Friday, June 20, 2025
ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হলেও ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারেন খামেনি
ইরানের বিভক্ত বিরোধী দলগুলো মনে করে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন শেষ করতে তাদের মুহূর্তটি হয়তো খুব কাছেই। কিন্তু আগের বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা এখনই রাস্তায় নামতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, খামেনির শাসনব্যবস্থা তারা ঘৃণা করেন। তবুও তারা এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণ-অস্থিরতা সৃষ্টি করতে ইচ্ছুক নন। কারণ, তাদের জাতি আক্রমণের মুখে। এ হামলা বন্ধ হলেই খামেনিকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে রাস্তায় নামবেন তারা।
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নির্বাসিত বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নিজেরাই বিভক্ত। কেউ কেউ বিক্ষোভের আহ্বানও জানাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কুর্দি ও বেলুচি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো জেগে উঠতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রায় যে কোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল দেখালেও এর ৪৬ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে যে কোনো সরাসরি চ্যালেঞ্জের জন্য সম্ভবত এক ধরনের জন-অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হবে।
এ ধরনের বিদ্রোহ অদূর নাকি আসন্ন- তা বিতর্কের বিষয়। প্রয়াত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি এই সপ্তাহে মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে চান। চার দশকের মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের এটিই সেরা সুযোগ বলে ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন, এটি আমাদের মুহূর্ত।
তিনি বলছেন, ‘আলী খামেনি ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রই এই অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণ।’ তার দাবি, এটা ‘ইরান ও তার জনগণের লড়াই নয়, এটা হচ্ছে খামেনি ও ইসলামী সরকারের লড়াই।’
রেজা পাহলাভিতে সমর্থন রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। কারণ তিনি বলেছেন, ইসলামিক রিপাবলিককে উৎখাত করাই সমাধান, যা অনেকটাই অমেরিকা ও ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিলে যায়। তিনি রাজপথের আন্দোলন ও ধর্মঘট সমর্থন করেন, যা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়াতে পারে ও অভ্যুত্থানে সহায়ক হতে পারে।
ইসরায়েলের জন্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনা অবশ্যই একটি যুদ্ধ-লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, আমরা তোমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথও পরিষ্কার করছি।
বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্য মোহাম্মদ আমিন প্রায়ই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মোতায়েন থাকেন। তিনি বলেন, কোমে তার ইউনিটকে ইসরায়েলি গুপ্তচরদের নির্মূল এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ইরান ছেড়ে যাওয়ার আগে ছয় বছর কারাগারে কাটিয়েছেন এমন একজন বিশিষ্ট বিরোধী কর্মী আতেনা দায়েমি বলেন, মানুষ কীভাবে রাস্তায় নেমে আসবে? এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে লোকেরা কেবল নিজেদের, তাদের পরিবার, তাদের স্বদেশিদের এবং এমনকি তাদের পোষা প্রাণীদের বাঁচানোর দিকেই মনোনিবেশ করছে।
ইরানের সবচেয়ে আলোচিত মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মদীও একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তেহরানের কিছু অংশ খালি করার ইসরায়েলি ঘোষণার জবাবে তিনি পোস্ট করে বলেছেন, ‘আমার শহর ধ্বংস করো না।’
দুই বছর আগে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষের মধ্যে ইরানে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা আরও দুই কর্মী বলেছেন, তাদেরও এখনো বিক্ষোভ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিরাজের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলেছেন, ‘ইসরায়েলি হামলা শেষ হওয়ার পরে আমরা আমাদের আওয়াজ তুলব। কারণ, এই সরকার যুদ্ধের জন্য দায়ী।
![]() |
| বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং ইনসেটে খামেনি। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলেকজান্ডারও ইরানিদের পরাজিত করতে পারেনি : শি জিনপিং
এদিন সকালে আরেক পোস্টে চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হ্যালো আমেরিকা, তোমার দিকে প্রেতাত্মা ছুটে আসছে।’
আমেরিকাকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বলে তিনি বলেন, ৫০০০ বছরের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, যা আমেরিকা শিখতে অস্বীকার করে। তাদের মনে রাখা দরকার, সাম্রাজ্য শত্রুর কারণে পতন হয় না, তারা তাদের যুদ্ধযন্ত্রের অতৃপ্ত ক্ষুধার নিচে ভেঙে পড়ে।
জিনপিং লেখেন, ‘চীন জানে যে মহাশক্তিগুলো তাদের যুদ্ধযন্ত্রের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।’ তিনি পূর্বেকার রাজবংশের ধ্বংসের ইতিহাস স্মরণ করেন। যুদ্ধবাজ মনোভাব কীভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করেছে তার বর্ণনা দেন।
শি লিখেন, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে শক্তিশালী কিন রাজবংশ যুদ্ধরত রাজ্যগুলোকে একত্র করে। তারা মহান প্রাচীর নির্মাণ করে এবং চীনের প্রথম সম্রাটের কাছে টেরাকোটা সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর করে। কিন্তু সৈন্যদের অবিরাম যুদ্ধে বাধ্য করে এবং সাম্রাজ্যের গৌরবের জন্য জনগণের রক্ত শুষে নেওয়ার পর এই রাজবংশ মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।
অষ্টম শতাব্দীতে পরাক্রমশালী তাং রাজবংশ বিশ্বের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে কর আদায় করত। কিন্তু বিজয়ের নেশায় মত্ত হয়ে এর সেনাবাহিনী মধ্য এশিয়ার গভীরে অভিযান চালায়। যার ফলে সামরিক দলগুলো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পায়। যখন দুর্বল রাষ্ট্র আর তাদের ক্ষুধা মেটাতে পারেনি তখন আন লুশানের বিদ্রোহ রাজধানী চাংআনকে পুড়িয়ে দেয় এবং সাম্রাজ্যকে অপরিবর্তনীয় পতনের দিকে ঠেলে দেয়।
১৩ শতাব্দীতে চেঙ্গিস খানের অজেয় অশ্বারোহী বাহিনী ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে। কিন্তু অবিরাম সম্প্রসারণ সাম্রাজ্যকে যত দ্রুত বিজয় এনে দেয়, তত দ্রুত তা ক্ষয়প্রাপ্ত করে। এটিকে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী রাজবংশগুলোর একটিতে পরিণত করে।
৫০০০ বছরের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, যা আমেরিকা শিখতে অস্বীকার করে। সাম্রাজ্য শত্রুর কারণে পতন হয় না, তারা তাদের যুদ্ধযন্ত্রের অতৃপ্ত ক্ষুধার নিচে ভেঙে পড়ে।
৭৫০টি সামরিক ঘাঁটি দিয়ে বিশ্বকে ঘিরে রাখা এবং প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ধোঁয়ায় উড়ে যাওয়ার সঙ্গে... আপনি (মার্কিন সাম্রাজ্য) কি ইতোমধ্যে আপনার প্যারেডে সেই প্রেতাত্মার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন?

