Tuesday, February 9, 2010

এবার দুঃখ প্রকাশ করলেন জুমা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা প্রেমিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও তাঁর গর্ভে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনায় এবার দুঃখ প্রকাশ করলেন। দেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জুমা জাতির উদ্দেশে এক বিবৃতিতে ওই দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট জুমা এক বিবৃতিতে স্বীকার করে নিয়েছিলেন, সোনোনো খোজা (৩৯) নামের এক নারীর সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর তাঁর যে মেয়েসন্তানটি জন্ম নেয়, সেটির বাবাও তিনি। ওই খবরের পর দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী জুমা।
কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার গণমাধ্যমে বড় খবর ছিল প্রেসিডেন্ট জুমার পঞ্চম বিয়ে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই খবর বেরোয় প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রেমিকা সোনোনোর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক গড়েছিলেন। সেই সম্পর্ক থেকে সোনোনোর গর্ভে ওই সন্তান জন্ম নিয়েছে। এটি প্রেসিডেন্টের ২০তম সন্তান।
জোর বিতর্কের একপর্যায়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জুমার তীব্র সমালোচনা করে বলে, দেশের এইচআইভি/এইডসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরকার জনগণের কাছে অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চলার যে বার্তা দিয়েছে, জুমার কর্মকাণ্ড সেই নীতির বিরোধী।
বিতর্ক চাপা দিতে প্রেসিডেন্ট জুমা তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিবার, রাজনৈতিক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি), সরকারের মিত্র এবং সর্বোপরি দেশবাসীকে যে কষ্ট দিয়েছি, এর জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত।’

হাইতিকে দেওয়া ঋণ মওকুফের অঙ্গীকার করেছে জি-৭

বিশ্বের শীর্ষ সাতটি শিল্পোন্নত দেশ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতিকে দেওয়া ঋণ মওকুফ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। কানাডার উত্তরাঞ্চলে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর দুই দিনব্যাপী বৈঠকের পর গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার অর্থমন্ত্রী জিম ফ্লাহার্টি এ কথা জানান। তিনি বলেন, জি-৭ হাইতিতে তাদের সমস্ত দ্বিপক্ষীয় ঋণ মওকুফ করে দেবে।
কানাডার অর্থমন্ত্রী বলেন, হাইতিতে গত ১২ জানুয়ারি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে জি-৭। ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র-এই সাতটি শিল্পোন্নত দেশের কাছে হাইতির ঋণ তুলনামূলক কম। তার পরও দেশটির বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৯ কোটি ডলার। এ ঋণের শতকরা ৪১ ভাগ ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং ২৭ ভাগ বিশ্ব ব্যাংক দাবিদার।
গত বছরের জুন মাসে প্যারিস ক্লাব হাইতিতে তাদের ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঋণ মওকুফ করে। ফ্রান্স পর্যায়ক্রমে হাইতির ঋণ মওকুফ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১২ জানুয়ারি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ফ্রান্স হাইতির কাছে পাওনা পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর পুরোটাই মওকুফ করে।
হাইতির উদ্বাস্তুশিবিরে ধর্ষণ ঠেকাতে কড়া পাহারা
হাইতির আশ্রয় শিবিরে নারী ও মেয়েশিশুরা যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এ সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মীরা। আশ্রয়শিবিরগুলোয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ধর্ষণ ঠেকাতে কোনো কোনো আশ্রয়শিবিরে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে।
১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করার পর তার উদ্ধারকারী তাকে ধর্ষণ করেছে—এমন সংবাদ ইতিমধ্যে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এমন আরও অনেক খবর থেকে যাচ্ছে আড়ালে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বজন হারানো নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তার প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, আশ্রয়শিবিরে এমন অনেক নারী ও মেয়েশিশু রয়েছে, যাদের পরিবারের পুরুষ সদস্য বলতে কেউ নেই। ভূমিকম্পে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়া এসব নারী ও শিশু এখন ধর্ষণ-আতঙ্কে ভুগছে। রাত নেমে আসার পর তারা আশ্রয়শিবিরের বাইরে যেতে সাহস পায় না। এমনকি খাবার সংগ্রহ করতেও না। আশ্রয়শিবিরের ভেতরও তারা কতটা নিরাপদ—এই ভয় সব সময় তাদের তাড়া করছে। আক্রমণ প্রতিহত করতে অনেক মেয়ে জিনস পরতে শুরু করেছে। তারা হাতের কাছে লোহার রড কিংবা ছুরি রাখছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির (আইআরসি) সন্ত্রাসবিষয়ক কো-অর্ডিনেটর সারাহ স্পেন্সার হাইতির ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত পোর্ট অ প্রিন্সে দুই সপ্তাহ আগে পৌঁছান। তিনি বলেন, হাইতিতে নারী ও মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার আগেও হতো। কিন্তু এখন এই সংখ্যা বেড়ে গেছে।
পোর্ট অ প্রিন্সের অদূরের টি-সোর্স ক্যাম্পে তিন হাজার শরণার্থী রয়েছে। সেখানে পুরুষ সদস্যরা পালাক্রমে সশস্ত্র পাহারা দিচ্ছে। মার্টিন জোসিল (২৪) বলেন, ‘ভূমিকম্পে সব হারিয়ে আশ্রয়শিবিরে উঠেছি। সেই থেকে আমরা রাস্তায় ঘুমাই। অনেকের মুখে মুখে ফিরছে ধর্ষণ ও ডাকাতির খবর। এতে ভয় হয়। আমরা ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে পাহারা বসিয়েছি। নারী ও পুরুষের পাঁচ সদস্যের একটি করে দল পালাক্রমে পাহারায় থাকে। অন্যরা ঘুমায়।’

ব্রিটিশ জ্যাজশিল্পী ড্যাংকওয়ার্থের জীবনাবসান

ব্রিটেনের প্রখ্যাত জ্যাজসংগীতের শিল্পী জন ড্যাংকওয়ার্থ আর নেই। কয়েক মাস অসুস্থ থাকার পর লন্ডনের এক হাসপাতালে শনিবার মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। উল্লেখ্য, সংগীতশিল্পী ক্লিও লেইন তাঁর স্ত্রী। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। খবর এএফপি।
জন ড্যাংকওয়ার্থ সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি স্যাক্সোফোন ও বাঁশি বাজাতেন।
১৯২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন ড্যাংকওয়ার্থ। যখন তাঁর বয়স ১৭ তখন তিনি লন্ডনের রয়াল একাডেমি অব মিউজিকে লেখাপড়া করতে যান। তিনি ড্যাংকওয়ার্থ সেভেন নামে ১৯৫০ সালে একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলেন। তাঁর এ দলটি খুব শিগগিরই ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ জ্যাজ গ্রুপে পরিণত হয়। এর তিন বছর পর তিনি একটি বড় ব্যান্ড দল গঠন করেন। তিনি প্রায় ২০ বছর এই দলের নেতৃত্ব দেন।

