Tuesday, May 24, 2011

মিসরে নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন অ্যান প্যাটারসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যান প্যাটারসনকে মিসরের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।
সিনেটে অনুমোদনের পর প্যাটারসন মিসরের বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্গারেট স্কোবির স্থলাভিষিক্ত হবেন। মার্গারেট তিন বছরের বেশি সময় ধরে মিসরে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকবিরোধী গণবিক্ষোভ চলাকালেও তিনি মিসরে ছিলেন।
প্যাটারসন ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসলামাবাদে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এ ছাড়া তিনি কলম্বিয়া ও এল সালভাদরে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্যাটারসনকে মিসরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করার মধ্য দিয়ে ওবামা কায়রোতে একজন পরীক্ষিত কূটনীতিককে পাঠাতে চান।

পাকিস্তানে ন্যাটোর ট্যাংকারে বোমা হামলা, নিহত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গতকাল শনিবার ন্যাটোর তেলের ট্যাংকারে বোমা হামলা হয়েছে। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, খাইবার অঞ্চলের ল্যান্ডি কোটাল শহরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই ট্যাংকারে করে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর জন্য জ্বালানি নেওয়া হচ্ছিল।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় কিছু লোকজন বিস্ফোরণের পর ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করতে সেখানে জড়ো হয়। এ সময় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে সীমান্তবর্তী শহর তোরখামের কাছে পৃথক বোমা হামলায় ন্যাটোর ১৬টি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, জানা যায়নি।
তোরখামের সরকারি কর্মকর্তা ইকবাল খাত্তাক বলেন, ট্যাংকারগুলোর ওপর দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহ করা হয়। তবে জঙ্গি ও অপরাধীরা প্রায়ই রসদবাহী ট্রাকের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।
স্থানীয় কর্মকর্তা শফিরুল্লাহ ওয়াজির বলেন, ভোরে ল্যান্ডি কোটালে তেলের ট্যাংকারে বোমা হামলা চালানো হয়।

সামরিক হাসপাতালেছয় শিক্ষার্থী নিহত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের প্রধান সামরিক হাসপাতালে গতকাল শনিবার তালেবান জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় চিকিৎসাবিদ্যার ছয় শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওই হাসপাতালের একটি তাঁবুতে এ আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই তাঁবুটি খাবারঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হামলায় হতাহতদের সবাই চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষার্থী বলে জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মোহাম্মদ জহির আজিমি।
হামলার দায় স্বীকার করে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, দুজন হামলাকারী কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতালটিতে প্রবেশ করে। শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় এ হামলা চালানো হয়।
আফগানিস্তানের অপরাধ তদন্তবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহের বলেন, একজন হামলাকারীর খোঁজে এখনো হাসপাতালটিতে তল্লাশি চলছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাসপাতালের ভেতরে কোনো হামলাকারীর অবস্থানের খবর নাকচ করে দেন।
বোমা হামলার পর হাসপাতালে যাওয়ার সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ও সেনাসদস্যরাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন। আপনজনদের খবর জানতে সেখানে জড়ো হয় রোগীদের আত্মীয়স্বজন।
আফগান সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়মিত হামলা করে চলেছে তালেবান। গত মাসের শেষ দিকে তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের হামলার মৌসুম শুরু হয়েছে। এ ঘোষণার পর আফগানিস্তানে গত কয়েক দিনে পর পর কয়েকটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। গত বৃহস্পতিবার জঙ্গিদের হামলায় আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৩৬ জন নিহত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি বেনজির

