Tuesday, September 24, 2019

তদন্তের মুখে ‘মুসলিম অব দ্যা ইয়ার’ মনোনীত নারী

বৃটেনের মুসলিম অব দ্য ইয়ার বা বছরের সেরা বৃটিশ মুসলিম হিসেবে মনোনীত এক নারীর বিরুদ্ধে জিহাদে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সক্রিয় থাকা ওই নারীর নাম সুমাইরা ফারুক। সমপ্রতি বার্মিংহামে এক জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীর একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। এতে দেখা যায় তিনি বলছেন, জিহাদই হচ্ছে মুসলিমদের জন্য একমাত্র সমাধান। এরপরই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বৃটিশ গোয়েন্দারা। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, অভিযুক্ত সুমাইরা ফারুক একজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক। তিনি নুর টিভির প্রধান নির্বাহী। ফুটেজটি যেদিন ধারণ করা হয়েছে, সেদিন তিনি কাশ্মীরে ভারতীয় সরকারের আচরণের নিন্দা জানাচ্ছিলেন। সে সময় বার্মিংহামে শত শত মানুষের সামনে তিনি বলেন, আজকে শুধু একটিই স্লোগান উচ্চারিত হবে। তা হলো, কাশ্মীর থেকে কারফিউ তুলে নাও। তাদেরকে তাদের মতো করে বাঁচতে দাও। এরপরই সুমাইরা বলেন, মুসলিমদের জন্য শুধু একটি কথাই সত্য যে, জিহাদই একমাত্র সমাধান। কোনো আন্দোলন বা কিছুই না, শুধু জিহাদ দরকার।
রোববার বার্মিংহামে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে তদন্তের বিষয়টি জানায় পুলিশ। এসময় সুমাইরা ফারুক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, বক্তৃতায় জিহাদের শান্তিপূর্ণ অংশের কথা বুঝিয়েছেন তিনি। উল্টো তার অভিযোগ, তার ওই বক্তৃতা নিয়ে এত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে কারণ তিনি হিজাব পরেন। এর আগে গত এপ্রিলে সাজিদ জাভিদ বৃটেনের প্রথম মুসলিম চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেলে এ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এসময় তিনি সাজিদ জাভিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহ আপনাকে মুসলিমদের জন্য কাজ করার সাহস দিক। ইসলাম ধর্মে জিহাদ শব্দের বিভিন্ন রকম অর্থ হতে পারে। তবে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা করে নিরীহ মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ তাদের সকল সহিংসতাকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করে। এরপর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে জিহাদের ওই ভুল ধারণা থেকে ব্যাপকহারে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সুমাইয়া ফারুক বলেন, আপনার যদি বৃটিশ সরকারের কোনো বিষয় ভালো না লাগে আর আপনি তার প্রতিবাদ করেন তাহলে সেটিই ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ। আপনি কি ভাবছেন আমি মুসলিমদের বলছি, যাও যুদ্ধ করো! আমি এশীয়দের বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করতে নানা সময়ে কাজ করেছি। আমি কীভাবে সহিংসতায় উস্কানি দিতে পারি!

নগ্ন স্তনের কারণে মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো জেনিফার লোপেজের ছবি

মার্কিন অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের নগ্নতা বিষয়ক ছবি ‘হাস্টলারস’ নিষিদ্ধ করেছে মালয়েশিয়া। এই ছবিতে অশালীন অনেক দৃশ্য থাকার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির চলচ্চিত্র সেন্সরশিপ বোর্ড বলেছে, ওই ছবিতে নগ্ন অবস্থায় নারীদের স্তন দেখানো হয়। আছে রগরগে নাচ। এ ছাড়া মাদকের ব্যবহার সংক্রান্ত দৃশ্য আছে এতে। ফলে এই ছবিটি প্রকাশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রদর্শন উপযোগী নয়। মালয়েশিয়ায় এ ছবিটির পরিবেশক কোম্পানি স্কয়ার বক্স পিকচার। তারা সামাজিক মিডিয়ায় ছবিটি নিষিদ্ধ হওয়া কথা নিশ্চিত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনে ছবিটি বর্তমানে বক্স অফিস হিট করেছে। ধুমছে চলছে হলে হলে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এই ছবিতে নগ্ন নতর্কীদেরকে দেখা যায় তাদের সম্পদশালী ক্লায়েন্টদের সঙ্গে। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত। ওই কাহিনী নিয়ে নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যা ২০১৫ সালে ভাইরাল হয়। এরই উপর ভিত্তি করে এই ছবি। এতে আরো অভিনয় করেছেন কন্সট্যান্স উউ, জুলিয়া স্টিলেস, লিজ্জো, কার্ডি বি প্রমুখ। এতে যৌনতা বিষয়ক নগ্নতা, শক্তিশালী যৌনতা বিষয়ক রেফারেন্স থাকায় এ ছবিটিকে ‘১৫ সার্টিফিকেট’ দিয়েছে বৃটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন। এ বছরের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ায় ‘রকেটম্যান’ ছবির সমকামী যৌনতা বিষয়ক দৃশ্য সেন্সর করা হয়। রাশিয়ায়ও এমন দৃশ্য সেন্সর করা হয়েছে। তবে এ ছবিটি মিশর, সামোয়া এবং কুক আইল্যান্ডে নিষিদ্ধ হয়েছে।

উদ্ভট নেশা যুবতীর

বুলগেরিয়ার ২২ বছর বয়সী যুবতী আন্দ্রে এমিলোভা ইভানোভা। উদ্ভট এক নেশা তার। নিজের ঠোঁটকে তিনগুন বড় করতে তিনি কমপক্ষে ১৫ বার অপারেশনের টেবিলে গিয়েছেন। তাতে খরচ হয়েছে কয়েক হাজার পাউন্ড। তার ধারণা, ঠোঁটকে তিনগুন বা তারও বেশি বড় করলে অধিক সুন্দরী দেখাবে, ফ্যাশন্যাবল দেখাবে। এমন নেশা তার শৈশব থেকেই। সেই নেশাকে পূরণ করার টার্গেট নিয়েছেন। ১৫ বার অপারেশন করানোর পর ভাবছেন এই ঠোঁট যথেষ্ট নয়। একে আরো বড় করাতে হবে। এ খাতে প্রতিবারের চিকিৎসায় খরচ করতে হয়েছে ১৩৫ পাউন্ড। ইভানোভা বলেছেন, এ জন্য বুলগেরিয়ার নান্দনিক ক্লিনিকগুলোতে তিনি ঘুরেছেন। এমন ক্লিনিকের সংখ্যা হবে কয়েক ডজন। তাদের কাছে এই আশা নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন যাতে তার ঠোঁট আরো বড় দেখায়। তাকে আরো সুন্দরী দেখায়। সোফিয়া ইউনিভার্সিটি সেইন্ট ক্লিমেন্ট ওরিদস্কিতে জার্মান দর্শনের ছাত্রী ইভানোভা। বলেছেন, এখন তার ঠোঁট যতটা বড় তাতে তিনি খুশি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তিনি নিজেকে সুন্দরী মনে করছেন। এমন ঠোঁট হলো এখন বুলগেরিয়ার ফ্যাশন।

ইন্সটাগ্রামে ইভানোভার রয়েছেন ১৫০০০ অনুসারী। তাদের কাছ থেকে তিনি ভুরি ভুরি মন্তব্য পাচ্ছেন। তারা তার ঠোঁট স্ফীতকরণের প্রশংসা করছেন। এমনকি ভক্তদের মাঝ থেকে কেউ কেউ তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে সবাই যে তাকে ভালভাবে নিচ্ছেন এমন না। কেউ কেউ তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কর্মকা-ের কড়া সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, তাকে দেখতে উদ্ভট লাগছে। ইভানোভা বলেন, সারাবিশ্ব থেকে প্রতিদিন আমার অনেক ভক্ত আমার ঠোঁট, শারীরিক গঠন ও স্টাইল নিয়ে মন্তব্য করেন। এর মধ্যে ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই ধরনের মন্তব্যই আছে। বেশির ভাগ নেতিবাচক মন্তব্য লেখেন নারীরা। তাতে আমার কিছু এসে যায় না। মানুষ কি বললো তাতে আমার কি! আমি তো আমার মতো নিজের ভাল বেছে নিয়েছি। কিছু মানুষ আমাকে বড় ঠোঁটে পছন্দ করে। কিছু মানুষ চায় স্বাভাবিক ঠোঁটে দেখতে। বিষয়টি তো আমার। অন্য মানুষের পছন্দ অপছন্দ এখানে অপরিহার্য্য নয়।

বড় ভয় হয় :-বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

বিজোড় বছর নিয়ে ভয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বিজোড় বছর বাঙালি জাতির জন্য সব সময় একটা ঝঞ্ঝা-বিক্ষোভের। আজ জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘এসবের শেষ কোথায়?’ শিরোনামে লেখা এক কলামে তিনি তার এই শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম লিখেছেন, ব্রিটিশ গেছে ’৪৭-এ, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ’৭১-এ, বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি ’৭৫-এ। কলামে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর প্রতি তার দুশ্চিন্তার কথাও উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, একটা অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। বড় তুফানের আগে গুমোট ভাব।
তিনি লিখেছেন, যখন জি কে শামীমের মায়ের নামে ১৬৫ কোটি, বাড়িতে নগদ ২ কোটি, ১০ হাজার কোটির চলতি কাজ তার মধ্যে ৫৫০ কোটি র‌্যাব সদর দপ্তরে, ৪৫০ কোটি পূর্তভবনে, ৫০০-৭০০ কোটি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে তখন বিস্মিত না হয়ে পারি না। পত্রিকায় দেখলাম, তিনি নাকি ২-৩ হাজার কোটি টাকা লোকজনকে ঘুষ দিয়েছেন। পূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীকেই দিয়েছেন ৪০০ কোটি। ৪ কোটি হলে আমরা উতরে যাই। অথচ স্বাধীনতা না এলে যারা পায়ে জুতা পরতে পারত না, তারা আজকাল হাজার কোটি ঘুষ দেয়।
রাজনীতির শত্রুতায় পড়ে কত কথা শুনেছি, এখনো শুনি। ভরসা করি একমাত্র আল্লাহকে। তিনিই এসবের বিচার করবেন। করছেন না যে তেমনও নয়। এই জগৎ সংসারে তিনি অনেক কিছুর বিচার করেন, করছেন। তবে বর্তমান এই উত্তেজনায় বড় অস্বস্তিতে পড়েছি। আওয়ামী লীগ করি না প্রায় ২০-২২ বছর। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাড়তে পারিনি, পারবও না। কারণ তিনিই আমার ধ্যান-জ্ঞান-সাধনা।
সেদিন আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘ক্যাসিনো চালু করেছে জিয়াউর রহমান।’ জিয়াউর রহমান করেছেন তাতে মাহবুব-উল আলম হানিফের কী। জিয়াউর রহমানের খারাপ কাজ কি তাকে বয়ে বেড়াতে হবে? জনাব হানিফের বড় ভাই আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। বেশ ভালো মানুষ ছিলেন। তার ভাই হিসেবে মাহবুব-উল আলম হানিফকে অবশ্যই ভালো চোখে দেখি। কিন্তু এসব কথায় তো গুরুত্ব দিতে পারি না। মাহবুব-উল আলম হানিফ তো বিএনপি করেন না, জিয়াউর রহমানের অনুসারী নন; তাহলে তার কাজ কেন বয়ে বেড়াবেন?
ক্যাসিনো অপরাধের কাজ এটা কি পুলিশ জানে না, তারা সহযোগিতা করেনি, সহযোগিতা নেয়নি? যুবলীগ-ছাত্রলীগ কতল হলে কিছু পুলিশেরও তো কতল হওয়া উচিত। অন্তত: ঢাকার ২০-২৫টি থানার ওসির গ্রেপ্তার হওয়া উচিত। যে যাই বলুক, পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া এখন আর তেমন কোনো কুকাজ হয় না বা করা যায় না। ছোট হোক বড় হোক, সব কাজেই পুলিশের সহায়তা লাগে। কিছু পুলিশ রাস্তাঘাটে যে অমানুষিক কষ্ট করে তার রহমতেই হয়তো এখনো পুলিশ বিভাগ টিকে আছে। ব্যক্তিপর্যায়ে পুলিশরা হাজার কোটির মালিক হতে পারে। কিন্তু মানুষের আস্থার মূল্য তার চেয়ে বেশি। তাই তাদের সুনামের কথা মনে রাখতে হবে। পুলিশ বাহিনীর সুনাম একেবারে শেষ হয়ে গেলে তারা রাস্তায় দাঁড়াতে পারবে না।
যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক এক দিনেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন এটা কেন? দুর্নীতিবাজ খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া-জি কে শামীমদের পক্ষ নেয়া যেমন ঠিক হয়নি, এখন ঘুরে যাওয়াও ঠিক হয়নি। সম্রাট আকবর-শাহজাহান-হুমায়ুন-বাবরের মতো ঢাকা সিটির ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট যদি এ রকম হাজার হাজার কোটি টাকার অপরাধ করতে পারেন তাহলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী লোকেরা কত করেছেন? আর এটা তো এখন ওপেন সিক্রেট। ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পর দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কোনো মর্যাদা নেই। সিভিল প্রশাসনের কথা অতটা বলতে পারব না, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন কোনো আওয়ামী লীগ নেতা-এমপি-মন্ত্রীর কথা শোনে না। মন্ত্রীদেরও তেমন গুরুত্ব ও সম্মান নেই। সত্যিই একটা অস্বস্তিকর অবস্থা। বড় তুফানের আগে গুমোট ভাব।
অন্যদের জন্য তেমন ভাবী না, সভানেত্রীর জন্য ভাবী। তাদের কষ্ট, দুর্ভাবনা, দুশ্চিন্তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই বড় বেশি বুকে বাজে। আমরা কোথায় যাচ্ছি আর দু-চার দিনের মধ্যে কোথায় যাব। বিজোড় বছর বাঙালি জাতির জন্য সব সময় একটা ঝঞ্ঝা-বিক্ষোভের। ব্রিটিশ গেছে ’৪৭-এ, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ’৭১-এ, বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি ’৭৫-এ। তাই বিজোড় বছরে আমার বড় ভয় হয়।

