Showing posts with label অমিতোষ পাল. Show all posts
Showing posts with label অমিতোষ পাল. Show all posts

Wednesday, August 7, 2019

মশক নিবারণী দপ্তর মশাদের দখলে: পরিচালক বিদেশে, কর্মীদের কাজ নেই by অমিতোষ পাল

নাম 'ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর', কিন্তু মশা নিবারণের কোনো কার্যক্রমই নেই তাদের। উল্টো পুরো দপ্তরই যেন পরিণত হয়েছে মশা উৎপাদনের কারখানায়। অথচ সাত দশক আগে প্রতিষ্ঠার পর কী কর্মচঞ্চলই না ছিল এটির কার্যালয়! ডেঙ্গু এখন মূর্তিমান ত্রাস হয়ে উঠেছে সারাদেশে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন। অন্য কর্মচারীরাও সময় পার করছেন হেলেদুলে।

'নিস্কর্মা' এই মশক নিবারণী দপ্তরের অবস্থান রাজধানীর অরফানেজ রোড সংলগ্ন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ঠিক বিপরীতে। গত সোমবার সরেজমিনে দপ্তরটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। কিছু সময় ধরে ডাকাডাকির পর একজন নিরাপত্তাকর্মী এসে ফটক খোলেন। ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ে মশার ওষুধের শত শত খালি ড্রাম। বলা যায়, পুরো প্রাঙ্গণই খালি ড্রামে পূর্ণ। কারও কোনো কাজ নেই বলে অফিসে তাদের উপস্থিতিও কম।

নিরাপত্তাকর্মী নাম-পরিচয় না দিয়ে জানালেন, এখানে ২৮১ জন কর্মচারী আছেন। এর মধ্যে সুপারভাইজার ৩৪ জন। বাকিরা একেবারেই নিম্ন শ্রেণির কর্মচারী। সিটি করপোরেশন ডাকলে তারা মশা মারায় সহযোগিতা করেন। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা আ ন ম ফয়জুল হক; একজন উপসচিব। কিন্তু মন্ত্রণালয়েই বেশিরভাগ সময় কাটান তিনি। খুব প্রয়োজন হলে এক-আধঘণ্টার জন্য দপ্তরে এসে ফের চলে যান। গত ২৬ জুলাই থেকে তিনি বিদেশে আছেন। কবে ফিরবেন, তা কেউ বলতে পারলেন না। অবশ্য নাম প্রকাশ না করে একজন জানালেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও পুষ্টি সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ সফরে গেছেন এই উপসচিব।

কয়েকজন কর্মী জানান, পরিচালক না থাকলে স্টোরকিপার গিয়াস উদ্দিনই সব নির্দেশনা দেন। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) একটি মিটিং থাকায় তিনি সেখানে গেছেন। তার ফোন নম্বরও দিতে পারলেন না কেউ। অফিসের কেউই পরিচয় দিয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখালেন না।

কয়েকজন জানান, এক সময় ঢাকায় খুব ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ছিল। এ জন্য ১৯৪৮ সালে ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। সে সময় ম্যালেরিয়া মোকাবেলায় পুরো ভূমিকাই রাখত এই দপ্তর। অনেকেই কাজ করতেন। মশা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭২ সালে দপ্তরটির ৩৩৮ জনবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয় সরকার। ১৯৮১-৮২ সালে এ বিভাগকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা হয়। পরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। এভাবে সংস্থাটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, তাদের কাজ মশা নিধন করা। অথচ তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। পুরো দপ্তর এখন স্রেফ মশার ওষুধ রাখার গোডাউনে পরিণত হয়েছে। সিটি করপোরেশন কী পরিমাণ ওষুধ রাখল, কতটা নিয়ে গেল, তার হিসাব রাখা ও তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মশা মারার ওষুধ বিভিন্ন জোনে বিতরণ করাই এখন তাদের কাজ।

