Showing posts with label সড়ক দুর্ঘটনা. Show all posts
Showing posts with label সড়ক দুর্ঘটনা. Show all posts

Friday, February 6, 2026

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, ৩ বন্ধু নিহত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার যশলং এলাকার সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন তুর্জয় মাঝি (২৮), হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব (২৭) ও মো. সানিয়াত (২৯)। তাঁদের সবার বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং টঙ্গিবাড়ী ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে দিঘীরপাড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি রাত ৯টার দিকে সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের যশলং এলাকায় এলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। সে সময় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের আমগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব ও মো. সানিয়াত মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তুর্জয় মাঝি মারা যান।

টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত। ছবি: সংগৃহীত

Tuesday, June 10, 2025

‘মা’ বলে ডাকলে ছোট্ট রোশনি বলে উঠত, ‘মা, আমি তো এখানেই’ by আসাদুজ্জামান

আর দশটা দিনের মতোই স্কুলের ব্যাগ কাঁধে দিদার হাত ধরে বেরিয়েছিল রোশনি পাল। ছোট্ট মনে হয়তো তখন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে খেলার আনন্দ জেগেছিল। কে জানত, যে রাজপথ দিয়ে রোশনি প্রতিদিন স্কুলে যেত, সেই পথই তার শেষ ঠিকানা হয়ে উঠবে!

রোশনির মা ও বাবার সঙ্গে গত ৫ জুন কথা হয় প্রথম আলোর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মা চৈতি রানী পাল প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ মে ছিল শনিবার। সেদিন তাঁর সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। মেয়েকে নিয়ে সারা দিন বাসায় ছিলেন। সেদিন রাতে মেয়েকে তিনি গল্প শুনিয়েছিলেন। মেয়ে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

মা আরও বলেন, পরদিন (২৬ মে) মেয়ের স্কুল ছিল। মা সেদিন ঘুম থেকে মেয়েকে উঠিয়ে দেন। খাওয়াদাওয়ার পর দিদা (নানি) রেখা বিশ্বাস সকাল সাতটার দিকে রোশনিকে নিয়ে মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্দেশে বের হন। এই স্কুলে রোশনি পড়ত প্রথম শ্রেণিতে।

মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সালেহ শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন স্কুল থেকে বেরিয়ে রশনি তার দিদার হাত ধরে কমলাপুরের দিকে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বিআরটিসির দ্বিতল একটি বাস রশনিকে ধাক্কা দেয়। তখন রশনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে। পরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। চালক শাজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে।

ময়নাতদন্ত শেষে রশনিকে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। পারিবারিক শ্মশানে তার সৎকার হয়।

মা চৈতি রানী পাল বললেন, ‘যখন আমি ঢাকা মেডিকেলে আমার মেয়ের মৃত মুখ দেখতে পাই, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমার মা রশনি ঘুমিয়ে আছে। অনেকবার আমি রশনি মা, রশনি মা বলে চিৎকার করি।...আমার মা চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে আছে।’

রশনির বাবা পলাশ পাল এক যুগের বেশি সময় ধরে কর্মসূত্রে ব্রাজিলে বসবাস করছেন। এক বছর আগে তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আমি কোনো দিন কল্পনাও করিনি আমাকে মেয়ের মৃত মুখ দেখতে হবে। আমি বড় দুর্ভাগা, আমি বেঁচে আছি, আমার রশনি পৃথিবীতে বেঁচে নেই।’

রশনিকে যাঁরা চিনতেন, তাঁদের চোখে এখনো ভাসছে তার হাসিমাখা মুখ। ক্লাসের চঞ্চল মেয়েটি আর কোনো দিন স্কুলে আসবে না। টিফিনের বিরতিতে বন্ধুদের সঙ্গে তার খুনসুটি আর শোনা যাবে না। রোশনির অকালমৃত্যুতে কেবল তার পরিবারই নয়, স্কুল, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও বাক্‌রুদ্ধ।

রশনি তার মায়ের কাছে থেকেই লেখাপড়া করত। রশনি ছিল মায়ের সব কষ্টের উপশম, তার একমাত্র অবলম্বন। মায়ের চোখেমুখে এখন কেবলই শূন্যতা।

রোশনির সঙ্গে মায়ের এই ছবি এখন কেবল স্মৃতি
রোশনির সঙ্গে মায়ের এই ছবি এখন কেবল স্মৃতি। ছবি: পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া

Thursday, April 24, 2025

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক

ভারতে সড়কে বেড়েছে মৃত্যুর মিছিল। দেশটিতে প্রতি তিন মিনিটে একজন সড়কে প্রাণ হারান। বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সড়কগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ভারতের সংবাদপত্রগুলোতে প্রতিদিন পাহাড়ি খাদে বাস পড়ে যাওয়া, মাতাল চালকের পথচারীকে পিষে দেয়া, দাঁড়িয়ে আছে এমন কোনো ট্রাকে গাড়ির ধাক্কা ও বড় যানবাহনের ধাক্কায় ছোট গাড়ি ভেঙে যাওয়ার মতো খবর লক্ষ্য করা যায়। ২০২৩ সালে ভারতে সড়কে প্রাণ হারান কমপক্ষে ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। প্রতিদিনের হিসাবে ওই সংখ্যা ৪৭৪। অর্থাৎ প্রতি তিন মিনিটে ১ জন করে মারা যান সড়ক দুর্ঘটনায়। এদিকে ডিসেম্বরে মৃতের সংখ্যা উদ্বৃত করে ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। ২০২৩ সালে মৃতের মধ্যে শিশু ছিল ১০ হাজার। স্কুল ও কলেজের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ১০ হাজার প্রাণহানি ঘটে। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ হাজার পথচারী। দুই চাকার গাড়ির আরোহীদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অতি দ্রুত গাড়ি চালানোকে এসব সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অসাবধানতার জন্য প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে হেলমেট না পরার কারণে প্রাণ হারান ৫৪ হাজার মানুষ। ১৬ হাজার প্রাণ হারান সিটবেল্ট না পরার কারণে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় পণ্য পরিবহনও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এতে নিহত হন ১২ হাজার মানুষ। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোয় ৩৪ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভুল দিকে গাড়ি চালিয়েও প্রাণ খুইয়েছেন অনেকে। ২০২১ সালের ১৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর কারণে। সড়কে চলা বেশির ভাগ যানবাহনই অতি পুরনো। বেশির ভাগ গাড়িতেই সিট বেল্ট নেই। এয়ার ব্যাগের কথা ভাবা তো বিলাসিতা। এ ছাড়া ভারতের সড়কের পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে সেখানকার ট্রাফিক সিস্টেম। বাইসাইকেল, সাইকেল ও রিকশার মতো যানবাহনের সঙ্গে রাস্তায় জায়গা করে নেয়ার জন্য যানজট সৃষ্টি করে বাস, মোটরসাইকেল, কারের মতো মোটরচালিত যানবাহনগুলো। নিজেদের জিনিস বিক্রয়ের জন্য পথচারীদের পথ আটকে দেন হকাররা। এতে সড়কে আরও যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা ও বিনিয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে তা সত্ত্বেও সড়কে থেমে নেই  বিশৃঙ্খলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো না বরং মানুষের ব্যবহারও সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা বার্ষিক জিডিপির ৩ শতাংশ ক্ষতি হয়। উল্লেখ্য, ভারতে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক। যা ৬৬ লাখ কিলোমিটার বিস্তৃত।

এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারতের অবস্থান। গড়করি বলেন, জনগণের অসচেতনতা ও আইনের প্রতি উদাসীনতা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তবে গত মাসে তিনি সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নকশার জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর দোষ চাপান। এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, সবচেয়ে বড় অপরাধী হলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। এ দেশে রাস্তার সাইনবোর্ড ও মার্কিং সিস্টেমও অতি দুর্বল। ২০১৯ সালে তার মন্ত্রণালয় মহাসড়কে ৫৯টি বড় ধরনের ত্রুটির কথা জানায়। ১৩ হাজার ৭৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনা কালো তালিকাভুক্ত করা হলেও মাত্র ৫ হাজার ৩৬টি দীর্ঘমেয়াদি সংশোধনের মধ্যদিয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে ভারতের ট্রান্সপোর্টেশন রিসার্চ অ্যান্ড ইনজুরি প্রেভেনশন সেন্টার (টিআরআইপিপি)  সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা সড়ক অবকাঠামোতে বড় ধরনের ত্রুটি উন্মোচিত করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ক্রাশ ব্যারিয়ার ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়। বলা হয়, ক্রাশ ব্যারিয়ার সড়কে দেয়া হয় যাতে এর সাহায্যে গাড়িগুলো সহজে থামানো যায়। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই এর উল্টোচিত্র চোখে পড়ে। উচ্চতা, ব্যবধান ও স্থাপনের জন্য স্পষ্ট মান থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন গল্প বলে। ভুল উচ্চতায় ধাতব বাধা, কংক্রিটের ওপর ভিত্তি স্থাপনের মতো কাজের ফলে বাস, ট্রাকের মতো গাড়ি থামার বদলে উল্টে যেতে পারে। এ বিষয়ে দিল্লির আইআইটি’র ইমেরিটাস অধ্যাপক গীতাম তিওয়ারি বলেন, ক্রাশ ব্যারিয়ারগুলো যদি ঠিকমতো স্থাপন না করা হয় তাহলে তা ভালো করার চেয়ে বরং খারাপ করতে পারে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম মূল কারণ হলো- নিরাপত্তা মান না মানলে সেক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানা নির্ধারণ। এ বিষয়ে গড়করি সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ২৫ হাজার কিলোমিটারের দুই লেনের সড়কগুলোকে চার লেনের সড়কে পরিণত করবেন। এতে সড়কে প্রাণহানি কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

mzamin

Wednesday, April 2, 2025

দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু: সন্তানের জন্মের এক ঘণ্টা পর তাঁকে দাফন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার (২৬)। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় ছেলের জন্মের মাত্র এক ঘণ্টা পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

