Showing posts with label প্রবাসী শ্রমিক. Show all posts
Showing posts with label প্রবাসী শ্রমিক. Show all posts

Wednesday, September 16, 2026

যে প্রকল্পে বদলে গেল ওদের জীবন by রোকনুজ্জামান পিয়াস

নরসিংদীর সোহেল মিয়া। সৌদি আরবে এসি লাগাতে গিয়ে উঁচু বিল্ডিং থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। কিন্তু কোম্পানি তার চিকিৎসা না করিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফিরে তিনি রেইজ প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর প্রকল্প থেকে নগদ প্রণোদনা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বীমা দাবির ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি পোলট্র্রি ফার্ম করেন। ওই ফার্ম থেকে বর্তমানে তার মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের সুলতানা সংসারে সচ্ছলতা আনতে ২০১৪ সালে লেবাননে যান। কিন্তু ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন হয়নি। ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। দেশে ফিরে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এই অবস্থায় রেইজ প্রকল্পের কথা জানতে পারেন। সেখান থেকে কাউন্সেলিং নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ফিন্যানশিয়াল লিটারেসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। প্রকল্প থেকে নগদ প্রণোদনাও দেয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন এবং কিছু কাপড় কিনে নিজ গ্রামে চালু করেন ছোট্ট একটি টেইলার্স। এখন তার মাসিক আয় ১০-১২ হাজার টাকা। শুধু সোহেল মিয়া বা সুলতানা নয়, রেইজ (রিকভারি অ্যান্ড এডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট) প্রকল্পের আর্থিক, মানসিক ও টেকনিক্যাল সহায়তায় নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন স্বর্বস্ব হারানো ও কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা ভাগ্যবিড়ম্বিত প্রায় দুই লাখ কর্মী। এরমধ্যে প্রায় দেড় লাখ কর্মীর স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত বাজেটে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মীকে সেবা দেয়ার পরও অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ অর্থে অতিরিক্ত আরও অর্ধলক্ষাধিক কর্মীকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। সফল এ প্রকল্পটিকে ইতিমধ্যে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

জানা যায়, করোনা মহামারীর কারণে ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরত আসেন। এসব প্রত্যাগত কর্মী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছিলেন। এ সময় তাদের কর্মক্ষম করে তোলার জন্য গ্রহণ করা হয় বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় রিইন্টিগ্রেশন কর্মসূচি। নানা প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিইন্টিগ্রেশন প্রকল্পের। বস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে।
২০২৩ সালে ৩০শে জুলাই মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মেয়াদ ধরা হয় ২০২৬ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে ৪২৭ কেটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার এ প্রকল্পে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে শেষমেশ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ ৩৫০০০ টাকা সরকারের তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট ৫১৬ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংক সহজশর্তে ঋণ দেয়। প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, আত্মকর্মসংস্থান, পুনরায় বিদেশ গমন এবং চাকরি প্রাপ্তিতে প্রকল্প থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সারা দেশে বিদেশফেরত কর্মীদের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি ২৭টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে করে কর্মীরা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে  হতে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তাসহ তাদের কাঙ্খিত সেবা সহজেই পায়। একটি রেফারেল সিস্টেমের মাধ্যমে এসব সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত সেবাগ্রহীতা কর্মী ও তার পরিবারের সদস্যরা স্বনামধন্য হাসপাতাল থেকে স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাচ্ছেন।

সূত্রমতে, ৩৫টি জেলায় স্থাপিত ‘প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার’-এর মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং ও পরামর্শ নিয়ে প্রত্যাগত অসহায় অভিবাসী কর্মীরা নানাখাতে সম্পৃক্ত হয়ে সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি শপ, কাপড়ের ব্যবসা, ড্রাইভিং, পোলট্রি, ডেইরি, ছাগল ও গরু পালন, বিফ ক্যাটারিং, ফলের বাগান, বাণিজ্যিক কৃষি ও মৎস্য চাষ ইত্যাদি। এছাড়া মেশন, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ইলেকট্রিশিয়ান, কন্সট্রাকশন, কার্পেন্টার, পেইন্টার, ওয়েলডিং, গোল্ড স্মিথ, রড বাইন্ডিং, মোবাইল সার্ভিসিং, টাইলস ফিটিং, ইন্ডাস্ট্র্রিয়াল, অটো মেকানিক, কাটিং মাস্টার,  প্লাম্বার, সেলুন, ইলেকট্রিক, ফার্নিচার, কনফেকশনারি, স্যানিটারি, গার্মেন্টস পণ্য, ফর্মেসি, হার্ডওয়্যার, জুতা, অটো পার্টস, থাই গ্লাস, রাইস মিল, মিষ্টি, স্টেশনারি, হোটেল,  চায়ের দোকান, ভেজিটবল, ফলসহ নানা ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু ব্যবসা নয়, প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন ৫ হাজারেরও বেশিসংখ্যক কর্মী। প্রকল্প থেকে উপকারভোগীদের অনেকে ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষক, বাবুর্চি, ইমাম, মুয়াজ্জিন, শেফ, গ্রাম্য চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা পেশা বা কাজে যুক্ত হয়েছেন। তথ্য বলছে, রেইজ প্রকল্পটিকে বিশ্বব্যাংক অন্যান্য দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছে। তাদের নিজস্ব সমীক্ষায় এটিকে সবচেয়ে ভালো প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি এ প্রকল্পকে বিশ্বব্যাংকের মর্যাদাপূর্ণ ‘বিশ্বব্যাংক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক, ড. এটিএম মাহাবুব-উল করিম বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ বেকার কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া অতিরিক্ত ৫৩০০০ ফেরত প্রবাসীকে উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি আরও ২০ হাজার জনকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ৩৫টি প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার স্থাপন করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশে কর্মীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ হয়ে যাওয়া এসব কর্মীরা এখন স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার নিয়ে ভালো আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকল্প হিসেবে ‘রেইজ প্রকল্প’ বিশ্বব্যাংকের এওয়ার্ড পেয়েছে। যা জাতি হিসেবে গর্বের। প্রকল্পটি অব্যাহত থাকলে আরও বিদেশফেরত কর্মীরা জীবিকা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বেকারত্বের অভিশাপমুক্ত হবে লাখও কর্মী।

