Friday, August 19, 2016

সিরিয়ার কারাগারে বিপন্ন মানবতা

লিবিয়ায় সংঘাতে প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে বহু স্থাপনা।
বৃহস্পতিবার সিরতে শহরে বোমা হামলার পর ধোঁয়া
উড়তে দেখা যাচ্ছে -এএফপি
২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি কারাগারে বন্দি অবস্থায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। ‘ইট ব্রেকস দ্য হিউম্যান : টর্চার, ডিজিস অ্যান্ড ডেথ ইন সিরিয়াস প্রিজন’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বন্দিদের পেটানো ও ধর্ষণের মতো নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে অ্যামনেস্টি দাবি করেছে। কারাগারে বন্দিদের ওপর এসব নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়া ৬৫ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য দিয়েছে অ্যামনেস্টি। ওই ৬৫ নির্যাতিত ব্যক্তি বন্দিশালায় মারধর ও যৌন নিপীড়নের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। হাতুড়ি ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে তাদের ওপর বেধড়ক পেটানো হতো বলেও এ বর্ণনায় উঠে এসেছে। সিরিয়ার কারাগারগুলোতে সাবেক এসব বন্দি ‘ওয়েলকাম পার্টি’ নামে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ার কারাগারে ১৭ হাজার ৭২৩ জনের বেশি লোক মারা গেছে। এই হিসাব অনুযায়ী কারাগারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১০ বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যা প্রতি মাসের হিসাবে দাঁড়ায় ৩০০ জন বা তারও বেশি।
কারাবন্দিদের ওপর এসব নির্যাতন বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। বিশেষ করে সিরিয়া সমস্যা নিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি এই আবেদন জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। তবে সিরিয়ার সরকার বরাবর এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কারাগারগুলোতে ‘নিরাপত্তা তল্লাশির’ নামে পুরুষ গার্ডরা নারীবন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করে। জোর করতে চাইলে ধাতব বস্তু ও বৈদ্যুতিক তার দিয়েও নারীদের পেটাত কারারক্ষীরা। বন্দিশালা থেকে মুক্তি পাওয়া সামির নামের সাবেক এক কারাবন্দি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হতো। তারা চাইত, আমাদের সঙ্গে যতটা সম্ভব অমানবিক আচরণ করতে। আমি রক্ত দেখেছি, নদীর মতো। আমি কখনোই ভাবতে পারিনি মনুষ্যত্ব এতটা নিচে নামতে পারে। যখন তখন কারাবন্দিদের হত্যা করতে তাদের (কারারক্ষী) কোনো সমস্যাই ছিল না। জিয়াদ নামের আরেকজন বলেন, তারা (কারারক্ষী) হত্যার পর মৃত ব্যক্তিদের লাথি মেরে দেখত, তাদের দেহে প্রাণ আছি কিনা। অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিচালক ফিলিপ লুথার বলেন, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নির্যাতন করে আসছে। বহু বছর ধরেই এটা হয়ে আসছে। এটি এখন সরকারবিরোধী যে কোনো শক্তির ওপরই প্রয়োগ করা হয়। এটা বেসামরিক জনগণের ওপর পদ্ধতিগত ও ব্যাপকভিত্তিক আক্রমণে পরিণত হয়েছে। এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

সৌদি বাদশাহকে উৎখাতের আহ্বান লাদেনপুত্রের

সৌদি আরবের বাদশাহকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে সৌদি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা নিহত ওসামা বিন লাদেনের ছেলে। মার্কিন প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য এ আহ্বান জানান লাদেনপুত্র হামজা বিন লাদেন। জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্র“প সাইট ইনটেলিজেন্সের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে। সাইট জানায়, ইয়েমেনভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলাতে (একিউএপি) সৌদি তরুণদের যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হামজা। তারিখবিহীন এক অডিওবার্তায় যুদ্ধের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা লাভের জন্য একিউএপিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এক সূত্র থেকে জানা গেছে, আল কায়দার ইয়েমেন ও সৌদি শাখা হিসেবে প্রাণঘাতী এ জঙ্গি শাখা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে গঠন করা হয়। সৌদি বংশোদ্ভূত ওসামা বিন লাদেনের পৈতৃক বাড়ি ইয়েমেনে। এক দশক ধরে পলাতক থাকার পর ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-বাহিনীর এলিট টিমের বিশেষ অভিযানে পাকিস্তানে নিহত হন ওসামা। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ৯/১১ টুইন টাওয়ারে হামলার মূল হোতা ওসামা বিন লাদেনের অত্যন্ত প্রিয় ছিল ২৩ বছর বয়সী হামজা, যিনি লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়দার নেতৃত্ব নিতে সংগঠন থেকে উৎসাহ পেয়েছেন। লাদেনের মৃত্যুর পর মিসরের আল কায়দা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির তুলনায় জঙ্গিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রাধান্য বিস্তার করেছে হামজা। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সুন্নিপন্থী বিদ্রোহী ও জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।

