Tuesday, October 6, 2015

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের কারণেই জঙ্গিবাদ বাড়ছে -এএফপির বিশ্লেষণ

পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিকে সামনে এনেছে। দেশে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের কারণেই সরকারবিরোধীরা চরমপন্থায় ঝুঁকছে। বিশ্লেষকেরা এ মন্তব্য করেছেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় খুন হন ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা। এরপর ৩ অক্টোবর রংপুরে খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাঁরা সন্দিহান। তবে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার জন্য পরিচিত বাংলাদেশে যেসব কট্টরপন্থীর এত দিন রাজনীতির মূল ধারার জায়গা হয়নি, তারা যে এখন ক্রমবর্ধমানভাবে বেপরোয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে, এটা মানছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলী রীয়াজ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো খুবই অশুভ লক্ষণ। এগুলো যে জঙ্গিরাই করছে, তার একটা নমুনা রয়েছে। এ কারণে প্রত্যেকেই উদ্বিগ্ন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে। গত এক দশক ধরে দেশটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এখন বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদার ওপর এসব ঘটনার ছায়া পড়বে।
অর্থনীতির চেহারা যা-ই হোক, গত তিন বছরে বাংলাদেশে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। প্রবীণ রাজনীতি বিশ্লেষক আতাউর রহমানের মতে, কট্টর ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমনপীড়নের কারণে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে লোকজনের একটা বড় অংশই এখন ক্ষুব্ধ। ইসলামপন্থী দলগুলোসহ কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এখন এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা বিভিন্ন বেপরোয়া পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।
চলতি বছর বাংলাদেশে চারজন ব্লগার নিহত হয়েছেন, যাঁর মধ্যে তিনজনের হত্যার দায় স্বীকার করেছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামের জঙ্গিগোষ্ঠী। আর দুই বিদেশি নাগরিককে আইএস জঙ্গিরা হত্যা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ঢাকার বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুর রবও দুই বিদেশি নাগরিক হত্যায় আইএসের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দিহান। তবে তিনি বলেন, এখানে জঙ্গিদের অস্তিত্ব আছে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
আলী রীয়াজও বলছেন, দুই বিদেশি নাগরিক হত্যায় আইএসের সম্পৃক্ততা নিয়ে যাঁরা সন্দিহান, তাঁদের সঙ্গে তিনি একমত। তবে তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধীদের ওপর ধরপাকড়ের বিষয়টি একটা পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে, যা এখন জঙ্গিদের আকৃষ্ট করেছে। আলী রীয়াজ বলেন, গণতন্ত্রের জায়গা যত বেশি সংকুচিত হবে, জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার ততই বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সিদ্ধান্ত ছাড়াই শে​ষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক

পৃথক বেতন কাঠামো ও অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে গ্রেড সমস্যা নিরসনের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষে হলো। আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দেড় ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষ​কদের দাবির বিষয়গুলো শুনেছেন। এখন তিনি এগুলো বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপন করবেন। মন্ত্রী আরও বলেছেন, শিক্ষকদের মান মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে তা তিনি চেষ্টা করবেন। তাঁর কাছে শিক্ষকদের মান অনেক ওপরে। কারণ শিক্ষাটা নির্ভর করে শিক্ষকদের মান মর্যাদার ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই মাসের মধ্যে ​তাঁরা কোনো কর্মসূচি দেননি। ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু এ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু না হলে তাঁদের ওপর ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচির চাপ আছে। তবে আশা করেন তা করতে হবে না।
আর ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মানা না হলে ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি​ দেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে ফেডারেশনের সভায়। ​
বেলা তিনটায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আধঘণ্টা পরে শুরু হয় এ বৈঠক। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে যোগ দেন।
বৈঠকের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষকদের দাবি সরকার ‘আমলে’ নিয়েছে। এ জন্য বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই এ কমিটির সভা হবে। সেখানে শিক্ষকদের এ দাবির বিষয়টি যাতে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা যায়, সে জন্যই আজকের আলোচনা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যেহেতু সরকার শিক্ষকদের এই দাবি আমলে নিয়ে কমিটি করেছে, সে জন্য তাঁদের প্রতি আহ্বান, তাঁরা যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের কোনো ক্ষতি না করেন।
এ সময় শিক্ষকেরা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে তাঁরা শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে একটি আলাদা বেতন কমিশন গঠনের দাবি জানান। এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অষ্টম বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা গ্রেড-১, অধ্যাপকদের গ্রেড-২, সহযোগী অধ্যাপকদের গ্রেড-৩, , সহকারী অধ্যাপকদের গ্রেড-৫ এবং প্রভাষকদের গ্রেড-৭ নির্ধারণের দাবি জানান তাঁরা।
পৃথক বেতন কাঠামো ও গ্রেড সমস্যা নিরসনের দাবিতে প্রায় চার মাস ধরে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এর মধ্যে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এরপর শিক্ষকদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়। এরই মধ্যে গত রোববার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সিরিয়ার উপকূল অবরোধ করবে রুশ নৌবাহিনী!

রাশিয়ার নৌবাহিনী সিরিয়ার উপকূলে অবরোধ করতে পারে। সিরিয়ার অভ্যন্তরে ভারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের জন্য এ অবরোধ দেয়া হতে পারে। রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ ডুমার প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির কোমোইদোভ এ কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া, রুশ স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধারাও সিরিয়ায় যুদ্ধে যোগ দিবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সিরিয়ায় অস্ত্র পাঠানোর জন্য কৃষ্ণসাগরের রুশ নৌবহর হয়ত ব্যবহার করা হতে পারে। অবশ্য এমনটা যে হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া, সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর গোলন্দাজ হামলার বিষয়টি বাদ দেয়া হয় নি বলেও জানান তিনি। অবশ্য সন্ত্রাসী সিরিয়ার অনেক ভেতরে রয়েছে এবং এ পর্যায়ে তাদের হামলার কোনো মানে হয় না বলেও জানান তিনি।
সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তারতুস প্রদেশে একটি নৌ স্থাপনা পরিচালনা করছে রাশিয়া। এ পথে ভূমধ্যসাগরে যাওয়া যায়। এ ছাড়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরীসহ চারটি রুশ রণতরী রয়েছে।
এদিকে রুশ বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী বিরোধী যুদ্ধে সিরিয়ার সেনাদের সঙ্গে যোগ দিবে। ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা ভ্লাদিমির কোমোইদোভ ‘এর বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, অবশ্যই রুশ যোদ্ধাদের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল সিরিয়ার সেনা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিবে।
সূত্র : রেডিও তেহরান

আইএসের উত্থান ঠেকানোর সামর্থ্য আমাদের আছে -ডিকাব টক অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আইএসের উত্থান ঠেকানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ডিকাব টক অনুষ্ঠানে বার্নিকাট এ কথা বলেন। ইতালি ও জাপানের দুই নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চাইলে এ দুটি হত্যার তদন্তে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
এক প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, পুলিশ বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকেরা আগের চেয়ে নিরাপদ বোধ করছেন। তবে এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগা ঠিক হবে না।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তিনি বক্তব্য দিলেও প্রশ্নোত্তর পর্বের বেশির ভাগ অংশজুড়ে ছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ডিকাব সভাপতি মাসুদ করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বশির আহমাদ।
মার্শা বার্নিকাট তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘সহিংস উগ্রবাদ দমনে যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আইএসের উত্থান মোকাবিলার জন্য যা যা দরকার, তার সবই আমাদের আছে। বেশ কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি আর অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকার জোরালো করেছি। আমরা আমাদের দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
ইতালির সিজার তাবেলা ও জাপানের কুনিও হোশি হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। এ বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আইএস কিংবা আল-কায়েদা সন্ত্রাসী কাণ্ড ঘটিয়ে দায়িত্ব স্বীকার করলে আমরা এ দাবির সত্যতা যাচাই করে থাকি। এ প্রক্রিয়া আমাদের ও আমাদের অংশীদারদের বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা খুঁজে পেতে সাহায্য করে।’
সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও জোট নাগরিকদের সতর্ক করে ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করেছে। এর ফলে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে বার্নিকাট বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যে দেশে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটার আগেই সম্ভাব্য হুমকির ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আমরা জানতাম। পর্যাপ্ত বিবরণ ও সময়ের উল্লেখ করে যখন সুনির্দিষ্ট পন্থায় তথ্য পাওয়া যায়, তখন তা বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হুমকির ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য ওই তথ্যের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ ভ্রমণবিষয়ক বার্তা হালনাগাদ করেছে। আমরা আমাদের বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে বলিনি। অবশ্যই বাংলাদেশে আসতে নিষেধ করিনি। শুধু বাংলাদেশে অবস্থানের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছি।’
বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যে ভ্রমণ বার্তা হালনাগাদ করেছে, এর উৎস মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছ থেকে, নাকি অন্য অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া—এ প্রশ্নের উত্তরে মার্শা বার্নিকাট বলেন, কোনো হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নিজেদের সরকারি সূত্রের পাশাপাশি অংশীদারদের সঙ্গে তথ্যবিনিময় করা হয়। এখানেও তাই ঘটেছে। ভ্রমণবিষয়ক বার্তা কখন শিথিল করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হুমকি নেই—এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বার্তা অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে মার্শা বার্নিকাট বলেন, নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা বাংলাদেশের সবগুলো সংস্থাকে জানিয়েছি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজারসুবিধা (জিএসপি) কবে ফিরবে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকা ঘুরে যাওয়া সহকারী মার্কিন প্রতিনিধির মতো আমিও বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বহাল নিয়ে আশাবাদী। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এ সুবিধা ফিরে পাবে।’

আরও ১০৫ বাংলাদেশীকে ফেরত দেবে মিয়ানমার

আরও ১০৫ বাংলাদেশীকে ফেরত দেবে মিয়ানমার। এ বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। এতে বলা হয়, বোট পিপল বা ভাসমান হিসেবে পরিচিত ওইসব বাংলাদেশীকে রাখা হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শরণার্থী শিবির টাউং পাইও-লেটউই’তে। তাদের সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সোমবার তাদেরকে তুলে দেয়া হবে বাংলাদেশের হাতে। জুন থেকে এ পর্যন্ত ৫ দফায় ৬২৬ জনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। মিয়ানমারের নৌবাহিনী রাঝাইন রাজ্যের মুয়াংত থেকে উদ্ধার করে ২০০ বোট পিপলকে। তারা তদন্ত করে দেখতে পায় এসব মানুষের মধ্যে অনেকে পাচারের শিকার।

বিদেশী হত্যার নেপথ্যে কে?

রহস্যজনকভাবে বিদেশী দুই নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এর দায়িত্ব স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস), যদিও সরকারি বিভিন্ন এজেন্সি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশে কোন আইএস নেই বলে মনে করছেন। এসব নিয়ে উচ্চ মাত্রায় সংশয় দেখা দিয়েছে। এতে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বিদেশী নাগরিকদের হত্যার নেপথ্যে কারা? অনলাইন দ্য হিন্দু এমন প্রশ্ন করেছে। এতে প্রকাশিত সাংবাদিক হারুন হাবিবের লেখা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্পাদিত রিপোর্ট অনুসারে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে তাতে ক্ষুব্ধ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তারাই বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করছে যাতে সরকারের মুখে কালিমা লাগে। খবর প্রকাশিত হয়েছে, গোয়েন্দারা রোববার ওই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়েছে, ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা ও জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যাকা- ‘কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ নয়। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় কূটনৈতিক এলাকায় দুর্বৃত্তরা হত্যা করে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলাকে। এর কয়েক দিন পরেই ৩রা অক্টোবর রংপুরে হত্যা করা হয় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে। যদিও এ দুটি হত্যাকা-ের দায় ইসলামিক স্টেট স্বীকার করেছে বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কিন্তু তা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, এসব হত্যার পিছনে আইএস নেই। স্বার্থবাদী একটি গ্রুপ দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। সরকারের বিভিন্ন নেতা, বেশ কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দুজন নেতার ফাঁসি যখন অত্যাসন্ন তখনই এই দুটি হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, আমাদের হাতে প্রমাণ আছে। তদন্তকারীরা তদন্ত করছেন। অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। বেশ কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দ্য হিন্দুকে বলেছেন, বাংলাদেশে আইএস সক্রিয় এমন কোন প্রমাণ নেই। তবে তারা স্বীকার করেন আইএসের প্রতি আনুগত্য আছে এমন কিছু ব্যক্তিকে আইন প্রয়োগকারীরা সম্প্রতি আটক করেছে। তারা আইএসে সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল। তারা বলেন, প্রকৃত খুনি তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ভুল তথ্য দিচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা আইএসের দাবিকে আমলে নিয়েছে এবং বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেন, বিদেশী দু’ নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকারকারী আইএসের দাবি কতটা যথার্থ তা যাচাই করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জোরালোভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। চট্টগ্রাম যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ নৌ মহড়ায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিশালী অংশীদার মনে করে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। ওদিকে তাভেলা ও হোশি হত্যাকাণ্ডে বিদেশী নাগরিক ও বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে ভীষণ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যে ভারতের পাশে আছি : মার্কেল