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বেনজির ভুট্টো নিহত হওয়ার দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা দিতে রাজি হয়নি। উইকিলিকসের ফাঁস করা একটি নথির বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদপত্র দ্য হিন্দু গত শনিবার এ কথা বলেছে।
পত্রিকাটি বলেছে, ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর বেনজিরকে স্বাগত জানাতে যে গাড়িবহর গিয়েছিল, তাতে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে ১৪০ জনের বেশি লোক নিহত হয়। এ ঘটনার পর ২৩ অক্টোবর করাচিতে পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূত অ্যান প্যাটারসনের সঙ্গে বেনজিরের বৈঠক হয়। বৈঠকের বিষয়বস্তুর বর্ণনা দিয়ে প্যাটারসন ২৯ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি তারবার্তা পাঠান। দ্য হিন্দু বলেছে, উইকিলিকসের মাধ্যমে ওই তারবার্তার কপি তাদের হাতে এসেছে।
তারবার্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বেনজির ভুট্টো মার্কিন দূতকে জানিয়ে দেন, তাঁর সমর্থকদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা তদন্তে পারভেজ মোশাররফ সরকার আন্তরিক নয়। তিনি মনে করেন, মোশাররফ সরকারের লোকজনের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক রয়েছে। সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এসব কারণ দেখিয়ে তিনি তাঁর নিরাপত্তা রক্ষায় কয়েকজন মার্কিন সেনাকে নিয়োজিত করতে মার্কিন দূতকে অনুরোধ করেন। তবে প্যাটারসন বেনজিরকে বলেন, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর সময় তাঁর (বেনজিরের) চার পাশে মার্কিন নিরাপত্তারক্ষী থাকলে ভোটারদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। প্যাটারসন বেনজিরকে জানান, বিদেশি নেতাদের মধ্যে শুধু আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও হাইতির প্রেসিডেন্ট অ্যারিস্টাইডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন সেনা নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই রাষ্ট্রপ্রধান। অন্যদিকে বেনজির তখন ছিলেন প্রচারণার কাজে ব্যস্ত একজন রাজনৈতিক নেতা। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র তাঁর নিরপত্তা বিধানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করতে পারে না। তবে তিনি যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা পান, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র মোশাররফ সরকারের ওপর চাপ দেবে। এর দুই মাস পর ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন বেনজির।

ইরাক অভিযানের সমাপ্তি টানল যুক্তরাজ্য

ইরাকে যুক্তরাজ্যের আট বছরের সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো গতকাল রোববার। যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিতর্কিত ‘অপারেশন টেলিক’ নামে ওই অভিযান। তবে অভিযান শেষ হলেও সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা বাগদাদে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে থেকে যাবেন।
২০০৯ সালের জুলাই মাসে ইরাক থেকে যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে নৌবাহিনীর ৮১ জন প্রশিক্ষক উম কসর বন্দরে থেকে যান।
২০০৩ সাল থেকে ‘ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য লড়াইয়ে’ যে ১৭৯ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় মোট এক হাজার ৮০০ ইরাকিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের সমুদ্রসম্পর্কিত, ছোট অস্ত্র, তেল প্লাটফরমের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ ৫০টি ভিন্নভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ইইউ কার্যালয় উদ্বোধনে বেনগাজিতে অ্যাস্টন

লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে কার্যালয় খুলবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কার্যালয় উদ্বোধন করতে গতকাল রোববার বেনগাজিতে পৌঁছান ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন।
অ্যাস্টন বেনগাজিতে পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা আগে ত্রিপোলি বন্দর ও লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাসভবন চত্বরের পাশে হামলা চালায় ন্যাটো।
কার্যালয় উদ্বোধন করার পাশাপাশি অ্যাস্টনের লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান মুস্তাফা আবদুল জলিলের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। অ্যাস্টনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বেনগাজিতে ইইউর কার্যালয় খোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি আমি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ঘোষণা করেছি।’ অ্যাস্টন বলেন, গণতন্ত্র ও লিবিয়ার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যাঁরা লড়াই করছেন, এটা তাঁদের প্রতি সম্মান জানানো।

অ্যাসাঞ্জের জীবনকাহিনি নিয়ে নাটক

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জীবনকাহিনি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। গতকাল রোববার গণমাধ্যমের খবরে এ কথা বলা হয়।
চলতি সপ্তাহে স্টেইনলেস স্টিল র‌্যাট নামের ওই নাটকের রিহার্সেল শুরু হচ্ছে। নাটকটি লিখেছেন মেলবোর্নের পুরস্কার-বিজয়ী নাট্যকার রন এলিশা।
সান-হেরাল্ড পত্রিকা জানায়, নাটকে বারাক ওবামা নামের চরিত্র রয়েছে। এ ছাড়া যে নারী অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, সেই নারীর চরিত্রও রয়েছে ওই নাটকে।
সান-হেরাল্ড পত্রিকা নাটকটিকে বিশ্বের প্রথম ‘উইকিপ্লে’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সিডনিতে নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ করা হবে।
পরিচালক ওয়েনি হ্যারিসন বলেন, নাটকটি মজার, হাস্যরসাত্মক ও বিতর্কিত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি একজন অস্ট্রেলিয়ানের গল্প, যিনি এই মুহুর্তে বিশ্বকে পরিবর্তন করছেন। আমি অপেক্ষা করতে পারছি না। যত দ্রুত সম্ভব নাটকটির কাজ শেষ করা হবে।’
অ্যাসাঞ্জের চরিত্রে অভিনয় করবেন স্থানীয় অভিনেতা ড্যারেন ওয়েলার।
সম্প্রতি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ তাঁর ওয়েবসাইটে হাজার হাজার গোপনীয় নথিপত্র প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পেনে বিক্ষোভ

