Monday, June 6, 2011

নিত্যপণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকট বা ঘাটতির অজুহাতে যেন এসব পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলা ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিয়ে সহায়তা করবে বলেও জানানো হয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বলা হয়, রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাবে। আর এই চাহিদা মেটাতে এসব পণ্য আমদানি করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকে যথাসময়ে ঋণপত্র খোলা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা জানান, প্রয়োজন অনুসারে দ্রুত ঋণপত্র খোলার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং আগামী দিনেও তা অ্যাহত থাকবে।
বৈঠকে চাল, গম, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
পর্যালোচনা অনুসারে, চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ২৮ মে পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি মূল্যমানের অনিষ্পন্ন ঋণপত্রের চাল আমদানির জন্য অপেক্ষমাণ আছে। এই ঋণপত্রের মূল্যমান ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যেখানে গত বছর একই সময়ে চাল আমদানির ঋণপত্রের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।
একই সময়কালে চিনি আমদানির জন্য গত বছরের ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঋণপত্রের বিপরীতে চলতি বছরের আলোচ্য সময়কালে অনিষ্পন্ন ঋণপত্রের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি ডলার।
পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির অনিষ্পন্ন ঋণপত্রের পরিমাণ ৩২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ বেশি।
এ ছাড়া ভোজ্যতেল আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের মধ্যে অনিষ্পন্ন রয়েছে ৭৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে পেঁয়াজ আমদানির অনিষ্পন্ন ঋণপত্রের পরিমাণ চার কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যেখানে গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল দুই কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভায় আরও জানানো হয়, অনিষ্পন্ন ঋণপত্রের পাশাপাশি এসব পণ্যের জন্য নতুন আমদানি ঋণপত্র খোলাও অব্যাহত রয়েছে। আর তাই আগামী রমজানে সরবরাহ চ্যানেলগুলো সুষ্ঠুভাবে কার্যকর রেখে অতি মুনাফার প্রবণতা পরিহার করা হলে মূল্যবৃদ্ধিজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার উদ্ভব হবে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য এ জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক মহল এবং ব্যাংকিং খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

কৃষি উপকরণের বাইরেও ভাবতে হবে by মাহবুব হোসেন

আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ নানা কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সামনের দিনে কমার সম্ভাবনা কম। তেলের দাম বাড়লে ইউরিয়ার দামও বাড়ে। এরই মধ্যে দাম যে পরিমাণে বেড়েছে, তাতে আগামী অর্থবছরে শুধু ইউরিয়া সারেই সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের দেশের পক্ষে এই পরিমাণ আর্থিক চাপ সহ্য করা কঠিন। সরকার বাজেটের আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে ইউরিয়ার দাম বাড়ানোর ন্যায্য কারণ রয়েছে।
অন্যদিক থেকে দেশে ইউরিয়া সারের দাম এখনো অন্যান্য সারের তুলনায় বেশ কমই আছে। সত্তরের দশকে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের দাম প্রায় সমান ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, ধানের জমিতে ৫০ শতাংশ ইউরিয়া ও বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য সার ব্যবহার করা উচিত। আশির দশকে বিশ্ববাজারে টিএসপি সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারও এই সারের দাম বাড়িয়ে দেয়। দেশে যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন হওয়ায় সরকার ইউরিয়ার দাম কমায়নি। তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় কৃষক ৮০ শতাংশ ইউরিয়া সার ব্যবহার করতেন। এটা মাটির জন্য খুবই ক্ষতিকর। ইউরিয়া দিলে এর ফলাফল দ্রুত দেখা যায়, ধানসহ অন্যান্য ফসলের পাতা দ্রুত সবুজ হয়। ফলে কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করায় মাটির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। এখন দাম বাড়ানোর ফলে কৃষক ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও অন্যান্য সার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করবেন। দীর্ঘ মেয়াদে এটা কৃষির জন্য ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাস-সংকটের কারণে দেশের কারখানাগুলোতে ইউরিয়ার উৎপাদন অনেক কমেছে। বোরোর চাষ বাড়ায় প্রয়োজনীয় বাড়তি ইউরিয়া বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়েছে। তাই একবাক্যে বলতে গেলে ইউরিয়ার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক ও কৃষির দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির দিক থেকে ন্যায্য। তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের সারের দাম সমান পর্যায়ে রাখতে হবে। তবে কৃষির ক্ষেত্রে সরকারের বেশির ভাগ চিন্তা, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত অনেক বেশি শস্যকেন্দ্রিক। মনে হচ্ছে, ধান ও অন্যান্য ফসলের বাইরে কৃষির অন্য কোনো খাত নেই। এ ছাড়া সরকারের কৃষিবিষয়ক পরিকল্পনা অনেক বেশি উপকরণ বা সার, বীজ, সেচ প্রভৃতির সরবরাহনির্ভর। এগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কৃষি গবেষণার বিষয়ে নিয়মিত ওয়াকিবহাল থাকেন, নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সমস্যা রয়ে গেছে। যেমন, উন্নত বেশ কিছু ধানের জাত বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন। বন্যা ও লবণাক্ত-সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার আগে পাইলট ভিত্তিতে চাষাবাদ হওয়া উচিত ছিল। লবণাক্ত এলাকায় বিআর-৪৭ জাতের ধান এফএওর মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছানো হলো। কিন্তু সব ধরনের কৃষক এই জাত চাষ করে পোষাতে পারবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত ছিল। যেসব কৃষক ঝুঁকি নিতে আগ্রহী, তাঁদের চিহ্নিত করে নতুন জাতের ধান চাষ করতে দেওয়া উচিত। এতে জাতগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যাবে। সফল হলে বা ভালো ফলন দিলে বৃহৎ পরিসরে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে। গবেষণা খাতে সরকারের আরও বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। বেশির ভাগ কৃষিনির্ভর দেশ ভ্যালু অ্যাডেড শস্যে ভর্তুকির ক্ষেত্রে বাজেটে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশ গবেষণা খাতে দেয়। বাংলাদেশে কৃষি খাতে বরাদ্দের দশমিক ২ শতাংশ গবেষণায় দেওয়া হয়। এটা কমপক্ষে ১ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
চলতি বছরের বাজেট থেকেই সরকার গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো শুরু করতে পারে। তবে গবেষণার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অতিরিক্ত বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সরকারের উচিত কৃষির বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত জনবল তৈরি করা। উন্নত কৃষিশিক্ষা নিতে বিদেশে পিএইচডিসহ বিভিন্ন গবেষণায় প্রশিক্ষণ নিতে শিক্ষার্থীদের পাঠাতে হবে। দেশে তাঁদের ভালো বেতনে কাজের সুযোগ দিতে হবে। গবেষণার প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণাযন্ত্র নিয়ে আসতে হবে। সব মিলিয়ে কৃষিতে গবেষণার বিষয়টিকে ঢেলে সাজাতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে অবহেলা করা হচ্ছে। বাজেটে বরাদ্দ, উপকরণ সহজলভ্যসহ বিভিন্ন দিক থেকে শস্য খাত সব সময় প্রাধান্য পায়। শস্যের বাইরে পোলট্রি ও চিংড়ি বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্ব পেয়েছে। অথচ দেশে বিপুল পরিমাণ প্লাবনভূমি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্লাবনভূমিতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন ধরনের মাছ চাষ করা যাবে, তা চিহ্নিত করেছেন। প্লাবনভূমিগুলোর বেশির ভাগই কমন প্রপার্টি হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ এতে অংশীদারি পেতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে তা সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের প্লাবনভূমির উৎপাদনশীলতা বাংলাদেশের তিন গুণ। দেশে পুকুরে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ হওয়ায় তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের জোগান বেড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেশীয় প্রজাতির শিং, মাগুরসহ অন্যান্য জাতের মাছের উৎপাদন কমেছে। ফলে এগুলোর দাম বেড়েছে। প্লাবনভূমিতে দেশি ও আধুনিক জাতের মাছের চাষ বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।
পোলট্রি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ঝুঁকির পরিমাণ বেড়েছে। বার্ড ফ্লুসহ নানা রোগের কারণে পোলট্রি খাতের জৈবনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। রোগ-ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। না হলে পোলট্রি-শিল্পে ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগ আসবে না। বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু পালন বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে। কেননা, এ জন্য প্রয়োজনীয় গোচারণভূমি ও খাদ্যের জোগান দেওয়ার মতো সম্পদ বাংলাদেশে কম। ভারতের সঙ্গে আমরা এ ক্ষেত্রে পেরে উঠব না। সরকার এ ক্ষেত্রে দুগ্ধশিল্পের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে পারে। কেননা, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর দুগ্ধসামগ্রীর ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়ে উঠছে। দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিতে হবে।
বাংলাদেশে কৃষিজমির পরিমাণ কম, জনসংখ্যা বেশি—এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার পরিকল্পনা করতে হবে। দেশের ভেতরে যতই উৎপাদন বাড়াই না কেন, আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে খাদ্য আমদানি করতে হবে। প্রবাসী-আয়, রাজস্ব বাড়ানো ও রপ্তানির মাধ্যমে আমরা আমাদের আয় বাড়াতে পারি। কিন্তু ২০০৭ ও ২০১০-এর অভিজ্ঞতা বলছে, টাকা থাকলেও সব সময় আমদানির জন্য খাদ্য পাওয়া যায় না। ভারত থেকে চাল ও রাশিয়া থেকে গম আমদানির ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় চুক্তি করেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। তাই খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিকে আমাদের ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। আফ্রিকার দেশগুলোর কৃষিজমি কিনে চাষ করার একটি সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। চীন ও সিঙ্গাপুর আফ্রিকার অনেক দেশে জমি কিনে চাষ শুরু করেছে। সৌদি আরব ও ভারতের ব্যবসায়ীরা ইথিওপিয়াসহ অন্যান্য দেশে জমি কিনেছে।
বাংলাদেশের সামনেও আফ্রিকার জমি কেনার এই সুযোগ এসেছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা আছে। যেমন, কোন দেশে কী পরিমাণ জমি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নেবেন, তার কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। যেমন—কেনিয়া, উগান্ডার মতো দেশগুলো জমি ইজারা দিতে রাজি হচ্ছে। কিন্তু পূর্ব আফ্রিকার এই দেশগুলোতে বৃষ্টি কম হয়। ফলে সেখানে ধান চাষ করা কঠিন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে বেশ বৃষ্টি হয়। সেখানে জমি ইজারা নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষতার সঙ্গে ধান উৎপাদন করতে পারে। তবে এ জন্য বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরতে হবে। কমপক্ষে আট বছর লাগবে জঙ্গলাকীর্ণ ওই কৃষিজমিগুলোকে চাষাবাদের উপযোগী করে পূর্ণাঙ্গভাবে উৎপাদনে যেতে।
পশ্চিম আফ্রিকায় উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন আট গুণ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু আফ্রিকার এই দেশগুলো সেখানে উৎপাদিত ফসলের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বাংলাদেশে রপ্তানি করতে দেবে কি না, তা আলোচনা করে দেখতে হবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আফ্রিকার দেশগুলোতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে ব্যাংকঋণ নিয়ে কৃষির মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই তাঁরা সরকারের কাছে টাকাকে ডলারে পরিণত করে আফ্রিকায় বিনিয়োগের অনুমতি চাইছেন। অনেকে মনে করছেন, শেয়ারবাজার থেকে যে টাকাগুলো সরানো হয়েছে, তা বিদেশে পাচারের জন্য ব্যবসায়ীরা আফ্রিকায় বিনিয়োগের কথা বলে টাকাকে ডলার করতে চাইছেন। এতে মুদ্রা পাচার হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক পরোক্ষভাবে বিষয়টি চিহ্নিত করে আপত্তি জানিয়েছে।
কিন্তু আফ্রিকায় জমি কেনার এখন যে সুযোগটি এসেছে, তাও নষ্ট করা যাবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোর দিক বিবেচনা করে আফ্রিকার দেশগুলোর কৃষি খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। স্বল্প মেয়াদে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে শুধু চাল নয়, ধানের দামও দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যমান প্রযুক্তিগুলোকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে কৃষি বিষয়ে গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে হবে।
ড. মাহবুব হোসেন: নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক।

আমীনুল হক ও একাত্তর

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু জাফর মোহাম্মদ আমীনুল হক বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধের এক অসীম সাহসী সৈনিক। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি তিনি মারা গেলেও তাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনা বা সেমিনার হয়েছে বলে জানা নেই। নিভৃত মানুষটি নিভৃতেই চলে গেলেন।
১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর হঠাৎ জেনারেল এরশাদ তাঁকে বেআইনিভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। চাকরি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আমীনুল হক। তবু মনোবল হারাননি। মনোবল হারাননি তাঁর স্ত্রী মরিয়ুম হকও। স্বামীর পাশে প্রত্যয়ী মনোবল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমীনুল হকের কথা স্মরণ করতে গিয়ে মনে পড়ে স্বাধীনতা-উত্তর দেশের ক্রান্তিলগ্নের বহু ঘটনা। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জাসদের গণবাহিনী যখন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অতর্কিত আঘাত হানছিল, তখন ঢাকা সেনানিবাসে লে. কর্নেল (পরবর্তীকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) আমীনুল হক বীর উত্তম ছাড়া আর কারোরই তেমন কমান্ড ছিল না। চারদিকে বিশৃঙ্খলা এবং প্রচণ্ড গোলাগুলি। প্রথম ধাক্কায় কর্নেল হুদা ও হায়দর, জেনারেল খালেদ মোশাররফসহ ১২ জন অফিসার (মহিলা সেনা ডাক্তার ও মিসেস ওসমানসহ) নিহত হলেন। নির্ভীক আমীনুল হক একাই তাদের ঠেকালেন। সৈনিকেরা তাঁদের চেনা কমান্ডারের ডাকে সাড়া দিলেন। জেনারেল জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে এই বীর সৈনিক সেদিন একটি মাত্র ব্যাটালিয়নকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত সৈনিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সফল হলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি তখন ৪৬তম (ঢাকা) ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার। তেজগাঁও এয়ারপোর্টে (জাপানি উড়োজাহাজ হাইজ্যাক হওয়াকে কেন্দ্র করে) কর্মরত এয়ারফোর্সের ১১ জন পাইলট অফিসারকে হত্যা করে দ্বিতীয় দফা তথাকথিত অভ্যুত্থানের সূচনা হয়। সেই সময়েও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমীনুল হক সেনাপ্রধানের প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্য প্রদর্শনপূর্বক জেনারেল জিয়ার নির্দেশে ও জেনারেল শওকতের সঙ্গে মিলে কঠোর হাতে বিদ্রোহীদের দমন করেন।
ফিরে যাই ১৯৭১ সালে। এপ্রিল মাসে সহকর্মী সালাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ইউনিটের জিপে করে পালিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন আমীনুল হক। এপ্রিল-মে মাসে বিলোনিয়া যুদ্ধে সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে গড়ে তোলেন এক অপ্রতিরোধ্য ডিফেন্স। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিলোনিয়া রণাঙ্গন থেকে অষ্টম বেঙ্গল নিয়ে চলে আসেন আসামের মেঘালয়ে। জেড ফোর্সের অধীন থেকে সম্মুখসমরে অবতীর্ণ হলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। একের পর এক তাদের ডিফেন্সের ওপর আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণ, রেইড করে তাদের ডিফেন্সকে তছনছ করে ফেলেন। সেপ্টেম্বর মাসে জেড ফোর্সকে সিলেটে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ধলাই বিওপি থেকে শুরু করে শমশেরনগর, আলীনগর, ছাগলনীল, ফুলতলা, ভানুগাছ, কমলগঞ্জ হয়ে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার পর্যন্ত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের অপারেশনগুলোর নেতৃত্ব দেন।
তাঁর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মনে পড়ল জামালপুর সীমান্তে অবস্থিত নকশি বিওপি এলাকার ঘটনা। শালবন ঘেঁষে ভারতীয় সীমান্ত। তার ওপারে নকশি বিওপি। বিওপি আক্রমণ করে শেষে ব্যর্থ হয়ে পিছু হটার সময় ধানখেতের শেষ প্রান্তে এসে কিছুক্ষণ আগে ৩০০ জন সৈনিক সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩১ বেলুচের ডিফেন্স আক্রমণ করতে গিয়ে ঊরুতে শেল, গ্রেনেডের স্প্লিন্টার ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন আমীন (লেখক) থমকে গেলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মোপিংআপ অপারেশনের সৈনিকেরা খুঁজে বেড়াচ্ছে ক্যাপ্টেন আমীনকে। পেছন থেকে অগ্রসরমাণ পাকিস্তানি মোপিংআপ পার্টি তাঁকে প্রায় ঘিরে ফেলছে। ঠিক তখনই মেজর আমীনুল হক সার্চিং পার্টি নিয়ে ক্যাপ্টেন আমীনকে দেখতে পান। বললেন, ‘আমীন চিন্তা করো না, আমি আসছি।’ ক্যাপ্টেন আমীন তাড়াতাড়ি বাঁ হাত দিয়ে সাদা রুমাল উড়িয়ে নিজের অবস্থান জাহির করলেন, যাতে তিনি দিকনির্দেশনা ঠিক করতে পারেন। খালি হাতেই মেজর আমীনুল হক ক্রোলিং করতে শুরু করলেন। কী সাংঘাতিক আত্মঘাতী এক প্রয়াস। তাঁকে এগোতে দেখে তাঁর গার্ড (যাঁর কাছে একটি পিস্তল আছে) নায়েক তাহের তাঁর পিছু পিছু ক্রোলিং শুরু করে কমরেডশিপের এক অভূতপূর্ব উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। আমীনুল হক ও তাহের ক্যাপ্টেন আমীনের কাছে এসে স্টেনগানটি তাঁর বিক্ষত পায়ের সঙ্গে বেঁধে অনেকটা স্ট্রেচারের মতো করে তাঁকে একটু ওপরের দিকে তুলে আস্তে আস্তে টানতে শুরু করলেন। লে. মুদ্দাচ্ছের দুই দিকে দুই গাছের ওপর দুটি মেশিনগান তাক করে স্থাপন করলেন। গাছ থেকে জওয়ানেরা কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘স্যার, পেছন থেকে ওরা তেড়ে আসছে আপনাদের ধরতে।’ মেজর আমীনুল হক দাঁত খিঁচিয়ে রাগতস্বরে হাতের রুমাল উড়িয়ে বললেন, ‘ব্যাটা, ফায়ার কর।’ সঙ্গে সঙ্গে মেশিনগান গর্জে উঠল। ইতিমধ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মেশিনগানের গুলির সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে আর্টিলারি শেলভো ফায়ারিং শুরু করল। আমীনুল হক ও তাহের তখন নালাকে আড় করে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন।
একবার ক্যাপ্টেন আমীনকে কাঁধে নিয়ে দৌড়াতে গিয়ে নালায় পড়ে গেলেন আমীনুল হক। ক্যাপ্টেন আমীন তাহেরের দিকে হাত বাড়িয়ে আমীনুল হককে বললেন, ‘স্যার, আপনি পেছনে চলে যান।’ আমীনুল হক বলে উঠলেন, ‘আরে না, আমার কিছু হবে না, তোমাকে ফেলে রেখে যাব না।’ ভারতীয় জেনারেল গুরুবক্স সিং এলেন তাঁর নিজস্ব এলিয়ট-৪ হেলিকপ্টার নিয়ে। ক্যাপ্টেন আমীনকে শুইয়ে দিয়ে পৌঁছালেন গুয়াহাটি সামরিক কমান্ড হাসপাতালে।
সেদিন আমীনুল হকের সাহস ও বিচক্ষণতার কারণে বেঁচে যান ক্যাপ্টেন আমীন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য গোটা জাতি তাঁর কাছে ঋণী। আর ব্যক্তিগতভাবে আমার ঋণ অপরিসীম। কেননা, তাঁর কারণেই আমি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম।
আমীন আহম্মদ চৌধুরী বীর বিক্রম