জার্মানির শিল্পপতিরা সহজেই ভারতে ব্যবসা করার সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হল ভারত ও জার্মানির মধ্যে। সোমবার নয়াদিল্লিতে জার্মানির চ্যান্সেলর আঞ্জেলো মারকেল ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি ১৮টি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অপ্রচলিত শক্তি ও প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে স্বাক্ষরিত হয় মউ। ভারতের পরিবেশ ও সোলার প্রকল্প উন্নয়নে ১০০ কোটি ইউরো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর। নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, বাণিজ্য, অপ্রচলিত শক্তিসহ একাধিক বিষয়ে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়া নিয়ে কথা হয়। দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর। রোববার তিনি পৌঁছেন দিল্লিতে। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনে অভ্যর্থনায় আপ্লুত অ্যাঞ্জেলো বলেন,”ভারতের উন্নয়নে মোদির সব সদর্থক পদক্ষেপের পাশে থাকবে জার্মানি। আমরা অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প,
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে সহযোগিতা করব। রোববার অ্যাঞ্জেলো আসার পরই মোদি টুইট করেছিলেন, নমস্তে চ্যান্সেলর মারকেল। উষ্ণ অভ্যর্থনা রইল আপনার ও আপনার সঙ্গীদের জন্য। আজ ব্যাঙ্গালুরু যাওয়ার কথা মোদির। সেখানে ন্যাসকম আয়োজিত একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জার্মান চ্যান্সেলর। জার্মানি ইতিমধ্যে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য-সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তাই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে দু’নেতাই আগ্রহী। কিন্তু ইউরোপের বৃহৎ শক্তি জার্মানি ছাড়া গত বছরে ইউরোপের প্রকাশিত বাণিজ্য তালিকায় ২৫তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত বছর তাদের বাণিজ্যের পারিমাণ ছিল ১৬০০ কোটি ইউরো (১৭৯০ কোটি ডলার)। গত এপ্রিলে মোদির জার্মানি সফরে মারকেল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পকে সমর্থন করেন ও বিনিয়োগের আশ্বাস দেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, চীনকে টপকানোর জন্য ভারতের মোট ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। যা এফডিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়ে সবুজ অর্থনীতিতে ব্যয় হবে।

নোবেল পুরস্কার এলো যেভাবে

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইলের মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। নোবেল মৃত্যুর পূর্বে উইলের মাধ্যমে এ পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা করে যান। ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ওই বছর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকাণ্ডের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হল : পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে ১৯৬৯ সালে। নোবেল পুরস্কারকে এসব ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের ইংরেজিতে নোবেল লরিয়েট বলা হয়।
ইতিহাস : আলফ্রেড নোবেল ১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রকৌশল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও একজন উদ্ভাবক ছিলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি একটি লোহা ও ইস্পাত কারখানা ক্রয় করেন, যা পরবর্তী সময়ে একটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায় পরিণত করেন। তিনি ব্যালাস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তার ৩৫৫টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জীবদ্দশায় তিনি প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিনামাইট। ১৮৮৮ সালে তিনি তার ভাইয়ের পরিবর্তে নিজের মৃত্যু সংবাদ দেখে বিস্মত হন, যা একটি ফরাসি পত্রিকায় ‘এ মার্চেন্ট অব ডেথ হু ডেড’ নামে তা প্রকাশিত হয়। যেহেতু নোবেলের ভাই লুডভিগ মারা যান, এ নিবন্ধটি তাকে ভাবিয়ে তোলে এবং খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে ইতিহাসে তিনি কীভাবে স্মরণীয় হতে চান। যা তাকে তার উইলটি পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে। ১০ ডিসেম্বর ১৮৯৬ সালে আলফ্রেড নোবেল তার নিজ গ্রাম স্যান রিমো, ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
শেষ উইল : নোবেল তার জীবদ্দশায় অনেকগুলো উইল লিখে গিয়েছিলেন। শেষটা লেখা হয়েছিল তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ২৭ নভেম্বর ১৮৯৫ সালে প্যারিসে অবস্থিত সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে। বিস্ময় ছড়িয়ে দিতে, নোবেল তার সর্বশেষ উইলে উল্লেখ করেন যে, তার সব সম্পদ পুরস্কার আকারে দেয়া হবে যারা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে কাজ করবেন। নোবেল তার মোট সম্পদের (৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করেন। ন২৬ এপ্রিল ১৮৯৭-এর আগ পর্যন্ত সন্দেহপ্রবণতার জন্য নরওয়ে থেকে এ উইল অনুমোদন করা হয়নি। নোবেলের উইলের সমন্বয়কারী রগনার সোলম্যান ও রুডলফ লিলজেকুইস্ট নোবেল ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। যার কাজ তার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ১৮৯৭ সালে নোবেলের উইল অনুমোদন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি নামক একটি সংস্থা তৈরি করা হয়। অতি শিগগির নোবেল পুরস্কার দেয়ার অন্য সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৭ জুন ক্যারোলিংস্কা ইন্সটিটিউট, ৯ জুন সুইডিশ একাডেমি এবং ১১ জুন রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমি নোবেল ফাউন্ডেশন কীভাবে নোবেল পুরস্কার দেবে তার একটি নীতিমালায় পৌঁছায় এবং ১৯০০ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন নতুনভাবে একটি বিধি তৈরি করে যা রাজা অস্কার কর্তৃক জারি করা হয়। ১৯০৫ সালে সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধন বিলুপ্ত হয়।

