Saturday, November 21, 2009
তিনি ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ -চারদিক by মানস গোস্বামী
স্যার প্রকৃত অর্থেই একজন বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক মানুষ ছিলেন। প্রতিটি বিষয় তিনি গ্রহণ করতেন যুক্তিগ্রাহ্য হলে। কয়েক বছর আগে স্যারের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেখা করতে গেছি—কথা প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে গ্রেডিং সিস্টেম চালুর প্রসঙ্গটি আসে। তখন দেশজুড়ে এ পদ্ধতির ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। স্যারের গ্রেডিং পদ্ধতির প্রতি সমর্থন আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কত পুরোনো দিনের মানুষ হয়েও আধুনিকতাকে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণ করতে পারতেন। সে অর্থে স্যার ছিলেন প্রকৃতপক্ষেই স্মার্ট। প্রখর ধীশক্তিসম্পন্ন বিজ্ঞানমনস্ক এই মানুষটিকে আমি ছেলেবেলা থেকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। তিনি আমার জীবনের পথপ্রদর্শক। শুধু আমি নই, আমার বিশ্বাস, এই অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক মানুষকে গড়ার কারিগর ছিলেন স্যার।
জীবদ্দশায় স্যারকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিইনি আমরা। এই তো গেল ২০০৫ সালে আমাদের স্কুলের প্রতিষ্ঠা শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্যারকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। এই নিয়ে অবশ্য স্যারের কোনো আক্ষেপ ছিল না। এই মানুষটি সারাটি জীবন শিক্ষাদানে আনন্দ পেয়েছেন—প্রাপ্তি তাঁর শত শত শিক্ষিত ছাত্র। অন্য কিছু আশা করেননি কখনো।
স্যারের সঙ্গে শেষ দেখা হয় গত বছরের শবেবরাতের রাতে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত শয্যাশায়ী ক্ষীণদৃষ্টি কিন্তু স্মৃতিভ্রম হয়নি একটুও। অনেকক্ষণ থাকার পর বিদায়বেলা পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেই স্যার আমার মাথাটা বুকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘আমার চোখটা একটু দেখে যেয়ো।’ কিন্তু আমি চোখের ডাক্তার হয়েও স্যারের চোখ আর দেখে দিতে পারিনি। তার আগেই স্যার চলে গেলেন। এই কষ্ট শুধু আমারই; কাউকে বোঝানো যাবে না।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ -মিডিয়া ভাবনা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখা যায় না কেন, তা নিয়ে বহু আলোচনা ও লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু এর কোনো সমাধান হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই। এটা বেসরকারি খাতের বিষয়। তারা আগ্রহী হলে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখাতে কোনো সরকারি বাধা নেই।’ অপরদিকে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের মালিকেরা বলেছেন, ‘কলকাতার কেব্ল্ অপারেটররা এ জন্য বার্ষিক ভিত্তিতে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের মালিকেরা সেই টাকা দিতে রাজি নন।’ কেনই বা রাজি হবেন? কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনো আয় তো তাঁদের নেই।
সমস্যাটি এ জায়গায় এসে ঝুলে গেছে। কিন্তু এভাবে তো ঝুলে থাকা উচিত নয়। বিষয়টির একটা সুরাহা হওয়া দরকার। আমি প্রস্তাব করছি: বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিল্পী প্রতিনিধির একটি দল কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংস্কৃতিমান মুখ্যমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, কেব্ল্ অপারেটরদের সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সমস্যাটির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে কলকাতায় বসেই এর সমাধান দিয়ে আসার ব্যবস্থা করা দরকার। যেহেতু এটা প্রধানত বেসসকারি পর্যায়ের ইস্যু, সেহেতু এটা নিয়ে সংসদে আইন পাস বা দুই সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের কিছু নেই। মিয়া-বিবি রাজি হলে ওই বৈঠকেই সমাধান সম্ভব।
যদি কোনো কঠিন কারণে এ সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে কলকাতা তথা ভারতের কেব্ল্ চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে প্রদর্শন করা যুক্তিযুক্ত হবে কি না, তা কেব্ল্ অপারেটর ও আত্মসম্মানসম্পন্ন দর্শকদের বিবেচনা করতে বলব। যদি কলকাতার কেব্ল্ অপারেটররা টাকার কারণেই দেখাতে সম্মত না হন, তাহলে বাংলাদেশের কেব্ল্ অপারেটররা অনুরূপ অঙ্কের টাকার দাবি তুলতে পারেন। অন্তত এই সুযোগে বছরে একটা মোটা অঙ্কের টাকা তো আয় হবে। টাকার দাবি না মেটালে বাংলাদেশেও বন্ধ থাকুক ভারতীয় কেব্ল্ টিভি চ্যানেলগুলো। যেভাবে তারা বন্ধ রেখেছে।
এ ব্যাপারে কলকাতার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিষয়টা তুলে ধরতে হবে। কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ দর্শকেরা (যাদের অনেকেই ঢাকার টিভি অনুষ্ঠানের অনুরাগী) যেন জানতে পারে, কী কারণে ও কাদের কারণে তারা ঢাকার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখতে পারছে না।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের টিভি চ্যানেল দেখা গেলে আমাদের কী লাভ? আমি বলব, অনেক লাভ। যেমন—এত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সমাজ, পরিবেশ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, উন্নয়ন, সাফল্য ইত্যাদি সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের অনেক শিক্ষিত মানুষও প্রায় কিছুই জানে না। তথ্যপ্রাপ্তির এক বিরাট ঘাটতি রয়েছে।