আহত সাংবাদিক, বিপন্ন সাংবাদিকতা

কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়িতে সন্ত্রাসীরা চারজন সাংবাদিককে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। খবরটি বিবেকবান যেকোনো নাগরিকের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ তাঁরা পেশাগত কাজ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। কুঠিবাড়িতে সরকারের প্রায় ৮৫ লাখ টাকার সংস্কারকাজ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উন্নয়নকাজের শুরু থেকে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার এবং দরপত্র অনুযায়ী কাজ না করে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দুটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার শিকার হন। ঠিকাদারের নেতৃত্বে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে হামলার প্রশ্ন ওঠে না।
আলোচ্য ঠিকাদার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শহর কমিটির একজন নেতা। সরকারি দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে তিনি এলাকায় প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন, কিন্তু তারও একটি সীমা আছে। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া বা হাঙ্গামা সৃষ্টির অধিকার তাঁর নেই। তাঁর উচিত ছিল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাঁদের কাজে সাহায্য করা। তাঁর কাজের দুর্নীতির অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে তিনি তাঁর ব্যাখ্যা দিতে পারতেন সাংবাদিকদের। আইনসম্মত পথে না গিয়ে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচার ও শাস্তি হতেই হবে।
সরকারি কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করাই সাংবাদিকদের কাজ। এর দ্বারা সমাজ উপকৃত হয়, সরকারও উপকৃত হয়। কারণ, সংবাদপত্রের দর্পণে সরকারের কাজের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। সাংবাদিকেরা যেন নিরাপদে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল স্থানীয় থানা পুলিশের। কিন্তু ঘটনার পর তারা সেখানে উপস্থিত হয়।
প্রভাবশালী মহল বা সরকারি দলের নেতারা যদি মনে করেন, হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করা যাবে, তাহলে ভুল করবেন। সাংবাদিকতা বিপন্ন হলে গণতন্ত্রই বিপন্ন হয়। এ সন্ত্রাসী ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার, আহত সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা দরকার। এই অপরাধের দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থ সমুন্নত রাখা হোক।

সবুজ উন্নয়ন ও বাংলাদেশ by স্টিফান প্রিজনার

২০১১ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘আপনার সেবায় প্রকৃতি ও বন’। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি কেবল এক দিনের একটি আহ্বান নয়, বরং এ দেশের বনভূমি রক্ষা করার লক্ষ্যে কার্যকর আন্দোলনের সূচনা। এই আহ্বান জীবনের গুণগত মানের সঙ্গে বনভূমি ও এর প্রতিবেশের মধ্যে আন্তসম্পর্কের তাৎপর্য তুলে ধরে। জাতিসংঘ এ বছরটিকে আন্তর্জাতিক বনভূমি বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে—প্রতিপাদ্যটি এ ঘোষণার সহযাত্রী। তাই এ প্রতিপাদ্য সত্যিকার অর্থে সবুজে ঘেরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে এক শক্তিশালী আহ্বান।
জলবায়ু ও পরিবেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এই আহ্বান গুরুত্ববহ। পৃথিবীর ভূ-ভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বনভূমি। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। বনভূমি বিশ্বের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন স্তরে জীবন বাঁচিয়ে রাখে। বনভূমি অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আমাদের যে নিয়ত সংগ্রাম, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অথচ পৃথিবীতে বনভূমি আজ বিপর্যস্ত। প্রতিবছর ৩৬ মিলিয়ন একর প্রাকৃতিক বনভূমি মানুষের হাতে ধ্বংস হচ্ছে। নির্বিচারে বন ধ্বংস করার ফলে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ।
বাংলাদেশের জন্যও বনভূমি ধ্বংস ও বন সংকোচন মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। স্বাধীনতাপূূর্ব সময়ে এ দেশে বনভূমির আয়তন ছিল মোট ভূখণ্ডের ২০ শতাংশ। সেই অনুপাত উদ্বেগজনক হারে কমে এসেছে। জাতীয় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) বিশ্লেষণে বাংলাদেশে সামাজিক বনায়নের উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনভূমি প্রতিনিয়ত ধ্বংস ও সংকোচনের কারণে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন। ভাওয়াল-মধুপুর গড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুন্দরবন অঞ্চলের বনভূমি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এমনকি বর্তমানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলসহ যতটুকু বনভূমি রয়েছে, তা-ও উজাড় হয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে। পার্বত্য এলাকাগুলোতে অর্থকরী ফসল চাষের ফলে বনভূমি কমে আসছে। সেখানে বনভূমি কৃষিজমিতে পরিণত হওয়ায় মাটি ক্ষয় হচ্ছে, সংকুচিত হয়ে আসছে নদী। বনভূমি কমে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে। সুন্দরবনের বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাগুলোয় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বেড়েছে।
ইউএনডিপির উন্নয়ন-প্রচেষ্টার একটি অন্যতম বিষয় হলো পরিবেশ রক্ষা। ইউএনডিপি বাংলাদেশের উন্নত পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা; জীববৈচিত্র্য রক্ষা; জ্বালানি সাশ্রয় এবং সমন্বিত ধারণার প্রচার ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত করতে নীতি ও কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা প্রকৃত অর্থে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন বাস্তবতা বাংলাদেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতেও গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ করতে আন্তর্জাতিক সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ডাক দিতে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতি জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় সদা সতর্ক। ইউএনডিপি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবে। এই বন উপকূলীয় ঝড় প্রতিরোধ করবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনবে। এ ধরনের সার্থক অভিযোজন প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের দরকার কার্যকর ধারণা, প্রযুক্তি ও সুযোগকে খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন-প্রক্রিয়াকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই করবে।
বাংলাদেশের এ ধরনের নতুন ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইউএনডিপি এবং এর অন্যান্য উন্নয়ন-সহযোগী। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও অভিযোজনের কাজ যাতে একসঙ্গে চলে এবং বাংলাদেশের যথার্থ টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়, সে জন্য একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে দেশকে সুরক্ষা দেবে।
ইউএনডিপির বর্তমান কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস এবং সবুজায়িত উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইট প্রস্তুতের জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করছে ইউএনডিপি।
বাংলাদেশে ইটভাটায় গাছ ও কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও দেশের অধিকাংশ ইটভাটার প্রায় ৩৩ শতাংশ জ্বালানি হিসেবে এখনো কাঠ ব্যবহূত হয়। দেশে এখন প্রায় আট হাজার ইটভাটা। এগুলোর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ইটভাটাই সনাতন পদ্ধতির, যারা জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে। ফলে প্রকটভাবে বনভূমি ধ্বংস করে। ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দক্ষভাবে জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশে ইট তৈরির নতুন প্রযুক্তি জনপ্রিয় করতে সচেষ্ট। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, ১৫০ বছরের পুরোনো প্রযুক্তির পরিবর্তে ইট তৈরিতে নতুন জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও ধোঁয়ামুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার। এ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে, যা দুই লাখ ৩০ হাজার যাত্রীবাহী গাড়ি অথবা দুই লাখ ৫০ হাজার একর পাইন বন থেকে কার্বন নিঃসরণের সমান। আশা করা যায়, এই প্রকল্পের সফল পরিসমাপ্তির মাধ্যমে বিদ্যমান আট হাজার ইটভাটার জায়গায় অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপিত হবে, যার কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সম্ভাবনা হবে আরও বহুগুণ বেশি।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কোপেনহেগেন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে আগত অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত ও খাদ্যের জ্বালানি ব্যবহার বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের দায় ডেনমার্ক সরকার সমন্বয় করেছে বাংলাদেশের কয়েকটি ইট কোম্পানির কম কার্বন নিঃসরণের সাশ্রয় থেকে। কার্বন নিঃসরণের এ রকম দায় সমন্বয়ের চুক্তি অনুযায়ী, এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কার্বন রিডাকশন সনদ দেওয়া হয়, যা বছরে ৫০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে। এ ধরনের কার্বন ট্রেডিং ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ইউএনডিপির একটি দূরদর্শী লক্ষ্য, যাতে এই ইটভাটা প্রকল্প এক সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেটা এখন থেকেই। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করে এ দেশের জন্য সবুজায়িত উন্নয়নের একটি নতুন সন্ধিক্ষণ সৃষ্টির সময় এসেছে আজ।
স্টিফান প্রিজনার: কান্ট্রি ডিরেক্টর, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, বাংলাদেশ।

