Saturday, March 8, 2014

নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- পাহাড় থেকে কী বার্তা পেল আওয়ামী লীগ? by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই উপজেলা নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগ প্রত্যাশিত ফল পেল না, এর কারণ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা রকম আলোচনা চলছে। যতই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এই নির্বাচনকে দলীয় সমর্থনের মাপকাঠি নয় বলে উল্লেখ করুন, দলের অভ্যন্তরে যে এ নিয়ে অস্বস্তি আছে, এটা বোঝার জন্য অন্তত বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

সাথি পুরুষও পারেন ভ্রান্ত প্রথা বদলাতে by শীপা হাফিজা

আজ ৮ মার্চ—আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই জাগ্রত সমাজ সমান অধিকার, উন্নয়ন ও শান্তির দাবিতে এ দিনটি পালন করে। এ বছর আন্তর্জাতিকভাবে Inspiring change প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্বায়নের কাল- এক দেশে দুই নীতি যখন আবশ্যক by কামাল আহমেদ

গত অক্টোবরের কথা। ব্রিটেনে ভারতীয় ব্যঞ্জন বা কারি রান্নায় সেরা রেস্তোরাঁগুলোর পুরস্কার বিতরণে রন্ধনশিল্পের সাময়িকী কারি লাইফ-এর এক জমজমাট অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ব্রিটেনের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এরিক পিকলস।

ইউক্রেন সমস্যা- নতুন শীতলযুদ্ধের আলামত? by এম সাখাওয়াত হোসেন

পশ্চিমা বিশ্ব এখন ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে উত্তাল। যুক্তরাষ্ট্র এবং একসময়ের শক্তিধর প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নের ধ্বজাধারী রাশিয়া পূর্ব ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইউক্রেনে মুখোমুখি।

ইউক্রেন কি চলেই যাবে রাশিয়ার দখলে? by রোকেয়া রহমান

কদিন আগেও ক্রিমিয়া নামটি সবার কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। ইউক্রেনের প্রত্যন্ত এ অঞ্চলটি ইতিহাসবিদদের কাছে কিছুটা পরিচিত ১৮ শতকের পঞ্চাশের দশকের একটি যুদ্ধের কারণে। কিন্তু হঠাৎ করেই এবং অপ্রত্যাশিতভাবে ক্রিমিয়া রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মস্কো নাটকীয়ভাবে অঞ্চলটি দখল করে নেওয়ার পর সবার নজর এখন ক্রিমিয়ার দিকে। উপদ্বীপটি কার্যত এখন রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে, অথচ এলাকাটির ওপর সার্বভৌম অধিকার ইউক্রেনের। ক্রিমিয়ায় রয়েছে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সাব ইউনিট ব্ল্যাক সি ফ্লিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং রুশ ভাষাভাষীর বিপুলসংখ্যক মানুষ। ২০১০ সালে এক চুক্তির আওতায় ওই নৌঘাঁটির ইজারার মেয়াদ ২০৪২ সাল পর্যন্ত বাড়ায় ইউক্রেন।

