Friday, October 31, 2025
নিউইয়র্কের ইহুদি ভোটারদের মন জয় করতে কী কৌশল নিচ্ছেন জোহরান মামদানি
ওই প্রার্থনা সভা ছাড়াও সম্প্রতি বিভিন্ন সিনাগগে এবং ইহুদিদের মহা পবিত্র দিনগুলোর উৎসবে অংশ নিয়েছেন জোহরান। এটি স্পষ্টভাবে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।
আগামী ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগেই জোহরান এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথে হাঁটছেন, যেখানে একদিকে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের ইসরায়েলবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান, অন্যদিকে তিনি বিশাল ইহুদি জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায়েও কাজ করে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বোডোইন কলেজে পড়ার সময় জোহরান সেখানে ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ নামের একটি সংগঠনের শাখা চালু করেছিলেন। এর প্রায় এক দশক পর তিনি পরিচিতি পেতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের নির্ভীক ও প্রকাশ্য ফিলিস্তিনিপন্থী অবস্থান তাঁর রাজনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তা বিরোধীদের কাছে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুও হয়ে দাঁড়ায়।
জোহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে একাধিক প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন। যেমন বেন্ড দ্য আর্ক, জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশন এবং জিউস ফর রেসিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস (জেএফআরইজে)। এসব সংগঠন প্রকাশ্যে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করেছে এবং জোহরানের প্রচারে মাঠে নেমেছে।
অন্যদিকে, বর্জন, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র বলতে অস্বীকৃতি জানানোয় উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী, কংগ্রেসের ইহুদি ডেমোক্র্যাট ও জায়নবাদী অধিকারগোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ছেন এই মেয়র প্রার্থী।
জোহরানকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও জরিপে দেখা যাচ্ছে, নিউইয়র্কে বসবাসরত ইহুদি ভোটারদের মধ্যে জোহরান মামদানিই সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
গত জুলাইয়ে জেনিথ রিসার্চ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, জোহরান ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ১৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এমনকি বিভিন্ন ইহুদি উপগোষ্ঠীর মধ্যেও এগিয়ে আছেন তিনি।
গবেষক অ্যাডাম কার্লসন বলেন, ‘ইহুদি সমাজের মধ্যে ধর্ম, বয়স, রাজনীতিসহ নানা বিভাজন রয়েছে। আমাদের জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ইহুদি ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে জোহরানের প্রতি সমর্থন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।’
জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক এবং সিনাগগ কোলট চায়েনুর সদস্য বেথ মিলার বলেন, রোশ হাসানাহর প্রার্থনা সভায় জোহরান উপস্থিত হওয়ায় মানুষ এত খুশি হয়েছিলেন যে তাঁরা প্রার্থনা শেষে তাঁকে ঘিরে ভিড় করেন। সেলিব্রিটি হওয়ার কারণে নয়, বরং তাঁরা উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে তিনি মেয়র হলে হয়তো সবাই মিলে নতুন কিছু গড়ে তোলা যাবে।
আরেক প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন জেএফআরইজের সঙ্গে জোহরানের সম্পর্ক আরও পুরোনো। ২০২০ সালে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় থেকেই সংগঠনটির নির্বাচনী শাখা দ্য জিউইশ ভোট তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল। সংগঠনটির সদস্যরা নিয়মিত প্রচার ও বিক্ষোভে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন।
সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিচালক অ্যালিসিয়া সিংহাম গুডউইন বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার হয়েছি। এটা প্রমাণ করে যে তিনি (জোহরান) তাঁর নৈতিক অবস্থানে অটুট রাখতে বড় ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত।’
কেবল প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠনগুলোর সমর্থন নয়, বরং ইহুদি ভোটারদের মনে আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে কৌশলগত প্রচেষ্টাও জোহরানকে সাফল্য এনে দিচ্ছে।
নিউইয়র্কের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দ্য নিউ স্কুলের অধ্যাপক ভ্যাল ভিনোকুর বলেন, জোহরান প্রগতিশীল জায়নবাদীদের কাছে টানতে তাঁর ভাষা ও বক্তব্যে ভারসাম্য রাখছেন। এতে তাঁর জায়নবাদবিরোধী সমর্থকদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হলেও, রাজনৈতিকভাবে এটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ।
একসময় বিতর্কিত স্লোগান ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা’–এর পক্ষে জোহরান মামদানির দৃঢ় অবস্থান ছিল। ফিলিস্তিনপন্থী এই স্লোগানকে সমর্থনের কারণে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে জোহরানের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এই স্লোগানের ব্যবহারকে তিনি নিরুৎসাহিত করবেন। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনে কৌশলের একটি অংশ।
গাজা যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ডেমোক্র্যাট মেয়র প্রার্থী এক বিবৃতিতে হামাসের হামলাকে ‘নৃশংসতা’ এবং গাজায় ইসরায়েলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেন। এ কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে গবেষক অ্যাডাম কার্লসন বলেন, জোহরান এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা কাউকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করেনি; কখনো কখনো সেটাই একজন নেতার কাজ।
ইহুদি সমাজের রাজনৈতিক বিভাজন এখন আগের চেয়ে জটিল। তরুণ, উদারপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদিরা ক্রমেই ফিলিস্তিনপন্থী হয়ে উঠছেন।
বেথ মিলার বলেন, জায়নবাদের ইতিহাস যত পুরোনো, এটির বিরোধিতার ইতিহাসও তত পুরোনো। আমি ৭০-৯০ বছর বয়সী বহু ইহুদির কাছে শুনেছি, তাঁরা আজীবন জায়নবাদের বিরোধী ছিলেন। কারণ, তাঁরা কখনোই কোনো জাতিরাষ্ট্রকে নিজেদের পরিচয়ের প্রতীক মনে করেননি।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ইহুদি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক জনাথন বয়ারিন বলেন, যাঁরা জায়নবাদের বিরোধিতা ও ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে ফেলেন, তাঁরা মূলত চরমপন্থার মানুষ। জোহরান মামদানি তাঁদের মতো নন।
অধ্যাপক ভিনোকুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া সরে না দাঁড়ালে জোহরান প্রায় নিশ্চিতভাবে নির্বাচনে জয়ী হবেন। তিনি বলেন, জোহরান তাঁর জায়নবাদবিরোধী অবস্থান সত্ত্বেও ইহুদিদের ভোট পাবেন। কারণ, তরুণ ইহুদিরা এখন শহরটিকে আরও বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী ও ন্যায়সংগত দেখতে চান।
![]() |
| নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামাস নিরস্ত্র হোক, চান না ৭০ শতাংশ ফিলিস্তিনি
এ নিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজাজুড়ে একটি জরিপ চালিয়েছে ফিলিস্তিনি নীতি ও জরিপ গবেষণাকেন্দ্র (পিসিপিএসআর)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বলেছেন, তাঁরা হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ঘোরবিরোধী। হামাস নিরস্ত্র না হলে ইসরায়েল আবার হামলা শুরু করতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকার পরও তাঁরা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির অস্ত্র ছাড়ার পক্ষে নন।
২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এ জরিপ পরিচালিত হয়। গত মঙ্গলবার জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপের প্রতিবেদনে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে। সেখানে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বলেছেন, তাঁরা চান হামাসের সশস্ত্র শাখা (ইজ্জেদিন আল–কাসাম ব্রিগেড) নিজেদের অস্ত্র ধরে রাখুক।
অধিকৃত পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অধীন পরিচালিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল ফাতাহ। মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহর সঙ্গে হামাসের মতবিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে গাজার ৫৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা করেছেন।
মোট ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি এ জরিপে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৬০ জন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ৪৪০ জন গাজার বাসিন্দা।
মুখোমুখি কথা বলে এ জরিপ পরিচালিত হয়েছে। পরে সমীক্ষার উত্তরগুলো এমন একটি সার্ভারে জমা হয়, যেখানে শুধু পিসিপিএসআর গবেষকদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। জরিপটির ত্রুটির সীমা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
কেন ফিলিস্তিনিরা হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিরোধিতা করছেন, তার উত্তরও জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, গাজা যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্প যে শান্তি পরিকল্পনা করেছেন, তা নিয়ে তাঁরা গভীরভাবে সন্দিহান।
জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করেন, ট্রাম্প এ যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পারবেন না।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় বেশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে। সেখানে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা এ পরিকল্পনা নিয়ে সন্দিহান, গাজায় ৫৪ শতাংশ ফিলিস্তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ৯ অক্টোবর মিসরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। পরদিন ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
![]() |
| জিম্মিদের দেহাবশেষ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের সময় এক হামাস যোদ্ধাকে অস্ত্রহাতে দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুম্বাইয়ে আচমকা জিম্মি হওয়া ১৭ শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করলেও জিম্মিকারী ব্যক্তি একগুঁয়ে আচরণ করায় বলপ্রয়োগ করে ভবনে প্রবেশ করতে হয়। পরে সব জিম্মিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। জিম্মিকারীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। যদিও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে মুম্বাইয়ের পওয়াই এলাকার ব্যস্ত মহাবীর ক্লাসিক ভবনে। যেখানে একটি বিদ্যালয়ে অভিনয়ের অডিশন চলছিল। সেখানেই ওই ব্যক্তি হঠাৎ ঢুকে শিশুদের জিম্মি করে ফেলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেকে রোহিত আর্য নামে পরিচয় দিয়ে বলছেন, তিনি কয়েকজনের কাছে কিছু প্রশ্ন করতে চান। জিম্মিকারী বলেন, আমার দাবি সাধারণ, নৈতিক ও আদর্শিক। আমি সন্ত্রাসী নই, অর্থও চাই না। ভিডিওতে তাকে ক্রমাগত হুমকি দিতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি বলেন, একটিমাত্র ভুল পদক্ষেপই আমাকে উত্তেজিত করবে। প্রয়োজনে ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি এয়ারগান ও কিছু রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার দত্তা নালাওয়াড়ে সাংবাদিকদের বলেন, জিম্মিকারী সশস্ত্র ছিলেন কি না, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে। এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি রোহিত আর্য আসলে কে এবং তিনি কাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এর পরিণতি কি?
