মত নয়!

শর্মিষ্ঠা মুখার্জি জানাচ্ছেন, তখনই হাসিনা তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে উঠতেন, “আরে রাখেন তো আপনার প্রোটোকল! শোনেন, যে জন্য ফোন করলাম ...”

ওপরের এতগুলো কথা এই জন্যই বলা, যে দিল্লিতেও এমন কেউ কেউ আছেন রাজনীতি বা কূটনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শেখ হাসিনা যাদের ‘ফ্যামিলি’ বলে ভরসা করতে পারেন।

দিল্লিতে সে সময় বহুদিন থাকার সুবাদে তার নিজস্ব পরিচিতিরও একটা বলয় গড়ে উঠেছিল, যাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও জীবিত বা সক্রিয় আছেন।

কিংবা দিল্লিতে আজও আছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল অশোক তারা-র মতো কেউ, যিনি একাত্তরের ১৭ ডিসেম্বর সকালে ধানমন্ডিতে পাকিস্তানি সেনাদের পাহারায় থাকা শেখ হাসিনা-সহ মুজিব পরিবারের সদস্যদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। আজও অশোক তারা ও তার স্ত্রী, দুজনের সঙ্গেই শেখ হাসিনার দারুণ সুসম্পর্ক!

এমন কী ঢাকাতে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন, এমন অনেক সাবেক ভারতীয় কর্মকর্তার সঙ্গেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে শেখ হাসিনার সৌহার্দ্য আছে।

শেখ হাসিনার হাত থেকেই ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ পেয়েছেন কর্নেল অশোক তারা

বিবিসি বাংলা জানতে পেরেছে, গত একশো দিনের ভেতর তার পুরনো পরিচিত এই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কেউ কেউ শেখ হাসিনার সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করারও সুযোগ পেয়েছেন।

এই ধরনের ‘ভিজিটে’র সংখ্যা হাতেগোনা হতে পারে, কিন্তু ভারত সরকারও সচেতনভাবে তার ক্ষেত্রে এই ধরনের কিছু দেখা সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে, যাতে তাদের ভিভিআইপি অতিথি মানসিকভাবেও চাঙ্গা থাকেন!

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা অবাধ?
গত মাসতিনেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথিত ফোনালাপের বেশ কিছু অডিও ‘ভাইরাল’ হয়েছে – যাতে একপক্ষের কণ্ঠস্বর হুবুহু শেখ হাসিনার মতোই শোনাচ্ছে।

ভারত যদিও এই সব ‘ফাঁস’ হওয়া অডিও নিয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি, তবে একাধিক পদস্থ সূত্র একান্ত আলোচনায় স্বীকার করেছেন এগুলো বাস্তবিকই শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বর!

দিল্লির নর্থ ব্লকের একজন কর্মকর্তা আবার বলছেন, “আমি জানি না এটা এআই দিয়ে বানানো হয়েছে না কি শেখ হাসিনার নিজেরই গলা– তবে তার তো পরিচিতদের সঙ্গে কথাবার্তা বলায় কোনও বিধিনিষেধ নেই, এখন কেউ যদি সেই আলাপ রেকর্ড করে লিক করে দেয়, তাতে আমাদের কী করার আছে?”

ভারতে কোনও কোনও পর্যবেক্ষক আবার ধারণা করছেন, শেখ হাসিনা যাতে নিজের দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তাদের মনোবল ধরে রাখতে পারেন– সে জন্য দিল্লিই এই সব কথাবার্তা হতে দিচ্ছে এবং পরে সুযোগ বুঝে তা ‘লিক’ও করে দিচ্ছে, যাতে তা যত বেশি সম্ভব লোকের কাছে পৌঁছতে পারে!

এর আসল কারণটা যা-ই হোক, বাস্তবতা হলো শেখ হাসিনা ভারতে কোনও গৃহবন্দিও নন বা রাজনৈতিক বন্দিও নন– ফলে দেশে-বিদেশে তার পরিচিতদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সুযোগ তিনি পাচ্ছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলছিলেন, “ভারতে যখন কোনও রাজনৈতিক নেতা গৃহবন্দি হন, তার বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগযোগের অধিকারও কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়!”

“যেমন ধরুন পাঁচ বছর আগে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর ওমর আবদুল্লা বা মেহবুবা মুফতিদের যখন গৃহবন্দি করা হয়, তারা কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করা তো দূরস্থান – মোবাইল বা ইন্টারনেট সংযোগও পাননি!”

সুতরাং শেখ হাসিনা যে ভারতে মোটেই গৃহবন্দি নন– তার প্রমাণ তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিতই কথাবার্তা বলতে পারছেন।

দিল্লিতে থাকা মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ বা ভার্জিনিয়াতে থাকা ছেলে সজীব ওয়াজেদের সঙ্গেও তার প্রায় রোজই যোগাযোগ হচ্ছে। নিউজ চ্যানেল, খবরের কাগজ বা ইন্টারনেটেও তার সম্পূর্ণ অ্যাকসেস আছে।

তবে ৫ই অগাস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের যে নেতাকর্মীরা পালিয়ে ভারতে চলে এসেছেন তাদের কারও কারও সঙ্গে শেখ হাসিনার যোগাযোগ হলেও এরা কেউই সশরীরে (ইন পার্সন) দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।

ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী

আর ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা যাতে এখনই নিজের বয়ানে কোনও প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিবৃতি না দেন, সে জন্যও তাকে ভারতের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।

আসলে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিয়ে তারপর তার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উসকানি দিতে চাইছে– এটা যাতে কেউ বলতে না-পারে, সে জন্যই দিল্লির এই সতর্ক অবস্থান!

আর যেহেতু শেখ হাসিনার নিজস্ব কোনও ভেরিফায়েড ফেসবুক বা এক্স অ্যাকাউন্টও নেই – ফলে এটাও দিল্লির স্বস্তির একটি কারণ, যে সেখানেও তার কোনও পোস্ট আসছে না!

কিন্তু বাংলাদেশে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসন কি আদৌ সম্ভব? এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টা নিয়ে দিল্লি কী ভাবছে?

ভারত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি কথাও বলছে না সঙ্গত কারণেই, তবে ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, এই কাজটা শুধু কঠিন নয়– খুবই কঠিন!

“এখনও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সে দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে, তাদের দলীয় সংগঠনও ছত্রভঙ্গ!”

“শেখ হাসিনার বয়স আজকের চেয়ে দশটা বছর কম হলে তবু হয়তো মনে করা যেত তিনি দেশে ফিরে দলের হাল ধরবেন– কিন্তু এই মুহূর্তে সেটা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে”, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. চক্রবর্তী।

১৯৯১তে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণায় শেখ হাসিনা

কিছুদিন আগে ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে শেখ হাসিনার মতো কণ্ঠস্বরে একজনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমি (বাংলাদেশের) খুব কাছাকাছিই আছি, যাতে চট করে ঢকে পড়তে পারি!"

গত সপ্তাহে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীও হয়তো ভাবছেন, তাদের নেত্রীর দেশে ফেরা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!

তবে শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে যে দেশের আতিথেয়তায় আছেন তারা কিন্তু এখনই অতটা আগ বাড়িয়ে ভাবতে রাজি নয়!

সাউথ ব্লকের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার কথায়, “পিচ এখনও প্রতিকূল, বল উল্টোপাল্টা লাফাচ্ছে। এরকম সময় চালিয়ে খেলতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে!”

“এখন বরং ধৈর্য দেখানোর সময়, ফলে প্রতিপক্ষের লুজ বলের জন্য অপেক্ষা করাটাই শ্রেয়,” ক্রিকেটের উপমা দিয়ে হাসতে হাসতে যোগ করেন তিনি!

রাজনীতির উইকেটে পোড় খাওয়া ব্যাটার শেখ হাসিনাও নিশ্চয় এটা জানেন এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত সুযোগ এলে তবেই সেটা কাজে লাগাবেন– একশো দিনের মাথায় ভারতও আপাতত এটুকুতেই তাদের ভাবনা সীমিত রাখছে!

