Monday, November 22, 2010

রাজনৈতিক আলোচনা- 'আশির দশকে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন' by আবুল কাসেম ফজলুল হক

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষে যাঁরা চিন্তা ও কাজ করেন, তাঁদেরকে ইতিহাসের দিক দিয়েও সমস্যাবলির প্রকৃতি বিচার করতে হবে। আর এটাও বুঝতে হবে যে, জনগণের উন্নতি কেবল নেতাদের ও বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে মূলত জনগণের নিজেদের উপরেই। নিজেদেরকে নিজেদেরই উন্নত করতে হয়। নিজেরা সক্রিয় হয়ে নিজেদের উন্নত না করলে কেউই তা করে দেয় না। অভীষ্ট নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হয়, তৈরি পাওয়া যায় না। নেতৃত্বের আশায় থাকলে ফল হয় না। এটাও বুঝতে হবে যে, রাজনৈতিক আন্দোলনের সাফল্য-ব্যর্থতা যদিও আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণের উপর নির্ভর করে, তবু আন্দোলনের চরিত্র জনগণের অংশগ্রহণের দ্বারা নির্ধারিত হয় না, নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণই নেতৃত্বের চরিত্রের দ্বারা। এজন্য নেতৃত্ব সৃষ্টি সম্পর্কে জনগণের সতর্কতা দরকার।

বাংলাদেশে জীবিকা হারানো মানুষের ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুতি’ by আহসান উদ্দিন আহমেদ ও শরমিন্দ নীলোর্মি

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তবতা। যত সময় গড়াতে থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত ততই অনুভূত হতে থাকবে এবং তা কেবল কিছু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ না থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। এ কথা আজ সর্বজনবিদিত যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ওপরের দিকেই অবস্থান করবে। আইপিসিসি বহু গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দরিদ্র দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেখানকার দরিদ্র মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারির দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। প্রশ্ন হলো, জলবায়ুতাড়িত বিপুলসংখ্যক দরিদ্রকে নিয়ে কীভাবে একটি অগ্রসর মধ্য-আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ?
বিগত তিন দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর অন্যতম হচ্ছে কৃষির আধুনিকায়ন এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। জলবায়ু পরিবর্তন কৃষক ও কৃষি-গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টার এসব অর্জন নষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। অথচ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে তাই খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সমুদ্রের উপরিতলে স্ফীতি ঘটলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে উপকূলীয় কৃষকদের। লবণাক্ত এলাকা দেশের ভেতরে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। লবণের প্রকোপে প্রচলিত কৃষি তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমের বহু এলাকায় প্রচলিত বোরো ধানের আবাদ করা যাবে না। উপকূলীয় এলাকার নদীতে লবণ অনুপ্রবেশ করায় নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়া যাবে না, ফলে শুকনো মৌসুমের ফসল উৎপাদন লক্ষণীয় পর্যায়ে কমে যাবে।
তীব্র বন্যা ও সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় সড়ক যোগাযোগ ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। সমুদ্রের পানির উজানমুখী ধাক্কা আরও বেশি সক্রিয় থাকার কারণে ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে যাওয়া উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত ক্ষয়ে যাবে, এমনকি কোনোটির অংশবিশেষ হঠাৎ ভেসে গিয়ে বাঁধের ভেতরের মানুষ ও স্থাপনার জন্য দুর্যোগ বয়ে আনবে। এখনো পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন ঘটেছে সামান্যই। অথচ তারই প্রভাবে সমুদ্রের পানির উজানমুখী ধাক্কা এতটাই বেড়েছে যে সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা ও কক্সবাজারের দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো অহরহ ভেঙে পড়ছে সমুদ্র থেকে আসা ঢেউয়ের তাণ্ডবে।
লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে (পুরোনো শিল্পগুলো এখন ধুঁকছে)। এমনকি এ দেশের গৌরব সুন্দরবনও লবণাক্ততার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ থাবায় বিপর্যস্ত হবে। অপরাপর এলাকার চেয়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুকনো মৌসুমে বৃষ্টিহীনতা নদীর ক্ষীণ প্রবাহকে আরও কমিয়ে দেবে, এতে জোয়ারের উজানমুখী চাপে ক্রমশ আরও বেশি এলাকায় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়বে।
উপকূলে বাঁধের বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও মানুষের জীবনযাত্রা নানাভাবে বিঘ্নিত হবে। বিগত কয়েক বছরে অনেক এলাকায় বাঁধের বেষ্টনী ভেঙে গেছে সঞ্চিত তাপের প্রভাবে অধিকতর শক্তিশালী উজানমুখী ঢেউয়ের ধাক্কায়। এতে শস্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। এ ছাড়া সমুদ্র স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি ফুঁসতে থাকায় ঘনঘন ৩ নম্বর বিপৎসংকেত দেখানোর ফলে সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীরা নিয়মিত মাছ ধরতে পারেননি। এতে তাঁদের জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহ বারবার ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে, যা উপকূল এলাকার জনজীবনকে তীব্র ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।
এ ছাড়া দুর্যোগের ঘনঘটা বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগ, যেমন—ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বর্তমানের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া চৈত্র, বৈশাখ ও ভাদ্র মাসের গরমে শিশু এবং বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে।
আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কয়েকটি ‘আপদ-বলয়ভুক্ত’ এলাকা আছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, এসব আপদ-বলয় থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ দলে দলে বেরিয়ে আসছে এবং অজানা পথে পাড়ি দিচ্ছে। শহরমুখী মানুষের ঢল লক্ষণীয়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা আগেই জানা গেছে যে নগরে এবং উপকণ্ঠের অতিদরিদ্র মানুষের একটা বড় অংশ আপদ বা দুর্যোগ-পরবর্তী সীমাহীন কষ্টের প্রেক্ষাপটে সবকিছু খুইয়ে একসময় বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়েছে।
যেখানে জীবনযাপন-প্রক্রিয়া ও ভঙ্গুর জীবিকা টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন, সেখানে বিপন্নতা মাত্রাতিরিক্ত। সেখানে জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে মানুষ কীভাবে থাকবে? যেখানে বায়ুমণ্ডলের আজেবাজে গ্যাসের থাবায় মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেখানে সৃজনীশক্তি থাকলেও সে ভঙ্গুর জীবনীশক্তি নিয়ে বসবাস করতে পারে না। অগত্যা বাস্তুচ্যুতি ছাড়া তখন কীই-বা করার থাকে?
জলবায়ু পরিবর্তনের হিসাবে তাই বাস্তুচ্যুতি অনিবার্যভাবে দেখা দিয়েছে। ব্যাপক মাত্রায় জীবন ও জীবিকা নষ্ট হলে বাস্তুচ্যুতির সংকট ঘনীভূত হবে। অথচ এই মানুষগুলো, যারা ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন ঘটানোয় তাদের দায়দায়িত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। এরা নিরীহ ও চলমান ঘটনার অশুভ বাস্তবতার অসহায় শিকার মাত্র।
এই অন্যায্য পরিস্থিতি থেকে বিপন্ন মানুষকে মুক্তি দিতে হলে প্রথমত দেশীয় পর্যায়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু এর কার্যকরণটি আন্তর্জাতিক, তার ন্যায্য সমাধান তাই আন্তর্জাতিক পরিসরে হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক কাঠামো সনদ (১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত) মতে, এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের অসহায় থাকার কথা নয়। এদের অভিযোজন করার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মতৈক্য তৈরি হচ্ছে, এবারের তৃতীয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘসহ সবার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু অভিযোজনের মাত্রাভেদ আছে। যখন বা যেখানে বিপন্নতা মাত্রাতিরিক্ত, সেখানে অভিযোজনের মানে হলো হয় আপদের সম্ভাব্য মাত্রা কমাতে হবে, নয়তো অন্যত্র সরে গিয়ে ঝুঁকির মাত্রা কমাতে হবে। বুদ্ধি খাটিয়ে সম্ভাব্য কম ঝুঁকির এলাকায় সরে যাওয়াই সেখানে ‘অভিযোজন’।
কিন্তু এ দেশে সম্ভাব্য কম ঝুঁকির এলাকায় সরে যাওয়াটা সহজ নয়। এত ঘনবসতির দেশ পৃথিবীজুড়ে আর নেই। কোথায় পাওয়া যাবে এমন জায়গা, যেখানে সহজে ভাগ্যহত মানুষের নির্বিঘ্নে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া যাবে? গেলেও কতজনকে?
তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনতাড়িত বাস্তুহারা মানুষদের ভবিষৎ কী?
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক কাঠামো সনদ মতে, ‘সরে গিয়ে’ বিপন্নতা কমাতে হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন ছাড়া গতি নেই। কিন্তু এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা এখনো খুব কম। এখনো এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দর-কষাকষি ভালোভাবে শুরু হয়নি।
অভিবাসন বিষয়টি নতুন নয়। তবে এত দিন যা ছিল ‘সুযোগসন্ধানী অভিবাসন’ (যেমন, আমাদের শ্রমিকেরা গেছেন এবং নিরন্তর টাকা পাঠিয়ে দেশ গঠনে সবিশেষ ভূমিকা রাখছেন), তার চেয়ে এখনকার ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুতি’-জনিত অভিবাসন হবে মৌলিকভাবে ভিন্ন। এখানে যেহেতু সম্ভাব্য অভিবাসীদের অধিকার ও ন্যায্যতা হরণ করেছে উন্নত অর্থনীতির দেশের ছেড়ে দেওয়া গ্যাস, ন্যায্যতার বিচারে তাদের জন্য ওই সব দেশে অভিবাসনের সুযোগ করে দিতে হবে। এটা দয়া নয়, অধিকার। আর জলবায়ুূ পরিবর্তনতাড়িত ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুত’ কষ্টে থাকা মানুষের অধিকার নিয়ে আমাদের লড়াইটা চালাতেই হবে।
আমাদের মতে, বাংলাদেশ থেকে এ বিষয়ে কথা তোলা উচিত। আমাদের মতো বিপন্ন দেশ থেকে এবং এত বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা নিয়ে আমরা যদি এ বিষয়ে কথা না তুলি, তাহলে আমাদের হয়ে দর-কষাকষি করবে কে? দেরিতে হলেও এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে আমাদের মতো নাগরিক সমাজের দাবি উপেক্ষা করে কখনোই বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত মানুষের অভিবাসন নিয়ে কোনো দাবিনামা পেশ করেনি, দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্র্রতি জাতিসংঘে তাঁর বক্তৃতায় বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেছেন। আশা করি, এ দেশের হয়ে, যাঁরা প্রতিনিধি হয়ে দর-কষাকষিতে অংশ নেন, তাঁরা এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত অতি যৌক্তিক দাবিটি বারবার তুলতে আর ভুলে যাবেন না।
দাবিনামা তুলতে পারলেই যে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তা এমনি এমনি হাসিমুখে মেনে নেবে, তা নয়। তারা অনেক বিতর্ক তুলবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা, ভাষা জানার অযোগ্যতা, সাংস্কৃতিক বিভেদ—কত শত দুর্বলতা! সঠিকভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া নিয়েও আমাদের ধারণা, অনেক বিতর্ক উঠবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে একটু সুবিধাজনক জায়গায় আছে। আমরা জলবায়ুূ পরিবর্তনতাড়িত ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুত’ মানুষকে সহজেই খুঁজে দিতে পারি, ভোটার আইডি কার্ড ‘অগত্যা বাস্তুচ্যুত’ মানুষের খুঁজে দিতে সাহায্য করবে। এখন দাবিটি যথাস্থানে পেশ করা হোক, আলোচনাটা শুরু হোক, অন্যরা এতে অংশ নিতে শুরু করুক। অনেক দেশই আমাদের সঙ্গী হবে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্রুত জনমত গঠন করা দরকার। সামনেই মেক্সিকোর কানকুনে উচ্চপর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর-কষাকষি সংঘটিত হবে, একটি নতুন চুক্তিও হয়তো স্বাক্ষরিত হবে। আমরা কি পারব এ বিষয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে? আপামর মানুষ কিন্তু আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের দিকে আশা করে তাকিয়ে আছে।
আহসান উদ্দিন আহমেদ: সমন্বয়কারী, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুডস, সিএসআরএল।
শরমিন্দ নীলোর্মি: সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, সিএসআরএল)।