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরবদের যে ‘কলঙ্ক’ ঘোচাল ইরান
ইহুদিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জাতিসংঘ থেকে কী খবর আসে সেটা শোনার জন্য। যখন তারা শুনলেন যে জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে এই প্রস্তাব পাস হয়েছে, তখন ইহুদি এলাকাগুলোতে চলছিল প্রবল উচ্ছ্বাস। এত দিনে তারা একটি আলাদা ভূখণ্ড পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটির স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইহুদিরা যেখানে আনন্দ-উল্লাস করছিল, তার ঠিক কিছুটা দূরে আরবদের গ্রামগুলো বিষাদ ও হতাশায় ছেয়ে গিয়েছিল। তারা এটা আশঙ্কা করছিল অনেক দিন থেকেই। আরবরাও এই ঘোষণা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু তারপর থেকে শুরু হয় ইহুদিদের ফিলিস্তিন ভূমি দখল আর হত্যার লিলাখেলা।
ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬৭ সালের জুনে। ঠিক ৫৮ বছর আগে। ইসরায়েলের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে নাস্তানাবুদ হয়েছিল আরব দেশগুলো—অর্থাৎ সিরিয়া, মিশর ও জর্ডান। ৫৮ বছর পরের সেই জুনে সেই ‘কলঙ্ক’ মুছে দিল ইরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে চলমান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে।
গত প্রায় ছয় দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশগুলোর সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা ইসরায়েল ক্রমাগত আঘাত করেও সামরিক দিক থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইরানকে ‘ধরাশায়ী’ করতে পারেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এবং সেগুলো সফলভাবে আঘাত হানছে।
অনেকের কাছে মনে হতে পারে, ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থেকে ইরান আরবদের সেই শোচনীয় পরাজয়ের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়েছে।
ব্রিটানিকার তথ্য বলছে, ছয় দিনের তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ৫ জুন। তা স্থায়ী হয়েছিল ১০ জুন পর্যন্ত। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল প্রতিবেশী মিসরের সিনাই ও গাজা উপত্যকা, জর্ডানের পশ্চিম তীর ও জেরুসালেম ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। এসব অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
এতে আরও বলা হয়, ১৯৬৭ সালের শুরুতে সিরিয়া গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলি গ্রামগুলোয় বোমা ফেলে। সে সময় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সিরিয়ার ছয়টি মিগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। মিসর সিনাই উপত্যকায় সেনা মোতায়েন করে।
সে বছরের মে মাসে মিসর জর্ডানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করলে ইসরায়েল মিসরের বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়। মিসরের হাত থেকে সিনাই ও গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েল।
এরপর সিরিয়াকে গোলান মালভূমি থেকে সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও জেরুসালেম দখল করে। পরে সেই আরব দেশগুলোর মধ্যে মিসর ও জর্ডান নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর নেমে আসে নিপীড়নের খড়গ।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তেহরান। শুধু তা-ই নয়, ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রীয়নীতি প্রণয়ন করে। ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে শাহ আমলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান। এরপর থেকেই একে অপরকে 'অস্তিত্বে জন্য হুমকি' ভাবতে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ দুটি।
১৯৭৯ থেকে ২০২৫ সাল। এই ৪৬ বছর ধরেই চলেছে একে অপরের প্রতি বিষোদগার। দুই পক্ষ একে অপরকে ধ্বংসের হুমকি। সেই হুমকি শেষ পর্যন্ত সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নেয় গত ১৩ জুন।
গত শুক্রবার গভীর রাতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েল রাত-গভীরে ইরানের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের হত্যা করে। এর পর থেকে বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক লক্ষবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই ধারণা করেছিলেন ইরানও হয়ত সেই আরব দেশগুলোর মতো ছয় দিনের মধ্যে পরাজিত হবে।
যুদ্ধের পঞ্চম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে ইরানকে 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ'র আহ্বান জানালে পরদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জাতির উদ্দেশে বলেন, 'ইরানিরা আত্মসমর্পণের জাতি নয়'।
মূলত বাস্তবতা হচ্ছে, সেই আরব দেশগুলোর মতো আজকের ইরানকে ছয় দিনে পরাজিত করতে পারেনি ইসরায়েল। ইরান যেন আরবদের ছয় দিনে পরাজয়ের কলঙ্ক ঘুচিয়ে দিল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে শাসক পরিবর্তনে ইসরায়েলি আক্রমণ বুমেরাং হলো by মোহাম্মদ ইসলামি ও ইব্রাহিম আল-মারাশি
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ইরানে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার বদলে উল্টো জাতীয়তাবাদী আবেগকে জাগিয়ে তুলেছে। এই আবেগ সরকারের প্রতি সমর্থনের জায়গা থেকে নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
ইরানজুড়ে শোকসভা ও অনলাইনে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঢেউ তৈরি হয়েছে। এমনকি যাঁরা একসময় ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও এখন যাঁরা ‘মাতৃভূমির রক্ষক’ হিসেবে নিজেদের চিত্রিত করতেন, তাঁদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।
শ্রমজীবী জনগণের এলাকা এবং গ্রামে, যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলন আগে তেমন গড়ে উঠতে পারেনি, সেসব জায়গায় এই জাতীয়তাবাদী আবেগ আরও প্রবল।
