Wednesday, May 28, 2014
পুলিশ থাকতে র্যাব কেন? by মশিউল আলম
হঠাৎ করে এ প্রশ্ন উচ্চারিত হলে বলা হতে পারে, কিসের সঙ্গে কিসের তুলনা! কোথায় এলিট ফোর্স র্যাব আর কোথায় সাধারণ পুলিশ! তবে এ মুহূর্তে প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক নয়৷ ১৯ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের অফিশিয়াল সংবাদ সাইট ডিএমপি নিউজ-এ ‘এবার অর্থ আত্মসাতে ১৮ র্যাব সদস্য প্রত্যাহার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পরপরই সেটা প্রত্যাহার, পুলিশের এই তথ্যকে র্যাবের পক্ষ থেকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করা এবং পরদিন র্যাবের ওই সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে র্যাব ও পুলিশের মধ্যে যে দ্বন্দ্বের আভাস মেলে, এ প্রশ্ন সেই পরিপ্রেক্ষিতেই৷ প্রশ্নটা মৌলিক: দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান ও অপরাধ দমনের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশাল পুলিশ বাহিনী থাকতে কেন র্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? যুক্তিটা কী?
র্যাব গঠন করা হয়েছিল ২০০৪ সালের মার্চে আর এই বাহিনী কাজ শুরু করে জুন থেকে। সেটা খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৃতীয় বছরে। র্যাব গঠনের পেছনে তাদের কী ভাবনা কাজ করেছিল, তা আমাদের জানার উপায় নেই। তবে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কিছু গোপনীয় তারবার্তার ভাষ্য থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গুরুতর অপরাধবৃত্তি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে র্যাব গঠনের আগে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নেতৃত্বে চালানো হয়েছিল ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে এক দুর্ধর্ষ অভিযান। তখন নিরাপত্তা হেফাজতে ৪৬ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছিল; কর্তৃপক্ষ বলেছিল, তাদের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। নাগরিক সমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সরকার একপর্যায়ে অপারেশন ক্লিন হার্ট বন্ধ করে ওই অভিযানে অংশগ্রহণকারী সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচার করা যাবে না বলে জাতীয় সংসদে দায়মুক্তি দেয়। অপারেশন ক্লিন হার্ট ছাড়াও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সরকার চিতা, কোবরা ইত্যাদি নামে পুলিশের একাধিক ইউনিটকে ব্যবহার করে এবং তাদের বিরুদ্ধেও ক্রসফায়ারসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রচুর অভিযোগ ওঠে। আসলে ‘ক্রসফায়ার’ হত্যাকাণ্ড র্যাব গঠনের পরে নয়, তার অনেক আগে থেকেই বিশেষত পুলিশের দ্বারা এটা ঘটে আসছে।
কিন্তু এসবের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি ঘটেনি। অপরাধ দমনের প্রধান দায়িত্ব যে পুলিশ বাহিনীর হাতে, তার অবস্থা এতই শোচনীয় যে একটা আশু কার্যকর বিকল্প পন্থা হিসেবে তৎকালীন সরকার র্যাব গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। র্যাব গঠনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এবং ভয়ংকর অপরাধীদের হাত থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে র্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’ তিনি মার্কিন দূতাবাসকে বলেন, র্যাব গঠনের শুরুর দিকে পুলিশ বাহিনী এতে অংশ নিতে অনাগ্রহী ছিল৷ কারণ ঘুষ ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে র্যাবের বাইরে থেকেই তারা অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করে।’ ২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিল মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের লেখা এক গোপনীয় তারবার্তা অনুযায়ী, বারী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে বসে থাকতেই
বেশি পছন্দ করেন।...পুলিশ বাহিনী কাজ করে বিশাল এক পিরামিডের মতো, যেখানে রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যটি থেকে শুরু করে ওপরের দিকের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া-নেওয়া চলতে থাকে।...পুলিশ বিভাগ তাদের সক্ষম সদস্যদের র্যাবে পাঠানোর ব্যাপারে অনাগ্রহী, তার পরিবর্তে তারা প্রায়শই বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অযোগ্য সদস্যদের পাঠাতে চায়। পুলিশের সদস্যদের গুলি করার মতো প্রাথমিক দক্ষতাগুলোর ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে; বিশেষ অভিযানের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ নেই।’
নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতা ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কাছেও সেটা বেশ সুবিদিত বিষয়। শুধু দুর্নীতি আর অদক্ষতাই নয়, পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের বিষয়েও মার্কিন কূটনীতিকেরা বেশ অবগত। এমন অবস্থায় র্যাব কাজ শুরু করার পর থেকে অপরাধবৃত্তি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে থাকলে র্যাবের প্রথম বর্ষপূর্তি বিশ্লেষণ করে লেখা এক গোপনীয় তারবার্তায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুডিথ শামাস মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে কুখ্যাত এবং রাজনৈতিকীকরণের শিকার—এই পটভূমিতে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের তৎপরতার ফলে এই বাহিনীর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।’ মোট কথা, পুলিশের ব্যর্থতা ও অকার্যকারিতার কারণেই মূলত সৃষ্টি হয়েছে র্যাব।