mzamin

Sunday, September 28, 2025

মোদি সরকার যেভাবে প্রবাসীদের মুখ চেপে ধরছে by রাউল লাই

লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনস্টারে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর নিতাশা কৌল ১৯৯৭ সালে পোস্টগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার জন্য ইউনিভার্সিটি অব হালে আসেন। এর পর থেকেই তিনি যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তিনি গণতন্ত্র, ডানপন্থী রাজনীতি, ভারতীয় রাজনীতি ও কাশ্মীর নিয়ে কয়েকটি বই লিখেছেন এবং দেড় শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়ার পরও কৌল ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ বা ওসিআই মর্যাদার মাধ্যমে নিজের জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এই বিশেষ মর্যাদা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া হয়। ওসিআই কার্ডধারীরা ভ্রমণ বা বসবাসের ক্ষেত্রে আজীবন ভিসার মতো বিস্তৃত সুবিধা পান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষ এই মর্যাদা ভোগ করছেন।

কিন্তু হঠাৎ গত মে মাসে কৌলের ওসিআই বাতিল করা হয়। ভারতের সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট ১৯৫৫–এর ৭ডি ধারায় বলা আছে, কিছু বিশেষ কারণে ওসিআই বাতিল করা যেতে পারে, যেমন ১. জালিয়াতির প্রমাণ মিললে, ২. ভারতের সংবিধানের প্রতি অনুগত না হলে, ৩. ভারতের শত্রু কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধকালে যোগাযোগ বা ব্যবসা করলে, ৪. দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড পেলে, ৫. ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, বৈদেশিক সম্পর্ক কিংবা জনস্বার্থের খাতিরে প্রয়োজন মনে করলে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব আইন প্রয়োগ অনেক সময় আইনসম্মত বাতিল নয়; বরং একধরনের শাস্তিমূলক সেন্সরশিপে পরিণত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষা করা হয় না, যা আইনের মৌলিক নীতির বিরোধী। ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। যদিও দেশের ভেতরে আদালতগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে সরকারের এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।

নিতাশা কৌলকে যে নোটিশ দেওয়া হয়, সেখানে বলা হয় তিনি ‘ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত’। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নাকি বিদ্বেষপ্রসূত ও ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করেছে। কিন্তু নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছিল না।

কৌল আসলে ভারতের গণতন্ত্রের প্রবল সমর্থক এবং সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর দমননীতি আর হিন্দু ডানপন্থী সংগঠন আরএসএসের বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছেন।

আন্তর্জাতিক সূচকগুলোয়ও কৌলের কথার সত্যতা মেলে। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রিডম হাউসের গ্লোবাল ফ্রিডম ইনডেক্সে ভারতকে ‘আংশিক মুক্ত’ বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বৈষম্যমূলক নীতি নিচ্ছে এবং মুসলমানদের লক্ষ্য করে নিপীড়ন বাড়িয়েছে। একইভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও অবনতির কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কার্যত ‘অনানুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থায়’ আছে।

কৌল একা নন। গত ৯ বছরে ১২০ জনের বেশি মানুষের ওসিআই বাতিল করেছে ভারত সরকার। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার–এর তথ্য বলছে, এ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শুধু ২০২৪ সালেই ৫৭ জনের ওসিআই বাতিল করা হয়েছে, আর ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে আরও ১৫ জন এই শাস্তির মুখে পড়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই সাংবাদিক, কর্মী বা শিক্ষাবিদ। তাঁরা বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সমালোচনা করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২২ সালে সুইডেনভিত্তিক একাডেমিক অশোক স্বাইনের ওসিআই বাতিল করা হয়। অভিযোগ ছিল তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে’ এবং ‘ভারতের সামাজিক বন্ধন দুর্বল করেছে’। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। পরে স্বাইন দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন এবং ২০২৩ সালে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন।

আবার ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক রাফায়েল স্যাটারের ওসিআই বাতিল করা হয়। তিনি রয়টার্সে কাজ করেন এবং সাইবার নিরাপত্তা, গুপ্তচরবৃত্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। ভারত সরকার তাঁর সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে কারণ দেখালেও তিনি এখন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন।

ভারতে এখন সমালোচকদের দমনের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। রাজনীতিবিদ, এনজিও কর্মী, আন্দোলনকারী, সাংবাদিক বা সামাজিক নেতা—যিনিই সরকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁকেই নানা উপায়ে চুপ করানো হচ্ছে। কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে, কারও মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেককে ভীতি প্রদর্শন বা শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।

