Tuesday, January 14, 2014

ইতিহাস কথা বলে, ছবি কথা বলে....

পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের আধ্যাত্বিক সাধক গাউসে মোখতার হযরতুল আল্লামা শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী (রহ:) এর দরবারে গিয়েছিলেন। এটি তৎকালীন ছবি আগামী ১৯ ফেব্র“য়ারী কুতুবদিয়ার কুতুব শরিফ দরবারে তাঁহার ১৫তম বার্ষিক ফাতেহা শরিফ অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা সকলে আমন্ত্রীত।

এইচ এম এহসান
সচিব
কুতুব শরিফ দরবার মিডিয়া সেল

মিসরে গণভোটবিরোধীদের ব্যাপক ধরপাকড়

নতুন সংবিধান প্রশ্নে আজ সোমবার মিসরে গণভোট শুরু হয়েছে। দু'দিনব্যাপী এ গণভোট চলবে কাল পর্যন্ত। এ নির্বাচন নতুন সংবিধান পাসসহ সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ও সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের বৈধতার পরীক্ষা বলেও মনে করছে দেশটির সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দু'দিন আগেই জনগণ চাইলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সিসি। খবর এপি ও আলজাজিরা অনলাইনের। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর এ নিয়ে দেশটিতে সংবিধান প্রশ্নে দ্বিতীয় দফা গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মিসরের পাঁচ কোটি ২০ লাখ মানুষ ভোট দেবে। এ সংবিধানের পক্ষে কত শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে তার ওপর বর্তমান সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের বৈধতার বিষয়টি জড়িত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মিসরে নির্বাচিত সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই গণভোটই হবে প্রথম বড় পদক্ষেপ। গণভোটে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে পাস হলেই এটি আইনে পরিণত হবে। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কত শতাংশ জনগণ হ্যাঁ ভোট দিচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন কি-না। এদিকে দেশটিতে সংবিধানবিরোধীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী প্রায় এক ডজন লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সংবিধানবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন এবং জনগণকে 'না' ভোট দিতে কিংবা ভোট না দিতে উৎসাহিত করছেন। এ গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, 'না' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। 'না' ভোট দেওয়ার জন্য কেউ আহ্বান জানাতেই পারেন। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

সরকার উৎখাতে ‘ব্যাংকক অচল’ কর্মসূচি শুরু

থাইল্যান্ডে গতকাল ‘ব্যাংকক অচল’ কর্মসূচি চলার
সময় বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর আসোক এলাকায়
কয়েকটি রাস্তার সংযোগস্থল অবরোধ করেন। এ
সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দেন তাঁরা। ছবি: এএফপি
থাইল্যান্ডে সরকার উৎখাত এবং আগামী ২ ফেব্রুয়ারির আগাম নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে ‘ব্যাংকক অচল’ কর্মসূচি শুরু করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা গতকাল সোমবার রাজধানী ব্যাংককের কয়েকটি এলাকার রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করে সরকার। বিক্ষোভকারীরা রাস্তাগুলোতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কয়েকটি মোড়ে অবস্থান নেন।
তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে একটি অনির্বাচিত ‘গণপরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, পরিষদটি নতুন নির্বাচনের আগে সিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করতে সংস্কার করবে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গতকাল জাতীয় পতাকা হাতে ব্যাংককের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁরা এসব স্থানে মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি রাতে অবস্থানের জন্য এরই মধ্যে তাঁবু খাটিয়েছেন। ‘ব্যাংকক অচল’ নামে এ কর্মসূচি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সফলতা পেয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কর্মসূচির কারণে মধ্য ব্যাংককের দোকানপাট ও হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। অনেক বাসিন্দা খাদ্য ও পানি মজুত করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার শহর ব্যাংকককে পুরো অচল করতে সক্ষম হননি। অন্য এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চলছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাংককে ২০ হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েনের কথা ছিল। অবশ্য, গতকাল বিক্ষোভের সময় পুলিশ বা সেনাসদস্যদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সাবেক থাই কূটনীতিক এবং জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পাভিন চাচাভালপোংপুন বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।তাঁরা অনেক দূর পর্যন্ত চলে এসেছেন।’ সরকার বলেছে, আগামী বুধবার একটি বৈঠকে অংশ নিতে তারা সব পক্ষকে আমন্ত্রণ জানাবে। বৈঠকে ২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কমপক্ষে এক বছর পেছানোর ব্যাপারে বিক্ষোভকারীরা যে দাবি তুলেছেন, তাতে সরকার রাজি হবে না বলেই মনে হচ্ছে। থাইল্যান্ডে কয়েক বছর ধরে চলে আসা রাজনৈতিক সংকটের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে চলমান বিক্ষোভ। এ বিক্ষোভ শুরু হয় একটি ব্যর্থ সাধারণ ক্ষমার বিল নিয়ে। নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের দেশে ফেরার পথ সুগম করতে ওই বিল পার্লামেন্টে তোলা হয় বলে মনে করা হয়। থাকসিন অতীতে একটি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হন। দেশে ফিরলে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জের ধরেই থাকসিনের বোন ইংলাক পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা ইংলাককে তাঁর ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার হাতের পুতুল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। ২০০৬ সালে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত থাকসিন স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। থাকসিনপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের মূল ভিত্তি হচ্ছে দেশটির গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। তারা গত চারটি নির্বাচনেই জয়লাভ করেছে। তবে মূলত মধ্য ও উচ্চবিত্ত শ্রেণী থেকে আসা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই দলগুলোর লোককে তুষ্ট করার নীতি দেশে একটি ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে। এএফপি ও বিবিসি।

অবরোধে অচল ব্যাংকক

রাজধানী ব্যাংকক অচল করে দেওয়ার আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে থাইল্যান্ডের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। গতকাল সোমবার তারা ব্যাংককের প্রধান প্রধান সড়ক দখলে নেয়। এতে অচল হয়ে পড়ে ব্যাংকক। তবে বিরোধীদের এ কার্যক্রমে কোনো বাধা দেয়নি নিরাপত্তা বাহিনী। আগামী ২ ফেব্রুয়ারির আগাম নির্বাচনের আগে সরকারকে উৎখাত করতে এ কর্মসূচি পালন করছে তারা। খবর এএফপি ও রয়টার্স অনলাইনের। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করা ছাড়াও রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়াসহ প্রধান প্রধান মোড় দখলে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস রাজধানীতে। বিক্ষোভ আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। অচল হয়ে পড়েছে কর্মচঞ্চল ব্যাংকক। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন করলেও বিক্ষোভকারীরা বিনা বাধাতেই কর্মসূচি পালন করছে। কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের ওপর কোনো বাধা আসেনি। রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। অনেকে নাচ- গানও করছে। এ সময় তারা 'সরকারকে যেতে হবে, হতে হবে সংস্কার'_ এ ধরনের স্লোগান দেয়। সরকারবিরোধীরা বিভিন্ন রাস্তার সাতটি প্রধান সংযোগস্থল বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। তারা রাজধানী অচলের কর্মসূচির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ঘেরাও করা এবং সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
বিক্ষোভকারীদের নেতা সুথেপ থাউগসুবান এ আন্দোলনকে 'জনগণের বিপ্লব' বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রায় দেড় লাখ লোক এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে জানান তিনি। বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা বিক্ষোভকারীদের নেতা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বুধবার বৈঠকে ডেকেছেন। নির্বাচন কমিশনের ভোট পেছানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক ডাকেন তিনি। তবে বিক্ষোভকারীরা এ বৈঠকে যোগ দেবে কি-না, এ নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রোববার সুথেপ থাউগসুবান সরকারের সঙ্গে কোনো আপসের কথা নাকচ করলেও গৃহযুদ্ধের হুমকি দেখা দিয়ে আন্দোলন ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাবেন বলে জানান।
এদিকে, গতকাল রাতে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলাকালে গুলি চালায় এক অজ্ঞাত বন্দুকধারী। এতে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, গতকাল পৃথক ঘটনায় বিরোধী দলের সদর দফতরে গুলি চালিয়েছে আরেক বন্দুকধারী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

প্রেসিডেন্টের পরকীয়ার খবরের পর ফার্স্ট লেডি হাসপাতালে

ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার
ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলারকে গত শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বামী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের সঙ্গে এক অভিনেত্রীর পরকীয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ খবর জানা গেল। ফার্স্ট লেডির কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘বিশ্রামের জন্য’ ত্রিয়াবেলারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিনোদনবিষয়ক জনপ্রিয় সাময়িকী ক্লোজার প্রেসিডেন্ট ওঁলাদের সঙ্গে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী জুলি গায়েতের পরকীয়ার খবর ফাঁস করে।
ওঁলাদ সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাময়িকীটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। প্রেসিডেন্টের এ সম্পর্কের কারণে দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। পেশায় সাংবাদিক ভ্যালেরি ত্রিয়াবেলার ফার্স্ট লেডির মর্যাদা ভোগ করলেও তাঁকে এখানো আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেননি ওলাঁদ। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করেন। ত্রিয়াবেলারের আগে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা সেগোলেন ঘয়ালের সঙ্গে দীর্ঘদিন একত্রে বাস করতেন ওলাঁদ। সেগোলেন-ওলাঁদ জুটির চার সন্তান রয়েছে। বিবিসি।

অ্যারিয়েল শ্যারন সমাহিত

অ্যারিয়েল শ্যারন
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারনকে গতকাল সোমবার নেগেভ মরুভূমিতে তাঁর খামারবাড়িতে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন দেশি-বিদেশি নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় শ্যারনের প্রশংসা করে বক্তৃতা করেন অনেকে। ২০ জনের বিদেশি প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন,
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রমুখ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্যারনকে ‘ইহুদিদের অন্যতম সেরা সামরিক কমান্ডার’ বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ও ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে ‘অদম্য’ এক নেতা ছিলেন শ্যারন। ইসরায়েলের জনগণের কাছে নায়ক হলেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব শ্যারন ‘দ্য বুলডোজার’ নামে পরিচিত হন। দীর্ঘ আট বছর কোমায় (গভীরভাবে সংজ্ঞাহীন) থাকা শ্যারন (৮৫) গত শনিবার মারা যান। তিনি ২০০৬ সালে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা অ্যারিয়েল শ্যারন ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এএফপি।

