Thursday, November 6, 2014

স্বামীর সঙ্গে বান্ধবীর পরিচয় করানোই কাল হলো আরজুর

কলেজজীবনের বান্ধবীকে এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর স্ত্রীর বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এক সময় তা প্রেম পর্যন্ত গড়ায়। দাম্পত্যজীবনে শুরু হয় কলহ। এক বছর পর সন্তানসহ প্রাণ দিতে হলো ওই স্ত্রীকে। গত বুধবার সন্ধ্যায় মধ্য পাইকপাড়ার ৬৭/এ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে গৃহবধু আইরিন আক্তার আরজু ও তার সাত বছর বয়সি পুত্র সন্তান সাবিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আরজুর স্বামী আমান উল্লাহ ও তার কথিত প্রেমিকা সুবর্ণাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত আরজুর চাচা মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় মূল অভিযুক্ত আমান উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় ইন্ধনদাতা হিসেবে তার প্রেমিকা সুবর্ণাকেও থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কিন্তু আমান জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। সুবর্ণাও তার সঙ্গে আমানের প্রেমের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছেন। মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিসারুল আরিফ নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, তদন্তে আমাদের ধারণা পরকীয়ার জের ধরেই স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেছেন আমান। তাকে হত্যায় প্ররোচিত করেছেন প্রেমিকা সুবর্না। যদিও ধূর্ত আমান এখন পর্যন্ত হত্যার দায় স্বীকার করেননি। সুবর্ণাও সম্পর্কের বিষয় অস্বীকার করছেন।   পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার পুত্র সাবিদকে সঙ্গে নিয়ে জুমআর নামাজ পড়তে গিয়ে সুবর্ণার সঙ্গে দেখা করে আমান। বাবার সঙ্গে সুবর্ণার কথা বলা পছন্দ হয়নি সাবিদের। এরপর বাসায় ফিরে মা আরজুকে বাবার সাক্ষঅতের কথা জানিয়ে দেয় সাবিদ। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমান তার শিশুপুত্রকে পেটান। স্ত্রী তাতে বাধা দিতে গেলে তাকেও পেটানো হয়। অনেক আগ থেকে আমানের পরকিয়ার কথা জনাতেন তার স্ত্রী আরজুর পরিবার। পারিবারিক কলহ চরম পর্যায়ে গেলে আরজুর মায়ের পরিবারের লোকজন সিদ্ধান্ত নেয় তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা। মারা যাওয়ার আগের দিন মঙ্গলবার আরজু তার মাকে ফোন করে জানান তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনিও একমত। এরপরই গত বুধবার বিকেলে বড় ছেলেসহ আরজু খুন হয়।   সুবর্ণা-আমানের পরকিয়া নিহত আরজুর চাচা মামলার বাদি মো. ইউনুছ হাওলাদার বলেন, ২০০৪ সালে প্রেমের সম্পর্ক থেকে আরজুকে বিয়ে করেন আমান। তখন আরজু ইডেন কলেজের ছাত্রী। তার কলেজজীবনের বান্ধবী সুবর্ণার সঙ্গে স্বামীকে এক বছর আগে পরিচয় করিয়ে দেন আরজু। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি এক সময় আরজু জেনে যায়। এই নিয়ে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। সূবর্ণা গুলশানে একটি বায়িং হাউসে চাকরি করেন। তারও স্বামী-সংসার আছে। পরকিয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তার সংসারেও কলহ শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে সুবর্ণার সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এর ফলে স্বামীকে ছেড়ে মিরপুর টোলারবাগ কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে গিয়ে বান্ধবীদের কক্ষে থাকা শুরু করেন সুবর্ণা। আমান ও সুবর্না একসঙ্গে ঢাকার বাইরেও ঘুরতে যান। এ বিষয়টিও আরজু জেনে যায়। অসুস্থ ছোট ছেলে সানভীর মা ও খেলার সাথী বড় ভাই সাবিদের মৃত্যুর পর ছোট্ট সানভিরকে দক্ষিণ পাইকপাড়ার বাসিন্দা ইউনুস আলীর (আরজুর চাচা) ৪৫৫/ বি নম্বর বাসায় রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায় মায়ের জন্য সানভীর কান্নাকাটি করছে। সানভীরের দেখভাল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ইউনুস আলী বলেন, মায়ের বুকের দুধ খেতো সানভীর। এখন মা নেই। সব সময় মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে। কিছু খেতে চায় না। কৌটার দুধ  খাইয়ে তাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছি। সেই সঙ্গে পরিবারের সবাই ওকে আলাদা যত্ন নিচ্ছে। কিন্তু এরপরও মায়ের অভাব পূরন হচ্ছে না। শুধুই কান্নাকাটি করছে। ইউনুস আলী অভিযোগ করেন,  সূর্বণার সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরেই আরজু ও তার সন্তানকে খুন করেছেন আমান । এই নিয়ে সন্দেহ থাকার কোনো কারণই নেই। আমান বাঁচার জন্য পুলিশের কাছে মিথ্যা বলছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,  সুবর্ণার সঙ্গ ত্যাগ করতে পারিবারিকভাবে আমানকে বোঝানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সালিস বৈঠকও হয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। উল্টো আরজুর ওপর মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন আমান। নিহত আরজু ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেন। তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়। আমান উল্লাহ পূবালী ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখার সিনিয়র অফিসার। হত্যার কথা স্বীকার না করলে শুক্রবার আমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

যার গুলিতে ধরাশায়ী হন লাদেন

ওসামা বিন লাদেন যার গুলিতে ধরাশায়ী হয়েছিলেন, এতোদিন পর তার পরিচয় সামনে এসেছে। মার্কিন নেভি সিলের ওই কমান্ডোর নাম রব ও’নেইল। তার পিতা টম ও’নেইলের সঙ্গে ডেইলি মেইলের এক সাক্ষাতকারে এ তথ্য সামনে আসে। ২০১১ সালের ২রা মে মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ারের’ অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পরিচালিত নেভি সিল বাহিনীর ওই অভিযানে লাদেনের কপালে তিন বার গুলি করেন ও’নেইল। ওই অভিযানে নিহত হয়েছিল আরও চারজন। তবে মার্কিন বাহিনীতে কোন প্রানহানী হয় নি। টম বলেন, তার ছেলের পরিচয় প্রকাশ নিয়ে তিনি আর ভীত নন। তবে রব ও’নেইলের পরিচয় প্রকাশ নিয়ে মার্কিন বাহিনীতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিল সদরদপ্তর ও পেন্টাগনে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকে।

পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে: মিজান

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, “পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। পুলিশের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সাংঘাতিক রূপ নিয়েছে। তাদের আচরণ সংযত করতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।” বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “একজন নাগরিককে খুব কাছে থেকে এভাবে গুলি করা এক ধরনের বর্বরতা ও অসভ্যতা। এভাবে গুলি করার নির্দেশ পুলিশকে কে দিয়েছে?” তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট জেলার পুলিশের কতিপয় সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেশি করছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হবে। পদক্ষেপ না নেয়া হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে।” গত ১৭ অক্টোবর বাদ জুমা মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে পুলিশের গুলিতে আহত হন নাফিজ সালাম (৩৭) নামের একজন সাধারণ মানুষ। তাকে দেখতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চেয়ারম্যান ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি ওয়ার্ডে যান। সেখানে তিনি প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে নাফিজের খোঁজখবর নেন। উপস্থিত চিকিৎসকেরা মিজানুর রহমানকে জানান, নাফিজের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তিনি মারাও যেতে পারতেন।

বিবাহ সমাচার by সোহেল অটল

একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করি।
ডাক্তারের কাছে গিয়ে এক রোগী জানতে চাইল- ডাক্তার সাব, দীর্ঘ দিন বাঁচার কোনো উপায় আছে?
ডাক্তার এক গাল হেসে উত্তর দিলো- নিশ্চয়ই! আপনি দ্রুত বিয়ে করেন।
ডাক্তারের কথা শুনে রোগীর চু চড়কগাছÑ বিয়ে করলে দীর্ঘ দিন বাঁচা যায়?
ডাক্তার বলল- না। আপনি দীর্ঘ দিন বাঁচতে চাচ্ছেন। এটা একটা রোগ হিসেবে ধরে নিচ্ছি আমি। এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা হলো বিয়ে। আপনি যত দ্রুত বিয়ে করবেন, এই দীর্ঘ দিন বাঁচার শখ তত দ্রুতই মিটে যাবে আপনার।
তার মানে বিয়ে করলে বেঁচে থাকার ইচ্ছা মরে যায়। তবুও মানুষ বিয়ে করে। বাস্তবতা হলো- বেশির ভাগ মানুষই বিয়ে করে। খুব কম মানুষ আছে যারা বিয়ে করে না। বিয়ের বিকল্প হিসেবে চিরকুমার সঙ্ঘটঙ্ঘ নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। অর্থাৎ বিয়ের বিকল্প খোঁজে।
সম্প্রতি জনপ্রিয় শোবিজ তারকা আফসান আরা বিন্দু বিয়ে করলেন। দেশের শোবিজ অনুরাগীদের কাছে ইমপরট্যান্ট খবর এটা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো- বিন্দু এক প্রকার লুকিয়ে বিয়ে করলেন। তার মতো জনপ্রিয় শোবিজ তারকা বিয়ে করবে ঢাকঢোল পিটিয়ে। তাতে ভক্ত-অনুরাগীরাও একধরনের উৎসব আমেজ ফিল করতে পারে। বিন্দু সে ফিল থেকে সাধারণ ভক্তদের বঞ্চিত করেছেন। বিন্দু বঞ্চিত করেছেন বলে যে সবাই তা করবেন, ব্যাপারটা অমন নয়। দেখুন না, আমাদের রেলমন্ত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান। দুই দিন ধরে গায়ে হলুদের পর ঢাকঢোল পিটিয়ে বউ আনতে গেলেন এই ৬৫ বছর বয়সের বরটি।
ইসলামি বিবাহরীতিতে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতি এবং বিয়ের সময় উভয় পরে বৈধ অভিভাবক বা ওয়ালির উপস্থিতি ও সম্মতির প্রয়োজন। ইসলামি বিয়েতে যৌতুকের কোনো স্থান নেই। বিয়ের আগেই পাত্রের প থেকে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা অর্থসম্পদ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়, একে দেনমোহর বলা হয়। এ ছাড়া বিয়ের পর তা পরিবার-পরিজন ও পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে জানিয়ে দেয়াও ইসলামি করণীয় অন্তর্ভুক্ত।

মাননীয় রেলমন্ত্রী নিশ্চয়ই ইসলামি বিবাহরীতিই অনুসরণ করছেন। বিয়ের পর নয়, বিয়ের আগেই তিনি দুনিয়াবাসীকে তার বিয়ের খবরটি জানিয়ে দিয়েছেন। কোনো লুকোছাপা নেই। কিন্তু মুশকিল হলো- তিনি তার দীর্ঘ ৬৫ বছরের কুমারজীবনে উল্লেখযোগ্য সময়ে কুমিল্লা চিরকুমার সঙ্ঘের উপদেষ্টা ছিলেন। এত দিন নিশ্চয়ই তিনি তার সঙ্ঘের সদস্যদের বিয়ের অপ্রয়োজনীয়তা, গুরুত্বহীনতা বুঝিয়েছেন। হয়তো ওই সঙ্ঘের অনেকেই জীবনের নানান সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও তার কথায় বিয়ে করতে পারেননি। বুঝিয়েছেন- ‘বিয়া জিনিসটা হইল গিয়া খামাখা। ক্যান বিয়া নিয়ে মাথা ঘামাইতেছো?’
এখন সেসব লোকজনকে তিনি কী দিয়ে সান্ত্বনা দেবেন?
রেলমন্ত্রী কী বলবেন তা নিশ্চয়ই তার জানা আছে। আপাতত আমরা সে দিকে যাচ্ছি না। তার চেয়ে বরং বিয়েসংক্রান্ত বিখ্যাত মনীষীদের কিছু কৌতুকপূর্ণ উক্তি স্মরণ করি চলুন। এখানে কোন উক্তি কার, সেটা উল্লেখ করা সম্ভব হলো না।
#সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে একটু ভালোবাসা, একটু আদর, একটু কোমলতা পাওয়া। একে এক কথায় কী বলে বলতে পারেন? একে বলেÑ আপনি ভুল বাসায় এসেছেন!
#বিষয়টি মজার যে, একটি ছেলের জীবনে যখন কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না, সে বিয়ে করে। এটা অনেকটা সুখে থাকতে ভূতে কিলানোর মতো।
#বিয়ের আগে ছেলেটি যখন মেয়েটির হাত ধরে, সেটি হচ্ছে ভালোবাসা। আর বিয়ের পরে যখন ধরে, সেটি হচ্ছে আত্মরা।
#আমি বহু দিন আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলিনি, আমি আসলে তাকে কথার মাঝখানে থামাতে চাই নি।
#বিয়ে একটি বৈধ ও ধর্মসম্মত অনুষ্ঠান যেখানে দু’জন বিপরীত (সাধারণত) লিঙ্গের মানুষ পরস্পরকে জ্বালাতন করা এবং পরস্পরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার শপথ নেয় তত দিনের জন্য যত দিন না মৃত্যু এসে তাদের আলাদা করে।
#একজন সফল পুরুষ সে-ই যে এত টাকা আয় করতে পারে যা তার বউ খরচ করে শেষ করতে পারে না। একজন মেয়ের েেত্র সাফল্য হচ্ছে এ রকম একজন পুরুষকে খুঁজে বের করতে পারা।
#স্বামী হিসেবে প্রতœতত্ত্ববিদেরাই সবচেয়ে আদর্শ। পুরনো জিনিসের প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি।
#অনেকেই আমাদের দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনের রহস্য নিয়ে প্রশ্ন করে। তাদেরকে বলি, সপ্তাহে দুই দিন ভালো রেস্তরাঁয় ডিনার, মৃদু আলোয় সফ্ট মিউজিক, একটুণ নাচÑ এই তো। আমি যাই বিষ্যুদবারে, আমার স্ত্রী সোমবারে।
#একজন নববিবাহিত যখন বলে সে সুখী, আমরা জানি, কেন। একজন ১০ বছরের বিবাহিত মানুষ যখন বলে সে সুখী, আমরা ভাবি, কেন?
#আমি আর আমার স্ত্রী জীবনের ২৫টা বছর বড় আনন্দে কাটিয়েছি। তারপর আমাদের পরিচয় হলো।
#একজন পুরুষের শেষ কথা কী হওয়া উচিত? ‘ঠিক আছে, কিনে ফেলো’।
#মেয়েরা আশা করে ছেলেরা বিয়ের পরে বদলাবে, কিন্তু তা হয় না। আর ছেলেরা আশা করে মেয়েরা বিয়ের পরেও একই রকম থাকবে, কিন্তু তারা বদলে যায়।
#এটা সত্যি যে কেউ পরাধীন হয়ে জন্মায় না, কিন্তু অনেকেই বিয়ে করে ফেলে।
#বিয়ে করার একটা সুবিধা হচ্ছে, তোমার ভুল-ত্রুটিগুলো আর তোমার কষ্ট করে মনে রাখার দরকার নেই। এক কাজ দু’জনের করার অর্থ কী?
#পত্রিকায় একটি ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন ছাপা হলো, ঐঁংনধহফ ডধহঃবফ। পরদিন কয়েক শ’ মহিলা যোগাযোগ করলেন, ‘আমারটি নিতে পারেন’।
#বিয়ে হচ্ছে বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে কল্পনার জয়। আর দ্বিতীয় বিয়ে হচ্ছে অভিজ্ঞতার বিপে আশাবাদের জয়।
#ছেলেটি বলেছিল মেয়েটির জন্য সে নরক পর্যন্ত যেতে রাজি। ঈশ্বর তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের বিয়ে হয়েছে।
#ভালোবাসা হচ্ছে একটি মিষ্টি স্বপ্ন আর বিয়ে হচ্ছে অ্যালার্ম কক।
#বিয়ের আগে পর্যন্ত আমি জানতাম না সত্যিকারের সুখ কাকে বলে। যখন জানলাম তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
#এটা সত্যি যে ভালোবাসা অন্ধ, তবে বিয়ে চোখ খুলে দেয়।
#বিয়ে না করলে ছেলেরা সারা জীবন ধরে ভাবত, তাদের জীবনে কোনো ভুল নেই।
#আপনার স্ত্রী আপনার কৌতুক শুনে হাসল, এর অর্থ হচ্ছে- হয় কৌতুকটি খুব ভালো, নয় আপনার বউ খুব ভালো।
হা হা হা... বিয়েকে হেয় করে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রত্যেকটা উক্তিতেই। তাতে অবশ্য আমরা দমে যাই না, যাচ্ছি না। জানিয়ে রাখি, মাননীয় রেলমন্ত্রীর বৌভাত অনুষ্ঠান এখনো বাকি।
১৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের ২ নম্বর এলডি হলে বৌভাত অনুষ্ঠিত হবে। চলুন গোঁফে তা দিই। থেরাপির পক্ষ থেকে বৌভাত অনুষ্ঠানে আপনারা আমন্ত্রিত!