সূত্র- বিবিসি বাংলা

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আহতদের  দেখতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। সব আহতকে না দেখা এবং তাদের সঙ্গে কথা না বলার প্রতিবাদ জানিয়ে ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে নজিরবিহীন প্রতিবাদ করেছেন আহত রোগীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পেছনের পথ ধরে হাসপাতাল ছাড়ায় আহতদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ তিন উপদেষ্টাকে ঘটনাস্থলে হাজির হওয়ার আল্টিমেটাম দেন। দুপুরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চলছিল। তাদের বিক্ষোভ থামাতে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে হাজির হলেও আহতদের রাস্তা থেকে হাসপাতালে ফেরাতে পারেন নি। যথাযথ চিকিৎসা মিলছে না এবং সরকারের তরফে খোঁজ নেয়া হয় না-এমন অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বিক্ষোভ দেখান শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন আহতরা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন পাশের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউশনে ভর্তি আহতরাও।

গতকাল দুপুরে বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। হাসপাতালে চতুর্থ তলায় ভর্তিদের দেখে নিচে নেমে যাওয়ায় তৃতীয় তলায় থাকা আহতরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা নিচে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার গাড়িতে কিল-ঘুষি মেরে গাড়ির উপরে ওঠে দাঁড়ায় একজন। কেউ আবার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে সারা কুক অন্য একটি গাড়িতে চেপে স্থান ত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েন উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। পরে হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় উপদেষ্টা বিকল্প পথে হাসপাতাল ত্যাগ করলেও সামনের মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আহতরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের জন্য হাসপাতালটির তিনতলা ও চারতলায় দুইটা আলাদা আলাদা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড খোলা হলেও তারা শুধুমাত্র চতুর্থ তলার পুরুষ ওয়ার্ডের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল ত্যাগ করতে চান। কিন্তু অপেক্ষারত তিনতলায় চিকিৎসাধীন জুলাই বিপ্লবের রোগীরা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাতে চান। এক পর্যায়ে রোগী ও তাদের স্বজনেরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে চলে আসেন। তখন গণমাধ্যমকর্মীরা উপদেষ্টা ও সারাহ কুককে কিছু বলার অনুরোধ করে। কিন্তু তারা কথা না বলেই সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আহতরা এগিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের কথাও শোনেনি। এক পর্যায়ে  উপদেষ্টার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকারা আহতদেরসহ সকলকে পেছনের দিকে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে নূরজাহান বেগমকে তার গাড়ির কাছে নিয়ে যান। এতেই বিক্ষোভ শুরু করে হাসপাতালটিতে ভর্তি জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে আহত ও তাদের স্বজনরা। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো কথা না শুনে বিক্ষুব্ধ জনতার কেউ কেউ গাড়ির জানালার কাঁচে কিল-ঘুষি মারা শুরু করেন। কেউ গাড়ির ওপরে উঠে দাঁড়ান। গাড়ির চালককেও বাইরে বেরিয়ে আসতে বলেন কেউ কেউ। উপদেষ্টার গাড়িকে ঘিরে যখন এতসব কাণ্ড তখন গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে অন্য গাড়িতে চেপে চলে যান নূরজাহান বেগম।

আর বিক্ষুব্ধদের পাশ কাটিয়ে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন সারা কুক। বেলা দেড়টার দিকে চিকিৎসক-নার্স ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় উপদেষ্টার গাড়ি হাসপাতাল ত্যাগ করলেও একটি পুলিশের গাড়ি আটকে দেন আহতরা। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পঙ্গু হাসপাতালের ভেতর চলা বিক্ষোভ শেষে তারা হাসপাতালের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনিস্টিটিউটসহ জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত হয়ে আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেয়া অন্য রোগীরাও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে এসে আন্দোলনে যোগ দেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় এলাকাটির আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও তারা বিক্ষোভ বন্ধ করেনি। এরপর ঘটনাস্থলে সেনা সদস্যরা    গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। তখন আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ারে বসে আহত মো. মাসুম বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এসে তাদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না। তিনি বলেন, এখানে আমরা অন্তত ৮৪জন ভর্তি হয়ে হাসপাতালের তিনতলা ও চারতলায় চিকিৎসা নিচ্ছি। কিন্তু স্বাস্থ্য উপদেষ্টা শুধুমাত্র চার তলার রোগী দেখে চলে গেছেন। আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে উপদেষ্টা হয়েও তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলতে গেলেও আমাদের কথা শোনা হয়নি। উল্টো আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তিনমাস ধরে হাসপাতালে পড়ে থাকলেও আজ পর্যন্ত আমাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। এক লাখ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও আমরা তার কিছুই পাইনি। আমরা এসবের প্রতিকার চাই। তাই আমাদের এখানে এসে কথা না বলা পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়বো না।

 জুলাই বিপ্লবে আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালের তিনতলার বি-ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেয়া মো. হাসান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক একটা ওয়ার্ডে ৪৮ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু ওনারা ওনাদের পছন্দের বিদেশি পাঁচজন সাংবাদিক নিয়ে এসেছেন এবং আমাদের দেশীয় কোনো সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়নি। আমরা এতজন আন্দোলনে আহত হয়ে চিকিৎসা নিলেও তারা দু-একজনের সঙ্গে কথা বলে চলে গেছেন। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। আমাদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আমরা কথা বলতে গেলেও বাধা দেয়া হয়েছে। অশ্রুশিক্ত হয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে সামান্য ট্রিটমেন্ট দিয়ে তিন মাস হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার পায়ে নয়টি অপারেশন করার পরেও এখনো সুস্থ হতে পারিনি। কবে হবো তার ঠিক নেই। অপরদিকে আহতদেরকে এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে বললেও এখনো আমরা কিছুই পাইনি। শুধু চিকিৎসাই ফ্রি করা হচ্ছে। আমাদের কী অন্য কোনো খরচ লাগে না?  আমাদের পরিবার আমাদের পেছনে খরচ করতে করতে সব শেষ করে ফেলেছে। দেশের জন্য এত ত্যাগ করে আমরা কী পেলাম। আজ আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা সরকার গঠন করেছে তারা এখন আমাদেরকেই চিনে না। আমরা চাই তারা সবাই আমাদের সঙ্গে কথা বলুক। আমাদের জন্য ঘোষণা করা সেই এক লাখ টাকা দিক এবং যাদের যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন তাদেরকে সেভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া হোক। ১৯শে জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ মো. শাহীন নামে আরেক জন বলেন, আজ পর্যন্ত আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। সেই কথাই বলতে গিয়েছিলাম উপদেষ্টাকে। নিজেদের মানুষ মনে করে তার কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা তো শুনলেনই না উল্টো অপমান করলেন। আমরা দেশের জন্য নিজেকে বলি দিয়ে আজ চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব। আমরা এর প্রতিকার চাই। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট থেকে এসে বিক্ষোভে যোগ দেয়া গত ৪ই আগস্ট চোখে গুলিবিদ্ধ কিশোরগঞ্জ পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী শেখ সাদী বলেন, আমার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে। আমি গত ৬ই আগস্ট থেকে চক্ষু বিজ্ঞানে ভর্তি। আমার ডান চোখে এখনো গুলি ঢুকে আছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, আমরা সর্বোচ্চ ট্রিটমেন্ট দিয়েছি।

এদেশ থেকে আমার চোখের গুলি বের করা সম্ভব নয়। বিদেশে যেতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কেউ কোনো আলাপ করলো না। আমাদের শুধু ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এই ওষুধ ছাড়াও যে একটা রোগীর কতো খরচ লাগে সে হিসাব কেউ নেয় না। রোগীর সঙ্গে যেই স্বজনরা থাকে, তাদের খরচ কেউ দেয় না। এমনকি এক লাখ টাকা করে দেয়ার কথা তাও আমরা পাইনি। আমাদের অনুদানের টাকা পর্যন্ত মেরে খাওয়া হচ্ছে। আমরা এসবের প্রতিকার চাই। আমাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সকল দাবি পূরণ করতে হবে। রাত সাড়ে ৭টার দিকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। আন্দোলনকারীরা স্নিগ্ধকে তাদের পাশে অবস্থান করার অনুরোধ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জিয়াউল হক বলেন, আমরা দুপুর থেকে অনেকবার আহত আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাদেরকে বারবার রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনোভাবেই তারা রাস্তা ছাড়তে রাজি হননি।

mzamin

‘জিরো কার্বন’ ভিত্তিক জীবনধারার আহ্বান ড. ইউনূসের

পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্যপণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোনো বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। গতকাল আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ-২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রফেসর ইউনূস বলেন, এই জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধু নবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে, যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এ সময় সামাজিক ব্যবসাকে সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি মুনাফাহীন ব্যবসা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন তিনি। বলেন, সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণেরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। তিনি বলেন, পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন। যে নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। ড. ইউনূস বলেন, তরুণরা সেই জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্যভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধু সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্যভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারা জীবন তিন শূন্যভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা করতে আমাদের যা করতে হবে, তা হলো এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা, যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের এই গ্রহকে ভালোবাসে। আশা করি, আপনারা এই স্বপ্ন দেখায় আমার সঙ্গে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসঙ্গে স্বপ্ন দেখি, তবে তা সম্ভব হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানবসভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্মবিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আত্মরক্ষাত্মক ও আত্মশক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। প্রফেসর ইউনূস বলেন, মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে, যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা একে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এই গ্রহব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক কাঠামোটি সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন, তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন।

নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের জন্য দক্ষিণ এশিয়া গ্রিড তৈরির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার: এদিকে বাকুতে জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে সোশ্যাল বিজনেস গ্রুপের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুতের জন্য একটি দক্ষিণ এশিয়া গ্রিড তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে সংযোগকারী বিদ্যুৎ গ্রিড না থাকায় হিমালয়ের দেশগুলোর বেশির ভাগ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভাবনা স্তিমিত রয়েছে। নেপালের কর্মকর্তারা জানান, দেশটির ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারত ও বাংলাদেশের মতো বড় দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রিড তৈরি করার কথা ভাবতে হবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সহজেই নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আনতে পারে কারণ এটি বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৪০ মাইল দূরে। নেপালের জলবিদ্যুৎ সহজলভ্যও হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্যা রোধে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পানি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পানি আমাদের প্রধান পরিবেশগত সমস্যা। আমাদের এমনভাবে পানি ব্যবস্থাপনা করতে হবে যাতে তা প্রকৃতিকে সমর্থন করে। ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুব উন্নয়ন ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত বার্ষিক টি-টোয়েন্টি বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালীন জানুয়ারিতে তরুণদের জন্য একটি উৎসবের আয়োজন করবে সরকার। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নারী ফুটবলের জন্য একটি টুর্নামেন্টেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা দেশের সব জায়গায় উৎসব করার চেষ্টা করছি। ড. ইউনূস সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল সে সম্পর্কেও আলোচনা করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এবং পৃথিবী ও মানুষের জন্য কল্যাণকর এমন নতুন সভ্যতা গড়ার প্রচেষ্টায় বিশ্বের একটি নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো দরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর সঙ্গে এলডিসি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ-২৯ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পাঁচটি প্রধান জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ স্বল্পোন্নত দেশ- নেপাল, মালাউই, গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া এবং বাংলাদেশ-এর নেতারা যোগ দেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের একটি নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো দরকার যা পৃথিবী এবং এর মানুষের জন্য কল্যাণকর। একইসঙ্গে বিশ্বের তরুণদের জন্য একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকে হওয়া সম্মেলন ‘সামিট ফর দ্য ফিউচার’ এ সমর্থন জানাই। প্রফেসর ইউনূস বলেন, আমরা এমন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছি যার মূল হচ্ছে ভোগ, ভোগ এবং ভোগ। এটি শুধু বর্জ্য, বর্জ্য এবং বর্জ্য তৈরি করে। আমাদের শূন্য বর্জ্যের বিশ্ব তৈরি করতে হবে। প্রতি বছর কপ জলবায়ু সম্মেলন করা উচিত নয় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের কী প্রয়োজন তা আমরা জানি এবং এর জন্য আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত। এটি দেশ অনুযায়ী হওয়া উচিত। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি (বর্জ্য) নিরসনের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রতি বছর এখানে দেখা করার দরকার নেই। প্রতি বছর আলোচনার জন্য মিটিং করা সময়সাপেক্ষ, অপচয় এবং অপমানজনক। প্রধান উপদেষ্টা জলবায়ু আলোচনার জন্য একটি নতুন পদ্ধতির আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পদ্ধতিটি বিশ্বের বেশির ভাগ চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত দেশগুলো সবচেয়ে বড় অবিচারের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা আপনাদের বলতে চাই যে, আমরা আপনাদের বিষয়ে গুরুত্ব দেই। জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য একটি বৃহত্তর তহবিল সুরক্ষিত করার জন্য এলডিসিগুলোকে কঠোর আলোচনা এবং ‘গুরুতর প্রক্রিয়া’ তৈরি করতে হবে।

ঋণ প্রাপ্তিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান ড. ইউনূসের: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ঋণ প্রাপ্তি একটি মৌলিক অধিকার। জীবিকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঋণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনের একটি সাইডলাইন ইভেন্টে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। জলবায়ু সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে ‘একটি বৈশ্বিক সংলাপ: ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অর্থায়ন সুবিধা’ শীর্ষক এই ইভেন্টের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ এবং এতে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের জলবায়ু দূত বোরবোন-পারমার ডাচ্‌ প্রিন্স জেইম বার্নার্ডো। ডাচ্‌ প্রিন্স উল্লেখ করেন কীভাবে ঋণ, বীমা, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং অর্থায়ন কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এবং জানান সারা বিশ্বের লাখ লাখ কৃষকের এখন এই সহায়তা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইভোন পিন্টো। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ঋণ সহজলভ্য হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী ধান উৎপাদন বেড়েছে। ডাচ্‌ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ব্যাংক এফএমও-এর পরিচালক জোরিম শ্রাভেন ঋণ প্রাপ্তির অধিকারের বিষয়ে নৈতিক সমর্থন দেয়ায় ড. ইউনূসের প্রশংসা করেন এবং জানান, এটি মানুষের তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কিত। ইন্টার প্রেস সার্ভিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আইপিএস নোরামের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা হক রহমান বলেন, বর্তমানে ৫৫ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার বিশ্বব্যাপী দুই বিলিয়ন মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়। প্রফেসর ইউনূস বলেন, যদি একজন কৃষককে ঋণের সুবিধা দেয়া হয় তবে সে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে। প্রত্যেক ব্যবসায় টাকা এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন কৃষক শুধুমাত্র ফসল উৎপাদন করেন না, তিনি তা বাজারে বিক্রি করেন। এভাবে তার জীবনমানের উন্নতি হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কৃষকদের জন্য ঋণ সহজলভ্য করতে দেশে দেশে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল অনুসরণ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা উচিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশে সামাজিক ব্যবসা ব্যাংকিং আইন থাকা উচিত। অন্যদিকে কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত এক সাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নতুনভাবে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

mzamin

সেনাবাহিনী কতোদিন মাঠে থাকবে এই সিদ্ধান্ত সরকারের

সেনাসদরের স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার বলেছেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী কতোদিন মাঠে থাকবে সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সেনাবাহিনী প্রশাসনকে ৬০ দিন সহায়তা করবে এই তথ্যটি সঠিক নয়। ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কতোদিন থাকবো এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে, সরকারই এটা নির্ধারণ করবে কতোদিন মোতায়েন থাকা প্রয়োজন। গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রতিরোধ করার ব্যাপারে সেনাবাহিনী অত্যন্ত সচেতন। এই ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দিষ্ট আদেশ রয়েছে যে, কোনো ধরনের পরিস্থিতিতে যেন আমরা সেনাবাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হতে না দেই, সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এটা প্রতিরোধ করার। এ ছাড়া আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে এই ধরনের (মানবাধিকার লঙ্ঘন) কোনো ঘটনা ঘটতে যেন না দেই। যে ঘটনাগুলো ঘটছে আপনারা সেগুলো জানতে পারছেন। এর বাইরে আমাদের কার্যক্রমের কারণে কতোগুলো পরিস্থিতিতে এই ধরনের কোনো কিছু প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, এটা হয়তো অনেক সময় জনসম্মুখে আসে না।

ইন্তেখাব হায়দার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। পুলিশের কাছে অপরাধের যে তথ্য থাকে, এটা নিয়ে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ আমরা করিয়েছি। সে অনুযায়ী, সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার পরে বা নির্বাহী ক্ষমতা পাওয়ার পরে আগের তুলনায় অপরাধের সংখ্যা কমেছে। নথিভুক্তি কমেছে। তার মানে পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। আমাদের হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি হয়নি, এটা অনেকে বলতে পারেন। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।