সরকারের ব্যয়-সংকোচন নীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে স্পেনে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার স্থানীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ উপলক্ষে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানেনি বিক্ষোভকারী ব্যক্তিরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এদিন রাস্তায় নেমে আসে। সারা দেশে গণবিক্ষোভের কারণে স্থানীয় নির্বাচনের ডামাডোল ঢাকা পড়ে যায়। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সোস্যালিস্ট পার্টির ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রধানমন্ত্রী জো লুই রদ্রিগেজ জাপাতেরোর সরকার অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বরং দিনে দিনে তা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। সঙ্গে বেড়ে চলেছে বেকারত্ব। বর্তমানে এই বেকারত্বের হার ২১ শতাংশে পৌঁছেছে। যুবসমাজ চলমান সংকটের জন্য রাজনীতিবিদদের দায়ী করছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা এই আদেশ অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে। বার্সেলোনা থেকে মাজোরকা পর্যন্ত বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া, সেভিলা, বিলাবোসহ প্রায় প্রতিটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। অধিকাংশ বিক্ষোভে ছিল তরুণ-তরুণীদের জোয়ার।
১৫ মে থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে গতকাল রাজধানী মাদ্রিদে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়। প্রায় ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী এদিন মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থল পুয়ের্তা ডেল সল স্কয়ার দখলে নেয়। অনেক বিক্ষোভকারী এক সপ্তাহ ধরে সেখানে প্লাস্টিকের তাঁবু গেঁড়ে অবস্থান করছে।
আনা রদ্রিগেজ নামের ২৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।’ প্রকৌশল বিষয়ে দুটি ডিগ্রি নিয়েও দুই বছর ধরে বেকার এই যুবক বিক্ষোভে অংশ নিতে শনিবার রাতে মাদ্রিদের পুয়ের্তো ডেল স্কয়ারে কাটান। তিনি বলেন, পরিবর্তনের পক্ষে জনগণকে খেপিয়ে তুলতে স্থানীয় নির্বাচনে বড় দলগুলোকে বর্জন করে তিনি ছোট দলকে ভোট দিয়েছেন।
আলেজান্দ্রো নামের অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমার আশা, এই বিক্ষোভ আমাদের ভাগ্য বদলাবে।’
গতকাল স্থানীয় নির্বাচনে মোট আট হাজার ১১৬টি মেয়র, ৬৮ হাজার ৪০০ কাউন্সিলর এবং ১৩টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ৮২৪টি পার্লামেন্টারি আসনের জন্য ভোটাভুটি হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়। প্রধানমন্ত্রী জাপাতেরো অঙ্গীকার করেছেন, তিনি ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তার পরও স্থানীয় নির্বাচনে তাঁর দলের ভরাডুবি হতে পারে।

ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি

ভারতের কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের গতকাল রোববার দ্বিতীয় বর্ষপূতি হলো। ২০০৯ সালের এই দিনে এই সরকার দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মনমোহন সিং।
সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর নয়াদিল্লির বাসভবনে নৈশভোজের আয়োজন করেন।
দুই বছর পার করে ফেললেও সরকারের সময়টা খুব ভালো কাটেনি। সরকারের মন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা টু-জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি, আইপিএল কেলেঙ্কারি, মুম্বাই আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারিসহ কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কাকারিতে জড়িয়ে পড়েন।
এর জেরে গ্রেপ্তার হয়েছেন তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলীয় কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা, তামিলনাড়ুর সাংসদ ও ডিএমকের প্রধান এম করণানিধির ছোট মেয়ে কানিমোঝি, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরেশ কালমাদিসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এদিকে কংগ্রেসকে গত দুই বছরে দুজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তাঁরা হলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস আর রেড্ডি ও অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দোরজি খানডু। তাঁরা দুজনই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।
এসব কারণে সারা দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মনমোহন সরকারকে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি ভাষার দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস ১৪টি শহরে একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপে ১০ হাজার ১২৬ জন নাগরিক অংশ নেন। জরিপের ফল থেকে দেখা যায়, দুর্নীতিসহ নানা কারণে এই সরকারের প্রতি গণমানুষের ক্ষোভ আছে। তার পরও বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট কিংবা বাম দলের চেয়ে এখনো মনমোহন সিং সরকারের প্রতিই তাঁদের আস্থা বেশি।