বুদ্ধি পরীক্ষা! by নুসরাত শ্রাবণী

আসলাম সাহেবের মনে শান্তি নেই। নতুন একটা কোম্পানি দাঁড় করিয়েছেন। পরীক্ষা দিয়ে দেশের সবচেয়ে মেধাবী লোকগুলোকে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু এদের দিয়ে কাজ করিয়ে স্বস্তি পান না তিনি। যখনই মনে হয়, নিজের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাবেন তখনই তার মনে হয়, সব একেকটা বোকার হদ্দ! কোম্পানির জন্য একটা কাজও ঠিকমতো করতে পারে না! কোম্পানির কোনো কাজের ব্যাপারে কর্মচারীদের কারো মতামত তার পছন্দ হয় না। বাধ্য হয়ে সব তাকেই দেখতে হচ্ছে। কোম্পানির চিন্তায় আসলাম সাহেবের জীবনের সব আরাম হারাম হয়ে যেতে থাকে।
কিছু দিন পরে আসলাম সাহেব গেছেন ব্যবসায়ীদের একটা কনফারেন্সে। কনফারেন্স শেষে বের হচ্ছেন, তখন দেখা হয়ে গেল তার বাল্যবন্ধু তারেকের সাথে। তারেক এখন বিশাল ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী মহলের সবাই তারেককে চেনে। তারেককে দেখে আসলাম সাহেবের মনে একটু হিংসাই হয়। এই তারেককে তিনি একমসয় করুণার চোখে দেখতেন, আর আজ সে কি না আসলাম সাহেবকে টক্কর দেয়! যাই হোক, শত হলেও বন্ধু তো, অনেকক্ষণ সুখদুঃখের গল্প করেন তারা। শেষমেষ আসলাম সাহেব তারেককে জিজ্ঞেস করলেন,

-তুই এত অল্প সময়ে ব্যবসা এত বড় কিভাবে করলি?
-আরে দোস্ত, ব্যবসা চালাতে হলে বুদ্ধিমান লোক নিতে হয়।
-হুম, তা ঠিক বলেছিস। কিন্তু সবাই তো পরীক্ষায় পাস করেই যায়। বুদ্ধি কার আছে তা কেমনে বুঝব?
-আচ্ছা দেখো, বলে তারেক শিমুলকে ডাকল। শিমুল আসলাম সাহেবের পার্সোনাল সেক্রেটারি। শিমুলকে ডেকে তারেক বলল,
-আচ্ছা, বলেন তো শিমুল সাহেব, আপনার বাবা-মায়ের সন্তান, সে আপনার ভাইও না, বোনও না। তাহলে সে কে?
শিমুল বেশ চটপটে ছেলে। সে হেসে বলল, স্যার আমি। তারেক আসলাম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,
-দেখলি তো, এমন ছোটখাটো বুদ্ধিমত্তার প্রশ্ন করলেই বোঝা যায় কে বুদ্ধিমান।
আসলাম সাহেব তো ভীষণ খুশি। বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে বাড়ি চলে এলেন। পরদিন অফিসে গিয়ে, প্রথমেই ডেকে পাঠালেন তার প্রধান উপদেষ্টা, ইমামকে। আসলাম সাহেব ইমামকে বললেন,
-বলো তো ইমাম, তোমার বাবা-মায়ের সন্তান, সে তোমার ভাইও না, বোনও না। তাহলে সে কে?
ইমাম মাথা চুলকাতে লাগল। কিছুক্ষণ ভেবে বলল, স্যার বুঝতে পারছি না। আসলাম সাহেব রেগে আগুন হয়ে গেলেন। এইটুকু বলতে পার না তুমি! তোমাকে চাকরি দিলো কে? খালি খালি বেতন নেও তোমরা! যাও আমার সামনে থেকে!
ইমাম দ্রুত বসের সামনে থেকে সরে আসে। উফ্ বাঁচা গেল! বসের যে কী হইল আজকে, মনে মনে ভাবে সে। সুমি ইমামের পাশের টেবিলে বসে। সে ইমামকে দেখে বলে,
-কী হয়েছে ইমাম ভাই? আপনাকে এমন বিধ্বস্ত লাগছে কেন?
সুমি তার জুনিয়র। বসের কাছে অপমানিত হওয়ার গল্পটুকু জুনিয়র কলিগকে বলতে ইচ্ছ করল না ইমামের। সে একটা ঢোক গিলে বলল,
-আচ্ছা সুমি, বলো তো তোমার বাবা-মায়ের সন্তান, সে তোমার ভাইও না, বোনও না। তাহলে সে কে?
-আমার বাবা-মায়ের সন্তান, সে আমার ভাইও না, বোনও না। তাহলে সে কে? সে তো আমি!
ইমাম একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলল, ওহ্ হ্যাঁ। তাই তো! আচ্ছা আমি এক্ষুনি আসছি। বলে সে আবার বসের কেবিনে ছুটল। বসের সামনে গিয়ে দাঁত বের করা হাসি দিয়ে বলল,
-স্যার, স্যার, আমি উত্তরটা পেয়ে গেছি। আমার বাবা-মায়ের সন্তান, সে আমার ভাইও না, বোনও না। তাহলে সে কে? সে হচ্ছে সুমি।
আসলাম সাহেব আরেক দফা অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, -আরে গাধা, এই ভাবলা এতক্ষণে? সেটা সুমি হবে কেন? সেটা তো শিমুল!

মহাসমারোহে শীত আসিতেছে

শীত আসে শীত যায়, ক’জন তার গীত গায়...
গতবার কোন দিক দিয়া শীত আইছে গেছে আমি টেরই পাইলাম না।
আমি টের পাইছিলাম ঠিকই কিন্তু গোপন রাখছিলাম। কাউরে কই নাই।
শীত আর গোসলের মাঝে দা-কুমড়া সম্পর্ক ওগো তোমার পায়ে পড়ি, অন্তত এইবারের শীতে আমারে বাপের বাড়ি পাডায়া দিও না।

বউগো আমিও তোমার ঠ্যাঙে পড়ি, আমারে মাইরালাও তবু শীতে এক লগে থাকার কথা মুখে লইয়ো না।
কাসে পিটুনির সামনে শীত পোশাক ঢাল হতে পারে।
স্যাররে অনুরোধ করলি এই পড়াগুলান ভালো কইরা শীত আইলে পড়াইতে, ঘটনা কী রে?
এগুলান কঠিন পড়া। না পারলে পিডাইলে ব্যথা পামু না। কারণ তখন গায়ে শীতপোশাক থাকব।
ছেঁড়া কাঁথা মুড়ি দিয়ে বড়লোক হওয়ার সংখ্যা কম নয়, বুঝলাম আমার বেকার পোলা অন্ন ধ্বংসে নিয়োজিত। কিন্তু ভালো খ্যাতাগুলান ছিঁড়ল ক্যা?
হেয় নাকি ছেঁড়া খ্যাতা গায়ে দিয়া বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখপো...
থেরাপিতে প্রকাশিত, অপ্রকাশিত সব লেখাই কল্পনাবিলাসী মস্তিষ্কের অবদান। কারো সাথে তা মিলে যেতেই পারে। গেলে তা কাকতাল মাত্র; না গেলে সত্যি এর জন্য থেরাপি তো নয়ই, অন্য কেউও দায়ী নয়।
আইডিয়া : শাহাদাত ফাহিম ; আঁকা : রবিউল ইসলাম সুমন