এই দমন–পীড়ন আরও বেড়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানোর পর। পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর সরকার এই অভিযান শুরু করে। এরপর এক্স প্ল্যাটফর্মকে প্রায় আট হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বলা হয়। এসবের মধ্যে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের অনেক অ্যাকাউন্টও ছিল। যেমন ফ্রি প্রেস কাশ্মীর, বিবিসি উর্দু ও দ্য ওয়্যার।

দেশের ভেতরে ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি ভারত সরকার এখন প্রবাসীদের দিকেও নজর দিয়েছে। ওসিআই মর্যাদাকে তারা কার্যত ‘ব্ল্যাকমেলের হাতিয়ার’ বানাচ্ছে। ফলে প্রবাসী ভারতীয়রা ভয় পাচ্ছেন—সরকারের সমালোচনা করলে হয়তো ভারতে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের চুপ করাতেই ওসিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম ফর ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেসির এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ ব্রিটিশ ভারতীয় ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আমি যেসব প্রবাসী ভারতীয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের অনেকেই স্পষ্ট বলেছেন, তাঁরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পান। কারণ, তাঁরা আশঙ্কা করেন, এতে ভারতে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু আমাদের, মানে ব্রিটিশ ভারতীয়দের এভাবে ভয় পাওয়া উচিত নয়। আমাদের ওসিআইয়ের মতো আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কারণ, আমরা পরিবার, বন্ধু, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিজেপি সরকার প্রবাসীদের যেভাবে চাপে রাখছে, তা ভারতের সংবিধানে প্রতিশ্রুত ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত।

যুক্তরাজ্যে ২০ লাখের বেশি ভারতীয় থাকলেও ব্রিটিশ সরকার ভারতের সঙ্গে বড় বাণিজ্যচুক্তি করেছে, কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। অথচ যুক্তরাজ্য চাইলে এই বিশেষ সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারত সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারত। চুপ করে থাকলে কেবল বিজেপির অবস্থানই আরও শক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এখন বিদেশে থাকা ভারতীয়দের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে ডাক দিচ্ছেন। কিন্তু উন্নয়নে অংশ নেওয়ার মানে হওয়া উচিত—ভয় ছাড়া মতপ্রকাশ ও সমালোচনার সুযোগ। যদি সরকারকে প্রশ্ন করলেই প্রবাসীদের শত্রু মনে করা হয়, তাহলে একসময় এমন অবস্থা আসবে, যখন আমরা কেবল শাসক দলের শর্তে ভারতে যেতে পারব। এতে ভারতের অগ্রগতিতে আমাদের অবদান রাখার সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে।

আসলে প্রবাসীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কই ভারতের গণতন্ত্রের মূল শক্তি। এই সম্পর্ক ছিন্ন হলে ভারতের গণতন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়বে।

রাউল লাই, ব্রিটিশ ভারতীয়দের একত্র করে ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা ‘প্ল্যাটফর্ম ফর ইন্ডিয়ান ডেমোক্রেসি’ নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দেন
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-09-09%2Fbah1sqrd%2FScreenshot-2025-09-09-190953.jpg?rect=52%2C0%2C525%2C350&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
যুক্তরাজ্যে ২০ লাখের বেশি ভারতীয় আছেন। ছবি: পিটিআই