আফগানিস্তানে পুলিশের সদর দপ্তরে হামলা নিহত ৫

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে আত্মঘাতী দলের চার সদস্য পুলিশের ছদ্মবেশে ট্রাফিক পুলিশের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এতে পাঁচজন নিহত হন।
প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান ইসহাকজাই জানান, গতকাল রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ওই হামলার সূত্রপাত। হামলায় প্রাথমিকভাবে তিন পুলিশ নিহত হয়। এ সময় বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এর প্রায় নয় ঘণ্টা পর আফগান সেনা ও বিদেশি বাহিনী চার হামলাকারীর খোঁজে সদর দপ্তরের ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশে তিন হামলাকারী তাদের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এক পুলিশ ও এক আফগান সেনা নিহত হয়।

‘পাকিস্তানি জিহাদি নেটওয়ার্ককে অর্থ দেয় সৌদি আরব ও ইউএই’

পাকিস্তানের একটি জিহাদি নেটওয়ার্ককে প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইসলামি দাতব্য সংস্থাগুলো। ওই জিহাদি নেটওয়ার্ক শিশুদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়। উইকিলিকস প্রকাশিত গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়ে গতকাল রোববার ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ওই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত ১০ কোটি ডলার। এই অর্থ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি জিহাদি নেটওয়ার্ককে দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে লাহোরে মার্কিন কনস্যুলেটের তৎকালীন প্রধান কর্মকর্তা ব্রায়ান হান্ট ওয়াশিংটনে ওই বার্তা পাঠান। পাঞ্জাব সফরে গিয়ে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রায়ান তখন প্রতিবেদন তৈরি করেন। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিশনারি ও ইসলামি দাতব্য সংস্থাগুলো ওই জিহাদি নেটওয়ার্ককে দুই দেশের সরকারের সহায়তায় ওই তহবিল পাঠায়।
বার্তায় বলা হয়, জিহাদি নেটওয়ার্কটি সে দেশের দরিদ্র শিশুদের বিনা খরচে মাদ্রাসায় পড়াশোনার ভার নেয়। পরে সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়। এসব শিশু মাদ্রাসার বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পায় না।

ইরাকে বোমা হামলায় ১৬ জন নিহত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও এর আশপাশের এলাকায় গতকাল রোববার বেশ কয়েকটি বোমা হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ১৬ জন নিহত ও ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এর মধ্যে একটি আত্মঘাতী হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরাকের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাগদাদের ২৫ কিলোমিটার উত্তরাঞ্চলীয় তাজি শহরে একটি আত্মঘাতী হামলায় ছয় পুলিশসহ ১০ জন নিহত এবং অপর ১০ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে।
বাগদাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-আমিল নামক এলাকায় রাস্তার পাশে পেতে রাখা চারটি বোমা এবং একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে গাড়িবোমার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে দুজন নিহত ও তিন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। একই অঞ্চলের সাইদিয়া নামক জায়গায় রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়েছে।
বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে একটি হাসপাতাল ও একটি জনাকীর্ণ বাজারের সামনে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। একই অঞ্চলে এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িবহরে গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে।
আল-ওয়াতিক স্কয়ারে রাস্তার পাশে পেতে রাখা দুটি বোমার বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশও রয়েছে।