টিভি চ্যানেলগুলো দেখা গেলে বিজ্ঞাপনের বদৌলতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও ভারতে (অন্তত প্রতিবেশী সাত রাজ্যে) সম্প্রসারিত হতো। যেমন ভারতীয় টিভি চ্যানেলে ভারতীয় নানা পণ্যসামগ্রী ও সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দেখে বাংলাদেশের দর্শক তাতে আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী তা আমদানি করছেন। এখানে ভারতীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতে বেড়াতে গেলেও ওই পণ্যের খোঁজ করছেন অনেকে। এভাবেই টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারতের ব্যবসা বাংলাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল বন্ধ করে রেখে আমাদের পণ্য সম্পর্কে ভারতবাসীকে অন্ধকারে রাখার একটা ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অনেকে মনে করেন। যদিও সত্যের খাতিরে এটা বলতে আমার দ্বিধা নেই, বাংলাদেশের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের বৈচিত্র্য ও আকর্ষণ অনেক গুণ বেশি। কিন্তু আমাদের যেটুকু রয়েছে, সেটুকু নিয়েও আমরা ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারছি না। টিভি ছাড়া আরও কারণ রয়েছে।
কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের বাজারে বাংলাদেশের বইও তেমন প্রবেশ করতে পারেনি। আমরা বইয়ের বাজারও সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের বই আমদানিকারকদের উত্সাহের অভাবও এর একটা বড় কারণ। অথচ বাংলাদেশের বইয়ের বাজারে কলকাতার বই আলো করে রয়েছে। কোনো কোনো বইয়ের দোকানে প্রধানত কলকাতার বইই বিক্রি হয়। কলকাতার পাক্ষিক পত্রিকারও বিরাট বাজার রয়েছে বাংলাদেশে। আমাদের পত্রপত্রিকার নামই কলকাতার পাঠক জানে কি না সন্দেহ। অথচ আমরা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। এক ভাষা। সংস্কৃতির মধ্যে কত মিল। বাস্তবে কী দুঃসহ দূরত্ব সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংগীত কম সমৃদ্ধ নয়। শুধু লোকগীতি নয়, আধুনিক গানেরও বাজার হতে পারত ভারতের বাংলাভাষী রাজ্যগুলোতে। কিন্তু তা হতে পারেনি। আমাদেরই উদ্যোগের অভাব এ জন্য কম দায়ী নয়। ভারতের অসহযোগিতা তো আছেই। আমরা কতটা উদ্যোগী হয়েছি, সেটাও দেখতে হবে। আমাদের কোনো সরকারই কি ভারতে (অন্তত সাত রাজ্যে) বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রসারের কোনো বড় পদক্ষেপ নিয়েছে? একটা উদাহরণ কেউ দেখাতে পারবে?
স্বাধীনতার পর থেকে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। কখনো কোনো সরকার এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মনে করেনি। যতটা মনে করেছে ফারাক্কা, তিন বিঘা করিডর বা হালের টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে। নিঃসন্দেহে এগুলো অনেক বড় সমস্যা। কিন্তু মিডিয়া, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ-ভারত অসম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বা বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে কোনো সরকারই এগিয়ে আসেনি।
অনেকে বলতে পারে, শুধু ভারতে কেন? অন্য দেশে নয় কেন? বাজেট থাকলে পৃথিবীর সব দেশেই তা করা যেতে পারে। তবে সব দেশের লোক বাংলাদেশের বই বা গান সম্পর্কে আগ্রহী হবে, এমন দাবি করা যাবে না। পাকিস্তান, সৌদি আরব বা সুইডেনের মানুষ কি আগ্রহী হবে? কাজেই ভাষা ও সংস্কৃতির নৈকট্য বেশি বলে ভারতের সাত রাজ্যে চাহিদা হতে পারে। সে জন্যই ভারতের প্রসঙ্গ বারবার আসছে।
এই পটভূমিতে সরকারের কাছে, বিশেষ করে সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার প্রস্তাব: প্রতিবছর পালাক্রমে কলকাতা, শিলিগুড়ি ও আগরতলায় সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশ উত্সবের’ আয়োজন করা হোক। এতে থাকবে বাংলাদেশের বই, পত্রপত্রিকা, আমদানিযোগ্য পণ্যসমাগ্রী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, প্রতি সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অডিও সিডির স্টল, কলকাতার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রতি সন্ধ্যায় নির্বাচিত একটি টিভি অনুষ্ঠান, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র ইত্যাদি। আমার আশা, সরকার উদ্যোগী হলে এ কাজে বেসরকারি উদ্যক্তাদের সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে দেখতে হবে, সরকার যেন পেশাদারী দৃষ্টিকোণ থেকে সব আয়োজন করে। এসব ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বা গোষ্ঠীপ্রীতি যেন সরকারকে প্রভাবিত করতে না পারে। যদি একটানা পাঁচ বছর এ রকম ‘বাংলাদেশ উত্সবের’ আয়োজন করা সম্ভব হয়, তাহলে আমাদের প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রকাশনা ও পণ্যসামগ্রীর একটা চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সবকিছুর আগে দরকার পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো দেখার বাধা দূর করা। এ ব্যাপারে এক্ষুনি জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। এফবিসিসিআই এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিলে ভালো হয়। কারণ টিভি চ্যানেল দেখা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিল্প-সংস্কৃতির প্রচার তো আছেই। ব্যবসার সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। একদা ‘বিটিভির’ প্রিয় মুখ আনিসুল হক এখন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। তিনি এর গুরুত্ব যথাযথ অনুধাবন করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কাজেই তাঁর নেতৃত্বে এই জটটা খোলার চেষ্টা করা যেতে পারে। আশা করি, কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশন এ ব্যাপারে দাপ্তরিক সহায়তা দেবে। ২০০৯ সাল শেষ হওয়ার আগেই আমরা কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখাতে চাই—এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে অনুরোধ করছি।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাবাগৃহ ও হজের পটভূমি -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুলমুনিম খান
মুসলমানদের প্রধান কিবলা পবিত্র কাবা শরিফ আল্লাহ তাআলার এক অপূর্ব সৃষ্টি। হজের মৌসুমে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় যান। ভৌগোলিক দিক দিয়ে মক্কা মুকাররমা ও আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। মক্কা নগর পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় আল্লাহ তাআলা ‘বাইতুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করেন। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা সর্বপ্রথম দুনিয়াতে কাবাগৃহ নির্মাণ করে এখানে ইবাদত করেন। কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লার ছায়াতলে সোজাসুজি সপ্তম আসমানে অবস্থিত সম্মানিত মসজিদে বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তাফসিরবিদের মতে, মানবজাতি সৃষ্টির বহু আগে আল্লাহ তাআলা কাবাগৃহ সৃষ্টি করেন, তখন জিন জাতি জমিনের একমাত্র বাসিন্দা ছিল। কারও মতে, আল্লাহ তাআলা বাইতুল্লাহর স্থানকে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেন। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ হলো মসজিদুল হারাম। এরপরের মসজিদ হলো মসজিদুল আকসা। মসজিদুল হারাম নির্মাণের ৪০ বছর পর মসজিদুল আকসা নির্মিত হয়।’ (মুসলিম)
ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম রোকন হজ। মূলত ইসলামের পূর্ব থেকেই কাবাঘর জিয়ারত ও হজ আদায়ের প্রচলন ছিল। তাই হজের একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। হজরত আদম (আ.) সর্বপ্রথম বাইতুল্লাহ শরিফের হজ আদায় করেন এবং আল্লাহর আদেশে কাবাগৃহ পুনর্নির্মাণ করেন। এরপর বহুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আল্লাহ তাঁর বিভিন্ন নবীর ওপর ওহী নাজিলের মাধ্যমে কাবার নির্দিষ্ট স্থান জানিয়ে দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী কাবাগৃহের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলেছে। এভাবে শত শত বছর অতিবাহিত হলেও আল্লাহর বান্দারা কাবাঘর জিয়ারত করত, সেখানে সমবেত হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিত এবং আল্লাহর পবিত্রতা ও অংশীদারহীনতা ঘোষণা করত। এরপর আল্লাহর নবী হজরত শীস (আ.) কাবাগৃহ পুনর্নির্মাণ করলেন। দিন দিন একত্ববাদের সংখ্যা বাড়তে থাকল।
অতঃপর হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনে কাবা শরিফ ধসে যায়। আল্লাহর হুকুমে হজরত ইবরাহীম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.) কে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সৃষ্টিকর্তার দরবারে আকুল প্রার্থনা করেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে আজ্ঞাবহ কর, আমাদের বংশ থেকে একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ কাজটি কবুল কর।’ আল্লাহ তাআলা হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর দোয়া কবুল করে নির্দেশ দিলেন, ‘হে ইবরাহীম! তুমি মানুষকে হজের জন্য আহ্বান কর।’ হজরত ইবরাহীম (আ.) বললেন, ‘হে আল্লাহ! সারা বিশ্বের মানুষ কি আমার ঘোষণা শুনবে?’ আল্লাহ পাক বলেন, ‘হে ইবরাহীম! তুমি ঘোষণা কর আর তা মানুষের কানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’
আল্লাহর আদেশে হজরত ইবরাহীম (আ.) একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করলেন এবং ডানে-বাঁয়ে, পূর্ব-পশ্চিমে ফিরে কাবাঘরের হজ (জিয়ারত) করার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে আসার জন্য লোকদের প্রতি আহ্বান করে হজের ঘোষণা করেন, ‘হে লোক সকল! বাইতুল্লাহ শরিফের হজ তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে।’ সেদিন হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর ঘোষণা আকাশ ও জমিনের সবাই শুনেছে এবং ‘লাব্বাইক’ শব্দ বলে জবাব দিয়েছে। সেদিন যে যতবার ‘লাব্বাইক’ বলে জবাব দিয়েছে, সে ততবার হজ করার সৌভাগ্য লাভ করবে। আল্লাহর খলীলের সেই আহ্বান আজও যেন আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে। হজের মৌসুম এলে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবাগৃহের পানে ছুটে আসেন লাখো প্রেমিক। পরনে দুই খণ্ড সাদা কাপড়, মুখে তালবিয়ার মুহুর্মুহু ধ্বনি, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’। বাস্তবে এটি ঐশীপ্রেমের এক অতুলনীয় নিদর্শন। লাব্বাইক ধ্বনি তুলে কাবাগৃহের চারপাশে প্রদক্ষিণ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা-মারওয়ায় সাঈ বা ছোটাছুটি, মিনায় গিয়ে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করা—এসবই হজের কার্যক্রম।