ইরানের জনগণকে তাদের রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার ইসরায়েলি প্রচেষ্টা আপাতত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। ইরানের ভেতরে এখন কেন্দ্রীয় অনুভূতি উদযাপন কিংবা বিদ্রোহ নয়, বরং জাতীয় পতাকা ঘিরে ইরানিরা এখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। অতীতে এমনটাই বারবার দেখা গেছে জাতীয় সংকট ও বিদেশি হুমকির সময়ে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা, সরকার পরিবর্তনের আহ্বানে ইরানিরা উৎসাহিত হচ্ছেন না। এটাকে তাঁরা জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ইরানি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হোসেইন সালামি এবং আরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহসহ অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ে বড় শূন্যতা তৈরি করা হয়েছে।
নিহত সামরিক কর্তাদের কেউই অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নন। তাঁরা ছিলেন ইরানের আঞ্চলিক প্রতিরোধনীতির মূল স্থপতি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁদের সমন্বিত পরিকল্পনায় হত্যা ইসরায়েলি অভিযানের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ফলে ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা রোধে নেওয়া প্রতিরোধমূলক অভিযানের অংশ নয়। বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কৌশলগত কমান্ড কাঠামোর ওপর এটি একটি সুপরিকল্পিত আঘাত।
যদিও ইসরায়েলি কর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যাচ্ছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে দেওয়া বা পথচ্যুত করা। কিন্তু হামলার ব্যাপকতা ও নিখুঁত পরিকল্পনা করে হামলার ঘটনাগুলো (বিশেষ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হামলা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা) এই ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েলের লক্ষ্য আসলে আরও বড় কিছু।
বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা নীতিনির্ধারক মহলে একটি ধারণা রয়েছে যে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হিসাব হচ্ছে, একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ইরান তাদের জন্য স্থায়ী ভূরাজনৈতিক হুমকি। ইসরায়েল ইরানকে কেবল একটি শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে দেখে না। বরং আঞ্চলিক সভ্যতাগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখে। ফলে ইরানের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনাকে জরুরি বলে মনে করে ইসরায়েল। সে কারণে ইসরায়েলের লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ভন্ডুল করাই নয়, বরং দেশটির রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতিও বিনষ্ট করে দেওয়া।
এই কৌশলগত যুক্তিই দশকের পর দশক ধরে ইরানে ইসরায়েলের গোপন অভিযান, ইরানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পেছনে কাজ করেছে। এই কৌশল দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও শক্তি জুগিয়ে চলেছে। যেমন একদিন ইরানে শাসনক্ষমতার পরিবর্তন হবে, দেশটি ভেঙে ছোট ও দুর্বল কয়েকটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এসব কথা কখনো ফিসফিস করে, আবার কখনো প্রকাশ্যেই আলোচিত হয়েছে।
এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি, একসময় কেবল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের আক্রমণাত্মক নীতির শ্বেতপত্রগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২২ সালে মাসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি নতুন করে গুরুত্ব পায়। নারী ও তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ স্লোগানে গড়ে ওঠা অভ্যুত্থানটি ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির জন্য এক প্রজন্মের মধ্যে দেশের ভেতরকার সবচেয়ে স্পষ্ট ও বড় চ্যালেঞ্জ।
এ পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই সুযোগ হিসেবে নেয়। ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বাড়িয়ে তোলে। এর মধ্যে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিও রয়েছেন, যিনি প্রতীকী চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছেন। রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফরকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। তিনি নজিরবিহীনভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করতে বিদেশি সহায়তার প্রকাশ্য আহ্বান জানান। ইরানের বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিদেশি সরকারগুলোর এই সম্মিলন, কেবল নিষ্ক্রিয় সংহতি প্রকাশ থেকে খোলাখুলি মৈত্রীতে মোড় নিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর এই মৈত্রী আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইসরায়েল এবার আগের মতো শুধু পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের কথা বলছে না। এবার ইসরায়েল এই আক্রমণকে ইরানি জনগণকে নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ হিসেবে চিত্রিত করছে।
ইসরায়েল এবারে যে বয়ান দাঁড় করাচ্ছে, সেখানে জোর দিয়েই বলা হচ্ছে, এই যুদ্ধ ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকদের বিরুদ্ধে। জনপ্রচারণার সময় ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানকে সাধারণ ইরানিদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর চেষ্টা চলছে। প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে রাজপুত্র রেজা পাহলভি ও সাবেক ফুটবলার আলী করিমি প্রকাশ্যে এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা ইরানিদের শাসনব্যবস্থা বদলের জন্য আহ্বানও জানিয়েছেন।
কিন্তু এই পরিষ্কার কৌশলগত প্রচারণা থাকা সত্ত্বেও এটি ইরানের জনগণের মধ্যে সাড়া জাগাতে পারেনি।
ইসরায়েলি নেতৃত্ব ও এর মিত্ররা সম্ভবত যে সত্যটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটি হলো—ইরানিরা গভীরভাবে তাঁদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরানিদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ইতিহাসটাও অনেক দীর্ঘ।