দুই. র্যাব-পুলিশ ঠান্ডা লড়াই
এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে র্যাব ও পুলিশের মধ্যকার সম্পর্কটি শুরু থেকেই মসৃণ নয়। গত বছর র্যাবে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন সরকারকে দেওয়া হয়েছিল, যেটিতে র্যাব ও পুলিশের সদস্যদের মধ্যে অন্তত ১৬টি অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ ছিল। এ বিষয়ে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘র্যাবে আসা সেনা কর্মকর্তারা মনে করেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সব সময় সেনা-বিদ্বেষ কাজ করে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও র্যাবের সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রবিশেষে সহযোগিতা করতে চান না। র্যাবকে পুলিশের জন্য ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে বেশি বয়সী, হৃদ্রোগী, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এমন পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। তাঁরা এসে কোনো কাজ করতে চান না।’ ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সেনা-বিদ্বেষ থাকায় সশস্ত্র বাহিনীগুলো থেকে আসা কর্মকর্তাদের নির্দেশ তাঁরা মানতে চান না।’
আর প্রথম আলোর উল্লিখিত প্রতিবেদন অনুযায়ী র্যাবের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ‘র্যাবে প্রেষণে আসা সেনা কর্মকর্তারা আইন বোঝেন না। ফৌজদারি আইন, পুলিশ প্রবিধান সম্পর্কে তাঁদের ধারণা যেকোনো পুলিশ সদস্যের চেয়ে অনেক কম। নবীন সেনা কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে মামলাও লিখতে পারেন না। র্যাবের কর্মকর্তারা আইন না বুঝে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে বললে পুলিশ কর্মকর্তারা সেটা করতে চান না বলে অনেক সময়ই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ক্রসফায়ার ছাড়া র্যাবের কোনো সাফল্য তাঁরা দেখেন না। আর ক্রসফায়ার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনের মধ্যে থেকে হয় না।’
তিন: পুলিশের সমস্যা র্যাবে সংক্রমিত
অকার্যকর পুলিশের কার্যকর বিকল্প হিসেবে র্যাবের যাত্রা শুরুর দিনগুলোতেই এমন প্রশ্ন উঠেছিল যে, যেসব সমস্যার কারণে পুলিশ বাহিনীর ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গেছে, র্যাবকেও যে সেই সমস্যাগুলো সংক্রমিত করবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? পুলিশের প্রধান সমস্যা দুটি: ব্যাপক দুর্নীতি আর প্রবল রাজনৈতিকীকরণ।
র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী ২০০৫ সালের জুনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে বলেছিলেন, র্যাবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুলিশের মতো না হওয়া। এর উপায় সম্পর্কে বারী বলেন, ‘যেসব সমস্যা পুলিশ বিভাগকে সংক্রমিত করেছে, র্যাবকে সেগুলোর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে উচ্চ নৈতিক আদর্শ ও মনোবল বজায় রাখতে হবে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে (যেমন চাঁদাবাজি) ধৃত র্যাবের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এটা হবে এসব প্রবণতা রোধের কার্যকর ব্যবস্থা।’
কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওই সব প্রবণতা রোধের ব্যবস্থা যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়নি। দিনে দিনে র্যাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বেড়েছে। শুধু চাঁদাবাজি নয়, অর্থের বিনিময়ে অপহরণ ও হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগ আছে অনেক, কিন্তু ‘কন্ট্যাক্ট কিলিংয়ের’ অভিযোগ শোনা যায় না, যা শোনা যাচ্ছে র্যাবের বিরুদ্ধে। আগে র্যাবের ক্রসফায়ারে প্রধানত দুর্বৃত্ত-সন্ত্রাসীরা মারা পড়ত বলে ক্রসফায়ার আইনসংগত না হলেও আমজনতা সেটা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এখন অর্থের বিনিময়ে র্যাবকে দিয়ে শত্রুতা চরিতার্থ করতে ক্রসফায়ার ঘটানো যায়—এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। ফলে র্যাব সম্পর্কে জনগণের ধারণা দিনে দিনে পুলিশের মতোই নেতিবাচক হয়ে উঠছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তাদের কোনো সদস্য আইন লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অপরাধ করলে তাঁর শাস্তি হয়। কিন্তু সেসব শাস্তি নিশ্চয়ই এমন কঠোর নয়, যা র্যাবের অন্য সদস্যদের একই ধরনের অপরাধ সংঘটনে নিরুৎসাহিত করতে পারে। নইলে তাঁদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ সংঘটনের ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে কেন?