শিল্প খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইন্তেখাব হায়দার বলেন, শিল্প খাতে এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক শ্রমিক অসন্তোষের (আনরেস্ট) ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো সহিংস ছিল, বিশেষ করে শুরুর দিকের যে ঘটনাগুলো। আমাদের সঙ্গে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীও ছিল, তারা যদি সময়মতো গিয়ে তাদের (শ্রমিক) শান্ত করার ব্যবস্থা না করতেন, হয়তো এর থেকে অনেক বেশি ঘটনা ঘটতে পারতো। এসময় তিনি বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে অনেক কিছু করতে হয় কিন্তু সেনাবাহিনী টার্গেট করে কাউকে মেরেছে এ রকম কোনো ঘটনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, দেশব্যাপী চলমান অভিযানে ৬ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় ২ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এসব অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৬০০-এর অধিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এবং কারখানাগুলোকে চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বর্তমানে দেশের ২০৮৯টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে প্রায় সবগুলোই এ মুহূর্তে চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি ৭০০-এর অধিক বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ১৪১টি, সরকারি সংস্থা, অফিস সংক্রান্ত ৮৬টি, রাজনৈতিক কোন্দল ৯৮টি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ৩৮৮টি।  তিনি আরও জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়মতো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এবং বহু মানুষের জান ও মালের ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিদেশি কূটনীতিক ব্যক্তিবর্গ ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সেনা টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা, বিভিন্ন অপরাধী ও নাশকতামূলক কাজের ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করার কাজেও সম্পৃক্ত রয়েছে। যৌথ অভিযানে ৭০০ জনের অধিক মাদক ব্যবসায়ী অথবা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজাসহ অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত হলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে প্রত্যন্ত এলাকাসহ সকল দুর্গত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় মোবাইল সংযোগ পুনঃস্থাপনে সহায়তা, মহাসড়কে ট্রাফিক চলমান রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও সড়ক সংস্কার, এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনেও সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রাখে, যা এখনো চলমান রয়েছে। এসময় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য দেশের আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও সহমর্মিতা ছিল সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসে দেশের মধ্য-উত্তরাঞ্চলের ৪টি জেলা বন্যা আক্রান্ত হলে একইভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা কাজে অংশগ্রহণ করে। দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদবির অফিসারদের সরকার কর্তৃক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তার জন্য সেনাবাহিনীর সকল পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই বিশেষ ক্ষমতার কার্যকরী প্রয়োগের কারণে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি যেমন চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, শিল্পাঞ্চলের বিশৃঙ্খলা, রাস্তা অবরোধ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনাকে অনুসরণ করে এ মুহূর্তে দেশের ৬২টি জেলায় সেনাসদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সামনের দিনগুলোতে এই সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করে কর্মধারা অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ।

mzamin

জেনেভা কাণ্ড: লেবার কাউন্সেলর ফেরত, লোকাল স্টাফের চাকরি ডিসমিস by মিজানুর রহমান

জেনেভা বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও প্রবাসী  কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছে সরকার। এর সঙ্গে আওয়ামী আমলে জেনেভা মিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা এবং এক লোকাল স্টাফের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে রিপোর্ট পেয়েছে ঢাকা। সেই রিপোর্টের আলোকে লেবার কাউন্সেলর মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাকে ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে লোকাল স্টাফ হিসেবে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মচারী মিজানের চাকরি ডিসমিসের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হেনস্তার ঘটনার ৩ মাস্টারমাইন্ডসহ প্রায় সবাইকেই শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর বিদেশস্থ বাংলাদেশের সব মিশনে জরুরি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। সেই পরিপত্রে মোটাদাগে দু’টি বিষয় উল্লেখ করা হয়। এক. সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিদেশ সফরকালে যথাযথ প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুই. যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রদূতসহ সকলকে সর্বতোভাবে সচেষ্ট থাকা।

মানবজমিন-এর হাতে আসা রিপোর্ট বলছে- জেনেভাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম জমাদার। তিনি সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি। ঘটনার দিনে মাফলার পরিহিত ছিলেন নজরুল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে মরোক্কোর এক নারীকে বিয়ে করে বর্তমানে জেনেভায় থিতু হয়েছেন তিনি। তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। রিপোর্ট বলছে, এ ঘটনার দ্বিতীয় মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন শ্যামল খান। তিনি সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি টাঙ্গাইল শহরে। বাংলাদেশ মিশনের কাছেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তিনি মুনসুন নামে ৬টি গ্রোসারি শপের মালিক। স্বর্ণ এবং ডলারের ব্যবসাও রয়েছে তার। ফ্রান্সের বর্ডারে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রিপোর্ট মতে, আসিফ নজরুলকে হেনস্তার তৃতীয় পরিকল্পনাকারী হলেন খলিলুর রহমান। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক। তার বাড়ি নোয়াখালীতে। মানবাধিকার বিষয়ক একটি সংস্থার সঙ্গে জড়িত। তাছাড়া রু-দ্য পাকি এলাকায় সাজনা নামে প্রতিষ্ঠিত রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি। মিশনের কাছাকাছি ওই রেস্টুরেন্টে দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সবাই খেতে যান বলে রিপোর্ট মিলেছে।

উপদেষ্টার প্রটোকলে নিযুক্ত লেবার কাউন্সেলর এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ: ২৯ ব্যাচের অফিসার কামরুল ইসলাম। ২০২০ সালে জেনেভা মিশনে পোস্টিং পান। তার আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ সচিবের পিএস ছিলেন। গ্রামের বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। ডিএস র‌্যাঙ্কের ওই কর্মকর্তা উপদেষ্টার সমাপনী দিনেই প্রথম প্রটোকল করেন। তবে এটা তার জীবনের প্রথম প্রটোকল ডিউটি নয়। মানবজমিন-এর হাতে আসা তথ্যমতে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন যখন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তখন জোর করে জেনেভায় শ্রম উইং খোলা হয়। যদিও সুইজারল্যান্ডে শ্রমিক পাঠায় না বাংলাদেশ। দেশটিতে যেসব বাংলাদেশি রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই হোয়াইট কালার জব করেন। সেখানে লেবার উইং-এর কোনো প্রয়োজন নেই মর্মে আপত্তি জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী পাল্টা যুক্তি দেন যে, জেনেভায় শ্রমিক না থাকলেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র সদর দপ্তর রয়েছে। লেবার কাউন্সেলর এবং সেই উইংয়ের অন্যরা নাকি আইএলও অফিসের সঙ্গে খাতির বাড়াবে যাতে বাংলাদেশের শ্রমমান নিয়ে জেনেভায় কেউ কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে না পারে। রিপোর্ট বলছে, আইএলও’র বিষয়গুলো রাজনৈতিক। সেখানে লেবার কাউন্সিলরের কোনো কাজই নেই। ফলে কোনো শ্রম কাউন্সেলর ওই বিল্ডিংয়ে পা-ও ফেলেন না। গত বছর ঢাকা থেকে একটি অডিট টিম যায় জেনেভায়। তারা দেশে ফিরে রিপোর্ট করে। সেই রিপোর্টে মন্তব্য ছিল- জেনেভায় শ্রম উইং-এর কোনো দরকার নাই। সেখানে উইং খুলে কেবলই সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারপরও প্রবাসী মন্ত্রণালয় ওই উইং বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। স্মরণ করা যায়, যে শ্রম কাউন্সেলরকে ফেরানো হয়েছে কিংবা যে শ্রম উইং নিয়ে এত কথা সেটার উপদেষ্টা হচ্ছেন আসিফ নজরুল। তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত।

জেনেভা বিমানবন্দরে আসিফ নজরুলের সঙ্গে কী ঘটেছিল: প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে রেখেছেন একদল লোক। তারা উপদেষ্টার সঙ্গে উত্তেজিত ভাষায় কথা বলছেন। তর্ক করছেন। বারবার তার দিকে তেড়ে আসছেন। ঘিরে ধরছেন, সামনে এগুতে দিচ্ছেন না। বলছেন, আপনি মিথ্যা বলেছেন। জানা যায়, জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডি এবং সংস্থাটির গুরত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছিলেন উপদেষ্টা। দূতাবাসের প্রটোকলে তিনি গাড়িতে করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে পৌঁছান। গাড়ি থেকে নামার পর হঠাৎ একদল লোক এসে উপদেষ্টাকে ঘিরে ধরে। তাকে বিরক্ত করতে থাকেন। উচ্চশব্দে কথা বলতে থাকেন। ভিডিওতে দেখা যায় এ সময় আসিফ নজরুল বলছেন, ‘আপনি গায়ে হাত দিচ্ছেন কেন? এভাবে কথা বলতে পারেন না। আপনি অনেক খারাপভাবে কথা বলছেন, খারাপ ব্যবহার করছেন। আপনাদের ল্যাঙ্গুয়েজ এমন কেন? আপনারা আসেন, কথা বলবো। তখন হেনস্তাকারীরা বারবার তর্ক করতে থাকেন। তাদের একজন বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতার পক্ষের লোক, আপনারা বিপক্ষের লোক। এরপর আসিফ নজরুল বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যান। হেনস্তাকারীরা তখনো তার পিছু নেন। ‘পাকিস্তানি রাজাকার, বাংলাদেশ সরকার’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আইন উপদেষ্টা দপ্তর সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, সেদিনের ঘটনায় বিব্রত উপদেষ্টা। ধাক্কাধাক্কিকালে তিনি পেটে আঘাত পেয়েছেন। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বিস্তারিত পাঠিয়েছেন। উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. শামছুদ্দীন মাসুম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা মিশনের গাড়িতেই বিমানবন্দরে যান। সেখানে তার সঙ্গে একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ভিডিওতে তাকেও দেখা গেছে। প্রোটোকল নিয়েই তিনি সেখানে গেছেন। তবে আগে থেকে তার বিমানবন্দরে উপস্থিতির তথ্য দেয়া ছিল কি না সেটা আমরা জানি না।’ 