নিহত রনি সিকদারের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শাহানশাহগঞ্জ ছোনাট এলাকায়। তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অস্ত্রপচারের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে গতকাল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী রনি সিকদারের মৃত্যু হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রনি সিকদারের স্ত্রী সুমি আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর অস্ত্রোপচার করার জন্য ছুটি নিয়ে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। গতকাল সকালে মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার পথে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় পৌঁছালে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উল্টো পথে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই পুলিশ সদস্য। খবর পেয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় হাইওয়ে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রনির লাশ যখন বাড়িতে পৌঁছায় তখন তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তারকে অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরিভাবে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া আটটায় ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন সুমি। আর রাত ৯টার দিকে রনির জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী উপকমিশনার (সদর জোন) দ্বীন এ আলম বলেন, ‘রনি আমার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি স্ত্রীর সন্তান জন্মের খবরে ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন, কিন্তু পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রনির স্ত্রী একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।’

পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার
পুলিশের কনস্টেবল রনি সিকদার। ছবি: সংগৃহীত

Sunday, March 30, 2025

তিন সন্তানের লাশের ভার নাসির উদ্দিন কীভাবে বইবেন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় নাসির উদ্দিনের বাড়িতে সবাই আহাজারি করছেন। বাড়ির সদস্যরা তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী যাঁরা এসেছেন, তাঁরাও কাঁদছেন। এই বাড়ির তিন সন্তান আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একসঙ্গে তিন সন্তানের লাশের ভার নাসির উদ্দিন কীভাবে বইবেন, মুঠোফোনে বিলাপ করে বলছিলেন তিনি।

নাসির উদ্দিন শ্রমিকের কাজ করতে গেছেন রাঙামাটি। তিন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে সেখান থেকে রওনা দিয়েছেন তিনি। পথে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিন ছেলে হারানোর কষ্টের কথা বলছিলেন, আর হাউমাউ করে কাঁদছিলেন।

নিহত তিন ভাই হলেন মো. নাঈমুজ্জামান খান ওরফে শুভ (২২), মো. শান্ত খান (১৪) ও মো. নাদিম খান (৮)। পাথরঘাটার টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুরা গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দুর্ঘটনার পরপরই তিন ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁদের লাশ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনা হয় মঠবাড়িয়ার গুলশাখালী গ্রামে তাঁদের নানাবাড়িতে। এ সময় সেখানে মাতম শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ খবর অনুযায়ী, লাশ তিনটি নিয়ে স্বজনেরা বাইশকুরা গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে রওনা দিয়েছেন। সেখানেই তাঁদের লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকার লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাঈমুজ্জামানকে গ্রামের সবাই শুভ নামেই বেশি চেনেন। ঢাকার সাভারে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন তিনি। তাঁর ছোট ভাই শান্ত গুলশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং নাদিম গুলশাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তাঁদের ছোট আরেক ভাই ছিল। সাত মাস বয়সী ওই ভাইটি গত বছর পানিতে ডুবে মারা গেছে। ফলে একই পরিবারের চার ভাইয়ের কেউ রইল না।

শুভ মাত্র চার দিনের ছুটি পেয়ে ঈদ করতে এসেছিলেন বাড়িতে। তবে তাঁর সহকর্মী বন্ধু রাকিব ঈদে ছুটি পাননি। শুভ ঢাকা থেকে আসার সময় রাকিব নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা নতুন পোশাক শুভকে দিয়েছিলেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য। রাকিবের বাড়ি পাশের পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামে।

ঢাকা থেকে শুভ বাড়িতে পৌঁছান গতকাল শুক্রবার রাতে। আজ শনিবার সকালে মোটরসাইকেলে বেরিয়েছিলেন রাকিবের বাড়ি পাথরঘাটার উদ্দেশে। সঙ্গে নিয়েছিলেন ছোট ভাই শান্ত ও নাদিমকে। পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া সড়কের সোনার বাংলা এলাকায় ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বাবা নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো হতভাগা আর কে আছে। আজকে একসঙ্গে আমার তিন ছেলে মারা গেল, গত বছর আমার ছোট ছেলে (৭ মাস) পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমার জীবনের কী অপরাধ ছিল জানি না। আমার চার ছেলে আজকে কেউ নাই। আমি শ্রমিকের কাজ করি। আমার সংসারের জন্য বড় পোলারে চাকরি করতে দিছি সাভারে। আমি ছিলাম রাঙামাটি, এহন বাড়ির পথে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মঞ্জু বলেন, ‘এর আগে আমাগো গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের লাশ কেউ দেখি নাই। নাসির তার পরিবার নিয়ে আমাদের এখানে বাস করত। সে শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কাজ করে। তার চার ছেলে। গত বছর তার ছোট ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমরা এ গ্রামের মানুষ আগে কখনো তিনজনের লাশ একসঙ্গে দেখি নাই।’

রাকিবের বাবা হিরু হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলে রাকিব আর শুভ একসঙ্গে ঢাকায় চাকরি করে। রাকিব এবার ঈদে ছুটি পায় নাই। এ জন্য শুভর কাছে আমাদের জন্য কিছু কাপড় কিনে দিছে। সেগুলো দেওয়ার জন্য আজ সকালে আমাদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে সোনার বাংলা এলাকায় সে আর তার দুই ছোট ভাই বাসচাপায় মারা গেছে। আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই আজকে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিরোজপুর বাসমালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনাই আমাদের কাম্য নয়। মঠবাড়িয়া সড়কটি ব্যস্ত সড়ক হওয়ার পরও এটি প্রশস্ত নয়। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়া এবং বাস ও মোটরসাইকেল উভয়ে বেপরোয়া গতির হওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘তিন ভাইয়ের দাফনের ব্যবস্থা করতে পরিবারের সদস্যরা আবেদন করলে আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য একটি অনুদানের ব্যবস্থা করব।’ 

বরগুনার পাথরঘাটায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে
বরগুনার পাথরঘাটায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সোনার বাংলা এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে। ছবি: প্রথম আলো

Wednesday, December 11, 2024

ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুম্বইয়ে: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর গাড়িতে ধাক্কা মারলো বাস, নিহত ৬

একাধিক পথচারী এবং পরপর গাড়িতে ধাক্কা বেপরোয়া সরকারি বাসের। ঘটনায় মৃত্যু ছয় জনের। জখম হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ জন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে, মুম্বইয়ের কুর্লা এলাকায়।  বাসটি ছিল বৃহানমুম্বই ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই বোর্ডের। আন্ধেরি থেকে কুরলার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  রাত পৌনে ১০টা নাগাদ বৃহন্মুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই এবং পরিবহণ বিভাগের ৩৩২ নম্বর রুটের বাস কুর্লা স্টেশন থেকে আন্ধেরির দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি একাধিক পথচারীকে ধাক্কা দেয়। একই সঙ্গে পরপর গাড়িতেও ধাক্কা মারে বাসটি। তারপর একটি আবাসনের বাউন্ডারি ওয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উলটে যায়। ঘটনার জেরে এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তের পরে বৃহন্মুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই এবং পরিবহণ বিভাগের অফিসারদের একাংশ জানান, ব্রেক ফেল করায় দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই ঘটনা দেখে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে একটি ফরেনসিক টিম দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জোন ৫-এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার গণেশ গাওড়ে বলেন, ‘কুর্লায় পৌঁছনোর পরই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নিয়ন্ত্রণহীন বাসের নীচে চাপা পড়ার হাত থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পথচারীদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই বাস চালককে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কীভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে কান্নিস ফাতিমা আনসারি, শিভম কাশ্যপ, আফরিন আবদুল সালিম শাহ এবং আনম শেখের দেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। জখমদের নিকটবর্তী ভাবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতের সংখ্যা ৪৯। এদিকে আজ  সকালে  সাড়ে ৭টা নাগাদ গুজরাটের জুনাগড়ে দুটি চার চাকার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের। তার মধ্যে চার জন কলেজ পড়ুয়া। বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি গাড়ি ডিভাইডার টপকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটো দিক থেকে আসা একটি গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। জুনাগড়-ভেরাবল হাইওয়ের উপর ভান্দুরি গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

Monday, November 25, 2024

জিপিএস দেখে পথ চলতে গিয়ে গাড়ি নদীতে, নিহত ৩

অচেনা বা নানা গন্তব্যে যেতে গুগল ম্যাপ বা বিভিন্ন অ্যাপসের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টি এখন অপরিচিত নয়। তবে এভাবে পথ চলতে গিয়ে অনেক সময় বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় অনেককে। তবে এবার ঘটেছে এক ভয়ংকর ঘটনা। জিপিএস দেখে পথ চলতে গিয়ে নদীতে পড়েছে এক গাড়ি। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

রোববার (২৪ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় সেতুর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে সেই অংশের নির্মাণকাজ করছিলেন কমকর্তা-কর্মচারীরা। সেখানে জিপিএস দেখে দ্রুতগতিতে গাড়িয়ে চালিয়ে নদীতে পড়েন এক চালক।

এ ঘটনায় চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ভারতের উত্তরপ্রদেশের রামগঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিন আরোহী গাড়িতে করে বাদায়ুন জেলার ডাটাগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। জিপিএস অনুসারে তারা খালপুর-ডাটাগঞ্জ সড়কের ওই সেতুটি পাড়ি দিচ্ছিলেন। এ সময় সেতুর ভাঙা অংশে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি নদীতে পড়ে যায়।

সার্কেল পুলিশের কর্মকর্তা আশুতোশ শিবম জানান, চলতি বছরে বন্যায় সেতুর সামনের অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর পুনরায় সেতুটির নির্মাণকাজ চলছিল। তবে জিপিএসে বিষয়টি আপডেট করা ছিল না। ফলে সেতুটির বিষয়ে চালক বুঝতে পারেননি। এটি সেতু থেকে ৫০ মিটার গভীরে নদীতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, সেতুতে সতর্কতামূলক কোনো ধরনের বোর্ডও ছিল না। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, খবর পেয়ে বাদায়ুন ও বরেলির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি বেশ গতিতে চলছিল। 

ব্রিজ থেকে নদীতে ছিটকে পড়া গাড়ি। ছবি : সংগৃহীত
ব্রিজ থেকে নদীতে ছিটকে পড়া গাড়ি। ছবি : সংগৃহীত