দ্বিতীয় সমস্যা রাজনৈতিকীকরণ। পুলিশকে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের কাজ করা হয়, আবার দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়। ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সাতখুন পুলিশ দেখেও দেখে না। কিন্তু বিরোধী দলের বড় বড় নেতাকে ফাঁসানো হয় ককটেল ফাটানো কিংবা বাস পোড়ানোর মামলায়। এভাবে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল দুর্বল হয়েছে৷ ক্ষমতাসীনদের বাহিনী হিসেবে কাজ করতে করতে তারা সুযোগ পেয়েছে নিজেদের আখের গোছানোর। এই রোগ র্যাবের মধ্যে পুরো মাত্রায় সংক্রমিত হতে হয়তো আরও সময় লাগবে। কিন্তু র্যাবের রাজনৈতিকীকরণ যে কিছুমাত্রায় হলে ঘটতে পারে, আমেরিকান কূটনীতিকেরা সে কথা র্যাব গঠনের পরপরই সরকারকে বলেছিলেন।
র্যাবের রাজনৈতিকীকরণ পুলিশের মতো হবে না, হবে তার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক—এ রকম আশঙ্কা মার্কিন কূটনীতিকেরা ব্যক্ত করেছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০০৫ সালের জুনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসকে বলেছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি রাজনৈতিক কারণে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করার নির্দেশ র্যাবকে দেওয়া হয়, তাহলে র্যাব সরকারের সেই নির্দেশ পালন করবে না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন, ‘নৈতিক মূল্যবোধের কারণে আমি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারব না।’ কিন্তু ২০০৫-২০০৬ সালেই বিরোধী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে র্যাবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হত্যা সংঘটনের অভিযোগ উঠেছিল। আর এ আমলে তাদের বিরুদ্ধে আছে বিরোধী দলের একাধিক নেতাকে গুম করে দেওয়ার অভিযোগ।
পুলিশের সমস্যাগুলো র্যাবে আরও বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হলে র্যাব হয়ে উঠবে পুলিশের থেকে বেশি বিপজ্জনক৷ কারণ র্যাবের অস্ত্রবল, প্রশিক্ষণ ও ক্ষিপ্রতা বেশি কিন্তু জবাবদিহি কম৷ সেই সংক্রমণ থেকে র্যাবকে রক্ষা করার দায়িত্ব প্রধানত সরকারের, তবে র্যাবের নিজেরও সে ব্যাপারে আরও সচেষ্ট হওয়া উচিত৷
মশিউল আলম: লেখক ও সাংবাদিক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উড়ন্ত শৃগালের গল্প by আবুল হায়াত
খেলো খেলো তব নীরব ভৈরব খেলা’
গ্রীষ্মের দাবদাহ কাকে বলে, দেশের জনগোষ্ঠী টের পেয়েছে বেশ ভালো করে। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে মাসাধিককাল ধরে। ঘরে-বাইরে শান্তি আর স্বস্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না কোথাও। বাতাসও যেন বইতে ভুলে গিয়েছিল৷ অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ৷ দরদর করে ঘামছে মানুষ। গাছপালা নিঝুম নিশ্চুপ জড় পাথরের মতো থমথমে।
কাজ তো থেমে থাকেনি। এর ভেতরেও চলছিল কাজ। যদিও মন্থর গতিতে। শহরে-বন্দরে এসিগুলো দিবারাত্রি বিরামহীনভাবে চলছিল। বিদ্যুতেরও মাথা বিগড়ে গেল। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। তার ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা—বিদ্যুৎ বিল। নতুন দরে বিলের টাকার পরিমাণ যে কত বাড়ল, সেটা জানাবার দায়ভার যে কার কে জানে! এ সবকিছুতেই একটাই চিৎকার সবার অন্দরে-বাইরে।
প্রকৃতি গাইছিল তখন—
‘এসো শ্যামল সুন্দর/ আনো তব তাপহরা তৃষ্ণাহরা সঙ্গসুধা/ বিরহিনী চাহিয়া আছে আকাশে—’
শেষ পর্যন্ত এল। সে এল, আর বৃষ্টিস্নাত মানুষ, পশুপক্ষী এবং প্রকৃতি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল যেন। আজ সকালটা অন্য কিছুদিনের থেকে তাই বেশ অন্য রকম লাগছিল। উত্তরের খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম। চোখ গেল সেই জায়গাটিতে, যেখানে ছিল আমার সখা কদমগাছটি, ছিল চাঁপাগাছ, কৃষ্ণচূড়া, বকুল ফুলের গাছ। আজ কেউ নেই। সবাই বিদায় নিয়েছে। নগরায়ণের করালগ্রাসে মৃত্যু হয়েছে তাদের।
হঠাৎ নজর গেল পাশেরই আকিজ সাহেবের প্লটে। সেটিও খালি পড়ে আছে। সেখানে হঠাৎ তিনটি কৃষ্ণচূড়াগাছ যে বেশ সেয়ানা হয়েছে, এত দিন খেয়ালই করিনি৷ লালে লাল হয়ে রয়েছে গাছ তিনটি। চমৎকার। মনটা খুঁবই ভালো হয়ে গেল মুহূর্তে।