ক্লাবগুলো কলঙ্কিত করলো যারা by সামন হোসেন

একসময় রাজধানীর স্পোর্টস ক্লাবগুলো ছিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে। বেশির ভাগই ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আশপাশে। আশির দশকের শেষদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে সরিয়ে ক্লাবগুলোর জায়গা করে ফকিরেরপুল, আরামবাগ ও মতিঝিলে। এরপর থেকে এ এলাকার নাম হয়ে যায় ক্লাবপাড়া। বিস্তৃত এ জায়গায় আছে এক ডজনের মতো ক্লাব। এখন আর ক্লাবগুলোতে ঢুঁ মারলে ক্রীড়াবিদ পাওয়া যায় না। খেলোয়াড়দের অন্য জায়গায় রেখে সেখানে জুয়ার বোর্ড আর ক্যাসিনোর ব্যবস্থা করছে কয়েকটি ক্লাব। মোহামেডান, মেরিনার্স ও আরামবাগ খেলাকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম চালালেও অন্য ক্লাবগুলোতে যেন জুয়াই সব। বছর পাঁচেক আগেও সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। যে ক্লাবগুলোয় ক্যাসিনো বাণিজ্য চলে সেখানকার সংগঠকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা স্বেচ্ছায় ক্যাসিনোর জন্য জায়গা দেয়নি। জোর করেই ক্যাসিনোর জন্য জায়গাগুলো নেয়া হয়েছে। এখানে কোটি কোটি টাকার জুয়া চললেও ক্লাবগুলো আসলে তেমন কিছু পায় না। অর্থের পুরোটাই চলেযেত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কায়সার, মগানগর যুবলীগ দক্ষিনের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাহমুদ ভুইয়া, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুমিনুল হক সাঈদদের পকেটে। এসব ক্যাসিনো দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, জামাল, ইমরান নামে স্থানীয় কিছু যুবলীগ নেতা।
দীর্ঘদিন ধরেই মোহামেডানের কমিটি দখলে রেখেছেন লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। নানা অজুহাতে ক্লাবটিতে নির্বাচনও দিচ্ছেন না তিনি। ক্লাবটির সভাপতি ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমও তার কাজে কোন প্রকার বাধাঁ দিচ্ছেন না। ক্লাবে আসা ছেড়েই দিয়েছেন এ ব্যবসায়ী। তার নিষ্ক্রীয়তায় ক্লাবটিতে যা ইচ্ছে তাই করছেন লোকমান হোসেন। লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার কারণেই যে কেউ ক্লাবটির কমিটিতে ঢুকতে পারেন না। এই সুযোগ নিয়েই জুয়াড়িদের হাতে ক্লাবটি ছেড়ে দিয়েছেন লোকমান হোসেন ভুইয়া, এমনই মন্তব্য করেছেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বাফুফের সহ-সভাপতি  বাদল রায়। লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার কারণে ক্লাবটি সরাসরি নিজেদের দখলে নিতে পারেননি ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা। তবে তারা ক্লাবটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে ম্যানেজ করেই এখানে ক্যাসিনো ব্যবসা চালিয়েছেন বলে জানান এবং ক্লাব পরিচালক। এক বছর আগে মোহামেডানের অডিটোরিয়ামে এই ক্যাসিনো শুরু হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লাবটির পিয়ন। পিয়ন আরো জানান, শুরুতে ক্লাবের অভ্যন্তরে ক্যাসিনো বসাতে চেয়েছিল দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চোৗধুরী সম্রাট। জানাগেছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মুমিনুল হক সাঈদ। তিনি ক্লাবটির কাউন্সিলর হয়ে অংশ নিয়েছিলেন হকি ফেডারেশরনর নির্বাচনে। কিন্তু বেশিরভাগ পরিচালকের আপত্তির কারণে সেখানে ক্যাসিনো বসানো সম্ভব হয়নি। ক্লাবটির পরিচালকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ও মতিঝিলের স্থানীয় যুবলীগ লীগ নেতা ইমরানের মালিকানায় মোহামেডান ক্লাবে চলছিল এই ক্যাসিনো। এর  নেপালি অংশীদার ছিলেন কৃষ্ণা। রাজধানীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক ক্যাসিনোটিতে চারটি ভিআইপি কক্ষছিল।
মোহামেডানের মতো ভিক্টোরিয়ায়ও ভাড়ায় ক্যাসিনো চালানো হতো বলে জানিয়েছেন ক্লাবের এক কর্মকর্তা। তার দাবি সরাসরি ক্লাবের কেউ এই ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। বর্তমান সরকার প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসার পরই আরামবাগ ক্লাব থেকে বিতাড়িত হন এসএ সুলতান। বাফুফে’র সাবেক এই সভাপতিকে ক্লাব থেকে বিতাড়িত করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ। পরবর্তীতে স্থানীয় কাউন্সিলর হয়ে আরো দুটি ক্লাবকে নিজের কব্জায় নেন তিনি। শোনা যাচ্ছে সাঈদের নেতৃত্বেই দিলকুশা ও আরামবাগ ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা জামাল। প্রিয় ক্লাবটির এই লজ্জা উন্মোচনের পর হতাশ এসএ সুলতান বলেন, ‘আসলে আমি কল্পনাও করতে পারছি না আমার হাতে গড়া ক্লাবটিতে এভাবে ক্যাসিনো চলতো। যে ক্লাবটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, সেই ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাব নিজেদের খেলাধুলা ফুটবলে সীমাবদ্ধ রেখেছে সব সময়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ থেকে প্রিমিয়ার লীগে নাম লিখিয়েছিল ক্লাবটি। কিন্তু অর্থের অভাবে দল গড়তে না পারায় তারা শীর্ষ লীগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। বর্তমানে ক্লাবটি দ্বিতীয় স্তরেই খেলছে। ইয়ংমেন্স ক্লাবের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক মনজুর হোসেন মালু নিজের কষ্ট লুকাতে পারেননি, ‘এই ক্লাবটা আমাদের বড় ভাইরা আমাদের বাড়িতে বসেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমি ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দু’বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। যতদিন ছিলাম ততদিন ক্লাবে কোনো প্রকার অবৈধ কিছু হতে দেয়নি। একটা সময় এই ক্লাবটি পরিচিত ছিল ফুটবলার গড়ার কারখানা হিসেবে। অথচ ভাবতেই লজ্জা লাগে আমাদের প্রাণের ক্লাবে এতদিন এসব অবৈধ কাজ হয়েছে।’ ২০০৯ সালে মনজুর হোসেন মালুর হাত থেকে ক্লাবটি দখলে নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম পিন্টু। বর্তমানে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ। সভাপতি দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। আর ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। এদের অধীনেই দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাবটিতে চলে আসছিল ক্যাসিনো। ভিক্টোরিয়ায় ক্যাসিনো শুরু হয় ২০১৬ সালে। ক্যাসিনোর শুরুর সময় ক্লাবটির সভাপতি ছিলেন শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাজহারুল ইসলাম তুহিন। বর্তমানে শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেও সাধারণ সম্পাদক আছেন তুহিন। বছর দুয়েক আগে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন খালেদ রহমান কাজল। গুঞ্জন আছে বর্তমান কমিটিকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে এখানে ক্যাসিনো চালান ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি কাজল ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন প্রতিদিন ভাড়া হিসেবে দেড় লাখ টাকা পেতেন। ক্লাবটিতে অভিযান চালানোর পর থেকে এদের কারো ফোনই খোলা পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোল্লা আবু কায়সার ও জয় গোপাল সরকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়েছেন বছর তিনেক আগে। ক্লাবটির সাবেক কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের ক্লাবটিতে প্রবেশ এক প্রকার নিষিদ্ধ ছিল। আমরা জানতামই না এখানে কি হচ্ছে। খেলাধুলার চেয়ে ক্যাসিনোতে মনোযোগ বেশি ছিল দিলকুশার। ক্লাবটির সভাপতি ছিলেন মুমিনুল হক সাঈদ আর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান। এদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়েই ক্লাবটিতে ক্যাসিনো চালাতেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরমান। ক্লাবের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এখানে আগে থেকেই জুয়া চলতো। তবে ক্যাসিনো বসেছে বছর তিনেক আগে। এ ক্যাসিনোর মালিক নেপালি নাগরিক দীনেশ। এই ক্যাসিনো থেকে সম্রাটের প্রতিদিনের চাঁদা ৪ লাখ টাকা। এর বাইরে আরমানের নিজের চাঁদা ১ লাখ।
এক ক্লাবের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভাই সবই জানেন। এখানে কারা ক্যাসিনো চালায়। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা উড়ছে। জুয়াড়িদের খাওয়া আর ফুর্তির জন্য প্রতিদিন দেড়/দুই লাখ টাকা খরচ হয়। ক্লাবকে দেয়, সেটাকে ‘ভিক্ষাই’ বলা যায়। আমরা না পারছি গিলতে, না পারছি উগড়াতে। বরং যারা এখান থেকে কোটি কোটি টাকা কামাই করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের চেয়ে বদনামটা বেশি ক্লাবেরই।’ ক্যাসিনোতে প্রতিদিন কি পরিমাণ টাকা ওড়ে তার একটা উদাহরণ দিয়ে আরেক ক্লাব কর্মকর্তা বলেন, ‘যে ছয়টি ক্লাবে ক্যাসিনো আছে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজারের মতো মানুষ খাওয়া-দাওয়া করে। এর মধ্যে দুপুর আর রাতের খাওয়াটা নাকি বিয়ে বাড়ির মতো। সবাইকে জামাই আদর করেই খাওয়ানো হয়। যেখানে আপ্যায়নে এত খরচ, সেখানে কি পরিমাণ টাকা উড়ে?’
ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো গড়ে ওঠার পর সবার ধারণা ছিল ক্লাবগুলো এখান থেকে মোটা অঙ্কের দান মারছে; কিন্তু বুধবারের ক্যাসিনো উচ্ছেদ অভিযানের পর বেরিয়ে আসছে আসল তথ্য। ক্লাবের প্রকৃত সংগঠকরা এ অভিযানে খুশি। তারা আগে কিছু বলতে পারেননি। এখন ভয়ে ভয়ে হলেও মনের কথা বলছেন- এগুলো উচ্ছেদ হলেই বাঁচি। তাহলে ক্যাসিনো থেকে ক্লাবগুলো কি পাচ্ছে? এ প্রশ্নও উঠছে। এখানে সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  দৈনিক সর্বাধিক দেড় লাখ টাকা পেতো ভিক্টোরিয়া ক্লাব। মোহামেডানের ফান্ডে যেত ৫০ হাজার।  এখানেই পরিষ্কার, একটা ক্যাসিনোতে প্রতিদিন আপ্যায়নের যে খরচ তার চার ভাগের এক ভাগও যায় না ক্লাব তহবিলে। অথচ এখন বদনামের পুরোটাই তাদের।

বৃটিশ পার্লামেন্ট স্থগিত বেআইনি: সুপ্রিম কোর্টের রায়

ঐতিহাসিক রায়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে বৃটিশ সুপ্রিম কোর্ট। পার্লামেন্ট স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনসন তার সেই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা ফুরিয়ে আসার পার্লামেন্ট স্থগিত রাখা অন্যায়। সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন বিচারক দুটি আপিলের ওপর শুনানি করেন গত সপ্তাহে। এরপর সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন বেঞ্চের সভাপতি বিচারপতি লেডি হ্যালি। এতে বলা হয় পার্লামেন্ট স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে গেছে। ফলে পার্লামেন্ট আর স্থগিত থাকতে পারে না। ফলে অনতিবিলম্বে হাউজ অব কমন্সের অধিবেশন ডাকতেই হবে বলে জানিয়েছেন হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ।  এ ঘোষণা দেয়ার পরপরই বৃটিশ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়।

তুমুল স্বস্তি দেখা দিয়েছে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া রাজনীতিকদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন জন বারকাউ। তিনি বলেছেন, সরকারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারকরা। পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে তাই অবিলম্বে হাউজ অব কমন্সের অধিবেশন ডাকা উচিত। তাই অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি দলীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবো । ওদিকে রায় শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ইংলিশ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলকারী ব্যবসায়ী জিনা মিলার। তিনি বলেছেন, বুধবারই প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টের দরজা খুলে দিতে হবে। এমপিদেরকে ফিরতে হবে পার্লামেন্টে এবং সাহসী হতে হবে। এই বিবেকবর্জিত সরকারকে জবাবদিহিতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।

ওদিকে বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য নন বলে দাবি করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা জো সুইনসন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনসন পার্লামেন্ট স্থগিত করার আগে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও দেশকে ভুলপথে পরিচালিত করেছেন। এ থেকে আমরা এরই মধ্যে নিশ্চিত যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য নন বরিস জনসন। তিনি বেআইনিভাবে জনগণের প্রতিনিধিদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। আমি হাউজ অব কমন্সে আমার দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছি।

একই সঙ্গে সবাইকে নিয়ে ব্রেক্সিট বন্ধের জন্য কাজ করবো। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রশংসা করেছেন ব্রেক্সিট বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি বলেছেন, আদালত থেকে শক্তিশালী রায় এটাই প্রমাণ করে যে, আইনের কোনো তোয়াক্কাই করেন না বরিস জনসন। শিগগিরই আমরা কাজ শুরু করে চ্যালেঞ্জ করবো এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য তাকে পরাজিত করবো। রায়কে সত্যিকার ঐতিহাসিক রায় বলে আখ্যায়িত করে টুইট করেছেন স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেন।