কয়েকজন কর্মচারী জানান, তাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বেতন দেওয়া হয়। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। কারণ মাঝেমধ্যেই তাদের বেতন-ভাতা পেতে দেরি হয়। সিটি করপোরেশন তাদের কার্যক্রম মনিটর করলেও জোরালো কোনো নজর নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও এ দপ্তরের ব্যাপারে উদাসীন। অনেকটা অভিভাবকহীনই বলা যায় এ দপ্তরকে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি খালি ড্রাম (ব্যারেল)। উঁচুতে টিলার মতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কোনোটা মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে, কোনোটা ফেটে গেছে। কোনোটির ভেতরে-বাইরে পানিও জমে আছে। সব মিলিয়ে ড্রামগুলোয় মশার বংশবিস্তারের বেশ অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কর্মচারীরা বললেন, অনেক খালি ড্রাম জমার পর সিটি করপোরেশন নিলাম ডেকে ব্যারেলগুলো বিক্রি করে দেয়। গত চার বছর ধরে নিলাম না হওয়ায় ড্রামগুলো খোলা জায়গায় পড়ে আছে। সেখানে গজিয়ে উঠেছে লতাগুল্ম, ঘাস, গাছপালা, ঝোপঝাড়।

কর্মচারীরা জানান, ভেতরে একটা স্টোর রুম আছে। সেখানে কিছু ড্রামে মশার ওষুধ রাখা আছে। সিটি করপোরেশন চাইলে সেখান থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। পুরনো ড্রামগুলো তাদের কয়েকবার সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাতে সাড়া মেলেনি।

কোরবানির পশুর সংকট হবে না: লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা by অমিতোষ পাল

জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য পশুর সংকট হবে না বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পাশের দেশগুলো থেকে পশু আমদানি না হলেও হাটে গরু-ছাগলের অভাব হবে না। দামও হবে সহনীয়। কারণ দেশেই কোরবানিযোগ্য প্রায় সোয়া কোটি পশু রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বন্যার কারণেও হাটগুলোতে পশু আমদানি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার পশুসংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে ধারণা করছেন হাটের ইজারাদার, পশু ব্যবসায়ী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তারা মনে করছেন দামও খুব একটা বেশি হবে না। এ কারণে খামারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে লোকসানের শঙ্কা।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও স্থায়ী গাবতলী পশুহাটের পরিচালনা কমিটির সদস্য সানোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বন্যার কারণে অনেক দুর্গত এলাকার মানুষ তাদের পশু বিক্রি করে ফেলছে। ফড়িয়ারা সেসব পশু তুলনামূলক কম দামে কিনে রাখছেন। এমনকি বন্যাকবলিত এলাকার অনেকেই কোরবানির হাটের জন্য অপেক্ষায় আছেন। কোরবানির সপ্তাহখানেক আগেই এসব পশু হাটে আসা শুরু হবে।