ইরানে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধিতা (বিশেষ করে তরুণ ও শহরকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে) প্রবল। কিন্তু ইরানের মাটিতে বিদেশি বাহিনীর হাতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার দৃশ্য দেশটির মানুষের মধ্যে পুরোপুরি ভিন্ন এক আবেগের জন্ম দিয়েছে।
ইরানের এই পরিবর্তনটা কেবল প্রতীকী নয়। ইরানের জনগণের মধ্যে যে বিরাট ঐক্য এখন দেখা যাচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট, ইসরায়েল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের হাতে বড় রাজনৈতিক উপহার তুলে দিয়েছে।
ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই তালিকায় যুক্ত হলেন, যেখানে আগে থেকে ছিলেন ইরাকের শাসক সাদ্দাম হোসেন। ১৯৮০ সালে ইরানে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নড়বড়ে অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেছিলেন।
ইরানের এই জাতীয় ঐক্য কত দিন স্থায়ী হবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। ইরান এখনো একটি বিভক্ত সমাজ। সেখানে প্রজন্মগত, মতাদর্শগত ও অর্থনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। তবে আপাতত এটা পরিষ্কার যে ইসরায়েলের হামলা ইসলামি শাসনের পতন ত্বরান্বিত করছে না; বরং তা বিলম্বিত করছে।
* মোহাম্মদ ইসলামি, মিনহো বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহকারী অধ্যাপক
* ইব্রাহিম আল-মারাশি, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মারকোসে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক
- মিডলইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে
![]() |
| ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহান এলাকায় ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত ইসরায়েলের হার্মিস ড্রোন। গত ১৯ জুন ২০২৫ ইরানের সেনাবাহিনী এ ছবি প্রকাশ করেছে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শরণার্থীর সঙ্গে সংহতি by সেলিম জাহান
আজ সারা বিশ্বে ১২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত ও ছিন্নমূল। পৃথিবীতে নানা রকমের সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতা, জীবনভীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কারণে এসব মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী জাপানের মতো দেশের মোট জনসংখ্যার সমান। এই ১২ কোটি মানুষের মধ্যে ৪ কোটি লোক অন্য দেশে শরণার্থী, ৭ কোটি মানুষ দেশের মধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবেই বাস্তুচ্যুত, ৮০ লাখ লোক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, ৪০ লাখ মানুষের কোনো দেশ নেই। ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যাই ৫০ লাখ। পৃথিবীতে ৬০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষেরই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে।
যেখানে সংঘাত, দারিদ্র্য এবং জলবায়ুর পরিবর্তন খুব তীব্র, সেখানে অভ্যন্তরীণ উৎখাত ঘটে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্রতম এবং প্রান্তিকতম জনগোষ্ঠীই এতে আক্রান্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন, গণপ্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো, ফিলিস্তিন, সুদান ও ইউক্রেনের মতো দেশ এবং ভূখণ্ডগুলোতে সংঘাত ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সংখ্যা বর্তমানে আফগানিস্তান, কলাম্বিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বিরাট সংখ্যার জন্ম দিয়েছে। নানা দুর্যোগ মানুষের আবাসন এবং জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে বহু লোক এখনো সেসব ক্ষেত্রে কেন স্থায়ী সমাধান পায়নি এবং বছরের শেষে তারা এখনো উদ্বাস্তু।
একজন শরণার্থী ‘আশ্রয়’ প্রার্থনা করে অন্যত্র, অন্যের কাছে। সে আশ্রয় খোঁজা সব সময়ই ‘বস্তুগত আশ্রয়’ নয়, ‘মানসিক আশ্রয়ও’ বটে। মানুষ আত্মসত্তার আশ্রয় খোঁজে জীবনভর। ব্যক্তি মানুষ যেমন শরণার্থী, তেমনি তো গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষও। বাস্তুচ্যুত মানুষ ভিনদেশে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ব্যক্তিজীবনেও তো আমরা সতত আশ্রয় খুঁজি। কারণে–অকারণে মায়ের আঁচলে কি আশ্রয় নিইনি? মনে কি হয়নি যে ওটাই বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়? ভয় যখন আমাদের গ্রাস করে, তখন বাবার স্নেহবাক্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ করি। অসফলতা যখন আমাদের ভঙ্গুর করে, তখন শিক্ষকের আশ্বাসবাণীর কাছে আশ্রয় নিই। নৈরাশ্য যখন আমাদের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে, তখন বন্ধুর কাঁধে মাথা রাখি। দুঃখ-বেদনার অশান্তিতে শান্তির আশ্রয় খুঁজি প্রিয়জনের বক্ষে। মনে রাখা দরকার, মানুষ দুঃখে অন্যের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, সুখে সে অন্যকে আশ্রয় দেয়।
ব্যক্তিমানুষ তো শরণার্থী তার নিজের কাছেও। মানুষ আশ্রয় খোঁজে তার আবেগের কাছে, তার কান্নার কাছে, তার অভিমানের কাছে। কত সময়ে কত অবস্থায় নিজের আবেগ ভিন্ন আর অন্য কিছুর কাছে যাওয়ার অবস্থা থাকে না। কত নৈরাশ্য, কত অবিচার, কত অপমানে এক নীরব অশ্রুপাতের কাছে নিজেকে মানুষ সমর্পণ করে। প্রিয়জনের কথায়, কাজে যখন মানুষ আঘাত পায়, তখন সে আশ্রয় খোঁজে অভিমানের কাছে। কান্না, আবেগ আর অভিমানের কোনো ভাষা নেই, তবু তারা মানুষকে কতভাবে সান্ত্বনা দেয়।
কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও তো জানি যে শরণার্থী হলেও আশ্রয় মেলে না প্রায়ই। সারা পৃথিবীতে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ আজও আশ্রয়হীন। নানা বিত্তবান নগরীতে কতশত মানুষ ঠিকানাহীন। বঞ্চিত মানুষও তো শরণার্থী এক দুয়ার থেকে অন্য দুয়ারে। রাষ্ট্র উদাসীন সেসব ব্যপারে। নানা সমাজে সংখ্যালঘুদের অধিকার বঞ্চিত করে তাদের অত্যাচার করে আশ্রয়হীন করার প্রক্রিয়ায় সতত তৎপর কত অপশক্তি। নারীর প্রতি নির্যাতন ও ধর্ষণের ক্ষেত্রে তাঁদের আশ্রয়ের জায়গাটি কি দিতে পারছে রাষ্ট্র ও সমাজ? তবে কি সেই ‘না-ভাবতে চাওয়া’ ভাবনাটিই সত্যি যে চূড়ান্ত বিচারে মানুষ শুধু নির্ভর করতে পারে তার নিজের ওপরই, সে নিজেই তার একমাত্র আশ্রয়দাতা?