আইসল্যান্ডে আবার আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত

এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরিতে ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাতের এক বছর পর আইসল্যান্ডের আরেকটি আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে গতকাল রোববার সে দেশের আকাশে কিছুক্ষণের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
গতকাল সকালে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেফলাভিক এই মুহূর্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় কিছু ফ্লাইটের সমস্যা হবে।’
গত শনিবার রাতের দিকে আইসল্যান্ডের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি গ্রিমসভেটেনে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর অগ্ন্যুৎপাতের ধোঁয়া ও ছাই আকাশে প্রায় ২০ কিলেমিটার ওপরে উঠে যায়।
আগ্নেয়গিরিবহুলদেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক ভূতাত্ত্বিক জানান, এবারের উদ্গীরণ গত বছরের চেয়ে বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে গত বছরের মতো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সম্ভবত নেই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম হতে পারে।
গত বছর এয়াকিউয়াতলুয়োকুটল আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরণ হওয়া ছাইয়ের কারণে ইউরোপের একটি বড় অংশজুড়ে প্রায় এক মাসের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। ছাইয়ের কারণে বিমানের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার আশংকায় বিমান চলাচলবন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভূতাত্ত্বিক গুনার গুডমুন্ডসন বলেন, ‘আমার মনে হয় না, গত বছরের মতো এ বছরও একই অবস্থা হবে। কেননা, এবার জোরেশোরে উদ্গীরণ হলেও গত বছরের তুলনায় ছাই অনেক কম। কাজেই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ পথে কিছু সমস্যা হতে পারে।’
অপর এক ভূতাত্ত্বিক এইনার জারতানসন জানান, আইসল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন চান ওবামা

১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সমর্থন চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওই সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সম্মতি দিতে ইসরায়েলকে চাপে ফেলতে যৌথ মধ্যপ্রাচ্য চুক্তি করতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে আহ্বানও জানাবেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ওবামা শিগগিরই রাষ্ট্রীয় এক সফরে যুক্তরাজ্য যাবেন। তাঁর এই সফর হবে গত ১০০ বছরের মধ্যে তৃতীয় কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তরাজ্য সফর। এই সফরে ওবামা-ক্যামেরনের ব্যক্তিগত আলোচনায় ফিলিস্তিনের সীমানাসংক্রান্ত বিষয়টি তোলা হবে। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও লিবিয়া পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধানের পদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামারও ওই সফরে যাওয়ার কথা।
প্রেসিডেন্ট ওবামা গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলকে ১৯৬৭ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ ও ‘রক্ষা করা সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দেন। ওবামা তাঁর প্রস্তাবের পক্ষে ইতিমধ্যে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও রাশিয়ার সমর্থন পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ ওই দুটি সংস্থা ও রাশিয়া একসঙ্গে ‘কোয়াট্রেট’ নামে পরিচিত, যারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
ইসরায়েলের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ কারণেই তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সমর্থন আশা করছেন। ওবামার এই উদ্যোগের একটি বড় কারণ হলো ফিলিস্তিনের নেতাদের প্রভাবিত করা, যাতে ফিলিস্তিনি নেতারা আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতীকী সমর্থন না চান।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে লন্ডন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার বার্ট ইসরায়েলের সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের ‘আচরণ সহযোগিতামূলক নয়’ এবং দেশটি ‘অস্থিতিশীল করার কার্যক্রমে জড়িত’। পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের নতুন করে দেড় হাজার বসতি স্থাপনের ঘোষণার পর বার্ট এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের এমন ঘোষণার পর আমি যারপরনাই অসন্তুষ্ট। ইসরায়েল এমন দিনে এই ঘোষণা দিল, যখন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্পষ্ট পথ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিলেন।’
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, গত শুক্রবার ওবামা ও নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউসের বৈঠক ছিল ‘নিষ্প্রাণ’। গতকাল রোববার ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিয়ত আহারোনত-এ সাংবাদিক নাহুম বার্নেয়া ও সিমন শিফার লিখেছেন, ‘আমরা যখন ওভাল অফিসে ঢুকি, তখন দুই নেতা ঠিক স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন না। কেউ কারও দিকেও তাকাচ্ছিলেন না। তবে ওবামা আগে কথা বলেছেন।’ তাঁরা জানান, দুই নেতাকে দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা সত্যিই চাপে আছেন। কোনো কিছু লুকানোর চেয়ে মতানৈক্যের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
তবে গত শনিবার নেতানিয়াহুর একজন মুখপাত্র জানান, ওবামা-নেতানিয়াহুর বৈঠকের আসল চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসেনি। নেতানিয়াহু নিজেই এই দাবি করেছেন।
১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, গোলান উপত্যকা ও সিনাই পর্বতমালা দখল করে নেয়। তখন থেকেই ইসরায়েল এসব এলাকা নিজেদের দখলে রেখেছে এবং পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক আদালত এ দখলকে অবৈধ বলে রায় দিলেও ইসরায়েল তাদের দখল ছাড়েনি। ওবামার আহ্বান মেনে নিলে ইসরায়েলকে এসব এলাকা ছেড়ে দিতে হবে।

শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান

স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর এবার জ্বলে উঠেছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরাও। আজহার আলী, তৌফিক উমরদের লড়াকু ব্যাটিংয়ে সেন্ট কিটস টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে পাকিস্তান। মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ২০২ রান। পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে তিন রান দূরে আছেন তৌফিক উমর। ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক।
প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতেই ৮২ রান যোগ করে শুরুটা ভালোভাবেই করে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও তৌফিক উমর। ২৬তম ওভারে উইন্ডিজকে প্রথম উইকেটটি এনে দেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। ৩২ রান করে সাজঘরে ফেরেন হাফিজ। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে আবার ৭৬ রান যোগ করে স্বাগতিকদের হতাশায় ডোবান উমর ও আজহার আলী। দলীয় ১৫৮ রানের মাথায় ৫৩ রান করে দেবেন্দ্র বিশুর শিকারে পরিণত হন আজহার। এরপর আসাদ শফিককেও খুব তাড়াতাড়িই ফিরিয়ে দেন কুমার রোচ। এরপর দিনের বাকি সময়টা নিরাপদেই পার করেন উমর ও মিসবাহ। চতুর্থ উইকেটে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে অপরাজিত আছেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় দিন শেষে পাকিস্তান এগিয়ে আছে ২৫১ রানে।

ইতিহাসে রোনালদো

বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় সার্জিও রামোসের বাড়িয়ে দেওয়া বল আলতো টোকায় ঢুকিয়ে দিলেন জালে। শিশুর মতো হাসিতে মেতে উঠলেন। চলল দুষ্টুমিমাখা উদ্যাপন। এ রকমই হওয়ার কথা। গোল করা যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে ছেলের হাতের মোয়া। দুষ্টুমির ছলেও যে অক্লেশে করে যেতে পারেন গোল!
পরশু আলমেরিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ মিনিটের গোলটাই ইতিহাসে অমরত্ব দিল তাঁকে। স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিলেন। এরপর ৭৭ মিনিটে গোল করে আরেক অপেক্ষার অবসান হলো। এবার পেরিয়ে গেলেন লিওনেল মেসিকেও। মৌসুমে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ৫৩, মেসির চেয়ে একটি বেশি। সব মিলে লিগে ৪০ গোল! অবিশ্বাস্য!!
রিয়ালও এদিন ছেলেখেলাই করল আলমেরিয়াকে নিয়ে। হ্যাটট্রিক করে (৩১, ৫২ ও ৭৩ মিনিট) মাদ্রিদে চুক্তিটা পাকা করার তাগিদ দিয়ে রাখলেন ইমানুয়েল আদেবায়োর। দুর্দান্ত খেলা করিম বেনজামা করলেন জোড়া গোল (৪৮ ও ৬৩ মিনিট), তিনিও যেন বার্তা পাঠালেন, গ্রীষ্মের দলবদলের বাজারে তাঁকে বিক্রির কথা না ভাবলেই ভালো করবে রিয়াল। বার্তা পাঠানোর এই উৎসবে যোগ দিলেন অভিষেকেই গোল করা জোসেলুও। চাইলে আগামী মৌসুমে নিয়মিতই এই স্ট্রাইকারকে খেলাতে পারেন হোসে মরিনহো।
পরশু স্ট্রাইকারদের গোল-উৎসবের প্রতিযোগিতা রিয়ালকে জেতাল ৮-১ গোলে। এখন বললে অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করবে না, পুঁচকে আলমেরিয়া প্রথমার্ধ শেষ করেছিল ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে। লিগের শেষ ৬ ম্যাচে ২৯ গোল করে আগামী মৌসুমের জন্য বার্সেলোনাকেও কি একটা বার্তা পাঠিয়ে দিল না রিয়াল? শেষ ৩ ম্যাচে ১১ গোল করে মেসিকেও যেন বার্তা পাঠালেন রোনালদো। দ্বৈরথে এখন তিনিই এগিয়ে। মেসি অবশ্য সুযোগ পাচ্ছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
রিয়ালের আগেই মেসি-ইনিয়েস্তা-জাভি-পুয়োল-ভালদেস বিহীন বার্সার ‘দ্বিতীয় একাদশ’ ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে মালাগার বিপক্ষে। রিয়ালের রাডারে থাকা সার্জিও আগুয়েরোর হ্যাটট্রিকে মায়োর্কার বিপক্ষে ৪-৩ গোলে জিতেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। শেষ দিনে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে রেলিগেশন নিশ্চিত হয়ে গেছে দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার। টানা ২০ বছর শীর্ষ লিগে খেলে এই প্রথম রেলিগেশনের খাঁড়ায় কাটা পড়ল ক্লাবটি।
রোনালদোর দিনে রিয়ালেরও একটি অর্জন আছে। এই মৌসুমে লিগে গোলের সেঞ্চুরি (১০২টি) করিয়ে নিন্দুকদের পাল্টা জবাব দিয়ে রাখলেন মরিনহো, যে নিন্দুকেরা ‘রিয়াল আক্রমণাত্মক খেলছে না’ বলে বলে কান ঝালাপালা করে দিয়েছে পর্তুগিজ কোচের। বার্সেলোনা লিগে গোল করেছে ৯৫টি। অবশ্য গোল ব্যবধানে রিয়ালের চেয়ে (+৬৯) এগিয়ে থেকেই লিগ শেষ করেছে চ্যাম্পিয়নরা (+৭৪)।