Saturday, January 18, 2025

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে প্রবাসীরা by এম এম মাসুদ

ঋণে জর্জরিত দেশ। ব্যাংকগুলো ফাঁকা। রিজার্ভ তলানিতে। মূল্যস্ফীতি হু হু করে বাড়ছে। অর্থনৈতিক এমন দৈন্যদশায় কুলহারা সংশ্লিষ্টরা। একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েও অর্থনীতিকে তার গতিপথে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। বলতে গেলে বাংলাদেশ ফোকলা করে পালিয়ে যান পতিত শেখ হাসিনার সরকার। দেশের এমন দুরবস্থার মধ্যেই দেশের হাল ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগের আমলের পাহাড়সম দুর্নীতি, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট-পাচার, আর্থিক খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন কারণে খাদের কিনারে চলে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে ধরবে কীভাবে? অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে কি এমন জাদুর কাঠি আছে যে, দ্রুত তার সমাধান এনে দেবে? তবে হ্যাঁ, এ সময় এগিয়ে আসে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। ধীরে ধীরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দুই হাত মেলে ধরায় অর্থনীতি চাঙ্গা না হলেও ধস থমকে দাঁড়ায়। অর্থনীতির গতি ফেরাতে শক্ত হাতে হাল ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। চালু করেন সুশাসন। বন্ধ হয়ে যায় অর্থ পাচার। আর এতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে অর্থনীতির অন্যতম সূচক রেমিট্যান্স। এ ছাড়া আরেক সূচক রপ্তানি খাতও সঙ্গ দেয় এতে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে: পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে ব্যবধান বা বাণিজ্য ঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি আয়ের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ মাসে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.১ শতাংশ, আর আমদানি কমেছে ১.২ শতাংশ। আমদানি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার কমে যাওয়া এবং রপ্তানি আয় প্রায় ১.৬৬ বিলিয়ন বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য হিসেবে পরিচিত ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি ৪৯.৫ শতাংশ কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ব্যালান্স অব পেমেন্টের সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২.৪৩ বিলিয়ন ডলার কম।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘাটতি হ্রাস হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এই অর্জনে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। কারণ, বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের মতো উপাদানগুলোতে আমরা তেমন প্রবৃদ্ধি দেখিনি। তাছাড়া এই ঘাটতি কমেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় থেকে। এটা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়াবে না।
আর্থিক হিসাবে ঘাটতি কমেছে: ওভারডিউ রপ্তানি আয় দেশে আসায় এবং স্বল্পমেয়াদি লোনের বহিঃপ্রবাহ কমার কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আর্থিক হিসাবে ঘাটতিও কমেছে। এ সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮১১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতি প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ডলার কমেছে।
ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স: এদিকে ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভর করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের অন্যতম উপাদান চলতি হিসাবে ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪ শতাংশ কমেছে। নভেম্বর শেষে দেশের চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২২৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১১.১৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮.৮১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ শতাংশ। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূলত রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। এই ঘাটতিটা কমিয়ে আনা পুরো অর্থনীতির জন্য খুব ভালো দিক।
রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে: অর্থনীতির আলোচিত সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) হিসাবে ৮ই জানুয়ারি বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ২১.৬৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৬.৫৭ বিলিয়ন ডলার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ নেমেছে ২০ বিলিয়ন ডলারে। গ্রস হিসাবে দাঁড়িয়েছে ২৪.৯ বিলিয়ন ডলারে। নভেম্বরের শেষদিকে দেশের নিট রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি ডলার ও গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৯৭ কোটি ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ ডিসেম্বরে দেশের নিট রিজার্ভ বেড়েছে ২৬২ কোটি ডলার ও গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। গত ৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের সময় ঋণ ছিল ৩৭০ কোটি ডলারের উপরে। এর মধ্যে গত ৫ মাসে ৩৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভ বেড়েছে। রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ায় সূচক বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন, প্রতি বারই আক’ুর বিল শোধের পর রিজার্ভ কমে আসে। তবে উদ্বেগের কিছু নেই। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো। রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। রিজার্ভ আবার বাড়বে।
রপ্তানি আয়: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলেছে, এই ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
মূল্যস্ফীতি চ্যালেঞ্জ: বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জের একটি মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চমূল্যে স্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এক বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের মানুষ। কিন্তু মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৩৪ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১০.৮৯ শতাংশ। আর খাদ্যে হয়েছে ১১.৯২ শতাংশ। গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪.১০ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল সাড়ে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ১২ মাসের মধ্যে প্রথম আট মাস মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশের ঘরে। শেষ চার মাস ৮ শতাংশের উপরে ছিল এই হার।

mzamin

Wednesday, September 25, 2024

বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ভিআইপি সুবিধা পাবেন

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশের বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নয়ন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। আরেকটি সেবা আমরা চালু করতে যাচ্ছি- বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে আসলে ভিআইপি সেবা পাবেন। একজন ভিআইপি এয়ারপোর্টে যেসব সুবিধা পান, লাউঞ্জ ব্যবহার ছাড়া আমরা সব সুবিধাই তাদের দেবো। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আসিফ নজরুল বলেন, একজন ভিআইপি যখন এয়ারপোর্টে যান তখন তার লাগেজ নিয়ে একজন সঙ্গে থাকেন, চেক-ইন করার সময় সঙ্গে একজন থাকেন, ইমিগ্রেশন করার সময় পাশে একজন থাকেন। প্রাথমিকভাবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের টার্গেট করেছি। ইউরোপের কর্মীদের পরে করবো। প্রথম স্তরে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া এবং ফেরত আসা একজন কর্মী ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাবেন। লাউঞ্জ ব্যবহার করতে দেয়ার বিষয়ে আমরা পরে চিন্তা করছি, এটা অনেক পরের কাজ। আগামী দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে আমরা এটা করবো, বিমানবন্দরে যাওয়ার পর একজন কর্মীর যে অসহায় অবস্থা তৈরি হয় সেটি দূর করবো।

তিনি বলেন, কর্মী কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, চেকইন কীভাবে করবেন, ফর্ম পূরণ করা লাগলে কীভাবে করবেন, ইমিগ্রেশনে কোনো কাগজ চাইলে কীভাবে সেটি করবেন এসব কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। দরকার পড়লে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করবো। আমরা এটি দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবো। একজন প্রবাসী যেন কোনো অবস্থাতেই এয়ারপোর্টে হয়রানির শিকার না হন, অপমানিত বোধ না করেন এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। এটা আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করে ছাড়বো।

উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যেসব প্রবাসীরা জীবন এবং জীবিকার রিক্স নিয়ে বিদেশে জেল খেটেছেন তাদের এই সেক্রিফাইস আমরা সবাই মনে রেখেছি। তাই আজকে তাদের বিষয়ে আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫৭ জন যারা ফেরত এসেছেন তাদের বাইরে আমরা মোট ৮৭ জনকে এনলিস্ট করেছি। এই ৮৭ জনকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসী কল্যাণে যেসব স্কিম আছে তার অধীনে সাহায্যের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কল্যাণ বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চাকরি কিংবা ব্যবসা করাসহ অন্য যেকোনো দেশে, যেখানে তারা যেতে পারবেন সে ব্যবস্থা করা হবে। মোট কথা, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে আগে শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধের জন্য প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারতেন। এখন থেকে প্রবাসীরা এই ব্যাংকে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে রেমিট্যান্সও পাঠাতে পারবে, এ ব্যবস্থা করেছি। এই বিষয়ে বেসরকারি সিটি ব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের এতদিন যে ঋণ দিতো, তাদের সঙ্গে দেশের বৃহৎ আরও ১২ ব্যাংকও প্রবাসীদের ঋণ দেবে। এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। প্রবাসীদের অনেক বেশি ঋণের প্রয়োজন আছে। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি ঋণ দেয়ার জন্য এক ধরনের গ্যারান্টির প্রয়োজন আছে, যেটা বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি, খুব দ্রুত এই ক্রেডিট গ্যারান্টির বিষয়ে সমাধান হবে। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আরও কোনো শাখা না খুলে আমরা সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে প্রস্তাবনা দিয়েছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেসব জায়গায় সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক আছে, সেখানে গ্রাহকরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা পাবে।

mzamin

Sunday, November 4, 2018

আমিরাতের শ্রমবাজার ছয় বছর ধরে বন্ধ, খুলবে কবে? by সাদ্দিফ অভি

গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া একরকম বন্ধ রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বন্ধ থাকা এ শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে এ বছরের ১৮ এপ্রিল দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই এ বাজার পুরোপুরি খুলে যাবে। কিন্তু সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এই বাজারে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমিরাতের বাজার পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করতে এমাসে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাবেন তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করে ভিসা বন্ধ রেখেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় একটি ভিসা ও কনসুলার অফিস খুলে দেশটি। অফিসটি প্রতিদিন ৬০০ জনকে ভিসা দিতে সক্ষম। তখন সবাই ধারণা করেছিল— তিন বছর পর ফের নতুন করে বড় আকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটিতে। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার এবং প্রতিমাসে ১২ হাজার ভিসা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও, পরবর্তী বছরের (২০১৬) জানুয়ারি-মার্চ মেয়াদে আরব আমিরাতে লোক পাঠানোর চিত্র ছিল অত্যন্ত করুণ। ওই তিন মাসে সেদেশে লোক গেছে মাত্র ২ হাজার ১৭৩ জন। তবে ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে গিয়েছিল ৭ হাজার ১৬৬ জন।
এরপর আবারও কূটনৈতিক চ্যানেলে ব্যাপক চেষ্টার ফলে ব্যক্তিপর্যায়ে চাহিদার ভিত্তিতে ১৯ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহের কথা জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, যার ফলশ্রুতিতে এ বছরের ১৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। দেশটির মানবসম্পদ এবং এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নাসের আল হামলি’র উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি সাইফ আহমেদ আল সুআইদি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়। এই সমঝোতা স্বাক্ষরের পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি গঠন করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, এখনও পর্যন্ত সেদেশে কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সমঝোতা স্বাক্ষরের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের একটি অন্যতম শ্রমবাজার।  সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের নিয়মনীতি অনুসরণ করে কর্মী পাঠাতে হবে। সুষ্ঠু অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষকসহ প্রফেশনালদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।’
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, এ বছরের এপ্রিলের পর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমিরাতে কর্মী গেছেন মাত্র ১ হাজার ৪০৪ জন। প্রতিমাসে গড়ে যাচ্ছেন ২০০ জন, অথচ শ্রমবাজার খোলা থাকার সময় সর্বোচ্চ শ্রমিক গিয়েছে ২০০৮ সালে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন।   
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের আগস্ট থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটি নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ সরকারের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও গত ছয় বছরেও পুরোপুরি খোলেনি আমিরাতের শ্রমবাজার। নিরাপত্তা ও বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়ে দুদেশ চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রেখেছে আমিরাত সরকার। বাংলাদেশিদের সম্পর্কে আমিরাতের নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা করেও মেলেনি কোনও সুসংবাদ। পরবর্তীতে, ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ দুবাইকে প্রথম দফায় ভোট না দেওয়ার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এটি সহজভাবে নেয়নি আরব আমিরাত। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সিদ্ধান্ত হয় প্রথম দফায় রাশিয়াকে ভোট দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে আমিরাতকে সমর্থন দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে সমঝোতা স্বাক্ষরের মুহূর্ত থেকে কর্মী প্রেরণ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি। সমঝোতা স্মারকটিতে বাংলাদেশ থেকে ১৯টি ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগের বিধান, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়োগ চুক্তির বিধান ও পৃথক একটি বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, নভেম্বর মাসে আমিরাতের বাজার পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করতে সেদেশে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন— মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও প্রশাসন ) আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মরনকুমার চক্রবর্তী ও ডিজিএম আরিফুল হক।
আমিরাতের শ্রমবাজার অফিসিয়ালি বন্ধ নয় দাবি করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমিরাতের বাজারে বর্তমানে আমাদের অনেক কর্মী আছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মীদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে মনে হয় না। আমাদের কর্মীরা মূলত কনস্ট্রাকশন কাজে ওইসব দেশে যায়। আইসিটিসহ অন্যান্য সেক্টরে চাহিদা বেশি ভারতীয়দের। একটা রাষ্ট্র কত আর বিল্ডিং বানাবে? একসময় তো প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। আমার ধারণা, আধ্যাত্মিক কিছু না ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মীর চাহিদা বাড়বে না।’
অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘দুবাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা যাবো। আরব আমিরাতের সরকারের সঙ্গে আমাদের এই মুহূর্তে দর কষাকষির কিছু নেই। কারণ, যখন সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, যা আলোচনা করার তা হয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে মূলত আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি, ব্যবসায়ী এবং কর্মীদের কাছ থেকে ধারণা নেবো আমিরাতের বাজার সম্পর্কে। কারণ, তারা এ সম্পর্কে ভালো জানেন। আমরা তাদের পরামর্শ নেবো, কোন সেক্টরে কীভাবে কী করা যায়। আমরা আমাদের লোকজনের সঙ্গে বেশি আলাপ করবো এবার। তারা কী বলছে, তাদের কথা শুনে দেখবো।’
তবে আমিরাতের বাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমিরাতের বাজার অনেক দিন ধরেই বন্ধ। আরব আমিরাতে কর্মীর চাহিদা এত বেশি যে, আমি দুবাই গিয়ে দেখেছি অন্য দেশের পাসপোর্ট করে বিভিন্ন জায়গায় কাজ নিচ্ছে বাঙালিরা। আরব আমিরাতে আমাদের প্রচুর লোকের চাহিদা আছে। আমি মনে করি, আমাদের স্কিলড লোক তৈরি করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে লোক পাঠানোর চিন্তা না করে আমাদের দক্ষ লোক তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।  একলাখ অদক্ষ লোক গেলে যে রেমিট্যান্স আসবে,  ১০ হাজার দক্ষ লোক গেলে তার চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। কাজেই আমাদের সংখ্যার দিকে না যেয়ে, মানের দিকে নজর দেওয়া উচিত।’