প্রাক-প্রাথমিক থেকেই সুশিক্ষা প্রয়োজন

‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড’- এ আপ্তবাক্যের সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এ কথার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর পর্ব থাকে। অর্থাৎ কোনো কিছু আরম্ভেরও একটি সূচনাপর্ব থাকে। জাতির মেরুদণ্ড গঠনে শিক্ষাকে যদি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হয় তবে তারও আগে প্রয়োজন সেই শিক্ষা অর্জনের পাটাতন নির্মাণ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষার নানা স্তরভেদ রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সঙ্গে এ স্তরগুলো অতিক্রম করার জন্য প্রাথমিক স্তরের আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ প্রয়োজন। এ প্রস্তুতি গ্রহণে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ শিশুর সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের ভিত্তিস্থাপন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে ৫+ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বছরমেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করেছে। শিক্ষানীতিতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করে শিশুর প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি গ্রহণের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে- এ শিক্ষাক্রম শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের প্রতি শিশুর আগ্রহ সৃষ্টি করবে, সুকুমার বৃত্তির অনুশীলনে শিশুকে অভ্যস্ত করবে। এ শিক্ষাক্রমের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে অন্যদের প্রতি সহনশীলতা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য শৃংখলাবোধ সম্পর্কে শিশুদের ধারণা প্রদান।
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল। নিছক পাঠদান নয়, শিশুমনকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম এমন নানা উপকরণ রয়েছে এক্ষেত্রে। হাতের কাজ, ছড়া, গল্প, গান ও চিত্রাংকনের মাধ্যমে শিশুর সুকুমার বৃত্তিকে জাগ্রত করার পদ্ধতি রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। রবীন্দ্রনাথ আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষালাভের কথা বলেছিলেন। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় রবীন্দ্রনাথের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। শৈশবই মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশের উপযুক্ত সময়। দেশপ্রেম, শ্রদ্ধাবোধ, আত্মনির্ভরশীলতা, সততা, শিষ্টাচার, দায়িত্বশীলতা ও শৃংখলাবোধ সম্পর্কে এ সময়েই যদি শিশুদের উদ্বুদ্ধ করা যায় তবে তারা নিঃসন্দেহে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সম্পদে পরিণত হবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভিত্তি শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনাদর্শ নির্মাণে সহায়তা করবে এবং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির প্রতি তাকে দায়িত্বশীল করে তুলবে। কিন্তু শুধু বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব নয়।
পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম শিক্ষক। শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে পরিবারের সক্রিয় সমর্থন অপরিহার্য। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের সাফল্যের জন্য পরিবারের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। মনে রাখতে হবে, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীতে শিশু বিদ্যালয়ে মাত্র ২.৫ ঘণ্টা ব্যয় করে। অবশিষ্ট সময়টুকু সে পরিবারের সঙ্গে থাকে। তাই শিশুর শিখন-শেখানো প্রক্রিয়ায় পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হচ্ছে বিদ্যালয়। সমাজ যদি কলুষিত হয় তবে এর নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যালয়ে তথা শিক্ষার্থীদের নিঃসন্দেহে পিছিয়ে দেয়। বিদ্যালয়ের বিকাশে সহায়তা করা সমাজের অবশ্য কর্তব্য। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিরা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। খেলনা, শিক্ষা-উপকরণ প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্জনে পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে পারে।
২. সম্প্রতি বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে কিছু তরুণের সম্পৃক্ততা সমাজকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এটি শুধু আইনশৃংখলাজনিত সমস্যা নয়, এ সমস্যার শেকড় আরও গভীরে। সমাজতত্ত্ববিদ ও মনোবিশ্লেষকরা মনে করেন, পরিবারে ও বিদ্যালয়ে সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই তরুণরা সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছে। অথচ এ সমস্যার উপযুক্ত সমাধান রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায়। মানবজীবনের প্রতিটি ইতিবাচক গুণ আয়ত্ত করার এবং নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বর্জন করার নির্দেশনা রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীতে। শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজ যদি এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করে তবে আগামী দিনে আমরা লাখ লাখ আলোকিত মানুষ পাব, যারা তাদের দেশপ্রেম ও নৈতিকতার বলে আমাদের একটি উন্নত রাষ্ট্র উপহার দিতে সক্ষম হবে। তাদের সক্রিয় ভূমিকাই জাতির মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করবে। এজন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে অবিলম্বে এবং সর্বাগ্রে।
রাজীব সরকার : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ; জনপ্রশাসন পদক ২০১৬ প্রাপ্ত