শরণার্থীর সমস্যা শুধু একটি মানবিক সংকটই নয়, এটি সুস্পষ্টভাবে একটি উন্নয়ন এ রাজনৈতিক সমস্যাও বটে। ফলে বর্তমানে এ বিষয়ের ওপর যতখানি নজর দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার। শুধু মানবিক ত্রাণ উদ্বাস্তুর মাত্রা এবং ব্যাপ্তিকে কমিয়ে আনতে পারবে না। শরণার্থী অবস্থার একটি বজায়ক্ষম সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকে এমন সব নীতিমালা এবং ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সংঘাত বন্ধ হয়ে শান্তি স্থাপিত হয়, দারিদ্র্য ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে এবং পুনর্বাসিত হতে পারে, কিংবা ফেরত না যেতে পারলেও, যে জায়গায় তারা স্থানান্তরিত হয়েছে, সেই লোকালয়ে তারা যাতে সম্পৃক্ত হতে পারে।
এ–জাতীয় নীতিমালা গ্রহণে ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎখাতের ব্যাপ্তি এবং তার সমাধানের জন্য সংগৃহীত উপাত্ত একটি বিরাট ভূমিকা পালন করবে। সংক্ষেপে, শরণার্থীর ক্ষেত্রে তিন ধরনের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্ববহ হবে—নীতিমালার সমন্বয়, যা আগের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি প্রাসঙ্গিক; অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু মানুষের জন্য অর্থায়ন এবং একটি উপাত্ত কাঠামো বজায় রাখা। আমাদের মনে রাখা দরকার যে নিষ্ক্রিয়তার মূল্য দিন দিন বাড়ছে এবং উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীই সেই মূল্য দিচ্ছে।
আজ বড় প্রয়োজন বিশ্বের সব শরণার্থীর সঙ্গে সংহতির ও সহমর্মিতার। সংহতির মানে শুধু কথায় নয়, বরং কাজের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে একাত্ম হওয়া। এর মানে হচ্ছে, তাদের কথা শোনা এবং তাদের ভাষ্যগুলো ছড়িয়ে দেওয়া। এর মানে হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা-অধিকার সমর্থন করা, তাদের দুঃখ–কষ্টের অবসান ঘটানো এবং সংঘাত বন্ধ করা; যাতে তারা নিরাপদে তাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সংহতি মানে হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে এবং সাহসের সঙ্গে বলা, কোনো শরণার্থীই একা নয় এবং আমরা তাদের পাশেই আছি। তাই ২০২৫ সালের বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মূলমন্ত্র হচ্ছে শরণার্থীর সঙ্গে সংহতি।
* ড. সেলিম জাহান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগের ভূতপূর্ব পরিচাল
![]() |
| গাজায় শরণার্থীশিবিরে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরান যখন পরিবর্তনের পথে, তখনই কেন এই হামলা by এসফান্দিয়ার বাতমানগেলিজ
কিছু মানুষ মনে করেন, ইরান এরই মধ্যে পতনের বৃত্তে ঢুকে পড়েছিল এবং ইসরায়েলের এই হামলা শুধু সেই পতনকে আরও দ্রুততর করবে। গত সোমবার ইরানের নাগরিক সমাজের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা, যাঁদের মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মদিও রয়েছেন, একটি মতামত কলামে লিখেছেন, ‘ইরান এবং এর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হচ্ছে দেশটির বর্তমান শাসকদের পদত্যাগ।’
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে যুদ্ধকে যেন মুক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও খোলাখুলিভাবে বলছেন যে তাদের অভিযান ইরানে ‘শাসক পরিবর্তনে’ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ইরানের পতন যদি এমনিতেই অনিবার্য হতো, তাহলে সাধারণ ইরানিরা কেন যুদ্ধ নিয়ে এত আতঙ্কিত কেন? কেন তাঁরা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ত্রাণকর্তা’ (এভাবেই তিনি নিজেকে কল্পনা করছেন) হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে না?