আরব বসন্তের গণতান্ত্রিক মডেল তিউনিসিয়া by মুহাম্মদ খায়রুল বাশার

আরব বসন্ত বিপ্লবের সূতিকাগার তিউনিসিয়া। দেশটিতে গত ২৬ অক্টোবর রোববার পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এর মধ্য দিয়ে দেশটি প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি পার্লামেন্ট পেয়েছে। এই নির্বাচন ও নতুন পার্লামেন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ায় গত চার বছরের অস্থির রাজনীতি ও ক্রান্তিকালের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিউনিসিয়া ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। উত্তর আফ্রিকার মধ্যাঞ্চল তথা কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত দেশটি একসময় গুরুত্বপূর্ণ শপিং রুটের কাছাকাছি ছিল। সে সময় রোমান, আরব ও ওসমানীয় আমলের তুর্কি ও ফ্রান্স তিউনিসিয়ার কৌশলগত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরে সেটাকে ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তৈরি করে নিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে সেখানে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়। এরপর দীর্ঘ তিন দশক হাবিব বারগুইবা দেশটি শাসন করেন। সে সময় তিনি ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সেখানে নারীমুক্তি তথা অবাধ নারী স্বাধীনতার প্রচলন করেন। আরব বিশ্বে তিউনিসিয়ার নারীরাই সর্বাধিক স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। হাবিব বারগুইবা ইসলামের বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি তার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হন। ১৯৮৭ সালে জয়নুল আবেদিন বেন আলী বারগুইবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেই প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ইসলামপন্থীদের দমনের ব্যাপারে তার পূর্বসূরির নীতি অব্যাহত রাখেন। তিনি অবশ্য হাবিব বারগুইবার কাছ থেকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল একটি দেশ পেয়েছিলেন। বেন আলীর আমলে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমকে কিছুটা স্বাধীনতা দেয়া হয় এবং কিছু রাজবন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়ার কারণে তিউনিসিয়ায় তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৪ ও ২০০৯ সালে পুনর্নির্বাচনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে একনায়কতান্ত্রিক শাসন কট্টরভাবে চালু করার পর বেন আলীর বিরুদ্ধে রাস্তায় ব্যাপকভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগে বাধ্য হন। এরপর গোটা আরব বিশ্বে আরব বসন্তের জোয়ার সৃষ্টি হয়। আরব বসন্তের নামে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিলÑ তার সূত্রপাত হয়েছিল আরব বিশ্বের ছোট্ট দেশ তিউনিসিয়া থেকে। আরব বসন্তের জোয়ারে ভেসে যাওয়া অন্য দেশগুলোতে হয় বিশৃঙ্খলা না হয় সামরিক শাসন ফিরে এসেছে। বহু আকাক্সিত গণতন্ত্রের স্বাদ ওই সব দেশ ভোগ করতে পারেনি। সিরিয়া বর্তমানে যুদ্ধ ও সঙ্ঘাতে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। জাতিগত ও গোষ্ঠীগত সঙ্ঘাতে লিবিয়া এখন অনিশ্চয়তার পক্ষে নিমজ্জিত। আর মিসরে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক স্বৈরাচার ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। তাহরির স্কোয়ারের মুক্তিকামী মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে সামরিক স্বৈরাচার ক্ষমতা দখল করে শান্তিকামী জনতাকে তিলে তিলে ধ্বংস করার নোংরা প্রয়াস চালাচ্ছে। অবশ্য মিসরের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ স্বৈরাচারী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। নিরপরাধ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তে এখন প্রতিনিয়ত মিসরের রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে। চার পাশে ব্যাপক ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যেও তিউনিসিয়ায় আরব বসন্তের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। তিউনিসিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া একটা বড় ঘটনা। এই নির্বাচন পর্যন্ত আসা খুব সহজ ছিল না। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোও সহজ হবে না।
তিউনিসিয়ায় বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৬ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোটার উপস্থিতি ছিল। ২১৭ আসনের পার্লামেন্টের এই নির্বাচনে ভোটার ছিল ৫০ লাখ। কাল শুক্রবার নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটিতে ৮০ হাজার সৈন্য ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ইসলামপন্থী আন-নাহদা ও সেকুলার দল  নিদা তিউনিসের মধ্যে। উল্লেখযোগ্য অন্য যেসব দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সেগুলো হলো সেকুলার কংগ্রেস ফর লেবার ফর দি রিপাবলিক (সিপিআর) ও ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম ফর লেবার অ্যান্ড লিবার্টি (এফডিটিএল)। এ ছাড়া সাবেক স্বৈরশাসক বেন আলী আমলের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন আরো কয়েকটি দল ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট মুনসেফ মারজুকি এই নির্বাচনকে বিপ্লবের সমর্থক ও প্রতিবিপ্লবের সমর্থকদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা বলে উল্লেখ করেছেন। আন-নাহদার নেতা রশিদ ঘানুশির মতে, তিউনিসিয়া শিগগিরই আরব বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এ বছরের শেষ নাগাদ তিউনিসিয়া প্রথম আরব গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে; এ বিষয়ে আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি।’ তিউনিসিয়ায় জনসংখ্যার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা নির্ধারিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন দল ও জোট থেকে এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকেন। হাই অথরিটি ফর ইলেকশনস (আইএসআইই) এসব প্রার্র্থীকে অনুমোদন দিয়ে থাকে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বয়স কমপক্ষে ২৩ বছর এবং কমপক্ষে ১০ বছর দেশটির নাগরিকত্ব থাকতে হবে। আইএসআইই-এর মতে, দেশটির নতুন তালিকাভুক্ত ভোটারের মধ্যে ৪৯ শতাংশ হচ্ছেন নারী।
তিউনিসিয়ার নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় মনে হয় কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করতে পারবে না। তবে আন-নাহদা সেকুলারদের থেকে ভালো করবে বলে সবাই মনে করে। ২০১১ সালের নির্বাচনে আন-নাহদা ২১৭ আসনের মধ্যে ৮৯ আসনে জয় লাভ করে সিপিআর ও এফডিটিএলকে নিয়ে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করেছিল। নিদা তিউনিস নামক দলটি জাতীয়তাবাদী ও উদারপন্থী সমর্থকদের নিয়ে গঠিত। এই দলটি আন-নাহদার সাথে কোনো জোট করতে রাজি নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ইসিবসি দলটির প্রধান। কংগ্রেস ফর দি রিপাবলিক (সিপিআর) অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট মারজুকির নেতৃত্বে ২০১১ সালের নির্বাচনে ২৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আর ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম ফর লেবার অ্যান্ড লিবারটি নামক দলটি ১৯৯৪ সালে সাবেক স্পিকার মোস্তফা বেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়। ২০১১ সালের নির্বাচনে এ দলটি ২০টি আসন পেয়েছিল। উল্লেখ্য, নানা ষড়যন্ত্র ও রাস্তায় একশ্রেণীর লোকের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আন-নাহদা গত জানুয়ারিতে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিল। আন-নাহদা ২০১১ সালের সাংবিধানিক পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে মধ্যপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেয়।
মিসরে সামরিক অভ্যুত্থানের সময় তিউনিসিয়ায় বিরোধী দলের একজন সদস্য আততায়ীর হাতে নিহত হলে দেশে সঙ্কট শুরু হয়। আন-নাহদা তাদের দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের অন্তর্বর্তী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অধিকতর গুরুত্বারোপ করে। অত্যন্ত বাস্তমধর্মী পদক্ষেপ নিয়ে তারা পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কেয়ারটেকার সরকারের হাতে দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। তাদের প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের কারণে দেশ রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত থেকে রক্ষা পায়। এরপর ২৬ অক্টোবরের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে সেকুলারপন্থী নিদা তিউনিস দল এগিয়ে রয়েছে। বেজি চেইদ ইসেবসির নেতৃত্বাধীন দলটি ৮৩ আসনে জয়লাভ করেছে। আর আন-নাহদা জয়ী হয়েছে ৬৮ আসনে। আনুপাতিক ভোটে সেকুলার দলটি ৩৮ শতাংশ এবং ইসলামপন্থী দলটি ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্য দলের মধ্যে ফ্রি প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন ১৭ আসন (৭ শতাংশ ভোট) এবং পপুলার ফ্রন্ট ১২টি আসন (৫ শতাংশ ভোট) পেয়েছে। আন-নাহদার দলের প্রধান রশিদ ঘানুশি বলেন, সরকারিভাবে ফলাফলের আগে তিনি ফলাফল সম্পর্কে কিছু বলবেন না। তিনি সমঝোতা ও ঐকমত্যের সরকারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হান্নিবল টেলিভিশনকে বলেন, তিউনিসিয়ায় একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রয়োজনÑ এ জন্য একটি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।
আন-নাহদা নিজ দেশে দীর্ঘ দুই দশকের জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলা করে এবং পাশের দেশ আলজেরিয়া ও মিসরে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ব্যর্থ হওয়া থেকে মনে হয় শিক্ষা নিয়েছে। তাদের নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ কয়েক বছর ইউরোপে প্রবাসজীবন কাটানোর পর জটিল রাজনৈতিক অঙ্ক বুঝতে সক্ষম হন। তাই এ দলটি আলাপ-আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় ছাড় দিয়ে কোয়ালিশন এবং জোট পরিবর্তন করেছে। তারা মনে হয় সমঝোতা এবং ঐকমত্যের রাজনীতি রপ্ত করেছে। সেটাই আজকে তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক মডেল হয়ে উঠেছে। তিউনিসিয়ার রাজনীতির পথ এখনো সহজ নয়Ñ কণ্টকাকীর্ণ। দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনো তীব্র চাপের মধ্যে আছে।
ভূরাজনীতি দলটির অনুকূলে নয়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে রয়েছে লিবিয়া। সেখানে এখন যুদ্ধ ও সঙ্ঘাত চলছে। অস্ত্রের বিস্তার ও সঙ্ঘাত রোধ করা যাচ্ছে না। সাব-সাহারা মরু অঞ্চলের মালিতে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করেছে এবং আরবের অন্যান্য দেশে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপত্তা সঙ্কটের পাশাপাশি তিউনিসিয়ার মানুষ এখন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ঐকমত্যের চেতনাকে ধন্যবাদ জানাই। তিউনিসিয়ার মানুষ তাদের গণতন্ত্রের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ভিত্তি স্থাপন করেছে। দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ব্যাপক সামাজিক প্রতিবাদ অর্থনৈতিক ফ্রন্টের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিয়েছে। জেসমিন বিপ্লবের প্রথম দাবি ছিল একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান এবং অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন। অবশ্যই মর্যাদার সাথে এসব ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হলো উন্নয়ন, সমানভাবে সম্পদের বণ্টন এবং জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সাথে সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে। সেটা আরব দুনিয়া এখনো অর্জন করতে পারেনি। ঘড়ির কাঁটাকে আর পেছনে ঘোরানো যাবে না। স্বাধীনতার মূল্যে স্থিতিশীতাকে কেনা যাবে না। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যাবে এবং এর মাধ্যমেই জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এর বিকল্প হচ্ছেÑ বিশৃঙ্খলা, পরাধীনতা ও অস্থিতিশীলতা। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, সফল এই নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে তিউনিসিয়ায় প্রথম পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে শুধু দেশটির এক কোটি ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আকাক্সাই পূরণ হবে নাÑ বরং গোটা আরব বিশ্বের জন্য তিউনিসিয়া সামরিক স্বৈরতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের পরিবর্তে একটি গণতান্ত্রিক দেশের মডেল হয়ে থাকবে।
khairulbashar407@gmail.com

দণ্ড কার্যকরের আগে রায়ের কপি আসামিকে দেখাতে হবে : রফিক-উল হক

প্রবীণ আইনবিদ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, রায়ের কপি না পেলে আসামি ক্ষমা চাইবে কোন প্রাউন্ডে। রায়ের কপি দেখেই আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য সংক্ষিপ্ত হোক বা পূর্ণাঙ্গ হোক রায়ের কপি আসামিকে দেখানো উচিত। ফাঁসি হয়েছে এটা আসামির জানতে হবে না?
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে তার নিজ কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, রিভিউ হবে না। কারণ তা আইনে নেই।
মৃত্যুদণ্ড সাজা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, অপরাধীর সাজা যাবজ্জীবনই হওয়া উচিত। মৃত্যুদণ্ড সাজা এবং তা দ্রুত কার্যকর হলে তো আর আসামিকে সাজা ভোগ করতে হলো না। মৃত্যু হয়ে গেলেই সব শেষ।
রফিক-উল হক আরো বলেন, অপরাধীর সাজা হিসেবে কারাগারে সাজা ভোগ করাই তার শাস্তি।  কিন্তু আমাদের দেশে সমস্যা হলো রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলে আসামি বের হয়ে আসে। এজন্য প্রয়োজন আইন পরিবর্তন করা যাতে যাবজ্জীবন সাজা হওয়া কোনো ব্যক্তি বের হয়ে না আসতে পারে।

জিয়ার বিচক্ষণতায় ৭ নভেম্বর দেশ রক্ষা পেয়েছে : তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের মেধা ও বিচক্ষণতায় বাংলাদেশ অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলতা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাহের-ইনুদের ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের চতুর্থ দিন বুধবার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন কয়সর এম আহমেদ।

তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা করা প্রয়োজন। কারণ, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেই তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আইনের দৃষ্টিতে তিনি পাকিস্তানি নাগরিক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের অবৈধ রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই দেখেননি। দেখেননি তাদের দুঃখ, কষ্ট ও বীরত্বগাঁথা। এ কারণে জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করেই ছেড়ে দেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের।
তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাদের সঙ্গে শেখ মুজিব কখনোই সহজ হতে পারেননি। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদও তার রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি।
তিনি বলেন, সর্বহারা পার্টি নেতা সিরাজ সিকদারকে বিনা বিচারে হত্যা করে শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, কোথায় সেই সিরাজ সিকদার?।
তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকে বিনা বিচারে হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে দম্ভ করে জাতীয় সংসদকে কলংকিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পিতার মতো অন্যায়ভাবে এখন সেই সংসদ বিনাভোটের কথিত এমপি দিয়ে দখল করে রেখেছেন রং হেডেড শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, জনগণকে শেখ মুজিব বিশ্বাস করতে পারেননি। পিতার মতো জনগণের প্রতি শেখ হাসিনারও আস্থা নেই। তাই সংসদ কিংবা সরকার গড়তে তাদের জণগণের ভোট কিংবা সমর্থনের প্রয়োজন হয় না।
তারেক রহমান বলেন, জোর খাটিয়ে কিংবা রাজাকার আখ্যা দেয়ার ভয় দেখিয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে যতোই মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হোক, প্রকৃত সত্য হচ্ছে- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসটি শেখ মুজিব আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রথম বিজয় দিবসেই অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সর্বহারা পার্টি আধাবেলা হরতাল ডাকতে বাধ্য হয়। ৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও হরতাল ডাকে সর্বহারা পার্টি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন কিংবা ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান কোনো ঘটনাতেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতার লোভ দেখাননি। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট  ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান পরিণত হন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীকে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের অবৈধ তথ্যমন্ত্রী ৭৫ সময়কার জঙ্গি ইনুচক্র তখন ছিলো শেখ মুজিবের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জাসদের গণবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়। লিফলেটের শিরোনাম ছিল, ‘খুনি মুজিব খুন হয়েছে : অত্যাচারীর পতন অনিবার্য। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিজয়ীর বেশে শলাপরামর্শে অংশ নেন বর্তমান অবৈধ সরকারের অবৈধ তথ্যমন্ত্রী তৎকালীন জঙ্গি নেতা হাসানুল হক ইনু ও কর্ণেল তাহের। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যে ইনু চক্র ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলো কিংবা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছিলো ক্ষমতার লোভে সেই জঙ্গি ইনু এখন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক লাঠিয়াল প্রধান মুখপাত্র।
তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সঙ্গে ইনুদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে সেই সময় তাহের-ইনু বাহিনীর ভূমিকা কি ছিলো? খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররাফ অভ্যুত্থান করলে তাহের ইনুর ভূমিকা কার পক্ষে ছিলো, খন্দকার মোশতাক আহমেদ নাকি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ?
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের আরেক অবৈধ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দল ইউপিপি শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মুজিবের অপসারণে জনগণ উল্লসিত। তার মৃত্যু কারও মনে সামান্যতম সমবেদনা বা দুঃখ জাগায়নি, জাগাতে পারে না’।
তারেক রহমান বলেন, এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয় শেখ মুজিব হত্যার দায় তৎকালীন জঙ্গি নেতা ইনু কিংবা মেননরা এড়াতে পারেন না।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পিতার মতো শেখ হাসিনারও ভরসা এখন নিষ্ঠুর র‌্যাব। বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার শুধু অবৈধই নয়, কুইক রেন্টালের ভর্তুকির নামে শেখ হাসিনা জনগণের ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অথচ বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ।
তারেক বলেন, এই দুর্নীতিবাজ সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। এই অবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট আসাদুজ্জামান, যুক্তরাজ্য যুবদলেরর আহ্বায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নেওয়াজ, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, যুক্তরাজ্য জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন,  যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরফরাজ শরফু প্রমুখ।
সভায় জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের সামগ্রিক দিক তুলে ধরে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমীনের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়াও যুক্তরাজ্য জাসাসের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানেরর ওপর লেখা একটি গানও প্রদর্শিত হয়। এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী রিজিয়া পারভীন।

