Monday, April 16, 2018

সিরিয়া হামলায় রুশ-তুর্কি সম্পর্কে ফাটল ধরে নি: আংকারা

তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ
সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে রাশিয়া ও তুরস্কের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন যে মন্তব্য করেছেন তার নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বাকির বোজদাগ।
তিনি আজ (সোমবার) বলেছেন, সিরিয়া নিয়ে তুরস্ক একইপক্ষে থাকার নীতি গ্রহণ করে নি আবার কোনো দেশের বিরোধিতা করতে হবে তাও মনে করে না। সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্কের নীতি অপরিবর্তনীয় রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সিরিয়াকে সমর্থনকারী ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের মতপার্থক্য রয়েছে; এমনকি সিরিয়া পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গেও মতের ভিন্নতা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু
বাকির বোজদাগ কাতারে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও রাশিয়া সম্পর্কে তুরস্ক ভিন্ন নীতি অনুসরণ করে এবং এখন পর্যন্ত সে নীতিতে পরিবর্তন আসে নি বলে তিনি দাবি করেন।    
এদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কারণে তা ভেঙে যাবে না। তিনি বলেন, “আমরা ভিন্ন ভিন্নভাবে ভারতে পারি কিন্তু রুশ-তুর্কি সম্পর্ক এত দুর্বল নয় যে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে তা ভেঙে যাবে।” তিনি অবশ্য এ সম্পর্ককে ন্যাটো বা অন্য মিত্রদের বিকল্প নয় বলে মন্তব্য করেন।

সিরিয়াকে এস-৩০০ দেওয়ার ঘোষণায় উদ্বিগ্ন ইসরাইল

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরিয়াকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-থ্রি হান্ড্রেড দিতে পারে বলে ঘোষণা করার পর ইহুদিবাদী ইসরাইল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলি দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, এর ফলে ইসরাইলের বিমান বাহিনী হুমকির মুখে পড়বে। আরও বেশি ইসরাইলি পাইলট প্রাণ হারাবে।
ইসরাইলি টিভি চ্যানেল 'আইটুয়েন্টিফোরনিউজ' লিখেছে, সিরিয়ার কাছে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে বলে ইসরাইলের অন্যান্য গণমাধ্যমেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রুশ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্নেল সের্গেই রুদস্কয় গত শনিবার বলেছেন, আগে থেকেই অস্থির অবস্থায় থাকা মধ্যপ্রাচ্যকে আরো অস্থিতিশীল করে তোলার জন্যই পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়াসহ অন্য দেশগুলোকে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে।

ভারতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে কোলকাতায় এসআইও’র বিক্ষোভ

জম্মু-কাশ্মিরের কঠুয়াতে আট বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ ও হত্যা, উত্তরপ্রদেশে এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং গুজরাটের সুরাটে এক শিশুর উপর পাশবিক অত্যাচার ও হত্যার ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব ইন্ডিয়া (এসআইও)।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিশু ও নারীদের উপর সাম্প্রতিক পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা গোটা দেশ ও জাতিকে হতবাক করে দিয়েছে। ওই সমস্ত ঘটনায় বিভিন্ন প্রান্তিক সম্প্রদায়ের বিশেষভাবে মুসলিম ও দলিতদের বেঁচে থাকার অধিকার অধিকার গত কয়েক বছর ধরে গুরুতরভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
এ সকল ইস্যুতে রোববার বিকেলে এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে কোলকাতার ওয়াই  চ্যানেল এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচী  অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি বলেন, "ভারতের মতো দেশে কঠুয়াতে ৮ বছর বয়সী শিশু গণধর্ষণ ও হত্যায় আমরা মর্মাহত। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সমস্ত শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাচ্ছি। ন্যায়বিচারের দাবিকে চাপা দিয়ে যেভাবে অপরাধীদের আড়াল করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।"
এসআইওর পক্ষ আরো বলা হয়, যেভাবে একশ্রেণীর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে বিভিন্ন অবাঞ্ছিত ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে তা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যেভাবে অভিযুক্ত বিধায়কদের আড়াল করার অপচেষ্টা এবং উন্নাওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এবং "বেটি বাঁচাও" অভিযানের পতাকাবাহীদের জন্য তাখুবই লজ্জাজনক।
কোলকাতার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসআইও’র রাজ্য সভাপতি ওসমান গণি, রাজ্য সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ খালিদ আলী, কলকাতা বিভাগের সভাপতি নাদিম আলী, সাবেক রাজ্য সম্পাদক সাবির আলী, জামাতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দিন, মজলিশ ই ইত্তেহাদ পরিষদের সভাপতি আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক আফসার আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আসাদের সমর্থনে দামেস্কে মিছিল; ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিবাদ

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিল
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজধানী দামেস্কে বিশাল মিছিল ও শোভাযাত্রা হয়েছে। মিছিল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে রাজধানীর রাজপথে নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া লোকজনের অনেকে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে এবং জাতীয় পতাকা নেড়ে উল্লাস প্রকাশ করে। এসময় তারা প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কারণে দামেস্কের লোকজন বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিলগত শনিবার সিরিয়ার স্থানীয় সময় ভোট ৪টায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এ তিন দেশ সিরিয়ার ওপর মোট ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে এবং সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইউনিট ৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিলরাজধানী দামেস্কের কাছে দুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তুলে পশ্চিমা বলদর্পী শক্তিগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কিন্তু সিরিয়ার সরকার জোরালো ভাষায় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিল
সিরিয়ার সরকার অনেক আগেই রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করেছে এবং তা হয়েছে আমেরিকা, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তদারকিতে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে মিছিল

ধর্ষণ কি অপরাধ নয়? by লীনা পারভীন

লীনা পারভীন
আমাদের দেশে দিনে দিনে সবকিছুই যেন একরকম গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে। এই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। সেই মানুষের জীবনেরও যেন কোনও মূল্য নেই। সস্তা থেকে আরও সস্তা হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মৃত্যু এখন আর আমাদের কাঁদায় না। সামান্য আহা উহু করেই ভুলে যাই ঘটনা। মৃত্যু যেন আজকাল কেবলই কিছু সংখ্যায় পরিণত হয়েছে।
তেমনি সংখ্যা আমরা দেখতে পাচ্ছি নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার বেলাতেও। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১৮৭ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে মোট ১৯ নারীকে এবং আত্মহত্যা করেছে আরও দুজন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে মোট ২১ জন নারীর ওপর। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এই ভয়াবহ তথ্য। একই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২৭ জন নারী, যার মধ্যে আত্মহত্যা করেছে দুজন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ—এই তিন মাসে ১৭৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৫৫টির বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
তথ্য বলছে, তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৭৬টি শিশুর মধ্যে ২০টি শিশুই গণধর্ষণের শিকার হয়। আটজন প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। তিন মাসে ২৫ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং তিনটি শিশু ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ২১টি শিশুকে।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সালের প্রথম তিন মাসে মোট ১৪৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৩১টি শিশু গণধর্ষণের শিকার। ২০১৮-এর প্রথম তিন মাসে, গত বছরের তিন মাসের চেয়ে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। ধর্ষণের পর শিশুহত্যা বেড়েছে ১০০ শতাংশ। তিন মাসের এই চিত্র কি বাকি ৯ মাসের চিত্রকে উস্কে দেবে না থামাতে সাহায্য করবে?
এর বিপরীতে এ ধরনের অপরাধের বিচারের পরিসংখ্যান অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমনিতেই আমাদের দেশের নারীরা তাদের নির্যাতনের কথা কারও সঙ্গে প্রকাশ করতে চায় না। আইনি আশ্রয় তো অনেক দূরের কথা, ধর্ষণের কথাও পরিবারগুলো চেপে যায় সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে। তার মধ্যেও যতগুলো অপরাধের মামলা হয় তার ক’টি শেষ পর্যন্ত বিচারের মুখ দেখে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। জানা গেছে, বেশিরভাগেরই পুলিশ মামলা নিতে চায় না। যেগুলো নেয় সেগুলোর ৩ শতাংশও বিচার পায় না। মামলার জট লেগে আছে বছরের পর বছর ধরে। আছে টাকা খেয়ে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও।
এই যখন অবস্থা তখন সমাজে অপরাধের মাত্রা বাড়তেই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সেল আছে, যেখানে নারী ও শিশু সম্পর্কিত মামলাগুলোর বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হয়। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের পরিসংখ্যানও আমাদের আশাবাদী হতে দেয় না।
আইনের প্রতি আস্থাহীনতার এক চরম উদাহরণ হতে পারে এসব ঘটনা। বিচারহীনতার ঘটনা, আরেকদিকে আইনকে তোয়াক্কা না করার মতো সাহস। দুটি মিলে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। সাধারণ নাগরিকের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ এক ত্রাসের পরিস্থিতি।
আমাদের দেশ আজ অনেক এগিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের পথে হাঁটছি আমরা। দেশ বিদেশে আমাদের এই অর্জনকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সৎ ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিশ্বনেতৃত্বের কাছ থেকে। আমাদের গর্ব তিনি। কিন্তু, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এই নারী ও শিশুদের জীবনকে নিরাপত্তাহীন রেখে এই অর্জন কতটা সুখকর অবস্থা তৈরি করবে আমার জানা নেই।
বিচার ব্যবস্থা ও আইন যদি কঠোর ও সহায়ক না হয় তাহলে সে সমাজ কতদিন উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারবে সেটি আশা করি আমাদের নীতিনির্ধারকরা ভালোই বুঝেন। দিনে দিনে একদল মানুষ নারীদের প্রতি তাদের পাশবিক মনোবৃত্তির প্রকাশ করে যাচ্ছে, আর আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র সেদিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ করছে বলে মনে হচ্ছে না।
সামাজিক সচেতনতা যেমন বাড়াতে হবে, তারচেয়েও বড় দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। বছরের পর বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখার সংস্কৃতিকে ভেঙে দিতে হবে। ধর্ষণের বিচারকে দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে আইনকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিশুদের রক্ষার জন্য নিতে হবে বিশেষ পদক্ষেপ। বিদ্যালয়গুলোতেও দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা ধর্ষকদের রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। একটা সমাজ কতটা পচে গেলে ও কতটা নৈতিকতাহীন হওয়ার পথে থাকলে শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
আমরা ধর্ষণ ও নির্যাতনের পরিসংখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতির হাত থেকে রেহাই চাই। অবিলম্বে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ কমাতে হলে বিচার ব্যবস্থার কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। দুই একটা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদাহরণ তৈরি করলেই অপরাধীরা বুঝবে  অপরাধ করে বেঁচে যাওয়ার দিন শেষ।
সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে একতাবদ্ধ হয়ে। সমাজে সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধে নিতে হবে উপযুক্ত পদক্ষেপ। আমাদের সিনেমা নাটকে ধর্ষণের দৃশ্য দেখানোর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ধর্ষণ একটি সামাজিক অপরাধ। এটি কোনোভাবেই সমাজ স্বীকৃত কোনও কর্ম নয় যে সিনেমায় সেটাকে যুক্ত করতে হবে।
তাই আমাদের দাবি, অবিলম্বে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হোক। দ্রুত আদালত গঠন করে পুরনো মামলার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। থানাগুলোকে নারীর জন্য নিরাপদ বলে ঘোষণা দিতে হবে। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজ উদ্যোগে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা নেবে। অপরাধীর সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
আমরা একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজ চাই। আমাদের বাংলাদেশ ধর্ষকদের বিচরণক্ষেত্র হতে পারে না। অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে চলাচল করবে আর ধর্ষিত নারী মাথা নিচু করে অপরাধীর চেহারা নিয়ে চলবে, এই অবস্থার উত্তোরণ ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে রাষ্ট্রকেই। বছর বছর এই পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বরেখা আমরা আর দেখতে চাই না।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মক্কা মসজিদে বিস্ফোরণে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি-আজাদ