নোবেল পুরস্কারের নাড়িনক্ষত্র

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে সোমবার শুরু হয়েছে চলতি বছরের নোবেলবিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ। ১৯০১ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৮৮৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নোবেল পেয়েছে। এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই। ২০১৪ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পান। এর আগে সর্বকনিষ্ঠ নোবেলবিজয়ী ছিলেন ২৫ বছর বয়সী লরেন্স ব্রাগ। ১৯১৫ সালে রঞ্জন রশ্মির কাঠামো ব্যাখ্যার জন্য পদার্থবিদ্যায় নোবেল পান। সবেচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পেয়েছেন লিউনিড হারবিজ। ২০০৭ সালে ৯০ বছর বয়সে তিনি অর্থনীততে নোবেল পান।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী নারীরা
১৯৪৭ গার্টি করি যুক্তরাষ্ট্র
১৯৭৭ রোজালিন ইয়ালো যুক্তরাষ্ট্র
১৯৮৩ বারবারা ম্যাকলিন্টক যুক্তরাষ্ট্র
১৯৮৬ রিটা লেভি-মোন্টালচিনি ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র
১৯৮৮ গাট্রুড বি ইলন যুক্তরাষ্ট্র
১৯৯৫ ক্রিস্টিয়ান নুসলেইন ভলহার্ড জার্মানি
২০০৪ লিন্ডা বি বাক যুক্তরাষ্ট্র
২০০৮ ফ্রাঁসোয়াজ বারে সিনৌসি ফ্রান্স
২০০৯ এলিজাবেথ ব্লাকবার্ন ও ক্যারল গ্রেইডার যুক্তরাষ্ট্র
২০১৪ মে-ব্রিট মোজের নরওয়ে
২০১৫ ইউইউ টু চীন
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল তথ্য
(১৯০১-২০১৫)
* ১০৬ বার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে
* ২১০ জন এ পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন
* ৩৮ জন নোবেল জিতেছেন স্বতন্ত্রভাবে
* ৩২ জন নোবেল পেয়েছেন দু’জনের যৌথভাবে
* ৩৮ বার নোবেল দেয়া হয়েছে তিনজনকে
* ১২জন নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন
* ৩২ বছর বয়সী ফ্রেডরিক জি বান্টিং সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী। ইনসুলিন আবিষ্কারের জন্য ১৯২৩ সালে তিনি নোবেল পান
* ৮৭ বছর বয়সী পেইটন রউস বয়োজ্যেষ্ঠ নোবেলজয়ী।
টিউমার ইন্ডিউসিং ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি নোবেল পান
চিকিৎসায় যেসব বছর নোবেল দেয়া হয়নি
এ পর্যন্ত ৯ বার চিকিৎসায় নোবেল দেয়া হয়নি। সেগুলো হল- ১৯১৫, ১৯১৬, ১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২১, ১৯২৫, ১৯৪০, ১৯৪১ ও ১৯৪২ সাল।

প্রাচীন মিসরীয় সুন্দরীর সমাধির খোঁজ!

মিসর-বিশেষজ্ঞ নিকোলাস রিভস সত্যি রানি নেফারতিতির কবর আবিষ্কার করলে সেটা হবে প্রত্নতত্ত্বের জগতে এক বিস্ময়কর ঘটনা৷ এরই মধ্যে কিছু চমকপ্রদ আবিষ্কারের খবর পাওয়া গেছে৷
বিস্ময়ের অপেক্ষা
প্রাচীন মিসরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও রহস্যময় রাজা তুতেনখামেনের বিশ্ববিখ্যাত সমাধির মধ্যে সম্ভবত আরো একটা বিস্ময় অপেক্ষা করছে৷ ব্রিটিশ মিসর-বিশেষজ্ঞ নিকোলাস রিভস ‘কেভি৬২’ নামের একটি ঘর পরীক্ষা করে প্রায় নিশ্চিত যে, তার মধ্যে রানি নেফারতিতির কবর রয়েছে৷
সুন্দরী রানি
প্রাচীন মিসরীয় ভাষায় ‘নেফারতিতি’ নামের অর্থ ‘সুন্দরী এসে গেছে’৷ তিনি রাজা তুতেনখামেন বা ‘টুট’-এর সৎ মা ছিলেন৷ তবে এতকাল তার সমাধি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি৷ ১৯১২ সালে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ লুডভিশ বরশার্ট মিসরে নেফারতিতির আবক্ষ মূর্তি আবিষ্কার করেন৷ বিশ্ববিখ্যাত সেই মূর্তি ২০০৯ সাল থেকে বার্লিনের একটি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে৷
গবেষণা এখনো চলছে
গত ২৯শে সেপ্টেম্বর মিসরের প্রাচীন সভ্যতা ও তার নিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মামদুখ আল-দামাতি রিভস-এর সাথে লুক্সর-এ প্রায় ৩,৩০০ বছর পুরানো ফারাও সমাধিক্ষেত্র পরিদর্শন করেন৷ মন্ত্রীও মনে করেন, প্রাচীরের পেছনে কোনো রানির সমাধি থাকা সম্ভব৷ তবে সেটা নেফারতিতির কিনা, সে বিষয়ে তার মনে সংশয় রয়েছে৷
বিশ্ব তারকা তুতেনখামেন
১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার ‘কেভি৬২’ নামের সমাধি আবিষ্কার করেন৷ প্রায় অক্ষত ছিল সেই সমাধি৷ ফলে ১৯ বছর বয়স্ক ‘শিশু ফারাও’ বা ‘বালক রাজা’ তুতেনখামেন বিশ্ববিখ্যাত হয়ে পড়েন৷ গোটা মিসরে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধি৷
এখনো শুধু অনুমান
তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্রের পেছনে সত্যি তার সৎ মা নেফারতিতির সমাধি আছে কিনা, তা এখনো অনুমানের বিষয়৷ তবে বার্লিনের মিসরীয় মিউজিয়ামের উপ-প্রধান অলিভিয়া সর্ন মনে করেন, নিকোলাস রিভস অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ, যিনি তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করেন৷
সুন্দরীর সমাধি কি পাওয়া যাবে?
নেফারতিতি ঠিক কবে মারা গিয়েছিলেন, তা কেউ জানে না৷ তবে তার মৃতদেহ মমি করে আমাপনায় রাজকীয় সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে আসা হয়েছিল, এটা ধরে নেয়া যায়৷ প্রাথমিক পরীক্ষার পর রিভস-ও এমন ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন৷ রাডার ও ইনফ্রারেড পরীক্ষার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতেই সত্য উন্মোচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷
সূত্র : ডয়চে ভেল
বিশ্ব তারকা তুতেনখামেন
১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার ‘কেভি৬২’ নামের সমাধি আবিষ্কার করেন৷ প্রায় অক্ষত ছিল সেই সমাধি৷ ফলে ১৯ বছর বয়স্ক ‘শিশু ফারাও’ বা ‘বালক রাজা’ তুতেনখামেন বিশ্ববিখ্যাত হয়ে পড়েন৷ গোটা মিসরে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধি৷
এখনো শুধু অনুমান
তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্রের পেছনে সত্যি তার সৎ মা নেফারতিতির সমাধি আছে কিনা, তা এখনো অনুমানের বিষয়৷ তবে বার্লিনের মিসরীয় মিউজিয়ামের উপ-প্রধান অলিভিয়া সর্ন মনে করেন, নিকোলাস রিভস অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ, যিনি তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করেন৷
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/59234#sthash.8dZaQR9Q.dpuf
বিশ্ব তারকা তুতেনখামেন
১৯২২ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার ‘কেভি৬২’ নামের সমাধি আবিষ্কার করেন৷ প্রায় অক্ষত ছিল সেই সমাধি৷ ফলে ১৯ বছর বয়স্ক ‘শিশু ফারাও’ বা ‘বালক রাজা’ তুতেনখামেন বিশ্ববিখ্যাত হয়ে পড়েন৷ গোটা মিসরে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধি৷
এখনো শুধু অনুমান
তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্রের পেছনে সত্যি তার সৎ মা নেফারতিতির সমাধি আছে কিনা, তা এখনো অনুমানের বিষয়৷ তবে বার্লিনের মিসরীয় মিউজিয়ামের উপ-প্রধান অলিভিয়া সর্ন মনে করেন, নিকোলাস রিভস অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ, যিনি তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ করেন৷
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/59234#sthash.8dZaQR9Q.dpuf