কমিশন ভাগাভাগি: ২০ কর্মকর্তার গাঢাকা by দীন ইসলাম

জি কে শামীম ইস্যুতে লাপাত্তা সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ২০ কর্মকর্তা। তারা কোথায় আছেন পরিবারের সদস্য ছাড়া কেউ জানেন না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এগুচ্ছেন তারা। অতীত ঘুষ এখন গলার কাঁটা হয়ে যায় কিনা এনিয়ে চিন্তায় আছেন গণপূর্তসহ বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে তারা নিজেদের আড়াল করে রাখছেন। নিজেদের ফোন বন্ধ রেখেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু সুলতান ও রফিকুল ইসলাম ঠিকাদার জিকে শামীমের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান জিকে শামীমের সব কাজে বৈধতা দিতে কার্পন্য করতেন না। শামীম গ্রেপ্তারের পর থেকে এ তিন কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক দুই প্রকৌশলী সর্ম্পকে বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, প্রধান প্রকৌশলী পদে রফিকুল ইসলাম থাকার সময় তার প্রধান সহযোগি ছিলেন, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই। তাদের সিন্ডিকেটে ছিলেন বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী। রফিকুল ইসলাম সরাসরি ঠিকাদারদের কাছ  থেকে কমিশন আদায় করতেন। গুরুত্বপূর্ণ জোনের দায়িত্ব পালনকারি সব নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকেও প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতে হতো রফিককে। ঠিকাদারি কাজ দিতে তিনি আগে থেকেই তিন থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন। এর বাইরে অন্য প্রকৌশলীরা যে কমিশন পেতেন, তাদের কমিশনেও ভাগ বসাতেন রফিকুল ইসলাম। নিজে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব ছাড়ার আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি বদলির রেকর্ড করে গেছেন তিনি। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নিজের অবৈধ অর্থ দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ টি বিভিন্ন আয়তনের প্লট কিনেছেন রফিকুল ইসলাম। ৩০০ ফুট রাস্তার উপর প্লট থাকলে দাম দর না করেই কিনে ফেলতেন তিনি। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, তার দুই স্ত্রী। তাই স্ত্রী ও সন্তানদের নামেই বেশি প্লট কিনেছেন তিনি। মাঝেমধ্যে পরিবারের সদস্যরা প্লট কেনার জন্য রাজউকে হাজিরা দিতে আসতেন। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে টিপু সুলতান ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)- এর প্রধান প্রকৌশলী। ওই সময় রাজউকে টেন্ডারবাজির বীজ রোপন করেন টিপু সুলতান। সন্ত্রাসী পরিবেষ্ঠিত হয়ে অফিস করতেন সাবেক এ প্রধান প্রকৌশলী। এজন্য নিজ দপ্তরে আনসার নিয়োগ করেন তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার খাতিরে আনসার নিয়োগ করা প্রয়োজন। ওই সময় বিষয়টি রাজউকের কর্মকর্তাদের মধ্যে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দেয়। রাজউকে টেন্ডার ভাগাভাগিতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান টিপু সুলতান। এ সময় জিকে শামীমের সঙ্গে তার সখ্যতার বিষয়টি ছিল ওপেন সিক্রেট। এদিকে, জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর পরই রফিকুল ইসলাম ও টিপু সুলতান গা ঢাকা দিয়েছেন। ফোন বন্ধ রয়েছে তাদের। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান অন্য প্রকৌশলীরা ভয়ে আছেন। অনেকে ফোন বন্ধ করে রেখেছেন, অনেকে অপরিচিত নম্বরের ফোন ধরছেন না। এমনকি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটটিও তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর পেয়ে যেন ফোন দিতে না পারেন এজন্য এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাই এবং দুই দফা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এসএএম ফজলুল কবির ঠিকাদার শামীমের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন। এদের মধ্যে ফজলুল কবির এখনও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কাজ করছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর ফজলুল কবির চুপসে গেছেন। রোববার অফিসে কিছু সময়ের জন্য এসেই হাওয়া হয়ে যান। গতকালও অফিস করেননি এ কর্মকর্তা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সদস্য (প্রকৌশল) ফজলুল কবির ২০০৩ সালে মহাজোট সরকারের আমলে বেশ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ছিলেন। ওই সময় তিনি ছিলেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মীর্জা আব্বাসের আস্থাভাজন কর্মকর্তা। তাই জিকে শামীম ওই সময় থেকেই ফজলুল কবিরের ঘনিষ্ঠ বনে যান। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসএএম ফজলুল কবিরের দুই দফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পেছনে জিকে শামীমের হাত রয়েছে। কারন এ নিয়োগ পেতে যত ধরনের অর্থায়ন সবই তিনি করেছেন। বিনিময়ে জিকে শামীমের সঙ্গে মিলেমিশে ট্টপিক্যাল হোমসকে কম দামে জমি দেয়াসহ সব কিছুর প্রক্রিয়া করেন ফজলুল কবির। ফজলুল কবিরের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে, সুবিধাভোগী এসব কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্য কর্মকর্তারাও গত দুই দিন অফিস করেননি। ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, পরিস্থিতি ঠান্ডা হলেই তারা অফিস করবেন।

প্রতি রাতে উড়তো কোটি কোটি টাকা by পিয়াস সরকার

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। এ ক্লাবের প্রধান কার্যালয়ে রোববার অভিযান চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বিপুল ক্যাসিনো সামগ্রী ও নথিপত্র। ঐতিহ্যবাহী এ ক্লাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোর চিত্র দেখে অনেকে হতবাক হয়েছেন। ওই ক্লাব থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র থেকে দেখা যায়, প্রতিদিন এখানে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হতো ক্যাসিনোতে। ক্লাবে প্রতিদিন কমন রুমে জুয়া খেলতে আসতেন প্রায় হাজার লোক। প্রতিদিনের  যারা আসতেন তাদের ব্যালেন্স শিটে নাম লেখা হতো। একেকটি পাতায় থাকতো ১৮ জনের করে নাম। এমন একটি ব্যালেন্স শিটে দেখা যায় মোট ৭ লাখ ৩ হাজার টাকার চিপস বিক্রি হয়েছে। আর ভিআইপি রুম ছিলো ৩টি। এসব রুমে একবার খেলতে সর্বনিম্ন পকেটে থাকতে হয় দেড় লাখ টাকা। কোটি কোটি টাকার খেলায় মেতে উঠতেন তারা।

ভিআইপিদের একটি তালিকায় দেখা যায়, ১৮ জন ১ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার চিপস কেনেন। এই শিট অনুযায়ী ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকার চিপস কেনেন এক ব্যক্তি। আর সর্বনিম্ন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার।

মেলে ৯ লাখ টাকা পরিশোধের একটি কাগজ। ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ সালে এটি ‘মনিটর’র মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। যার বিল নং এম- ০৪০-১৮১৯।

মোহামেডান ক্যাসিনোর ভিতরে লাগানো ছিলো একটি নোটিশ বোর্ড। যেখানে দেখা যায় ১০ হাজার থেকে ৪৯ হাজার টাকা চিপস কিনলে তখনই ২ শতাংশ টাকা ফেরৎ দেয়া হয়। আর এই পরিমাণ টাকা হারলে ১০ শতাংশ টাকা পেতেন তারা। ঠিক এইভাবে ৫০ হাজার থেকে ৯৯ হাজারে ৩ শতাংশ টাকা ও হারলে মিলতো ১৫ শতাংশ টাকা। ১ লাখ বা তার অধিক টাকার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ও ২০ শতাংশ টাকা ফেরৎ। এছাড়াও প্রতিটি ক্লাবে ছিলো অসংখ্য খেলার নির্দেশনাবলী।

গত রোববার মতিঝিল থানা পুলিশের অভিযানে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ৪টি ক্লাব। এগুলো হলো, মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবগুলোতে দেখা যায়, আধুনিকসব ক্যাসিনো সামগ্রি। স্লট মেশিন, রুলেট বোর্ড, ডার্ক বোর্ড ইত্যাদি। এছাড়াও সরিয়ে ফেলার কারণে মিলেছে অল্প পরিমাণ মদ, বিয়ার, সীসার সরঞ্জাম। তবে সাজসজ্জা দেখে বোঝা যায় অধিক পরিমাণে ছিলো এসব পণ্য। জানা যায়, এসব স্থানে খেলতে আসতো অনেক পরিচিত মানুষ। এসব ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় খেলবার সুযোগ। প্রতিটি ক্লাবে মেলে রান্নার সামগ্রী। মিলতো জাপানিজ, চাইনিজ, থাই, বাংলাসহ অনেক আধুনিক মানের খাবার। এগুলো খাবারের জন্য গুণতে হতো মোটা অংকের টাকা। খাবার গ্রহণ ব্যবস্থা ছিলো বুফে স্টাইলে। এসব ক্লাবে খাবারের জন্য গুনতে হতো শহরের আধুনিক রেস্টুরেন্টের থেকে কয়েকগুণ অধিক অর্থ।

ক্লাবে যেসব প্লেয়িং কার্ড দিয়ে খেলা হতো সেগুলোও আধুনিক মানের। একটি প্লেয়িং কার্ডের সেট নিয়ে এসে দেখানো হয় একটি দোকানে। শুক্রাবাদের এক স্টেশনারী দোকানদার বলেন, এই কার্ড বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এগুলো নিয়ে আসা হয় সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ড থেকে। আমাদের কাছে যেসব কার্ড রয়েছে সর্বোচ্চ মূল্য এক সেট ১ হাজার টাকা। এটি তার থেকেও বেশি আধুনিক। সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের কার্ডগুলো পোড়ানোর চেষ্টা করলেও তা পোড়েনি। আর কার্ড প্রায় ৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পরেও তার রং কিংবা বৈশিষ্ট নষ্ট হয়নি। প্রায় সব ক্লাবেই মেলে এসব কার্ড। আর দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবে পাওয়া যায় এরকম ৪ কার্টুন নতুন কার্ড। প্রতিটি কার্টুনে ছিলো ৫শ’ পিচ করে কার্ড সেট। আর সব ক্লাবেই মেলে অসংখ্য চিপস। মোহামেডানে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার চিপস।

ভিক্টোরিয়া ক্লাবের দেয়ালে দেখা যায়, আধুনিক সব ছবির ফ্রেম। একজন শিল্পী এসব ছবি ও বৈশিষ্ট দেখে বলেন, এসব জলছাপের ছবি। এসব কিনতে লেগেছে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। আর মোহামেডানের দেয়ালে ছিলো এর থেকেও বড় ছবির ফ্রেম। তবে অভিযানের আগেই এসব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবে একটি চক্রাকার সিড়ির আছে। এই সিড়ির মূল্যও নেহায়েত কম নয়। আর মোহামেডান ক্লাবে যেসব বাতির দেখা পাওয়া যায়, যার একেকটির মূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা বলে জানান এক ব্যবসায়ী।

ভিক্টোরিয়া ক্লাবের ছিলো কিছু ভিজিটিং কার্ড। কৃষ্ণা শ্রেষ্ঠা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর। নেপালী। তার নম্বরে ২দিন ধরে চেষ্টা করে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতিটি ক্লাবে লক্ষ্যনীয় নেপালীদের বিভিন্ন পুজার সামগ্রী। মোহামেডানে ঝোলানো ছিলো লেবু-লঙ্কা দিয়ে সাজানো বিশেষ পুজার সামগ্রী।

মতিঝিল এলাকার ঠিক মোহামেডান ক্লাবের সামনে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান। একটি দোকানে বসে ছিলেন হাসনাইন শিকদার। তিনি ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, প্রায়শই ক্লাবগুলোতে যেতাম। এসব ক্লাবে আসতো, ধনী ধনী সব ব্যক্তি। যারা কোটি টাকা হারলেও হাসি মুখে বেরিয়ে যেতেন।

এক ব্যক্তি আফসোস নিয়ে বলেন, ক্লাবগুলোতে যারা আসতো তারা সকলেই কোটিপতি। এসব মানুষ টাকাকে পানির মতো উড়ানোর জন্যই আসতো। আমরা প্রায় ৬ জন বিভিন্ন ক্লাবে ঘুরে বেড়াতাম। এরপর কোন ব্যক্তি অধিক টাকা উড়াচ্ছেন দেখলেই সবাই চলে যেতাম সেখানে। এরপর তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খেলা শুরু করতাম। এতে বেশ লাভ হতো। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ৪ লাখ টাকা দিয়ে খেলে ২৭ লাখ টাকা জিতেছি। তার ভাষায় ‘ট্রিক্স’ বুঝে খেলতেন তারা।

ক্যাসিনো ঘিরে ছিলো ‘লাকি হ্যান্ড’। খেলতে আসাদের অনেকেই কিছু ছেলের হাত দিয়ে তাদের চাল চালতেন। অনেক সময় কোন সংখ্যা বা কোন ঘরে চাল দিবেন তারাই ঠিক করতেন। এসব চালে টাকা পাওয়ার পর সাধারণত তারা পেতেন ১ হাজার টাকা করে। কিংবা অনেকে খুশি হয়ে দিতেন ৫, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তিনি আরো বলেন, খেলা শেষে ভিআইপি ব্যক্তিরা কর্মচারী যেমন ওয়েটার, গার্ডদের, খেলা পরিচালনাকারীদের টিপস দিতেন সবমিলিয়ে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আচমকা দৃশ্যপট বদলে গেল

বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট বদলায়নি। কিন্তু আচমকা বদলে গেল আওয়ামী লীগের দৃশ্যপট। কেন এটা ঘটলো তা পরিষ্কার নয়। অনেক কিছুই ঘটছে। কিন্তু তাতে  ঘোর কাটছে না। অনেকেই  বোঝার চেষ্টা করছেন, বিনা  মেঘে কেন বজ্রপাত? কারো আশঙ্কা মাঝপথে থেমে যাবে না তো?
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যদিও অভয় দিয়েছেন। গতকাল বলেছেন, ‘দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও মাদকের চক্রকে  ভেঙে না দেয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। যে-ই অপরাধ করুক না কেন, ছাড়  দেয়া হবে না।’ কিন্তু তা সত্ত্বেও সন্দেহ, সংশয় কাটছে না। কারণ ‘মাদক যুদ্ধে’ চারশ’রও বেশি মানুষের প্রাণ খোয়া যাওয়ার পরেও প্রশ্ন ছিল, এখনো আছে। এর উত্তর নেই। এখন কিছু কথা বললেই মানুষ কেন বিশ্বাস করবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ‘মাদক চক্র’ ভাঙে না। সেই চক্র পুলিশি গ্রেপ্তারে ভীত হবে কেন? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন, একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে মাত্র দুই মাস আগে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। সারা দেশে এরকম কাহিনী ভূরি ভূরি।      
তাই সার্বিক বিবেচনায় যারা আওয়ামী লীগ করেন, তাদের অনেকেই হতভম্ব। যুবলীগ চেয়ারম্যান এক দুর্দান্ত ‘আঙ্গুল চোষা’ থিওরি  দেয়ার পরে প্রকারান্তরে তাকেই সমর্থন করেছেন সংসদের হুইপ শামসুল হক  চৌধুরী। তিনি কার্যত প্রশাসন কেন এমনটা করছে,  সেই বিষয়েই বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সুতরাং দুটি ধারা।
হুইপ বলেন, ‘ক্লাবের তাস খেলা বন্ধ করে কোনো লাভ হবে না। তাস খেলা বন্ধ করলে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে।’ তার এ কথার কোনো প্রতিবাদ হয়নি। বাংলাদেশের আইনে  তাসের জুয়াও নিষিদ্ধ। অথচ হুইপ বলেছেন, ক্যাসিনো ধরেন, কিন্তু তাস খেলা হয় এ রকম ক্লাব ধরবেন না।
তার কথায়, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো এবং মদের ব্যবসা যারা করেন, তাদের ধরতে বলেছেন।’ প্রশ্ন উঠবে, প্রধানমন্ত্রী কি সত্যিই দুর্নীতিবিরোধী একটি স্থায়ী ও টেকসই অভিযান যা সবসময়, সকল পরিস্থিতিতে চলমান থাকবে, সেরকম নির্দেশ দেননি? শুধুই ক্যাসিনো ও মাদকবিরোধী অভিযান এটা?
ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ সারা দেশের ছাত্রনেতাদের প্রতি বার্তা কিনা, সেই প্রশ্ন তুলছেন  কেউ কেউ। তারা বলছেন, গত কয়েকদিনে সংবাদ মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্পর্কে  যে খবর বেরিয়েছে, তাতে তার স্বপদে থাকার কথা নয়। সুতরাং একটা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’-এর বিষয় আছে বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ দৃশ্যত কেউ ছাড় পাচ্ছে,  সেটা বাস্তবতা। ঘুষ কে খান জানতে চাইলে ওই হুইপ বলেন, ‘আপনি খান। আমি খাই। সবাই ঘুষ খান।’ ঘুষ কে দেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনি দেন। আমি  দেই। সবাই দেন। তাদের ধরেন।’ তার কথায় দেশে ঘুষদাতা ও ঘুষখোরদের একটা উল্লাসের নৃত্য কল্পনা করা চলে। এমন সব উক্তি আওয়ামী লীগের ফোরাম  থেকে আসতে পারে, সেটা কিছুদিন আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেননি। এতদিন বিএনপি পাঁচবারের দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন- এই গান চলেছে।  
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের নয়, আচমকা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে আংশিক দৃশ্যপট বদলেছে।  নিউএজ  সম্পাদক নূরুল কবীরের ভাষায়, ‘যখন সরকারের ইমেজ ভয়াবহভাবে তলানিতে এসেছিল। তখন এটা শুরু হলো। কেউ কেউ বলেন, এই তলানির কোনো দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করা কঠিন। তবে  যেটা সহজ সেটা হলো, কতিপয়ের ক্ষেত্রে হঠাৎ যেন আইনের শাসন নাজিল হয়েছে। 
আওয়ামী লীগ বিএনপির দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনো কড়াসুরে কথা বলছে। অথচ আওয়ামী লীগেই এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই শুদ্ধি অভিযান কার বিরুদ্ধে? এটা কতদিন চলবে? এটা নীতিগত বিষয় হতে পারে কিনা। এটা আওয়ামী লীগের নতুন নীতিগত অবস্থান কিনা? নাকি কোনো অজানা কারণে কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে হঠাৎ পরিচালিত অবস্থান? এটা হঠাৎ এসেছে। হঠাৎ যাবে। টর্নেডো মাত্র।
ইতিমধ্যে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তারা বলছেন, এটা আওয়ামী লীগকে সামাল দেয়ার বা বাঁচানোর একটা সাময়িক প্রচেষ্টা বা  কৌশল হতে পারে। সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান যেমনটা বলেছেন। তার মতে সংস্কার না করে এবং দুর্নীতিবিরোধী একটি অবস্থান নীতিগতভাবে গ্রহণ না করে এই অভিযান আসলে কার্যকারিতা দেবে না। এবং এটাকে বেশিদিন চালিয়ে নেয়াও সম্ভব হবে না।
তবে  এই সরকারের  অনেকেই ১/১১তে প্রকারান্তরে বলেছিলেন, দুর্নীতির প্রয়োজন রয়েছে।  উন্নয়ন বেশি হলে বেশি দুর্নীতি হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে বি-রাজনীতিকরণ বলা হয়েছে। বিএনপিও তাই বলেছিল। এখনো যুবলীগ চেয়ারম্যান  সেদিকেই ইঙ্গিত দিলেন। অনেকেই পাবলিক  কেনাকাটায় দুর্নীতি দমনকে  উন্নয়নবিরোধী চেষ্টা হিসেবে গণ্য করে থাকেন।
বিষয়টি কারো মতে, এমন নয় যে, গত এক দশকে এই প্রথম একটা ভয়াবহ দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেটা  আকস্মিক জেনে, ধরপাকড় শুরু হয়ে গেছে। ক্যাসিনোর বড় বড়  বোর্ডগুলো লুকিয়ে আমদানি করা সহজ ছিল না। ইয়ংম্যানসের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। তাই সচেতন মানুষের মধ্যে উত্তর পাওয়ার স্বস্তির চেয়ে উদ্বেগ  বেশি। তবে সাধারণ মানুষ নিশ্চয় খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এমন কঠোর পদক্ষেপই চাইছেন। তারা দোয়া করছেন, এই ধারা যেন থেমে না যায়। এটাই যেন দেশে আইনের শাসন, এটাই সুশাসনের সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটা বৈপরীত্য ঠিকরে  বেরিয়ে পড়েছে।
সচেতন মহল থেকে মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগে  যে শুদ্ধিকরণ অভিযান চলছে, সেই অভিযান একতরফাভাবে বেশিদিন চলবে  কিনা? যারা ধরা পড়ছেন, তাদের বিচার হবে কিনা,  সেটা আরেক মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান  ছিলেন চট্টগ্রামে। এদিনই হুইপ প্রশ্ন তুললেন, প্রশাসন কি খেলোয়াড়দের পাঁচ টাকা  বেতন দেয়?  ওরা কীভাবে  খেলে? টাকা কোন জায়গা  থেকে আসে? সরকার টাকা   দেয় না। ওয়াকিবহাল মহল বলেছেন, এরকম ক্লাব কেন, বহু জায়গায় বহু খরচ হয়,  কেউ জানে না, টাকার উৎস কি, আর এতদিন পরে এটা  যে আদৌ কোনো প্রশ্ন,  সেটাই অনেকে ভুলতে বসেছিলেন। কেউ বিএনপির প্রতিক্রিয়া দেখে পুলক অনুভব করছেন। কেউ বলছেন, তাদের মুখ বন্ধ থাকলে ভালো। কথা কম বলা হিতকর।  
আইনের শাসনের বাস্তবতা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে দেশে সর্বোতভাবে দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু হবে কিনা? দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক নাচতে নামবে কবে। তারা জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের শুমারিতে নামবে কিনা? যেটা এক-এগারোর অন্যতম  বৈশিষ্ট্য ছিল।  সেখানে কিছুদিন সমস্ত প্রভাবশালীদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। কারণ  সেখানে সম্পদের বিবরণীর  নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেই  নোটিশ যাদের প্রাপ্য, তেমন ঘরানার লোকদের কাছে গত প্রায় এক দশক ধরে নোটিশ  দেয়া একপ্রকার বন্ধ বলেই দুর্মুখরা দাবি করছেন।
 যদি আজ কোনো  কোনো দলের  প্রথম সারির নেতানেত্রীর কাছে হিসাব  চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়, তাহলে তার সম্ভাব্য জবাব কি হতে পারে, সম্ভাব্য চিত্র কি হতে পারে, সেটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
এদেশে প্রায়শ সব অনিয়ম সবার নাকের ডগার উপর দিয়ে চলে।  যখন পারমাণবিক বালিশের ঘটনা এসেছে, যখন পর্দা এসেছে, তখনও এমন ক্রাকডাউন হয়নি। তাহলে ঘুরেফিরে প্রশ্ন উঠছে যে, সবকিছুই যখন এতদিন সবারই নাকের ডগার উপরে বসে চলছিল, তাহলে কেন এখন আইনকে নিজের আপন গতিতে চলতে  দেয়া হচ্ছে বা হবে?
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থায় দ্রুত বিচার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি উদাহরণ বাদে। কোনো অপরাধ হলে,  কোনো দুর্নীতি হলে, সেখানে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতরতা থাকলে,  কোনোভাবেই সেখানে বিচারের  গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। যারা দুর্নীতি করছেন, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন।
 দেখা যায়, কখনো সরকার যদি চায়, তখন তাদের কেউ ধরা পড়ে। যাদেরটা তারা চান না, তারা ধরা পড়েন না। বা ততোদিন ধরা পড়েন না। তাই সমালোচকদের অনেকেই বলছেন, আইনের শাসনের যে ঘাটতি প্রকটভাবে চলছিল, সেটাই এই অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রকট হয়েছে। একটি দুটি নয়, ৫ ডজন ক্যাসিনোতে ১২০ কোটি টাকা প্রতি রাতে খেলা হয়েছে। এখন পুলিশ বলছে, তারা এতদিন জানতেই পারেনি !
অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে   গ্রেপ্তার জি কে শামীম দাবি করেছেন, টাকা দিয়ে তিনি গণপূর্ত বিভাগের কাজ কিনেছেন। কোটি কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন। প্রতিটি কাজে ১০ ভাগ হারে কমিশন দেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। দেশের ‘উন্নয়নের’ অধিকাংশক্ষেত্রে এমনটাই তো নিয়ম বলেই গুজব আছে। তাহলে যারা কমিশন নিলো, নিচ্ছে, তারা ধরা পড়বেন নাকি পড়বেন না। পরের দৃশ্যপটে কি আছে?
এক যে দেশে কিছু দুষ্ট গরু ছিল, তাদেরকে গোয়ালমুক্ত করা হয়ে গেছে, এমন দাবি করার মতো চমক আসবে না  তো?

বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সু চি?

রোহিঙ্গা গণহত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা মারজুকি দারুসম্যান বলেছেন; রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের পরিকল্পনায় সু চির সংশ্লিষ্টতা নাও থাকতে পারে, তবে এ ব্যাপারে অবগত হওয়ার পরও তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি। এজন্য সু চি’র কী ধরনের বিচার হতে পারে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপি ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারুসম্যানের এমন মন্তব্যের পর সু চির ওপর চাপ জোরালো হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানাবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার আলামত। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ও রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’ও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে সক্ষম হননি। বরং গণহত্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতেও কোনও উদ্যোগ নেননি সু চি। বরং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কোনও অগ্রগতি না হওয়ার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়ও অস্বীকার করে আসছেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত হয়েছেন এক সময়ের গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রী। হারিয়েছেন বহু সম্মাননা।
সেনাবাহিনী পরিচালিত রোহিঙ্গা নিধনের  বিষয়ে সু চি কতটা জড়িত ও তার কেমন শাস্তি হতে পারে তা এক কথায় বলা সম্ভব নয় জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষপর্যায়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা মারজুকি দারুসম্যান। রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান দারুসম্যান   বলেছেন, এমন হতে পারে যে  সু চি নিধনযজ্ঞের ব্যাপারে আগে থেকে জানতেন না। তবে জানার পরও তিনি তা স্বীকার করেননি।  এজন্য তার কী শাস্তি হবে, এক কথায় সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব না। অন্যদিকে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি বলেছেন, মিয়ানমারে বিগত ১২ মাসেও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। কোথাও কোথাও আরও অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন,   যতো দিন যাবে ততোই বেসামরিক সরকারের পক্ষে দায় এড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে রাখাইনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়।  সেখানে একে গণহত্যা  আখ্যা দিয়ে বলা হয়, সেনা অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এক সময় যে ইউরোপ অং সান সু চিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘গণতন্ত্র ও মুক্তির’ প্রতীক বলে মনে করতো, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে নেতিবাচক ভূমিকার কারণে সেই ইউরোপ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তিনি। নিপীড়নের ঘটনায় হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি ও কথিত ‘আইনের শাসন’ অনুসরণ করার অজুহাত দেওয়ায় তার উপর ক্ষুব্ধ বিশ্বনেতারা। রয়টার্স সাংবাদিকদের কারাবন্দিত্বের ঘটনায় তার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। 
রাখাইনের ঘটনায় সবশেষ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দারুসম্যান। এপি ও দ্য কুইন্ট-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা গণহত্যার কারণে শত শত ব্যক্তির শাস্তি হতে পারে। এর মধ্যে মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন জেনারেলের নামও রয়েছে। অবশ্য ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন সু চির নাম বলেনি। তবে দারুসম্যানের মন্তব্যে অবশ্য বোঝা যাচ্ছে সু চির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। দারুসম্যান বলেন, জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে পারে তাদের।
সম্প্রতি মিয়ানমরে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি-ও সু চি কে বলেছেন, ‘দয়া করে চোখ মেলে তাকান, কান দিয়ে শুনুন এবং হৃদয় দিয়ে অনুভব করুন। দয়া করে বেশি দেরী হওয়ার আগে আপনার বিবেককে ব্যবহার করুন।