মিসরের সাবেক অর্থমন্ত্রী বুট্রোস ঘালির ৩০ বছরের কারাদণ্ড

মিসরের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইউসেফ বুট্রোস ঘালিকে দুর্নীতির দায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কায়রোর অপরাধ আদালত গতকাল শনিবার এ রায় দেন।
বিচারক মাগদি ঘোনেইম সাবেক এই মন্ত্রীকে দুই ভাগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে একাধিক গাড়ি ব্যবহার করে জনগণের অর্থ তছরুপের দায়ে ১৫ বছর ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রণালয়ের তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে।
মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন বুট্রোস ঘালি।

‘ডা. ডেথ’ খ্যাত জ্যাক কেভোরকিয়ানের জীবনাবসান

স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তাকারী ‘ডা. ডেথ’ হিসেবে পরিচিত জ্যাক কেভোরকিয়ান (৮৩) আর নেই। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রয়্যাল ওকের বিউমোন্ট হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কেভোরকিয়ানের একজন আইনজীবী এ কথা জানান।
কেভোরকিয়ানের দীর্ঘদিনের বন্ধু নিল নিকোল জানান, সম্প্রতি কেভোরকিয়ানের যকৃতে ক্যানসার ধরা পড়ে। তবে তিনি ফুসফুসজনিত রোগে মারা গেছেন। পেশায় প্যাথলজিস্ট কেভোরকিয়ান ১৩০ জনের স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা করেছেন। এর প্রায় সবকটিতে নিকোল তাঁকে সহায়তা করেন।
স্বেচ্ছামৃত্যুতে সহায়তা করার জন্য অনেকে কেভোরকিয়ানকে বড় কিছু মনে করেছেন। তবে এ কাজের জন্য অনেকে তাঁর কঠোর সমালোচনাও করেছেন। সমালোচকদের মতে, কেভোরকিয়ান ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুন করেছেন।
১৯৯০ সালে কেভোরকিয়ান স্বেচ্ছামৃত্যুর বিষয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত এক নারীর স্বেচ্ছামৃত্যুতে তিনি সহায়তা করেন। এ ঘটনায় কেভোরকিয়ানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পরে অভিযোগটি বাতিল করা হয়। তবে স্বেচ্ছমৃত্যুতে সহায়তা করার একটি ঘটনায় ১৯৯৯ সালে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়। আট বছর কারাভোগের পর ২০০৭ সালে তিনি ছাড়া পান।

ইরাকে মসজিদ ও হাসপাতালে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ২৪

ইরাকের তিকরিত শহরের একটি মসজিদে ও একটি হাসপাতালে বোমা হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার এ কথা জানান। রাজধানী বাগদাদ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত তিকরিত শহরে শুক্রবারের ওই হামলায় সালাহেদ্দিন প্রাদেশিক পরিষদের দুই সদস্য, এক পুলিশ সদস্য ও একজন বিচারকসহ ৭৫ জন আহত হন।
গত শুক্রবার শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে লোকজন ফিরে যাওয়ার সময় প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা ওই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ব্যবহার

সামরিক জোট ন্যাটো লিবিয়া অভিযানে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের অ্যাপাচি ও ফ্রান্সের গ্যাজেল হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে। গতকাল শনিবার এ দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে লিবিয়ায় হামলা চালানো হয়।
ন্যাটো গতকাল এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবারই প্রথম লিবিয়া অভিযানে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের সামরিক যান ও রসদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন জায়গায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
লিবিয়া অভিযানে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্য এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহ করে। ফ্রান্স সরবরাহ করেছে গ্যাজেল ও টাইগার হেলিকপ্টার। গতকালের অভিযানে ফ্রান্সের গ্যাজেল হেলিকপ্টারও প্রথমবারের মতো অংশ নেয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার লিবিয়ায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে নিরাপদে ফিরে এসেছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা পিএর খবরে বলা হয়, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে লিবিয়ার তেলসমৃদ্ধ উপকূলীয় শহর ব্রেগারের কাছে একটি রাডার স্টেশন ও তল্লাশিচৌকিতে রাতভর হামলা চালানো হয়।
ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র থিয়েরি ব্রুকহার্ড বলেন, হেলিকপ্টার দিয়ে ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। হেলিকপ্টার থেকে গুলিও করা হয়।
এদিকে চীন প্রথমবারের মতো লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই জানান, সম্প্রতি কাতারে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝিলিয়াং লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) নেতা মুস্তাফা আবদুল জলিলের সঙ্গে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁরা মূলত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই মতবিনিময় করেন।
হং লেই বলেন, ‘লিবিয়া বিষয়ে চীন সুস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে। আমরা আশা করি, রাজনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে। আর লিবিয়ার জনগণই লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।’ রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝিলাং কোথায় ও কবে এনটিসির নেতা জলিলের সঙ্গে আলোচনা করেন, তা উল্লেখ করেননি হং লেই।

হামবুর্গ থেকে ছড়িয়েছে ই. কোলাই!

জার্মানির হামবুর্গে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত উৎসব থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপ জুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো ঘাতক এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও একজনের মৃত্যুর কারণ এই ব্যাকটেরিয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।
ব্যাকটেরিয়াটি এ পর্যন্ত ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশগুলো হচ্ছে—জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুক্তরাজ্য, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
সাপ্তাহিক পত্রিকা ফোকাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জার্মানির বিশেষজ্ঞদের নজর এখন হামবুর্গের দিকে। হামবুর্গের ওই উৎসবে দেশ ও বিদেশ থেকে ১৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। উৎসবের এক সপ্তাহ পরই শহরের বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ই. কোলাইজনিত রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগী পাওয়া যায়।
গতকাল জার্মানির সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, গতকাল ব্র্যানডেনবার্গে এক ব্যক্তি মারা যান, যাঁর মৃত্যুর কারণ ঘাতক ব্যাকটেরিয়াজনিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার আবার ঊর্ধ্বমুখী

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার আবার বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যমতে, কর্মহীনের সংখ্যা গত এক মাসে নয় শতাংশ থেকে বেড়ে এখন নয় দশমিক এক শতাংশ। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ৫৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যাশার অর্ধেকও কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবনে আবার উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ধসে পড়া মার্কিন অর্থনীতির ধীরগতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া থমকে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয়ভাবে সরকারি পরিসংখ্যানের বাইরে কর্মহীনের সংখ্যা অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বেকারভাতা নেওয়া ব্যক্তিরা এখন আর সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না। শ্রমবাজারে অনেক দক্ষ কর্মীকে যোগ্যতার বিচারে প্রাপ্য মজুরির চেয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে হচ্ছে। পূর্ণকালীন কাজের বদলে সপ্তাহে খণ্ডকালীন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে বলে মার্কিন অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন।
গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাণিজ্যে ধস চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন নগরসংলগ্ন এলাকায় সারি সারি বাড়িঘরে ‘বিক্রি হবে’ নোটিশ ঝুলছে বছরের পর বছর। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বাড়িঘর ফেলে লোকজনের অন্যত্র চলে যাওয়ার নজিরও কম নয়।
বিপুল ঋণে জর্জরিত এসব মানুষের বাড়িঘরের বাজারমূল্য এখন অর্ধেকের চেয়েও নিচে চলে এসেছে। ব্যাপক বেকারত্বের কারণে লোকজনের পক্ষে নতুন বাড়ি কেনা এখন খুব কঠিন। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার বিষয়টিও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন বাড়ির ক্রয়মূল্যের অর্ধেক নগদ দিলেও ক্রেতাদের এখন ব্যাংক ঋণ পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মার্কিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কোনো চাঞ্চল্য ফিরে আসেনি। মোটরযানের উৎপাদন এবং বিক্রিতেও ভাটা চলছে। মধ্যপন্থী অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, রাজ্য সরকারগুলোকে আরও বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থনীতি চাঙা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার হাত দ্রুত বাড়াতে হবে। রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের মতে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অর্থনৈতিক প্রণোদনা তহবিল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে রিপাবলিকান দলের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওহাইও অঙ্গরাজ্যে গত শুক্রবার এক শ্রমিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, আমাদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতির দুর্বল অবস্থার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের আরও বেশি কিছু করার তাড়না রয়েছে। গত ১৫ মাসে ২০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও আমাদের কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতির এ দৈন্যদশা উত্তরণে আরও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে বলে তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সালেহর পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ সরকারের