বিদেশ যাওয়া হলো না স্বজনের by ফাহিমা আক্তার সুমি

আবুল হাসান স্বজন। বিশ বছরের এই তরুণ একটি কোম্পানির মার্কেটিংয়ে চাকরি করতেন। গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ই আগস্ট বিকাল পাঁচটায় মারা যান। তার বুকের বামপাশে গুলিটি বিদ্ধ হয়। স্বজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের কুশিয়ারায়। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার বাবা জাকির হোসেন ব্যবসা করতেন। সন্তানের মৃত্যুর শোকে দ্বিতীয়বারের মতো স্ট্রক করে শয্যাশয়ী হয়ে পড়েছেন। মা আফিয়া বেগমও ভেঙে পড়েছেন সন্তানকে হারিয়ে। বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সংসারের হাল ধরেছিলেন এই তরুণ। স্বজনকে হারিয়ে চিন্তিত তার একমাত্র ভাই। স্বজনের স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার।

আবুল হাসান স্বজনের ভাই আবুল বাশার অনিক মানবজমিনকে বলেন, স্বজনের বিদেশে যাওয়ার সব কাগজপত্র রেডি হয়েছিল শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। অভাবের কারণে বেশিদূরে পড়াশোনা করতে পারেনি। দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে বাবা স্ট্রক করে এরপর বন্ধ হয়ে যায় ওর পড়াশোনা। আমিও মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ে আর পড়তে পারিনি। বাবা ব্যবসা করতেন অসুস্থ থাকায় সংসারের হাল ধরতে দুই ভাই কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কাজ করতাম। স্বজনই পরিবারের জন্য বেশি কিছু করতো যা আয় করতো সবই সংসারের পেছনে খরচ হতো। পুরো পরিবারটিকে সে ধরে রেখেছিল।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার ভাই ৫ই আগস্ট একসঙ্গে আন্দোলনে গিয়েছিলাম। প্রতিদিনই একসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমরা অংশ নিতাম। ঘটনার দিন আমরা বন্দর থেকে এগারো জন অন্দোলনে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ যাই। পরে সকাল দশটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখি পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। পরে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে চলে যায়। এরপর আমরা চাষাড়া চত্বর দখলে নেই। দুপুরের দিকে চাষাড়া চত্বর থেকে খানপুর রোডের দিকে আমরা একটি মিছিল নিয়ে যাই। সেখান থেকে আমার ভাই ছাড়া বাকি দশজন অর্ধেক গিয়ে  পেছনের দিকে চলে আসি। স্বজন সামনে থাকায় আমরা চলে এসেছি এটি খেয়াল করেনি, আমাদেরও খেয়াল ছিল না যে সে সেখানে ছিল। চাষাড়া চত্বরে আসার দশ মিনিট পর শুনতে পাই স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে গুলি করে। গুলিটি লেগেছিল বুকের বাম পাশের কিছুটা নিচের দিকে লেগে কোমরের দিকে বিদ্ধ হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ই আগস্ট বিকাল পাঁচটার দিকে মারা যায়। এর আগে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টা স্বজনের একটি মেজর অপারেশন হয়েছিল।

আবুল বাশার অনিক বলেন, যখন আমরা একটি মিছিল থেকে চাষাড়ার দিকে চলে আসি তখন এলাকার এক বড় ভাই এসে বলে, স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেদিন যাতায়াতের জন্য কোনো যানবাহন ছিল না অনেক কষ্ট করে কোনোমতে একটি রিকশা নিয়ে যাই। আমি যখন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গেটের সামনে গিয়ে পৌঁছাই তখনই আমার ভাইকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেয়। দৌড়ে গিয়ে রানিং অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পড়ি। আমরা যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে যাই তখন দেখি আশপাশে থাকা প্রতিটি ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়ছে। রাস্তার অবস্থা তো আরও ভয়াবহ খারাপ ছিল। পুলিশ আর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একের পর এক গুলি করছে। ফ্লাইওভারে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া আর কোনো যানবাহন ছিল না। আমাদের বহন করা অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শোনে তখন পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সটি লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছুঁড়তে থাকে। কতোটা নিষ্ঠুর হলে মানুষ এমন করতে পারে। অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারাতে গিয়েছিল সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়েছে সেদিন। চালক কৌশলী এবং সাহসী থাকায় দ্রুতগতিতে টেনে চলে যায় মেডিকেলের দিকে।

সেদিনের ঢামেকের ভয়াবহ দৃশ্যর বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বিকাল সাড়ে তিনটায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে ঢাকা মেডিকেলে নামি তখনের পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। এ পরিস্থিতি দেখার মতো ছিল না। মিনিটে তিন-চারটি করে গুলিবিদ্ধ আহতদের নিয়ে এসেছিল। ঢাকা মেডিকেলে রক্তের বন্যা ছিল সেদিন, মেঝেতে পা রাখার কোনো জায়গা ছিল না। আমরা সজলকে যখন নিয়ে যাই তখন লাশের উপর থেকে ভিতরে যেতে হয়েছে এমন অবস্থা। এদিকে ঢামেকের মর্গে কোনো জায়গা না থাকায় পুরো বারান্দায় ভরা ছিল লাশের স্তূপ। লাশগুলো মেঝেতে পড়ে ছিল তাদের কোনো স্বজনকেও দেখিনি তখন। সন্ধ্যার সময় স্বজনকে অপারেশন থিয়েটারে দেয়া হয় এবং রাত তিনটার দিকে তাকে বের করা হয় থিয়েটার থেকে। আমি পাঁচ মিনিটের জন্য ভাইয়ের কাছে যাই। যখন তার জ্ঞান আসে তখন স্বজন প্রথমেই আমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘শেখ হাসিনার পতন হয়েছে কিনা?’ আমি তাকে একটু বিরক্তির সুরে বলেছিলাম এই অবস্থায় এগুলো চিন্তা করার দরকার নেই, তোমাকে নিয়ে আমরা সারাদিন দৌড়ের মধ্যে ছিলাম এগুলো খবর রাখতে পারিনি। পরে স্বজন আমাকে খবর নিয়ে সরকার পতনের খবরটি জানাতে বলে। আমি বাইরে এসে আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে জেনে একঘণ্টা পরে স্বজনের কাছে গিয়ে বলি, হ্যাঁ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়েছে। এই কথাটি শোনামাত্র স্বজন একটি মুচকি হাসি দিয়ে বলে উঠে- ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এটি ছিল আমার ভাইয়ের শেষ হাসি এমন হাসি আমি তাকে আর কোনোদিন হাসতে দেখিনি। এই মুহূর্তটা আমি এখনো ভুলতে পারছি না। ওইদিন বিকালের দিকে ভাই মারা যায়। ময়নাতদন্ত ছাড়া অনেক জোড়াজুড়ি করে আমার ভাইয়ের লাশটি নিয়ে আসি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে। ৭ই আগস্ট তাকে দাফন করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ২৩শে আক্টোবর ময়নাতদন্তের জন্য স্বজনের মরদেহটি কবর থেকে তোলা হয়।

mzamin


শাহজালালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: সেবা নিয়ে প্রশ্ন, থার্ড টার্মিনালে যাচ্ছে বিমান by শুভ্র দেব

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার মান নিয়ে বহু বছর ধরে যাত্রী ও এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ রয়েছে। দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকা ও অব্যবস্থাপনায় সময়মতো যাত্রীদের ব্যাগেজ না পাওয়া এমন অভিযোগ হর-হামেশা পাওয়া যাচ্ছে। আবার ব্যাগেজে কাটাছেঁড়া, মূল্যমান মালামাল চুরির ঘটনাও অহরহ। দেরিতে ব্যাগেজ আসা ও চেক-ইন ব্যাগ দেরিতে উড়োজাহাজে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কাজ পাচ্ছে বিমান। আগামী দুই বছরের জন্য তাদের এই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। এই যখন অবস্থা তখন প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে বিমান টার্মিনাল-১ ও ২ এর দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছে না। সেবার মান একেবারে তলানিতে। ৯৩ শতাংশ যাত্রী ও এয়ারলাইন্স বিমানের সেবার মান নিয়ে বিরক্ত। তবুও কীভাবে বিমানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ দেয়া হচ্ছে। থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব নেয়ার জন্য বিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য বিমানের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই। আগের টার্মিনাল পরিচালনা করতেই বিমান হিমশিম খাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিমানকে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব দেয়া উচিত হবে না।

বিমান থার্ড টার্মিনালের কাজ পাচ্ছে এমন খবরে আপত্তি জানিয়েছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো।  বেশির ভাগ এয়ারলাইন্সের অভিযোগ, বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান স্ট্যান্ডার্ড নয়। তারা অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেবা দিবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে বিমানের সঙ্গে আরও কোনো প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে দেয়া  গেলে সেবার মানের পার্থক্য উঠে আসবে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। কারণ শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক জরিপেই উঠে এসেছে ৯৩ শতাংশই বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমন অবস্থায় তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানকে দেয়া হলে মুখ থুবড়ে পড়বে। এ ছাড়া সেবার মান যদি বিমান উন্নত করতে না পারে তবে এভিয়েশন শিল্প সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