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি
ভারতের ঐতিহাসিক হায়দরাহাদের মক্কা মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পাওয়ায় মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই ঘটানকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় যে পাঁচ জনের বিচার চলছিল, আজ (সোমবার) হায়দ্রাবাদের বিশেষ এনআইএ আদলতে এদের প্রত্যেকেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
হায়দ্রাবাদের মক্কা মসজিদে ২০০৭ সালের ১৮ মে  জুমা নামাজের সময়  বড়সড় বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫৮ জন আহত হন। পুলিশি তদন্তের পর ওই বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই।
২০১১ সালে সিবিআইয়ের পর তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। সেসময় তদন্তে প্রকাশ, বিস্ফোরণে পাইপ বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা ওই ঘটনার নেপথ্যে ছিল। এতে আরএসএসের সাবেক সদস্য অসীমানন্দ ওরফে নবকুমার সরকারসহ মোট ১০ জন অভিযুক্ত হন। অভিযুক্তদের মধ্যে দেবেন্দ্র গুপ্ত, লোকেশ শর্মা, স্বামী অসীমানন্দ ওরফে নবকুমার সরকার, ভরত ভাই এবং রাজেন্দ্র চৌধুরি গ্রেফতার হন। এদের সকলকেই প্রমাণের অভাবে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছে। আজ আদালত জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আরএসএসের সাবেক সদস্য অসীমানন্দ ওরফে নবকুমার সরকার
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেন, ন্যয়বিচার হল না। এনআইএ এবং মোদি সরকার অভিযুক্তদের জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদনই করেনি। একেবারেই পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের শপথ দুর্বল হবে।’
ওয়াইসি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের জুনের পর সাক্ষীদের অধিকাংশই বিরূপ হয়েছিলেন। প্রত্যাশামতো এনআইএ ওই মামলায় এগোয়নি বা তাদের এগোতে দেয়নি ‘রাজনৈতিক প্রভুরা’। প্রশ্ন হল, এমন পক্ষপাতদুষ্ট বিচার চলতে থাকলে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার কী অবশিষ্ট থাকবে।’
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, সমস্ত তদন্ত এজেন্সি সরকারের কাঠপুতুলে পরিণত হয়েছে। আদালতের তত্ত্বাবধানে ওই মামলার তদন্ত হোক। কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ
এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংস্থা ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘একেবারেই প্রশাসন ওদের মুক্ত করল! যেভাবে মামলাটা এগোচ্ছিল তাতে আমাদের মতো মানবাধিকার কর্মীদের কাছে এটা স্পষ্ট ছিল ওই মামলার ভাগ্যে কী ছিল। এ ধরণের আরও যেসমস্ত মামলা আছে সেগুলোরও একই পরিণতি হবে। বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস
যদি অভিযুক্ত অপরাধীদের ছবি নিয়ে মিছিল হয়, আফরাজুলকে যিনি হত্যা করেছেন তার ছবি নিয়ে যদি মিছিল হয় এবং সরকারি লোকজন যদি সেই মিছিলে অংশ নেয় তাহলে কী পরিণতি হতে পারে? উন্নাও, কঠুয়ার ঘটনাতেও তা আবারও প্রমাণিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় হৈচৈ থেমে গেলে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে অবস্থাই হবে। হতভাগ্য, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে তারা বিচার থেকে বঞ্চিত হলেন। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ও একইসঙ্গে লজ্জারও বিষয়।’

ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি স্মার্ট: আসাদের উপদেষ্টা

বাসিনা শাবান
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বাসিনা শাবান বলেছেন, সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি স্মার্ট। গত শনিবার ভোরের ইঙ্গ-মার্কিন ও ফরাসি হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেছেন। তার এ বক্তব্য লেবাননের আল-মায়াদিন টিভির ওয়েব সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আগ্রাসীদের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
বাসিনা শাবান আরও বলেছেন, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের আগ্রাসন ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্যদিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন এবং নতুন শক্তির উত্থানের সূচনা হয়েছে। নতুন এই শক্তি মানবতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়।
বাশার আসাদের উপদেষ্টা বলেন, এবারের হামলার মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্মার্ট নয় এবং নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে না। তার ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশি স্মার্ট ও নিখুঁত। তিনি ট্রাম্পকে টুইট করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
হামলার আগে ট্রাম্প এক টুইটে সিরিয়া ও তার মিত্রদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, সিরিয়ার দিকে চমৎকার নয়া স্মার্ট বোমা আসছে।
এরপরই ট্রাম্পের নির্দেশে গত শনিবার ভোরে সিরিয়ায় একযোগে হামলা চালায় আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। তাদের ছোড়া ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৭১টিই ভূপাতিত করেছে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট।

হামলার শিকার সেই মুর্শেদা বহিষ্কার

গত ১০ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় হল শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মুর্শেদা খানমসহ ২৪জনকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সোমবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ১০ই এপ্রির দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলে অনাকাঙ্খিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাহিত্য সম্পাদক খালেদা হোসেন মুনও রয়েছেন। বাকিরা হলেন- সুফিয়া কামাল হল শাখার সহ-সভাপতি আতিকা হক স্বর্ণা, মিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতী আক্তার সুমি, সহ-সম্পাদক শ্রাবণী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার, উপ-তথ্য গবেষণা সম্পাদক (চারুকলা) আশা, নাট্যকলা বিভাগের লিজা, মিথিলা নুসরাত চৈতী, সঙ্গীত বিভাগের সোনম সীথি, চারুকলার অনুষদের সুদিপ্তা ম-ল, অনামিকা দাস, সঙ্গীত বিভাগের প্রিয়াংকা দে, প্রভা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শারমিন সুলতানা, উর্দু বিভাগের মিতু, ভূ-তত্ত্ব বিভাগের শিলা, জাকিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মনিরা, রুমা, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের জুঁই, বাংলা বিভাগের তানজিলা, সমাজ কল্যান বিভাগের তাজ। 
উল্লেখ্য, গত ১০ই এপ্রিল দিবাগত রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান ইশা ও তার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মুর্শেদা খানম ইশা কতৃক হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ক্ষণিক সময়ের মধ্যে বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ইশাকে ঘিরে ধরে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একসঙ্গে ইশাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনার দুইদিন পরই মুর্শেদা খানমসহ অন্য নেত্রীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

ভুল অস্ত্রোপচারে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক ভাংচুর

নওগাঁ শহরে বেসরকারি ক্লিনিক শাহ নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনে ৮ বছরের শিশু আল এখলাস মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। আজ রোববার সকালে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের স্টার্ফ কোয়াটারের সামনের ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আল এখলাস জেলার আত্রাই উপজেলার দিঘা উত্তরপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল শনিবার বিকেল ২টার দিকে আল এখলাসকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে শিশুটির টনসিল অপারেশন করেন নাক, গান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাফুদৌল্লা। আধা ঘন্টা পর অস্ত্রোপচার শেষে রোগীকে বেডে রাখা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারও রোগীকে অস্ত্রোপচার রুমে নেয়া হয়। রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে রাত ১২টার দিকে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। এরপর রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর ক্লিনিকের সব দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।
নিহতের বাবা শুকুর আলী জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখলাসকে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদের জানান সে ৬/৭ ঘন্টা আগে মারা গেছে। এরপর আজ সকালে এখলাসকে নওগাঁয় ওই ক্লিনিকে নিয়ে এলে রোগীর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ভীড় জমায়। এ সময় নিহতের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা ক্লিনিক ভাংচুর করে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ অপারেশন থিয়েটারে ভুল অপারেশনে শিশু আল এখলাস মারা গেছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সুমিত কুমার জানান, এ ব্যাপারে এখলাসের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক,ডাক্তার, নার্সকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছেও বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কুমারিত্ব নিলাম থেকে যৌন সম্পর্ক

মাঝে মাঝেই চমকে উঠবেন আপনি। কারণ, অনলাইনে দেখবেন কুমারিত্ব নিলামে তোলার বিজ্ঞাপন। না, এটা বাংলাদেশের কোনো কথা নয়। পশ্চিমা দুনিয়ায় এমন কাহিনী অহরহ মেলে। সেখানে কুমারিত্ব বা সতীত্ব টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে বৃটিশ নারীরাও কম যাচ্ছেন না। দিন দিন এভাবে কুমারিত্ব বিক্রি করা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। তারা কুমারিত্ব বিক্রি করছেন অথবা নিলামে তুলছেন। তবে যারা এমনটা করছেন তারা আবার অনেকেই নিজেদের কুমারী বা ভার্জিন হিসেবে দাবি করছেন। কারণ, তারা কুমারিত্ব বিক্রি করছেন অর্থের বিনিময়ে। অর্থের চাহিদা মেটানোর জন্য। শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য তারা কুমারিত্ব বিক্রি করছেন না। তাই তাদের দাবি তারা কুমারী। অর্থের বিনিময়ে এভাবে কুমারিত্ব বিক্রিকারীদেরকে ‘সুগার বেবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তারা সব সময় যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন এমন নয়। তারা অর্থের প্রয়োজনে একজন পুরুষের সঙ্গী হন। তার সঙ্গে লম্বা সময় কাটান। তাকে দেখাশোনা করেন। তার চাহিদা পূরণ করেন। তবে এক্ষেত্রে যৌন সম্পর্ক অবশ্যম্ভাবী নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রীতি অনুসরণ করতে গিয়ে কিছু নারীর অবস্থান এখন বিপন্ন। এখানে একটি ঘটনার কথা তুলে ধরা যায়। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী বলছেন, সম্পদশালী এক ব্যক্তির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ডেটিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই ব্যক্তি বিয়ারের বোতল ব্যবহার করে তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার নিউ এয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুগার বেবি সামিট’। এর আয়োজক সিকিং অ্যারেঞ্জমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। তারাই প্রথম ডেটিং জগতে অনলাইনে মূলধারায় যুক্ত করেছে ‘সুগার বেবিস’ এবং ‘সুগার ড্যাডিস’। এখন ১৩৯টি দেশে এ ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। এক কোটির বেশি মানুষ এসেছে এর আওতায়। শুধু বৃটেনেই এ সংখ্যা কয়েক লাখ। সিকিং অ্যারেঞ্জমেন্টের দাবি, তারা বৈধভাবে ডেটিং আয়োজন করে দিচ্ছে উভয় পক্ষের বোঝাপড়ার মাধ্যমে। সেই বোঝাপড়া হচ্ছে, দু’জন মানুষ কি ধরনের রিলেশনশিপ বা সম্পর্ক চায় তাই নিয়ে। কিন্তু এই সুযোগ নিচ্ছেন যুবতীরা। তাদের বয়স ১৮ থেকে শুরু। তাদের মধ্যে কুমারিত্ব বিক্রির এক রকম হিড়িক পড়ে গেছে। তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে কুমারিত্ব বিক্রি করছেন চড়াদামে। তাদের বিষয়ে জানতে অনলাইন মেইলের সাংবাদিক সুগার ড্যাডি হিসেবে একটি ভুয়া একাউন্ট খোলেন। তারপর শুধু বৃটেনেই এমন কুমারিত্ব বিক্রি করবেন এমন ৭০ জনের বেশি যুবতীর সন্ধান মেলে। আর বিদেশে তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার। তাদের প্রোফাইলে দাবি করা হচ্ছে, তারা কুমারী।