প্রকৃতিকে ভালোবেসেই শিল্পী হয়েছেন তিনি by হৃদয় সম্রাট

কারু তিতাস, একজন শিল্পী, একজন আঁকিয়ে। ৩০ বছর ধরে ক্যানভাসে রঙ দিয়ে সৃষ্টি করছেন প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন কেমন করে বাংলার প্রতিটা ঋতু তাকে প্রভাবিত করেছে। সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা এই বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য সব সময় তাকে প্রলুব্ধ করেছে তুলির আঁচড়ে সেসব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে।
চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
ছবির পথে যাত্রা...
শুরুটা আসলে কীভাবে হয়েছিলো সেটা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমাদের বাড়িতে সবসময় আঁকাআঁকির পরিবেশ ছিল। মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তবু একেবারে ছেলেবেলা থেকে ছবি আঁকা শুরু করিনি। একটি ঘটনার পর থেকে আমার ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন পৃষ্ঠায় সুন্দর একটি ফুলের ছবি এঁকেছিলাম। তখন আমার মনে হলো যে, আমি কী সুন্দর একটা ফুল তৈরি করে ফেললাম! এরপর থেকেই শুরু হয় আমার নিত্য ছবি আঁকা। সেই থেকেই চলছে তুলির সঙ্গে বসবাস।
ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা...
আমাদের পরিবারটা একটি আগাগোড়া শিল্পী পরিবার। এখানে আমরা পেয়েছি অবাধ স্বাধীনতা, শিল্পী হওয়ার সুযোগ। এই বিষয়কে অনুপ্রেরণা বলবো কিনা, ঠিক বুঝতে পারছি না, কেননা আমার পরিবার কখনও আমাদের ওপরে কোনও কিছু চাপিয়ে দেয়নি। বলেনি যে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমরা আমাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়েছি। যেমন আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াশোনা করার। আমি তাই করেছি। সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। আর একটি কথা না বললেই নয়, আসলে বাংলাদেশের প্রকৃতির বৈচিত্র্যই আমার ছবি আঁকার প্রেরণা। এই প্রকৃতিতে নেশা আছে।
চিত্রশিল্পী কারু তিতাস
ভালোবাসার নাম বাংলাদেশ...
অনুপ্রেরণা বা ভালোবাসার কথা যদি বলতে চাই তবে বলতে হয় বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের কথা। আমার মতো চিত্রশিল্পীদের জন্য এই দেশের কোনও বিকল্প হয় না। কেননা প্রতিনিয়ত এই দেশের ঋতু পরিবর্তন হয় যেমনটা অন্য কোনও দেশে হয় না। আর সবচেয়ে ভালো লাগে যে ২০ মাইল অন্তর অন্তর এই দেশের বাতাসের পরিবর্তন ঘটে। আর দেশের প্রকৃতিক পরিবেশতো অসাধারণ, একেকটি জায়গা একটি বিশেষত্ব নিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার খুলেছে। আর এসব কারণে আমার ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে ঢাকা ছাড়া যেকোনও স্থানে ঘুরতে যেতে আমি আগ্রহী। যখনই সময় পাই তখনই ঘুরতে বের হয়ে যাই। একবার চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম, ট্রেনটি চলতে চলতে হঠাৎ এক স্টেশনে থেমে যায়। সেখানকার পরিবেশটা এতটাই নীরব আর সুন্দর ছিল যে, আমি ট্রেন থেকে নেমে যাই।
তরুণদের জন্য কিছু কথা...
ছবি আঁকা কাজটি করতে হয় ধৈর্য আর ভালোবাসা নিয়ে। আপনার মাথায় যদি সারাদিনের কর্মব্যস্ত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা থাকে তবে আপনি কখনও ভালো ছবি আঁকতে পারবেন না। আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখানে কোনও শর্টকাট ওয়ে নেই। কোনটা ছবি আর কোনটা ছবি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। ঠিক যেমন একটি কবিতা সব ভেঙেচুরে কবিতা হয়ে ওঠে।
শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি
চলছে অবিরাম আঁকাআঁকি
ছবি নিয়ে বাংলাদেশের মতো একটি জায়গায় কাজ করা খুবই কঠিন বিষয়। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর ছবি তো একটি সময়োপযোগী ব্যাপার। সময় বলে দেবে কী হবে। এই মুহূর্তে শিল্পাঙ্গনে চলছে আমাদের ২৯ জন শিল্পীর বর্ষা বিষয়ক প্রদর্শনী। এখানে আমরা কাজ করেছি বর্ষণমুখর বাংলাকে নিয়ে। আমাদের প্রতিটি ছবিতেই বাংলাদেশের বর্ষাকালের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ছবির মেঘ, বাতাসের ভাঁজ আর পরিবেশটার দিকে তাকালেই বর্ষার ছোঁয়া পাবেন শিল্পপ্রেমীরা। প্রদর্শনীটি চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ক্যানভাস তুলি নিয়েই পথচলা...
ছবি ছাড়া আমি আমার দিন শুরু করতে পারি না। আর নির্দিষ্ট করে এক বিষয় ধরে বেশিদিন বসে থাকতে পারি না। যেমন আমি ফুলের ছবি আঁকছি, কিন্তু আমি বেশি দিন ফুল আঁকতে পারি না। আমাকে পরিবর্তন করতে হয় ছবি আঁকার বিষয় বা মাধ্যম। এখন যেমন কাজ করছি বিভিন্ন শপিং ব্যাগের উপর। ইচ্ছা আছে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু কাজ করার। ২০২০ সালে ছবির একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। ছবি নিয়েই জীবন শুরু, ছবি নিয়েই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই।
শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি
>>ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

কাশ্মিরিদের পক্ষে একজন ৭১ বছর বয়সী অধ্যাপকের লড়াই

ভারত শাসিত কাশ্মিরে যখন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের জোরালো অভিযোগ উঠেছে, ঠিক সেই সময়ে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির(আইআইটি) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ভিপিন কুমার ত্রিপাঠি নিজের বাড়ি থেকে বহু দূর হেঁটে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ছোটকাগজ বিলি করছেন। সেই কাগজে তিনি কাশ্মিরের বাস্তবতা তুলে ধরছেন বলে জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে গিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। স্থানীয় পত্রিকার একজন সম্পাদক সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে। উপত্যকায় সমস্ত রকম যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সাংবাদিকদের গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিলেন কাশ্মির টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন। নিষেধাজ্ঞার জেরে সংবাদপত্র ছাপা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন অনুরাধা। সংবাদমাধ্যমের ওপর যখন এমন নিয়ন্ত্রণ চলছে, তখন নিজেই ছোট পত্রিকা ছাপিয়ে তা বিলি করছেন অধ্যাপক ভিপিন। 
সাউথ এশিয়ান মনিটর জানিয়েছে, অধ্যাপক ভিপিনের ওই পত্রিকায়  মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর আটক ও নির্যাতনের খবরও প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া এক স্মারকলিপিতে ভিপিনসহ ৮২জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। তারা এখন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
৭১ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভিপিন জানান, নিজের লেখা পত্রিকা বিলি করতে গিয়ে নানা রকম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। মোলচাঁদ ফ্লাইওভারের নিচে পত্রিকা বিলির সময় প্রাইভেট কার থেকে এক ব্যক্তি জানতে চান, তিনি পাকিস্তানি কিনা? এমনকি ওই প্রফেসরকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করছেন কিনা? ওই ব্যক্তি প্রফেসর ভিপিনকে বলেন, আপনি যদি বয়স্ক লোক না হতেন, তাহলে আপনাকে কঠিন শিক্ষা দিতাম। পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসে তখন পরিস্থিতি সামলায়।
পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক এই শিক্ষক জানান, তার পত্রিকার ২০ হাজার কপি এরইমধ্যে বিতরণ করছেন। আইআইটির একশ শিক্ষক এবং ২০ জন শিক্ষার্থী তাকে সমর্থন করছেন। এছাড়া জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অনেকেই তাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

রোগ প্রতিষেধক টিকা কী, কীভাবে কাজ করে, আর টিকা নিয়ে কেন এত সন্দেহ?

গত ১০০ বছরে রোগ প্রতিষেধক টিকার কারণে কোটি কোটি মানুষের জীবনরক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অনেক দেশেই টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হয়েছে, আর এই প্রবণতা এখন বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বা ডাব্লিউএইচও, এই প্রবণতা সম্পর্কে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা একে ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য ১০টি চরম হুমকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
টিকা কাজ করে কীভাবে?
রোগ প্রতিষেধক টিকা বা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগের দুর্বল কিংবা মৃত ব্যাকটেরিয়া রোগীর দেহে ঢোকানো হয়।
কীভাবে টিকা আবিষ্কৃত হলো?
টিকা তৈরি হওয়ার আগে বিশ্ব ছিল অনেক বেশি এক বিপদজনক জায়গা। এখন সহজেই আরোগ্য করা যায় আগে এমন সব রোগে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেত।
টিকার ধারণা তৈরি হয় চীনে। ১০ম শতাব্দীতে 'ভ্যারিওলেশন' নাম এক চীনা চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল যেখানে অসুস্থ রোগীর দেহ থেকে টিস্যু নিয়ে সেটা সুস্থ মানুষের দেহে বসিয়ে দেয়া হতো।
এর আট শতাব্দী পরে ব্রিটিশ ডাক্তার এডওয়ার্ড জেনার লক্ষ্য করলেন দুধ দোয়ায় এমন গোয়ালিনীরা গরুর বসন্তে আক্রান্ত হলেও তাদের মধ্যে প্রাণঘাতী গুটি বসন্তের সংক্রমণ একেবারেই বিরল।

সে সময় গুটিবসন্ত ছিল সবচেয়ে ভয়ানক এক সংক্রামক ব্যাধি। এই রোগ যাদের হতো তাদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ মারা যেত। আর যারা বেঁচে থাকতেন তারা হয় অন্ধ হয়ে যেতেন, কিংবা তাদের মুখে থাকতো মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন।
সতেরশো ছিয়ানব্বই সালে ড. জেনার, জেমস ফিপস্ নামে আট বছর বয়সী এক ছেলের ওপর এক পরীক্ষা চালান।
তিনি গরুর বসন্ত, যেটি কোন মারাত্মক রোগ না, তার থেকে পুঁজ সংগ্রহ করে সেটা ইনজেকশন দিয়ে ঐ ছেলের শরীরে ঢুকিয়ে দেন। কিছুদিন পর জেমস ফিপসের দেহে গরুর বসন্তের লক্ষণ ফুটে ওঠে।
ঐ রোগ ভাল হয়ে যাওয়ার পর তিনি ছেলেটির দেহে গুটিবসন্তের জীবাণু ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু দেখা গেল জেমস ফিপসের কোন গুটি বসন্ত হলো না। গরুর বসন্তের জীবাণু তাকে আরও মারাত্মক গুটি বসন্ত থেকে রক্ষা করেছে।
ড. জেনারের এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৭৯৮ সালে। বিশ্ব এই প্রথম ভ্যাকসিন শব্দটার সাথে পরিচিত হলো। 'ভ্যাকসিন' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'ভ্যাক্সা' থেকে যার অর্থ গরু।
টিকা বা ভ্যাকসিনের সাফল্য কোথায়?
গত এক শতাব্দীতে টিকা ব্যবহারের ফলে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কমেছে।
উনিশশো ষাটের দশক থেকে হামের টিকা ব্যবহার শুরু হয় । কিন্তু তার আগে এই রোগে প্রতি বছর ২৬ লক্ষ লোক প্রাণ হারাতো।
হাম আক্রান্ত এক শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হামের টিকা ব্যবহারে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০% কমে আসে।
কয়েক দশক আগেও লক্ষ লক্ষ মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব কিংবা মৃত্যু বরণ করতেন। এখন পোলিও প্রায় নির্মূল হয়েছে।
টিকা ব্যবহারে কেন কিছু মানুষের অনীহা?
টিকা আবিষ্কারের সময় থেকেই চিকিৎসার নতুন এই পথ নিয়ে সন্দেহ ছিল।
আগে মানুষ ধর্মীয় কারণে টিকার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। তারা মনে করতেন টিকার মাধ্যমে দেহ অপবিত্র হয়। এটা মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার খর্ব করে বলেও কিছু মানুষ মনে করতেন।
সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে টিকা-বিরোধী লিগ গড়ে ওঠে। তারা বিকল্প ব্যবস্থার পরামর্শ দিতেন, যেমন রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা দেয়া।
ব্রিটিশ টিকা-বিরোধী ব্যক্তিত্ব উইলিয়াম টেব যুক্তরাষ্ট্র সফর করার পর সেখানেও এই ধরনের সংগঠন গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি কালে টিকা-বিরোধী ব্যক্তিত্বদের একজন হলেন অ্যান্ড্রু ওয়েকফিল্ড।

তিনি ১৯৯৮ সালে এক রিপোর্ট প্রকাশ করেন যেটিতে তিনি এক ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন যাতে তিনি দাবি করেন এমএমআর ভ্যাকসিনের সাথে অটিজম এবং পেটের অসুখের যোগাযোগ রয়েছে।
এমএমআর হচ্ছে একের ভেতর তিন টিকা। এটা শিশুদের ওপর ব্যবহার করা হয় হাম, মাম্পস, এবং রুবেলা (যাকে জার্মান মিসলস বলা হয়) প্রতিরোধের জন্য।
পরে তার ঐ গবেষণা ভুয়া বলে প্রতিপন্ন হয় এবং তার মেডিকেল ডিগ্রি কেড়ে নেয়া হয়।
কিন্তু তার ঐ দাবির পর টিকা নেয়া শিশুর সংখ্যা কমে আসে। শুধুমাত্র ব্রিটেনেই ২০০৪ সালে এক লক্ষ শিশু কম টিকা নেয়। এর ফলে সে দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যায়।
টিকাদানের ইস্যুটিকে ঘিরে রাজনীতিও বাড়ছে।
ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাত্তেও সালভিনি বলেছেন তিনি টিকা-বিরোধীদের দলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই বলার চেষ্টা করেছিলেন যে টিকার সাথে অটিজমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি সব শিশুকে টিকা দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
টিকা নেয়ার ঝুঁকি কোথায়?
যদি জনসংখ্যার একটা বড় অংশ টিকা নেন তাহলে রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এর ফলে যাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাও রোগের কবল থেকে রক্ষা পান।

একে বলা হয় 'গোষ্ঠীবদ্ধ প্রতিরোধ'। কিন্তু এই ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন ঘটলে সেটা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
গোষ্ঠীবদ্ধ প্রতিরোধের জন্য কত লোককে টিকা দিতে হবে তা নির্ভর করে রোগের ওপর। যেমন, হামের ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীর ৯৫% লোককে টিকা দিতে হয়। কিন্তু কম সংক্রামক ব্যাধি পোলিওর জন্য ৮০%-র বেশি হলেই চলে।
গত বছর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অতি-কট্টর ইহুদি মহল্লায় কিছু লিফলেট বিতরণ করে বলা হয়েছিল টিকার সাথে অটিজমের সম্পর্ক রয়েছে।
এর পর যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য ঐ গোষ্ঠীকেই দায়ী করা হয়েছিল।
গত বছর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার হুঁশিয়ার করেছিলেন এই বলে যে সাধারণ মানুষ যেন সোশাল মিডিয়ায় টিকার ওপর ভুয়া খবর পড়ে প্রতারিত না হন।
মার্কিন গবেষকরা দেখিয়েছেন রাশিয়ায় তৈরি কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে অনলাইনে টিকার ওপর মিথ্যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
সারা বিশ্বে ৮৫% শিশুকে টিকা দেয়ার হার গত কয়েক বছর ধরে অপরিবর্তিতই রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ শিশুর প্রাণরক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
যেসব দেশে যুদ্ধবিগ্রহ চলেছে বা যেখানে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল সেখানে টিকা দেয়ার চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলা এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, উন্নত দেশগুলিতেও এই বিষয়ে একটা ঢিলেমি এসেছে। কারণ এসব রোগ যে কত ভয়াবহ হতে পারে সেটা তারা ভুলেই গেছে।
(এই প্রতিবেদনটি যারা তৈরি করেছেন: রোল্যান্ড হিউজেস, ডেভিড ব্রাউন, টম ফ্রান্সিস-ইউনিংটন এবং শন উইলমট।)

বাংলাদেশের পায়রা সমুদ্রবন্দর আরেকটি চীনা ‘মুক্তা’ হবে না by কনর ফেয়ারম্যান

প্রতিবেশী বাংলাদেশের বন্দরগুলোর উন্নয়নে চীনের সম্পৃক্ততাকে ভারত সবসময় সন্দেহের চোখে দেখে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এক প্রতিবেদনে বলেছে যে বাংলাদেশের পায়রা সমুদ্রবন্দর চীনের তথাকথিত ‘মুক্তার মালা’র অংশে পরিণত হতে পারে। দক্ষিণ বাংলাদেশে অবস্থিত পায়রা সমুদ্রবন্দরটি ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের অংশবিশেষ। এটি নির্মাণ করবে চায়না হার্বার  ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও চায়না স্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এ দুটি চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যথাক্রমে গোয়াদর ও হাম্বানতোতা বন্দরের তদারকিতেও নিয়োজিত রয়েছে। ভারত মহাসাগরে চীনা সমুদ্র ঘেরাও হওয়ার ভারতীয় আশঙ্কা সত্ত্বেও পায়রা সমুদ্রবন্দরটি কখনো চীনা সম্পদে পরিণত হবে না। কারণ এর অবস্থানগত জটিলতা, দুর্বল সহায়ক অবকাঠামো ও বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