স্বর্ণস্বপ্ন আরও সবুজ নেইমারদের

দুর্দান্ত খেলে ব্রাজিলকে রিও অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনালে তুলে দিলেন নেইমার। স্বভাবতই তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত দেশটির কোচ রজেরিও মিকালে। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে হন্ডুরাসকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিক ব্রাজিল। দলকে জেতাতে জোড়া গোল করেন নেইমার ও গাব্রিয়েল জেসুস। একবার করে লক্ষ্যভেদ করেন মারকুইনহোস ও লুয়ান। ম্যাচের মাত্র ১৫ সেকেন্ডেই গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন নেইমার। অলিম্পিক ফুটবলের ইতিহাসে এটি দ্রুততম গোলের রেকর্ড। নেইমারকে কিভাবে বর্ণনা করবেন? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রাজিল অলিম্পিক দলের কোচ মিকালে বলেন, ‘একটা দানব! ... সে মুগ্ধ করে। তার প্রতিভা আছে। তার মতো আরও খেলোয়াড় খুঁজে পেতে চাই। জানতে চাই সে কিভাবে উন্নতি করেছে।’
অলিম্পিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো স্বর্ণজয়ের স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপে ব্রাজিলের বাধা জার্মানি। অপর সেমিফাইনালে নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারায় তারা। ফাইনাল নিয়ে মিকালে বলেন, ‘লড়াইয়ে ঘাটতি থাকবে না আমাদের। শুরু থেকেই ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করার দিকে নজর দেব আমরা। আমাদের ফুটবল মানসম্পন্ন। আমরা কঠোর পরিশ্রমও করি। একটি দল হিসেবে খেলছি। আমাদের আশা করার পেছনে এটাও একটা কারণ। স্বর্ণ জিততে আমরা নিজেদের সেরাটা দেব।’ গত পরশু ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি নেইমারদের। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে কানায় কানায় পূর্ণ মারাকানায় ভক্তদের উল্লাসে মাতিয়ে শুরুতেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন নেইমার। হন্ডুরাসের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যান বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক এগিয়ে এসে বাধা দিলেও নেইমারের পায়ে লেগে বল জালে চলে যায়। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৫ সেকেন্ড! ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন জেসুস।
তার এই গোলে দারুণ অবদান ছিল ম্যাচজুড়ে চমৎকার খেলা নেইমারের। ২-০তে পিছিয়ে পড়া হন্ডুরাসের আক্রমণে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। প্রতিআক্রমণ থেকে একের পর এক গোল তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ৩৫ মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান বাড়ান জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুয়ানের একটি প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ব্যর্থ করে দেন হন্ডুরাসের গোলরক্ষক। তবে স্বাগতিকদের বেশিক্ষণ ঠেকাতে পারেননি তিনি। কর্নার থেকে বল পেয়ে ৫১ মিনিটে দলের চতুর্থ গোল করেন মারকুইনহোস। কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করা লুয়ান ৭৯ মিনিটে স্কোরশিটে নিজের নাম তোলেন। ইনজুরি টাইমে তাকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তা থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নেইমার। ওয়েবসাইট।