বিদ্রোহীদের প্রাসাদে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ পালিয়ে গেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট দেশেই আছেন। পলায়নের খবর প্রচারিত হওয়ার আগে গতকালই এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট সালেহ প্রাসাদে হামলার ‘যথাযথ প্রত্যুত্তর’ দেওয়া হবে বিরোধীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ও তাঁর বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি হামলার হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে ইয়েমেন এখন পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্রোহীদের শুক্রবারের হামলায় আহত শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে পার্শ্ববর্তী দেশ সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লক্ষ্য করে ছোড়া গোলা ভেতরের মসজিদে আঘাত হানে। জুমার নামাজের জন্য সেখানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট সালেহ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আহত পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৌদি আরবে গেছেন বলে খবর দিলে প্রেসিডেন্ট সালেহও পালিয়ে গেছেন বলে রটে যায়।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্টের ছবি ছাড়া বার্তা প্রচার করা হলে অনেকের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের বর্তমান সময়ের ছবি দেখানো হয়নি। একটি পুরোনো ছবির সঙ্গে তাঁর বার্তা প্রচার করা হয়। এ বার্তায় সালেহ বলেন, ‘আমি ভালো এবং সুস্থ আছি।’ তবে বিদ্রোহীদের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া তিনি হামলাকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সালেহ তাদের দেশে যাননি।
এদিকে সাবা সংবাদ সংস্থা জানায়, হামলায় আহত প্রধানমন্ত্রী আলী মোহাম্মদ মুজাওয়ার, উপপ্রধানমন্ত্রী জেনারেল রাশাদ আল-আলিমি, পার্লামেন্টের স্পিকার ইয়াহিয়া আল-রায়ি, রাষ্ট্রীয় পরামর্শক পরিষদের প্রধান আবদুল আজিজ আবদুল ঘানির মতো ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে। বিবিসিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সালেহও চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব গেছেন। সূত্র জানায়, তিনি আর না-ও ফিরতে পারেন।
তবে সালেহর উপতথ্যমন্ত্রী আবদুল আল-জানাদি ও প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দেশেই আছেন। মন্ত্রী বলেন, হামলায় আহত হওয়ার পর গতকাল প্রেসিডেন্ট সালেহকে সানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। প্রেসিডেন্টের মুখমণ্ডল অল্প পুড়ে গেছে। অন্যান্য আঘাতও হালকা। তিনি শিগগিরই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা দেবেন।
এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সহিংসতা ঘটায় এর নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি থেকে ইউরোপীয়দের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তা ছাড়া জার্মানি গতকাল দেশটিতে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে।

সাংবাদিকতার জন্য পুরস্কার পেলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

‘উইকিলিকস’ ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবার ‘মার্থা গেলহর্ন-২০১১’ পুরস্কার পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকা গত বৃহস্পতিবার এ খবর জানায়।
প্রতিবছর সাংবাদিকতার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এমন একজন সাংবাদিককে এ পুরস্কার দেওয়া হয়, যাঁর কাজের মাধ্যমে কোনো ঘটনার প্রতিষ্ঠিত ভাষ্য ছিন্ন হয়ে উঠে আসে অপ্রিয় প্রকৃত সত্য, ফাঁস হয় প্রতিষ্ঠিত শ্রেণীর মিথ্যা প্রচারণা।
বিচারকমণ্ডলী অ্যাসাঞ্জের পুরস্কারের মানপত্রে বলেছেন, ‘উচ্চপ্রযুক্তির যুগের এক বিস্ময়কর প্রতিষ্ঠান হিসেবে উইকিলিকস পরিচিতি পেয়েছে, তবে উইকিলিকস আরও বেশি কিছু। যথাযথ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে এর ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা সাংবাদিকতার শ্রেষ্ঠতম এবং প্রাচীনতম ঐতিহ্য।’ এতে আরও বলা হয়, ‘উইকিলিকস জনগণকে এমন কিছু দিয়েছে, যা অধিকাংশ সাংবাদিক কল্পনাই করতে পারেন না। একটি সত্য ভাষণ, যা বিশ্বের মানুষকে ক্ষমতাবান করেছে। প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে অ্যাসাঞ্জ এমন কিছু তুলে ধরেছেন, যার জন্য সাংবাদিকেরা একসময় গর্ব বোধ করতেন। তাঁর সাহস, দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা ক্ষমতার নয়, জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধির।’
সাংবাদিকতার জন্য মার্থা গেলহর্নের বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন পাকিস্তানের ইন্টারন্যাশনাল টাইমস-এর সাংবাদিক ওমর চিমা, মস্কোর দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর সাংবাদিক চার্লস ক্লোভার এবং ইসরায়েলের শহর নাজেরেথভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জোনাথন কুক।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিডনি পিস ফাউন্ডেশনের শান্তি পুরস্কার পান জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

শেয়ারবাজারের সঙ্গে ব্যাংকের তারল্যের সরাসরি যোগ ছিল

পুঁজিবাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের তারল্যের সরাসরি যোগ ছিল বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, স্পষ্টতই এই তারল্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে পুঁজিবাজারের ধসকে সম্পর্কিত করা যায়।
‘২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি’র ওপর সিপিডি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্যসংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যাংকগুলো ঋণপ্রবাহ পুঁজিবাজারে স্থানান্তর করছিল। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের অর্থের মজুদ রাখার অনুপাতও বাড়িয়ে দেয়। তাই যেসব ব্যাংক পুঁজিবাজারে অনেক বিনিয়োগ করে ফেলেছিল, তারা শেয়ার বিক্রি করে ফেলতে বাধ্য হয়। ফলে পুঁজিবাজারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলো হঠাৎ বিরাট ধস।
সিপিডির কার্যালয়ে গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে স্বাধীন পর্যালোচনা (আইআরবিডি)’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে প্রস্তুতকৃত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বৃদ্ধির সঙ্গে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ কমে যাওয়ার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক আছে।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির পরও খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে সিপিডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অর্থবছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকগুলোর লাভের পরিমাণ বেড়েছে, যা সম্পদের ওপর প্রাপ্তি অনুপাতে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে এই মুনাফাকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত লাভের প্রতিফলন হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সিপিডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে প্রাপ্ত মুনাফার ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে ১৫০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
তারল্য পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করে। অর্থবছরের শুরুতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। ২০১০ সালের জুনের শেষার্ধের তুলনায় একই বছরের নভেম্বর এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ যথাক্রমে ২২ দশমিক ৪ এবং ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে যায়।
এ নিম্নগতির পেছনে পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক বেড়ে যাওয়া (ডিসেম্বর পর্যন্ত), বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধি, আমদানির উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বড় দরপতন অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে সিপিডি মনে করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে যেখানে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০১১ সালের এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। তবে অতিরিক্ত তারল্য বর্তমানে যে পরিমাণ আছে, তার পরিমাণ বছরের শুরুর তুলনায় তিন হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা কম।
সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, মুদ্রাবাজারেও তারল্য-ঘাটতির এ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। কলমানি (স্বল্প সময়ের জন্য এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ধার করা অর্থ) সুদের হার ২০১০ সালের জুন মাসে ছিল ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা নভেম্বর এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৪ ও ১১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। আর এপ্রিলে তারল্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এই সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
সিপিডি বলছে, উচ্চ সুদের হারের মাধ্যমেও তারল্যসংকট প্রতিফলিত হয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হার কমে আসতে শুরু করে এবং নভেম্বর মাসে গড়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে সুদের হার আবার বাড়তে থাকে এবং মার্চে তা ১২ দশমিক ৮০ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রাথমিক বস্ত্র খাত হুমকির মুখে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রপ্তানিতে অগ্রাধিকার সুবিধা জিএসপির রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের উৎসবিধি শিথিল করায় পোশাকশিল্প মালিকেরা সুতা-কাপড় আমদানি দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। এতে হুমকির মধ্যে পড়েছে দেশের প্রাথমিক বস্ত্র খাত।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন গতকাল শনিবার বিটিএমএ এ অভিযোগ করে বলেছে, তাদের মিলগুলোতে ইতিমধ্যেই দুই লাখ টন সুতা মজুদ রয়েছে। যার মূল্য আট হাজার কোটি টাকা।
বিটিএমএ সভাপতি জাহাঙ্গীর আল আমীন বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কারখানাগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘তাতে আগামীতে বাংলাদেশ বিদেশি সুতা ও কাপড়ের বাজারে পরিণত হবে।’
প্রাথমিক বস্ত্রখাতের বর্তমান সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শনিবার বিটিএমএ এসব শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিটিএমএ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা ও শিল্পের সংরক্ষণ দাবি করেছে।
বিটিএমএ আসন্ন বাজেটে বিকল্প নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি দাবি বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে জোর অনুরোধ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, আহমেদ আলী, এম এ জাহের, সদস্য মনোয়ারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাহাঙ্গীর আলামীন অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশে ডাম্পিং মূল্যে সুতা ও কাপড় রপ্তানি করছে। তিনি বলেন, চীন ও ভারত এ দেশের বাজারে সুতার মূল্য নিয়ে কারসাজি (ম্যানিপুলেশন) করছে।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে তুলার মূল্য তিন গুণ বেড়েছে। এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি পাউন্ড তুলার দর এক ডলার ৮৫ সেন্ট। দেশে আনা এবং উৎপাদন-প্রক্রিয়ায় কিছু নষ্ট হওয়ার পর প্রতি কেজি সুতায় খরচ পড়ছে চার ডলার ৯২ সেন্ট।
জাহাঙ্গীর আল আমীন আরও জানান, অন্যদিকে ভারত তুলা রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তারা স্থানীয় বাজারে তুলা বিক্রি করছে প্রতি পাউন্ড এক ডলার ৩০-৩৫ সেন্ট। আর প্রতি কেজি সুতা বাংলাদেশে রপ্তানি করছে চার ডলার ৩০ সেন্ট দরে। তিনি বলেন, ‘এ জন্যই আমরা বলছি ভারত বাংলাদেশে সুতা ডাম্পিং করছে। আর স্থানীয় মিলগুলোয় সুতার পাহাড় জমে যাচ্ছে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বিটিএমএ বলেছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ওভেন কাপড় আমদানির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৮০৮ টন। আর চলতি বছরের একই সময়ে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৭৪১ টন। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, আগের বছরের প্রথম তিন মাসে নিট কাপড় আমদানি হয়েছিল এক হাজার ৭১০ টন। এ বছর হয়েছে দুই হাজার ২৬৩ টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
বিটিএমএ আরও বলছে, দেশের মিলগুলো বন্ধ হওয়ার পর ভারত থেকে কিন্তু এই সস্তা মূল্যে আর সুতা আনা যাবে না। জাহাঙ্গীর আলামীন বলেন, ভারত ২০১০-১১ অর্থবছরে তুলা ও সুতা রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল, এ কথাটি সবার মনে রাখতে হবে।
বিটিএমএ বলেছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে তৈরি পোশাকের বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হুমকির সম্মুখীন হয়ে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কা, মরিসাস ও মিয়ানমারের মতো হবে।
প্রাথমিক বস্ত্র খাত এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা, বস্ত্র উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আয়কর ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং কর অবকাশ সুবিধা ২০১৫ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি করেছে।
তারা একই সঙ্গে পণ্যের বহুমুখীকরণ উৎসাহিত ও তুলার ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের জন্য পলিয়েস্টার ও ভিসকস স্ট্যাপল ফাইবার, অ্যাক্রেলিক টো এবং টপস, পেট-চিপস ও চিপসের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো খাতের অপ্রতুলতার মধ্যে তারা শিল্প উৎপাদন ধরে রেখেছেন। সরকার বস্ত্র খাতকে প্রতিরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন সরকার কি এ খাতকে রাখতে চায় নাকি বিলুপ্ত করতে চায় সেটা ঠিক করতে হবে। আর তা বুঝতে পারলে আমরা আমাদের বিনিয়োগের বিষয়ে ঠিক করতে পারতাম।’
মনোয়ারুল হক বলেন, পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ থাকলেও বস্ত্র খাতে কোনো সমস্যা ছিল না। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বস্ত্র খাতের শিল্পমালিকেরা শিল্প বন্ধ করার পর্যায়ে গেছেন। এতে বেতনভাতা দিতে না পারলে এখানেও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাচ্ছে