এবার দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলায় কমবেশি বন্যা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেরও বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের পশু রাখার মতো সুব্যবস্থা নেই। তারা বাধ্য হয়ে পশুগুলো বিক্রি করে দিচ্ছেন। এদিকে ভারত থেকেও অল্পস্বল্প পশু চোরাই পথে আসছে। দেশীয় পশুতে মাংসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পশু উৎপাদনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় গত কয়েক বছর পশু উৎপাদন বেড়েছে। ফলে ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটানসহ অন্যান্য দেশ থেকে পশু আমদানির তেমন প্রয়োজন হয়নি। গত কয়েক বছর বাংলাদেশ নিজেদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই কোরবানির চাহিদা মেটাচ্ছে। এমনকি বিদেশে মাংস রফতানিও শুরু করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে পশু সংকটের কোনো পরিস্থিতিই এবার নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গত বছর কোরবানিতে পশু জবাই হয়েছিল এক কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে ছাগল-ভেড়া ছিল ৭১ লাখ এবং গরু ছিল ৪৪ লাখ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবে এবার দেশের খামারগুলোতে পশু রয়েছে এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩ এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭২ লাখ। সরকারি আটটি খামারে উট-দুম্বাসহ কোরবানির পশু আছে আরও সাত হাজার। গত বছরের চেয়ে বেশিসংখ্যক পশু থাকায় এবার চোরাই পথে বাইরে থেকে কোনো পশু না এলেও কোরবানিতে পশু সংকট হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরের চেয়ে এ বছর গরুর উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার। আর ছাগল-ভেড়ার উৎপাদন বেড়েছে এক লাখ। গত এক বছরে পশু উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন লাখ। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে গরু ও ছাগল উৎপাদনে। দেশে সারা বছর মাংসের জোগান ও কোরবানির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি হচ্ছে গরু-ছাগলের মাংস। গবাদি পশু উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে দেশে। অথচ পাঁচ বছর আগেও কোরবানির ঈদে বৈধ-অবৈধ পথে ভারত, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ গরু আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে হতো। সারা বছরের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়াত ৪০ লাখ। ঈদুল আজহার আগে সবাই ভারতীয় গরু আসার সংবাদে মুখিয়ে থাকতেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, এবারের কোরবানিতে পশুর চাহিদা যতই হোক না কেন, তাতে পশু সংকট তৈরি হবে না। কেননা দেশের খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে দেশে গবাদি পশুর উৎপাদন বেড়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বড় বড় খামার। এসব খামারির যাতে কোনো লোকসান না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সরকারকে। এজন্য ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ হলে আগামীতে দেশে পশু উৎপাদন আরও বাড়বে, নইলে পরনির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

অবশ্য গাবতলীর মাংস ব্যবসায়ী ও সাফায়েত মাংস বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, ভারতীয় গরুর দাম সস্তা। দেশি গরু, ছাগল, মহিষের দাম অনেক চড়া। ভারত থেকে কিছু গরু না এলে এবার কোরবানিতে গরুর দাম চড়াও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ভারত থেকে অনেক গরু এসেছে এবং চোরাই পথে আরও আসছে; এটা অব্যাহত থাকলে পর্যাপ্ত গরু উঠবে হাটগুলোতে। দামও থাকবে সহনীয়।

গাবতলী বেড়িবাঁধের খামারি ইশারফ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা খাবার সংকটের কারণে তাদের গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ কারণেও কোরবানির পশুর দাম কিছুটা কম হতে পারে। এতে করে তার মতো সাধারণ খামারিরা লোকসানে পড়তে পারেন। কারণ পশুখাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে খামারিদের সব সময়ই লোকসানের ঝুঁকিতে থাকতে হয়।

পশুর বর্তমান দাম: গাবতলী পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ছোট আকৃতির গরু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। মাঝারি ধরনের গরু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৮০ হাজার এবং বড় গরু বিক্রি হচ্ছে ৮৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে দুই লাখ, তিন লাখ এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা দামের কিছু গরুও আছে। অবশ্য এ রকম গরুর সংখ্যা গাবতলী হাটে একেবারেই হাতেগোনা। ছোট আকৃতির মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। মাঝারি আকৃতির মহিষ ৮৫ হাজার থেকে দেড় লাখ এবং বড় মহিষ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা। হাটে ছোট খাসি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা। মাঝারি আকৃতির খাসি ১১ থেকে ২০ হাজার এবং বড় আকৃতির খাসি বিক্রি হচ্ছে ২১ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। গাবতলী হাটে কিছু উট-দুম্বাও দেখা গেছে। উটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। হাটে থাকা ১৫-২০টি দুম্বার প্রতিটির দাম চাওয়া হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

Monday, February 23, 2015

রাজধানীতে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা অলিগলিতে by অমিতোষ পাল