পায়রা সমুদ্রবন্দরটির প্রস্তাবিত স্থানটির গভীরতা প্রাকৃতিকভাবেই কম। ফলে এর বার্থে কার্গো জাহাজগুলোর যাওয়ার জন্য ব্যাপক ড্রেজিং প্রয়োজন। লুক্সেমবার্গভিত্তিক জ্যান ডি নুল গ্রুপ ১০ বছরের জন্য ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে। বন্দরটিকে সচল রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বঙ্গোপসাগরগামী রবনাবাদ চ্যানেলে অবশ্যই ৭৫ কিলোমিটার ড্রেজিং করতে হবে। প্রাথমিক ড্রেজিংয়ে খরচ পড়বে ৯৬৩ মিলিয়ন ডলার। এতে ১০০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার টনের বেশি পলি সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন পড়বে। জাহাজ ভেড়া নিশ্চিত করার জন্য এখানে বিরতিহীনভাবে ড্রেজিং করে যেতে হবে। আবার এমনকি একটিমাত্র সাইক্লোনেই চ্যানেলটি ভরাট হয়ে জাহাজগুলোকে আটকিয়ে দিতে পারে। যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক ড্রেজিং করার ব্যয়ভার এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোও বহন করতে পারবে না। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ‘আক্ষরিক অর্থেই পানিতে টাকা ঢাকা’ হিসেবে অবহিত করেছেন।

কেবল প্রাকৃতিক বাধা পায়রা বন্দরকে সমস্যায় ফেলছে না, পাশ্ববর্তী ১.৬ বিলিয়ন ডলারের পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাচালিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও এটি হুমকি সৃষ্টি করছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎই পায়রা বন্দরে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের তহবিলে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোক্ততাদের একটি কনসোর্টিয়াম এটি নির্মাণ করছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা পায়রা বন্দরে অবতরণ করার কথা।

এখানকার প্রথম ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি ২০১৯ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির আংশিক মালিক নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড প্লান্টটির ৮১ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে, আর মাত্র ৫৭ ভাগ অর্থায়ন করেছে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যে ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ করার কথা তা বিলম্বিত হচ্ছে। কোম্পানিটি এজন্য দুর্বল সমন্বয়কে দায়ী করছে। এছাড়া রয়েছে নিরাপত্তাগত সমস্যা। গত জুনে এই প্লান্টে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক চীনা শ্রমিক নিহত হলে এক সপ্তাহের জন্য কাজ বন্ধ থাকে। ফলে কেবল পায়রা সমুদ্রবন্দরই নয়, পায়রা কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যতও হুমকির মুখে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক ও সার্বিক ঋণ সমস্যার ঝুঁকিও কম। ২০১৭ অর্থবছরের শেষ নাগাদ মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল জিডিপির ৪.৩ ভাগ। বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে রয়েছে বাংলাদেশের মোট ঋণের ৬০ ভাগ। এরপর রয়েছে জাপান (৯.২ ভাগ), চীন (২.৯ ভাগ)। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশের গড় সময় রয়েছে ৩১ বছর। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, বার্ষিক জিডিপি যদি ৫ ভাগ হ্রাসও পায়, তবুও এসব ঋণ পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে হাম্বানতোতা বন্দর নিয়ে শ্রীলঙ্কা হলো তথাকথিত চীনা ঋণ-ফাঁদের পোস্টারচাইল্ড। ঋণের কারণে বাংলাদেশের কোনো বন্দর চীন নিয়ে নিতে পারবে না।

পায়রা যদি চীনা ‘মুক্তা’ না হয়, তবে এসব প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাব্য অন্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে। চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো ২০১১ থেকে ২০১৩ সময়কালে পুরো বিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র যত সিমেন্ট উৎপাদন করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে। এই সিমেন্টের ব্যবস্থা করতেই হবে, তা যেখানেই হোক না কেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মরিয়া প্রয়োজন অবকাঠামোর, বিশেষ করে বিদ্যুত খাতে। আর চীন অবকাঠামো খাতেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কেবল চীন যেহেতু বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প আছে সামান্যই। দুই পক্ষের প্রয়োজনের কারণেই প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হচ্ছে।

আবার উন্নয়নশীল এশিয়ার নতুন ও আধুনিক অবকাঠামোর প্রয়োজন ব্যাপক। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে, দারিদ্র মোকাবিলা করতে ও জলবায়ু পরিবর্তনে সাড়া দিতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এশিয়ার দেশগুলোর প্রয়োজন ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু তা সত্ত্বেও হাতে পেলেই প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে সরকারগুলোকে। এর বদলে তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যায় ও ন্যূনতম বাধার মুখে পড়ে এমন যথার্থ প্রকল্পগুলোতেই তাদের বিনিয়োগ করতে হবে। আমাদের উচিত হবে এই লেন্স দিয়েই পায়রা সমুদ্রবন্দরকে মূল্যায়ন করা।
গত ৫ জুলাই বেইজিংয়ের দিয়াওইউতি স্টেট গেস্ট হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

এশিয়ায় পপুলিজমের উত্থান by লি জং-হা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বে পপুলিজম বা লোকরঞ্জনবাদের উত্থান অসংখ্য আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আর তা হয়েছে যৌক্তিক কারণেই। লোকরঞ্জনবাদীদের ভ্রষ্ট পলিসি বিশ্বজুড়ে বহু প্রতিকূল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি বয়ে এনেছে। এবার এই ঝুঁকি এশিয়াতেও আসছে।

লোকরঞ্জনবাদের সোজাসাপ্টা কোনো সংজ্ঞা নেই। এটি হতে পারে আদর্শিক কিংবা অর্থনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক। ডানপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি যেমন লোকরঞ্জনবাদী বলে অভিহিত হতে পারে, তেমনি পারে বামপন্থি মতামতও। এক্ষেত্রে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা হয় নির্দিষ্ট কোনো দেশের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে।

তবে লোকরঞ্জনবাদের কিছু অভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকার প্রবণতা দেখা যায়। যেমন, লোকরঞ্জনবাদী দলগুলোর নেতৃত্বে সাধারণত থাকেন কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা।
এই নেতা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত এলিট বা অভিজাত সম্প্রদায়’ ও ‘বহিরাগতদের’কে ‘জনতা’র মুখোমুখি দাঁড় করান। বিষয়টা যেন এমন যে, ‘জনতা’র প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করেন কেবল ওই ব্যক্তি বা তার দল। এই কৌশল সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন কিনা জনগণ প্রতিষ্ঠিত নেতা বা রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়ে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বা সামাজিক অসমতা, অনিরাপত্তাবোধ বা প্রকাশ্য দুর্নীতি এই হতাশা সৃষ্টির কারণ।

তবে দেখা যায়, ক্ষমতায় আসলে এই জনতোষণবাদীরা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যায়। তারা প্রথমেই প্রতিনিধিত্বকারী গণতন্ত্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খাটো বা অগ্রাহ্য করে। বিশেষ করে, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা ঠেকাতে ভারসাম্যের ব্যবস্থাও (চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স) তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। তারা দাবি করে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণেই তারা ‘জনতা’র সেবা করতে পারছে না।

লাতিন আমেরিকায় বলিভিয়ার ইভো মোরালেস, কলম্বিয়ার আলভারো উরিব ও ভেনেজুয়েলার হুগো শ্যাভেজ গণভোট আয়োজন করে বড় ধরণের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছেন, যার দরুণ বস্তুত তাদের নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বেড়েছে কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এসবের ফলে আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক মানের অধঃপতন হয়েছে।

লোকরঞ্জনবাদীদের অর্থনৈতিক রেকর্ডও বেশ নাজুক। অর্থনীতিবিদ রুডি ডর্নবাসচ ও সেবাস্তিয়ান এডওয়ার্ডসের মতে, একটি জনতোষণবাদী পলিসি বা নীতিতে প্রবৃদ্ধি ও আয় বিন্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি, ঘাটতি, বহিঃসীমাবদ্ধতা, আক্রমণাত্মক বাজারবিরোধী নীতিমালার প্রতিক্রিয়ার কথা এতে ভাবা হয় না। ফলে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা (এফিসিয়েন্সি) ও উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সত্তর ও আশির দশকে যে অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল বহু লাতিন আমেরিকান দেশ, তা এই প্রবণতার কারণেই হয়েছিল।

এখনকার লোকরঞ্জনবাদীরা অবশ্য হঠকারী সম্প্রসারণমূলক ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা বলছে না। কিন্তু তারা এরপরও আর্থিক উদ্দীপনা ও বাজারের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভর করতে চান। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদিও আর্থিক শৃঙ্খলার কথা বলে বেড়াচ্ছেন, তবুও উচ্চমাত্রার ব্যয় ও কম রাজস্ব (২০১৭ সালে আর্থিক কর্পোরেশনগুলোকে বিরাট অংকের করমুক্তি দেওয়াই এ জন্য দায়ী) কেন্দ্রীয় বাজেট ঘাটতি ব্যাপকহারে বাড়াচ্ছে। একইভাবে ট্রাম্প সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতিমালারও পক্ষে।

কিন্তু পশ্চিমে লোকরঞ্জনবাদীরা ক্ষতি করে ফেললেও, এবার এশিয়ান ভোটাররা তাদের স্থানীয় লোকরঞ্জনবাদীদের কথায় পটে যেতে শুরু করেছেন। ভারতের নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার জোকো উইডোডো ও ফিলিপাইনের রড্রিগো দুতের্তের উত্থান তারই প্রতিফলন।

এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়, লোকরঞ্জনবাদ এশিয়ায় কোনো নতুন কিছু নয়। ফিলিপাইনে ১৯৯৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জোসেফ এসত্রাডা জিতেছিলেন নিজেকে গরিবের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে। নিজের এই ভাবমূর্তি তিনি গড়েছিলেন অভিনেতা থাকাকালে নিন্মবিত্তের মানুষের পক্ষের নায়ক হিসেবে অভিনয় করে। জোসেফ এসট্রাডা যদিও ব্যাপকহারে দারিদ্র্য-হ্রাসকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিলেন, এগুলোর বাস্তব প্রভাব পড়েছে সামান্যই।
ঠিক একইভাবে ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ মুঘল থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি দরিদ্র অবস্থা থেকে নিজ চেষ্টায় ধনী হয়েছিলেন। খুব সতর্কভাবেই তিনি ‘জনতা,’ বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র্য মানুষের একজন হিসেবে নিজের ইমেজ দাঁড় করান। ক্ষমতায় এসে তিনিও দরিদ্র মানুষের জন্য বহু নীতি প্রণয়ন করেন। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এর অন্যতম। কিন্তু এর নকশা ত্রুটির কারণে ঘাটতি বাড়তে থাকে, সেবার মান কমতে থাকে। পরে অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। কিন্তু তারপরও তিনি থাইল্যান্ডের দরিদ্রদের কাছে এখনও বেশ জনপ্রিয়।

বর্তমানে এশিয়ার লোকরঞ্জনবাদীদের সমর্থন বৃদ্ধির কারণ মূলত সাংস্কৃতিক ক্ষোভ। যেমনটা ড্যানি রড্রিক পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে নগরায়ন ও উত্তর-বস্তুবাদের (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য) মতো শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রবণতার কারণে তুলনামুলকভাবে বয়সী ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল লোকজনের মনে হচ্ছে তারা নিজের দেশেই পরবাসী।

এই অনুভূতিই লোকরঞ্জনবাদীদের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করে। তাদের কাছে, জনতা মানে হলো স্থানীয় সম্প্রদায়, যাদেরকে কিনা অভিবাসী, অপরাধী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উদারপন্থী অভিজাতদের কাছ থেকে রক্ষা করাটা অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। ধর্মীয় ঐতিহ্যবাদ, আইন-শৃঙ্খলা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো ধারণা ট্রাম্পের অভিবাসন দমনপীড়নের মতো বৈষম্যবাদী নীতির পক্ষে অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই সাংস্কৃতিক লোকরঞ্জনবাদই মূলত এশিয়ায় শিকড় গাঁড়ছে। দুতের্তে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন অপরাধীদেরকে জনগণের শত্রু হিসেবে উপস্থাপিত করে। আর শত্রুদেরকে তো নির্মূল করতেই হবে। সুতরাং, সন্দেহভাজন মাদক ব্যবহারকারী বা ডিলারকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করলেই (প্রায় ৫ হাজার জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন) কেবল আইন-শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে। ওদিকে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদ এই বসন্তে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের আসন সংখ্যা বাড়িয়েছে, অথচ তার সরকার আগের মেয়াদে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এখন উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এশিয়ায়ও এসেছে পপুলিস্ট স্রোত। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনকে ২০১৭ সালে ভোটাররা নির্বাচিত করেছে, যারা কিনা ব্যবসায়ী অভিজাত/এলিটদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগসাজশ ও মানুষের চাহিদা পূরণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। মুন জায়ে-ইনের প্রশাসনও জনতোষণবাদী অর্থনৈতিক নীতিমালা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে, ব্যাপকহারে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করেছে।

এশিয়ান ব্যারোমিটার সার্ভে নামক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো হংকং ও তাইওয়ানের নাগরিকরাও ব্যাপক রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিরোধী মনোভাব পোষণ করে। এছাড়া অর্থনৈতিক অসমতা নিয়েও হতাশা কাজ করে তাদের মধ্যে। ফলে এসব অঞ্চলে জনতোষণবাদের উত্থান হওয়ার ব্যাপক অনুকূল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জনতোষণবাদের এই ঝুঁকি হ্রাস করতে হলে, দায়িত্ববান এশিয়ান নেতাদেরকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে জনতোষণবাদীদের শোচনীয় অতীত রেকর্ড সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, লোকরঞ্জনবাদীদের পালে হাওয়া দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আর তা করা সম্ভব কেবল অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে। কেবলমাত্র জনগণের অর্থনৈতিক ক্ষোভের দিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে নজর দেওয়ার মাধ্যমেই এশিয়ার নেতারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সাংস্কৃতিক অনিরাপত্তাবোধের অপব্যবহার হওয়ার কবল থেকে জনগণকে বাঁচাতে পারবেন।

[লি জং-হা কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়াটিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও অর্থনীতির অধ্যাপক। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট লি মুং-বাক-এর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। এই নিবন্ধটি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের ওয়েবসাইট থেকে অনূদিত।]