উড়ন্ত পাখিখেকো মাছ

টাইগার ফিশের তীক্ষ দাঁত
বিশ্বে বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখিখেকো মাছ আছে। এরা পানিতে নামা কিংবা কোনো জলাশয়ের কিনারে বসে থাকা ছোট পাখি শিকার করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই প্রথম দেখেছেন, আফ্রিকার টাইগার ফিশ নামে স্বাদু পানির মাছ পানিঘেঁষে উড়ে যাওয়া পাখিও শিকার করে। গবেষকেরা দেখেছেন, টাইগার ফিশ পানি থেকে শূন্যে লাফিয়ে উঠে পাখি ধরে খায়। এই মাছগুলোর ছুরির মতো লম্বা আর ধারালো দাঁত আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো প্রদেশের একটি কৃত্রিম হ্রদে টাইগার ফিশের উড্ডীন পাখি শিকারের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেছেন একদল গবেষক। দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ওই গবেষক দলের গবেষণা প্রতিবেদন ফিশ বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক নিকো স্মিট বলেন, টাইগার ফিশ আফ্রিকার স্বাদু পানির মাছের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজাতির একটি। এরা দেখতেও ভারি সুন্দর। এদের লেজ হয় গাঢ় লাল।
টাইগার ফিশ সাধারণত ভোরে ও সন্ধ্যায় অন্য ছোট মাছ শিকার করে। আর দিনের বেলায় গভীর পানিতে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। তবে গ্রীষ্মের সকালে এরা অন্য রকম আচরণ করে। এ সময় প্রায়ই লাফ দিয়ে পানির অনেক ওপরে ওঠে। কখনো কখনো পানির ওপর দিয়ে উড়ে চলা পাখিদের খপ করে কামড়ে ধরে। টাইগার ফিশের এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে গবেষকেরা ‘যারপরনাই বিস্মিত’ বলে জানান স্মিট। তিনি বলেন, পানিতে নামা বা জলাশয়ের কিনারে বসা পাখিদের শিকার করে, এমন অনেক প্রজাতির মাছের কথা আমরা এত দিন জেনে এসেছি। এই প্রথম দেখা মিলল উড়ন্ত পাখি শিকার করা বিরল প্রজাতির টাইগার ফিশের। বিবিসি।

পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়ন ২০ জানুয়ারি থেকে

(৪২০ কোটি ডলার ফেরত পাবে ইরান) ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সম্পাদিত অন্তর্বর্তী চুক্তিটি আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোববার এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর : রয়টার্স ও বিবিসি অনলাইন। নভেম্বরের চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৭০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে রেহাই পাবে। কয়েক ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রথমদিন থেকেই রেহাই পাবে ইরান। কিছু নিষেধাজ্ঞা চুক্তির শেষদিন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানি রাজস্ব (৪২০ কোটি ডলার) দেশে নিতে পারবে তেহরান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানতে গত নভেম্বরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি ছয় মাসের একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি করে। ইরানের একজন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী এ চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরই তেহরান ও ছয় বিশ্বশক্তি পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তিতে পেঁৗছতে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গের মতো ঘটনা ঘটলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি। ওবামা তার বিবৃতিতে বলেছেন, যতদিন চুক্তি মেনে চলবে ততদিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে 'মধ্যম মাত্রার নিষ্কৃতি' দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বলেছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে তারা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) আহ্বান জানাবেন। অন্যদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরকচি বলেছেন, অন্যপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না বলে প্রতীয়মান হলে চুক্তিবলে ইরান শর্তগুলো মান্য করা বন্ধ করতে পারবে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, 'আমরা তাদের বিশ্বাস করি না।'
নভেম্বরের ওই চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৫ শতাংশ বিশুদ্ধতার ওপরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না এবং ২০ শতাংশে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুদ 'নিষ্ক্রিয়' রাখবে। বিনিময়ে দেশটির স্বর্ণ, মূল্যবান ধাতব, মোটরগাড়ি ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানির ওপর থেকে পশ্চিমা কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হবে। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ছয় সপ্তাহে যেক'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় পক্ষ সমাধানে পেঁৗছেছে সেগুলো হলো_ ২০ জানুয়ারি থেকে ইরান তার ২০ শতাংশে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামে জলমিশ্রিত করে পাতলা করে ফেলবে। ৬ মাসের মধ্যে ওই ধরনের ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুদ এভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে। কুওম শহরের ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। আরক ভারী পানির চুলি্ল কেন্দ্রে মাসিক পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ নিল দুবাই : ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সময় এসেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তাই মনে করি। ইরানকে একটি সুযোগ দিন। দেশটি আমাদের প্রতিবেশী এবং আমরা কোনো সমস্যা চাই না। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সবাই উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মস্কোতে মার্কিন সাংবাদিক নিষিদ্ধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাংবাদিক সোমবার জানিয়েছেন, রাশিয়া তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের বিষয়ে প্রতিবেদন করার পর তাকে নিষিদ্ধ করা হলো। রেডিও ফি ইউরোপ/রেডিও লিবাটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও কেভিন ক্লজ জানান, মস্কোতে মার্কিন দূতাবাসকে সাংবাদিক ডেভিড স্যাটারের বিরুদ্ধে নেয়া এমন পদক্ষেপের কথা অবহিত করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে এ ব্যাপারে রুশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। আসন্ন সোচি শীতকালীন অলিম্পিকের প্রাক্কালে এ ধরনের পদক্ষেপ ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী মাসেই শীতকালীন এ অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করার এটিই প্রথম ঘটনা। লন্ডন থেকে ই-মেইলে এএফপিকে স্যাটার বলেন, "আমাকে বলা হয়েছিল যে, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে রাশিয়ায় আমার উপস্থিতি অনভিপ্রেত। এছাড়া অন্য কোনো কারণ দেখানো হয়নি।"
তিনি বলেন, "মস্কোতে আমার মালামাল রয়েছে। আমার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া সেখানে গিয়ে আমি মালামালগুলো নিতে পারছি না। আমি কাজ করতে মস্কোতে ফিরে যেতে চাইলেও ভিসা ছাড়া যেতে পারছি না।" উল্লেখ্য, স্যাটার ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরএফই/আরএলের একজন উপদেষ্টা হিসেবে রাশিয়ায় বসবাস ও কাজ করছেন।

এবার দিল্লিতে ড্যানিশ নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নয়াদিল্লির একটি পুলিশ স্টেশন
এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একজন ড্যানিশ নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দিল্লি রেলস্টেশনের কাছে ৫১ বছর বয়েসী ওই নারীকে ছয়জনেরও বেশি লোক ধর্ষণ করে। জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি হোটেলে ফিরছিলেন। পথ হারিয়ে একদল লোকের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে তিনি ধর্ষিত হন। দেশটিতে একের পর এক ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনার এটিই সর্বশেষ। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এরইমধ্যে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ওই নারী প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারতে রয়েছেন। তিনি প্রথমে আগ্রা সফর করেন। মঙ্গলবার তিনি নয়াদিল্লি আসেন। সেখানে তিনি হোটেল আমাক্সে ওঠেন। বিকেলে জাতীয় জাদুঘর দেখে ফেরার পথে তিনি রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। পরে পথচারীদের জিজ্ঞেস করে হোটেলের রাস্তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এমন সময় তাকে তুলে নিয়ে দিল্লি রেলস্টেশনের কাছে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই নারী। ধর্ষণের পর তার সঙ্গে থাকা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি কোনো মতে হোটেলে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং পুলিশ ও ড্যানিশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ বিষয়ে ড্যানিশ দূতাবাসের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সপ্তাহ খানেক আগে একই এলাকায় যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ১৬ বছর বয়েসী এক কিশোরী। এর আগে গত বছর নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে এক মেডিক্যাল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ভারতবাসী। এরপরও শহরটিতে একাধিক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এটি তার সর্বশেষ।

ক্ষমতা কমে এসেছে অ্যান্টিবায়োটিকের

(খুব তাড়াতাড়ি কোনো কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত না হয়, তাহলে চিকিৎসকদের অসহায়ভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখে সঁপে দিতে হবে) বিশ্বের একদল নামকরা বিশেষজ্ঞ এক গবেষণা নিবন্ধে সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের জীবাণু ধ্বংস ক্ষমতা ফুরিয়ে এসেছে। ফলে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এক ভয়ঙ্কর বিপদের মুখোমুখি। চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে সম্প্রতি এটি প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মতে, খুব শিগগিরই যদি নতুন ওষুধ আবিষ্কার করা না যায়, সামান্য রোগ-ব্যাধিতেই আবার মারা যেতে পারে লাখ লাখ মানুষ। যেমনটি ঘটত অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে। আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন ১৯২৮ সালে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। এভাবেই প্রথম মানবদেহে জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য চিকিৎসকরা একটি কার্যকরী অস্ত্র খুঁজে পেয়েছিলেন। তারপর অবশ্য আরও বহু অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বহু কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। কিন্তু এখন অ্যান্টিবায়োটিকের দিন ফুরিয়ে এসেছে, প্রাণঘাতী জীবাণুরা আর অ্যান্টিবায়োটিকের পরোয়া করছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির অধ্যাপক মুনিরউদ্দীন আহমেদ অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বহুদিন ধরে গবেষণা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী যেসব নতুন ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু এখন বেরুচ্ছে, তা কেবল বিপদ নয়, মহাবিপদ।' জীবাণু বিধ্বংসী এরকম একটি দারুণ অস্ত্র কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারই এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশের মতো দেশে যে কেউ সহজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে পারে। তারা জানে না কোন জীবাণু দ্বারা হয়েছে, কী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে কিংবা সেই অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হবে কি-না। আবার অনেকে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্সও ঠিকমতো শেষ করে না। একটু ভালো বোধ করলেই অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো ডোজ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। আর তখনই বিভিন্ন জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।' এই সমস্যা মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা দু'ধরনের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। প্রথমত, অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, নতুন ধরনের জীবাণুর মোকাবেলায় নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা। অধ্যাপক আহমেদ আশাবাদী, এই সমস্যার মোকাবেলায় ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে।
প্রদীপ সাহা, সূত্র : বিবিসি