অনেকে বলছেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে জামায়াতের উচ্চাকাক্সক্ষা পরিস্থিতিকে ক্রমে ঘোলাটে করছে। পিআর দাবি নিয়ে শুরুতে সরব জামায়াত এখন নির্বাচনের আগে গণভোট দাবিতে অনড়। দলটির এই দাবির সঙ্গে সমমনা কয়েকটি দলও আছে। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ জমা দেয়ার পর এই গণভোট ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে যদিও ভোটের আগে গণভোট হয় এবং বিএনপি এতে অংশ না নেয় তাহলে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে। আর নির্বাচনে যদি ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হয় তখন সরকার ও কমিশন কি করবে। প্রধান উপদেষ্টা বার বারই বলে আসছেন তিনি জাতিকে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে চান। কিন্তু সরকার এবং কমিশন যে পরিস্থিতি তৈরি করছে এতে প্রধান উপদেষ্টার এই প্রতিশ্রুতি পূরণও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
ওদিকে জুলাই সনদ এর আইনি ভিত্তি ও এর বাস্তবায়নে সরকার এবং কমিশনের কৌশল নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মানবজমিনকে বলেন, ৪৮ দফা প্রস্তাবকে সংবিধানে তফসিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে, সেটা করা হলে আইনি জটিলতা হতে পারে এবং এগুলো সবই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এভাবে গণভোট হয় না, গণভোটের প্রক্রিয়া হচ্ছে আগে সংসদে পাস হয়ে জনগণের কাছে যেতে পারে গণভোটের জন্য। কিন্তু এখন উল্টো হয়েছে আগে গণভোট তারপর সংসদে যাবে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের দেয়া সুপারিশে বলা হয়েছে নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিবস বা নয় মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সেগুলো যুক্ত হবে তাহলে আলোচনার যৌক্তিকতা কি? কোনো সংসদকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করা যায় না এগুলো আইনের মূল কথা। গণভোট দেয়ার ক্ষমতা তাদেরকে কে দিয়েছে? তারা তো নির্বাচিত নন। এছাড়া সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করাসহ সংবিধান সংস্কারের যে বিষয়গুলো আনা হয়েছে, সেগুলো বর্তমান সংবিধানে নেই। ফলে সেগুলো তফসিল হিসেবে যুক্ত করা হলে বর্তমান সংবিধান বাদ দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য হুবহু তফসিল হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এর বাইরে সংস্কারের কোনো বিষয় তফসিল হিসেবে যুক্ত করা হলে সে সম্পর্কে সংবিধানের পুরনো বিধানও বহাল থেকে যায়। সেখানেই সংঘর্ষিক হওয়ার প্রশ্ন উঠবে।
প্রশ্ন থাকলেও জুলাই সনদ কার্যকর করতে আজ-কালের মধ্যেই আদেশ জারির দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এনসিপি আদেশ জারির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও দলটির এক নেতা দেশে গৃহযুদ্ধের আলামত দেখছেন। এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে নির্বাচন না হলে যদি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হয় এর দায় প্রধান উপদেষ্টাকে নিতে হবে।
গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সরকার এখন প্রতারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। গণসংহতি আন্দোলন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।
দ্রুতই গণভোটের সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা: ড. আসিফ নজরুল
গণভোট কবে হবে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বলেন, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকবো। আমরা সহায়তা করার জন্য থাকবো। সিদ্ধান্ত এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবেন না, এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ২৭০ দিন আলাপ-আলোচনা করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতা দলিল পাস করা সরকারের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে। আসিফ নজরুল বলেন, দলগুলোকে এত আলোচনার সময় দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা যেই অনৈক্য দেখাচ্ছে তাতে জুলাইয়ের স্পিরিটকে তারা কোথায় নিয়ে গেছে, এটা তাদের বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।
জুলাই সনদ নিয়ে অনৈক্যের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ যে যেটা বলুক, আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ্বে জাতীয় নির্বাচন করবো। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদের সংস্কার করার কোনো দায়দায়িত্ব থাকবে না, সব অন্তর্বর্তী সরকারকে করে যেতে হবে- এত কোনো বেদবাক্য নয়। সরকার যতটুকু পারে করবে। সম্ভব হলে সবই করবে। তবে তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য লাগবে।
মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অধ্যাদেশ অনুমোদন: এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আগে একটা মানবাধিকার কমিশন ছিল, কিন্তু সেটি কার্যত দন্তহীন একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। নিয়োগ পদ্ধতিতে ত্রুটি, এখতিয়ারে ঘাটতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এবার সেটিকে সত্যিকারের এখতিয়ারসম্পন্ন, ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো, এখতিয়ার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হবে এবং প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাছাই কমিটি সুপারিশ করবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা নিয়োগ পদ্ধতিটা এমনভাবে করেছি যাতে অভিজ্ঞ, যোগ্য ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় মানুষরা কমিশনে জায়গা পান। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি এবং প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত মানবাধিকারগুলোকেও এই কমিশনের এখতিয়ারে আনা হয়েছে। এর ফলে কমিশন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অধ্যাদেশে কমিশনের এখতিয়ার বহুলাংশে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে শৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাতেও কমিশন তদন্ত করতে পারবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, আগের কমিশনের এখতিয়ারে গুরুতর সীমাবদ্ধতা ছিল, বিশেষ করে শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।
এ ছাড়া, গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা আইনসহ মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক যেকোনো আইনের বাস্তবায়নের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আলাদা করে ‘গুম কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন হবে না বলে জানান তিনি। অধ্যাদেশে কমিশনের আদেশ প্রতিপালনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে কমিশনের সুপারিশ বা নির্দেশ উপেক্ষা করা যাবে না। এর বাধ্যবাধকতা আইনি কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশ অগ্রহণযোগ্য: বিএনপি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে তা ‘অযৌক্তিক’ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অপ্রয়োজনীয় এবং অবিবেচনাপ্রসূত বলে মনে করছে দলটি। একই আয়োজনে এবং একই ব্যয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠান করা বাঞ্ছনীয় বলেও মনে করছে তারা। গতকাল গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। বুধবার রাতে গুলশানে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকের পর স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি দেয়ার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করেছে। সেখানে যে সকল বিষয়ে ভিন্নমত বা নোট অফ ডিসেন্টসহ ঐকমত্য হয়েছে তার উল্লেখ না রেখে দীর্ঘ আলোচনায় যেসব প্রসঙ্গ আলোচনায় আসেনি, তা অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অন্য সকল সুপারিশ অগ্রহণযোগ্য বিধায় আমরা একমত হতে পারছি না। আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, এই সকল সুপারিশ কেবল জাতিকে বিভক্ত করবে, ঐক্যের বদলে অনৈক্য সৃষ্টি করবে। মনগড়া যেকোনো সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করলে জাতীয় জীবনে দীর্ঘমেয়াদে অকল্যাণ ডেকে নিয়ে আসতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালা গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাংবিধানিক আদেশ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে সেখানে। সুপারিশে বলা হয়েছে, ওই আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা নির্বাচনের দিন গণভোট হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের সুপারিশকে ‘অযৌক্তিক’ অভিহিত করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্থে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সেক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে প্রস্তাবিত গণভোট অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সময়স্বল্পতা, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ব্যয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ব্যাপক লোকবল নিয়োগ এবং একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো বিশাল আয়োজনের বিবেচনায় নির্বাচনের পূর্বে গণভবন অনুষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত। একই আয়োজনে ও একই ব্যয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠান করা বাঞ্ছনীয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করি, জাতির প্রত্যাশা পূরণ এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২০২৪ সালে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহীদের রক্তের অঙ্গীকার অনুযায়ী এবং যারা দীর্ঘ এই সংগ্রামে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন, মামলা, হামলার শিকার হয়েছেন তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে পারবো। প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা আমাদের সকলের কাম্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জাতির অভিপ্রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য হবে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং উক্ত জাতীয় সংসদে সংসদকে প্রকৃত অর্থে জাতীয় জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করা।
এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, এখানে নালিশের কিছু নেই। যে সুপারিশগুলো দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত জাতির সামনে তুলে ধরলাম। প্রয়োজনে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছেও আবার যাবো।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের সময়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে পরবর্তীতে মুদ্রিত পুস্তকে কয়েকটি দফা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ই অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আমরা কেবলমাত্র আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত সনদের অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু সেদিন সনদ চূড়ান্ত কপি আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রিন্টেড পুস্তক হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের কপি আমরা হাতে পাওয়ার পরে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মত কয়েকটি দফা আমাদের অগোচরে পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি- বেসরকারি অফিসে টাঙ্গানো সংক্রান্ত বিধান অনুচ্ছেদ ৪ (ক) বিলপ্ত করার বিষয়টি সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও প্রায় সকল রাজনৈতিক দল সম্মতিপত্র দিয়েছে। সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ (পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম তফসিল) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব বিষয়ে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল সম্মতি প্রকাশ করলেও অগোচরে সেটা চূড়ান্ত সনদে সংশোধনী আনা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার চিঠিতে বলেছে, জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলোকে দুইটি বিকল্প পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের এবং আইনগত ভিত্তি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদে সন্নিবেশিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার জুলাই সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ শিরোনামে একটি আদেশ জারি করবে। সরকারের এরকম আদেশ জারি করার এখতিয়ার নাই। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুসারে আদেশ আইনের মর্যাদা প্রাপ্ত। সেটি জারি করা এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির।