একটি বহুতল ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়ার জন্য যেসব নিয়ম অনুসরণের বিধান ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় রয়েছে, সেসব অমান্য করে একের পর এক বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। যে স্থানে ছয়তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া যায়, রাজউক সেখানে ১৮ তলা ভবনেরও অনুমোদন দিচ্ছে। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবন মালিককে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তারা ফুলে-ফেঁপে উঠছেন। যে কারণে রাজধানীতে অপরিকল্পিত নগরায়নে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট আর বাড়ছে নগরবাসীর ভোগান্তি। দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। রাজউকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, একটি ভবনের নকশার অনুমোদন দিতে হলে অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। রাস্তা প্রশস্ত কম হলে সেখানে বেশি তলার নকশার অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরু রাস্তার পাশে ১৫ থেকে ২০ তলা ভবনের নকশায় অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে রাজউক। অথচ ইমারত বিধিমালা-১৯৯৬ অনুসারে ১৬ থেকে ১৮ তলা উচ্চতার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ওই ভবনের সামনে কমপক্ষে ৬০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু ১৫-২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার পাশেও এ ধরনের বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদন করেছে রাজউক। এমনকি এসব ক্ষেত্রে ফার (ফ্লোর এরিয়া র‌্যাসিও) অনুযায়ী ভূমি মালিকের যে পরিমাণ জায়গা ছাড়ার নিয়ম, সেটাও ভূমি মালিকরা ছাড়েননি। রাজউকের অসাধু কর্মকর্তারা ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এ সুযোগ করে দিচ্ছেন। সেসব বহুতল ভবন তৈরির পর ওইসব এলাকায় তৈরি হচ্ছে নানাবিধ সামাজিক সমস্যা।সমকালের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরানা পল্টন মৌজার এসএ ৯৪, ৯৫ ও ৯৬ দাগের ৬১ শতাংশ জমির ওপর রাজউক নয়তলা ভবনের অনুমোদন দিতে পারে। কিন্তু সেখানে ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। ভবনটির পাশে রাস্তার প্রশস্ততা মাত্র ৯ মিটার। রাস্তার জন্য ওই ভবন মালিককে কোনো জায়গাও ছাড়তে হয়নি। অতিরিক্ত নয় তলা নির্মাণের সুযোগ দিয়ে ভূমি মালিককে ২৩ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে রাজউকের চেয়ারম্যান কার্যালয় থেকে তৈরি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিমত, এ ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা অমান্য করার পাশাপাশি রাস্তায় সৃষ্ট যানজটের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।২৯, সিদ্ধেশ্বরী রোডের সিএস ৭৭৩, ৭৯৭, ৮০৫, ৮০৬ ও ৯৭৪ নম্বর দাগের মোট তিন বিঘা ১০ শতাংশ জমির পাশে মাত্র ৪ দশমিক ৮৬ মিটার প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। রাস্তার প্রকৃতি অনুযায়ী ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে ওই জমিতে ছয় তলা ভবনের নকশার অনুমোদন দিতে পারে রাজউক। কিন্তু সেখানে ১৬ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়েছে। জমির মালিক মো. ইলিয়াসের দাখিল করা নকশাটি ২০০৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজউকের বোর্ড সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুমোদনের ফলে ভূমি মালিক ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ অর্থের সুবিধা পেয়েছেন।
৯৮, বড় মগবাজার এলাকায় ৮ কাঠা জমির ওপর রাজউক ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছে। রাস্তার প্রশস্ততা ২৫ ফুট। সেখানে ছয় তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিতে পারে রাজউক। কিন্তু দেওয়া হয়েছে একটি বেজমেন্টসহ ১৮ তলার বহুতল ভবনের অনুমোদন। এর পাশেই ৯৮/১, বড় মগবাজার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৮ কাঠা জমিতেও দেওয়া হয়েছে ছয় তলার জায়গায় বেজমেন্টসহ ১৬ তলা ভবনের নকশার অনুমোদন। সরেজমিন দেখা গেছে, এ ভবনটি তৈরি করেছে ইস্টার্ন হাউজিং নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। সেটার নাম দেওয়া হয়েছে ইস্টার্ন রমনা ভিউ। জমির মালিক ফ্ল্যাটগুলো বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। একই অবস্থা ৯৮, বড় মগবাজারের জমির ক্ষেত্রেও। সেটিও তৈরি করেছে ইস্টার্ন হাউজিং। সেটার নাম দেওয়া হয়েছে ইস্টার্ন রোকেয়া টাওয়ার। এ ভবনের ফ্ল্যাটগুলোও সাধারণের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
রাজউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক, অথরাইজড অফিসার ও পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ভূমিকা বেশি থাকে। তাদের সরেজমিন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে এমন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এভাবে ভবন মালিক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ১৪৩ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার সমপরিমাণ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।রাজউকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, রাজউক যেসব নকশা অনুমোদন করে, সেগুলোর অনেকটার ক্ষেত্রেই এমন কাহিনী আছে। ২০০৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিভিন্ন ধারা সংশোধন করা হলেও এর তেমন বাস্তবায়ন হয়নি।