Saturday, August 24, 2024

নেপালে নদীতে পড়লো ভারতীয় পর্যটকবোঝাই বাস, নিহত ২৭

নেপালে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত ২৭ জন ভারতীয়ের ময়নাতদন্ত শনিবার বাগমতি প্রদেশের একটি হাসপাতালে করা হয়েছে।   মৃতদেহগুলো  মহারাষ্ট্রে  নিয়ে যাবার আগে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এখবর জানিয়েছেন। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের ওই বাসে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। শুক্রবার পোখরা থেকে কাঠমাণ্ডু যাচ্ছিল বাসটি। পথে তানাহুন জেলার মারসিংডি নদীতে পড়ে যায় যাত্রীবোঝাই বাসটি। তবে নদীর তীরেই বাসটির খোঁজ মিলেছে। স্থানীয় ডিএসপি দীপকুমার রায়া জানান, বাসটিতে উত্তরপ্রদেশের নম্বর প্লেট রয়েছে। জানা গেছে মৃত ২৭ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী প্রত্যেকেই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন যারা ১০ দিনের সফরে নেপাল গিয়েছিলেন। ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মাই-রিপাবলিকা নিউজ পোর্টাল ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ দীপক রাইয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মৃতদেহগুলিকে আনবু খাইরেনি হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য চিতওয়ানে পাঠানো হয়।  মুম্বাইতে মহারাষ্ট্র সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান আজ মৃতদেহগুলিকে নাসিকে নিয়ে যাবে। ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রক্ষা খড়সে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ফিরে আসার বিষয়টি তদারকি করতে। তিনি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত  বীন শ্রীবাস্তব এবং নেপালের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ব্রিঘু ধুঙ্গানা একত্রে  উদ্ধার অভিযান এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করছেন। তিনি আহত ১৬জনের একটি বিস্তারিত তালিকাও শেয়ার করেছেন, যাদের বেশিরভাগই ‘গুরুতর’ আঘাত পেয়েছেন। আহতদের মধ্যে দশজন নারী, বাকি ছয়জন পুরুষ। বাস দুর্ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এক্স-এ নিহতদের মৃত্যুতে  শোক প্রকাশ করেছেন। কাঠমান্ডু পোস্ট মোতাবেক, নেপাল পুলিশ এবং সেনার  দুর্ঘটনাস্থল থেকে মৃত এবং আহত যাত্রীদের তুলতে প্রায় সাত ঘন্টা সময় লেগেছিল। নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) ডেপুটি মুখপাত্র শৈলেন্দ্র থাপা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই ১৬ জন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ১১ জন মারা যান। আহত ১৬ জনকে বিমানে করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে জাতীয় সড়কের কাছে  অবস্থিত।

সূত্র : বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

Wednesday, November 13, 2019

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন গাড়ির ব্যবহার by নাফিস কোরাইশী

পথচারী সতর্কতা
আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সংবাদপত্র খুললেই আমরা মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। এটা আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করছে। এ প্রবন্ধে আমি যানবাহনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এমন কিছু স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তাব করছি, যা নিশ্চিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস করতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশির ভাগ গাড়ি উৎপাদন কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যানবাহন তৈরিতে কাজ করছে, যা চালককে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। এসব প্রযুক্তি বর্তমান বাজারে বিদ্যমান। বেশির ভাগ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্নিং সিস্টেম সাধারণত রাডার, ক্যামেরা, লিডার ও ম্যাপ সেন্সর ব্যবহার করে থাকে। এসব সেন্সর একটা সেন্ট্রাল ব্রেইনকে গাড়ির পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়। সেন্ট্রাল ব্রেইন চালককে আগেভাগেই সতর্ক করে কোনো ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকলে। নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে এমন বুঝলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে।
পথচারী সতর্কতা
গাড়ির কাছে কোনো পথচারী অথবা অবকাঠামো থাকলে সিস্টেম বিপ (একধরনের শব্দ) শুরু করবে। বিপের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়তে থাকবে যত দূরত্ব কমে আসতে থাকবে। বাস অথবা ট্রাকে এই সিস্টেম ভালো সহযোগিতা করে থাকে। কারণ চালকের পক্ষে গাড়ির চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাধারণত ক্যামেরা, রাডার ও আলট্রাসনিক সেন্সর ব্যবহার করে যেকোনো বিপদ সম্পর্কে জানান দিয়ে থাকে।
লেন পরিবর্তন সতর্কতা 
লেন পরিবর্তন সতর্কতা
সাধারণত এই ফিচার গাড়িকে লেনে ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে। ক্যামেরার সাহায্যে লেন লাইন ডিটেক্ট করা হয়। চালক অনিচ্ছাকৃত দাগ পার হলে স্টিয়ারিং টর্ক প্রয়োগ করে গাড়িকে লেনে ধরে রাখে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম সাইড রাডারের সাহায্যে কোনো গাড়ির উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে। গাড়ির চিহ্ন সম্পন্ন আইকন সাইড গ্লাসে দৃশ্যমান হয়, যদি কোনো গাড়ি পার্শ্ববর্তী লেনে বিদ্যমান থাকে। এ ক্ষেত্রে চালক লেন পরিবর্তনে অগ্রিম সতর্ক থাকবেন।
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা 
অনেক চালক আছেন যাঁরা গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলেন। টেক্সট মেসেজ করেন বা পাশের কারও সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। আইন করেও এ অভ্যাস বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে চালকের ঘুম চলে আসতে পারে। চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্টিয়ারিং হুইলের মাঝে ক্যামেরা বসানো থাকে, যা চালকের চোখের নড়াচড়া থেকে বুঝতে পারে চালক অমনোযোগ কি না এবং চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা 
অসতর্ক চালকের জন্য সতর্কতা
সামনে গাড়ি, মানুষ বা পশু থাকলে এ ধরনের ব্যবস্থা অগ্রিম চালককে সতর্কতা দিয়ে থাকে। যদি সংঘর্ষ হওয়ার মতো দূরত্বে চালক চলে আসেন কিংবা অনেক সময় সংঘর্ষ নিশ্চিত হলে এ সিস্টেম নিজেই ব্রেক করে থাকে। সাধারণত রাডার ও ক্যামেরা দিয়ে থ্রেট অবজেক্ট শনাক্ত করা হয়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালাতে পারবে, যা দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর সামর্থ্য রাখে। এ ব্যবস্থা দিন বা রাতে সমানভাবে কার্যকর।
এ রকম আরও অনেক ফিচার বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে সব গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। আমাদের সময় হয়েছে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো। হয়তো কিছুটা ব্যয়বহুল। কিন্তু মানুষের জীবনের থেকে বেশি নয়।
>>>নাফিস কোরাইশী: চালকবিহীন (অটোনমাস) গাড়ি টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরসে (GM) কর্মরত।
সামনের সংঘর্ষের অগ্রিম সতর্কতা