সুশাসন-সহায়ক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো by এ এম এম শওকত আলী

বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় না। কেন হয় না, তার কারণ কারও জানা নেই। এ ধরনের বৈঠক হয় দাতাগোষ্ঠী ও সরকারের মধ্যে। বৈঠকে বিদেশি সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ৭ নভেম্বরের বৈঠকে দাতাগোষ্ঠী বলেছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তারা অধিকতর অগ্রগতি দেখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য উন্নয়ন সহযোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, জনপ্রশাসনসহ গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ সরকারের বাইরে সব ধরনের কমিশন বা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর সহযোগীরা গুরুত্ব আরোপ করেছে।
শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া কী হবে, তার রূপরেখা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হলো যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শক্তিশালী করা যায় না। বিষয়টি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য কয়েকটি উপাদানের প্রয়োজন। এক. রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা। দুই. যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে জন্মলগ্ন থেকেই প্রয়োজনীয় জনবলসহ অন্যান্য সাহায্য। এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে তা হলো, কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অহেতুক দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, প্রায় সব কটি কমিশন এখনো প্রয়োজনীয় জনবলের সরকারি অনুমোদন লাভ করেনি। এ ছাড়া যেসব কমিশন স্বীয় আইনের অধীনে খসড়াবিধি প্রণয়ন করে সরকারের কাছে পাঠিয়েছে সেগুলোও কোনো অনুমোদন পায়নি। সাম্প্রতিক কালে মানবাধিকার কমিশন এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়েছে। দীর্ঘকাল অপেক্ষা করে এ কমিশন এখনো প্রণীত খসড়াবিধির কোনো অনুমোদন পায়নি। জনবল যা চেয়েছিল তার প্রায় অর্ধেকেরও কম অনুমোদিত হয়েছে। এ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, অনুমোদিত জনবল নিয়েই তাঁরা কাজ শুরু করবেন। চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ তাঁরা পান, তা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনের জন্য পাঠানো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। এ জন্য কমিশন নিজেই এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করবে। অথচ তাদের প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
এ বিষয়ে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ও বলা যায়। তদন্তের ফলাফলের পর তারা কী করবে। নিশ্চয়ই অভিযুক্তকে কোনো শাস্তি দিতে পারবে না। এর জন্য যেতে হবে বিচারিক আদালতে। তারপর কী হবে? বিচারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া কি এড়ানো যাবে? এর সঙ্গে যোগ করা যায় আরেকটি প্রসঙ্গ। তা হলো সুশাসনসহায়ক প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি সব ধরনের অনুসন্ধানের কাজ নিজেরাই করতে চায়, তা হলে কত জনবলের প্রয়োজন হবে সে বিষয়টিও ভেবে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া নিজস্ব জনবল দিয়ে সব কাজ করানোর জন্যও প্রয়োজন হবে স্থায়ী মাঠ প্রশাসনের সহায়তা। এ জন্য প্রয়োজন হবে সঠিকভাবে সমন্বিত প্রচেষ্টা। বিচ্ছিন্নভাবে করলে তার কোনো সুফল পাওয়া মুশকিল হবে।
নির্বাচন কমিশনের কাঠামো এ বিষয়ে কিছু অনুসরণীয় তথ্য ও পদ্ধতির ইঙ্গিত প্রদান করে। এ কমিশন আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা নিয়ে থাকে। নির্বাচনী অপরাধ দমন ও শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে তারা কোনো ক্ষমতার অধিকারী নয়। এ সত্ত্বেও গত জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্যও এ কমিশন সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরই ব্যবহার করে থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো পর্যালোচনা করে বলা যায় যে কোন কাজটা কোন কমিশন নিজেই করবে এবং কোনটার জন্য প্রতিষ্ঠিত কোন কাঠামোকে ব্যবহার করবে, সে বিষয়টি প্রথমে চিহ্নিত করা।
উন্নয়ন ফোরামে জনপ্রশাসনের সংস্কার সম্পর্কেও বলা হয়েছে। জানা গেছে, এ বিষয়ে দাতাগোষ্ঠী একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে। এ টাস্কফোর্সে যৌথ অংশীদারি থাকবে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। জনপ্রশাসন যে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ একাধিক। অন্যান্য কারণের মধ্যে প্রশাসনকে রাজনৈতিকীকরণের অব্যাহত প্রক্রিয়া। সব সরকারের আমলেই কম-বেশি এ প্রক্রিয়া চালু ছিল। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, মাঠ প্রশাসনে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠপর্যায়ের ও সচিবালয় প্রশাসনকে শক্তিশালী না করতে পারলে যত কমিশনই করা হোক না কেন সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
দৈনন্দিন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডসহ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ প্রসঙ্গে প্রচুর উদাহরণ দৃশ্যমান। সম্প্রতি পিকেএসএফের সেমিনারে বক্তারা বলেছেন যে রাজনীতিকীকরণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়টি নতুন কিছু নয়। অনেক দিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট অতীতের কয়েকটি সমীক্ষায় এ কথাও বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করার জন্য কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। দলীয় সমর্থকদের টেন্ডারবাজির ঘটনার বিষয়টি কে না জানে। সরকারি নীতিনির্ধারকেরা এ বিষয়ে বারবার সাবধানবাণী উচ্চারণ করলেও এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান এখনো হয়নি।
৯ নভেম্বরের একটি প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, এক সাংসদের নির্দেশে দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। ঘটনাটি নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগ-সংক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট সাংসদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি হয়তো এখানেই থেমে যাবে। তার মূল কারণ সংবিধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকলেও আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কোনো সংসদীয় অমবুসম্যান নিয়োগ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যে এ কর্মকর্তাকে সংসদীয় কমিশনার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাংসদদের অনভিপ্রেত আচরণ প্রতিরোধের জন্য এ পদে একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে ভালো হবে। সুশাসন-সম্পর্কিত প্রশাসনিক কাঠামোতে এটি একটি বড় ধরনের শূন্যতা।
নিয়োগ-বাণিজ্যের অব্যাহত ধারার বিষয়টিও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়। সাম্প্রতিক কালে পাবনার জেলা প্রশাসকের অফিসে কিছু কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঘটনা মিডিয়ায় বিশদভাবে প্রচার করা হয়েছে। পাবনা ছাড়াও অন্য কয়েকটি জেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ফরিদপুরের কাশিয়ানী থানায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ক্ষমতাসীন দলের ব্যক্তি হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। পাবনার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য তদন্ত ছাড়াই জেলা প্রশাসকসহ অন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সদর থানার ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু জানা গেছে তা হলো, তাঁর পক্ষে ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলা সরকারি নিয়মবহির্ভূত ছিল। আসল ঘটনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত তা জানা যায়নি।
এ সম্পর্কে অন্য একটি প্রকাশিত সংবাদ প্রাসঙ্গিক। বরিশাল জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদারি কাজ নিয়ে তাঁর ব্যস্ততার বিষয়ে বলেছেন, ‘জোট সরকারের আমলে আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। দল ক্ষমতায় আসার কারণে কিছু কাজ করছি।’
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনেক অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ করা হয়। মিডিয়াই এ কাজটি করে। সাম্প্রতিক কালে ফরিদপুর গ্রামীণ কাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে একটি পত্রিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে নানা ছুঁতোয় প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার বাড়তি ব্যয়ের ঘটনা। এ সংবাদের সূত্র সরকারি প্রতিবেদন। দায়ী প্রতিষ্ঠানকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
দাতাগোষ্ঠী বিভিন্ন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। যে কটি উদাহরণ দেওয়া হলো, সে বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠিত কমিশনগুলোর দায়িত্বের মধ্যে এগুলো নেই। এ ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড নির্মূল করার জন্যই প্রয়োজন জনপ্রশাসনের শুধু সংস্কারই নয় বরং অধিকতর শক্তিশালী করা। যে টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দৃষ্টি দিলে ভালো হয়।
এ এম এম শওকত আলী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক সচিব।

আলোচনা- 'বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব আকাশচুম্বী' by ড. নিয়াজ আহম্মেদ

সাধারণ ও বিশেষ মানের শিক্ষার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ব্যবধান। বিশেষ মানের শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নের জন্য বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এতটাই বেশি যে এর মাধ্যমে একটি দেশ শুধু সামনের দিকেই এগিয়ে যেতে পারে না, বরং দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল হয়।এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ কিছু দিন আগে পাটের জন্মরহস্য উদ্ঘাটন। কিছুস ংখ্যক তরুণ ও মেধাবী বিজ্ঞানী এবং তাঁদের পরিচালনাদানকারী অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী ও সরকারি আর্থিক সহায়তা আমাদের যে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা আমরা লক্ষ করছি। বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কি পারবে না এ রকম আরো বহু অজানা রহস্য উন্মোচন করতে? কিন্তু কবে এবং কিভাবে? সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবছর আমরা অসংখ্য মানুষ তৈরি করছি।