১৯৭২ সাল থেকে দেশের সব বিমানবন্দরে এককভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিজেদের ফ্লাইটের পাশাপাশি বিদেশি ৩৫টির মতো এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের সেবা দিচ্ছে তারা। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের শতভাগ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। এরপর টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য খুলে দিতে আরও এক বছরের মতো সময় লাগবে। এই সময়ে টার্মিনাল পরিচালনায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিবে বেবিচক। আর এই পরিচালনার বড় একটি কাজ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং। এই কাজটি কে পাবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার কারা হবে, তাদের কীভাবে এবং কী কী সার্ভিস দিতে হবে, সেই সার্ভিস দিয়ে রাজস্ব আয় কতো হবে সেগুলো নির্ধারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। প্রাথমিক প্রতিবেদনে তৃতীয় টার্মিনালের প্রাইভেট সেক্টর পার্টনারশিপের (পিএসপি) জন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন করা হয়েছিল। তবে গত ২৪শে অক্টোবর গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমানকে দিতে চিঠি ইস্যু করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পিপিপির পরিচালক (ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন) মো. আলী আজম আল আজাদ। পিপিপি’র চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী দুই বছরের জন্য বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আর বিমান প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে বিদেশি স্বনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দিতে হবে।

বিমান বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মান ও সার্ভিস চার্জ নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মধ্যেপ্রাচ্যভিত্তিক একটি বিদেশি এয়ারলাইন্স জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দুই হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করতে হয়। আর কার্গোর জন্য প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক শূন্য সাত সেন্ট (ডলার) চার্জও প্রদান করতে হয়। অথচ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মাত্র ২ থেকে ৩ জন কর্মী সরবরাহ করে। ফলে প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে বিমানবন্দরে গড়ে ২৫ জন করে নিজস্ব কর্মী নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো পরিচালনায় ব্যয় বাড়ছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতি ফ্লাইটের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার ২০০ টাকা চার্জ দিতে হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের  মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা পারবো মনে করছি বলেই কাজ শুরু করেছিলাম। লাইসেন্সও পেয়ে গেছি। আমরা জনবল নিয়োগ করেছি, যন্ত্রপাতিও কেনা হচ্ছে। থার্ড টার্মিনালের পরিধি অনেক বড়। টার্মিনাল-১ ও ২ দেখে যদি থার্ড টার্মিনালের তুলনা করা হয় তাহলে হবে না। এই দুই টার্মিনাল অনেক ছোট। সেখানে অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানুষ যেটা বলতেছে সেটা ওই টার্মিনালে কাজ দেখে ভাবছে বিমান পারবে না। থার্ড টার্মিনালের কাজ করার জন্য দুই বছর ধরে আমরা আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সক্ষমতার কথা বললে বিমান যন্ত্রপাতি, জনবল বা অন্য কিছু যদি থাকে তবে সেটা সংগ্রহ করতেই পারে। এটা নিয়ে খুব বেশি ভাবনার কিছু নাই। কারণ থার্ড টার্মিনাল চালু হলে খুব বেশি কাজ বেড়ে যাবে এমনটা নয়। যে এয়ারলাইন্স আছে সেগুলোর সঙ্গে হয়তো আরও কয়েকটা যোগ হতে পারে। কথা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্ব্বেও মানুষ বিমানের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট না। এখানে দুটি বিষয়, যাত্রীরা যারা আসছে তারা তাদের লাগেজ সঠিক সময়ে পাচ্ছে না। আরেকটা হলো একজন যাত্রী যখন অসন্তুষ্ট থাকে তখন বিষয়টি এয়ারলাইন্সের ওপর বর্তায়। এতে করে অনেক এয়ারলাইন্স বিমানের সেবায় অসন্তুষ্ট। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিমান ইমেজ সংকটে পড়েছে। এটা থেকে তারা কীভাবে বেরিয়ে আসবে সেটা দেখতে হবে।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মো. মফিদুর রহমান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ও দাবি থার্ড টার্মিনাল থেকে উন্নত, আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেয়া। কিন্তু বিমানের সেই সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা কোনো বিকল্প দেখছি না। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে শুধু বিমানেরই সেবা দেখছি। এ জন্য আমাদের পার্থক্য করারও সুযোগ হচ্ছে না। টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এ যাত্রী ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না বিমান। সে জায়গায় নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল অনেক আকাঙ্ক্ষার।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, আমরা আশা করছি বিমান সেটা ভালোভাবে করতে পারবে। তারা জাপানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। সবকিছুই তো পরিবর্তন হচ্ছে। বিমানও তাদের সেবার মান পরিবর্তন করবে বলে আশা করছি। তবে থার্ড টার্মিনালে আমরা একটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে দিবো। জাপানি কোম্পানি কেপিআইটা মনিটরিং করবে। আমরা এর নিচে নামবো না।

mzamin


উপদেষ্টা নিয়োগে অবশ্যই ছাত্রদের মতামত নিতে হবে -সমন্বয়কদের বৈঠক শেষে হাসনাত

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ফসল হলো অন্তর্বর্তী সরকার। তাই উপদেষ্টা নিয়োগের সময় অবশ্যই তাদের বক্তব্য নিতে হবে। বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলামোটর কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকদের হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের আজকের সভায় ১৫৮ জনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জন সমন্বয়ক ছিলেন। তবে অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। নিজেদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলাও নেই।

সমন্বয়কদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শুধু সরকারের গুণগান গাইব না। পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনাও করা হবে। এ ছাড়া মানুষের ভোগান্তি হয়, এমন কোনো কিছু করবে না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

mzamin

মা কবরে, বাবা জেলহাজতে: ৪ শিশু সন্তানের মানবেতর জীবনযাপন

এক মাস হলো মা কবরে গেছেন। ৪ দিন আগে পুলিশ বাবাকে ধরে নিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। এখন আমার মাও নেই, বাবাও নেই। আমরা ৪ ভাইবোন কি করে বাঁচবো। কে আমাদের খাওন দিবে? কি করে আমরা লেখাপড়া শিখবো? মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি ও আমার ছোট বোনের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এক মাস বয়সী ছোট ২টি বোন আনিশা ও তানিশা মায়ের দুধ খাবার জন্য সারাদিন কান্নাকাটি করে, মাকে আর ফিরে পাবো না। আপনারা আমার বাবাকে পুলিশের কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে দেন। এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের ১৩ বছরের সাজ্জাদ মিয়া সে এমএম খান উচ্চ বিদ্যালযের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং জামাল মিয়ার ছেলে। বুধবার সরজমিন চিত্রাপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, জামাল মিয়ার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী সাথী বেগম একমাস আগে হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সুস্থ হয়ে দুইটি যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বাড়ি ফেরার পরে সাথী বেগম আবার অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। দিনমজুর জামাল মিয়া স্ত্রীর রেখা যাওয়া চার সন্তানের লালন পালন করে আসছিলেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরের দিন গোপালগঞ্জ আদালতে পাঠিয়ে দেন। গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ জামাল মিয়াকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শওকত আলী দিদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। মা ও বাবার অবর্তমানে সাজ্জাদ (১৩), ফারিয়া (৭) ও এক মাস বয়সী আনিশা ও তানিশাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন- জামাল মিয়া ঢাকার তেজগাঁও থানায় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাই তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
mzamin

১৬ বছর বয়সেই হেনস্তার শিকার

ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন অভিনেত্রী রেশমি দেশাই। পরবর্তীতে বলিউড সিনেমায় নাম লেখান। দুই দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য টিভি সিরিয়াল ও বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে নানারকম চড়াই-উতরাই পার করেছেন তিনি। কাস্টিং কাউচের শিকারও হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান অভিনেত্রী। কাস্টিং কাউচ নিয়ে রেশমি জানান, মাত্র ১৬ বছর বয়সে অন্যায়ভাবে তার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিনেত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাকে এই খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এই নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার কথাও বলেছি। ইন্টারনেটে আমার বলা এই একই বিষয়ে অনেক কিছু পেয়ে যাবেন। আমার মনে আছে আমাকে একটা অডিশনের জন্য ডাকা হয়েছিল। যখন ওখানে যাই, ওই লোকটি ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন আমার বয়স মাত্র ১৬, আমাকে অজ্ঞান করার চেষ্টা করেছিল সে। হেনস্তা করা হচ্ছিলো। আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছিল, কোনোরকমে আমি বেরিয়ে এসেছিলাম। কিছু সময় পর, আমি আমার মাকে সব কথা খুলে বলি। তিনি আরও বলেন, আমার মনে আছে, আমি পরেরদিন মাকে সঙ্গে নিয়ে সেই লোকটার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আর আমার মা ওকে শিক্ষা দিতে কষিয়ে চড় মেরেছিল। কাস্টিং কাউচ সত্যিই আছে। আমার সঙ্গেই হয়েছে। আসলে সব ইন্ডাস্ট্রিতেই ভালো আর খারাপ, দু’রকম মানুষকে পাওয়া যায়। আমার ভাগ্য ভালো, পরবর্তীতে আমি অসাধারণ মানুষদের পাশে পেয়েছি।
mzamin