এর উত্তর হলো ইসরায়েল আক্রমণ করে ইরানের সমাজের যে স্বাভাবিক গতিপথ, সেটি ক্ষতি করছে। ইরানের জনগণের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় এই গতিপথটি সম্প্রতি ওপরের দিকে মোড় নিচ্ছিল।
একটি নিশ্চল ও নিপীড়নমূলক সরকারব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইরান নিজের সম্ভাবনার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ইরানের সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছে। বহু প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে ইরান ধীরে হলেও ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ইরানি জনগণ তেহরানের শাসকদের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এখন তাঁরা এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন, যেটি জেরুজালেমের কর্তৃত্ববাদী নেতার কল্পিত সৃষ্টি।
এক বছরের একটু বেশি সময় আগে কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর তখন ইরানের রাজনৈতিক স্টাবলিশমেন্ট যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন সেটি হলো, রাইসির শাসনামলে যে কর্তৃত্ববাদ যেভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল, সেটা যথার্থ ছিল কি না।
নির্বাচনী কারচুপি এবং বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুরতার কারণে ইরানের শাসকগোষ্ঠী জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল, অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের ভেঙে পড়া সামাজিক চুক্তি মেরামত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ভাষণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ এক স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিই, কিন্তু তা পূরণ করি না।’ এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈধতা যে ক্ষয় পাচ্ছে, সেটা তিনি স্বীকার করে নেন। তাঁর শাসনের মেয়াদ মেয়াদ এক বছরেরও কম সময় পার করেছে। গত কয়েক দিনের মোড় ঘোরানো ঘটনাগুলোর আগপর্যন্ত, পেজেশকিয়ান জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন।
ইরানের নেতারা ইরানি নারীদের শক্তি ও অটল ধৈর্যের কথা স্বীকার করেছেন। ইরানি নারীরা ২০২২ সালে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন। এরপর তাঁরা আর সেখান থেকে পিছু হটেননি।
ইরানের পার্লামেন্টে গত বছরের শেষ দিকে যখন নারীদের জন্য কঠোর আইন পাস করে, তখন পেজেশকিয়ান সেটিকে ‘অন্যায় আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এটা সেই স্বীকারোক্তি যে নারীদের অধিকার রক্ষা করতে ইসলামিক রিপাবলিক যত দিন ব্যর্থ হবে, তত দিন সেখানে অন্যায্যতা থাকবে।
নারীর অধিকার এখন আর প্রান্তিক বিষয় নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক নবায়নের একেবারে পুরোভাগের সংগ্রাম।
পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে ইরানের মাঝারি গোছের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিও চলছে। তবে এর কৃতিত্ব তিনি দাবি করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ থাকা সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছিল। দক্ষ ব্যবস্থাপক শ্রেণি ও শ্রমজীবী মানুষের দৃঢ়তার ফলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করে। জ্বালানির ভর্তুকির ক্ষেত্রে বিতর্কিত সংস্কারের কারণে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনা ইরানের অর্থনৈতিক খাতে আরও ভালো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে।
ইরানের পার্লামেন্ট কয়েক দিন আগে তরুণ অর্থনীতিবিদ সাইয়েদ আলী মাদানিজাদকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় তিনি পড়াশোনা করেছেন। গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদ বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, এমন কিছু নয়, যা জনগণকে সম্পৃক্ত না করে বা জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা না করে করা সম্ভব।
ইরানে সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে। ছয় বছর ধরে আঞ্চলিক প্রতিবেশী, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সঙ্গে নিবিড় আলোচনার পর পুনরায় সম্পর্ক চালু হয়েছে। গত কয়েক মাসে কাতারের আমির, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। ইরানের নতুন এই আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগসির মন্তব্য থেকে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীরা, আমাদের অগ্রাধিকার।’
এমনকি প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কেও বদল আসছিল। ২০২৩ সালের মার্চে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হুতিদের প্রতি সমর্থন কিছুটা কমিয়ে দেয়। সম্প্রতি সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং হামাস ও হিজবুল্লাহকে ইসরায়েল দুর্বল করে দেওয়া, ইরানের জন্য বড় একটি কৌশলগত ধাক্কা ছিল।
এ ঘটনাগুলো ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রণেতাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জায়গা তৈরি করে দেয়। ইরানের ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’ বা অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা কৌশল ইরানকে আরও সুরক্ষিত করার চেয়ে পুরো অঞ্চলে ইরানবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করছে কি না, সেই প্রশ্নটি জোরেশোরে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিল। এ আলোচনার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০১৮ সালে ইরান তার সব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে দিয়েছিল। ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি আবার গভীর মন্দার দিকে ধাবিত হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করে ট্রাম্প পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের মুখোমুখি নিয়ে গিয়েছিলেন।
ইরানি জনগণ ১০০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সমাজ ও রাজনীতির গভীরে প্রোথিত স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। এই সময়ে বহুবার বিদেশি হস্তক্ষেপ ইরানিদের সেই প্রচেষ্টাকে ভন্ডুল করে দিয়েছে। ১৯১১ সালে রুশ সেনারা হস্তক্ষেপ চালিয়ে একটি সাংবিধানিক বিপ্লব দমন করে দিয়েছিল। ১৯৫৩ সালে সিআইএ ও এমআই ৬ পরিচালিত একটি অভ্যুত্থান ইরানের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল। ১৯৮০ সালে সাদ্দাম হোসেনের আগ্রাসনের কারণে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের গতিপথ পরিবর্তিত হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গেলে ইরানের একসময়ের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় সংস্কারবাদী আন্দোলন ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছিল।