হজরত ইবরাহীম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশধারা থেকে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। এরপর কয়েক শ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যথাক্রমে আমালেকা সম্প্রদায়, জোরহোম গোত্র, কুসাই বিন কিলাব, কুরাইশ, হজরত আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা.), হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, সুলতান মুরাদ প্রমুখ পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ করেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়্যাত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশ কাবাঘর সংস্কার সাধনের পর ‘হাজরে আসওয়াদ’ স্থাপন নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বহস্তে কাবাগৃহে সর্বসম্মতিক্রমে যথাস্থানে কৃষ্ণপাথর স্থাপন করেন।
ইসলামের ইতিহাসে ৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছর ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ আদায় করেন। তিনি যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেন, প্রতিবছর ৮ থেকে ১৩ জিলহজ মক্কা মুকাররমা এবং এর ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সেভাবেই হজ পালিত হয়। হাজার হাজার বছর ধরে তাওহিদের ঘোষণাকারী হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের উচ্চারণ, নিরঙ্কুশ আনুগত্য প্রকাশ ও আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হচ্ছে। উম্মতে মুহাম্মদীর কণ্ঠে ১৪০০ বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে কাবাগৃহের চারিপাশে সুমধুর ধ্বনি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ উচ্চারিত হয়ে আসছে; যা হজরত ইবরাহীম (আ.) ও হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর ঐতিহাসিক সুমহান ত্যাগের স্মৃতি বহন করে চলেছে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়
সংক্ষিপ্ত আদেশ
পরে বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করে রাখার স্বার্থে, এখানে আমরা নিম্নোক্ত আদেশের বিবরণ দিচ্ছি।
আপিলকারী মেজর মো. বজলুল হুদা, লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল মুহিউদ্দিন (আর্টিলারি) এবং মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) হাইকোর্ট বিভাগের ৩০ এপ্রিল ২০০১ তারিখের রায় ও আদেশ; ১৯৯৮ সালের ডেথ রেফারেন্স নং ৩০ এবং ১৯৯৮ সালের ক্রিমিনাল আপিল নং ৩০, ১৯৯৮ সালের ২৬০৪, ১৯৯৮ সালের ২৬১৩ এবং ১৯৯৮ সালের ২৬১৬ এবং উপরিউক্ত বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের ডিভিশন বেঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় বিজ্ঞ বিচারকের ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে পাঁচটি লিভ পিটিশন দাখিল করেছেন।
নিম্নোক্ত দফাগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের আপিল লিভ মঞ্জুর করা হলো:
ক) যেহেতু ডিভিশন বেঞ্চের বিজ্ঞ বিচারপতিরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন এবং তাতে স্বাক্ষর করেছেন, তৃতীয় বিচারপতি রেফারেন্সটি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা না করে—সব অভিযুক্তের বিষয়ে সামগ্রিক বিবেচনা ছাড়াই কেবল ছয় অভিযুক্তের প্রসঙ্গ বিবেচনা করতে গিয়ে, আইনের মৌলিক লঙ্ঘন করেছেন।
খ) এফআইআর দায়ের করায় ২১ বছরের বিলম্ব অগ্রহণযোগ্য; এই অযৌক্তিক বিলম্ব অসাধু উদ্দেশ্যেরই প্রকাশ এবং বানোয়াট গল্প সৃষ্টি করে আপিলকারীদের মিথ্যার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার নকশারই অংশ এটি—হাইকোর্ট ডিভিশন এ বিষয়ে আলোকপাত না করে এবং আইনের ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে আসামিদের চরম দণ্ড বহাল রেখেছেন।
গ) যেহেতু সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে উন্মোচিত হয় যে, একটি সামরিক বিদ্রোহের ঘটনা থেকেই সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর পরিবারবর্গ খুন হয়েছিল এবং উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডটি যেহেতু নিছক একটি সাধারণ খুন নয়, সেহেতু সাধারণ অপরাধ আদালতে আপিলকারীদের বিচার গ্রাহ্য হবে না।
ঘ) যেহেতু সাক্ষ্য-প্রমাণাদি থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে উন্মোচন করে না, বরং মুজিব সরকারের বদলের উদ্দেশ্যে সেনা বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র হিসেবেই উন্মোচিত হয়, সেহেতু দোষী সাব্যস্ত করা ও শাস্তি দেওয়া বেআইনি হয়েছে।
ঙ) যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ আপিলকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা মোতাবেক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণাদি সতর্কভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি, সেহেতু ন্যায়বিচার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে...