যানজট কি শুধু বেড়েই চলবে? by বিলকিস বানু

ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় যে যানজটের সমস্যা, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র দেশে। দূরপাল্লায় চলাচলের মহাসড়কগুলোতে পর্যন্ত আজকাল যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন ধরা যাক ঢাকা থেকে দিনাজপুরে যাতায়াতের মহাসড়কটির কথা। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর পূর্ব দিকে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বাইপাইল, গাজীপুর, সাভার—এই সড়কগুলো দিয়ে বাসে যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল। যানজট, পেট্রল পোড়ার দুর্গন্ধ, সময়ের দীর্ঘতা—সব মিলিয়ে উদ্ভট এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এসব সড়কে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর অপর পারে, উত্তরবঙ্গের দিকে, ঢাকা থেকে ১৯৩ কিমি ও দিনাজপুর থেকে ২২১ কিমি দূরত্বে শেরপুরে অবস্থিত অ্যারিস্টক্র্যাট, ফুড কোড, ফুড ভিলেজ ইত্যাদি রেস্টুরেন্ট পার হওয়ার কিছু পর থেকেই শেরপুর, বগুড়া, রংপুর, সৈয়দপুর—এই শহরগুলো বাদ দিলেও তাদের মাঝামাঝি মহাসড়কগুলোতে যথেষ্ট যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে; যার কারণে বাসে ভ্রমণ আজকাল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ বঙ্গবন্ধু সেতু যখন প্রথম উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৮ সালে, তার পর থেকে বাসে ভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছিল। ভ্রমণের সময় কমে ছয় ঘণ্টায় নেমে এসেছিল। কিন্তু আজকাল সেটা একটা অবাস্তব ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই ছয় ঘণ্টার ভ্রমণ এখন আট-নয় ঘণ্টায় উত্তরণ ঘটেছে।
আমরা সব সময় বলছি, দেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিক থেকে আমাদের দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বিশ্বায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অতি দ্রুত সামনে এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে আমরা আবার এও বলে থাকি, স্বাধীনতার ৩৯ বছর পার হওয়ার পরও আমাদের দেশ সেই হিসেবে তেমন একটা উন্নতি করতে পারেনি। এর জন্য জাতি অনেক কারণ শনাক্ত করেছে। কিন্তু আমরা বলি, জাতির পিছিয়ে পড়ার অনেক কারণের মধ্যে এই যানজটও একটি। ঢাকায় যে যানজট বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে, তাতে আমাদের জীবনের ও দেশের উন্নতির সোপানগুলো দিনের পর দিন কীভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে, তা কি আমরা কখনো হিসাব করে দেখেছি? স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিস-আদালতে যেতে এই যে বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় আমাদের জীবন থেকে খসে পড়ে গেছে, সেই সময়গুলোকে আমরা যদি উপযুক্তভাবে হাতে পেতাম, তাহলে এই কয়েক বছরে সেই ঘণ্টাগুলো কত ঘণ্টা হতো এবং সেই ঘণ্টাগুলোকে ব্যবহার করে বা সেই সময়ে বিশ্রাম নিলেও আমরা আমাদের লেখাপড়ায়, কাজেকর্মে আরও কত বেশি পারদর্শী, তীক্ষ বুদ্ধি ও উন্নত হতাম, পরের প্রজন্ম তারপর আরও কত ধাপ সামনের দিকে এগিয়ে যেত, তার বিনিময়ে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, চিকিৎসাব্যবস্থা, দোকানপাট, স্থাপনা, খেলার মাঠ, আরও কতটা উন্নতি করত, তা কি আমরা কখনো হিসাব করে দেখেছি?
আমাদের দেশের অনেক উন্নতি তো হয়েছে বটেই। দেশের মানুষের অনেক অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে। তাই আজকাল দেশে আগের চেয়ে বেশি মানুষ গাড়ি কিনছে, ব্যবসা বা যাতায়াতের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস কেনা হচ্ছে, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বেশি রিকশা চলছে। আমাদের দেশে উন্নতিটা আপাতত ‘বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি’র মতো যেন। গাড়ি, রিকশা, মানুষ বেশি, অথচ রাস্তাঘাট কম। মানুষ কি এ জন্য গাড়ি কিনবে না? বাসে চড়বে না? ব্রুনাইয়ে মাথাপিছু মানুষের চার-পাঁচটি করে গাড়ি থাকে। তাদের দেশের তাহলে কী অবস্থা হওয়ার কথা?
এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কি একটা রূপরেখা আমরা আঁকতে পারি না? ঢাকায় কি আরও বেশি করে সড়ক নির্মাণ করা যায় না? যেমন, আগারগাঁওয়ের সামনে দিয়ে একটি সড়ক চলে গিয়ে ভিআইপি রোডে মিশেছে। তেমনিভাবে শহরের মধ্য দিয়ে কিছু জায়গা বের করে নিয়ে আরও কিছু রাস্তাঘাট তো নির্মাণ করা যায়। ভিআইপি রোডের কিছু কিছু জায়গায় বাড়তি রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন এবং কিছু কিছু জায়গায় এই রাস্তাকে দ্বিগুণ-তিন গুণ প্রশস্ত করা প্রয়োজন। দুই পাশে রাখতে হবে দুটো ফুটপাত। মহাসড়কগুলো দিয়ে ভ্রমণের সময় আগে সড়কের দুই ধার দিয়ে সবুজ নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি দেখা যেত এবং নির্মল বাতাস সেবন করতে করতে ভ্রমণ করা যেত। কবির ভাষায়, ‘পরী বা ডাইনির থেকেও দ্রুত, বাড়ি, ঝোপ, খাল, বিল, নদীনালা, ব্রিজ, পাহাড়; সব যুদ্ধের সেনাবাহিনীর মতো আক্রমণের ভঙ্গিতে; বৃষ্টির মতো ঘন হয়ে ধেয়ে চলে যায় এবং আঁকা স্টেশনগুলো চোখের পলকে শিটি বাজিয়ে পার হয়ে যায়।’ এমনি রেলগাড়িতে চড়ার মতো দৃশ্যাবলি দেখা যেত। কিন্তু আজকাল মহাসড়কগুলোর দুই ধার দিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন প্রকারের ছোট-বড় আকারের কলকারখানা, দোকানপাট, চায়ের দোকান, হাটবাজার, স্থাপনা ইত্যাদি। সবুজ দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে। প্রকৃতির নির্মল বাতাসও নেই বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য। কিন্তু সময় নিশ্চিতভাবে এসে গেছে মহাসড়কগুলোকে বাড়িয়ে দুই ডবল বা তিন ডবল করার। আর এই মহাসড়কগুলোকে দুই ধারে প্রশস্ত করার জন্য ও তার দুই ধার দিয়ে পথচারী ও রিকশাভ্যানের জন্য ফুটপাত রাখার জন্য যে জায়গাজমির প্রয়োজন, সেই চাহিদা অনুযায়ী মহাসড়কের দুই ধার দিয়ে অন্তত আধামাইল দূরত্ব বজায় রেখে স্থাপনা, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ গড়ে তোলার সরকারি আইন এখনই প্রয়োগ ও চালু করা প্রয়োজন। নইলে নতুন মহাসড়ক নির্মাণ কোনো দিনই সম্ভব হবে না। পরিশেষে আমি আবার প্রস্তাব রাখব, যেখানে সম্ভব নতুন সড়ক নির্মাণ করা হোক এবং যেখানে সম্ভব বিদ্যমান সড়ককে দুই পাশ দিয়ে আরও প্রশস্ত করা হোক।
বিলকিস বানু: সহকারী অধ্যাপক, কেবিএম কলেজ, দিনাজপুর।

মরিনহোকে মেসির বার্তা

ঘনিয়ে আসছে ‘এল ক্লাসিকো’। এই মাসের ২৯ তারিখ ন্যু ক্যাম্পে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠের লড়াইয়ের আগে কথার লড়াই টুকটাক জমে উঠেছে। হোসে মরিনহো অবশ্য রিয়ালের দায়িত্ব নিয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে কথার তোপ দেগে চলেছেন। বার্সা শিবির একটু সংযত, সতর্ক। লিওনেল মেসি তো এর আগে বলেই দিয়েছেন, এসব কথার লড়াই মরিনহোর একটা ফাঁদ, যাতে সবার মনোযোগ সরে যায়। সেই ফাঁদে যেন সতীর্থেরা কেউ পা না দেয়।
কিন্তু চাইলেই তো আর মুখে কুলুপ এঁটে থাকা যায় না। কথা বের করে নেওয়ার কাজটা স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ঠিকই করে চলেছে। এই যেমন ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো মেসির এক সাক্ষাৎকার ছেপেছে বুধবার। সেখানে মেসি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোচ মরিনহোর সঙ্গে তাঁর কাজ করা সম্ভব নয়। তবে কি মরিনহো মেসির গুরু হওয়ার যোগ্য নন? নাকি যোগ্য নয় তাঁর কাজ করার ধরন, খেলার দর্শন!
২৩ বছর বয়সী একটা কূটনৈতিক চালেই দিয়েছেন উত্তর, ‘তাঁর সঙ্গে কাজ করাটা হবে খুবই কঠিন, তাই নয় কি?’ ‘মরিনহো বার্সেলোনায় এলে তিনি কথা বলতেন অন্যভাবে’ মন্তব্য করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, মরিনহো বার্সেলোনা সম্পর্কে এখন যা বলছেন, সেটি তাঁর আসল কথা নয়।
এমন মন্তব্য মরিনহোকে উসকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অবশ্য এক ফাঁকে মেসি উড়িয়েছেন সাদা পতাকাও, ‘মরিনহো কিংবা কারও বিপক্ষেই আমার কিছু নেই। মরিনহোর সঙ্গে যারা কাজ করে তারা তো ওর প্রশংসাই করে। আমার মনে হয় না আমারও কোনো সমস্যা হতো। যদিও আমি মনে করি না, ওঁর সঙ্গে আমার আদৌ কাজ করা হবে।’
এক দিক দিয়ে কোচ হিসেবে মরিনহোর হাতেখড়ি বার্সেলোনাতেই। স্যার ববি রবসনের দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন এখানে। এরপর লুই ফন গলের সহকারীও ছিলেন। যদিও কাতালানদের মধ্যে জনপ্রিয়তা দ্রুতই হারিয়েছেন মরিনহো। চেলসির কোচ থাকার সময়ই দুকথা, চারকথা শুনিয়েছেন। এরপর ইন্টার মিলানে থাকার সময়ও চালু ছিল সেই কথার তেজ।
দুরন্ত মেসিকে আটকে ফেলার জাদু অবশ্য মরিনহোর ভালোই জানা। মরিনহো কোচ হিসেবে যেসব দলে ছিলেন, এর কোনোটিরই বিপক্ষে মেসি গোল করতে পারেননি। গতবার তো ইন্টার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে আটকে দিল বার্সেলোনাকেই। মেসি বলছেন, সেই জাল তিনি ছিঁড়ে ফেলবেন এবারের এল ক্লাসিকোতেই, ‘এখনো গোল করতে পারিনি, আশা করি সেটা মাদ্রিদের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই হয়ে যাবে। অবশ্য এমন নয় গোলটা মরিনহোর বিপক্ষে করব, গোলটা হবে মাদ্রিদের বিপক্ষে।’
মেসিকে বলতে হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যাপারেও। এই মৌসুমেও দারুণ জমেছে রোনালদো-মেসি দ্বৈরথ। সব মিলে ক্লাবের হয়ে গোলসংখ্যায় রোনালদো (১৩ গোল) মেসির (১৯ গোল) থেকে পিছিয়ে থাকলেও লিগে মেসির চেয়ে একটি গোল বেশিই করেছেন। মেসি অবশ্য বরাবরের মতোই পুরোনো উত্তরটাই দিলেন, ‘আমরা দুজনের একেবারেই আলাদা। দুজনের ধরনও আলাদা। কে কার চেয়ে ভালো এই তুলনা চলে না। এমন নয় আমি ক্রিস্টিয়ানোর চেয়ে ভালো করার জন্যই ফুটবল খেলি। আমি খেলি দলের জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই by ইলিরা দেওয়ান