রায় নিয়ে মন্তব্য: পাক হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামির রায় নিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মীর নিসার আলী চৌধুরীর বিরুপ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযূক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় । পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের জনগনের অসন্তোষের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আহমেদ হুসেইন জায়োকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান।এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে আজ ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করা হয়।মিজানুর রহমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পাক হাই কমিশনারকে বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানো উচিত নয়।আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সংঘটিত হচ্ছে।বাংলাদেশ আশা করে, আগামী দিনে পাকিস্তান এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না।এ মর্মে একটি চিঠি আহমেদ হুসেইন জায়োর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতিতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ -টিআইবি

স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই উৎকোচ গ্রহণ করে থাকেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দালালদের কমিশনের সম্পর্ক আছে।
তবে টিআইবি বলছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে লেনদেন সব ক্ষেত্রে ঘটছে না। বেসরকারি খাতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, সেটিও সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জিডিপির পাঁচ শতাংশ ব্যয় হওয়ার কথা। বাংলাদেশে ব্যয় হচ্ছে দশমিক ৮৪ শতাংশ, বরাদ্দ দিন দিন কমছে। এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। সম্পদের স্বল্পতা থাকলেও অর্জন অনেক। স্বল্প সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে সেবার মান আরও বাড়ত।

>>রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্বাস্থ্য খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে​ টিআইবি। প্রতিবেদনে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি আরও বলে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক মানুষ সেবা নিতে বিদেশে চলে যাচ্ছেন। যদিও বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মান কোনো অংশেই কম নয়। কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বসবাসের উপযোগী আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার জন্য এবং ছুটিকালীন দায়িত্ব পালনে বিশেষ প্রণোদনা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
গবেষণায় যা পাওয়া গেল
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডহক চিকিৎসক নিয়োগে তিন থেকে পাঁচ লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ আছে। সবচেয়ে বেশি টাকার লেনদেন হয় ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলায় পদায়নের ক্ষেত্রে। এ খাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে লেনদেন হয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সুবিধাজনক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার জন্য আড়াই লাখ বা তার চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে থাকেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বিবেচনা করা হয় না। এ ছাড়া প্রকাশনাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস বা বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সন্তোষজনক কি না, তা-ও সব ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না।
গবেষক তাসলিমা আক্তার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ তথ্য পান। এ ছাড়া ২০১২ সালে টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০১২–এর তথ্য তিনি ব্যবহার করেছেন। ওই জরিপে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী মোট খানা ছিল ৩ হাজার ২০৮ এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২৭৬ জন।
তাসলিমা বলেন, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও যন্ত্রপাতি কেনা হয়, যন্ত্রপাতি মেরামতে অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও মেরামতকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া পথ্য সরবরাহে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যায়। ঠিকাদার বাছাইয়েও অনিয়মের আশ্রয় নিতে দেখা যায় প্রায়ই।
গবেষণা প্রতিবেদনে বিভিন্ন আইনের সীমাবদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যেমন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন প্রয়োগে দুর্বলতার অভিযোগ তোলা হয়।

‘অভ্যন্তরীন ত্রুটির কারণেই বিদ্যুৎ বিপর্যয়’

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি আংশিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলে নয়। অভ্যন্তরীন গ্রীডে ত্রুটির কারণে শনিবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে আরও দশদিন সময় লাগবে। আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের হাতে প্রাথমিক তথ্য এসেছে। আগেই এটা বলা যাবে না। এই প্রাথমিক তথ্য ধরেই আমাদের ভালভাবে তদন্ত করা উচিত। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চলে ত্রুটি বা পূর্বাঞ্চলে ত্রুটি, কিংবা কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় হতে পারে বলে আমরা অনেকেই ধারণা করেছিলাম। একটা বিষয় স্পষ্ট করে আমরা বলতে পারি, আমাদের পশ্চিমাঞ্চলের এসপিডিসি’র ত্রুটির কারণে এই বিভ্রাট ঘটেনা। অভ্যন্তরীণ কোন ত্রুটির কারণে এই বিঘœ ঘটেছে। আমরা ইতোমধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করেছি। বিভিন্ন পর্যায়ে কতগুলো ভাগে ভাগ করে সমস্ত তথ্য আমরা নিয়েছি। এখনও অনেকগুলো প্লান্টের রিপোর্ট নেওয়া বাকি আছে। সেই সব রিপোর্ট হাতে আসলে সেগুলো বিশ্লেষন করে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পারবো।

ফাঁসি বন্ধ করতে হবে -বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নিবিড় নজর রাখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কার্যকর করা হয় নি এমন সব মৃত্যুদ- স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। আজ ইইউ এমন আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মৃত্যুদন্ড বাতিল করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি শিথিল করতে হবে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ডের শাস্তি বহাল রাখেন। এরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ আহ্বান জানালো। এ খবর দিয়েছে কুয়েতি বার্তা সংস্থা কুনা। এতে বলা হয়, রোববার বাংলাদেশের বিশেষ আদালত জামায়াতে ইসলামীর আরেক সিনিয়র নেতা মীর কাসেম আলীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দিয়েছে। গত সপ্তাহে ওই আদালত দলের আমীর মতিউর রহমান নিজামীকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তারা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই রিপ্রেজেন্টেচিভ ফেদেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশে বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখছি। যেকোন অবস্থায় এবং যেকোন মামলায় আমরা শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী- ইউরোপীয় ইউনিয়ন আবারো জোর দিয়ে সে কথা বলছে। এর আগে গতকাল ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি প্রধান পিয়েরে ম্যাইউডো সংবাদ সম্মেলনে একই রকম অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি মৃত্যুদ- প্রশ্নে ইইউর সর্বজনীন অবস্থানের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বলেন, কেবল নিজামী কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর রায়ই নয়, বিশ্বের যেখানে যে পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের খবর তাদের কাছে আসে সেখানেই ইইউ এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেয়। ‘পাবলিক পারসেপশন’ বা জনমনে যে ধারণাই হোক ইইউর অবস্থান বিশ্বব্যাপী এক এবং অভিন্ন দাবি করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের যে বিচার চলছে এর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নয়। আমরা সব সময়, সব মামলায়, সব দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী।

দেশের সার্বভৌমত্ব ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে: খালেদা

আধিপত্যবাদী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সার্বভৌমত্ব ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভোটারবিহীন সরকারের নতজানু নীতির কারণেই আবহমানকালের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর বাধাহীন আগ্রাসন চলছে। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে' দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান খালেদা জিয়া।

সরকার জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে ‘গণতন্ত্রের পক্ষে’ লড়াকু নেতা-কর্মীদেরকে বিভৎস নির্মমতায় দমন করছে বলে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে নির্দয় ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পৈশাচিকভাবে পিষ্ট করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতাত্তোর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য মানুষের বাকশক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়।
৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আধিপত্যবাদী আগ্রাসন প্রতিরোধ করে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মূহুর্তে অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের এদেশীয় অনুচররা উদ্দেশ্য সাধনের পথে কাঁটা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে বাণীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দিন জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় বুকে নিয়ে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলো। তাই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত।

আগামীকাল শুরু জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। ২রা নভেম্বর থেকে এ পরীক্ষা  শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াতে ইসলামির হরতালের কারনে তা নেয়া সম্ভব হয়নি। সকাল ৯টায় জেএসসি’র বাংলা ১ম পত্র এবং জেডিসি’র কুরআন মজিদ ও তাজবিদ। হরতালের কারনে প্রথম দফায় ২ ও ৩রা নভেম্বরের পরীক্ষা দু’টো ৭ ও ১৪ই নভেম্বর তারিখে পরিবর্তন করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ ও ৬ই নভেম্বরে ঘোষিত পরীক্ষা দু’টি আগামী ১৯ ও ২০শে নভেম্বর পরিবর্তন করা হয়। ৩রা নভেম্বর নির্ধারিত জেএসসি’র বাংলা ২য় পত্র এবং জেএসসি’র বাংলা ২য় পত্র আগামী ১৪ই নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। ৫ই নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জেএসসি’র ইংরেজি ১ম পত্র আগামী ১৯ই নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টা থেকে এবং ৬ই নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইংরেজি ২য় পত্র আগামী ২০শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে। ৫ই নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জেডিসি’র আরবি ১ম পত্র আগামী ১৯শে নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টা থেকে এবং ৬ই নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আরবি ২য় পত্র আগামী ২০শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাকী পরীক্ষা পরীক্ষার সূচি অপরিবর্ত থাকবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার প্রায় ২১ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করছে। তাছাড়া আগামী ২৩শে নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা। সেখানেও আছে প্রায় ৩০ লাখের মত শিক্ষার্থী।  ডিসেম্বরে তাদের সাথে যুক্ত হবে লক্ষ লক্ষ বার্ষিক চূড়ান্ত পরীক্ষার্থীর দল।

শেখ মুজিবের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত: তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রকৃত ইতিহাস বলার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ মামলা হওয়া উচিত শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। কারণ, তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম হলে এ সভা হয়। তারেক রহমানের দাবি, তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কিংবা প্রথম রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টও ছিলেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টার বক্তৃতায় তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান জোর করে ক্ষমতা দখল করেননি এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার সঙ্গে তাঁর বাবার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। নিজের বক্তব্যের পক্ষে নানা তথ্য এবং যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলহত্যার সঙ্গে জিয়া জড়িত বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জবাবে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই জেলহত্যা দিবস পালন করে ৩ নভেম্বর। ওই হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সেনানিবাসের বাসায় গৃহবন্দী করেছিলেন। তাঁর দাবি, জিয়া ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেননি। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক এটি জারি করেছিলেন।
বর্তমান সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক বলেন, এই সরকার দাবি করছে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। অথচ গত ১ নভেম্বর সারা দেশে বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াট এবং আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ৫০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ‘জঙ্গি ইনু’ আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই ইনু বাহিনী ১৯৭৫-এ শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পটভূমি তৈরি করেছিল এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। সে কাজে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’
তারেক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগস্ট থেকে নভেম্বর—এই কয়েকটি মাস ছিল ঘটনাবহুল এবং বিপৎসংকুল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা, সেনাবাহিনীতে চলে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান, খালেদ মোশাররফসহ সেনা অফিসার হত্যা, তাহের-ইনু চক্রের ষড়যন্ত্র এবং সিপাহী-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিদ্বেষের পরিসমাপ্তি যেভাবে by হামিদ মীর