‘হঠাৎ বদলে গেল দু’ভাইয়ের ঠিকানা, রয়ে গেল কাঁটাতার’

কাঁটাতার ছুঁয়ে মুষড়ে বসেছিলেন এক বৃদ্ধ। কাঁটাতার পেরিয়ে চেনা কাউকে খুঁজে বেরাচ্ছিল তাঁর চোখ। দেখা পেতেই বাঁধ ভেঙে জল এল বৃদ্ধের চোখে। কথা বললেন কী, রুমাল বের করে তা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তিনি। কখনও বেড়া ডিঙিয়ে উড়ে এল ইলিশ, বিস্কুট, চানাচুর। ওই তালিকায় ছিল প্রিয়জনের জন্য কেনা তাঁতের শাড়ি, নতুন সালোয়ারও। এমনই কত কত ছবি উঠে এল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ভোলাপাড়ায়।
বাংলা নববর্ষের দিনে ভোলাপাড়া যেন ছিল মিলন মেলা। প্রতি বছর চৈত্রের শেষে ভোলাপাড়ায় কাঁটাতারের বেড়ার দু’পাশে জড়ো হতে দেওয়া হয় বাসিন্দাদের। ভিনদেশে থাকা আত্মীয় পরিজনদের দেখতে ভিড় জমান দু’দেশের মানুষই। চার ঘণ্টা ধরে খোলা থাকে সেটি।
এ দিনও এপারে থাকা হাত কুড়িয়ে নিল ওপার থেকে ছুঁড়ে দেওয়া উপহার। কেউ কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে হাত গলিয়ে দিয়ে ছুঁলেন ওপার থেকে এগিয়ে আসা হাত। দু’পারেই নামল চোখের জল।
ফুলবাড়ি থেকে পারুল রায় স্বামী ইন্দ্রজিৎকে নিয়ে এসেছিলেন ভোলাপাড়ায়। ওপারে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে থাকেন তাঁর বোন। প্রায় দশ বছর ধরে দেখা নেই দু’বোনের। কিন্তু মন তো টানে। পাসপোর্ট-ভিসা করে বাংলাদেশে যাওয়ার সাধ্যও তাঁদের নেই বলে জানান তাঁরা। মিলন মেলার কথা শুনেছেন বোনের কাছেই। বললেন, ‘‘গতকাল রাতে বোন বলল মেলা হবে। একবারটি আয়। তারপরে না এসে পারিনি।’’
ছোটবেলায় একই জামা পাল্টাপাল্টি করে পরতেন দু’জনে। এতদিন বাদে দেখা, তাই বোনের জন্য এনেছিলেন তাঁতের শাড়ি এনেছিলেন। বেড়ার এপার দিয়ে ছুড়লেন সেটি। ওপার থেকে বোন ছুড়লেন ইলিশ।
সীমান্তের নিয়ম অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া থেকে দেড়শো মিটার পর্যন্ত যাতায়াত নিষেধ। শুধু শেষ চৈত্রের এক দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিধি শিথিল হয়। সে দিনই হয় মিলন মেলা। এ বছর পয়লা বৈশাখে পড়েছে সেই দিন। এ বার ভোটের ছোঁয়া লেগেছে মিলন মেলাতেও। তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় দলের জেলা পরিষদ প্রার্থীকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন। মেলাতেই প্রচার সারলেন। খগেশ্বরবাবু অবশ্য বলেন, ‘‘মেলা দেখতে এসেছিলাম। প্রচার করতে নয়।’’ শুধু উপহার নয়। দেদার বেচাকেনাও চলে।
দুপুর গড়াতেই বেড়ার সামনে থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিল বিএসএফ। তখনও পাট খেতের আলে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ নিয়ামত হোসেন। ও পারে আল পেরিয়ে ফিরছেন আলিকত আলি এবং তাঁর স্ত্রী। চোখ মুছলেন নিয়ামত। বললেন, ‘‘দু’ভাই একসঙ্গেই বড় হয়েছি। হঠাৎ ঠিকানা বদলে গেল। তারপরে কত কি বদলে গেল, শুধু কাঁটাতারটাই থেকে গেল।’’
সুত্র -আনন্দবাজার

নগ্ন হয়ে বিবিসি রির্পোটারের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা

এটা ছিল বিব্রতকর, অস্বত্বিকর, কিন্তু আমরা সবাই ছিলাম একই রকম, হাসতে হাসতে বললেন জেনি এলস আর কেট হ্যারবোর্ন। যে দুজনে বিবিসি শেফিল্ডের দি ন্যাকেড পডকাস্ট অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন।
পডকাস্টের ওই আলোচনা শুরুর ঠিক আগে আগে কাপড়চোপড় খুলে পুরোপুরি নগ্ন হয়ে যান দুই উপস্থাপিকা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী থেকে তাদের নারী অতিথিরা আসেন। আলোচনার সময় তাদের শরীরেও কোন কাপড় থাকেনা।
কিন্তু কেন এই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা?
জেনি বলছেন, ''আমরা দেখতে চেয়েছি, নগ্ন অবস্থায় মানুষ কি সত্যিই সব কিছু খুলে বলে? মানুষ কি আরো খোলামেলাভাবে আলোচনা করে?''
''যে নারীদের সঙ্গে আমরা এই অনুষ্ঠানে কথা বলেছি, তারা আসলে তাই করেছেন।''
নগ্ন হয়ে উপস্থাপনা বা অতিথি হয়ে আসা সহজ কাজ নয়। তবে কোন সামনে নগ্ন হয়ে বসলে অনেকটাই হালকা হয়ে যাওয়া আর বিশ্বাস তৈরির ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান।
মানুষের শরীরের নানা চিত্র আর নগ্নতা নিয়েই তাদের ওই অনুষ্ঠান। এই দুই উপস্থাপিকা বিবিসি শেফিল্ডে সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করছেন।
এই সিরিজে ১০টি এপিসোড রয়েছে এবং বিবিসি শেফিল্ড বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে।
যদিও নগ্নতার বিষয়ে আলোচনা হলেও সেটি প্রচার হয় পডকাস্টে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে শোনা যায়। ফলে তাদের এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ আসলে কারো চোখে পড়বে না।
কিন্তু খোলামেলা আর আন্তরিক আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্যই তাদের এই উদ্যোগ।
কেট বলছেন, ''আমাদের দুজনেরই বয়স ত্রিশের কোঠায়। মেয়েরা অনেক সময় ব্যয় করে তাদের শরীর নিয়ে, কিভাবে আরো চিকন বা ফিট হবে, চুলের স্টাইল কি হবে, চামড়া রোদে পুড়বে কিনা ইত্যাদি নিয়ে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, কি বিশাল সময় আমরা নষ্ট করেছি। কিন্তু সাধারণ নারীদের এর চেয়েও আরো অনেক বেশি সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়।''
কেট বলছেন, ''প্রথমে তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর সময় আমরা ভেবেছিলাম যে, একজন শক্তিশালী , বুদ্ধিমতী, মজার নারীর সঙ্গে আমরা আলোচনা শুরুর করতে যাচ্ছি। কিন্তু নগ্ন হয়ে আলাপচারিতা শুরুর পর দেখা গেলো, তারা নিজের শরীর নিয়ে কতটা বিব্রতকর, নেতিবাচক কথাই না ভেবেছেন।''
তাদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন মডেল, মূত্র জটিলতায় ভোগা একজন নারী যাকে সবসময় মূত্র থলি সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়, আর একজন মুসলিম নারী যিনি বিয়ের পরই প্রথম কোন নগ্ন দেহ দেখেছেন, যা ছিল তার স্বামীর।
তাদের সঙ্গে গল্পে জীবনের বিচিত্র দিক, যৌন নির্যাতন, ব্যক্তিগত নানা বিষয় উঠে এসেছে।
জেনি বলছেন, ''প্রায় একবছর আগে আমরা এই কাজটি শুরু করি। এখন আমি আমার নিজের শরীর নিয়ে শতভাগ স্বত্বি বোধ করি।''
সুত্র-বিবিসি

পিতা-মাতার মৃত্যুর ৪ বছর পর শিশুর জন্ম

পিতা-মাতা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার ৪ বছর পর সন্তানের জন্ম হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে চীনে। দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, একজন সারোগেট মা ওই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। ২০১৩ সালে ওই দম্পতি মারা যান। কিন্তু তার আগেই তারা আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান লাভের আশায় নিজেদের ভ্রূণ সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর পর, তাদেরই চার পিতা-মাতা ওই ভ্রূণ ব্যবহার করে সন্তান জন্মদানের দাবিতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে নামেন। সেই লড়াইয়ে তারা জয়ী হন। ফলশ্রুতিতে লাওসের একজন সারোগেট মায়ের মাধ্যমে ডিসেম্বরে ওই ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। বেইজিং নিউজ নামে একটি সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেছে, কীভাবে সারোগেসি প্রক্রিয়া শুরুর আগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যান মৃত দম্পতির পিতা-মাতা।
খবরে বলা হয়, তারা যখন দুর্ঘটনায় পতিত হন, তখন তাদের ভ্রূণ নিরাপদে সংরক্ষিত ছিল নানজিং হাসপাতালে। তরল নাইট্রেজেন ট্যাংকের ভেতর মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা ছিল ওই ভ্রূণ। আইনি লড়াই শেষে দম্পতির চারজন পিতা মাতাকে এই ভ্রূণ ব্যবহারের অধিকার দেয়া হয়। এর আগে এমন কোনো নজির ছিল না যে, কেউ তার সন্তানের রেখে যাওয়া ভ্রূণের অধিকার পাবে। তাদেরকে ভ্রূণ ব্যবহারের অধিকার দেয়া হলেও, বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি। নানজিং হাসপাতাল থেকে তারা ওই ভ্রূণ তখনই সরাতে পারবেন যখন তারা এই নিশ্চয়তা দেবেন যে, তারা ওই ভ্রূণ অন্য হাসপাতালে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। কিন্তু আইনি জটিলতার ঝুঁকি থাকায় চীনের কোনো হাসপাতালই এই ভ্রূণ সংরক্ষণে রাজি ছিল না। আবার চীনে সারোগেসি অবৈধ হওয়ায়, সম্ভাব্য একমাত্র বিকল্প ছিল এই ভ্রূণ দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া। শেষ অবদি চার দাদা-দাদী ও নানা-নানী একটি সারোগেসি এজেন্সির শরণাপন্ন হন। তারা সিদ্ধান্ত নেন লাওসে সংরক্ষিত ভ্রূণ নিয়ে যাবেন। সেখানে বাণিজ্যিক সারোগেসি বৈধ। কিন্তু কোনো এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষই ছোট তরল নাইট্রোজেন ভর্তি বোতল বহনে রাজি হলো না। অগত্যা, তারা গাড়িতে করেই ওই বোতল নিয়ে যান লাওসে। লাওসে এই ভ্রূণ স্থাপন করা হয় সারোগেট মায়ের গর্ভে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওই শিশুর জন্ম নয়। শিশুর নাম দেয়া হয় তিয়ানতিয়ান। তবে তার নাগরিকত্ব নিয়ে দেখা দেয় আরেক সমস্যা। কারণ, শিশুর জন্ম চীনে হয়েছে, লাওসে নয়। অথচ, ওই সারোগেট মা স্রেফ টুরিস্ট ভিসা নিয়ে চীনে এসেছিলেন। তিয়ানতিয়ানের পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব প্রমাণের কেউই ছিল না। ফলে চার দাদা-দাদী ও নানা-নানীকেই রক্ত দিতে হয় ও ডিএনএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এটি প্রমাণ করতে যে ওই শিশু নিশ্চিতভাবেই তাদের নাতি এবং তাদের পিতা-মাতা উভয়েই ছিলেন চীনা। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তিয়েনতিয়েন চীনা নাগরিকত্ব লাভ করে।