Sunday, October 13, 2019

সড়ক দুর্ঘটনা: হাসপাতালে নেয়ার পথে এত মৃত্যু কেন? by শাহনাজ পারভীন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে গেলেই চিরচেনা শব্দ কানে ভেসে আসে। ব্যথায় কাতর রোগীদের গোঙানি আর স্বজনের কান্নায় ভারি হয়ে থাকে দেশের সবচাইতে ব্যস্ত এই জরুরী বিভাগটি।
সেখানে করিডোরের মেঝেতে গামছা পেতে ঘুমিয়ে ছিলেন মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছরের রমজান মাসে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার মাথার কাছে দুটো ক্র্যাচ দাঁড় করিয়ে রাখা।
মেঝেতে কয়েকটি কাপড়ের বোচকা ভর্তি দরকারি জিনিসপত্র।
তার উপর বসে স্ত্রী আসমা বেগম বলছিলেন, "দোকানের জন্য মাল কিনতে গেছিলো। মাল নিয়ে আসার সময় দুই দিক থেকে দুইটা গাড়ি একত্রে ওর সিএনজিটাকে মেরে দিছে। মাথায় আঘাত পাইছে, পা আর হাত এই দুইটাই ভাঙ্গি গেছে।"
ঘটনার দিন আশপাশের পথচারী ও দোকানিরা কয়েকজন মিলে তাকে একটি সিএনজিতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
আসমা বেগম সেই দিনটির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলছিলেন, "প্রথমে আমাদের গ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটা আছে সেইখানে নিয়ে গেছিলো। কিন্তু সেইখানে রাখে নাই। বলছে চিটাগাং নিয়ে যান। ওর অবস্থা মারাত্মক ছিলো। পা এইটা এইখানে ছুটে গেছিলো। সেখান থেকে ভীষণ রক্ত বাইর হইতেছিল। চিটাগাং নেয়ার সময় গাড়িতে খ্যাতা কাপড় যা ছিলো সব রক্তে ভাসি গেছিলো।"
তিনি বলছিলেন, "আছরের পরে অ্যাকসিডেন্ট হইছে। রাত্রি দুইটা বাজে চিকিৎসা পাইছে।"
অর্থাৎ এরকম ভয়াবহ আহত একজন ব্যক্তির প্রথমে দুর্ঘটনা স্থল, তারপর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সর্বশেষ সড়কপথে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত যাত্রা। এতে সবমিলিয়ে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার মতো লেগে গিয়েছিলো সঠিক চিকিৎসা সেবা শুরুই করতে।
এখন হাসপাতালে যাওয়া আসার মধ্যেই জীবন পার করছেন আসমা বেগম, দেলোয়ার হোসেন ও তাদের পরিবার।
পায়ে বেশ সমস্যা রয়ে গেছে। বেশ কবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আবার করতে হবে।
প্রতিবন্ধীতার মুখোমুখি দেলোয়ার হোসেন অন্তত প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্বামীর পাশে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন আসমা বেগম।
বাংলাদেশে মৃত্যুর ৬৩ শতাংশই ঘটছে হাসপাতালে নেয়ার পথে
কিন্তু তেমন সৌভাগ্যের অধিকারী নন বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার বিশাল সংখ্যক আহত ব্যক্তি।
ঢাকা মেডিকেলের মর্গের পাশে স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন কুমিল্লার চৌহারার রাজিয়া বেগম।
সপ্তাহ-খানেক আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তার রিকশাওয়ালা বাবা। বুধবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসার পথে মারা গেছেন তিনি।
সেভাবেই তাকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন তার মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার যোগাড় চলছে।
দুটো একই ধরনের গল্প শুধু তফাৎটা হল রাজিয়া বেগমের বাবা প্রাণে বাঁচেন নি।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে গড়ে চারভাগের তিনভাগই হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। অথবা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৬৩ শতাংশই ঘটছে হাসপাতালে নেয়ার পথে।
সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ অথবা সিআইপিআরবি নামের একটি সংস্থা ২০১৬ সালে ৯০ হাজারের মতো গৃহস্থালিতে একটি জরীপের পর এমন তথ্য দিচ্ছে।
কি কারণে বাংলাদেশে এমন মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি?
সিআইপিআরবি'র নির্বাহী পরিচালক ডা. একেএম ফজলুর রহমান বলছেন দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক জরুরী সেবার অনুপস্থিতি এর প্রধান কারণ।
তিনি বলছিলেন, "ইমারজেন্সি মেডিকেল সার্ভিস বলতে আমরা যা বলি, উন্নত বিশ্ব যেটা ঘটে, যদি একটা দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে প্রথমেই একটা কল সেন্টারে ইনফর্ম করা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত ম্যানপাওয়ার পাঠানো হয়। সেই টিম উদ্ধার করার পরে যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে সেইখানেই একটা ব্যবস্থা হবে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে যেটুকু চিকিৎসা দেয়া সম্ভব সেটা দিয়ে হাসপাতালে সঠিকভাবে ট্রান্সফার করা হয়। হাসপাতালে জরুরী বিভাগে লোক রেডি থাকে। তারা সেখানেই ইমারজেন্সি রুমে চিকিৎসা দেয়ার পরই যদি দরকার হয় তাহলে ইনডোরে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সমন্বিতভাবে এই তিনটা বিষয় গড়ে ওঠে নি।"
আসমা বেগমের দিন কাটছে দুর্ঘটনার শিকার স্বামীর সেবা করে।
তিনি বলছেন, উন্নত বিশ্বে প্যারামেডিক বলে আলাদা ইউনিট থাকে।
কোন দুর্ঘটনায় প্রাথমিক জরুরী চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রশিক্ষিত এই বিশেষ কর্মীরা। তেমন একটি ইউনিট তৈরি খুবই জরুরী বলে মনে করছেন ডা: রহমান।
বাংলাদেশের জরুরী প্রাথমিক সেবার চিত্র কী?
বাংলাদেশে কিছুদিন হল পুলিশের পক্ষ থেকে চালু করা ৯৯৯ নম্বরের একটি জরুরী কল সেন্টার রয়েছে কিন্তু তাতে পুলিশি সেবা পাওয়া গেলেও জরুরী চিকিৎসা সেবার কোন ব্যবস্থা নেই।
ডা: রহমান বলছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করে অথবা আইনি সাহায্য দিলেও পুলিশ চিকিৎসা দিতে পারে না।
এতে নষ্ট হয় খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। অনেক সময় দুর্ঘটনার ক্ষেত্র কয়েক মিনিটের উপরও আহত ব্যক্তির বেঁচে থাকা নির্ভর করে।
দেখা যাচ্ছে প্রয়োজনে পাওয়া যায়না অ্যাম্বুলেন্স। আবার সেটি পাওয়া গেলেও তার সাথে থাকছে শুধু গাড়ির চালক ও সহকারী।
অ্যাম্বুলেন্সে জরুরী চিকিৎসা দেবার যোগ্য কেউ যেমন থাকেনা তেমনি কোন যন্ত্রপাতিও থাকেনা।
বাংলাদেশে সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রথম সাহায্যকারী আশপাশের মানুষজন।
তারাও মারাত্মক আহতদের সঠিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষিত নন।
টানা হেঁচড়ায় রোগীর আরও বেশি ক্ষতি হয়ে যায়।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার পর প্রায়ই চিকিৎসা পেতে অনেক সময় লেগে যায়।
তার একটি বর্ণনা দিচ্ছিলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ইমারজেন্সি মেডিসিন নামে একটি সংস্থার মহাসচিব ডা. রাগিব মনজুর। তিনি বলছেন, "ধরুন একটা গাড়ি অ্যক্সিডেন্ট হয়েছে। একজন মেরুদণ্ডে খুব আঘাত পেয়েছে। তাকে কিভাবে স্থানান্তর করতে হয় তা স্থানীয় মানুষজন জানে না। তারা টানাটানি করে যেভাবে গাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যাবে তাতে দেখা যাবে আহত ব্যক্তির মেরুদণ্ড আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল।"
অনেক সময় পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা সহ আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পরার ভয়ে পথচারীরাও গুরুতর আহত ব্যক্তির সহায়তায় কাছে আসতে চাননা, বলছিলেন ডা: রহমান।
তিনি বলছেন. "এর জন্য দরকার একটা গুড সামারিটান ল। যে আইনের মাধ্যমে এই ব্যক্তিদের একটা সুবিধা দেয়া হবে যাতে তারা কাউকে সহায়তা করে কোন আইনের মারপ্যাঁচে যেন না পরে।"
হাসপাতালেও জরুরী বিভাগ নেই
দেখা যাচ্ছে তারপরও অনেক ক্ষেত্রে পথচারীরাই ভরসা।
তাদের সহায়তায় রিক্সা, সিএনজিতে কোনরকমে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছাতে পারলেও সরকারি হাসপাতাল ছাড়া জরুরী সেবার ব্যবস্থা থাকেনা।
সরকারি তথ্যমতে বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি।
বেশিরভাগেরই ইমারজেন্সি বিভাগ নেই। কিছু ক্লিনিক বা হাসপাতালে ইমারজেন্সি বলে সাইনবোর্ড টাঙানো থাকলেও সেখানে গুরুতর ঘটনার জরুরী চিকিৎসা মেলে না। বড়জোর কাঁটাছেড়ার ব্যান্ডেজ মেলে।
রোগীদের জরুরী সেবা দিতে অস্বীকৃতির কারণে রোগীর মৃত্যুর উদাহরণ বাংলাদেশে প্রচুর রয়েছে, বিশেষ করে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক জরুরী সেবার অনুপস্থিতির কথা বলছেন ডা. একেএম ফজলুর রহমান।
বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পেইন করছেন ডা. রাগিব মনজুর।
তিনি বলছেন, জরুরী বিভাগ চালু করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হাসপাতাল মালিকেরা। তার মতে, "প্রথম শব্দই আমি যেটা ব্যবহার করব সেটা হল জরুরী বিভাগ নন রিউওয়ার্ডিং। অর্থাৎ এটা দিয়ে পয়সা কামানো যায়না।" তিনি বলছেন, "অনেক সময় ইমারজেন্সিতে রোগী ভর্তি করতে চায়না কারণ পুলিশি ঝামেলায় জড়াতে হতে পারে। একটা কেস হয়ে যেতে পারে।"
জরুরী বিভাগ চালানোর প্রশিক্ষিত কর্মী নেই
কিন্তু তিনি সবচেয়ে জরুরী মনে করছেন জরুরী বিভাগের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্স।
তিনি বলছেন, "ট্রেইন্ড পার্সোনেলেরও অভাব আছে। এখন জুনিয়ররা ইমারজেন্সিতে কাজ করে। তারা কাজ জানে না। তাদের কোন সুপারভাইজার থাকে না। ফলে হয়কি, স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতাই তাদের নেই। তারা জানে না এর পরে কি করবে। সুতরাং ওরা ভয় পায় যে যদি কিছু হয় আমাকে যদি পেশেন্টের পার্টি ধরে মার দেয়।"
ডা: মনজুর বলছেন জরুরী বিভাগে চিকিৎসা না পাওয়া যেমন সমস্যা তেমনি রোগীর আত্মীয়দের হাতে চিকিৎসকের মার খাওয়ার ঘটনাও হরহামেশাই ঘটছে।
বাংলাদেশে ২০১৬ সালে হাইকোর্টের দেয়া একটি নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে বাধ্য যেকোনো হাসপাতাল।
ডা. রাগিব মনজুর বলছেন সঠিকভাবে হাসপাতালে স্থানান্তর করতেও প্রশিক্ষণ লাগে।
আইনি জটিলতার আশংকায় চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকার করা যাবে না।
এমনকি আহত ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে দরকারে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কর্পোরেট সোশাল রেসপন্সসেবিলিটির আওতায় চিকিৎসা দেবে। আদালতের নির্দেশনায় এমন বিষয় উল্লেখ ছিলো।
সিআইপিআরবি বলছে বাংলাদেশে নানা ধরনের আঘাতের ফলে মৃত্যুর দিক দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
কিন্তু কোনভাবেই যেন সড়কে মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না।
এরকম একটি জাতিয় সমস্যাকে অবহেলা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত গবেষণা কেন্দ্র অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক ক্ষতি
অধ্যাপক রহমান বলছেন এর একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকও রয়েছে।
তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলছেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সেটা জিডিপির তিন শতাংশের মতো। আমি একটা কথা প্রায়ই বলি যে এই আর্থিক ক্ষতি যদি ঠেকাতে পারতাম, টাকাটা যদি বাঁচাতে পারতাম তাহলে সেই টাকা দিয়ে প্রতি বছর একটা করে পদ্মা সেতু বানাতে পারতাম।"
সিআইপিআরবির হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে দেশে ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলছেন সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক ক্ষতি রয়েছে।
অধ্যাপক রহমানের মতে, "সরকারের জন্য কোনও খাত থেকে হুমকি বা বিপদ যদি আসার সম্ভাবনা থাকে, এই সড়ক সেক্টর থেকে আসতে পারে। তার সিম্পটমও কিন্তু আমরা দেখেছি। মানুষের মধ্যে কিন্তু ক্ষোভ আছে।"
বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে সবচাইতে বড় আন্দোলনই ছিলো নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
অধ্যাপক রহমান বলছেন, "বর্তমান সরকারের একটা ভিশনও রয়েছে যে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা। আমরা যেহেতু উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছি তাহলে আমাদের এই দিকে নজর দিতে হবে।"
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যায় হেরফের
ওদিকে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও সরকারি ও বেসরকারি হিসেবে ব্যাপক হেরফের রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার ২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলেছে বাংলাদেশে বছরে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
কিন্তু পুলিশের রেকর্ড করা তথ্যে এর সংখ্যা ছিল আড়াই হাজারের কম।
অন্যদিকে খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এক জরীপে বেসরকারি সংস্থা যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৫,৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল ৭,২২১ জন। সংখ্যায়
জরুরী প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করতে কি করছে সরকার?
হেরফের হলেও এটি যে একটি মারাত্মক সমস্যা সেটি মানছেন সবাই। এমন মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত একটি জরুরী ব্যবস্থা তৈরিতে কি করা হচ্ছে?
জিজ্ঞেস করেছিলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের কাছে।
তিনি বলছেন, "আমাদের সীমিত আকারের হলেও কিছু ব্যবস্থা আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটা কল সেন্টার আছে। নাম্বারটা হল ১৬২৬২। পুলিশেরও আছে ৯৯৯। সেখানেও কল করে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে।"
কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে গাড়ির চালক ছাড়া চিকিৎসা সেবা দেয়ার কোন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ও যন্ত্রপাতি নেই সে ব্যাপারে কি হবে?
উন্নত বিশ্বে দুর্ঘটনাস্থল থেকে শুরু হয় জরুরী চিকিৎসা।
এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই সুবিধাটা এখোনো যে খুব সুবিন্যস্ত সেটা দাবি করা যাবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশে একটা ইমারজেন্সি মেডিকেল সার্ভিস তৈরির। অ্যাম্বুলেন্স যেন স্ট্যান্ডার্ড হয়। রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যেন অ্যাম্বুলেন্সেই দেয়া যায়।"
কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলের নিকটস্থ হাসপাতাল যদি বেসরকারি হয় আর তারা যদি আহত ব্যক্তিকে সাহায্য না দিয়ে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেন তাহলে কি হবে?
অনেক ক্ষেত্রে একজন আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণে তাকে একের অধিক হাসপাতাল ফিরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এরকম একটি ঘটনা হচ্ছে বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস এর সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জগলুল আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যু।
ঢাকার কাওরান বাজার এলাকায় একটি বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার মি. চৌধুরীকে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি হাসপাতালটি।
ড. আজাদ বলছেন, "আমরা যে ইমারজেন্সি ব্যবস্থা চালু করতে চাই সেই প্রোটকল চালু হলে সব হাসপাতালে ইমারজেন্সি ব্যবস্থা থাকতে হবে। এরকম একটা বিষয় চালু করতে আমরা কাজ করছি।"
ড. আজাদ আরো বলছেন যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকবে সেটি বিনামূল্যে দিতে চায় সরকার। তবে তিনি নিজেই বলছেন রাতারাতি এতসব করে ফেলা সম্ভব নয়।
যতদিন তা সম্ভব না হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার পর জরুরী চিকিৎসা সেবার অভাবে দেলোয়ার হোসেনের মতো পঙ্গুত্বের মুখামুখি হতে হচ্ছে অনেককে।
রাজিয়া বেগমের মতো স্বজন হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