ছবির প্রচার-প্রচারণায়ও থাকব না

*সম্প্রতি আপনার অভিনীত ছবি মাস্তানির পোস্টার নকলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
**প্রথমে বিষয়টি পুরোপুরিভাবে না জানলেও পরে দেখেছি। এটি অবশ্যই অপেশাদারিত্বমূলক আচরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সমালোচনা করার মতোই; কিন্তু আমি ছবির নায়িকা। অভিনয় করা আমার কাজ। তাই নকল হয়ে থাকলেও এর দায়ভার আমার নয়। একজনের অনুরোধেই এ ছবিতে অভিনয় করেছি।
*আপনি দায়ভার নিতে না চাইলেও গণমাধ্যমগুলোতে আপনাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার হচ্ছে...
**গত কয়েকদিন ধরেই দেখছি আমাকে শিরোনাম করে খবর প্রচার করা হচ্ছে। যেন নকল আমি করেছি! এটা খুবই দুঃখজনক। কারণ একজন অভিনেত্রীর ছবি প্রচারের জন্য বাধ্যবাধকতা থাকে না। কিন্তু সব জেনেশুনেও যখন যুক্তিহীনভাবে খবর প্রচার করে আমার ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে, তখন সেটি আমার কাছে অযৌক্তিক।
*তাহলে ছবির একজন কুশলী হিসেবে পরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না কেন?
**কথা বলিনি তা কিন্তু নয়। কিন্তু তার উত্তরে আমি কোনো সঠিক জবাব পাইনি। একবার বলেছেন- ব্যাপারটা চেপে যেতে, আরেকবার বলেছেন- এটা তার দোষ না, কাকরাইলের ডিস্ট্রিবিউটররা করেছেন। আরেকবার বলছেন, ভালো ছবি পাওয়া যায়নি তাই। অগোছালো সব উত্তর দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে আমি কী বলতে পারি?
*তারপরও এ ছবি নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?
**কিছুদিন আগে ছবির ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে; কিন্তু সেটি দেখে আমার নিজের কাছেই ভালো লাগেনি। তাহলে দর্শকদের কাছে ছবিটি ভালো লাগবে এমনটা আশা করতে পারি না। সেজন্য ছবির প্রচার-প্রচারণায়ও থাকব না বলে ঠিক করেছি। সবকিছু মিলিয়ে তেমন কিছু আশা করছি না।
*সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কী নিয়ে?
**ঈদ উপলক্ষে নতুন কয়েকটি নাটকে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের কথা হচ্ছে। আপাতত নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছি। য় সাদিয়া ন্যান্সি

‘সিরিয়ার লাখো শিশুর প্রতিনিধি ওমরান’