পঞ্চগড় সীমান্তে মিলনমেলা

প্রতিবছরের মতো এবারো দু’বাংলার লাখো মানুষ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিল। তবে, বাধা একটাই কাঁটাতারের বেড়া। কাঁটাতারের দু’প্রান্তে দাঁড়িয়ে লোকজন একে অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে মনের প্রশান্তি মেটায়। অন্যান্য বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। বিএসএফের অনুমতি না মেলায় শনিবার কোনো সীমান্তে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল তারা মিলিত হয়েছিল। পহেলা বৈশাখের দিনটির জন্য অপেক্ষা করে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষী কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা এবং তেঁতুলিয়ার মাগুড়মারী, সুকানি ও ভুতিপুকুর সীমান্তে দুই বাংলার মানুষের ঢল নামে। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে কথা বলার সময় কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন অনেকে। বিনিময় করেছেন বিভিন্ন উপহার সামগ্রী। আপনজনদের সঙ্গে দেখা করতে সকাল থেকে হাজির হয়েছিল লাখো নারী-পুরুষ। বিএসএফের অনুমতি পাওয়ার পর গতকাল সকাল থেকে জেলার চার সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় মিলনমেলা। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে কথা বলেন দুই বাংলার নাগরিকরা।
অমরখানা ইউনিয়নের অমরখানা ও বোদাপাড়া গ্রাম ও ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রায়গঞ্জ থানার খালপাড়া, ভিমভিটা, গোমস্তাবাড়ি ও বড়ুয়াপাড়া গ্রামের ফাঁকা জায়গায় জড়ো হয় লাখো বাংলাভাষী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএসএফের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার দু’পাশে চলে যায় তারা। ৭৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ১ থেকে ৭ নম্বর সাব পিলার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডজুড়ে উভয়দেশের নাগরিকদের মিলনমেলা শুরু হয়। মিলনমেলায় আগতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকেই বাংলাদেশ অংশে জড়ো হয় বাংলাদেশের নাগরিকরা। কিন্তু বিএসএফ অনুমতি না দেয়ার বিজিবি কাউকেই বেড়ার কাছে ভিড়তে দেয়নি। আর ওপারের কেউ বেড়ার কাছে আসতে পারেনি। কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে, ভারতের পঞ্জিকা অনুসারে বাংলাদেশের একদিন পরে হয় তাদের নববর্ষ। এ কারণে এবার থেকে তাদের পহেলা বৈশাখেই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে। আর বাংলাদেশের হবে বৈশাখের দ্বিতীয় দিন। পহেলা বৈশাখের দিন অনেকে গিয়েছিল ওই সীমান্তে। কিন্তু মিলন মেলা না হওয়ায় পঞ্চগড় জেলার মধ্য থেকে আগতরা দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে গেলেও জেলার বাইরে থেকে আগতরা থেকে যান আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। অনেকে আবার ইউনিয়ন পরিষদ অথবা ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করে রাতযাপন করেন। গতকাল সকাল থেকেই কাঁটাতারের বেড়ার পাশে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিকালের মধ্যে তারা সবাই বাড়ি ফিরে যান।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের শর্মিলা ঠাকুরের ভাই ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন থাকে শিলিগুড়ি এলাকায়। তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর দেখা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চানপাড়া গ্রামের নিরন বালা (৪৬) এসেছিলেন ভারতের শিলিগুড়ির একটিয়াশ এলাকায় অবস্থানরত বড় বোন সুধির বালা (৪৮) এর সঙ্গে দেখা করার জন্য। প্রায় ১০ বছর পর দুই বোনের সরাসরি সাক্ষাৎ হওয়ায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। বড় বোনকে একটু জড়িয়ে ধরে কাঁদতে চায় ছোট বোন নিরন বালা। কিন্তু মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। কথা বলার ফাঁকে শুধু চোখের জলেই তাদের ভালোবাসার প্রকাশ। নিরন বালা জানান, পাসপোর্ট-ভিসা করে ভারতে গিয়ে বোনকে দেখার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই কয়েক বছর ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করার পর এবারই বড় বোন সীমান্তে এসেছেন তার দেখা করার জন্য। তিনি তার সামর্থ্য মতো বড় বোনের জন্য শাড়ি ও খাবার এনেছেন। বেড়ার ওপর দিয়ে সেগুলো দিয়েছেন। বড় বোনও তার জন্য উপহার সামগ্রী এনেছেন। ভারতের শিলিগুড়ি শালুগাড়া এলাকায় থাকেন ছেলে নিরোধ বর্মন (৩০) তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের শিবরামপুর থেকে এসেছেন বাবা শালটু বর্মন (৭৭)। ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি নিয়ে এসেছিলেন স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েকে। প্রখর রোদে প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘুরে বেড়ানোর পর দেখা হয় ছেলের সঙ্গে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে নিরোধের কথা হয় বাবা, মা ও বোনদের সঙ্গে। বিনিময় করেন উপহার সামগ্রী। শালটু বর্মন জানান, ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি পাসপোর্ট ভিসা করেছি। এরই মধ্যে দুইবার ভারতে গিয়ে ছেলের বাড়িতে থেকে এসেছি। কিন্তু স্ত্রী ও মেয়েরা অনেকদিন ধরে নিরোধকে দেখেনি। সবার পাসপোর্ট ভিসা করে ভারতে যাওয়া মুশকিল। তাই গত বছর থেকে বাংলা নববর্ষে এখানে আসছি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল হাকিম মো. নওশাদ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই বাংলার বাংলা ভাষা ভাষীদের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার অমরখানা, মাগুড়মারী, সুকানি ও ভুতিপুকুর এই চার স্থানে একই সঙ্গে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মিলনমেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার জন্য জেলা প্রশাসন ও বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিজিবি ব্যবস্থা করেছে।

শেফালীর মুখে হত্যা-পরকীয়ার বর্ণনা

পরকীয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই দুই সন্তানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিই। আর এ জন্য ওদের কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেই। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে নিজ সন্তান হৃদয় (৯)কে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ঘাতক মা শেফালী আক্তার এ কথা বলেন। শনিবার নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এস আই আবুল কাসেম জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্বীকারোক্তিতে শেফালী আক্তার আদালতকে বলেন, তাদের দুজনের অনৈতিক কাজ ছেলেরা দেখে ফেললে প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে নিয়ে শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী। মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দু’সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথা মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে বড় ছেলে হৃদয় (৯)-এর সারা শরীর আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে জিহাদ (৭)কে বাড়ির লোকজন তাৎক্ষণিক ভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়। সূত্রমতে, আড়াইহাজার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তারের সঙ্গে তার বৈমাত্রেয় ভাই রাশেদুল ইসলাম মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। প্রতিরাতেই রাশেদুল ইসলাম মোমেন ভাবি শেফালী বেগমের ঘরেই রাত যাপন করতো। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়। তাদের দুজনের অনৈতিক কাজ হৃদয় ও জিহাদ দেখে ফেলায় হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো ১২ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার সময় হৃদয় ও জিহাদকে কাঁথা পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই শিশুর দেহ। শিশুদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে হৃদয়ের সারা শরীর পোড়া ও নিথর দেহ ও জিহাদের অর্ধ পোড়া অবস্থায় কাতরাতে দেখতে পান। সেখান থেকে আহত জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত হৃদয় ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র এবং আহত ছোট ভাই জিহাদ প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
শুক্রবার এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশ জানায়।
মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন ঘটনার নির্মমতার বর্ণনা দিয়ে জানান, গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে সে ও তার বড় ভাই আঃ হান্নান ও তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে তার বিদেশ প্রবাসী ছেলে আনোয়ারের ঘরের সামনে গিয়ে দেখতে পান ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। তারা সেই ঘরের একটি দরজা খোলা পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখতে পান পুত্রবধূ শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে। তারা দুজনে মিলে বিছানার কাঁথা ও তোষকে আগুন ধরিয়ে তার দুই শিশু নাতি হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে। এসময় শিশুদের রক্ষায় আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়লে রাশেদুল ইসলাম মোমেন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বিল্লাল হোসেন আরো জানান, এ নির্মম ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি এমএ হক জানান, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে শিশুর মা শেফালী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সে আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে। অপর আসামি রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।