ব্যর্থতার দায়ভার আমার: ওয়েঙ্গার

শিরোপাহীন আরও মৌসুম পার করল আর্সেনাল। গতকাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে ফুলহামের বিপক্ষে শেষটাও ভালোভাবে করতে পারেনি গানাররা। ২-২ গোলে ড্র করার পর পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছেড়েছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের শিষ্যরা। লিগ শেষে আর্সেনাল আছে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে। তার মানে পরবর্তী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে সরাসরি অংশ নিতে পারবে না তারা। মৌসুম শুরুর আগে বাছাই পর্বের বাধা পেরিয়ে আসতে হবে ১৩ বারের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাজয়ী এ দলটিকে। তবে এ ব্যর্থতার জন্য খেলোয়াড় বা অন্য কাউকেই দোষারোপ করেননি কোচ ওয়েঙ্গার। হতাশাজনক এ ফলাফলের দায়ভার পুরোটাই তিনি নিয়েছেন নিজের কাঁধে।
গতকাল ফুলহামের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে এবারের মৌসুম শেষ করার পর এই ফরাসি কোচ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এ ফলাফলের জন্য আমিই দায়ী। আর আমি খুবই হতাশ। এর দায়ভার পুরোপুরিই আমার। খেলোয়াড়েরা অনেক ভালো খেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের সার্বিক ফলাফল তাদের মনোবলও অনেক দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা এ মৌসুমে মোট ৫৮টা ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু বেশির ভাগ ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড়দের আমরা মাঠে পাইনি। ফেব্রিগাস খেলেছে ২২টা ম্যাচে। আর ফন পার্সি খেলেছে মাত্র ১৮টিতে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা কখনোই আমাদের পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারিনি।’
পরবর্তী মৌসুমের জন্য নতুন কোনো তারকা খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েঙ্গার বলেছেন, ‘আমরা ৫০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কোনো খেলোয়াড় কিনতে পারব না। আমাদেরকে বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা যদি আমাদের পছন্দের খেলোয়াড় পাই, তাহলে সেই অনুযায়ী আমরা টাকা খরচ করব।’

আনচেলত্তির বিদায়

গত মৌসুমে কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল চেলসি। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। গত বছর যাকে ঘিরে উল্লাসের কমতি ছিল না, এক বছর পর তাঁকেই নির্মমভাবে বরখাস্ত করল এই ইংলিশ ক্লাবটি। ২০০৩ সালে মালিকানা কিনে নেওয়ার পর এ নিয়ে ছয়জন কোচকে বহিষ্কার করলেন চেলসির রাশিয়ান মালিক রোমান আব্রামোভিচ। কোচ পাল্টানোটা অভ্যাসেই পরিণত হতে চলেছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির।
প্রিমিয়ার লিগের গোটা মৌসুম জুড়েই অনেক উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে চেলসি। এভারটনের বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে শেষটাও হতাশারই ছিল চেলসি সমর্থকদের। এত কিছুর পরে আনচেলত্তিকে বিদায় জানিয়ে দিতে এতটুকু দেরি করেনি এই ইংলিশ ক্লাবটি। এরপর আনচেলত্তিকে বিদায় জানাতে খুব বেশি দেরি করেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাবের ওয়েবসাইটে ঘোষণাটা এসে যায়। ‘কার্লো আনচেলত্তি আর চেলসির কোচ নেই।’ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি ঘোষণাই এসেছে চেলসি ওয়েবসাইটে। ২০০৯ সালের অসাধারণ সাফল্যের জন্য মালিক ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনচেলত্তিকে অনেক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে ঘোষণায় এও জানানো হয়েছে, ‘এ মৌসুমে আনচেলত্তি ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।’
আনচেলত্তিকে বিদায় জানিয়ে দেওয়ার পর সবকিছু নতুন করেই সাজাতে চাচ্ছে চেলসি কর্তৃপক্ষ। সে জন্য খুব তাড়াতাড়িই একজন নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে। নতুন লক্ষ্য অবশ্যই প্রিমিয়ারশিপের সাফল্য পুনরুদ্ধার।

আইপিএল উপভোগ করেননি ওরাম

চোটগ্রস্ত ইংলিশ ক্রিকেটার পল কলিংউডের জায়গায় রাজস্থান রয়েলসের হয়ে খেলতে আইপিএলে গিয়েছিলেন জ্যাকব ওরাম। ছয় সপ্তাহে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে সবকিছু মিলিয়ে অর্থকরী এ আয়োজন নাকি একদমই ভালো লাগেনি তাঁর। তিনি বলেছেন, ‘আইপিএলে মাঝেমধ্যে মনে হতো, এখানে আমি ক্রিকেট খেলতে এসেছি, নাকি ফুর্তি করতে এসেছি।’
‘প্রতিটি ম্যাচের পরপরই জাঁকজমকপূর্ণ পার্টির আয়োজন করা হতো। সেখানে অফুরন্ত পানীয় থাকত, থাকত সুন্দরী রমণীরা। কিন্তু, ক্রিকেটটা সেখানে ছিল একদমই অনুপস্থিত। বলিউডের তারকা, ফ্যাশন শো অনেককে আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু আমি সেগুলো উপভোগ করিনি। আমার কাছে মনে হতো, এসব ব্যাপার-স্যাপার বাস্তবতার অনেক বাইরে।’ আইপিএল নিয়ে ওরামের মন্তব্য।
ছয় সপ্তাহে মাত্র দুটো ম্যাচ খেলাও মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না ওরাম। তিনি বলেন, ‘আইপিএল নিয়ে আমি অনেক সিরিয়াস ছিলাম। প্রচুর অনুশীলন করেছি। ম্যাচ খেলেছি মাত্র দুটি। এ কারণেই হয়তো আমি আইপিএলের সঙ্গে একাত্ম হতে পারিনি।’
দেশে ফিরে আসার পর টেলিভিশনে আইপিএলের একটি ম্যাচও দেখেননি বলে জানিয়েছেন ওরাম। ওরাম বলেন, ‘বিশ্বাস করতে পারেন নিউজিল্যান্ডে ফিরে আমি আইপিএলের কোনো ম্যাচ দেখিনি। এমনকি রাজস্থানেরও কোনো ম্যাচ না। আমি এ প্রতিযোগিতায় নিজের উপস্থিতি অনুভব করতে পারিনি বলেই হয়তো এ নির্লিপ্ততা। আমি বলতে পারব না এ মুহূর্তে প্রতিযোগিতার পয়েন্ট টেবিলের অবস্থা কী। রাজস্থান যে বাদ হয়ে গেছে, সেটা অবশ্য আমি জানি।’
আইপিএল নিয়ে নির্লিপ্ততা থাকলেও রাজস্থান রয়েলস অধিনায়ক শেন ওয়ার্নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওরাম। ওয়ার্নকে একজন ‘ভালো মানুষ’ ও ‘বন্ধুবত্সল’ হিসেবে অভিহিত করে ওরাম বলেন, ‘ওয়ার্নের মতো একজন গ্রেটের অধীনে খেলতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। তিনি এবারই শেষ আইপিএল খেললেন, কিন্তু একজন গ্রেট হিসেবে তাঁকে সবাই অনন্তকাল মনে রাখবে।