নিউ অরলিন্সে ৩২ বছর পর শ্বেতাঙ্গ মেয়র নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে ৩২ বছরের মধ্যে এই প্রথম একজন শ্বেতাঙ্গ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নাম লেফটেন্যান্ট গভর্নর মিচ ল্যান্ড্রিউ। তিনি বিদায়ী মেয়র রে নাগিনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত শনিবার তিনি নির্বাচিত হন।
বিদায়ী মেয়র নাগিন একজন আফ্রিকান আমেরিকান। তিনি নিউ অরলিন্সে ২০০৫ সালে ঘূর্ণিঝড় ক্যাটরিনার আঘাতের পর পুনর্গঠনে বিচক্ষণতার পরিচয় না দেওয়ায় জনপ্রিয়তা হারান। ডেমোক্র্যাট ল্যান্ড্রিউর বাবা মুন ল্যান্ড্রিউ ১৯৭৮ সালে সেখানকার মেয়র ছিলেন।
উল্লেখ্য, শহরটিতে মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৬১ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। এর আগে ল্যান্ড্রিউ ২০০৬ সালের নির্বাচনে নাগিনের কাছে হেরে যান। নাগিন এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
নির্বাচন শেষ হওয়ার ৩৫ মিনিট পর সিবিএস কার্যালয় ল্যান্ড্রিউকে বিজয়ী ঘোষণা করে বলেছে, প্রধান পাঁচ প্রার্থীর চেয়ে তিনি অনেক ভোটে এগিয়ে আছেন। ল্যান্ড্রিউ ৬৪ শতাংশ বেশি ভোট পান।

বারলুসকোনি-গেটস বৈঠক অনুষ্ঠিত

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের মধ্যে গত শনিবার রোমে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আফগানিস্তান ও হাইতি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে বলে সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে রবার্ট গেটস ইতালি সফরে যান। আজ সোমবার পর্যন্ত তিনি রোমে অবস্থান করবেন। ন্যাটো ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও হাইতি ও আফগানিস্তান বিষয়ই আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানে ইতালি সেনা বৃদ্ধি ও ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত হাইতিতে সাহায্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বারলুসকোনিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গেটস।

প্রেসিডেন্ট মুগাবের একজন নিরাপত্তারক্ষীর জন্য দৈনিক বরাদ্দ ৫০০০ মার্কিন ডলার

দেশে চলছে ভয়াবহ মুল্যস্ফীতি। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। দেশবাসীর দৈনিক গড় আয় এক মার্কিন ডলারেরও কম। এ অবস্থায় সেই দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের নিরাপত্তায় নিয়োজিত একেকজন কর্মকর্তার জন্য দৈনিক ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণের কথা শুনলে যে কেউ থ হয়ে যাবেন। সাম্প্রতিক এক খবরে বলা হয়েছে, জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের নিরাপত্তারক্ষীদের প্রত্যেকের জন্য দৈনিক ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার করে। গত বছর বিদেশে সফরের সময় মুগাবের নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ওই ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এ মাসে প্রেসিডেন্ট মুগাবে ৮৬ বছরে পা দেবেন। গত বছরের শেষ দিকে তিনি সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও ডেনমার্ক সফর করেন। ওই সফরে তাঁর নিরাপত্তায় ছিল দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইওর সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল। তারা অগ্রবর্তী দল হিসেবে দেশ তিনটিতে যায়। ১০ দিনের ওই সফরে তাদের প্রত্যেকের জন্য পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নগদ অর্থে ওই বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো দেশেই পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার একটি বড় অঙ্কের অর্থ। আর্থিক মন্দায় নিমজ্জিত জিম্বাবুয়ের জন্য তো বটেই। কারণ ওই দেশে একজন শিক্ষকের দৈনিক গড় আয় পাঁচ মার্কিন ডলার আর সাধারণ মানুষের গড় আয় এক ডলারেরও নিচে।

সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নেতিয়ে পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকজোট বামফ্রন্ট। বিশেষ করে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০০৯ সালের লোকসভা ও পৌরসভার নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ে রাজ্যবাসীর মনে এমন ধারণা জন্মে যায় যে বামফ্রন্টের বুঝি দিন শেষ হয়ে আসছে। সামনের দিন বুঝি তৃণমূল কংগ্রেসের।
তবে তৃণমূলের এই উত্থানকে তেমন আমল না দিয়ে গতকাল রোববার কলকাতায় এক মহাসমাবেশ করে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে বামফ্রন্ট বুঝিয়ে দিল তারা ফুরিয়ে যায়নি। জ্যোতি বসুহীন বামফ্রন্ট আবার চাঙ্গা হয়েছে, জ্যোতি বসুর দেখানো পথেই। সামনের দিন বামফ্রন্টেরই।
গতকাল দুপুরে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজন করা হয় এই মহাসমাবেশের। এই সমাবেশে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে যোগ দেয় হাজারও মানুষ। বামফ্রন্টের দাবি এই সমাবেশে নয় থেকে ১০ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছে।
সমাবেশে বামফ্রন্ট নেতারা জানান, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই রাজ্যে ১৭৮ জন বাম নেতা ও কর্মী বিরোধীপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন। নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে অবিলম্বে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা মাওবাদীদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তুলে বলেন, এই অশুভ আঁতাতকে ভেঙে এই রাজ্যে শান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে বামফ্রন্টের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে। তাঁদের বোঝাতে হবে এই রাজ্যে বামফ্রন্টের বিকল্প কেবল বামফ্রন্টই। তাঁরাই পারবে এই রাজ্যে স্থিতিশীল শাসন দিতে। তাই বামফ্রন্টের পতাকাতলে সমবেত হয়ে জ্যোতি বসুর আদর্শ বাস্তবায়নের দাবি জানান তাঁরা।
মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিএমের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মঞ্জু কুমার মজুমদার, আরএসপির কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষিতি গোস্বামী, ফরোয়ার্ড ব্লকের কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্য সম্পাদক অশোক ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ আমিন প্রমুখ নেতারা।

চীনে ডাইনোসরের কয়েক হাজার পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেছে

প্রত্নতত্ত্ববিদেরা চীনে ডাইনোসরের তিন হাজারের বেশি পদচিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। গত শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়েছে, চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শ্যানডং প্রদেশের ঝুচেং শহরে প্রায় ৩০টি খনন এলাকায় এসব পদচিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবরে বলা হয়, ওই সব এলাকায় কমপক্ষে ছয় প্রজাতির ডাইনোসরের পদচিহ্ন রয়েছে। পদচিহ্নগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। এগুলোর মধ্যে কোয়েলুরোসরস, হ্যাডরোসরস ও টাইরানোসোরসের মতো ডাইনোসরের পদচিহ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পদচিহ্নগুলো ১০ কোটি বছরের বেশি পুরোনো। তিন মাসের খননকাজ শেষে এ পদচিহ্নগুলোর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ওয়াং হাইজুন বলেন, পদচিহ্নগুলো একই দিকে মুখ করে রয়েছে। এগুলো দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তৃণভোজী ডাইনোসরগুলো শিকারিদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে রওনা হয়েছিল অথবা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাচ্ছিল। ডাইনোসরের এত পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়ায় ঝুচেং শহর এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘ডাইনোসর সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