সরকারের প্রতি আস্থা রেখে যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, আমরা তাঁদের বিশ্বাস ভঙ্গ করতে পারি না’—প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর পাহাড়িরা আবার কিছুটা আশার আলো দেখছে (প্রথম আলো, ২২ অক্টোবর ২০১০)। তিনি সম্প্রতি এ কথা বলেন যখন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি পরে জরিপ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীবিষয়ক অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার থাকায় ক্ষমতায় আরোহণের পর স্বাভাবিকভাবে চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের একটা সম্ভাবনার ঝিলিক দেখা গিয়েছিল। সে লক্ষ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কয়েকটি পদ ও কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এসব কমিটির কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন তার কার্যক্রম জোরেশোরে শুরু করলেও শুরু থেকেই বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে অনেকে মনে করে।
আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি পরে জরিপ—প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার আগে গত ২৫ অক্টোবর রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ভূমিসংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় ভূমিমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সার্কেল-প্রধানেরাসহ পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানরা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সভার আলোচনায় সরকারপক্ষ ও পাহাড়ি নেতারা উভয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেরিতে বোধোদয় হলেও এ আয়োজনের জন্য সরকারপক্ষকে সাধুবাদ জানাতে হয়। কেননা ভূমিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য ভূমি কমিশন এযাবৎ ডজন খানেক সভা সম্পন্ন করলেও নিষ্ফল সভাগুলো কেবল জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। এতে জনগণের মাঝে যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, তেমনই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারেও জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছিল। কিন্তু পরপর দুটি আন্তরিক আলোচনা পাহাড়ের গুমোট পরিস্থিতিকে অনেকখানি সহজ করে দিয়েছে। সরকার, প্রশাসন এবং চুক্তি বাস্তবায়নে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিক হলে চুক্তি বাস্তবায়নের পথটি অনেকাংশে মসৃণ হবে। আগে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দোষারোপ করা হতো। কিন্তু এখন সেখানে বিদ্যমান সব দলই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি তুলছে। কাজেই বর্তমানে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতাই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধান নিয়ামক।
২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ (প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল ২০০৯)। এ ঘোষণার দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রী আবারও চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের ১৩ বছর পরও যখন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পাহাড়ি জনগণকে দাবি জানাতে হয়, আন্দোলন করতে হয়, তখন মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, প্রধানমন্ত্রীর বারবার ঘোষণায় পাহাড়িদের মনে আর কতটা আস্থা অটুট আছে! কিন্তু তবুও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর পাহাড়িরা নতুনভাবে আশ্বস্ত হচ্ছেন এবং সম্ভাবনার আলো দেখতে পাচ্ছেন। এটাকে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে পাহাড়ীরা মনে করে। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষজনের একটাই প্রত্যাশা—আর অঙ্গীকার বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
তবে সরকারের কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার তালিকায় চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও একটি বিবেচ্য বিষয়। এ ছাড়া প্রায় ১৩ বছর আগে করা চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন করা যায় সে বিষয়গুলোও সামনে নিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে সরকার বলছে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ারের কথাও বলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত ভূমি কমিশন আইনের ২৩টি সংশোধনী প্রস্তাবের আলোকে ভূমি কমিশন আইনে সংশোধনী আনা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ যদি আরও আগে নেওয়া হতো তাহলে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত এ পরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি গঠন করা হয়নি। ফলে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। কার্যপ্রণালিবিধি না থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিষদের কাজের সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় দায়বদ্ধতাও অনুপস্থিত। অসম্পূর্ণ বিধিবিধানের জন্য সব ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব দুর্বলতা অতিসত্বর দূর করে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় গতিশীলতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে।
পাঁচ বছর অন্তর পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও প্রায় ২০ বছর ধরে এগুলো অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের দলীয় লোকদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না। পরিষদগুলো মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি নেই। অন্যদিকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাও এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ জেলা পরিষদ গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ও সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা।
বর্তমানে চুক্তি বাস্তবায়ন অতি জরুরি এ কারণে যে, বিশ্বায়নের যুগে সমাজ, রাজনীতি ও পরিবেশ পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গেলে চুক্তিটির মৌলিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে!
তা ছাড়া চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার না দিয়ে যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কেবল সমন্বিত গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত, স্ট্রাটেজিক ম্যানেজমেন্ট ফোরাম গঠন কিংবা পার্বত্য জেলাগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাস, আঞ্চলিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড অথবা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহন করে পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। তাই সরকারের এ ধরণের কর্মপরিকল্পনা পাহাড়ের মানুষজনকে আবারও উৎকণ্ঠিত করে তুলেছে। পাহাড়ে যেন আর নতুন করে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
পরিশেষে বলতে চাই, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে আর কালক্ষেপণ না করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি করে দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন করা হোক।
ইলিরা দেওয়ান: মানবাধিকারকর্মী।
ilira.dewan@gmail.com

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি পরমাণু চুক্তি করা দরকার। এ ক্ষেত্রে সিনেটের সহযোগিতা করা উচিত।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে চুক্তি হওয়ার কথা চলছে তাতে উভয় দেশের পরমাণু অস্ত্রের মজুদ কমানো এবং একে অন্যের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ওবামা বলেছেন, তাঁর বিশ্বাস কোনো রকম বাধা ছাড়াই বিষয়টি মার্কিন পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে।
ওবামা বলেন, পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সমর্থন হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে না।
এ চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে ওবামা প্রশাসনকে সিনেটের কমপক্ষে ৬৭টি ভোট পেতে হবে। এ কোটা পূরণ করতে বিরোধী রিপাবলিক দলের কমপক্ষে আটটি ভোট দরকার হবে।
তবে ওবামা মনে করেন রিপাবলিকানরা এ ক্ষেত্রে তাঁকে সমর্থন দেবেন।

তদন্ত প্রতিবেদন ফাঁস ক্ষুব্ধ নিহতদের স্বজনেরা

চালকের তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণে ভারতে গত মে মাসে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার ফাঁস হয়ে পড়া তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ম্যাঙ্গালোরে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানের ১৫৮ যাত্রী নিহত হন। ফাঁস হয়ে পড়া তদন্তের ব্যাপারে সরকার বা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। গত বৃহস্পতিবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর তারা এ ব্যাপারে মন্তব্য করবে।
এয়ার ক্র্যাশ ভিকটিমস ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জয়াসিমহা শেট্টি বলেন, দুর্ঘটনার জন্য নীতিগতভাবে এয়ার ইন্ডিয়াই দায়ী।

ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১২

ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গতকাল শুক্রবার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ১২ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ায় তৈরি হেলিকপ্টারটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে আসামের গুয়াহাটিতে যাচ্ছিল।

কিডনিতে রেডিও ওয়েভ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারে

কিডনিতে হালকা রেডিও ওয়েভ দিলে উচ্চ রক্তচাপ কমতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে কিডনির সঙ্গে সংযুক্ত এমন স্নায়ুকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে এ ফল পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এ দাবি করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার আইডিআই হার্ট অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা এ গবেষণা করেছেন। গবেষণার ফল দ্য ল্যান্সেট সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন এ চিকিৎসা-পদ্ধতিতে হাজার হাজার মানুষকে রোগমুক্ত করা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ খাওয়ার পরও অর্ধেকের মতো রোগী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তাঁদের কেউ কেউ নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় এমনটি হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে ওষুধ সামান্য প্রভাব ফেলেছে।
উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। ব্রিটেনে প্রতি তিনজনে একজন এ রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন চিকিৎসা-পদ্ধতিতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হঠাৎ হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে আসবে।
নতুন চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকেরা এখন এ পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপদ দিকটি পরীক্ষা করে দেখছেন।
গবেষণায় কিডনির সঙ্গে সংযুক্ত স্নায়ুকে বিচ্ছিন্ন করতে ক্যাথেটার নামক একটি লম্বা ও সরু টিউব ব্যবহার করা হয়েছে। ওই তারটি কুঁচকিতে ধমনির মধ্য দিয়ে কিডনির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর বাইরে থেকে একটি যন্ত্রের সাহায্যে ওই তারটিতে রেডিও ওয়েভ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে হালকা রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে ধমনির মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক ছোট ছোট স্নায়ু আলাদা করে ফেলা হয়। দেখা যায়, কিডনির ধমনিতে থাকা ক্ষতিকারক স্নায়ুগুলো অপসারণের ফলে রক্তচাপ কমেছে।