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্র আর মেয়াদি বন্ডের নিট বা প্রকৃত বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
বিশেষ করে তিন মাস ধরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। অর্থাৎ গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে আগে কেনা সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা বা ভাঙিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ওই সময়ের আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করার মাধ্যমে গ্রাহকদের মূল ফেরত দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকেই নিট বা প্রকৃত বিক্রি ধরা হয়।
এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়িয়ে ব্যাংকের আমানতের সুদের হারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রীর আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
১৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সুদের হার সমন্বয়সহ সঞ্চয়পত্র খাতের সরকারের রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত সামগ্রিক প্রতিবেদন দেবে এই কমিটি। কমিটিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), অর্থ বিভাগ, ডাক বিভাগ, সঞ্চয় পরিদপ্তর ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ানোসংক্রান্ত ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে।
সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে এই দুটি সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তিতে সুদের হার যথাক্রমে ১১ শতাংশ ও ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ দুটি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছে আইআরডি।
এর আগে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। গত বছর জুন মাসে ব্যাংক সুদের হার কমানোর পর সঞ্চয়পত্রেরও সুদের হার কমানো হয়।
এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সুদের হার হ্রাস ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া অনেকেই গত নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়কালে সঞ্চয়পত্র ভেঙে শেয়ারবাজারেও বিপুল টাকা নিয়ে গেছেন অনেকে।
এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বাজেটের চেয়ে এক হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রি করে সাত হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন তা এক হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ছয় হাজার ৪০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে বলে সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ছাড়াও জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর পরিচালিত বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড, ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, তিন বছর মেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড—এই পাঁচ ধরনের বন্ড রয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব মতে, গত মার্চ মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র ২৪ কোটি টাকা। মার্চে এক হাজার ৬৪৮ কোটি টাকার বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ বা বিক্রি হয়েছে। একই মাসে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে গ্রাহকেরা এক হাজার ৬২৪ কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। অথচ ২০১০ সালের মার্চ মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
এর আগের ফেব্রুয়ারি মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। এ সময় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এক হাজার ১৪১ কোটি টাকা আর বিক্রীত সঞ্চয়পত্রের মূল পরিশোধ করতে হয়েছে ৮২৮ কোটি টাকা। জানুয়ারি মাসে নিট বিক্রি ছিল ৩২৯ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল এক হজার ৮১৮ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরকে এক হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার মূল পরিশোধ করতে হয়েছে। এভাবে প্রতি মাসে ক্রমশ সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রি কমে যাচ্ছে।

হরতালেও পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালেও দেশের পুঁজিবাজার ছিল স্বাভাবিক। দিনের শুরুতেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ব্রোকারেজ হাউসের কোরাম পূর্ণ হয়ে যায়। সে কারণে যথা সময়েই লেনদেন শুরু হয়। তবে দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সামান্য কমেছে।
ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শফিকুর রহমান জানান, আজ লেনদেনের শুরুতে ২১৩টি ব্রোকারেজ হাউস লগইন করায় যথাসময়ে লেনদেন শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে কোরাম পূর্ণ হতে ৭২টি হাউসের লগইন প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। বেলা পৌনে ১২টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৮০ পয়েন্টের মতো বেড়ে যায়। এর পর সূচক নিম্নমুখী হয়। তবে কয়েকবার ওঠানামা করে দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক মাত্র ০.১৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭৬২.৮৮ পয়েন্টে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ৫৬১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৪ কোটি টাকা বেশি।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বিএসআরএম স্টিল, এমআই সিমেন্ট, ইউনাইটেড এয়ার, ইউসিবিএল, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স, ইস্টার্ন হাউজিং, ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বেক্সিমকো, মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স ও পিপলস লিজিং।
এদিকে আজ লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জিকিউ বলপেনের দাম। এ ছাড়া রূপালী ইনস্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, এমআই সিমেন্ট, রেকিট বেনকিজার, ইস্টার্ন হাউজিং, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, বিডি থাই, ওসিএল ও গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া লিগাসি ফুটওয়্যার, যমুনা অয়েল, বিএসআরএম স্টিল, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি, কে অ্যান্ড কিউ, লিব্রা ইনফিউশনস ও কাশেম ড্রাইসেলস দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ০.২৭ পয়েন্ট কমে ১৬০০৯.৫৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া কমেছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

জিকিউ বলপেনের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

জিকিউ বলপেনের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার পান্থপথের সামারাই কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় ৬.৩৬ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৩৪.৩৪ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ১৩.৭০ টাকা।

ডিএসইর অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছে তিন কোম্পানি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি।
কোম্পানিগুলো হলো ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, রূপালী ইনস্যুরেন্স ও গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ডিএসইর অনুসন্ধানের জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠান তিনটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার পেছনে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিগুলোর কাছে নেই।

এশিয়ান ক্যারমে রানার্সআপ বাংলাদেশ

চতুর্থ এশিয়ান ক্যারম চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। ১-৪ জুন মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জিতেছে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। হেরেছে শুধু ভারতের কাছে। বাংলাদেশ দলের পক্ষে খেলেছেন হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ আলী ও মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ ক্যারম ফেডারেশন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে এই খবর।

নিট কনসার্ন চ্যাম্পিয়ন

বিমান না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমল না। সহজেই চ্যাম্পিয়ন নিট কনসার্ন। প্রথম বিভাগ ব্যাডমিন্টনের মহিলা বিভাগে নিট কনসার্ন তিনটি ম্যাচই জিতেছে। কাল শেষ ম্যাচে নিট কনসার্ন ২-১ সেটে হারিয়েছে সূর্যতরুণকে। রানার্সআপ টেক্সটাইলের পয়েন্ট ৪। একটি ম্যাচ জিতে সূর্যতরুণ তৃতীয়। এদিকে পুরুষ বিভাগে আজ শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বিমান ও নিট কনসার্ন। বিকেল পাঁচটায় উডেনফ্লোর জিমনেসিয়ামে শুরু হবে অঘোষিত ফাইনাল।