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না তাদের মানচিত্র পাল্টে যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের মানচিত্র পাল্টে গেছে। এই রাষ্ট্রটি ভেঙে দুই টুকরা হয়ে গেছে। কিন্তু পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানি শাসকরা পাকিস্তান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানকে নিছক রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ‘বিশ্বাসঘাতক’ অভিহিত করে পাকিস্তান ভাঙার ক্ষেত্র তৈরি করে। তাদের দুজনের ‘অপরাধ’ হলো পাকিস্তানের প্রথম সেনাশাসন মেনে নিতে পারেননি। তাদের ‘অপরাধ’ এটাও ছিল যে, উভয়েই সেনাশাসক আইয়ুব খানের বিপরীতে ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন করেছেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ হলো তারা ছিলেন বাঙালি।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করতে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করেন। তার এই উদ্যোগকে সমর্থন দেয় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ। জেনারেল আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করলে সোহরাওয়ার্দীকে ‘দেশের শত্রু’ অভিহিত করে করাচির কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করে রাখেন। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিবুর রহমান তার দল আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচিত হন। শেখ মুজিব ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন দেন। ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা দেখুন, ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেনারেল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থনকারীদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ছিলেন ওলী খান, আতাউল্লাহ মিঙ্গল, আকবর বাগটি, নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান ও মাওলানা মওদুদী প্রমুখ।
কিন্তু ১৯৭০ সালের আগে সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ এবং মাওলানা মওদুদীর জামায়াতে ইসলামী সামনে এসে যায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। জেনারেল ইয়াহইয়া খান আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে সেনা অপারেশন চালান। এই অপারেশন ভিনদেশীদের প্রবেশে সুযোগ করে দেয়। শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। সেই সময় জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গ দেয়। এক পর্যায়ে দেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশে আজও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
গত বছর জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা গোলাম আযমকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিছু দিন আগে দীর্ঘ অসুস্থতার পর গোলাম আযম ইন্তেকাল করেন। এর কয়েক দিন পরই জামায়াতের বর্তমান প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নেসার আলী খান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান। পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে চুপ। তবে কিছু কিছু পত্রিকার কলামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের কড়া সমালোচনা করা হয়। সমালোচক কলামিস্টদের কেউ আগুনে পানি ঢেলে মতিউর রহমান নিজামীকে বাঁচানোর রাস্তা বের করার চেষ্টা করেনি বরং নিজেদের বিষাক্ত কলম দ্বারা আগুনে তেল ঢেলে বিষয়টিকে আরো উস্কে দিচ্ছে যাতে আব্দুল কাদের মোল্লার পর মতিউর রহমান নিজামীও ঘৃণার আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যান। এরপর নিজামী সাহেবকেও ‘শহীদে পাকিস্তান’ অভিহিত করে কিছু কলাম লেখা যাবে। আর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর লড়াই চলতেই থাকবে।
দুঃখজনক বিষয় হলো, শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ক্ষমতা লাভের জন্য জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করেন। কিন্তু যখন গোলাম আযম সাহেবের ইন্তেকাল হলো তখন তার দল গোলাম আযমের জানাজায় পর্যন্ত শরিক হলো না। পরে যখন মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড হলো তখনও খালেদা জিয়া একদম চুপ থাকলেন। অথচ নিজামী ছিলেন খালেদার মন্ত্রিসভার সদস্য।
২০০২ সালে খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী; আর নিজামী ছিলেন তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাশাসক পারভেজ মুশাররফ বাংলাদেশে সফরে গেলে খালেদা জিয়া তাকে ঢাকার অদূরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নিয়ে যান। এটা ছিল ওই বাঙালিদের স্মরণে যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশনে মারা যান। ওই স্মৃতিসৌধের রেজিস্টার বুকে জেনারেল পারভেজ মুশাররফ স্পষ্ট লিখেন, ‘১৯৭১ সালে যে বাড়াবাড়ি হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। এবার পুরোনো তিক্ততা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’ খালেদা সরকার পারভেজ মুশাররফের এই বাক্যকে নিজেদের বড় সফলতা বলে দাবি করে। কারণ বাংলাদেশে বরাবরই এই দাবি উঠেছে, পাকিস্তান সরকারিভাবে ১৯৭১ সালের ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করুক। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবস্থান হলো, মুশাররফ ক্ষমা প্রার্থনা করেননি,  শুধু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটাও স্পষ্ট করেননি, ১৯৭১ সালে বাড়াবাড়িটা কে করেছে।
২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ এবং পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করে, ক্ষমতায় গেলে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করা হবে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং শেখ হাসিনা ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রী হন। পাঁচ বছরেও যুদ্ধাপরাধ মামলার কোনো আসামির সাজা না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের পেছনে শেখ হাসিনাবিরোধী লবি ছাড়াও এমন লোকজনও সম্পৃক্ত ছিলেন যারা জামায়াতে ইসলামীর নিষিদ্ধ চাচ্ছিলেন। তাদের এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করতে থাকে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডকে মানবাধিকার পরিপন্থি বলে অভিহিত করে। কিন্তু শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকার এসবে পাত্তা দেননি।  
শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এতে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তিক্ততা ভুলে সামনে অগ্রসর হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু দিন পর তিনি সেনা বিদ্রোহে নির্মমভাবে নিহত হন। জামায়াতে ইসলামীর ভুল হলো, দলটির নেতারা শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এতে পুরোনো ঘৃণা নতুন করে জন্ম নেয়। এই ঘৃণার অবসানের জন্য সবাইকে ইতিহাসের বাস্তবতা স্বীকার করে নিতে হবে।
এই বাস্তবতায় কোনো সন্দেহ নেই যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনী অনেক বাড়াবাড়ি করেছে। এর বর্ণনা কিছুটা পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর সাজ্জাদ হোসাইনের বই ‘শিকসতে আরজু’ এর মধ্যে। আবার আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল খাদেম হোসাইন রাজার বইয়ের কথাও অস্বীকার করতে পারবো না। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জেনারেল নিয়াজি আমাদেরকে বললেন, বাঙালিদের নির্বংশ করে দাও।’
আমার ব্যক্তিগত মত হলো, পুরোনো তিক্ততা নিরসনের জন্য পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের সেনা অপারেশনে বাড়াবাড়ির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এই ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা পাকিস্তান দুর্বল হবে না, বরং শক্তিশালী হবে। এই অঞ্চলের একটি মুসলিম দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে এবং আগামী দিনের ফাঁসি ও সাজাগুলো বন্ধ হবে। আমাদেরকে এটা বোঝা দরকার যে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ কেন সৃষ্টি হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড ও সাজার এই ধারাবাহিকতা কেন অব্যাহত আছে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই সংঘাত ও বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নতুন প্রজন্মের ভুল বোঝাবুঝি এবং বিদ্বেষের অবসান ঘটানোর জন্য প্রয়োজন ভুল স্বীকার করা। মুসলমান ভাইয়ের পরস্পরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা তো কঠিন কোনো কাজ নয়।

৬ নভেম্বর ২০১৪  বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের দৈনিক জং-এ প্রকাশিত। উর্দু থেকে অনুবাদ: জহির উদ্দিন বাবর
হামিদ মীর: পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক। প্রধান নির্বাহী, জিও টিভি।

সোহাগপুরের নাম প্রথম শুনেছেন কামারুজ্জামান

সোহাগপুরের যে অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে, সে সব অভিযোগ এবং মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা জানতে নতুন প্রজন্মকে আহবান জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। সাক্ষাতের সময় আইনজীবীদের মাধ্যমে কামারুজ্জামান একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে নতুন প্রজন্ম ও দেশবাসীকে সত্য অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, “এদেশে ইসলাম বিজয়ী হবেই, হবে।” “পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তিনি তা দেখে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করবেন” বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মুনির সাংবাদিকদের একথা বলেন। শিশির মুনির বলেন, “সাক্ষাতে কামারুজ্জামান তাকে বলেছেন- পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা তিনি দেখবেন। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তিনি রিভিউ আবেদন করবেন। এছাড়া রিভিউ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “কামারুজ্জামান বলেছেন- যে অভিযোগে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিবেন। আর রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’ আইনজীবী বলেন, “সোহাগপুরের নাম জীবনে প্রথম শুনেছেন বলেছেন জানিয়েছেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। আর এর সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন।” সাংবাদিকদের কাছে কামারুজ্জামানের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি শিশির মুনির আইনজীবীদের মতামতও জানান। তিনি বলেন, “রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি এবং পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে রায় কার্যকর করা হলে তা হবে আইন কর্তৃত্ববহির্ভূত। কারণ সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী রিভিউ তার সাংবিধানিক অধিকার।” শিশির মুনির বলেন, “কারাগারে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সুস্থ, স্বাভাবিক এবং অবিচল আছেন। রায় শুনে তিনি বিচলিত নন। আমরা মনে করি তিনি রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।” বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কারা কর্তৃপক্ষ চার আইনজীবীকে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। এরপর অ্যাডভোকেট শিশির মো. মুনির, মতিউর রহমান আকন্দ, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী ও মসিউল আলম প্রায় এক ঘণ্টা কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বুধবার সকালে কামারুজ্জামানের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ১০ সদস্য তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিন। গত সোমবার কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এরপর কামারুজ্জামানকে গত মঙ্গলবার দুপুরে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এখানে তিনি ফাঁসির আসামিদের কনডেম সেলে রয়েছেন।

‘আগে রিভিউ পরে মারসি পিটিশন’

কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির বলেছেন, “আপিলের রায়ের কপি হাতে পেলে রিভিউ করার আবেদন করা হবে। রিভিউ খারিজ হলে মারসি পিটিশন (রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা) করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে অ্যাডভোকেট শিশির বলেন, “তারা আইনের লোক হয়ে এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। কাদের মোল্লার আপিলের রায় ঘোষণার দুই মাস সাত দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেয়েছি। তারপর ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল।” “কামারুজ্জামানের বেলায় এতো তাড়াহুড়া করা হচ্ছে কেন।” সরকারের প্রতি প্রশ্ন তার। শিশির বলেন, “রিভিউ আবেদন একটি সাংবিধানিক অধিকার। কামারুজ্জামানকে এই অধিকার দিতে হবে।” কামারুজ্জামানের শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় আইনজীবীরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেত যান। তারা ১১টার দিকে সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে আসেন। আইনজীবীদের মধ্যে আরো ছিলেন- ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মশিউল আলম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তবে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনকে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