Wednesday, September 11, 2019

সড়ক দুর্ঘটনা বিরাট হত্যাকাণ্ডের মহড়া: -সাক্ষাৎকারে ইকবাল হাবিব

বাংলাদেশের সড়কে যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে তা অবাঞ্ছিত এবং অবহেলাজনিত এক বিরাট হত্যাকাণ্ডের মহড়া। রেডিও তেহরানাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিক সমিতির অবাঞ্ছিত, অযাচিত এবং দায়িত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির বাধার মুখে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ও সড়কে নিরাপত্তা সৃষ্টিতে যথাযত উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে এত বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।
  • সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ জবাহদিহিতাহীন ও আইনের প্রয়োগহীন সড়ক ব্যবস্থাপনা।
  • সড়ক দুর্ঘটনারোধে শুধু প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জবাবদিহীতার মধ্য দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা তৈরি করা।
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ। পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।
রেডিও তেহরান: জনাব ইকবাল হাবিব,  বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এবছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে ১২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন। আর আহত হয়েছেন ৩৩২ জন। এই যে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?
ইকবাল হাবিব: প্রকৃত উদ্যোগ গ্রহণ না করাই মূলত সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়কে নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ বলে আমি মনে করি। আর এই প্রকৃত উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলেই মালিক-শ্রমিক সমিতির অবাঞ্ছিত, অযাচিত এবং দায়িত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন রাজনৈতিক এবং পেশিশক্তির বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের কারণেই প্রকৃত উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আমরা যখন কথা বলছি তখন সড়ক দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নানা আন্দোলন সংগ্রামের কারণে অনেকগুলো সুপারিশ ও নির্দেশনা এসেছে। একইসাথে উচ্চ আদালতেরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে একটা প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা অদূর ভবিষ্যতে যথাযথ নিরাপত্তা সম্বলিত একটি সড়ক ব্যবস্থাপনার দিকে যাব। তবে এই যাব যাব যখন বলছি তখন আমাদের মহাসড়কগুলো সাংঘাতিকভাবে অরক্ষিত।
এবারের দুর্ঘটনাগুলো যদি একটু পর্যাবেক্ষণ করা যায় তাহলে দেখব, বিরাট অংশের দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এছাড়া অনেকগুলো দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল মহাসড়কে অবাঞ্ছিত অবৈধ ভটভটি ধরনের যেসব কনভার্টেট যান্ত্রিক বাহন তৈরি করা হয়েছে সেসব এবং এসবের চালকরা কখনও কোনো ধরনের আইন কানুন সম্পর্কে জ্ঞাত না পাশাপাশি লাইসেন্সও নেই। মূলত তাদের কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এখন মোটরসাইকেলে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে বলব গত তিন চার বছরে দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আর এই প্রবলভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- রাজনৈতিক কারণে আমাদের যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ কোনো কাজ করতে পারছে না। তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক কোনো না কোনো কারণে তারা হয়তো কোণঠাসা। তারা এই মোটর সাইকেলের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের একটা প্রচেষ্টার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আর এই  যুব সমাজের মধ্যে একটা উদ্যমতা ও দুর্বিনীত মনোভাব আছে। রাজনৈতিক কারণে যখন কেউ চাপের মধ্যে থাকে তখন তাদের অভিব্যক্তি ও বোডি ল্যাঙ্গুয়েজ কার্যক্রম সবকিছুতেই কিন্তু মারদাঙ্গা মানসিকতা থাকে। আর এ বিষয়টি আমরা অনেক দিন থেকে বলছিলাম। পুরো শহরজুড়ে 'পাঠাও' উবার' এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এবারের ঈদ যাত্রায় বা ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে তা মোটরসাইকেল ও ভটভটিধরনের যেসব যান রয়েছে তাদের কারণে। আর তাদের কারণে বহু অমূল্য প্রাণ ঝরে গেছে। যে সংখ্যাটি আপনি বলেছেন সেটি নিবন্ধিত। এর বাইরে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বহু প্রাণ হারিয়েছে। পুলিশি ঝামেলাসহ নানা কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসে নি। এ ধরনের বহু দুর্ঘটনার খবরও আমাদের কাছে এসেছে। অতএব সড়ক বা মহাসড়কে নিয়মকানুনহীন একটা কর্মসূচির মধ্যে থাকা হলে বা ছুটি ছাটার সময় মানুষের সফরের ব্যাপারটা যেহেতু একটু বেশি হয় ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে যা অবাঞ্ছিত এবং অবহেলাজনিত এক বিরাট হত্যাকাণ্ডের মহড়া।
রেডিও তেহরান:  সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত আপনি কাকে বা কোন বিষয়টিকে দায়ী করবেন?
ইকবাল হাবিব: সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে আমি বলব জবাহদিহিতাহীন ও আইনের প্রয়োগহীন সড়ক ব্যবস্থাপনা। 
দ্বিতীয়ত কারণ হিসেবে আমি বলব, সড়কে করিডোরভিত্তিক যান চলাচলের নিরাপত্তাজনিত অবকাঠামো যথাযথকরণের অভাব।
তৃতীয়ত, সড়ক চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দায়িত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন ও জবাবদিদিতার মনোভাভের অভাব।
চতুর্থত, সরকারি যেসব সংস্থা এসব দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং তাদের পেশাগত দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভাব এবং পরিবির্ততভাবে পুরো ব্যবস্থাকে সাজিয়ে একটি জনবান্ধব নিরাপদ  ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার উদ্যোগের অভাব। এগুলো মূল বিষয়। এরসঙ্গে সচেতনার অভাব রয়েছে। অবকাঠামোগত দিকের উন্নয়নে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের অভাব রয়েছে।
রেডিও তেহরান:  বলা হয়ে থাকে, দেশের চালক শ্রেণীর মধ্যে শিক্ষার আলো কম এবং তাদের অনেকেই মাদকসেবী। এদের কাছে মানবতাবোধ একদম তুচ্ছ। এই সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা সম্ভব? কাউন্সেলিং কী এ বিষয়ে সমাধানের মাধ্যম হতে পারে?
ইকবাল হাবিব: আপনি যেসব কারণ বললেন তার সাথে আরও একটি কারণ যুক্ত করতে হবে। সেটি হচ্ছে চালকদের অনেকেই মানসিক এবং দৈহিকভাবে অসুস্থ। অনেক চোখে দেখেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এক্ষেত্রটিতে পরিশীলিত করণের উদ্যোগ নিতে হবে সরকার ও মালিক উভয়পক্ষের। যারা এরইমধ্যে চালক হয়েছেন তাদের যদি অবৈধ লাইসেন্স থাকে সেগুলোতে প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। আমাদের প্রশিক্ষণের স্কুলগুলোতে তাদের শারিরীক মানসিক পরীক্ষার  মাধ্যমে উপযুক্ততার ভিত্তিতে গাড়ি চালানোর অনুমতি দিতে হবে। এছাড়া আমাদের চালকের সংকট প্রচুর। সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বেশি বেশি চালক প্রশিক্ষণ স্কুল তৈরি করে এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে যাতে অতি দ্রুততম সময়ে যোগ্য চালক তৈরি করতে হবে।এই প্রক্রিয়াটা মূলত উদ্যোগের অভাবে হচ্ছে না। কারণ চাহিদা আছে এবং আমাদের অসংখ্য বেকার ও অদক্ষ জনগোষ্ঠী রয়েছে। অথচ আমরা দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারছি না। আর অদক্ষ জনগোষ্ঠীর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ জায়গাতে আমাদের মনোযোগ ও  বিনিয়োগ জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
রেডিও তেহরান: সড়ক দুর্ঘটনা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা কী অসম্ভব? নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
ইকবাল হাবিব: দেখুন, অবশ্যই সড়ক দুর্ঘটনা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব। শুধু তাই নয় দ্রুততম সময়ে সম্ভব। শুধু প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জবাবদিহীতার মধ্য দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা তৈরি করা।
করণীয় সম্পর্কে এরইমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১১ টি বিষয় দাখিল করা হয়েছে। যদিও আমরা সেটাকে ক্যাটিগরি করে দেখেছি যে এগুলো ৬৪ টির মধ্যে আনা সম্ভব। যারমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম রয়েছে। এছাড়া আদালতের রায় আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর গত দুই ঈদে দেয়া কতগুলো সুস্পস্ট অনুশাসন রয়েছে। আমি মনে করি শুধুমাত্র এগুলোতেই সময় নির্ভর পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করলে আমরা কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সড়কের নিরাপত্তাকেও আনা সম্ভব একইসাথে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

Tuesday, September 10, 2019

যে কারণে সড়কে মৃত্যু কমছে না by মরিয়ম চম্পা

সড়কে এতো মৃত্যু! প্রতিদিনই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে তালিকা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাজারো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস কান্না। মিটিং, মিছিল, মানববন্ধন, আন্দোলন কোন কিছুই থামাতে পারছে না সড়কে মৃত্যুর মিছিল। সরকারের নানা উদ্যোগের পরও কেন কমছে না সড়কে এ মৃত্যু? পুলিশ বলছে, সড়ক মহাসড়কে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া দুর্ঘটনা বাড়ার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমাতে ছোট গাড়ি কমিয়ে বড় যানবাহনের দিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে তারা।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, দুর্ঘটনা রোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এদিকে পুলিশ, বিআরটিএ এবং বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গত চার বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি দুটোই বেড়েছে। মহাসড়কে ২০১৫ সালে ১৭৭৩ জন, ২০১৬ সালে ১৭৬৯ জন, ২০১৭ সালে ১৬০১ জন এবং ২০১৮ সালে ১৪৩৯ জন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে তথ্য দিচ্ছে এআরআই।

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমেনি।
গত এক বছরে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৯৭ জন। নিহত ব্যক্তিদের প্রায় ৩৮ শতাংশই পথচারী। সড়কে মৃত্যুর এই হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই)। ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ এই হিসাব দিয়েছে। আর এসব মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সময়ে শুধু বিমানবন্দর সড়কে মারা গেছেন ৪৬ জন। গত বছর ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর বাস তুলে দিয়েছিলেন বেপরোয়া চালক। এতে নিহত হয় কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামেন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তখন সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে পুলিশ ও সরকারের অন্যান্য সংস্থা নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন। আন্দোলনের এক বছর পার হলেও সেগুলোর পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি। ফেরেনি সড়কে শৃঙ্খলা।

শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি হয়। বুয়েটের এআরআইয়ের পরিচালক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, ঢাকার সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা দায়ী। গণপরিবহন কমলেও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাসের একাধিক রুট বিদ্যমান, যা বিজ্ঞানসম্মত নয়। নিয়োগপত্র ছাড়াই দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে চালক নিয়োগ দেয়া হয়। দিন শেষে তেলসহ নানা আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে গিয়ে মারাত্মক চাপে পড়েন চালকরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে ১৫ দশমিক ৩ জনের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়। এ হিসাবে প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়কে মৃত্যু হয় প্রায় ২৪ হাজার ৯৫৪ জনের। জাতিসংঘ ঘোষিত পঞ্চম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় তাদের ফেসবুক পেজে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি ‘ইন্টারেকটিভ রিপোর্ট’ প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ‘এক গুচ্ছ ধারাবাহিক জাতীয় সড়ক নিরাপত্তার কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সমপ্রতি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।’

ডাব্লিউএইচও বলেছে, মানসম্মত হেলমেট সঠিকভাবে পরলে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪০ শতাংশ এবং গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের সব আরোহীর জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয় না বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ মানবজমিনকে বলেন, রোড সেফটিতে সরকারের আলাদা করে সেফটি রিলেটেড কোনো ন্যাশনাল প্রোগ্রাম নেই। আমাদের টার্গেট আছে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে কমাতে হবে। কিন্তু সরকারের রোড সেফটি নিয়ে বড় কোনো আলাদা প্রোগ্রাম নেই। ছোট খাটো দু’একটি প্রোগ্রাম থাকলেও ওভাবে ডায়াগ্রাম আকারে নেই। এটার ওপর যে ফান্ড বা খরচ করার প্রক্রিয়া ট্রেনিং, গবেষণায়, যে বাজেট থাকার কথা সেটা কিন্তু নেই। কিছু কিছু এখন শুরু হচ্ছে। টুকটাক কিছু চলমান আছে এতোটুকুই। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় বরাদ্দ নেই।

বুয়েটের এই শিক্ষক মনে করেণ, এক্ষেত্রে একটি কর্ম সফল করতে হলে একটি জাতীয় প্রোগ্রামের উদ্যেগ নিতে হবে। বাজেট দিতে হবে। গবেষণা শুরু করতে হবে। চালককে বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে হবে। চুক্তিভিক্তিক চালনা বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণের এডিসি ট্রাফিক সাউথ মেহেদী হাসান বলেন, এখানে বাস-ট্রাক চালকদের একধরনের দায়িত্ব থাকে। সাধারণ জনগনের, ট্রাফিক পুলিশের এক ধরনের দায়িত্ব থাকে। সকলের সম্মিলিত প্রোয়াসের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সবাই যদি আইন সম্পর্কে সচেতন হয় এবং যারা পথচারি তারা যদি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় তাহলে একত্রে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাছাড়া শুধু ট্রাফিক পুলিশ বা বিআরটিএ-এর পক্ষে এককভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।

তিনি বলেন, চালকদের প্রোপার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। তাদেরকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। একইসঙ্গে আমরা যারা পথচারি তারা যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলি তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে আমরা পথচারিদের সচেতন করতে সাধারণ জনগনকে নিয়ে প্রচুর মিটিং করি। জেব্রা ক্রোসিং, রেড লাইট ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করি। আমরা এখন অনেক মামলা করি যে সকল গাড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক নেই তাদের বিরুদ্ধে। আমরা আমাদের মতো সচেতন করার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, আমাদের সড়কের যে সার্বিক ব্যবস্থাপনা সেখানে দৃশ্যমান কোনো কাজ না করেই মনে করি রাতারাতি সড়ক দুর্ঘটনা কমবে। এই প্রত্যাশাটা পুরণ হওয়া সহজ নয়। আমরা যদি মোটাদাগে বলার চেষ্টা করি তাহলে বলতে হয়, সড়কে আইন প্রয়োগের সিথিলতা বা গাফলতি আছে। যে যার যার আইডেন্টি কার্ড বা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চলছে। সাংবাদিক গাড়িতে তার স্টিকার লাগিয়ে চলছে। আইনজীবী তার স্টিকার লাগিয়ে চলছে। এ্যাটর্নি জেনারেল সে তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চলছে। কিন্তু সড়কে চলার ক্ষেত্রে সবার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকার কথা। এক্ষেত্রে নিজের পরিচয় সংক্রান্ত স্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে কারো সুবিধা নেয়ার কথা নয়। অন্যদিকে যারা এনফোর্সমেন্টকারী প্রতিষ্ঠান তারা কাউকে অনেক সময় ছাড় দিচ্ছে।
আমরা দেখেছি যে হেলপার থেকে চালক তৈরি হচ্ছে। রাস্তার একপাশ তৈরি হলে অপরপাশ থেকে কার্পেট উঠে যাচ্ছে। যানবাহনের ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, নসিমন-করিমন ইজিবাইক যেগুলো মহাসড়কে চলার কথা নয় সেগুলো দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে একত্রে পাল্লা দিয়ে চলছে। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ার জন্য যে সমস্ত উপাদানগুলো প্রোয়োজন তার সবগুলো উপাদান মহাসড়কে নিশ্চিত রেখে আমরা যদি প্রত্যাশা করি রাতারাতি দুর্ঘটনা কমবে তাহলে যা হওয়ার তাই হবে। এটার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ, মনিটরিং, আইনের কঠোরতম প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরী। মহাসড়ক থেকে অবান্তর যানবাহনগুলো উচ্ছেদ করা জরুরী। এটার প্রধান অন্তরায় একবাক্যে যদি বলা হয় সেটা হচ্ছে, আইন প্রয়োগের সিথিলতা বা গাফলতি। আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উন্নত বিশ্বে এভাবেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

Wednesday, August 28, 2019

ঈদের মৌসুমে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে কেন? by শাহনাজ পারভীন