ঔষধি বৃক্ষ প্রেমিক শওকত মাস্টারের গল্প by সিদ্দিক আলম দয়াল

গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জের নাকাইহাট এলাকায় ডা. শওকত আলী নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির প্রায় ১ হাজার ওষধি ও ফলদ গাছের বাগান। বাগান থেকে উৎপাদিত ওষুধ ও ফল বিতরণ করছেন সাধারণ মানুষের মাঝে। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ গাছের প্রজাতি ধরে রাখতে এসব গাছের চারা দিচ্ছেন বিনামূল্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও গাছ দ্বারা প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময় বাড়াতে তার এ প্রচেষ্টা বলে জানান তিনি। তার এ ধরনের কার্যক্রমে খুশি জেলা কৃষিবিভাগ ও সাধারণ মানুষ।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট ইউনিয়নের শীতলগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. শওকত আলী। পেশায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। বয়স ৯০ এর কাছাকাছি কিন্তু মানবসেবার কাছে বয়স পরাজিত করতে পারেনি তাকে। মানুষ ও গাছের প্রতি ভালোবাসা তার শৈশব থেকেই। তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রীর সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। তার কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন পরিবারের সবাই। ছেলে সোহাগ গর্ব করে বলেন, আমার বাবার মতো অনেক বাবা জন্ম হওয়া দরকার। তাহলে আমরা ওষুধি গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারতাম। সারাদিন চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বসতবাড়ির আশপাশে ও পুকুরপাড়ে গড়ে তুলেছেন প্রায় ১ হাজার বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির ওষুধি ও ফলদ গাছ। গ্রামের অন্যান্য এলাকায় এসব বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ গাছের চারা বিনামূল্য বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে পরিচিত করে দেন এসব গাছের সঙ্গে জানিয়ে দেন বিভিন্ন গাছের গুণাগুণ। গাছের প্রতি এমন মমতার কারণে এলাকার মানুষ তার নাম দিয়েছে বৃক্ষ প্রেমিক শওকত আলী। তার এ গাছ প্রেমে খুশি এলাকার মানুষ।
এলাকাবাসী রুবেল চৌধুরী বলেন, আমরা তো শুধু ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করে নিজের স্বার্থ বড় করে দেখি। নিজের স্বার্থের জন্য জমিতে নানান ফসলের চাষ করে ভর বছরের খাবার যোগার করি। কিন্তু শওকত মাস্টার তা করেন না। শওকত মাস্টার ব্যতিক্রম। তিনি তার জমিতে শুধু ধান গমের আবাদ করেন না। মানুষের মঙ্গলের জন্য নিজের অনেক জমিতে লাগিয়েছেন বিরল প্রজাতির ওষুধি গাছ। মানুষ দেখতে আসেন তার গাছের বাগান। মানুষ গাছ দেখতে এলে তিনিও খুশি হন। নিজের গাছ দেখিয়ে বলেন আমরা বেঁচে আছি এই গাছের গুণেই। গাছ দিয়েই কত রকমের ওষুধ  তৈরি হয়। সাহেব উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমরা আমাদের স্বার্থটাই বড় করে দেখি। আর শওকত মাস্টার মানুষের কল্যাণে গাছের চারা বিতরণ করেন। পয়সা নেন না। গাছের যত্নের কথা বলে তার গুণাগুণ নিয়ে কথা বলেন। সবাই খুশি শওকত মাস্টারের এ কার্যক্রমে। তারা বলেন, মানুষ বিনামূল্যে গাছ পেয়ে থাকে তার কাছে। গাছের গুণাগুণ সর্ম্পকে তার কাছে জানতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. শওকত আলী। গাছ নিয়ে গবেষণায় অন্যন্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়াও জেলা ও উপজেলায় একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময় বাড়াতে তার এ প্রচেষ্টা বলে জানান তিনি।
ডা. শওকত আলীর এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে তার মতো গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক। সেই সঙ্গে শওকত আলীর গাছের সংগ্রহশালা বাড়াতে বিরল গাছের চারা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।

২ লাখ ৮০ হাজার একর বনভূমি বেদখল by ইফতেখার মাহমুদ ও রিয়াদুল করিম

গত দুই বছর চার মাসে দেশের প্রায় ১১ হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে। আর স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশে বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার একর, যা পুরো মাগুরা জেলার আয়তনের সমান। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব বনভূমি অবৈধভাবে দখল করেছে। দখলকারীরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী। তারা বনভূমি ধ্বংস করে বসতি ও শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছে। বন বিভাগের প্রতিবেদনেই এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৯ জুলাই ২০১৯ সোমবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে বন বিভাগ এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে দখল হওয়া বনের পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও বনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। গত ২৬ জুলাই পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ থেকে প্রকাশিত বিশ্বের বনভূমি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৩ লাখ ৭৮ হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে, যা দেশের মোট বনভূমির প্রায় ৮ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু ২০১৭ সালেই দেশে সর্বোচ্চ, প্রায় ৭০ হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। আর গত পাঁচ বছরে উজাড় হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৩ একর বনভূমি।

বন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৯৩ একর বনভূমি একসময় সংরক্ষিত বন ছিল। বরাদ্দ দেওয়ার সময় এসব বনভূমির সংরক্ষিত বনের সুরক্ষা বাতিল করা হয়।

বর্গকিলোমিটারে হিসাব করলে স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া মোট বনভূমির পরিমাণ ১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো মাগুরা জেলার (১ হাজার ৪৯ বর্গকিলোমিটার) চেয়েও বড়। আর বরাদ্দ ও বেদখল মিলিয়ে মোট বনভূমি ১ হাজার ৭৮০ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের অন্যতম বড় জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের (১ হাজার ৭০২ বর্গকিলোমিটার) চেয়ে বড়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বেদখল হওয়া জমির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছি। এখন আরও বিস্তারিত তথ্য জোগাড়ের কাজ চলছে। এরপর আমরা এসব বনভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেব।’

কোথায় বেড়েছে, কোথায় কমেছে

সরকারি হিসাবে (২০১৬ সালের ডিসেম্বর) দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৫৯ দশমিক ১৭ একর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর। আর বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ভূমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ দশমিক ৬১ একর।

গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল হয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এই সময়ে অঞ্চলটিতে ২৪ হাজার ৩৩২ একর বনভূমি দখল হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৪১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায়। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ২ হাজার ৮৩৪ একর, বগুড়া অঞ্চলে ৪ হাজার ৯৯২ একর এবং বন্য প্রাণী অঞ্চলে ৫১২ একর বনভূমি দখল হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু এলাকায় গত দুই বছরে বনভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে (ঢাকা) দুই বছরে ২১ হাজার ৯৭৭ একর ভূমি দখলমুক্ত হয়েছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৪২ একর বনভূমি বেদখলে ছিল। বন বিভাগের নানা উদ্যোগে এসব বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। তারপরও বর্তমানে এই অঞ্চলের বেদখলে থাকা বনভূমির পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ একর।
স্বাধীনতার পর বেদখল হওয়া বনভূমি নিয়ে প্রতিবেদন
গত ২ বছরে সবচেয়ে বেশি বনভূমি বেদখল চট্টগ্রাম অঞ্চলে
প্রভাবশালী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান বনভূমি অবৈধভাবে দখল করেছে


প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার (আইইউসিএন) হিসাবে পৃথিবীতে যে পরিমাণে কার্বন নিঃসরিত হয়, তার অর্ধেকের বেশি গাছ শুষে নেয়। বিশ্বের বৃষ্টি ও নদী দিয়ে আসা মিঠাপানির ৭০ শতাংশই গাছ ধরে রাখে। পৃথিবীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ এখনো বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশেও এর কাছাকাছি চিত্র দেখা যায়। একটি দেশের সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে হলে মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয়। সেখানে সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে আছে ১২ শতাংশ বনভূমি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে বনভূমি আরও বাড়াতে হবে। কিন্তু বন বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকারিভাবে ঘোষিত বনভূমিগুলোই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, আবার যাদের যতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা তার চেয়ে বেশি জমি দখল করেছে। দখলদারেরা অনেক ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন বিভাগকে বলেছি, তারা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কোনো বনভূমি যাতে ইজারা না দেয়। আর বিপুল পরিমাণে বনভূমি দখলমুক্ত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছি।’

কোন এলাকায় কোন সংস্থার কাছে কত বনভূমি

বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৫৬ একর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮৭ হাজার ২৪৩ দশমিক ৩৭ একর, উপকূলীয় এলাকায় ১৭ হাজার ৬৫২ দশমিক ৩৬ একর, রাঙামাটি অঞ্চলে ১৪ হাজার ৭৯৭ দশমিক ৮৫ একর, বগুড়া অঞ্চলে ১৪ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৬২ একর, ঢাকা সামাজিক বন অঞ্চলের ৩১৮ দশমিক ৫১ একর এবং বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের ৩ হাজার ২২৫ দশমিক ৩১ একর বনভূমি বেদখলে আছে। এর বাইরে খুলনা অঞ্চলের কত পরিমাণ বনভূমি বেদখলে আছে, তার হিসাব দেওয়া হয়নি।

সরকারিভাবে বনভূমি বরাদ্দ পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনী ৯২ হাজার ৫১৯ একর, বিমানবাহিনী ১ হাজার ১৪৯ একর, নৌবাহিনী ১৬৭ একর, র‍্যাব ৪০ একর, বিজিবি ৪৭ একর। এসব বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে মোট ৯৩ হাজার ৯২৩ একর। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৫ একর। অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাছে ২৩ হাজার ১৩ একর।

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে অপরিশোধিত তেলের ডিপো (ট্যাংক ফার্ম) ও পাইপলাইন স্থাপন করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি। সোনাদিয়া দ্বীপে বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), যার বেশির ভাগ জুড়ে আছে শ্বাসমূলীয় বন। বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া বনভূমি ব্যবহৃত হচ্ছে।

দেশের প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বনভূমি বেদখল হওয়া এবং বনের বাইরে গাছ কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বনভূমি মানে শুধু কিছু গাছপালা নয়। বনভূমি মানে বন্য প্রাণী ও বিচিত্র বৃক্ষরাজির জীববৈচিত্র্য। দেশের জিনগত সম্পদের সবচেয়ে বড় আধারও এসব বনভূমি। এসব বন এক দিনে তৈরি হয়নি। কিন্তু বেদখল ও বরাদ্দ পাওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে এসব বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বরাদ্দ বা বেদখল হওয়ার আগে আমরা জানতেও পারি না এসব বনে কী সম্পদ ছিল। আর আমরা কী হারালাম।’

প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএন বাংলাদেশের সাবেক এই কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সরকারের উচিত হবে সামগ্রিকভাবে দেশের বনভূমির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো বনভূমি ইজারা না দেওয়া। আর বেদখল হওয়া বনভূমি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে উদ্ধার করা।

দুর্গা পুজো নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানি by পরিতোষ পাল

এ বছরে কলকাতায় দুর্গা পুজো নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানি বেশ প্রবল হয়ে  উঠেছে। সাধারণভাবে  কলকাতা শহরের প্রায় সব পুজোর কর্তৃত্ব থাকে শাসক রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীদের হাতে। এবার অবশ্য রাজনৈতিকভাবে উজ্জীবিত বিজেপি শুরুতেই চেষ্টা করেছে বেশকিছু পুজো কমিটির কর্তৃত্ব হাতে নিতে। সে ক্ষেত্রে সফল তারা হন নি। তবে একটি দুটি কমিটিকে বাগে আনার ব্যবস্থা তারা করে ফেলেছে। আর এই সব পুজোর উদ্বোধনে দলের সভাপতি অমিত শাহকে আনা হচ্ছে। আনা হচ্ছে দলের কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডাকে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন শুরু করে দেন। এবারো তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না বলে দলীয় সূত্রের খবর। বরং এবার কলকাতা ছাড়িয়ে শহরতলির পুজো উদ্বোধনেও দেখা যাবে মমতাকে। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতারা চাইছেন, দুর্গা পুজোকে অবলম্বন করে তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরো তীব্র করে তুলতে। এবার তাই তারা পুজোকে পুরস্কার দেবার ব্যবস্থাও করেছে। এমনিতেই সরকারি ও বেসরকারিভাবে শ্রেষ্ঠ পুজো থেকে শ্রেষ্ঠ বারোয়ারি পুজো, মূর্তি থেকে মণ্ডপ সজ্জা নিয়ে বিস্তর পুরস্কার দেয়া হয়। কিন্তু বিজেপি হেঁটেছে অন্যপথে। ভারতীয় জনতা শাদ সম্মান প্রতিযোগিতায় পুরস্কার দেয়া হবে সেরা অর্চনা, সেরা মহাভোগ, সেরা আরতি ও সেরা সিঁদুর খেলার জন্য। সব সংগঠনকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। সিঁদুর খেলার পুরস্কার বাদে বাকি সব প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেয়া হবে নবমীতে। প্যান্ডেলে গিয়ে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। এই প্রতিযোগিতার জন্য জুরি কমিটি বাছাই করা হয়েছে। তারা যেমন মণ্ডপে ঘুরবেন তেমনি ভিডিও ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যেই ৭০টির বেশি ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্য আবেদন করেছে। 

একটি গাছের পুনর্জন্ম
গাছের মৃত্যু যেখানে নগর সভ্যতার প্রসারে অবধারিত ধরে নিয়ে যখন তখন কেটে ফেলা হচ্ছে ঠিক তখনই কলকাতার বুকে একটি শতাব্দী প্রাচীন গাছের পুনর্জন্ম হয়েছে। গাছটি একটি ঔষধিগুণ সম্পন্ন হরিতকি গাছ। এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একশ’ বছর আগে গাছটি লাগানো হয়েছিল। এখন সেই গাছটি ২৫ ফুট উঁচু হয়ে ডালপালা ছড়িয়েছে চারদিকে। কিন্তু হাসপাতালের একটি অংশ সম্প্রসারণের জন্য গাছটিকে নিয়ে পড়েছিলেন কর্তৃপক্ষ বেজায় মুশকিলে। শেষ পর্যন্ত গাছটিকে অন্যত্র সরিয়ে বসানো যায় কিনা তা নিয়ে কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। তাদের  পরামর্শে গাছটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গত ১৪ই জুন সেই কাজটি করা হয়েছে। তবে সতর্কতা নেয়া হয়েছিল যাতে গাছটি মরে না যায়। প্রথমেই গাছটির শিকড়কে পোক্ত করতে দেয়া হয়েছিল অক্সিন দ্রবণ। গাছটির ডালপালা ছেঁটে দেয়ার ফলে যাতে কোনো সংক্রমণ না হয় সেজন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ব্লিটক্স দ্রবণ। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক আধিকারিকের মতে, একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছকে সরানোর কাজটি ছিল কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। তবে গাছটি সরিয়ে অন্যত্র বসানোর পর দিন রাত নজর রাখা হয়েছিল কোনো সংক্রমণ যাতে না হয়। তবে তিন সপ্তাহ পর পাওয়া গিয়েছে খুশির খবর। গাছটি বেঁচে তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে নতুন পাতা ছেড়েছে। এই ভাবে একটি গাছের পুনর্জন্মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেমন খুশি তেমনি খুশি উদ্যান বিভাগের আধিকারিকরাও। এর আগে উত্তর কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছকে এই ভাবে অন্যত্র সরানো হয়েছিল। গত এক বছরে এই নিয়ে দুটি পূর্ণবয়স্ক গাছকে হত্যা না করে অন্যত্র সরিয়ে পুনর্জন্ম দানের ঘটনায় সকলেই খুশি।