নির্ভয়ে-নিশ্চিন্তে রাস্তায় নেমেছে কর্মজীবী মানুষ

রাজধানীর চিত্র
টানা সহিংস অবরোধ ও হরতালে নাভিশ্বাস উঠেছিল সাধারণ মানুষের। নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার উপায় ছিল না। সব সময় তাড়া করে ফিরছিল অজানা আতঙ্ক। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের স্বল্প বিরতির টানা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কর্মজীবী মানুষ। দমবন্ধ পরিবেশ কাটিয়ে কর্মমুখর হয়ে ওঠে রাজধানী। নগরবাসীর মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। পুরোমাত্রায় কর্মচঞ্চল হয়ে পড়েছে রাজধানী। রাজপথের চিরচেনা যানজট আবারও ফিরে এসেছে। অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সর্বত্রই কর্মব্যস্ততা। অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল স্বাভাবিক। দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড আর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। দিনে মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও সদরঘাট নৌ টার্মিনালে যাত্রী আর ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাকে কান পাতা দায়। হরতাল-অবরোধের মতো রাস্তায় নামলেই পেট্রোল বোমা ও ককটেলবাজির আতঙ্ক আর নেই। কেটে গেছে জনমানুষের যতসব দুর্ভাবনা। নির্ভয়, শান্তি ও স্বস্তির জীবনযাপন শুরু করেছেন রাজধানীবাসী।
গতকাল সোমবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কর্মব্যস্ত মানুষের নিত্য জীবনযাপন। ফার্মগেট, বাংলামটর, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল, ধানমণ্ডিসহ প্রায় সব এলাকায় যানবাহন ও মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যানজটের দুর্ভোগ লেগে ছিল পুরানা পল্টন, মালিবাগ ও মৌচাক মোড়, রামপুরা, ধানমণ্ডি ১৫ নম্বর, জিগাতলা, মিরপুর রোড, কলাবাগান, নীলক্ষেত, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকায়। কোর্টকাচারি, ইংলিশ রোড, জিপিও মোড় আর গুলিস্তান এলাকায় দিনভর দীর্ঘ যানজট লেগে ছিল। মাওয়া, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জগামী বাসগুলোকে দীর্ঘ সময় বাবুবাজার ব্রিজের গোড়ায় যানজটে আটকা থাকতে দেখা যায়।
দিনভর ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দিন পর রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। তাই কোনো আতঙ্ক না থাকায় বেরিয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরকারি কর্মদিবস হওয়ায় নানা কাজে ঘর থেকে সবাই বের হয়েছে। ফলে প্রতিদিনের তুলনায় রাস্তায় লোকজনের উপস্থিতি বেশি। রাস্তায় ভরপুর যানবাহন। মাকের্টগুলোর সামনেও মানুষের বেশ জটলা, ভেতরেও ভিড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কথা হয় ব্যবসায়ী ওয়াসিমুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'মানুষের মনে
স্বস্তি ফিরে আসছে। আমরা সাধারণ মানুষ মারামারি-কাটাকাটি চাই না। কোনো অপরাধ না করেও নিরীহ মানুষকে আতঙ্কের জীবনযাপন করতে হয়। এটা কি মেনে নেওয়ার মতো?' তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর যেন ককটেল, পেট্রোল বোমা, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন কোনো সাধারণ মানুষের কপাল না পোড়ায়।
একই স্থানে দাঁড়িয়ে বাসযাত্রী নন্দিতা দাশগুপ্ত বলেন, 'হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে থাকি। যেমন আজ পাঠিয়েছি। তবে হরতালে ক্লাস হলেও আতঙ্কের কারণে স্কুলে পাঠাই না।' হাইকোর্টের মোড়ে দাঁড়িয়ে রিকশাওয়ালা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'গরিব মাইনষের কোনো বেইল আছে? হরতাল হোক আর অবরোধ, আমগো কাজ আমগোই করতে অইব। নয় পেডের ভাত অইব না।' তিনি বলেন, 'মনে তো চায় না খুন- খারাবির মধ্যে বাসা হইতে বের হই। কী করব? বের না অইলে তো পোলা-মাইয়া না খাইয়্যা মরবে।'
গত কয়েক দিনের (রোববার বাদে) মতোই সোমবারও সকাল থেকে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ছেড়ে গেছে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে। প্রতিটি কাউন্টারে ছিল গ্রাম থেকে ফেরা মানুষের ভিড়। আবার রাজধানীতে নানা কাজে আসা অবরুদ্ধ মানুষও স্বস্তির স্বাদ নিতে গ্রামের দিকে ছুটে চলেছে। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, সকাল থেকে যাত্রীর চাপ ভালোই। খুলনা-যশোর রুটের এ কে ট্রাভেলসের যাত্রী সোনা মিয়া বলেন, টিকিট পর্যাপ্ত থাকলেও ভালো সিট পেতে ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। কারণ যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় সবাই দূরের যাত্রায় নিরাপদ বোধ করছে। এ ছাড়া নতুন করে আবার কখন হরতাল বা অবরোধ ঘোষণা করা হয়, সেই শঙ্কাও অনেকের হৃদয়ে ভর করেছে।
বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের যাত্রী সুজন হাওলাদার বলেন, তিনি শনিবার ঢাকায় এসেছিলেন। রোববার দূরপাল্লার গাড়ি না ছাড়ায় যেতে পারছিলেন না। তাই সোমবার ফিরে যাচ্ছেন।
ঢাকা-পাটুরিয়াগামী আর আর পরিবহনের হেলপার জালাল উদ্দিন জানান, গতকাল ভোর থেকেই দূরপাল্লার যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। সকালে কুয়াশা থাকায় এবং গাবতলী থেকে একযোগে দূরপাল্লার বহু গাড়ি ছাড়ায় মহাসড়ক এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটের উভয় পাড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
কমলাপুর থেকে গতকাল নির্ধারিত সব ট্রেন ছেড়ে গেছে। বিকেল ৩টায় কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বশীর জানান, সকাল থেকে আটটি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। এসেছে ৫টি। কমলাপুরে যাত্রীদের চাপ মোটামুটি লক্ষ্য করা গেছে।
মিরপুর-গুলিস্তানগামী ১ নম্বর বাসের হেলপার ফরিদ বলেন, 'অবরোধ আর হরতাল নাই বইল্যা শান্তি লাগতাছে। হরকালকারী গো পরথম টার্গেট হইল যাত্রীবাহী বাস। সুযোগ পাইলেই তারা আমগো ওপর হামলা করে। তাই সব সময় আতঙ্কের মাঝে গাড়িতে ডিউটি করতে হয়। আইজক্যা সেই ভয় নাই।'
অবরোধ মুক্তির আনন্দে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নারীদের অনেকে বেশ কিছুদিন আতঙ্কের কারণে বাসা থেকে বের হয়ে মার্কেটে যাননি। তাই এ সুযোগে মার্কেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরেছেন।
অন্যদিকে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। অনেকে আবার কয়েক দিনের বাজার একবারে কিনে নিয়েছেন। এমনি একজন গৃহিণী আফসানা বৃষ্টির সঙ্গে কারওয়ান বাজারে কথা হয় সমকালের। তিনি বলেন, 'হরতাল-অবরোধের কারণে বাজারে খুব একটা আসা হয় না। আমার সাহেব চট্টগ্রামে চাকরি করেন। তাই আমি নিজেই বাজার করি। আজ পুরো সপ্তাহের বাজার করে নিলাম।'
তেজগাঁওয়ের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'অন্যান্য দিনের চেয়ে সবজি বহনকারী ট্রাক কারওয়ান বাজারে আজ ভোরে বেশি এসেছে। অনেকে আবার সাপ্তাহিক বাজার করেছেন। সরকারি অফিস খোলা থাকায় পুরো কারওয়ান বাজার, ফার্মগেটে সকাল থেকে গাড়ির চাপ রয়েছে।'
ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ফার্মগেটের বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় এদিন সেগুলোকেও সচল দেখা গেছে। সকালে দেখা গেছে, বইয়ের ব্যাগ ঘাড়ে করে শিক্ষার্থীদের দৌড়ানোর চমৎকার দৃশ্য।

ইবিতে উত্তপ্ত ছাত্ররাজনীতি হামলার টার্গেট পরিবহন BY সাইফুল ইসলাম রাজ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান বাহন পরিবহন। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনকে টার্গেট করছে ছাত্র সংগঠনগুলো। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব অপকর্মের কোনো সাজা না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে দোষীরা। ফলে এ হীন কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। এতে পরিবহন খাতে প্রতিবছর গচ্চা যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহর থেকে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার দূরে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শতাংশ ছাত্রছাত্রী আবাসন সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাকি শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে মেস ও ছাত্রাবাসে অবস্থান করতে হয়। এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ক্যাম্পাসে আনা-নেওয়ার প্রধান বাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৩১ ও বেসরকারি ৩২টি বাস রয়েছে। কোনো কারণে পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে না আসতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ শনিবার রাতে কুষ্টিয়ায় ডিপোতে পার্ক করা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাসে অগি্নসংযোগ করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এর আগে ২০০৬ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রফিকুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের গাড়িসহ দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা। চাকরির দাবিতে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয় ছাত্রলীগের চাকরিপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। ২০১১ সালে শিবিরের দুই নেতা অপহৃত হলে তাদের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে ছাত্রশিবির। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গাড়িতে ভাংচুর করে। পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, 'দেড় বছরের ব্যবধানে যে দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, তার মূল্য প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা। আগুন দেওয়ার ফলে গাড়ির যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এদিকে, প্রায় দেড় বছর আগে ছাত্রলীগের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়িটি আজও মেরামত করা হয়নি।
জানা যায়, গাড়ি ভাংচুর ও পোড়ানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং থানায় মামলা করা হলেও অজানা কারণে দোষীদের আটক করা হয় না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী 'পদলোভী' কিছু শিক্ষক তাদের স্বার্থরক্ষায় ছাত্র সংগঠনকে এসব কাজে ব্যবহার করেন। এসব শিক্ষকই মূলত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার তদন্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অধিকাংশ সময়ে অজ্ঞাতপরিচয়ে মামলা করা হয়। এসব মামলায় কেউই সাক্ষ্য দিতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করেই ক্ষান্ত হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কোনো দুষ্কৃতকারীকে আটক করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থেমে যেতে হয়। এদিকে, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। কদাচিৎ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও ওই সব প্রতিবেদনে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার সমকালকে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই করতে পারে। কোনো ছাত্রের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে গেলে ওই মতাদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকরা এতে বাদ সাধেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেন না।'