দ্বিতীয় বিকল্প প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিকল্প প্রস্তাব-এক এ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংবিধান সংশ্লিষ্ট তফসিল-১ বর্ণিত ৪৮টি দফার (জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত দফাগুলো) উপরে গণভোট হবে। উক্ত দফাসমূহের বিপরীতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত, ভিন্নমত, নোট অফ ডিসেন্ট উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব এবং সুপারিশ একপেশে ও জবরদস্তিমূলক জাতির উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে এটাই প্রতীয়মান হয়, দীর্ঘ এক বছরব্যাপী সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমূহের দীর্ঘ ধারাবাহিক আলোচনা ছিল অর্থহীন, অর্থ ও সময়ের অপচয়, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণা। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন মত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সে কারণে সংলাপের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, কিন্তু ঐকমত্য কমিশন ভিন্নমত পোষণে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকারকে আমলেই নেয়নি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সুপারিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং তারা আলাদাভাবে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন। অর্থাৎ নির্বাচিত জাতীয় সংসদটি একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে অভিহিত হবে। এখানে প্রশ্ন হলো নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল না, আলোচনার জন্য উপস্থাপিত হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হওয়ার অবকাশও ছিল না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারের ব্যাপারে আমরা খুব সুস্পষ্টভাবে বলেছি যে, গণহত্যাকারীদের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং অন্যান্য বিভাগের যারা সরকারি কর্মকর্তা যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে এবং দ্রুত বিচার হতে হবে। নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। ২০২৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টা যে কমিটমেন্ট করেছেন জাতির সামনে, আমরা সেটায় আস্থা রেখেছি এবং সেই হিসেবে আমরা আমাদের নির্বাচনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের দিন গণভোটটা অনুষ্ঠানে আমরা একমত হয়েছি জাতির স্বার্থে, ঐক্যের স্বার্থে। এর বাইরে আমরা কোনোদিনই একমত হবো না, প্রশ্নই উঠে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন বিঘ্নিত হওয়ার কারণ নেই। নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের কোনো অনাস্থা নেই কারও প্রতি। এ নিয়ে আমরা শঙ্কা দেখছি না। আমরা চাচ্ছি যে, দ্রুত নির্বাচন হয়ে যাক। আশা করছি, নির্বাচন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবারের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
আদেশ জারির দাবি জামায়াতের
শুক্রবারের মধ্যেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার বিকালে মগবাজারে আল-ফালাহ্ মিলনায়তনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র সংস্কারে দেয়া ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। সেজন্য সময়ক্ষেপণ না করে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হবে। সরকার চাইলে আজ রাতের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেও সেটি করতে পারে। দেরি হলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর গণভোটের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের দিন কিংবা নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে। কারণ, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হলে রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজ দলের প্রার্থীকে জেতাতে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে।
গণভোটের পর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে উল্লেখ করে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এমন কোনো বিষয় যাতে সামনে আনা না হয়, যে কারণে নির্বাচন সংশয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। জাতীয় নির্বাচনের জন্য ফেব্রুয়ারিই উপযুক্ত সময়।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- দলটির নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
অনেকগুলো সেটেল ইস্যু নিয়ে নানা মহল ও কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ও ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে নির্বাচনের পরিবেশ ও রাজনীতিতে একটা উত্তাপ ছড়ানোর পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করে আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানাভাবে ফেসবুকে আংশিক বক্তব্য তুলে ধরে, নিজেদের মনগড়া বক্তব্য রেখে জামায়াতে ইসলামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায় কি না- এমন সংশয় তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও পরিষ্কার বার্তা, আমরা জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই আইনগত ভিত্তির মাধ্যমে। কমিশনের সুপারিশের আলোকে অবিলম্বে একটা আদেশ জারি চাই। আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট চাই। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই। আমাদের বক্তব্য ও বার্তা স্পষ্ট ও পরিষ্কার।
ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, আজকের ভেতরেই আদেশ জারি হলে খুবই উত্তম। রাত ১২টা, ১টার মধ্যেও আদেশ জারির নজির আছে। যদি কোনো কারণে আজকে না হয় তাহলে অবশ্যই আগামীকাল শুক্রবার আদেশ জারি করতে হবে। আর দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি দেরি হয় তাহলে জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এজন্য সরকার ও যারা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন তারা অবশ্যই জাতির কাছে দায়ী থাকবেন।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সুস্পষ্ট তিনটি অঙ্গীকার ছিল। এর একটি হচ্ছে- সংস্কার করা হবে। এটা ছিল এই অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র অর্জন। বাকিগুলো তো অন্যান্য স্বাভাবিক সরকারের মতোই করছে। এটাকেই যদি প্রতিষ্ঠিত ও বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে এটা খুব কার্যকর হবে, যা পুরো জাতির প্রত্যাশিত। এটি সম্ভব হলে বাংলাদেশ নতুন দিগন্তে পদার্পণ করবে। এই সংস্কারের প্রস্তাবনায় যেগুলো আছে, তার মাধ্যমে এদেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন সাধিত হবে, যাকে আমরা নতুন বাংলাদেশ বলছি।
আবদুল্লাহ তাহের বলেন, তিন-চতুর্থাংশ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সেখানে কোনো কোনো দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এর মানে কী? একটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, কিন্তু আমি একমত নই। হাইকোর্টের রায়ে কিন্তু এমন হয়- তিনজন বিচারপতির মধ্যে দু’জন রায়ে একমত হলেও একজন ভিন্নমত দিতে পারেন। তাতে করে রায় তো ভিন্ন হয় না। যেমন, আমাদের রেজিস্ট্রেশন ছিল না- হাইকোর্টের এমন রায়েই। এটা খুব সাধারণ বিষয়। এরপরও একটা দল বলছে, তাদের নোট অব ডিসেন্ট নাকি গণভোটে পাঠাতে হবে।
গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হলে তার দায় প্রধান উপদেষ্টার: নাসীরুদ্দীন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিন। আপনারা যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তী সময় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হলে তার দায় প্রধান উপদেষ্টার। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রাজনীতির বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পথরেখা শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাওয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার কমিশন সুপারিশমালা দিয়েছে। ড. ইউনূসের কোর্টে এখন বল, যেহেতু তিনি আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। বলা হয় যে, বিদেশি খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে খেলতে এলে পিছলে যায়, কারণ মাঠ পিছলা। কিন্তু এই পিছলা মাঠে আমাদের আইন উপদেষ্টা আরও বেশি তেলমর্দন করেন। তিনি রাজনীতিবিদদের শুধু পিছলা খাওয়াতে চান। আপনারা সুপারিশমালার ড্রাফট জনসম্মুখে আনুন, তখনই এনসিপি এতে স্বাক্ষর করবে। তিনি বলেন, দেশ অন্য পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিন। যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারেন তাহলে পরে যদি কোনো গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হয় সেই দায়িত্ব আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) কাঁধে বর্তাবে। গণভোট প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি’র ‘না’ সূচক প্রচারণার পরিপ্রেক্ষিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি অনলাইনে ‘না’ শব্দ জারি করেছে। বিএনপির ‘না’ বলার কোনো ওয়ে নেই। তারা অলরেডি ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন। তারা বিবাহে রাজিও হয়েছেন, কাবিননামায় সইও করেছেন। এখন তাদের না বলার কোনো অপশন নেই। বিএনপি’র ভেবেচিন্তে জুলাই সনদে সই করা উচিত ছিল। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অস্পষ্টতার মধ্যদিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ঠেলে দিতে পারবো না। গণভোট আগে হবে, না হবে এটা জামায়াত ও বিএনপি’র কু-তর্ক। এটা থেকে বেরিয়ে তাদের নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপার হাউসের পিআর, লোয়ার হাউসে এনে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন। কিন্তু গণভোট প্রশ্নে জামায়াত একসময় বিএনপি’র সঙ্গে একত্র হয়ে যাবে। তারা দুই দল মিলে আসলে কু-তর্ক করছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আগামী বছরের এপ্রিলে চীন সফরে আসবেন ট্রাম্প, বুসানে সির সঙ্গে আর কী আলোচনা হলো
ট্রাম্প বলেন, তাঁর ওই সফরের পর কোনো এক সময় সি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। সেটা হতে পারে ওয়াশিংটন ডিসিতে অথবা ফ্লোরিডার পাম বিচে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠককে ‘দারুণ সফল’ বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, সি এবং তিনি প্রায় সব বিষয়ে একমত হতে পেরেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ সাফল্যের জন্য তাঁরা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
ট্রাম্প-সির এই বৈঠকে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা তুলে ধরা হলো—
চীনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস
সির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছেন, চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ শুল্ক হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৭ শতাংশ করা হয়েছে। এই শুল্কহার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
বিরল খনিজ, সয়াবিন
ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে বিরল খনিজ বাণিজ্য নিয়ে সব মতবিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য তিনি দেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধের একটি অন্যতম প্রধান কারণ এই বিরল খনিজ।
প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর বেইজিং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেশটি বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিরল খনিজসংক্রান্ত সব বিষয়ের সমাধান হয়ে গেছে এবং এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য...বিশ্বব্যাপী একই পরিস্থিতি। বিরল খনিজ পেতে চীনের পক্ষ থেকে আরও কোনো বাধা থাকবে না।’
চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা বাড়াবে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চীন অনেক বেশি পরিমাণে সয়াবিন কেনা শুরু করতে যাচ্ছে। আমি এতে খুশি।’
এ ছাড়া সি তাঁর দেশে ফেন্টানিলের উপাদানের প্রবাহ বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন বলেও জানান ট্রাম্প।
উত্তর কোরিয়া ও তাইওয়ান প্রসঙ্গ
ট্রাম্প বলেছেন, এবারের এশিয়া সফরে তিনি খুবই ব্যস্ত ছিলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার সময় ছিল না তাঁর। কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে তিনি আবার আসবেন বলেও জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এবার কোনোভাবেই কথা বলতে পারতাম না। দেখুন, আমি কতটা ব্যস্ত ছিলাম এবং সত্যি বলতে, এ জন্যই (বৈঠক) আমরা এখানে এসেছিলাম। আমার মনে হয়, আমরা যদি তা করতাম তবে এই বৈঠকের গুরুত্বের প্রতি তা হয়তো অসম্মানজনক হতো। তাই কিম জং উনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে আমি আবার আসব।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এবারের এশিয়া সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া দুই নেতার মধ্যে বেশ কয়েকবার চিঠি বিনিময় হয়েছে।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ানের বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এ প্রসঙ্গ কখনো আসেনি। তাইওয়ানের কথা কখনো আসেনি।’
তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও চীন দ্বীপটিকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে।
আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও শুরু থেকে তাইওয়ানের সবচেয়ে প্রভাবশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি এবং সি একসঙ্গে কাজ করবেন।
![]() |
| বুসানে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় এভাবে সি চিন পিংয়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে কিছু একটা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও। ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্রুতই গণভোটের সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা: আসিফ নজরুল