ইরানে মার্কিন আধিপত্য অবসানে ইসলামি বিপ্লবের ভূমিকা

ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের আগে ইরান ছিল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার অনুগত একটি দেশ। অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য, ভূ-কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী ও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা কারণে সব দিক থেকেই এ অঞ্চলের অন্য ছোট ছোট দেশগুলোর তুলনায় ইরান শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান এ অঞ্চলে আমেরিকার পক্ষ থেকে পুলিশি ভূমিকা পালন করত বা খরবদারি করত। ইরানকে এ অঞ্চলে আমেরিকার স্তম্ভ বা খুঁটি হিসেবে মনে করা হত। কিন্তু বিপ্লবের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবং সামরিক দিক দিয়ে ইরান শক্তিশালী হয়ে ওঠায় এ অঞ্চলে আমেরিকার কাছে ইরানের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অযাচিত হস্তক্ষেপ ও তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পাশ্চাত্যের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হত এবং ইরানের মাধ্যমে তারা এ অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল। পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর আমেরিকা নিক্সন ডক্ট্রিন অনুযায়ী এ অঞ্চলের দেশগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে এবং দু'টি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে। প্রথমত, তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষা করা এবং দ্বিতীয়ত, নিক্সন ডক্ট্রিন অনুযায়ী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
নিক্সন ডক্ট্রিন অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রধান দু'টি স্তম্ভ বা শক্তি হচ্ছে ইরান ও সৌদি সরকার এবং এই দুই দেশ আমেরিকার লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ কারণে আমেরিকা এই দুই দেশকে অর্থ ও সামরিক সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করে তাদেরকে পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যবহার করত। যাতে এ অঞ্চলে সরাসরি আমেরিকাকে উপস্থিত থাকতে না হয়। নিক্সন বলেছেন, "পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এ অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইরান ভূমিকা রাখতে পারে।"  নিক্সন পারস্য উসাগরীয় অঞ্চলে তার তিনটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেন। এ তিনটি হল, এক, এ অঞ্চলের প্রধান দুই শক্তি অর্থাৎ ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযাগিতা গড়ে তোলেন। দুই, পারস্য উপসাগরে আমেরিকার অন্তত তিনটি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়। এবং তিন, মধ্যপ্রাচ্যের ছোট ছোট দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ব্রিটেনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব বিস্তারে প্রধান সহযোগি হিসেবে ইরান ছিল এক নম্বরে। এরপর আমেরিকার দৃষ্টিতে সৌদি আরব হচ্ছে প্রধান অর্থের যোগানদাতা। নিক্সন ডক্ট্রিন অনুযায়ী আমেরিকার পক্ষ থেকে  ইরান মধ্যপ্রাচ্যে পুলিশি ভূমিকা তথা মাতব্বরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নিক্সনের পরিকল্পনাগুলো কেবল সেইসব দেশে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল যারা এ অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারত। এ ছাড়া, ভূ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গেই আমেরিকা এ সহযোগিতা গড়ে তুলেছিল।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান একমাত্র দেশ যে কিনা এ ধরণের সমস্ত সুযোগ-সুবিধার অধিকারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শীতল যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূ-কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে ইরানের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তরে অবস্থিত হওয়ার কারণে সেখান থেকে আকাশ কিংবা স্থল পথে রাশিয়ায় হামলা চালানো কিংবা দেশটির বিরুদ্ধে গোয়েন্দাবৃত্তি চোলানো আমেরিকার জন্য অনেক সহজ ছিল। ইরানসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তেল সম্পদও ছিল পাশ্চাত্যের কাছে লোভনীয় বস্তু। এ ছাড়া, ওই অঞ্চলে কমিউনিজমের প্রভাব ঠেকানোর জন্য ইরানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পাশ্চাত্যের কাছে ইরানের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল। খ্যাতনামা সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জশওয়া অ্যাপেস্টিন গত ৫০ বছরে ন্যাটো, পেন্টাগণ ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রকাশিত বিভিন্ন দলিল প্রমাণ দেখিয়ে বলেছেন, 'কৌশলগত সামরিক দিক থেকে আমেরিকার কাছে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।'
১৯৬৬ সালের জুনে ইরানের শাহ দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, "তার দেশের সেনাবাহিনীকে পারস্য উপসাগরে প্রস্তুত রাখতে হবে। কারণ ব্রিটিশরা এডেন বন্দর খালি করে চলে যাওয়ার পর মিশরের আরব জাতীয়তাবাদের নেতা জামাল আব্দুল নাসের তার সেনাবাহিনীকে ইয়েমেন থেকে আরব উপদ্বীপ ও পারস্য উপসাগরের শেখ শাসিত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চান।"
সে সময় আরব জনগোষ্ঠীর প্রচণ্ড ক্ষোভের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে আমেরিকা ও ইসরাইল এ অঞ্চলে তাদের স্বার্থ বজায় রাখার জন্য ইরানকে একমাত্র অবলম্বন বলে মনে করত। ১৯৬৩ সালে ইরানে ক্যাপিচুলেশন আইন পাশ হওয়া থেকে বোঝা যায় ইরানও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং দেশটির কোনো স্বাধীনতা ছিল না। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে শাহ সরকারেরও কোনো চিন্তাভাবনা ছিল না এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শাহ পুরোপুরি আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
এ কারণে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় আরবরা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলেও ইরানের রেজা শাহ ইসরাইলের কাছে তেল বিক্রি করা অব্যাহত রাখেন এবং তেলআবিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইলের কাছে আরবরা পরাজিত হওয়ার পর এবং পাশ্চাত্যের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাওয়ায় তেহরান পাশ্চাত্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং ইরানকে ব্যবহার কোরে আমেরিকা এ অঞ্চলে তার স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে ইরানের শাহ সরকার আমেরিকার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে ইরানের শাহ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। আমেরিকা ও ব্রিটেনের কাছ থেক ইরান সেসময় অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করে। আমেরিকা ও ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসগর পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি বজায় রাখে।
এদিকে, সামরিক শক্তি, তেল বিক্রি ও পাশ্চাত্যের ওপর নির্ভরশীল ইরানের শাহ সরকার দেশের অভ্যন্তরে জনগণের প্রতিবাদ আন্দোলন ও গণবিদ্রোহ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। শাহের দমন-পীড়ন সত্বেও স্বাধীনতা, মুক্তি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দাবিতে শুরু হওয়া ইরানের গণআন্দোলন শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ করে। শাহের পতন এবং আমেরিকার কর্তৃত্ব খর্ব করা ছিল ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য। জনগণের শক্তির ওপর ভর করে ইরানের ইসলামি সরকার গত ৩৯ বছর ধরে এখনো টিকে আছে এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান এ অঞ্চলে আমেরিকার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।

ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে এমপিদের ক্ষোভ by কাজী সোহাগ

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন এমপিরা। তাদের অভিযোগ বাজারদরের চেয়ে ইডকলের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করে ইডকল। এমপিদের পাশাপাশি ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। একই সঙ্গে বিব্রত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এমপিদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ইডকল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইডকল কোম্পানি পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসন অনুযায়ী মন্ত্রণালয় শুধু জেলা প্রশাসকদের কাছে অর্থের বরাদ্দ দেয়।
জেলা প্রশাসকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছে অর্থের বিভাজন করেন। কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ৫৬টি এনজিও’র মাধ্যমে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ইডকলের বরাদ্দ আসে এমপিদের নামে। কিন্তু এমপিদের মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সুপারভাইজিংয়ের কোনো অথরিটি নেই। মন্ত্রণালয় যে বরাদ্দ দেয় তার ৫০ ভাগ কাজ করে ইডকল। কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, উপজেলাসমূহে ইডকল থেকে যে সোলার প্যানেল পাওয়া যাচ্ছে বাইরে তার চেয়ে কম মূল্যে উন্নতমানের সোলার প্যানেল কেনা সম্ভব। তাহলে কেন বেশি মূল্যে কিনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। কমিটির অপর সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, বাজারদরের চেয়ে ইডকলের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাদের কার্যক্রমে জনগণ ক্ষুব্ধ। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করে ইডকল। কমিটির অপর সদস্য আবদুর রহমান বদি বৈঠকে বলেন, ইডকল কোম্পানি এত নিম্নমানের কাজ বেশি মূল্যে করছে তা হয়তো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবহিত নয়। তাছাড়া ইডকল কি কি শর্তে কাজ করছে তা জানা নেই। তাই তিনি ইডকল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তার নির্বাচনী এলাকায় সোলার প্যানেলের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে বলে জানান। এমপিরা জানান, দাম বেশি, মান খারাপ এবং এর দায়িত্ব কার এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে এমপিদের পাশাপাশি ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দেয়ার স্লোগান নিয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে বছর দশেক আগে শুরু হয় সোলার মিনি গ্রিডের যাত্রা। যেসব অঞ্চলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয় সেসব অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ১৩টি মিনি গ্রিড চালু হয়েছে। উদ্যোক্তা, বৈদেশিক সাহায্য ও রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইডকলের ঋণের টাকায় প্রতিষ্ঠা হয় এসব প্রকল্প। তবে ইডকলের ফিন্যান্সিয়াল মডেলে যে হারে দৈনিক ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা দেয়া হয়েছে, বাস্তবে তার অর্ধেক পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। আবার উচ্চমূল্যের কারণে প্রয়োজনীয়সংখ্যক গ্রাহকও পাচ্ছে না অনেক মিনি গ্রিড। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
এই খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশের (এসইবিএল) প্রকৌশলী ডিএম মজিবর রহমান জানান, মনপুরা মিনি গ্রিডের ফিন্যান্সিয়াল মডেলের বড় গলদ ধরা পড়তে পড়তেই শরীয়তপুরের দু’টি মিনি গ্রিড স্থাপনের বেশির ভাগ কাজ হয়ে গেছে। এরপর আরো ছয়টি মিনি গ্রিডের অনুমোদন পেলেও তিনি চিঠি দিয়ে তা বন্ধ রেখেছেন। এখন চালু তিনটি মিনি গ্রিডের ভবিষ্যৎ নিয়েই অন্ধকার দেখছেন তিনি। তিনটি মিনি গ্রিড ২০ বছর চালালে গ্রায় ৫০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
মনপুরা মিনি গ্রিড সম্পর্কে তিনি বলেন, ইডকলের মডেলে দেখানো হয়েছে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬৫২ ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে সেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ১৯টি দিকে সক্ষমতা অর্জন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই মিনি গ্রিড বিদ্যুৎ। দুর্গম অফগ্রিড চরাঞ্চলে এসব গ্রকল্পের ডিজাইন ও মডেল তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইডকল সে পথে না গিয়ে এই দুর্ঘটনা করল। এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, শর্ত অনুযায়ী ইডকলের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের চুক্তি হয়। বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়টি দেখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। শ্রেডা মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি করে থাকে। তিনি বলেন, পণ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করে। মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কিছুই করণীয় নেই। তিনিও ইডকল কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে কমিটিকে অবহিত করেন। কারণ বিভিন্ন বৈঠকে ইডকলের কার্যক্রম নিয়ে জবাব দিতে গিয়ে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তিনি ইডকলের পণ্য ও কার্যক্রম নিয়ে সংসদীয় কমিটির একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ কামনা করেন।