জয়ে শুরু রায়নার

দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ২০১০ সালেই হয়েছে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সেই স্মৃতি সুরেশ রায়নার জন্য দুঃস্বপ্নের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের একটি জিতলেও জিম্বাবুয়ের কাছে দুই ম্যাচেই হেরে ফাইনালেই উঠতে ব্যর্থ হয় রায়নার ভারত। বছর ঘুরে একই রকম পরিস্থিতিতে সেই রায়নার কাঁধেই যখন আবার ভারতের নেতৃত্ব, পুরোনো স্মৃতিটা ভাসছিলই। শেষ কী হবে বলা মুশকিল, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে রায়নার অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলো জয় দিয়ে।
কাল পোর্ট অব স্পেনে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৬ রানে হারিয়েছে ভারত। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ড্যারেন স্যামি। ৫৬ রানেই ভারতের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের মর্যাদাও রেখেছিলেন ইন্ডিজ অধিনায়ক। কিন্তু অগ্নিমূর্তি স্যামির পাশে অন্যরা নিষ্প্রভ ছিলেন বলেই ভারত পায় ৬ উইকেটে ১৫৯ রানের পুঁজি। পঞ্চম উইকেটে বদ্রিনাথ (৪৩) ও রোহিত শর্মার (২৬) ৭১ রানের জুটিই টেনে তোলে ভারতকে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে করতে পারে ১৪৩। সর্বোচ্চ ৪১ করেন ড্যারেন ব্রাভো, শেষ দিকে বার্নওয়েলের ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ ব্যবধান কমিয়েছে।

আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে ফিফার সন্দেহ

নাইজেরিয়ার কাছে আর্জেন্টিনার ৪-১ গোলের পরাজয় বিস্ময় জাগায়। হোক না আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় সারির দল। এবার ফিফা জানাল, ম্যাচের ফল নিয়ে সন্দেহ জেগেছে তাদেরও। ম্যাচটি পাতানো হয়েছে কি না, এটা নিয়ে তদন্ত শুরু করছে ফিফা।
গত বুধবার নাইজেরিয়ায় হওয়া এই ম্যাচে নাইজারের রেফারি ইব্রাহিম চাইবু দুটি বিতর্কিত পেনাল্টি দিয়েছেন। একটি নাইজেরিয়ার পক্ষে প্রথমার্ধে, অন্যটি আর্জেন্টিনার পক্ষে, ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে। দ্বিতীয় গোলটি নিয়েই সন্দেহ হচ্ছে বেশি। কারণ এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৪-০ হয়ে যাওয়ার পর আরও একটি গোল হবে এটার পক্ষে নাকি বিপুল অঙ্কের বাজি ধরা হয়েছিল। অতিরিক্ত সময় হিসেবে থার্ড অফিশিয়াল পাঁচ মিনিটের সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু রেফারি নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর আরও আট মিনিট খেলা চালিয়েছেন বলেই সন্দেহটা বেড়েছে। অষ্টম মিনিটেই আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির সেই বাঁশি বাজান রেফারি।
ফিফা জানিয়েছেন, তাদের তদন্তে আতশকাচের নিচে থাকা ম্যাচগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে ‘হাই-প্রোফাইল’। সম্প্রতি তুরস্কে হয়ে যাওয়া দুটি ম্যাচও ফিফার সন্দেহের তালিকায় ঢুকেছে। এর একটি ম্যাচে সাতটি পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল, একটি পেনাল্টি আবার নিতে দেওয়া হয়েছে দুবার! ওই ম্যাচের ছয় কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে সাময়িক নিষিদ্ধও করেছে ফিফা।
ফুটবলে ম্যাচ পাতানো নিয়ে ফিফার উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। সাধারণত ‘লো-প্রোফাইল’ ম্যাচগুলোই বাজিকরেরা বেছে নেয় ম্যাচ পাতানোর জন্য। চলে কোটি টাকার বাজির ব্যবসা। ফিফাও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। ইন্টারপোলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এ জন্য আগামী ১০ বছরে ইন্টারপোলকে ২ কোটি ইউরো দেবে ফিফা।

জবাব ভালোই দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

ম্যাচের ফলাফল কী হবে সময়ই বলবে। তবে কার্ডিফের ব্যাটিং-দুঃস্বপ্ন মাটিচাপা দিয়ে এগিয়ে চলেছে শ্রীলঙ্কা। কার্ডিফের ৮২ শ্রীলঙ্কা পেরিয়ে গেল ২২ ওভারে, একটি উইকেটও না হারিয়ে। এরপর ১০০, ১৫০, ২০০ পেরিয়ে তিলকরত্নে দিলশান ও থারাঙ্গা পারানাভিতানার উদ্বোধনী জুটিতেই ২০৭ রান। দিনশেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৩১।
৬৫ রান করা পারানাভিতানাকে দিয়ে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন ফিন। পরে সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে নিয়ে দিনের বাকিটা সময় নিরাপদেই কাটিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক দিলশান। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির (ক্যারিয়ারের দ্বাদশ) স্বাদ পাওয়া দিলশান দিনশেষে অপরাজিত ১২৭ রানে। সঙ্গী সাঙ্গাকারা ব্যাট করছেন ১৩ রান নিয়ে।
এর আগে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৪৮৬। আগের দিন শেষ বিকেলের মতো প্রিয়র-ব্রডের জুটি কালও যথেষ্ট ভুগিয়েছে লঙ্কানদের। রীতিমতো টি-টোয়েন্টির গতিতে ব্যাটিং করেছেন দুজন, কাল সকালে প্রথম ৮ ওভারেই ৬৮ রান! ৪৭ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই ফিরে গেছেন ব্রড। তবে লর্ডসে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি ঠিকই তুলে নিয়েছেন ম্যাট প্রিয়র। প্রথমটি পেয়েছিলেন নিজের অভিষেক টেস্টে। লর্ডসে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি সেঞ্চুরি আছে আর কেবল প্রিয়রেরই পূর্বসূরি লেসলি অ্যামিসের।
ব্রডের পর ওই ওভারে সোয়ানকেও তুলে নিয়েছিলেন চানাকা ভেলেগেদারা। কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে যন্ত্রণা দিয়েছে ইংল্যান্ডের লোয়ার-অর্ডাররাও। প্রিয়রের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়লেন দশে নামা ক্রিস ট্রেমলেট। টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটা (১৩১*) হাতছানি দিলেও প্রিয়র (১২৬) ফিরে গেছেন দ্রুত রান বাড়ানোর বলি হয়ে। ট্রেমলেট-ফিনের শেষ জুটিও ৩৪ রানের। জুটিটি ভেঙেছে লাঞ্চের আগে আগে। ম্যাচের প্রথম সকালে ২২ রানে ৩ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড ততক্ষণে পেয়ে গেছে ৪৮৬ রানের বড় পুঁজি। ওয়েবসাইট।

জুটি
ইংল্যান্ডের মাটিতে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটিতে সেঞ্চুরি এই প্রথম তো বটেই, ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টেস্ট দ্বৈরথেও দিলশান-পারানাভিতানার ২০৭ উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ।

প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ড্র

প্রতিশোধ নেবে বলে বেলারুশ গিয়েছিল লরাঁ ব্লাঁর দল। কিন্তু পারেনি। প্যারিস ম্যাচের চেয়ে অবশ্য উন্নতি হয়েছে। বেলারুশের কাছে এবার আর হারেনি ফ্রান্স, ম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১২-এর বাছাইপর্বে জার্মানি ও ইতালি এগিয়ে চলেছে দুর্দান্ত গতিতে। মারিও গোমেজের জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জার্মানি। ইতালি এস্তোনিয়াকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। গোল করেছেন রোসি, কাসানো ও পাজ্জিনি।
প্রতিশোধের মন্ত্র জপে বেলারুশ যাওয়া ফ্রান্স দলের সঙ্গে ছিলেন এরিক আবিদাল। যকৃতের টিউমার অপসারণ করে কদিন আগেই মাঠে ফিরেছেন বার্সা ডিফেন্ডার। ক্লাব ফুটবলে তাঁর ফেরাটা দারুণ হয়েছে। কিন্তু ফ্রান্স দলে ফেরাটা সুখকর হয়নি আবিদালের। বরং ২০ মিনিটে তাঁর আত্মঘাতী গোলেই পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। ২ মিনিটের মধ্যেই অবশ্য ম্যাচে সমতা ফেরান ফ্লোরেন্ত মালুদা। বাকি সময়ে ফরাসি আক্রমণভাগ ভালো খেললেও ভাঙতে পারেনি বেলারুশের রক্ষণদেয়াল।
জিততে না পারলেও ১৯৮৪ ও ২০০০-এর ইউরো চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট তাদের। গ্রুপে ফ্রান্সের পরেই আছে বেলারুশ (৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট)। ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও স্বস্তিতে থাকার কথা নয় ফ্রান্সের কোচ লরাঁ ব্লাঁর। কারণ বাকি ৪ ম্যাচে অঘটন কিছু ঘটে যাওয়া বিচিত্র নয়! এমনিতেই ফ্রান্সের ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না অনেক দিন ধরে।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে জার্মানি ও ইতালি। এক ম্যাচ কম খেলেও দ্বিতীয় স্থানের দলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে গেছে জার্মানি। ৬ ম্যাচে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট তাদের। এই গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল বেলজিয়ামের পয়েন্ট ৭ ম্যাচে ১১। ইতালির গ্রুপেও শীর্ষে ইতালিই। ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট ‘আজ্জুরি’দের। ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে স্লোভেনিয়া। গ্রুপের বাকি যে চার ম্যাচ করে আছে তার দুটিতে জিতলেই জার্মানি ও ইতালি পেয়ে যাবে পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের টিকিট।
মূল মঞ্চের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়াও। পরশু ১৬ বছর পর জর্জিয়ায় গিয়ে জর্জিয়াকে হারিয়েছে তারা। ২-১ গোলের জয়ে ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট তাদের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রিসের পয়েন্ট ৫ ম্যাচে ১১।

দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ফিরছেন কারস্টেন?