৭ নভেম্বর অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণ: তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এবং জাসদ তথা গনবাহিনীকে ১৯৭৫ সালে জনগণ অপশক্তি হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সেই সময় প্রথমে আওয়ামী বাকশালী অপশক্তিকে পরাস্ত করে গনবাহিনী।  আর ৭ নভেম্বর সেনা ও জনগণের মিলিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে জনগণ। তিনি বলেন, এখন আবার এইসব পরাজিত অপশক্তি ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে মহাজোটের নামে একজোট হয়েছে। তিনি সবাইকে এইসব অপশক্তির বিরুদ্ধে  সতর্ক থাকার আহবান জানান। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের চতুর্থ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার লন্ডনে দি অ্যাট্রিয়াম অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন কয়সর এম আহমেদ। তারেক রহমান বলেন, “শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা করা প্রয়োজন। কারণ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেই তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আইনের দৃষ্টিতে তিনি পাকিস্তানি নাগরিক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের অবৈধ রাষ্ট্রপতি।” তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, “শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, ২৫ মার্চও দেননি বরং তাজউদ্দিন আহমেদ তাকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার আহবান জানালে তিনি তাকে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। এসব তথ্য কি মিথ্যে?” তিনি বলেন, “শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই দেখেননি। দেখেননি তাদের দুঃখ, কষ্ট ও বীরত্বগাঁথা। এ কারণে পাকিস্তান থেকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে ফিরে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই শেখ মুজিব কার্যত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভুমিকায় অবতীর্ণ হন। লালঘোড়া দাবড়ানোর নামে নির্বিচার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা তিনিই শুরু করেন। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করেই ছেড়ে দেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের। মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভুমিকা রাখতে না পারার লজ্জা শেখ মুজিবের ছিল। মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন তাদের সঙ্গে শেখ মুজিব কখনোই সহজ হতে পারেননি। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদও তার রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি।” তারেক রহমান বলেন, “সর্বহারা পার্টি নেতা সিরাজ সিকদারকে বিনা বিচারে হত্যা করে শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, কোথায় সেই সিরাজ সিকদার ? বিরোধী দলের একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকে বিনাবিচারে হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে দম্ভ করে জাতীয় সংসদকে কলংকিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পিতার মতো অন্যায়ভাবে এখন সেই সংসদ বিনাভোটের কথিত এমপি দিয়ে দখল করে রেখেছেন শেখ হাসিনা। ” তিনি বলেন, “জনগণকে শেখ মুজিব বিশ্বাস করতে পারেননি। পিতার মতো জনগণের প্রতি শেখ হাসিনারও আস্থা নেই। তাই সংসদ কিংবা সরকার গড়তে তাদের জনগণের ভোট কিংবা সমর্থনের প্রয়োজন হয়না। তিনি বলেন, জোর খাটিয়ে কিংবা রাজাকার আখ্যা দেয়ার ভয় দেখিয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে যতই মিথ্যা ইতিহাস রচনা করা হোক, প্রকৃত সত্য হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসটি শেখ মুজিব আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রথম বিজয় দিবসেই অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সর্বহারা পার্টি আধাবেলা হরতাল ডাকতে বাধ্য হয়। ৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও হরতাল ডাকে সর্বহারা পার্র্টি।”   তারেক রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের মেধা ও বিচক্ষণতায় বাংলাদেশ অরাজকতা ও বিশৃংখলতা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাহের- ইনুদের ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাহের-ইনু চক্র চেয়েছিল জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে। ৭ নভেম্বর এই চক্রটি জনপ্রিয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের কাঁধে ভর করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু অসম সাহসী বিচক্ষণ ও দেশপ্রেমিক জিয়াউর রহমান ইনু-তাহের চক্রের পাতা ফাঁদে পা দেননি। নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হয়ে এরা এখন মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে চায়। ” তারেক রহমান বলেন, “এই চক্রটি এতদিন প্রচার করে আসছিল, ৭ নভেম্বর নাকি ক্যান্টমেন্টের বন্দীদশা থেকে তারা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিল। তবে জিয়াকে ঘিরে  ইনু তাদের ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান ২০১০ সালে ৭ নভেম্বর সংখ্যায় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হাসানুল হক ইনু‘র একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। সেখানে ইনু বলেন, ‘তাহের ও আমার মূল পরিকল্পনায় জিয়াকে গ্রেফতার করে আনার নির্দেশ ছিল। হাবিলদার আবদুল হাই মজুমদারের দায়িত্ব ছিল বন্দী জিয়াকে মুক্ত করা এবং তাকে ৩৩৬ নম্বর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় নিয়ে আসা। সেখানে তাহের ও আমি জিয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু আমাদের এ পরিকল্পনা সফল হয়নি’।” সভায় তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, একটি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সম্মান মর্যাদা নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড রক্ষার স্বার্থেই ইনুর এই বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়া প্রয়োজন। কোনো বৈধ ও আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ছাড়া একজন সামরিক কর্মকর্তাকে এভাবে কেউ গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারেন কি না? কোন ক্ষমতাবলে ইনু একজন সামরিক কর্মকর্তাকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে ঔদ্ধ্যত্য দেখিয়েছিলেন?  এতে কি প্রমাণিত হয় না যে ইনু-তাহের সেনাবাহীনিতে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছিলেন। অপরাধ কখনো তামাদি হয় না। এর জন্য অবশ্যই ইনুকে জবাবদিহি করতে হবে।” তারেক রহমান বলেন, “এই অপশক্তির মনে রাখা প্রয়োজন, জিয়াউর রহমানের মত এমন একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের ক্ষমতার জন্য কোনো ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিতে হয় না। ৭৫ ’র পরাজিত এই অপশক্তি এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে তাদের অপপ্রচারের টার্গেট বানিয়েছে বিএনপি এবং এর প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানকে।”   তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন কিংবা ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার স্বতঃষ্ফূর্ত অভ্যুত্থান কোনো ঘটনাতেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতার লোভ দেখাননি। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট  ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান পরিণত হন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীকে। ” সভায় আরো বক্তৃতা করেন, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, যুক্তরাজ্য যুবদলের আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নেওয়াজ, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, যুক্তরাজ্য জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন,  যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের যুগ্ম আহবায়ক শরফরাজ শরফুসহ অনেকে। সভায় জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের সামগ্রিক দিক তুলে ধরে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমীনের একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়াও যুক্তরাজ্য জাসাসের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানেরর ওপর লেখা একটি গানও প্রদর্শিত হয়। এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী রিজিয়া পারভীন।    তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অবৈধ সরকারের অবৈধ তথ্যমন্ত্রী সেই সময়কার ইনু চক্র তখন ছিল শেখ মুজিবের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জাসদের গণবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়। লিফলেটের শিরোনাম ছিল, ‘খুনি মুজিব খুন হয়েছে: অত্যাচারীর পতন অনিবার্য।’ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিজয়ীর বেশে শলাপরামর্শে অংশ নেন কর্নেল তাহের ও হাসানুল হক ইনু । দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যে ইনু চক্র ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল কিংবা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ইন্ধন যুগিয়েছিল। ক্ষমতার লোভে সেই জঙ্গি ইনু এখন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক লাঠিয়াল, প্রধান মুখপাত্র।”   তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সঙ্গে ইনুদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে সেই সময় তাহের-ইনু বাহিনীর ভুমিকা কি ছিল? খন্দকার মোশতাক সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররাফ অভ্যুত্থান করলে তাহের- ইনু‘র ভুমিকা কার পক্ষে ছিল, খন্দকার মোশতাক আহমেদ নাকি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ?”   ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উদ্বৃতি দেন তারেক রহমান। রিপোর্টে বলা হয়  ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর হাসানুল হক ইনু শাহবাগস্থ বেতার ভবনে গিয়ে অভ্যুত্থানের নায়কদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রতি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি একা যাননি, গিয়েছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের সঙ্গে। তাহের তখন জাসদের গণবাহিনীর অধিনায়ক, আর ইনু ছিলেন গণবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার’।” তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অবৈধ সরকারের আরেক অবৈধ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের দল ইউপিপি শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলে,..‘মুজিবের অপসারণে জনগণ উল্লসিত। তার মৃত্যু কারও মনে সামান্যতম সমবেদনা বা দুঃখ জাগায়নি, জাগাতে পারে না’। এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয় শেখ মুজিব হত্যার দায় ইনু কিংবা মেননরা এড়াতে পারেন না।’ রক্ষীবাহিনীকে খুনি ও বর্বরবাহিনী উল্লেখ করে সাংবাদিক ও গবেষক আহমেদ মুসা লিখিত বই ‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ' বই থেকে একটি ঘটনার উদাহরণ দেন তারেক রহমান। বইটিতে রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের শিকার বাজিতপুরের ইকুরটিয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আব্দুল আলীর অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরেন। আব্দুল আলী বলেন, ‘....ওইখানে আমাকে (আব্দুল আলী) ও আমার ছেলে রশিদকে হাত-পা বেঁধে তারা খুব মারল। রশিদকে আমার চোখের সামনে গুলি করল। ঢলে পড়ল বাপ আমার। একটা কসাই আমার হাতে একটা কুঠার দিয়ে বলল, তোর নিজের হাতে ছেলের গলা কেটে দে, ফুটবল খেলব তার মাথা দিয়ে। আমার মুখে রা‘ নেই। না দিলে বলল তারা, তোরও রেহাই নেই। কিন্তু আমি কি তা পারি? আমি যে বাপ। একটানা দেড় ঘণ্টা মারার পর আমার বুকে ও পিঠে বন্দুক ধরল। শেষে নিজের হাতে কেটে দিলাম ছেলের মাথা। আল্লাহ কি সহ্য করবে?’। তারেক রহমান বলেন , “পিতার মতো শেখ হাসিনারও ভরসা এখন নিষ্ঠুর র্যাব।”     তারেক রহমান বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার শুধু  অবৈধই নয়, কুইক রেন্টালের ভর্তুকির নামে শেখ হাসিনা জনগণের ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অথচ বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ। এই দুর্নীতিবাজ সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকীর সম্মুখীন।” এই অবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান তিনি।   সভায় অরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি‘র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এম এ মালেক, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, গাজীপুর জেলা বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী  স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মল্লিক প্রমুখ।   ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এবং ৭ নভেম্বরের পুর্বাপর ঘটনার ব্যাপারে কিছু সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,  “এইসব ঘটনাগুলো তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে, যাতে ইতিহাস বিকৃত করে কেউ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে।”   এ বিষয়ে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন তারেক রহমান।  ১. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার পর বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন। গঠন করেন মন্ত্রিসভা। শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার প্রায় সকলেই মোশতাকের মন্ত্রিসভার সভায় শপথ নেন। খন্দকার মোশতাক ছিলেন শেখ মুজিবের একমাত্র আদর্শ বাকশালের ৪ নং সদস্য। ২. খন্দকার মোশতাক সারাদেশে সামরিক আইন জারি করেন। ওই সময় সেনাপ্রধান ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবং সেসময়কার জেনারেল শফিউল্লাহ। ৩. জিয়াউর রহমান সেই সময় ছিলেন সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ। ৪. শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পরে মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে বিজয়ীর বেশে গিয়েছিল তাহের-ইনু বাহিনী এবং তৎকালীন মুজিব বিরোধী নেতারা। ৫. শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের   দশ দিন পর, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট পর্যন্ত জেনারেল শফিউল্লাহ ছিলেন সেনাপ্রধান। ৬. রাষ্ট্রদূত হিসাবে সরকারি চাকরি কনফার্ম করার পর সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েন জেনারেল শফিউল্লাহ। এরপর যথা নিয়মে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ থেকে প্রমোশন পেয়ে ২৫ আগস্ট সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান। ৭. তবে জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হলেও সে সময় তিনবাহিনী প্রধানের ওপর নজীরবিহীনভাবে প্রথমবারের মতো চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ নামে একটি পদ সৃষ্টি করেন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক। সেই পদে তৎকালীন বিডিআর চিফ মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। একইসঙ্গে জেনারেল ওসমানীকে নিয়োগ করা হয় রাষ্ট্রস্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের ডিফেন্স এডভাইজর হিসেবে।        ৮. সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান রক্ষীবাহিনী‘র প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। ৯. ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গৃহবন্দী করেন। ১০. জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার পর প্রশাসনের ওপর নিজের নেতৃত্ব ও কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ৩  নভেম্বর প্রেসিডেন্ট মুশতাকের সঙ্গে নানা বিষয়ে দেন দরবার শুরু করেন। গৃহবন্দী জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রও নেয়া হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ মেজর জেনারেল হিসেবে নিজেই নিজের প্রমোশন নেন এবং নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। ১১. ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলের মধ্যে সংঘটিত হয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড। মুশতাক এবং আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মোশাররফের ভাই ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সম্মতিতে এবং জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় ৩  নভেম্বর সন্ধ্যায় ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সঙ্গে জড়িতরা নিরাপদে দেশত্যাগ করেন। ১২. ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন খোন্দকার মোশতাক। এরপর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সম্মতিতে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন ৬ নভেম্বর।   ১৩. ১৫ আগস্ট থেকে মোশতাক-শফিউল্লার জারি করা সামরিক আইন বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি আবু সায়েম একাধারে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকেরও দায়িত্ব পালন করেন। ১৪. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি। শেখ মুজিব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এর দুই দিন পর ১২ জানুয়ারি আবু সায়েমকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৫. ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে পাল্টা অভ্যুত্থানে নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। ১৬. ৭ নভেম্বর সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব। শহীদ জিয়া বন্দীদশা থেকে মুক্ত হন। এরপর তিনি পুনরায় সেনাপ্রধান হিসাবে পুনর্বহাল হন।   ১৭. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি সায়েম। ১৮. এ সময়কালে জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাপ্রধান এবং উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। ১৯. ১৯৭৭ সালের ২০ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি আবু সায়েম। ৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান। দেশে সামরিক আইন বহাল থাকায় একইসঙ্গে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৭. ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেনারেল এম এ জি ওসমানীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হবারও গৌরব অর্জন করেন শহীদ জিয়া। ১৮. ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২৬০টি এবং আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে মোট ২৯টি দল অংশ নেয়। ১৯. ১৯৭৮ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।   ২০. এই কর্মসূচির উপর জনগণের আস্থা আছে কি না সেটি যাচাইয়ের জন্য ১৯৭৮ সালের ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২১. জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারি করেননি। ১৫ আগস্ট সামরিক আইন জারি করেন খোন্দকার মোশতাক। বরং জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন। ২২. জিয়াউর রহমান ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেননি। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা, ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর এই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

রিপাবলিকানদের জয়জয়কার বাংলাদেশ ককাসের সবাই জয়ী

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল রিপাবলিকানদের জয়জয়কার। ৪ঠা নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ ককাসের সকল সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ইমিগ্রেশন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভূমিকায় তার জনপ্রিয়তায় যে ধস নামে তারই প্রতিফলন এই নির্বাচনের ফল। এর মধ্য দিয়ে আট বছর পর সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটরা। আগেই রিপাবলিকানরা  কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এবার ডেমোক্র্যাটরা হারলো সিনেটেও। কংগ্রেসের উভয় হাউজই এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ওবামা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। গত ৪ঠা নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটে রিপাবলিকানরা আসন পেয়েছেন ৫২টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ৪৫টি আসন। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ২৩৫টি। ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ১৬১টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারি দলের ভরাডুবি কোন বিষয় নয়। গত ৩৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৩৫টি নির্বাচনেই ক্ষমতাসীনদের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। এর আগেও প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের আমলে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায় রিপাবলিকানরা। সেই সময় সমঝোতা করেই অনেক বিল পাস করা হয়েছে। দেখার বিষয় হলো, এবার সমঝোতা হবে কিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা উভয় দলকেই করতে হবে। তা না হলে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। উভয় আসনে রিপাবলিকানরা যদি সমঝোতা না করে বিল পাস করেন এবং সেই বিলে প্রেসিডেন্ট সই না করেন সেক্ষেত্রে অচলাবস্থা নিশ্চিত। এ জন্যই উভয় দলের সমঝোতা দরকার। উভয় হাউজে রিপাবলিকানদের জয়ের ফলে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লষকদের মতে, এবারের বিস্ময়কর ফল হলো ডেমোক্র্যাটদের আসন আরাকানসাস, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, সাউথ ড্যাকোটা, মন্টানা, কলারাডো ও নর্থ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের জয়। ওদিকে কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলিসহ সবাই পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন ৯০.১% ভোট পেয়ে। কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডিস্ট্রিক্ট-৬ থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৪ বছর বয়সী কংগ্রেসম্যান চার্লস র‌্যাঙ্গেল আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট- ১৩ থেকে ৮৭.২% ভোট পেয়ে। এ আসনে তিনি ১৯৭১ সাল থেকেই নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ডিস্ট্রিক্ট-২ থেকে রিপাবলিকান পার্টির পিটার কিং জয়লাভ করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ৯৬.৪% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান গ্যাগরি মিক্স। নিদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ ৮৮.৪% ভোট পেয়ে ডিস্ট্রিক্ট- ৭ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম কংগ্রেসম্যান হাকিম জাফরি ৯৬.৯% ভোট পেয়ে আবারও জয়ী হয়েছেন। ডিস্ট্রিক্ট-৯ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান ইভেট ডি ক্লার্ক। ডিস্ট্রিক্ট-১০ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন জেরাল্ড। ক্যারলিন ডে ম্যালনি নির্বাচিত হয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট-১২ থেকে। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ২টার তথ্য অনুযায়ী স্টেট গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২৭টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ১৪টি আসনে জয়লাভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ১০৯টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন প্রার্থীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের বেশির ভাগই ডেমোক্র্যাট। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ তথা ইউএস সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৬টির নির্বাচন হলো। এর ৩৩টি হচ্ছে নিয়মিত এবং ৩টিতে বিশেষ নির্বাচন। ২০১২ সালে নির্বাচনের পর ইউএস সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা জিতেছিল ৫৩ আসনে। অপরদিকে রিপাবলিকানরা পেয়েছিলেন ৪৫ আসন। ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছিলেন। এবার ঘটলো ঠিক তার উল্টো। রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছেন ৫২ আসনে। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন ৪৫টিতে। উল্লেখ্য, ইউএস সিনেটের মেয়াদ ৬ বছর। একই সঙ্গে স্টেট গভর্নরের নির্বাচন হয় ৩৭টি স্টেটে।

সমুদ্রতীরে আটকা পড়ে ৩৬ তিমির মৃত্যু

নিউজিল্যান্ডের একটি সমুদ্র সৈকত থেকে ৩৬টি মৃত ও ২১টি জীবিত তিমি উদ্ধার করা হয়েছে। সৈকতে আটকে পড়ে পাইলট প্রজাতির ৩৬টি তিমির মৃত্যু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। গতকাল প্লেনটি উপসাগরের ওহিওয়া সমুদ্র বন্দরের তীরে এসে আটকে পড়ে তিমিগুলো। স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় মাওরি সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা উদ্ধার তৎপরতায় নেমে পড়েন। ব্যাপক আকারে চলে এ উদ্ধারকাজ। মৃত অবস্থায় ২৫টি তিমি উদ্ধার করা হলেও, মৃতপ্রায় বাকি ১১টি তিমিকে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর ওষুধ প্রয়োগে বাধ্য হন বিশেষজ্ঞরা। তবে ২১টি পাইলট তিমিকে সমুদ্রে ছেড়ে দিতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। নিউজিল্যান্ডে বিপুল সংখ্যক পাইলট তিমির তীরে আটকে মারা যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। কিন্তু, একসঙ্গে এতো তিমির তীরে আসার ব্যাখ্যা এখনও জানা নেই গবেষকদের।