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবেন না, এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন।…দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায়–সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দিয়েছে। তাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন গণভোট করার কথা বলা হয়েছে সেখানে।
তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং তার আলোকে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। অপরদিকে বিএনপি বলছে, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে। এর বাইরে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, যে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছিল, তার বাইরে অনেক বিষয় এখানে যুক্ত করা হয়েছে।
জুলাই সনদের বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয় কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘২৭০ দিন আলাপ–আলোচনা করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতা দলিল পাশ করা সরকারের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, দলগুলোকে এতো আলোচনার সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা যেই অনৈক্য দেখাচ্ছে তাতে জুলাইয়ের স্পিরিটকে (চেতনা) তারা কোথায় নিয়ে গেছে, এটা তাদের বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেওয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।
জুলাই সনদ নিয়ে অনৈক্যের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘যে যেটা বলুক, আমরা ফেব্রুয়ারি প্রথমার্থে জাতীয় নির্বাচন করব।…ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদের সংস্কার করার কোনো দায়–দায়িত্ব থাকবে না, সব অন্তর্বর্তী সরকারকে করে যেতে হবে এতো কোনো বেদবাক্য নয়। সরকার যতটুকু পারে করবে। সম্ভব হলে সবই করবে। তবে তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য লাগবে।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, October 30, 2025
বিদেশি মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার: ক্ষমা চাইবেন না, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা
ওদিকে লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্টকে আলাদাভাবে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তার দলকে বাদ দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে, এমন যে কোনো সরকারের অধীনে দেশে ফিরে আসবেন না। ভারতেই অবস্থান করবেন। গত বছর ৫ই আগস্ট পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর এবারই প্রথম বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে। হাসিনার অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশ শাসন করছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, বরং সেলফ-ডিফিটিং। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকারে অবশ্যই নির্বাচন-তাৎপর্য থাকা চাই। কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই এ অবস্থায় তারা ভোটে যাবে না। কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য কোটি কোটি মানুষকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরেই মূল দুই দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। তার আগে ইউনূস সরকারের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য ওই দলের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা আমাদের সমর্থকদের অন্য কোনো দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা করি, সাধারণ বিবেক জয়ের পথে ফিরে আসবে এবং আমাদের দল নিজে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
রয়টার্স লিখেছে- তিনি জানালেন না, নিজে কিংবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা গোপনে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন কি না, যাতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। ইউনূস সরকারের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সহিংসতা ছিল। হাসিনা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ বা অন্যান্য অভিযোগের অপরাধে অংশ নেননি। তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরা এখনো পরিকল্পনায় নেই।
তিনি জানিয়েছেন, দল ভবিষ্যতে- সরকারে হোক বা বিরোধীদলে হোক- ভূমিকা নেবে, এবং দলের নেতৃত্ব তার পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। তিনি বলেন, এটা আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের জন্য যে ভবিষ্যত আমরা সবাই চাই, সেজন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসতেই হবে। কোনো এক ব্যক্তি বা পরিবার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি দেশে যেতে চাই, শুধু যদি সরকার বৈধ হয়, সংবিধান রক্ষা পায়, এবং আইন ও শৃঙ্খলা সত্যিকারভাবে বজায় থাকে।
আলাদাভাবে তিনি বৃটেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে গণআন্দোলনে নিহতদের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট তার এই বক্তব্যই তাদের শিরোনাম করেছে। হাসিনা বলেন, গত বছরের রাস্তায় বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ‘লৌহ মুষ্টিতে’ দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নির্বাসনে রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না? জবাবে হাসিনা বলেন, আমি আমাদের প্রতিটি সন্তান, ভাই, বোন ও বন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, যাদের আমরা জাতি হিসেবে হারিয়েছি। আমি তাদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাতে থাকব। তবে হাসিনা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন যে, তিনি কখনো পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। বরং তার দাবি, ‘অনির্বাচিত’ অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তার দল আওয়ামী লীগকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাসিনা গত বছরের আন্দোলনের সময় তার পদক্ষেপগুলোর সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় ব্যক্তিগতভাবে নেন না। বরং তিনি ওই ঘটনাকে বলেন ‘একটি সহিংস বিদ্রোহ’। তার দাবি, বেশির ভাগ হতাহতের কারণ ছিল মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ এবং তিনি বলেন, একজন নেতা হিসেবে আমি সার্বিকভাবে দায় স্বীকার করি। কিন্তু এই অভিযোগ যে আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম- এটি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি বলেন, তার সরকার প্রথম হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছিল, যা পরে ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধ করে দেয়।
গত বছরের বাংলাদেশের বিক্ষোভ দমন বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক বাবুরাম পান্ট তখন বলেন, বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ ও মতবিরোধের প্রতি সম্পূর্ণ অসহিষ্ণুতার নির্মম উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক মন্তব্য করেন, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। তবে হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের সময় উল্লেখিত মৃতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১৪০০ নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত অতিরঞ্জিত। হাসিনা বলেন, সরকারের পদক্ষেপ তখন ছিল- ‘সৎ উদ্দেশ্যে নেয়া ব্যবস্থা, যাতে প্রাণহানি কমানো যায়, কারণ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।’
নিজের দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় হাসিনা বলেন, ‘আমি ৫ আগস্ট দেশ ছেড়েছিলাম বাধ্য হয়ে। দেশে থাকলে শুধু আমার নয়, আমার আশপাশের মানুষের জীবনও বিপন্ন হতো।’ দেশত্যাগ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও হাসিনা বলেন, তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘শুধু মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশকে সুস্থ করবে’।
ওদিকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ তাতে অংশ নিতে পারবে না।
নিজের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই মানুষ আমাকে সেই নেতা হিসেবে মনে রাখুক, যিনি ১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সহায়তা করেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই অর্জনগুলো এখন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩ দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ ট্রাম্পের
বুধবার রাতের পোস্টে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ বিধ্বংসী ক্ষমতা স্বীকার করে বলেন, তার কোনো বিকল্প ছিল না। প্রথম দফা দায়িত্বে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করতে হয়েছিল। তিনি আরও লিখেছেন, চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে পারে। ট্রাম্পের পোস্টে পরীক্ষার পদ্ধতি বা স্থান সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য ছিল না। তবে তিনি জানান প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এটি দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে। ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা চালায়। সেটা শীতল যুদ্ধের অবসানের পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের জারি করা স্থগিতাদেশের আগে।
ট্রাম্পের পোস্টটি প্রকাশিত হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়ায় অবতরণের ঠিক আগে। এটি ছিল ২০১৯ সালের পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। পোস্টটি ট্রাম্প লিখেছিলেন মারিন ওয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে গিমহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময়। ১৯৯২ সালের যে শেষ পরীক্ষাটি করা হয়েছিল, তার কোডনাম ছিল ‘ডিভাইডার’, যা যুক্তরাষ্ট্রের ১০৫৪তম পারমাণবিক পরীক্ষা বলে জানায় লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি। তারা বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরিতে মূল ভূমিকা রেখেছিল। নেভাডা টেস্ট সাইট, যা লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অধীনে রয়েছে। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড হিস্ট্রি-এর তথ্যানুসারে, প্রয়োজন মনে হলে ওই স্থান আবারও পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত হতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা যুদ্ধের সংবাদে ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগে ১৫০ লেখক নিউইয়র্ক টাইমস বর্জন করছেন
ওই অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন, নিউইয়র্ক টাইমস যদি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায় স্বীকার না করে এবং গাজায় চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সত্যিকারের ও নৈতিক প্রতিবেদন না দেয়, তাহলে কোনো ব্যক্তির লেখা নিবন্ধ সংবাদকক্ষ বা সম্পাদক পর্ষদের জন্য কোনো ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে কাজ করবে না। বরং তাদের এই অসদাচরণ চালিয়ে যাওয়ারই অনুমতি দেবে।
লেখকেরা আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা কেবল আমাদের শ্রম প্রত্যাহারের মাধ্যমেই সেই প্রভাবশালী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি, যা টাইমস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিথ্যাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ব্যবহার করে আসছে।’
চিঠিতে রিমা হাসান, চেলসি ম্যানিং, রাশিদা তালিব, স্যালি রুনি, ইলিয়া সুলেইমান, গ্রেটা থুনবার্গ, ভিয়েট থান এনগুয়েন এবং ডেভ জিরিন-এর মতো কয়েক ডজন সুপরিচিত কর্মী, শিল্পী ও মার্কিন রাজনীতিবিদ স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে লেখকেরা আরও লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখকদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো, নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা এবং তাদের ভুলগুলো স্বীকার করতে বাধ্য করা। যাতে গণহত্যা, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতিকে তারা কখনো বৈধতা দিতে না পারে।’
নিউইয়র্ক টাইমস বর্জনে যোগ দেওয়া অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ক্রিস হেজেস, মার্ক ল্যামন্ট হিল, নুরা ইরাকাত, বিজয় প্রশাদ, মারিয়াম কাবা, রবিন ডি জি কেলি, মোহাম্মদ আল-কুরদ, সুসান স্ট্রাইকার, জিয়া টোলেন্টিনো, ইভ এল ইউইং, ডিন স্পেড, নাইল ফোর্ট, সুসান আবুলহাওয়া এবং রশিদ খালিদি।
তিন দাবি
স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন—
১. পত্রিকাটি যেন ‘ফিলিস্তিনবিরোধী পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে’ এবং ফিলিস্তিন কভারেজের জন্য নতুন সম্পাদকীয় মান তৈরি করে। স্বাক্ষরকারীরা নতুন সোর্সিং (উৎস যাচাই) ও রেফারেন্স পদ্ধতি, সেই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বর্ণনা দিতে পত্রিকার ব্যবহৃত শব্দভান্ডারের জন্য একটি নতুন স্টাইল গাইড চেয়েছেন। চিঠিতে এমন সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাঁরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন।
২. লেখকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘Screams Without Words’ (স্ক্রিমস উইদাউট ওয়ার্ডস) শিরোনামের একটি প্রবন্ধ প্রত্যাহার করতে বলেছেন। ওই প্রবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেছে।
লেখকেরা লিখেছেন, ওই প্রবন্ধটি মূলত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের একজন প্যারামেডিকের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছিল। অথচ প্রবন্ধটিতে যে কিবুৎসে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, পরে সেখানকার একজন মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
তাঁরা আরও লিখেছেন, ওই প্রতিবেদনের লেখকদের মধ্যে একজন আনাত শোয়ার্টজকে পরে পত্রিকাটি তদন্তের আওতায় আনে। কারণ জানা যায়, তিনি গাজাকে ‘কসাইখানায়’ পরিণত করার আহ্বান জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে লাইক দিয়েছিলেন।
প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার আগে হামলায় নিহত কথিত যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়েদের পরিবারের সদস্যরা বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, যা গল্পের দাবিগুলোর সঙ্গে মেলেনি। তবে সেই সাক্ষাৎকারগুলোর কোনোটিই নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়নি।
৩. চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডকে ইসরায়েলের ওপর মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানোর দাবি করেছেন।
স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, তাঁদের দাবিগুলো ‘অসম্ভব বা অযৌক্তিক’ নয়। লেখকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, পত্রিকাটি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এইডস সংকটের সময় তার স্টাইল গাইড হালনাগাদ করেছিল এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে হামলার পর ভুল সংবাদের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিল।
লেখকেরা চিঠিতে আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক টাইমসের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী কোনো সংবাদপত্র নেই। পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদকক্ষগুলোতে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা এই পত্রিকার কভারেজ অনুসরণ করেন। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের “কাগজের দলিল” হিসেবে গণ্য করা হয়।’
স্বাক্ষরকারীরা আরও যোগ করেছেন, ‘ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধনে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিউইয়র্ক টাইমস দখলদার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করেছে, ন্যায্যতা দিয়েছে এবং সরাসরি অস্বীকার করেছে। এভাবে তারা ইসরায়েলি সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য মাইক হিসেবে কাজ করার দশকব্যাপী অভ্যাস বজায় রেখেছে।’
![]() |
| নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে নিউইয়র্ক টাইমসের ভবন। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে পারল না বিজেপি সরকার
অথচ এ জন্য দিল্লির বিজেপি সরকার খরচ করল ৩ কোটি ২১ লাখ রুপি। কানপুর আইআইটি বলছে, বৃষ্টি হয়তো হয়নি, কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।
কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে রাজধানীর তীব্র দূষণের মাত্রা কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে সাময়িক উপশমের পথে না হেঁটে সরকার বরং দূষণের উৎসে নজর দিক। যেসব কারণে প্রতিবছর হেমন্তের শুরু থেকে পুরো শীত মৌসুম দিল্লি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, সেই কারণগুলো বন্ধ করা হোক। এভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলে ফেলার দরকার নেই।
দীপাবলির সময় বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে পারেনি দিল্লির কোনো সরকারই। তবু আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের একটা চেষ্টা ছিল। চেষ্টা ছিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদেরও। নানাভাবে চেষ্টা হয়েছিল মামলা করে বাজি পোড়ানো বন্ধের। সেই প্রচেষ্টা জন্ম দিয়েছিল দূষণহীন বাজির। তৈরি হয়েছিল ‘গ্রিন ক্র্যাকার’। যদিও তার আড়ালে দেদার বিক্রি হয়ে এসেছে দূষণকারী বাজিও। ফলে দূষণ সৃষ্টি হয়েছে যথারীতি।
দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হয়ে বিজেপি সরকার সেই প্রচেষ্টাতেও জল ঢেলেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাজি পোড়ানোর সঙ্গে সনাতন ধর্মকে জুড়ে প্রচার শুরু করে দেয়, যারা বাজি বন্ধের উদ্যোক্তা, তারা সনাতন ধর্মবিরোধী। সেই প্রচার প্রভাব ফেলেছিল কি না অন্য কথা, দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টও পুরোপুরি বাজি নিষিদ্ধ করতে পারলেন না। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও দিল্লির আকাশ-বাতাস দীপাবলির পর ঢেকে গেল গভীর ধোঁয়ার আস্তরণে। দূষণ হয়ে দাঁড়াল মাত্রাছাড়া।
এই দূষণ থেকে নিস্তার পেতেই কৃত্রিম বৃষ্টির আয়োজন। এই উদ্যোগ আম আদমি সরকারও নেওয়ার কথা ভেবেছিল, কিন্তু রূপায়ণ করতে পারেনি। বিজেপি তা করে ফেলল। রাজ্য সরকার তিন কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে এই প্রকল্পে। দায়িত্ব দেওয়া হয় কানপুর আইআইটিকে।
গতকাল মঙ্গলবার কানপুর আইআইটি দুই দফায় কয়েকবার সেসনা বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ায় দিল্লির আকাশে। মেঘের ভেতর জলকণা সৃষ্টি করতে উড়োজাহাজ থেকে মেঘের মধ্যে ঢালা হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজড লবণ ও রক সল্টের রাসায়নিক মিশ্রণ। সেই জলকণা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে রাজধানীর আকাশ থেকে।
গতকাল সেই কাজেই নেমেছিল কানপুর আইআইটি। অথচ দিনভর প্রতীক্ষাই সার হলো। দিল্লিতে বৃষ্টির ছিটোফোঁটাও দেখা পাওয়া গেল না। দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বৃষ্টি হয় শান্তিজল ছিটানোর মতো। পরিমাণ ০ দশমিক ১ মিলিলিটার।
আইআইটির বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই ‘ক্লাউড সিডিং’, যা কিনা কৃত্রিম বৃষ্টির প্রক্রিয়া, তা শেষ হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি হবে। কখনো কখনো ২ ঘণ্টা পরও হতে পারে। তবে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির জন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি থাকা দরকার।
তবে সারা দিন প্রতীক্ষার পরও বৃষ্টির দেখা কেন মিলল না, তার ব্যাখ্যায় কানপুর আইআইটির পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গতকাল দিল্লির বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ খুবই সামান্য, তাই বৃষ্টি হয়নি।
মনীন্দ্র বলেন, আজও ওই প্রক্রিয়া চালানো হবে। তাঁদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা বলা যাবে না। তাঁরা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, তাঁদের পরীক্ষা একেবারেই যে ব্যর্থ, তা নয়। বৃষ্টি হয়নি ঠিকই, কিন্তু ১৫টি নিরীক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, বাতাসে মিশে থাকা সুক্ষ্ম ধূলিকণা, যাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়, তার পরিমাণ ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
মনীন্দ্র আগরওয়াল ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লি দূষণের মোকাবিলার উত্তর কৃত্রিম বৃষ্টি হতে পারে না। এই ব্যবস্থা নিতান্তই সাময়িক। দিল্লিতে যে হারে দূষণ বেড়ে চলেছে, তা কমানোর একমাত্র উপায় দূষণের উৎস বন্ধ করা। একই কথা বলেছেন বিভিন্ন পরিবেশবিদ। ঘটনা হলো, কী করা দরকার, তা সবার জানা হলেও কেউই তা করতে পারছে না।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের খেতগুলোতে ফসলের গোড়া জ্বালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। দীপাবলিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় দেদার বাজি পোড়ানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। নির্মাণকাজ থেকে ওড়া ধুলাবালু বাতাসে যাতে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কলকারখানার বর্জ্য যমুনায় ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
চীন পৃথিবীর প্রথম দেশ, যেখানে ‘ক্লাউড সিডিং’ সফল হয়েছে। বেইজিংসহ শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে তারা এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। চীন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঝরানো হয়েছে।
পাকিস্তানও লাহোরের মতো দূষণযুক্ত শহরে এই পদ্ধতিতে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিতে ভুলছেন না, এটা সাময়িক উপায়। বড়জোর দুই–তিন দিন এর রেশ থাকে। তারপর যে অবস্থা ছিল, তেমনই হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ব্যবস্থা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।
![]() |
| ভারতের রাজধানী দিল্লির আকাশে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য মেঘ বুনতে উড্ডয়ন করছে একটি সেসনা বিমান। ২৮ অক্টোবর ২০২৫, কানপুর, উত্তর প্রদেশ। ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সিটি, বেইত লাহিয়া, আল-বুরেইজ, নুসেইরাত ও খান ইউনুসে বাড়িঘর, স্কুল ও আবাসিক ভবনে হামলা করা হয়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সেনাবাহিনীকে ‘প্রবল আঘাত হানার’ নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এর কারণ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, হামাস ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ‘চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, হামাস এই আক্রমণ এবং জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত না দেয়ার চুক্তি ভঙ্গের জন্য বহু গুণ বেশি মূল্য দেবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, হামাসের এই হামলা হয়েছে ‘ইয়েলো লাইন’-এর পূর্বদিকে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরাইলি সেনারা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার হামলার মুখে পড়ে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ইসরাইলি কামান থেকে গোলাবর্ষণের খবর দেয়। সন্ধ্যায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর গাজা সিটি ও খান ইউনুসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাবরা পাড়ায় আল-বান্না পরিবারের একটি বাড়িতে বোমা হামলায় তিন নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলার একটি লক্ষ্যবস্তু ছিল পশ্চিম রিমাল এলাকার আল-শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। খান ইউনুসের আল-কাসসাম স্ট্রিটে একটি গাড়িতে হামলায় দুই শিশু ও এক নারীসহ আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যোদ্ধারা কোনো ইসরাইলি সেনার ওপর হামলা চালায়নি এবং ইসরাইলি হামলার তারা নিন্দা জানায়। তারা বলে, রাফায় গুলিবর্ষণের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সংগঠনটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় দখলদার (ইসরাইলি) সেনাবাহিনীর এই বর্বর বোমাবর্ষণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাসের সামরিক শাখা জানায়, ইসরাইলের এই ‘লঙ্ঘনের’ কারণে তারা মঙ্গলবার পুনরুদ্ধার করা এক জিম্মির দেহ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সামনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। এর মানে এই নয় যে, মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি হামাস অথবা গাজার অন্য কেউ একজন ইসরাইলি সেনাকে আক্রমণ করেছে। আমরা আশা করি, ইসরাইল এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনা এই ঘটনাতেও টিকে থাকবে।
এর আগে সোমবার রাতে হামাস এক কফিনে করে মানবদেহের কিছু অংশ ফেরত দেয়, যা ১৩ জন মৃত জিম্মির কারও নয় বলে দাবি করে ইসরাইল। এরপর নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে দেহাবশেষটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় উদ্ধার হওয়া ইসরাইলি জিম্মি ওফির জারফাতির, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরাইলি সেনারা এক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, সেখানে দেখা যায় হামাস যোদ্ধারা গাজা সিটির পূর্বাংশে এক স্থাপনা থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে পাশেই কবর দিচ্ছে এবং পরে রেড ক্রস কর্মকর্তাদের ডেকে ভুয়া পুনরুদ্ধার নাটক সাজায়। হামাস এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, ইসরাইল নতুন আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করতে চায়। পরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল হামাসের অনুরোধে এবং সদিচ্ছা থেকে। ঘটনাটির আগে কোনো মৃতদেহ সেখানে রাখা হয়েছিল- এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন ভুয়া পুনরুদ্ধার নাটক অগ্রহণযোগ্য, যখন এত কিছু এই চুক্তির ওপর নির্ভর করছে এবং অসংখ্য পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনের খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অংশ। চুক্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস ৪৮ জন জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফেরত দেবে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামাস ২০ জীবিত ইসরাইলিকে মুক্তি দিয়েছে। বিনিময়ে ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও ১,৭১৮ জন গাজাবাসীকে মুক্তি দিয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-আফগান তালেবান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ
তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের পুনঃপুন আহ্বান সত্ত্বেও আফগান তালেবান তাদের দোহা চুক্তিতে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তারার আরও বলেন, আফগান তালেবান সরকার এখনো প্রকাশ্যে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে, যার ফলে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আফগান তালেবানকে অভিযুক্ত করে বলেন, তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই আফগান জনগণের প্রতি। তারা যুদ্ধনির্ভর অর্থনীতির ওপর বেঁচে আছে এবং আফগান জনগণকে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে নিচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সবসময়ই আফগানিস্তানের শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে ছিল এবং সে লক্ষ্যে অসংখ্যবার সংলাপে অংশ নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আফগান তালেবান কখনো পাকিস্তানের ক্ষতি সম্পর্কে উদাসীনতা দূর করেনি। চার বছর ধরে প্রাণ ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সহ্য করার পর আমাদের ধৈর্য এখন শেষপ্রায়। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে দোহা এবং পরে ইস্তাম্বুল আলোচনায় অংশ নিয়েছিল শান্তিকে সুযোগ দিতে। তিনি কাতার, তুরস্ক ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা সন্ত্রাসবিরোধী সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী বৈঠকে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল ও মধ্যস্থতাকারী তুরস্ক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদের সমাধান খুঁজতে চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু আফগান প্রতিনিধিদল কাবুল থেকে বারবার নির্দেশ পেয়ে তাদের অবস্থান বদল করেছে, ফলে অগ্রগতি থমকে যায়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, October 29, 2025
জুলাই সনদ অনুযায়ীই সংবিধান সংস্কার করতে হবে: আলী রীয়াজ
আজ মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সই করলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদ রয়েই গেছে। এর মধ্যেই ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের একটি খসড়া অন্তর্বর্তী সরকারকে আজ দিয়েছে। সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করতে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের নিয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরু থেকে ২৭০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। এই কাজ শেষ হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলীন হয়ে যাবে প্রথাগত সংসদে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদকে ‘কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ার’ (গাঠনিক ক্ষমতা) দেওয়া হলেও তারা নিজেদের মতো করে সংস্কার করতে পারবে না বলে স্পষ্ট করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। কেন পারবে না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ার দেওয়া হচ্ছে এই বিবেচনা থেকে যে মৌলিক সংস্কার করা হবে। তবে তাদের গাইড করবে জুলাই জাতীয় সনদ। কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ার মানে এই নয় যে যা খুশি তাই লিখতে পারা যাবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে, সংস্কারের যেসব প্রস্তাবে তাদের আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে, তারা তাদের মতো করে সংস্কার করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, গণভোটের প্রস্তাবটি এসেছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার আলোচনায়, যেখানে প্রস্তাব ছিল সবকিছুই জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার। জনগণ যদি রায় দেয়, তাহলে রাজনৈতিক দল তার ভূমিকা নির্ধারণ করবে। কমিশন মনে করে, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের রায় পাওয়া জিনিসকে কেবল নিজস্ব দলীয় অবস্থান থেকে বিবেচনা করবেন না।
সংবিধানসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি দিতে এবং বাস্তবায়নের পথ নির্দেশ করতে দুটি বিকল্প সরকারের হাতে রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সরকারের সংবিধান সংস্কার–বিষয়ক আদেশের অধীন একটি গণভোটের আয়োজন হবে। দ্বিতীয় বিকল্পেও বলা হচ্ছে যে সরকার একটি আদেশ জারি করবে। সেই আদেশের অধীন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে একটিমাত্র প্রশ্ন থাকবে। তবে ওই আদেশের তফসিলে যে ৪৮টি বিষয় আছে, সেগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকার বিল আকারে প্রস্তুত করে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে।
দুটি প্রস্তাবের মধ্যে কমিশন কোনটিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে—সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, যে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে গণভোটের তফসিলে। সরকার চাইলে এগুলো আইনি সাংবিধানিক ভাষায় পরিবর্তন করে বিলের আকারে দিতে পারে অথবা জুলাই জাতীয় সনদে যে ভাষায় লেখা আছে, সেভাবে দিতে পারে। এটা সরকারের ওপরে। কমিশন আশা করে, এটা বিল আকারে দেওয়া যায়, সরকার দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সরকারের। ফলে একটার চেয়ে আরেকটা শ্রেয়, এভাবে কমিশন বিবেচনা করেনি।
গণভোটে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পাস না হলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটে যদি পাস না হয়, তার মানে হলো জনগণ সেটা প্রত্যাখ্যান করেছে।…গণভোটে পাস না হলে বুঝতে হবে জনগণ তা গ্রহণ করছে না।’
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দল এখনো জুলাই সনদে সই করেনি। তবে কমিশন আশা করছে, শেষ পর্যন্ত সব দলই সনদে সই করবে।
চূড়ান্ত দিন পর্যন্ত এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, যারা স্বাক্ষর করেনি, তাদের সঙ্গে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। তারা যেন স্বাক্ষর করে, সেই অনুরোধ প্রকাশ্য ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগে করা হয়েছে। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে আদেশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা জানলে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। কমিশন আশা করে যে তারা তা দেখবে, বিবেচনা করবে এবং স্বাক্ষর করবে। কমিশনের মেয়াদ আরও তিন দিন আছে। কমিশন আশা করে, এই মেয়াদের মধ্যেই তারা স্বাক্ষর করবে।
![]() |
| জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়-সম্পর্কিত সুপারিশ আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়ার পর ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিতাড়নের ভয়ে নদিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে
শিবিরে উপস্থিত ৫০ বছর বয়সি মিলন রায় জানান, তিনি বাংলাদেশের পতেঙ্গা থেকে ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে’ পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জানতে এসেছি কীভাবে সিএএ-এর জন্য আবেদন করতে হয়। এক আত্মীয় বলেছে, যারা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে এসেছে, ভারত সরকার তাদের নাগরিকত্ব দেবে। তিনি বলেন, একজন দালালকে টাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছেন এবং এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন। তিনি বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেল, পরিবারের কাউকে দেখি না। আমি জীবন বাঁচাতে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে আরও বিপদে পড়েছি। ঠিকঠাক কাজ পাচ্ছি না, স্থায়ী আয়ও নেই। কিন্তু যদি নাগরিকত্ব পাই, তাহলে অন্তত একটা কাজ পাব এবং পরিবারকে এখানে আনতে পারব।
শিবিরে ভিড় করেছেন এমন অনেকেই কয়েক দশক আগে গিয়েছেন ভারতে। তাদের একজন রমচন্দ্র গাইন, বয়স ৫৫। তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে স্ত্রী ও এক বছরের ছেলেকে নিয়ে ভারতে গিয়েছেন। তার ভাষায়, আমার দোকান আছে, ঘর আছে, ভোটার কার্ডও আছে। তবু এখন শুনছি যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে তাদের ফেরত পাঠাবে। টিভিতে দেখেছি, দিল্লি থেকে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তারা এখন জেলে। তাই আমি এখনই আবেদন করছি। আগে আবেদন করিনি। কারণ শুনেছিলাম, আসামের মতো এখানেও বাংলাদেশিদের আটক শিবিরে পাঠাবে। কিন্তু পরে বুঝেছি, সেটা সত্যি নয়।
বিধায়কের অফিসের বাইরে বসে ছিলেন এক তরুণ দম্পতি ও তাদের দুই বছরের সন্তান। তারা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তারা জানান, ২০২১ সালে ছাত্র ভিসায় ভারতে গিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে থেকে গেছেন। তাদের ভাষায়, আমরা খুলনা থেকে এসেছি। ওখানে আর নিরাপদ না। আমার ছেলে নিরাপদ থাকবে না। আমরা জানতাম এটা একমুখী যাত্রা, আর ফিরব না কখনও।
আবেদন প্রক্রিয়া: শিবিরে স্বেচ্ছাসেবকরা আবেদনপত্র বিতরণ করেন এবং আবেদনকারীদের তথ্য পূরণে সাহায্য করেন। তাতে নাম, পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রীর নাম, পেশা, ভারতে প্রবেশের বছর ও স্থান, বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি দিতে হচ্ছে। আবেদনকারীদের বাংলাদেশি উৎস ও ভারতে বসবাসের প্রমাণপত্র দিতে হয়। প্রতিবেশীর কাছ থেকে চরিত্র সনদও লাগে। যদি স্বামী বা স্ত্রী ভারতীয় নাগরিক হন, তবে তার পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হয়। অসিম সরকার বলেন, ২০০০ সাল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত যাদের নাম নেই, তাদের আমরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বোঝাচ্ছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্বাস্তু হিন্দুদের ভুল পথে চালিত করেছেন। সিএএ হিন্দুদের জন্য, এটি আমাদের জন্য এক ‘লক্ষ্মণরেখা’। তিনি জানান, তার হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় দুই মাস ধরে শিবির চলছে এবং প্রায় ৪০০ আবেদন জমা পড়েছে।
স্থানীয় কিছু অধিকারকর্মী ও বাসিন্দা বলছেন, হঠাৎ আবেদনকারীর ভিড়ের পেছনে কাজ করছে ভয় ও গুজব- মিডিয়ায় প্রচারিত ‘ডিটেনশন ও ডিপোর্টেশন’-এর খবর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিজেপি শিবিরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে বলা হচ্ছে, এই প্রচেষ্টা মতুয়া ও অন্যান্য হিন্দু উদ্বাস্তুদের মধ্যে সমর্থন শক্ত করতে সাহায্য করবে। অসিম সরকার দাবি করেন, এটি মৃত বা ভুয়া ভোটার চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে, যদিও বিরোধীরা এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন। সরকার নিজেও স্বীকার করেন, বহু আবেদনকারী আনুষ্ঠানিক নথি ছাড়াই এসেছেন।
ফলে প্রমাণ সংগ্রহে তাদের সমস্যা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের যতটা সম্ভব সাহায্য করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। আবেদনকারীদের বলা হয়েছে রসিদ সংরক্ষণ করতে এবং সরকারি মাধ্যমে আবেদনপত্রের অগ্রগতি জানতে। তবু পালপাড়ায় লাইনে দাঁড়ানো লোকদের কাছে উদ্দেশ্য একটাই- বাংলাদেশে ফেরত না যাওয়া। রমচন্দ্র গাইন বলেন, আমি বাংলাদেশে আর ফিরতে চাই না। ওখানে আমার কিছুই নেই। আমি এখানে পরিবার নিয়ে থাকতে চাই। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন- আমরা যেন এখানকার নাগরিকত্ব পাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঐকমত্য কমিশন অনৈক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে: সালাহউদ্দিন
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, সেই স্বাক্ষরিত সনদবহির্ভূত অনেক পরামর্শ বা সুপারিশ, সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ৮৪টি দফা সম্ভবত, সেখানে বিভিন্ন দফায় আমাদের এবং বিভিন্ন দলের কিছু ভিন্নমত আছে, নোট অব ডিসেন্ট আছে। পরিষ্কারভাবে সেখানে উল্লেখ করা আছে যে এই সমস্ত নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলসমূহ যারা দিয়েছে, তারা যদি নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়, তাহলে তাঁরা সেভাবে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। সেটা এই প্রিন্টেড জাতীয় জুলাই সনদের যে বই এখানে আপনারা পাবেন সমস্ত দফায় দফায় যেখানে যেখানে ডিসেন্ট আছে সেখানে আছে। অথচ বিস্ময়করভাবে আজকে যে সংযুক্তিগুলো দেওয়া হলো সুপারিশমালার সাথে, সেখানে এই নোট অব ডিসেন্টের কোনো উল্লেখ নাই।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হয়তোবা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমস্যাটা নিয়ে আবার আলোচনা হতে পারে। এখানে একটা নতুন বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামে একটা আইডিয়া এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে। যেটা আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কখনো টেবিলে ছিল না, আলোচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি।’
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা জানি, আসন্ন যে নির্বাচনটা হবে সেই নির্বাচনটা হবে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন। এখন সেই সংসদ সদস্যদের যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, সেটা তো জাতীয় সংসদেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন জাতীয় সংসদে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তো আলোচিত হয়নি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে। এ বিষয়ের কোনো সুপারিশ বা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ার পরও এই সুপারিশমালার মধ্যে হঠাৎ করে যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ একই সাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে, উনারা এই সিদ্ধান্তটা আরোপ করতে পারেন না। চাপিয়ে দিতে পারেন না।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার কথা। সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য তো কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন তো হবে জাতীয় সংসদের জন্য।
‘উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্য হয়নি’
গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় এলে যে প্রক্রিয়ায় এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেই নোট অব ডিসেন্টসহ সেটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভিন্নতা দেখছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে সমস্ত প্রশ্নগুলো আমি দেখলাম এখানে বলা হয়েছে আপার হাউসে অর্থাৎ উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসনের মধ্য দিয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এই রকম তো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে ১০০ সদস্যের এবং তারা কীভাবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে সেটার ব্যাপারে তো ঐকমত্য হয়নি।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। আলোচনায় বিএনপির পক্ষ থেকে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচন নিম্নকক্ষে সদস্যের অনুপাতে অর্থাৎ সংসদ নির্বাচনে কোন দলগুলো কতগুলো আসন পেল, তার ভিত্তিতে বণ্টনের কথা বলা হয়। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কেউ ভোটের অনুপাতে চেয়েছে, আমরা চেয়েছি নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে। এখানে বলা আছে যেভাবে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে সেই নোট অব ডিসেন্টগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক যদি আমরা ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হই বা কোনো দল হয়, ওই সময় ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়ে তারা সেইভাবে সেটা বাস্তবায়ন করবে। তারপরে এখানে পিআরের ভিত্তিতে তারা প্রস্তাব সরাসরি করে ফেললেন এবং এখানে কোনো নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ নাই।’
উচ্চকক্ষের এখতিয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বলা আছে যে অর্থবিল এবং আস্থা বিল বাদে, আস্থা ভোট বাদে সব বিষয় উচ্চকক্ষে উত্থাপন করা হবে। এইখানেও কর্মপরিধি কার্যপরিধি–সংক্রান্ত নোট অব ডিসেন্ট আছে যে উচ্চকক্ষ যেহেতু নির্বাচিত নয় সরাসরি সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনীসহ অন্যান্য বিষয় তাঁরা বিবেচনা করতে পারেন না। জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কারও নেই। এই বিষয়গুলো আলোচিত হওয়ার পরেও নোট অব ডিসেন্ট থাকার পরেও তাঁরা সরাসরি এই আদেশের সংযুক্তিতে রেখেছেন। এগুলো কোনোভাবে বিবেচনা করা যায় না।’
‘এটা হাস্যকর ব্যাপার’
আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে গণভোটে পাস হওয়া প্রস্তাবগুলো অনুমোদন না করলে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে বলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার। সংবিধানের কোনো বিষয় সংশোধিত হওয়ার পরে এটা একটা আইন। সেই আইনটা পার্লামেন্টে যথাযথভাবে পাস হওয়ার পরে যখন স্পিকার সই করে রাষ্ট্রপতির কাছে দেবেন, রাষ্ট্রপতি সই হওয়ার পরে সেটা তখন আইনে পরিণত হবে। সেটা সংবিধান সংশোধন হোক বা অন্য আইন,...পরীক্ষায় অটো পাসের মতো কোনো বিষয় তো সংবিধানে থাকতে পারে না। এগুলো কীভাবে সুপারিশে এল আমি জানি না।’
এই আইনগুলো সংশোধনের ক্ষেত্রে এবং সুপারিশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আরও অনেক বিষয় আছে। এখানে কয়েক শ পৃষ্ঠার সংযুক্তি আছে। এগুলো দেখে আমরা খুব শিগগির কালকে অথবা তার পরের দিন বিস্তারিত কথা বলব।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আলোচনা তো চার–পাঁচ দিন হয়েছে। কিন্তু যাহা আলোচনা করিলাম, তাহা এখানে নাই।’
![]() |
| বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, October 28, 2025
তিন মাসে ২২৩ বার ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি কিশোরীর by অমিতাভ ভট্টশালী
"কিশোরীটি যখন আমাকে বলছিল যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে, ওর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।"
কথাগুলো বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মহারাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্রাহাম মাথাই।
তিনি জানান, বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল ভারতে। পাচারকারীরা কিশোরী জানিয়েছে, তাকে জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হতো। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দার এলাকায় তার ওপরে চলেছিল এই অমানুষিক অত্যাচার।
আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' এবং পুলিশের মানবপাচার রোধ ইউনিট এক অভিযান চালিয়ে ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে উদ্ধার করে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে।
কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির জন্য ওই কিশোরীটিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের কমিশনার নিকেত কৌশিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত নয়জনকে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী বাংলাদেশের নাগরিক। পুরো পাচার চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।
গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ শহরে আরেক বাংলাদেশি কিশোরী স্থানীয় থানায় এসে সাহায্য চায়। ঢাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে তারই এক প্রতিবেশী ভারতে নিয়ে এসে দেহ ব্যবসায় নামিয়েছিল বলে অভিযোগ করে।
ওই কিশোরীর কাছ থেকে খবর পেয়ে হায়দ্রাবাদ পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যৌন ব্যবসার চক্র খুঁজে পেয়েছে।
বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীর খপ্পরে
মহারাষ্ট্রের পালঘর থেকে যে বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার বাড়ি খুলনার আমিরপুরে। তার পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তারা।
'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পারি যে সে স্কুলের পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করেছিল। বাড়িতে বাবা-মা বকবেন, সেই ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"
"এক পরিচিত নারী কিশোরীটিকে কাজের লোভ দেখিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসে। সেখানেই তার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র বানানো হয় এবং তারপরে বিমানে চাপিয়ে তাকে মুম্বাই নিয়ে আসা হয়।"
এক বাংলাদেশি কিশোরীকে পাচার করে আনা হয়েছে, এই খবর পেয়ে মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের মানব-পাচাররোধ ইউনিট যখন তল্লাশিতে যায়, তাদের সঙ্গেই ছিলেন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন'-এর শ্যাম কুম্বলে।
তিনি বলছিলেন, "মুম্বাই থেকে তাকে গুজরাতের নাদিয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির ইনজেকশন দেয়, তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখা হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হয়।"
"যে পাচারকারীরা ধরা পড়েছে, আর ওই কিশোরী – সবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই কিশোরীটিকে গুজরাতের চারটি হোটেল এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন খামারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরে তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়," বলছিলেন মি. কুম্বলে।
উদ্ধার করার পরে ওই কিশোরী এখন একটি হোমে রয়েছে।
বাংলাদেশের কিশোরী সাহায্য চেয়ে হায়দ্রাবাদের থানায়
দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের পুলিশ গত শুক্রবার একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী নিজেই সাহায্য চেয়ে থানায় এসে হাজির হয়েছিল।
সেদিন সকাল সোয়া আটটা নাগাদ বান্ডলাগুড়া থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী। সে পুলিশকে জানায় যে তার বাড়ি ঢাকায় এবং তার এক প্রতিবেশী কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে তাকে পাচার করে দেয় এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে।
চন্দ্রায়নগুট্টার সহকারী পুলিশ কমিশনার এ সুধাকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে আসার নাম করে ওই কিশোরীকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে এসে জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ওপরে ভিত্তি করে বান্ডলাগুড়া ও মেহদিপটনমের দুটি পৃথক বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
ওই চক্রের সদস্য দুই নারীকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের তিনজন নারীকেও উদ্ধার করা হয়, যাদের জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়েছিল।
এছাড়া একজন অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যে ওই বাংলাদেশি কিশোরী এবং অন্য নারীদের 'খদ্দের'দের কাছে নিয়ে যেত।
প্রতিটা 'খদ্দের'কে গ্রেফতারের দাবি
হারমোনি ফাউন্ডেশনের আব্রাহাম মাথাই বলছিলেন, "ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে, ষষ্ঠ কি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষায় ফেল করে বকা খাওয়ার ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। অথচ তারই এক পরিচিত নারী এইভাবে তার কৈশোরটা ছিনিয়ে নিল!"
"আমি পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি প্রতিটা পুরুষ খদ্দের, যাদের এই কিশোরীর কাছে পাঠিয়েছিল চক্রের মাথারা, সেই সব খদ্দেরকেও গ্রেফতার করতে হবে।"
"প্রতিটা খদ্দের যদি ধরা পড়ে কঠোর শাস্তি পায়, তবেই একটা কড়া বার্তা যাবে যে কিশোরীদের ধর্ষণ করলে কী শাস্তি পেতে হয়। তবে যদি কিছুটা রাশ টানা যায়," বলছিলেন আব্রাহাম মাথাই।
শ্যাম কুম্বলের কথায়, বাংলাদেশ থেকে বহু কিশোরী এবং নারীকে পাচার করে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে শুধু তার সংগঠনই ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে।
"শুধু আমাদের একটা সংগঠনই যদি মহারাষ্ট্রে এত জন পাচার হওয়া নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করে থাকতে পারি, তাহলে ভাবুন, অন্য অনেক সংস্থাও কাজ করে, তারাও উদ্ধার কাজ চালায়, সংখ্যাটা পুরো দেশে কত হতে পারে!"
"পুণের যৌনপল্লী বলে পরিচিত বুধওয়ারপেটে অন্তত হাজার দশেক বাঙালি নারী যৌনকর্মে জড়িত। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নারীরা যেমন আছেন, তেমনই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা নারীরাও আছেন," বলছিলেন মি. কুম্বলে।
![]() |
| ছবির ক্যাপশান, বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতে জোর দেয়ার অঙ্গীকার
ওই ঘোষণায় আরও বলা হয়, দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধি ও নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে, যদিও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটানো হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ওয়াশিংটন চীনের সেমিকন্ডাক্টরসহ আধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের প্রবেশাধিকার ক্রমশ সীমিত করছে।
আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুল্কবিরোধ সত্ত্বেও তিনি একটি ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্য চুক্তি করতে চান।
বিরল খনিজ উৎপাদনে চীনের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। যা বিশ্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে অপরিহার্য। আসন্ন বৈঠকে বেইজিং এই খাতকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
গত সপ্তাহে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকি দেন। তবে গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, দুই দেশকে একসঙ্গে এগোতে হবে। পাশাপাশি বেইজিংয়ের আমন্ত্রণে তিনি আগামী বছর চীন সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিরল খনিজ আধিপত্য ভাঙতে অন্য দেশগুলোর অন্তত এক দশক সময় লাগবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনে চীনের প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা এ খাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশটির জন্য দক্ষ জনবল ঘাটতি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Monday, October 27, 2025
যুক্তরাষ্ট্রই কি আসলে ইসরায়েলের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছে
তাঁদের সবার লক্ষ্য পরিষ্কার—গাজায় যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি যেন ভেঙে না যায়, তা নিশ্চিত করা। এর মানে হলো, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকার যেন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে না আসতে পারে, তা নিশ্চিত করা। দুই বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে চলতি মাসের শুরুতে ওই যুদ্ধবিরতি হয়।
ইসরায়েলে মার্কিন কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফরকে গাজায় আবারও হামলার অজুহাত খুঁজতে থাকা চরম ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকারকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজায় দুই বছরের যুদ্ধে ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে এ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলের আনুগত্যের প্রমাণ দেয়। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন কিছু করতে বললে, ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত তা মেনে নেয়।
সাবেক ইসরায়েলি দূত এবং নিউইয়র্কে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল অ্যালন পিনকাস বলেন, ‘অবশ্যই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয়ে থাকা একটি রাষ্ট্র।’
পিনকাস এ ক্ষেত্রে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার বদৌলতে দেশটির প্রতি ইসরায়েলের যে নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ইঙ্গিত করেছেন। যেমন ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করতে জাতিসংঘে হওয়া ভোটাভুটিতে ওয়াশিংটন বেশ কয়েকবারই ভেটো দিয়েছে। এ ছাড়া সামরিক সুরক্ষা তো আছেই।
মূলত দীর্ঘদিনের সে সহায়তাকেই চাপপ্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব বিরল একটি ঘটনা। এবার তারা সরাসরি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী আচরণ করতে বাধ্য করছে এবং প্রকাশ্যেই ওয়াশিংটনের চাপপ্রয়োগের বিষয়টি সামনে আনছে। এই চাপের কিছুটা এসেছে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেই।
টাইম সাময়িকীতে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে থামিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি তাঁকে থামিয়েছি। না হলে তিনি যুদ্ধ চালিয়েই যেতেন। সেটা হয়তো বছরের পর বছর ধরে চলত।’
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরকে নিজেদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়, তবে ইসরায়েলকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটি গত বুধবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির বিরোধিতা করেন এবং এটিকে ‘অত্যন্ত বোকামি’ বলে উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু সে বার্তা বুঝতে পেরেছেন। তাঁর কার্যালয় এ ভোটাভুটিকে ‘রাজনৈতিক উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সদস্যরাও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নেতানিয়াহু নিজেও আগে পশ্চিম তীরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবটা তুলনামূলক বেশি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশগুলোর একটি। আর ইসরায়েল দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইসরায়েলের একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।
তবে যেকোনো কারণেই হোক, বিভিন্ন সময়ে মার্কিন প্রশাসনগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম তিন মাসে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, গাজায় আরও বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো থেকে ইসরায়েলকে বিরত রাখতে দেশটিকে প্রকাশ্য সমর্থন জানানো দরকার।
তবে সে যুক্তি কাজে দেয়নি। নেতানিয়াহু বারবারই যুদ্ধবিরতির চেষ্টা উপেক্ষা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্পও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং দেশটিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্পের সে অবস্থানে বদল দেখা যায়। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি বিরোধপূর্ণ পথ অনুসরণ করছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর এ অবস্থান কাজেও লেগেছে।
চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ কনসাল্টিং ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল নানা কথা বলতে পারে—যেমনটা তারা এখন বলছেও। কিন্তু আসলে তাদের লক্ষ্য কী, তা একেবারেই স্পষ্ট।’
গত সপ্তাহে সিবিএস নিউজের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মেকেলবার্গ। ওই সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেছেন, সেপ্টেম্বরে কাতারের দোহায় হামাসের আলোচক দলের ওপর ইসরায়েল হামলা চালানোর পর তিনি এবং ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের মনে হয়েছিল, তাঁরা ইসরায়েলের দিক থেকে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার।
আর সাক্ষাৎকারে কুশনার বলেছেন, তাঁর শ্বশুর ট্রাম্প মনে করেছিলেন যে ইসরায়েলিরা তাদের কর্মকাণ্ডে ‘কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে’। তারা যেন এমন কাজ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
অক্টোবরের প্রথম দিকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি আহ্বান জানান। ২০১৯ সাল থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এসব দুর্নীতির মামলা হয়েছে।
মেকেলবার্গ বলেন, ‘এমন হতে পারে যে ট্রাম্প হয়তো নেতানিয়াহুকে বলেছেন, দেখুন আমি আসব, নেসেটে কথা বলব, এমনকি আপনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনাও করতে পারি। তবে বিনিময়ে আপনাকে আমার নির্দেশিত পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে ইসরায়েল তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে—এমন গুঞ্জন নিয়ে নেতানিয়াহু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই। এক সপ্তাহে তারা বলে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার আরেক সপ্তাহে তারা বলে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা একেবারেই বাজে কথা।’
তবে নেতানিয়াহু এমন দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র যে ইসরায়েলের নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, তার কিছু আলামত দেখা গেছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চাপ ছাড়াও আরও অনেক নজির আছে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণ করে দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফরের সময় গাজা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পর্যবেক্ষকদের কারও কারও মতে, এটি একটি কৌশল। নেতানিয়াহু ইসরায়েলে ফেরার আগে প্রকাশ্যভাবে চুক্তির শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য এ কৌশল খাটানো হয়েছে।
একই সফরে নেতানিয়াহুকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানির কাছে দোহায় ইসরায়েলি হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ ছাড়া জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধ চালায়। ওই সংঘাত বন্ধে হওয়া যুদ্ধবিরতির শুরুতে ইসরায়েল হামলা চালানোর পরিকল্পনা করলেও ট্রাম্পই তখন নেতানিয়াহুকে থামিয়েছিলেন।
অ্যালন পিঙ্কাসের মতো পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, এসব পদক্ষেপ নেতানিয়াহু ও অন্যদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কতটা অসম, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে।
পিঙ্কাস বলেন, ‘এগুলো ইসরায়েলের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এগুলো নেতানিয়াহু ও অন্যদের জানিয়ে দিচ্ছে যে তাঁরা পরামর্শ ছাড়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্বাধীনভাবে চলতে ফিরতে পারেন, কিন্তু এর বেশি নয়।’
এ ছাড়া এসব পদক্ষেপের কারণে নেতানিয়াহুর এটা বুঝে যাওয়ার কথা যে যুক্তরাষ্ট্রে এখন তাঁর শক্তপোক্ত কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে মেনে নিতে পারছেন না, জনমত তাঁর বিপক্ষে এবং রিপাবলিকান পার্টির অনেকেও তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এখন আর তিনি এক পক্ষকে অন্য পক্ষের বিপরীতে ব্যবহার করতে পারবেন না।’
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলছেন। ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, পশ্চিম জেরুজালেম। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন রাজনীতিতে ঝড় তোলা জাহরান মামদানি যেভাবে রাজনীতিতে
আংশিক কারণ ছিল এক অসম্ভব প্রতিশ্রুতি: ‘সব ছাত্রের জন্য স্থানীয় ফলের টাটকা জুস।’ পরে তিনি স্বীকার করেন, আমি এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যা বাস্তবে করা সম্ভব ছিল না। এ খবর দিয়ে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে আরও বলা হয়, কিন্তু অন্য এক প্রচারণা দারুণভাবে এগোচ্ছিল। এটা তার কাছে অনেক বেশি অর্থবহ ছিল। তখন নিউইয়র্ক সিটির কোনো পাবলিক স্কুলেই ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিক খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। দক্ষিণ এশীয় পটভূমি থেকে আসা মামদানি ও তার বন্ধুদের কাছে এটি ছিল একটি প্রিয় খেলা। তাই তারা নিজেরাই স্কুলে ক্রিকেট টিম গঠনের উদ্যোগ নেন। তারা মাঠে মাঠে ঘুরে ব্যাট, প্যাড আর সাইনআপ তালিকা জোগাড় করেন। ফেসবুকে মামদানি লেখেন, এই খেলায় খেলতে হলে ব্রাউন হওয়া বাধ্যতামূলক না। ধীরে ধীরে তারা ছাত্র ও শিক্ষক- উভয় পক্ষকেই বোঝাতে সক্ষম হন যে, এটি সত্যিকারের একটি দলীয় খেলা।
সহপাঠী অবনীত সিং বলেন, জাহরান তখন যেন নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। স্কুলে দেখা যেত, সে ছোটাছুটি করছে। সবাইকে বলছে, ‘আমরাই স্কুলের ক্রিকেট দল।’ আসলে দল হওয়ার আগেই তাকে দল হিসেবে অভিনয় করতে হয়েছিল।
শৈশব থেকে নেতৃত্বের শিক্ষা: ২০১০ সালে ব্রঙ্কস সায়েন্স থেকে স্নাতক হওয়ার পনেরো বছর পরও মামদানির জীবনীতে সেই ক্রিকেট দলের কথাই প্রধানভাবে উল্লেখ করা হয়। কারণ, এটি শুধু এক তরুণ আইনপ্রণেতার প্রাথমিক উদ্যোগ নয়- এটি তার সংগঠক মানসিকতারও প্রতীক। আজ তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। জুনিয়র বছরে পৌঁছানোর পর মামদানির প্রচেষ্টায় নিউইয়র্কের স্কুল সিস্টেম ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিক খেলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মাসের পর মাস বৈঠক, পরিকল্পনা ও তদবির শেষে তাদের দল প্রথমবারের মতো শহরের অনুমোদন পায়। মামদানি পরে বলেন, এই ঘটনাই আমাকে সংগঠনের শক্তি ও বাস্তবতা পরিবর্তনের ক্ষমতা শিখিয়েছিল।
ছোট শহর থেকে বৃহৎ দিগন্তে: উগান্ডায় জন্ম নেয়া এবং ভারতীয় বুদ্ধিজীবী দম্পতির সন্তান হিসেবে মামদানির বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তবু তার শৈশবের নিউইয়র্ক ছিল ছোট। সীমিত বন্ধুবৃত্তের এক সাদা মধ্যবিত্ত দুনিয়া। ব্রঙ্কস সায়েন্সেই প্রথম তিনি বর্ণ, শ্রেণি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য সহ প্রকৃত নিউইয়র্ককে চিনতে শেখেন। সেখানে তিনি শিখেছেন কিভাবে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, কীভাবে নিজের পরিচয়কে গ্রহণ করতে হয়, এমনকি কৌতুকে ভরা কৈশোরে নিজের ‘ব্রাউন’ পরিচয় নিয়েও গর্ব করতে হয়। তার এক ক্যাম্পেইন স্লোগান ছিল- হোয়াট ক্যান ব্রাউন ডু ফর ইউ? আর একবার স্কুলে পরে ছিলেন টুপি। তাতে লেখা- ‘উগিন্ডিয়াস ফাইনেস্ট’।
অসমতার পাঠ: ব্রঙ্কস সায়েন্স নিউইয়র্কের আটটি স্পেশালাইজড স্কুলের একটি। সেখানে ভর্তি সম্পূর্ণভাবে এক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। মামদানি নিজেও বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলগুলো কতটা বিভাজিত। দীর্ঘদিন তিনি এই ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছিলেন, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে তিনি একে ‘সংঘাতপূর্ণ ইস্যু’ বলে নরম অবস্থান নিয়েছেন।
কমিউনিটি ও রাজনৈতিক শিকড়: ব্রঙ্কস সায়েন্সে প্রায় ৭০০ সহপাঠীর মধ্যে মামদানি ছিলেন পাতলা গড়নের প্রাণবন্ত এক কিশোর। তিনি নিজেকে দিয়ে আলাদা হয়ে উঠেছিলেন। ইতিহাস শিক্ষক মার্ক কাগান বলেন, চৌদ্দ বছর বয়সী সব ছেলের মধ্যে ব্যক্তিত্ব থাকে না। কিন্তু জাহরানের মধ্যে কিছু আলাদা ছিল। প্রথমে ধনী শ্বেতাঙ্গ সহপাঠীদের সঙ্গে মিশলেও, পরে মামদানি ক্রমে ঘনিষ্ঠ হন সেই ক্রিকেট দলের ছেলেদের সঙ্গে- যারা ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকেই নিম্নবিত্ত। এই সম্পর্কই শ্রেণি-সংবেদনশীলতা, সংগঠনের দক্ষতা এবং সমাজ পরিবর্তনের বিশ্বাস তার রাজনীতির মূলভিত্তি গড়ে দেয়। তিনি নিজের হাইস্কুল ইয়ারবুকে লিখেছেন, আমি বোলার হতে ভালোবাসি। কারণ খেলার গতিপথ অনেকটা আমার হাতে থাকে। এই কথাই যেন আজ তার রাজনীতিতেও প্রতিধ্বনিত হয়।
নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ ও পুরনো স্কুলের গর্ব: আজও ব্রঙ্কস সায়েন্সের সাবেক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মামদানির উত্থান নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। কেউ গর্বিত, কেউ বিস্মিত- একই স্কুল থেকে এত বামপন্থী একজন রাজনীতিক বেরিয়েছে, তা অনেকের কাছে অবাক করার মতো। মামদানি নিজেও মজা করে তার পুরনো ব্যর্থ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নিউইয়র্ক পোস্ট আমার সেই ‘জুস ফর অল’ প্রচারণা নিয়ে লিখেছিল। আমি এখন শুধু বলতে পারি- ‘গো উলভারিনস!’ বছরখানেক আগে ম্যানহাটনের এক অনুষ্ঠানে তিনি দর্শকের ভিড়ে বসে থাকা তার পুরনো শিক্ষক কাগানকে চিনে ফেলেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক বলেন, ও আসলে তেমন বদলায়নি, শুধু এখন দাড়ি রেখেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
October
(199)
-
►
Oct 30
(6)
- বিদেশি মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার: ক্ষমা চাইবেন না, আওয়াম...
- ৩ দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ন...
- গাজা যুদ্ধের সংবাদে ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগে ১৫০ লে...
- ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে পারল ...
- যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গাজ...
- ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-আফগান তালেবান শান্তি আলোচনা ...
-
►
Oct 30
(6)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