দরজায় কলবেল শুনে বুঝলাম পত্রিকা এসে গেছে। সাতটা অবশ্য বাজেনি এখনো। ছুটলাম পত্রিকা নিতে৷ নতুন কিছু পাওয়া যায় কি না, তার সন্ধানে। নাহ্। সেই যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী আর লক্ষ্মীপুর রয়েছে পত্রিকাজুড়ে। বিরাট দুই দলের কাদা ছোড়াছুড়ি তো রয়েছেই। এটাকে আমি অবশ্য প্রতিদিনই খবরের চাটনি হিসেবে উপভোগ করি। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে সম্পাদকীয় পাতায় চোখ আটকাল। সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের সাহেবের সাক্ষাৎকারটা দেখে পড়তে মন চাইল। ওঁর সম্পর্কে শুনেছি—নিপাট ভদ্রলোক। যদিও একই শিক্ষায়তনের ছাত্র আমরা, কোনো দিন আলাপ হয়নি। তাঁর জামাতা অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের কাছেও তাঁর অকুণ্ঠ প্রশংসা শুনেছি৷ এসব কারণেই উৎসাহিত হলাম, কী বলেন তিনি। নির্বিরোধী মানুষ বলেই হয়তো রাজনীতির কূটচালে পড়ে সরকারের বাইরে তিনি এখন। সাক্ষাৎকারটা ভালোই লাগল। তাঁর উল্লেখযোগ্য মন্তব্য, ‘একসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা যায় না।’ এটি আমাকে চিন্তায় ফেলল। আসলেই কি তাই? কি জানি। হয়তো যায়, হয়তো যায় না। তবে একটা কথা ঠিক যে এর জন্য শৃগালের মতো ধূর্ততা প্রয়োজন।
নাহ্! সকালে উঠে রাজনীতির কচকচি করার মানে হয় না কোনো। অন্য গালগল্প করা যাক।
শৃগালের কথায় নিশ্চয় আপনাদের মনে পড়ছে কাকের মুখ থেকে কৌশলে মাংস বাগিয়ে নেওয়ার কাহিনি। সে ছিল জঙ্গলের শিয়াল। কিন্তু উড়ন্ত শিয়ালের নাম শুনেছেন? নিশ্চয় জানেন আপনারা—বাদুড়। দারুণ এক প্রাণী। এরা পাখি হিসেবেই পরিচিত। একমাত্র স্তন্যপায়ী পাখি। শিয়ালের সঙ্গে বিজ্ঞানীরা এর কিছু মিল নিশ্চয় খুঁজে পেয়েছেন। তাই বাদুড়কে বলা হয় উড়ন্ত শৃগাল (Flying Fox)। এরা সাধারণত দুই প্রকার: ফলভোগী (কলাবাদুড়) আর পতঙ্গভুক (চামচিকা)৷ এরা ফাটল, গাছের খোঁড়ল, দেয়াল, পাথরের ফোকর, গুহা, পোড়ো দালান, পুলের তলা, সড়কের কালভার্ট, বড় বড় গাছ, পুরোনো কুয়া ইত্যাদি স্থানে বাস করতে ভালোবাসে। এক জায়গায় বহু বছর এরা মল ত্যাগ করে আর এদের মল স্তূপীকৃত হয়ে প্রচণ্ড ঝাঁজালো গন্ধ ছড়ায়।
বাদুড়ের গন্ধ এবং শব্দের বোধ অত্যন্ত তীব্র। এরা মুখ ও নাকের মাধ্যমে উচ্চ তরঙ্গের শব্দ উৎপাদন করে, যা শিকারকে আঘাত করলে প্রতিধ্বনি ফিরে আসে বাদুড়ের কানে—তারপর চলে শিকার। এরা গোধূলিচর বা নিশাচর। পেছনের পায়ের নখ দিয়ে আশ্রয় অাঁকড়ে ধরে ঝুলে থাকে। এদের প্রধান খাদ্য কলা, পতঙ্গ, মাকড়সা, মাছ, ব্যাঙ, ছোট ছোট সাপজাতীয় প্রাণী ইত্যাদি। শোনা যায়, কোনো কোনো বাদুড় রক্তও চুষে খায়। বছরে একবারই তিন থেকে পাঁচ মাস গর্ভধারণ করে একটি বাচ্চা প্রসব করে এবং মায়ের দুধ খেয়েই এরা বড় হয়।
আগেই বলেছি, এরা ফল খেতে যেমন পছন্দ করে, তেমনি পছন্দ করে ফলের রস পান করতে। তাই খেজুর রসের মৌসুমে দেখা যায় সারা রাত ধরে এরা মনের আনন্দে খেজুরগাছে রস খেতে থাকে। নিপাহ ভাইরাসের কথা মনে আছে৷ এই বাদুড়ই সেই আসামি, যে রসের হাঁড়িতে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়। আর কোনো কোনো বাদুড় জলাতঙ্ক ভাইরাসবাহী হলেও নিজে তাতে আক্রান্ত হয় না। সুতরাং কোনোক্রমে বাদুড়ের কামড় খেলে জলাতঙ্করোধী টিকা নিতে ভুলবেন না বন্ধুরা।
বাংলাপিডিয়া থেকে ধার করে উড়ন্ত শৃগাল তথা বাদুড় সম্পর্কে অনেক তথ্য দিলাম আপনাদের। কিন্তু একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারলাম না। তাই দ্বিধায় পড়লাম একটু।
ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, বাদুড় যে মুখ দিয়ে খায়, সেই মুখ দিয়েই মল ত্যাগ করে। কথাটা কি সত্য? সেটা কি সম্ভব?
হঠাৎ মাথায় উত্তরটা ঝিলিক দিয়ে উঠল।
যদি সংসদে একটি দল সরকারি দল হয়ে সরকারের গুণ গাইতে এবং বিরোধী দল হয়ে সমালোচনা (?) করতে পারে, তাহলে বাদুড় কেন একই মুখ দিয়ে খাবার খেতে ও মল ত্যাগ করতে পারবে না!
সুতরাং জি এম কাদের সাহেব, আপনার ধারণা ভুল।

একসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা যায়!