চট্টগ্রামে সক্রিয় ৩০ ছিনতাইকারী গ্রুপ

রাতের অন্ধকারে, ভোরের ফঁকা রাস্তায়, দুপুরের ব্যস্ত সময়, এমনকি সন্ধ্যার নির্জনেও সক্রিয় চট্টগ্রামের ৩০ ছিনতাইকারী গ্রুপের সদস্যরা। এদের নিয়ে জনমনে যেমন আতঙ্ক রয়েছে। তেমনি পুলিশও চিন্তিত ব্যাপকভাবে।
এমন কথাই বললেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মিশনার মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, নগরে একের পর এক ধরা পড়ছে ছিনতাইকারী। তবুও থামছে না ছিনতাই। একের পর এক ঘটেই চলেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নগরীর পৃথক দু’টি স্থানে ব্যবসায়ীর ১২ লাখ টাকা ছিনতাই। আগের দিন সোমবার নগরীর পাহাড়তলী থানার আবুল খায়ের গ্রুপের পরিবেশকের অফিসের সামনে থেকে ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ছিনতাইকারীদের হদিস পর্যন্ত মেলেনি এখনো।
এর আগে নগরে প্রতিমাসে ১৫ বা তারও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বহু ছিনতাইকারীকে আটকও করা হয়েছে। এ কারণে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতে এর ব্যাপক বিস্তৃতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গত তিন মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫৭ জনের মতো ছিনতাইকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও এত ছিনতাইয়ের ঘটনা কিভাবে ঘটে; এত ছিনতাইকারী কোথা থেকে আসে তা নিয়ে বেশ চিন্তিত আমরা।
চট্টগ্রাম মহানগর বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ডিবি উত্তর ও বন্দর জোন গত দুই মাসে ৩০ থেকে ৪০ জন ছিনতাইকারী আটক করেছি। তাদের দুই-একজন জামিনে বের হয়ে আবারও টিম তৈরি করে দ্রুত ছিনতাই করে আড়ালে চলে যাচ্ছে। কৌশল বদল করে ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করছে।
তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের সময় ভাগ করা আছে। কৌশলেও আছে ভিন্নতা। ছিনতাই কাজে কখনো রিকশা, কখনো সিএনজি টেক্সি, মোটরসাইকেল কিংবা মাইক্রোবাস ব্যবহার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কোনো ছিনতাইকারী ধরা পড়লে অন্যটিম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এভাবে নগরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তত ৩০টি ছিনতাইকারী গ্রুপ। তাদের নামেও আছে ভিন্নতা। কোনো গ্রুপের নাম টানা পার্টি, কোনটা মামু পার্টি, কোন গ্রুপ পরিচিত সালাম পার্টি নামে, আছে সিএনজি পার্টি থেকে ভুয়া পুলিশ ডিবি পর্যন্ত।
তিনি বলেন, ছিনতাইকারীরা কয়েকটি ধাপে তাদের অপারেশন সমপন্ন করে। তাদের মূল টার্গেট হলো ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তি এবং বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংক কর্মীরা। এছাড়া বিদেশ ফেরত যাত্রীরাও রয়েছে তাদের টার্গেটে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক, আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ছিনতাইকারীদের কাছে গোপনে অর্থ পরিবহনের তথ্য আগাম জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর ভুয়া নম্বর প্লেটের গাড়ি নিয়ে ছিনতাইকারীরা পরিকল্পনা সাজায়।
ছিনতাইকারী চক্রের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও রেসকিউ টিম রয়েছে। অপারেশন সফল হলে জড়িত সবার মধ্যে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়া হয়। অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নকল পোশাক পরে ছিনতাই করা হয়। ভাড়া করা অটোরিকশায় খাঁচা লাগানোর পরে এখন ছাউনি কেটে নেয়া হচ্ছে মুঠোফোন বা ব্যাগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীতে সিএনজি টেক্সি নিয়ে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ছিনতাই করে এক গ্রুপ। আরেকটি গ্রুপ কাজ করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তারা সিএনজিতেও আসে, আবার মোটরসাইকেলেও আসে। মূলত: রিকশারোহী নারীদের টার্গেট করে তারা। রিকশার পাশ দিয়ে চলে যেতে যেতে মোটর সাইকেলের পেছনের আরোহী ছোঁ মেরে কেড়ে নেয় ব্যাগ।
জামালখান মোড়ে এ ধরনের একটি চক্রের শিকার হয়ে রিকশা থেকে পড়ে মারা যান শিরীন নামে এক তরুণী। কখনও কখনও পরিচিত ব্যক্তির ভাব করে লোকজনকে থামিয়েও ছিনতাই হচ্ছে। উচ্চস্বরে সালাম দিয়ে হঠাৎ মাঝপথে গতিরোধ করে রিকশা যাত্রীর দু’পাশে দাঁড়িয়ে দুই যুবক মুহূর্তে পিস্তল বের করে ঠেকায় যাত্রীর বুকে। কি আছে বের করে দাও না হলে গুলি ছুঁড়ব। প্রাণ বাঁচাতে টাকা-পয়সা মোবাইল ফোন নীরবেই তাদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।
হাঁটার পথে আকস্মিক কয়েকজন যুবক মামু কেমন আছেন বলে ঘিরে ধরছে পথচারীকে। এরপর অস্ত্র কিংবা ছুরি দেখিয়ে সবকিছু কেড়ে নিচ্ছে। কখনও আবার রিকশা থামিয়ে চালককে মারধর শুরু করছে কয়েকজন যুবক। নিরপরাধ রিকশাচালকের উপর নির্যাতনে বাধা দিতে গেলে বন্দুক তাক করা হচ্ছে যাত্রীর দিকে। মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেয়া হচ্ছে যাত্রীর টাকা-পয়সা।
সমপ্রতি ফ্লাইওভারকেন্দ্রিক ছিনতাইকারীদের একটি গ্রুপ সক্রিয়, যারা মূলত মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা মরিয়া। বিশেষ করে রাত ৮ টার পর থেকে নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভার ও মুরাদপুর ফ্লাইওভারে চলন্ত গাড়ির গতিরোধ করে তিন চারজন। চেহারা উস্কো খুস্কো, ছুরি হাতে উদ্যত। বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেই ছুরিকাঘাত করে কেড়ে নেয় টাকা-পয়সা, মোবাইলসহ সবকিছু। কাজ হাসিল করেই ছুটতে থাকে মাদক আস্তানায়। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষিত সন্তানও জড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছিনতাই ঘটনায় মামলা নিতে বরাবরই থানা পুলিশ দারুণ উদাসীন। মামলা না নিয়ে জিডি নিয়ে দায় সারছে পুলিশ।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগীরাই অভিযোগ করতে চান না। থানায় অভিযোগ না নিলে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাহায্য চাইতে পারেন তারা। তা না করে একচেটিয়া পুলিশের উপর দায় চাপানোর অভ্যাসটা পুরনো।
সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, ছিনতাইয়ের ঘটনার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা। এ পরিস্থিতির উত্তরণ এখনই ঘটানো না গেলে ভবিষ্যতে সমাজে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। পুলিশের গড়িমসির বিষয়টি নতুন কিছুই নয়। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা সমাজের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনবে।

বিপিও সামিট উদ্বোধন: তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে মনোযোগের পরামর্শ দিলেন জয়

তরুণদের সরকারি চাকরির দিকে এত না ঝুঁকে আইটি সেক্টরের দিকে   মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণরা যাতে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে সেজন্য তাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সমপ্রতি আমরা সারা দেশে কোটা আন্দোলন দেখলাম। সরকার প্রথমবারের মতো কোটা সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, প্রতি বছর জনপ্রশাসনে আমরা মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লোককে নিয়োগ দিতে পারি, এটা সংখ্যায় একেবারেই নগণ্য। এর চেয়ে বেশি চাকরিপ্রার্থীকে কিন্তু আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই চাকরি দিতে পারি। গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিসেয়শন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)-এর আয়োজনে বিপিও সামিটের তৃতীয় এই আসরে সহযোগিতা দিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর। দুই দিনের আয়োজনে দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী, বিপিও খাতের সঙ্গে জড়িতরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ৪০ জন স্থানীয় বক্তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ২০ জন আন্তর্জাতিক বক্তা। সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে ১০টি সেমিনার। বিপিও খাতে দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল তৈরিও এই সামিটের অন্যতম লক্ষ্য। এবারের আয়োজনে আউটসোর্সিং সেবা ও ফোর-জি, ফাইভ-জি নিয়ে ধারণা প্রদর্শন করা হবে। আয়োজনে অংশীদার হিসেবে রয়েছে বেসিস, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি, আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, স্বাধীন মত প্রকাশ বন্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা (আইসিটি) আইন করা হয়নি। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করতেই এই আইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর আমরা এখন ৩০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আগামী ২০২১ সালে আমরা এক লাখ তরুণকে প্রশিক্ষণ দেয়ার টার্গেট নিয়েছি। প্রশিক্ষণ নেয়ার পর এই তরুণরা জনশক্তিতে পরিণত হবে। বাক্য ও বেসিস এই তরুণদের মধ্য থেকে কর্মী বাছাই করে নিতে পারে। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলব, যেন তরুণরা প্রশিক্ষণের পর নিজেরাই একেকজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন। এখন এটা আমি বলতে পারি, ফ্রিল্যান্সার খাতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের এক নম্বর গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু ইন্টারনেট আর ল্যাপটপ থাকলেই হলো। আমরা দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবাও নিশ্চিত করবো। যে কেউ যেকোনো স্থানে বসে আইটি সেক্টর থেকে উপার্জন করতে পারবেন।
কিছুদিন আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উদ্যোগে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার উদ্বোধন করেন জয়। তাঁর আশা, এ বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সরকার দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা (ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি) পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। দ্রুত গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করায় বিপিও খাত থেকে বাক্য প্রতি বছর ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জয়। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে এক লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে বিপিওতে।
এই খাতে দশ বছর আগে যেখানে আমরা মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতাম, সেখানে এখন আমরা ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করতে শুরু করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই সরকার প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণের কথা ভাবছে বলে জানান তিনি। তরুণদের ইন্টারনেটের অপব্যবহার নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের আসক্তি ক্রমেই বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। বিশাল শক্তির আঁধার এই তরুণরা, সমাজের প্রতি তাদের অনেক দায়িত্বও রয়েছে। তাদের ইন্টারনেট আসক্তি দেখে এখন আমাকে বলতে হয়, ফেইসবুক এখন একটি ফেইকবুক। ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ তথ্য ও মন্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানান জয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসে গোটা ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা যদি এ মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিই, তো সবাই আমাদের তীব্র সমালোচনা করবে। আর এটা ঠিকও হবে না। একটা ওয়েবসাইট বন্ধ করবো, আরো দশটা ওয়েবসাইট দশ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে। একটা ফেইসবুক পেইজ বন্ধ করে দিলে আরো দশটা ফেইসবুক পেইজ তৈরি হয়ে যাবে। ইন্টারনেটে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য যা সমাজে সংঘাত ডেকে আনে, তাকে কোনোভাবেই মুক্তবাক বলা যাবে না। এটা কোনোভাবেই সমর্থন করা যাবে না।
ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ডিজিটাল অ্যাক্টের খসড়া তৈরি করে ফেলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো একটি গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মিথ্যা অপপ্রচারকে আমরা কোনোভাবেই গ্রাহ্য করবো না। গোটা বিশ্বের মতো আমরাও সামপ্রদায়িক সংঘাতপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান করছি। ডিজিটাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে কেউ যেন সংঘাত ছড়াতে না পারে সেজন্য আমরা আরো কড়া অবস্থানে যাচ্ছি। তিনি তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে আরো  বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং’র সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।