Saturday, February 14, 2015

নির্মাণ হচ্ছে আরেকটি টুইন 'রানা প্লাজা' by অমিতোষ পাল

এ যেন টুইন রানা প্লাজা! দুটি ১৫ তলাবিশিষ্ট মার্কেটের মধ্যে একটির চতুর্থ ও আরেকটির পঞ্চমতলা পর্যন্ত উঠে যাওয়ার পর ধরা পড়েছে ভবন দুটির নির্মাণকাজ খুবই নিম্নমানের। এভাবে তৈরি হলে ভবিষ্যতে সাভারের রানা প্লাজার মতো আরেকটি ভয়াবহ ভবনধস হতে পারে। নিম্নমান ধরা পড়ার পর ভবন দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। বুয়েটের রিপোর্টে উঠে আসে নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও সামগ্রী ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র। কলামে কংক্রিট প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ পিএসআই কম। পিএসআই বলতে বোঝায় কংক্রিটের শক্তির একক বা পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি। যেখানে কলামে কংক্রিট নূ্যনতম ৩ হাজার ৬২৫ পিএসআই থাকার কথা, সেখানে আছে মাত্র ৭৯০। এই মানের কলামে কোনোভাবেই কোনো বহুতল ভবন টিকে থাকতে পারে না। ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া অংশটুকুও রাখা যাবে কি-না তা নিশ্চিত হতে ভবনের নিচের মাটি খুঁড়ে ফাউন্ডেশনের পুরুত্ব পরীক্ষার সুপারিশ করেছে বুয়েট। এ ন্যক্কারজনক ও মানহীন নির্মাণকাজ হয়েছে ডিএসসিসির ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের 'এ' ও 'বি' বহুতল শপিং কমপ্লেক্সে। সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণেও এরকম ত্রুটি ছিল। খুবই নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে ভবনটি ধসে মারা যান সহস্রাধিক মানুষ। এর আগে সূত্রাপুরের দয়াগঞ্জে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বাসস্থানের জন্য নির্মিত ছয়তলা একটি ভবনে বসবাস শুরুর আগেই ২০০৭ সালের ২৫ মে তা ধসে পড়ে। নির্মাণকাজ ও নির্মাণসামগ্রীর মানহীনতাই ছিল ভবনটি ধসে পড়ার প্রধান কারণ। কিন্তু ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দয়াগঞ্জের চেয়ে আরও নিম্নমানের কাজ হচ্ছিল ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের এ দুটি ভবন নির্মাণে।কয়েক বছর আগে ডিএসসিসির ফুলবাড়িয়া নগর ভবনের দক্ষিণ পাশে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-০২ প্রকল্পের অধীনে দুটি ১৫ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে করপোরেশন। ভবন দুটির প্রত্যেকটি তলার আয়তন ধরা হয় ৩৫ হাজার বর্গফুট। দোকান বানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে এবং উন্মুক্তভাবে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী দুটি ভবনের বিপরীতে প্রায় দুই হাজার দোকান বরাদ্দও সম্পন্ন হয়েছে। নিচতলা ও দোতলায় কিছু দোকানি ব্যবসাও চালু করেছেন। দেলোয়ার হোসেন দেলু নামে এক ঠিকাদার ভবন দুটির নির্মাণকাজ করছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান কয়েকজন প্রকৌশলী নিয়ে নির্মাণকাজ দেখতে যান। ঢালাই ও কলাম দেখে তার সন্দেহ হয়, এই সব কলাম কোনোভাবেই ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের ভার বহনে সক্ষম হবে না। ২৯ জানুয়ারি তিনি কোর কাটার দিয়ে দুই ভবনের সাতটি কলামের নমুনা সংগ্রহ করে বুয়েটে পাঠান। গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি বুয়েট নমুনা ও ভবনের কলামগুলোর চাপ শক্তি পরীক্ষা (কমপ্রেসিভ স্ট্রেন্থ টেস্ট) করে। এতে দেখা যায়, 'এ' নম্বর ভবনে কলাম-১-এর কংক্রিটের পিএসআই ৮৩০, যেখানে থাকার কথা নূ্যনতম ৩ হাজার ৬২৫। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ৭৭ দশমিক ১০ শতাংশ কম। একইভাবে কলাম-২-এর কংক্রিটে আছে ১ হাজার ৩৪০ পিএসআই। কলাম-৩-এ ২ হাজার ২০০ পিএসআই। 'বি' নম্বর ভবনের কলাম-১-এ আছে ১ হাজার ৪০ পিএসআই। কলাম-২-এ ৭৯০, কলাম-৩-এ ২ হাজার ১১০ ও কলাম-৪-এ ৩ হাজার ৩৭০ পিএসআই। কোনো কলামের কংক্রিটেই প্রয়োজনীয় ৩ হাজার ৬২৫ পিএসআই নেই।বুয়েটের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় কংক্রিটের কমপ্রেসিভ স্ট্রেন্থ অনেক কম এবং কংক্রিট অনেক নিম্নমানের। এসব কলামের ওপর ভবন দুটি ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করলে রানা প্লাজার চেয়েও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
নিম্নমানের নির্মাণকাজ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবন দুটির কাজে আলাদা করে কোনো সুপারভিশন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের তরফ থেকে কোনো দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নেই। ঢালাইয়ের সময় সিমেন্ট-বালু-পাথরকুচির অনুপাত ঠিক রাখা হয়নি। স্লাম্প টেস্ট করা হয়নি। কংক্রিটে বেশি পানি ঢেলে ঢালাই করা হয়েছে। শাটারিংয়ের ছিদ্র দিয়ে সিমেন্ট-পানি বের হয়ে যাওয়ায় হানিকম্ব তৈরি হয়েছে। ঢালাইয়ে সিলেট স্যান্ডস বা মোটা বালি ব্যবহার করা হয়নি। ঢালাইয়ের পর কলামগুলো চট দিয়ে ঢেকে পানি দেওয়া হয়নি। স্লাব সমান হলো কি-না তা লেভেল মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়নি। সাইটে কোনো সাইট অর্ডার বই নেই। ফাউন্ডেশন করার আগে সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) করা হয়নি। সুপারভিশনের জন্য ডিএসসিসির প্রয়োজনীয় জনবল ছিল না। নির্মাণকাজ চলাকালে ডিএসসিসির জনবল দিয়ে সার্বক্ষণিক যে তদারকি করার কথা ছিল, তা করা হয়নি।প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, মাটি খুঁড়ে কোর কাটার দিয়ে ভবন দুটির ফাউন্ডেশনের নমুনা সংগ্রহ করে এর মান পরীক্ষা করতে হবে। দেখতে হবে ফাউন্ডেশনের পুরুত্ব যা আছে তা কত তলার ভার বহন করতে পারবে। ভবনগুলোর পাশের দুই-তিনটি পয়েন্টের মাটি পরীক্ষা করতে হবে। নিয়োগ দিতে হবে দক্ষ প্রকৌশলী। এসব পরীক্ষার পর রিপোর্টের ভিত্তিতে ভবন দুটির রেট্রোফিটিং বা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ভবন দুটির নির্মাণের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম রয়েছে। যে কারণে এই কাজের জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান না করে দেলোয়ার হোসেন দেলুকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। প্রকৌশল বিভাগের পরিবর্তে ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ ও প্রশাসকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে এখন নিম্নমানের কাজের দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগ নিতে চাইছে না। তারা প্রকাশ্যে এ নিয়ে কোনো মন্তব্যও করতে চাইছে না। তবে প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, 'এটা নিয়ে এখনও কথা বলার সময় আসেনি। এর আগেও অনেক লোক এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা কেউ এখানে হাত দেননি। আমি ধরতে পারার পর অনেক চাপ আসছে। বেশি কথা বললে হয়তো দেখা যাবে আমার চাকরিই নেই।'
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে জানা যায়, তিনি এখন দেশের বাইরে। সরেজমিন দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জাকের মার্কেটের পশ্চিমে হানিফ ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশঘেঁষে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর পাশাপাশি ভবন দুটির অবস্থান। পূর্ব পাশে 'এ' নম্বর ভবন। পশ্চিমে 'বি' নম্বর ভবন। 'এ' নম্বর ভবনের চারতলা পর্যন্ত উঠেছে তার ওপরে আরও কয়েকটি কলামের কিছু অংশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। 'বি' নম্বর ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত ওঠার পরও একটি স্লাবের রড ও কলামের খাঁচা তৈরি করে রাখা হয়েছে। আর নিচতলায় মার্কেটের বিভিন্ন দোকান চালু হয়ে গেছে।