ছোট্ট শরীরের পুরোটা ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন। ধূলি-ধূসর মাথাভর্তি চুলের মধ্য থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত। সেই রক্ত মুখের ওপর এসে ধুলার সঙ্গে মিশে পেস্ট হয়ে গেছে। রক্তের ছোপ ছোপ দাগ শরীরের অন্যান্য অংশেও। বাঁ হাতটা তুলে প্রথমে তালুর পেছন দিকটা, পরে সামনের দিকটা মুখের ওপর বুলিয়ে আনল। এরপর হাতটা চোখের সামনে ধরতেই যেন একটু চমকে উঠল। তারপর চেয়ারে ঘষে হাতের রক্ত মুছে ফেলল। এত কিছুর পরও কেমন যেন শান্ত পাঁচ বছরের শিশু ওমরান দাকনিশ। কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি নেই। তবে পরিস্থিতির আকস্মিকতায় সে কিছুটা বিমূঢ়।এর একটু আগেই তাকে উদ্ধার করা হয় সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে। এরপর তাকে এনে বসানো হয় কমলা রঙের অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি চেয়ারে। আলেপ্পোর কাতেরচি এলাকায় গত বুধবার বিমান হামলা চালায় সরকারি বাহিনী। ওই দিন সেখানে বিমান হামলায় একটি বাড়ি ধসে পড়ে।
তার ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা লোকজনের মধ্যে ছিল কয়েকটি শিশু। ওমরানকে উদ্ধারের দৃশ্যটি ধারণ করেন স্থানীয় সাংবাদিক মুস্তফা আল-সারৌত। সরকার ও বিদ্রোহী—দুই পক্ষের লড়াইয়ে সিরিয়ার অধিবাসীরা যে অবর্ণনীয় কষ্টের মাঝে দিন যাপন করছে, তারই যেন প্রতীক হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই ভিডিও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা ভাইরাল হয়ে উঠেছে। মুস্তফা আল-সারৌত বলেন, ‘আমি বহু শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করতে দেখেছি। কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুটিকে দেখার পর মনে হলো, যেন সে জানেই না একটু আগে তার সঙ্গে কী ঘটে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই শিশুদের ওপর প্রতিদিনই বোমা পড়ে। আজকের এই ঘটনা কোনো ব্যতিক্রম কিছু নয়। সিরিয়ার লাখো শিশুর প্রতিনিধি এই শিশু।’ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের উপকূলের সৈকতে পড়ে ছিল সিরীয় শরণার্থী শিশু আয়লান কুর্দির লাশ। যুদ্ধের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া আয়লানের মৃতদেহের সেই ছবি বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলে। আয়লানের পর ওমরান দাকনিশের এই ছবিকে অন্যতম মর্মস্পর্শী হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনী দল পুনর্গঠন করেও নিন্দিত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৮২ দিন আগে নির্বাচনী দলে পরিবর্তন এনে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চাপে থাকা রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। দলের নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে যাঁরা আশা করেছিলেন ট্রাম্প একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ও ভুল পদক্ষেপের পর তাঁর ‘প্রায় ডুবন্ত তরিকে’ স্থির করতে উদ্যোগ নেবেন, গত মঙ্গলবারের এ উদ্যোগে তাঁরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির চলতি নেতৃত্বের বিরোধিতাকারী ও কাল্পনিক ঘটনার ভিত্তিতে খবর পরিবেশনের জন্য সুপরিচিত ব্রেইটবার্ট নিউজ নামের ওয়েবভিত্তিক তথ্য সংস্থার চেয়ারম্যান স্টেফান ব্যাননকে তাঁর প্রচারণা দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমান প্রচারণা দলের চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্টের পদবি অক্ষুণ্ন রাখলেও তাঁকে ব্যাননের অধীনে কাজ করতে হবে।
ব্রেইটবার্ট নিউজ আমেরিকার সবচেয়ে ডানপন্থী তথ্য সংস্থার একটি। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও সরাসরি মিথ্যা গালগল্প প্রচারের জন্য এই প্রতিষ্ঠান দেশের শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, এই ঘোষণার সময় থেকেই এই সংস্থা ট্রাম্পের সবচেয়ে জোর সমর্থক হিসেবে একদল পাঠকের মধ্যে আদৃত হয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ট্রাম্প নির্বাচনী দলের দায়িত্ব দেওয়ায় মূলধারার রক্ষণশীলদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ ড্যান সেনর নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ট্রাম্প যদি তাঁর নিজের সমর্থকদের খ্যাপাতে চান এবং নতুন সমর্থকদের নিজের পক্ষে টানতে না চান,
তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কোনো পদক্ষেপ হতে পারে না। আরেক রিপাবলিকান কৌশলবিদ টেরি স্যালিভান মন্তব্য করেছেন, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প এবং সাংবাদিক হিসেবে ব্যানন উভয়েই ভীষণ বিব্রতকর। তাঁরা মানুষের ভীতি নিয়ে নোংরা খেলায় আনন্দ পান। এই দুজন একে অপরের জন্য সেরা জুটি।  বর্তমানে ট্রাম্পের জনসমর্থনে যে ধস নেমেছে, তা ঠেকাতে পল ম্যানাফোর্ট ও অন্য উপদেষ্টারা তাঁকে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির বদলে অধিকতর শৃঙ্খলাপূর্ণ হতে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। একমাত্র ব্রেইটবার্ট নিউজ ট্রাম্পের ‘অরাজনীতিসুলভ’ আচরণে কোনো পরিবর্তন না আনার বুদ্ধি দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার এক বেতার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পও সে কথা সমর্থন করে বলেন, নিজের স্টাইল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।