খালেদা জিয়া অসুস্থ, চিকিৎসা পাচ্ছেন না: রিজভী

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ না দেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বহুমুখী চক্রান্তের অংশ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গতকাল বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার জন্যই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে পরিকল্পিতভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে। এখন তাকে চিকিৎসার সুুযোগও দেয়া হচ্ছে না। এটা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে আওয়ামী লীগের বহুমুখী চক্রান্তের অংশ। রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তিনি অসুস্থ হলেও এখন পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। সরকারি মেডিকেল বোর্ড মামুলি প্রহসনের এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করে ফিজিওথেরাপির সুপারিশ করেছে। একজন বয়স্ক ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী যিনি দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি তাকে কারাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখায় আরও বেশকিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি চোখের অপারেশনও হয়েছে তার। তিনি বলেন, সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসক বোর্ড বলেছে, তার এক্স-রে রিপোর্টগুলোতে দেখা যাচ্ছে ঘাড়ে ও কোমরের হাড়ে সমস্যা আছে। এমন পরিস্থিতিতে আধুুনিক চিকিৎসার যুগে এমআরআইসহ উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধু এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, দেশনেত্রীকে যেদিন পিজি হাসপাতালে আনা হয়েছিল সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ডাকা হলেও তাদের চিকিৎসাসেবার সুযোগ ও পরামর্শ নেয়া হয়নি। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের দেখা করতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য অতি দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারি হুকুমে কারসাজিমূলকভাবে তার জামিন স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঘৃণ্য চক্রান্ত বাদ দিয়ে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। তার চিকিৎসা কিসে ভালো হয়, সেটি তাকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দিন। খালেদা জিয়ার ইচ্ছানুযায়ী তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন। রিজভী আহমেদ বলেন, পহেলা বৈশাখের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় না আসতে পারে।’ কিন্তু এখন জনগণ মনে করে দেশের সবচেয়ে বড় অশুভ শক্তি হচ্ছে বর্তমান মহাজোট সরকার। ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক শক্তি হচ্ছে সবচাইতে নিকৃষ্ট অশুভ শক্তি। মানুষ দিন গুণছে এই অশুভ শক্তির পতনের। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচারীরা কী শুভ শক্তি? বিএনপির মুখপাত্র বলেন, অনাগত দিনের দুশ্চিন্তা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঘনায়মান হতাশা আর বিরোধীদের গুম, খুন, অদৃশ্য করা, হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা, হাঁটুতে গুলি করে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করা, খুলনার বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে কক্সবাজারে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে দেয়া ইত্যাদি পরিস্থিতিতে প্রাণ খুলে হাসতে ভুলে গেছে দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী। এই পরিস্থিতি কী কোনো শুভশক্তির লক্ষণ? জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, জনগণের সমস্ত মৌলিক ও মানবাধিকার কেড়ে নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে সম্পূর্ণ বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছেন। এটা কী শুভশক্তির পরিচয় বহন করে? এখন রাষ্ট্রক্ষমতাকে আরও দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করার স্বপ্নে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে জেলজুলুম ও বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। রিজভী বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর ‘১৪০০ সাল’ কবিতাটি আওড়িয়েছেন। আমি শুধু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এটুকুই বলতে চাই- বিরোধীদের প্রতি সরকার প্রধানের ক্ষোভ, ঘৃণা এবং ধ্বংস করার মানসিকতার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওই কবিতাটি এখন কীভাবে গৃহীত হচ্ছে সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি। কবিগুরু ‘১৪০০ সাল’ কবিতার এক জায়গায় লিখেছেন- ‘আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন/পাঠায়ে দিলাম তার করে।/আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে/ধ্বনিত হোক ক্ষণতরে।’ এই কবিতায় কবিগুরু শতবর্ষ পরে অনাগত কালের কবিকে নিজের বসন্ত গান অভিবাদন পাঠিয়েছেন, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, অরাজকতার তীব্র তাপদাহে নির্মম অভিঘাতে। রিজভী বলেন, ইংরেজ কবি উইলিয়াম ব্লেক-এর একটি কবিতা শেখ হাসিনার এই দুঃসময়ের জন্য প্রযোজ্য। কবি বলেছেন- ‘অ্যান্ড দেয়ার ফিল্ডস আর ব্লিক অ্যান্ড বেয়ার/অ্যান্ড দেয়ার ওয়েজ আর ফিল্‌ড উইথ থর্নস/ইট ইজ ইটারনাল সামার (উইন্টার) দেয়ার।’ এখন বাংলাদেশে কবিগুরুর বসন্ত দিন হারিয়ে গেছে, ছয় ঋতুচক্রের আবর্তন নেই, আছে শুধু মরুতাপে দগ্ধ অবিরাম দুঃসহ গ্রীষ্ম। রিজভী বলেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে বাধা দেয়া হয়েছে। ১২ই এপ্রিল তিনি পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে গেলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ তার গাড়ির গতিরোধ করে এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। যদিও আশফাক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অসত্য ও বানোয়াট মামলায় উচ্চ আদালত কর্তৃৃক জামিনে রয়েছেন। এই মামলা ছাড়া তার নামে কোনো মামলা না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আবু আশফাককে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় যোগ দিতে না দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য যান। বিষয়টি নিয়ে আবু আশফাক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপার ঢাকাকে অবহিত করলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। আসলে স্থানীয় প্রশাসন পরিকল্পনা করে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্তের ষড়যন্ত্র করছে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

নো-ম্যান্সল্যান্ডের একটি পরিবার ফিরিয়ে নিয়ে মিয়ানমারের প্রচারণা

সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে থাকা একটি রোহিঙ্গা  পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে প্রচার করছে মিয়ানমার। দেশটির তরফে বলা হচ্ছে- তারা বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন। একটি পরিবার এর মধ্যে রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফেরত গেছে। সুচি সরকার প্রচারিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে ৫ সদস্যের ওই পরিবারকে রাখাইনের একটি প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের হাতে ভেরিফিকেশন কার্ডও তুলে দেয়ার ক’টি ছবি প্রচার করা হয়েছে। এক রোহিঙ্গা পরিবারের ফেরার খবরটি এমন এক সময় প্রচার করা হচ্ছে যখন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ওই চাপ হালকা করার জন্য এটি এক ধরনের ‘প্রচার কৌশল’ হতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নো-ম্যান্সল্যান্ডে থাকা ৬ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র একটি পরিবারকে ফেরত নেয়া রীতিমতো হাস্যকর। আর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুরু থেকে যুক্ত বাংলাদেশের ত্রাণ, শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, একটি পরিবারের ফেরত যাওয়াটা প্রত্যাবাসন নয়, এটাকে প্রত্যাবাসন বলার কোনো সুযোগই নেই। তার মতে, নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ফেরত নেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় নেই।
ওদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা সংস্থাগুলোও অং সান সুচি সরকারের এমন ‘কাণ্ড’কে লোক দেখানো বলে কড়া সমালোচনা করছেন। বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তরফে মিয়ানমারের এমন প্রচার না করে সত্যিকার অর্থে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ওই রোহিঙ্গা পরিবারের ফেরত যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা পরিবারটির ফেরত যাওয়া নিয়ে সর্বপ্রথম খবর আসে বার্তা সংস্থা এএফপিতে। এতে বলা হয়, শনিবার মিয়ানমার সরকারের তথ্য কমিটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ওই পরিবারের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শনিবার সকালে রাখাইনের তাউংপাওলেটুই শহরে প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে ফিরে গেছেন একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য’। এছাড়া, নো- ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এক নেতা পরিবারটির ফেরত যাওয়ার বিষয়টি এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন। মিয়ানমার সরকারের ফেসবুক পোস্টে পরিবারটিকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বরাবরের মতো তাদের জাতিগত নাম ‘রোহিঙ্গা’ ব্যবহার করা হয় নি। ওই পোস্টে একটি ছবিও দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, ওই পরিবারটিতে রয়েছেন একজন পুরুষ। দু’জন নারী। একজন তরুণী। একটি বালক। তারা আইডি এবং হেলথ চেকিং কার্ড সংগ্রহ করছেন। মিয়ানমারের ফেসবুক বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিবারটিকে মংডু শহরে তাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ফেরত ইচ্ছুকদের প্রত্যাবর্তন কবে শুরু হবে, কতদিন লাগবে সে বিষয়ে কিছু খোলাসা করা হয় নি। এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে মিয়ানমার সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি এএফপি।
এদিকে, আমাদের নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ড থেকে ফেরত যাওয়া পরিবারের গৃহকর্তার নাম মোহাম্মদ আকতার আলম। তার পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জন ফেরত গেছেন’। তুমব্রু নো-ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, শনিবার গভীর রাতে সবার অজান্তে তারা মিয়ানমারে ফেরত গেছে। আকতার আলমের বাড়ি মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকায় এবং তিনি ওই এলাকার চেয়ারম্যান। শনিবার (১৪ই এপ্রিল) গভীর রাতে মিয়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবুনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তারা ফেরত গেছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড (বিজিপি)। খালেদ হোসেন নামের আরেক রোহিঙ্গা নেতা জানান, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া আকতার আলমের ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। এরমধ্যে এক মেয়েকে রেখে ৫ জনকে নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত গেছেন তারা। তবে এক সন্তানকে রেখে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। তাদের ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গারা জানতো না। তারা বলাবলি করছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করে তিনি মিয়ানমারে ফেরত গেছেন। গত বছরের ২৪শে আগস্ট রাতে আরাকানে সহিংস ঘটনার পর অন্যান্য রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আকতার। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিনি এতদিন বাংলাদেশে ছিলেন।
প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ‘ওই পরিবারের ফেরত যাওয়াটা প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না। তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারগুলো প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না বিধায় মিয়ানমার সরকারকে আগে থেকেই বলা হচ্ছে ওই পরিবারগুলোকে ফেরত নেয়ার জন্য। কিন্তু তারা সবাইকে ফেরত না নিয়ে শুধু একটি পরিবারকে নিয়ে গেছে।’
একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেয়া হাস্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নো-ম্যান্সল্যান্ডে থাকা ৬ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র একটি পরিবারকে ফেরত নেয়া হাস্যকর। যে পরিবারকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে, তারা থাকতো নো-ম্যান্সল্যান্ডে। বাংলাদেশের ক্যাম্পে তারা আসেইনি। রোববার ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে সভার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নো-ম্যান্সল্যান্ডে অন্তত ছয় হাজার পরিবার এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা আশা করি, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরত নেবে মিয়ানমার সরকার। আসাদুজ্জামান খান কামালের কথায়, বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসেছেন। তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হয়েছে। এসব রোহিঙ্গার তথ্য আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে দিয়েছি।
‘লোক দেখানো প্রত্যাবাসন’
জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য হলো- প্রত্যাবাসনের সঠিক সময় এখনো আসে নি। কেননা, দশকের পর দশক ধরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হওয়া পরিকল্পিত আইনি বৈষম্য এবং দমন-পীড়নের চর্চা নিয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মিয়ানমার।
রোহিঙ্গা পরিবারটির ফেরত যাওয়ার খবরে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ)-এর আন্দ্রিয়া জর্জেটা বলেন, প্রত্যাবাসনের এই ঘোষণা ‘লোক দেখানো প্রচারের চেষ্টা। রাখাইনে হওয়া অপরাধগুলোর জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য এটা করা হয়েছে।’ এএফপিকে তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সকল মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকৃতি ও নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
জাতিসংঘ এ ইস্যুতে তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি মনে করে, প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও সম্মানজনক হওয়ার জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, এখনো প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের পরিবেশ সহায়ক নয়।
এএফপি’র রিপোর্টে বলা হয়, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির নিবাসীরা রোহিঙ্গাদের রীতিমত ঘৃণা করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসলেও, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ ‘বাঙালি’ অভিবাসী বলে আখ্যা দেয়া হয়। তারা নিয়মিতভাবে সহিংসতার শিকার হন। পরিকল্পিতভাবে কেড়ে নেয়া হয়েছে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার। বাধ্য করা হয় বর্ণবৈষম্যের মতো পরিবেশে থাকতে। উপরন্তু, এ জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত।

ফারমার্স ব্যাংক জালিয়াতি: চিশতীসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

১৬০ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ফারমার্স ব্যাংকের মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সকাল থেকে তাদের দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মাহবুবুল হক চিশতী ছাড়া বাকি তিনজন হলেন- তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান। গত মঙ্গলবার চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর চিশতীকে পাঁচ দিন, অপর তিনজনকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত মঙ্গলবার সকালে ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। উপ-পরিচালক সামছুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ওই ব্যাংকেরই গুলশান শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন করেন মাহবুবুল হক চিশতী। তার ছেলেমেয়েদের ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখার মোট ২৫টি হিসাবের ১শ’ ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬শ’ ৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তারা ফারমার্স ব্যাংকের এ সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি গত বছর থেকে অনুসন্ধান করে আসছে। সে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মাহবুবুল হক চিশতী, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করে দুদক। ওই তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম ছিল না। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তদন্তে ব্যাংকটির সাবেক দুই শীর্ষ ব্যক্তির অনিয়ম তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহকদের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও বেরিয়ে আসে। ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া ফারমার্স ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা। এক বছর ধরে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন দুদক কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম।

সৌদিতে নিহত বাংলাদেশিদের বাড়িতে শোকের মাতম

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারি আর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠছে বাতাস। শুক্রবার রিয়াদের কাছে ওই অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, রিয়াদে ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বিয়ানীবাজারের জুবের আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার সকালে সৃষ্ট এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচ বাংলাদেশি। সকাল ৭টার দিকে রিয়াদের আল নুরা ইউনিভার্সিটির আবাসিক এলাকায় শ্রমিকদের বসবাসের একটি   ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুবের আহমদ চৌধুরী (২৬) বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের সাদিমাপুর গ্রামের মরহুম আজাদ চৌধুরী মাস্টারের ছেলে। তারা চার ভাই ও দুই বোন। প্রায় বছরখানেক আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। নিহতের চাচাতো ভাই জামিল আহমদ জানান, জমিজমা বিক্রি করে জুবের সৌদি আরবে গেলেও সেখানকার অবস্থা ছিল খুব খারাপ। দেশে তিনি তেমন বেশি টাকা পয়সা পাঠাতে পারেননি। এমনকি তার আকামা পর্যন্ত লাগিয়ে দেয়নি সেখানকার কোম্পানি।
নিহতের ভাই ইকবাল চৌধুরী জানান, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাদের পরিবারের সঙ্গে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি। তবে, যে এজেন্সির মাধ্যমে তাকে সেখানে পাঠানো হয়, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার ভাইয়ের মরদেহ কবে বাংলাদেশে আসবে, তা সঠিকভাবে জানেন না তিনি। তার অভিযোগ, রাজধানী ঢাকার একটি এজেন্সি তার ভাইকে ক্যাবলস কোম্পানির কাজ দেবে বলে সৌদি আরবে পাঠালেও সেখানে জুবেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।
নিহত জুবের চৌধুরীর মা গুলবাহার চৌধুরী বলেন, তার ছেলের লাশ একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কবে তিনি তার ছেলের মরদেহ দেখবেন, তা জানেন না তিনি। তার ওই ছেলেই পরিবারের হাল ধরতে সৌদিতে যায়। জমিজমা এবং ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক গুলবাহার চৌধুরী। ছেলের মরদেহ দেশে আনতে তিনি সরকারের সহযোগিতা চান এবং যেসব ভুয়া এজেন্সি মানুষকে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় তাদের বিচার দাবি করেন গুলবাহার চৌধুরী। 
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার রাকিব হোসেন (২২)-এর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সে উপজেলার জয়মণ্ডপ ইউনিয়নের চর-দুর্গাপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন পালের ছেলে। পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রিয়াদ বিমানবন্দর সংলগ্ন  ইউসিভার্সিটি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে ওই রুমে থাকা বাংলাদেশিরা হতাহত হয়। জয়মণ্ডপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাকিব অবিবাহিত ছিল। মা-বাবা ও সংসারের সুখের জন্য বেশ কয়েক বছর হয় চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যায়। কিন্তু সুখের নাগাল পাওয়ার আগেই পরিবারের সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল রাকিব। মা-বাবাকে দেখভাল ও সংসারের হাল ধরার মতো কেউ নেই। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রাকিবের স্বজনরা। রাকিবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
সৌদি আরবের রিয়াদে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব এলাকার আব্দুল মজিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সন্তানকে হারিয়ে মা জৈবুন্নেছা কাঁদতে কাঁদতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন। বাবা আওলাদ হোসেন ছেলেকে হারিয়ে শুধু নির্বাক হয়ে সবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। স্ত্রী ময়না বেগম স্বামীকে হারিয়ে কেঁেদ কেঁদে চোখের জল শুকিয়ে ফেলেছেন। ছয় বছরের একমাত্র মেয়ে আমেনাকে নিয়ে এখন কিভাবে তার সংসার চলবে এবং ধার ও সুদের উপর টাকা নিয়ে স্বামী আব্দুল মজিদ পরিবারের সুখের জন্য বিদেশ গিয়েছিল। সে টাকা কিভাবে শোধ করবে সেই চিন্তায় স্তব্ধ ময়না।
কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব লালটেক গ্রামের আওলাদ হোসেনের মেজ ছেলে আব্দুল মজিদ খান সাত বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়া এলাকার গোলজার ভূইয়ার মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করেন। বর্তমানে আমেনা আক্তার নামে ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। সে স্থানীয় বিরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিজের ভিটে-মাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। একটি ছোট টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে বসবাস করতো আব্দুল মজিদ। হঠাত মাথায় চিন্তা ঢুকে পরিবার ও নিজেকে সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সৌদি আরব কাজের জন্য পাড়ি জমাবেন। আত্মীয় স্বজন, এনজিও ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদের উপর চার লাখ টাকা নিয়ে চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি পার্শ্ববর্তী পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা কেন্দুয়াবো এলাকার নাজিমউদ্দিনের মাধ্যমে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান সুদূর সৌদি আরবের রিয়াদ। সেখানে প্রায় তিন মাস কোনো কাজ পাননি মজিদ। নিজ বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে পেটে খাবার জুটতো তার। ১২ দিন আগে সেখানকার একটি ইউনিভার্সিটিতে ক্লিনারের কাজ পায় সে। রিয়াদের আল নুরা ইউনিভার্সিটি আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের রুমে ৭/৮ জনের সঙ্গে থাকতো সে। প্রতিদিনের মতো রাতে কাজ শেষ করে শুক্রবার সকালে রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাত একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল মজিদ খানসহ  রুমের সবাই। দুপুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একই ভবনে থাকা রাশেদ খান নামে এক যুবক আব্দুল মজিদের বড় ভাই বাছেদ আলীকে আব্দুল মজিদের মৃত্যুর খবর জানায়। এরপর থেকে নিহতের পরিবারের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নিহত আব্দুল মজিদের লাশ রিয়াদের সিমুচি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এখন শুধু দেশে লাশ আনার জন্য অপেক্ষা পরিজনদের।
এ ব্যাপারে নিহত মজিদের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, আমার স্বামীর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়া টাকা উপার্জন করে একমাত্র আদরের মেয়ে আমেনাকে অনেক বড় শিক্ষিত করবো। বাড়িঘর একটু ভালো করবো। সংসারে সব কষ্ট দূর হইবো। এখন সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। একদিকে স্বামীকে হারিয়ে ও অন্যদিকে স্বামীর ধার করা টাকা কিভাবে শোধ করবে সেই চিন্তায় হতাশার ছায়া তার চোখে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত আব্দুল মজিদের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। লাশ দেশে আনাসহ যেকোনো ব্যাপারে তার পরিবারের লোকজন কোনো প্রকার সহায়তার প্রয়োজন মনে করলে অবশ্যই সহায়তা করবো।

মাছের বাজারে আগুন সবজির দামও বাড়তি

রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। এ কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের দামে যেন আগুন লেগেছে। ১লা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ। এরমধ্যে শুধু ইলিশেই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০০-৫০০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া অন্য সব ধরনের মাছের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে কাঁচাবাজারে বেড়েছে বেশ কিছু সবজির দাম। শিমের কেজি ৮০ টাকার ওপরে। এর পাশাপাশি মাংসের দামেও উত্তাপ বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মাছের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ হিসেবে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, পহেলা বৈশাখের জন্য মাছের দাম একটু বেশি হয়, যা স্বাভাবিক। কিন্তু ধারণার বাইরে মাছের দাম বেশি বেড়েছে। এর কারণ হলো আড়তে মাছ খুব কম এসেছে। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকা শহরে শুক্রবার সব থেকে বেশি মাছ বিক্রি হয়। ছুটির দিন থাকায় বেশির ভাগ মানুষ মাছ কেনেন। যে কারণে আমরাও মাছ বেশি আনি। কিন্তু মাছ সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে দাম কমে যাবে। এদিকে সময় শেষ হওয়ায় ইলিশের বাজার ফাঁকা হতে দেখা গেছে। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়েছে। বাজারে সাগর থেকে ধরে আনা মাঝারি ধরনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে নদীর ইলিশের চাহিদা একটু বেশি হওয়ায় প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে। বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৬০০ টাকায়। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৬০০-৮০০ টাকায়। আর ২৫০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ৪টি  ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে ছোট ইলিশ ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি বিক্রি হচ্ছে। কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঝুড়িতে করে বিভিন্ন আকৃতির ইলিশ সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতা আতিক বলেন, এখন সাড়ে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা করে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। গত সপ্তাহে ১৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে। সেই মাছের কেজিপ্রতি দাম ধরা হয়েছিল তিন হাজার টাকা। আরেক ইলিশ বিক্রেতা বলেন, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা হালি বিক্রি করছি। আর ২০০-২৫০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ভরা মৌসুমে ইলিশের আধিক্য ছিল অন্যতম আলোচিত ঘটনা। চার দশকে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। মৎস্য অধিদপ্তর মতে, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৮ হাজার টন ইলিশ মাছ উৎপাদিত হয়েছে। আর এবার ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টন।  এদিকে অন্য মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, গত সপ্তাহে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রুই মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০০-৪২০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাবদা মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা। দাম বাড়ার এ তালিকায় শিং মাছ, কাচকি মাছ, নলা মাছ, চিংড়ি, তেলাপিয়া মাছও রয়েছে। গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাচকি মাছের দাম বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। ৪০০ টাকার চিংড়ির দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা। ১৪০ টাকার তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। হাতিরপুল বাজারে মাছ কিনতে আসা আনিস বলেন, গত সপ্তাহে যে রুই মাছ ২৫০ টাকা কেজিতে কিনেছি, এখন তা ৫০০ টাকা কেজি চাচ্ছে। শুধু রুই মাছ না সব মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। শিং মাছ চাচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। এই দামে কি মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব? এদিকে বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। তবে পিয়াজ-রসুন আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচাবাজারে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, পেঁপে, করলা, ঢেঁড়স, পটলসহ সব ধরনের সবজির সরবরাহ ভালো হলেও ১লা বৈশাখের কারণে ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে। বাজারে নতুন আসা সজনের ডাটার কেজি ৬০-৮০ টাকা। গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে আসা এ সবজিটি অন্য সব সবজির চেয়ে দাম বেশি। এছাড়া শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি ও ঢেঁড়স। আর গত সপ্তাহে কিছুটা দাম কমলেও টমেটোর দাম কিছুটা বেড়ে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাজর ২০-২৫ টাকা, শসা ২০-২৫ টাকা, ছোট আকারের মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। নতুন দেশি পিয়াজ আগের সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। এদিকে মাংসের দামও বেড়েছে। এক কেজি গরু মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০, খাসি ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৭০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতিকেজি গরুর মাংস ৪৫০-৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৩০-১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।