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি করা এক জরিপের পর যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, গত বছর ঈদে মোট দুর্ঘটনার সাড়ে ১৫% ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কিন্তু এবার তা ৩৩% হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির তোফায়েল আহমেদ এবারের ঈদ মৌসুমে তার ৩৭ বছর বয়সী ছেলেকে হারিয়েছেন।
তিনি বলছিলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আরেকটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সাথে সংঘর্ষের ফলে দুর্ঘটনার শিকার হন তার ছেলে। হাসপাতালে নেয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে কি শুনেছেন বর্ণনা দিয়ে এই ঘটনার কথা জানাচ্ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
ছেলের দুই সন্তানসহ তার পরিবারের দায়িত্বও এখন এই বৃদ্ধের কাঁধে।
তিনি বলছিলেন, এই দুর্ঘটনায় তার পরিবারের উপর দুর্যোগ নেমে এসেছে।
ঈদে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের প্রবণতা বাড়ছে।
"আমি নিজে দেখিনি কিন্তু অন্যদের কাছে শুনেছি একটা মোটরসাইকেলের এসে লাগিয়ে দিয়েছিলো," তিনি বলছিলেন, "এখন তার একটা ছেলের ১১ মাস বয়স আরেকটা দুই বছর, আমার কাছেই থাকে। কী গজব যে আমাদের ওপর পড়েছে তা যদি দেখতেন তাহলে বুঝতেন।"
ছেলেকে সবসময় সাবধানে মোটরসাইকেল চালাতে বলতেন। এখন আশপাশে কোন মোটরসাইকেল চালককে পেলেই সাবধান করে দেন।
কিন্তু ঈদ মৌসুমে অসাবধানতা যেন একটু বেশিই দেখা গেছে এবার। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে সারা দেশে এ বছর ঈদ মৌসুমে মোট ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ৭৬টিই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
গত বছর এই সংখ্যা ছিল অর্ধেকের মতো। এবার মোট নিহতের মধ্যে ৩০ শতাংশ শুধু মোটরসাইকেল আরোহী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছেন, ঈদের মৌসুমে গণপরিবহনে বাড়ি ফেরার জন্য টিকেট সংগ্রহ সহ যেসব ঝক্কি যাত্রীদের পোহাতে হয় তা এড়াতে অনেকেই মোটরসাইকেল বেছে নিচ্ছেন।
পরিবার পরিজন আর কাপড়ের ব্যাগ সহ যাতায়াতে ঝুঁকি বেশি।
তিনি বলছেন, "আজকের এই ডিজিটাল যুগেও ধরেন ট্রেনের টিকেট কিনতে স্টেশনে যেতে হয়, টিকেটের জন্য লাইনে দুইদিন দাড়িয়ে থাকতে হয়। যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য আবার ওখানে যেতে হয়। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, ওভারলোড, এইসব বিষয় এড়ানোর জন্য অনেকে মোটরসাইকেল বলে মনে করেন।"
তিনি আরও বলেন, "সাধারণ সময়ে হয়ত একজন থাকে। তার পেছনে আরেকজন থাকে। কিন্তু ঈদের সময় যেটা হয় স্ত্রী, বাচ্চা এবং নিজে থাকার পরে পেছনে একটা কাপড়ের ব্যাগ থাকে। যেটা ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করে।"
ঈদের সময় বাড়ি যাওয়ার জন্য সংখ্যায় যথেষ্ট মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবের কারণে ভিন্ন পন্থায় যাওয়া ছাড়াও মোটরসাইকেল দ্রুতগামী হওয়ার কারণে বাংলাদেশে বাহনটি এমনিতেই অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসেবে, মোটরসাইকেলের নিবন্ধন আগের চাইতে অনেক বেড়েছে।
২০১৭ সালে সারাদেশে তিন লাখ ২৫ হাজারের মতো নতুন মোটরসাইকেল নিবন্ধন হয়েছে।
পরের বছর এর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজারের বেশি।
যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলছেন, এর একটি অন্যতম কারণ হল যানজট ও রাইড শেয়ারিং অ্যাপের জনপ্রিয়তা।
অ্যাপে না যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে চালকদের মধ্যে।
শহরের গণ্ডি পেরিয়ে এখন এমনকি দূরপাল্লার যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়ছে।
তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলছিলেন, "রাইড শেয়ার জনপ্রিয় হওয়ার ফলে দেখা যাচ্ছে যে যার কোন ধরনের দক্ষতা নেই সেও কিন্তু রাতারাতি মোটরসাইকেলের ড্রাইভার হয়ে যাচ্ছে। আনাড়ি, বয়সে তরুণরা ঈদের মৌসুমে অপরিচিত রাস্তায় যখন চালাতে আসে তখন ঝুঁকি তৈরি হয়।"
তিনি আরও বলছেন, অনেকেই অ্যাপে না চালিয়ে কিন্তু আবার একটি অ্যাপের চালক পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছেন।
অধ্যাপক হক বলছেন, "অ্যাপে চালালে তার উপর একটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু সেটা সে যখন করে না আর যাত্রী তার রাইড শেয়ারের আউটফিটটা দেখে তখন নেগোশিয়েটেড প্রাইসে যায়, তখনই প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়।"
এছাড়া মোটরসাইকেল বাড়ির দরজা থেকে তুলে নিয়ে তার গন্তব্যের দরজায় পৌঁছে দেয়। অন্য বাহনে সেটি হয়না। সে কারণেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
অধ্যাপক শামসুল হক আরও বলছিলেন, উৎসবের সাথে তরুণ প্রজন্মের হৈ হুল্লোড় আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সাথে একটি সম্পর্কে পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাপী।
একই সাথে এবার ঈদের মৌসুমে বৃষ্টির কথা উল্লেখ করছিলেন বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম।
কিন্তু এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে কি করা হচ্ছে?
মোটরসাইকেলের নিবন্ধন আগের চাইতে অনেক বেড়েছে।
মি. ইসলাম বলছেন, তারা চালকদের শুভবুদ্ধির উপর নির্ভর করার আহবান জানাচ্ছেন।
তিনি বলছেন, "হাইওয়েতে চলাচলে মোটরসাইকেলের উপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। মোটরসাইকেল যখন রেজিস্টেশন দেয়া হয় তখন কোন নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে দেয়া হয়না। ট্রাকের মতো তারা সমগ্র বাংলাদেশে চলাচল করে।"
তবে তিনি বলছেন, "ধরুন আমি ২০০ বা ২৫০ কিলোমিটার দুরে যাবো একটা মোটরসাইকেলের উপরে নির্ভর করে, এই যাওয়াটা সঠিক হবে কিনা তাও আবার ঈদের মতো বড় মাইগ্রেশনের সময় এটা খুব যৌক্তিক না এবং এটা খুব শুভ বুদ্ধির বিষয় না।"
তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবারের উচিৎ সন্তানদের নিরুৎসাহিত করা।
অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন স্থানীয়ভাবে মোটরসাইকেল উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।
সেটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অধ্যাপক শামসুল হক।
আর যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ঈদ মৌসুমে মহাসড়কে মোটরসাইকেল যাত্রা নিষিদ্ধ করার আহবান জানানো হচ্ছে।

Sunday, August 25, 2019

সড়কে ঝরছে প্রাণ ছয় মাসে নিহত ২০০৭ by মরিয়ম চম্পা

‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’। বেশির ভাগ যানবাহনের পেছনের অংশে রংবেরং-এর হরফে লেখা  থাকে এ কথাটি। অথচ সে সকল যান বাহনই প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। বানাচ্ছে হাজারো পঙ্গু নাগরিক। এর সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে হাজারো স্বপ্ন। তবে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো- ঢাকা শহরে যত পঙ্গু ভিক্ষুক ও ভাসমান মানুষ পাওয়া যায় তার ৭০ ভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা হারানো বলে জানিয়েছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থা। সংস্থাটির হিসাব মতে, চলতি বছরের গত তিন মাসে মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৯টি। এতে মারা গেছেন ১ হাজার ১৭৩ জন।
আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৯১ জন। ট্রেন দুর্ঘটনা ৪৭টি। এতে নিহত ৫০ ও আহত হয়েছেন ৮ জন।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই)-এর প্রথম ৬ মাসের গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৮শ ৫টি। এরমধ্যে ২ হাজার ৭ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২শ ৭৯ জন।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬২ শতাংশে যথাযথ সাইন-সংকেতের ব্যবস্থা নেই। জাতীয় মহাসড়কের অন্তত ১৫৪ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর হিসাবমতে, দেশে ৩৮ লাখ নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ৫ লাখের মতো। আর লাইসেন্সধারী চালক প্রায় ১৬ লাখ। বাকি সব যানবাহন ভুয়া চালক দিয়ে চলছে। অর্থাৎ ৪৭ শতাংশের বেশি চালকের লাইসেন্স নেই। সেই হিসেবে নিবন্ধিত যানবাহনের অর্ধেক চালকের লাইসেন্স নেই।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলার প্রধান তিন নিয়ামক হচ্ছে সড়ক, যানবাহন ও দক্ষ চালক। কিন্তু দেশে এর কোনোটিই ত্রুটিমুক্ত নয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, অদক্ষ চালক আর অপরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ২০ জন। আর বছরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য তারা ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, সড়কে অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ২৪ হাজার ৯৫৪। পুলিশ সদর দফতরের তথ্যেমতে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২৬ জন। আহতের সংখ্যা ১২২। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯৪টি। ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯৯। আহত ১৫৭। মামলা হয়েছে ১৬১টি। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২ হাজার ৬৩৫ জন এবং আহত হয়েছে ১ হাজার ৯২০ জন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় ঐক্যের প্রকাশিত এক সড়ক বার্তায় বলা হয়, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার ধরন ও মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত-নিহতের সঠিক চিত্র পুলিশ রেকর্ডে উঠে আসে না। তবে শহরাঞ্চলে মোট নিহতের ৭০ শতাংশই পথচারী। সারা দেশে এ হার ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউট (এআরআই) ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হওয়া দুর্ঘটনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানায়, গত সাড়ে তিন বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৫ হাজার ১২০ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২০ জন করে মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। এই সময়ে আহত হয়েছে ৬২ হাজার ৪৮২ জন। এ দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশ ঘটেছে চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে। সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এমন তথ্য জানিয়েছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন ও এআরআইর যৌথ গবেষণা। যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে সংঘটিত ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ছিল। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে দুর্ঘটনা ঘটে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাসের দুর্ঘটনা ২৫ শতাংশ। কার, মাইক্রোবাস ১৫ শতাংশ। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বাংলাদেশের হিসাবে, গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩ হাজার ৩৬৭ জন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৫৮ জন।
বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, আন্তজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত তিন হাজার ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জন নিহত এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশুসহ ৪২৫ জন নিহত ও ৮৮৪ জন আহত হয়েছেন। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছেন এবং এপ্রিলে ৩২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশুসহ ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে এসব সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে- চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দৈনিক-চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা সহকারীদের কাছে গাড়ি ভাড়া দেয়া, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম ১০টি দেশের একটি। তাই আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে না পারলে সড়ক দুর্ঘটনা হবে দ্বিগুণ যা কোন মতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। তাই প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমরা একটি কথাই বারবার বলে থাকি যে সড়ক দুর্ঘটনায় যারা আহত বা নিহত হয় তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশই হচ্ছে পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি। এই উপার্যনক্ষম ব্যক্তিটি যখন নিহত, আহত কিংবা হাসপাতালে ভর্তি থাকে তখন ওই পরিবারের উপর একটি অবর্ননীয় দুর্যোগ নেমে আসে।
বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ মানবজমিনকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপগুলো এখনো পুরোপুরি নেয়া হয়নি। সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের নের্তৃত্বে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা এবং কমিটি তৈরি করা হয়। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সুপারিশ প্রদান করেছি। গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি আমরা হস্তান্তর করেছি।
এই সুপারিশ যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং সড়কের শৃঙ্খলা দুটিই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনাকে নতুন করে বলা উচিৎ সড়কে হত্যা। আমরা যেভাবেই বলিনা কেনো সড়কে হত্যা অথবা দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেভাবে আন্দোলন করেছে তখন আমরা অনেকেই নিশ্চিত হয়েছিলাম যে এবারের আন্দোলনের মধ্যোদিয়ে সরকার এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা বা শৃঙ্খলার কাজে যারা জড়িত তারা হয়তো এখান থেকে কিছু শিখবে। এবং নতুন করে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া ঢেলে সাজাবে। এক্ষেত্রেও আমরা আশাহত হয়েছি। সড়কে হত্যা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় আমাদের সামনে চলে আসে।
প্রথমত, সড়কের শৃঙ্খলা এবং ব্যবস্থাপনা অত্যান্ত দুর্বল। দক্ষিণ কোরিয়াতে একজন নাগরীক সড়কে কিভাবে চলবে সেটা তাদের স্কুল লেভেল থেকে শিখানো হয়। ফলে সে দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম। কারন সেখানে যাত্রী-চালক এবং এর সাথে জড়িতরা অনেক সচেতন। তৃত্বীয়ত, আমাদের এখানে দুর্ঘটনার পর মামলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঘটনার কোনো বিচার হয়না। সর্বশেষ আমরা দেখেছি একটি বাস মালিক কোম্পানিকে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়ার পরেও কিন্তু ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে তারা নানা ধরনের গরিমসি করছে। মোটাদাগে বলতে গেলে আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত সড়কের শৃঙ্খলা বা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন করে নিজেদেরকে বা সড়ককে না সাজাবো ততোক্ষণ সড়কে এই দুর্ঘটনা এবং হত্যা বাড়বেই।