ঢাকা, ২৬ মে ২০১৪
আবুল হায়াত: নাট্যব্যক্তিত্ব।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিয়েনআনমেনের ঝাপটা by মিনঝিন পি
আগামী জুনের ৪ তারিখে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের আন্দোলনের ২৫ বছর পূর্তি হবে৷ এ প্রেক্ষাপটে দুটি প্রশ্ন সামনে এসে যায়: একটি হচ্ছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কীভাবে গত ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারল আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো, আগামী ২৫ বছর কি তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর বেশ সোজাসাপটা; রাজনৈতিকভাবে খাপ খাওয়ানো, সুচতুরভাবে জনমত নিয়ন্ত্রণ ও বার কয়েক ভাগ্যের সহায়তায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় রয়ে যায়৷ এর মাধ্যমে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শক্তিগুলোকে দমন করতে সক্ষম হয়৷
নিশ্চিতভাবেই গুরুতর কিছু ভুল হয়েছে৷ দেং যেসব উদারীকরণ শুরু করেছিলেন, রক্ষণশীল চীনা নেতারা তার রাশ টেনে ধরেছিলেন৷ ফলে, চীনা অর্থনীতি মন্দাক্রান্ত হয়৷ আর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করে৷
কিন্তু দেং আবারও পার্টিকে রক্ষা করতে সক্ষম হন৷ নিজের সব শক্তি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে জড়ো করে ৮৭ বছর বয়সী এই নেতা চীনের অর্থনীতিকে বাজারমুখী করে তোলেন৷ এতে যে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটে যায়, তা এক অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়৷ ফলে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ওপর মানুষের আস্থা বেড়ে যায়৷

দেং ও তাঁর উত্তরসূিররা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগ করার সুযোগ করে দেন, যেটা পরবর্তীকালে ভোগবাদ ও গণবিনোদনের সংস্কৃতির জন্ম দেয়৷ এই ‘রুটি ও সার্কাসের’ নতুন দুনিয়ায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে বিরোধী মত দমন করা সহজ হয়৷ সুকৌশলে চীনা জাতীয়তাবাদের ধুয়া তোলা হয়, অহেতুক বিদেশভীতিও সমাজে সৃষ্টি হয়৷ ফলে তাঁদের কাজ সহজ হয়৷
এমনকি নিপীড়নের মাধ্যমে এই জামানার ক্ষমতা সংহত হলেও এর একটি গা-সহা রূপ দাঁড়িয়ে যায়৷ চীনের নব্য প্রাপ্ত সম্পদ দিয়ে সে দেশের নেতারা বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক ‘ইন্টারনেট ফায়ারওয়াল’ গড়ে তুলতে সক্ষম হন৷ আর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও সবচেয়ে কার্যকর যন্ত্রপাতি দিয়ে ঢেলে সাজানো সম্ভব হয়৷
চীনে একটি ক্ষুদ্র ও সহনশীল বিরোধী সম্প্রদায় আছে৷ এদের মোকাবিলা করতে দেশটি ‘শিরশ্ছেদ’-এর নীতি গ্রহণ করেছে৷ অন্য কথায়, সরকার সব হুমকিই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে, বিরোধিতাকারী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে৷ লিও শিয়াওবা ২০১০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেও বৈশ্বিক মত উপেক্ষা করে তাঁকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷
এই পথ মানববিদ্বেষী হলেও তা কাজে দিয়েছে৷ তবে কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে পার্টি ভাগ্যবান না হলে এই সফলতা আসত না৷ নতুনদের জ্ঞাতার্থে বলছি, ১৯৯২ সাল পরবর্তী চীনের সংস্কার কর্মসূচি বিশ্বায়নের বাড়বাড়ন্তের কারণে ফুলেফেঁপে ওঠে৷ এর ফলে চীনের বিপুল পরিমাণ পুঁজির (১৯৯২ সাল থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার) অনুপ্রবেশ ঘটে৷ নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পশ্চিমা বাজারে বাধাহীন প্রবেশ ঘটে চীনের৷ ফলে, চীন সারা দুনিয়ার ‘ওয়ার্কশপ’-এ পরিণত হয়, ২০০৭ সালের মধ্যে তার রপ্তানি ১০ গুণ বেড়ে যায়৷
আরেকটি ব্যাপার চীনের খুব কাজে দেয়, সেটা হচ্ছে তার জনসংখ্যার তথাকথিত অনুপাত৷ সে সময় শিশু ও বৃদ্ধদের তুলনায় কর্মক্ষম শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যায়৷ এতে চীন বিপুল পরিমাণ স্বল্পমজুরির শ্রমিক পেয়ে যায় আর পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় খরচও কমে যায়৷ এর সুফল চীনের অর্থনীতি পাচ্ছে৷
যেসব কারণে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঘটনার পর চীনের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যার অনেকগুলোরই এখন আর অস্তিত্ব নেই বা সেগুলো বিলীন হওয়ার পথে৷ বাস্তব কারণেই বাজারমুখী সংস্কারের মৃত্যু ঘটেছে৷ সরকারি কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবার ও তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসায়ীরা সেখানে এক রাজত্ব তৈরি করেছেন৷ চীনকে তাঁরা উপনিবেশ বানিয়ে ফেলেছেন, এমন কোনো সংস্কার তাঁরা হতে দেবেন না, যার ফলে তাঁদের সুযোগ-সুবিধা কমে যেতে পারে৷
উপরন্তু, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এখন আর সমৃদ্ধির কথা বলে ভোট টানতে পারবে না৷ ব্যাপক দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, পরিবেশ বিপর্যয় সাধারণ মানুষের (বিশেষত মধ্যবিত্ত, যাঁরা একসময় সংস্কারের স্বপ্ন দেখতেন) কাঁধে দৈত্যের মতো উঠে বসেছে৷ ফলে, তাঁরা ক্রমেই নির্মোহ হয়ে পড়ছেন৷
বুড়ো মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে৷ ফলে, জনসংখ্যার অনুপাতের যে সুবিধা তাঁরা ভোগ করতেন, সেটা আর নেই বললেই চলে৷ চীন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক, বিশ্ববাজারে ১১ শতাংশই হচ্ছে তাদের অবদান৷ ফলে, আগামী দিনে রপ্তানি বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷
ফলে তিয়েনআনমেন পরবর্তীকালে এখন নিপীড়ন ও জাতীয়তাবাদ ছাড়া চীনের হাতে আর কিছু নেই৷ এ দুটিই পার্টির জীবন রক্ষা করতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাতে প্রধান অস্ত্র৷
শি আরও দুটি হাতিয়ার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন৷ একটি হচ্ছে নজিরবিহীন দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা, আরেকটি হচ্ছে বাজারমুখী সংস্কার পুনরুজ্জীবিত করা৷ এখন পর্যন্ত তাঁর দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাই অর্থনৈতিক সংস্কারের চেয়ে বেশি সফল৷
ওপরে ওপরে শির কৌশল জুতসই বলে মনে হয়৷ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা ও গভীর অর্থনৈতিক সংস্কারের কর্মসূচির কারণে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব অনিবার্য৷ প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণকে সঙ্গে না নিয়ে তিনি কীভাবে বিরোধিতা মোকাবিলা করবেন৷ জনগণ জড়ো হলে এই একদলীয় শাসন হুমকির মুখে পড়বে৷
১৯৮৯ সালের পর যাঁরা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অপমৃত্যু দেখেছিলেন, পার্টি তাঁদের মিথ্যা প্রমাণ করেছে৷ পার্টি টিকে আছে, এমনকি কোনো হুমকি এলে আগেভাগে তা মোকাবিলা করেছে৷ আরও ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে তার সামনে প্রতিবন্ধকতাগুলোর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে৷ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম৷
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন
মিনঝিন পি: ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের সরকার বিভাগের অধ্যাপক৷ তিনি একই সঙ্গে জার্মান মার্মাল ফান্ড অব দি ইউনাইটেড স্টেটসের অনাবাসী জ্যেষ্ঠ ফেলো৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লি হনুজ দূর অস্ত by আলী ইমাম মজুমদার

ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিনই আমাদের প্রধান দলগুলোর নেতারা নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। এটা সংগত ও স্বাভাবিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার। তবে সেদিনই খবরের কাগজের দুটো শিরোনাম কিছুটা বিব্রতকর। সেগুলো হচ্ছে ‘কংগ্রেসের ভরাডুবিতে আ.লীগে অস্বস্তি’ ও ‘বিজেপির বিজয়ে বিএনপিতে উচ্ছ্বাস’। ভারত কে শাসন করবে, তা নির্ধারণ করবে সে দেশের জনগণ। তাই বাইরের কারও পছন্দ-অপছন্দের ধার না ধেরেই তাঁরা বিজেপির হাতেই শাসনভার তুলে দিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে সরকারের সঙ্গে সব দেশকে কাজ করতে হবে। এ প্রস্তুতি আমাদের আগে থেকেই থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তা ছিল বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।
অন্যদিকে, বিজেপির বিজয়ে বিএনপি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে কেন, তাও দুর্বোধ্য। সে দলটি বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে বলে কি তারা ভেবে বসে আছে? এভাবেই কি চলবে এ দেশের রাজনীতি? এ উচ্ছ্বাস নিয়ে তার পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপিকে আহাম্মকের দল বললেন। এর পরদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা ও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন। বিএনপিপ্রধানও যুগপৎ ফোনে নরেন্দ্র মোদিকে জানান অভিনন্দন। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মন্তব্য করেন, ‘বিজেপির জয়ে আ.লীগ নার্ভাস’। আবার সংবাদপত্রের শিরোনাম আসে, ‘মোদির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির প্রতিযোগিতায় আ.লীগ ও বিএনপি’। দল দুটোর মধ্যে চলতেই থাকে এ ধরনের মন্তব্য আর পাল্টা মন্তব্য। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য ‘মোদির বিজয়ে পরিবর্তন দেখাটা বিরোধী দলের সুখবিলাস’।
ভারত স্বাধীনতাসংগ্রামে আমাদের পরীক্ষিত মিত্র। বিশাল এ দেশটি আমাদের তিন দিক বেষ্ট করে আছে। স্থলসীমান্তের কিছু অপদখলীয় জমি ও ছিটমহল বিনিময়ের সিদ্ধান্ত ছিল ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে। দুর্ভাগ্যবশত কোনো না কোনো বাধায় চুক্তিটি আজও (বেরুবাড়ি ও তিনবিঘা ব্যতীত) বাস্তবায়িত হয়নি। ৫৪টি নদী বয়ে গেছে আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে, যেগুলোর উৎস ভারত কিংবা তারও উজানে। গঙ্গা ছাড়া উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে কোনো চুক্তি নেই। তিস্তার চুক্তি হতে গিয়েও ঠেকে গেছে। স্থলসীমান্ত বিনিময়ের জন্য আগের চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছে। সেটাও ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করেই আগের সরকার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে এর বেশি অগ্রগতি হয়নি। বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের প্রতিকূলে দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। সীমান্তে বিএসএফের বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাও থামছে না।