কলকাতা নিয়ে ভোটাভুটির ব্যবস্থা
নাগরিকরা কেমন দেখতে চান নিজের শহরকে, কোন ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত, ঘাটতি রয়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে-এমনই কিছু প্রশ্ন নিয়ে নাগরিকদের কাছে সরাসরি হাজির হতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। এক কথায় কলকাতা নিয়ে নাগরিকদের ভোটাভুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুর পরিষেবাকে উন্নত ও আধুনিক মানের করে তুলতেই এমন পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি নিজেরাই জানাতে পারবেন পছন্দ-অপছন্দের কথা।  পুরসভার মতে, এটা এক ধরনের অনলাইন ভোটাভুটি। এক পুরকর্তা জানিয়েছেন, নাগরিকদের কাছে সরাসরি পৌঁছানো না-গেলে তাদের সমস্যা, তারা কী চাইছেন, সেই সব ব্যাপারে দিশা পাওয়া সম্ভব নয়। সেই জন্যই কম সময়ে নাগরিকদের কাছে পৌঁছতে এই পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে প্রথমে একটি অ্যাপ তৈরি করা হবে। যে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই নাগরিকেরা পুরসভার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। তবে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে যারা আগ্রহী, তাদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অনলাইনেই এই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। তবে কত জন এই ভোটে অংশ নিতে পারবেন, সেই ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের এই ভোটাভুটিতে শামিল করা হবে। পুর পরিষেবার উন্নতিতে এবং কলকাতার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভাবে এই প্রথম নাগরিকদের যুক্ত করা হচ্ছে।

বাংলা শব্দের ঐতিহাসিক অভিধান
প্রতিটি বাংলা শব্দের উদ্ভব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তৈরি হচ্ছে বাংলা শব্দের একটি ঐতিহাসিক অভিধান। তবে অনলাইনে তৈরি হওয়া এই অভিধানের নাম দেয়া হয়েছে শব্দকল্প। এই প্রথম ভারতের মধ্যে কোনো ভাষা নিয়ে এই ধরনের অনলাইন অভিধান তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য স্কুল অব কালচারাল টেক্সট এন্ড রেকর্ডস। এটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষ বাংলা নিয়ে সহজেই গবেষণা করতে পারবেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই অভিধান তৈরির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, বাংলা এমন একটি ভাষা যার প্রতিটি শব্দ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই প্রতিটি শব্দের প্রথম উদ্ভব, তার ব্যবহার, তার ক্রম অগ্রগতি এবং বিবর্তন বর্ণনা রাখা হবে। ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি অধ্যাপক, ছাত্র ও গভেষক শব্দ সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। জানা গেছে, টেক্সট থেকে শব্দ বাছাই করে তা উদ্ভবের তারিখ অনুযায়ী সাজানোর জন্য বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সিস্টেমের ব্যবহার হচ্ছে। শব্দের ক্ষেত্রে কোনো বাছবিচার করা হবে না। বড়লোকদের ভাষা, মধ্যবিত্তের ভাষা থেকে শুরু করে স্ল্যাং ভাষাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই অনলাইন অভিধান তৈরির কাজ শেষ হলে যে কেউ এই অভিধান ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না। অভিধান প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্তরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে শব্দের উচ্চারণ ও ধ্বনিবিন্যাস অভিধানে যুক্ত করা হবে। আগামী বছরের শেষ নাগাদ এই অভিধান তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ হবে। এই ধরনের একটি উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখভাষা বিশেষজ্ঞরা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট ভাষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। বাংলা ভাষার যে কোনো শাখার উচ্চশিক্ষার্থীরা এটি থেকে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

চালু হয়েছে মানবতার কাফে
অভিনবত্বে কলকাতার জুড়ি মেলা ভার। এবার কলকাতার বুকে চালু হয়েছে মানবতার ক্যাফে। তবে এটি আসলে একটি ভেগান কমিউনিটি ক্যাফে। আর এটি যারা চালু করেছেন তারা হলেন উবানটু কমিউনিটির সদস্য। খটমট এই শব্দটির অর্থ কি, কোন ভাষার শব্দ এটি সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসলে উবানটু জুলুভাষার শব্দ। এর অর্থ মানবতা। একসঙ্গে থাকার প্রেরণায় একদল তরুণ-তরুণী মিলে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়াতে তৈরি করেছে এই উবানটু কমিউনিটি ক্যাফেটি। পরিবেশবান্ধব এই ক্যাফেতে দূষণকে শতহাত দূরে রাখা হয়েছে। নারিকেলের খোলে তৈরি বাসনে এবং কাঠের থালায় পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার। টেবিলে প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচের বোতলে দেয়া হচ্ছে পানীয়। এই ক্যাফেতে দূষণের কথা ভেবেই রাখা হয় নি কোনো এসি। চলছে পাখা। পুরনো ফেলে দেয়া আসবাবকে সাজিয়ে গুছিয়ে করা হয়েছে ক্যাফের টেবিল চেয়ার। মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে রান্নার লোভে এর শেফের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এক অবাঙালি। পাওয়া যায় পিৎজা, শাহি বড়া, বড়িওলি পাস্তা থেকে গো গ্রিন স্মুদি পর্যন্ত। উবানটু কমিউনিটির মতাদর্শ হল, ইট, লিভ এন্ড শেয়ার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে  তিনতলা বাড়িটির নিচ তলায় হয়েছে ক্যাফে। দোতলায় হোস্টেল। আরতিন তলায় ইভেন্টের জায়গা। পর্যটকরা কলকাতায় এসে উবানটুর হোস্টেলে থাকতেও পারবেন। তবে খেতে হবে ভেগান খাবার।

আইএস ছেড়ে আসা যুবকের অভিজ্ঞতা

জ্যাক লেটস, যিনি ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়ার জন্য কিশোর বয়সে যুক্তরাজ্য ছেড়ে গিয়েছিলেন, তিনি বলছেন যে তিনি "ব্রিটেনের শত্রু"। মুসলিম হিসেবে ধর্মান্তরিত এই ব্যক্তি এখন কুর্দিশ কারাগারে হেফাজতে আছেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একবার আত্মঘাতী হামলা চালানোর প্রস্তুতিও তিনি নেন। এমন কথাও স্বীকার করেন জ্যাক।
বিবিসি গত অক্টোবরে ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের সাক্ষাৎকার নিলেও এতদিন তা প্রচার করা যায়নি। সম্প্রতি জ্যাক লেটসের বাবা-মা, সন্ত্রাসবাদে তহবিল দেয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হল। তারা মূলত জ্যাক লেটসকে টাকা পাঠাতেন।
জ্যাক লেটসকে গণমাধ্যম জিহাদি জ্যাক হিসেবেই অভিহিত করে এসেছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের দুই বছর পর, ২০১৪ সালে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সিরিয়ায় চলে যান। সে সময় তিনি অক্সফোর্ডের একটি স্কুলে এ-লেভেলে পড়তেন। সিরিয়ায় গিয়ে তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএস-এ যোগ দেন। যারা নৃশংস গণহত্যা ও শিরশ্ছেদের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিল।
সেখানে তিনি ইরাকি এক নারীকে বিয়ে করেন, যার পরিবারও আইএস এর অনুগত ছিল। তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান হলেও, জ্যাক তাকে কখনোই দেখতে পারেননি।
২০১৭ সালে তিনি আইএস ত্যাগ করেন। এরপর এক অভিযানে তিনি ধরা পড়লে তাকে পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি কারাগারে নিয়ে রাখা হয়। ব্রিটিশ এই নাগরিকের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব এখনও ছিনিয়ে নেয়া হয়নি। তাছাড়া তার দ্বৈত কানাডীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। এই প্রথম তিনি বিবিসির মাধ্যমে আইএসে তার ভূমিকা সম্পর্কে সব খোলাখুলি প্রকাশ করতে রাজি হয়েছেন।
'আমি যা করেছি, তা করেছি'
রিপোর্টার কোয়েন্টিন সোমারভিল, কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে জ্যাকের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বাসঘাতক কিনা সে বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছোড়া হলে এই আইএস যোদ্ধা জবাব দেন: "আমি জানি আমি অবশ্যই ব্রিটেনের শত্রু।"
"আমি যা করেছি তা, করেছি,"আমি একটা বড় ভুল করেছি।" বলেন তিনি। যারা সারা বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, সেই উগ্রবাদী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে, তিনি কেন যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছিলেন?
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জ্যাক বলেন, "আমি ভেবেছিলাম আমি পিছনে কিছু রেখে যাচ্ছি আর সামনে ভাল কিছু করতে যাচ্ছি।"
তার বাড়ির জীবন আরামদায়ক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমার মায়ের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, এবং আমার বাবার সঙ্গেও। আমি আমার বাবার সাথে কাজ করতাম। সে একজন কৃষক ছিলেন ... আমি আসলে তার সাথে কাজ করতে ভালবাসতাম। আমাদের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল।"
তিনি মনে করেন তার সিরিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্তটি "চিন্তাভাবনার অদ্ভুত সমন্বয়" এবং "অদ্ভুত ধরণের বিভ্রান্তি" থেকে এসেছিল।
তিনি বলেন, "আমি সে সময় ভেবেছিলাম এটা এক ধরণের নৈতিকতা। আমার যে সুন্দর জীবন আছে, সেটা কেন অন্যদের নেই? এবং তারপরে, ইসলামী স্টেটের সদস্য হওয়ার চিন্তাটা আসে এই দায়িত্বটা পালন করার জন্যই। আমি মনে করি এটি সম্ভবত আমার জীবনের আবেগ-চালিত সময় ছিল। আমি খুব আনন্দিত যে আমি মারা যাইনি।"
'আমি আমাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেব না'
সাবেক এই আইএস সদস্য বলেন, এই সংগঠনটি, আত্মঘাতী হামলার জন্য বিস্ফোরক জ্যাকেট পরতে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করত। তিনিও জঙ্গিদের কাছে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, "যদি যুদ্ধ হয় তবে তিনি প্রস্তুত আছেন।
"বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আমি এক পর্যায়ে আত্মঘাতী হামলায় যেতে চাইতাম। কবে জ্যাকেট পরে না। আমি গাড়ী নিয়ে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। যদি আমি সেই সুযোগ পেতাম, আমি করতাম।" তিনি বলেন
জ্যাক এখন বিশ্বাস করেন যে আত্মঘাতী হামলা ইসলামী আইনে হারাম বা নিষিদ্ধ। তিনি শুরুতে রাক্কাতে বাস করতে ভালবাসতেন। তিনি ফ্রন্ট-লাইনে যুদ্ধ করেছিলেন এবং ইরাকে মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি বলেন, আইএস ছাড়ার প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি হল, তারা মানুষদের খুন করে। যাদের প্রায় সবাই মুসলমান ছিল।
"আমার কাছে পুরো পরিকল্পনা ছিল না। আমি ভেবেছিলাম আমি তুরস্কে যাব এবং আমার মাকে ফোন করে বলবো যে, 'আমি যে করেই হোক তোমার সাথে দেখা করতে চাই।'
'পোস্টার বয়'
জ্যাকের বাবা ৫৮ বছর বয়সী জন লেটস এবং ৫৭ বছর বয়সী মা স্যালি লেন, বিচারের মুখোমুখি হন। অভিযোগ ছিল যে, তাদের ছেলে আইএস এ যোগ দেয়ার পর তারা তাকে অর্থ পাঠাতেন বা অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করতেন।
জ্যাকের বাবা মায়ের বিরুদ্ধে তিন দফা টাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠলেও আদালতে একটি প্রমাণিত হয়। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থ সহায়তার অভিযোগ দায়ের করা হয়। যাতে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
ব্রিটেনের তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার সুযোগ খুবই কম। তবে "এটা এমন না যে আমি দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়ার জন্য ব্রিটিশ জনগণের কাছে আবেদন করব।"- এমনটাই জানান জ্যাক।
"যদি আমি ব্রিটিশ জনগণের জায়গায় হতাম, তাহলে সম্ভবত আমি দ্বিতীয় সুযোগটি দিতাম না।"
পশ্চিমা নাগরিক, যিনি কিনা ব্রিটেন থেকে এসেছেন, এমন কাউকে আইএসে নিয়োগ দেয়ার পেছনে দলটির আরও বড় উদ্দেশ্য ছিল। আইএস তাকে ব্যবহার করতো অনেকটা পোস্টার বয় হিসেবে। সবাইকে একটা উদাহরণ হিসেবে দেখানোর জন্য।
জ্যাক আইএসের হয়ে যুদ্ধ করার কথা স্বীকার করলেও, তিনি কাউকে হত্যা করেননি বলে দাবি করছেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায়, তিনি কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন যে কানাডা তার সবকিছু বিবেচনা করে তাকে সেদেশে প্রবেশের অনুমোদন দেবে। এবং তারা কানাডার জন্য সিরিয়া ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে এখনও কোন মন্তব্য করেনি, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা সিরিয়ায় ভ্রমণ করছে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদে ফেলছে এবং সেটা যুক্তরাজ্যে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
স্বরাষ্ট্র সচিব সাজিদ জাভিদ এর আগে বলেছিলেন, আইএসকে সমর্থন করার জন্য যারা সিরিয়ায় গিয়েছে তাদের ফেরত আসা ঠেকাতে তিনি কোন "দ্বিধা করবেন না"।
টাইমস-এর সাথে একটি সাক্ষাতকারে মিস্টার জাভিদ বলেন, "যারা ব্রিটেনের ফিরে এসে এখানকার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে চায় তাদের থামাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।" সূত্র : বিবিসি। by নয়া দিগন্ত
জ্যাক এখন বিশ্বাস করেন যে আত্মঘাতী হামলা ইসলামী আইনে "হারাম" বা নিষিদ্ধ - সংগৃহীত