মন্ত্রিত্ব কোনো অর্জন না পাবলিক সারভেন্টের দায়িত্ব মাত্র -ফারুকী

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের স্বনামধন্য নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এই নির্মাতার উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পরই তার পুরোনো কিছু স্ট্যাটাসকে টেনে এনে তাকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ তকমা দিচ্ছেন অনেকেই। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ফারুকী নিজেই। গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়ে আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন ফারুকী। এতে তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকেই এই জালিম সরকারের পতন চাইতেন তিনি। ফারুকী লিখেন, ঘুণাক্ষরেও যা আগে ভাবি নাই এখন আমাকে সেটাই করতে হচ্ছে। আমি মাত্র দুই দিন হলো কাজ করছি। আমার মন্ত্রণালয়ে সহকর্মীদের মাঝে এই ধারণা দিতে পেরেছি যে, আমরা কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটাতে চাই। যেটা স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সংস্কৃতি কর্মীদের কাজে আসবে। দায়িত্বটা নেয়ার পর আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এরমধ্যে মুখোমুখি হতে হয়েছে এক অবিশ্বাস্য অভিযোগের! আমি নাকি ফ্যাসিস্টের দোসর! যেই ফ্যাসিস্টকে তাড়ানোর জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালাম ১৬ই জুলাই থেকে, অল আউট অ্যাটাকে গেলাম এটা জেনে যে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা টিকে গেলে আমার জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যু অথবা জেল, আমি তারই সহযোগী? তিনি বলেন, শাহবাগে আন্দোলন যখন শুরু হয় আর সবার মতো আমিও ভেবেছিলাম এটা নির্দলীয়। যে কারণে আমার সব পোস্টে এটাকে ঠেলে ‘রাষ্ট্র মেরামত’ এজেন্ডার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই যখন বুঝে যাই, তখনই লিখি ‘কিন্তু এবং যদির খোঁজে’। যে কিন্তু এবং যদি শাহবাগ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এই নির্মাতা বলেন, আমি তো কোনো বিপ্লবী নই। ছিলাম না কোনো কালে। আমি ফিল্মমেকার। ঘটনাচক্রে এবং আল্লাহর রহমতে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি আমার সেই পরিচয়েই গর্বিত। আমি মারা গেলে আমাকে ফিল্মমেকার হিসেবেই মনে রাখা হবে, মন্ত্রী হিসেবে না। ফলে মন্ত্রিত্ব আমার কাছে কোনো অর্জন না, পাবলিক সারভেন্টের দায়িত্ব মাত্র। আমি এটা ফাইনালি স্বীকার করেছি, নিজের ফিল্মের বাইরেও আমার দেশকে কিছু দেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ দিয়েছে- এটা বিশ্বাস করেছি বলে। আমার মনে হয়েছে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের লাভ-ক্ষতি না ভেবে এই ক্ষমতা দেশের কাজে লাগাই।
mzamin

পুলিশের নীরবতা, ফের অশান্ত জাফলং by ওয়েছ খছরু

রহস্যময় নীরবতা পুলিশের। এই সুযোগে জাফলং লুটে খাচ্ছে বালু ও পাথরখেকোরা। ৫ই আগস্টের আগে যে সিন্ডিকেট ছিল তারা বিদায় নিয়েছে। এসেছে নতুন সিন্ডিকেট। এখন তাদের দখলেই জাফলং। গণঅভ্যুত্থানের দিন থেকেই লুটের মহোৎসব চলছে। ইতিমধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন সাম্প্রতিক সমীক্ষা করে জানিয়েছে; জাফলং কোয়ারি থেকে ১২০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। এ নিয়ে হৈচৈ জাফলং জুড়ে। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরানের পদ স্থগিত করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার জাফলংয়ের বর্তমান সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আহমদ ও যুবলীগ নেতা আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে; বর্তমান দখলদাররা জাফলংয়ে বোমা বেশি লাগিয়ে পাথর লুট করছে। আর এতে বাধা দেয়া হলে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়। যারা বাধা দিয়েছে তাদের আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর হিসেবে ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। জাফলংয়ের নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি ও জুমবার এলাকার লোকজন জানিয়েছেন; পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা- ইসিএ হিসেবে জাফলং চিহ্নিত। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেখানে বালু ও পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকের কয়েক বছর পাথর লুটপাট বন্ধ থাকলেও বর্ষা মৌসুমে কোটি কোটি টাকার বালু লুট করা হয়েছে। আর এ লুটপাটে জড়িত ছিল সর্বদলীয় সিন্ডিকেট। ৫ই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মিছিল থেকে পূর্বের জাফলং সিন্ডিকেটের প্রধান ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন ও তার স্বজনদের বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়। এরপর এরা গা-ঢাকা দিয়েছে।

এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর থেকে অবাধে লুট করা হচ্ছে পাথর ও বালু। প্রতিদিন কোয়ারি এলাকা থেকে ৫-৬ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট করা হচ্ছে। জোরপূর্বক অনেকের জমি দখলে নিয়ে লুটপাট করার কারণে জমির মালিকরা বাধা দিচ্ছেন। আর এতেই বাধছে বিরোধ। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে জাফলংয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মামলা ও পাল্টা মামলা শুরু হয়েছে। জাফলংয়ে জুমপাড়ে থাকা দুই বস্তি রক্ষার বেড়িবাঁধ ধ্বংস করে কয়েক কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ট্রাক শ্রমিক নামধারী লাঠিয়াল বাহিনী। পুলিশও তাদের কাছে অসহায়। সশস্ত্র অবস্থায় কোয়ারিতে মহড়া দেয়ার কারণে পুলিশ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নীরব ভূমিকায় রয়েছে। কয়েক দিন আগে নয়াবস্তির মূল সড়কের পাশে পিয়াইন নদীতে অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করছিলেন বর্তমান পাথরখেকো সিন্ডিকেটরা। স্থানীয়রা এ নিয়ে ইউপি মেম্বারের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে মেম্বার গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এরপর পাথরখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা হামলা চালিয়ে চারটি বাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় কয়েকজন মহিলাকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ একটি মামলা করেছে। বিষয়টিকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে পাথরখেকো সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাফলং জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় জাফলংয়ে ফের অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাফলং কোয়ারিতে ৫ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়েছে যৌথ টাস্কফোর্স। অভিযানের সময় ১০ লাখ ঘনফুট বালু, ২০ হাজার ঘনফুট পাথর, ৫০ ট্রাম ট্রাক, পাঁচ শতাধিক বার্কি নৌকা জব্দ করা হয়।

mzamin

মায়ামিতে জমি কিনছেন নেইমার, মেসির সঙ্গে খেলার জোর গুঞ্জন

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রের মায়ামিতে জমি কেনার খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ২৬ মিলিয়ন ডলারে মায়ামির একটি খালি জমি কিনেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিষয়ক এই পত্রিকা। এরপর গুঞ্জন বাড়ছে নেইমারের পরবর্তী ক্লাব হতে যাচ্ছে ইন্টার মায়ামি। অবশ্য নেইমার বা তার এজেন্ট কোনো পক্ষই এই ব্যাপারে মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, ফ্লোরিডার এই জমিতে ১৩,০০০ বর্গফুটের একটি ভবন নির্মানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেইমার। এর জন্য লন্ডনভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তিও হয়েছে। তবে নেইমারের হয়ে যিনি জায়গাটি কিনেছেন তিনি মূল খদ্দেরের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। এর কারণও আছে। ওই জমি নিয়ে মামলা চলছে একটি দাতব্য সংস্থার সঙ্গে। নেইমারের হয়ে যিনি এই জমিটি কিনেছেন তার নাম বেন্টো কুইরোজ।