প্রতিটা ধাক্কার পরে, সাধারণ ইরানিরা আবার সংগ্রামের পথে ফিরে আসে। গত সপ্তাহের আগপর্যন্ত ইরানের সমাজে পরিবর্তনের ধারাটি দৃশ্যমান ছিল। ইরানে ইসরায়েলের হামলা শুধু ইরানিদের জীবনকে অবজ্ঞা করল না, ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করল। ইরানি জনগণ এই যুদ্ধে যেতে চায়নি এবং তাদের নেতাদের তারা যুদ্ধ এড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণ করল।
ইরানি জনগণের হাতে এখন আর তাদের ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা অবাক বিস্ময়ে দেখছে, মিসাইল কীভাবে তাদের গতিপথ বদলে দিচ্ছে।
* এসফান্দিয়ার বাতমানগেলিজ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও কূটনীতি নিয়ে কাজ করা থিংকট্যাঙ্ক বোর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ মনোজ দে
![]() |
| ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। তেহরান, ১৭ জুন ২০২৫। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ বছরের আগের ভূমিকায় কি নামছেন ট্রাম্প
গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা এখনই তাঁকে সরিয়ে দিচ্ছি না (মানে, হত্যা করছি না!), তবে আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।’
ইসরায়েল চাইছে, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হোক। তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে। ইসরায়েলের অভিযানকে সহায়তা দিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা করছেন ট্রাম্প।
কিন্তু ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (এমএজিএ) আন্দোলনের ভেতরেই ভাঙন শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসনের মতো সমর্থকেরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়। সরকার বদলই এই ধরনের হামলার মূল লক্ষ্য।
ব্যাননের পডকাস্ট ‘ওয়ার রুম’-এ কার্লসন বলেন, ‘আপনি আমাকে বোঝাতে পারবেন না যে ইরানিরা আমার শত্রু। এটা তো পুরোপুরি “অরওয়েলের মতো ব্যাপার” হয়ে গেল। কে কাকে ঘৃণা করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।’ কার্লসন এখানে বিখ্যাত ইংলিশ ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের ‘১৯৮৪’–এর কথা বলেছেন। এটি একটি ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস, যেখানে একাধিপত্যবাদী সরকার জনগণের চিন্তা ও জীবন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে, স্বাধীনতা রুদ্ধ করে।
ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরোধিতা করতে গিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় রক্ষণশীলতাকে দায়ী করেন। তবে ইরানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ইতিহাস নতুন নয়। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগ থেকেই দেশটিতে পশ্চিমারা হস্তক্ষেপ চালিয়ে আসছে।
এখন প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল কি আসলেই ইরানে সরকার পরিবর্তন চায়? যুক্তরাষ্ট্র কি তাতে সহায়তা করছে? আর ইরানে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ইতিহাসই বা কতটা গভীর?
ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ কেন?
গত শুক্রবার (১৩ জুন) ভোররাতে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় ইংরেজিতে ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আশা করি, এই সামরিক অভিযান আপনাদের স্বাধীনতা অর্জনের পথের বাধা দূর করবে।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থেকে আমাদের রক্ষা করা ইসরায়েলের হামলার মূল উদ্দেশ্য।’ সঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই হামলা ইরানে সরকার পরিবর্তনের পথও খুলে দিতে পারে।
এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’, যার নানা ঐতিহাসিক ইঙ্গিত রয়েছে। সিংহ আর সূর্যের ছবি প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রতীক। ১৯ শতকের শেষ দিক থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পাহলভি শাসকদের সময়ে ইরানের পতাকায় তলোয়ার হাতে সিংহের প্রতীক ব্যবহার করা হতো।
শুক্রবার হামলার কয়েক ঘণ্টা পরে দেওয়া সেই বক্তৃতায় নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানি জনগণের সামনে এখন ঐতিহাসিক পতাকাকে ঘিরে সমবেত হওয়ার সময় এসেছে। সময় হয়েছে এই অন্যায় ও অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করার।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্সিয়ান ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট হয়। সেখানে দেখা যায়, তলোয়ারধারী একটি সিংহ আধুনিক ইরানি পতাকাকে ছিন্নভিন্ন করছে। পতাকাটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক ছিল।
অনেকে মনে করেন, বিপ্লব-পূর্ব ইরানের স্মৃতি জাগিয়ে ইরানিদের প্রতিরোধে উৎসাহ দিতে চেয়েছে ইসরায়েল। তবে কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস বলেন, ‘সিংহ নিয়ে ইসরায়েলি নেতারা কী বলছেন, তাতে ইরানিরা প্রভাবিত হবে, এটা ভাবা খুব বেশি কাজের বলে মনে হয় না।’
জোনস বলেন, সিংহকে ঘিরে ইসরায়েলের বার্তা শুধু ইরানিদের জন্য নয় বরং নিজেদের জনগণের জন্যও। তিনি বলেন, ইসরায়েল নিজেকে সিংহ হিসেবে দেখাচ্ছে, যে ভূমি দখল করতে এসেছে। ইসরায়েল ইতিহাসে নিজেকেই সিংহ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে।
জোনসের মতে, ইসরায়েল বোঝাতে চাইছে এটা শুধু কৌশলগত যুদ্ধ নয় বরং এটি তাদের জাতিগত পরিচয় ও ইহুদিদের বাইবেলীয় জন্মভূমির দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।
তবে ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে দেশটির জনগণকে জাগাতে চাইলে পুরোনো পারস্যের প্রতীক দেখিয়ে খুব একটা ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন জোনস। কারণ, ইরানের কোনো মানুষ তাদের এই প্রতীক দেখাচ্ছে না, দেখাচ্ছে ইসরায়েল, যারা ইরানি নয়।
খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্প কী বলেছেন?