গ্যারি কারস্টেনের হাত ধরেই সাফল্যের স্বর্ণশিখরে উঠেছে ভারত। আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানটা আগেই দখল করেছিল তারা। আর ২৮ বছর পর বিশ্বকাপটা জিতে ওয়ানডে ক্রিকেটেও সগর্বে ঘোষণা করেছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। ভারতকে এই অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দেওয়ার পর এবার হয়তো আবার নিজ দেশেই ফিরে যাচ্ছেন কারস্টেন। শিগগিরই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন কোচ হিসেবে দেখা যাবে সাবেক এই প্রোটিয়া ওপেনারকে।
দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কারস্টেন আবার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন—এমন কথা গত দুই মাসে বেশ কয়েকবারই শোনা গেছে। তবে খুব জোরালো ভিত্তি ছিল না সেসব কথাবার্তার। তবে এবার আর গুজব নয়। আগামীকাল সোমবারই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড নতুন কোচ হিসেবে কারস্টেনের নাম ঘোষণা করবে বলে রিপোর্ট করেছে দেশটির বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। কারস্টেনের সহকারী হিসেবে দেখা যেতে পারে আরেক প্রোটিয়া কিংবদন্তি অ্যালান ডোনাল্ডকে।
কারস্টেন ও ডোনাল্ডের এই প্রত্যাবর্তনকে প্রোটিয়া ক্রিকেটের জন্য বিরাট এক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস। তিনি বলেছেন, ‘কোচ হিসেবে কারস্টেনের নিয়োগটা দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের জন্য অনেক সুফল বয়ে আনবে। ভারতে গিয়ে সে অবিশ্বাস্য রকমের সাফল্য পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে একজন কোচের কী ধরনের দায়িত্ব থাকে, কারস্টেন সে সম্পর্কে বেশ ভালোই জানে। আর সে সবার সঙ্গেই খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারে। অ্যালান ডোনাল্ডও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ জানিয়ে আসছিল অনেক আগে থেকেই। সে-ও যে এখানে অনেক অবদান রাখতে পারবে, সে ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব ছাড়লেন ডোনাল্ড

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড। কিছুদিন আগেও তিনি এই চাকরি চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু হঠাত্ই সবকিছু বদলে গেল। ডোনাল্ড নিউজিল্যান্ড দলের এই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সূত্র জানাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোনো একটি পদে তাঁর নিয়োগ একদম নিশ্চিতই। তাই নিজ দেশের জাতীয় দলের হয়ে কাজ করার টানে তিনি শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ছাড়ছেন।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন বলেছেন, ‘ডোনাল্ড আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি মত পরিবর্তন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডোনাল্ডকে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্ট চালিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারছি, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা দলেই একটি ভালো চাকরি পেয়ে গেছেন। নিজ দেশের এই চাকরি তাঁর এবং তাঁর পরিবার উভয়ের জন্যই লোভনীয়।’
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ডোনাল্ডের চাকরির ব্যাপারটি উল্লেখ করে একই সঙ্গে নিজেদের হতাশার কথাও জানিয়েছেন জাস্টিন ভন। তিনি বলেছেন, ‘ডোনাল্ডের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। আমরা তাঁকে রাখতে চেয়েছিলাম। আসলে এটাই বোধ হয় পেশাদারিত্ব। তবে তিনি যত দিন নিউজিল্যান্ড দলের হয়ে কাজ করেছেন, তত দিনই পূর্ণ নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন।’
এদিকে, ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কোচ গ্যারি কারস্টেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হতে যাচ্ছেন—এই খবর আজই মিডিয়ায় চাউর হয়েছে। অ্যালান ডোনাল্ড খুব সম্ভবত তাঁরই অধীনে প্রোটিয়াদের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।

‘বল নষ্ট করার খেসারত দিয়েছি’

ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৬ রানের হার মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ১৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৩ রান তুলেই ইনিংস শেষ হয়েছে স্বাগতিকদের। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হারের জন্য প্রচুর বল নষ্ট করাকেই দায়ী করেছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। মাত্র ১২০ বলের খেলায় ৫০ বলে কোনো রানই বের করতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা।
শেষ চার ওভারে ঝোড়ো ব্যাটিং করে হারের ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে এনেছিলেন ক্রিস্টোফার ব্রানওয়েল ও ডানজা হাট। মাত্র ৩.৪ ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান যোগ করেছিলেন ৫০ রান। কিন্তু তার আগেই ম্যাচ চলে গিয়েছিল ভারতের নিয়ন্ত্রণে। ম্যাচ শেষে স্যামি বলেছেন, ‘অনেকগুলো বল নষ্ট করাতেই ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে বের হয়ে গেছে। শেষদিকে আমরা ভালো চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তখন আসলে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু ব্রানওয়েলের মতো ব্যাটিং করতে পারলে টি-টোয়েন্টিতে আমরা অনেক বড় স্কোরও তাড়া করতে পারব। আশা করছি আগামী ম্যাচগুলোতে আমরা স্পিনারদের আরও ভালোভাবে খেলতে পারব।’
গতকাল বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি। টসে জিতে বল করতে নেমে প্রথম নয় ওভারের মধ্যেই একে একে তুলে নিয়েছিলেন শেখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, পার্থিব প্যাটেল ও সুরেশ রায়নার উইকেট। চার ওভার বল করে তিনি দিয়েছিলেন মাত্র ১৬ রান। কিন্তু শেষ তিন ওভারে ৪৫ রান তুলে ভারতকে লড়িয়ে পুঁজি এনে দেন হরভজন সিং, বাদ্রিনাথ ও ইরফান পাঠান।

গেইলকে চায় ত্রিনিদাদের মানুষ

পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে কাল এক জ্যামাইকানের জন্য হাহাকার মূর্ত হয়ে ফুটে উঠল। জ্যামাইকান মানুষটি হচ্ছেন ক্রিস গেইল। ক্রিকেট বলতেই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ’। কে ত্রিনিদিয়ান, কে জ্যামাইকান, কে বার্বাডিয়ান—এসব পরিচয় তখন আর মুখ্য হয়ে দেখা দেয় না। ক্রিকেটে সবারই পরিচয়, তারা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান। আর সেই পরিচয়ে উদ্দীপ্তরা তাই কাল বড্ড মিস করল এ সময়ের অন্যতম মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে। হয়তো ভারতের বিপক্ষে কালকের ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি ছিল বলেই!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাধারণ মানুষ আনন্দ করতে ভালোবাসে। ক্রিকেট তো তাদের আনন্দের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ। কিন্তু কাল কুইন্স পার্ক ওভালে সেই আনন্দটা তারা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারল না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ সময়ের সেরা তারকা, সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে ১২ ইনিংসে ৬০৮ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়ে খেলতে পারছেন না—এমন একটি পরিস্থিতিতে তারা আনন্দ করে কীভাবে!
‘রাজনীতি, স্রেফ রাজনীতিই গেইলকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।’ কুইন্স পার্ক ওভালে খেলা দেখতে আসা এক ত্রিনিদিয়ান ঠিক এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।
আরেক ত্রিনিদিয়ানের মতে, যে খেলোয়াড় আইপিএল মাতিয়ে এল, সে কীভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সুযোগ পায় না !
আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পরে দেশে ফিরে ক্রিস গেইল একটি রেডিও চ্যানেলে বোর্ডের বিপক্ষে নিজের সব ক্ষোভ উগড়ে দেন। গেইলের সেই সাক্ষাত্কারে ক্ষুব্ধ বোর্ড তাঁকে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ও প্রথম দুটি ওয়ানডে ম্যাচে দলে নেয়নি। তবে শেষ ম্যাচে ফেরার পথ অবশ্য তারা খুলে রেখেছে। ডব্লিউআইসিবি জানিয়েছে, গেইল এখনো দলে ফিরতে পারেন, তবে সে জন্য তাঁকে নমনীয় হয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।