গত বছর আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ফোর্ট লডারডেলে ১০.৭৫ মিলিয়ন ডলারে একটি বিল্ডিং কেনার পরই মায়ামিতে যোগ দেন। নেইমারের এই জমি কেনা মায়ামিতে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত বলে ধারণা করছে ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডট কম।
২০২৩ সালে সৌদি ক্লাব আল হিলালে পাড়ি দেন নেইমার। ২০২৫ সালের জুনে তার সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে ক্লাবটির। সৌদি এই ক্লাবের জন্য এরমধ্যেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছেন নেইমার। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চুক্তিবদ্ধ থাকা এই ব্রাজিলিয়ান মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। গত অক্টোবরে ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পরে তাকে ৫৩ ম্যাচের জন্য সাইডলাইনে অপেক্ষা করতে হয়। গত মাসে আল আইনের বিপক্ষে আল হিলালের হয়ে মাঠে নামেন। ওই ম্যাচে ৫-৪ গোলে জেতে আল হিলাল। ৭৬.৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন থেকে আল-হিলালে যোগ দেন নেইমার। এরপর মেসিও ছাড়েন প্যারিসের ওই ক্লাব। মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩৭ ম্যাচে ৩৩ গোল করলেও মধ্যপ্রাচ্যে নেইমারের সময়টা ছিল বিষাদে ভরা।

আবারো ফিরছে ত্রিশূল!
নেইমার যদি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সাথে একটি দারুণ ত্রিশূল তৈরী হবে। নেইমার অবশ্য ইন্টার মায়ামির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডেভিড বেকহ্যাম মায়ামিতে এরমধ্যেই ‘লিটল বার্সেলোনা’ তৈরি করছেন। নেইমার আসলে এই ছোট বার্সা’র পরিকল্পনা পূর্ণতা পাবে। এরমধ্যেই মেসির সঙ্গে খেলছেন বার্সার সতীর্থ উরুগুইয়ান লুইস সুয়ারেজ, স্প্যানিশ সার্জিও বুস্কেটস এবং জর্ডি আলবা। ফ্লোরিডার স্থানীয় দৈনিক মায়ামি হেরাল্ড জানাচ্ছে, মায়ামিতে ঘন ঘন সফর করেছেন নেইমার। সেখানে তিনি বাস্কেটবল, টেনিস এবং বেসবলের মতো ক্রীড়া ইভেন্ট দেখার জন্যই বেশি এসেছেন। চলতি বছরের মার্চে ডেভিড বেকহ্যাম নেইমারের সাথে একটি ছবি পোস্ট করে কৌতুককর একটি ক্যাপশন দেন, ‘মায়ামিতে স্বাগতম বন্ধু (শুধু ডিনারের জন্য)।’ এরপর থেকেই গুঞ্জন বাড়ে নেইমারের মায়ামি যাওয়ার। এবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন এই গুঞ্জনকে আরো জোরালো করলো।

জেরার্ডো মার্টিনো কী বলছেন?
নেইমারের মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ইন্টার মায়ামি কোচ জেরার্ডো মার্টিনোও। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন কারও মায়ামিতে বাড়ি কেনার মানেই কি এখানে খেলতে আসা? বাস্তবতা হচ্ছে মেজর লীগ সকারের নিয়ম বেশ কড়া এবং এগুলো ভাঙা যায় না। যদি না তারা নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নেইমারকে দলে টানা প্রায় অসম্ভব।’ কার হিসেবে লীগ কর্তৃপক্ষের বেতন বিষয়ক সীমারেখাকে ইঙ্গিত করে মার্টিনো বলেন, ‘লীগ যদি তার বেতনসীমার বিষয়ে আরও নমনীয় না হয়, তবে এটি কীভাবে সম্ভব হবে তা বুঝতে পারছি না।’

mzamin


জনগণকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংস্কার সম্ভব

জনগণকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক তৎপরতা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হবে। ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ও সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন মত পোষণ করেছেন আলোচকরা। বুধবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাসদ (মার্ক্সবাদী) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। রাষ্ট্র সংস্কারে ছয়টি বিষয় নিয়ে এতে বিশদ আলোচনা করা হয়। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আমাদের দেশে যত নীতিমালা করা হয়েছে একটাও বাংলা ভাষায় লেখা না। সবগুলো ইংরেজি ভাষায় লেখা। এটা করে জনগণকে তার স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের যতগুলো নীতিমালা মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সবগুলো বাংলা ভাষায় লিখতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত যারা আছেন, তাদের সবাইকে পাবলিক এডুকেশন ও পাবলিক হেলথ কেয়ার ব্যবহার করতে হবে। তাদের ছেলেমেয়েরা যেন ব্যয়বহুল স্কুল ছেড়ে দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা নেন এবং সদর হাসপাতালগুলোতে সেবা গ্রহণ করেন, সেটা বাধ্যবাধকতা করা। তবেই এসব প্রতিষ্ঠানগুলো প্রসিদ্ধ হবে। এটাকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দিতে হবে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সব থেকে কম খরচ করা হয় শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে। পুরো অর্থনৈতিক নীতিমালার মধ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, ’৭১কে ’২৪-এর মুখোমুখি দাঁড় করানো বা বিপরীতে নিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রবণতা। কী কারণে ’৭১ থেকে ’২৪ বিচ্ছিন্ন হবে? ’৭১ এই জনপদের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধের জায়গা, অভ্যুত্থানের জায়গা। জনগণের আত্মবিশ্বাসের জায়গা। এখনো ’৭১ থেকেই মানুষ অনুপ্রেরণা পায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও আমরা একাত্তরের আওয়াজ নানাভাবে শুনেছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কারণে, চাপে সংবিধানে অনেকগুলো মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবিধানে আছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার রাষ্ট্র বহন করবে। মুক্তিযুদ্ধের কারণেই এই অধিকারগুলো সংবিধানে আছে। এসবের সঙ্গে ’২৪-এর অর্জন যোগ করতে হবে। কোনো কিছু বিয়োগ করা যাবে না।  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দু’টি বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে একটা অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতন হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাজধানী সহ সারা দেশে বিভিন্ন প্রস্তাব হচ্ছে, আলোচনা, বিতর্ক হচ্ছে এটা দ্বিতীয় সাফল্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের মধ্যদিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে? মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন সরকারের মধ্যে পড়েছে, এটা আমার মনে হয় না। সরকারের ভূমিকা এই প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে- এটা বলা যায় না। দেয়ালের গ্রাফিতিগুলোর মধ্যে যে আকাক্সক্ষা ব্যক্ত হয়েছে সেটা সরকারের ভূমিকার চেয়ে অনেক বেশি পরিণত মনে হয়েছে। দেয়ালে যেমন অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থা দেখা যাচ্ছে, সরকারের ভূমিকার মধ্যে আমি সেটা দেখতে পাচ্ছি না।

সরকার ও জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় পাওয়া গেলে, তাদের উপরে হামলা করলে- তাদের পতন হবে না। এতে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এতে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে বিরোধিতা করা হবে। আপনারা যদি এমন কাউকে চেনেন যারা হামলা,  বিদ্বেষী তৎপরতা চালাচ্ছে তাহলে মনে করবেন তারাই পতিত স্বৈরাচারের দোসর, সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তাদের থামানোটা আপনাদের অন্যতম বড় দায়িত্ব।

লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, প্রধান সমস্যা সংবিধান নয়, নির্বাচন কমিশনও নয়। জনগণের সংগঠিত চাপ না থাকলে আজকে আমরা এই সভা করতে পারতাম না।

তিনি বলেন, আমাদের যদি প্রশাসনকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাই তাহলে তাদেরও নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি গণতন্ত্র না থাকে তবে আপনি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে পারবেন না।

এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, শিক্ষা যদি একটি জাতীয় সম্পদ হয় তাহলে এটা বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয় হতে পারে না। অন্য দেশে ৬ বছর প্রাথমিক ও ৬ বছর মাধ্যমিক শিক্ষা যদি অপরিহার্য হয়, তাহলে সেটা কেন আমরা বিনা পয়সায় দেবো না। শিক্ষায় গণতন্ত্র মানে হলো- জাতীয় খরচে মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পাবে। একজন শিশু সাবালক হওয়া পর্যন্ত তার সব ধরনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। আমরা এটি শুধু তার পরিবারের উপর বণ্টন করে দিয়েছি।

নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, এই সরকারের মধ্যে অধিকাংশই একেবারে বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া এরা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি না। তাদের জীবনে তারা স্বল্পমাত্রায়ও কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কিন্তু তাদের আমরা যে দায়িত্ব দিয়েছি বা তারা যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেটা পুরোটাই একটা রাজনৈতিক ব্যাপার। আর যাদেরকে চিনি না তাদের সম্পর্কে আমার ন্যূনতম ধারণা নাই। এই অচেনা লোকেরা কী করবেন আর কী করবেন না তা নিয়ে একটা উদ্বেগের মধ্যে আছেন। যাদের চিনি তারা তো উদ্বেগের মধ্যে আছেনই।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আসবে কি আসবে নাÑ এটা নির্ভর করে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রয়োগের উপরে। আমরা মনে করি, আমাদের সবাইকে রাজনৈতিকভাবে তৎপর হতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করে চাপ প্রয়োগ করেই সংস্কার সম্ভব।

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক জায়গায় না এনে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যাবে না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটি নিশ্চিত।

বাসদ (মার্কসবাদী) সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।