তদন্তে অগ্রগতি নেই ক্ষুব্ধ জাপান অপেক্ষায় ইতালি, ফ্রান্সের নিন্দা, কর্মী সরিয়ে নিলো স্পেন

দুই বিদেশী নাগরিক হত্যাকাণ্ড রহস্যাবৃত রয়ে গেছে এখনও। হত্যার রহস্য উদঘাটন, খুনিদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত সাতটি সংস্থা। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত কোন সুখবর মেলেনি। ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যার পর পেরিয়ে গেছে ৮ দিন। তার লাশ নেয়ার ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি ইতালি। লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে। জাপানি নাগরিক হোশিও কুনি হত্যার তদন্তেও নেই কোন অগ্রগতি। এ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাপান। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে। ঘটনার নিন্দা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে ফ্রান্স। সর্বশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান আইসোলাক্স বাংলাদেশ থেকে সাময়িকভাবে কর্মী ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় মামলার তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ- ডিবির পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি, র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই, পুলিশের বিশেষ শাখা- এসবি এবং সরকারের দুটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র বলছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে এখন দুটি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। কারণ, ইতালিয়ান নাগরিক  সিজার তাভেলার ব্যক্তিগত বা এনজিও সংক্রান্ত কোন বিরোধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন এই হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি সম্পৃক্ততা কিংবা আন্তর্জাতিক বা রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করছে। ওই সূত্র জানায়, তারা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন পুরো হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দেশের বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়া হয়েছে। তারা এসব বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণও হাতে পেয়েছেন। এসব তথ্য-প্রমাণ যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বলার মতো সময় এখনও হয়নি। সূত্র জানায়, দুটি হত্যাকাণ্ডই একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে হচ্ছে। খুনের ধরনও একই। এ কারণে একটি খুনের রহস্য উন্মোচিত হলে অপরটির রহস্য উন্মোচন অনেক সহজ হয়ে যাবে। গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা, দেশকে  অস্থিতিশীল করতেই বিদেশীদের খুনের টার্গেট নিয়ে চক্রটি মাঠে নেমেছে। এক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট কোন  দেশ টার্গেট নেই। তারা রেকি করে যাকে হাতের কাছে পেয়েছে এবং খুন করে পালাতে পারবে তাকেই হত্যা করেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা জঙ্গি ও আন্তর্জাতিক চক্রের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। সূত্র জানায়, প্রযুক্তিগত ও ম্যানুয়ালি- দুই ভাবেই তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধানের জন্য গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়েছে। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই নেপথ্য মদতদাতাদের নাম-পরিচয় বেরিয়ে আসবে। পুলিশের বিশেষ শাখার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক বলেই ধারণা তাদের। জঙ্গিদের খুনের ধরন অন্য। আর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট শক্তভাবে সংগঠিত হতে পারেনি যে তারা পরিকল্পনা করে বিদেশী নাগরিকদের ওপর হামলা চালাবে। বিভিন্ন সময়ে আইএস সন্দেহে যেসব জঙ্গি গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আইএসের সমর্থক। সুপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো শক্তি তাদের নেই।
এদিকে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে গুলি করে হত্যার ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। জাপানি নাগরিক কুনিওকে কেন হত্যা করা হলো এমন প্রশ্নের জট এখনও খোলেনি। হোশি কুনিও যে বাড়িতে থাকতেন তার মালিকসহ প্রত্যক্ষদর্শী চার জনকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে তাদের কাছ থেকে খুনের বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, ঘটনা যা-ই হোক অবিলম্বে তার ক্লু বের করা হবে। এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জাপানি ফরেনসিক চিকিৎসক কোর্সিয়া মরিটার উপস্থিতিতে হোশি কুনিও’র লাশ ময়না তদন্ত করেছে হাসপাতালের ৩ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। নিহত জাপানি নাগরিক হোশির লাশ জাপানি দূতাবাসের নিকট হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে বলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন জানান।
এদিকে গতকাল পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ডিআইজি হুমায়ুন কবীর বলেন, খুনিদের চিহ্নিত করা, যে যানবাহনের মাধ্যমে খুনিরা গিয়েছে এগুলো শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সাক্ষ্যপ্রমাণ ও কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো যাচাই বাছাই চলছে। তিনি বলেন, রহস্য উদঘাটনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের কাজ করছে পুলিশ। ডিআইজি বলেন, আমরা সবদিক থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি দ্রুত হোশি কুনিও’র হত্যার রহস্য উদঘাটনে।
ক্ষুব্ধ জাপান, দ্রুত তদন্তের আহ্বান
বাংলাদেশের রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাপান। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ড দ্রুত তদন্তে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। এদিকে, ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাস থেকে বাংলাদেশী মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দূতাবাস কর্মকর্তাদের ছবি, ভিডিও ধারণ না করতে। বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়, জাপানের মন্ত্রিপরিষদ শীর্ষ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা বলেছেন, এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড বার বার ঘটতে দেয়া যায় না। এমন ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ। গতকাল টোকিওতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। নিহত  হোশি কুনিওর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, জাপান সরকার হোশি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায়। জাপানের গণমাধ্যম এনএইচকে’র খবরে বলা হয়, হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডে আইএস জঙ্গিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা দ্রুত তদন্ত করতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকার। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত  মাসাতো ওয়াতানাবি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এ অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত আনুমানিক ১০০০ জাপানি নাগরিকের   নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এদিকে, হোশি কুনিও’র হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী মিডিয়ার প্রতি তিনটি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাস। বলা হয়েছে, ‘সম্প্রচার বা প্রচার করার জন্য রংপুরে সফররত জাপানি দূতাবাস কর্মকর্তাদের ছবি নেয়া বা ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থাকুন। তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পুলিশের দেয়া বেষ্টনী লঙ্ঘন করা এড়িয়ে চলুন।’ সর্বশেষ আহ্বানে বলা হয়েছে, ‘ হোশি কুনিও’র পরিবারের অনুরোধ বিবেচনায় তার ছবি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন; বিশেষ করে তার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত ছবি।’ হোশি হত্যাকাণ্ডের পরদিন ঢাকার একটি জাপানি স্কুল জানিয়েছে, তারা ক্লাস বন্ধ করে দিচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় ইতালির এনজিও কর্মী সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শনিবার রংপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন হোশি। এ ঘটনায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ইট ইজ অ্যাবসোলুটলি রাবিশ। দেশে কোন আইএস নেই। থাকতে পারে না। রোববার তিনি এপিকে বলেন, আইএস কেন এখানে থাকবে? দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আইএস হামলা চালিয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সন্দেহজনক। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায়ও। তিনি আইএসের বিষয়ে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ অনলাইনে কিছু পোস্ট করলো, কেন আমরা কোন প্রমাণ ছাড়া তা মেনে নেব? আমরা এটা মেনে নিতে পারি না। এপি আরও লিখেছে, ইসলামপন্থি গ্রুপগুলোর সহিংসতা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেড়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে দেশ। এ বছর চার ব্লগারকে হত্যার পর নিষিদ্ধ করা হয়েছে কয়েকটি সংগঠনকে। ওদিকে হোশি কুনিওকে হত্যার পর আইএস এ হত্যার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এমন দাবি করেছে এসআইটিই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। এ গ্রুপটি জিহাদি সংগঠনগুলোর অনলাইন পোস্টগুলো অনুসরণ করে থাকে। তবে তারা আইএসের দাবির পক্ষে যে তথ্য দিয়েছে তা নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে সিজার তাভেলাকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিল আইএস। ওদিকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামী দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে বলে তাদের দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিএনপির এক মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুঃখজনক।
কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান আইসোলাক্স
স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান আইসোলাক্স কোরসান বাংলাদেশ থেকে তাদের বিদেশী কর্মী সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে আইসোলাক্স এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক মার্টা ফার্নান্দেজ। এ খবর দিয়েছে ফক্স নিউজ ল্যাটিনো। গতকাল মার্টা ফার্নান্দেজ জানিয়েছেন, ‘স্পেন ও অন্যান্য দেশের ২০ জন আইসোলাক্স কর্মী রোববার ঢাকা ছেড়েছে। আরও ৩০ জন কর্মী দ্রুতই বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানিয়েছে, কর্মীদের ফিরে যাওয়াটা সাময়িক। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপাতত নভেম্বর মাসে আবারও তাদের বাংলাদেশে ফেরার সময়সূচি রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৫ বছর ধরে কাজ করছে আইসোলাক্স। বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে চলমান বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের ৭০ শতাংশ বাংলাদেশী। আর বাকি ৩০ শতাংশ স্পেন ও অন্যান্য দেশের। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কর্মী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত তাদের প্রকল্পের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে ঢাকার অদূরে সিদ্ধিরগঞ্জে। ২০১৬ সালের মার্চে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা।
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি ফ্রান্সের
বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার নিন্দা এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি। একইসঙ্গে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশে আছে ফ্রান্স।