মিয়ানমারের রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে বান ও সু চির আহ্বান

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি সে দেশের সব রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে সামরিক জান্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে আলাপকালে তাঁরা এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার কমিটির অভিযোগ, মিয়ানমারের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচন ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ হয়নি। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও ওই কমিটি অভিযোগ তুলেছে। চীন জোরালোভাবে ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বান কি মুন ও সু চির মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় তাঁরা মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দীকে শিগগির মুক্তি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশটির সাধারণ মানুষ যাতে বিনা বাধায় জাতীয় ঐক্যের পথে যেতে পারে এবং এর মাধ্যমে মিয়ানমারে যাতে গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়, এ কারণে তাঁদের মুক্তি দেওয়া দরকার বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। সু চি জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানান, বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ১০০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বন্দী রয়েছেন। তাঁদের মুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি বৃহস্পতিবার মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রস্তাব উত্থাপন করে, এতে রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, মিয়ানমারে ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ হয়নি। সেখানে এখনো বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শিশুদের জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হচ্ছে। জোর-জুলুম চলছে সাধারণ মানুষের ওপর। ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডাসহ জাতিসংঘের ৯৬টি সদস্য দেশ এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মিয়ানমার, চীন ও রাশিয়াসহ মোট ২৮টি দেশ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ৬০টি দেশ মতামত দেয়নি।
এ প্রস্তাব উত্থাপনের তীব্র সমালোচনা করে চীন বলেছে, ‘অঙ্গুলি নির্দেশ করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।’ চীনের প্রতিনিধি বলেন, এ প্রস্তাবে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সরকারের শুধু সমালোচনাই করা হয়েছে। এতে উন্নয়নের প্রসঙ্গ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি মিয়ানমারের নির্বাচন দেওয়ার জন্য জান্তার প্রশংসা করেন। মিয়ানমারের প্রতিনিধি ওই প্রস্তাবের খসড়াকে ‘ভয়ানক ভুলে ভরা’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত বছর মিয়ানমার সফর করার সময় সু চির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে জান্তা তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের অন্যতম উপদেষ্টা বিজয় নামবিয়ার নির্বাচনের আগে মিয়ানমার সফর করতে চাইলে তাঁকেও সে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সৌদিকে সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া

সৌদি আরবে ইন্দোনেশিয়ার নারী গৃহকর্মীকে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদনের তদন্ত দাবি করেছে ইন্দোনেশিয়া।
গতকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ৩৬ বছর বয়সী কিকিম কমালাসারি নামে ইন্দোনেশিয়ার এক নারী গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা করে নর্দমায় ফেলে দিয়েছে তাঁর চাকরিদাতারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আরেক গৃহকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাঁর নাম সুমিয়াতি বিন্তি সালান। মদিনার একটি হাসপাতাল থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিন্তির মুখে গভীর ক্ষত রয়েছে। ঠোঁট কেটে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনো এ নির্যাতন অমানবিকতাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি তদন্ত দল সৌদি আরবের আভায় পাঠানো হয়েছে। আমি আশা করছি, আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’

জার্মানিগামী বিমান থেকে সন্দেহজনক বোমা উদ্ধার

নামিবিয়ায় জার্মানিগামী একটি বিমান থেকে সন্দেহজনক বোমাভর্তি একটি সুটকেস উদ্ধার করা হয়েছে। জার্মানিতে হামলার উদ্দেশ্যে ওই বোমা পাঠানো হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী বার্লিনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করে সতর্কতা জারির একদিন পর গত বৃহস্পতিবার জার্মান পুলিশ এ তথ্য জানায়।
জার্মানির ফেডারেল পুলিশের দপ্তর (বিকেএ) এক বিবৃতিতে জানায়, নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকের প্রধান বিমানবন্দরে মিউনিখগামী বিমান থেকে গত বুধবার একটি সুটকেস উদ্ধার করা হয়। ওই সুটকেসের মধ্যে ব্যাটারির সঙ্গে তারযুক্ত ডেটোনেটর ও ঘড়ি পাওয়া গেছে। মিউনিখে পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এটি বিমানে তোলা হয়।
নামিবিয়ার পুলিশ সূত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানায়, তারা প্লাস্টিকে মোড়ানো ল্যাপটপের একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে। এতে তার ও ঘড়ি ছিল। নামিবিয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক সেবাস্তিয়ান এনদেইতুঙ্গা বলেন, ‘ব্যাগে কোনো ট্যাগ (ব্যাগ চিহ্নিত করার নির্দেশক) ছিল না। এটি কারও লাগেজ থেকে আলাদা হয়ে পড়ে থাকতে পারে।’
বিমানটি নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর মিউনিখের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা এয়ার বার্লিনের ওই বিমানটি নিরাপদেই মিউনিখে পৌঁছায়।
এয়ার বার্লিনের একজন মুখপাত্র জানান, ওই ব্যাগ ট্যাগযুক্ত না থাকায় তা কোথায় পাঠানো হচ্ছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কোনোভাবে এটি মিউনিখগামী বিমানে ওঠানো হয়ে থাকতে পারে। নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা পর ২৯৬ জন যাত্রী ও ১০ জন ক্রু নিয়ে বিমানটি নিরাপদেই মিউনিখ পৌঁছায়।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাগটি সুপরিকল্পিতভাবে মিউনিখগামী বিমানে তোলা হয়েছে। এর পক্ষে বেশ কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’
এদিকে ইতিমধ্যেই জার্মানিতে সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির বিভিন্ন রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম চুল্লি নির্মাণ করছে উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া তার ইয়ংবায়ুন স্থাপনার কাছে নতুন একটি পরমাণু চুল্লি তৈরি করছে। এই চুল্লিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করা যাবে।
ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআই) নামের একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ডেভিড অলব্রাইট জানান, উত্তর কোরিয়া যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহূত প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করতে চায়, তাহলে দেশটি এখান থেকেই তা উৎপাদন করতে পারবে।
হালকা পানির চুল্লি ছাড়াও (এলডব্লিউ) নিম্ন শক্তির ইউরেনিয়াম ব্যবহার করেও দেশটি এখান থেকে অনায়াসে প্লুটোনিয়াম তৈরি করতে পারবে। এই প্লুটোনিয়াম দিয়ে ছয় থেকে আটটি পরমাণু বোমা তৈরি করা যাবে।
সম্প্রতি ইয়ংবায়ুন স্থাপনা ঘুরে আসা দুজন মার্কিন গবেষকের সহযোগিতায় ডিজিটাল গ্লোব নামের একটি স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন ওই চুল্লির ছবি তোলে।
প্রায় এক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পামাণু কর্মসূচি আবর্তিত হয়েছে এই ইয়ংবায়ুন স্থাপনাকে ঘিরে।
পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসার বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য ২০০৮ সালে উত্তর কোরিয়া আকস্মিকভাবে ইয়ংবায়ুন পরমাণুচুুল্লিটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। চুল্লিটি ধ্বংস করার দৃশ্য তখন পশ্চিমা টেলিভিশনে গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করা হয়। আর নতুন এই চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে ঠিক এই এলাকাতেই।
আইএসআই মনে করছে, এই চুল্লি সচল রাখতে বছরে কয়েক টন ইউরেনিয়াম লাগতে পারে।
এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা নতুন চুল্লি নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উত্তর কোরিয়া নতুন করে কোনো পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছে কি না, সেটিও তারা খেয়াল করছে।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সুইডেনের একটি আদালত। ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন। জুলিয়ানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হতে পারে।
বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য বিব্রতকর তথ্য ফাঁসের জন্য আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস। গত অক্টোবরে উইকিলিকস ইরাকে মার্কিন দখলদারিসংক্রান্ত প্রায় চার লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে। এর আগে জুলাইয়ে প্রকাশ করে আফগান যুদ্ধ বিষয়ে মার্কিন বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি গোপন নথি।
স্টকহোম জেলা আদালতের বিচারক অ্যালান কামিটজ বলেন, ‘আদালতে হাজির না হওয়ায় জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’
পরোয়ানা জারির আবেদন করে সুইডেনের কৌঁসুলি মেরিয়েন নাই এক বিবৃতিতে বলেন, জুলিয়ানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, এই পরোয়ানায় তাঁকে গ্রেপ্তার সম্ভব না হলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি করা হবে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ (৩৯) তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরাক ও আফগান যুদ্ধের গোপন নথি প্রকাশ করায় তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। জুলিয়ানের আইনজীবী মার্ক স্টিফেন জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতে যাবেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার জুলিয়ান ব্রিটেনে ছিলেন।

ইরান, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের নিন্দা করে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

ইরান, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব পাস করেছে। দেশ তিনটি এ প্রস্তাব পাসের তীব্র সমালোচনা করেছে।
ইরান সমালোচনা করে বলেছে, এ প্রস্তাবের মূল হোতা ব্রিটেন এবং ব্রিটেন হচ্ছে ‘শয়তানের যুক্তরাজ্য’।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া বলেছে, এ প্রস্তাবে সে দেশের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। মিয়ানমার বলেছে, এ ধরনের ভোট ‘ভয়াবহ ত্রুটিপূর্ণ’।
জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্রের দূত সুসান রাইস বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ তিনটিকে নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যের প্রতিই শ্রদ্ধা জানিয়েছে সদস্যদেশগুলো।
জাতিসংঘের কানাডীয় দূত জন ম্যাকনি বলেছেন, ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শারীরিক নির্যাতন, পাথর ছুড়ে কিংবা শ্বাসরোধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধে আন্তর্জাতিক আহ্বানকে পাত্তাই দিচ্ছে না তেহরান।
ইরানের উচ্চ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান জাভেদ লারিজানি বলেছেন, এ ধরনের প্রস্তাব পাস বিশ্বের শান্তি ও সহাবস্থানের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র পশ্চিমা গণতন্ত্রের প্রতিকৃতি কিংবা ফটোকপি নয়, এটাই আমাদের অপরাধ। যা-ই হোক, আমরা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র চাই না।’
লারিজানি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে ইরানে নির্বাচনোত্তর বিক্ষোভের সময় ব্রিটেন গোয়েন্দা প্রতিনিধি পাঠায়। ওই প্রতিনিধি ইরানের এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, ব্রিটেন ‘শয়তানের যুক্তরাজ্য’। ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ৮০ ভোট ও বিপক্ষে ৪৪ ভোট পড়ে। ভোটদানে বিরত থাকে ৫৭ সদস্য।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ায় শারীরিক নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত শাস্তি ও কারাদণ্ড এবং প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১০০ ভোটে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়।
জাতিসংঘের উত্তর কোরিয়ার উপরাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবকে ‘ভুয়া’ মন্তব্য করে বলেছেন, পিয়ংইয়ংকে জোর করে তার অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব হবে না।
মিয়ানমারে বেসামরিক লোকদের ওপর নির্যাতন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ৯৬টি ভোট পড়েছে, বিপক্ষে পড়েছে ২৮ ভোট। ভোটদানে বিরত ছিল ৬০ সদস্য। এ প্রস্তাব পাসের সমালোচনা করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত থান শোয়ে বলেছেন, ‘এটি ভয়ানক ত্রুটিপূর্ণ’।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডায়াবেটিস রোগী চীনে