সংসদ বসছে ২৯ জানুয়ারি

দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফার ক্ষমতাবলে দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ। বিএনপিবিহীন এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রোববার টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ২৯ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় অধিবেশন শুরু হবে। সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনে নিয়ম অনুয়ায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেবেন। যে কোনো সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিদায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রথম দিনের অধিবেশন শুরু হবে। প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই নিয়ম অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
দশম সংসদে ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়া শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপির অনুপস্থিতিতে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া জাতীয় পার্টির সভাপতিম লীর সদস্য রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ থেকে প্রতিটি সংসদে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সংসদ নেতা কিংবা বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। এবারই ব্যতিক্রম ঘটল।
সংবিধান অনুযায়ী চলতি নবম সংসদের মেয়াদ ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেয়াদ অবসানের কারণে ২৪ জানুয়ারির পর নবম সংসদ এমনিতেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নবম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। মোট কার্যদিবস ছিল ৪১৮, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ড। বিল পাসের ক্ষেত্রেও বিদায়ী সংসদ রেকর্ড করেছে, মোট পাস হওয়া বিলের সংখ্যা ২৭১। অন্য যে কোনো সংসদের চেয়ে বিদায়ী সংসদে বিরোধী দলের বর্জনেও ছিল রেকর্ড। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল অনুপস্থিত ছিল ৩৪২ কার্যদিবস, উপস্থিত ছিল ৭৬ কার্যদিবস। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন ১০ দিন।
বাংলাদেশে গঠিত সব সংসদের তালিকা :১. দেশের প্রথম সংসদের মেয়াদকাল ছিল ২ বছর ৬ মাস (৭ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের প্রধান ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আতাউর রহমান খান। ২. দ্বিতীয় সংসদের মেয়াদকাল ছিল ২ বছর ১১ মাস (২ এপ্রিল ১৯৭৯ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রধান ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই সংসদে বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ। বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান খান। ৩. তৃতীয় সংসদের মেয়াদকাল ছিল ১ বছর ৫ মাস (১০ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৮৭)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জাতীয় পার্টির প্রধান ছিলেন এইচএম এরশাদ। বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ। বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। ৪. চতুর্থ সংসদের মেয়াদকাল ছিল ২ বছর ৭ মাস (১৫ এপ্রিল ১৯৮৮ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল জাতীয় পার্টির প্রধান ছিলেন এইচএম এরশাদ। কয়েকটি ছোট দলের সমন্বয়ে গড়া 'সম্মিলিত বিরোধী দল' ১৯ আসন নিয়ে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে। রাষ্ট্রপতি এরশাদের নিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রব। ৫. পঞ্চম সংসদের মেয়াদকাল ছিল ৪ বছর ৮ মাস (৫ এপ্রিল ১৯৯১ থেকে ২৪ নভেম্বর, ১৯৯৫)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ৬. ষষ্ঠ সংসদের মেয়াদকাল ছিল মাত্র ১২ দিন (১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সংসদে কোনো বিরোধী দলই ছিল না। ৭. সপ্তম সংসদের মেয়াদকাল ছিল ৫ বছর (১৪ জুলাই ১৯৯৬ থেকে ১৩ জুলাই ২০০১)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ প্রধান ছিলেন শেখ হাসিনা। বিরোধী দল ছিল বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ৮. অষ্টম সংসদের মেয়াদকাল ছিল ৫ বছর (২৮ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬)। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিরোধী দল ছিল আওয়ামী লীগ। বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা।

কেন বাদ পড়লেন দীপু মনি

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। এর পেছনে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তির ব্যর্থতাকে কারণ হিসেবে দেখছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুই চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়া এবং 'বেশি কথা বলা' কাল হয়েছে দীপু মনির। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের পাঁচ বছর তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও ভারতের সঙ্গে তিস্তার জলবণ্টন ও স্থল সীমান্ত চুক্তি করে ওঠা যায়নি। সে জন্যই কি এবার শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন দীপু মনি? বাদ পড়েছেন আগের দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও মহীউদ্দীন খান আলমগীরও। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজের হাতেই রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দীপু মনির বিরুদ্ধে তার সতীর্থরাই 'বেশি কথা বলা'র অভিযোগ করতেন। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হাসিনার উপদেষ্টারাও তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর খুশি ছিলেন না। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য দীপু মনি কলকাতায় এসে মহাকরণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তিনি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। অনেকের বদ্ধমূল ধারণা, এ ঘটনার পর থেকেই তিস্তা চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বিরোধিতায় অনড় অবস্থান নেন মমতা। ফলে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরে গিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসার পরও অতি গুরুত্বপূর্ণ এ দুই চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়নি। মমতার সঙ্গে বাদানুবাদকে দীপু মনির সবচেয়ে বড় 'কূটনৈতিক হঠকারিতা' বলে মনে করা হয়, যার খেসারত দিতে হয়েছে দেশ ও সরকারকে। নির্বাচনী অন্তর্বর্র্তী সরকারেই দীপু মনিকে ছেঁটে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এবারও বাদ পড়তে হলো তাকে। রোববার বিকেলে শেখ হাসিনার ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ২৯ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ছাড়া শপথ নেন দুই উপমন্ত্রীও। পুরনো শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন আগেরবার মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও এ দফায় বিমান ও পর্যটনের দায়িত্ব পেয়েছেন। পুরনো তথ্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুকেও। কিন্তু শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় নতুনত্ব বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী ও দু'জনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া।
ওই দলের নেত্রী রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা হলেও তার স্বামী দেশের সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিজের বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন হাসিনা। বিরোধীরাও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'আপনারাই সকলকে নিয়ে চলতে বলেন, আবার তা করতে গেলে আপনারাই প্রশ্ন তোলেন!'

ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় খুন ফটোসাংবাদিক আফতাব

গাড়িচালকসহ গ্রেফতার ৫
ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় প্রবীণ আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল নিহতের গাড়িচালক হুমায়ুন কবীর মোল্লাসহ মোট সাতজন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলো গাড়িচালক হুমায়ুন কবীর, বেল্লাল হোসেন কিসলু, হাবীব হাওলাদার, সবুজ ও রাজু। রোববার রাতে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমদকে হত্যা করা হয়। পরদিন ওই বাসা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকা ের পর থেকেই গাড়িচালক হুমায়ুন পলাতক ছিল। হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের পর গতকাল সোমবার র‌্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, তদন্তে নেমে নিখোঁজ গাড়িচালক হুমায়ুন কবীরকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারে প্রথমে রাজধানীর আগারগাঁও বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানে হুমায়ুনকে শনাক্ত করা যায়নি। এ সুযোগে সে ঢাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে সে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পেঁৗছলে রোববার রাতে তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিসলু ও হাবীবকে আগারগাঁওয়ের বিএনপি বস্তি এবং সবুজ ও রাজুকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হুমায়ুন কবীর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত। সাভারে মুদি দোকানি আলাউদ্দিন হত্যা মামলায় হুমায়ুন প্রধান আসামি। কয়েকবার তাকে জেলেও যেতে হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা :র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, দুর্বৃত্তদের একজন কিসলু ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে আফতাব আহমদকে ফোন করে তার বাসা ভাড়া নিতে চায়। সন্ধ্যায় বাসা ভাড়ার টাকা অগ্রিম দেওয়ার কথা বলে তারা বাসায় ঢোকে। কথোপকথনের একপর্যায়ে কিসলু আফতাব আহমদের কাঁধ চেপে ধরে টাকা-স্বর্ণালঙ্কারের খোঁজ জানতে চায়। বিপদ বুঝতে পেরে আফতাব চিৎকার করে ওঠেন। তখন তার মুখ চেপে ধরে কিসলু। হাবিব, সবুজ, রাজু ও রাসেল তার হাত-পা চেপে ধরে। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হলে আফতাব মারা যান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হুমায়ুন কবীর জানায়, সে রাজধানীর বউবাজার এলাকার একটি মেসে থাকে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ওই এলাকায় রাসেল, রাজু, হাবিবসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ সময় হুমায়ুনের কাছে তার নিয়োগকর্তা আফতাব আহমদের কথাও তারা জানতে পারে। আফতাব একা থাকেন জেনে তারা ওই বাসায় ডাকাতির আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু হুমায়ুন রাজি হয়নি। এর মধ্যে একদিন হুমায়ুন তার গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা বলে আফতাব আহমদের কাছে টাকা চায়। আফতাব তাকে দুই হাজার টাকা বের করে দেন। তখন হুমায়ুন লক্ষ্য করে, আফতাবের কাছে অনেক টাকা রয়েছে। বিষয়টি সে তার অন্য সঙ্গীদের জানায়। এরপরই ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়।
হুমায়ুন জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যায় তারা ছয়জন বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ভেতরে ঢোকে। এক সময় রাসেল, কিসলু, নিজাম ও রাজু আফতাবের গলা চেপে ধরে ও ফাঁস দেয়। তখন হুমায়ুন আফতাবের পা চেপে ধরে রাখে। একপর্যায়ে তারা জানতে চায়, টাকা কোথায় আছে? পরে চাবি দিয়ে আলমারি খুলে ৬৫ হাজার টাকা পেয়ে তা নিয়ে চলে যায়। এর মধ্যে হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা ভাগ দেওয়া হয়। হুমায়ুনের দাবি, সাভারের হত্যাকাণ্ডে সে জড়িত ছিল না। হত্যায় জড়িতদের সঙ্গে একই মেসে থাকায় তাকে আসামি করা হয়।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন বর্ণা : হুমায়ুনের বর্ণনার একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহতের মেয়ে আফরোজ আহমেদ বর্ণা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, 'আমার বাবাকে কেন মেরেছিস? বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ছিল। এমনিতেও বেশিদিন বাঁচত না। টাকা নিয়ে চলে যেতে পারতি। কেন খুন করলি?'
হুমায়ুন উত্তর দেয়, 'আমি মারি নাই। রাসেল আর কিসলু মারছে।'
পরে আফরোজ আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি কী অসহায় অবস্থায় বাবাকে ফেলে রেখেছিলাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির কারণে আমি বাবার কাছে থাকতে পারতাম না। প্রতি বৃহস্পতিবার এসে আবার চলে যেতাম। ২৩ ডিসেম্বর বাবার জন্মদিন ছিল। তার পরদিনই...।'
তিনি বলেন, 'আমি চাই দোষী সবার বিচার হোক। কঠোর সাজা হোক। একজনও যেন বাঁচতে না পারে। আমি আর কিছু চাই না।' এটুকু বলে তিনি ফের কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পাঁচ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সাংসদের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক by হকিকত জাহান হকি