Monday, December 4, 2017

মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় গিয়েও বিপাকে শ্রমিকেরা

‘কলিং ভিসায়’ মালয়েশিয়া যাওয়ার পরও কোম্পানি থেকে বেতন পাচ্ছেন না সাতক্ষীরার যুবক ইসমাইল হোসেন। উল্টো বেতন, ওভারটাইম চাওয়ার অপরাধে কোম্পানির সুপারভাইজারেরা তাকেসহ কয়েক শ্রমিককে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এক শ্রমিক জহুরবারুর কোম্পানি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে এমন অভিযোগ করেন জহুরবারুর ওই যুবক। তার অভিযোগ, তাদের কোম্পানির মতো বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কলিং ভিসায় আসা আরো অনেক কোম্পানি ঠিকমতো বেতন, ওভারটাইম দিচ্ছে না। রয়েছে আবাসন সমস্যাও। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে অদ্যাবধি কোনো শ্রমিক কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ করেননি। যদিও প্রতারিত যুবক ইসমাইল তার কোম্পানির সমস্যা সমাধানে হাইকমিশনারের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে যুবকটি হাইকমিশনারের কাছে অভিযোগ না দিয়ে হঠাৎ হাওয়া হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম মুকুল এ প্রসঙ্গে জানান, নতুন কলিংয়ে এসে কোনো শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না, বেতন পাচ্ছেন না, এটা আমি মোটেও বিশ্বাস করতে পারছি না। এর পরও আমি জহুরবারুর টিএলটি কোম্পানিতে খোঁজ নিয়ে জানব ঘটনার পেছনে কী রয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে ওই কোম্পানির একজন শ্রমিকের সমস্যার জন্য মালিককে ৩২ হাজার রিংগিত জরিমানা গুনতে হবে। চুক্তির সময় এমওইউতে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। যুবকের অভিযোগ তিনিসহ মোট ২৬ জন শ্রমিক কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ার টিএলটি কোম্পানিতে এসেছিলেন আড়াই মাস আগে। এরপর কাজ শুরু করেন।
আড়াই মাস কাজ করার পরও কোম্পানি তাদের এক দিনেরও বেতন দিচ্ছে না। কোম্পানি থেকে বেরও হতে দিচ্ছে না। বেতন না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে সুপারভাইজারেরা জানান, সময় হলে বেতন পাবে তোমরা। এমন কথার প্রতিবাদ করলে তখন তাদের মারধর করা হয়। ইসমাইলের দাবিÑ বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ শ্রমিকের মধ্যে একজন কোম্পানি থেকেই কয়েক দিন আগে পালিয়ে যান। তিনি বলেন, জমিজমা বিক্রি আর ধারদেনা করে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে এ দেশে এসেছি। যদি বেতনই না পাই, তাহলে কেন কাজ করব? তার বক্তব্যÑ এ অবস্থা চলতে থাকলে অন্য শ্রমিকেরাও পালিয়ে যাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকার বনানীর একটি অফিস থেকে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। কুয়ালা লামপুর শিপাং এলাকার বাসিন্দা মিঠু এ প্রতিবেদককে জানান, মালয়েশিয়া সরকার হঠাৎ করেই কলিং ভিসা কমিয়ে দিয়েছে। কারণ কী তা জানতে পারিনি। তবে ইদানীং কলিংয়ে আসা শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই নানা সমস্যায় আছেন বলে শুনেছি। এর মধ্যে আবাসন সমস্যা বেশি। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে সোর্স কান্ট্রির মর্যাদা দিয়ে শ্রমিক আমদানি শুরু করে। এর পর থেকেই কলিং ভিসায় প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বাকি চাহিদাপত্র যাচাই শেষে শিগগিরই আরো কয়েক হাজার শ্রমিক দেশটিতে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার নেতারা জানান। জানা গেছে নতুন কলিং পদ্ধতিতে শ্রমিক যাওয়ার পর বেশির ভাগ শ্রমিকের থাকার সমস্যা হচ্ছে। কোনো কোনো কোম্পানি লেভির নামে শ্রমিকদের বেতন থেকেই টাকা কেটে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, আগে যে পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় লোক আসত তখন কোনো সিস্টেম মানা হতো না। এখন আর আগের সেই দিন নেই। নতুন সিস্টেমে এ দেশে যেসব শ্রমিক আসছেন তাদের বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো শ্রমিক সমস্যায় আছেনÑ এমন লিখিত অভিযোগ যায় তাহলে ওই কোম্পানিরতো বারোটা বেজে যাবে! কারণ এ দেশের লেবার ল অনুযায়ী কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে একজন শ্রমিকের সমস্যার জন্য ৩২ হাজার রিংগিত জরিমানা গুনতে হবে। এরপর আরো শাস্তি তো আছেই।