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডায়াবেটিস-আক্রান্ত লোকের দেশ চীন। সে দেশে নয় কোটি ২৪ লাখ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে এদের মধ্যে ৬১ শতাংশ লোক তাদের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানে না। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ কথা জানায়।
প্রতিবেদনে চীনা ডায়াবেটিস সোসাইটির প্রধান জি লিনোংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দুর্বল জনসচেতনতা কার্যক্রম ও সীমিতসংখ্যক প্রাথমিক শনাক্তকারী সেবাব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ডায়াবেটিস-আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে প্রতিবছর চিকিৎসা খাতে মোট যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তার ১৩ শতাংশ (আড়াই হাজার কোটি ডলার) ব্যয় হয় ডায়াবেটিস-আক্রান্তদের পেছনে।
জি লিনোং বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে এ ব্যয়ের পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে।

হংকংয়ে ভূমিকম্প

হংকংয়ে গতকাল শুক্রবার ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ২ দশমিক ৮। এর উৎপত্তিস্থল ছিল হংকংয়ের ৩০ কিলোমিটার উত্তরে চীনের শেনজেন শহরের কাছে। স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড।
হংকংয়ের অবজারভেটরি জানায়, দেশে বছরে এক কিংবা দুইবার ভূমিকম্প হয়। তবে এ পর্যন্ত ভূমিকম্পে সেখানে কারও মৃত্যু হয়নি।

দুর্নীতি তদন্তে ‘নিষ্ক্রিয়তা’র ব্যাখ্যা চেয়ে মনমোহনকে আদালতের নোটিশ

দুর্নীতির ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নোটিশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নোটিশে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজার দুর্নীতির ব্যাপারে কথিত নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আজ শনিবারের মধ্যে আদালতে এই ব্যাখ্যা উপস্থাপনের নির্দেশ জারি করা হয়।
মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এ জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ সৎ হিসেবে তাঁর ভাবমূর্তি।
বিরোধী দল জনতা পার্টির (জেপি) সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বৃহস্পতিবার এই নোটিশ জারি করেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শুক্রবার ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যে রাজ্যসভা ও লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত রোববার মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন এ রাজা। তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সাংসদ সুব্রামানিয়াম স্বামী আদালতে অভিযোগ করেন, এ রাজার দুর্নীতির ব্যাপারে ২০০৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লিখিতভাবে জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল গোপাল সুব্রামানিয়াম অবশ্য গত বৃহস্পতিবার আদালতে সাংসদ সুব্রামানিয়ামের অভিযোগ নাকচ করে দেন।

ছায়াপথের বাইরে সৃষ্টি হওয়া গ্রহের সন্ধান!

পৃথিবীর ছায়াপথ মিল্কিওয়ের বাইরে সৃষ্টি হওয়া প্রথম গ্রহের সন্ধান পাওয়ার কথা দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির চেয়ে বড় নতুন এই গ্রহটি এক সময় কোনো ছোট ছায়াপথের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে তা পৃথিবীর ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে চলে আসে। সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ এসব তথ্য তুলে ধরেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা জানান, নতুন সন্ধান পাওয়া গ্রহটি এইচআইপি ১৩০৪৪ নামের একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। পৃথিবী থেকে গ্রহটি দুই হাজার আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি থেকে একটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই গ্রহের সন্ধান পান।
এর আগে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরে প্রায় ৫০০ গ্রহের সন্ধান পান। তবে সেগুলো পৃথিবীর নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়ে থেকেই সৃষ্টি হওয়া বলে জানান বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানান, নতুন গ্রহটি বৃহস্পতির চেয়ে অন্তত সোয়াগুণ বড়। গ্রহটি খুব কাছে থেকেই মৃতপ্রায় নক্ষত্র এইচআইপি ১৩০৪৪-এর চারদিকে ঘুরছে। ১৬ দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিয়ে গ্রহটি ওই নক্ষত্রকে একবার ঘুরে আসে।
জার্মানির হাইডেলবার্গ ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির রেইনার ক্লেমেন্ট বলেন, এই গ্রহের সন্ধান পাওয়ায় আমরা রোমাঞ্চিত। ব্রিটেনের রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির রবার্ট ম্যাসে বলেন, ‘বিজ্ঞানীরা এই প্রথম আমাদের ছায়াপথের বাইরে সৃষ্টি হওয়া গ্রহের বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন।’ তিনি বলেন, বিষয়টি বিশ্বাস করার মতো অনেক কারণ রয়েছে। মিল্কিওয়ের বাইরেও লাখ লাখ ছায়াপথ রয়েছে।

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হতে হবে: মেদভেদেভ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে একটি আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক সহযোগী সের্গেই প্রিখোদকোর বরাত দিয়ে রাশিয়ার একটি বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানায়।
প্রিখোদকোর বলেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার গুরুত্ব নিয়ে মেদভেদেভ বৈঠকে আলোচনা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে ইরানের বুশেহেরে যৌথ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার প্রসঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়।
বৈঠক শেষে প্রিখোদকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধের বাইরে আমরা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

আড়ালে থাকা দৃশ্যের ছবি তুলবে নতুন ক্যামেরা!

কোণের আড়ালে দৃষ্টির বাইরে থাকা অংশেরও ছবি তুলতে পারে, এমন একটি ক্যামেরা উদ্ভাবন করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার জন্য তৈরি মডেল ক্যামেরাটি সামনের দৃশ্যকে আলোকিত করে তুলতে তীব্র কিন্তু অতি সংক্ষিপ্ত লেজার আলোর ঝলকানি ব্যবহার করে।
ক্যামেরাটি এর চারপাশ থেকে প্রতিফলিত হওয়া ক্ষুদ্র মাত্রার আলো সংগ্রহ করে পরিপার্শ্বের একটি সাদামাটা চিত্র তৈরি করে। এর মধ্যে থাকে দেয়াল বা দরজার আড়ালে থাকা কোণের অন্য পাশের বস্তু বা দৃশ্যও।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা এটি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতায় এবং রোবটের চোখে দৃষ্টি দিতে এটি কাজে লাগতে পারে।
এমআইটির মিডিয়া ল্যাবের ‘ক্যামেরা কালচার’ গ্রুপের প্রধান ও গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক রমেশ রাস্কার বলেন, ‘এটা হচ্ছে এক্স-রে ব্যবহার ছাড়াই এক্স-রে দৃষ্টিশক্তি অর্জন করার মতো।’ তিনি বলেন, তিন বছর আগে অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে বলেছিলেন, এটা করা অসম্ভব।
একটি ঘরের সমান আকারের ক্যামেরাটির মূল বিষয় হচ্ছে একটি ফেমটোসেকেন্ড লেজার (উচ্চক্ষমতার আলোর উৎস), যা অতি ক্ষুদ্র আলোর বিচ্ছুরণ করতে পারে। ওই আলোর ছটার স্থায়িত্ব মাত্র ০ দশমিক ০০০০০০০০০০০০০০১ সেকেন্ড। পারমাণবিক মাত্রায় প্রতিক্রিয়ার মাপজোক করতে রসায়নবিদেরা এই আলোর উৎসটি ব্যবহার করে থাকেন। সামরিক অনুসন্ধানী বিমানও কিছুটা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ক্যামেরা থেকে বিচ্ছুরিত আলো চারপাশে ঘুরতে ও প্রতিফলিত হতে থাকে। ঘটনাস্থলে কোনো কোণ থাকলে তা এড়িয়ে অন্যদিকেও কিছু আলো যাবে। সব আলোই আবার প্রতিফলিত হয়ে ক্যামেরার সেন্সরে ফিরে আসবে। এ থেকেই ক্যামেরাটি সংগ্রহ করবে লেন্সের আড়ালে থাকা বস্তুর কাঠামো। এ প্রক্রিয়ায় আলোর বিচ্ছুরণের সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গবেষকেরা বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো বেশ কিছু গবেষণার প্রয়োজন আছে। আর এটিকে বহনযোগ্য আকারে আনতে সময় লাগবে। তাঁরা এ প্রযুক্তি দিয়ে অগ্রসর ধরনের এনডোস্কোপ তৈরির কথা ভাবছেন।

মরিনহোর চ্যালেঞ্জ চেলসির চোট

রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহো-কারিশমার শুরু মৌসুমের শুরুতেই। ১১ ম্যাচে ৯টি জয় ও ২ ড্রয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে স্প্যানিশ লিগের শীর্ষে তাঁর দল। তবে পর্তুগিজ কোচের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা সম্ভবত সামনেই। সেটা ‘এল ক্লাসিকো’। রিয়াল-বার্সার ধ্রুপদি লড়াই। এই লড়াইয়ের আগে ‘ছোট্ট’ একটা চ্যালেঞ্জ আছে মরিনহোর—শীর্ষে থেকেই এল ক্লাসিকো খেলতে যাওয়া। আর এর জন্য আজ অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে জিততে হবে। আজ মাঠে নামছে বার্সেলোনাও। আলমেরিয়ার মাঠে যাচ্ছে কাতালানরা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কার্লো আনচেলত্তির শুরুটাও হয়েছিল রিয়ালের মতোই। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে আনচেলত্তির দলও। তবে সর্বশেষ লিগ ম্যাচে তালটা কেটে গেছে। সান্ডারল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেছে চেলসি। হঠাৎই এই তাল কেটে যাওয়ার অন্যতম কারণ চোট। আজ আবার বার্মিংহামের বিপক্ষে ম্যাচ ‘ব্লু’দের। এ ম্যাচের আগেও আনচেলত্তির সমস্যা সেই চোট। মূল দুই ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ও টেরিকে পাচ্ছেন না তিনি।