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সাংসদসহ পাঁচজনের হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের তথ্য সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অভিযোগ হিসেবে আমলে নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ওই পাঁচজনের সম্পদের হিসাব অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত ৬০ অভিযোগের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অন্যদের সম্পদের হিসাবও অনুসন্ধান করা হবে। যে পাঁচজনের সম্পদ অনুসন্ধান করা হচ্ছে তারা হলেন_ সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের একাংশ) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদ আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদ মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার-৪ আসনে নির্বাচিত সাংসদ আবদুর রহমান বদি ও রাজশাহী-৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সাংসদ এনামুল হক। দুদক জানায়, এই পাঁচজনের হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদ যাচাইয়ের সঙ্গে তাদের দখলে থাকা সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে। একই সঙ্গে ওই পাঁচজনের স্ত্রীসহ পরিবারের সন্দেহভাজন পোষ্যদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। ওই সব মন্ত্রী ও সাংসদের দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে শিগগিরই নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পদের হিসাব বিবরণী পেশ করতে হবে। পরে ওই হিসাব বিবরণী যাচাই করে যাদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আ ফ ম রুহুল হক :গত পাঁচ বছরে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ইলা হকের ব্যাংক ব্যালান্স বেড়েছে ১৬৫ গুণ। একই সময়ে অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালান্স বেড়েছে ১০ গুণ। পাঁচ বছর আগে নির্বাচনী মাঠে নামার সময় রুহুল হক ও তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাদের ব্যাংক ব্যালান্সের পরিমাণ ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। ২০০৮ সালে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন আছে ৭ কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। এ ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে
বেড়েছে ১৬৫ গুণ। অন্যদিকে, রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালান্স ২০০৮ সালে ছিল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
আবদুল মান্নান খান :পাঁচ বছর আগেও সর্বসাকল্যে ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সম্পত্তি ছিল তার নামে। এখন তা হয়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগে বার্ষিক আয় ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরই তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে বছরে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায়। পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ১০৭ গুণ। এ ছাড়া তিনি ধানম িতে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক। হলফনামায় তিনি ফ্ল্যাট দুটির মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া রয়েছে প্লটসহ অন্যান্য সম্পদ।
মাহবুুবুর রহমান :সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে তার হাতে যেন আলাদিনের চেরাগ ছিল। গত পাঁচ বছরে ২০ একর জমির মালিক থেকে তিনি হয়েছেন ২ হাজার ৬৫ একর জমির মালিক। পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ছাড়া কোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ না থাকা স্ত্রীর নামে এখন রয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার সম্পদ। নিজের নামে রয়েছে ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ১১২ টাকার স্থাবর সম্পদ, যা পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২ টাকা।
আবদুর রহমান বদি :হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের হিসাব অনুযায়ী আবদুর রহমান বদির আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। হলফনামায় বলা হয়, গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় ২ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা। এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় বলেছিলেন, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। ব্যয় ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা।
এনামুল হক :২০০৮ সালে শুধু বেতন-ভাতা থেকে তার বছরে আয় ছিল ২০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পর এখন কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তার আয় হয় ৫০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে তার পরিবারের পোষ্যদের ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা বার্ষিক আয় থাকলেও এবারের হলফনামায় পোষ্যদের কোনো আয়ের উৎস নেই বলে উল্লেখ করা হয়। তার নিজের, স্ত্রীর ও অন্যদের মোট ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাধারণ শেয়ার থেকে কোনো আয় নেই উল্লেখ করা হয় হলফনামায়। পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রীর নামে থাকা ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায়। নিজ নামে ব্যাংকে আছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

রায় ৩০ জানুয়ারি

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর এ মামলায় সর্বনিম্ন জেল হতে পারে দুই বছর। পৃথক দুটি মামলার মধ্যে অপরাধ প্রমাণিত হলে চোরাচালান মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে সর্বনিম্ন দুই বছর সাজা দিতে পারেন আদালত। অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন থেকে সর্বনিম্ন ১০ বছর কারাদণ্ড দিতে পারেন আদালত। মতিউর রহমান নিজামী ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের হতে পারে সর্বোচ্চ শাস্তি। দুই মামলার অভিন্ন ৫৪ আসামির মধ্যে চারজন মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ৫০ জন। এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে পাঁচবার। আর তিন দফায় তদন্ত, পুনঃতদন্ত করতে কেটে গেছে দীর্ঘ আট বছর। বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১১ বছরের মাথায় ৩০ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এসএম মজিবুর রহমানের আদালত এ তারিখ ধার্য করেন। এর আগে নিজামী-বাবরসহ আট আসামির আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ খণ্ডন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের কারও বক্তব্য থাকলে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে দাখিল করার জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, 'চোরাচালান আইনে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড থেকে দুই বছর এবং অস্ত্র আইনে যাবজ্জীবন থেকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার বিধান রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে আনা অভিযোগ প্রমাণ করেছি। এ ছাড়া অস্ত্র ওঠানো-নামানোর কাজে ঘাটের কুলি-মজুররা সহায়তা করেছে। তাই জীবিত ৫০ আসামির প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রার্থনা করেছি।'
সব আসামিকে নির্দোষ দাবি :মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন আদালতকে বলেন, 'বোকা রাজার গল্পের মতো সরকার ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জামায়াতের আমির ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমানকে আসামি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে এ দেশ থেকে উচ্ছেদে যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এ মামলায় নিজামীকে আসামি করা তারই একটি অংশ। রাষ্ট্রপক্ষ নিজামীর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে না পারায় তাকে খালাস দেওয়ার প্রার্থনা করছি।' অন্যদিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দারের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ আদালতকে বলেন, 'মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা অহিদুর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শী দুই পুলিশ কর্মকর্তা ডিজিএফআইর পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দারের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে একটি অক্ষরও বলেননি। শুধু ঢাকাস্থ সেনাবাহিনীর গলফ কোর্টের ১০ কোটি টাকার অনিয়ম নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার এ মামলায় রেজ্জাকুল হায়দারকে হয়রানিমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় ডিজিএফআই ও এনএসআইর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই এ দুটি সংস্থাকে বাঁচাতে আদালতের কাছে প্রার্থনা করছি।' এ ছাড়া আরও ছয় আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রত্যেককে নির্দোষ দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
যাদের বিরুদ্ধে আছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ :আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র ও চোরাচালান মামলার সম্পূরক চার্জশিটে সাবেক মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে অনেক ভিআইপিকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) শাহাবুদ্দিন আহমেদ, উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, সিইউএফএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন উদ্দিন তালুকদার ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এনামুল হক, হাজি আবদুস সোবহান, আরজু মিয়া, দীন মোহাম্মদ, হাফিজুর রহমান, সানোয়ার হোসেন, মো. আজিজ, মরিয়ম বেগম ও জসিম উদ্দিনকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। শিল্প সচিব নুরুল আমিন, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা নেতা পরেশ বড়ূয়াসহ আসামি হিসেবে আছে আরও ৩৭ জন। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের দুটি মামলায় মোট ৫৪ জনকে আসামি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে মামলার কার্যক্রম চলাকালেই মারা যান চার আসামি।
আলোচনায় এসেছেন খালেদা-তারেকও :সাবেক শিল্প সচিব ড. শোয়েব আহমেদ ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাক্ষ্যদানকালে অস্ত্র খালাসের বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জানতেন বলে আদালতকে জানান। সাক্ষ্য গ্রহণকালে আলোচনায় আসে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নামও। কিন্তু এ বিষয়ে নজর দিলে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় পেতে আরও সময়ক্ষেপণ হওয়ার শঙ্কা থাকায় খালেদা জিয়া ও তারেকের ব্যাপারে পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়নি। তবে সাক্ষ্য রেকর্ডভুক্ত হওয়ায় খালেদা জিয়া কিংবা তারেকের বিষয়টিও রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আনতে পারেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি কামাল উদ্দিন আহাম্মদ।
কেন কাটল ১০ বছর :২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অস্ত্র চালান আটকের ঘটনা ঘটলেও তখন মূল হোতাদের বাদ দিয়েই দেওয়া হয় চার্জশিট। তাই ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর আদালত সাতটি পয়েন্ট চিহ্নিত করে স্পর্শকাতর এ মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর তদন্ত শেষে সিআইডি অস্ত্র ও চোরাচালান মামলায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ৫৪ জনকে আসামি করে ২০১১ সালের ৬ জুন আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তিতর্কের পর্ব শেষ হওয়ায় আদালত রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন ৩০ জানুয়ারি।

রেলে নাশকতার তদন্তে গতি নেই by নাহিদ তন্ময়

(জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে) রেললাইনে নাশকতার বিষয়ে এখনও অন্ধকারে পুলিশ। একের পর এক নাশকতার ঘটনা ঘটলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে জড়িতরা। এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। চিহ্নিত করা যায়নি নাশকতাকারীদের। তদন্তসংশ্লিষ্ট রেল পুলিশের সদস্যরা বলেন, রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অধিকাংশ সদস্য ব্যস্ত থাকছেন। এ কারণে মামলার তদন্তে তারা মনোযোগী হতে পারছেন না। রেল পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অবশ্য বলছেন, নাশকতাগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হওয়ার কারণে চার্জশিটে এর প্রভাব পড়বে। এ মুহূর্তে রেলে নাশকতার মামলার চার্জশিট দেওয়া হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করতে হবে। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে মামলার বিচারকাজ চলার সময়ে এর প্রভাব পড়বে। এ কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নানান অজুহাতে মামলা তদন্তে ঢিলেমি করছেন এবং চার্জশিট দাখিলে সময়ক্ষেপণ করছেন।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হওয়ার পর থেকেই রেললাইন উপড়ে ফেলা, কোচ ও ইঞ্জিনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতা শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১০ মাসে প্রায় আড়াইশ' নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। গত ৮ মাসে ঘটে যাওয়া এসব নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত কোনো মামলারই অভিযোগপত্র দাখিল করেনি রেলওয়ে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি কামরুল আহসান বলেছেন, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানের রেললাইনে নাশকতার ঘটনায় ৬২টি মামলা হয়। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৬৯ জনকে। এর মধ্যে ১৫০ জন সন্দেহভাজন। বাকি ১৯ জনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ। জানা গেছে, গত দুই মাসের নাশকতার এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর এজাহারে ৩৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার জন। রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ধারণা করছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত। বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে বলেও রেলওয়ে পুলিশ দাবি করছে। এছাড়া নির্দেশদাতা হিসেবেও অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলের নাশকতার ঘটনায় অধিকাংশ মামলাই তদন্ত করছেন রেলওয়ে থানা পুলিশ। পাশাপাশি ডিবিও কিছু মামলা তদন্ত করছে। জনবল সংকটসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত রেল পুলিশের পক্ষে এসব মামলার তদন্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, রেলওয়ের অধিকাংশ থানায় প্রয়োজনীয় জনবল নেই। নেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক কোনো কক্ষ। এ কারণে সন্দেহভাজন কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয় না। ফলে মামলা তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু করার থাকে রেল পুলিশের পক্ষে। রেলওয়ের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব সমস্যার কথা জানলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। এছাড়া রেল পুলিশের তেমন কোনো লজিস্টিক সাপোর্টও নেই। নিয়মিত কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তাদের মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাতে হয়।
গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ইমামবাড়ি রেলস্টেশনে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি বগিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া রেলপথ অবরোধ করতে নেতাকর্মীরা দুটি স্থানের প্রায় ৩ হাজার ফুট রেললাইন উপড়ে ফেলে। ঘটনার দু'দিন পর ২৮ নভেম্বর আখাউড়া রেলওয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এ নাশকতার সঙ্গে জড়িতদেরও সনাক্ত করতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যোগাযোগ করা হলে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলা দুটির তদন্ত চলছে। আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
গত ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর যে কোনো সময়ে সারদা স্টেশনের দেড় কিলোমিটার পূর্বে নন্দনগাছিতে দুর্বৃত্তরা রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে স্লিপার তুলে রাখে। রাত পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ধূমকেতু এক্সপ্রেস ওই স্থানে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিন ও পাঁচটি বগি নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরও এখনও শনাক্ত করতে পারেনি রেলওয়ে পুলিশ। গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চড়াইকোল রেলস্টেশনে রাজবাড়ী থেকে আসা পোড়াদহগামী শাটল ট্রেনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নির্দেশে তারা ট্রেনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ট্রেনে নাশকতার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রেললাইনের সবচেয়ে বেশি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট ও চাঁদপুর, গাইবান্ধার বোনারপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, জামালপুর, ঈশ্বরদী, সান্তাহার, লাকসাম, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ভৈরব রেলওয়ে থানা এলাকায়। এসব এলাকার অধিকাংশ নাশকতাকারীই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয় গেছে। রেলওয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মাসে রেলের মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধে রেলওয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।

সহিংসতা পরিহারে বিএনপিকে পরামর্শ কূটনীতিকদের

আন্দোলনের সময় সহিংসতা ও নাশকতা সম্পূর্ণ পরিহার করতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে একটি হোটেলে ৩৪টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এ পরামর্শ দেন তারা। বৈঠক সূত্র এ তথ্য জানায়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে গত ৫ জানুয়ারির 'ভোটারবিহীন' নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলেও কূটনীতিকদের কাছে অভিমত ব্যক্ত করে বিএনপি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন সরকার গঠনের পরদিন বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠক করেন বিএনপি নেতারা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের সময় কেন্দ্রে ভোটারের অনুপস্থিতি, জাল ভোট দেওয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ভিডিওসহ তথ্যচিত্র কূটনীতিকদের দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণের এসব অনিয়ম ও ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বিষয়গুলোও বৈঠকে বিএনপি তুলে ধরে। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভোট-সংক্রান্ত খবরও কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে বিএনপি। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট কৌশলগত বলেও কূটনীতিকদের জানানো হয় বিএনপির পক্ষ থেকে। জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট স্থায়ী নয় এবং ইসলামী দলটির সঙ্গে বিএনপির আদর্শগত কোনো মিল নেই বলেও জানান তারা। সময় হলেই জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত নেবেন।
ওই বৈঠকের পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, দলের আমন্ত্রণে কূটনীতিকরা এসেছিলেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমসের মবিন জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপিও আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায় বলে রাষ্ট্রদূতদের জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক শফিক রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, কানাডার হাইকমিশনার হিদার ত্রুক্রডেন, জার্মানির রাষ্ট্র্রদূত আলব্রেখট খোনসে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনপ্রধান উইলিয়াম হানাসহ অন্তত ২৪টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়াসহ ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ড্যান মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে তারা হতাশ হয়েছেন। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। বিএনপি অবরোধ প্রত্যাহার করায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে সংলাপ অনুষ্ঠানের পথ উন্মুক্ত হলো। এখন সরকারকে সংলাপের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি জানান, সহায়ক পরিবেশ বলতে বিরোধী দলের কার্যালয়ে যেতে বাধা না দেওয়া, নেতাদের মুক্তি দেওয়া, বিরোধী দলকে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া বোঝায়। উইলিয়াম হানা বলেন, বিরোধী দল অবরোধ প্রত্যাহার করায় সংলাপের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এখন সরকারেরই উচিত পরিবেশ তৈরি করা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চাইলে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার মধ্য দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে নতুন একটি নির্বাচন হতে পারে।

সবই পেলেন এরশাদ-রওশন আমরা কী পেলাম?

জাতীয় পার্টিতে চলছে আক্ষেপ, ক্ষোভ আর কোন্দল। দলের নির্দেশ মেনে অনেকেই এমপি হওয়ার নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে ক্ষুব্ধ। তাদের চোখে এখন এরশাদ একজন 'প্রতারক'। কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হলেন; কিন্তু তার নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে তারা কী পেলেন_ এ আক্ষেপ এখন অনেকের। আবার দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিত্ব না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ। তারা ক্ষুব্ধ রওশনের ওপর। রওশন এরশাদ হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। বঞ্চিতদের প্রশ্ন 'এরশাদ-রওশন সবই পেলেন আমরা কী পেলাম?'
সরকার ও বিরোধী দল দুই ভূমিকায় থাকলেও দলটির অভ্যন্তরে সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিতদের দ্বন্দ্ব চলছে। চলছে পক্ষ বদলের খেলা। এমপি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশায় যারা এতদিন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে ছিলেন, দুই দিনের ব্যবধানে তারা পক্ষ বদল করে এখন এরশাদশিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন। নির্বাচন বর্জনকারীরা ফাঁকা মাঠেও এমপি হতে না পেরে ক্ষুব্ধ। আর এমপিরা মন্ত্রী হতে না পেরে ক্ষুব্ধ। দীর্ঘ এক মাসের 'চিকিৎসা' শেষে এরশাদ ঘরে ফিরলেও রওশনের অনুসারীরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। সোমবার এরশাদের বাসায় ছিলেন বঞ্চিতরা। রওশনের বাসায় ছিলেন সুবিধাপ্রাপ্তরা।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মো. আবদুস সালাম চাকলাদার। এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ায় প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। এখানে এরশাদের নির্দেশে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এমপি হওয়ার নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আক্ষেপ করে আবদুস সালাম সমকালকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান এরশাদ স্যার নিজে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে। দলের জন্য এমপি হওয়ার ইচ্ছা কোরবানি দিলাম।' নীলফামারী-১ আসনের সদ্য সাবেক এমপি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী এরশাদের নির্দেশে নির্বাচন থেকে দূরে থাকলেও ভোটের ৮ দিন আগে রওশনের নির্দেশে মাঠে নামেন। এ নেতা সমকালকে বলেন, 'ওনারা সবই তো পেলেন। আমরা কী পেলাম?'
মন্ত্রিত্ব না পেয়ে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, তাজুল ইসলাম ও সালমা ইসলাম ক্ষুব্ধ। সরকারের খুব ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জিয়াউদ্দিন বাবলু মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় হতাশ। মূলত তার চেষ্টাতেই এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর রওশনের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল জাতীয় পার্টি। সর্বদলীয় সরকারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন। রুহুল আমীন হাওলাদার মন্ত্রী এবং সালমা ইসলাম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সালমা ইসলাম গতকাল এরশাদের সঙ্গে দেখা করে জানান, এরশাদ অসুস্থ ছিলেন। এরশাদ গতকাল তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, আমি সুস্থ থাকার পরও আটকে রাখা হয়। প্রকৃত ঘটনা দেশের মানুষ জানে, বিদেশিরাও জানে। বঞ্চিতরা সোমবার এরশাদের বাসায় দেখা করেন। জানতে চান তাদের কী হবে? বর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মর্যাদাপূর্ণ পদ দিতে হবে_ এরশাদ শপথ নিতে এ শর্ত দিলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের ত্যাগের মূল্য অবশ্যই দেওয়া হবে। গত ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪৮ আসনে জাতীয় পার্টির ২৯১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরশাদের নির্দেশে ১৫৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ৮৫ জনের নাম প্রার্থিতা বহাল থাকলেও অন্তত ৩১ জন ভোট থেকে দূরে থাকেন। তাদের অনেকেরই জয়ের প্রবল সম্ভাবনা ছিল। এরশাদের নির্দেশে তার ভাই জিএম কাদেরও নির্বাচন থেকে দূরে ছিলেন। লালমনিরহাট-৩ আসনে সদ্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরের প্রার্থিতা বহাল থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট থেকে দূরে থাকেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীরা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। দলের আদেশ মেনে বঞ্চিত হয়েছেন জিএম কাদের। গত ২৩ ডিসেম্বরের পর আর প্রকাশ্যে আসেননি।
দলের নির্দেশে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রংপুর-২ আসনের মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী, রংপুর-৫ এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম-৪ অধ্যক্ষ মো. ইউনুস, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও গাইবান্ধা-৪ আসনে লুৎফর রহমান চৌধুরী। এ আসনগুলো জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত। '৯১ সালের পর থেকেই এ আসনগুলোর বেশিরভাগই জাতীয় পার্টির দখলে।
এসব নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এরশাদ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখন তারা মন্ত্রিত্বসহ ক্ষমতার ভাগ পেলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারীরা কিছুই পাননি। পঞ্চগড়-১ এবং বগুড়া-৪ আসনে জাসদ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। পঞ্চগড়-১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু সালেক বলেন, 'দলের নির্দেশ পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে দূরেই ছিলাম। যখন দেখলাম সবাই নির্বাচনে, তখন শেষ কয়েকদিন প্রচার চালিয়েছি।' নয়তো নৌকা-ধানের শীষবিহীন নির্বাচনে জয় নিশ্চিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চারবারের এমপি এবং রংপুর-৪-এর প্রার্থী করিম উদ্দিন ভরসার প্রার্থিতা বহাল থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি সমকালকে বলেন, 'স্যার (এরশাদ) ইলেকশনে যেতে না করছিলেন। আমি সারাজীবন ওনার কথা মান্য করেছি। এবারও করেছিলাম। কী হইল তা তো দেখতেই পাইছেন।'

বিবেকের কণ্ঠস্বর চিরনিদ্রায়

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের প্রতি জাতির শেষ শ্রদ্ধা
(সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ) ভাষাসংগ্রামী, সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। সোমবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আজ বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। সকালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন এবং সুরা ফাতেহা পাঠ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের স্ত্রী ইসলামা রহমানসহ তার তিন মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এর পর তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তচিন্তা, অদ্ভুত সারল্য আর দৃঢ় ব্যক্তিত্বে জাতির অন্যতম অভিভাবক হয়ে ওঠা এই মহান মানুষের প্রতি। পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। সেখানে দোয়া মাহফিলের পর মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘ সময়ের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। এখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।তবে ভাষাসংগ্রামী, সাবেক এই প্রধান বিচারপতি ও  সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সমকালকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার আদেশ রয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।
শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা :ভাষাশহীদদের স্মৃতির বেদি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। সোমবার সেখানে এসেছিলেন ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার লড়াইয়ের সেই দামাল ছেলেদের একজন। আগেও অনেকবার এসেছেন প্রভাতফেরির মিছিলে, নাগরিক কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা বন্ধু, স্বজন বা জাতির কোনো কৃতী সন্তানকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তাকে বারবার দেখেছে সবাই, মৃদু হাসির দৃঢ় ব্যক্তিত্বের সৌম্য পুরুষকে। এবার তিনি কফিনে বন্দি হয়ে এলেন, শেষ শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল তার কফিন। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সত্যিই শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু-স্বজনের ঢল নেমেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সকাল ১১টার কিছু সময় পর তার মরদেহ পেঁৗছায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এর আগে থেকেই শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিপুল মানুষ অপেক্ষমাণ ছিলেন এখানে। সবার আগে শ্রদ্ধা জানান ভাষার লড়াইয়ে তার সহযোদ্ধা রওশন আরা বাচ্চু। শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের কয়েকজন তার সামনে দাঁড়ালে তিনি চোখ মোছেন। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলেন, 'শেলী ভাই অনেক বড় মানুষ। তার মতো মানুষ হয় না।' প্রয়াত বিচারপতির বড় মেয়ে রুবাবা রহমান বুশরা বলেন, 'বাবা একজন বড় মানুষ ছিলেন, খুব ভালো পিতা ছিলেন। দেশের মানুষ তার প্রতি যে বিপুল ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে, তার জন্য আমার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞ।
এর পর একে একে আসেন নতুন সরকারের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, নুরুল ইসলাম নাহিদ ও আসাদুজ্জামান নূর, প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। বিশিষ্টজনের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি মাহফুজা খানম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, শিল্পী রফিকুন নবী, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, সিপিডির ডিস্টিংগুইসড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর রশীদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, কর্মজীবী নারীর শিরীন আখতার, সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ নানা শ্রেণী-পেশার অসংখ্য মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ওয়ার্কার্স পার্টি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, গণজাগরণ মঞ্চ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, নজরুল চর্চা কেন্দ্র, এশিয়াটিক সোসাইটি, পদাতিক, একুশে চেতনা পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। তিনি বলেন, মেধায়, মননে, প্রকাশে একজন প্রকৃত বাঙালি ছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। নিষ্ঠায়, সততায়, ব্যক্তিত্বে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতির অভিভাবক। অদ্ভুত সারল্যের দৃঢ়চিত্তের এই বাঙালি সন্তানকে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
শোকবইতে বিশিষ্টজন যা লিখলেন :কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সেখানে রাখা শোকবইতে স্মৃতিচারণ করে স্বাক্ষর করেন অনেকেই। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লেখেন, তিনি ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী ছিলেন; লিখেছেন গবেষণাধর্মী অনেক বই। তিনি মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ১৯৫২ সালে ভাষার লড়াইয়ে তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলেও নেমেছিলেন। প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন লিখেন, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মতো একজন বড় মাপের মানুষকে আমরা আমাদের মধ্যে পেয়েছিলাম। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে তার লেখনীর মাধ্যমে প্রেরণা দিয়েছেন। জাতি তাকে আজীবন মনে রাখবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, বিচার বিভাগে যেমন তার অবদান অসামান্য, তেমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবেও তার ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল ছিল। সবকিছু ছাপিয়ে মননশীল লেখক হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়।
বাংলা একাডেমিতে কিছুক্ষণ :কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। এখানে তাকে শ্রদ্ধা জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এখানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড় মেয়ে রুবাবা রহমান বুশরাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ছাড়াও বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহীদা খাতুন, আবদুল হাইসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা :বাদ জোহর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক তালুকদার রাজাসহ আইনজীবীরা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলামসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জানাজা শেষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুপুর ২টা থেকে দিনের পরবর্তী সময় পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে ছুুটি ঘোষণা করেন।

শিরীন শারমিন স্পিকার না পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন by শাহেদ চৌধুরী

দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার কে হচ্ছেন? এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার থাকছেন, নাকি এ পদে নতুন কেউ আসছেন_ এ নিয়েও আলোচনার কমতি নেই। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন। তাকে স্পিকার নির্বাচন করার উদ্যোগ রয়েছে সরকারি দলে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে। ড. শিরীন শারমিনকে স্পিকার নির্বাচন করতে হলে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে হবে। নারী এমপি হিসেবেই নবম সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. শিরীন। আগামী ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই নারী এমপি নির্বাচনের উদ্যোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৬ জানুয়ারি স্থগিত আট আসনের নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। এর পর ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই নারী এমপি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। ওই নির্বাচনে নারী এমপি নির্বাচিত হতে পারেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সে ক্ষেত্রে তার স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা থাকবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই নতুন স্পিকার নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে নারী এমপি নির্বাচন না হলে স্পিকার নির্বাচনের সুযোগ নেই ড. শারমিনের। এ কারণেই অধিবেশন শুরুর আগেই নারী এমপি নির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্পিকার নির্বাচন করা হলে ডেপুটি স্পিকার কে হবেন, তা নিয়েও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ও কুমিল্লা-৭ আসনের এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ। তবে নবম সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী সম্মত থাকলে তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন। শিরীন শারমিন স্পিকার না হলে কর্নেল (অব.) শওকত আলীর এ পদে আসার সম্ভাবনা বেশি। তখন ডেপুটি স্পিকারের দৌড়ে শামিল হবেন নবম সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। স্পিকার হিসেবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ও অধ্যাপক আলী আশরাফের নামও শোনা যাচ্ছে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নিয়ে সরকারের ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৬ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগে। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন ড. শিরীন শারমিন। এর আগ পর্যন্ত দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কে হচ্ছেন উপনেতা-চিফ হুইপ আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আবারও উপনেতা হচ্ছেন। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না এলে উপনেতা পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। চিফ হুইপ হিসেবে বরিশাল-১ আসনের এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ ও পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি আ স ম ফিরোজের নাম আলোচনায় থাকলেও এগিয়ে রয়েছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

সংলাপেই সমাধান

নতুন মন্ত্রীদের অভিন্ন কণ্ঠ
প্রথম কার্যদিবসেই সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রবীণ ও নবীন সদস্যরা বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সংকট-সমস্যার সমাধান সম্ভব। তারা বলেছেন, বিরোধী দলের জন্য আলোচনার দরজা খোলা। তবে তাদের হরতাল-অবরোধ, সহিংসতা ও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। অন্যথায় আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। দু-একজন মন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে। বিরোধী দলের বর্জন, প্রতিরোধ ও সহিংসতার মধ্যে অনুষ্ঠিত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে গত রোববার। ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া, ভোটারের কম উপস্থিতিসহ নানা কারণেই 'একতরফা' নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে সাধারণ মানুষ। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও একই মত। এ অবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিরোধী দলের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতায় আসতে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করবেন না।
সোমবার নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অনেকেই সচিবালয়ে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সঙ্গে সংলাপ-সমঝোতা প্রশ্নে 'ইতিবাচক' মনোভাব তুলে ধরেন। একই দিন ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবন
প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। সমকালের সঙ্গে আলাপকালেও আগামী দিনে দেশ পরিচালনা এবং জাতির কল্যাণে সরকার ও নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন অনেকে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস-সহিংসতা মোকাবেলা করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনাকেও সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সরকারের বড় কাজ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। তবে নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তারা বলছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মানতে গিয়েই ওই নির্বাচন ও সরকার গঠন করতে হয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে :তোফায়েল
সংকট নিরসনে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আলোচনা অবশ্যই হবে। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিএনপির সঙ্গে সে আলোচনার সুযোগও রয়েছে। তবে তার আগে সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে তাদের। হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি প্রত্যাহার করা বিরোধী দলের বোধোদয়ের পরিচয় বহন করে_ এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল রাজনীতি করেছে। তবে তাদের শুভবুদ্ধির উদয়ও হয়েছে। তাই তারা অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরে গেছে।
মধ্যবর্তী কিংবা আগাম নির্বাচন প্রশ্নে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল বলেন, এ সরকার পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত। ভালো কাজ করে তারা পাঁচ বছর মেয়াদই পূর্ণ করবে। তবে আলোচনার দরজাও খোলা আছে। সমঝোতা হলে সেটা পরে বিবেচনা করা হবে।
সংলাপ বেগবান হচ্ছে :সৈয়দ আশরাফ
এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে সরকার। সংলাপ এখনও বন্ধ হয়নি, আরও বেগবান হচ্ছে। বিএনপি সংলাপে আসবে এবং এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংলাপ-সমঝোতা প্রশ্নে নির্বাচনের আগের উদ্যোগগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, সমঝোতাকারীদের ইচ্ছাই সবকিছু নয়, বাইরের শক্তিও রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি একত্র হলে আলোচনা সফল হবে।
বিএনপির নির্বাচন বর্জনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন বর্জনের এই 'কালচার' ত্যাগ করতে হবে। এটি স্থায়ী হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সব দল এক হয়েও আর নির্বাচন করা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্যই সরকার পাঁচ বছর কাজ করবে। সরকারের মেয়াদও থাকবে পাঁচ বছর। এর চেয়ে একদিনও বেশি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই।
আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পেঁৗছানো যাবে :নাসিম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেরিতে হলেও বিএনপি বুঝতে পেরেছে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভালো কিছু অর্জন করা যায় না। এ কারণেই তারা হরতাল-অবরোধ থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পেঁৗছানো যাবে। তবে বিএনপি যত তাড়াতাড়ি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করবে, আলোচনার পরিবেশও তত তাড়াতাড়ি সৃষ্টি হবে।
বিএনপি চাইলে আলোচনা হতে পারে :মেনন
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এটি নির্ভর করছে বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর। বিএনপি চাইলে আলোচনা হতে পারে, তবে তার আগে বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তারা সন্ত্রাস-সহিংসতা অব্যাহত রাখলে তো আলোচনার পরিবেশই ক্ষুণ্ন হবে।
নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার লড়াইয়ের 'জয়' হিসেবেও দেখছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। তিনি বলেন, এখন গত সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলোর ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছি, সামনে বড় যুদ্ধ।
বিএনপি আন্তরিক হলেই সংলাপ সফল হবে :ইনু
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মনে করেন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনার দ্বার খোলা থাকলেও এ ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস ছেড়ে বিএনপিকেই সংকট নিরসনে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। সবার আগে জঙ্গিবাদমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার দলকে দলগত সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করতে হবে। তা হলেই সংলাপ সফল হবে।
জাসদ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়া কি জঙ্গিবাদের সহযোগী হিসেবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস অব্যাহত রেখে 'গণতন্ত্র ক্লাবের' সদস্যপদ হারাবেন? নাকি জঙ্গিবাদ ক্লাবের সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে এসে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস ছাড়বেন? এসবের ওপরই আসলে নির্ভর করছে গণতন্ত্র কার্যকর রাখার বেলায় সংলাপ প্রশ্নে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টি।
সন্ত্রাস বন্ধ করলে সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা যায় :ব্যারিস্টার আনিস
পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, তারা অনেক আগে থেকেই সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা ও সংকট নিরসনের কথা বলে আসছেন। বিএনপি সন্ত্রাস-সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করলেই সংলাপের একটি ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে। আর তখনই বিএনপির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা ও একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দিকে যাওয়া যেতে পারে।
জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, সরকারে থেকেই জাতীয় পার্টি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। বিশ্বের অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা আছে। এটি নতুন কিছু নয়। যারা এর সমালোচনা করছেন তারা না জেনেই করছেন। দেশ ও জাতির কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রীদের আরও অভিমত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৮ দলের কর্মসূচির নামে নৈরাজ্যের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠিকমতো পরিচালিত হতে পারেনি। এর বিরূপ প্রভাবে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেছে। তবে তার বিশ্বাস চলতি মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক নৈরাজ্য শেষ হয়ে যাবে।
এবার তার মন্ত্রী হওয়ার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ছিল না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নতুন সরকারের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, এ সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মোকাবেলা করা। এটা করতে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবনির্বাচিত সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে_ এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের এ সদস্য বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পূর্ণ মেয়াদই দায়িত্ব পালন করবে সরকার।
সংলাপ প্রশ্নে সরকারের সর্বশেষ মনোভাব জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সমকালকে তিনি বলেছেন, মোট কথা প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তার সঙ্গেই আছি। এর বাইরে আর কোনো বক্তব্য নেই।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পথে পাকিস্তানিদের লেজুড়বৃত্তি করে, যারা দেশের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করে তাদের সঙ্গে কিসের সমঝোতা? গণতন্ত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক যারা, তাদের সঙ্গেই কেবল সমঝোতা হয়। যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, জঙ্গি কার্যক্রম করে তারা কি জনগণের ভাষা বোঝে? আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ইতিমধ্যে বিএনপি যেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে আমরা শক্ত হাতে দমন করেছি। এর পরও কেউ নৈরাজ্যের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ওবায়দুল কাদের সমকালকে বলেছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেই সরকার অগ্রাধিকার দেবে। আর এর মধ্যেই চলে আসবে জঙ্গিবাদ নির্মূলের কাজ।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এর চেয়েও কঠিন সময় পার করে এসেছেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে আরও কঠিন সময়েও দায়িত্বে ছিলেন। তাই বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় থেকে সামনের দিনে তিনি কোনো চ্যালেঞ্জই দেখছেন না। জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান বলেন, সরকার ভালোভাবে পরিচালিত হবে। রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও চিন্তিত নন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে গত পাঁচ বছরের অর্জন ধরে রেখে তাকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, পুরো 'শিক্ষা পরিবার' একটি দল হিসেবে কাজ করায় গত পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই অগ্রগতির কারণে জনপ্রত্যাশা বেড়েছে। সে প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে চাই। এ ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য ও অবহেলা করব না।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে যারা, তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। এ রকম একটি সংকটময় সময়ে তিনি মনে করেন, এ ধরনের অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সংস্কৃতি একটি বড় হাতিয়ার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে থেকে এ জায়গায় কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। যেভাবেই হোক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়ে অনেকাংশে শেষও হয়েছে। বিচারে ইতিমধ্যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তবুও বিচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসেনি সেটা তাদের ভুল বা ব্যর্থতা। জনগণ এ দলটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কেননা তারা জনগণের পাশে থাকেনি এবং জনগণও তাদের পাশে থাকবে না।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারলে খুশি হবেন তিনি।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, মন্ত্রী হিসেবে তাদের টার্গেট বিদ্যুৎ উৎপাদনকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের টার্গেট হচ্ছে পাঁচ বছরে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

যা খসে তা বসে না by রণজিৎ বিশ্বাস

প্রতিদিন কথা জমা হচ্ছে, প্রতিদিন কথা হারাচ্ছি। হারানো কথা হাতড়ালে দু'একদিন পরও মাঝে মধ্যে ফিরে পাই, তারপর আর পাই না। পাই না তো পাই-ই না। তখন মন বলে_ মানো আর না মানো, বয়স তোমার হয়েছে। সত্যি সত্যিই, বয়স কিছু হয়েছে। বয়স হয়েছে বলেই কম বয়সে পাওয়া এক বয়সী সহকর্মীর কথা খুব মনে পড়ছে। মিস্টার বিশ্বাস, আপনি কতটুকু মানের জানি না_ তারুণ্যে থাকে স্মৃতির জোর, বয়সকালে বোধের জোর। সতেরো আঠারো উনিশ কুড়ি বাইশ বছরের একটা তরুণ যত মনে রাখতে পারে, আমি এই পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বয়সে তত মনে রাখতে পারি না। আবার দেখুন, আমি যতটা বুঝতে পারি, যতটা পারি অনুভব করতে, সে ততটা পারে না।
একটা কুড়ি বাইশ বছরের ছেলে টেবিলে ঘুষি মেরে, হয়তো কাচ ভেঙেও কথা বলতে পারে। আমি তেমন পারি না। আমি দেখেছি, আমি বা আমার বয়সী মানুষের তা ইচ্ছেও করে না। আমাদের রুচিতে বাধে, আমরা বিশ্লেষণমুখী হই। আপনি ভালো করে দেখুন, আপনার মধ্যেও কিন্তু ক্রমশ তেমন একটা বোধ জাগছে।
কেউ আমাদের অসম্মান করলে বা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আমি তৎক্ষণাৎ উত্তেজিত হই না। আমি ভাবি, নিশ্চয়ই আমি কোনো অন্যায় করেছি, নিশ্চয়ই ওর উত্তেজনার কোনো কারণ না জেনে হলেও আমি ঘটিয়ে ফেলেছি। আমি কার্যকারণ সন্ধানের চেষ্টা করি।
পরে, আমি ওই সহকর্মীর বয়সে পেঁৗছার পর অনুভব করেছি, কথা সত্যি, কথাটা সহি। এই সহি কথার জন্যই আরেকটা অনুভব জীবনের যোগফল সবসময় সমান। কেউ কিছু পাচ্ছে, কেউ কিছু হারাচ্ছে। কিন্তু যোগফল সমানই থাকছে। পুরোপুরি সমান না হলেও মোটামুটি সমান। ভাবনাকে আরও যদি ছড়াই, চমকে চমকে বুঝতে পাই_ যে শ্রমজীবী কচুঘেচু খেয়ে মাথার 'পরে ইট দিয়ে ঘুমোয় এবং তার পেটে কোনো পীড়া হয় না সে লোক ওই লোকের চেয়ে কম সুখী নয় যার অর্থ ঠেললে ঠেলা যায় না, যার বিত্তের তার কাছে নেই, যার খাবার অপচয় করার সামর্থ্য আছে কিন্তু হজম করার ক্ষমতা নেই এবং ওষুধের পর ওষুধ খাওয়ার পরও চোখে তার ঘুম নেই।
আরেকজন শিক্ষক, কবি ওহীদুল আলম, সাহিত্যিক মাহবুব-উল-আলমের ছোট ভাই, যার আরেক ভাই নজরুল সুহৃদ দিদারুল আলম এবং যিনি দীর্ঘদিন ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক, চলি্লশ বছর আগে একদিন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে কয়েকটি শব্দের ইংরেজি উচ্চারণ শেখাতে শেখাতে (যেমন ঊভভড়ৎঃ-এর উচ্চারণ অ্যাফার্ট, অ্যাফট নয়; যেমন_ জরমড়ৎড়ঁং-এর উচ্চারণ রিগারাস, রাইগোরাস নয়; যেমন_ ঋৎড়হঃ-এর উচ্চারণ ফ্রান্ট, ফ্রন্ট নয়) আমাকে একটা বাক্য দিয়েছিলেন। "শোন 'দৌহিত্র'_ তোমারও একদিন বয়স হবে। বয়স যা ছাড়ায় তা আর ফেরায় না। এটি গাছের ঝরাপাতার মতো। তার বোঁটা যখন খসে, সেটি আর ডালে গিয়ে বসে না।
মনে আছে। কিন্তু মনে কিছু থাকলে ও মেনে কিছু নিলে যেমন আচরণ করতে হয়, যেমন ভীত ও সচেতন হতে হয়, যেমন করে কাজগুলো করতে হয় ও সংসারটাকে যেমন করে গোছাতে হয়, তেমন করে কিছু করা হলো না, হচ্ছেও না তেমন কিছু, হয়তো হবেও না কোনো দিন। কী জানি, হয়তো তেমন হয়ও না। উপদেশ যারা দিই, তারাও তা অনেক সময় মানি না, মানতে পারি না।
রণজিৎ বিশ্বাস : কথাসাহিত্যিক