মেয়ের স্মৃতি মনে আসতেই কেঁদে ফেললেন ব্রাউন

প্রথম সন্তান জেনিফারের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। চাপা স্বভাবের ব্রাউনের আবেগের এই প্রকাশ ঘটেছে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে। টেলিভিশনে একটি সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠানে আলাপ করতে গিয়ে ছেলে ফ্রেজারের জীবনকাল নিয়েও মর্মবেদনার কথা প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর স্ত্রী সারাহও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী রোববার ব্রিটেনভিত্তিক আইটিভিতে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে।
‘পিয়ার্স মরগানস লাইফ স্টোরিস’ নামের ওই সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠান ধারণ করার সময় টেলিভিশন স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের সামনেই ব্রাউন দম্পতির আবেগের এই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ব্রাউন সাক্ষাত্কারে বলেছেন কীভাবে তিনি প্রথম বুঝতে পারলেন জেনিফার বাঁচবে না।
২০০২ সালে জন্ম নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় জেনিফারের মৃত্যু হয়। ব্রাউন দম্পতির প্রথম এই সন্তানটির জন্ম হয় অপরিণত অবস্থায়। জন্মের পর ওজন ছিল মাত্র দুই পাউন্ড চার আউন্স। পাশাপাশি তাঁর তিন বছরের ছেলে ফ্রেজারের স্বল্প আয়ু নিয়েও আশঙ্কার কথা বলেন তিনি। ‘সিস্টিক ফাইব্রোসিস’ নামের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ফ্রেজার।
২০০৬ সালে জন্ম নেওয়ার পাঁচ মাস পর ফ্রেজারের এই রোগ ধরা পড়ে। এর আগে ব্রাউন একজন আশাবাদী বাবা হিসেবে বলেছিলেন, এই অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি আশা করেন ফ্রেজার একজন রাগবি বা ফুটবল খেলোয়াড় হয়ে উঠবে।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন দর্শকের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ব্রাউনের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শোনা খুবই আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেছেন, কীভাবে জেনিফার তাঁর কোলে মারা গেল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ছেলের অসুস্থতা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ কি-না। জবাবে ব্রাউন বলেন, আমরা মাঝেমধ্যে (স্রষ্টার কাছে) জানতে চাই, কেন আমাদের প্রতি এমন আচরণ? তবে আমরা এ নিয়ে কোনো তিক্ত অনুভূতি লালন করতে চাই না।
ওই অনুষ্ঠানে পূর্বসূরি টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ব্রাউন। এ ছাড়া স্ত্রী সারাহকে কীভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন সেই ঘটনাও বর্ণনা করেন তিনি।

উ. কোরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া মার্কিন নাগরিক স্বদেশে পৌঁছেছেন

উত্তর কোরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া মার্কিন নাগরিক রবার্ট পার্ক স্বদেশে ফিরেছেন। গত শনিবার রাতে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি তাঁর মা-বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
রবার্ট পার্কের ভাই পল পার্ক জানিয়েছেন, তাঁর ভাই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। সামান্য ওজন বেড়েছে, এই যা। তিনি আরও জানান, রাতে পরিবারের সদস্যরা মিলে স্প্যাগেটি খেয়েছেন।
ধর্মপ্রচারক রবার্ট পার্ক (২৮) গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের বরফে আবৃত তুমেন নদী হেঁটে পার হয়ে উত্তর কোরিয়া ঢুকে পড়েন। এ সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের প্রতি লেখা একটি চিঠি বহন করছিলেন। উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ, সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি ও বন্দিশিবিরগুলো বন্ধের দাবিতে তিনি ওই চিঠি লেখেন বলে তাঁর সহকর্মীরা তখন জানান। উত্তর কোরিয়ার প্রধান সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ গত শুক্রবার জানায়, পশ্চিমা প্রচারণার ফাঁদে পড়ে রবার্ট পার্ক দেশটির সীমান্ত পাড়ি দেন। পরে কর্তৃপক্ষের সদয় ব্যবহার তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করলে পিয়ংইয়ং কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দেয়।
মুক্তি পাওয়ার পর গত শনিবার সকালে বেইজিং পৌঁছান কোরীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নাগরিক। বিকেলে তিনি স্বদেশের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন।
এর আগে ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে দুই মার্কিন নারী সাংবাদিককে চীন সীমান্ত থেকে আটক করে উত্তর কোরিয়া। চার মাস বন্দী রাখার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কূটনৈতিক প্রয়াসে ওই বছরের আগস্ট মাসে তাঁদের মুক্তি দেয় পিয়ংইয়ং।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিচার এক তালগোল পাকানো অবস্থা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার বিভাগের জন্য নতুন বছরটি শুরু হয়েছে অশুভ লক্ষণ দিয়ে। দুটো মামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, সে দেশের আইন সবার জন্য সমান নয়।
আমিরাতের সবচেয়ে ধনী অঙ্গরাজ্য আবুধাবির একটি আদালত সে দেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র শেখ ঈসা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানকে আফগানিস্তানের এক শস্য ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। শেখ ঈসা ওই ব্যবসায়ীকে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারেন, তারপর তাঁর দেহের ক্ষতগুলোতে লবণ ঢেলে দেন এবং সবশেষে তাঁর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। আর এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের এক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়।
অপর এক ঘটনায় এক ব্রিটিশ পর্যটক তরুণী আমিরাতের আরেক সদস্য দুবাইয়ের যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন তার এক ওয়েটারের বিরুদ্ধে, পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন ওই লোক তাঁকে আগের রাতে ধর্ষণ করে। কিন্তু অভিযোগের পর পুলিশ যে মামলা করে তার সঙ্গে ওই ধর্ষণের কোনো সম্পর্কই নেই। উল্টো অন্য একটি ঘটনা, আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর সময় মদ পান করা ও তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হওয়ার অভিযোগে তরুণীটির ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
শেখ ঈসার বিচারের ক্ষেত্রে আদালতের ভাষ্য ছিল, ওই অপরাধের জন্য তাঁর দায়দায়িত্ব ছিল খুবই কম। কারণ, তাঁর কিছু ব্যবসায়িক সঙ্গী তাঁকে ঘটনার আগে মাদক সেবন করিয়েছিলেন। সুতরাং ওই কর্মকাণ্ডের জন্য রাজপুত্রের ততটা দায়দায়িত্ব নেই। তবে তাঁর যে ব্যবসায়িক সঙ্গীরা ওই ঘটনার একটি ভিডিও টেপ যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেলটিকে দেন, তাঁদেরকে আদালত তাঁদের অনুপস্থিতিতে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রাজপুত্র শেখ ঈসা আদালতের রায়ে মুক্ত হলেও ২৩ বছর বয়সী ধর্ষিত ব্রিটিশ তরুণীটির ওপর বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমিরাত ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নববর্ষের দিন তরুণীটি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, আগের সন্ধ্যায় পাঁচ-তারকা যে হোটেলে তিনি অবস্থান করছিলেন, তার এক ওয়েটার তাঁকে ধর্ষণ করে। পরে সেই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে যে আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর সময় তিনি মদ পান করেন এবং তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হন। আর এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ দুটো ঘটনাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈষম্যমূলক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত। দেশটি একাধারে পশ্চিমা বিশ্বের সরকার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পর্যটকদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, আবার একই সঙ্গে তার নিজস্ব আইন ও ঐতিহ্যকেও ধরে রাখতে চায়। আমিরাতের অনেক হেটেলেরই মালিক সরকার। ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী সে দেশে বিবাহ-বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক কিংবা মদপান নিষিদ্ধ হলেও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশে হোটেলগুলো অবিবাহিত দম্পতিদের কক্ষ ভাড়া ও পর্যটকদের মদপানের ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তারা ওই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী ও তাঁর ৪৪ বছর বয়সী প্রেমিক, দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করেছে।
এক অপরাধের বিচার চাইতে গিয়ে এর সঙ্গে যোগসূত্রহীন অপরাধে বিচারপ্রার্থীর শাস্তির ঘটনা সে দেশে এটাই প্রথম নয়, গত মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত ইউগভ সিরাজ নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা ও তাদের পরিবার হেনস্তার শিকার হতে পারে, এই ভয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্ধেক নারীই যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে চায় না।
আমিরাতের অনেকেই স্বীকার করে যে সে দেশের আইনে অনেক অসংগতি রয়েছে। আবুধাবির সরকার-সমর্থিত পত্রিকা দ্য ন্যাশনাল সম্প্রতি এক সম্পাদকীয়তে ধর্ষণের মামলাগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনার জন্য পুলিশের সমালোচনা করেছে। সম্পাদকীয়টিতে মন্তব্য করা হয়, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে আমাদের নারীরা তাদের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।’ তবে পুলিশের ধারণা ভিন্ন। ওই ব্রিটিশ মহিলার ধর্ষণের মামলায় সম্পৃক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মহিলা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও মদ পান করেন। এমন অপরাধকে আমরা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারি না।’
দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে এস কামরুন নাহার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ, ৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালের মুখপাত্র বরাদ্দের এএফপি এ কথা জানায়। তবে বিবিসি ও সিএনএন দুজন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। বহু আহত হয়েছেন।
মিডলসেক্স হাসপাতালের মুখপাত্র ব্রায়ান আলবার্ট জানান, তারা যে খবর পেয়েছেন তাতে বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় রোববার সকালে মিডল টাউনের ক্লিন পাওয়ার প্লান্টে এ বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরের লোকজন জানায়, বিস্ফোরণে তাদের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে।
দ্য মিডল টাউন প্রেস পত্রিকা জানায়, গ্যাসচালিত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি গ্যাস পাইপলাইনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক গর্ডন হক এ বিস্ফোরণ ও মৃতের কথা নিশ্চিত করেন। তবে হতাহতের সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন আহমাদিনেজাদ