গেইলের কীর্তি

কেউ তাকিয়ে ছিল ব্যাকুলতার শিহরণ নিয়ে—নতুন ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার অপেক্ষায়। ‘রেকর্ডটা লারার সঙ্গেই মানায় ভালো’—এ মতের বিশুদ্ধবাদীরা একটু শঙ্কাতেই ছিলেন। যে শঙ্কায় হয়তো ছিলেন খোদ ব্রায়ান লারাও। তবে সবচেয়ে বড় শঙ্কায় ছিল শ্রীলঙ্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে আরেকবার মুরালি-শূন্যতা মুছে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা জানানো অজন্তা মেন্ডিস সেই শঙ্কার কথা লুকোলেন না, ‘ও এতটাই ভালো খেলছিল, আমি তো ভেবেছিলাম দ্বিতীয় দিনে ওর ৪০০ হয়ে যাবে।’
না, হয়নি। লারাকে নিশ্চিন্ত করে ক্রিস গেইল আউট হয়েছেন ৩৩৩ রানে। প্রাপ্তি বলতে প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান হিসেবে দেশের বাইরে ট্রিপল সেঞ্চুরি আর ব্র্যাডম্যান-লারা-শেবাগদের জোড়া ত্রিশতকের কীর্তিতে ভাগ বসানো। গেইলের হয়েও না হওয়ার এই টেস্ট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজও জিততে পারেনি। শ্রীলঙ্কাকে ফলোঅন করিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই ছাড়তে হয়েছে গলের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।
শ্রীলঙ্কা এরপর প্রকৃতিকে ধন্যবাদ জানাতে পারে। ম্যাচের শেষ তিনটা দিনই বৃষ্টি আর আলোকস্বল্পতা ক্ষণে ক্ষণে বাগড়া দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫৮০ রানের বিশাল বোঝা মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় দিন থেকেই ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ২০২ রানের ঘাটতি নিয়ে অলআউট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে চতুর্থ দিনের চা-বিরতি সমাগত। পারানাভিতানা আর দিলশান মিলে চতুর্থ দিনটা পার করেছেন কোনো উইকেট না হারিয়েই। গত পরশু চতুর্থ দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৮৯/০।
চার ইনিংস পর ফিফটির দেখা পাওয়া দিলশান কাল পঞ্চম দিনের পঞ্চম ওভারে আউট হয়ে যান, একটু পরে অধিনায়ক সাঙ্গাকারাও ৪ রানে ফিরে গেলে আশার আলো দেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত আড়াই বছরে মাত্র দুটি টেস্ট জয়—শ্রীলঙ্কায় প্রথম জয় দিয়ে কি ঘুচবে এই খরা!
দিনের খেলা তখনো ৮৩ ওভারের মতো বাকি। ৯২ রানে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা। সাঙ্গাকারার বিদায়ের আগেই অবশ্য ফিফটি তুলে নিয়েছেন পারানাভিতানা। শেষ পর্যন্ত এই পারানাভিতানার ৯৫ আর ম্যাচে মাহেলা জয়াবর্ধনের দ্বিতীয় ফিফটি বিপদ কাটিয়েছে শ্রীলঙ্কার। প্রকৃতির আশীর্বাদও জুটেছে। অন্যদিকে ধারহীন বোলিং আর বাজে ফিল্ডিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাহাজ আটকে ফেলেছে বন্দর থেকে অনেক দূরেই। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শ্রীলঙ্কার লিড যখন ৩৯, তখনই আরেক দফা বৃষ্টি ম্যাচের কপালে লিখে দিয়েছে ‘ড্র’।
তার পরও একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ১৭৬ রানে অলআউট হয়ে সফর শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ম্যাচে চমকে দিয়েছে অবশ্যই। তবে এই ঘুরে দাঁড়ানো দেখে কুমার সাঙ্গাকারা বিস্মিত নন বলেই জানালেন। লঙ্কান অধিনায়ক কাল ম্যাচ শেষে বরং নিজের দলের বোলারদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দিলেন। আর টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে গলেই অভিষিক্ত ড্যারেন স্যামি জানালেন, এই ম্যাচ থেকে তাঁরা পেয়েছেন আগামী দিনের লড়াইয়ের রসদ।

অন্য নিউজিল্যান্ডকে দেখছে ভারত

বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে নিউজিল্যান্ড যখন ভারতে পৌঁছাল, তাদের জন্য করুণাও বোধ করছিল কেউ কেউ। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল ভারতের হাতে পড়ে নিউজিল্যান্ড কেমন নাস্তানাবুদই না হবে! সফরের দুই টেস্ট পার হয়ে গেছে। এখন উল্টো ভারতের জন্য অনেকের করুণা হচ্ছে।
আজ শুরু হতে যাওয়া নাগপুর টেস্ট ভারত কোনোভাবে হেরে গেলে তো কেলেঙ্কারির সীমা নেই; এই টেস্টও ড্র হলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে সিরিজ ড্র করারটাও কম অগৌরবের ব্যাপার হবে না ভারতের জন্য।
নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স এবং নিজেদের বোলারদের ব্যর্থতা এমনিতেই ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের ব্যাপার। তারপর আবার নাগপুর টেস্টে থাকছেন নতুন বলের এক নম্বর বোলার জহির খান। নাগপুর টেস্টের শেষ দিনে মাত্র ওভার তিনেক বল করার পরই কুঁচকির ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। এ খবরে আনন্দ পেতে পারে নিউজিল্যান্ড।
ভারতকে দুই টেস্টে আটকে দিয়ে বিশেষ করে হায়দরাবাদ টেস্টে পেছন থেকে উঠে এসে ম্যাচ ড্র করে যারপরনাই আনন্দিত নিউজিল্যান্ড কোচ মার্ক গ্রেটব্যাচ, ‘এই খেলাটায় (হায়দরাবাদে) আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। তারপর প্রতিটি বল, প্রতিটি ওভার, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি সেশন আমরা লড়াই করেছি। ভারত যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, আমরা সেটার বিপক্ষে লড়াই করাটা এখন উপভোগ করছি।’
গ্রেটব্যাচের এই উপভোগের আনন্দ মূলত ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কৃতিত্বে। ৪ উইকেটে ২৩৭ রান নিয়ে হায়দরাবাদ টেস্টের শেষ দিনে ব্যাট করতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড; ১২৪ রান নিয়ে ম্যাককালাম ও ১২ রান নিয়ে কেন উইলিয়ামসন ছিলেন উইকেটে। তখন নিউজিল্যান্ডের লিড মাত্র ১১৫ রানের, মানে ভারত তখনো জয় দেখছিল।
সেই ‘জয়’ দূরে সরিয়ে দেয় পঞ্চম উইকেটে ম্যাককালাম-উইলিয়ামসনের ১২৪ রানের জুটি। ১৪৬ বলে ৯টি চারসহ ৬৯ রান করে উইলিয়ামসন হরভজনের বলে আউট হওয়ার পর অধিনায়ক ভেট্টোরিকে (২৩) নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন ম্যাককালাম। শেষ পর্যন্ত সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে শ্রীশান্তের বলে আউট হওয়ার আগে ৩০৮ বলে ২২টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো ক্যারিয়ার-সেরা ২২৫ রানের ইনিংস খেলে যান তিনি।
ম্যাককালাম যখন আউট হন, তখন নিউজিল্যান্ডের বিপদ কেটে গেছে। ৮ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন ভেট্টোরি। ৩২৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দিন শেষে বিনা উইকেটে ৬৮ রান তোলে ভারত, আবারও ফিফটি করে অপরাজিত থেকে যান শেবাগ।
ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্টের এই ছবিকে কেউ বোলারদের ব্যর্থতা বলতে পারে, কেউ বলতে পারে ব্যাটসম্যানদের সাফল্য। এই সফল ‘ব্যাটসম্যানদের’ অন্যতম, দুই টেস্টে দুই সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি করা ‘আট নম্বর’ হরভজন সিং সব কৃতিত্ব দিচ্ছেন কিউরেটরদের। তিনি বলছেন, আগে তবু ভারতে টেস্টের শেষের দিনগুলোয় স্পিনাররা একটু সহায়তা পেতেন, এখন পেসার-স্পিনার কারও জন্য উইকেটে কিছু থাকছে না।
উইকেটের সমালোচনায় মুখর হরভজন নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, ‘এই উইকেটে আমাদের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানও শচীন টেন্ডুলকারের মতো খেলবে।’
আর পরিস্থিতির কোনো উন্নতিও আশা করতে পারছেন না সর্দারজি। তার পরও নাগপুর টেস্টে হরভজন কিছু কি আশা করছেন না? করছেন, টেন্ডুলকারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যেটির বোঝা শুরু থেকেই মাথায় বইছে সিরিজটি, ‘আশা করি, শচীন টেন্ডুলকার ওর ৫০তম সেঞ্চুরিটা পাবে। আমি আরেকটা সেঞ্চুরি পাব এবং ৭-৮ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচ জেতাব।’

ইতিহাস- 'প্রত্যন্ত জনপদে ইতিহাস-সঙ্গী হয়ে' by সাযযাদ কাদির

পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ছড়াকার বিনয় দেব ১৩৫০ বঙ্গাব্দ তথা ১৯৪৩ অব্দের মন্বন্তরের ভয়াবহতার কিছু উলেস্নখ করেছেন তাঁর স্মৃতিকথা "যা মনে আসে" ('গ্রন্থসাথী', অক্টোবর ২০১০)-র বিভিন্ন অংশে। ওই সময়ে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করে তিনি চেয়েছিলেন সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হতে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে তা হতে দেননি পিতা। বিনয় দেব লিখেছেন, "ঃ এমন সময় আমার খুলস্নতাত যিনি ফরিদপুর জেলার গোঁসাইরহাটে বঙ্গীয় সরকারের অধীনেঃ ছিলেন, আমাকে সেখানে চলে যেতে বলেন। আমার মন আনন্দে ভরে উঠল। মনে হল, এবার হয়ত আমি পথের নিশানা পাব।

তাই বলে ১০ উইকেটে হার!

পাকিস্তানি মেয়েদের সামনে বাংলাদেশের মেয়েরা। সার বেঁধে দুই দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া হলো পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে। পাকিস্তানি মেয়েরা গলায় পরল সোনার পদক। বাংলাদেশের মেয়েদের গলায় রুপা। এত দিন দেখে আসা স্বপ্নের ঠিক বিপরীত দৃশ্য।
এশিয়ান গেমসে এবারই অন্তর্ভুক্ত ক্রিকেটে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দল পাঠায়নি। বাংলাদেশ সোনার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর আগে পাকিস্তানকে একবার হারানোর সুবাদে স্বপ্ন দেখাটা অমূলকও ছিল না। কিন্তু গুয়াংজুতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে হতাশায় মুড়ে দিল কালকের ফাইনাল।
এশিয়াডে রুপা জেতা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। কিন্তু মহিলা ক্রিকেট দল ‘বিশাল অর্জনের’ তৃপ্তিতে কি আচ্ছন্ন হতে পারছে? সোনা জেতার সুযোগ এটিই প্রথম এবং এটিই শেষ! আগামী এশিয়ান গেমসে ভারত ও শ্রীলঙ্কার উপস্থিতিতে সোনার স্বপ্ন দেখতেই তো অনেক সাহস লাগবে। আজকের শিক্ষানবিশ চীন-জাপানও যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে না, কে বলতে পারে!
ভবিষ্যতের কথা তোলা থাক, চোখ ফেরানো যাক কালকের ফাইনালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০ ওভারে মাত্র ৯২ রান তুলেই বাংলাদেশকে পেছনের পায়ে চলে যেতে হয়েছে। তাই বলে ১০ উইকেটের বিশাল পরাজয় আসবে এরপর? লজ্জা বলা ঠিক না হলেও পরাজয়টা বিব্রতকর তো বটেই। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটের মর্যাদা পাওয়া দল ফাইনালে এমন বেহাল হলো কেন? অধিনায়ক সালমা খাতুন তো বলেছেনই, সহ-অধিনায়ক পান্না ঘোষও একই কারণ দাঁড় করালেন, ‘ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। ওখানেই আমরা হেরে গেছি।’
একটি সূত্রের খবর, ফাইনালের দল নির্বাচন নিয়ে ঠান্ডা লড়াই ছিল কোচ-কর্তাদের মধ্যে। নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড় খেলানোর জন্য কর্তাদের চাপ ছিল বলে ওই সূত্রের দাবি। এ কারণেই কিনা আগের তিন ম্যাচে দলের বাইরে থাকা উদ্বোধনী ব্যাটার আয়েশা এদিন একাদশে। এসব নিয়ে মহিলা ক্রিকেট দলের ম্যানেজার নাকি কান্নাকাটিও করেছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে মাঠের এক পাশে বাংলাদেশ শিবিরে জটলার মধ্যে রেদোয়ান আহমেদের কথাটা কানে বাজল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও মহিলা শাখার প্রধান পেছনে তাকিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে দেখিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, ‘অসুবিধা নেই। অ্যাশ সোনা এনে দেবে।’ মেয়েদের দলের কোচ দীপু রায় চৌধুরীও একই কথা বলছিলেন বারবার, ‘মেয়েরা পারল না। অ্যাশরা পারবে। কী অ্যাশ, পারবে না?’
অ্যাশ মানে আশরাফুল মনের কথা হয়তো গোপনই রেখেছেন। তবে মুখে ছিল প্রত্যয়, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব।’ ২৩ নভেম্বর প্রথম খেলবে আশরাফুলের দল, কাল সকালে গুয়াংজু এসে দুপুরে আশরাফুল একাই এলেন মহিলা ক্রিকেটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে। কেমন দেখলেন? কেন ১০ উইকেটে উড়ে গেল বাংলাদেশ দল? আশরাফুল সালমার দলের ব্যর্থতার চেয়ে পাকিস্তানের মেয়েদের কৃতিত্বকেই দেখছেন বড় করে, ‘ওরা অনেক বেটার। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সব বিভাগেই বাংলাদেশের মেয়েদের পেছনে ফেলেছে।’
তাহলে এত দিনের দেখা স্বপ্ন ও সামর্থ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক ছিল! বাংলাদেশ কোচ দীপু রায় চৌধুরী কিন্তু রুপা জিতেই তাঁর সন্তুষ্টি জানান দিয়ে যাচ্ছিলেন বারবার, ‘টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে টেস্ট না খেলা দেশের সঙ্গে ব্যবধান তো রাখতে পেরেছি আমরা। আমাদের মেয়েদের অভিজ্ঞতা কম। আমি বলব, এত কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা খারাপ করিনি।’
এশিয়াডে রুপা জেতা অবশ্যই সুসংবাদ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য। কিন্তু ভারত, শ্রীলঙ্কা না থাকায় বাংলাদেশ ছাড়া আর কারও পক্ষে রুপা জেতা অসম্ভবই ছিল। চীন, হংকং, জাপানের মেয়েরা এখনো ব্যাটই ধরতে পারে না ঠিকমতো। বল ধরে কই মাছের মতো। একরকম ফাঁকা মঞ্চেই বাংলাদেশ সোনার সুযোগ হারাল। নানা সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তানি মেয়েরা ক্রিকেটীয় চর্চায় বাংলাদেশের চেয়ে খুব একটা এগিয়ে নেই।
অধিনায়ক সানা মীরের কথা, ‘আমাদের দেশে অনেক সমস্যা। ছেলেদের ক্রিকেটই ঠিকমতো চলছে না, আর তো মেয়েদের ক্রিকেট। তবে এই সোনা জয় আমাদের মানসিকভাবে অনেক উদ্বুদ্ধ করবে।’
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল আরিফ হাসান গ্যালারিতে বসে কিছুক্ষণ পরপরই গোটা স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে তুলেছেন ‘পাকিস্তান, পাকিস্তান’ আওয়াজ তুলে। বাংলাদেশ শিবিরে কোনো পতাকা দেখা যায়নি। মাঠের বাইরেও বাংলাদেশ হেরে ছিল!

আন্তর্জাতিক- 'জাতিসংঘ বনাম যুক্তরাষ্ট্র' by শহিদুল ইসলাম

এক.জাতিসংঘের ওপর মানব জাতির আস্থা অপরিসীম। বিশ্বসংস্থা হিসেবে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। বর্তমানে এর সংখ্যা ১৯২টি। বিশ্বের কোথাও কোনো 'ক্রাইসিস' দেখা দিলে মানুষ জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকে তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ সমাধানের জন্য।
জাতিসংঘ অনেক ভালো কাজ করে ঠিক, কিন্তু এর চলার পথের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, জাতিসংঘের ভূমিকা যথেষ্ট বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের ভূমিকা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে জাতিসংঘের জন্ম। ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে। ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। সারা পৃথিবীতে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম তখন তুঙ্গে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আঁচ তেমন গায়ে না লাগলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ইউরোপ তছনছ।

গল্পালোচনা- 'দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ?' by মহসীন হাবিব

তখনকার এথেন্স ছিল সৌন্দর্যের পূজারি। সে সময় একজন মানুষ শুধু শারীরিক সৌন্দর্যের কারণে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠত এথেন্সের সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে। অন্য একজন মানুষ শুধু শারীরিক সৌন্দর্য না থাকায় সমাজে পিছিয়ে পড়ত।
এমনই এক সমাজে, এথেন্সের শহরতলি থেকে উঠে আসেন একজন মানুষ। পেটে গোল একটি ভুঁড়ি, গোল গোল চোখ, রোমশ হাত। অদ্ভুত তাঁর হাঁটার ভঙ্গি। এক কথায় দেখতে ভালো না। কিন্তু শারীরিক সৌন্দর্যের বদলে মেধার সৌন্দর্য দিয়ে তিনি কেড়ে নিলেন সমাজের বিত্তবান, সৈনিক, ব্যবসায়ী, যুবসমাজ_এমনকি শহরের যৌনকর্মীদের মন। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা যুব সম্প্রদায় এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল যে তারা নতুন আলখাল্লা কিনে সেটা ছিঁড়ে পরিধান করত।

স্বাস্থ্য আলোচনা- 'প্রসূতিসেবায় পিছিয়ে দেশ' by শেখ সাবিহা আলম

দেশে জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। সরকারি জেলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠালেও অনেক কেন্দ্রে সেগুলো ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এতে জরুরি প্রয়োজনে সেবা পাচ্ছেন না প্রসূতি মায়েরা, বিশেষ করে গ্রামের মায়েরা। বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। জীবিত শিশু জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ৩২০ জন মা মারা যাচ্ছেন। জাতিসংঘ বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে মাতৃমৃত্যুর হার বেশি, বাংলাদেশ তার অন্যতম।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বন্দিত কান্না, নিন্দিত হরতাল আর রাজকীয় অশ্রুপাতের গল্প' by ফারুক ওয়াসিফ

সেনানিবাসের ছত্রচ্ছায়ার ‘জলপাই’ খালেদা জিয়া আর বেসামরিক পরিবেশের ‘সাধারণ’ খালেদা জিয়ার মধ্যে পার্থক্যটা কেবল বাড়ির নয়, দুটি যুগেরও।

মুহূর্তটা মৌলিক, যার আগের ও পরের মধ্যে জলবিভাজিকা নয়, পাথুরে দেয়াল। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে সম্ভবত এমন কান্নাও এই প্রথম। আগের কান্নাগুলো ছিল স্বামী হারানোর শোকের, সন্তানদের রক্ষা করতে না পারার কষ্টের। কিন্তু অপমান, লাঞ্ছনা আর অক্ষমতার এমন তিক্ত স্বাদ আগে কখনো কি তিনি পেয়েছেন? এই প্রথম তিনি টের পেলেন, জনগণের ঊর্ধ্বে অন্য কারও আশ্রয় তাঁর আর নেই!

খবর- উত্তর কোরিয়ার নতুন পরমাণু প্ল্যান্ট দেখে 'তাজ্জব' মার্কিন বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বিজ্ঞানীদের দুই সদস্যের একটি দলকে নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিশালাকৃতির নতুন একটি প্ল্যান্ট দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

গোপন ওই প্ল্যান্টে ইতিমধ্যে কয়েক শ সেন্ট্রিফিউজ বসানো হয়েছে এবং সেগুলো কাজ করছে। চলতি মাসের শুরুতে ওই বিজ্ঞানীরা প্ল্যান্টটি ঘুরে দেখেন। এ ঘটনায় ওবামা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে এশিয়ার দেশগুলোকে অবহিত করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্র ও শনিবার নিজেদের মিত্র দেশ ও আইনপ্রণেতাদের বিষয়টি অবহিত করেছে তারা। এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো আলাপ-আলোচনা চালাতে চায় ওয়াশিংটন।