কিশোরগঞ্জে সাজ সাজ রব

আগামী ১২ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জ আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ সফর করেন। দীর্ঘ আট বছর পর সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তিনি আবার কিশোরগঞ্জ সফরে আসছেন। তার এই আগমন নিয়ে গোটা জেলায় সাজ সাজ রব। ওই দিন বিকালে কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করবেন বেগম জিয়া। অপরদিকে বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে ৫৬ কিলোমিটারের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পথে পথে নির্মাণ করা হচ্ছে ছয় শতাধিক তোরণ। কেবল সার্কিট হাউজ থেকে জনসভাস্থল গুরুদয়াল কলেজ মাঠ পর্যন্ত রাস্তাতেই শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কিশোরগঞ্জ সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২২শে অক্টোবর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুকের উপস্থিতিতে জেলা বিএনপি প্রস্তুতি সভা করে। পরে ২০ দলীয় জোটের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ড. এম ওসমান ফারুককে সমন্বয়কারী করে জনসভা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরীফুল আলমকে আহ্বায়ক এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. রমজান আলীকে সদস্যসচিব করা হয়। জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মো. শরীফুল আলম জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন। জনসভা সংশ্লিষ্ট ৯টি উপকমিটিও গঠন করা হয় ওই বৈঠকে। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলার নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরীফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান ও নিজাম উদ্দিন খান নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অসীম সরকার বাঁধনের নেতৃত্বে ৬টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মো. শরীফুল আলম জানান, জনসভায় ৭ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। সে লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ আট বছর পর দলের প্রধান সফর করছেন। তাই নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। জনসভা উপলক্ষে শহরের বড়বাজার এলাকার ক্যাসেল সালাম হোটেলের দ্বিতীয় তলায় বিশেষ কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। গুরুদয়াল কলেজ মাঠের পূর্বদিকের ওয়াসীমুদ্দিন ছাত্রাবাস সংলগ্ন স্থানে বানানো হচ্ছে বিশাল জনসভা মঞ্চ। জনসভার জন্য এরই মধ্যে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জনসভার কাজে অন্তত ২০০ মাইক ব্যবহার করা হবে। শরীফুল আলম বলেন, ১২ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ৭ই অক্টোবর বেগম জিয়া সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ সফর করেন। তখন তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ আট বছর পর তিনি আবার সফর করছেন এই জেলা। এদিকে জেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না। তার অবর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শরীফুল আলম।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, বিগত আন্দোলনের সময়ে জেলার কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে যুবদল নেতা হাসান আলী নিহত হন। দলের ১২০০ নেতাকর্মীকে আসামি করে বিভিন্ন থানায় প্রায় ৭০টি মামলা করা হয়। এসব মামলার মধ্যে দ্রুত বিচার আইনের দু’টি মামলায় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের তিন বছর করে কারাদণ্ড ছাড়াও আরও ২৮ নেতাকর্মীর প্রত্যেকের ৩ বছর কারাদণ্ড হয়। তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে দু’টি মামলাতেই ৬ মাসের জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সোহেল। এছাড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরীফুল আলমসহ ৪৫ জন নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে কারারুদ্ধ হয়েছেন। জেল, মামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীরা তাই খালেদা জিয়ার সফরের খবরে উজ্জীবিত। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক বলেন, আগামী ১২ই নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনসভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের ঢল নামবে। স্মরণকালের বৃহত্তম ওই জনসভার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পাবে।

আমার কক্ষে তখন অন্যরকম উষ্ণতা

আমার গর্ভে কার্লো জুনিয়রের জন্ম হলো! আমার জীবনের সবচেয়ে বড়, মিষ্টি ও বর্ণনাতীত আনন্দ ছিল সেই অভিজ্ঞতা। তাকে প্রথম কোলে নিয়ে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। ভয় পাচ্ছিলাম-  এই বুঝি আমার অসাধারণ স্বপ্নটি ভেঙে যাবে। আমি গোটা বিশ্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইলাম। হাসপাতালে আমার কক্ষে তখন যেন অন্যরকম উষ্ণতা। এসব কথা লিখেছেন হলিউডের কিংবদন্তি নায়িকা, মডেল সোফিয়া লরেন। তার লেখা ‘ইয়েসটারডে, টুডে, টুমরো’ বইয়ে উঠে এসেছে জীবনের বিভিন্ন সময়ের মিষ্টি-তিক্ত অভিজ্ঞতা। এতে তিনি লিখেছেন, আমরা হাসপাতালে গেলাম। এমন একজন ডাক্তারকে পেলাম যার কিনা একটি ককটেল পার্টিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বের হওয়ার আগে তিনি আমাকে শক্তিশালী ঘুমের ওষুধ দিলেন। তিনি বললেন, এটা কেবলমাত্র ক্ষণস্থায়ী বেদনা। এখন ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কিন্তু বেদনা যেন ক্রমেই বাড়ছিল। আমি যেন খুব কঠোর পরিশ্রম করছিলাম। আমার চেহারা লেবুর মতো হলুদ হয়ে গিয়েছিল। এ সময় আমার মা এলেন। তিনি এসেই ডাক্তারকে ধরলেন। চিৎকার করে বললেন, তুমি তার চেহারা দেখছো না? তার গর্ভপাত হচ্ছে! কিন্তু কিছুই করার নেই তখন! সে ডাক্তার ককটেল পার্টির জন্য আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে পারছিলেন না। সকাল চারটায় আমার যন্ত্রণা হঠাৎ করে থেমে যায়! আমি বুঝতে পারলাম যে সব শেষ! ডাক্তার ডাকা হলো, কিন্তু আসতে তার ২ ঘণ্টা লাগলো। আসার পর ইতালীয় ভাষায় তিনি বললেন, জনাবা, নিঃসন্দেহে আপনার বেশ ভাল কোমর আছে। আপনি সুন্দরী মহিলাও। কিন্তু আপনার কখনওই সন্তান হবে না! তার এ কঠোর শব্দগুলো আমার সব আশা চূর্ণবিচর্ণ করে দিল। নিজেকে আমার শক্তিহীনা, অনুর্বর ও অক্ষম মনে হচ্ছিল। এরপর আমি কার্লো আসার পরপর তাকে বললাম, আমি এখন সেটে যেতে পারবো এবং ছবির কাজ শেষ করতে পারবো। আমি এখনও কতটা শক্ত, সেটাই যেন আমি বোঝাচ্ছিলাম তাকে। তার হাসিমুখ মুহূর্তেই বিকৃত হয়ে গেল। তাকে পুরোপুরি অসহায় দেখাচ্ছিল। ঠিক সে সময় আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম। এর পরের কয়েক মাস, আমার আত্মার প্রত্যেক কোণায় যেন ব্যর্থতা ছড়িয়ে পড়ছিল। কার্লোর মতো ইসপাতসম ব্যবসায়ী পর্যন্ত ভেঙে পড়লো। সে কাজ করতে, কথা বলতে এমনকি হাসতে পর্যন্ত পারছিল না। সৌভাগ্যবশত ভাগ্য আমাদের এক অচিন্ত্যনীয় আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যায়। ইতালিয়ান এক চলচ্চিত্র পরিচালকের স্ত্রীও আমার মতো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত একজন বিশেষজ্ঞের খোঁজ পেয়েছিলেন। সে বিশেষজ্ঞ তাকে সাহায্য করেছিলেন। তার নাম হুবার্ট দ্য ওয়াত্তেভিলে। তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা হাসপাতালের গাইনোকলজি বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ক্ষীণ ও দীর্ঘ ওয়াত্তেভিলের বয়স ছিল ৬০। আমি যেন আশাহত হলাম। আমি বাবার বয়সী একজনকে আশা করেছিলাম। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তার নিজেরই কোন সন্তান নেই। তিনি কাজের জন্য নিজের পিতৃত্বের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েছিলেন। তাই তার সাহায্যে যে সব সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে, সেটার কৃতিত্ব অনেকটা যেন তারই। আমার ঘটনা শোনার পর তিনি আমাকে বললেন, এখানে খারাপ কিছু ঘটেনি। আপনি সাধারণ মহিলা। এরপরের বার আপনি গর্ভবতী হলে, আমরা আপনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবো। ১৯৬৮ সালে যখন আমি তৃতীয়বারের মতো গর্ভবতী হলাম, আমি জেনেভায় চলে গেলাম। সে ডাক্তারের অফিসের পাশেই আমি একটি হোটেলে উঠলাম। আমি তার হাতের কোন জাদুর আশায় ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করলাম। তিনি বললেন, আপনার শরীর থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ইস্ট্রোজেন নামের হরমোন বের হচ্ছে না। জরায়ুর সঙ্গে ডিম্বাণুর সংযোগ ঘটাতে বাধা দিচ্ছিল এটি। এরপর ইস্ট্রোজেন ইনজেকশন দিয়েই এটি সহজে সমাধান করা গেল। এর মধ্যে হোটেল ইন্টারন্যাশনালের ১৮ তলায় আমার অনেক মাস একাকী গেল। নিজেকে বিক্ষিপ্ত রাখার জন্য ছোটবেলায় নেপলস থাকতে শেখা রান্নাপ্রণালী আবারও কাজে লাগাতে লাগলাম। কয়েক বছর পর রান্নার বই হিসেবে সেটা বাজারেও ছেড়েছিলাম। অবশেষে সেদিন এলো। তার আগের রাত আমার এক ফোঁটা ঘুমও হয়নি। সত্যি বলতে কি, আমি আসলে চাইনি, আমার গর্ভ আবারও নষ্ট হোক। আমি খুব ভয়ও পাচ্ছিলাম। আমি এ শিশুকে কারও সঙ্গে ভাগ করতে রাজি ছিলাম না। এর কয়েক ঘণ্টা পর, কার্লো জুনিয়রের জন্ম হলো! আমার জীবনের সবচেয়ে বড়, মিষ্টি ও বর্ণনাতীত আনন্দ ছিল সে অভিজ্ঞতা। আমি যখন তাকে কোলে নিলাম, আমি যেন আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, এই বুঝি আমার অসাধারণ স্বপ্নটি ভেঙে যাবে। আমি গোটা বিশ্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইলাম। হাসপাতালে আমার কক্ষে তখন যেন অন্যরকম উষ্ণতা। আমি ও কার্লো জুনিয়র একা। যতই দিন গড়াচ্ছিল, আমি ভয় পাচ্ছিলাম, আমাকে এ রুম ছাড়তে হবে। ফলে আমার ছোট্ট বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগতে পারে। বাড়ি যাওয়ার কোন ইচ্ছাই যেন ছিল না আমার। আমি হাসপাতালের কক্ষেই রয়ে গেলাম। আমি যেন তখন সমস্ত বিপদ থেকে সুরক্ষিত। কালকের কথা ভাবতেই ইচ্ছে করছিল না। কিভাবে যে ৫০ দিন চলে গেল, টেরই পাই নি। আমার ডাক্তার এসে আমাকে জানালো, সোফিয়া, আপনি এখানে চিরকাল থাকতে পারেন না! আপনাদের দু’জনের জন্য বাইরে জীবন অপেক্ষা করছে। আমি তার দিকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। অবশেষে ৯ মাস ধরে নড়াচড়াহীন ও ২ মাস ধরে হোটেল জীবনের শেষে আমি বাস্তবতার মুখোমুখি হতে রাজি হলাম। এর চার বছর পর, ১৯৭২ সালে আমি চতুর্থবারের মতো গর্ভবতী হলাম। তখন আমি ‘ম্যান অফ লা মাঞ্চা’র শুটিং করছিলাম। আমার সহ-অভিনেতা ছিলেন পিটার ও’ টুল। এবার এ ছবির ড্রেসমেকার আমাকে ইস্ট্রোজেন ইনজেকশন দিল, যেটা আমার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস পর্যন্ত আমি কাজ থামাইনি এবার। এরপর আবার আমি বিমানে করে জেনেভা গেলাম। এবারও আমি সে শান্তিময় কয়েক মাস কাটালাম। আরেকটি ভালবাসার নিদর্শনের আগমনের অপেক্ষায় কাটতে লাগলো আমার সময়। ১৯৭৩ সালের ৬ই জানুয়ারি এদোয়ার্দো জন্ম নিল। আমার প্রথম সন্তানের পর আমি ভেবেছিলাম, জীবন এর চেয়ে ভাল হতেই পারে না। কিন্তু এদো এসে আমার জীবনের সুখ যেন দ্বিগুণ করে দিলো। আমি উপলব্ধি করলাম, মাতৃত্বের প্রগাঢ় রহস্যের একটি হচ্ছে এটিই।

বাংলাদেশী মুসলিমদের পুশব্যাকের আহ্বান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশী মুসলিমদের পুশব্যাক করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া। এসব মুসলিমকে তিনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করারও দাবি জানান। গতকাল ভিএইচপি’র আন্তর্জাতিক ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেন, ভারতে অনুপ্রবেশ বন্ধ হওয়া উচিত। তার দাবি, অনুপ্রবেশের ফলে ভারতীয়দের নিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। তোগাড়িয়া বলেন, অনুপ্রবেশের ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দুদের সমপর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দুদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেয়া উচিত বলে তার মত। তার দাবি, নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারত যাওয়া হিন্দুর সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। তিনি আরও বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে না। একই সঙ্গে আসাম ও ঝাড়খণ্ড অনুপ্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে।

৩৬৮ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে

খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিনে দুর্দান্ত বোলিং সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ৫ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে ৩৬৮ রানে। প্রথম ইনিংসে মুশফিক বাহিনী তুলে ৪৩৩ রান। ফলে টাইগাররা এগিয়ে রয়েছে ৬৫ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন সাবিক আল হাসান। দিনের শুরুতেই ১৫৮ রান করা হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজ ঘরে ফেরান দেশ সেরা অলরাউন্ডার। পরে ওয়ালারকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের ১৩তম পঞ্চম উইকেট তুলে নেন সাকিব। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তবে মাসাকাদজার পর জিম্বাবুয়ের পক্ষে সেঞ্চুরি তুলে নেন রেগিস চাকাভা। ১৩ চারে ১০১ রান করেন তিনি।

কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতে কারাগারে আইনজীবীরা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেছেন তার আইনজীবীরা। তারা হলেন, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যরিস্টার নাজিব মোমেন, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট মশিউল আলম। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে আসেন। এসময় কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মনির জানান, রিভিউ’র বিষয়ে কথা বলতে আমরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তার সঙ্গে দেখা করতে বুধবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে দেখা করার অনুমতি দেন সিনিয়র জেল সুপার। এর আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সৌদি আরবে প্রবাসীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক

সৌদি আরবে অবস্থানরত ১৫ বছরের বেশি বয়স এমন সব অভিবাসীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে সব অভিবাসী তা করাবেন না তারা পাসপোর্ট বিষয়ক কোন সেবাই পাবেন না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকলে কাজ পেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। জেনারেল ডাইরেক্টরেট অব পাসপোর্টস এ বিষয়টি অবশ্যই পালনীয় বলে ঘোষণা করেছে। এ নির্দেশ নারী-পুরুষ সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে অবস্থান করছেন কয়েক লাখ বাংলাদেশী। কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অধীনে তারাও পড়েন। ডাইরেক্টরেটের মুখপাত্র আহমেদ আল লাহিদান এ কথা বলেছেন দ্য সৌদি প্রেস এজেন্সিকে। তিনি বলেছেন- বহির্গমন, ভিসা রি-এন্ট্রি, পেশা পরিবর্তন ও পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন করার সময় শুরু হবে ২৩শে নভেম্বর থেকে। এ জন্য সব অভিবাসী নারীকে অবশ্যই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তার তথ্য এই কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত করাতে হবে। আহমেদ আল লাহিদান বলেন, ২১শে জানুয়ারি থেকে আকামা (আবাসিক অনুমোদন) নবায়নের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট। ফলে এই তারিখের পর কেউ পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোন সেবা নিতে গেলে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট করানো আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হবে। যার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেই তিনি পাসপোর্ট বিষয়ক কোন সেবা পাবেন না। কোথায় কোথায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে সে বিষয়েও ডাইরেক্টরেট জানিয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, তাদের যে কোন শাখা অফিস থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করানো যাবে। একই ভাবে সৌদি আরবে যেসব বিশেষায়িত সেন্টার আছে সেখানেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট করানো যাবে। কেউ যদি বাড়তি তথ্য জানতে চান তিনি ডাইরেক্টরেটের ওয়েবসাইটে (িি.িমফঢ়.মড়া.ংধ) ঢুঁ মারতে পারেন। এবার নারী-পুরুষ সবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক করা হলেও এর আগে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল পুরুষদের ক্ষেত্রে। তবে অভিবাসী নারীদের বেলায় বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ২০১২ সালের ৩১শে মার্চ থেকে কাজের অনুমতি পেতে তা প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হিসেবে দেখা হয়। আহমেদ আল লাহিদান বলেন, জেনারেল ডাইরেক্টরেট অব পাসপোর্ট অভিবাসী সব নারী ও পুরুষের বায়োমেট্রিক তথ্য রেকর্ড করতে চায় গুরুত্বের সঙ্গে।

সিলেটের তাহসিনা নিউ জার্সির কাউন্সিলর

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান তাহসিনা আহমেদ (২৩)। তার পৈতৃক নিবাস সিলেটের গোলাপগঞ্জ। তাকে নিউ জার্সির হেলডন নগর থেকে স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিউ জার্সি ও এর আশেপাশের রাজ্যগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। তাহসিনা নিউজার্সির মনমাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে নির্বাচন করেন। তার পিতার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে। ৪ঠা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। এতে রিপাবলিকান দলের বড় বিজয় অর্জিত হয়। কংগ্রেসের সিনেটে রিপাবলিকান দল তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর আগে থেকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ।

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যা স্পষ্ট হলো by ইকবাল খন্দকার

অনেকেই ছাত্রদলের আন্দোলন নিয়ে বাঁকা কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা মনে করি, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সেই বিষয়গুলো কী? জানাচ্ছেন ইকবাল খন্দকার

নিন্দুকেরা কথাটা প্রথমে আড়ালে আবডালে বলত। তারপর সামনাসামনিই বলতে শুরু করল। কথাটা কী? কথাটা হচ্ছেÑ বিএনপি দুর্বল হয়ে গেছে। বিএনপি আর কোনো দিন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেও পারবে না, আন্দোলনও করতে পারবে না। ছাত্রদলের পাতিনেতারা আন্দোলন করে নিন্দুকের এসব কথাবার্তার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন। তারা দেখিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির মেরুদণ্ড এখনো সোজাই আছে। আর এরই মধ্য দিয়ে দিনের ফকফকা আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে, মূল বিএনপি না হলেও অন্তত ছাত্রদল আন্দোলনের ক্ষমতা রাখে। তবে আন্দোলনটা সরকারের বিরুদ্ধে না করে নিজের দলের বিরুদ্ধে কেন করছে, এই বিষয়ে কেউ কোনো প্রশ্নও করতে পারবেন না, মুখ টিপে কেউ হাসতেও পারবেন না। বোঝা গেছে কথাটা?
‘দলকানা’ বলে একটা শব্দ প্রচলিত আছে। দলকানা কিন্তু চটকানা জাতীয় কোনো শব্দ না। দলকানা মানে হচ্ছে দলের প্রতি অন্ধ হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ দল যা করে তাই ভালো। দলের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে। ছাত্রদলের এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হলো, অন্যান্য দলের ছাত্রসংগঠনের মতো ছাত্রদল মোটেই দলকানা নয়। দল যা করবে, তাই তারা মেনে নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবে, এতটা অন্ধ তারা না। উচিত কথা বলতে তারা বাপকেও ছাড়ে না। বাপকেই যেখানে ছাড়ে না, সেখানে দলের মহাসচিবকে ছাড়বে? তাও আবার ভারপ্রাপ্ত। যা-ই হোক, ছাত্রদলের এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেহেতু স্পষ্ট হয়েছে তারা অন্ধ ভক্তির ঊর্ধ্বে, অতএব তারা বড় সাইজের একটা সাধুবাদ পেতেই পারে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা ভালো পদে আছেন, তারা সবাই বিপদে আছেন। কারণ সবার ঘাড়ের ওপরই একাধিক মামলা ঝুলছে। ময়লার গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ আরো ম্যালা মামলা। যে কারণে কিছু একটা হলেই বড় বড় নেতারা পুরনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে গা ঢাকা দেন। হয়তো খাটের নিচে শুয়ে মশার কামড় খেতে খেতে রাত কাটান। পদওয়ালা নেতাদের এই যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা দেখে কিন্তু ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাদের এমনিতেই পিছিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাদের ভাবার কথা ছিলÑ নাহ, পদ নিয়ে বিপদে পড়ার কোনো মানে হয় না। পদ না থাকাই নিরাপদ। খেয়াল করেন, তারা কিন্তু এমনটা ভাবেনি। রিস্ক থাকা সত্ত্বেও তারা পদ চাচ্ছে। পদের জন্য জান কোরবান করে দিতে চাচ্ছে। এতে কী স্পষ্ট হয়। স্পষ্ট হয় যে, তোরা যে যা বলিস ভাই, পদ আমার চাই।
সব কিছুর জন্যই হোমওয়ার্ক দরকার। যে সেক্টরে যে ভালো করছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করছে বলেই ভালো করছে। ছাত্রদল যদি তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ছাত্রলীগের সাথে আন্দোলন করতে যায়, তাহলে কি এমনি এমনি পেরে যাবে? তার আগে তাদের হোমওয়ার্ক করতে হবে না? আর হোমওয়ার্ক কখনোই বাইরে হয় না। হোম মানে হোম। ছাত্রদলের এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আরো যে জিনিসটা স্পষ্ট হয়েছে তাহলো, তারা হোমওয়ার্কের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। নিজেদের মধ্যে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার বিষয়টা ছিল হোমওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। যেহেতু তারা নিজেদের দলের একজন আরেকজনকে অ্যাটাক করতে পেরেছে, অতএব পরে প্রতিপক্ষকে সহজেই অ্যাটাক করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পার্লামেন্ট ভবনে হামলা বদলে দেবে কানাডাকে? by মোহাম্মদ হাসান শরীফ

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় পার্লামেন্ট ভবন এলাকায় ২২ অক্টোবর দুপুরে এক বন্দুকধারীর আক্রমণের খবরটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যেভাবে পরিবেশিত হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে, ওই ঘটনায় পুরো বিশ্বই কেঁপে উঠেছে। কেন, কিভাবে, কারা এই হামলা চালাল, তা নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে। তবে সবকিছুই অন্ধকারে ঢিল মারার মতো করে হচ্ছে। স্পষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই কোথাও, কারো হাতেই।

এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে, তা হলো হামলাকারী মাইকেল জেহাফ-বিবু কিছু দিন আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। হামলায় জেহাফ-বিবু ও এক সৈন্য নিহত হয়। বন্দুকধারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কি না তাও জানা যায়নি। তিনি কোনো চরমপন্থী দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না তাও নিশ্চিত নয়।
বন্দুকধারীর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে প্রায় সব বিশ্লেষণেই বলা হচ্ছে, এ ঘটনা কানাডায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ইসলামি চরমপন্থীবিরোধী আওয়াজ শোনা যেতে পারে। নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় মারাত্মক কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে।
কানাডাবাসী নিজেদের ‘শান্তিপ্রিয় দেশবাসী’ হিসেবে দেখতে চায়। তারা আশা করে, তারা সন্ত্রাসবাদের শিকার হবে না। বিশেষ করে আমেরিকা যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, তেমন অবস্থায় তাদের পড়তে হবে না। এই বিশ্বাসে বড় ধরনের ঝুঁকি দিতে পারে এই ঘটনা। ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, আতঙ্ক তত বাড়বে, অস্থিতিশীলতা সবাইকে কুরে কুরে খাবে।
হামলার সময় পার্লামেন্ট ভবনে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার ও বিরোধী দলের অনেক এমপি উপস্থিত ছিলেন। তাদের কেউ এতে আহত হননি। প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার একটি আলমারির ভেতরে প্রায় ১৫ মিনিট লুকিয়ে ছিলেন। আর অন্য এমপিরা পতাকাদণ্ড নিয়ে ওই হামলাকারীকে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
হামলার পরপরই কয়েকটি মিডিয়া এর সাথে ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সম্পৃক্ততার কথা বলে। তবে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন বেয়ার্ড জানিয়েছেন, হামলাকারী মাইকেল জেহাফ-বিবু ‘চরমপন্থী’ হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত নন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, জেহাফ-বিবু আইএসের সাথে জড়িত বলে কারো পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি। তিনি বলেন, কানাডার ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ’ চরমপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে লড়াই করছে। ব্যাপারটা বেশ উদ্বেগজনক। তবে বুধবারের হামলার সাথে এর যোগসূত্র মেলানোর জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ জন কানাডীয় মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে জিহাদি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে।
মাইকেল জেহাফ-বিবুর গত বুধবারের ওই হামলা নিয়ে কানাডা পুলিশ যে ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, বন্দুকধারী জেহাফ-বিবু প্রথমে এক মন্ত্রীর মোটরগাড়ি ছিনতাই করে পার্লামেন্টের কেন্দ্রীয় এলাকার দিকে ছুটে যান। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে জেহাফ-বিবু গাড়ি থেকে বেরিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগিয়ে গিয়ে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। এ সময় তিনি একজন রিজার্ভ সেনাসদস্যকে মারাত্মকভাবে আহত করেন। ওই সেনাসদস্য পরে মারা যান। এরপর জেহাফ-বিবু পার্লামেন্ট ভবনসংলগ্ন স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি নিরাপত্তা কর্মকর্তার গুলিতে প্রাণ হারান।
অটোয়ার পার্লামেন্ট ভবন এলাকাটিতে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। আমেরিকান দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনও সেখানে অবস্থিত। জেহাফ-বিবুর সাথে আরো হামলাকারী আছেÑ এই সন্দেহে ওই এলাকা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ করে তল্লাশি চালানো হয়।
একজন লোক কিভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই এলাকায় ঢুকতে পারল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক মাস আগে থেকেই সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে কোনো বন্দুকধারীর সেখানে প্রবেশ করা সহজ নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার রাজনীতিতে আরেক দফা পরিবর্তন এসেছে। হারপারের রক্ষণশীল সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অন্যতম ইস্যুতে পরিণত করেছে। প্রধান দুই বিরোধী দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হারপার আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ইরাকে সৈন্য পাঠিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট দাবি করেছে, গুলির এ ঘটনাকে যদি চরমপন্থী ইসলামের সাথে সম্পর্কিত করা যায়, তাহলে এটা রাজনৈতিক ফুটবলে পরিণত হবে। সব দলই ২০১৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে এটাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।
এর আগে কানাডার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন এসেছিল আফগানিস্তানের যুদ্ধের সময়। এ ছাড়া ইসরাইলের প্রতিও তাদের ব্যাপক সমর্থন দেখা যায়। এখন আইএসের বিরুদ্ধেও জোট পাকানোতে তাদের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। এসব ঘটনায় চরমপন্থীরা ক্ষুব্ধ হতে পারে।
এ ঘটনার রেশ ধরে আরেকটি পরিবর্তন আসতে পারে, সেটা অভিবাসীদের জন্য। মুসলিম বিশ্ব থেকে অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। ঘটনার দিনই কানাডার সিনেটর ফ্যাবিয়ান ম্যানিং বলে ফেলেছেন, ‘আজ আমাদের দুনিয়া চিরদিনের মতো বদলে গেল। তবে আমরা এখনো জানি না, কতটুকু বদলাল।’
বিশ্ববাসীকে অপেক্ষায় থাকতে হবে এটা জানতে যে, কতটুকু বদলাল কানাডা।