‘বিজেপি-আরএসএস ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র বানাতে চায়’

ইকলাখ-কাণ্ড নিয়ে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে চলেছে। উত্তর প্রদেশ সরকারের মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা আজম খান আজ সোমবার লখনৌয়ে বলেছেন, ন্যায়বিচারের আশায় তিনি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন। সে জন্য ইতিমধ্যেই তিনি জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বান কি মুনের কাছে সময় চেয়েছেন।
দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বিসাদা গ্রামে গত সপ্তাহে একটা বাছুর জবাইয়ের গুজবের বলি হন মুহম্মদ ইকলাখ। সেই ঘটনায় তাঁর ছোট পুত্র দানিস গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
গো-হত্যার অভিযোগে ইকলাখ-খুনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি সেই থেকে সরগরম। আজম খান এই ঘটনাকে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করে সোমবার বলেন, বিজেপি ও আরএসএস ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। ইকলাখ হত্যা তারই একটা ধাপ। তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ ভারত যদি হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে যায়, তা হলে এ দেশে মুসলমানদের ভূমিকা কী হবে?’ তিনি বলেন, জাতিসংঘে তাঁরা এটাই জানতে চাইবেন।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ইতিমধ্যেই ইকলাখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সবরকমের সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৪৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। দানিসের চিকিৎসার দায়িত্বও সরকার নিয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতারা আবার এই সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত। তাঁরা বলছেন, রাজ্য সরকার মুসলিম-তোষণের রাজনীতি শুরু করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের আরও ক্ষোভ, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপি পরিবারের সদস্য। মুজফফরনগরের দাঙ্গায় অন্যতম অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত বিজেপির বিধায়ক সঙ্গীত সোম বিসাদা গ্রামে গিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে গতকাল রোববার দেখা করেন। সেখানে তিনি বলেছেন, নির্দোষ যুবকেরা শাস্তি পেলে দল তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
গো-হত্যা ও নরহত্যা নিয়ে রাজনীতির এই চাপান-উতোরের মধ্যেই হতে চলেছে বিহারের নির্বাচন এবং সেখানেও উন্নয়নের স্লোগানকে পেছনে ফেলে সামনে চলে এসেছে গরুর রাজনীতি। বিজেপি জিতলে যাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সেই সুশীল কুমার মোদি বলেছেন, দল বিহারে সরকার গড়লে গোটা রাজ্যে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় এসে নরেন্দ্র মোদি গরু পাচার বন্ধ করে দিয়েছেন। বিসাদা গ্রামের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এখনো কিন্তু মুখ খোলেননি। ভোটের মুখে লালু প্রসাদ তাই মোদিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, উনি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র।
ইকলাখের পরিবার আপাতত বিসাদা গ্রামে নেই। গোটা তল্লাট পুলিশে সয়লাব। গ্রামবাসীরা চাইছেন না এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি হোক। তাঁরা এ-ও চাইছেন না নিহত ইকলাখের পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাক। স্থানীয় হিন্দুরা ইকলাখের পরিবারকে এ নিয়ে ‘অনুরোধ’ও করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইকলাখের বড় পুত্র মুহম্মদ সরতাজ এক বেসরকারি টিভির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেছেন, ‘এমনটা ঘটতে পারে কখনো ভাবিনি। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ভালো। সবাই সব সময় মিলেমিশে থেকেছি। দুচারজন খারাপ হয়তো এই কাজ করেছে। কিন্তু গ্রামবাসীরাই সবাইকে আগলে রাখছে।’ সরতাজ ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মী। ঘটনার দিন চেন্নাইয়ে ছিলেন। রাজনীতিবিদদের প্রতি তাঁর আবেদন, দয়া করে এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। এটা রাজনীতি করার সময় নয়।