ভাঙতে হবে নীরবতা by সালমা খান

১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘নারী-পুরুষ সমতা, অগ্রগতির মূলকথা’। প্রতিপাদ্যে নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা বলা হলে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা দেখি, বিশ্বে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদিও অনেক দেশে নারীর পক্ষে সংবেদনশীল ও ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ যেন নারীর মানবাধিকার হরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
সালমা খান, জাতিসংঘ সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারপারসন
বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নারীর প্রতি পুুরুষের নির্যাতন বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামী দ্বারা কোনো না কোনো সময়ে কোনো না কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের স্বামী শারীরিক নির্যাতন করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক নির্যাতন এবং ৫৩ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
জরিপের এই ফলাফল দেখে বোঝা যায়, নারী নির্যাতনের হার দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও এনজিওর তথ্য অনুযায়ী দেশে নারী নির্যাতন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বেড়ে চলেছে।
এই জরিপের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, ৮০ শতাংশের বেশি নারী নিজের ঘরে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যা নারীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে বিবেচিত। স্বামী ছাড়াও তাঁরা মা, বাবা, ভাই, সৎভাই, দেবরসহ কাছের স্বজনদের হাতেও নির্যাতিত হয়েছেন, যা খুবই ভয়াবহ একটি তথ্য। কারণ, বাইরের চেয়ে ঘর হচ্ছে নিরাপদ স্থান। অথচ আমাদের দেশের নারীরা সেই ঘরেই নিরাপদ নন। যখন নারী নিজের গৃহে নির্যাতিত হন, তখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হয় তা হলো, দোষী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। আবার স্বামীর ঘরে থেকে আইনের দ্বারস্থ হওয়াও সম্ভব নয়। অর্থাৎ, প্রতিকারের সব কটি দরজা তাঁর কাছে বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্রটি আমাদের ভাবিত করে তুলেছে। যেসব বিবাহিত নারীর ওপর জরিপ চালানো হয়েছে, তাঁদের বয়স ১৫ থেকে ৩৪ বছর। অর্থাৎ, তাঁদের স্বামীরাও বয়সে তরুণ। দেখা যাচ্ছে, দেশের তরুণগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ নারী নির্যাতন করছে। এই তরুণগোষ্ঠী শিক্ষা, পেশা, প্রযুক্তি ও বাহ্যিক আচরণে আধুনিক হলেও মনে মনে মধ্যযুগীয় বিশ্বাস ও প্রথাকে ধারণ করছে। এর চেয়ে হতাশাজনক তথ্য আর কিছুই হতে পারে না। যে বয়সে তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকার কথা, সেই বয়সে তারা নারী নির্যাতন করছে।
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, নারী নির্যাতনের বিষয়টি কখনো সুশীল সমাজের নৈতিক বিতর্কে স্থান পায়নি এবং সেই কারণে এটি এখনো জাতীয় সমস্যায় পরিণত হতে পারেনি। আর এ কারণেই মূলত নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়টি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যাচ্ছে এবং সেটাই সবচেয়ে ভয়ের কথা। চোখের সামনে নির্যাতন দেখলেও সবাই মেনে নিচ্ছে। দুর্বল আইনের শাসনও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। এতে শুধু নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না, দেশের উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণও বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ব্যাহত হয়। এখন আমাদের সুশীল সমাজকে এ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
এ ধরনের সংস্কৃতি যত দিন পরিবর্তন না হবে, তত দিন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সামাজিক রূপান্তর যদি আমরা না ঘটাতে পারি, তাহলে নির্যাতিতের প্রতিকার পাওয়ার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সমাজে নারীর পশ্চাৎপদতার কারণগুলো মোকাবিলা করতে হলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যাবোধে ব্যাপক রূপান্তর ঘটাতে হবে; আনতে হবে পরিবর্তন। পরিবর্তনে উৎসাহিত করতে হবে গোটা সমাজব্যবস্থাকে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার মধ্যে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গোষ্ঠী ও শ্রেণীবৈষম্য নিরসনের যে কথা বলা হয়েছে, এগুলোকে যদি সমাজে নতুনভাবে প্রোথিত করতে না পারি, তাহলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।
আমাদের জাতীয় চেতনার মূল কথা ছিল সব ধরনের বৈষম্য নিরসন। দুর্ভাগ্যবশত স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা যে সমৃদ্ধ স্বকীয় সংস্কৃতি সৃষ্টি করার প্রয়াস পেয়েছি, সেখানে লিঙ্গবৈষম্য ইস্যু হিসেবে উদ্ভূত হয়নি। নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে সমাজের মূলধারা তেমন একটা বিচলিত নয়। তরুণ সমাজ নারীর প্রতি সহিংসতাকে ‘না’ বলেনি। পুরুষতান্ত্রিকতাকে আমাদের সমাজ কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করেনি।
আমাদের নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবাই মিলে একটি নৈতিক যুদ্ধ শুরু করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সুশীল সমাজকে মুখ খুলতে হবে। চুপ করে বসে থাকলে চলবে না, আমাদের নীরবতা ভাঙতে হবে। নারী নির্যাতনকে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। তাহলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি নতুন সমাজ বিনির্মাণে সফল হব। এ ক্ষেত্রে অবশ্য মানসিকতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন ও যথাযথ প্রয়োগ এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, তার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও), জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (সিআরসি) এবং নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সনদে (সিএটি) স্বাক্ষর করেছে। এসব সনদের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের প্রচলিত আইনগুলোকে সংশোধন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের ১৬টি বিশেষ আইন ও নীতি থাকার পরও এসব আইন তেমন কোনো কাজে আসছে না। নারীর মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। এর জন্য যুদ্ধ করতে হবে। তরুণ সমাজের জন্য এটি একটি নৈতিক যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে হবে।
নারীর এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে হলে নারীকেও নীরবতার দেয়াল ভাঙতে হবে, প্রতিবাদী হতে হবে। নিজের বুদ্ধি, মেধা ও শ্রম দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদানের বিষয়ে সচেতন হয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং সামাজিক ও আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈষম্য ও সহিংসতাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। আত্মশক্তিতে বলীয়ান নারীই হবেন সামাজিক পরিবর্তনের মূল দিশারি।

ভারতে কে গড়ছে সরকার?

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জোট ভাঙা-গড়ার খেলা। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) ও প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) মধ্যেই। এ ছাড়া রয়েছে বামপন্থী ও স্থানীয় কিছু দলকে নিয়ে গঠিত জোট তৃতীয় ফ্রন্ট বা ফেডারেল ফ্রন্ট আর রাজনীতিতে সাড়া জাগানো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি (এএপি)। প্রতিদ্বন্দ্বী এই জোট ও দলগুলোর যেমন রয়েছে শক্তিশালী দিক, তেমনি রয়েছে কিছু দুর্বল দিক। তাদের এসব দিক নিয়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ। কংগ্রেস ও ইউপিএ শক্তিশালী দিক: কংগ্রেসের অবিসংবাদিত নেতা রাহুল গান্ধী। এ নিয়ে দলে কোনো মতভেদ নেই। দলীয় সংহতির বিবেচনায় এটা কংগ্রেসের শক্তির দিক। দুর্বলতা: গত বছরের ডিসেম্বরে চারটি বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছে কংগ্রেস। এটা লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
এ ছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও দলীয় নেতাদের দুর্নীতির বিষয়গুলো তো আছেই। নির্বাচনী সমাবেশে রাহুলের বক্তব্যও ইউপিএ সরকারের এই দুর্বলতার বিপরীতে বড় প্রভাব ফেলতে পারছে না। কংগ্রেসের সবচেয়ে ভয় টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে যাওয়া। সব মিলিয়ে দলটির রেকর্ড পরিমাণ আসন কমে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। সুযোগ: বিজেপি সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন না পেলে এবং তৃতীয় ফ্রন্ট একক নেতা নির্বাচন নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সুযোগ আসতে পারে কংগ্রেসের। সেটা নিজে সরকার গঠন কিংবা কোনো পক্ষকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করা। বিজেপি ও এনডিএ শক্তিশালী দিক: নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে অসম্ভব উদ্যমী ব্যক্তিত্ব নরেন্দ্র মোদিকে পাওয়া বিজেপির দারুণ শক্তির জায়গা। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মোদির মনোনয়ন প্রশ্নে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ও কাটিয়ে উঠেছে দলটি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জরিপ এনডিএর জয়ের আভাস দিয়েছে। দুর্বলতা: ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা এখনো মোদির সবচেয়ে দুর্বল দিক হিসেবে বিবেচিত। ওই দাঙ্গা দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নির্বাচনে এনডিএকে ভোগাতে পারে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির অবস্থান বেশ দুর্বল। কংগ্রেসবিরোধী ভোটগুলো এএপির বাক্সে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হবে বিজেপিকে।
সুযোগ: এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের অবস্থান দুর্বলতম পর্যায়ে, যাকে ১৯৯৬-৯৮ সালে কংগ্রেসের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটাই বিজেপির ক্ষমতায় আসার অন্যতম সুযোগ। তৃতীয় বা ফেডারেল ফ্রন্ট শক্তিশালী দিক: কংগ্রেস ও বিজেপির মতো সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজন নেই তৃতীয় ফ্রন্টের। বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দল নিয়ে ফ্রন্ট হওয়ায় স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী থাকবে তারা। দুর্বলতা: ফ্রন্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-প্রকাশ কারাত, এম করুণানিধি-জে জয়ললিতা, মুলায়েম সিং-মায়াবতীর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা আছেন। তাঁদের নিয়ে এক টেবিলে বসাই এই ফ্রন্টের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে। সুযোগ: জরিপ এনডিএর জয়ের আভাস দিলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর কংগ্রেস তো দুর্বলতম অবস্থায়। তখন সুযোগ আসতে পারে এই ফ্রন্টের। নতুন দল এএপির মূল শক্তি শহুরে নাগরিকদের সমর্থন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ব্যক্তিত্বও দলটির জন্য ইতিবাচক। তাঁর দুর্নীতিবিরোধী শক্ত অবস্থান ও বিজেপি-কংগ্রেসবিরোধী ভোটগুলো এএপির বাক্সে পড়বে। তবে দেশজুড়ে নির্বাচন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই দলটির। সব আসনে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীও নিশ্চিত করতে পারেনি এএপি। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কর্মীদের আচরণে দুঃখ প্রকাশ কেজরিওয়ালের