ট্রাম্প এখনো তেহরানে সরকার পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানাননি। কিন্তু তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যখন ইচ্ছা তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ নেতা খামেনিকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসের উঠানে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আবারও ইরানের প্রতি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ: এর মানে আমি আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারছি না। বুঝলে? আমি হাল ছেড়ে দিলাম। আর নয়। তারপর আমরা ওখানে [ইরানে] ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব পরমাণু স্থাপনা উড়িয়ে দেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ৪০ বছর ধরে তারা [ইরানিরা] চিৎকার করে আসছে-‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’। যাদের তারা পছন্দ করে না, তারা নিঃশেষ হয়ে যাক।
ট্রাম্প বললেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা পুরোপুরি বিজয় চাই। বিজয় মানে হলো, [ইরানের হাতে] কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’
পশ্চিমারা কি আগেও ইরানে সরকার বদল করেছে?
যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের কাছে অতীতে ইরানে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ মানেই ছিল সরকার সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলা।
এখন থেকে ৭২ বছর আগে ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল।
মোসাদ্দেক ইরানের তেলশিল্পকে জাতীয়করণ করেছিলেন, যা আগে ব্রিটিশ মালিকানাধীন অ্যাংলো-ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (বর্তমানে বিপি) নিয়ন্ত্রণ করত। মোসাদ্দেকের এই সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো তা পছন্দ করেনি।
এই সময়টাতে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমাদের স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। ওয়াশিংটনের তৎকালীন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করতেন, মোসাদ্দেক সরকার সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মিলিয়ে একটি গোপন অভিযান চালায়, যা ‘অপারেশন অ্যাজ্যাক্স’ নামে পরিচিত।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিক্ষোভে অর্থায়ন করা হয়, স্থানীয় পত্রিকায় প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয় এবং ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির প্রতি অনুগত সামরিক কর্মকর্তাদের সমর্থন করা হয়। ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্ট মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। অল্প সময়ের জন্য ইরান ছেড়ে যাওয়া শাহ আবার ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিজের ক্ষমতা শক্তিশালী করেন।
ইরান ও উন্নয়নশীল দেশগুলো (গ্লোবাল সাউথ) এই অভ্যুত্থান ভালোভাবে নেয়নি। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ধারণা জোরদার হয় যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার চেয়ে তেল ও প্রভাব নিয়ন্ত্রণের দিকেই পশ্চিমাদের মনোযোগ ছিল বেশি।
এরপর কী ঘটল?
শাহ ১৯৫৩ সালে শাসন শুরুর করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করতে থাকে। একই সঙ্গে তিনি আরও কঠোর ও দমনমূলক হয়ে ওঠেন।
শাহ ‘হোয়াইট রেভল্যুশন’ নামে একটি বড় প্রকল্প চালু করলেন। এর অধীনে শিক্ষাব্যবস্থা ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা হয়। নানা ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত সংস্কার করা হয়। কিন্তু তার গোপন পুলিশ ‘সাভাক’ রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ভয়াবহ রকমের নিপীড়ন চালাত।
খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ এবং নির্যাতন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধনী ও গরিবের ব্যবধান বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় শাহ সরকারের সঙ্গে ধর্মীয় নেতা ও ভিন্নমতের সাধারণ মানুষের বিরোধ বাড়তে থাকে।
১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে জনগণের অসন্তোষ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ইরানজুড়ে বড় বড় বিক্ষোভ হতে থাকে, শাহকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি বাড়তে থাকে। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে চাপ সামলাতে না পেরে শাহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নির্বাসন থেকে ফিরে এসে ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বের হাল ধরেন। একটা পর্যায়ে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়।
দীর্ঘ অসুস্থতায় ভুগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৮৯ সালে খোমেনি মারা যান। এরপর আলী খামেনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। এর আগে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৮৯ সালের ৪ জুন থেকে আজ পর্যন্ত খামেনিই ইরানের দ্বিতীয় ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বে পালন করছেন।
ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে গত বুধবার আলী খামেনিই ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। খামেনি বলেন, ‘এই জাতি কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার জানা উচিত, সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’
খামেনির ভাষণের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘শুভ কামনা রইল।’
![]() |
| ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ এর সময় ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ১৯ জুন ২০২৫, ইসরায়েলের তেল আবিবের রামাত গান এলাকায়। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাসেলের চায়ের কেটলি: আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক
![]() |
| মহাশূণ্যে একটি চায়ের কেটলি ভেসে বেড়াচ্ছে- এটা কি কল্পনা করতে পারেন? |
পবিত্র চায়ের কেটলি
![]() |
| রাসেলের টিপটের উদাহারণ ঘিরে এখনো চলে আস্তিক-নাস্তিকদের বিতর্ক |
অদৃশ্য ড্রাগন
![]() |
| বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। |
![]() |
| বার্ট্রান্ড রাসেল উপমাটি দিয়েছিলেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই এটা প্রমাণের জন্য। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1441)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 20
(8)
- ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হলেও ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারেন খা...
- আলেকজান্ডারও ইরানিদের পরাজিত করতে পারেনি : শি জিনপিং
- আরবদের যে ‘কলঙ্ক’ ঘোচাল ইরান
- ইরানে শাসক পরিবর্তনে ইসরায়েলি আক্রমণ বুমেরাং হলো b...
- শরণার্থীর সঙ্গে সংহতি by সেলিম জাহান
- ইরান যখন পরিবর্তনের পথে, তখনই কেন এই হামলা by এসফা...
- ইরানের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২ বছরের আগে...
- রাসেলের চায়ের কেটলি: আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কের সঙ্গ...
-
▼
Jun 20
(8)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