উল্লেখ করতে হয়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ভারতে চলে যাওয়া শরণার্থীরা ফেরত আসে। জনসংহতি সমিতির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি দীর্ঘদিন চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আপাত অবসান ঘটিয়েছে। এসব বিষয়ে ভারতের তাৎপর্যপূর্ণ সহযোগিতা ছিল। আবার ২০০৯ সালের সূচনায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ থাকা কতিপয় সশস্ত্র সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকর সহযোগিতা করে। নৌপথে ট্রানজিটব্যবস্থার সম্প্রসারণ হয়। স্থলপথেও তা সীমিত আকারে চলে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে নদীতে বাঁধ দিয়েও। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের জন্য স্থল ও রেলপথ ব্যবহারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো সবই উভয় দেশের সঙ্গে সম্প্রীতিসুলভ সম্পর্ক জোরদারের জন্য আবশ্যক। বস্তুত উদীয়মান পরাশক্তি ভারত, বাংলাদেশের জন্য বাস্তবতা। ঠিক তেমনি এ বিশাল দেশটির সাতটি রাজ্যের মধ্যে অবস্থানকারী বাংলাদেশও ভারতের জন্য একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। খোলামন আর দেওয়া-নেওয়ার মনোভাব নিয়ে কাজ করলে দুই দেশই বিরাজমান ভৌগোলিক অবস্থায় লাভবান হতে পারে। সবাই চায় সে পথে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
দিল্লির ক্ষমতা বদল নিয়ে দুটো প্রধান দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য আর পাল্টা বক্তব্য কিন্তু আমাদের জাতীয় মর্যাদার পরিপন্থী। এটা তাঁরা জানেন কিন্তু মানেন বলে মনে হয় না। দীর্ঘকাল ধরেই এ প্রবণতা চলে আসছে। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ভারতের নতুন সরকারের নেকনজরে আসতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রেও তারা সমমর্যাদায় কথা বলতে গিয়ে কিছুটা হোঁচট খাবে।
পেছনের ভাবমূর্তি যা-ই থাকুক, নরেন্দ্র মোদি আজ ভারতের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। আর আমাদের প্রধান দলগুলো মিলেমিশে নির্বাচন নামক প্রতিষ্ঠানটিকেই বিপন্ন করে ফেলেছে। ফুটবল, ক্রিকেটের মতো নির্বাচনেও আমরা এখন মূলত দর্শকের জাতি। বিশাল ভারতের ৮২ কোটি ভোটারের মহাযজ্ঞ দেখলাম দেড় মাস ধরে। প্রতিনিয়ত পড়লাম বিভিন্ন খবর ও মতামত। অন্যদিকে নিজ দেশের সে নির্বাচনব্যবস্থাটিই আজ পঙ্গু আর হতশ্রী। অথচ প্রধান দলগুলো চাইলে এ অবস্থার অবসান সম্ভব। সবার অংশগ্রহণে নির্বাচিত সরকার শুধু ভারত নয়, অন্য সব দেশের সঙ্গেই কথা বলতে পারবে অনেক বেশি মর্যাদার সঙ্গে।
ভারতের সদ্য ক্ষমতা থেকে যাঁরা বিদায় নিলেন, তাঁরা অনেক কিছু করার আশ্বাস দিলেও তেমন কিছুই কিন্তু করেননি। সবে ক্ষমতায় আসা বিজেপির নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বাংলাদেশবিষয়ক কিছু বক্তব্য নতুন প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। তদুপরি নরেন্দ্র মোদি গুজরাট সরকার পরিচালনাকালে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নৈতিক দায়ভারও তাঁর পিছু ছাড়ছে না। তবে আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে নির্বাচন-পরবর্তীকালে বিজেপি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
উল্লেখ্য, আগেও ভারতে বাজপেয়ির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ছিল। তখন সে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকারগুলো কাজ করেছে। সে সময় ভিন্নতর কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, এমনটি দেখা যায়নি। মনে করা হয়, এখনো তাই হবে। নরেন্দ্র মোদি বাস্তবতার নিরিখে পরিচালনা করবেন ভারত সরকার। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ এই দেশগুলোর প্রতি তাঁর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতবহ বলেও মনে করা যায়। তবে সীমাবদ্ধতা থাকবে তাঁরও। বাংলাদেশের প্রয়োজনের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতে তাঁরও আবশ্যক হবে সীমান্তবর্তী রাজ্য সরকারগুলোর সমর্থন। এর জন্য আমাদের প্রয়োজন বিরামহীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আর ধৈর্য ও সংযম।
ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরপরই নতুন চমক ঘটবে কিংবা তাদের সহায়তায় বাংলাদেশের ক্ষমতাকাঠামোয় পরিবর্তন আসবে, এমনটা যাঁরা ভাবেন বা বলেন, তাঁদের বিষয়ে মন্তব্য না করাই শ্রেয়। তাঁদের কিন্তু দিল্লির ক্ষমতাকাঠামো সম্পর্কে জানার কথা। সেখানে একটি পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে। রাতারাতি তাতে পরিবর্তন আসে না। তবে সে পদ্ধতির যোজন যোজন দূরত্ব মুহূর্তেই পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। কিন্তু এরপর? চিঠি, টেলিফোন আর তড়িঘড়ি প্রতিনিধি পাঠিয়ে দ্রুত কোনো প্রতিকার কেউ পাবেন, তেমন সুযোগ আপাতত দৃশ্যমান হচ্ছে না। আকাশপথে দিল্লির দূরত্ব মাত্র দুই ঘণ্টার। তবে যাযাবরের দৃষ্টিপাত বইটিতে সুফি সাধক হজরত নিজাম উদ্দিন (রহঃ)-এর সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে একটি উক্তি এখানে উল্লেখ করতে হয়। তা হলো, ‘দিল্লি দূর অস্ত’। ‘দিল্লি হনুজ দূর অস্ত’। দিল্লি অনেক দূর। দিল্লি এখনো অনেক দূর।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন্নি মুখ খুললেন by মাহমুদ মানজুর