Monday, January 18, 2010

দুবাইয়ে নির্মাণশ্রমিকদের দুঃসময় -প্রবাসী শ্রমিক by নিমাই সরকার

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার নির্মাণকর্মী ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ছুটে এসেছিলেন দুবাইতে। শুধু নির্মাণকর্মী কেন, শ্রমিক ও প্রকৌশলীসহ নানা পেশার মানুষ জীবিকার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইকে বেছে নেন। তাঁরা সোনার হরিণ খুঁজছিলেন, পেয়েও ছিলেন। তবে সেই সোনার হরিণ বোধ হয় তাঁদের হাতছাড়া হয়ে যায় এখন।
বিশ্বমন্দার প্রভাব এসে লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সাত আরবশাহির এই সংযুক্ত দেশটির প্রধান দুই রাজ্য আবুধাবি ও দুবাই। রাজধানীর গর্ব নেই আবুধাবির, তবে আছে প্রচুর তেল। আর দুবাই গড়ে উঠেছে এর পর্যটন আর ব্যবসায়ের কেন্দ্র হিসেবে। কিন্তু সম্প্রতি দুবাই পড়েছে বিপাকে। দুবাইয়ের শিল্প-কারখানা আর চোখ ধাঁধানো বিশাল সব অবকাঠামো ও নির্মাণকাজের টাকা জোগাড় করতে পারছে না নাখিল, ইমার ও ডামাকের মতো কোম্পানিগুলো। দুবাইয়ের মুখ্য বিনিয়োগকারী সংস্থা দুবাই ওয়ার্ল্ড ঋণের দায়ে জর্জরিত।
যে যুবক তাঁর ভিটেমাটি, বিত্ত-বেসাত বিক্রি করে দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাঁর চাকরি আজ হুমকির মুখে। এতটুকু বললে বোধ হয় সবটা বলা হবে না। এরই মধ্যে অনেকে রওনা দিচ্ছেন ঢাকার পথে। ‘টাকা দেন দুবাই যাব’—বলে যে তরুণের চাপ ছিল তাঁর অভিভাবকের মস্তিষ্কে, তিনি দুবাইতে এসেছিলেন। দুর্ভাগ্য—তাঁর স্বপ্নসাধ পূরণ হওয়ার আগেই তাঁকে ফিরতে হচ্ছে দেশে। বোনের বিয়ে দেওয়া, বন্ধকী জমি উদ্ধার, সুদের টাকা পরিশোধ—এসবই একটি ফ্রেমের মধ্যে—একটু নিয়ন্ত্রণে এসেছে যে তরুণের, তিনি বোধ হয় হিসাবটা মেলাতে পারছেন না। যে যুবক তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর হারগাছি বিক্রি করে এসেছিলেন, তাঁকে এই সেদিনও শুনিয়েছেন—আর তো কটা দিন। শুধু তাঁর জন্যই নয়, প্রিয় বোনের জন্যও পাঠাবেন প্যাঁচের একটি চেইন।
মা-বাবার চিকিত্সা—এসবও বেঁধে থাকে তাঁর দুবাইওয়ালা ছেলের পাঠানো টাকার অপেক্ষায়। একজন ভাই, একজন বাবা, একজন ছেলে—সবার বেলাতেই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে আছে ভালোবাসার টান, আছে করণীয় দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা এটাই—তাঁদের এই করণীয়টুকু শেষ হচ্ছে না এ বেলায়।
কম কথা নয়! বাংলাদেশ এ বছর ১০ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স সংগ্রহ করেছে। আর এর এক বিলিয়ন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দুবাই থেকে হবে এর অর্ধেক। অথচ সেই জায়গায় তাঁরা এখন তাঁদের চাকরি সামলাতে পারছেন না। দলে দলে ফিরে আসতে হচ্ছে বাংলাদেশে। ২০০৭ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের লোকসংখ্যা ৬৪ লাখ এবং এর ৫৫ লাখই বিদেশি। আর তাঁদের মধ্যে ৩০ লাখের বেশি আমিরাতের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মাণকর্মী ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এখানে বাংলাদেশের সংখ্যা সাত লাখ। বলা যায়, দেশের রেমিটেন্সে তাঁদের অবদান উপেক্ষার নয়।
কান টানলে মাথা আসে—এমনি করে অর্থলগ্নিকারী থেকে শুরু করে যে ধাক্কা, তা আঘাত করে নির্মাণকর্মীকে-দেশকে-তাঁর পরিবারকে। দুবাইয়ের যে বৃহত্ প্রকল্প ‘পাম জুমেরা’ খেজুরগাছের মতো ডাল বিস্তার করে আছে, সেটা দুবাই ওয়ার্ল্ডের তৈরি। কী আকর্ষণ এর! হলিউডের তারকা ব্রাড পিট পর্যন্ত বাড়ির বায়না দিয়ে বসে আছেন। এমনিভাবে আরেক প্রকল্প—‘পাম জেবেল আলি’। এতেও ওই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। লাখ লাখ নির্মাণকর্মীর কাজের সংস্থান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। শ্রমিক, মিস্ত্রি, বিদ্যুত্কর্মী, যন্ত্রকর্মী—এদের ধরে অনেকের সমাহার। তার ওপর আছে নির্মাণ প্রকৌশলী, উপদেষ্টা