ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ফের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলে ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে—এমন পরিসংখ্যান ও তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মাধ্যমে তেহরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব না হওয়ায় সামরিক হামলার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার চেষ্টা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।

সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই।’ ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কৌশলকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটির ওপর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করেছে ইরান। ট্রাম্প এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল মূলত সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসাতে না পারলে ওয়াশিংটনের সামনে আবার সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নটি ফিরে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের