Saturday, May 21, 2011

ইটভাটার জন্য নদী ভরাট

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নদী দখল করে যে ইটভাটাটি তৈরি হচ্ছিল, তার কাজ বন্ধ হয়েছে। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের আটক করা হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোয় নদী দখল করে ইটভাটা তৈরির খবর ছাপা হওয়ার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে এই উদ্যোগ নেয়। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে এ ঘটনার সূত্র ধরে কিছু প্রসঙ্গ তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
এমবিসি নামের প্রতিষ্ঠানটি নদী দখল করে ইটভাটা তৈরির কাজ করে আসছিল ১৫ দিন ধরে। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীর অংশ বা তীর ভরাট বা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। জলাধার ও পরিবেশ আইন অনুযায়ীও তা করা যায় না। প্রতিষ্ঠানটি নদী দখলের কাজটি করছিল প্রকাশ্যে। এ ধরনের কাজ লুকিয়ে করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রশ্ন, এই যে প্রকাশ্যে নদী দখলের কাজ চলছিল, তা পত্রিকায় প্রকাশের আগে কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না?
দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী, খাল বা রেলওয়ের জায়গা দখল—এই যে বিভিন্নমুখী দখল চলছে, এর মূল কারণ হচ্ছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং দখলকারীদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারার সম্পর্ক। যাদের দখল ঠেকানোর কথা, দখলকারীদের সঙ্গে যদি তাদের স্বার্থের সম্পর্ক থাকে, তবে দখল-প্রক্রিয়া ঠেকানো সত্যিই কঠিন কাজ। দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের যাঁরা দখলকারীদের স্বার্থ রক্ষার কাজটি করেন বা যাঁদের সহায়তায় দখলকারীরা দখলের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তা চিহ্নিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবে দখলের এই প্রবণতা অনেক কমে আসবে।
পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও যে সব সময় কাজ হয়, এমন নয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নদী দখলের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তবে আমরা মনে করি, এটা তদন্ত করে দেখা উচিত, স্থানীয় প্রশাসনের কারও যোগসাজশে এই দখল-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কি না। স্থানীয় প্রশাসনে যদি এমন কোনো দুষ্টচক্র থেকে থাকে, তবে তার দায় পুরো প্রশাসনের ওপর যাতে না পড়ে, তাই এই চক্রকে চিহ্নিত করা জরুরি।

ঢাকা ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং সেবা চালু

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড সম্প্রতি ‘এডু সেভিং প্ল্যান’ নামক একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্কুল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোন্দকার ফজলে রশিদ।
অনুষ্ঠানে মেটলাইফ এলিকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা, কয়েকজন অভিভাবকসহ ঢাকা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হেড অব রিটেইল ডিভিশন আজাদ শামসী।

ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি, আত্মঘাতী হামলা, হত্যাকাণ্ড, মারামারি, হানাহানি পছন্দ করে না। ইসলামী জীবনবিধানে এসব বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই। ইসলামের অনুশাসন হলো, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। অথচ বিশ্বমানবতা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের তাণ্ডবলীলায় ভীতসন্ত্রস্ত ও হতাশাগ্রস্ত। ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধবিগ্রহ, তুমুল কলহ আর জঙ্গি অর্থ যোদ্ধা বা কুস্তিগীর। তাই ‘জঙ্গ’ বা জঙ্গিদের তৎপরতাকে বলা হয় জঙ্গিবাদ। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো গোত্রীয়, জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয় নেই। প্রত্যেক ধর্মানুরাগী মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করাই ইসলামের মূল শিক্ষা। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিজি)
চরম পন্থা, ফেতনা-ফ্যাসাদ, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা শরিয়ত-গর্হিত কাজ—এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। চরম পন্থা হলো দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা, কঠোরতা অবলম্বন করা, সীমা অতিক্রম করা, নিজ মত বা দলকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য গোঁড়া বা কঠোর মনোভাব পোষণ করা। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড ইসলাম কোনোভাবে সমর্থন করে না। ইসলামের পথিক হবে শান্তিকামী, সুস্থ-সুন্দর ও সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। মানুষের প্রতি দয়া-মায়া-মমতা ও শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার সুমহান শিক্ষা তো ইসলামেরই। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা: আল-মায়িদা, আয়াত-৩২)
প্রকৃতপক্ষে ইসলাম হলো সহজ-সরল ও মধ্যম পন্থার ধর্ম। চরমপন্থী, বাড়াবাড়ি, জোর-জবরদস্তি ও বলপ্রয়োগ ইসলাম কখনো অনুমোদন করে না। নিরপরাধ মানুষকে খুন করে, পৃথিবীতে বোমা আতঙ্ক সৃষ্টি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কল্পিত ও মনগড়া ব্যাখ্যার সঙ্গে ইসলামের দূরতম সম্পর্ক নেই। ইসলামের উত্তম আদর্শিক মহানুভবতা, প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার, ক্ষমা, উদারতা ও নৈতিক শক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে ইসলামের বিকৃত অপব্যাখ্যা থেকে মুসলমানদের সজাগ ও সচেতন থাকা দরকার। মন্দ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তাদের হূদয় ভালোবাসাহীন। এরা মানবতাবর্জিত, মায়া-মমতাহীন, দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য, সভ্য মানবসমাজের শত্রু। তাদের কোনো ধর্ম নেই। মানুষ হত্যা যে কত বড় মহা পাপ, তা তারা জানে না। নিরপরাধ মানুষ হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতে এরা দ্বিধা বোধ করে না।
ইসলাম মানেই শান্তি। ইসলামের মাধ্যমে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাস, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংঘাতমুক্ত পৃথিবীর প্রয়োজনে ইসলামের শান্তিপ্রিয় ও কল্যাণধর্মী আদর্শ এখন সময়ের দাবি। মানুষের সামগ্রিক জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানে ইসলাম এক অনন্য কালজয়ী আদর্শ। ইসলামে চরম পন্থা এবং জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নানা অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করেও কখনো বাড়াবাড়ি, কঠোরতা বা গোঁড়ামির পরিচয় দেননি; বরং দীন প্রচারের ক্ষেত্রে চরম পন্থা অবলম্বন করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসলামের সুমহান আদর্শ সমরনীতি ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা কখনো আগে অস্ত্র উত্তোলন করো না বা অস্ত্রের ভয়ভীতিও প্রদর্শন করো না।’
ইসলামের যুদ্ধনীতি প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাত্মক নয়—এমনকি প্রতিশোধমূলকও নয়। কারও ঘরে বহিঃশত্রু কেউ আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার বিধান ইসলামে স্বীকৃত, যা আজও বিশ্বের সর্বত্র প্রচলিত। ইসলামে জিহাদের অর্থে কাউকে নির্মূল করাকে বোঝায় না। জিহাদ মানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, যেন সব ব্যক্তিই নিজ নিজ কুপ্রবৃত্তি দমনের ক্ষেত্রে আজীবন সংগ্রাম করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জিহাদ বলতে কোনো দেশে বা জাতির কাছে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণার প্রকাশ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কাজকে বোঝানো হয়ে থাকে। ইসলাম মানুষকে ভালোবাসতে বলে, হত্যা করতে নয়। সত্য-সুন্দর, প্রগতিশীল, বিজ্ঞানসম্মত ও শান্তির ধর্ম ইসলাম মানবজাতিকে বিভক্ত করতে আসেনি, ঐক্যবদ্ধ করতে এসেছে। কারও অধিকার হরণ করতে আসেনি, সর্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং বোমাবাজি করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখানো অনুচিত। বিদায় হজের ভাষণে নবী করিম (সা.) বিনা অপরাধে একজন নিরীহ মানুষকেও হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।
বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন পর্যায়ে সভ্য সমাজে যেভাবে ফেতনা-ফ্যাসাদ ও সন্ত্রাসবাদ চলছে, সর্বস্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, এতে যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ব্যাঘাত হয়, তেমনি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দারুণভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। ধর্মের নামে যেসব উগ্রবাদী দেশ নানা পর্যায়ে সন্ত্রাস, বোমাবাজি, আত্মঘাতী হামলাসহ ইসলামবিরোধী মানবতাবিবর্জিত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, বাস্তবিকই তারা ইসলামের মর্মবাণীর সঙ্গে সম্পর্কহীনই বটে। এসব ফেতনা প্রতিরোধে কথা ও কলমের জিহাদ অব্যাহত রাখতে হবে।
ইসলামে চরম পন্থা অবলম্বনকে নিষিদ্ধ করে এর থেকে বিরত থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। অথচ বর্তমানেও কিছু চরমপন্থী ভূপৃষ্ঠে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তারা যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করছে। দেশের আলেমসমাজ, ধর্মীয় নেতা, মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ ও বলিষ্ঠ অবস্থান রেখে জনগণকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সমাধানের একটি সহজ পথ। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যম ধর্মপ্রাণ মানুষকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

খুলনায় আবাসন মেলা উদ্বোধন

খুলনা নগরের হোটেল টাইগার গার্ডেনে ইভেন্ট টুডের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু হয়েছে।
মেলার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।
ইভেন্ট টুডের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল আমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সেলডম গ্রুপের ফরিদুল ইসলাম, ইভেন্ট টুডের হাবিবুর রহমান, গ্রীনডেল্টা হাউজিং-য়ের তাজউদ্দিন মাহমুদ ও সিটি কাউন্সিলর আলী আকবর।

ব্যাংক-ব্যবস্থায় ২৮ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য

দেশের ব্যাংক-ব্যবস্থায় এখন ২৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এটি এ বছরের ২৮ এপ্রিলের হিসাব। এই তারল্য হিসাব করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমার (আমানতের ১৯ শতাংশ) বাইরে যে নগদ অর্থ বা সহজে বিনিময়যোগ্য বিনিয়োগ আছে, সে হিসাব বিবেচনায় নিয়ে।
অন্যদিকে, ১১ মের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে (সিআরআর সংরক্ষণের হিসাব) এক হাজার কোটি টাকার বেশি অলস অর্থ পড়ে আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে আরও দেখা যায়, আমানতের নিরাপত্তা হিসাবে ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমার (স্টেটিউটরি লিক্যুইডিটি রিকোয়ারমন্টে বা এসএলআর) নগদ অংশ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জমা রাখার কথা ২৪ হাজার ৫৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু ১১ মে পর্যন্ত জমা ছিল ২৫ হাজার ৬৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ ক্ষেত্রে সার্বিক ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত জমা ছিল এক হাজার ১৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সিআরআরে এই অতিরিক্ত জমা থাকা টাকা প্রকৃতপক্ষে অলস অর্থ। কেননা, বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআরের ওপর ব্যাংকগুলোকে কোনো সুদ দেয় না।
সিআরআরে ১১ মে সবচেয়ে বেশি অলস অর্থ ছিল বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের। ইসলামি ব্যাংক হিসেবে এই ব্যাংকটির সিআরআর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার কথা ছিল ৯২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু, উল্লিখিত দিনে জমা ছিল এক হাজার ২৩৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৩১১ কোটি টাকা অলস পড়ে ছিল। এর পরের অবস্থান ছিল এইচএসবিসির। ব্যাংকটির অতিরিক্ত জমা ছিল ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত জমার পরিমাণ ছিল ১৪৪ কোটি টাকা।
দেখা যাচ্ছে, ইসলামি ব্যাংকগুলোরই বেশি অর্থ অলস হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে পড়ে রয়েছে। সাধারণ ব্যাংকগুলো সিআরআর ছাড়া বিধিবদ্ধ সংরক্ষণের বাকি অর্থ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে থাকে। বর্তমান নিয়ম অনুসারে এই ব্যাংকগুলোর সহজে বিনিময়যোগ্য এই সম্পদের হার হয় ১৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এসএলআরের বাকি অর্থ ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাবে খাটাতে পারে। ফলে বিধি অনুসারে সংগৃহীত আমানতের ৮১ শতাংশ ঋণ দিতে পারে ব্যাংক। আর বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মূলধন নিয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ ঋণ বিতরণের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। ভারতে এই হার ৭৫ শতাংশ। বাংলাদেশে এই হার এক পর্যায়ে শত ভাগ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
সর্বশেষ ২৮ এপ্রিলের তথ্যে দেখা যায়, সর্বাধিক পরিমাণ বাড়তি নগদ অর্থ রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। সম্মিলিতভাবে এই চার ব্যাংকে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ১১ হাজার ২৯ কোটি টাকা। বেসরকারি ২৯টি ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১৩ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বিদেশি নয়টি ব্যাংকে উদ্বৃত্ত নগদ অর্থের পরিমাণ তিন হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। আর রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত চারটি ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ১৭৮ কোটি টাকা।
এককভাবে সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত নগদ অর্থ আছে সোনালী ব্যাংকের কাছে। এই ব্যাংকের কাছে ছয় হাজার ১৮৭ কোটি টাকা রয়েছে। তার পরের অবস্থানে আছে জনতা ব্যাংক। এই ব্যাংকের কাছে নগদ অর্থ আছে তিন হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। বেসরকারি প্রাইম ব্যাংকের কাছে রয়েছে এক হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থানের উত্তরা ব্যাংকের কাছে নগদ অর্থ আছে এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে সিটিব্যাংক এনএর কাছে নগদ অর্থ আছে এক হাজার ২০২ কোটি টাকা।

শস্যবিমার জন্য বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছর চালু করতে না পারায় আগামী ২০১১-১২ অর্থবছর থেকেই শস্যবিমা চালু করতে চায় সরকার। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি বাবদ পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটেও শস্যবিমা বাবদ ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতেই সরকার বছর পার করেছে। তাই এ খাতে বরাদ্দ করা কোনো টাকাই খরচ হয়নি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৭তম বৈঠকে আগামী অর্থবছর থেকে শস্যবিমা চালুর সুপারিশ করা হয়। সূত্র জানায়, এই পরামর্শ আমলে নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ (বিকেবি) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে জড়িত করারও পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শস্যবিমার ওপর ইতিমধ্যেই সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরেকটি ধারণাপত্র তৈরি করতে বলবে বিকেবিকে। আগামী সপ্তাহে বিকেবিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ-বিষয়ক একটি চিঠি পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমান বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে শস্যবিমা চালু রয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের একই প্রকৃতির ঝুঁকিসম্পন্ন চারটি উপজেলায় শস্যবিমা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে—সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর, হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি। বিকেবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শস্যবিমা চালু ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে বিকেবি তা সফলভাবে বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, নানা কারণে চলতি বছরে চালু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে আগামী অর্থবছর থেকে অবশ্যই শস্যবিমা চালু করা হবে।

বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতনের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস পার করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কমেছে লেনদেনও।
ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭১৮ পয়েন্টে। সপ্তাহের চার কার্যদিবসের মধ্যে পরপর গত দুই দিন ঢাকার বাজারে সূচক কমেছে।
ঢাকার বাজারের মতো শেয়ারের দাম, সূচক ও লেনদেন কমেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তারল্য সংকটকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই খাতের বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সালাউদ্দিন আহমেদ খান।
যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারল্য-সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় হতে পারছেন না। আর সাম্প্রতিক দরপতনে শেয়ারের দাম যেখানে নেমেছে, তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগই লোকসানে রয়েছেন। এখন তাঁরা নতুন করে বিনিয়োগের পরিবর্তে শেয়ারের দাম বাড়ার আশায় রয়েছেন।’
ডিএসইর সাবেক এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাজারে ঋণের জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ টাকার সংকটে থাকায় বড় বিনিয়োগকারীরাও তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ঋণ-সুবিধা পাচ্ছেন না। তার ওপর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) পুনর্গঠনের কাজ শেষ হয়নি। তাই অনেকগুলো বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।’
শেয়ারের মূল্যসূচকের পতন দিয়ে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। মাঝখানে কয়েক দফা সূচক বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা টেকেনি। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও সূচকের বেশ ওঠা-নামা ছিল। এদিন ডিএসইতে সূচকের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধান ছিল ৬৩ পয়েন্ট।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকার বাজারে ২৫৬ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৪৯টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১০০টির আর অপরিবর্তিত ছিল সাতটির দাম।
দিনের শেষে ডিএসইতে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ২৯ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২৬ কোটিতে।
অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ১৯৭ কোম্পানির মধ্যে ১২৭টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৬২টির আর অপরিবর্তিত ছিল আটটির দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১০৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৯৩৯ পয়েন্টে। দিন শেষে চট্টগ্রামের বাজারে ৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে এক কোটি টাকা কম।

খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে

গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে এসে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ খানিকটা বেড়েছে।
২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ যেখানে দাঁড়িয়েছিল ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, সেখানে এ বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে ২৩ হাজার ৭৫১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘শ্রেণীকৃত ঋণ ও প্রভিশনিং’ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ শেষে যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ হয়েছে, তা এই সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতির ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। মার্চ শেষে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।
আবার মার্চ শেষে নিট হিসাবে খেলাপি ঋণ হয়েছে তিন হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে নিট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৭৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, মোট খেলাপি ঋণ থেকে সংরক্ষিত প্রভিশন (ঋণের নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ও স্থগিত সুদ (যা খেলাপিদের হিসাবে যুক্ত আছে) বাদ দেওয়ার পর প্রাপ্ত নিট অঙ্কই প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।
২০১১ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে সংরক্ষিত প্রভিশন দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৮২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৪ হাজার ২৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
আবার মার্চ শেষে স্থগিত সুদের পরিমাণ প্রায় চার হাজার ৯২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল চার হাজার ৭২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
সংরক্ষিত প্রভিশন ও স্থগিত সুদের পরিমাণ মোট ১৯ হাজার ৯০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা মোট খেলাপি ঋণ থেকে বাদ দিয়ে নিট খেলাপি ঋণের হিসাব করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিধি অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ ছাড়া বাকি বিভিন্ন ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে অশ্রেণীকৃত ঋণে ১ শতাংশ, নিম্নমান ঋণে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক পর্যায়ের ঋণে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ পর্যায়ের শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ১০০ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।
অন্যদিকে কোনো ঋণ নিম্নমান পর্যায়ে পৌঁছালে তার বিপরীতে সুদকে আর আয় খাতে দেখানো যায় না। কিন্তু খেলাপি গ্রাহকের মোট ঋণ হিসাব করতে গেলে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) এই স্থগিত সুদ যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মত হলো, যেহেতু প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় এবং স্থগিত সুদ ব্যাংকের আয় হিসাবে নেওয়া হয়নি, তাই এ দুটি হিসাব বাদ দিয়েই খেলাপি ঋণের প্রকৃত হিসাব করা যুক্তিযুক্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, মার্চ শেষে সরকারি মালিকানাধীন চারটি ব্যাংকে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা ঋণের ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
আবার বেসরকারি ২৯টি ব্যাংকের সমন্বিত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ হয়েছে ৬১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এটি তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের সোয়া তিন শতাংশ।
এ ছাড়া বিশেষায়িত চারটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ মার্চ শেষে পাঁচ হাজার ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাধারণত প্রতিবছর প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ একটু বাড়ে। এবারেরটি সেই হিসেবে ব্যতিক্রমী কিছু নয়।

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের কার্যালয় থেকে অস্ত্র উদ্ধার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া জেলার সিপিএম (এম) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চার দিন ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় মেদিনীপুর সদরের জঙ্গলমহলের কঙ্কাবতী ও শালবনি এলাকায় অস্ত্র তৈরির একটি কারাখানার সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ছাড়াও বিপুল পরিমাণ মুখোশ ও কালো কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র তৈরির কাঁচামালের বিবরণ ও কর্মীদের নামের তালিকাসংক্রান্ত একটি খাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘চার দিনের অভিযান চলাকালে ঠিক কতগুলো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে তিন শতাধিক হবে, এতে কোনো ভুল নেই।’
এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে কংশবালি নদীর তীর থেকে গত বুধবার দুটি কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় নিহত ৩৫

আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে গত বুধবার রাতে তালেবান জঙ্গিরা একটি সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তালেবান জঙ্গি ও কোম্পানির নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
প্রাদেশিক মুখপাত্র রুহুল্লাহ সামুন জানান, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় ওই আফগান প্রতিষ্ঠানে তালেবান জঙ্গিদের বড় একটি দল হামলা চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী ও তালেবান জঙ্গিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। বন্দুকযুদ্ধ পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হতাহত ব্যক্তিদের সবাই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, বন্দুকযুদ্ধে আট তালেবানও নিহত হয়েছে।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি, ওই হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছে।

নিহতদের প্রতি রানির গভীর সমবেদনা

ব্রিটিশ সেনাদের হাতে নিহত আইরিশ নাগরিকদের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
গত বুধবার রাতে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সরকারি ভবন ডাবলিন ক্যাসলে এক নৈশভোজে ভাষণদানকালে রানি এলিজাবেথ বলেন, ইতিহাসের মূল্য অস্বীকার করা অসম্ভব। যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের কখনো ভোলা যায় না।
আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি ম্যাকআলিসের আমন্ত্রণে রানি এলিজাবেথ গত মঙ্গলবার চার দিনের সরকারি সফরে ডাবলিনে পৌঁছান। ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশভুক্ত দেশ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে গত ১০০ বছরের মধ্যে এটাই হলো কোনো ব্রিটিশ অধিরাজের প্রথম সরকারি সফর।
এর আগে ১৯১১ সালে রানির পিতামহ রাজা পঞ্চম জর্জ আয়ারল্যান্ড সফরে যান। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো রাজা বা রানি দেশটিতে সফর করেননি। ১৯২১ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে আয়ারল্যান্ড।
রানি এলিজাবেথ বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, সবকিছুই ভিন্নভাবে ঘটেছে। দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের দ্বীপগুলোকে তাদের ন্যায্য পাওনার চেয়ে অনেক বেশি ভোগান্তি, অশান্তি ও ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।’
১৯২১ সালে সংঘটিত আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে রানি এলিজাবেথ বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের সবাইকে স্পর্শ করেছে। এতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে। এটা বেদনাদায়ক। যাঁরা মারা গেছেন অথবা আহত হয়েছেন, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারকে আমরা কখনো ভুলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সংঘাতময় ইতিহাসের কারণে যারা দুর্দশা ভোগ করেছে, তাদের জন্য গভীর সমবেদনা জানাই। তাদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করছি আমি।’
রানি এলিজাবেথের এই বক্তব্যকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম প্রশংসা করেছে। দ্য টাইমস বলেছে, এর ফলে অ্যাংলো-আইরিশ সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়ে গেল। অন্যদিকে আইরিশ গণমাধ্যমে রানির এই সফরের ব্যাপক প্রশংসা করে বলা হয়েছে, স্বাধীনতাযুদ্ধে নিহত আইরিশদের স্মৃতিস্তম্ভে রানির শ্রদ্ধা নিবেদন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। অথচ কদিন আগেও এটা কল্পনা করা যেত না।
আয়ারল্যান্ড স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণ করছে। এ নিয়ে সেখানকার ভিন্নমতাবলম্বীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ১৯৯৮ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ড শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আইরিশ প্রেসিডেন্ট ম্যাকআলিস বলেন, ১৯২২ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ অধিরাজের আয়ারল্যান্ড সফর হলো ওই শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত সফলতা।

ইরাকে পৃথক তিনটি হামলায় ২৫ জন নিহত

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরকুকে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের ওপর তিনটি পৃথক হামলায় কমপক্ষে ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছে আরও ৭৯ জন। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
মেজর সালাম জানগান জানান, প্রথমে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের প্রধান পুলিশ কার্যালয়ে গাড়ি রাখার স্থানে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ ও জরুরি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার কিছুক্ষণের মধ্যে একটি গাড়িবোমারও বিস্ফোরণ ঘটে। কিরকুকের প্রাদেশিক স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক সাদিক ওমর রসুল জানান, বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পুলিশ সদস্য। একজন সাংবাদিক জানান, এ জোড়া হামলায় ঘটনাস্থলের কাছে থাকা পুলিশ ও বেসামরিক লোকজনের কয়েকটি গাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিরকুকে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল আরাস মোহাম্মদের গাড়িবহরের কাছে আরেকটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আরাসসহ তাঁর ১৩ জন দেহরক্ষী আহত হন।

আর্জেন্টিনায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২ আরোহী নিহত

আর্জেন্টিনায় গত বুধবার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর ২২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রিও নিগ্রো প্রদেশের পাতাগোনিয়া এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমান পরিচালনাকারী কোম্পানি সোল এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে শেষবারের মতো নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ হয়। এর পরই এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় একটি হাসপাতালের পরিচালকের বরাত দিয়ে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানের একজন আরোহীকেও জীবিত পাওয়া যায়নি। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে; পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সাব ৩৪০ বিমানটি রিও নিগ্রো প্রদেশের নিওকুয়েন ও কোমোডোরো রিভাডাভিয়া শহরের মধ্যে চলাচল করত। দুর্ঘটনার সময় এতে একটি শিশুসহ ১৯ জন যাত্রী ও তিনজন ক্রু ছিলেন।

চীন ৫০টি জেএফ-১৭ থান্ডার জঙ্গি বিমান দিচ্ছে পাকিস্তানকে

চীন শিগগির পাকিস্তানকে ৫০টি জেএফ-১৭ থান্ডার জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানি একজন কর্মকর্তা গত বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের ওই কর্মকর্তা জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা বিমানগুলো পেতে যাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবারই এ মর্মে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তান ও চীন এরই মধ্যে যৌথভাবে জেএফ-১৭ জঙ্গি বিমান তৈরি করছে। কিন্তু ইসলামাবাদকে যে ৫০টি জঙ্গি বিমান দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোয় অন্যগুলোর চেয়ে বেশি আধুনিক যন্ত্রাংশ থাকবে। কর্মকর্তা আরও জানান, চীনের অর্থায়নে নির্মিত এসব জঙ্গি বিমান পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর কৌশলগত দক্ষতা বাড়াবে এবং দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে জোরদার করবে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র হিসেবে পরিচিত।
এদিকে চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মাসুদ আহমেদ খান জানিয়েছেন, বেইজিং ইসলামাবাদকে ৪০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি সাহায্য দেবে। এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার হবে সহজ শর্তে ঋণ।

আর্জেন্টিনায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২ আরোহী নিহত

আর্জেন্টিনায় গত বুধবার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর ২২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রিও নিগ্রো প্রদেশের পাতাগোনিয়া এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমান পরিচালনাকারী কোম্পানি সোল এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে শেষবারের মতো নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ হয়। এর পরই এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় একটি হাসপাতালের পরিচালকের বরাত দিয়ে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানের একজন আরোহীকেও জীবিত পাওয়া যায়নি। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে; পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সাব ৩৪০ বিমানটি রিও নিগ্রো প্রদেশের নিওকুয়েন ও কোমোডোরো রিভাডাভিয়া শহরের মধ্যে চলাচল করত। দুর্ঘটনার সময় এতে একটি শিশুসহ ১৯ জন যাত্রী ও তিনজন ক্রু ছিলেন।

লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: মুন

লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে মানবিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে বান কি মুন বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ব্যাপারে লিবিয়ায় তাঁর বিশেষ দূত আবদুল ইল্লাহ আল খতিব খুব চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু অবিলম্বে তা কার্যকর করার ব্যাপারে গাদ্দাফিকে রাজি করানোর কোনো খবর এখন পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এদিকে মানবিক সংকট ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ওই শহরে মানবিক সংকট গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে মিসরাতা শহর অবরোধ করে রেখেছে গাদ্দাফির অনুগত সেনারা। এতে সেখানে খাদ্য, খাওয়ার পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে গাদ্দাফির সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে শত শত সেনা নিহত হয়েছেন। মিসরাতার অধিকাংশ বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত আল খতিব গত রোববার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে যান। সেখানে তিনি গাদ্দাফি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তবে আল খতিব লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
জাতিসংঘ গত বুধবার ৪০ দশমিক ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা তহবিলের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে ৩১ কোটি ডলার লিবিয়ার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য ব্যয় করা হবে। জাতিসংঘ জানায়, লিবিয়ায় সহায়তা হিসেবে পাঠানো বিভিন্ন স্থানে খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসার সরঞ্জাম কমে আসছে। পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাসমুসেনের দাবি: ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন গতকাল বলেছেন, গাদ্দাফির সেনাশক্তি দিন দিন কমে আসছে। এখন আমরা এর ফল দেখতে পারব। তিনি বলেন, লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধীদের শক্তি দিন দিন বাড়ছে। আমরা গাদ্দাফির ওপর চাপ অব্যাহত রাখব। রাসমুসেন বলেন, ‘সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ এবং বিরোধীদের শক্তি বৃদ্ধিতে গাদ্দাফির পতন অবশ্যম্ভাবী।’
আইসিসির চিঠি: আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলিদের কার্যালয় থেকে লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেললাতি লাবিদির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে লাবিদিসহ লিবিয়ার কর্তৃপক্ষকে বিচারের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লিবিয়ার সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, লিবিয়া কর্তৃপক্ষের বিচার করার এখতিয়ার ওই আদালতের নেই।
চার সাংবাদিকের মুক্তি: লিবিয়া চারজন সাংবাদিককে মুক্তি দিয়েছে। তাঁরা হলেন: যুক্তরাষ্ট্রের জেমস ফোলে ও ক্লেরে মরগানা গিলিস, যুক্তরাজ্যের নাইজেল চ্যান্ডলার ও স্পেনের মানু ব্রাবো। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাবোর মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাইজেলের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ব্রাজিলে আমাজন বন দ্রুত উজাড় হয়ে যাচ্ছে

ব্রাজিলে আমাজন বন দ্রুত উজাড় হয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সংগ্রহ করা নতুন তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা গেছে, গত এক বছরে ওই ক্রান্তীয়বনে অন্তত ৪৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উজাড় হয়েছে। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বন সংরক্ষণবিষয়ক নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এ তথ্য প্রকাশ করা হলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে উপগ্রহের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য থেকে দেখা যায়, বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তত ১০৩ বর্গকিলোমিটার বন উজাড় হয়েছে। এ বছরের একই সময়ে ধারণ করা চিত্র থেকে দেখা যায়, এর পরিমাণ বেড়ে ৫৯৩ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরেই বন উজাড় প্রায় ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করা হয়েছে মাতো গ্রোসো রাজ্যের বনাঞ্চল। ওই অঞ্চলটি দেশটির সয়া চাষের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত।
ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী ইসাবেলা তেইজেইরা বলেছেন, এ এক বিপদসংকেত। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো জুলাইয়ের মধ্যে বন উজাড় হ্রাস করা।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বনাঞ্চল বিনাশ করার এ নতুন তথ্য সরকারকে বিস্মিত করেছে।
গত ডিসেম্বরে সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আমাজন বন উজাড়ের ঘটনা কমে এসেছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই এ হার সবচেয়ে কম ছিল।

পর্তুগালের ফাইনাল জিতল পোর্তো

ইউরোপা লিগের ফাইনালটিকে পর্তুগিজ ফুটবলের আরেকটি সোনালি যুগের শুরু হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু ফাইনালটি মোটেই আনন্দদায়ী কিছু হয়নি। পোর্তো শিবির অবশ্য জয়ের আনন্দে বিভোর। শহরটির আকাশে-বাতাসে উড়ছে আনন্দরেণু। ফাইনাল যেমনই হোক, ব্রাহাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০০৩-এর পর আবার ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতেছে পর্তুগালের সফলতম দলটি।
বার্সেলোনার সাফল্য মানেই যেমন লিওনেল মেসি, এবার পোর্তোর সাফল্যেরও বিকল্প নাম হয়ে উঠেছেন রাদামেল ফ্যালকাও। পরশুর ৪২টি ফাউল আর ৮টি হলুদ কার্ডের ম্যাড়মেড়ে ফাইনালের নায়ক তিনিই। ৪৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে পোর্তোর জয়সূচক গোলটি করেছেন এই কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার। কোচ আন্দ্রে ভিলাস বোয়াসও তাই ম্যাচ শেষে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ফ্যালকাওকে, ‘দারুণ এক মৌসুম কাটাল রাদামেল। আজকের ফাইনালেও ও ছিল দুর্দান্ত।’
আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট থেকে ২০০৯ সালে পোর্তোতে যোগ দেওয়া ফ্যালকাও স্বপ্নের এক মৌসুমই কাটালেন। ‘আমি যখন হেডটি করি, তখন আমাকে অনেক শান্ত আর ধীরস্থির থাকতে হয়েছে। বাতাসে বলটি দেখতে পেয়েছিলাম। ঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাকে’—গোল করার মুহূর্তটির কথা মনে করে ফ্যালকাও বলেছেন তাঁর স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কথা, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন এটি। সেই ছেলেবেলা থেকে আমি এই স্বপ্নটাই দেখে এসেছি।’

সাকিব ফেরালেন সৌরভকে

পুনে ওয়ারিয়র্স বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স নয়, এই ম্যাচের নাম অনেক আগেই হয়ে গেছে সৌরভ বনাম কলকাতা ম্যাচ। এমন ‘উত্তপ্ত’ পরিস্থিতিতে ৫ ম্যাচ পর নাইট রাইডার্স একাদশে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রথম ওভারে বোলিং করেছেন সেই সৌরভকেই। দুবার অল্পের জন্য পার পেলেও ১৮ রান করে সাবেক কলকাতা অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন সাকিবের বলেই। মুম্বাইয়ের স্পিন উপযোগী উইকেটে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন সাকিব, ৪ ওভারের টানা স্পেলে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। সৌরভের দলও বেশি এগোতে পারেনি। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৮ রান তুলেছে তারা। ৩.২ ওভার ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কলকাতা। অপরাজিত ৫৪ রান (৪৬ বল) করেছেন ওপেনার গৌতম গম্ভীর। ২৩ রানে ২ উইকেট নেওয়া ম্যাচসেরা ইউসুফ পাঠান করেছেন ২৫ বলে ২৯ রান।

‘মুহূর্ত’টার জন্য নাদালের অপেক্ষা

আগের ছয় বছরে যে উপলব্ধি হয়নি, এবার সেটাই হুট করে চলে এসেছে সামনে। নিজের সবচেয়ে প্রিয় টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেনে এবার নিরঙ্কুশ ফেবারিট নন রাফায়েল নাদাল। দৃশ্যপটে যে নোভাক জোকোভিচ!
মৌসুমে এখন পর্যন্ত এই সার্বিয়ান অপরাজিত আছেন বলেই নয়, গত চারটি ফাইনালেই জোকোভিচের কাছে হেরেছেন। এর মধ্যে আছে মাটির কোর্টের মাদ্রিদ আর রোম ওপেনে পরাজয়ও। রোলাঁ গাঁরোতে গত ছয় বছরে পাঁচটি শিরোপাই জেতা নাদাল এবার তাই মানসিকভাবেও পিছিয়ে।
তবে এর কোনোটিকেই বাধা মনে করছেন না এই স্প্যানিয়ার্ড। বিয়ন বোর্গের ছয়টি ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা নাদাল বলছেন, ‘বড় চ্যাম্পিয়ন মানে কিন্তু এই নয় আপনি প্রতি সপ্তাহেই জিতবেন। বড় চ্যাম্পিয়ন সেই, যে কিনা অপেক্ষা করে সঠিক মুহূর্তটার।’
সেই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা এখন নাদালের, ‘আমাকেও আমার মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি সেটা ভালো করেই জানি।’ আর একবার সেই মুহূর্তটা পেয়ে গেলে আবারও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন বলে মনে করেন নাদাল।’ যে অপ্রতিরোধ্য চেহারাটা ফ্রেঞ্চ ওপেনেই বেশি করে ফুটে ওঠে তাঁর। ২০০৫ সাল থেকে মাত্র একবার হেরেছেন এখানে। ২০০৯-এ রবিন সোদারলিংয়ের কাছে হেরে যাওয়ার পর বাজে সময় যাচ্ছিল। ২০১০ সালে আবারও ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে শুরু হয় তাঁর জয়যাত্রা। বছরের শেষ তিনটা গ্র্যান্ড স্লামই ঘরে তোলেন নাদাল।
২০০৯ সালে নাদালের অকালবিদায় সুযোগ করে দিয়েছিল রজার ফেদেরারকে। সেবার আরাধ্য ট্রফিটায় চুমুও দিয়েছিলেন। এবার নাদালের কঠিন সময় শুধু জোকোভিচকে নয়, স্বপ্ন দেখাতে পারে ফেদেরারকেও!

বোয়াস

বেঁচে থাকলে স্যার ববি রবসন খুব খুশি হতেন। এই ভেবে ভালো লাগত, ১৭ বছর আগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মধ্যে ভবিষ্যতের যে ছবি দেখতে পেয়েছিলেন, সেটি সত্যি হয়েছে কাঁটায় কাঁটায়। সেদিনের সেই কিশোর পরশু গড়লেন ইতিহাস। সবচেয়ে কম বয়সী কোচ হিসেবে উয়েফার যেকোনো ক্লাব প্রতিযোগিতা জেতার রেকর্ড গড়লেন আন্দ্রে ভিলাস বোয়াস।
পোর্তোর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বছরেই লিগ আর ইউরাপো লিগ জিতিয়েছেন। আগামী রোববার কাপ ফাইনালেও জিতলে প্রথম বছরেই ‘ট্রেবল’ জয়ের কৃতিত্ব থাকবে এই ৩৩ বছর বয়সীর। অথচ বোয়াস পেশাদার ফুটবল খেলেননি কখনোই।
খেলবেন কী করে, তিনি যে কোচই হতে চেয়েছিলেন। কোচ হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে সেই কৈশোরেই দেখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন রবসন। দুই বছর আগে প্রয়াত এই ইংলিশ কোচ তখন পোর্তোর দায়িত্বে ছিলেন। রবসন আর বোয়াসের বাসা ছিল পাশাপাশি। প্রায়ই ফুটবলের এটা-সেটা নিয়ে রবসনের সঙ্গে বিতর্কে নামতেন পুঁচকে বোয়াস। এবং কী আশ্চর্যের, সেই তর্কযুদ্ধে যুক্তিধারে মাঝেমধ্যে রবসন হেরেও যেতেন!
এমনই এক বিতর্কে হেরে যাওয়ার পর ১৬ বছর বয়সী বোয়াসকে নিজের সহকারীদের একজন করে নেন রবসন। কী নিয়ে হয়েছিল বিতর্কটা? বোয়াস যুক্তির ধার দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, রবসনের উচিত আরও বেশি করে ডমিঙ্গোসকে খেলানো। কাকতালীয় ব্যাপার হলো, পরশু এই ডমিঙ্গোসই কিন্তু প্রধান কোচ হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রাহার ডাগ-আউটে!
রবসনের অধীনে কাজ শুরু করার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই উয়েফার ‘সি’ কোচিং লাইসেন্স পেয়ে যান। বয়স তখন ১৭ পেরোয়নি। কোচ হিসেবে অভিষেক ভার্জিন আইল্যান্ডের হয়ে। তখনো তাঁর বয়স মাত্র ২১। তবে খুব বেশি দিন এই দলের হয়ে কাজ করেননি। রবসনেরই আরেক শিষ্য হোসে মরিনহো তাঁকে ডেকে নেন পোর্তোতে সহকারী হিসেবে কাজ করার জন্য। মরিনহোর সহকারী হিসেবে চেলসি এবং পরে ইন্টার মিলানেও কাজ করেছেন। পোর্তোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন গত বছর জুনে।
মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট পর্তুগিজ সুপার কাপ জিতেই শুরু করেন স্মরণীয় মৌসুম। এরপর পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেন লিগ শিরোপা। আর পরশু এল ইউরোপা লিগ। আগামী পরশু কাপও জিতবেন হয়তো। তা হলে সেটি হবে তাঁর পঞ্চম শিরোপা। এমন সাফল্য দিয়ে হোসে মরিনহোও শুরু করতে পারেননি। পেরেছিলেন পেপ গার্দিওলা।
পরশু ইউরোপা লিগ জেতার পর বোয়াস তাঁর ধন্যবাদের লম্বা তালিকায় রেখেছেন ববি রবসন, মরিনহো, গার্দিওলার নাম। রবসনের কাছে তাঁর প্রথম দীক্ষা, ক্লাব ফুটবলের সত্যিকারের মানচিত্র তাঁকে চিনিয়েছেন মরিনহো, আর কোচিং স্টাইলে বোয়াস আদর্শ মানেন গার্দিওলাকে। পরশু বললেন, ‘আমি এই জয় আমার সহকারীদের, খেলোয়াড়দের আর সমর্থকদের উৎসর্গ করছি। পেপ গার্দিওলাকেও ধন্যবাদ জানাই। মরিনহোকে, যিনি আমাকে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এটা আমি তাঁকেও উৎসর্গ করছি। আরও একজনের কথা বলতে চাই, যিনি আর আমাদের মাঝে নেই—স্যার রবসন। আমার ক্যারিয়ারের পথটা যিনি গড়ে দিয়েছিলেন।

কেন এই বিদেশি?

পরদিন স্বাধীনতা কাপের ফাইনাল। কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে এসেছে ফরাশগঞ্জ। ‘মোজেস, মোজেস কই?’ কোচ মুঠোফোনে ফোন করলেন। ও প্রান্ত থেকে মোজেস জানালেন, তিনি গুলিস্তানে। ‘জলদি আসো’—কোচের নির্দেশ পেয়ে নাইজেরিয়ার ফুটবলারটি এলেন। অনুশীলনের পোশাকও তাঁর সঙ্গে ছিল না। শেষমেশ মোজেস অনুশীলন করেছেন।
দলের ঐতিহাসিক এই ফাইনালের আগের দিনও একজন বিদেশি খেলোয়াড়কে ফোন করে অনুশীলনে আনতে হয়! এটা একটা প্রতীকী ব্যাপার। বাংলাদেশে এখন খেলতে আসা বিদেশি ফুটবলারদের বেশির ভাগই বিচিত্র সব ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন। অনেকে চলেন খেয়াল-খুশিমতো। ঠিকমতো অনুশীলন করেন না। এ ক্ষেত্রে অনেক ফুটবলারের বক্তব্য, ‘টাকা-পয়সা ঠিকভাবে না পেলে খেলায় মনোযোগ দিই কীভাবে?’
যুক্তিসিদ্ধ প্রশ্ন, তবে এই ফুটবলারদের নিয়ে আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি গুরুতর অভিযোগই তুলছেন, ‘দু-একজন বাদে যেসব আফ্রিকান খেলোয়াড় খেলছে এ দেশে, তাদের কোনো স্কিল নেই। শারীরিক শক্তি কাজে লাগিয়ে মাঠে যা খুশি করে। আমি বলব, ওরা (রেফারি এবং বিদেশি ফুটবলাররা) এ দেশের ফুটবলকে হত্যা করছে।’
এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রায় সবাই। চলমান বাংলাদেশ লিগের শীর্ষ দল মুক্তিযোদ্ধার কোচ মারুফুল হক যেমন বলছেন, ‘আবাহনী কোচের বক্তব্যের সঙ্গে আমি অনেকাংশেই একমত। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে এখন আসা আফ্রিকান ফুটবলারদের শরীর ছাড়া আসলে আর কিছুই নেই।’
সমস্যাটা হচ্ছে, এদের সংখ্যাটা বাড়ছেই। শেখ জামাল জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় নিয়ে গেছে, তাই বিদেশি কোটা বাড়াও—ক্লাবগুলোর এই আবদার মিটিয়ে এবার গোলরক্ষকসহ বিদেশি কোটা করা হয়েছে পাঁচজন! মজার ব্যাপার, সেই শেখ জামালও পাঁচজন বিদেশি নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় অনেক প্রথম সারির খেলোয়াড়কে বেঞ্চে ঠেলে এবার ১২ দলে ৫৫ জন বিদেশি নিবন্ধিত!
৯০ শতাংশই আফ্রিকান। তুলনামূলক গড়পড়তা মানে আবাহনী একটু ‘ভালো’ খেলোয়াড় আনছে। অন্য বড় দলগুলোতেও ব্রাজিলিয়ানসহ আরও দু-তিনজন তুলনামূলক ভালো ফুটবলারের দেখা মিলছে। তাঁদের কয়েকজনকে ৫ নম্বর দিলে বাকিরা পাবেন ২ নম্বর। অতিনিম্নমানের গা-জোয়ারি ফুটবল খেলছেন তাঁরাই।
কেন এই ‘নিম্নমানের’ বিদেশি? দীর্ঘ অভিজ্ঞতার শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরীর ব্যাখ্যা, ‘ভালো মানের বিদেশি স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে খেলতে আগ্রহী হবে না। তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকও দিতে সক্ষম নই আমরা। তবে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যমানের ফুটবলার এনেই যেহেতু আমাদের ক্লাবগুলো ফল পায়, তাই তাদেরই আনে।’ যোগ করলেন আরও, ‘আবাহনী কোচের সঙ্গে আমি খানিক দ্বিমত করব। ভুলে গেলে চলবে না, এখনকার ফুটবল শরীরনির্ভরই হয়ে পড়েছে।’
যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক, অবস্থা এমন, পায়ের কারুকাজসম্পন্ন ফুটবলাররা বাংলাদেশে এসে খাপ খাওয়াতে পারেন না। সদ্য বাংলাদেশে আসা আবাহনীর ইরানি মিডফিল্ডার সেজাদির অভিজ্ঞতা শুরুতে খুবই খারাপ, ‘এ দেশে ফাউল ছাড়া আর কিছু নেই। প্রথম ম্যাচটায় চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিদেশিরা আমার হাত-পা ভেঙে নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। আমাকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়েছে!’
অনেক দলে বিদেশিদের শৃঙ্খলার বালাই নেই। বিদেশিরা টাকা পায় না ঠিকমতো। মোহামেডানের মতো ক্লাবে বিদেশিদের টাকা নিয়ে কত কাণ্ডই না হয়েছে। তাই এরা খেপ খেলে বেড়ায়। পাশাপাশি তৈরি করে অনেক সামাজিক সমস্যা।
এই খেলোয়াড়দের নিয়েই ‘বসবাস’ করা ছাড়া উপায় দেখছেন না চট্টগ্রাম মোহামেডানের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ। কাল কক্সবাজার থেকে ফোনে বললেন, ‘কম টাকায় নিম্নমানের বিদেশি না এনে উপায় নেই। অন্যরা আনে তাই আমরাও আনি। অন্য দলের শরীরনির্ভর বিদেশির সঙ্গে আমাদের স্থানীয়রা তো পারবে না। এদের মধ্যে ফুটবলের “ফ”-ও নেই।’
ঢাকায় খেলা বিদেশিদের অন্যতম কাজ নিজের ভালো একটা গোলের বা ম্যাচের ভিডিও জোগাড় করা, যাতে সেটি দেখিয়ে অন্য কোনো দেশে সুযোগ পাওয়া যায়। ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান এ দিকটি উল্লেখ করে সমস্যার গভীরে যেতে চাইলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় আনতে হলে এখানে আর্থিক সংকট কাটাতে হবে। খেলার ধারাবাহিকতা রাখা চাই। সেটা তো নেই।’
তাহলে কি এভাবেই চলবে? আবাহনীর অন্যতম পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদের উত্তর, ‘আমরা চেষ্টা করি ভালো খেলোয়াড় আনতে। আরও ভালো খেলোয়াড় আনা দরকার।’ বিদেশি খেলোয়াড়ের ব্যাপারে একটা মানদণ্ড কি করা উচিত নয়? বাফুফের সহসভাপতি ও বাংলাদেশ লিগ কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে নাবিল আহমেদ বলছেন, ‘অবশ্যই উচিত। আগামী মৌসুমে একটা মানদণ্ড করা যেতে পারে।’
এখন বিদেশিদের ব্যাপারে বাফুফে একটা ফিটনেস টেস্ট নেয়। একটা মানদণ্ড কি ঠিক করবে?

আবারও ফ্যাব্রিগাসের পেছনে বার্সা

বিশ্বকাপের পর থেকেই আর্সেনাল অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাসকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুম শেষ হওয়ার পর আবার এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কাতালানরা। ফ্যাব্রিগাসকে পেতে দুজন খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ ২৬ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতেও রাজি আছে স্প্যানিশ লিগ জয়ীরা।
২৮ মে ইউরোপসেরার লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এই ম্যাচের পরপরই তারা ফ্যাব্রিগাসকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা শুরু করবে বলে জানা গেছে। তবে মাঝমাঠের প্রধান ভরসা ফ্যাব্রিগাসকে খুব সহজে ছাড়তে রাজি হচ্ছে না আর্সেনাল। তবে শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হলেও ফ্যাব্রিগাসের জন্য ৪৫ মিলিয়ন ইউরো দাবি করবে তারা। যদিও ফ্যাব্রিগাসকে কোনো মতেই হাতছাড়া করতে চান না আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। তিনি বলেছেন, ‘আমি ফ্যাব্রিগাসকে আর্সেনালেই দেখতে চাই। আর তাকে রাখার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তাঁর মতো উঁচুমানের ফুটবলারকে দলে রাখার জন্য যে কেউ-ই সেটা করবে।

এখন বেলিসেই বেশি আগ্রহ

মিক নিউয়েলের নামটা কাটাই গেল শেষ পর্যন্ত। একে তো দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব নিতে অপারগ এই ইংলিশ কোচ, তার ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতাও নেই। জাতীয় দলের কোচের সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাই নিউয়েলকে আর রাখছে না বিসিবি। সে জায়গায় ভালোভাবেই চলে আসছে ট্রেভর বেলিসের নাম। এমনকি স্টুয়ার্ট ল ও গ্রাহাম ফোর্ডকে ছাপিয়ে শ্রীলঙ্কার এই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রতিই বিসিবির আগ্রহটা এখন বেশি।
ব্যক্তিগত সফরে ইংল্যান্ডে গিয়ে কোচ খোঁজার কাজটাও এগোচ্ছেন বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস। কাল লন্ডন থেকে টেলিফোনে জানালেন, ‘ট্রেভর বেলিস, স্টুয়ার্ট ল কিংবা গ্রাহাম ফোর্ডের কাউকেই আমাদের হেড কোচ হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছা। সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য যাঁকে ভালো মনে হবে তাঁকেই আমরা কোচ হিসেবে পেতে চাইব।’
জানা গেছে, ল আর ফোর্ড নিজ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বেলিস বাংলাদেশের কোচ হতে আবেদন করেননি, জীবনবৃত্তান্তও পাঠাননি। তাঁর প্রতি আগ্রহটা বিসিবির। ইংল্যান্ডে গিয়ে জালাল ইউনুস যাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, সবাই নাকি একবাক্যে ফোর্ডের পক্ষেই মত দিয়েছেন। ফোর্ডের যোগ্যতা ও সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই বোর্ডেরও। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচের ‘অতি হাই প্রোফাইল’ তকমাটাকেই ভয়। তা ছাড়া বড় কোচ হওয়ায় ফোর্ডের চাহিদাও ‘বড়’ হবে স্বাভাবিক। আর স্টুয়ার্ট লর সম্ভাবনা আছে পাকাপাকিভাবে শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে যাওয়ার। এসব বিবেচনায় বোর্ডের আগ্রহ এখন ঘুরে গেছে ৪৮ বছর বয়সী বেলিসের দিকে, এমন আভাস দিলেন জালাল ইউনুসও।
তবে আলোচনায় যেহেতু সমস্যা নেই, জালাল ইউনুস বেলিস-ফোর্ড-ল—কাউকেই এখনো বাতিল করছেন না। আগামীকাল ইংল্যান্ডে এই তিন কোচের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা তাঁর, ‘কোচদের প্রতিনিধির সঙ্গে শনিবারে (আগামীকাল) অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। বিসিবি কী চায়, কী দিতে পারবে, সেসব ব্যাপারে প্রতিনিধিকে ধারণা দেওয়া হবে। তাঁরা সেসব কোচদের জানাবেন।’ উস্টারশায়ারের সঙ্গে চুক্তিতে সাকিব আল হাসানের যে এজেন্ট ছিলেন, সেই রিচ হাডসনই ফোর্ড-ল’দের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন এবার। তবে বেলিসের এজেন্ট ভিন্ন।
এর আগে হেড কোচের পাশাপাশি আলাদা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোচ নেওয়ার কথা বলা হলেও সে চিন্তা থেকে সরে এসেছে বিসিবি। ব্যাটিং বিশেষজ্ঞ কাউকে হেড কোচ হিসেবে পেলে আলাদা করে আর ব্যাটিং কোচ নেওয়া হবে না বলে জানালেন জালাল ইউনুস। তবে নেওয়া হবে বোলিং এবং ফিল্ডিং কোচ। জানা গেছে, বোলিং কোচ হিসেবে বিসিবির প্রথম পছন্দ দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালান ডোনাল্ড। কিন্তু নিউজিল্যান্ড দলের বোলিং কোচ হিসেবে সাবেক এই ফাস্ট বোলারের চুক্তি আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন হওয়ায় বিসিবি এখন হাত বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পির দিকে। বর্তমানে আইপিএলের দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন গিলেস্পি।
আগে হেড কোচ আর বোলিং কোচ, ফিল্ডিং কোচ খোঁজার কাজটা এর পরই করতে চায় বিসিবি। জুলিয়েন ফাউন্টেনকে দেখার অভিজ্ঞতায় এবারও এই দায়িত্বটি দেওয়া হতে পারে বেসবল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকে। আর ফিজিও হিসেবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আগেও কাজ করা দক্ষিণ আফ্রিকান ড্যারেন লিফসনকে। লিফসনও ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশে।

কাকা নেই ব্রাজিলের কোপা আমেরিকা মিশনে

২০১০ বিশ্বকাপ খুব একটা ভালো কাটেনি ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকার। এরপর ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন তাঁকে থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। অল্প কিছুদিন আগে তিনি আবার ফিরেছেন ক্লাব ফুটবলের আসরে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন আবারও একটা হতাশাপূর্ণ সময় কাটাতে হবে এই মিডফিল্ডারকে। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার লড়াইটা তাঁকে দেখতে হবে দর্শক হিসেবেই। কারণ, বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের নতুন কোচ মেনো মেনজেসের কোপা আমেরিকা দলে জায়গা হয়নি তাঁর। ব্রাজিলের আরেক তারকা মিডফিল্ডার রোনালদিনহোও সুযোগ পাননি এই ২৮ জনের প্রাথমিক দলে।
কাকাকে মূলত ইনজুরির কারণেই বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেনজেস। গতকাল দল ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে কাকার আরও অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। কোপা আমেরিকা চলার সময়ও তাকে এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। আমরা এটা নিয়ে ইতিমধ্যেই কথা বলেছি এবং এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।’
ব্রাজিল দল: ভিক্টর, জেফারসন, জুলিও সিজার, ফ্যাবিও, লুসিও, মাইকন, থিয়াগো সিলভা, ডেভিড লুইস, লুইসাও, আন্দ্রে সান্তোস, ডানিয়েল আলভেজ, আদ্রিয়ানো, লুকাস, লুকাস লেইভা, এলানো, এলিআস, হেনরিকে, জাডসন, রামিরেস, সান্দ্রো, থিয়াগো নেভেস, অ্যান্ডারসন, আলেক্সান্দ্রে পাতো, রবিনহো, নেইমার, নিলমার, ফ্রেড, লিওনার্দো ডামিয়ানো।

ওয়াটসন ‘ঝড়ে’ রাজস্থানের শেষ

ওয়াটসন ‘ঝড়’ নতুন নয়। ৪৭ বলে ৮৯ রান! ৯ চার আর ৬ ছয়—এমন ঝড় চলতি আসরে আগেও বইয়ে দিয়েছেন এই অসি ব্যাটসম্যান। আইপিএলের চতুর্থ আসর থেকে দলের অকাল বিদায় ঠেকাতে পারেননি ঠিক, তবে আজ শুক্রবার দলের বিদায়ী ম্যাচে ব্যাটে ঝড় তুলে রাজস্থান রয়্যালসকে ঈর্ষণীয় এক জয় এনে দিয়েছেন শেন ওয়াটসন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে রোহিত শর্মার ৫৮ রানের উপর মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৩৩ রান। সহজ লক্ষ্যের শুরুতেই ওয়াটসন ঝড়। ইনিংসের শেষ পর্যন্তও সেই ঝড় থামাতে পারেননি মুম্বাইয়ের বোলাররা। যার পরিণতি—মাত্র ১৩.১ ওভারেই শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাইয়ের হার ১০ উইকেটে!
আইপিএলে এটাই ছিল শেন ওয়ার্নের শেষ ম্যাচ। স্বদেশি কিংবদন্তির বিদায়কে স্মরণীয় করতেই কিনা আগ্রাসী রূপটা দেখিয়ে দিলেন ওয়াটসন! ১৩৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একাই করলেন অপরাজিত ৮৯ রান। অন্য প্রান্তে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকলেন আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়। বিদায় বেলায় রাজস্থান বা ওয়ার্নের এর চেয়ে মধুর প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
আজ শুক্রবার পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে চেন্নাই। দলটির অর্জন ১৮ পয়েন্ট। এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে বেঙ্গালুরুর অবস্থান দ্বিতীয়। কলকাতা ও মুম্বাই উভয়ের অর্জন ১৬ পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় তৃতীয় স্থানে কলকাতা, আর মুম্বাই চতুর্থ।

শচীন-ওয়ার্নের শেষ দ্বৈরথ!

কত রূপকথার জন্ম দিয়েছেন—ব্যক্তিগত দিক থেকে বটেই, মুখোমুখি লড়াইয়েও। একজন ব্যাটিং কিংবদন্তি, অন্যজন কিংবদন্তি স্পিন রাজত্বে। দুই মেরুর দুই তারকা শচীন টেন্ডুলকার ও শেন ওয়ার্ন লড়ছেন নিজেদের শেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে!
সামনে দীর্ঘ সময়, এখনই কি শেষ বলে দেওয়া ঠিক হবে? প্রশ্নটা করতেই পারেন অনেকে। তার পরও বলব, এই দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের দ্বৈরথের শেষ চিত্রনাট্যটা মঞ্চস্থ হয়েছে মুম্বাইয়ে। পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিকে থাকায় আজ শেষ হতে চলেছে রাজস্থান রয়্যালসের আইপিএল আসর। শেষ হতে চলেছে চার বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ওয়ার্নের আইপিএল অধ্যায়ও। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে ওয়ার্নের দ্বৈরথটা তাই ‘শেষ’ বলে দেওয়াই ভালো।