Sunday, July 7, 2013

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

আ. লীগের 'দ্বিতীয় দুর্গ'ও বিএনপির by অমিতোষ পাল ও শরীফ আহমেদ শামীম

বড় বড় নাটকীয়তা, সংঘাতের আশঙ্কা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুরের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান জয়লাভ করেছেন।

Sunday, January 27, 2013

দুই এলাকার আলোর নিচে ১৩ এলাকার আঁধার by অমিতোষ পাল

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সংসদীয় এলাকার সংখ্যা ১৫। এর মধ্যে ১৩টি এলাকার রাস্তাঘাটে মহাজোট সরকারের গত চার বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এসব এলাকার রাস্তাঘাটের চেহারা চার বছর আগে যেমন ছিল, এখন তার চেয়ে খারাপ।

Saturday, January 5, 2013

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে by অমিতোষ পাল

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পূরণের দিকে নজর দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত চার বছরে কুমিল্লা ও রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করা হয়নি।

Monday, December 31, 2012

৩০০ ফুটের জন্য জমি নিয়ে ৬৪ ফুট রাস্তা!-আরো ২০০ ফুট অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রাজউকের by অমিতোষ পাল

৩০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার জন্য সাধারণ মানুষের স্বর্ণতুল্য জমি পানির দামে অধিগ্রহণ করে মাত্র ৬৪ ফুট প্রশস্ত রাস্তা বানাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

Saturday, December 8, 2012

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা by অমিতোষ পাল

ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ভাগের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সনদ দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা। এত দিন কেবল কাউন্সিলর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এসব সনদ দেওয়ার এখতিয়ার ছিল।

Sunday, December 2, 2012

অনুসন্ধান-কার গাড়ি কে চড়ে-এলজিইডির ৩৮টি দামি গাড়ি প্রভাবশালীদের 'উপঢৌকন'! by অমিতোষ পাল

গত ২৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৪৪০৫ নম্বরের পাজেরো ভি সিক্স গাড়ি থেকে নেমে গোপালগঞ্জ পৌর ভবনে ঢুকতে দেখা যায় পৌর মেয়র রেজাউল হক শিকদার রাজুকে। জানা যায়, গাড়িটি মেয়রের নিজের নয়। আবার কোনো সরকারি গাড়িও বরাদ্দ পান না পৌর মেয়ররা।

Saturday, November 24, 2012

সরেজমিন-ঢাকা যেন ডাস্টবিন by অমিতোষ পাল

শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রবেশপথে শাহবাগ থানার পাশেই মূল সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। পাশের ডাস্টবিন থেকে ময়লা উপচে পড়েছে রাস্তায়। ফুটপাতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে এই পথ দিয়ে চলাফেরা করা রীতিমতো 'শ্বাসরুদ্ধকর'।

Tuesday, September 18, 2012

হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়েছে রাজধানীবাসী ক্ষুব্ধ by অমিতোষ পাল

কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই ১০ শতাংশ হারে বাড়তি হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আগের বছরের হিসাব অনুযায়ী টাকাপয়সা নিয়ে নগর ভবনে হোল্ডিং ট্যাক্স জমা দিতে গিয়েই বিপদে পড়ছে নগরবাসী। এ নিয়ে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নগরবাসীর ভুল বোঝাবুঝি থেকে

Sunday, September 2, 2012

ধানমণ্ডির ৩৪১ ভবন খাতায় আবাসিক, বাস্তবে বাণিজ্যিক by অমিতোষ পাল

রাজধানীর বনেদি আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ি। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর হিসেবে সুপরিচিত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পশ্চিমে কয়েকটি ভবনের পরেই বাড়িটির অবস্থান। বাড়িজুড়ে নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। নিচতলায় গলপিয়া বার্গার নামের একটি ফাস্টফুডের দোকান।

Monday, August 27, 2012

দোকান বরাদ্দে ডিএসসিসির মহাদুর্নীতি-প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা! by অমিতোষ পাল

যে জায়গার প্রতি বর্গফুটের দাম চার হাজার ৫০০ টাকা, সেই জায়গা মাত্র ২০ টাকা বর্গফুট হিসাবে বরাদ্দ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এভাবে সংস্থাটি এক লাখ ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে অন্তত ৬০ কোটি টাকা কমে।

Sunday, August 26, 2012

দোকান বরাদ্দে ডিএসসিসির মহাদুর্নীতি-প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা! by অমিতোষ পাল

যে জায়গার প্রতি বর্গফুটের দাম চার হাজার ৫০০ টাকা, সেই জায়গা মাত্র ২০ টাকা বর্গফুট হিসাবে বরাদ্দ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এভাবে সংস্থাটি এক লাখ ৩৬ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে অন্তত ৬০ কোটি টাকা কমে।

Tuesday, August 7, 2012

চাকরির তিন বছরে এক বছরই বিদেশে-ঢাকা ওয়াসার এমডির ভ্রমণপ্রীতি by অমিতোষ পাল

চাকরিজীবনের দুই বছর ১০ মাসের মধ্যে এক বছরই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে কাটিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. তাকসিম এ খান। এই সময়ে দাপ্তরিক কাজে ১৩টি দেশে এক বা একাধিকবার সফর করলেও প্রতিটি সফরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে নিয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর স্ত্রী-সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

Monday, August 6, 2012

তেজগাঁওয়ে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম-ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া খুঁজছে সরকার by অমিতোষ পাল

রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে মহাখালী যাওয়ার পথে পূর্ব পাশের লাভ লেন ধরে শ দুয়েক গজ এগোলে রাস্তাটি বাঁয়ে মোড় নিয়েছে। সেই মোড় থেকে সামান্য এগিয়ে ডান দিকে একটি রাস্তা হাতিরঝিল সংযোগ সেতুর মাধ্যমে মধুবাগ হয়ে মগবাজার সড়কে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। স্থাপত্য অধিদপ্তরে নকশায় সে রকমই উল্লেখ আছে।

Thursday, August 2, 2012

সীমাহীন চুরি!-ডিসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন by অমিতোষ পাল

প্রায় সোয়া ১২ কোটি টাকা ব্যয় করার পর ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মীয়মাণ ৯টি ভবনই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ডিসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনের জন্য ৯টি বহুতল ভবন নির্মাণের এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।