সিরিয়ায় আরও পুরাকীর্তি ধ্বংস আইএসের

 ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ পালমিরা গত
মে মাসে দখল করে নেয় আইএস। ছবি: রয়টার্স
সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরার আরেকটি পুরাকীর্তি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। দেশটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্র এমন দাবি করেছে। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পালমিরার আন্দোলনকর্মী মোহাম্মদ হাসান আল-হোমসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘পালমিরার বিজয় তোরণ বলে পরিচিত ওই প্রাচীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা আইএস ধ্বংস করেছে।’
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, ধ্বংসের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সূত্র।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিরিয়ার পুরাতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক মামুন আবদুল করিম।
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত পালমিরা গত মে মাসে দখল করে নেয় আইএস। এরপর বিশ্বজুড়ে শঙ্কা তৈরি হয়, জঙ্গিরা ঐতিহ্যপূর্ণ এই নগরটি ধ্বংস করে ফেলবে। আইএসের জঙ্গিরা ইতিমধ্যে পালমিরার দুটি মন্দির ধ্বংস করেছে।
শহর দেখভালের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৮২ বছর বয়সী প্রত্নতত্ত্ববিদ খালেদ আল-আসাদকে গলা কেটে হত্যা করে আইএস। তাঁর মরদেহ প্রাচীন একটি স্তম্ভের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
রোমান স্থাপত্যের নিদর্শনবাহী পালমিরাকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলোর অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়।
দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে অনন্য সব স্থাপত্য আর রাস্তাঘাট নিয়ে টিকে আছে পালমিরা।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ২১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে পালমিরা অবস্থিত। শহরটি মূলত একটি মরূদ্যান। সিরিয়ায় পালমিরার পরিচিতি ‘তাদমুর’ নামে। এর অর্থ হচ্ছে ‘খেজুরের শহর’।
আরেক প্রাচীন মন্দির গুঁড়িয়ে দিল আইএস
সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরার বেল মন্দিরটির কিছু অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে শহর দখলকারী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা। ওই অঞ্চলে করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস গত রোববার এ কথা জানায়। স্যাটেলাইট ইমেজ মন্দিরটি ধংসের ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।
এ মাসে দুই হাজার বছরের পুরোনো পালমিরার দুটি মন্দির ধ্বংস করল আইএস। গত ২৫ আগস্ট শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাল শামিন মন্দির ধ্বংস করে তারা। পালমিরা ইউনেস্কার বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
বাল শামিন মন্দিরের কতটুকু ধ্বংস করা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে স্থানীয় অধিবাসীরা বলেছেন, তাঁরা বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। পালমিরার এক অধিবাসী বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ‘একেবারে সবকিছু ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ইট আর স্তম্ভগুলো মাটিতে মিশে গেছে। এমন বিস্ফোরণ হয়েছে যে এর শব্দ বধিরও শুনতে পাবে।’
তাঁর কথা, মন্দিরটির কেবল দেয়ালটাই এখন টিকে আছে। সূর্যদেবতা ইয়ারহিবল এবং চন্দ্র দেবতা আগলিবলের মন্দির এটি। ইউনেস্কো মন্দির ধ্বংসের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এভাবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস যুদ্ধাপরাধের শামিল।
এ বছরের মে মাসে পালমিরা দখল করে আইএস। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তারা প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যপূর্ণ এই নগরটি ধ্বংস করে ফেলবে। শহর দখলের পর এর কিছু কিছু স্থাপনা ধ্বংস করে ফেলার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে বাল শামিন ধ্বংসের পর সেই ছবি আইএসের পক্ষ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ মাসের শুরুর দিকে পালমিরা শহর দেখভালের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৮২ বছর বয়সী প্রত্নতত্ত্ববিদ খালেদ আল-আসাদকে গলা কেটে হত্যা করে আইএস জঙ্গিরা। হত্যার পর আসাদের মরদেহ প্রাচীন একটি স্তম্ভের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
ঐতিহ্যের শহর: দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে অনন্য সব মন্দির আর রাস্তাঘাট নিয়ে টিকে আছে পালমিরা। শহরটিতে আছে অপূর্ব সব মূর্তি, হাজার খানেক স্তম্ভ আর আছে পাঁচ শতাধিক সমাধিসৌধ। পালমিরা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের ২১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। শহরটি মূলত একটি মরূদ্যান। সিরিয়ায় পালমিরার পরিচিতি ‘তাদমুর’ নামে। এর অর্থ হচ্ছে ‘খেজুরের শহর’। পালমিরা ছিল মূলত দূর পথযাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার স্থান। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতক থেকে পরবর্তী ৪০০ বছর পালমিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হয়, মূলত মসলা, সুগন্ধি রেশম এবং হাতির দাঁতের শিল্পের ব্যবসার জন্য।

‘আইএসের দাবি’ মুনীরুজ্জামানের বিশ্লেষণ

আইএস সব জায়গায় তাদের মতাদর্শে বিশ্বাস করে এমন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এম মুনীরুজ্জামান। বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যায় আইএস সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে চলমান বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।  বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন দাবির বিষয়ে জেনারেল (অব.) এম মুনীরুজ্জামান বলেন, এটা কি তথ্যের ওপর প্রকাশ করা হয়েছে সেটা আমি জানি না। আইএস সম্পর্কে আন্তর্জাতিকভাবে যে তথ্য পাওয়া যায় কিংবা আমরা বিশ্লেষণ করে যে ধরনের তথ্য পাই তাতে দেখা যাচ্ছে- আইএস সব জায়গায় তাদের মতাদর্শে বিশ্বাস করে এমন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। অথবা তাদের ওপর আস্থা আছে এমন কোন দল যদি এ ধরনের অপারেশন করে থাকে তাহলে তাদের স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশে যে ধরনের স্বীকৃতি এসেছে তাতে মনে হয় সেটা ওই ধরনের স্বীকৃতি। অর্থাৎ তাদের মতাদর্শে বিশ্বাস করে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকতে পারে সেটা আইএস স্বীকৃতি দিয়েছে।
আইএসের হত্যাকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ডের মিল না থাকার বিষয়ে মুনীরুজ্জামান বলেন, আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যখন এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয়, তখন তারা বর্বরভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। কিন্তু আইএস বর্তমানে সিরিয়া ও ইরাকের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সেখানে তারা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। সিরিয়া ও ইরাকের বাইরে আইএস প্রথমবারের মতো চেসনিয়ায় তাদের একজন কামান্ডার নিয়োগ করেছে। আমাদের উপমহাদেশে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, এখানে একটি প্রভাব বিস্তারের জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। আল-কায়েদা ওই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিল। একইসঙ্গে আইএস প্রভাব বিস্তারের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। স্থানীয় জঙ্গিরা দুই বিদেশী হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রচারের জন্য আইএসের নাম ব্যবহার করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আইএস বলছে- তাদের অন্তর্ভুক্ত কোন সদস্য হিসেবে কাজ করতে হবে সেটার কোন প্রয়োজন নেই। যেখানে তাদের মতাদর্শের দল বা সংগঠন বা ছোট দল কাজ করে থাকে তার সঙ্গে আইএসের একটা যোগসূত্র স্থাপন হয়। সবাইকে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে হবে এমন কোন প্রয়োজন নেই। নিজ নিজ স্থান থেকে জিহাদ ঘোষণা করা যাবে সার্বিক আইএসের মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করেই। কাজেই এখানে ছোট দল আইএসের নাম ব্যবহার করে কোন কর্মকাণ্ড করেছে অথবা ছোট দল কোন কর্মকাণ্ড করেছে যেটা আইএস স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আইএসের প্রভাব এখানে আছে সেটা মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ আইএসের কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না, এরকম সংস্কৃতিতে আইএস ঢুকে পড়া সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একেবারেই সম্ভব। কারণ আইএসের কর্মকাণ্ডের প্রধান মাধ্যম হলো সাইবার রেডিক্যালাইজেশন। যেখানে কোন ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। কাজেই বাংলাদেশ থেকে যেসব যোদ্ধা আইএসে যোগ দিয়েছেন খুব সম্ভবত তারা সাইবার রেডিক্যালাইজেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। এটাও দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে  বাংলাদেশে উগ্র মতবাদ বা সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের যে প্রয়াস তার সঙ্গে আমাদের যে ধারণা ছিল বাংলাদেশ একটি উদার মুসলিম রাষ্ট্র সেখান থেকে একটা বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভেতর বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সামাজিক পরিবর্তন আসছে।  বর্তমানে রাজনৈতিক একটি অচলাবস্থা ও শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণের জন্য বিভিন্ন উগ্র মতবাদী দল ও সন্ত্রাসীরা তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে পাদরিকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