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
ভারতের দিল্লি ও লক্ষেৗ শহরে আম আদমি পার্টির (এএপি) কর্মীদের আচরণের জন্য দলটির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল গতকাল বৃহস্পতিবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অহিংস আচরণ করতে তিনি কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে গুজরাট রাজ্যে গত বুধবার ‘আটকের’ ঘটনায় এএপির ক্ষুব্ধ কর্মীরা দিল্লি ও লক্ষেৗয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। দিল্লিতে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে এএপির ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দলটির নেতা আশুতোষ এবং শাজিয়া ইলমির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
কেজরিওয়াল গুজরাট সফর করছেন। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পুলিশ রাধনপুর থানায় তাঁকে কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিল। কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আটক করেছিল। শাজিয়া ইলমির অভিযোগ, পুলিশ কেবল এএপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশের দাবি, দিল্লিতে এএপির বিক্ষোভ ছিল বেআইনি। দলটি অনুমতি না নিয়েই বিক্ষোভ করে। ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়েছে। পিটিআই।

তদন্ত থেকে বাঁচাতে শীলাকে রাজ্যপাল নিয়োগ!

শীলা দীক্ষিত
লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তড়িঘড়ি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতকে কেরালার রাজ্যপাল নিযুক্ত করলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত তিনি কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কারির তদন্তের আওতা থেকে অব্যাহতি পেলেন। তবে শীলার ভাগ্য নির্ধারিত হবে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। কেন্দ্রে সরকার বদল হলে ও তাঁকে ওই পদ সরিয়ে দেওয়া হলে তদন্তের মুখোমুখি হতেই হবে।
তফসিল ঘোষণা হলে রাজ্যপাল বদল করার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারত না। তাই শীলাকে রাজ্যপাল নিযুক্তির সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি রাষ্ট্রপতি ভবন গত বুধবার জারি করে। পরদিন সকালে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে। এএপির প্রধান কেজরিওয়াল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যপাল নিযুক্ত করে কংগ্রেস শীলাকে তদন্তের হাত থেকে বাঁচাতে চেয়েছে।

গাদ্দাফির ছেলে সাদিকে লিবিয়ার কাছে হস্তান্তর

সাদি গাদ্দাফি
লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাদি গাদ্দাফিকে অবশেষে লিবিয়া কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে নাইজার। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রিপোলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১১ সালে গণ-আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন একদল বিদ্রোহী নেতা গাদ্দাফিকে আটকের পর হত্যা করে। সে সময় তাঁর ছেলে সাদি সাহারা মরুভূমি হয়ে নাইজারে পালিয়ে যান। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে আশ্রয় দেয় নাইজার কর্তৃপক্ষ। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নাইজার কর্তৃপক্ষকে বারবার আহ্বান জানাচ্ছিল লিবীয় সরকার। শেষমেশ তাঁকে লিবিয়ায় আনা সম্ভব হয়েছে। 
সাবেক বিদ্রোহী মিলিশিয়া গোষ্ঠী দ্য ত্রিপোলি রেভ্যুলুশনারিজ ব্রিগেড আটক সাদির পাঁচটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। সরকার বলছে, গাদ্দাফির এই ছেলের বিচারের সময় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা হবে। সাদি লিবিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক প্রধান। তিনি নিজেও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছিল। গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলনকালে বিদ্রোহীদের হাতে তাঁর তিন ছেলে নিহত হন। ন্যাটোর হামলায় নিহত হন তাঁর আরেক ছেলে। তাঁর আরেক ছেলে সাইফ আল-ইসলামের বিচার চলছে। এএফপি।

এইচআইভি থেকে ‘মুক্ত’ দ্বিতীয় মার্কিন শিশু

এইচআইভির সঙ্গে বসবাস
জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণঘাতী এইডস রোগের জন্য দায়ী এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। প্রায় এক বছর পর তাকে ওই ভাইরাসের কবল থেকে ‘মুক্ত’ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল চিকিৎসক। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গত বুধবার বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা খুব তাড়াতাড়ি শুরু করলে সাফল্য পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত দুটি শিশুকে এইচআইভিমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি শিশুর চিকিৎসা বন্ধ করার ২১ মাস পরও তার শরীরে নতুন করে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়েনি। এইচআইভি প্রতিরোধে দুটি শিশুর ওপর পরিচালিত সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল বোস্টনে এক সম্মেলনে (সিআরওআই) উপস্থাপন করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি শিশুর মায়ের শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি ছিল।
জন্মের পর তার শরীরে এইচআইভির উপস্থিতি শনাক্ত করার আগেই প্রয়োগ করা হয় ভাইরাসনাশক উচ্চমাত্রার ওষুধ। সংশ্লিষ্ট গবেষক ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড গেফেন স্কুল অব মেডিসিনের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ইভন ব্রিসন বলেন, জন্মের চার ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। ব্যাপারটা ছিল মিসিসিপির সেই শিশুটির চিকিৎসার চেয়েও দ্রুততর। লস অ্যাঞ্জেলেসের শিশুটির শরীরে এইচআইভির উপস্থিতি ছিল বলে পরে নিশ্চিত হন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা শুরুর ছয় দিন পর ভাইরাসটি আর শনাক্ত করা যায়নি। ব্রিসন বলেন, শিশুটির শরীর থেকে এত দ্রুত ভাইরাসটি নির্মূল করার বিষয়টি সত্যিই অনেক বড় সাফল্য। বর্তমানে ১১ মাস বয়সী শিশুটি এখনো একেবারে ‘ঝুঁকিমুক্ত’ নয়। শিশুটির চিকিৎসা এখনো চলছে। বয়স দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হবে। এইডস রোগের চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্বজুড়ে এই মারণব্যাধিতে প্রায় সাত কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটি মানুষ এইডস রোগে মারা গেছে। এএফপি।

নেতা কেন চোর?

গণবিক্ষোভে পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট
ইয়ানুকোভিচের বাড়ির একটি কক্ষ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাক্সভর্তি সোনা-দানা যা পারেন নিয়ে গেছেন, কিন্তু ফেলে গেছেন তাঁর সাধের সাতমহলা বাড়ি। সাড়ে তিন শ একর জমির ওপর সে বাড়ি, বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলাই ভালো। আলিশান সেই প্রাসাদে কয়েক ডজন বাসকক্ষ ও অতিথিনিবাস ছাড়াও রয়েছে ১৮-হোলের গলফ ময়দান, টেনিস কোর্ট, একটি বোলিং কেন্দ্র ও ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা। হরিণ-টরিন তো ছিলই, বিরল ও দুর্লভ কিছু জীবজন্তুও এনে জড়ো করা হয়েছিল সেখানে, যেগুলো ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা বেআইনি। শুধু নতুন ও সাবেকি মডেলের মোটরগাড়ি ও ইউরোপের নানা দেশ ঝেঁটিয়ে সংগ্রহ করা ঝাড়বাতির দাম ধরলেই তা কয়েক শ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। এ তো গেল প্রাসাদ বানাতে ও সাজাতে কী পরিমাণ অর্থ তিনি জলে ঢেলেছেন। কী পরিমাণ অর্থ তিনি ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা হাতিয়েছেন, সে হিসাব এখনো পুরোপুরি করা হয়ে ওঠেনি। ইউক্রেনের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী আইন পরিষদকে জানিয়েছেন, রাজকোষ থেকে কম করে হলেও ৩৭ বিলিয়ন ডলার লোপাট গেছে। ইয়ানুকোভিচ যে কয়েক বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সে সময় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যাঁরা পাচার করেছেন, তাঁরা হয় সাবেক প্রেসিডেন্টের নিকটাত্মীয়-স্বজন অথবা তাঁর তাঁবেদার। এখন এমন অবস্থা যে দেশ চালাতে ইউক্রেনকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নামতে হবে। খবরটা পড়ে আমাদের দেশের রাজনীতিকেরা হয়তো হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন।
দেখলেন তো, টাকা কেবল আমরাই হাতাই না, ক্ষমতায় গেলে ইউরোপের নেতা-নেত্রীরাও টু-পাইস কামানোর ব্যাপারে কম যান না। অথচ দোষ ধরার বেলায় আপনারা পত্রিকাওয়ালারা ওত পেতে থাকেন শুধু এই নন্দ ঘোষ আমাদের কথা গলা ফাটিয়ে বলার জন্য। ক্ষমতা ও দুর্নীতি—এই দুইয়ের মধ্যে যে একটি অদৃশ্য যোগসূত্র আছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। ইউক্রেনে হোক বা বাংলাদেশে বা আমেরিকায়, সর্বত্রই অবস্থা কমবেশি একই রকম। এই আমেরিকার কথা ধরা যাক। এ দেশে প্রতিবছরই এক-আধজন করে রাজনীতিক উৎকোচ গ্রহণের দায়ে ধরা পড়েন। অঙ্কের হিসাবে খুব বড় নয়, কিন্তু একবার সে ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে, টিকে থাকা অসম্ভব। গত মাসে ধরা পড়লেন নিউ অরলিন্সের মেয়র রে নাগিন। তিনি উৎকোচ নিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দিয়েছেন এবং আয় অনুসারে কর প্রদান করেননি, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর কারাদণ্ড হতে যাচ্ছে। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ১০ জন রাজনীতিকের একটি তালিকা । তৈরি করেছে ‘রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স’ নামের একটি ওয়েব পত্রিকা (http://www.realclearpolitics.com/lists/most^corrupt^politicians/intro.html?state=play)। সে তালিকায় সিনেটর-কংগ্রেসম্যান তো রয়েছেনই, একজন ভাইস প্রেসিডেন্টও আছেন। তবে তাঁরা কেউই টাকা মেরে গাপ করার সুযোগ পাননি। ধরা পড়ার ফলে যথারীতি বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্ষমাভিক্ষা না পেলে জেলের ভাতও খেতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড় চোর যে ভদ্রলোক, তাঁর নাম বস টুইড। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এক বিলিয়ন ডলারের মতো হাতিয়েছিলেন, এই অভিযোগে তাঁর মোট ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে কারাগার থেকে পালিয়ে স্পেনে গিয়ে লুকানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে বেঁধে আনা হয়। শেষে ভদ্রলোক মারা যান কারাগারেই।
সে প্রায় সোয়া শ বছর আগের ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় যাঁরা চুরির অভিযোগে ধরা পড়েছেন, তাঁদের কোনোটাই ঠিক পুকুরচুরির ঘটনা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেসব দুর্নীতির অভিযোগে এ দেশে রাজনীতিকেরা ধরা পড়েন, সে কথা শুনলে আমাদের কর্তারা হেসে কুটি কুটি হবেন। লবিস্টের কাছ থেকে বিদেশভ্রমণের খরচাপাতি, বাড়ি মেরামতের খরচ নেওয়া ইত্যাদির মতো ঘটনাই এ দেশে বেশি। তো অপরাধ যত কম বা বেশি হোক না কেন, একবার ধরা পড়লে তাঁর নিস্তার পাওয়া সোজা ব্যাপার নয়। অপরাধী, তা তিনি যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, আইনের লম্বা হাত ফসকে পার হবেন, তেমন সম্ভাবনা খুবই কম। আমাদের দেশে অবশ্য অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে চোর ছোট বা বড় যেমনই হোক, তাঁরা ধরা পড়েন না। যদি কখনো ধরা পড়েনও, ক্ষমতার সমীকরণে উল্টো দিকে না থাকলে তিনি কখনোই বিচার ও শাস্তির সম্মুখীন হন না। আইন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দুটোই তাঁদের পকেটে। কিন্তু আমেরিকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাওয়া কঠিন। কারণ, রাজনীতিকদের কাবু করার জন্য রয়েছে দুর্নীতি দমন বিভাগ। কয়েক বছর আগে লুইজিয়ানায় এক কংগ্রেসম্যানের রেফ্রিজারেটরে ৭৫ হাজার ডলার পাওয়া গিয়েছিল। সেই টাকা উদ্ধারের জন্য আইন বিভাগ থেকে নাইজেরীয় ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে এক লোককে পাঠানো হয় এবং তাঁদের কথাবার্তার পুরোটা রেকর্ড করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া রয়েছে সিভিল সোসাইটি গ্রুপসমূহ, যারা রাজনীতিকদের প্রতিটি কাজের ওপর নজর রাখে। রাজনীতিকের গায়ে বিন্দুমাত্র বিষ্ঠা লেগেছে, তা টের পেলে পত্রপত্রিকাও সহজে পিছু ছাড়ে না। আমাদের দেশে সে ভয় নেই। দুর্নীতি দমন বিভাগ ও পাড়ার দারোগা বাবুর মধ্যে কোনো তফাত নেই।
সিভিল সোসাইটির অধিকাংশও কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে যাঁদের ঘাড় ত্যাড়া, তাঁদের ঘাড় মটকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে লাইনে কথা না বলে উপায় নেই। কোনো কোনো পত্রিকা নরম-গরম কথা বলে বটে, কিন্তু যেখানে দেশের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর, সেখানে পত্রিকার ভূমিকা সীমিত হতে বাধ্য। তা ছাড়া আজকাল সবাই টিভি দেখে, সে কথা টের পেয়ে আমাদের রাজনীতিকেরা নিজেরাই এক-একটা টিভি চ্যানেলের মালিক বনে গেছেন। আসলে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী—এই দুই ধরনের মানুষকে যদি চোখে চোখে না রাখা হয়, তাঁরা নয়-ছয় করবেনই, তা সে ইউক্রেনে হোক বা আমাদের দেশে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দুর্নীতির যারা ভুক্তভোগী, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। শুধু গেল গেল বলে চেঁচালে হবে না, চোর পালানোর আগে তাকে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু মুরগি আমাদের, ফলে আমাদেরই মুরগি পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতে আম আদমি পার্টির শুরু এই সচেতনতা থেকেই। বাংলাদেশে আমরা বরাবর তাকিয়ে থেকেছি আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের দিকে। তাঁরা যেদিকে যেতে বলেছেন, আমরা সে পথে চলেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারেননি। দেশটাকে নিজেদের তালুকদারি ভেবে যা ইচ্ছে করে গেছেন। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ ৪০০ থেকে ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি করে নিয়েছেন, তারপর বুক চেতিয়ে বলেছেন, ক্ষমতায় থাকলে সম্পদ তো কিছু বাড়বেই। ইউক্রেনের মানুষ আমাদের শেখাল, নেতা যখন চোর হয়, তখন তাকে শায়েস্তা করতে হয় কীভাবে।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

নারীর অধিকার ও মর্যাদা

সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ইসলাম দিকনির্দেশক। প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর যখন কোনো সামাজিক অধিকার ও সম্মানবোধ ছিল না, যখন নবজাত কন্যাশিশুকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো এবং পুরুষেরা নারীকে শুধু ভোগের জন্য ব্যবহার করত, তখন মহানবী (সা.) সৎ কর্মে নারী ও পুরুষের সমমর্যাদার কথা বললেন। তিনি মানুষকে জানিয়ে দিলেন, ‘পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎ কাজ করলে ও মুমিন হলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও জুলুম করা হবে না।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৪) ইসলাম পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদার অধিকারী করেছে, অত্যন্ত সম্মানজনক মর্যাদা দিয়েছে। নবী করিম (সা.) স্বয়ং নারীদের শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বের প্রতি বিশেষভাবে সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নারীদের উদ্দেশে শিক্ষামূলক ভাষণ দিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ (ইবনে মাজা) ইসলাম নারীদের আবশ্যিক শিক্ষা, ধর্মচিন্তা, কর্মের স্বাধীনতাসহ পাত্র নির্বাচন ও সম্মতি প্রদানের অধিকার দিয়েছে। বিবাহের সময় অবিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্তা ও বিধবাদের মতপ্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। নারীরা যেন নিজেদের নৈতিক চরিত্র সমুন্নত রাখে এবং সৎ/যোগ্য পাত্রকে স্বামী হিসেবে নির্বাচন করতে পারে। সমাজে মাতা, গৃহকর্ত্রী ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত নারীর যথার্থ অবস্থান নিশ্চিত করে রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীর অধিকার সমুন্নত করে গেছেন। পিতামাতা, নিকটাত্মীয় ও স্বামীর সম্পত্তিতে রয়েছে নারীর সম্মানজনক অধিকার। যেকোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে অর্থসম্পদ মহিলারা উপার্জন করবেন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে যে ধন-সম্পদের অধিকারী হবেন,
এতে ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতামাতা আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক বা বেশিই হোক, এক নির্ধারিত অংশ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭) পিতা, স্বামী, ভাই, পুত্র—এ চার পরিচয়ে পুরুষ অভিভাবকেরা নারীর হক বা ন্যায্য প্রাপ্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আদায় করবে, এটাই আল্লাহর বিধান। স্বামীর ওপর স্ত্রীর বিশেষ অধিকার এই যে স্বীয় সামর্থ্যানুযায়ী তাকে খোরপোশ, বাসস্থান এবং মোহরানা দিতে হবে। স্ত্রীর প্রতি কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচার করবে না। পারিবারিক বন্ধন ছেড়ে স্বামীর গৃহে গিয়ে স্ত্রী যেন কোনো রকম নিরাপত্তাহীনতা অনুভব না করে, সে জন্য তার প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করা উচিত। ইসলাম নারীকে সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে বেশি আর পুরুষকে দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছে বেশি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে পোশাকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পোশাকের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক যত নিবিড়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ততটাই নিবিড় হওয়া চাই। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৭) নবী করিম (সা.) স্বামীকে অধিক ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমরা নিজ পত্নীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই আদেশমতো তাদের তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ। মুমিন স্বামী ইমানদার স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণকারী হবে না। কারণ, স্ত্রীর কোনো ব্যবহারে মনে কষ্ট এলেও পুনরায় তার দ্বারাই এমন ব্যবহার পাবে, যাতে সন্তুষ্টি লাভ হবে।’ (মুসলিম)
ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়েরই ন্যায্য অধিকার ও সমমর্যাদা স্বীকৃত। যেমন—বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সমালোচনার অধিকার। নারী-পুরুষ পরস্পরের সহযোগী, প্রতিযোগী নয়। পরিবারে নারী-পুরুষ উভয়ই সংসারধর্ম পালন করবে এবং পারস্পরিক উন্নতির চেষ্টা করবে। স্বামী যেহেতু চাকরি বা ব্যবসায় কর্মব্যস্ত, সেহেতু গৃহস্থলে সন্তানদের লালন, সুশিক্ষা প্রদান ও চরিত্র গঠনের মতো গুরুদায়িত্ব স্ত্রীকেই পালন করতে হয়। পরিবারে শিশুর প্রতিপালনের দায়িত্ব উপেক্ষা না করে কোনো নারী যদি মেধা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক কোনো চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তবে তা অতি উত্তম। স্বামীর সংসারে কর্ত্রী হিসেবে নারীর দায়িত্ব নির্ধারণ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনবর্গের এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী।’ (বুখারি ও মুসলিম) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে নারীরা স্ব স্ব যোগ্যতা ও মেধার গুণে নিজেদের কর্মসংস্থান করে নিচ্ছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, নারীর প্রতি কুদৃষ্টি ও অসদাচরণ করা যেন কিছু মানুষের মজ্জাগত। নারী সহকর্মীকে কোথাও সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা হারিয়ে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য অধিকার পর্যন্ত ক্ষুণ্ন করা হয়, যা কর্মক্ষেত্রে নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে। অথচ ইসলাম বিভিন্ন বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নারীর অধিকারকে সম্মানজনক মর্যাদায় উন্নীত করেছে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের ন্যায্য অধিকার, প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা না দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। নারীদের কোণঠাসা করে না রেখে তাদের উচ্চতর শিক্ষা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ অবারিত করে দেওয়া দরকার। এ জন্য নারী জাতির প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায়সংগত অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com