ওপরের যুক্তিগুলোর বিষয়ে আমাদের মতামত নিচে উল্লেখ করা হলো:
ক) ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৮ ও ৪২৯ ধারার আলোকে এটা তৃতীয় বিজ্ঞ বিচারপতিই নির্ধারণ করবেন যে, কোন কোন বিষয়ে তিনি শুনানি গ্রহণ করবেন এবং এটা স্বীকৃত যে, তিনি এ ব্যাপারে পুরোপুরি স্বাধীন যে তিনি সেই বিতর্কের নিরসন করবেন, যা উপযুক্ত বলে মনে করবেন। সুতরাং ছয়জনের বিষয়ে, যাঁদের ব্যাপারে বিচারপতিদ্বয় ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত তৃতীয় বিজ্ঞ বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত এবং বাকি যে নয়জনের ব্যাপারে ডিভিশন বেঞ্চের বিজ্ঞ বিচারপতিদের মতৈক্য ছিল, তাঁদের ব্যাপারে তৃতীয় বিচারপতিও ছিলেন একমত।
খ) এফআইআর দায়েরে বিলম্বের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের ব্যাখ্যা বিজ্ঞ দায়রা জজ ও হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিজ্ঞ বিচারপতিদ্বয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে গ্রহণ করেছেন। এই পর্যবেক্ষণে (ফাইন্ডিংস) মতৈক্য আছে, সুতরাং আমাদের মতে, এ ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করা আবশ্যক নয়।
গ) কোনো হত্যার অপরাধ সেনা আইন-১৯৫২-এর ৫৯(২) ধারার অন্তর্ভুক্ত হবে এই শর্তে যদি ওই অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীরা ‘নিয়মিত চাকরি’তে থেকে থাকেন, কিন্তু সেনা আইনের ৮(১) ধারা অনুযায়ী আবেদনকারীরা ‘নিয়মিত চাকরি’তে ছিলেন না, ফলে সাধারণ ফৌজদারি আইনে তাঁদের বিচারে কোনো বাধা সেনা আইনে নেই। দ্বিতীয়ত, এমনকি এটা যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটা একটা ‘সাধারণ অপরাধ’ যা সেনা আইনের ৮(২) ধারার আলোকে এ ধরনের অপরাধের ৯৪ ধারা অনুযায়ী বিচারে কোনো বাধা নেই।
ঘ) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার কোনো আইনানুগ তথ্য-প্রমাণ নেই যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তিনজন নিরাপত্তারক্ষীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা সেনা বিদ্রোহের ফল। আমাদের মত হলো যে, এটা বিদ্রোহ সংঘটনের জন্য কোনো ফৌজদারি ষড়যন্ত্র নয়। বরং এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য একটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্র।
ঙ) হাইকোর্ট বিভাগের বিজ্ঞ বিচারপতিরা বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে আবেদনকারীদের ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এবং আবেদনকারীরা এটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, হাইকোর্ট বিভাগ বড় ধরনের অবিচার করেছেন অথবা ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে বিচার-বিভ্রাট ঘটিয়েছেন। যদিও এটা আবেদনকারীদের বিষয়, তবু যথাযথ মূল্যায়ন ও উপযুক্ত প্রমাণ ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ আমরা খুঁজে পাইনি।
চ) আবেদনকারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কঠোরতা হ্রাস করার পক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি। আমরা হাইকোর্ট ডিভিশন ও দায়রা জজের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশকে পরিবর্তন করাকে সমীচীন মনে করিনি।
অতএব ২০০৭-এর ফৌজদারি আপিল নং ৫৫-৫৯ ও জেল আপিল নং ২ এবং ২০০১-এর ক্রিমিনাল মিসসেলেনিয়াস পিটিশন নং ৮ ও ২০০০ সালের ক্রিমিনাল রিভিউ পিটিশন নং ৩ খারিজ করে দেওয়া হলো।
এই আদেশের মাধ্যমে এই আদালতের দেওয়া আগের সব স্থগিতাদেশ বাতিল করা হলো।
এই আদেশ পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটি অংশ হবে।
(ইংরেজি থেকে অনূদিত)
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রায়টি হোক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশনা -সহজিয়া কড়চা by সৈয়দ আবুল মকসুদ
কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও তাঁর প্রিয়জনদের এই হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ খুনের ঘটনা নয়। এটি বিশ শতকের অন্যতম জঘন্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। সমকালীন ইতিহাসে পৃথিবীতে আরও অনেক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের চরিত্র ভিন্ন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা মহাত্মা গান্ধী ঘরের ভেতর প্রার্থনাসভায় আততায়ীর হাতে নিহত হন। এর আড়াই বছর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হন জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময়। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউ আর ডি বন্দরনায়েক নিহত হন ১৯৫৯ সালে। পরে নিহত হন রাষ্ট্রপতি প্রেমাদাসা। আব্রাহাম লিংকন ছাড়া নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদোর আলেন্দে ১৯৭৩ সালে। অন্যদের মধ্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এবং ফিলিপাইনের বেনিনো অ্যাকুইনো আততায়ীর হাতে নিহত হন। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও নিহত হন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। যেসব দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান নিহত হন, সেসব দেশে তাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁদের সরকারের পতন ঘটেনি। তা ছাড়া তাঁদের পরিবারের সব সদস্যকেও হত্যা করা হয়নি। যাঁদের নাম উল্লেখ করেছি, তাঁদের মধ্যে শুধু আলেন্দের ছাড়া সবার খুনিদের তাত্ক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হয়। তাঁদের দেশের প্রচলিত আইনে তাঁদের হত্যার বিচার হয়েছে এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করেছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বিশ শতকের একটি ব্যতিক্রমী হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের দুটি দিক। একটি এর বর্বরতা, আরেকটি এর রাজনৈতিক নিহিতার্থ। তাঁর হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে তাঁর সরকারের পতন ঘটানো শুধু নয়, তাঁর রাজনীতির আদর্শ মুছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। এবং যাঁরা তা করেন, তাঁরা তাতে সফল হন। তাঁরা এতটাই সফল হয়েছিলেন যে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো একটি কালো আইন পর্যন্ত তাঁরা জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। তাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে ওই দায়মুক্তির অধ্যাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বাতিল করে। তারপর বঙ্গবন্ধু ভবনের একজন কর্মচারী ধানমন্ডি থানায় এজাহার দায়ের করেন। ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। নানা বাধাবিঘ্নের ভেতর দিয়ে হলেও বিচারের সমাপ্তি ঘটল বৃহস্পতিবার। এখন রায় কার্যকর করার আইনি প্রক্রিয়াটি বাকি।
মামলাটির বিচার হয়েছে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। প্রচলিত আইনে বিচার হওয়ায় আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ আদালতে বা সেনা আইনে বিচার হলে সাধারণ মানুষের কাছে অনেক কিছুই অজানা বা অস্পষ্ট থাকত। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শুনানিতেও দুই পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন এবং গত কয়েক দিনে আদালতে যে যুক্তি-তর্ক হয়েছে, তাতে আইনগত দিক যত না আলোচিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে রাজনৈতিক দিক। সেটা সংগত কারণেই হয়েছে এ জন্য যে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক শত্রুরাই তাঁকে হত্যা করেছিল।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক শত্রুরা ক্ষমতা দখল না করলে রাষ্ট্রই উদ্যোগ নিয়ে এ মামলা পরিচালনা করতে পারত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা ছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাঁর শত্রুদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র মাত্র। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপরাধের বিচার হলে সেদিনের বহু শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক আমলা ও রাজনীতিক ফেঁসে যেতেন। ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং একপর্যায়ে ঘাতকদের সঙ্গে তাঁদের সহযোগিতার কারণে ইতিহাস তাঁদের ক্ষমা করবে না। তা ছাড়া ১৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনে ষড়যন্ত্রকারী ও ঘাতকদের রাজনীতিই টিকে গেছে। উপকৃত হয়েছিলেন তাঁদের সামরিক-বেসামরিক সহযোগীরা।
বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, সেদিনের অভ্যুত্থানে যাঁরা ভাড়াটে খুনির দায়িত্ব পালন করেছিলেন, পরবর্তী বহু বছর তাঁদের জীবন ছিল খুবই উপভোগ্য ও সুখকর। দেশ ও বিদেশে তাঁরা রাজার হালে জীবন যাপন করেছেন। জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জেনারেল এরশাদ তাঁদের এমন সব বড় বড় চাকরি দিয়েছেন বিভিন্ন দূতাবাসে, যা কঠিন পরীক্ষা দিয়ে বহু বছর অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমেই শুধু পাওয়া সম্ভব। পনেরোই আগস্টের ঘাতকদের জীবনের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করাই ছিল জিয়া ও এরশাদ সরকারের অন্যতম প্রধান ব্রত।
কিন্তু কেন তাঁরা তা করেছেন? তাঁরা তা করেছেন এ জন্য যে, জিয়া-এরশাদের রাজনীতি আর ঘাতকদের রাজনীতি অভিন্ন। তাঁদের রাজনৈতিক দল গঠনেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সংসদেরও সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের প্রতি খালেদা জিয়ার সরকারের আশীর্বাদও অপ্রকাশ্য ছিল না। ফ্রিডম পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি (প্রগশ) প্রভৃতি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক মিত্র। জেনারেল এরশাদের ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টির এক নেতা নির্বাচিত হন। শুধু জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া নন, পনেরোই আগস্টের নষ্টদের বৈদেশিক মিত্রও ছিল খুবই বিশ্বস্ত ও ক্ষমতাবান। যে কারণে তাঁরা বহু বছর দেশের মধ্যেও দর্পভরে চলাফেরা করেছেন।
সত্তরের দশকের বিশ্ব রাজনীতি ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির পরিস্থিতির সুযোগটি নিয়েছিলেন পনেরোই আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীরা। পৃথিবীর কোনো মানুষই ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নয়। মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয় কেউই। রাজনীতিবিদ ও শাসকেরাও মানুষ। অজস্র কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ভুল হতে পারে। রাষ্ট্রের সরকার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এক শাসক বা সরকারের ভুল পরবর্তী শাসক বা সরকারের সংশোধন করার সুযোগ থাকে। সে সুযোগ সামন্তবাদী রাজতন্ত্রেও থাকে, গণতন্ত্রে তো থাকেই।
ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে দিয়ে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন এবং একই সঙ্গে একদলীয় শাসন প্রবর্তন ছিল একটি ভুল পদক্ষেপ। দেশের সব রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নিষিদ্ধ করায় সেইসব দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খুব স্বাভাবিক কারনেই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ (মো) এক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা দিয়েছে, বাকশালে যোগ দিয়েছে। যদিও এই দল দুটির কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। অন্যান্য দলগুলোর নেতারা ছিলেন খুবই বিরূপ। বঙ্গবন্ধুর সরকার ঝুঁকে পড়েছিল সমাজতান্ত্রিক শিবিরের দিকে। তাতে পুঁজিবাদী বিশ্ব ও ধর্মপন্থীরা সরকারের ওপর অখুশি হয়। সরকারবিরোধী ওই সব চেতনা কাজে লাগিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের পূর্ণ সহযোগিতায় পনেরোই আগস্টের বর্বরতা ঘটানো হয়। এবং বিভিন্ন দল ওই পটপরিবর্তনকে তাদের ভাগ্য বদলের জন্য কাজে লাগায়।
পঁচাত্তরে বিভিন্ন দলের নেতারা যে ভুলটি করেছিলেন, তা হলো, তাঁরা একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন না করে, আন্দোলন গড়ে না তুলে, সেনাবাহিনীর জেনারেলদের করুণার ওপর নির্ভর করতে থাকেন। যে কারণে সুবিধাবাদী রাজনীতির তলায় চাপা পড়ে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। কই, কোনো রাজনৈতিক দল তো সত্তর ও আশির দশকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবি করে কোনো জনসভা বা মানববন্ধন করেনি? ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই দেশ ও বিদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমাদের মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের নেতা, নাগরিক সমাজের নেতা ও আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো বড় কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেননি।
তা যদি তাঁরা করতেন, তাহলে বহু আগেই এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হতো। খুব ভালো হতো এই বিচার যদি সম্পন্ন হতো জিয়া, এরশাদ বা খালেদা জিয়ার সরকারের সময়। তাঁদের জন্যও হতো শ্লাঘার বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ওই তিন শাসক চাননি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হোক। তা চাননি এ জন্য যে, অপরাধীরা তাঁদের রাজনৈতিক মিত্র।
বাংলাদেশের রাজনীতির যে ধারা, তাতে এক সরকারের যেকোনো কাজ তার বিরোধী দলগুলো ইতিবাচকভাবে নেয় না। এই মামলার রায়ের প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, এতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশের মানুষ ‘স্বস্তি’ পেয়েছে। তিনি একসময় আইনমন্ত্রী ছিলেন এবং দেশের একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তাঁর কথা আমরা মূল্য দেব। কিন্তু তাঁর দল এ রায়কে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা আমাদের দেখতে হবে। বিএনপিকে বুঝতে হবে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ঘাতকদের, তাদের নেতাদের নয়।
অতীতের অগণতান্ত্রিক শক্তির দায় দেশবাসী আর বহন করতে চায় না। আইনের শাসন আর গণতন্ত্র পরস্পর সম্পর্কিত। সাজা পাওয়া ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষক দেশ ও বিদেশে থাকা সম্ভব। তাঁদের সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। দলমতনির্বিশেষে ‘আইন’ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—সরকারকে প্রমাণ করতে হবে। জেলহত্যা মামলাসহ আরও যেসব মামলা এখনো নিষ্পন্ন হয়নি, তা স্বচ্ছভাবে মীমাংসিত হবে—সেটাই জনগণ প্রত্যাশা করে। মানুষ আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র চায়—অন্য কোনো কিছু নয়।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে যদি কোনো রকম ত্রুটি থাকে, তার দায়দায়িত্ব আইনজীবী ও বিচারকদের, সরকারের নয়। এই রায় নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরাও গবেষণা করবেন। পুরো রায়টি এখনো আমরা পাঠ করিনি। এই রায়ে আমাদের বিচারব্যবস্থায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা পরে জানা যাবে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার হত্যার বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। আশা করব, এর ভেতর দিয়েই শুরু হবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায়।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুর্নীতির সূচকে অগ্রগতি -বাংলাদেশকে ইতিবাচক এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিধিব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই মূলত বাংলাদেশের এ অগ্রগতি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা তারা রক্ষা করবে। তারা সে অঙ্গীকার থেকে সরে আসেনি। মহাজোট সরকার কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। এ সাফল্যের পেছনে তাই বর্তমান সরকারের অবদানও বিবেচনায় নিতে হবে।
দুর্নীতির ধারণাসূচক ২০০৯ অনুযায়ী, এবার দুর্নীতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে যে নয়টি দেশ সবচেয়ে ভালো করেছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। এ সাফল্যের পরও বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশে এখনো ব্যাপক দুর্নীতি বিরাজমান। কারণ, প্রতিবেদনের দিকে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে, তালিকায় স্থান পাওয়া ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। তবে এটাও ঠিক, পৃথিবীতে দুর্নীতিমুক্ত কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া ভার। সব দেশেই কমবেশি দুর্নীতি হয়। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে একে সহনীয় পর্যায়ে আনতে না পারলে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে দেওয়া মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন, সরকারি ক্রয় আইন শিথিল করা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন পাস হলেও এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি নেই, বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না। এগুলোর সঙ্গে জবাবদিহি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করার সম্পর্ক রয়েছে।
বর্তমান মহাজোট সরকারের কাছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতটা কঠোর অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল, সব ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন লক্ষ করা যাচ্ছে না। সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের মামলা একের পর এক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান দুদককে নখদন্তহীন বাঘ বলে অভিহিত করেছেন। এ সবই হতাশাজনক। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দুদককে শক্তিশালী করেও কোনো লাভ হবে না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়া নির্ভর করবে সরকারের গতিশীল ও সত্যনিষ্ঠ কর্মকাণ্ডের ওপর। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় -শোক সান্ত্বনা পেল, জাতি পেল ন্যায়বিচারের আস্থা
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হত্যা, প্রতিহিংসা ও চক্রান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রক্রিয়াতেই উন্মোচিত হলো ষড়যন্ত্র ও অশুভ শক্তির নানা চেহারা। এর ফলে ষড়যন্ত্রাশ্রয়ী রাজনৈতিক শক্তির ওপর বিরাট অভিঘাত এল। তাই এই ঐতিহাসিক রায়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে রক্তপাত ও ষড়যন্ত্রের উত্তরাধিকার চিরতরে পরিত্যাগ করার সংকল্প ও সমঝোতা এখন বড়ই প্রত্যাশিত।
৩৪ বছর ধরে জাতি দায়মুক্তির সুযোগপ্রত্যাশী ছিল, ৩৪ বছর ধরে নিহতদের স্বজনেরা ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় দিন গুনছিলেন। এই বিচারের মাধ্যমে জাতীয় দায় মিটল এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জীবিত সদস্যরাও ন্যায়বিচার পেলেন। রায় ঘোষণার পরের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দানের নিয়ম রয়েছে। এখন সে প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ১২ আসামির পাঁচজন কারাগারে আটক রয়েছেন, বাকি সাতজনের একজন মৃত এবং ছয়জন বিদেশে পলাতক রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব, বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা এখন সরকারের দায়িত্ব।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড কোনো বিদ্রোহ ছিল না। তা ছিল হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বর্বর বাস্তবায়ন। আদালতের বিচারের রায়ের মধ্যেও এই সত্যের প্রমাণ ও স্বীকৃতি মিলেছে। ষড়যন্ত্রটি যে কত গভীর ছিল, তা বোঝা যায় খুনিচক্রের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং হত্যাকাণ্ডের এক মাস ১০ দিনের মাথায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়টির দিকে তাকালে। হত্যা ও ষড়যন্ত্রের গর্ভ থেকে যে রাজনীতিটি সেদিন দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, নানা চেহারায় সেই রাজনীতিই ২১ বছর ধরে দায়মুক্তি অধ্যাদেশের বর্ম দিয়ে খুনিচক্রকে রক্ষা করে। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল করলে বিচারের দরজা খুলে যায়। শেষ পর্যন্ত তা পরিণতিতে পৌঁছায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলামের দায়ের করা মামলার জের ধরে। অবশেষে প্রমাণিত হলো, কোনো রাজনীতিই হত্যার বিচার আটকে রাখতে পারে না। এই রায় বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাসহ বিচারবহির্ভূত সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করবে।
১৫ আগস্টের কালরাতে নিহতদের বাইরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেবল দুজনই বেঁচে আছেন। প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। অন্যজন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা। পিতা-মাতা-ভাই-বোন-পরিজন হারানো দুই বোন আজ নিশ্চয় শোকের অন্ধকারে সান্ত্বনার রুপালি রেখা দেখতে পাচ্ছেন। জাতি আজ তাঁদের সহমর্মী।
আমরা আশা করব, বিচার যেমন আইনানুগ হয়েছে, শাস্তিদানের প্রক্রিয়াও তেমনি আইনানুগভাবে ও দ্রুত সম্পন্ন হোক। এর মাধ্যমে অবসান ঘটুক ৩৪ বছরের দীর্ঘ এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের। আশা করি, এ রায় ঘোষণা সব মহলের কাছে জাতীয় ইতিহাসের একটি বিয়োগান্ত ঘটনার সুষ্ঠু পরিণতি হিসেবেই বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে সুস্থ ধারায় রাজনৈতিক চর্চা ও আইনের শাসন বিপুলভাবে উদ্দীপ্ত হোক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1422)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
November
(551)
-
▼
Nov 21
(7)
- তিনি ছিলেন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ -চারদিক by মানস গোস্...
- পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ -মি...
- কাবাগৃহ ও হজের পটভূমি -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুলমুনিম...
- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়
- রায়টি হোক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশনা -সহজ...
- দুর্নীতির সূচকে অগ্রগতি -বাংলাদেশকে ইতিবাচক এ ধারা...
- বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় -শোক সান্ত্বন...
-
▼
Nov 21
(7)
-
▼
November
(551)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...