প্রকৌশলী, স্থপতি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থ আর হিসাববিজ্ঞানী। দুবাই ওয়ার্ল্ডেরও টাকা পেতে অসুবিধা হয়নি। মুক্তহস্তে টাকার জোগান দিয়েছে রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি এবং লয়েডস ব্যাংকিং গোষ্ঠী। দুবাই ওয়ার্ল্ডের অর্থ ও প্রভাব শেষ হওয়ার নয়—এমন ধারণাই বদ্ধমূল সেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে, যাঁরা এতদিন মুক্তহস্তে টাকা জুগিয়েছেন সংস্থাটিকে। এই সেদিনও দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুম জানিয়েছিলেন, দুবাই ওয়ার্ল্ড প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলে তার জিম্মা নেবে দুবাই সরকার। সম্প্রতি সেই দুবাইশাহিও বললেন বিনিয়োগকারীদের, দুবাই ওয়ার্ল্ডকে বেশি চাপ না দিতে। কারণটা এমন হতে পারে, কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগসাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তার করতে গিয়ে দুবাই ওয়ার্ল্ড পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি টাকার দেনায় ডুবে গেছে। আবার আবুধাবি সরকারের তরফে ঘোষণা—এ ধার মেটানোর বাধ্যবাধকতা তার নেই। যদিও বা কবে তা হবে অবস্থাবিশেষে। রয়েল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক প্রভৃতি লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থা দাঁড়াল আরও জটিল। কারণ, সহসাই আল মাকতুম বলতে শুরু করে দিলেন—দুবাই ওয়ার্ল্ডের করা ঋণ শোধের দায়িত্ব দুবাই ওয়ার্ল্ডেরই, সরকারের নয়। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে আবুধাবি সরকার দুবাই কর্তৃপক্ষকে এক হাজার কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে, যার ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয় হবে দুবাই ওয়ার্ল্ডের ঋণ পরিশোধে।
দুবাই প্রকল্পগুলো এখন থেমে গেছে মঞ্চে কোনো নৃত্যশিল্পীর বরফ হয়ে যাওয়া দৃশ্যের মতোই। এখনো পাম জুমেরার বেশ কিছু অংশ নির্মাণের অধীন। পাম জেবেল আলি করার জন্য কেবল পাথর ফেলা হয়েছে সমুদ্রে। অন্যদিকে সব মিলিয়ে যেসব প্রকল্পের ৫০ শতাংশেরও কাজ হয়নি, তা স্থগিত রাখতে বলেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। আর যেসব প্রকল্পের ৫০ শতাংশ বা তার ওপরে সম্পন্ন হয়েছে, তা চালু রাখতে বলেছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র এটাই—সেসবের অর্থও নেই হাতে এখন। নাখিল যে ইজারা নিয়েছে প্রকল্প করার জন্য, তার ওপর সমর্থন নেই কোনো লগ্নিকারের। গোড়ায় জল না দিলে যে পাতাগুলো ঝরে পড়ে শুকনো হয়ে মর্মর শব্দে, নির্মাণকর্মীদের বেলায় এমন দৃষ্টান্ত লাগসই। এরই বাস্তবতায় ফেরত আসছেন হাজার হাজার নির্মাণকর্মী তাঁর দেশে। কথা হচ্ছে, তাঁদের উপায় কী হবে এখন!
স্বদেশে ফেরত আসা নির্মাণকর্মীদের নিয়ে একটি চিত্রকল্প দাঁড় করা যায়। কেউবা দেশে ফিরে টাকা জোগাড় করে আবার ছুটবেন অন্য কোনোখানে। কিংবা এতদিনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কেউবা শুরু করবেন ছোট কোনো ব্যবসা। কিন্তু এটা সম্ভব হবে না সবার দ্বারা, সে কথা সহজেই বলা যায়। পত্রিকায় প্রকাশ, আগামী জুলাই থেকে সরকার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রমোটিং ডিসেন্ট ওয়ার্ক থ্রো মাইগ্রেশন’ নামের একটি প্রকল্প গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদেশফেরত শ্রমিকেরা মনোবল ফিরে পাবেন নিঃসন্দেহে। এ ছাড়া সরকারের আছে ৩০০ কোটি টাকার এটি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল। এরও সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন। আবার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক তাঁদের সামনে খুলতে পারে নতুন কোনো সম্ভাবনার দ্বার—সে আশাও নিরর্থক নয়।
নিমাই সরকার: প্রকৌশলী, আবুধাবি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে কর্মরত।