Thursday, August 22, 2019

নিরাপদ সড়ক: 'যখন আমার লাশ যাবে কবরে তখন হয়ত সেই টাকাটা (ছেলেরা) পেলেও পেতে পারে' by শাহনাজ পারভীন

লাস্ট আপডেট- ১১ এপ্রিল ২০১৯: ১৯৮৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর। রাজধানীর শান্তিনগরে বাড়ির সামনেই রাস্তা পার হয়ে দোকানে গিয়েছিলেন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সেই সময়কার বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু।
ফেরার সময় হঠাৎ উল্টো পথে আসা একটি কোমল পানীয় কোম্পানির পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি ধাক্কা দেয় তাকে।
মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
১৬ বছর পর আদালত থেকে ক্ষতিপূরণের আদেশ পেয়েছিলেন তার স্ত্রী রওশন আক্তার।
কিন্তু নানা জটিলতায় তার একটি টাকাও এখনো পাননি।
তিনি বলছেন, "টাকাটা আদায় করার জন্য আমাকে পুনরায় লোয়ার কোর্টে মামলা করতে হয়েছে। সেটাও তিন বছর হয়ে গেছে। সেখানে ঐ কোম্পানির প্লট বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা। সেটা নিলামের জন্য ক্রোক হয়েছে। কিন্তু নিলামে কেউ যায়না কারণ ওটা ব্যাংকে মর্টগেজ দেওয়া।"
তিনি বলছেন, কেউ নিলামে আসছে না দেখে নিজ খরচে পত্রিকায় নিলামের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাতেও কোন লাভ হয়নি।
এই রায়টি ছিল বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের আদেশ পাওয়া প্রথম কোন রায়। ৭০ এর কোঠায় এখন বয়স এই নারীর।
বাংলাদেশে সড়কে চরম বিশৃঙ্খলার জন্য বহু দুর্ঘটনা ঘটে
দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে তার দুই বছর পর নিম্ন আদালতে মামলা, সেই মামলার রায়, তার বিপক্ষে বিবাদী পক্ষের উচ্চ আদালতে আপীল, তারপর লিভ টু আপীল এরকম নানা আইনি জটিলতায় তিনি তিরিশ বছর পার করেছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলছেন, "আইনের শাসন কোথায়? যখন আমার লাশ যাবে কবরে তখন হয়ত সেই টাকাটা আমার (ছেলেরা) পেলেও পেতে পারে।"
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা ক্ষতিপূরণ মামলা বিষয়ে কাজ করেন।
তিনি বলছেন বাংলাদেশে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি হল ব্রিটিশ আমলের টর্ট আইন।
তাতে যেকোনো ধরনের ঘটনায় ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ চাওয়া যায়। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রয়েছে ২০১৮ সালে সংশোধনীর পর সড়ক নিরাপত্তা আইন।
তিনি বলছেন, কোন মামলার রায়ের পর ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় কিভাবে হবে সেনিয়ে বাংলাদেশে পদ্ধতিগত জটিলতা রয়েছে।
তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলছিলেন, "ধরুন আপনি ক্ষতিপূরণ চাইলেন। আদালত আপনাকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিলো। সেই টাকা তুলতে গেলে আপনাকে আবার একটা এক্সিকিউশন কেস করতে হবে।"
"সেখানে গিয়ে বলতে হবে এই রায় হয়েছে এই টাকাটা আমাকে দেয়া হোক। তখন সেই কেসে কোর্ট আবার বিবাদীকে ডেকে বলবে। তারা যদি টাকা না দেয় তাহলে পুলিশের মাধ্যমে আদায় করা হবে। তাকে নতুন করে আবার সময় সাপেক্ষ একটি আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হচ্ছে।"
তিনি আরও বলছেন, "বাস্তবতা হল বিবাদী যদি হাই প্রোফাইল হয়ে থাকে তাহলে ত্রিশ বছর কেন, কোন টাকা না দিয়ে বাংলাদেশে পঞ্চাশ বছরও কাটিয়ে দিতে পারে।"
বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক মনোযোগের কারণে কয়েকটি খুব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রায় সাথেই সাথেই ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছে আদালত।
গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শুরু যে দুর্ঘটনায় তাতে নিহত দুই কলেজ ছাত্রের পরিবারকে দেয়া ক্ষতিপূরণ এর একটি।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় দু একটি ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পেলেও আদায় করতে পার হয়ে যায় বছরের পর বছর।
দুটি বাসের রেষারেষিতে দুর্ঘটনা-কবলিত এক কলেজ ছাত্রের ঝুলে থাকা বিচ্ছিন্ন হাতের ছবি ব্যাপক প্রচার হওয়ার পরও দ্রুতই ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়া হয়েছিলো।
এই দুটি নমুনার বাইরে একই রকম আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়ার নমুনা রয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলছে গত বছর সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে সাত হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে।
আহত হয়েছে ১৬ হাজারের মতো।
এরকম অসংখ্য ঘটনায় ক্ষতিপূরণের কোন নজির নেই।
দুর্ঘটনার শিকার হলে গাড়ি আটকে বাস মালিকদের সাথে দেন-দরবার করে মাঝে মধ্যে কিছু টাকা পাওয়ার ঘটনা থাকলেও পরিবহন খাতের সাথে জড়িতরা বিশেষ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তারা খুব সহজে পার পেয়ে যায় বলে মনে করছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলছেন, "পরিবহন পরিচালনার সাথে যারা জড়িত তারা কিন্তু অনেক শক্তিশালী। যেসব দল ক্ষমতায় থাকে, যখন যারাই থাকে তাদের সাথে তাদের একটা দহরম মহরম থাকে। এই সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে তারা এই সেক্টরে একটা প্রভাব বিস্তার করে। সেই কারণে একজন বিচ্ছিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর পক্ষে তাদের কাছ থেকে নেগোসিয়েশন করে আইনের সমান সুযোগ পাওয়া বা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়া কোনভাবেই সম্ভব হয়না।"
নতুন মামলায় না গিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি আইনি কাঠামোর প্রয়োজনের কথা বলছিলেন তিনি।
এরকম কোন কাঠামোর অভাবেই তৈরি হচ্ছে রওশন আক্তারের মতো ভুক্তভোগী।
দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর সময় থেকে পাঁচ ও নয় বছরের দুই ছেলেকে বড় করেছেন আর সরকারি কলেজের শিক্ষকের বেতন দিয়ে মামলা পরিচালনা করছেন।
তিনি বলছিলেন তার জীবন পার হয়ে গেছে এই এক মামলায়। কিন্তু এখন সেই কোম্পানিটিই আর নেই।
ক্ষতিপূরণ আদায়ে আরও নতুন সব জটিলতায় শেষ হচ্ছে তার বাকি জীবন।

Tuesday, August 20, 2019

ঈদযাত্রায় ১৭৬ দুর্ঘটনায় নিহত ২২৩

এবারের ঈদযাত্রায় সারাদেশে ১৭৬টি দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত ও ৬৭০ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গত ৬ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এরমধ্যে ১৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯৭ জন৷ আহত হয়েছেন ৬২৭ জন।
সোমবার (১৯ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, নিউজ পোর্টাল এবং টেলিভিশনের সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৬টি। এতে নিহত হন ১৯৭ জন৷ এরমধ্যে ১৫৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারী। আর আহত হয়েছেন ৬২৭ জন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। ৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৯ জন।
নৌপথে দুর্ঘটনা
নৌপথের ২১টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন। ৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
রেলপথ দুর্ঘটনা
রেলপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় যানবাহনের ধরন ও সংখ্যা
সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল-৫৩, বাস-২৭, ট্রাক-১৮, পিকআপ-২৩, লরি-১, ট্রাক্টর-২, প্রাইভেটকার-১২, মাইক্রোবাস-৮, পুলিশ ভ্যান-১, ভটভটি-১১, নসিমন-৯, অটোরিকশা-৪৩, মাহিন্দ্র-৩ ও টমটম-১টি। মোট-২১২টি।
পর্যবেক্ষণ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহাসড়কের চেয়ে আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার মাত্রা বেশি ছিল। মহাসড়কে ৬৫ ও আঞ্চলিক সড়কে ৮১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঈদপূর্ব যাত্রায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ রুটে ভয়াবহ যানজটে ঘরমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পথে পথে পশুবাহী যানবাহনে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি হয়েছে। ঢাকা শহরের ফিটনেসবিহীন লোকাল বাসগুলো বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রীবহনের কারণে যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সব রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। স্বল্পগতির যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করেছে। প্রথম দিন থেকেই ট্রেনের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। নৌপথে অব্যবস্থাপনা বরাবরের মতোই বিদ্যমান ছিল। প্রতিশ্রুতি থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান ছিল না।
দুর্ঘটনার কারণ
ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক; অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক করার প্রবণতা; বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো; সড়ক-মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা।
সুপারিশ
গণপরিবহনকেন্দ্রিক অসুস্থ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি–দুর্নীতি বন্ধ করে টেকসই পরিবহন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। পর্যাপ্ত দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আধুনিক সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি রেল ও নৌপথকে বিস্তৃত ও মানসম্পন্ন করতে হবে। রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও ভাবতে হবে। জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
গত ১৫ আগস্ট ফেনীতে পিকনিকের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ৭ জন নিহত হন