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার ২০ শতাংশে উন্নীত করতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গতকাল রোববার লেজার প্রযুক্তিবিষয়ক এক প্রদর্শনীতে ভাষণ দেওয়ার সময় এ নির্দেশ দেন তিনি। তেহরানের একটি পরমাণু চুল্লির জন্য জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের দেওয়া প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার এক দিন পরই এ নির্দেশ দিলেন আহমাদিনেজাদ।
পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জাতিসংঘের খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার জন্য বিশ্বশক্তিগুলোকে দোষারোপ করলেও ইরানি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সম্ভাব্য আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া ওই ভাষণে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাদের দুই-তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে আমরা নিজেরাই (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ) শুরু করব।’
এর আগে গত মঙ্গলবার সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আহমাদিনেজাদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পরমাণু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ করে ফেরত পাঠানো হবে—এমন শর্তে ইরান তার স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে রাজি আছে। এ ব্যাপারে বিশ্বশক্তিগুলো ও ইরানের মধ্যে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত একটি চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তেহরানের সাড়ে তিন শতাংশ স্বল্পসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার জন্য রাশিয়া ও ফ্রান্সে পাঠানো হবে এবং তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আবার ইরানে ফেরত পাঠানো হবে।
গতকাল আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘বিশ্বশক্তিগুলো নিঃশর্তভাবে আমাদের পরমাণু ও চিকিত্সা কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এলে আমরাও সহযোগিতা করব।
সম্প্রতি আমরা বলেছি, ‘ইউরেনিয়াম লেনদেনে আমরা রাজি। কিন্তু তারা এটা নিয়ে খেলতে শুরু করেছে। আলোচনার পথ খোলা আছে। আমরা তা বন্ধ করিনি।’
গত শনিবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস অবশ্য বলেছিলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি, এমন কোনো কিছু আমি অনুভব করতে পারছি না।’ আগের দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি বলেছিলেন, পরমাণু জ্বালানিসংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।

ঋণপত্র না খুলেও আমদানি করার সুযোগ পাওয়া যাবে

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে এখন আর বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রয়োজনে কোনো ঋণপত্র (এলসি) না খুললেও চলবে। শতভাগ বিদেশি উদ্যোগে স্থাপিত শিল্পের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিকেও রাখা হয়েছে এলসিমুক্ত।
রপ্তানি-সুবিধা সহজ ও সম্প্রসারণের এমন বিধান সংযোজন করে তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ (২০০৯-১২) জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
২০০৯ সালের ৩০ জুন আগের আমদানি নীতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত মাস পর গত ২৬ জানুয়ারি এ ব্যাপারে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নতুন আমদানি নীতিতে রিকন্ডিশনড বৈদ্যুতিক জেনারেটর বা জেনারেটিং সিট আমদানি এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য উত্পাদনের কাঁচামাল আমদানির সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।
এ দুটিসহ শতভাগ বিদেশি উদ্যোগে স্থাপিত শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে আগে কোনো বিধানই ছিল না। অর্থাত্ রপ্তানিমুখী শিল্প খাতকে সুবিধা দিতে তিনটি বিধান সংযোজন করা হয়েছে একেবারেই নতুন।
নতুন আমদানি নীতি প্রণয়নে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হচ্ছে: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ক্রমবিকাশের ধারা আরও সহজ করা; রপ্তানি-সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানি-ব্যবস্থা সহজ করার মাধ্যমে রপ্তানি খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো; পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা শিথিল করা এবং গুণগত মানসম্পন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
আগের এবং নতুন—উভয় আমদানি নীতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে আগের আমদানি নীতিতে এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুনটিতে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
আপত্কালীন, জরুরি ও দ্রুত আমদানির স্বার্থে তা করা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নতুন আমদানি নীতিতে দুগ্ধজাত খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়েছে। আগেরটিতে আমদানিকৃত দুগ্ধজাত খাদ্য মেলামিনমুক্ত থাকা-সংক্রান্ত কোনো শর্ত ছিল না। জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারেরটিতে আমদানিকৃত দুগ্ধজাত খাদ্য মেলামিনমুক্ত থাকার শর্তারোপ করা হয়েছে।
‘আমদানিকৃত দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য মেলামিনমুক্ত’—এই মর্মে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া সনদ আমদানিকারককে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে হবে।
এ ছাড়া ভোজ্যতেল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া বিকাশমান রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণশিল্পকেও সুবিধা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আমদানি নীতিতে। আগে শুধু তৈজসপত্র প্রস্তুতের জন্য কাঁচামাল আমদানির বিধান ছিল।
প্রকৃত ব্যবহারকারী স্বীকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান তার আমদানি-স্বত্ব অনুযায়ী আয়রন ও স্টিল স্ক্র্যাপ এবং অ্যালুমিনিয়াম ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে পারবে।
হাঁস-মুরগি ও পাখি আমদানির ক্ষেত্রে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জামুক্ত মর্মে রপ্তানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদ দাখিল করতে হবে।
২০১২ সালের ৩০ জুন এই আমদানি নীতি বলবত্ থাকবে

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন by বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী

দেশে গত বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেও উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ) সূত্রের তথ্যমতে, ২০০৯ সালে দেশে মোট ছয় কোটি ছয় লাখ ৬১ হাজার ৪৭৬ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় লাখ ৬১ হাজার ৪৭৬ কেজি, আগের ২০০৮ সালের তুলনায় ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯১ কেজি এবং এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ডের বছর ২০০৫ সালের চেয়ে ১০ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬ কেজি বেশি। দেশে ২০০৮ সালে পাঁচ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ৮৫ কেজি এবং ২০০৫ সালে পাঁচ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।
চা-শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ, ২০০৯) অনাবৃষ্টির কারণে তাঁরা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বেশ শংকিত ছিলেন। কারণ ২০০৯ সালের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় সময়মতো চা-পাতা চয়নের কাজ শুরু করা যায়নি। ফলে ২০০৮ সালের তুলনায় এপ্রিল ২০০৯ পর্যন্ত উৎপাদন প্রায় ১৪ শতাংশ কম হয়। তবে মে মাস থেকে চা-শিল্পাঞ্চলে সুষম বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে চা-পাতা চয়ন (প্লাকিং রাউন্ড) করা সম্ভব হয়। এতে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে উৎপাদন-ঘাটতি পুষিয়েও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, যা বছর শেষে ছয় কোটি কেজির সার্বিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়।
সূত্রমতে, ২০০৯ সালে মৌলভীবাজার জেলার ৯৮টি চা-বাগানে চার কোটি ৩১ লাখ ২৪ হাজার ১৬৪ কেজি, হবিগঞ্জ জেলার ১৮টি বাগানে ৮৩ লাখ সাত হাজার ৩৯৫ কেজি, সিলেট জেলার ১৬টি বাগানে ৪৩ লাখ নয় হাজার ৩৭৬ কেজি, চট্টগ্রাম জেলার ২২টি বাগানে ৪২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৭ কেজি এবং পঞ্চগড়ের আটটি চা-বাগানে ছয় লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৪ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক হারুন অর রশীদ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের চা-শিল্প প্রকৃতির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। তিনি জানান, চা-শিল্পের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে সফলতা পাওয়া গেছে।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি চা-বাগানে পাহাড়ি ঝরনার পানি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটকিয়ে রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে বৃষ্টি না হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী চা-গাছে পানি দেওয়া যায়।
মোহাম্মদ রুহুল আমিন আরও জানান, সার ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পাতা উত্তোলনের পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অতি মূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), আয় অনুপাতে দাম (পিই) এবং শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্যের (এনএভি) মতো মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অতিথি বক্তা ছিলেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান ও মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান আর ওয়াই শমসের।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও বিপির নতুন কার্যক্রম

মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও বিপি সম্প্রতি যৌথভাবে ‘বন্ধন ট্রেড অফার’ শীর্ষক একটি কার্যক্রম শুরু করেছে।
নতুন কার্যক্রমের আওতায় বিপির পণ্য ক্রয় সাপেক্ষে সারা বছর ধরে ক্রেতাদেরকে উপহার দেওয়া হবে।
কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি মো. কুদরাত-ই-এলাহী। এ সময় কোম্পানির বিপণন মহাব্যবস্থাপক শরীফ-উজ-জামানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুনাপাথর উত্তোলনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মেঘালয়ের খনি থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল চুনাপাথর উত্তোলনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন—এ খবরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।
গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারটি আগের দিনের চেয়ে ৩৯ টাকা ২৫ পয়সা কমে সর্বনিম্ন ৫২১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। দরপতনের এ হার ছিল সাত শতাংশেরও বেশি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, খবরটির কারণে কোম্পানিটির ভবিষ্যত্ কার্যক্রম সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মনে এক ধরনের সংশয় জন্ম নেওয়ায় এমনটি ঘটেছে। বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রতিদিনের বাজার বিশ্লেষণেও লাফার্জ সুরমার শেয়ারের দরপতনের কারণ হিসেবে এ শঙ্কার কথাই প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) শুভাশিস প্রিয় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এ স্থগিতাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ। এটি চূড়ান্ত কোনো রায় নয়। আগামী মাসের ১৯ তারিখ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই শুনানিতে খনিসংক্রান্ত আরও প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত ইতিমধ্যে যেসব চুনাপাথর উত্তোলন করা হয়েছে সেগুলো রপ্তানির সুযোগও বহাল রেখেছেন।
এ অবস্থায় কোম্পানির ভবিষ্যত্ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি বিচারাধীন মামলার ব্যাপারে আগাম মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
লাফার্জ সুরমা লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান লাফার্জ উমিয়াম মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শেলা গ্রামের নিজস্ব খনি থেকে সিমেন্ট তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল চুনাপাথর ও শেল আহরণ করে। তারপর তা সরাসরি ১৭ কিলোমিটার কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে নিজস্ব কারখানায় সরবরাহ করা হয়। আর এ কাঁচামাল দিয়েই সিমেন্ট তৈরি করে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড।
লাফার্জ সুরমা দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা নিজস্ব কাঁচামাল দিয়ে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় কারখানায় শুষ্ক পদ্ধতিতে সিমেন্ট উত্পাদন করে। সম্পূর্ণ দেশীয় বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিক উত্পাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
কিন্তু পরের বছর শেলা গ্রামের ২১ জন আদিবাসী ও শেলা অ্যাকশন কমিটি নামে স্থানীয় একটি এনজিও পরিবেশের ক্ষতির কথা বলে আদালতে রিট পিটিশন করলে সে দেশের আদালত খনি থেকে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেন।
পরে ২০০৭ সালের ২৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে খনি থেকে চুনাপাথর উত্তোলন ও রপ্তানির বিষয়টি অনুমোদন করেন।
কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির দিন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আবারও খনি কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
এ ব্যাপারে ভারতের পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে গত রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা দেয় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এতে বলা হয়, খনি কার্যক্রম নিয়ে কিছু প্রশ্ন ওঠায় (ভারতের) সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানিতে কোম্পানিকে বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং খনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলেছেন। একই সঙ্গে আবার ইতিমধ্যে উত্তোলিত চুনাপাথর রপ্তানির অনুমতি বহাল রেখেছেন।
বাংলাদেশে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের মূল উদ্যোক্তা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জ এসএ এবং সিমেন্টস মলিনস যৌথ উদ্যোগের এ কোম্পানিটি বছরে ১২ লাখ টন সিমেন্ট উত্পাদন করতে সক্ষম।
সিলেট শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সুরমা নদীর তীরে ৯০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা

শ্যুটিংয়ে আরও দুটি রুপা

কাল শেষ হয়ে গেল এবারের এসএ গেমসের শ্যুটিং পর্ব। শ্যুটিংয়ের শেষ দিনে আরও দুটি রুপা জিতল বাংলাদেশ। ৫০ মিটার রাইফেল ৩৪০ এর দলীয় এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে রুপা দুটি জিতেছে স্বাগতিকেরা।
ব্যক্তিগত ১১৪৮ স্কোর করে রুপা জিতেছেন আবদুল্লাহ হেল বাকি। এটিতে ১১৭২ স্কোর করে সোনা জিতেছেন ভারতের সুরেন্দ্র সিং রাঠোর। ব্রোঞ্জ গেছে আরেক ভারতীয় হরিয়ম সিংয়ের অধিকারে (১১৪৬)। দলীয়তে রুপা জয়ে আবদুল্লাহর সঙ্গী ছিলেন তৌফিক শাহরিয়ার ও রমজান আলী। দলীয়র সোনাও পেয়েছেন ভারতের শ্যুটাররা। ব্রোঞ্জ পেয়েছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে শ্যুটিং থেকে ১৫টি পদক বাংলাদেশের (তিনটি সোনা, ছয়টি রুপা আর ছয়টি ব্রোঞ্জ)।

শাহরুখের পাশে আজহার

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত—এমন মন্তব্য করে শিবসেনার রোষানলে পড়েছেন শাহরুখ খান। তাঁর বিরুদ্ধে যখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে ভারতের উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দলটি, বলিউড সুপারস্টার ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকের পাশে এসে দাঁড়ালেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিকে রূপান্তরিত আজহার যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ক্রিকেটার যেই দেশেরই হোক না কেন ভালো হলে তাঁর আইপিএলে খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত।

৬ ফুটবলারের খোঁজে লিপ্পি

২০১০ বিশ্বকাপে দলের জন্য ১৭ ফুটবলারকে ঠিক করে ফেলেছেন ইতালির কোচ মার্সেলো লিপ্পি। ২৩ সদস্যের স্কোয়াডের জন্য দরকার আরও ৬ ফুটবলার। সামনে যে কয়েক মাস সময় আছে এর মধ্যেই বাকি ছয়জনকেও ঠিক করে ফেলবেন বলে আশাবাদী লিপ্পি।

জিতেই চলেছে অস্ট্রেলিয়া

সিরিজ শুরুর আগের দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রিস গেইল বলেছিলেন, ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১-এ হারাবে তারা। কাগজে-কলমে সেই সম্ভাবনা আছে এখনো, কিন্তু কাল যেভাবে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, গেইল নিজেও এখন তা বিশ্বাস করেন কি না কে জানে। মেলবোর্নে কাল অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ১১৩ রানে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের টানা নবম জয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য দায় চাপাতে পারে ইনজুরির ঘাড়ে, খেলতে পারেননি নিয়মিত একাদশের তিনজন—রামনরেশ সারওয়ান, শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ডোয়াইন ব্রাভো। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসটা ‘টিম গেমে’র দারুণ উদাহরণ। আড়াই শ পেরোনো স্কোরে ফিফটি একমাত্র ওয়াটনসনের, ৪৯ করেছেন রিকি পন্টিং। তবে ২০-এর বেশি রান করেছেন আরও চারজন। একপর্যায়ে তাদের রান ছিল ১ উইকেটে ১৩৫, সেখান থেকে ২৫৬ তে আটকে রেখে নিজেদের কাজটা ভালোভাবেই করেছিলেন ক্যারিবীয় বোলাররা।
পঞ্চম ওভারেই ৩ উইকেটে ১২, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের আশা শেষ সেখানেই। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করা পোলার্ড ব্যাটিংয়েও করেন সর্বোচ্চ ৩১। ৯৪ বল আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট ১৪৩ রানে। আগের তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়া রায়ান হ্যারিস কালও নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ৫৯ রান করার পর ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা শেন ওয়াটসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৫৬/৮ (ওয়াটসন ৫৯, পন্টিং ৪৯, হাসি ২৮; পোলার্ড ৩/৪৫, রামপল ২/৪৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৪.২ ওভারে ১৪৩ (পোলার্ড ৩১, সিমন্স ২৯, হ্যারিস; ৩/২৪, হরিজ ৩/২৮, বলিঞ্জার ২/১৮)

নিজেদের জালে পোর্টসমাউথের তিন গোল

ম্যাচে তিনটি গোল করেছে পোর্টসমাউথ, তার পরও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে কিনা তাদের হারতে হলো ৫-০ গোলে! ঘটনা হলো, তিনটি গোলই তারা করেছে নিজেদের জালে। বিশাল জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠে গেছে ম্যানইউ। ইংল্যান্ডে রেড ডেভিলদের শীর্ষে ওঠার দিনে স্পেনে জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বার্সেলোনা, পরে এসপানিওলকে হারিয়ে ব্যবধান পাঁচেই রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তিন মাস পর গোল পেয়েছেন কাকা।
গত বছরের ৭ নভেম্বর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সর্বশেষ গোল পেয়েছেন কাকা। এর পর সাত ম্যাচে গোল নেই। ইনজুরি-ফর্মহীনতা মিলিয়ে এসি মিলানের কাকাকে মাদ্রিদে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে যখন শুরু হয়েছে গুঞ্জন, সেই সময়ই ফিরে এলেন দারুণভাবে। এসপানিওলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। ২৯ মিনিটে অনেক দিন পর সেরা একাদশে ফেরা রাউলের কিক গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করেন কাকা। সার্জিও রামোসের হেড ৫ মিনিটেই এগিয়ে দিয়েছিল রিয়ালকে, ৯০ মিনিটে আরেকটি গোল করেন বদলি স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন। বার্নাব্যুতে এই নিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জিতল রিয়াল।
লা লিগায় মৌসুমে লিওনেল মেসির ১৬তম গোলে ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনাও। কিন্তু ২৫ মিনিটে ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের লাল কার্ড কাজটা কঠিন করে দিয়েছিল তাদের। ন্যু ক্যাম্পে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেই গেটাফেকে ২-১ গোলে হারায় পেপ গার্দিওলার দল। ৬৬ মিনিটে জাভি হার্নান্দেজের করা গোলটিও বানিয়ে দেন মেসি। শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান রবার্তো সলদাদো।
বার্সেলোনার মতো ঘণ্টাখানেক ১০ জন নিয়ে খেলে জিতেছে লিভারপুল। গ্রিক ডিফেন্ডার কিরাজিয়াকোস লাল কার্ড পেয়ে বাইরে যাওয়ার পরও এভারটনকে অল রেডরা হারিয়েছে ডির্ক কিউটের একমাত্র গোলে। ২৫ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে রাফায়েল বেনিতেজের দল উঠে গেছে চারে। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানইউ। পোর্টসমাউথের তিনটি আত্মঘাতী গোল ছাড়া বাকি গোল দুটি ওয়েন রুনি ও  দিমিতার বারবেতভের।

দশমিক ১৬ সেকেন্ডের আক্ষেপ

ফিনিশিং টাচটা দিয়েই ফিরে তাকালেন ইলেকট্রনিকস স্কোরবোর্ডের দিকে। হতাশায় নিজের হাত মুঠো করে স্টার্টিং ব্লকে সজোরে দিলেন এক ঘা। মাত্র ০.১৬ সেকেন্ড! মাইক্রো সেকেন্ডের ব্যবধানে মুঠো গলে বেরিয়ে গেল মাহফুজা খাতুনের সোনা। অথচ এক দিন আগেই বলেছিলেন, ‘দেখবেন, এখানে আমি সোনা জিততে পারি।’ চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ছুঁয়ে গেল খর্বাকৃতির মাহফুজাকে। দীর্ঘাঙ্গি শ্রীলঙ্কার নাতাশা করুণারত্নে তাঁর সামান্য আগে টাচপ্যাডে হাত ছুঁয়ে জিতে নিলেন ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের সোনা।
বাংলাদেশের সাঁতারুদের এই এক সমস্যা। গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাছাকাছি গেলেও শেষ মুহূর্তে শারীরিক উচ্চতা তাঁদের পেছনে ঠেলে দেয়। না হলে বাংলাদেশের সাঁতারের অতিকাঙ্ক্ষিত প্রথম সোনাটি কালই হয়তো এসে যেত। কিন্তু তা এল না বলে সাঁতারের তৃতীয় দিনটিও বাংলাদেশের জন্য হতাশার।
পুলের নীল জল দাপিয়ে বেরিয়েছেন ভারতীয়রাই। কালও চারটি সোনা জিতেছে ভারত। গেমস রেকর্ড গড়েছেন ভারতের এক নম্বর সাঁতারু সন্দীপ সেজওয়াল ও বালাকৃষ্ণান বদ্রিনাথ। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ১:০৫.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে গেমসে নিজের দ্বিতীয় রেকর্ড গড়লেন সন্দীপ। গত গেমসে কলম্বোতে নিজের গড়া রেকর্ড (১:০৭.৭৩ সে.) নিজেই ভাঙলেন দিল্লির তরুণ। এই ইভেন্টে রুপা ভারতের পুনিত রানার। ব্রোঞ্জ বাংলাদেশের কামাল হোসেনের (১:০৭.৩২ সে.)। অন্তত ১টি সোনার প্রত্যাশা ছিল ইসলামাবাদ গেমসের সোনাজয়ী রুবেল রানাকে ঘিরে। কাল তিনি চূড়ান্ত হতাশা উপহার দিয়েছেন। কোনো পদকই জিততে পারেননি ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে। ২৮.৬৬ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে বললেন, ‘আমি হতাশ।’ এই ইভেন্টে স্বদেশি অর্জুন মুরালিধরনের রেকর্ড (২৮.২৮ সেকেন্ড) ভেঙে সোনা জিতেছেন ভারতের বদ্রিনাথ (২৭.৬৩ সেকেন্ড)। রুপা শ্রীলঙ্কার হেশান বান্দারার।
সাঁতারপুলে দিনের একমাত্র সাফল্য মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে—রুপা জিতেছেন মাহফুজা খাতুন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন ডলি আক্তার। ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ব্রোঞ্জ বাংলাদেশের জুয়েল আহমেদের (৫৮.৪ সেকেন্ড)। এই ইভেন্টে সোনাজয়ী ভারতের অর্জুন মুরালিধরন। রুপা অ্যান্থনি ফ্রান্সিসের। ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে সোনা জিতেছেন ভারতের ফারিহা জামান, রুপা শচিনী আমারাসিংহে ও ব্রোঞ্জ পাকিস্তানের কিরণ খান।

হকিতে ব্রোঞ্জ এল, তবে

সোনা জয়ের স্বপ্নটা আসলে ছিল ‘দিবাস্বপ্ন’। হকিতে যেটি বাংলাদেশের সামর্থ্যের পরিপূরক, বাংলাদেশ সেই ব্রোঞ্জই পেয়েছে কাল শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে। জয়টা ২-১ গোলের। তবে দক্ষিণ এশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখল পাকিস্তান। কাল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে ভারতকে টাইব্রেকারে (৪-৩ গোলে) হারিয়েছে তারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল।
আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ছিল অসাধারণ পারফরম্যান্স। কিন্তু কাল ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে যথেষ্ট ঘামই ঝরাতে হয়েছে বিপ্লব, মামুনুর, আশিক ও রাসেল মাহমুদদের। প্রথমার্ধে তো ০-১ গোলে পিছিয়েই পড়ে স্বাগতিকেরা। ৫০ মিনিটে আশিকের দারুণ এক ফিল্ড গোলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। আর ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে মামুনুরের গোল জিতিয়ে দেয় ম্যাচ।
ঘাম ঝরানো জয় পাওয়া ব্রোঞ্জের আনন্দে মেতে উঠতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু একটা বিতর্কে বাংলাদেশের বুকে লাগল কাঁটার খোঁচা। এই জয় আম্পায়ারের কল্যাণে—ম্যাচ শেষে আম্পায়ারিং নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলেছে শ্রীলঙ্কা দল। বাংলাদেশের জয়সূচক গোলের প্রতিবাদে মাঠ থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিল তারা। পরে আবার মাঠে ফিরেছে। শ্রীলঙ্কান হকি ফেডারেশনের সভাপতি সমালোচনা করেছেন আম্পায়ারিংয়ের। আর কোচ সরাসরি বাংলাদেশকেই দুষলেন, ‘বাংলাদেশ কাজটা ঠিক করেনি। জিততে যা যা দরকার, এর সবকিছুই করেছে তারা।’ তবে বাংলাদেশ অবশ্য এসব নিয়ে ভাবছে না। বিতর্কও তো খেলার অংশ। ১৯৮৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করেছিলেন। এই তো সেদিন থিয়েরি অঁরির হাতের গোলে বিশ্বকাপে গেল ফ্রান্স।
এ ম্যাচের আম্পায়ার ছিলেন পাকিস্তানের কামরান শরিফ। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে না-বাজতেই তাঁর দিকে ছুটে গিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়েরা। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের শান্ত করেন বাংলাদেশের হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। আর পুলিশি পাহারায় মাঠ ছাড়েন আম্পায়ার।

নেপালের প্রথম সোনা

উশুই নেপালকে দিল একাদশ এসএ গেমসের প্রথম সোনা। এ খেলায় বাংলাদেশকে আজ দ্বিতীয় সোনা জেতাতে পারেন মেসবাহ উদ্দিন।
গতকাল সিলেট বিকেএসপিতে উশুর তাওলু ইভেন্টের তাইজিকুয়ানে নেপালের বিনিতা মহারাজন ৮.৮৫ পয়েন্ট পেয়ে সোনা জেতেন। এ খেলায় রুপা জিতেছেন ভারতের সানাতঙ্গি ছানু ও ব্রোঞ্জ শ্রীলঙ্কার দানুসি থারাকা।
পুরুষদের এনজিকুয়ান ও ডানসুতে ভারতের এইচ দিয়ান সিং সোনা জিতেছেন। ইভেন্টের রুপা ও ব্রোঞ্জজয়ী নেপালের বিকাশ গুরুং ও পাকিস্তানের হোসাইন ইব্রাহিম।

আফগানদের সঙ্গে শেষ লড়াই by মাসুদ আলম

বাংলাদেশ ২: ০ আফগানিস্তান। এটা কোনো বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের স্কোরলাইন নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের ছয় সাক্ষাতের দুটি জয়ের হিসাব। বাকি চার ম্যাচ ড্র। অর্থাত্ ফুটবল মাঠে বাংলাদেশকে কখনো হারাতে পারেনি আফগানিস্তান।
আজ হারিয়ে দিলে একটি স্বপ্নের মৃত্যু হবে। স্বপ্নটা ১৯৯৯ কাঠমান্ডুর পর এই প্রথম দক্ষিণ এশীয় গেমস ফুটবলের সোনা জয়। এ জন্য আজ এসএ গেমস ফুটবলের ফাইনালে জয় চাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ পারবে? মুখে উত্তর না দিয়ে বাংলাদেশের সার্বিয়ান কোচ জোরান জর্জেভিচ প্রশ্নকর্তা সাংবাদিকের গলা টিপে ধরলেন! উদ্দেশ্যে এটা বোঝানো যে, ‘ডু অর ডাই। হয় জেত, নয় মরো। মাঝামাঝি কিছু নেই!’
মালদ্বীপের প্লে-মেকার আশফাক আলী বাংলাদেশকেই জয়ী ভাবছেন, ‘সাফ ফুটবলের চেয়ে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ভালো খেলছে। সাফে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা বাংলাদেশ এবার দেখছি হাওয়ায় বল না ভাসিয়ে জমিনে খেলার চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের জেতা উচিত।’
‘বাংলাদেশের জেতা উচিত’ কথাটা যেন হাওয়ায় ভাসছে। এক সাধারণ দর্শকের পর্যবেক্ষণ, ‘বাংলাদেশ দেখবেন ৩-১ গোলে জিতবে। এবার দল ভালো খেলছে, এখন পর্যন্ত চার ম্যাচেই জয়। কোনো গোলও খায়নি!’
ঠিক তাই। ভুটানকে ৪-০, নেপাল ৩-০, মালদ্বীপ ম্যাচে ১-০। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১-০। এমন ঝকঝকে পরিসংখ্যান ছিল ঢাকায় ২০০৩ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়নশিপেও। ফাইনাল ড্র হলেও টাইব্রেকারে বাংলাদেশের জয় ধরলে টানা পাঁচ জয় ছিল সেবার। আজ জিতে ওই পরিসংখ্যানকে ম্লান করতে চায় বাংলাদেশ!
ফুরফুরে মেজাজের বাংলাদেশকে আফগানিস্তান কি সহজেই জিততে দেবে? ক্লাব থেকে বছরে ৪-৫ হাজার ডলারের চুক্তি, মাসিক আয় ২-৩ শ ডলার। বাংলাদেশের ফুটবলারদের আয়ের চেয়ে অনেক পেছনে যারা, সেই আফগানরা দুঃখকষ্ট ভুলে মরিয়া লড়াই দিতে তৈরি। বছর দশেক আগে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে। উত্সবে মেতে ওঠার দুর্লভ এক মুহূর্তের অপেক্ষায় আফগান ফুটবলাররা।
এমন ম্যাচে আফগান দল পাচ্ছে না অধিনায়ক ইসরাফিল কোহিস্তানিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখায় আজ তিনি মাঠের বাইরে। ১৯ বছর বয়সী তরুণ সহ-অধিনায়ক জহিব ইসলামের আলাদা প্রেরণা আছে, ‘কাবুলে বড় পর্দায় ফাইনাল দেখতে তৈরি সবাই। দেশ থেকে অনেক শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে, সবাই উচ্ছ্বসিত। চেষ্টা করব এটা কাজে লাগাতে।’
আফগানিস্তান চেষ্টা করলেও কাজ হবে না, বাংলাদেশই জিতবে—বাংলাদেশ দলের এক কর্মকর্তার মনোভাব এমনই দেখাল। ‘আফগানিস্তান কোনো দলই না’—জাতীয় তাচ্ছিল্য তাঁর মুখে, ‘ওদের প্লেয়ার তো দু-তিনজন। বাংলাদেশ এদের সঙ্গে না জিতলে কার সঙ্গে জিতবে?’ পাল্টা প্রশ্ন তাঁর (’৭৯-তে আগাখান গোল্ডকাপে জয় ৪-১-এ, ২০০৪ ইসলামাবাদ গেমসে ২-১-এ জয়)!
টেকনিক, ট্যাকটিকসে বাংলাদেশ এগিয়ে বটে, তবে শারীরিক দিক থেকে আফগানরা এগিয়ে। কথাটা বাংলাদেশ অধিনায়ক আমিনুলের সামনে তুলুন, তিনি একটা কথাই বলবেন, ‘কে কোন দিক থেকে এগিয়ে-পিছিয়ে সেই হিসাব করে লাভ নেই। এখন আমরা শেষ ধাপে, জয় দিয়েই শেষটা করতে চাই।’
শেষটা জয় দিয়ে হবে তো? ১৯৮৪, ’৮৫, ’৮৯, ’৯৫ গেমস ফাইনালের হারের দীর্ঘশ্বাস তাড়া না করলেই হয়

আশা আছে আরও

১১তম এসএ গেমসে কাল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো একটা দিন গেল। কারাতে, তায়কোয়ান্দো ও ক্রিকেট মিলিয়ে এই দিন মোট ৬টি সোনা জিতেছে স্বাগতিকেরা। উঁকি দিচ্ছে আরও সোনা জয়ের আশা। এর মধ্যে বক্সিং অন্যতম। কাল ফাইনালে উঠেছেন বাংলাদেশের তিন বক্সার। ৫৭ কেজি ওজন শ্রেণীতে আফগানিস্তানের খাজা খালিদকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন ফয়সাল মোল্লা। ৬০ কেজিতে জুয়েল আহমেদ হারিয়েছেন শ্রীলঙ্কার জয়াসুন্দরাকে। আর ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণীর ফাইনালে উঠতে আবদুর রহিম জিতেছেন পাকিস্তানের আমির খানের বিপক্ষে।
এদিকে কাল টেবিল টেনিসে নিশ্চিত হয়েছে একটি ব্রোঞ্জ। কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার রোহান সিরিসেনাকে হারিয়েছেন মাহবুব বিল্লাহ। আজ সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ ভারতের অমল রাজ। এর আগে টেবিল টেনিস থেকে এসেছে আরও দুটি ব্রোঞ্জ। এত দিন টেবিল টেনিসে ১৯৯৫ সালের দুটি ব্রোঞ্জই এসএ গেমসের সেরা সাফল্য হয়ে ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশ কাল আরও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে কুস্তিতে।