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা নিয়ে বিতর্ক by শুভজ্যোতি ঘোষ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লি হনুজ দূর অস্ত
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উড়ন্ত শৃগালের গল্প
খেলো খেলো তব নীরব ভৈরব খেলা’
গ্রীষ্মের দাবদাহ কাকে বলে, দেশের জনগোষ্ঠী টের পেয়েছে বেশ ভালো করে। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে মাসাধিককাল ধরে। ঘরে-বাইরে শান্তি আর স্বস্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না কোথাও। বাতাসও যেন বইতে ভুলে গিয়েছিল৷ অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়েছে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ৷ দরদর করে ঘামছে মানুষ। গাছপালা নিঝুম নিশ্চুপ জড় পাথরের মতো থমথমে। কাজ তো থেমে থাকেনি। এর ভেতরেও চলছিল কাজ। যদিও মন্থর গতিতে। শহরে-বন্দরে এসিগুলো দিবারাত্রি বিরামহীনভাবে চলছিল। বিদ্যুতেরও মাথা বিগড়ে গেল। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। তার ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা—বিদ্যুৎ বিল। নতুন দরে বিলের টাকার পরিমাণ যে কত বাড়ল, সেটা জানাবার দায়ভার যে কার কে জানে! এ সবকিছুতেই একটাই চিৎকার সবার অন্দরে-বাইরে। প্রকৃতি গাইছিল তখন—
‘এসো শ্যামল সুন্দর/ আনো তব তাপহরা তৃষ্ণাহরা সঙ্গসুধা/ বিরহিনী চাহিয়া আছে আকাশে—’
শেষ পর্যন্ত এল। সে এল, আর বৃষ্টিস্নাত মানুষ, পশুপক্ষী এবং প্রকৃতি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল যেন। আজ সকালটা অন্য কিছুদিনের থেকে তাই বেশ অন্য রকম লাগছিল। উত্তরের খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম। চোখ গেল সেই জায়গাটিতে, যেখানে ছিল আমার সখা কদমগাছটি, ছিল চাঁপাগাছ, কৃষ্ণচূড়া, বকুল ফুলের গাছ। আজ কেউ নেই। সবাই বিদায় নিয়েছে। নগরায়ণের করালগ্রাসে মৃত্যু হয়েছে তাদের। হঠাৎ নজর গেল পাশেরই আকিজ সাহেবের প্লটে। সেটিও খালি পড়ে আছে। সেখানে হঠাৎ তিনটি কৃষ্ণচূড়াগাছ যে বেশ সেয়ানা হয়েছে, এত দিন খেয়ালই করিনি৷ লালে লাল হয়ে রয়েছে গাছ তিনটি। চমৎকার। মনটা খুঁবই ভালো হয়ে গেল মুহূর্তে। দরজায় কলবেল শুনে বুঝলাম পত্রিকা এসে গেছে। সাতটা অবশ্য বাজেনি এখনো। ছুটলাম পত্রিকা নিতে৷ নতুন কিছু পাওয়া যায় কি না, তার সন্ধানে। নাহ্। সেই যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী আর লক্ষ্মীপুর রয়েছে পত্রিকাজুড়ে। বিরাট দুই দলের কাদা ছোড়াছুড়ি তো রয়েছেই। এটাকে আমি অবশ্য প্রতিদিনই খবরের চাটনি হিসেবে উপভোগ করি। পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে সম্পাদকীয় পাতায় চোখ আটকাল। সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের সাহেবের সাক্ষাৎকারটা দেখে পড়তে মন চাইল।
হঠাৎ মাথায় উত্তরটা ঝিলিক দিয়ে উঠল। যদি সংসদে একটি দল সরকারি দল হয়ে সরকারের গুণ গাইতে এবং বিরোধী দল হয়ে সমালোচনা (?) করতে পারে, তাহলে বাদুড় কেন একই মুখ দিয়ে খাবার খেতে ও মল ত্যাগ করতে পারবে না! সুতরাং জি এম কাদের সাহেব, আপনার ধারণা ভুল। একসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা যায়! ঢাকা, ২৬ মে ২০১৪
আবুল হায়াত: নাট্যব্যক্তিত্ব।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখবেন মোদি
![]() |
| নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে গতকাল নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশি–বিদেশি চার হাজারের বেশি অতিথি। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবচেয়ে প্রবীণ মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লাহ
![]() |
| নাজমা আকবর আলী হেপতুল্লাহ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট
![]() |
| মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়ায় ভোট দেওয়ার পর সাবেক সেনাপ্রধান সিসি–সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাজপেয়ির সঙ্গে যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু হবে
![]() |
| নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে গতকাল শপথ নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি (বাঁয়ে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছবি: এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1373)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
May
(496)
-
▼
May 28
(12)
- পুলিশ থাকতে র্যাব কেন? by মশিউল আলম
- উড়ন্ত শৃগালের গল্প by আবুল হায়াত
- তিয়েনআনমেনের ঝাপটা by মিনঝিন পি
- দিল্লি হনুজ দূর অস্ত by আলী ইমাম মজুমদার
- তিন্নি মুখ খুললেন by মাহমুদ মানজুর
- ভারতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা নিয়ে বিতর্ক by শুভজ্যোতি...
- দিল্লি হনুজ দূর অস্ত
- উড়ন্ত শৃগালের গল্প
- একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখবেন মোদি
- সবচেয়ে প্রবীণ মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লাহ
- মিসরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট
- বাজপেয়ির সঙ্গে যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু হবে
-
▼
May 28
(12)
-
▼
May
(496)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