লুক সরকার
পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টান মিশনের এক পাদরির বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা গলায় ছুরি চালিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে বিমানবন্দর সড়কের গোকুলনগরের ভাড়া করা বাসায় বসার কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁর গলায় ছুরিকাঘাত করে।
ওই পাদরির নাম নাম লুক সরকার (৫২)। ঈশ্বরদীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লুক সরকারকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর গলার ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি দুপুরেই বাড়িতে ফেরেন।
এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
লুক সরকারের স্ত্রী পদ্মা সরকার প্রথম আলোকে জানান, তাঁর স্বামী গোকুলনগর খ্রিষ্টান মিশনের পাদরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হোমিও চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখেন। বাড়িতে বসেই লুক সরকার রোগী দেখেন। ঈশ্বরদী বাজারের ব্যবসায়ী মনি মল্লিকের বাসায় তাঁরা ভাড়া থাকেন। প্রতিদিনের ন্যায় আজও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লুক সরকার তাঁর বসার কক্ষে বসে বাইবেল পাঠ করছিলেন। এ সময় তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো-ট ১১-৯০৫৪) তাঁদের বাসায় আসেন এবং ধর্ম পাঠ শোনার কথা বলে বসার কক্ষে ঢোকেন।
পদ্মা সরকার বলেন, তিনি বসার কক্ষ থেকে বেরিয়ে অন্য কক্ষে যাওয়ার পরই চিৎকার শুনে আবার বসার কক্ষে গিয়ে দেখতে পান তিন যুবক তাঁর স্বামীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন এবং তাঁরা তাঁর স্বামীর গলায় ছুরিকাঘাত করছেন। তিনি চিৎকার দিলে ওই যুবকেরা দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আজগর আলী জানান, চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দুর্বৃত্তদের পেছনে ধাওয়া করে একজনকে জাপটে ধরলেও বাকি দুজন তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান।
লুক সরকার জানান, কী কারণে তাঁর ওপর এ হামলা হয়েছে তা তিনি এখন বলতে পারছেন না। তবে দুই যুবক তাঁর কাছে কয়েক দিন আগে এসেছিলেন ধর্মের দীক্ষা নিতে। ওই অপরিচিত যুবকেরাই হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত পরিচয় তিনজনের কথা উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
রাজশাহীর অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল মামুন, পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সেখান থেকে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছেন।
ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম আবু যাহিদ জানান, লুক সরকারের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। গত মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে রফিক পরিচয়ে পাবনার দুই যুবক ধর্মের দীক্ষা নেওয়ার জন্য তাঁর বাসায় আসেন। পরে আবার আসবেন বলে জানান। আজ ওই দুই যুবকের সঙ্গে আরও একজনসহ মোট তিনজন লুক সরকারের বাসায় এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় একজন মুখ চেপে ধরে ও অন্যজন ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করেন। এ সময় লুক সরকার দুর্বৃত্তের একজনের আঙুলে কামড় দেন। তবে লুক সরকার এদের কাউকে চেনেন না। তাদের সঠিক পরিচয়ও জানেন না।

আমরা শুধু ক্রিম খাবো

রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাস্ত্র কী বাংলাদেশে নতুন করে লেখা হচ্ছে। এ প্রশ্নটি একেবারে আচমকা নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা চলছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বেশ কিছু নতুন কিসিমের উপাদান আমরা আমদানি করেছি। স্বামী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত স্ত্রী বিরোধী দলের নেত্রী- এটি এক অভিনব ব্যবস্থা। একই দলের সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসাও যেমন নতুন। তবে নতুনত্বের এখানেও শেষ নেই। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আবার তিনি মাঝে মধ্যেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছেন সরকারের। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে যথারীতি তিনি আবারও সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। এ সংবাদ সম্মেলনেও অবশ্য এরশাদ আসেন সরকারি পাজেরো জিপে চড়ে। গাড়িতে জাতীয় পতাকা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবে সরকারের এসব ব্যর্থতার দায়ভার আপনি নিবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, এটা আমার জন্য খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আমি এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। তখন পাশে থাকা জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত একটি আলঙ্কারিক পদ। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আছে। তার মূল পদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। বর্তমান পরিস্থিতির দায় জাতীয় পার্টি নেবে না।
জাতীয় পার্টির এই অবস্থানে অনেকে একটি পুরনো শ্লোক স্মরণ করেছেন- কচি পাঠা-বৃদ্ধ মেষ, দুধের অগ্র-ঘোলের শেষ। ক্ষমতার সব স্বাদই গ্রহণ করা হবে কিন্তু কোন দায়িত্ব নেয়া হবে না। এ যেন আমরা খালি ক্রিম খাবো। অথচ ক্ষমতা এবং দায়িত্ব শব্দ দুটি পরস্পর সম্পর্কিত। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতা ভোগ করলে দায়িত্ব না নেয়ার কোন উপায় নেই। রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন বেপারি এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আজব ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে রয়েছে। অথচ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সে সময় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাকে জোর করে এমপি বানানো হয়েছে। নুরুল আমিন বেপারি বলেন, জাতীয় পার্টি মন্ত্রিসভায় রয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তাই জাতীয় পার্টি এবং এরশাদের দায় অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই।